polls_Savar+Girls+High+School_301215_03

১.
এই রবিবার এপ্রিলের ১৬ তারিখ আমাদের নূতন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরটি উদ্বোধন করা হল। একাত্তর সালে আমাদের দেশে যে গণহত্যাটি হয়েছিল সেরকমটি পৃথিবীর আর কোথাও হয়েছিল কি না আমার জানা নেই। এই দেশের মানুষ আর মুক্তিযোদ্ধারা সেই সময় যে বীরত্ব দেখিয়েছিল এবং মাত্র নয় মাসে তারা যত বড় অর্জন করেছিল, পৃথিবীতে তার তুলনা পাওয়াও খুব কঠিন। কাজেই আমরা অনুমান করতে পারি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘরটি পৃথিবীর একটি সবচেয়ে চমকপ্রদ জাদুঘর হওয়ার দাবি রাখে। কাজেই যেদিন জাদুঘরটি উদ্বোধন করার দিনক্ষণ ঠিক করা হয়েছিল আমি আমার সব কাজ ফেলে এই ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হওযার জন্যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলাম।

আমি মফস্বলে থাকি, তাই ঢাকা শহরেরর প্রিয় মুখগুলো সবসময় দেখতে পাই না। এই অনুষ্ঠানে এসে একসঙ্গে সবার সাথে দেখা হয়ে গেল। একাত্তরের বড় বড় মুক্তিযোদ্ধারা চুপচাপ বসে ছিলেন, আমি তাদের একজনের পিছনে বসে গিয়েছি। জাদুঘরটি উদ্বোধন করার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি দীর্ঘ ভাষণ দিলেন। যারা শুনেছে তারা সবাই বলবে এটি অতি চমৎকার একটি ভাষণ ছিল। তাঁর ভাষণ শুনতে শুনতে আমার বারবার নব্বইয়ের দশকের কথা মনে পড়ছিল, যখন এই দেশটি রাজাকারদের অভয়ারণ্য হয়েছিল। সেই সময় কেউ কি কল্পনা করেছিল একসময় আমাদের দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে? তাদের শাস্তি দেওয়া হবে? এই দেশে গণহত্যা করার জন্যে তাদের ফাঁসি দড়িতে ঝুলতে হবে?

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনতে শুনতে আমার আরও একটি কথা মনে পড়ল, সেটি হচ্ছে সামনে নির্বাচন আসছে। তখন আমি মনে মনে একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলেছি। অচিন্ত্যনীয় একটি মূল্য দিয়ে আমরা স্বাধীনতাটি পেয়েছি অথচ এখনও নির্বাচনের রাতে আমরা দুর্ভাবনা নিয়ে রাত কাটাই। যারা এই দেশের স্বাধীনতা চায়নি তারা কি আবার ক্ষমতায় এসে আমাদের দেশটিকে উল্টোপথে নিয়ে যাবে?

আমি অবশ্যি সবসময়েই স্বপ্ন দেখি: আমাদের দেশের নির্বাচনের বিজয়ী দল এবং বিরোধী দল দুটিই হবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক দল। তাই একটি সময় আসবে যখন নির্বাচনে কোন দল জিতে এসেছে সেটি নিয়ে আমাদের আর কখনও দুর্ভাবনা করতে হবে না। এই দেশ অনেক পথ অতিক্রম করে এসেছে, আমার ধারণা, রাজনৈতিক দলগুলোকে বুঝতে হবে এই দেশে বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করে আর মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে আর কেউ কোনোদিন রাজনীতি করতে পারবে না।

২.
আমরা টের পেতে শুরু করেছি নির্বাচন আসছে। যেভাবে টের পেয়েছি সেটি যে আমরা খুব পছন্দ করেছি তা নয়। শুরু হয়েছে পাঠ্যবই হেফাজতিকরণ দিয়ে। এই দেশের সরকার কওমি মাদ্রাসার পাঠ্যক্রমে হাত দিতে পারে না, কিন্তু হেফাজত এই দেশের মূলধারার পাঠ্যক্রমে শুধু যে হাত দিতে পারে তা নয়, সেটি তারা পরিবর্তন করে ফেলতে পারে। আমার এখনও বিশ্বাস হয় না হেফাজতে ইসলামকে খুশি করার জন্যে আমাদের পাঠ্যক্রম পরিবর্তন করা হয়েছে। পাঠ্যবই দিয়ে শুরু হয়েছে, কোথায় শেষ হবে, আমরা জানি না।

হেফাজতের কাছে নতজানু হয়ে এই আত্মসমর্পণ যে একধরনের ভোটের রাজনীতি সেটি বোঝার জন্যে কাউকে ‘রকেট সায়েন্টিস্ট’ হতে হয় না। কিন্তু আমরা আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখে এসেছি ভোটের এই রাজনীতি কখনও কাজ করেনি, সাম্প্রদায়িক দলগুলো কখনও আওয়ীমী লীগকে ভোট দেয়নি, কখনও দেবে না।

গণজাগরণ মঞ্চকে প্রতিহত করার জন্যে তারা যখন ঢাকায় সমাবেশ করেছিল সেই সমাবেশ থেকে তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে যে উক্তিগুলো করেছিল সেটি তাদের সত্যিকারের মনোভাব। মেযেদের ‘তেঁতুলে’র সাথে তুলনা করা, তাদের ঘরে আটকে রাখা তাদের আদর্শ। অথচ আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি আমাদের বাংলাদেশ যে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে তার সবচেযে বড় কারণ হচ্ছে যে এখানে ছেলেরা আর মেয়েরা প্রায় সমান-সমানভাবে পাশাপাশি লেখাপড়া করছে! যেটি আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি সেটিকে ধ্বংস করার জন্যে যে সংগঠন, আমরা সেই সংগঠনের কাছে নতজানু হয়ে আত্মসমর্পণ করছি, সেটি নিজের চোখে দেখেও বিশ্বাস হয় না।

৩.
নির্বাচন আসছে। এই নির্বাচনে কার সাথে কার যুদ্ধ হবে, কেউ কি অনুমান করতে পারবে? আমার ধারণা যুদ্ধটি হবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে ছাত্রলীগের। গত কয়েক বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এত আসাধারণ নৈপুণ্যে দেশ চালিয়েছেন যে শুধু দেশে নয় সারা পৃথিবীতে তাঁর বিশাল একটা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে নয়, শেখ হাসিনাকে ভোট দেবে। অথচ ছাত্রলীগ নামক প্রতিষ্ঠান এককভাবে সামনের নির্বাচনে শেখ হাসিনার সমস্ত অর্জন ম্লান করে দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। দুঃখের কথা হচ্ছে ছাত্রলীগকে এই ‘ফ্রাংকেনস্টাইনে’ রূপ দিয়েছে তাদের কিছু শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলায় কিছু ভাইস চ্যান্সেলর।

আমরা পত্রপত্রিকায় নিয়মিতভাবে ছাত্রলীগের খবর পাই। আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তাদের অবশ্যি পত্রপত্রিকার খবর পড়তে হয় না, আমরা নিজের চোখে তাদের কর্মকাণ্ড দেখতে পাই। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের একেবারে শেষ ঘটনাটির কথা হয়তো অনেকেই শুনেছে।

এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া একটি মেয়ে আমাদের ক্যাম্পাসে বেড়াতে এসেছে। একটি মেয়েকে দেখলে তাকে যেভাবে উত্যক্ত করার কথা, ছাত্রলীগের ছেলেরা ঠিক সেভাবে তাকে উত্যক্ত করেছে। মেয়েটা যখন প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেছে তখন ছাত্রলীগের ছেলেরা তার গায়ে হাত তুলেছে। একটি মেয়ের সবসময় সব ধরনের অপমান মুখ বুঁজে সহ্য করার কথা, তাদের প্রতিবাদ করার কথা নয়। যদি প্রতিবাদ করার দুঃসাহস দেখায় তখন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিশ্চয়ই সেই মেয়েটিকে চড়থাপড় দেওয়ার অধিকার আছে!

ঘটনাটি এখানে শেষ হয়ে গেলে হয়তো কেউ সেটি সম্পর্কে জানত না। আজকাল ক্যাম্পাসে এ ধরনের ঘটনা সবসময় ঘটছে। কিন্তু ঘটনা আরেকটু গড়িয়ে গেল, এই ঘটনার সূত্র ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও দুজন ছাত্রকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হল। তারা ছাত্র-সাংবাদিক তাই খবরটি খবরের কাগজে ছাপা হল। মেয়ের অভিভাবক স্থানীয় থানায় মামলা করার চেষ্টা করলেন, অবশ্যই সেটি করা সম্ভব হল না। ছাত্রলীগের ছেলেদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অলিখিত ‘ইনডেমনিটি’ রয়েছে, প্রশাসন তৈরি হয়েছে তাদের সাহায্য করার জন্যে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্যে নয়। অভিভাবকেরা তখন কোর্টে মামলা করে দিলেন।

এই বিষয়গুলো আমাদের জানার কথা নয়, কে কার বিরুদ্ধে মামলা করেছে সেটি আমরা কেমন করে জানব? তবে আমরা অবশ্যি জেনে গেলাম, কারণ কিছুক্ষণের মাঝে ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানে ক্যাম্পাস প্রকম্পিত হল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে গেট আটকে দিয়ে যানবাহন বন্ধ করে দেওয়া হল। আমার ক্লাসের ছেলেমেয়েরা ফোন করে জানাতে লাগল তারা আসতে পারছে না– লেখাপড়া বন্ধ।

ড্রাইভার ইচ্ছে করে একজনের উপর দিয়ে ট্রাক চালিয়ে মেরে ফেলার পর তাকে বিচার করে শাস্তি দেওয়া হলে দেশের একজন মন্ত্রীর নেতৃত্বে সারা দেশে পরিবহন ধর্মঘট হয়েছিল, ঘটনাটা নিশ্চয়ই সবার মনে আছে। কাজেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হলে তাদের নিশ্চয়ই বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেওয়ার অধিকার আছে!

এরকম সময় তখন আরেক ধরনের প্রহসন হয়। অপরাধী ছাত্রদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে দেওয়া হয়!

এই সাময়িক বহিষ্কার বিষয়টি খুবই চমকপ্রদ একটি বিষয়। যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্ব দেখানো হলে সাহসিকতার জন্যে যে পদক দেওয়া হয় সাময়িক বহিষ্কারটি হচ্ছে সেরকম একটি ‘পদক’। যাদের বহিষ্কার করা হয় তাদের লেখাপড়া কিংবা পরীক্ষা দিতে কোনো সমস্যা হয় না। তারা নির্বিঘ্নে লেখাপড়া শেষ করে সার্টিফিকেট নিয়ে বের হযে যায়। যেহেতু তারা বহিষ্কৃত ছাত্র কাজেই তারা যখন নূতন করে অপরাধ করে তাদের নূতন করে শাস্তি দেওয়া যায় না। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়। সবাই একধরনের সমীহের দৃষ্টিতে তাদের দেখে। কথাবার্তায় তারা বুকে থাবা দিয়ে বলে:

“এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি শিক্ষকদের পিটিয়েছি আমার কিছু হয় নাই।”

(কথাটি সত্যি, আমাদের ভাইস চ্যান্সেলর ছাত্রলীগের ছাত্রদের ব্যবহার করে শিক্ষকদের গায়ে হাত তুলেছিলেন। ভাইস চ্যান্সেলর এবং ছাত্রলীগ দুই পক্ষই বহাল তবিয়তে আছে।)

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাই যখন কাজেকর্মে তাদের ব্যবহার করেন তাদের দাপট তো থাকবেই। শিক্ষক নিয়োগের সিলেকশান বোর্ডের সদস্যদের ঘর থেকে বের করে দিয়ে ছাত্রলীগের ছেলেরা ভাইস চ্যান্সেলরের সাথে দেনদরবার করে ঠিক করে কাকে নিয়োগ দিতে হবে। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গর্ব করার দিন ফুরিয়ে যাচ্ছে।

ছাত্রলীগের গল্প বলে শেষ করা যাবে না, কিন্তু নোংরা কথা বলার মাঝে কোনো আনন্দ নেই। আমি মফস্বলের ছোট একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াই, কোনো কিছু জানতে চাই না। তারপরও তাদের কর্মকাণ্ডের কথা কানে চলে আসে, যার অর্থ আমাদের দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিশ্চয়ই একই ঘটনা ঘটছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদেরই যদি এদের উৎপাতে নাভিশ্বাস উঠে যায় তাহলে অন্যদের কী অবস্থা? দেশের আনাচে-কানাচে শহরে-বন্দরে-গ্রামে-গঞ্জে সব জায়গাতেই নিশ্চয়ই একই ঘটনা ঘটছে। সেখানে শুধু ছাত্রলীগ নয়, যুবলীগ ও আওয়ীমী লীগের সদস্যরাও নিশ্চয়ই আছে। যখন কিছু একটা ঘটে, নানা রকম বাধাবিপত্তি পার হয়ে সেটা যদি খবরের কাগজ পর্যন্ত চলে আসে তখন আওয়ামী লীগের নেতারা সেটাকে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেন।

এখন পর্যন্ত যে দুটো গুরত্বপূর্ণ ‘থিওরি’ দেওয়া হয়েছে তার একটি হচ্ছে ‘কাউয়া’ থিওরি অন্যটি ‘ফার্মের মুরগি’ থিওরি! যে থিওরিগুলো দেওয়া হয়েছে তার মূল বক্তব্য হচ্ছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ তারা সবাই ধোয়া তুলসি পাতা, বাইরের মানুষেরা এসে এই তুলসি পাতাদের কলুষিত করেছে।

সত্য স্বীকার করে নেওয়া ভালো, বিষয়টি তা নয়। বাইরের লোকজনের সাহায্য ছাড়াই এই ছাত্রলীগ নিজেরাই যে কোনো পরিবেশ বিষাক্ত করে ফেলতে পারে। হঠাৎ হঠাৎ নির্বাচন দেওয়া হলে যখন দেখা যায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা হেরে যাচ্ছে এবং তার কারণ খুঁজে বের করার জন্যে যখন ‘দলীয় কোন্দল’ ইত্যাদিকে দোষ দেওয়া হচ্ছে, আসল কারণ হয়তো সেটা নয়। আমাদের ক্যাম্পাসে আমরা যেরকম ছাত্রলীগের উৎপাতে ত্যক্তবিরক্ত হয়ে আছি, হয়তো ঠিক একইভাবে দেশের মানুষজন ত্যক্তবিরক্ত হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষ সাধারণভাবে চিন্তা করে। যে মানুষেরা তাদের জ্বালাতন করে তারা কোন দুঃখে তাদের ভোট দিতে যাবে?

৪.
বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলো দেখে আমার সবসময়েই মনে হয়েছে তারা বুঝি পণ করেছে যে, যে কোনো মূল্যে বাংলাদেশকে খাটো করে দেখতে হবে। সেদিন আমি প্রথমবার দেখতে পেলাম ‘ইকনোমিস্ট’ নামের সংবাদমাধ্যমটি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে যে, বাংলাদেশ হচ্ছে সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা অর্থনীতির দেশ। অবশ্যি বিদেশি গণমাধ্যমের খবর পড়ে আমাদের এই তথ্য পেতে হয় না, আমরা নিজেরাই আমাদের চারপাশে দেখে সেটি বুঝতে পারি।

অনেকগুলো ঘটনার মাঝে আমার প্রিয় ঘটনাটি হচ্ছে যখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী ঠিক করলেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সাহায্য না নিয়েই নিজেদের টাকায় পদ্মা ব্রিজ তৈরি হবে! শুধু যে বিস্ময়কর দ্রুতগতিতে সেটি তৈরি হচ্ছে তা নয়, দেখা গেছে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের অভিযোগ মিথ্যা, সারা পৃথিবীর সামনে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের মতো একটি বড় প্রতিষ্ঠানকে এর আগে অন্য কোনো দেশ এভাবে তাদের স্বরূপে দেখিয়েছে কি না, আমার জানা নেই।

ফেসবুক ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে ঢাকা শহর সারা পৃথিবীর মাঝে দ্বিতীয়, সেটি নিয়ে আমার ভেতরে কোনো অহংকার নেই, বরং খবরটি শোনার পর থেকে আমি একটু দুশ্চিন্তার মাঝে আছি। কিন্তু যখন জানতে পারি নববর্ষের মঙ্গল শোভাযাত্রা এখন পৃথিবীর হেরিটেজের অংশ, তখন নিঃসন্দেহে আমি অহংকার অনুভব করি।

তৈরি পোশাক শিল্পে সারা পৃথিবীর মাঝে আমরা দ্বিতীয়, মাছ উৎপাদনে চতুর্থ। গুণগত দিক দিয়ে পৃথিবীর দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ চামড়া শিল্প দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এরকম অনেকগুলো উদাহরণ এখন আমাদের সামনে।

চার কোটি ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার ব্যাপারেও আমাদের সেরকম কিছু অর্জনের সুযোগ ছিল, এখন সেটা শুধু নূতন বই ছাপিয়ে ছেলেমেয়েদের হাতে সময়মতো তুলে দেওয়ার মাঝে সীমাবদ্ধ হয়ে আছে। প্রশ্নফাঁস, কোচিং ক্লাস ইত্যাদির কারণে সেটি নিয়ে গর্ব করার বিশেষ সুযোগ নেই।

একাত্তরে জনসংখ্যা ছিল সাত কোটি, এখন ষোল কোটি। ফসল আবাদ করার জমি কমে গিয়েছে কিন্তু দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, এটি চাট্টিখানি কথা নয়। এই দেশে যখন যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হয়েছিল তখন পৃথিবীর মোড়লেরা কতভাবে সেটাকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেছে, অথচ এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি সত্যি সত্যি এই দেশের মাটিতে যদ্ধাপরাধের বিচার হয়েছে।

পৃথিবীর অনেক দেশের বাংলাদেশ থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ইচ্ছা করলে বাংলাদেশের অর্জনের আরও অনেক কথা বলতে পারি এবং কেউ অস্বীকার করতে পারবে না যে, তার অনেকগুলোর জন্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পুরো কৃতিত্ব দিতে হবে।

আমি শুধু সবাইকে মনে করিয়ে দিতে চাই এই সরকারের কিংবা প্রধানমন্ত্রীর বিশাল একটা অর্জনকে দেশের মানুষের চোখে পুরোপুরি ম্লান করে দেওয়ার জন্যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি তুচ্ছ ছাত্রলীগ কর্মীর মাস্তানিটুকুই যথেষ্ট। আমি বহুদিন আগে একবার লিখেছিলাম বিশাল একটা সংখ্যাকে শূন্য দিয়ে গুণ করা হলে পুরোটাই শূন্য হয়ে যায়।

সেটি তখন যেমন সত্যি ছিল, এখনও তেমনি সত্যি আছে!

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল লেখক ও অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

১২ Responses -- “নির্বাচন আসছে?”

  1. মোস্তফা কামাল

    স্যার আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ।আপনি আমাদের মতো তরুণদের মনের কথা লিখেছেন।কবে আসবে সেদিন ? রাত জেগে নির্বাচনের খবর দেখব না ।যেই ক্ষমতায় আসুক মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার হবে ।আমাদের অনেকে এই প্রজন্মের স্বাধীনতার ইতিহাস জানতে চায় না।আমি মুসলমান পাচঁ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি ।তৈয়রী পোষাক শিল্পের বানিজ্যিক কর্মকর্তা ।আমার এক সহকর্মী আমাকে বলে আপনি পাচঁ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন কিন্তু স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে সমর্থন করেন ।আমিতো হতবাক বলে কি অথচ সহকর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী।স্যার আপনি বলেন এই লোক গুলো কি শিক্ষা গ্রহণ করেছে?স্যার আপনি তৈয়রী পোশাক শিল্পের কথা বলেছেন আমিও স্যার এই সাফল্যের অংশীদার ।আমি আমার সন্তানদের ও বলি সঠিক শিক্ষা গ্রহণ কর ।প্রস্তুত হও তোমার দাদা দেশের জন্য ১৯৭১সালে যুদ্ধ করেছেন ।আমাদের ও তোমাদের যুদ্ধ করতে হবে সেটা হচ্ছে অর্থনৈতিক যুদ্ধ। স্যার আপনি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কথা বলেছেন আমি মনে করি তার মতো রাষ্ট্রনায়ক আধুনিক বিশ্বে বিরল ।তিনি এখন বিশ্বনেতা।আর আমাদের বাংলাদেশকে তিনি এশিয়ার টাইগার হিসাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
    ছাএলীগের কথা বলেছেন আজ যারা ছাএলীগ করে তারা প্রধান মন্ত্রীর সব অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছে। এই সংগঠনকে সরকার থামচ্ছে না? পরিশেষে সালাম রইল স্যার । আপনি আমাদের জন্য দোয়া করবেন ।

    Reply
  2. রাজু

    সিলেট শহর যদি মফস্বল হয় তাহলে ঢাকা আর চট্টগ্রাম শহর ছাড়া বাদ বাকী সারা দেশই জাফর ইকবালের চোখে মনে হয় মফস্বল ।দেশ এগিয়ে যাচ্ছে বলে এত গর্ব করলেন অথচ একটি প্রধান বিভাগীয় শহরই কিনা মফস্বল !

    Reply
  3. KALLOL

    ছাত্রলীগ নামক প্রতিষ্ঠান এককভাবে সামনের নির্বাচনে শেখ হাসিনার সমস্ত অর্জন ম্লান করে দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

    Reply
  4. সরকার জাবেদ ইকবাল

    সোনার বাংলার সোনার ছেলেদের ‘দুষ্টামি’ বন্ধ করতে একজনই পারেন; জনাব ওবায়দুল কাদের। কিন্তু প্রশ্ন হলো তার নিজের গদি ঠিক থাকবেতো?

    Reply
  5. মাহমুদ কাসেমী

    ইকবাল স্যারের কথা দিয়ে শুরু হক তিনি বলেন: যে “গণজাগরণ মঞ্চকে প্রতিহত করার জন্যে তারা যখন ঢাকায় সমাবেশ করেছিল সেই সমাবেশ থেকে তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে যে উক্তিগুলো করেছিল সেটি তাদের সত্যিকারের মনোভাব। মেযেদের ‘তেঁতুলে’র সাথে তুলনা করা, তাদের ঘরে আটকে রাখা তাদের আদর্শ। অথচ আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি আমাদের বাংলাদেশ যে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে তার সবচেযে বড় কারণ হচ্ছে যে এখানে ছেলেরা আর মেয়েরা প্রায় সমান-সমানভাবে পাশাপাশি লেখাপড়া করছে! যেটি আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি সেটিকে ধ্বংস করার জন্যে যে সংগঠন, আমরা সেই সংগঠনের কাছে নতজানু হয়ে আত্মসমর্পণ করছি, সেটি নিজের চোখে দেখেও বিশ্বাস হয় না।”
    (1) প্রধানমন্ত্রী কে নিয়ে হেফাজতের কি উক্তি তিনি স্পষ্ট না করেই বিচার শুরু করেছেন।
    (2) মেয়েদের কে তেঁতুলের সাথে তুলনা করা নিয়ে তিনার আপত্তি অবশ্য এটা শুধু তিনার নয় বাংলা নাস্তিক পাঁড়ায় আল্লামা শফী সাহেব কে ‘তেঁতুল হুজুর’ বলে ডাকা হয়। ‘তেঁতুল হুজুর’ ডাকটা তাদের মাঝে এতোই জনপ্রিয়তা পেয়েছে যে, এটা নিয়ে রীতিমত দাঁড়ি-টুপি ওয়ালা কার্টুন করেও তারা আল্লামা শফী সাহেব কে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে থাকে।
    এর কারণ হচ্ছে, কোন এককালে শফী হুজুর মেয়েদেরকে ‘তেঁতুল’ এর সাথে তুলনা করেছিলেন।
    তেঁতুল দেখলেই যেমন মানুষের জিভে জল চলে আসে, তেমনি মেয়ে মানুষ দেখলে পুরুষদের মধ্যেও এরকম একটা ফিলিংস তৈরি হয়।
    শফী হুজুরের কথাটা যতোটা না স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড, তারচেয়ে বেশি মেটাফোরিক্যাল (রূপক)।
    মানুষ স্বভাবতই বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষিত। এই চরম সত্য কথাটি অকপটে স্বীকার করায় শফী হুজুরকে বাংলা নাস্তিক সমাজ রীতিমত হাসাহাসির বস্তুতে পরিণত করেছে।

    সে যাকগে!! শফী হুজুরের গাঁয়ে তেঁতুল তত্ত্বের তকমা আপাতত থাক।
    চলেন আমরা এবার একটু ‘বিজ্ঞান’ করে আসি।
    বাংলা নাস্তিক সম্প্রদায়, যাদের বেশিরভাগই ইন্টার লেভেল এবং কলা অনুষদে পড়া, যারা আবার কথায় কথায় আমাদের ‘বিজ্ঞান’ শেখাতে প্রস্তুত হয়ে থাকে, তারা সবসময় একটি টার্ম খুব ইউজ করে। সেটি হলো- পিয়ার রিভিউড জার্নাল।
    বিজ্ঞানের কোন বিষয় কোন পিয়ার রিভিউ জার্নালে প্রকাশ হওয়া মানেই বাংলা নাস্তিকদের কাছে তা ইশ্বরের বাণীর মতোই ধ্রুব সত্যের মতো। যখন কেউ তাদের কাছে এসে কিছু জিজ্ঞেস করে, তারা বলে, – ‘পিয়ার রিভিউ জার্নাল থেকে প্রমাণ দেন।’

    আমেরিকার University Of Chicago তে একটি রিসার্চ চলে। এই রিসার্চ প্রকাশিত হয় বৈজ্ঞানিক জার্নাল ‘Evolution & Human Behavior’ এ। টপিক ছিলো- ‘Behavioral and hormonal responses of men to brief interactions with women’
    এই স্ট্যাডি চালিয়েছিলেন James R. Roney, Stephen V. Mahler, Dario Maestripieri ।

    এই স্ট্যাডিতে পুরুষ এবং মহিলাদের উপর একটি সমীক্ষা চালানো হয়। সরেজমিনে এই সমীক্ষা চালাতে গিয়ে উঠে এসেছে দারুন কিছু তথ্য।
    (এই স্ট্যাডি কীভাবে, কতোজনের উপরে চালানো হয়েছিলো তা বিস্তারিত ব্যাখার দাবি রাখে। আমি কমেন্ট বক্সে লিঙ্ক দিয়ে দিলাম। আগ্রহীরা পড়ে নিবেন)।
    স্ট্যাডি বলছে, পুরুষরা (সমীক্ষাটা চলেছিলো বেসিক্যালি ১৮-৩৬ বৎসর বয়সীদের মধ্যে) যখন মহিলাদের নিকটে থাকে, সংস্পর্শে আসে, তখন পুরুষদের মধ্যে Hormonal Response টা তীব্র হয়ে উঠে।
    তারা ব্যাপারটার কনক্লুশান দিতে গিয়ে লিখেছে –
    ‘ This study represents one of the first attempts to assess hormonal and behavioral reactions of men to brief interactions with women. Results were generally consistent with the possibility of a mating response in human males. Men in the female condition showed a significant increase in testosterone over baseline levels and were rated as having expressed more polite interest and display behaviors than were men in the male condition. In addition, those men who were rated as having directed more courtship-like behaviors toward their female conversation partners also showed more positive changes in T levels and rated the female confederates as more attractive romantic partners. No such relationships were significant in the male condition.’

    অর্থাৎ, পুরুষদের মহিলাদের প্রতি যে testosterone ( testosterone হচ্ছে পুরুষদের সেক্স হরমোন) আপিল আছে, তা স্ট্যাডি কন্ডিশনে খুবই ফলপ্রসূ এবং পজিটিভ হিসেবে দেখা গেছে।

    এই স্ট্যাডি বা রিসার্চ যারা করেছে তারা কিন্তু সবাই বিবর্তনবাদী। তারা দেখিয়েছে, মহিলাদের প্রতি পুরুষদের একটা আপিল থাকে। আপিলটা hormonal. আলাদাভাবে testosterone বা পুরুষদের সেক্স হরমোনাল।

    শুধু তাই নয়, ব্রিটিশ পত্রিকা ডেইলি মেইল বিজ্ঞানীদের রেফারেন্স দিয়ে শিরোনাম করেছে ‘Pretty women make a man’s mouth water’

    হাহাহা। অর্থাৎ, সুন্দরী মহিলা পুরুষের মুখে লালা ঝরায়।

    সুতরাং, তাদের গবেষণা মতে , নারীরা পুরুষদের কাছে খুবই লোভনীয়। এই স্ট্যাডি এত্তো এত্তো গবেষণা করে যা বুঝায়, শফী হুজুরের ‘তেঁতুল তত্ত্ব’ ও কিন্তু ঠিক একই জিনিসই বুঝায়। সুতরাং, যে সকল বাংলা নাস্তিক শফী হুজুরকে ‘তেঁতুল হুজুর’ বলে গালি দেন, ব্যঙ্গ করেন, তারা University Of Chicago’ এর এই স্টাডি, এর প্রাপ্ত ফলাফল, এবং Elsevier এ তা প্রকাশ হওয়াকে ঠিক কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন জানতে পারি? 🙂

    বিঃ দ্রঃ (এখন থেকে কেউ যদি শফী হুজুরকে ‘তেঁতুল হুজুর’ বলে ব্যঙ্গ করে, তারে জার্নালের এই লিঙ্কটা ধরাই দিবেন যদি সে আংরেজি (ব্যঙ্গার্থে) পড়তে পারে)

    (3) নারীদের ঘরে থাকা সবচেয়ে বেশি নিরাপদ এটা কোরআনের দাবি। হেফাজত সঠিক কথাটা বলেছে এটা তিনার কথা থেকে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে তুলে ধরেছেন বর্তমানে বিশ্ব বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে নারী নির্যাতন এর পরিস্থিতির কথা। এটা কেন হচ্ছে এর সঠিক রোগ কোরান ও হাদিসে নির্ণয় করে দিয়েছেন বেপর্দা এবং এবং নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা (সহশিক্ষা)
    কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো সঠিক কথা কেহ বলে না। কথায় আছে “বিচার মানি তাল গাছ আমার” এই প্রগতিরা চিন্তা করে আজকে যদি নারী পর্দা শুরু করে বা সহশিক্ষা বন্ধ হয়ে যায় কালকে আমার ইচ্ছা পূরণ করব কোথায় থেকে _______?

    Reply
    • Bahalul

      তেতুল হুজুর মেয়েদের তুলনা করেছে তেঁতুলের সাথে, অনেক বড় বড় সাহিত্যিক লেখকরাও মেয়েদের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতঙ্গের তুলনা করেছেন নানাধরনের খাদ্যদ্রব্যের সাথে- পটলচেরা চোখ, কমলালেবুর মতো ঠোঁট, কচি লাউয়ের ডগার শরীর, আপেলের মতো গায়ের রঙ ব্লা ব্লা ব্লা–মেয়েরা সবসময়ই এদের কাছে খাদ্যদ্রব্য!!
      আমরা হুদাই তেঁতুল হুজুরের দোষ দেই——–
      * আল্লামা আহমহ শফি হুজুরকে বুড়ো বয়সে তেতুল হুজুর উপাধী দিছে শুধুই হক কথা বলার কারনে।
      * মুফতি আমিনী (রহঃ) নজর বন্ধী অবস্থায় মারা গেছেন শুধুই হক কথা বলার কারনে।
      মনে রাখবেন যারা যারা হক্ক কথা বলে তারাই সব সময় অত্যাচারের স্বিকার হয়। যারা পেট নাচায় আর বলে আমার পীর বাবা কেবলা কি ভাল দেখেছেন তার নামে কোন দূর্নাম নাই। তখনই বুজবেন সে হল তাদের পা চাটা দালাল। তাই তার উপর অত্যাচার হয় না।

      Reply
  6. শুভ্র

    স্যারের লেখা ছাত্রলীগকে ভালো পথে ফেরাবার জন্য, খারাপ কিছু বলার জন্য নয়।

    আমার পরিচিত এক রোমমেট বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বলেছিলেন স্যার অনেক দলীয় ব্যানারে আসা শিক্ষক পদপ্রার্থীদেরকে ঠেকিয়েছেন মেধার ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থীদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন করার পরিবেশ সৃষ্টি করে দিয়ে। আমার অতি আপন একজন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ও মাস্টার্সে প্রথম শ্রেনিতে প্রথম ও আন্তর্জাতিক জার্নালে লেখা থাকা সত্ত্বেও দু তিনটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাউবা দেয়ার আগে যখন শুনে অমুক তমুককে সিলেক্ট করা হয়েছে আর ভাইবার রেজাল্টের পর যখন দেখে ভাইবার আগে শোনা প্রার্থীদেরই নিয়োগ দেয়া হয়েছে তখন থেকে সে বিশ্ববিদ্যালয়ে এপ্লাই করা বাদ দিয়ে দিয়েছে। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে এপ্লাই করতে সকল কাগজ পত্র মিলিয়ে একটা সেটে ৩০ টা কাগজ ধরলে ৭/৮ সেট কাগজে ২১০/২৪০ টার মতো হয়ে যায়। ব্যাক ড্রাফটতো আছেই। ঢাকার বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ৭০%/৮০% শিক্ষক নেয় নিজ এলাকার ছেলে মেয়ে হইলে। ওখানে শিক্ষাগত যোগ্যতা গৌন। এমন সেষ্টুডেন্টকে দেখেছি যে কিনা ৩৫ জন ছাত্রছাত্রীরমধ্যে ১৮ তম কিন্তু স্থানীয় ছেলে বলে সার্কুলারে তার সিভির সাথে সামজ্জস্য করে বিশেষ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয় তাকে নিয়োগের জন্য। এমন এমন শিক্ষক দেখেছি যারা ক্লাসে এসে মার্কার দিয়ে একটা সিট থেকে হোয়াইট বোর্ডের এক মাথা থেকে লেখা শুরু শেষ মাথায় যায় লেখা শেষ হলে আবার প্রথম মাথা মুছে আবার লেখে। কোন কিছু বুঝায় না, কোন প্রশ্ন নেয়না। আবার কিছু প্রফেসর ১০০ মার্কের একটা সাবজেক্ট জাস্ট ২/৩ টা ক্লাস নিয়ে সেরে ফেলে। ওই ২/৩ টা ক্লাসে কিছু পড়ায়ওনা শুধু গল্প করে। তবে এদের মাঝেও খুব নগন্য কিছু শিক্ষক এতো ভালো পড়ায় যে তাদের মন থেকে প্রার্থনা করতে ইচ্ছে করে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রকৃত মেধাবি, সৎ ও যোগ্য প্রথম সারীর ছেলেমেয়েদের থেকে নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করছি। বিষেস যোগ্যতার দোহাই দিয়ে যদু, মধু, কদু দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি নিষ্প্রয়োজন।

    মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জ্ঞান সৃজনের কারখানা হয়ে উঠবে এই বিশ্বাস করি

    Reply
  7. নুর ইসলাম রফিক

    স্যার আপনি উক্ত লেখায় কয়েকবার সিলেট শহরকে মফস্বল উল্লেখ করেছেন। সিলেট কোন মফস্বল নয় মহানগর। মডেল টাউন বললেও ভুল হবেনা।

    ছাত্রলীগ আসলে কতটা ছাত্র দ্বারা গঠিত সংগঠন? আমি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পারবো ছাত্রলীগের কেন্দ্রিয় কমটি পর্যন্ত অছাত্রে ভরপুর। জেলে, মহানগর, উপজেলা, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি কমিটি গুলিতে ছাত্রের সংখ্যা হাতের আঙুলে গুণে বলা যায়। আর অছাত্রের সংখ্যা আট শব্দের কেলকুলেটারেও জায়গা ধরেনা।

    দেশের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ যখন হাঙ্গামা, মারামারি, কাটামাটি, ইভটিজিং ইত্যাদি করে তখন তারা দোষ এড়াতে হুটহাট চরম মিথ্যেবাদীর ন্যায় বলে দেয় এটা বহিরাগতদদের কাজ।

    পুরোটা যে মিথ্যে বলে তা নয়। বহিরাগত আছে ঠিক। তবে এই বহিরাগতরা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলা বহিরাগত হতে পারে কিন্তু ছাত্রলীগের বেলা নয়। কারণ ছাত্রলীগের প্রতিটি কমিটিতে বহিরাগর অছাত্রতে ভরপুর।

    ছাত্রলীগ বিগত কয়েক বছরে যা কলংক কামিয়েছ তা আমার মতো মত প্রকাশ কারি সাত জনমেও লিখে শেষ করতে পারবো।

    ছাত্রলীগ তথা সকল রাজনৈতিক সংগঠন ও অঙ্গসংগঠনগগুলি দেশ গড়ায় অবদান রাখবে এমন প্রত্যাশা। সবার জন্য শুভ কামনা।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—