Delwar Hossain Sayeedi - 222

কাঙালের কথা বাসি হলে ফলে। যখন চারদিকে যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব, শাহবাগে উচ্চকিত লাখো মানুষের সামনে নেতা এক নতুন সরকার, তখন আমি খুব ভয়ে ভয়ে, সন্তর্পণে ‘বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম’এ লিখেছিলাম, হিসাব বলছে আসল সরকারের হাতে গোলাম আযম, দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসি হবে না।

আমার ঘোর সন্দেহ ছিল নিজামীর বেলায়ও। কিন্তু নানাবিধ চাপে নিজামীকে ঝোলাতেই হয়েছে।

আজ যখন এ লেখা লিখছি দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর আমৃত্যু কারাগারে থাকা বা যাবজ্জীবন সাজা বহাল রয়েছে বিচারে। সামাজিক মিডিয়ায় ‘জয় বাংলা’ লিখে দলবাজী যেমন থেমে আছে, তেমনি থেমে গেছে রায় ও ফাঁসি নিয়ে উচ্ছ্বাস। আমরা মোটামুটি ধরে নিতে পারি শাহবাগের শক্তি নির্জীব করার রাজনীতি এখন ‘কম্পলিটেড’, তার আর দরকার নেই রাজনীতির।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তি কেন্দ্র করে বাংলাদেশে কম অশান্তি হয়নি। একটি জাতির জীবনে যখন শান্তি ও প্রগতি আসলেই অনিবার্য এবং যখন তার সামনে যাওয়ার সময় তখন তাকে অতীতমুখী করার পরও আমরা একে ইতিহাসের দায় মোচন ও অপরাধের হাত থেকে দেশ জাতির মুক্তি বলে মেনে নিয়েছি।

শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও তাঁর হঠাৎ ঝলসে ওঠার শুরুতে জাতি পেয়েছিল বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ও শাস্তি। সে বিষয়ে জাতিকে কোথাও ঐক্যবদ্ধ হয়ে মিছিল বা সমাবেশ করার প্রয়োজন পড়েনি। জনগণের মনে এক বিষাদময় অধ্যায় জাতির জনকের করুণ বিদায়। কিন্তু তারা কোনো প্রতিকার বা বিচার পায়নি। একের পর এক সামরিক শাসন আর বিএনপির আমলে সে ইচ্ছা মনের ভেতর গুমরে মরেছিল মানুষের। যখন এই বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত হল, দেশ-বিদেশে মানুষের মনে স্বস্তি দেখেছি। কারণ ততদিনে সবাই বুঝে গিয়েছিল বঙ্গবন্ধু ও চার জাতীয় নেতার হত্যাকাণ্ডের পরই এদেশে মূল অশান্তির শুরু। দেশ যে ধীরে ধীরে পাকিস্তানের ছায়ারাষ্ট্রে পরিণত হতে চলেছিল তার কারণও পঁচাত্তরের সেই হত্যাকাণ্ড।

নেতৃত্বহীনতা আর দেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় বড় হতে দেওয়ার আরেকটি বড় সূত্র যে জেলহত্যা, তার সুরাহা বা বিচার আওয়ামী লীগ মুখে বললেও এখনও তা হয়নি। ফলে আমার মতো সন্দেহপ্রবণ মানুষের মনে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তি নিয়ে কিছুটা সন্দেহ থাকাটা তাই দুদিক থেকেই ছিল যৌক্তিক।

একদিকে যেমন দলীয় রাজনীতির ছদ্মবেশ আরেকদিকে মানুষের দোদুল্যমানতা। জনগণকে দোষী করা যাবে কোন উপায়ে? যে জামায়াতের নেতাদের অনেককাল পর জনরোষের শিকার হতে হল তারাই তো বাঘা বাঘা নেতাদের ভোটে হারিয়ে সাংসদ হয়েছিলেন। মন্ত্রী হয়েছিলেন।

সময়ের কাজ সময়ে না করলে যা হয় পাপের বোঝা বাড়তে বাড়তে একসময় তা পুণ্য আড়াল করে ফেলে। দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর কাছে হেরেছিলেন সুধাংশু শেখর হালদারের মতো জনপ্রিয় নেতা। অন্যদিকে দেশজুড়ে জামায়াতের নেটওয়ার্কের পেছনে যেমন ছিল মীর কাশেমের অঢেল অর্থ, মধ্যপ্রাচ্যের পেট্রোডলার ও আইএসের মদদ তেমনি ছিল সাঈদীর অসাধারণ বাগ্মিতা। তার ওয়াজের ক্যাসেট যারা শুনেছেন, মানবেন, সে এক সম্মোহনী শক্তির ব্যাপার। আমি বেশ কয়েকবার শুনেছি পুরনো সেই কুমির রচনার মতো সবকিছু আখেরে রাজনীতির পচা পানিতে ডুবিয়ে নিলেও তার ক্যাসেটবন্দি ভাষণ বা ওয়াজ যারা তার মুরিদ তাদের জন্য দাওয়াইতূল্য। সময়ের ফাঁকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক বিশাল ভক্তগোষ্ঠীর কথা আওয়ামী লীগের অজানা নয়। তাদের দাবার ছকে শাহবাগের গুরুত্ব যত ফুরিয়ে আসছিল ততই আমি নিশ্চিত ছিলাম এমনটা হবেই।

যারা আমাকে ইতোমধ্যে ভুল বুঝতে চাইছেন তাদের বলি, রাজনীতি এমন এক নেশা বা এমন এক খেলা যেখানে জাপানের সঙ্গে আমেরিকার দোস্তি হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আনবিক বোমায় মুছে যাওয়া শহর হিরোশিমা-নাগাসাকির দেশে একসময় মানুষ জানত এই বোমা ফেলেছিল হিটলার বাহিনী। ভিয়েতনাম সফরকালে দেখেছি তারা তাদের নাপাম বোমায় ঝলসে যাওয়া স্বজনদের ভুলে ওবামাকে মেনে নিয়েছে মনের মানুষরূপে।

বিচিত্র এই দুনিয়ায় আমরা কি আর আগন্তুক? আমাদের জনগণের এক বিরাট অংশের মনে জামায়াত প্রীতি আর সাঈদী প্রীতির কথা আওয়ামী লীগের জানা। তা ছাড়া এটা তারা ভালো বোঝে এখন জামায়াত চাইলেও আর কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারবে না। কোমর ভাঙার জন্য যা যা দরকার সেটা হয়ে গেছে। এখন তাদের মূল টার্গেট বিএনপি ও হেফাজত।

যেসব কারণে মনে হয়েছিল গোলাম আযম ও সাঈদীর ফাঁসি হবে না সে কারণগুলো এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট। ব্যালান্সের রাজনীতি বা ভারসাম্যের পলিটিক্সে এগুলো বিষয় নয়। সব দলে এখন মুড়ি-মুড়কি একাকার। আওয়ামী লীগের দিকে তাকলেই চোখে পড়বে তারা এখন প্রাণপন চেষ্টা করছে সমঝোতা করে দেশশাসনে থাকতে। ইতোমধ্যে দলীয় আদর্শ বা আদর্শিক ব্যাপারগুলো প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এমনই হাল বিএনপি ২০৩০ সালের যে রূপকল্প দিয়েছে তাকেও তারা বলছে এটি তাদের ‘নকল’। তার মানে ‘আসল’ বলতে আর কিছু অবশিষ্ট নেই। অথবা সব মিলেমিশে এখন একাকার।

বিচারপতি এস কে সিনহার বক্তব্যে যারা রাগ করছেন তাদের বলি, ইতিহাসটাও জানুন। নামে অমুসলিম হলেই যদি মুক্তিযুদ্ধের কারিগর বা অনুগত হত তাহলে এদেশে একাত্তরে যেমন মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা বা রাজা ত্রিদিব রায়ের জন্ম হত না, তেমনি এখন কোনো গয়েশ্বর রায়েরও দেখা মিলত না। তবে ভদ্রলোক নিঃসন্দেহে স্পষ্টবাদী। এ পর্যন্ত একবারই তাঁর সঙ্গে সামনাসামনি সময় নিয়ে কথা বলার সুযোগ হয়েছে আমার। সিডনিতে বেড়াতে আসা প্রধান বিচারপতির মুখে এমন সব কথা শুনেছি যা লিখলে নতুন এক ইতিহাস হবে হয়তোবা। তবে তিনি বারবার বলেছিলেন, তাঁর ওপর অর্পিত রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে তিনি একশ পার্সেন্ট দলমুক্ত থাকতে চাইবেন। এ-ও বলেছিলেন, তিনি সব দলের বিচারপতি। এমনকি প্রয়োজন মতো জামায়াতের বেলায়ও তিনি তাঁর ভূমিকা বজায় রাখবেন।

আমার স্পষ্ট মনে আছে, তিনি অভিযোগ করেছিলেন, এখন নাকি চল্লিশোর্ধ্ব মানুষকেও একাত্তরের ভূমিকার নামে ফাঁসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একজন বিচারপতি হিসেবে তাঁর ভূমিকা তিনি কীভাবে পালন করবেন সেটা আমরা নির্ধারণ করব না। কিন্তু ইতিহাস ও অতীতের বিচারে অপরাধীদের বেলায় দেশ, সরকার ও চেতনা নামের বিষয়গুলো মাথা উঁচু করে জানতে চায়, এ কারণেই কি স্বাধীন হয়েছিলাম আমরা?

কথিত আছে– উপমহাদেশের রামায়নে অসুর রাজা রাবণের পতনের পর রাম তার অনুজ লক্ষ্মণকে সঙ্গে নিয়ে রাবণের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল দুটো: স্বর্ণলঙ্কা নামে পরিচিত লঙ্কার কান্ডারি রাবণের কাছে তার সাফল্যের কারণগুলো জানা, আর কীভাবে দেশশাসন করা উচিত সে বিষয়ে মতামত নেওয়া।

পতিত রাবণ বলেছিলেন, দেশ শাসনে জরুরি কাজ কখনও পরে করব বলে ফেলে রাখতে নেই। তিনি যদি স্বর্গের সঙ্গে সিঁড়িটি তখনই বানিয়ে নিতেন তবে তাকে রামের হাতে মরতে হত না।

গল্পটা বললাম এই কারণে, আওয়ামী লীগকে গোলাম আযম ও সাঈদীর কাছ থেকে সবক নিতে বাঁচিয়ে রাখতে চাইছিল বা চাইছে? আর যদি তা হয়ও আওয়ামী লীগ কি একাত্তরের পর কখনও ঠিক সময়ে ঠিক কাজটি করতে পেরেছে?

সময়ের স্রোতে এদেশের রাজনীতি যে কীভাবে পাল্টায় কীভাবে চোখ উল্টাতে পারে, সেটা আমরা বহুবার দেখেছি। আমাদের চোখের সামনে শাহ আজিজ এদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। মাওলানা মান্নানের মতো দাগী লোক সর্বোচ্চ পুরস্কার পেয়েছে, মন্ত্রী হয়েছে। সাকা চৌধুরীর লাশের জানাজা পড়তে গিয়েছিলেন আওয়ামী মেয়র মহিউদ্দীন চৌধুরী।

যে কেউ ধর্মীয়ভাবে কারো মৃত্যুতে দোয়া করতেই পারেন। কিন্তু আপনি যার মৃত্যুর জন্য আন্দোলন করেন, যাকে ফাঁসিতে ঝোলানোর জন্য আন্দোলনের নামে দেশের মানুষকে জাগিয়ে তোলেন, সেই আপনি যখন লাশের জানাজায় গিয়ে দাঁড়ান, তখন কি আদর্শ-অনাদর্শ সব চুকেবুকে যায় না?

এমন গোলমেলে রাজনীতির সমাজে দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসি হবে না; হতে পারে না। আর সেই শাহবাগের নেতারা ও এখন গৃহবন্দি ঘরজামাই। কারো শক্তি নেই সামনে এসে দাঁড়ায়। কেবল কিছু অসহায় মানুষের মুখ, পরদেশে পালিয়ে বাঁচা মানুষ, পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া ঘরবাড়ি, মাটিতে মুখ লুকিয়ে পড়ে থাকা মূর্তি আর চেতনাবাহী জনগণের ভাঙা মন কেঁদে বেড়ায়। তারা জানতে চায় এ কোন লীলাখেলা? মুক্তিযুদ্ধের চেতনার এ কোন ধরনের পরিচয়? স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে সমঝোতা ও আপসের দলীয় রাজনীতি এখন গদি ছাড়া আর কিছুই বোঝে না।

এই রায় আপিল খারিজের পর অরণ্যে রোদনের বাকি আর কিছুই রইল না আমাদের। লাখো মানুষের আত্মা আর ইজ্জত হারানো মা-বোনের মাটিতে কেঁদে বেড়ানো স্বপ্ন আর হতাশা হাত ধরাধরি করে হাঁটে আর চোখ মুছতে মুছতে বলে:

“তোমার বদনখানি মলিন হলে আমি নয়নজলে ভাসি।”

ফাঁসি আর যাবজ্জীবনের এই খেলায় একদিন এই গান পতাকা-স্বাধীনতা কোথায় ঝুলে যায় সেটাই এখন ভাবার বিষয়।

অজয় দাশগুপ্তকলামিস্ট।

২৭ Responses -- “ফাঁসি বনাম যাবজ্জীবন: ‘আমি নয়নজলে ভাসি’”

  1. হারাধন

    এ লেখক দাশ গুপ্ত কে একজন গুপ্তচরের মত মনে হয়। এদের মত লেখকেরাই একটা শান্তি প্রিয় দেশে অশান্তি সৃষ্টি করার জন্য যথেষ্ট।
    মুসলিমদের বিরুদ্ধে এমন ভাবে লিখে যাচ্ছে যেন কেউ বুঝে না।
    সাঈদী অপরাধী হলে বিচার হবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু সাঈদীর পক্ষের সাক্ষী সুখি রঞ্জন বালি কে যখন আদালত থেকে তুলে নিয়ে ভারতের দমদম কারাগারে আটক করে রাখা হয়, সে খানে বাংলার মানুষের হাজার প্রশ্ন তৈরী হয়।
    উনার কথা মত বাঙালি জাতি পাকিস্তানি ভাবধারায় তৈরী, আপনার এই সব দাঙ্গা মার্কা লেখায় ভুলে গেলে চলবে না আমাদের বাংলাদেশ একটা স্বাধীন রাষ্ট , তার লেখায় বুঝাতে চাইছেন বাংলাদেশের মানুষ যেন ভারতীয় ভাবধারায় গড়ে উঠে।
    মনে রাখবেন বাংলাদেশের মানুষ ভাঙ্গালি ভাবধারার জাতি। অন্য ভাবধারা কখনো গ্রহন করবে না।
    দয়া করে দাঙ্গা যুক্ত লেখা বন্ধ করুন। অন্য দেশের দালাল দের আমরা বুঝি।
    এ খানে আমরা সকল ধর্মের লোক মিলে মিশে আছি।

    Reply
  2. 00000000000

    Sayeedi ekta pakka paki chora moulana.Energy moto criminal Jamatay r jibito nai !
    Chanday dekha Allar ei Noya Nabi jalai morok !

    Reply
  3. R. Masud

    Dear সিম্পলগার্ল
    যেই জবাব দিলেন , মাথায় যদি একটুকুন ও গিলু থাকে তাহলে আপনার লজ্জা পাবার কথা। এখানে গিলু বলতে মগজটাকে ঠীক জায়গায় রাখতে যেই স্কুরু গুলোর দরকার হয় তাহাকে বুঝায়– আমার মনে হয় এমন স্কুরু কয়েকটাই আপনার নেই অথবা অনেক গুলোই ডিলা–
    না হলে আমার প্রশ্নের এমন উজবুক জবাব আসতে পারেনা।
    তাই ধরে নিলাম, বেচারা /বেচারী বুদ্ধি নেই বুদ্ধু- একপাশে ঠেলে রাখাই ভালো–

    Reply
  4. Mk alam

    Musrik is always enemy of islam and muslim.so its not a fact that saydee mujahid nijami are enemy of like a men they are Ajay das!!

    Reply
  5. পারভেজ

    অজয় বাবু, গজার মত আপনিও একটি আন্দোলন শুরু করুন সাইদির ফাঁসি চেয়ে।

    Reply
  6. R. Masud

    Those who are advocating against the punishement of Saydee are in fact doing crimes, should put under justice.
    Reason is, this punishment has proved that the bloody saydee was a criminal and it is proved by Supreme court of Bangladesh.

    Reply
  7. Al Mufa

    তিনি (প্রধান বিচারপতি) অভিযোগ করেছিলেন, এখন নাকি চল্লিশোর্ধ্ব মানুষকেও একাত্তরের ভূমিকার নামে ফাঁসিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
    এটা একেবারেই অসত্য। এরকম কাউকে এখন তক ফাঁসি দেয়া হয়নি। তিনি ১৯৭১ সালে শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন, নিজে সে কথা এজলাসে বসে স্বীকার করেছেন। তাঁর তো এই মামলা শোনাই বেআইনী হয়েছে।

    Reply
  8. আবুল বাশার

    সাবাস অজয় বাবু সত্য প্রকাশের জন্য।আসলে আপনাদের উদ্দেশ্য বিচার নয়, ইসলাম নিশ্চিহ্ন করা।

    Reply
    • R. Masud

      Poor concept and perception.
      Talking against Saydee if mean it is to vanish the Islam, then there is no need of Saydee Islam. Saydee is a supreme court proved criminal.
      Please don’t kill the image of Islam, already it is well broken,

      Reply
  9. সিম্পলগার্ল

    “…জামায়াত চাইলেও আর কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারবে না। কোমর ভাঙার জন্য যা যা দরকার সেটা হয়ে গেছে।” আসলে কি তাই?! অটোনির্বাচনে ‘নির্বাচিত’ আওয়ামী লীগ সরকার একেবারে মিনিমাম গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে, পুলিশ ও প্রশাসনকে আইনানুগ আচরণ করতে দিক, এরপর শীর্ষ সকল নেতাকে হত্যার পরও কয়েকঘন্টার মধ্যে জামায়াত সারাদেশে লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নামাতে পারে কিনা তা একবার পরীক্ষা দেখুন এবং এরপর বলুন জামায়াত আর কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারবে না। পারবেন এই পরামর্শ আওয়ামী লীগকে দিতে? আওয়ামী লীগের সেই সাহস আছে?!

    Reply
    • R. Masud

      Hello Jonab or Jonaba
      Could you prove how the 2014 election was an auto-election?
      Before your arfument , please aware about the below points.
      – Last election was done as per the constituence of Bangladesh.
      – The changes done in the constitution (before the election ) was happened as the the consttituation changing rule, i.e., 2/3 of the law makers has to apporved it.
      – the law makers whowere paticipated to change the constitution was elected by the election held in 2009, which was the most pure election in Bangladesh since 1975.

      If above points are correct, then the parties didn’t participated in 2014 election was wrong and they should be blamed for uncontested election not the AL who had had participated.

      Reply
      • সিম্পলগার্ল

        ২০১৪ সালের নির্বাচন নামের প্রহসনের পক্ষে যা বলা হচ্ছে তাতে আসলে মায়ের কাছে মামার বাড়ির গল্প বললে যা হয় তেমনি বলে মনে হয়। এদেশের ১৬কোটি মানুষের চোখের সামনে যা ঘটেছে তা নিয়ে যদি কেউ ঠাকুরমার গল্প বলতে আসে তখন তা নিয়ে কথা বলতে হলে নিজের কাছেই লজ্জ্বা লাগে।
        ২০১৪ সালের প্রহসনকে যদি নির্বাচন বলতে হয় তাহলে পৃথিবীতে থেকে নির্বাচন নামের শব্দটির অর্থ সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে দিয়ে ২০১৪ সালের প্রহসনের আলোকে সাজাতে হবে। ২০১৪ সালের নাটককে যদি নির্বাচন বলা হয় তাহলে ১৯৮৬, ৮৮, ৯৬ সালে এদেশে যা হয়েছে সেসবকেই সবচেয়ে ভাল নির্বাচন বলতে হয়।

  10. সিম্পলগার্ল

    ১। ফাঁসি না হওয়ায় আপনাদের হাহাকার দেখে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে বাস্তবে কোন বিচার নয় এদেশের শীর্ষস্থানীয় কিছু নেতাকে হত্যা করাটাই ছিল আপনাদের উদ্দেশ্য।
    ২। “…কিন্তু নানাবিধ চাপে নিজামীকে ঝোলাতেই হয়েছে।” – অর্থাৎ আপনাদের সেই হত্যার উদ্দেশ্য ফাঁসির রায় আদালত থেকে নয় অন্য কোন জায়গা থেকে তাহলে আসে?!
    ৩। এসব কথার মাধ্যমে আসলে আপনাদের সেই উদ্দেশ্যটিই ফুটে উঠে, “এখন জামায়াত চাইলেও আর কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারবে না। কোমর ভাঙার জন্য যা যা দরকার সেটা হয়ে গেছে।”- এটিই ছিল আপনাদের আসল উদ্দেশ্য, বিচার, অপরাধ এসব অজুহাত মাত্র। তাই না?!
    ৪। তবে বাস্তবতা হলো এতকিছুর পরও আপনারা বা আওয়ামী লীগ নিশ্চিত হতে পারছেন না যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণ আপনাদের সাধের আওয়ামী লীগকে ভোট দিবে। তাই আওয়ামী লীগকে হেফাজতের দোয়ারে ধর্ণা দিতে হয়।

    Reply
    • এমদাদ

      স্বাধীনতার পর দালাল আইনের আওতায় প্রায় ৫০ হাজার দালাল গ্রেফতার হয়েছিল, ৭৫২ জনের সাজা হয়েছিল, প্রায় সাড়ে ৩৭ হাজার মামলা হয়েছিল। এমনকি আওয়ামীলীগ নেতাদেরকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল- দালাল খুজে বের করে বিচারের আওতায় আনা।

      আমার প্রশ্ন- ৫০ হাজার সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে সাঈদি, কাদের মোল্লা, মির কাশেম, কামরুজ্জামান, মুজাহিদসহ যাদের বিচার হয়েছে তাদের নাম কেন ছিল না?

      শুধু গোলাম আযমের নাম দালাল হিসাবে ছিল। অন্যরা সবাই বাদ পড়ল কিভাবে? আপনাদের কাছে কি কোন দলিল আছে যে তাদের সাজা হয়েছিল, বা মামলা হয়েছিল, বা থানায় জিডি হয়েছিল এদের বিরুদ্ধে?

      তখনও স্বাধীন দেশে রক্তের দাগ শুকায়নি, মুছে যায়নি-লাশের পচা গন্ধ, কে কি করেছে সবকিছুই জানা সবার-আর সেই সময়ে এরা কিভাবে বেচে গেল? এদের কি সাজা হয়েছিল- পরে জিয়া এসে দালাল আইন বাতিল করে বের করে দিয়েছে জেল থেকে? তাদের নামে নাকি একটা জিডি পর্যন্ত হয়নি-যা জামাতের লোকজন দাবি করে আসছে। এরা ছিল কুখ্যাত সন্ত্রাসি, রাজাকার- ফাঁসি হয়েছে এদের তখনকার কৃত কর্মের জন্য- এদের সম্পর্কে বাঘা বাঘা সাংবাদিকদের লিখা থাকার কথা সেই সময়ে, মামলা হওয়ার কথা-জিডি হয়ার কথা- সাজা পাবার কথা।

      Reply
      • R. Masud

        show that list by which you can prove that
        “সাঈদি, কাদের মোল্লা, মির কাশেম, কামরুজ্জামান, মুজাহিদসহ যাদের বিচার হয়েছে তাদের নাম কেন ছিল না?”
        Otherwise, its shame to utter this funney fact!!

    • R. Masud

      In fact, as you are uttering same concept without answering any genuine question, it means you have sought of autisom. Please take care.

      Reply
  11. লতিফ

    আপনার বিবেচনায় এটা যদি আওয়ামী লীগ আর জামায়াত সমঝোতা, তবে আপনাকে বলতে হবে কীভাবে নিজামী, মুজাহিদ, কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামান, মীর কাসিম এবং সাকাচৌ এর ফাঁসি হল। আমি শতকরা একশ ভাগ নিশ্চিত আওয়ামী লীগের ঘরে কোনোদিন ঢু মেরে দেখার সাহস আপনার হয়নি, সেজন্য অবলিলায় সেই দলটিকে নিয়ে এমন মন্তব্য করতে এতটুকুও বাঁধে নাই।

    Reply
  12. সাহিত্যিক হাসান

    আমি রাজাকারদের বিচার চাই। জামাতের যেসব লোকদের এর আগে ফাঁসি হয়েছে তারা ছাত্রসংঘ(ছাত্রশিবির) এর সাথে যুদ্ধের আগে জড়িত ছিল তাই তারা রাজাকার হবেন এটা গ্রহনযোগ্য।কিন্তু ইতিহাস বলছে সাঈদি সাহেব রাজাকার নয়,কেননা যুদ্ধের বহু বছর পর সাঈদি সাহেব জামাতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়। সাঈদি সাহেব বারবার কসম খেয়ে কথাটি বলেছেন আমি রাজাকার নই,আমি যুদ্ধের অনেক বছর পর রাজনীতি শুরু করি। অন্যদিকে জামাতের অন্যসব লোক কসম করে একবারও বলেনি আমি রাজাকার নই,বরং তারা রাজাকার ছিল বলেই চুপ ছিল,গোলাম আযম,আঃ কাদের,নিজামি,মীর কাসেম আলীদ্বয় রাজাকার হওয়ার কারন আছে ,কিন্তু সাঈদি রাজাকার নয়,আমি সাঈদির দলের কেউ নয়, নিরপেক্ষভাবেই বলছি,এমনকি আওয়ামীলীগের অনেক লোক স্বীকার পেয়েছেন তিনি রাজাকার ছিলেন না। যারা রাজাকার তারা দেশের শত্রু,জাতির শত্রু,তারা গাদ্দার,তার দেশদ্রোহি তাদের শাস্তি প্রাপ্য।

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      সাহিত্যিক হাসান, সাইদী অস্ত্র হাতে রাজাকার বাহিনীতে ছিলো কি না তা আদালতে প্রমান করতে পারেনি বলে আদালত প্রসিকিউশনকে তিরষ্কার করেছেন। ধরা যাক, সাইদি রাজাকার ছিলোনা। কিন্তু আমি সেই ১৯৭৬ সাল থেকে তাকে বাংলাদেশের রাজনীতি, সংস্কৃতি এবং ইসলাম ধর্মকে যে বিশাল আকারে কলুষিত করতে দেখেছি, তাতে পাকিস্তানীদের পক্ষে অস্ত্র ধরার চেয়ে সে এটি আরো বড় অপকর্ম করেছে।

      এ প্রসঙ্গে আমার একটি কঠিন প্রতিবাদ আছে। মুক্তিযুদ্ধকালে প্রচুর রাজাকারকে আমাদের হাতে ধরা পড়তে বা আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে দেখেছি। এদের অধিকাংশই (সবাই নয়) দরিদ্র কৃষকসন্তান। পঞ্চাশ টাকা বেতন, রেশন এবং লুটপাটের কিছু বখরা পেতে ওরা রাজাকার হয়েছিলো। কিন্তু এই রাজাকারদের চাইতে অনেকগুন বেশী ভয়াবহ মতাদর্শগতভাবে সুসজ্জিত ছিলো আলবদর-আলশামস। তখন আমাদের লক্ষ্য ছিলো আলবদরদের বিরূদ্ধে লড়া ও ওদের নিশ্চিহ্ন করা। এখানে ঐতিহাসিক তথ্য দিয়ে বলতে পারি, যুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে আলবদরেরাও মুক্তিযোদ্ধাদের বিরূদ্ধে ‘অভিযানে’ যেতো। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে ওরা যখন জেনে গেলো যে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমনের সামনে তারা টিকতে পারবেনা তখন থেকে (অক্টোবর) আর ফ্রন্টে যায়নি। দেশে ফিরে আমাদের লক্ষ্য ছিলো আলবদরদের খুঁজে বের করা। ৭২ সালের শুরুতেও আলবদর-দালালেরা ছিলো অধিক ঘৃণিত। কারা আলবদর শব্দযুগলকে রাজাকার শব্দ দিয়ে প্রতিস্থাপন করেছিলো তা’ অনেক রহস্যের মতো আজো অনুদ্ঘাটিত আছে। আমাদের উচিৎ স্বাধীনতাবিরোধীদেরকে রাজাকার নামে অভিহিত না করে আলবদর-দালাল শব্দযুগল ব্যবহার করা।

      Reply
    • সিম্পলগার্ল

      সাঈদীর আসল অপরাধ (!) তো অজয় বাবু তার এ লিখাতেই বলে দিয়েছেন, “…সাঈদীর অসাধারণ বাগ্মিতা। তার ওয়াজের ক্যাসেট যারা শুনেছেন, মানবেন, সে এক সম্মোহনী শক্তির ব্যাপার।”

      Reply
      • সৈয়দ আলি

        ওষুধের ফুটপাথের ক্যানভাসারেরাও সন্মোহনী ভাষায় দর্শকদের প্রতারিত করে ওষুধ বেঁচে, বেঁচে? তাতে কি সারবস্তু থাকে? ইসলাম থেকে সরে গিয়ে ওয়াহাবিবাদের চাকর হয়ে সাইদী কি বললো তা যদি কেউ গুরুত্বের সাথে নেয় তবে সে নির্বোধ।
        সিম্পল গার্ল, নারীর নামে মতামত দিচ্ছেন। সাইদী নারীদের নিয়ে কি বলে শুনেছেন? সামান্য আত্মসন্মানবোধ থাকলে নারীর নাম দিয়ে হলেও সাইদিকে সমর্থন করতেন না বরং ইসলামের অনুশাসনবিরোধী বক্তব্য দেয়ায় সাইদিকে কত্‌লুল ওয়াজিব ঘোষনা করতেন।

    • R. Masud

      খুনি সাঈদী ( যেহুতু সুপ্রিমকোর্ট এই হিসাবেই আমরন জেলে থাকতে হবে বলে শাস্তির রায় দিয়েছেন) রাজাকার বলে কসম যদি না করেও থাকেন, আলবদর, আলসামস ছিলেন না বলেতো কসম করেননি!! এই যুক্তিটা আপনার মাথায় কেন আসলোনা ভায়া ?? — সুপ্রিমকোর্ট এর রায় কিন্তু রাজাকার বলে দেওয়া হয়নি, মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা চালিয়েছিল বা গনহত্যা পরিচালনা/সহায়তা করেছিল বলে দোষী সাব্যস্থ করেছেন।
      যেই লোককে সুপ্রিমকোর্ট দোষী বলে রায় দেন, তার পক্ষে সাফাই গাওয়া কিন্তু অপরাধ –

      Reply
  13. R. Masud

    সাবাশ অজয়বাবু,
    লিখাটা ভবিষ্যতের কোন একসময়ে আওয়ামীলীগ যখন ভারতের কংগ্রেস এর মত কাতর হয়ে মরনপন অবস্থা হবে ( তবে মরবেনা ‘৭৫ এর ধাক্কায় যখন মরেনি ) তখন কোরামিন (Koramin)এর মত কাজ দেবে – যদিবা আওয়ামীলীগ এই লিখার লুকাইত অর্থটা ধরতে পারে—
    ধন্যবাদ এমন একখানা লিখা দেবার জন্য…।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—