Women - 56

বিদেশে পনের বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস করছি– তবু বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা মনে হয় একটুও কমেনি, বরং বেড়েছে। এই যে প্রতিদিনের এত ব্যস্ততা, তারপরও দেশের খবর জানার জন্য প্রায় প্রতি মুহূর্তে উদগ্রীব থাকি। মাঝেমধ্যে দেশ থেকে এমন সব দুঃসংবাদ পাই যে, নিজেকে স্থির রাখতে পারি না। ভেতরে ভেতরে একেবারে তছনছ হয়ে যাই।

বনানীর রেইন ট্রি হোটেলে সংঘটিত নৃশংস ধর্ষণের খবরটা শোনার পর থেকেই খুব অস্থির হয়ে রয়েছি। বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে ঘটনার বর্ণনা পড়ছি আর শিউরে উঠছি। বারবার মনে হচ্ছে, এই কি মানুষজন্ম? পশুরাও তো এতটা পাশবিকতা জানে না।

বাংলাদেশে ধর্ষণ নতুন কিছু নয়। প্রতিদিন দেশের আনাচে-কানাচে কত তরুণী ধর্ষিত হচ্ছে, তার কতটুকুই-বা আমরা জানতে পারছি? লোকলজ্জা, বিচারহীনতা আর কলংকের ভয়ে এই সমাজে ধর্ষিতারা মুখ বুজে সব সয়ে যান। পুরুষশাসিত অমানবিক এই সমাজে আমরা বরং তাদেরই অসংখ্য প্রশ্নের সামনে দাঁড় করাই।

এইসব নির্মমতার প্রতিবাদে কালেভদ্রে হয়তো গাজীপুরের হযরত আলীর মতো হতভাগ্য কোনো পিতা তার কন্যাশিশুর ধর্ষণের বিচার না পেয়ে কন্যাসহ আত্মঘাতী হন। কখনও কখনও হয়তো কোনো এক ধর্ষিতা তরুণী সাহসের সঙ্গে প্রতিবাদ করেন। সমাজের একাংশের মধ্যে তখন একটা সাময়িক আলোড়ন তৈরি হয়। তবে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠের তাতে মনে হয় কিছু যায় আসে না। এক ধরনের অদ্ভুত নির্বিকারতা পেয়ে বসেছে আমাদের। যতক্ষণ কোনো সমস্যা নিজের কাঁধে এসে না পড়ছে ততক্ষণ যেন কারও মাথাব্যথা নাই। যেন ‘চারিপাশ চুলোয় যাচ্ছে যাক আমি ভালো থাকলেই হল’। এসব কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধর্ষকরা পার পেয়ে যায়, আইনের আওতায় আসে না।

তবে এবারে যাদের বিরূদ্ধে বনানীর রেইন ট্রি হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তারা আর দশজন ধর্ষকের চেয়ে দুর্ধর্ষ, আলাদা। ধর্ষণকালীন তাদের ঔদ্ধত্য আমাদের দেশের শাসন ব্যবস্থাকে পর্যন্ত অসংখ্য প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

সূত্রমতে, আপন জুয়েলার্সের মালিকের সন্তান শাফাত আহমেদ ধর্ষণের সময় চীৎকার করে বলতে থাকে, “এই দেশের এয়ারপোর্টের সব সোনা কই যায়? কইত্থেইকা আসে? সব আমার বাপের আন্ডারে।” তার কথা যদি সত্যি হয়, তাহলে ধরে নেওয়া যায় যে, তার পিতা, আপন জুয়েলার্সের অন্যতম মালিক সোনা ব্যবসার আড়ালে আদতে একজন বড় মাপের সোনা চোরাচালানী। সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উচিত হবে বিষয়টি নিয়েও তদন্ত করা।

ধর্ষক সাফাত আহমেদ নির্যাতিত তরুণীদের খুন করার ভয় দেখিয়ে বলেছে, এর আগেও সে অনেক মানুষকে খুন করেছে। তদন্তসাপেক্ষে এইসব খুনেরও বিচার হওয়া দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া দুই তরুণীকে নির্যাতনকালীন যেসব ভাষায় গালাগালি করেছে, তাতে এই ধর্ষকদের আদ্যন্ত নিয়েই আমাদের সংশয় জাগে।

এই যে গুলশানের আলিশান বাড়ি, সোনা ব্যবসা ও সোনা চোরাচালানীর অঢেল টাকা– কী হবে এসব দিয়ে? নিজের সন্তান যদি নেশাখোর-ধর্ষক হয়। এহেন সন্তানের পক্ষে সাফাই গাইতেও লজ্জা করে না এসব কালো টাকার মালিক, তথাকথিত ব্যবসায়ীদের? অবৈধ সম্পত্তি আর প্রভাব প্রতিপত্তির দাপটে এরা ধরাকে সরা জ্ঞান করে। প্রচলিত আইনের পরোয়া করে না। কোনো অপরাধে এদের আদৌ শাস্তি হবে কী না তা নিয়ে তাই সাধারণ মানুষের ভেতরে এক ধরনের সংশয় কাজ করে সবসময়।

তবে আইনের প্রতি আস্থা হারানোয় সাধারণ মানুষের মঙ্গল নেই। তার চেয়ে বরং সামাজিকভাবে এইসব অপরাধী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বর্জন করা উচিত। ইতোমধ্যেই ঢাকায় ক্রেতাদের মধ্যে আপন জুয়েলার্সের পণ্য বর্জনের হিড়িক উঠেছে। আমজনতার পক্ষে এটি একটি শুভ উদ্যোগ এবং প্রতিক্রিয়াও সুদূরপ্রবাসী।

এই ধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি পলাতক নাঈম আশরাফ, যার প্রকৃত নাম হালিম। সিরাজগঞ্জের দরিদ্র ঘরের সন্তান হালিম ঢাকায় এসে হয়েছে এক মস্ত টাউট। বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে সেলফি তুলে, একের পর এক মিথ্যা পরিচয় দিয়ে কী অনায়াসে নানা মানুষের সঙ্গে দিব্যি সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। কোথাও কোনো সমস্যা হয়েছে বলে মনে হয় না। সময়ের পরিক্রমায় এইসব হালিমদের মতো একটা টাউট শ্রেণি গড়ে উঠেছে ঢাকায়। আপাদমস্তক মিথ্যা আর প্রতারণায় ভরপুর এদের হাতে প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মানুষ। এদের ব্যাপারেও সবাইকে সতর্ক হতে হবে। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার শরণাপন্ন হতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া সেই দুই তরুণীকে অভিনন্দন। অবশেষে সব ভয়, হুমকি মোকাবেলা করে তারা ধর্ষকদের বিরূদ্ধে মামলা করেছেন। সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছেন। যদিও তাদের বিরূদ্ধে ষড়যন্ত্র এখনই থেমে যাবে বলে মনে হয় না। জনমত বিভ্রান্ত করার জন্য ‘নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মাদকের প্রভাবে অন্যায় করে ফেলেছে কিংবা যা হয়েছে তা সম্মতির ভিত্তিতেই হয়েছে’, এরকম অনেক হাইপোথিসিস এখন বাজারে ছাড়া হবে। অথচ ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে খুব সহজেই বোঝা যায় যে, ধর্ষণের পুরো ঘটনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জন্মদিনের পার্টির জমজমাট আয়োজনের মিথ্যা গল্প সাজানো হয়েছিল এবং হোটেলে আগে থেকেই রুম বুক করা ছিল।

ঘটনার সঙ্গে রেইন ট্রি হোটেলের কারও জড়িত থাকাও অস্বাভাবিক নয়। কারণ, ধর্ষণ-নির্যাতনকালীন সময় হোটেলের বেয়ারারা এসে মাঝেমধ্যে খোঁজ নিয়ে গেছে। তরুণীরা প্রাণপণে চিৎকার করে রক্ষা পেতে চেয়েছেন। অথচ পুলিশ ডাকা তো দূরের কথা, হোটেলের কেউ তাদের রক্ষায় সামান্য উদ্যোগ নেয়নি। এসব নিয়ে তদন্ত হওয়া দরকার।

ধর্ষক গংয়ের ঔদ্ধত্য দেখেও অবাক লাগে। ওদের মধ্যে কোনো রকম অনুতাপ দেখা যায়নি। বরং নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তারা তরুণীদ্বয়ের জীবন আরও অসহনীয় করে তুলেছিল। মামলার পরেও থেমে যায়নি ওরা। বরং টাকার জোরে সবকিছু ম্যানেজ করতে চেয়েছে। ইতোমধ্যেই আমরা বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে ধর্ষকদের দেশত্যাগের বিভ্রান্তিমূলক খবর পেয়েছিলাম। অথচ তারা দেশেই ছিল। সিলেট থেকে দুজন আসামি গ্রেফতার হয়েছে।

ধর্ষণের এই ঘটনার শুরুতে বনানী থানার কতিপয় পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। পুলিশ কেন এমন করে? কীসের প্রভাবে? কাকে রক্ষা করার জন্য? দূর থেকে শুনেছি, ঘটনা চাপা দেওয়ার জন্য নাকি ঢাকা শহরে প্রচুর টাকা উড়েছে। কিন্তু জনমত যেভাবে দানা বেঁধে উঠতে শুরু করছিল, তাতে টাকায় কুল রক্ষা হত না।

সরকার এবং পুলিশ বিভাগকে ধন্যবাদ। কিছুটা দেরিতে হলেও তারা জনগনের নাড়ি অনুধাবন করতে পেরেছে এবং ত্বরিৎ ব্যবস্থা নিয়েছে। আশা করব বাকি তিন আসামিও দ্রুত গ্রেফতার হবে। আমরা সবাই চাই, অভিযুক্ত ধর্ষক ও তাদের সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।

আবুল হাসনাৎ মিল্টনকবি ও চিকিৎসক: বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনারত

১২ Responses -- “ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে”

  1. ABSIDDIQUE

    There are solutions of the problem. Accept Indonesian law and implement in Bangladesh. That is to castrate the rapist person through injection as it has been accepted in Indonesian. If not kill them in broad day light or give certain portion of the law to general public to take action of their own.

    Reply
  2. Udasi

    sokole shudhu dhorsitar pokkhei safai gaitece but ekta meye je attiyoter somporko nei erokom ekta celer sathe hotel e aslo ei niye karo mone etotuku prosno elona… ter beporowa acoroner karonei ter jiboner ekta kolongkojonok chapter rocona holo.. Asole amader moddhe jotodin niti noitikota, dhormio sikkha, paribarik sikkha na asbe totodin e eisob ghotona ghotte thakbe…. Ain diye esob rukha somvov noi.. Purush matroi ros prio… Roser adhar se khujbei cole bole kousole.. er janna ain proyog uvoi pokkher jannai joruri….

    Reply
  3. Rasha

    একটা মেয়ে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে রাত তিনটা সময় রাস্তা দিয়ে একা একা হেঁটে গেলেও আপনার বা আর কারও কোন অধিকার জন্মায় না তাকে ধর্ষণ করার। এই সহজ কথাটা যখন পর্যন্ত না বুঝবেন তখন পর্যন্ত ইনিয়েবিনিয়ে ধর্ষণকে জাস্টিফাই করেই যাবেন।
    ধর্ষণ ধর্ষণই। মারাত্মক অপরাধ। তা সে আপনি সেক্স ওয়ার্কারের সাথে করুন বা রাত তিনটায় ঘোরা কোন মেয়ের সাথে বা নিজের স্ত্রীর সাথেই করুন না কেন, একে বৈধতা দেয়ার কোন সুযোগ নেই।
    #কথাশেষ

    Reply
  4. mamunkvafsu

    ধন্যবাদ লেখককে, সু্ন্দর ও সময়পোযোগী লেখাটির জন্য ।

    Reply
  5. ABSIDDIQUE

    There is only solution to Bannai rape affair. Catch the so called MP nd related persons who are using their power and position to divert the case other way.

    Reply
  6. মামুন

    যে পরিমাণে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে সংবাদ মাধ্যমে তার তিন ভাগের একভাগও প্রকাশ পায় বলে আমার মনে হয় না। কারণ, এক. আক্রান্ত মেয়েটি জীবনের বাকী সময় সামাজিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য মুখ খুলতে নারাজ। দুই. প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের সামর্থ নেই তার। তিন. সমাজের প্রভাবশালীদের অনেকেই ধর্ষণের সঙ্গে যুক্ত। সে কারণে ধর্ষণের শিকার হওয়া বোনটি বিচার চাইতে গেলে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনার কারণে নিরব থাকার চেষ্টা করে আক্রান্ত নারী।

    Reply
  7. সৈয়দা নাসরিন ইসলাম

    দিল্লী শহরে ছাত্রী জ্যোতি সিংহ পান্ডে যখন গণধর্ষণের শিকার হয়ে নিহত হয় তখন এক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকার কথা নয়। কারণ, এদেশের এক শ্রেনীর মানুষ ভারতের অনুকরণ করতে অভ্যস্ত। সেক্স স্ক্যান্ডালের যেসব ঘটনা অপ্রকাশিত থাকে তা যদি প্রকাশ পায় তাহলে আমরা আরো বেশি বিব্রত হতাম।
    ধর্ষণের ঘটনায় আঁতকে ওঠার মতো পরিসংখ্যানটি দিয়েছে সাউথ এশিয়ান লইয়ার্স ফোরাম। তাদের দেয়া তথ্য মতে ২০১২ সালে বাংলাদেশে ৭৭১ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১০৬ নারীকে। গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৫৭ জন। এ চিত্রটি কেবলই বিভিন্ন কোর্টে মামলা অথবা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু ধর্ষণের প্রকৃত পরিসংখ্যান এর কয়েকগুণ বেশি হতে পারে। বিদেশে নারীর প্রতি যে সহিংসতা হচ্ছে, তা বন্ধে সমাজের সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে একাত্ম হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। কিন্তু ওইসব দেশের তুলনায় আমাদের দেশের যথেষ্ট প্রতিবাদ হয় না।
    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং সংসদ উপনেতাও নারী। একাধিক নারী মন্ত্রী রয়েছেন। অথচ খবরের কাগজে চোখ পড়তেই দেখা যায় কোনো না কোনো স্থানে ধর্ষণ, গণধর্ষণ, হত্যাসহ নারীর প্রতি সহিংসতার চিত্র।
    গত বছরের জুলাই মাসে ধর্ষণের একটি পরিসংখ্যান দিয়েছে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন। তাদের দেয়া তথ্য মতে ওই মাসে ধর্ষণের পর ১৬ নারীকে হত্যা করা হয়েছে। যৌতুকের বলি হয়ে ৩৮ নারী। ৫ গৃহপরিচালিকা ও ইভটিজিং-এর কারণে ৩ নারীকে জীবন দিতে হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই মাসে ৭৭ জন ধর্ষণের শিকার হন। এদের মধ্যে নারী ২৬ ও শিশু ৫১ জন। ইভটিজিংয়ের শিকার হন ২৩ নারী। সামাজিক অবক্ষয়, মাদকের বিস্তার, কর্মহীনতা, আকাশ সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাব, পর্নো ছবির অবাধ বিক্রি সর্বোপরি নারীর প্রতি সহিংসতায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা।আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতা শিক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে বেশি জোড় দেয়া হয়নি। ধর্ম শিক্ষা নেই বললেই চলে। এক সময় স্কুল ও কলেজে সপ্তাহে এক দিন ধর্ম ও নৈতিকতা শিক্ষা দেয়া হতো। আর এখন ধর্ম চর্চা করা হলে তাকে উগ্রপন্থী অথবা মৌলবাদী বলে সন্দেহ করা হয়। এখন পবিত্র কোরআন, গীতা, বেদ ও বাইবেলসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থগুলো অধ্যয়ণ করেন না এসব গ্রন্থের কথিত অনুসারীরা। ফলে সমাজে নানাবিদ অঘটন ঘটে। অনেকে আইনের শাসনের কথা বলে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হলে নারী আর ধর্ষণের শিকার হবে না। অধিকার ফিরে পাবে প্রত্যেক নারী। কিন্তু আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্যে দরকার নৈতিকতা।

    Reply
  8. তানভীর

    বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ধর্ষণ সহ যেকোন অপরাধের প্রধান কারণ ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’। অন্যায় করার পর অপরাধী যেকোন উপায়ে(টাকার জোরে অথবা ক্ষমতার জোরে) পার পেয়ে যাবে এধরনের একটা প্রি-কন্সিভড আইডিয়া অপরাধীকে উৎসাহিত করে অন্যায় কাজে লিপ্ত হতে। বিচারের দাবীতে মানুষ রাস্তায় নামার আগে এদেশে সাধারণ জনগন কখনো সুবিচার পায় না। এদিক থেকে দেখলে বনানী রেপস্টোরিটা মিডিয়া কাভারেজ পেয়েছে জন্য হয়ত সেটার বিচার হবে, কিন্তু এরকম হাজারো ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যাবে আইন এবং বিচার ব্যবস্থার গ্যাড়াকলে পড়ে!
    .
    বনানী রেপিস্ট শাফাত আহমেদ নিজে দম্ভ করে বলে সে বাংলাদেশের অন্যতম স্বর্ণ চোরাচালানকারী, সে ইয়াবা আসক্ত, বড়লোক বাপের সন্তান এবং সকল আইনের উর্ধ্বে। এতগুলো ‘বিশেষণ’ যুক্ত একজন মানুষ যখন সমাজে মাথা উঁচু করে দাপিয়ে বেড়াবে তখন সেখানে ধর্ষণ সহ অন্যান্য অপরাধ হরহামেসাই ঘটবে। কালো টাকা,মাদকাসক্তি,বিচারহীনতা, অবৈধ হোটেল মোটেল ব্যবসা, কলুষিত সমাজ ব্যবস্থা, ধর্মীয় গোঁড়ামী, অসাবধানতা সবকিছু একযোগে দায়ী ধর্ষণ এর মত অপরাধের জন্য। এগুলো বাদ দিয়ে ‘সব পুরুষই ধর্ষক’ অথবা ‘নারীর পোষাকের জন্যই ধর্ষণ’ এধরনের স্লোগান যারা তুলছেন তাঁদের জন্য সত্যি আফসোস!

    Reply
  9. মহিউদ্দিন

    ২০১২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মধ্যরাত্রে দিল্লীর রাজপথে চলন্ত বাসের ভেতর নৃশংস শারীরিক অত্যাচার ও গণধর্ষণের শিকার হয় জ্যোতি সিংহ।এই ঘটনার প্রতিবাদে সমগ্র ভারতবর্ষ জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে, ভারতবর্ষের নারীবাদী আন্দোলন এক নতুন মোড় নেয়। জ্যোতি সিংহ ধর্ষণকাণ্ডের প্রতিবাদের মাধ্যমেই প্রথম বার আওয়াজ ওঠে ভিক্টিম ব্লেমিং এর বিরুদ্ধে। আওয়াজ ওঠে পিতৃতন্ত্র নামক সামাজিক কাঠামোর বিরুদ্ধে, যা ভারতীয় নারীবাদী আন্দোলনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা গ্রহণ করে। কিন্তু এর পাশাপাশি ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ডের দাবিতেও সরব হয় অধিকাংশ দেশবাসী। আজ ভারতের সর্বোচ্চ আদালত ৪জন অভিযুক্তের জন্য মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি নিশ্চিত করেছে। এই মুহূর্তে কিছু প্রশ্ন বড্ড ভাবাচ্ছে। মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি কী ধর্ষণের ন্যায় অপরাধকে সমাজ থেকে মুছে দিতে পারবে? ধ্বংস করে দিতে সক্ষম হবে এই প্রবাহমান ধর্ষকামী সংস্কৃতিকে ?

    Reply
  10. Farooque Chowdhury

    ধন্যবাদ লেখককে, ধন্যবাদ হযরত আলীর কথা বলার জন্য।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—