Feature Img

Arif-Jebtik-f111111বাঙালির থেমে থাকা অথবা হয়তো ক্রমাগত ছোট হয়ে আসার একটা বড় উদাহরণ হতে পারে আমাদের বাংলা একাডেমী আয়োজিত একুশের বইমেলা। এর কোনো পরিবর্তন নেই, প্রকৃত বৃদ্ধি নেই, লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের কোনো বালাই নেই, ব্যবস্থাপনার কোনো উন্নতি নেই।

দীর্ঘদিন ধরেই এই বইমেলার আয়োজন নিয়ে মৌসুমী কিছু মৃদু কথাবার্তা হয় এবং ফেব্রুয়ারি শেষ হলেই সেই আলোচনা পরবর্তী বছরের জন্য মুলতবি হয়ে যায়। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, এই আলোচনাটা আরেকটু জোরগলায় করার সময় এসেছে। এই বইমেলাটা আমাদের এবং একে বাড়িয়ে তোলাটা আমাদের সবারই দায়িত্ব।

প্রথমেই প্রশ্ন হচ্ছে-মেলার আয়োজন কেন? যেকোনো মেলার আসলে দুটো উদ্দেশ্য। প্রথমটি বানিজ্যিক, দ্বিতীয়টি সাধারণ মানুষের বিনোদন। যদিও বিনোদনকে সামনে রেখেই সাধারণত মেলা আয়োজিত হয়, কিন্তু বানিজ্যিক দিকটিই আসল উদ্দেশ্য। আমাদের বইমেলার দিকে গভীরভাবে তাকালে দেখা যাবে, অসীম সম্ভাবনা সত্ত্বেও বইমেলা থেকে এই দুটো উদ্দেশ্যের কোনোটিই খুব বেশি অর্জিত হচ্ছে না।

যেকোনো বিকেলে মেলায় প্রবেশ করে দেখুন। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে যখন নাগরিক মানুষের বিনোদন প্রয়োজন, তখন তো কথাই নেই। শাহবাগ থেকে লাইনে দাড়াবেন এবং সেই লাইনও রিক্সা, গাড়ির মাঝ দিয়ে এঁকেবেঁকে, হকারের পসরাকে ডিঙিয়ে মেলায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে আপনাকে ক্লান্ত করে ফেলবে। এসব দিনে বইমেলার কোনো স্টলের সামনে দাড়িয়ে শান্তি মতো বই দেখা অসম্ভব একটি ব্যাপার। প্রচন্ড ভিড়ে নিঃশ্বাস ফেলার জো থাকে না। আমি ব্যক্তিগত ভাবে অনেককে চিনি, যারা বইমেলায় গিয়ে বই কিনতে না পেরে একাধিক ছুটির দিনে ফিরে এসেছেন। আমাদেরকে মেনে নিতে হবে যে, মানুষ এই মেলায় প্রবেশ করে বেড়ানোর আনন্দটুকু ভোগ করতে পারছে না, বইও কিনতে পারছে না। মেলা আয়োজন তাই সফল হচ্ছে বলা যাচ্ছে না।

বইমেলা নিয়ে এই লেজেগোবরে অবস্থার বড় দায় আয়োজক সংস্থা বাংলা একাডেমীর। বিশ্বের সব দেশে যেখানে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো শৌর্যে-বীর্যে নিজেদের দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধ করতে ব্যস্ত, তখন আমাদের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান-বাংলা একাডেমীর বছরের ৩ মাস কেটে যায় স্টলের বাশ আর চাটাইয়ের ম্যানেজমেন্টে। বইমেলা আয়োজন বাংলা একাডেমীর দায়িত্বের মাঝে পড়ে না, এই বইমেলা তাদের চালুও করা নয়, কিন্তু বছরের পর বছর ধরে তারা এই মেলাকে তাদের আঙিনায় ধরে রাখছে। তা-ও যদি তাদের ব্যবস্থাপনা উন্নত মানের হতো, তাহলে হয়তো এক ধরনের সান্ত্বনা পাওয়া যেত, কিন্তু ব্যবস্থাপনার দীণতা বরং জনসমক্ষে একাডেমীর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের অযোগ্যতা ও অদক্ষতাকেই প্রকট করে তুলছে।

উদাহরণ দেয়া যাক। প্রথমেই একটি হিসেব দেখি। বইমেলায় ছুটির দিনে প্রতি সেকেন্ডে একেকটি নিরাপত্তা গেট দিয়ে একজন করে মানুষ প্রবেশ করেন। এই স্রোত বিকেল ৪টা থেকে শুরু করে রাত ৮টা পর্যন্ত চলতে থাকে। টিএসসির দিক দিয়ে দুটি প্রবেশ গেট দিয়ে এই হিসেবে লোক ঢুকলে এই সময়ের মাঝেই মেলায় প্রবেশ করেন কমপক্ষে ষাট হাজার মানুষ, ধরে নিতে পারি যে দোয়েল চত্ত্বর দিয়েও সমপরিমান মানুষ মেলায় প্রবেশ করেন। এই বিপুল জনস্রোতের জন্য বাংলা একাডেমীর তথাকথিত টয়লেট আছে মাত্র ৪/৫টা। দেয়ালের সঙ্গে লাগিয়ে রাখা খোলা নোংরা এই টয়লেটই হচ্ছে একাডেমীর ব্যবস্থাপনার মানের একটি বড় প্রতীক।

বছরের পর বছর ধরে এখানে মেলা আয়োজন করলেও টয়লেট ব্যবস্থাপনাটাই আজ পর্যন্ত সঠিক ভাবে করতে পারেনি একাডেমী। মেলা আয়োজনের অন্যান্য বড় ব্যাপারগুলোকে আলোচনায় না টেনে এই টয়লেটকেই তাই উদাহরণ হিসেবে নিলাম। এর বাইরে প্রতিনিয়ত তাদের অযোগ্যতা আর উদাসীনতা পাল্লা দিয়ে চলছে। এবছর মেলা শুরুর আগে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল। মেলা শুরুর প্রথম দিন থেকেই টাস্কফোর্সের মাঠে নামার কথা থাকলেও অবশেষে ২৫ দিন পর তারা মাঠে নামে। এ অভিযানে নয়টি স্টল থেকে ডোরেমন, পোকেমন, মি. বিন, এনসাইকোলপিডিয়া, বারবি ডলসহ অননুমোদিত প্রায় ১২৫টি বই জব্দ করা হয়। বইমেলার বড় জোয়ারটা ২১ তারিখ পর্যন্ত চলে, কিন্তু টাস্কফোর্স নেমেছে আরো পরে, মেলা শেষ হওয়ার ৪দিন আগে। এগুলোই বাংলা একাডেমীর ব্যবস্থাপনা দক্ষতার সীমা, এর বেশি কিছু করার মুরোদ তাঁরা কোনো কালেই দেখাতে পারেননি। এরকম আরো কয়েক ডজন উদাহরণ দেয়া যাবে, যেখানে ব্যবস্থাপনার অদক্ষতার জন্য মেলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে সবচাইতে বড় উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে জনমানুষের নিরাপত্তা বিষয়ে মেলার আয়োজকদের উদাসীনতা। মেলার জায়গার ধারণক্ষমতা অনুযায়ী লোক প্রবেশ করানোর কোনো চিন্তা কখনোই ভাবা হয়নি। সবাই ঢুকে পড়ছেন অনায়াসে। এই যে দমবন্ধ পরিবেশ, যেখানে শরীরের সঙ্গে শরীর লেপ্টে মানুষ চলাচল করে, সেখানে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে কী হবে? এতো মানুষ যদি একসঙ্গে মেলা থেকে বেরিয়ে আসতে চায়, তাহলে কত মানুষ অন্যের পায়ের নিচে পড়বে? আধুনিক বিশ্বে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে জনসমাগম করার ক্ষেত্রে এই নিরাপত্তার বিষয়টি প্রথমেই চিন্তা করা হয়। কিন্তু আমাদের বইমেলায় এই বিষয়টি আজ পর্যন্ত উপেক্ষিতই হয়ে আসছে। কামনা করি, কোনোদিন যাতে বড়সড় মূল্য চুকিয়ে আমাদেরকে এই বিষয়টি শিখতে না হয়।

ঢাকার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, প্রতিবছর বাংলা একাডেমীর প্রাঙ্গন সংকুচিত হয়ে পড়া এবং তাদের ব্যবস্থাপনার মান বিবেচনা করে জোরেশোরে উচ্চারণ করা প্রয়োজন যে, বইমেলা এখান থেকে সরিয়ে নিতে হবে। এই দাবির বিপক্ষে আবার একদল লোক আছেন, যারা সবসময়ই বলে থাকেন, বাংলা একাডেমীর সঙ্গে মেলার একটি ঐতিহ্য ও চেতনাগত মিল আছে। চেতনা জিনিসটি এতটাই স্থান নির্ভর হয়ে পড়লে তো মুশকিল। এই বিষয়টিকে বিবেচনা করতে গিয়ে খুব বেশি ঐতিহ্য ও চেতনাপ্রেমীরা যদি মেলাকে সরাসরি শহীদ মিনারে নিয়ে যেতে চান তাহলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না। বাস্তবে বইমেলার ইতিহাস খুব বেশিদিনের নয়, বাংলাদেশের প্রায় সমান বয়েসী এই মেলার শ্রীবৃদ্ধির জন্যই তাকে স্থানান্তর করতে হবে এখন। স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অনেকের প্রস্তাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ অথবা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নাম শুনি। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গোটা মহানগরের মানুষকে টেনে নিয়ে আসাটা কোনো যৌক্তিক চিন্তা নয়। তার উপর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠটি মেলার আগে পিছে মিলিয়ে প্রায় ৩ মাস দখলে রাখা এবং বাঁশ-কাঠ পুতে মাঠকে ব্যবহার অযোগ্য করে ফেলার প্রস্তাব কীভাবে করা হয়, আমি ভেবে পাই না। একই কথা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ক্ষেত্রেও। পরিবেশের বড় আকারে ক্ষতি করে সেখানে মেলা করার যেকোনো ভাবনা প্রথমেই বাদ দিতে হবে।

বাংলা একাডেমীর বাইরের রাস্তা পর্যন্ত যদিও বা মেলাকে আনা গেল, আর আয়তন বৃদ্ধির ভাবনাটা ঘুরে ফিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ , পাশের পারমানবিক শক্তি কমিশনের দেয়াল ভেঙ্গে দেয়া কিংবা বাংলা একাডেমীর পুকুর ভরাট করার মতো উদ্ভট সব সৃষ্ঠিশীলতার গন্ডিতে ঘুরপাক খেতে থাকল, কিন্তু এর বাইরে ঠেলে নিতে প্রায় সকলেরই বড় আপত্তি।

যুক্তি দেখানো হয় যে বাংলা একাডেমীতে বইমেলা আয়োজন না করলে নাকি বইমেলায় মানুষ আসবে না। এ প্রসঙ্গে তারা ঢাকা বইমেলার অসফলতার উদাহরণকে সামনে নিয়ে আসেন। এসব কথা আসলে আয়োজকদের অযোগ্যতাকে ঢেকে রাখারই একটা চেষ্টা মাত্র। ঢাকা বইমেলা অসফল হওয়ার বড় কারণ সেখানে কোনো নতুন বই প্রকাশিত হয় না। নতুন বই প্রকাশিত না হলে সেই মেলার প্রতি পাঠকের উৎসাহ থাকবে কেন? এছাড়া এই মেলার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ কিংবা স্থান সম্পর্কেও কারো জানা নেই। মিডিয়ার কোনো উৎসাহ থাকে না এই মেলাকে ঘিরে। এসব কারণেই ঢাকা বইমেলা ব্যর্থ হয়, এর সঙ্গে বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গনের কোনো সম্পর্ক নেই। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মেলা আয়োজন করতে পারলে সে মেলা সফল হবেই। আর মেলাকে যদি বাঙালির সত্যিকার মিলন মেলায় পরিণত করে আরো বড় সাফল্য নিতে হয়, তাহলে মেলা স্থানান্তর এখন প্রথম কাজ।

স্থানান্তরের ক্ষেত্রে আমার প্রস্তাব হচ্ছে এই বইমেলাকে রাজধানীর আগারগাও অঞ্চলে নিয়ে আসা। আগারগাও এলাকাকে ঘিরে মেলার বলয় তৈরি হয়েছে। দেশের সবচাইতে বড় মেলা-আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলা আয়োজিত হয় এখানে। এর বাইরে বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে সারাবছর জুতা সেলাই থেকে চন্ডিপাঠের নানান মেলা তো লেগেই আছে। পাশের আইডিবি ভবনে সফটওয়্যার ও কম্পিউটার সামগ্রীর মেলা আরেকটি বড় বার্ষিক আয়োজন, যেখানে প্রতিবছরই বিপুল লোক সমাগম হয়। সব মিলিয়ে আগারগাও এলাকা মেলার জন্য ঢাকা শহরের একটি উপযুক্ত জায়গা হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

ভালো হয় যদি বানিজ্যমেলাকে একটু এগিয়ে এনে ২০ জানুয়ারির মধ্যে শেষ করা যায় এবং এই অস্থায়ী অবকাঠামোকে ব্যবহার করেই ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরু করা যায়। এক্ষেত্রে স্টল ও অন্যান্য অবকাঠামো পুনর্ব্যবহারের মধ্য দিয়ে মেলার ব্যয় অনেক কমে আসবে। ক্রেতারা যদি দৈনন্দিন হাড়িকুড়ি কেনার জন্য আগারগাওয়ের বানিজ্যমেলায় যেতে পারেন, তাহলে বইয়ের জন্য যেতে অপারগ হবেন, এমনটা ভাবা ঠিক হবে না। মানুষ বইকে ভালোবাসতেই চান, এবং ভালোবাসেন বলেই এখনও বাংলা একাডেমীর এই স্টলজঙ্গলে ভিড় করেন, কোনো বিশেষ স্থানের প্রেমে তারা বইমেলায় যান না।

বইমেলাকে স্থানান্তরের পাশাপাশি ভেবে দেখা দরকার যে বাংলা একাডেমীর ক্ষুদ্র জনবলকে এই মেলার সঙ্গে আর রাখার প্রয়োজন আছে কি না। একুশে বইমেলার নতুন ব্যবস্থাপক হিসেবে বানিজ্য মন্ত্রনালয়কে ভাবা যেতে পারে। মেলা আয়োজনের উদ্দেশ্য বানিজ্য এবং বই পণ্য হিসেবেই প্রকাশিত হয়, সুতরাং এই মেলা আয়োজনের দায়িত্বটা বানিজ্য মন্ত্রনালয়কে দেয়া উচিত। আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলা পরিচালনার জনবল যেহেতু এই মন্ত্রনালয়ের আছে, সুতরাং একই স্থানে এক সপ্তাহ বিরতিতে নতুন মেলা আয়োজন তাদের জন্য কঠিন হবে না।

বানিজ্যমেলার স্থানে বইমেলা স্থানান্তর করলে বইমেলার অনেক বড় সমস্যারই সমাধান সম্ভব হবে। প্রকাশকদেরকে বড় স্থান দেয়া যাবে যাতে করে তারা সব প্রকাশিত বই প্রদর্শন করতে পারেন। বড় প্রকাশকদের জন্য আলাদা আলাদা প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ করা যাবে। মানুষের পক্ষে স্বস্তির সঙ্গে বই দেখা এবং কেনা সহজ হবে। মেলার অন্যান্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলোও এখানে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বইমেলার শোভা যে নিয়মিত পড়ুয়া আড্ডাবাজ বাঙালি, তাঁরাও ঘাসের গালিচায় গোল হয়ে বসে নিরুদ্রপ আড্ডায় মেতে উঠতে পারবেন।

বইমেলা আয়োজনের সঙ্গে প্রকাশকদেরকে বড় করে সম্পৃক্ত করতে হবে। এটা মূলত তাদেরই ব্যবসা এবং আয়োজনের বড় দায়িত্ব তাদের হাতেই থাকা প্রয়োজন। বর্তমানের বইমেলা বাংলা একাডেমীর অভিভাবকত্বে হয়ে থাকে, যেখানে প্রকাশকদের প্রতিনিধিরা দুর্বল গলায় আবেদন নিবেদন করা ছাড়া বড় কোনো ভুমিকা রাখতে পারেন বলে মনে হয় না। কিন্তু দেশের অন্যান্য মেলা যেভাবে ঐ ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ীদের উদ্যোগেই আয়োজিত হয়, বইমেলার ক্ষেত্রেও প্রকাশকদের সংগঠনকেই সেই দায়িত্ব নিতে হবে। প্রকৃত প্রকাশকদেরকে যতো বেশি সক্রিয় করা যাবে, ততোই আমাদের প্রকাশনার শনির দশা কাটতে শুরু হবে। এ প্রসঙ্গে বলতেই হয় যে এখনকার একুশের বইমেলার একটি বড় সমস্যা হচ্ছে একশ্রেনীর ভুঁইফোড় ব্যবসায়ী। এরা যে কী, সেটা বলা মুশকিল। এরা না প্রকাশক, না প্রেস ব্যবসায়ী। এই শ্রেনীর লোকেরা প্রতিবছরই একুশে বইমেলার একটি বড় অংশ দখল করে নেন। এদের মূল কাজ হচ্ছে টাকার বিনিময়ে বই ছেপে দেয়া। যে কেউ টাকা নিয়ে গেলেই এরা বই প্রকাশ করে দেন। যে লেখকের লেখা এর আগে কোনোদিন পাড়ার দেয়াল পত্রিকায়ও প্রকাশিত হয়নি, তেমন লেখকও এই মৌসুমী ব্যবসায়ীদের বদৌলতে দিব্যি পাবলিশড অথর হয়ে যান । আমি এখানে কোনো লেখকের বই প্রকাশের অধিকারকে কেড়ে নিতে বলছি না। কিন্তু এসব মুদ্রন ফড়িয়া, যারা প্রকাশক নামে মেলার মূল্যবান জায়গা নষ্ট করেন, তাদের মাধ্যমে অনেক ক্ষতি হয়। প্রথমেই সমস্যা হয়, যে লেখক আরো বেশি পরিশ্রম করে, নিজেকে তৈরি করে হয়তো একদিন ভালো লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারতেন, তিনি যখন টাকার বিনিময়ে সহজেই লেখক পরিচয়ে পরিচিত হয়ে যান, তখন তিনি লেখার পেছনে পরিশ্রম করার চেষ্টা করেন না। ফলে প্রতিবছরই এরকম শত শত লেখকের জন্ম হচ্ছে যারা এসব মুদ্রন ফড়িয়াদের পকেটে টাকা গুঁজে দিয়ে পরের বছরই হারিয়ে যাচ্ছেন। অথচ এদের কারণেই সম্ভাবনাময় প্রকৃত নতুন লেখকরাও প্রকাশক এবং পাঠক থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সম্ভাবনাময় তরুণ কোনো লেখক যখন কোনো প্রকাশকের কাছে যাচ্ছেন, তখন তার কাছেও বই ছেপে দেয়ার জন্য টাকা দাবি করা হচ্ছে। ভুগছেন সত্যিকারের প্রকাশকরাও। একজন প্রকাশক পান্ডুলিপি বাছাই করে, নিজে অনেক যত্ন নিয়ে বইপ্রকাশ করে যে সম্মান আশা করছেন, আরেক মুদ্রক টাকার বিনিময়ে যা তা বই প্রকাশ করে একই পরিচয়ে পরিচিত হওয়া শুরু করেছে। প্রকাশককে অপেক্ষা করতে হচ্ছে বই বিক্রির পর বিনিয়োগ তুলে নিবেন, অথচ মুদ্রন ফড়িয়ারা বই প্রকাশের আগেই বিনা বিনিয়োগে মুনাফা গুনে বসে থাকে। এই মুদ্রন ফড়িয়াদের আধিপত্যে প্রকৃত প্রকাশক বড় স্টলের জায়গা পাচ্ছেন না, নিজের বিনিয়োগে মুনাফা করতে পারছেন না এবং এই দুষ্টচক্রে পড়ে ক্রমেই কোনঠাসা হয়ে পড়ছেন। এদের হতাশা দেখে নতুন করে কেউ এই ব্যবসায় আসারও উৎসাহ পাচ্ছে না। তাই সময় হয়েছে এই প্রবণতাকে বন্ধ করার। আর এই বন্ধ করাটা তখনই সম্ভব হবে যখন সত্যিকারের প্রকাশকদেরকে মেলায় আরো বেশি পরিমাণে জড়ানো যাবে এবং দায়দায়িত্ব নিতে বাধ্য করা যাবে।

বইমেলাকে নিয়ে বড় আকারের পরিকল্পনা করতে হলে সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হবে। শিক্ষার হার, অর্থনৈতিক অবস্থা সব মিলিয়ে বাংলাদেশে বইয়ের বাজারে বিশাল সম্ভাবনা থাকার কথা। কিন্তু দেশের অন্যান্য অনেক শিল্পে যেভাবে পেশাদারিত্ব এসেছে, প্রকাশনা শিল্পে তেমন ভাবে আসেনি। এই খাতটি দুর্বলই রয়ে গেছে। এই দুর্বল রয়ে যাওয়ার পেছনে বাংলা একাডেমীর বার্ষিক এই বইমেলার দায় কতটুকু সেটাও বিজ্ঞজনরা ভেবে দেখতে পারেন। বাংলা একাডেমী বই বিক্রির একটি বার্ষিক আয়োজন করে দেয়, অনেকটাই মুখে তুলে খাইয়ে দেয়ার মতো, আর প্রকাশকরা মাত্র একমাসে তাদের সারা বছরের ব্যবসা এখান থেকে করে ফেলেন। আমরা অল্পে সন্তুষ্ট জাতি, আর আমাদের প্রকাশকদের অল্পতুষ্টি তো আরো বেশি। বইমেলার এই সহজ প্রাপ্তিতে তারা আর বাকি ১১ মাস বাংলাদেশে বই ছড়িয়ে দিতে খুব বেশি আগ্রহী হন না। এটাও কোনো সুখের বিষয় নয়।

সব মিলিয়ে অমর একুশের এই বইমেলাকে নিয়ে নতুন করে ভাবাটা এখন খুবই প্রয়োজন। একটি দেশের মনন গঠনে বইয়ের বিকল্প নেই, আর তাই বইয়ের বিপনন সহ সবকিছুতেই আরো বেশি করে পেশাদারিত্ব নিয়ে আসতে হবে। এই পেশাদারিত্ব বাংলা একাডেমীর প্রাঙ্গনে সম্ভব হবে না। আর তাই বইমেলার স্বার্থেই এখন জোরের সঙ্গে বলতে হচ্ছে- আরো বড় আকারে, বড় ম্যানেজমেন্টে বইমেলা চাই। বাংলা একাডেমীর ঘিঞ্জি বইমেলা আর চাই না।

আরিফ জেবতিক : ব্লগার ।

২৯ প্রতিক্রিয়া -- “বাংলা একাডেমীতে বইমেলা চাই না”

  1. জনৈক প্রকাশক

    বেদে বহরের মতো… প্রকাশকবহর দেখা যাবে ফেব্রুয়ারিতে বাংলা একাডেমির ঘাটে… তারপর সারাবছর আর খবর থাকবে না…

    জবাব
  2. saeed bari

    সাঈদ বারী

    একুশে বইমেলা এখন আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্যের অঙ্গ। সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় উৎসব। কিন্তু একে ঘিরে বেশ কিছু সংকট তৈরি হয়েছে। যা নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। বইমেলায় জায়গা সংকট— এটি এখনকার একটি বাস্তব ও প্রধানতম সমস্যা। এই সমস্যার অতি জরুরি সমাধান প্রয়োজন। এ ব্যাপারে আমাদের বইমেলার পরিসরের প্রায় ৫০গুণ বড় পরিসরে আয়োজিত কলকাতা বইমেলা আমাদের চোখের সামনেই উদাহরণ হিসেবে রয়েছে। বর্তমানে বইমেলার আনুষঙ্গিক যা কিছু সমস্যা, তার অধিকাংশই স্থান-সংকট থেকে উদ্ভুত। এ ব্যাপারে বাংলা একাডেমী কর্তৃপক্ষের ভূমিকা অনেকটাই সীমাবদ্ধ। অনানুষ্ঠানিকভাবে বাংলা একাডেমীতে যে জায়গায় অমর একুশে বইমেলা শুরু হয়েছিল, প্রায় ত্রিশ বছরের অধিককাল সময়ের পর আজও সেই সীমাবদ্ধ জায়গাতেই তাদের বইমেলা আয়োজন করতে হচ্ছে। অথচ ইতিমধ্যে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা, ঢাকা শহরের জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কয়েক গুণ। সেদিক থেকে দেখলে তারা অনেকটা অসহায়ও।

    পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে বইমেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সব সময়ই আমার কাছে মনে হয়েছে নাজুক! বিশেষ করে একুশে ফেব্রুয়ারিসহ যেসব ছুটির দিনে পাঠক-ক্রেতা-দর্শকদের প্রচণ্ড ভিড় হয় (পত্র-পত্রিকার ভাষায়, মেলা জমে ওঠে!), সেদিন সত্যিকার অর্থেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলতে কিছুই আর অবশিষ্ট থাকে না। বইমেলা কর্তৃপক্ষেরও নিয়ন্ত্রণ-ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। বইমেলায় প্রবেশ ও নির্গমনের বর্তমান ব্যবস্থা অপ্রতুল। ফলে নারী, শিশু-কিশোর ও বয়স্ক পাঠক-ক্রেতাদের খুবই ঝঞ্ঝাট পোহাতে হয়।

    অমি অনেক বইমনস্ক পরিবারকে জানি, গত কয়েক বছর ধরে তারা বইমেলায় আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। কারণ বইমেলায় এসে তারা ভাল পরিবেশ পান না। বঙ্গবাজার আর গুলিস্তানের হকার্স মার্কেটের মতো সারি সারি বুক স্টল (নাকি ঘুপচি ঘর!) দিয়ে বাংলা একাডেমী বইমেলাকে যেভাবে গলি-ঘুপচির মিলনমেলা করে রেখেছে, তাতে বাণিজ্য মেলার মতো মনের আনন্দে এক স্টল থেকে আর এক স্টলে কিংবা এক প্যাভিলিয়ন থেকে আর এক প্যাভিলিয়নে ঘুরে ঘুরে বই দেখার সুযোগ কোথায়?

    এ প্রসঙ্গে আমাদের এই সময়ের অগ্রজ প্রকাশক মহিউদ্দিন আহমদের একটি জাতীয় দৈনিকে লেখা কলাম থেকে উদ্ধৃতি দেই- ‘বইমেলায় বাংলা একাডেমীর প্রতি ইঞ্চি জমি ব্যবহার করা হয়। মাঠ জুড়ে সারি সারি বইয়ের দোকান। যেভাবে দোকানের সারিগুলো রচিত হয় তার মধ্যকার ফাঁক অতি সামান্য। অত্যন্ত ধুলোবালি। মেলায় যে কয়দিন প্রচণ্ড ভিড় হয়, সে কয়দিন বাংলা একাডেমীর মেলা আমাদের মতে, পুরোপুরি নিরাপত্তাহীন অবস্থায় থাকে। যদিও এ পর্যন্ত বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি, কিন্তু মেলা মোটেও দুর্ঘটনার আশংকামুক্ত নয়। যে কোনও সময় অগ্নিকা- ও জীবনহানির মতো ঘটনা ঘটে যেতে পারে। ভিড়ের দিনগুলোতে জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনও ব্যবস্থা নেই আর অগ্নিকাণ্ড ঘটলে বাংলা একাডেমীর মঞ্চের পেছনে ফায়ার ব্রিগেডের যে গাড়ি আছে সেটা সারি সারি দোকানের জন্য মধ্যবর্তী সংকীর্ণ পরিসরে হয়তো নড়াচড়াই করতে পারবে না।’’

    আমাদের গ্রন্থ প্রকাশনা শিল্প বর্তমানে যেভাবে ও যে পর্যায়ে বিকাশ লাভ করেছে, তাতে এখনই অমর একুশে বইমেলার জন্যে বাংলা একাডেমীর নির্ধারিত জায়গার চেয়ে অন্তত ১০ গুণ বড় জায়গার প্রয়োজন। বইমেলাকে তার প্রাপ্য বিশালত্ব আর সৌন্দর্য দিতে হলে এটার বিকল্প নেই।

    বইমেলায় আগত প্রতিটি পাঠক-ক্রেতা-দর্শককে প্রাণভরে শ্বাস নিতে দিতে হবে। বড় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্যাভিলিয়ন করার সুযোগ দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বই মাত্রই বইমেলার পণ্য হতে পারে। সে হোক না পাঠ্যবই, কারিগরি বই বা ধর্মীয় বই। জায়গার স্বল্পতার অজুহাতে সৃজনশীল বই বিক্রেতা, পাঠ্যপুস্তকের প্রকাশক, বিদেশি বই, নবীন প্রকাশক, অপেশাদার প্রকাশক কাউকেই বইমেলায় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত রাখা উচিত নয় বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। আর এসব তখনই সম্ভব হবে যখন বইমেলাকে ‘বাণিজ্যমেলা’র মতো বড়ো-সড়ো পরিসরে নিয়ে যাওয়া যাবে। আজ না হয়, ১০ বছর পর হলেও এটা করতে হবে। আর ১০ বছর পরে যেটা করতে হবে, সেটা এখন করলে ক্ষতি কী? আসুন, ১০ বছর এগিয়ে গিয়ে আমরা ভাবতে শিখি না কেন? বাংলা একাডেমীতে বরং বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ৭ দিনের একটি বইমেলা করা যেতে পারে।

    আর একটি বিষয়, বইমেলার আয়োজনের দায়িত্ব থেকে বাংলা একাডেমীকে অব্যাহতি দেয়ার সময় এসেছে। এটা বাংলা একাডেমীর কাজও নয়। বাংলা একাডেমীর কাজ হল বাংলা ভাষা নিয়ে গবেষণা, বই প্রকাশ ইত্যাদি। বইমেলা সরকারি দয়া-দাক্ষিণ্যেও হওয়া উচিত নয়। বইমেলার আয়োজক হতে পারে প্রকাশকরা নিজেই। [গত কয়েক বছর ধরে বেসরকারি পর্যায়ে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজিত হচ্ছে ঢাকাতেই!] যেমনটি করে থাকে কলকাতা পাবলিশার্স গিল্ড। এজন্য প্রকাশকদের অবশ্যই সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ও পেশাদার মনোভাবের হতে হবে। অর্জন করতে হবে রাজনৈতিক দলাদলির ঊর্ধ্বে উঠে একসঙ্গে কাজ করার মানসিকতা। ছোট- বড়, নবীন-প্রবীণ প্রকাশকের ভেদাভেদও ভুলে যেতে হবে। তবেই বেসরকারি পর্যায়ে বিশাল আয়তনে, বিশাল কলেবরে অমর একুশে বইমেলার আয়োজন সম্ভব।

    অমর একুশে বইমেলার জন্য সুপরিসর স্থান যেখানেই বরাদ্দ হোক না কেন, তা অবশ্যই স্থায়ী হতে হবে-অন্তত আগামী ২৫ বছরের জন্য হলেও। বইমেলা নিয়ে আমাদের আরও সুষ্ঠু ও পেশাদারভিত্তিক চিন্তা-ভাবনা করার সময় এসেছে। ভাবা যেতে পারে কিছু মৌলিক পরিবর্তন নিয়ে।
    যেমন-
    ০১. বইমেলার জন্যে খুব বড় পরিসর নির্ধারণ।
    ০২. দু’সপ্তাহের বেশি বইমেলার মেয়াদ না রাখা।
    ০৩. প্রবেশপথে টিকিট প্রথা চালু।
    ০৪. ঢাকার আশপাশের এলাকা থেকে পাঠক-ক্রেতাকে বইমেলায় আসতে উৎসাহিত করা।
    ০৫. বইমেলার কোনও একটি দিনে শিশুগ্রন্থ দিবস, বিজ্ঞানগ্রন্থ দিবস বা ভ্রমণগ্রন্থ দিবস পালন।
    ০৬. দল বেঁধে স্কুলের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের (স্কুল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে) বইমেলায় আসতে আকৃষ্ট করা।

    জবাব
  3. বইমেলা হতে বলছি

    আমার মনে হয় বড় পরিসরে মেলা হলে ভুইফোর ব্যাবসায়ীদের আরো সুবিধা হবে। তখন আরো অগা-মগা প্রকাশক ব্যাবসায়ী জেগে উঠবে। সাহিত্যের বারোটা বাজবে বৈকি !!

    জবাব
  4. সিমুন

    আপনার লেখা ভাল হয়েছে এবং একটি বাদে সব ব্যাপারেই একমত । আগারগাঁওয়ে বইমেলা হলে আমার মত অনেকেই যারা বইমেলায় দু তিনবারের বেশি যায় তারা আর যাবে না ।

    জবাব
  5. hafiz Ripon

    অনিন্দ্য রহমান on ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০১২ at ৪:৪১ পুর্বাহ্ন

    মানতে পারলাম না। কোনো কোনো জায়গা শক্ত প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। স্থানান্তর করলে তার প্রতীকত্ব (?) লোপ পায়।

    সহমত জানাচ্ছি। ঢাকা বই মেলা নামে একটা বই মেলা হয় আগারগাও এলাকায় সেটার অবস্থা দেখলেই বোঝা যাচ্ছে বাংলা একাডেমী থেকে বই মেলা অন‌্য কোথাও সরালে কি হাল হবে!

    জবাব
  6. সোহেল কাজী

    আরিফ ভাইয়ের সাথে সহমত পোষন না করে পারছি না। বাংলা একাডেমীর অব্যবস্থাপনা চোখে পড়ার মত।
    মোটামুটি জনপ্রিয় লেখকদের দিয়ে ফরমায়েশী লেখার হিড়িক পড়ে যায় একুশের বই মেলায়। এবং এই ব্যাপারে কারোরই যেনো কোন মাথা ব্যথাই নেই! মুদ্রণ ফরিয়াদের দৌরাত্বে প্রকাশিত অখাদ্য-টাইপ বইগুলো বাংলা সাহিত্যকে কি দিচ্ছে এটা নিয়ে একাডেমির চিন্তিত হবার প্রয়োজন মনে করছি।

    জবাব
  7. সেরীন ফেরদৌস

    সহমত প্রকাশ করছি আরিফের সঙ্গে। যে মেলায় একটা বই কিনতে গেলে দুটো মিনিট দাঁড়িয়ে বই উল্টেপাল্টে দেখা যায় না, অনেকটা আগে থেকেই বইয়ের নাম মুখস্ত করে গিয়ে কিনতে হয় অথবা তাড়াহুড়া করে কেনাকাজ শেষ করতে হয়, ধাক্কাধাক্কির সে বইমেলায় তৃপ্তির
    আনন্দ কোথায়!

    জবাব
  8. মোঃ মোতালেব হোসেন

    মেলা প্রাঙ্গন পরিবর্তন করার পক্ষে না। মেলার পরিসর বাড়ানো খুবই দরকার। হোক সেটা টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর হয়ে শহীদ মিনার পর্যন্ত। আগারগাঁও এ ২১শে বই মেলা নিলে মেলার ক্রেতা এবং দর্শনার্থী কমে যাবে। মেলাতে অনেকেই যায় হয়তো কিন্তু যারা পূর্ব থেকে ঢাবি এলাকার সাথে পরিচিত তারা স্মৃতিটাকে ঝালাই করতে এবং বই কিনতে প্রাণের মেলায় যায়। সেটা পূর্ণ হবে বাংলা একাডেমিতে গিয়েই।

    জবাব
  9. আবদুর রাজ্জাক শিপন

    খুবই সময়োপযোগী এবং যুক্তিসঙ্গত লেখা ।

    বরবরের মতো বড় কোন মূল্য দিয়ে যেন আমাদের শিখতে না হয় ।
    বাংলা একাডেমীর টনক নড়ুক । সত্যটা উনারা উপলব্ধি করুন ।

    জবাব
  10. রবীন আহসান

    রবীন আহসান ( শ্রাবণ প্রকাশনী)

    লেখক আরিফ জেবতিকে ধন্যাবাদ তাঁর লেখার জন্য । আমিও মনেকরি একুশের বইমেলা এখন বাংলা একাডেমীর চত্বরে একদম সম্ভব নয়। বইমেলার পরিবেশ বলতে যা বোঝায় তা এখন আর নেই। বাংলা একাডেমীর বইমেলা এখন বারোয়ারী মেলায় পরিণত হয়েছে। মহান ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের হাতধরে প্রকাশকদের মাধ্যমে যে বইমেলা শুরু হয়েছিল সেই একুশের বইমেলা বছরের পর বছর আরো সুন্দর হওয়ার কথা। তা না হয়ে মাসব্যাপী ‘বই বাণিজ্য’ ঝুপরি দোকানদারিতে পরিণত হয়েছে। আমি যখোন প্রকাশনা শুরুকরে ছিলাম তখনকার মহাপরিচাল ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন স্যারের সময় বাংলা একাডেমীতে প্রকৃত বইমেলা ছিল। সব ধরনের উটকো ঝামেলা মুক্ত বইমেলা ছিল। পাশাপাশী ছোট প্রকাশনা সংস্থার স্টল গুলো এখোনকার চেয়ে বড় থাকায় মেলা দেখতে ঝুপরি ঘরের মতো মনে হতো না পাঠক ক্রেতা তারা তাদের প্রিয় বইটি দেখতে পারতো মেলায় ঘুরে দেখার জন্য আনেকটা খোলা জায়গা ছিল। এখন এসবের কিছু নেই কবুতরের বাসার মতো ছোট ছোট স্টল কোন নান্দনিকতা নেই মেলায়।
    বইমেলা ১৫ দিনব্যপী করতে পারলে সরকার এবং বাংলা একাডেমী চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠটি ব্যবহার করা যেতে পারে শুধু প্রকাশকদের বইমেলা হলে এটি খুব সুন্দর মেলা হয়ে উঠবে । বইমেলায় কোন গানবাজনা সাংস্কৃতিক অনষ্ঠানের আয়োজন দরকার নাই । দেশে সারাবছরই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় বইমেলায় গান শোনানো লোক এনে অহেতুক জটলা বারানোর প্রয়োজন আছেবলে আমি মনে করি না। বইলোয় শুধু বইনিয়ে শত শত অনুষ্ঠান হতে পারে । বাংলা একাডেমীর স্থানে একুশে উপলক্ষে সাহিত্য উৎসব সাংস্কৃতিক অনষ্ঠানের আয়োজন হলে ভালো হয়। বইমেলা আয়োজনে প্রকাশক সমিতিকে অগ্রাধীকার দিতে হবে । পৃথীবির সব বড় বড় বইমেলা আয়োজন করে সেই সব দেশের প্রকাশক সমিতি । প্রকাশক সমিতি বইমেলার আংশ হলে তারা অনেক ভালো বইপ্রকাশে উৎসাহিত হবে ।
    একুশের বইমেলা ১৫ দিনব্যাপী করা দরকার তাহলে অনেক ধরনের উটকো ঝামেলা দূর হবে। লেখকরা আগে আগে বই লিখবেন এবং প্রকাশকরা নতুন বইটি দু’মাস আগে ছাপতে চাইবেন। গণমাধ্যমের প্রচারনা দেখে অনেকেই মেলার মধ্যে বই প্রকাশে আগ্রহী হয়ে ওঠে ফলে ভুল বানান আর নিন্ম মানের বাঁধাই নিয়ে শত শত বই বেরুচ্ছে আমাদের বইমেলায়। পাঠক ঠকছে এবং দিনদিন তারা বইমেলা বিমূখ হচ্ছে। একুশের বইমেলা নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনা দরকার।

    জবাব
  11. তায়েফ আহমাদ

    আগারগাঁও-এ বইমেলা সরিয়ে নেয়ার প্রস্তাবটি নিঃসন্দেহে দারুন একটি প্রস্তাব।
    আর বইমেলা শেষের পরের ১১ মাসে অনেক খুঁজেও প্রয়োজনীয় বই-পত্র পাওয়া যায় না। এর কারণ, নিঃসন্দেহে “প্রকাশকরা মাত্র একমাসে তাদের সারা বছরের ব্যবসা এখান থেকে করে ফেলেন। আমরা অল্পে সন্তুষ্ট জাতি, আর আমাদের প্রকাশকদের অল্পতুষ্টি তো আরো বেশি।” এ বিষয়টি প্রকাশকদের মাথায় ঢুকানো দরকার যে, বই শুধু ফেবুয়ারি মাসে ঢাকায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য ছাপানো হয় না, বরং সারা বছর ধরে সারা দেশের আনাচে-কানাচে বাস করা মানুষের জন্যই ছাপানো হয়!
    কে বোঝাবে?

    জবাব
  12. শুভ আহমেদ

    মুদ্রন ফড়িয়াদের ছেঁকে ফেলতে পারলে প্রকাশকের সংখ্যা দাঁড়াবে টেনেটুনে ১৫০। একাডেমীর ভেতরেই এই সংখ্যক প্রকাশকদের প্রয়োজনিয় জায়গা দেয়া সম্ভব। এনজিও, সংগঠন বাদ দেয়ার কথা এরই মধ্যে ঘোষিত হয়েছে। এটি সঠিকভাবে প্রয়োগ হলে প্রবেশ জটিলতা, পরিবেশ ইত্যাদি সমস্যার সমাধান ঘটতে পারে। অমর একুশে গ্রন্থমেলার উপযুক্ত স্থান বাংলা একাডেমী ছাড়া মানাবে না। তবে একটি পরিপূর্ণ আন্তর্জাতিক বইমেলার আয়োজন এখন সময়ের প্রয়োজন। এটি আমাদের লেখক-প্রকাশক উভয়ের জন্যই প্রয়োজন।

    জবাব
  13. Ali Afzal

    আমি আপনার সাথে সম্পূর্ণ একমত ।যদিও কর্তৃপক্ষ্য এ লেখার কোন গুরুত্বই দেবেন না। কোন একদিন অবশ্যই আপনার প্রস্তাবটি গ্রহনযোগ্য হবে। সেদিনের আশায় থাকলাম। আপনার সুন্দর লেখার ধন্যবাদ।

    জবাব
  14. মোকাম্মেল

    খুবই প্রাসংগিক প্রস্তাব।
    আরেকটা কথা, এইবার বই মেলায় গিয়ে দেখি পুরানো বইয়ের ছড়াছড়ি, আমরা একুশে বইমেলায় শুধুমাত্র আনকোরা নতুন বই চাই।

    জবাব
  15. writer

    যেকোনো মেলার আসলে দুটো উদ্দেশ্য। প্রথমটি বানিজ্যিক,
    দ্বিতীয়টি সাধারণ মানুষের বিনোদন।

    মেলা বিনোদন হয় কিভাবে ?

    জবাব
    • zaman

      কিভাবে হয় না? যারা মেলায় যায় তারা কি সবাই বই কিনে? বুকে হাত দিয়ে বলুন তো মেলায় গিয়ে কি করেছেন বা কি করতে গিয়েছেন? নিজেকে বলুন।
      আসলে, বই কেনাই শুধু নয়, বইয়ের সাহচর্য পাওয়া, উল্টে-পাল্টে দেখা এভাবেই ধীরে ধীরে আমরা সাহিত্যমন্সক একটি জাতি হয়ে উঠছি। বাংলা একাডেমীর সুবিশাল প্রাঙ্গনে গেলে মনটা এমনিতেই ভাল লাগে, এটা চিত্তের বিনোদন, সস্তা বিনোদন নয়। মেলা সরানো নয়, ঐ প্রাঙ্গনের যে চিরঞ্জীব আবেদন, শহীদ মিনার, টি এস সি, বটমূল এসবকে পাশ কাটিয়ে আর যাই হোক বইমেলা হবেনা। কারণ, সেই ধরণের প্রকাশক আর পাঠক শ্রেণি এখনও গড়ে উঠেনি। মেলা প্রাঙ্গণের বিস্তৃতি দরকার। সেটা একাডেমী চাইলেই পারে। তারা, মেলা শেষে বইগুলো যাতে এক জায়গায় বিশেষত বাংলা একাডেমীর আলাদা একটি কক্ষে পাওয়া যায় তারও ব্যাবস্থা করতে পারে, কিন্তু করবে না। আরে, ওঁরা তো নিজেদের বইয়ের ব্যাবস্থাপনাই করতে পারেনা। এবার নাকি ১৫০০০ (পনের হাজার) ইংলিশ-বাংলা ডিকশনারি ছাপা হয়েছে। কি বলব, বাংলাবাজার আর নীলক্ষেত মিলেই তো একলক্ষ কপি পাওয়া যাবে!! সারা বছর তো তা পাওয়াও যায়না। কর্মীরা নিজেরা সব বিশেষ দামে কিনে অবিশেষ দামে নীলক্ষেতে বিক্রি করে আসে। হালুম ব্যাবসা আরকি!!
      অনেক কথা বাকি রইল। পারলাম না……… । দুঃখিত।

      জবাব
  16. hasan1

    “যেকোনো মেলার আসলে দুটো উদ্দেশ্য। প্রথমটি বানিজ্যিক, দ্বিতীয়টি সাধারণ মানুষের বিনোদন।”

    এই কথাটা তীব্র আপত্তিকর। একুশে বইমেলাকে কেবল বাণিজ্য আর বিনোদন দিয়া মাপাটা ক্ষুদ্রতা হবে।

    জবাব
  17. অনিন্দ্য রহমান

    মানতে পারলাম না। কোনো কোনো জায়গা শক্ত প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। স্থানান্তর করলে তার প্রতীকত্ব (?) লোপ পায়। একুশের বইমেলা বাঙালি জাতীয়তাবাদের যে অংশের সাথে যুক্ত তার কাছ থেকে ‘স্থান’কে বিচ্যুত করা সম্ভব না। শহীদ মিনারও একটা স্থান। সেখানেও প্রচুর ঠেলাঠেলি হয়। এখন ঢাকার চার মাথায় চারটা শহীদ মিনার করে দিলে বিষয়টা কেমন হবে?

    জবাব
  18. অরিত্র আহমেদ

    আরিফ ভাই,আপনার কথা ঠিক আছে,সমস্যা হলো,এটা একেধারে ব্যবসায়িক এবং ক্রিয়েটিভ জিনিস।বহু লোক আছে যারা এই দুইটার ওপর ভর করে সমানে বই বেচে খাচ্ছেন,মার্ক মাই ওয়ার্ড বই বেচে খাচ্ছেন।আমি তাদের কথা বলছি যারা নাম মাত্র প্রকাশনা প্রতিষ্টান খুলে সমানে টাকার বিনিময়ে বই ছেপে যাচ্ছে।তারা আপনার এ সচেতনতার সাথে একমত হবে কিনা বলা মুশকিল।যাই হোক,প্যাঁচের দিকে না যাই।ভালো লিখেছেন।আসলেও নিরাপত্তা,দূর্ঘটনা এবং ব্যবস্থাপনার দিক গুলো আমলে নেয়া উচিৎ

    জবাব
  19. মাসুদ করিম

    বলতে খারাপ শোনাবে, আমি কখনো একে বইমেলা মনে করিনি এবং এই বইমেলায় আমি জীবনে একবারই কিছুক্ষণের জন্য গিয়ে বিরক্ত হয়েছি। তবে এটা ঠিক, বইমেলার জন্য নতুন একটা জায়গা প্রয়োজন এবং বাংলা একাডেমীর এই কাজ ছেড়ে দেয়া উচিত। বই মেলা করবে প্রকাশকরা তারাই ঠিক করুক কোথায় কিভাবে তারা তাদের বইমেলা করবে, তবে প্রকাশকরা যেন ছোটপত্রিকাকে বাদ না দেয়, কারণ বাংলাদেশের প্রকাশনায় এই ছোট পত্রিকার অবদান কোনো অংশেই প্রকাশকদের তুলনায় কম নয়। এর মধ্যে প্রকাশক হিসাবে কমিটিতে অবশ্যই বাংলা একাডেমীও থাকবে। সেক্ষেত্রে প্রকাশকদের কমিটি যদি মনে করে প্রথম কয়েকবার বাংলা একাডিমী প্রঙ্গনে করে তারপর ওরা অন্য জায়গার ব্যবস্থা দেখবে, তাহলে সেভাবেই এগিয়ে যাওয়া উচিত। কিভাবে কী করবে প্রকাশকদের কমিটি থেকেই সিদ্ধান্ত আসা উচিত।

    জবাব
  20. আরাফাত আহমেদ সোহাগ

    আলোচনা জাতীয় কিছু একটা শুরু করা দরকার মনে হচ্ছে । তবে আলোচনায় আলোর প্রাধাণ্যই বড় ব্যাপার , বাকিটার নয় ।

    জবাব
  21. সুমনা

    লেখার প্রতি পূর্ণ সমর্থন দিলাম। আমি ২দিন মেলায় গিয়েছি এবং ২দিন-ই খুব অল্প সময়ের জন্য থাকতে পেরেছি। কারণ, স্টলগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে একজন মানুষ পছন্দ করে বই কেনার মত যথেষ্ট সময় ও পরিবেশ পায় না। হয় ধাক্কা, নয়ত ভীড়ের কারণে মুহূর্তেই সরে আসতে হয়। আর ধূলার কথা তো বলাই বাহুল্য। কেউ যদি আগে থেকে নির্দিষ্ট বই কেনার জন্য নির্দিষ্ট স্টলের নাম জেনে যায়, তাহলেই কেবল উদ্দেশ্য সফল করতে পারে। প্রথম দিন ব্যর্থ হয়ে দ্বিতীয় দিন আমিও সেটাই করেছি। নতুন বইয়ের ঘ্রাণ আর নিতে পারিনি। ধূলায় নাকে কাপড় দিতে হয়েছে যে! অন্যের কাছ থেকে শুনে বই কিনতে হচ্ছে, নতুন লেখকদের সুযোগ তো এভাবে আরও কমে যাবে। মেলা আরও বড় জায়গা নিয়ে করা হোক। বই মেলা আনন্দের মেলা হোক, অভ্যাস বা অত্যাচারের না।

    জবাব
  22. মামুন ম. আজিজ

    আরিফ ভাইয়ের সাথে এই বিষয়ে সহমত পোষন করছি। বাংলা একাডেমীর প্রাঙ্গন এই ঐতিহ্যের দোহাই দিয়ে ধীরে ধীরে একটি প্রাণের মেলাকে বিপদের দিকে এগিয়ে দেয়া হয়েছে। অল্প পরিসরে এত মানুষের ভীড়ে যখন গুতোগুতি করে এগোতে থাকি ( বিশেষ করে ছূটির দিন) আমারও ঐ ভয়টি হয়, কখন কি বিপদ হয়, কোথায় আগুন লেগে যায় কিংবা আরও বড় কিছূ দুর্ঘটনা…তখন কি হবে?..
    এর সাথে একটু যুক্ত করছি — আসলে বইমেলায় নতুন বই প্রকাশ হয় –এটা একটা নতুন প্রজন্মের ধারনা তৈরী হয়ে গেছে। আমরা ছোটবেলাতেও দেখেছি সারা বছর বই প্রকাশ হত। এই বছর জুড়ে প্রকাশনা থাকলে ঢাকা বইমেলাও প্রাণ পেতে পারে।

    ধন্যবাদ আরিফ ভাই।

    জবাব
  23. Robin Ahsan

    বইমেলার ৪০ বছর উদযাপন হচ্ছে এবার। বাংলা একাডেমী যে কাজগুলো করছে তা কোনো প্রশংসার দাবি রাখে না। কেননা তাদের পুরো অনুষ্ঠানসূচির কোথাও বইয়ের সংকট, সমস্যা, কাগজের মূল্যবৃদ্ধি, ভালো বইয়ের আলোচনা, তরুণদের উৎসাহিত করার মতো কোনো উদ্যোগ, প্রকাশকদের নিয়ে আলোচনা এরকম কোনো অনুষ্ঠান নেই। ৪০ বছর ধরে এক আলোচনা এক বিষয়বস্তু। একঘেঁয়ে চর্চায় চিন্তাশীল মানুষ আজ বিরক্ত। বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাকে নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া বই বিক্রির ক্ষেত্রেও বৈষম্যের সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রকাশকদের বাংলা একাডেমী ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করতে বলেছে কিন্তু নিজেরাই বিক্রি করছে ৩০ শতাংশ কমিশনে। তিনি আরো বলেন, ৪০ বছরে ভাষার ওপর মোট কতোগুলো বই বের হলো তার একটা তালিকা দিতে পারতো বাংলা একাডেমী। এতে পাঠক উপকৃত হতো। এছাড়া এখন বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের কারণে দর্শনার্থীরা ঘুরে বেড়ায় তাদের সাক্ষাৎকার দেয়ার জন্য। এটা যেন একটা কৌতুকে পরিণত হয়েছে। বাংলা একাডেমী পারতো একটা স্টুডিও তৈরি করে দিতে যেখানে বই, লেখক, প্রকাশক বা গবেষক পাঠক অথবা প্রতিদিন মেলায় আসা বই এসব নিয়ে চ্যানেলগুলো সরাসরি অনুষ্ঠান করতে পারতো। কিন্তু বাংলা একাডেমীর চিন্তায় এ ধরনের কোনো বৈচিত্র্য নেই।

    জবাব
  24. jamal

    অত্যন্ত সুচিন্তিত ও যৌক্তিক লেখা। আশা করি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের বোধোদয় হবে। এমনিতেই আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার চেয়ে শিক্ষার্থীরা উৎসব পালন করতেই ব্যস্ত বেশী তার উপর জানুয়ারী থেকে এপ্রিল পর্যন্ত আমরা যারা ঐ এলাকার বাসিন্দা বা যাদের কর্মস্থল তাদের যানজটে প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়ার যোগাড়।

    জবাব
  25. সাঈদ

    এমনিতেই বাণিজ্য মেলার কারনে জ্যাম লেগে থাকে , সাথে বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে সারা বছর একটা না একটা প্রোগ্রাম আছেই তার উপর বই মেলা !!!

    মাঝে কিছুদিন পুস্তক মেলা চালু হয়েছিল, ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মেলা আয়োজিত হত কিন্তু আশানুরুপ সাড়া ফেলতে পারে নাই মেলাটা।

    জবাব

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—