Feature Img

Rainer-fছেলেবেলা থেকেই বাবু ও আরিফের মধ্যে বন্ধুত্ব। তারা এক সাথে স্কুলে যেত, একই ক্রিকেট দলে খেলতো আর তাদের নিজেদের মধ্যে কোন গোপনীয়তা ছিল না- অবশ্য একটি ছাড়া, যা সম্প্রতি দেখা দিয়েছে। একদিন যখন তারা ঢাকা শহরের কোথাও দাঁড়িয়ে ফুচকা খাচ্ছিলো, এমন সময় আরিফ হঠাৎ কয়েক মুহূর্তের জন্য বিব্রতকর ভাবে নিশ্চুপ হয়ে যায়।
– “বাবু, শোন তোকে আমার কিছু বলার ছিল…”
– “কি ব্যাপারে,দোস্ত?”
– “আমি তোর সাথে পুরোপুরি সৎ ছিলাম না রে… মনে আছে যখন আমি তোকে বলেছিলাম যে আমি সেই মেয়েটিকে সত্যি খুব পছন্দ করি? সেটা আসলে সত্যি না। আসলে আমি তার ভাইকে পছন্দ করি। আমি সমকামী”।

এই অপ্রত্যাশিত স্বীকারোক্তিতে বাবু হকচকিয়ে গেল এবং কী বলবে বুঝতে পারলো না। বরং সে উঠে দাঁড়াল এবং হেঁটে চলে গেল। পরবর্তি দিনগুলোতে আরিফ যতবারই তাকে ফোন দিল, কোন সাড়া পেল না। অবশেষে ছয় মাস পর আরিফ বাবুর কাছ থেকে সাড়া পেল। এরপর বহু সন্ধ্যায় দীর্ঘ আলাপচারিতার পর তারা আবার পরষ্পরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে উঠলো। বাবু উপলব্ধি করলো যে, আরিফ সমকামী হওয়া সত্ত্বেও তাদের শৈশবের মধুর স্মৃতি আর যে ভাল সময়গুলো তারা একসাথে কাটিয়েছে তা মিথ্যা হয়ে যায়নি। বাবু তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু আরিফকে সে যা, সেই হিসেবেই গ্রহণ করতে শিখলো- অর্থাৎ আরিফ ঘটনাচক্রে সমকামী।

সমকামী পুরুষ ও স্ত্রীলোক, উভকামী (Lesbian, Gay and Bisexual বা LGB) মানুষেরা আমাদের ভাই, বোন, বন্ধু, প্রতিবেশী, আমাদের শিক্ষক এবং আমাদের সতীর্থ। সমকামীতা এবং উভকামীতা মানব ইতিহাসে সব সময়ই প্রতিটি সমাজ ও প্রতিটি সংস্কৃতির অংশ হয়ে ছিল এবং আছে। আর ব্যাপক প্রাণীকুলেও এর অস্তিত্ব বিদ্যমান। পৃথিবীব্যাপী বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে যে, ১০০ জনের মধ্যে ১ থেকে ১০ জন যৌণভাবে বা রোমান্টিকভাবে সমলিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হয়। ন্যূনতমপক্ষে দেখা গেছে, বাংলাদেশে অন্ততঃ ১৫ লক্ষ সমকামী বা উভকামী রয়েছে। পর্যাপ্ত সংখ্যক থাকা সত্ত্বেও (যা প্রায় কাতারের পুরো জনসংখ্যার সমান) LGB অদৃশ্য সংখ্যালঘু হিসেবে গন্য হয়ে আসছে।

স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কর্মক্ষেত্রে LGB দের প্রতি বৈষম্য তাদের স্বাস্থ্যসেবা এবং সুবিচার থেকে বঞ্চিত করে। প্রায়শঃই আতঙ্ক, সংশয় এবং অপরাধবোধের মধ্যে ক্লিষ্ট থেকে তারা পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুদের কাছ থেকে খুব কমই সহায়তা পায়। বাংলাদেশ পেনাল কোডের ৩৭৭ ধারায় বলা হয়েছে যে, সমলিঙ্গের মধ্যে যৌণ মিথস্ক্রিয়া একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ, যার শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ড। ফলশ্রুতিতে, খুব কম জনই তাদের যৌন প্রবনতা বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলে। অধিকন্তু, বেশীর ভাগই বাধ্যতামূলক গোঁড়ামী, দিকভ্রষ্ট ধারণা এবং সুবিচার আর নৈতিকতার পরিহাসের বেড়াজালে পড়ে মিথ্যা ও গোপনীয়তার জীবন যাপনে বাধ্য হয়। এখনও নারীদের জীবনের মোক্ষ হিসেবে বিপরীতগামী (heterosexual) বিবাহ বিবেচিত, আর সমকামী নারীদের প্রতি সহনশীলতা বিশেষভাবে কম। তারা দ্বিগুন ভাবে নিষ্পেষিত।

২০০২ সনে বাংলাদেশের সমকামী পুরুষদের (Men sex who have sex with men বা MSM) সবচেয়ে বৃহত্তর সংগঠন বন্ধু স্যোসাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি (Bandhu Social Welfare Society বা BSWS) ১২৪ টি স্বচিহ্নিত নারী সমকামী এবং উভকামী পুরুষদের উপর জরিপ চালায় যা তর্ক সাপেক্ষে স্থানীয় LGB গোষ্ঠীর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ। প্রতি দুই জনের মধ্যে একজন সাক্ষাৎদানকারী বলেছে যে, সে স্কুল বা কলেজে হয়রানির শিকার হয়েছে। প্রতি চার জনের মধ্যে তিন জন, যারা তাদের আত্মীয় পরিজনকে নিজের যৌন প্রবণতা সম্পর্কে জানিয়েছে। তারা বলেছে যে তারা তাদের পরিবারের কাছ থেকে খুব নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার শিকার হয়েছে; যেমন মারধর, বিয়েতে বাধ্য করা, সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত, বাড়ি থেকে বের করে দেয়া অথবা তাদের সমকামীতা থেকে আরোগ্যের জন্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া। অনেকেই আইন প্রয়োগকারী সদস্য, স্থানীয় মস্তান, বন্ধুস্থানীয় কেউ অথবা পরিবারের কোন সদস্য দ্বারাও নিগৃহিত হয়েছে। জরিপে ৮০ জনের মধ্যে ২৯ জন BSWS কে এই মর্মে রিপোর্ট করেছে যে, তারা আইন প্রয়োগকারী সদস্যদের দ্বারা হয়রানীর শিকার হয়েছে অথবা পুলিশ অফিসাররা তাদের ধর্ষন সহ বিভিন্ন যৌন নিপীড়ন চালিয়েছ। অন্যান্যরা তাদের উপর মারধর, বলপ্রয়োগে অর্থ আদায়, গতিবিধি বাধাগ্রস্ত করা, হুমকি এবং ব্ল্যাকমেইল করার কথা জানিয়েছে। ময়মনসিংহ, ঢাকা এবং সিলেটের সমকামীরা রিপোর্ট করেছে যে, তাদের পুলিশ ব্যারাক বা পুলিশ চৌকিতে ধরে নিয়ে গিয়ে দলগত ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ধরনের জবরদস্তি যৌণক্রিয়া খুবই অনিরাপদ যা প্রায়শইঃ গুরুতর শারীরিক জখমের কারণ হয়; যেমন মলনালী ফেটে যায়, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরন হয় ইত্যাদি। ২০০৩ সালে হিউম্যান রাইট ওয়াচ (HRW) –এর রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, এ ধরনের ঘটনাগুলো মাঝে মধ্যেই ঘটে এবং এ থেকে বাংলাদেশে LGB গোষ্ঠীর উপর সহিংসতার ধরনই প্রকাশ পায়।

বাংলাদেশে সমকামীদের প্রতি স্থানিক তীব্র আতঙ্ক ও ঘৃণার কারণে LGB দের মানসিক স্বাস্থ্য ও সুখ-সমৃদ্ধির উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান মজুমদার প্রমুখের দ্বারা পরিচালিত ১০২ জন সমকামী পুরুষের উপর এক সাম্প্রতিক গবেষনায় দেখা গেছে যে, এদের মধ্যে শতকরা ৩২ জনের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতার নজির রয়েছে এবং শতকরা ৪৭ জন অন্ততঃ একবার হলেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।

২০১১ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা সফরে এসে আমি মামুন ও সাখাওয়াত (আসল নাম নয়) নামের যথাক্রমে ২৩ বছরের শিক্ষার্থী এবং ২৬ বছর বয়স্ক সাংবাদিকের সাথে পরিচিত হই। দু’জনই সমকামী।

মামুনের বর্ণনা অনুযায়ী, নিজেকে সমকামী হিসেবে মেনে নেয়াটা তার “জীবনের সবচেয়ে কঠিনতম ব্যাপার” ছিল। ১৩ বছর বয়সে যখন সে প্রথম অন্য ছেলেদের শারীরিক আকর্ষণ অনুভব করে, তখন সে ভাবলো তার মধ্যে নিশ্চয়ই কোন গলদ আছে এবং সে এর পরিবর্তনের আশায় পথ চেয়ে থাকলো। সে ভাবলো সে বিয়ে করে জীবনের বাকী সময় তার যৌন প্রবনতাকে গোপন করে রাখবে। তারপর সে ইন্টারনেটে সমকামীতার উপর গবেষনা শুরু করলো এবং আবিষ্কার করলো যে এটা পৃথিবীর অন্য অংশে গ্রহণযোগ্য এবং স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচিত। সে যে সমকামী, এটা মেনে নিতে তাকে আরও ছয় বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ইদানিং সে প্রতিদিন বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাবার কথা ভাবে। কেননা, এ দেশে তার জীবদ্দশায় LGB দের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তিত হওয়ার ব্যাপারে সে আশাবাদী নয়। “আমি আমার দেশ এবং পরিবারকে ভালবাসি কিন্তু আমি স্বাভাবিক এবং স্বাধীন জীবন যাপন করতে চাই। মিথ্যার সাথে সারাটা জীবন কাটাতে চাই না। এখানে থাকলে আমি অসমকামী জীবন কাটাতে পারবো না। একটা মেয়ের জীবন নষ্ট করার চাইতে সারা জীবন একা কাটানই ভাল”। যদিও সে তার বাবা মা’কে তুলনামূলক ভাবে উদার মনে করে, কিন্তু তার ভয় হয়তো এমন দিন আসবে যখন তাকে বেছে নিতে হবে হয় তার বাবা মা অথবা একটি খাঁটি মর্যাদাপূর্ণ জীবন।

সাখাওয়াতের জ্ঞান হবার পর থেকেই সে অন্য পুরুষের প্রতি রোম্যান্টিক আকর্ষন বোধ করতো। ছোটবেলা থেকেই পরিবার থেকে আলাদ বাস করায় সে ঢাকা বসবাসরত সমকামীদের আশ্রয় পায়। সে বয়েজ অফ বাংলাদেশ (Boys of Bangladesh বা BoB) –এর সদস্য হয়, যা সমকামী পুরুষদের একটি প্ল্যাটফর্ম। এখানে সে যৌন প্রবণতার মনস্তত্ব এবং রাজনীতি বিষয়ে অনেক কিছু জানতে পারে। চার বছর ধরে সাখাওয়াতের একটি পুরুষের সাথে গভীর প্রণয়ের সম্পর্ক চলছে। সে বাংলাদেশে থেকে LGB বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করতে চায়।

যুক্তরাষ্ট্র ফিরে আসার পর আমার সাথে বাংলাদেশের অনলাইন ফোরামের মাধ্যমে ২৩ বছরের বিবিএ-এর ছাত্রী ফারহিনার (তার আসল নাম নয়) পরিচয় হয়। সে ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের পছন্দ করে এবং নিজেকে সমকামী নারী হিসেবে চিনতে পারে। পাছে তার বাবা মা তাকে অস্বীকার করে এই ভয়ে সে তাদেরকে এ ব্যাপারে কিছুই জানতে দেয়নি এবং অন্য একটি নারীর সাথে সম্প্রতি গড়ে উঠা তার সম্পর্ক গোপন রেখেছে। সাখাওয়াতের মতো তার ব্যতিক্রমী যৌন প্রবনতার সমর্থনে সে কোন প্ল্যাটফর্ম খুঁজে পায়নি। ফারহিনা আমাকে বলেছে যে, পুরুষের চাইতে নারীর উপর অল্প বয়সে বিয়ে করার চাপ বেশী থাকে। তার ভাষায়, “কোন ছেলেকে যদি বিয়ে করতে আমাকে চাপ দেয়া হয়, আমি হয়তো আত্মহত্যা করবো। আমি যা নই তা হওয়ার চাইতে মরে যাওয়া ভাল”। সে যা, সেই হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সে গ্র্যাজুয়েশনের পরই দেশ ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার কথা ভাবছে।

ইন্টারনেট হচ্ছে তাদের সবার জন্য পরামর্শ এবং সহায়তা পাওয়ার একটি মূল্যবান উৎস এবং এই উৎস তারা যা- তা মেনে নিতে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। যতদূর সম্ভব মানসম্মত তথ্য পাওয়ার জন্য বিশেষত LGB তরুনদের জন্য, ইন্টারনেট ব্যবহার করা উত্তম। এর মাধ্যমে অন্যান্য LGB দের সাথেও যোগাযোগ করা যায় এই ঠিকানায়ঃ http://www.itgetsbetter.org, http://tiny.cc/lgb-bd এবং Wikipedia। দুর্ভাগ্যবশতঃ বাংলাদেশে ইন্টারনেটের সুবিধা বিত্তবানদের মধ্যেই সীমিত, সেহেতু অল্প সংখ্যকই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে।

ভুলবশতঃ মাঝে মাঝে ভাবা হয় যে, যৌন প্রবণতা “একটি পছন্দ” অথবা “একটি অসুখ”- যার কোনটাই সঠিক নয়। এটা মনুষ্য যৌনতার একটি স্বাভাবিক দিক। সমকামী সম্পর্ক নারী-পুরুষের সম্পর্কের মতই প্রাকৃতিক এবং মানবিক বন্ধনের একটি স্বাস্থ্যকর ধরন। একজন ব্যক্তির যৌন ঝোঁক বা প্রবণতা সেই ব্যক্তির একটি অংশ এবং প্রত্যেকেরই তারা যা, সে জন্যই সম্মানের প্রাপ্য। LGB রা বিশেষ অধিকার দাবী করে না বরং তারা তাদের মানবিক অধিকারের স্বীকৃতি চায়। সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় ধ্যান-ধারণা সমকামীতাকে আনুকূল্য দেখায় না এবং বর্ণবৈষম্যকে প্রতিষ্ঠিত করে। LGB দের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ এবং হয়রানী করা, তাদের সমান সুযোগ এবং সম্মান দিতে অস্বীকার করা অথবা তাদের অভিযুক্ত করা ইত্যাদি আচারনিষ্ঠ বা সভ্য- কোনটাই নয়, বরং এগুলো অনৈতিক।

সমমনা প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে যৌনক্রিয়া একটি সহজাত ব্যক্তিগত ব্যাপার এবং সহিষ্ণুতা ও সম্মানের মূল্য দেয়- এমন সমাজের সরকার দ্বারা তা নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিৎ নয়। তবুও আইনবিধিমালার ৩৭৭ ধারা ঠিক তাই করছে। ৩৭৭ অনুচ্ছেদ মর্যাদা এবং সমতার মৌলিক নীতিগুলোর সাথে স্ববিরোধী এবং তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙঘন করে। এটা সামাজিক হীনম্মন্যতাকে বেগবান, অন্যান্য বৈষম্যকে উৎসাহিত, গনস্বাস্থ্য উদ্যোগকে অবমনিত করে- যার ভিত্তি কুসংস্কার ছাড়া আর কিছুই নয়। বাংলাদেশ আইন, বিচার ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ৩৭৭ অনুচ্ছেদ “জীবনের অধিকার এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিস্তৃত সংজ্ঞানুযায়ী সাংবিধানিক ভাবে রক্ষিত গোপনীয়তার (privacy) অধিকারকে লঙঘন করে”। সুপ্রিম কোর্টের আইনবিদ সারা হোসেইন অনুচ্ছেদ ৩৭৭ কে আরও দেখেন বৈষম্য-বিরোধী ধারা এবং বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বারা নিশ্চিতকৃত সম অধিকার আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হিসেবে।

যদিও ৩৭৭ অনুচ্ছেদ প্রায় ব্যবহৃত হয়ই না, কিন্তু এটা LGB গোষ্ঠীর জন্য ডেমোক্লেস (Damocles) এর তরবারীর মতো এবং গোঁড়া ও অসহিষ্ণুদের দ্বারা এটাকে অজনপ্রিয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেয়ার আগেই সাবধান হতে হবে। একটি স্বাধীন এবং গনতান্ত্রিক জাতি হিসেবে বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য অনুচ্ছেদ ৩৭৭ রদ করা একটি অখন্ড পদক্ষেপ। এটি রদ বা বাতিল করলে LGB, যারা ধর্ষনের শিকার- তাদের জন্য, দোষীদের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত হওয়ার ঝুঁকি ছাড়াই নালিশ করা এবং পুলিশের সেই অস্ত্র কেড়ে নেয়া সম্ভব হবে যার দ্বারা তারা নাকাল, নির্যাতিত এবং ব্ল্যাকমেইল হচ্ছে। যদিও সাখাওয়াত অভিযুক্ত হতে ভয় পায় না, তথাপি সে রাষ্ট্রের চোখে একজন অপরাধী। LGB অধিকারের সমর্থনকারী হিসেবে সে বিশ্বাস করে যে, অনুচ্ছেদ ৩৭৭ বাতিল করলে “তা LGB গোষ্ঠীকে প্রকাশিত হওয়া সহজতর করার মাধ্যমে আরও ভাল দৃষ্টিগ্রাহ্যতা এনে দেবে”।

ফারহিনা, মামুন, সাখাওয়াত এবং অন্যান্য LGB মানুষদের জন্য আমাদের মনযোগ এবং সমর্থন প্রাপ্য। অন্যদিকে, LGB গোষ্ঠী গোঁড়ামী এবং অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নেতৃত্বের কিছু অংশ অবশ্যই গঠন করতে পারবে। আমাদের সবার এটা নৈতিক দায়িত্ব এই আন্দোলনে শরিক হওয়া এবং মানুষ হিসেবে সবার কদর সমান- এই দৃষ্টিভঙ্গীর সপক্ষে সহিষ্ণুতা এবং সম্মানের জন্য লড়ে যাওয়া।

রেইনার এবার্ট: আমেরিকা টেক্সাস-এর রাইস ইউনিভার্সিটিতে পাঠরত একজন দর্শনের ছাত্র
ভাষান্তর: সেলিম তাহের।

রেইনার এবার্টরাইস ইউনিভার্সিটির দর্শন বিভাগের পিএইচডি পদপ্রার্থী এবং অক্সফোর্ড প্রাণিনীতিশাস্ত্র সেন্টারের সহযোগী ফেলো

৬৬ Responses -- “বাংলাদেশের অদৃশ্য সংখ্যালঘু”

  1. sarker

    আমাদের দেশের মাদ্রাসাগুলোতেও গে-ইজম এর চর্চা রয়েছে। প্রমাণ দিন…

    Reply
  2. Rahman

    হোমোসেক্সুয়াল মানুষদের প্রাপ্য অধিকার ও সম্মান দিতে হবে। ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে অনেকেই হই-হল্লা করেন। কিন্তু হোমোসেক্সুয়ালদের বিষয়টিও স্বাভাবিক। এটা অস্বাভাবিক হলে পশ্চিমা দেশগুলোতে তাদের রাজনৈতিক নেতা, অধ্যাপক, ডাক্তার হিসেবে সামনে এগিয়ে যেতে দেওয়া হত না। আমি যুক্তরাজ্যে অনেক ধার্মিক লোককে দেখেছি তারা গে বা লেসবিয়ান ডাক্তারদের কাছে চিকিৎসা নিতে যাচ্চেন। আমার অনেক শিক্ষক ছিলেন গে।

    অনেকের ধারণা, এইচআইভি’র বড় কারণ হোমোসেক্সুয়ালিটি। অনিরাপদ যৌনতাই মূলত এইচআইভি সংক্রমণের জন্য দায়ী- তা সে যৌনতা হোমোসেক্সুয়াল বা হেটেরোসেক্সুয়াল যা-ই হোক না কেন। তাছাড়া হোমোসেক্সুয়াল হলেই কেউ তার ধর্ম পালন করতে পারবে না এমন কোনো কথা নেই। বাংলাদেশে অনেক ট্রান্সসেক্সুয়াল মানুষকে আমি এজন্য অপদস্থ হতে দেখেছি। এটা কি তাদের অধিকার নয়?

    আমাদের নিজেদেরকে প্রশ্ন করা উচিত, এটা কি স্বার্থপরতা নয় যে, আমরা শুধু নিজেদের সেক্সুয়ালিটিকে শ্রদ্ধা করি, অনদেরটাকে নয়!!!

    Reply
  3. প্রেমী বালক

    সমকামিদের জীবন বলে কিছু নেই। যারা বাইসেক্সুয়াল তারা হয়তো জীবনটাকে গুছিয়ে নিতে পারে কিন্তু যারা পিওর-বটম গে এবং পিওর-গারলিশ তারা শেষ বয়সে মানবেতর জীবনযাপন করেন। যারা গে তারা জেনেশুনেই বিষপান করেন। বাংলাদেশসহ অনেক দেশেই দেখা যায় যে এদের সংসার বা সুশৃঙ্খল জীবন বলে কিচ্ছু নেই। এদের কোনও একজন যৌনসঙ্গী নেই। নিত্য চলে সেক্স-পার্টনার বদল। সমকামিদের জীবন আসলেই কোনও জীবন না। বাংলাদেশে সমকামিতাকে বৈধতা দিলে কি এইডসের ঝুঁকি কমবে বা সমকামিরা শৃঙ্খলিত জীবনযাপন করবেন? আমরা যে এত ধর্ম-ধর্ম করি, আপনারা কি জানেন যে আমাদের দেশের মাজারগুলোই হয়ে উঠেছে গে-দের ডেটিং-স্পট? আমাদের দেশের মাদ্রাসাগুলোতেও গে-ইজম এর চর্চা রয়েছে।

    Reply
  4. Raihan Mahmud Ripon

    একটি কথা সকলকে মনে রাখতে হবে যে,
    কোন মানুষ নিজে ইচ্ছে করে সমকামী হয়নি। জম্মগতভাবে সে এটা পেয়ে গেছে।
    অমরা যারা সচেতন মানুষ তাদেরকে আরও ভাবতে হবে,
    যে সকল জিনিষ মাসুষ জম্মগতভাবে পায়নি(মাদক,নেশা ইত্যাদি),যদি সে সকল জিনিষের প্রতি মানুষ স্বেচ্ছায় জড়িত হয়,তবে জম্মগতভাবে অর্জন করা একটি বিষয়(সমকামিতা) যখন একজন
    মানুষের মধ্যে থাকে এবং সে উক্ত বিষয়টি চর্চা করে তখন সেটা দোষনীয় দৃষ্টিতে দেখা সঠিক হবেনা।
    কেননা সে ইচ্ছা করে সমকামী হয়নি।
    আমরা যারা সমকামী নই, তারা কি একবার ভেবে দেথেছি যে, যদি এ রকম একটি বিষয় আমাদের মধ্যে জম্মগতভাবে থাকতো তাহলে নিজের সম্পর্কে আমাদের প্রতিক্রিয়া কি হতো?
    তাই প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিজের দিকে তাকিয়ে যে কোন বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করা উচিত।
    ধরুন, আমরা যারা বিপরীতকামী যৌন সম্পর্কে বিশ্বাসী অথবা চর্চা করি তাদের মধ্যে যারা জোর জবরদস্তিমূলক একটি মেয়ের সাথে যৌনতা চর্চা করার চেষ্টা করি(যা কোনভাবেই জম্মগতভাবে নয়) সেটা যদিও সমাজের চোখে নিন্দনীয় তা কি কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য? তার উপর নিন্দাসূচক প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করাও কি বান্চনীয়? বিষয়গুলো ভেবে দেখার প্রয়োজনীয়তা আবশ্যক। তবে,
    জম্মগতভাবে অর্জন করা কোন বিষয় মানুষ চর্চা করলে সেটা সে করতেই পারে। খেয়াল রাখা দরকার যে কোনভাবেই যেন তা অপরের ক্ষতির কারন না হয়ে যায়।

    Reply
  5. তানভির

    আসসালামুয়ালাইকুম,
    আসলে সমকামিরা মহান আল্লাহ্‌ তাআলারই সৃষ্টি, তাদেরকে আমারা অবশ্যই ঘৃণা করবোনা। তা করা পাপ। যেমন করে আমরা অপরাধ ঘৃণা করি, অপরাধীকে নই। তেমনি আমরা সমকামিতা ঘৃণা করি, কিন্তু আল্লাহ্‌ যাদেরকে সমকামি হিসেবে তৈরি করেছেন, তাদের ঘৃণা করা উচিত নয়, এর আগে ও একজন বলেছেন, ধর্মীয় উপায়ে এটার চিকিৎসা সম্ভব। তাই আমাদের উচিত এই আন্দোলন করা যে সমকামিদের চিকিৎসার ব্যবস্থা যাতে নিশ্চিত হয়।এবং আমাদের উচিত তাদের সুস্থতার জন্য আল্লাহ’র নিকট দোআ করা।
    অনেকেই দেখলাম জিনিসটাকে সাধারণ মানুষের কাছে স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, এটার যারা ভক্তভগি তারা স্বাভাবিক মানুষ,কিন্ত এই আচরনটা স্বাভাবিক নয়, তাই আপনারা জিনিসটাকে এমনভাবে উপস্থাপন করুন যাতে কোন সাধারণ স্বাভাবিক মানুষ বিভ্রান্ত না হয়।
    অনেকে কানাডা এবং আমেরিকার রেফারেন্স দিয়ে জিনিসটাকে অনেক সভ্য মানুষের কাজ হিসেবে দাবি করেছেন। তাদের বলছি নিজের বিবেক, বুদ্ধি, মনন, দিয়ে বিচার করে দেখবেন কোথায় কানাডা আর আমেরিকা’র কালচার আর কোথায় বাংলাদেশ এর কালচার। আশা করি উত্তর পেয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ।

    লুত জাতিকে আল্লাহ্‌ ধ্বংস করে দিয়েছিল এই ঘৃণ্য পাপ এর কারণে, তাই আমাদের উচিত বেশি বেশি আল্লাহ’র কাছে দোআ করা যাতে আল্লাহ্‌ আমাদের পরিবার, দেশ, সমাজ, জাতি তথা পুরো পৃথিবী কে এই অনাচার থেকে হেফাজতএ রাখেন আমিন।

    Reply
  6. সাইয়াজ

    আমি কি বলব জানি না ! রাইনর এক্জন ভিনদেশী হয়ে কেন আমাদের সংবিধান বদল করার পিছনে উঠেপড়ে লাগল? তার আগে উনি কোরবানি নিয়ে লিখছিলেন, এখন সমকামি নিয়ে। উনি কী এজেন্ডা নিয়া এগিয়ে যাচ্ছেন ?

    Reply
  7. নাকিব হায়দার

    ধন্যবাদ রেইনার এবং অনুবাদক সেলিম তাহেরকে।

    খুব বেশি আশাবাদী আমি নই কারন আমাদের এই “সোনার বাংলার সোনার মানুষেরা” হিজড়া সন্তানদেরকে বাসা থেকে তাড়িয়ে দেন। আমাদের “সোনার দেশের” মানবাধিকারও “সোনার” মানদণ্ডের উপর স্থাপিত, তাই সমকামীদের অধিকার আদায় সহজ হবে না।

    আমাদের বাকস্বাধীনতা আবার অনেক বেশী তো, তাই খোলামেলা কথা বলতে গেলে মহাপরাক্রমশালী “কুদ্দুছ সাহেবরা” “বাঁশের কঞ্চী” নিয়ে পিছনে ছুটবে। নিজেকে বড় মনে করা নাকি খারাপ কাজ। “মাগার” কিছু ক্ষেত্রে নিজেকে বড় মনে করা “পবিত্র দায়িত্ব”। তো এই দেশে থাকতে হলে দেশের আইন মানতে হবে (যদি সঠিক স্থানে মামা না থাকে)।

    শোবারঘরে কি করছেন সেইটাও আমাদের ধর্মগুরুদের জানাতে হবে। সমলিঙ্গের মানুষের দিকে তাকানো মানা। পরলিঙ্গের দিকেও তাকানো যাবেনা, যদি “তাকানোর লাইসেন্স” না “কেনেন”।

    সবকিছু মেনে নিয়ে সোনার বাংলায় বাঁচতে হবে। ভালো না লাগলে অনত্র চলে যেতে হবে। (জয়) বাংলা(দেশ) (জিন্দাবাদ)!

    Reply
  8. সরকার মারুফ

    এভাবে চলতে থাকলে আমাদের সমাজে একসময় মদ, হেরোইনের মতো অবৈধ ও জীবন-বিধ্বংসী জিনিসও তো বৈধ করে দিতে হবে, দেখছি! কারণ, লোকে বলবে যে, এটা তাদের মানবাধিকার।

    পৃথিবীর বহু দেশে ‘ইনসেস্ট সেক্স’ বা একই পরিবারের সদস্যদের মাঝে যৌনতা দোষের না। তাই বলে কি সেইটা খুব ভালো জিনিস? এখন যদি আমরা বলি যে, ‘আহা, এইসব লোকেরা তাদের মায়েদের প্রতি, বোনেদের প্রতি যৌন আকর্ষণ অনুভব করছে, কিন্তু তাদের যৌন সম্পর্কের বৈধতা নাই। সুতরাং, এর বৈধতা আদায় করা হউক। আমাদেরকে কি সেটা মেনে নিতে হবে?

    সমকামীদের যৌনতাকে বৈধতা দেবার পরবর্তী পর্যায়ে ‘ইনসেস্ট সেক্সও’ যে সামনে আসবে, তাতে কোনো সন্দেহ নাই।

    একটা রাষ্ট্র এইসব কাজের লাইসেন্স দিলে সেই জাতি ধ্বংস হবেই হবে, কোনো সন্দেহ নাই। আমেরিকা, কানাডার এই তথাকথিত সভ্যতা কয় দিনের? ওয়েট করেন, তাদের ধ্বংস অনিবার্য।

    Reply
    • রোমেল

      আপনি কি করে সমকামিতাকে এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্যকে এক কাতারে ফেললেন বুঝলাম না। যেকোন মাদক দ্রব্য শুধু সেবনকারি নয়, অন্য যা কারো জন্য ক্ষতিকর, কিন্তু দু জন প্রাপ্তবয়স্ক সমকামিদের সম্পর্ক কি করে আরেকজনের জন্য ক্ষতির কারন হয়?

      ঠিক একইভাবে ইনসেস্ট সম্পর্কও বৈধতা পায় না কারন তাতে বংশবৃদ্ধি বাধাগ্রস্থ হয়। গবেষণায় দেখা যায়, ইনসেস্ট সম্পর্কের কারনে জন্মানো শিশুদের অধিকাংশ নানবিধ শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। কিন্তু সমকামিতায় এমন কোন সুযোগ নেই।

      মোদ্দা কথা, যতক্ষণ না পর্যন্ত দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের নিজেদের পারস্পরিক বোঝাপড়ায় নির্মিত কোন সম্পর্ক (শারীরিক বা মানসিক বা উভয়)তৃতীয় কারো ক্ষতির (দৈহিক বা মানসিক) কারন না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তা কোনভাবেই রাষ্ট্র বা সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত নয়।

      Reply
      • সরকার মারুফ

        আপনি বললেন, “যতক্ষণ না পর্যন্ত দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের নিজেদের পারস্পরিক বোঝাপড়ায় নির্মিত কোন সম্পর্ক (শারীরিক বা মানসিক বা উভয়)তৃতীয় কারো ক্ষতির (দৈহিক বা মানসিক) কারন না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তা কোনভাবেই রাষ্ট্র বা সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত নয়।”

        ইনসেস্ট সেক্সের ক্ষেত্রেও তো এই কথা পুরোপুরি খাটে। সেখানেও বোঝাপড়া থাকতে পারে এবং তৃতীয় কারো সমস্যা হয় না। কিন্তু আপনি ইনসেস্ট সেক্সের বিরোধিতা করলেন এই কারণে যে, এতে বংশবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। সমকামিতার মধ্য দিয়ে কি বংশবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়?

  9. শিবলী

    আমি নিজে যদিও একজন সমকামিতার প্রতি আকৃষ্ট , কিন্তু এখনও আমার মাথা এতো খারাপ হয়ে যায়নি যে আমি এটাকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে পারি ! ! !

    Reply
    • রাজিব

      শুনে খারাপ লাগলো আপনি একজন সমকামি হয়েও নিজের অনুভূতি এবং ভাললাগাকে মেনে নিতে পারছেন না। খারাপ লাগলো এই কারনে যে আমি বুঝতে পারছি আপনি এখন কি রকম মানসিক যন্ত্রনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এরকম কিন্তু আপনি একা নন। প্রত্যেক সমকামি ব্যক্তিই জীবনের এক পর্যায়ে এ অবস্থার মধ্য দিয়ে যায়, যাকে বলা হয় Coming to terms with one’s sexuality বা নিজের যৌনতার সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়া। এ কাজটা সহজ নয় কারন আপনার পরিবেশ, সমাজ, পরিবার, ধর্ম ইত্যাদি আপনাকে সর্বদা মনে করিয়ে দিচ্ছে এটা স্বাভাবিক নয়। আপনার মাঝে তাই নিজেকে নিয়ে এক ধরনের অপরাধবোধ বা গ্লানি কাজ করে। আপনি চেষ্টা করছেন যাতে নিজের অনুভুতি দমন করে আর দশ জনের মত মেইনস্ট্রিম জীবন যাপন করতে। আর এই বোধটা আপনার মাঝে এতটাই তীব্র যে আপনি এই ভার্চুয়াল ফোরামেও anonymously নিজেকে মেনে নিতে কুন্ঠিত বোধ করছেন। আপনার পোস্ট পড়ে বুঝাই যাচ্ছে, আপনি সমকামিতাকে স্বাভাবিক না মানলেও তা পালন করা থেকে বিরত থাকছেন না, কারন এটা আপনার পক্ষে সম্ভব নয়। কেন জানেন? কারন আর সবার মত এটা আপনার যৌন প্রবৃত্তি। প্রতিটা মানুষের যৌন ও মানসিক চাহিদা তার ব্যক্তি সত্ত্বার মতই unique, যা জেনেটিকেলি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। একজন heterosexual যেমন homosexual হতে পারবে না, ঠিক তেমনি আপনার পক্ষে বা একজন homosexual এর পক্ষে heterosexual হুওয়া সম্ভব নয়।

      আমার এতগুলো কথা বলার একটাই উদ্দেশ্য, নিজেকে জানতে আপনাকে সাহায্য করা। আমি জানি তা আপনার দরকার নেই, কিন্তু না বলে পারলাম না। শুধু অনুরোধ থাকবে, আর যাই করেন, নিজের ভালোবাসাকে খাটো করে দেখবেন না, নিজেকে শ্রদ্ধা করুন, নিজের অস্তিত্বকে বরণ করে নিন। নয়ত আপনি, আপনার পরিবার, এই সমাজ, রাষ্ট্র কেউই ভালো থাকবে না।

      বিশৃংখলা হবে তখনি যখন আমরা সবার কাছ থেকে ভালবাসার মত মৌলিক অধিকারটি ছিনিয়ে নিব।

      Reply
  10. কুদ্দুছ

    ”আমাদের সবার এটা নৈতিক দায়িত্ব এই আন্দোলনে শরিক হওয়া এবং মানুষ হিসেবে সবার কদর সমান- এই দৃষ্টিভঙ্গীর সপক্ষে সহিষ্ণুতা এবং সম্মানের জন্য লড়ে যাওয়া।”’ বাঁশের কঞ্চী চিনেন? আপনাদেরকে বাঁশের কঞ্চী দিয়ে পেটানো উচিৎ। ছিঃ ছিঃ ছিঃ!

    Reply
    • নাকিব হায়দার

      কুদ্দুছ সাহেবরা ভিন্নমতালম্বীদের “বাঁশের কঞ্চী” দিয়ে পেটানোর অধিকার পেয়ে গেছেন মনে হচ্ছে। জয় কুদ্দুছ সাহেব। নাকি কুদ্দুছ সাহেব জিন্দাবাদ?

      Reply
  11. যোদ্ধাবাজ্‌

    “রেইনার এবার্ট”
    দর্শনচর্চ্চা করেন। রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করেছেন। ২০১০ সালে টেক্সাস আসার আগে তিনি হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছর পড়াশুনা করেছেন । এখানেই তিনি তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে মাস্টার্স করেন। বর্তমানে প্রাণী অধিকার আন্দোলনের সাথে যুক্ত।
    ————————————————————-
    জ্বী, মিঃ রেইনার এবার্ট, বানরও প্রাণী আর আপনিও প্রাণী। কিন্তু বানর সমকামী নয়, আপনি বোধ করি সমকামী!!(?)। আর তাই বানরের সাথে আপনার স্বভাবসুলভ আচরণের কোন মিল নেই। দুঃখজনক ব্যাপারটি এটিই যে, বিবেকহীন বানরও যা বুঝে; আপনি এত শিক্ষিত বিবেকবান(?) মানুষ হওয়ার পরেও তা বুঝলেননা!!!!

    Reply
    • একাকী একজন

      কমেন্ট করার নীতিমালায় স্পষ্ট করে বলা আছে – ব্যক্তিগত আক্রমন গৃহীত হবে না । তারপরেও এরকম কমেন্ট কি ভাবে প্রকাশ হয় ?

      আপনি একজনকে বান্দর বলার আগে নিজেকে আয়নায় দেখে নিন। তাঁর সমকক্ষ হবার চেষ্টা করুন , তারপর বলেন ।

      আর আপনার জ্ঞাতার্থে জানাই , শুধু মানুষ না , অন্যান্য প্রানীর ভিতরেও সমকামীতা আছে ।

      Reply
      • যোদ্ধাবাজ্‌

        একাকী একজন@ চোক্ষের মাথা খাইছেন নাকি? আমি বান্দররে বান্দর কইছি আর মানুষরে(?) মানুষ কইছি। আর আপনার গায়ে লাগলো ক্যান? আর আমি এখানে কাউরে ব্যক্তিগত আক্রমণ করি নাই, কিন্তু আপনি আমারেই আগে ব্যক্তিগত আক্রমণ করলেন, এতেই বুঝা যায় আপনি একজন অবিবেচক !!

    • নাকিব হায়দার

      যোদ্ধাবাজ্‌ সাহেবের যুক্তি ধোপে টেঁকে না, কারন অনেক “বিবেকহীন বানর” সমকামি বা উভকামি। গবেষণাতে আগ্রহী হলে Bonobo সম্পর্কে পড়ে দেখুন।

      Reply
      • যোদ্ধাবাজ্‌

        সবগুলো কমেন্টের প্রতি উওর দেখি আপনার সমকামীতার পক্ষে যুক্তিতে টইটুম্বর!!
        নাকি রেইনার এবার্ট” সাহেবের সাথে আপনি……..ছিঃ কি লজ্জা!!!!

      • কমল

        আরে যোদ্ধাবাজ ভাই ত দেখি রেইনার আর নাকিব হায়দার এর রতিক্রিয়া কল্পনা করে রীতিমত উত্তেজনায় কাতর!! লজ্জা কইরেন না লাইনে আইসা পড়েন, আর কতদিন লুকায় লুকায় এসব ভাববেন আর সমাজের ভয়ে হাত দিয়ে কাজ সারবেন!!

        ** যেহেতু যোদ্ধাবাজের উপরের কমেন্টটি অনুমোদন করা হয়েছে, সেহেতু আশা করব bdnews24.com এই কমেন্টটিও গ্রহণ করবে **

      • নাকিব হায়দার

        Ad Hominem reasoning is a logical fallacy. তাই আপনার উপরের কমেন্ট এর উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন দেখি না। উপরের যুক্তিতর্কে কে বিজয়ী তা পাঠক বুঝে নেবে আশা করছি।

      • সাইয়াজ

        @ নাকিব হায়দার: কী সব আজব কথা বলসেন ,বিজয় বহু দূর । আসলে, আপনার আরও বাংলা চর্চা করা উচিত । ..

  12. Shariful

    আমি ইসলামী ধ্যান-ধারনায় বিশ্বাসী এবং আশা করি তরুণরা ইসলাম দ্বারা অনুপ্রানিত হবে।

    Reply
  13. BD

    কমেন্টগুলো দেখেই বোঝা যায় কারা বিডিনিউজ পড়ে। বাংলাদেশে কবে প্রগতি আসবে?

    Reply
  14. Raja

    অবিলম্বে এ কলামটি প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানাচ্ছি । এবং আজকের মধ্যে এ কলামটি প্রত্যাহার না করলে আমরা bdnews24.com পড়বো না । এটা আমার পন.. ইনশা্আল্লা

    Reply
  15. Mohammed Razzaque

    এই লেখায় পশুর অধিকার আর মানবাধিকার গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। যারা মানুষের অবসরে পশুর মত ব্যবহার করে তারা প্রকারন্তে পশুই বটে। লেখক দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং সে পশু ভালবাসে মানুষ নয়।

    Reply
    • নাকিব হায়দার

      মানুষও এক ধরনের পশু। পশু ভালবাসাতে দোষের কি আছে পরিষ্কার করে বোঝান। না হলে এই ধরনের rhetoric “আজাইরা” বলে প্রতীয়মান হয়।

      Reply
  16. Ranjan

    লেখককে ধন্যবাদ এই বিষয়টির প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য।

    Reply
  17. বাবলু

    সমকামীরাও মানবসন্তান,সৃষ্টিকর্তার প্রেম-ভালবাসা পাওয়ার অধিকার তাদেরও আছে।

    Reply
  18. মুসলিমাহ

    সালাম

    লেখকের নাম দেখে মনে হচ্ছে তিনি খ্রিস্টান । যদি তাই হয় নিশ্চয়ই তিনি বাইবেল পড়েছেন ও জানেন যে সেখানেও সমকামিতার পরিণাম কী দেখানো হয়েছে ?

    যীশু খ্রিস্ট কি সমকামী ছিলেন ? নিশ্চয়ই না ।

    লেখক ও ব্লগ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ দয়া করে এমন কিছু লিখবেন না ও প্রকাশ করবেন না যা সংখ্যাগরিষ্ঠদের ধর্মীয় অনুভূতিতে অকারণে আঘাত দেয় ও সমাজে পাপ ছড়িয়ে দিতে উৎসাহ দেয় ।

    Reply
    • নাকিব হায়দার

      নাম দেখে ধর্ম জানা যায় নাকি? Albert Einstein নামটি হিব্রু, কিন্তু উনি তো নাস্তিক ছিলেন।

      আরেকজন তার মত প্রকাশ করলে আর সেই মত আপনার মতের সাথে না মিললে আপনার “ধর্মীয় অনুভূতিতে” আঘাত পড়ে কেন? আপনার যুক্তি ঠিক হলে আমি গরুর মাংস খেলে কি হিন্দু-ধার্মিকের “ধর্মীয় অনুভূতিতে” আঘাত পড়বে? সবাইকে খুশি করা কারো পক্ষে সম্ভব না। সবাইকে খুশি করার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।

      অনেক বইয়ে অনেক কিছু লেখা আছে। তাই বলে সবকিছু সত্য বলে মনে হয়না আমার। আমি বিশ্বাস করি না কেউ পানির উপর হেঁটেছে, বা কোনো এক হনুমান আকাশে উড়ে লঙ্কা গিয়েছে। “বই”-এর কথাতে তাই দেশের contemporary policy হওয়া উচিত বলে আমি মনে করিনা।

      সব মানুষের অধিকার সমান হোক।

      Reply
      • শাহ

        মোক্ষম বলেছেন !

        শুধু একটা পয়েন্ট বলতে চাই, আদিকালে প্রায় সকল ধর্মগুলোতে সমকামিতাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে কারন এই সুম্পর্ক বংশ বিস্তারে সহায়তা করে না, আর বংশ বিস্তার না হলে যেকোন ধর্মই এক সময় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। বিশ্বাসীর জন্য ধর্ম, ধর্মের জন্য বিশ্বাসী নয়। কিন্ত আজকাল তা আর ধোপে টেকে না কারন বংশ বিস্তারের জন্য এখন আর নারী-পুরুষের মিলনের প্রয়োজন হয় না।

  19. তন্ময় হাসান

    এই আর্টিকেলের ইংরেজি সংস্করণ পড়েছিলাম মাসখানেক আগে। বাংলায় প্রকাশ করায় বিডিনিউজকে সাধুবাদ জানাই। আশা করি এতে আরো বেশি সংখ্যক মানুষ সমকামীদের প্রতি যে বিদ্বেষ পোষণ করে তা থেকে বের হয়ে আসবেন। ধর্মের অজুহাত দিয়ে মানবিক একটি বিষয়কে উপেক্ষা করা উচিত নয়।

    Reply
  20. rij

    পৃথিবীতে যা প্রয়োজনীয় তাই থাকে, অপ্রয়োজনীয় কিছুই প্রকৃতি অনুমোদন করে না। প্রাণীর সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ভবিষ্যৎ বংশধর রেখে যাওয়া। পৃথিবীতে আমরা যদি সমকামী হতাম, তবে এক প্রজন্মেই সব শেষ।
    মাথা ব্যাথা হলে আমরা বলি না ,এটাই স্বাভাবিক , বরং তা ব্যাথা সারানোর চেষ্টা করি। সত্যি যে , সমকামীদের ঘৃণা করা অবশ্যই উচিত না ,তাই বলে একে স্বাভাবিক বলাও ঠিক না।।

    Reply
    • শাহ

      আপনার কথা মেনেই বলছি, সমকামিতা যদি প্রাকৃতিক না হত তাহলে কি এতদিনে এটা ধ্বংস হয়ে যেত না? কিন্তু আমিও জানি, আপনিও ভাল করেই জানেন, তা হয়নি এবং তা হবার নয়। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, আজকাল সমকামিতার প্রকোপ বাড়ছে, আসলে কিন্তু তা নয়। আজকাল সামাজিক, রাষ্টীয় এবং মানবিক পুরনো ধ্যান-ধারনা পরিবর্তন হওয়ার কারনে সমকামিরা নিজেদের প্রকাশ করার সুযোগ পাচ্ছে, আগের মত আর প্রপঞ্চনার আশ্রয় নিচ্ছে না। সমকামিতার আন্দোলনে ইতিহাস ঘাটলেই দেখতে পাবেন কত হাজার হাজার মানুষ আজ অবধি প্রাণ দিয়েছে তাদের ভালবাসার অধিকার আদায় করে নেয়ার জন্য। সমকামিতা ত শুধু শরীর সর্বস্ব নয়, এতে প্রেম ও ভালবাসার শ্বাশ্বত সকল উপাদানই উপস্থিত।

      আর বংশ রক্ষা নিয়ে আপনার ভয়টা অহেতুক কারন এই পৃথিবীর সবাই ত আর সমকামি নয়। তাছাড়া অনেক বিসমকামি দম্পতি আছেন যারা অনেক কারনে বাচ্চা নিতে পারে না, আপনি কি তাদেরকেও সে কারনে অপাংত্তেয় বলবেন? বিজ্ঞানের কল্যাণে আজকাল বাচ্চা নেয়া কি কোন ব্যাপার? আর সবাইকেই বা বাচ্চা নিতে হবে কেন, এই পৃথিবীটা কি অলরেডি অধিক জনসংখ্যার ভারে নাকাল না?

      Reply
  21. সাইয়াজ

    আমি বিভ্রান্ত!!, কিভাবে BDNEWS এই রকম একটা জবরদস্তি করছে!, ইংরেজি ভাষার পর আবার বাংলাতে প্রকাশ করল। ইংরেজি ভাষার মতামত বিশ্লেষণের মন্তব্যগলো বুঝতে পারেন নাই ! কিভাবে লেখেন “মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর নিজস্ব। bdnews24.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে bdnews24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)”

    রাইনের সাহেব তো পুরা কোমর বাইন্ধা নামসে, 377 বদল করবেই করবে !!

    Reply
  22. shamirul islam

    লেখাটি তে আপাদমস্তক সমকামিতার পক্ষ অবলম্বন করা হয়েছে।পক্ষান্তরে বাংলাদেশে সমকামিতার পর্যাপ্ত ক্ষেত্র না থাকাকে তিরস্কার করা হয়েছে। আমি bdnews24.com এর একজন নিয়মিত পাঠক হিসেবে অত্যন্ত লজ্জিত বোধ করছি এবং এর তিব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি bdnews24.com কিভাবে পারল এমন একটি লেখা প্রকাশ করতে? আমাদের সকলের মনে রাখা দরকার যে পাশ্চাত্যের সবকিছু আমদানিযোগ্য নয় এবং এ সমস্ত লেখা আমাদের দেশে প্রকাশ করে নিজেদের প্রগতিশীল হিসেবে প্রমান করা যাবে না বরং এ রকম খবর প্রকাশের মাধ্যমে আমাদের সমাজ, সংস্কৃতি, কৃষ্টি-কালচারের চরম অবমাননা করা হয়েছে। এবং এর মাধ্যমে সামাজিক বিশৃঙ্খলাই বাড়বে। অবিলম্বে এ কলামটি প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

    Reply
    • তন্ময় হাসান

      সমকামিতা কোন আমদানি করা বিষয় নয়। প্রাচীন ভারতে সমকামীদের অস্তিত্বের কথা জানা যায়। আমি নিজে সাধারণ বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নিয়েছি, বহির্বিশ্বের সমকামীদের কথা জেনেছি অনেক পরে। কিন্তু আমি যে সমকামী হিসেবে জন্ম নিয়েছি তা তো আমার চেয়ে ভালো আর কেউ জানে না। প্রতি ১০০ জনে ৫-১০ জন সমকামী বা উভকামী, সুতরাং আপনার পরিচিতদের মাঝেও অবশ্যই সমকামী আছে। সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অসহিষ্ণুতার কারণে সমকামীরা অমানবিক দ্বৈত জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছে। সমকামীদের প্রতি বিদ্বেষ বর্ণবাদ কিংবা লিঙ্গ বৈষম্যের চেয়ে কোনভাবেই ভিন্ন নয়।

      Reply
  23. Jamil Razib

    আমাদের নিজেদের সমাজ এবং সংস্কৃতির সাথে বেমামান এইসব অনৈতিক প্রবনতার বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকার অনুরোধ জানাব। যত বেশি এসব অনাচারের প্রচার হবে তত বেশি এর প্রকাশ এবং বিস্তার হবে। পাশ্চাত্যের আধুনিকতার নামে এসব নোংরামির বিস্তার রোধে সবাই সচেতন হবেন দয়া করে। তা না হলে এমন এক সময় আসবে যখন সব কিছু হাতের নাগালের বাইরে চলে যাবে।

    Reply
    • একাকী একজন

      সমকামীতা এই অঞ্চলে বহু আগে থেকে ছিলো, এখনো আছে । মানুষের sexual orientation এর সাথে সংস্কৃতির যোগসুত্র কেন , বুঝলাম না। সমকামীরা আগে থেকেই যদি সমাজের সাথে মিশে থাকতে পারে তো এখন থাকতে সমস্যা কোথায় ?

      এটাকে অবদমন বা চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে যুগ যুগ ধরে। কিন্তু তার ফলে এটা কমে নাই বা নিশ্চিহ্ন হয়েও যায় নাই । এখন সময় এসেছে এটাকে মেনে নেবার ।

      Reply
    • M.A Matin PHD(English)

      এটা এক প্রকার ধর্ষণ। এটাকে স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থ হচ্ছে ধর্ষণকে স্বীকৃতি দেওয়া । তার মা্নে ইহুদি লেখক চান বাংলাদেশ হোক একটা বর্বর জাতি অথবা এদেশের শান্তি দেখে তাদের হিংসা হয়। আর তাদের দালাল প্রকৃতির প্রত্রিকা এ গুলো ছাপিয়ে দেশের কী চান আমার বোধগোম্য না। আল্লা এদের হেদায়েত দিক। আর আমরা চায় এই রকম লেখা যেন না ছাপানো হয় তাহলে মানুষ এটাকে ভাল ভাবে নিবেনা। দয়া করে এটা মুছে ফেলুন।

      Reply
      • রোমেল

        “এদেশের শান্তি দেখে তাদের হিংসা হয়”…হাসালেন ভাই…দেশটা আসলেই শান্তির জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে…আর এমন পরম শান্তির মূলে আছেন আপনারা সবাই যারা চোখ দিয়ে, জিহবা দিয়ে, হাত দিয়ে, চিন্তা ভাবনা দিয়ে সারাক্ষন আশেপাশের সব মা বোনদের ধর্ষণ করে চলেছেন।

      • সিফাত

        এটা কীভাবে ধর্ষণ হল আমার বোধগম্য নয়। আপনাকে অনুরোধ করছি, ধর্ষণের সংজ্ঞা ভালোভাবে শিখে নিবেন। আমি জন্মগতভাবে সমকামী। ছেলে হয়ে কি আমি একটা ছেলেকে ভালবাসতে পারি না?

        এই সমাজ কবে প্রগতিশীল হবে!

  24. একাকী একজন

    এই লুকিয়ে থাকা সংখ্যালঘুদের কথা সামনে আনার জন্য লেখককে ধন্যবাদ। আমাদের দেশের মানুষদের সমকামীদের প্রতি ঘৃনা, এটাকে রোগ বা অস্বাভাবিক মনে করার প্রবনতার কারণে সমকামীরা দুঃসহ জীবন যাপন করতে বাধ্য হয়। সমকামী হয়েও সমাজ, পরিবার এর চাপে তাকে একটা মেয়েকে বিয়ে করতে হয়, অতঃপর একটা অসুস্থ্য জীবন যাপন করতে বাধ্য হয়।

    Reply
  25. আ.ন.ম. আফজাল হোসেন

    এরাও মানুষ এদেরও সামাজিক মর্যাদা আছে। কিন্তু এদের সামাজি ভাবে প্রতিষ্ঠিত করলে বা LGB কে সামাজিক ভাবে স্বীকৃতি দিলে পরিবার প্রথা ভেঙ্গে পড়বে। আর এই সমকামীতার কারণে বহু জাতি ধ্বংস হয়েছে। যা আমাদের ধর্মগ্রন্থ আল কোরআন সাক্ষী দেয়। সেক্ষেত্রে সমাজ তাদের এই অসুখের জন্য সহমর্মী মনোভাব দেখানোর মধ্যেই সিমীত থাকবে। স্বীকৃতি নয়।

    Reply
  26. মুসলিমাহ

    সালাম

    সমকামীতা একটি অসুখ , এ থেকে ভাল হওয়ার জন্য সব ধরণের চিকিৎসা ও ধর্মীয়ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে । যে অপরাধে আল্লাহ পুরো একটি জাতির উপর আযাব দিয়েছিলেন , আমরা যেন সেই পাপ কাজে কাউকে উৎসাহ না দেই ।

    সমকামীদের চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য আন্দোলন করুন। আমরা সমকামীদের ঘৃণা করবো না কিন্ত্ত সমকামিতাকে সমর্থন করে দয়া করে এমন কিছু লিখবেন না যাতে মানুষ এই পাপকে হালকা করে দেখে । তারা যেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে , আমরা সে চেষ্টা করবো । আল্লাহ আমাদের এসব বড় পাপ থেকে হেফাযত করুন।

    Reply
    • রোমেল

      ইংলিশ এ হোমোফবিয়া বলে একটা শব্দ আছে যার মানে হচ্ছে ‘সমকাভীতি’ এবং মজার কথা হচ্ছে এটাকে রোগ হিসেবে ধরা হয়, ঠিক যেমন উচ্চতাভীতি। আর যারা এ রোগে আক্রান্ত তাদের বলা হয় ‘হোমোফবিক’, আমার মনে হয় আপনার ঠিক এই রোগটিই হয়েছে। জলদি ডাক্তার দেখান। যদি বলেন ত কয়েকজন psychiatrist এর নাম্বারও দিতে পারি যারা খুব ভাল করে বুঝিয়ে বলতে পারবে কেন সমকাম্ভীতি একটি রোগ কিন্তু সমকামিতা নয়।

      Reply
    • সিফাত

      কে বলেছে সমকামিতা একটা অসুখ? কোন হাদিসে আছে? আপনার ধর্ম কী বলেছে সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। সমাজ থেকে আমি আমার মৌলিক অধিকার চাই।

      সমকামিতা কোনো পাপ নয়। আমি সমকামীদের অধিকার চাই।

      Reply
      • sarker

        আমাদের দেশের মাদ্রাসাগুলোতেও গে-ইজম এর চর্চা রয়েছে । এ কথা তুমি কোথায় পেয়েছো প্রমান দাও।

  27. কবরের আত্মা

    এই ধরনের পশ্চিমা অপসংস্কৃতির ছায়া যুক্ত লেখা প্রকাশ না করার জন্য বিডিনিউজকে আমি অনুরোধ করছি। সমকামীতা কোনভাবেই সমাজে গ্রহনযোগ্য নয়। তাই বলব সমকামিতার কুফল সম্পর্কে তরুণ সমাজকে সচেতন করে তোলা দরকার।

    Reply
    • একাকী একজন

      সমকামীতা এই অঞ্চলে আগেও ছিলো, এখনো আছে। এটাকে পশ্চিমা বলে বাস্তবতা এড়িয়ে যাবার কোন যুক্তি নেই।

      Reply
  28. Engr. Amin Shaikh

    রাবিশ! এই রকম একটি কলাম প্রকাশ করে এ সংবাদমাধ্যমটি চরম দায়িত্বহীনতার কাজ করেছে। এ রকম খবর প্রকাশের মাধ্যমে আমাদের সমাজ, সংস্কৃতি, কৃষ্টি-কালচারের চরম অবমাননা করা হয়েছে। এবং এর মাধ্যমে সামাজিক বিশৃঙ্খলাই বাড়বে। অবিলম্বে এ কলামটি প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

    Reply
    • একাকী একজন

      সমকামীতার সাথে কৃষ্টি কালচারের সম্পর্ক কি ? এটা একজন মানুষের স্বাভাবিক যৌনাচার।

      Reply
      • মুসলিমাহ

        সালাম

        নবজাত শিশুকে খুন করার অধিকার মা – বাবার থাকা উচিত বলে একজন মহিলা ডাক্তার / গবেষক মত প্রকাশ করেছে । আমি নিশ্চিত , এই মতের পক্ষে অনেকের সমর্থন পাওয়া যাবে । তাই আশ্চর্য হওয়ার কিছুই নেই যে সমকামিতার পক্ষে অনেকে মত দিচ্ছে ।

        আবারো বলতে চাই , আমরা সমকামীদের ঘৃণা করবো না , তাদেরকে সুস্থ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবো । কিন্ত্ত সমকামিতার পক্ষে দয়া করে সমর্থন চালাবেন না । তাহলে একজন যা আশংকা করেছেন – হয়তো এরপর মায়ের সাথে , বোন বা মেয়ের সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনকে বৈধ করতে চাইবে কেউ , তখন কী বলবেন ?

        এই লেখা প্রত্যাহার না করলে বিডি নিউজকে বয়কট করার মতকে সমর্থন দিচ্ছি ।

      • রোমেল

        নবজাতক বলতে আপনি যদি গর্ভে থাকা ভ্রুণকে বুঝাতে চাচ্ছেন…তাহলে অবশ্যি একজন গর্ভধারিনী তা করার অধিকার রাখেন। গর্ভপাত একজন নারীর অধিকার ঠিক যেমন গর্ভধারণ করা বা না করা।

        ইনসেস্ট সম্পর্কের ব্যপারে উপরে বলেছি, দয়া করে পড়ে নিবেন।

      • মুসলিমাহ

        সালাম

        রোমেল , আপনার ভাগ্য ভাল , আপনার মা গর্ভপাতের নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে আপনাকে খুন করেন নি , সেজন্য আজ আপনি গর্ভপাতের পক্ষে কথা বলতে পারছেন ।

        যাই হোক , আমি যে নতুন মতবাদের কথা বলছি , সেই নারী দাবী করছেন জন্ম দেয়ার পর একজন মায়ের শিশুকে খুন করার অধিকার থাকা উচিত । কেননা , তার হয়তো সেই শিশু পালনের ইচ্ছা বা সামর্থ্য নেই । তাই গর্ভে থাকা অবস্থায় ভ্রুণ হত্যার অধিকার মায়েদের থাকলে , জন্ম দেয়ার পর শিশু হত্যার অধিকারও তাদের থাকা দরকার । আপনি কী বলেন ?

        পিতা – কন্যা , মা – ছেলের শারীরিক সম্পর্কের বেলায় এই মতের পক্ষে যারা তারা হয়তো দাবী করবে , জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অবলম্বন করে এই সম্পর্ককে বৈধতা দেয়া হোক বা দরকারে গর্ভপাত বা জন্মের পর শিশু হত্যা করা যেতে পারে । কী বলেন আপনি ? শুরু করে দিন এ নিয়ে আন্দোলন । লেখক ও অনুবাদককে অনুরোধ করুন এসবের পক্ষে কলম ধরতে ।

        এতদিনেও এই লেখা প্রত্যাহার না করায় বিডি নিউজ কর্তৃপক্ষকে ধিক্কার জানাই ।

    • prodip roy

      রাবিশ বলে কোনো লাভ আছে! যা সত্য, সেটা মানতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের মনোভাব, দৃষ্টিভঙ্গি, কৃষ্টি, কালচারের সাথে অসামনঞ্জস্যপূর্ণ– এই ধরণের কথা বলে কতদিন বাস্তবকে অদৃশ্য করে রাখা যাবে? আর কেনই বা তা করা হবে? সমকামিদের জন্য পরিবার প্রথা ভেঙ্গে যাবে, এটা কী যুক্তি; কারণ সবাই তো সমকামি হবে না। যা আছে তাকে নেই বললে সমাজে শৃঙ্খলা বজায় থাকবে? তবে এটা ঠিক যে কেবল মানবাধিকারের দিক থেকে সমকামিদের বিষয়টা বিবেচনা করাই যথেষ্ট নয়। এর দার্শনিক, সমাজতাত্ত্বিক, শৈল্পিক সকল ধরণ নিয়েই বিবেচনার দরকার আছে। বৃহত্তর স্বার্থের জন্য সমকামিতাকে প্রান্তিক করে রাখতে হলে তা করতে হবে, কিন্তু আগে বিষয়টা স্বীকার করে, চটি থেকে সমকাম-প্রেমকে আগে আলাদা করতে হবে; সহজাত সমকামিতা ও দূর্ঘটনার স্বীকার যারা এদেরও আলাদা করতে হবে; বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এই বিষয়টা নিয়ে সামগ্রিক যৌনতার পাটাতনে বিছিয়ে বুঝা জরুরী। সমকামের বিভিন্ন মাত্রাকেও আলাদা আলাদা ভাবে বুঝতে হবে; কিছু বা অনেক খানি যে বিকৃতি নেই তা নয়, কিন্তু তা সামগ্রিক ভাবে যৌনতার অবদমনের ফসল। সীমা ঠিক করতে হবে, কিন্তু পুরানো সীমা দিয়ে কাজ চলবে না। এটা কেউ মানুক বা না মানুক; পরিবর্তন আসবেই।।।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—