High+Court_AMO_010217_0004

সুপ্রিম কোর্টের চত্বর থেকে ‘লেডি জাস্টিস’ নামে খ্যাত গ্রিক দেবী থেমিসের ভাস্কর্য সরিয়ে নিতে দাবি করে আসছে হেফাজতে ইসলামসহ কিছু ইসলামি সংগঠন। আমেরিকা, ইংল্যান্ড, জাপান, ব্রাজিল, ইতালি, জার্মানি, কানাডা, ইরান, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আদালত প্রাঙ্গন, ডাকটিকেট কিংবা মুদ্রায় ‘লেডি জাস্টিসের’ ভাস্কর্য রয়েছে। সেটা মনে করেই হয়তো কারও মাথায় এল বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের চত্বরে কেন ‘লেডি জাস্টিসের’ ভাস্কর্য স্থাপন করা হবে না। সেই থেকেই হয়তো শুরু এবং ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে লেডি জাস্টিসের বাংলা ভার্সন স্থাপন করা হয়। যার উদ্বোধন করেছিলেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি।

যদিও ভাস্কর্য নির্মাতা মৃণাল হক বলেছেন, এই ভাস্কর্য কোনো গ্রিক দেবীর মূর্তি নয়, বরং ন্যায়বিচারকের ভূমিকায় বাঙালি নারীর অবয়ব। তাই এই ভাস্কর্য সরিয়ে নিলে ‘আত্মসমর্পণ’ করা হবে।

ভাস্কর্য নির্মাতা তাঁর বক্তব্য দিয়েছেন অথচ বিভিন্ন লোক এখনও বলছে, লেডি জাস্টিসকেই বাঙালি করার প্রচেষ্টায় শাড়ি পরিয়ে দাঁড় করানো হয়েছে। অনেকের মতে, ভাস্কর্যটি বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। শাড়ি পরালেই যে বাঙালি হয় না সেটা ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের দিকে তাকালেই দেখা যায়। ইন্দিরা গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী কি বাঙালি?

সবচেয়ে বড় কথা, বাঙালি নারীর হাতে গ্রিক বা আরব দেশের তরবারি তুলে দিয়ে বিচক্ষণতার পরিচয় দেওয়া হয়েছে বলে মনে হয় না। তরবারি, সে যে কাজের প্রতীকই হোক না কেন, বাঙালি নারীর হাতে বেমানান। ইতিহাস খুললে কোনো বিপ্লবী বাঙালি নারীর হাতে তলোয়ারের ছবি পাওয়া যাবে না।

ভাস্কর্য স্থাপিত হবার পর থেকে বিরোধী পক্ষ হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে হিংস্র হয়ে উঠেছে। তারা বলছে, ৯২ শতাংশ মুসলমানের দেশের প্রধান আদালতে এমন ভাস্কর্য থাকতে পারে না। অতএব, এটা সরিয়ে নিতে হবে। মূলত দুটি কারণ দেখিয়েছে ওরা। প্রথমত, সংখ্যাগুরু মুসলমান দেশের প্রধান বিচারালয়ে কেন মূর্তি থাকবে? দ্বিতীয়ত, জাতীয় ঈদগাহের পাশে এমন ভাস্কর্য মেনে নেওয়া যায় না।

উল্লেখ্য যে, ভাস্কর্যকে কখনও মূর্তি বলে উল্লেখ করা হচ্ছে, আবার ক্ষণে ক্ষণে সেটা বদলিয়ে ভাস্কর্য হয়ে যাচ্ছে। আশা করি যারা মূর্তি ও ভাস্কর্য নিয়ে মতামত দিচ্ছেন তারা এই দুটির মধ্যে পার্থক্য জানেন। বিষয়বস্তু সংক্ষিপ্ত করতে তাই এ নিয়ে আলোচনা করব না।

উপরের যুক্তিতে যদি সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ভাস্কর্যটি সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে কোথায় যাবে? সংখ্যাগুরু মুসলমানের দেশ বলে বাংলাদেশ বিবেচ্য হলে সেই বাংলাদেশ তো সর্বত্র। পার্ক? সেখানে কি মুসলমান যায় না। চারুকলা ইন্সটিটিউটের ভেতর কোথাও রেখে দিবে? চারুকলা ইন্সটিটিউটের পাশে কি মসজিদ নেই বা চারুকলার ছাত্রছাত্রীরা কি মুসলমান নয়? কতটুকু দূর হলে ভাস্কর্য তার প্রভাব হারায়?

অন্যদিকে জাতীয় ঈদগাহের পাশে গ্রিক দেবতার ভাস্কর্য মেনে নেওয়া না গেলে জাতীয় ঈদগাহের পাশে লর্ড কার্জনের নামে এত বড় একটি দালান রয়েছে, এই অমুসলিম নাম কি ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কোনো অসুবিধা সৃষ্টি করবে না?

এভাবেই এগুচ্ছে নানান প্রশ্ন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্প্রতি বক্তব্যে ফুটে উঠেছে গ্রিক দেবতার ভাস্কর্য বাংলাদেশের জন্য কতটুকু প্রযোজ্য। যে স্থানে ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছে সেখানে কয়েক মাস আগেও এটি ছিল না। বহুযুগ ধরে গ্রিক দেবতার ভাস্কর্য যেখানে অনুপস্থিত ছিল সেখানে কি ন্যায়বিচার হয়নি? হঠাৎ কেন সেখানে একে বসানো হল? ন্যায়বিচারের মানদণ্ড হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে তো ‘দাঁড়িপাল্লা’ রয়েছে, আবার ভাস্কর্যের কী প্রয়োজন?

তিনি বলেছেন, এটা সরানোর জন্য প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলবেন। প্রশ্ন হল, ভাস্কর্য কেন সরাতে হবে? ইরানের মতো একটি মুসলিম দেশের আদালতেও লেডি জাস্টিসের ভাস্কর্য রয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবসহ বিভিন্ন মুসলিম-অধ্যুষিত দেশে মানব ও প্রানিদের প্রচুর ভাস্কর্য রয়েছে। বাংলাদেশ একটি ভাস্কর্য নিয়ে এত উত্তাল কেন?

পাকিস্তান আমলে আমরা যখন সিনেমা দেখতাম– বিশেষ করে মোহাম্মদ আলী, ওয়াহিদ মুরাদের সিনেমা– তখন আদালতের দৃশ্যে দেখা যেত কালো কাপড়ে চোখ বাঁধা লেডি জাস্টিসের ভাস্কর্য। তখন হেফাজতে ইসলাম ছিল না বলে হয়তো কেউ প্রশ্ন তুলেনি। কিন্তু আমরা এখন কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাকিস্তান আমলের চেয়েও অনেক বেশি মুসলমান হয়ে যাচ্ছি। ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে কোনো কার্যক্রম নেই, অথচ ইসলামি ধর্মীয় ভাবনা প্রসারে চলছে সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ। সম্প্রতি স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে সংযোজিত বিষয়াদি এবং রাস্তাঘাটে চলাফেরা করলেই এ কথার সত্যতা বুঝতে অসুবিধা হয় না।

প্রধানমন্ত্রী যখন উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি একটা সুরাহা করবেন বলে মনে হচ্ছে। এক পক্ষ আপাতত খুশি হলেও হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে লেডি জাস্টিসের ভাস্কর্যই শুধু নয়, অন্য যে কোনো ভাস্কর্য সরিয়ে নিলে বা ভেঙে ফেললে যে নৈতিক প্রশ্ন এসে উপস্থিত হবে তা হল, রাষ্ট্র কি অনির্বাচিত একটি বিশেষ গোষ্ঠীর হাতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদানের ক্ষমতায়ন করছে?

আপোষকামিতা আর সমঝোতা এক কথা নয়। কাজেই গ্রিক ভাস্কর্য এখন উপলক্ষ মাত্র। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বাস্তবায়নে হেফাজতে ইসলামসহ মৌলবাদী দল ও গোষ্ঠীর রয়েছে বিরাট তালিকা। এরা হয়তো এরপর দেশের সব মূর্তি এবং ভাস্কর্যের দিকে ইঙ্গিত করবে। ভোটের আগে পাতের ভাত জোগাড় করতে আমরা কি শুধু আপোষ করতেই থাকব?

বাংলাদেশ উন্নতি করছে ঠিকই এবং সেই উন্নতি অতীতের সব সরকারের চাইতে বর্তমান সরকারের আমলেই বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে মনে রাখতে হবে, উন্নয়ন বলতে শুধু অবকাঠামো ও পরিসংখ্যানের সূচক নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলে হবে না। প্রকৃত উন্নয়ন আসবে মানুষের ভাবনা-চিন্তা ও শিক্ষা (পাশের হার নয়) থেকে। কেননা চেতনা হল সমস্ত শক্তির স্থায়ী ঠিকানা। ভূমিকম্প এসে যদি অট্টালিকা গুঁড়িয়ে দেয় তাহলে উন্নয়নের চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ মননের শক্তি কোনো আঘাতে ভাঙে না। আমাদের প্রয়োজন সেই শক্তির দিকে নজর দেওয়া।

মনে পড়ছে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর দীর্ঘদিন ঢাকাবাসীকে কার্ফুর মধ্যে থাকতে হয়েছিল। সেই সময় ঢাকার জিপিওর পাশেও একটা ভাস্কর্য গড়ে উঠছিল। নগরবাসী আশা করেছিল যে কোনো দিন সেটা উন্মুক্ত করা হবে। কিন্তু একদিন কার্ফুর মধ্যে, মানে রাতের আঁধারে প্রকাণ্ড সেই ভাস্কর্য কারা যেন গোড়া থেকে কেটে নিয়ে গেল। যেটা কাটতে বা সরাতে বিরাট যন্ত্রপাতি এবং বড় বড় যানবাহনের প্রয়োজন হবার কথা। এদিকে কার্ফু চলাকালীন জনগণ বাইরে যেতে পারে না। কাজেই বোঝা গেল কী হল এবং কেমন করে রাষ্ট্রীয় সহায়তায় সেই ভাস্কর্য হারিয়ে গেল।

তারপর তো অনেক পানি গড়িয়ে গেছে। চোখের সামনে বলাকা এবং লালন ভাস্কর্য হারিয়ে গেল। তাই ভয় হয়, কখন হাতুড়ির আঘাত লাগে ‘অপরাজেয় বাংলা’সহ বাংলা ভাষা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গড়ে ওঠা শহীদ মিনার ও ভাস্কর্যগুলোর উপর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে অবস্থিত ‘অপরাজেয় বাংলা’ কিংবা শহীদ মিনারের গায়ে হাত দিলে বাংলাদেশে যে একটা গৃহযুদ্ধ বেঁধে যাবে তাতে সন্দেহ নেই। সরকার যেভাবে মৌলবাদীদের কাছে নতজানু হচ্ছে তাতে অনেকে ভরসা হারিয়ে ফেলেছে। মৌলবাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতা কতদিন টিকে থাকে সেটাই দেখার বিষয়। প্রশ্নগুলো বর্তমান সরকারের একনিষ্ঠ কর্মীদের মুখেই শোনা যাচ্ছে।

ভাস্কর্য বলা হলেও হেফাজতের আসল দৃষ্টি মূর্তির দিকে। তাই মাঝে মাঝে ভাস্কর্য হয়ে যাচ্ছে মূর্তি। খুব জানতে ইচ্ছে করে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মূর্তি কেন গাত্রদাহ হয়ে উঠেছে? মূর্তিপূজা বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মগোষ্ঠীর অধিকার। যে কোনো মূর্তি ভাঙা মানেই সংবিধান লঙ্ঘন থেকে শুরু করে একের পর এক অবিচার করা। কোনো উচ্চমাপের মুসলমান ধর্মীয় নেতার পক্ষে এটা মেনে নেওয়া ঠিক হবে না। অথচ ধর্মীয় নেতারাই আজ প্রশ্নবিদ্ধ।

আফগানিস্তানের বৌদ্ধ মূর্তি কামান দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে কী শান্তি ও সৌহার্দ্য পাওয়া গেছে কেউ কি তার হিসাব দিতে পারবে? নিজেদের মধ্যে হানাহানি করার আগের দিনগুলোতে সেই বৌদ্ধ মূর্তি আফগানিস্তানে কারও চক্ষুশূল হয়ে ওঠেনি। এমন কথাও শোনা যায়নি যে, একজন মুসলমান বিরাট আকৃতির মূর্তির জন্য ধর্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিল। তাই মূর্তি ভাঙার কুফলও বিবেচনা করে দেখতে হবে। মনে রাখতে হবে, যদি কারও ধর্মবিশ্বাসে আঘাত করা হয় তবে অন্যজনও সেই আঘাত করতে পারে। নিজ দেশে না হলে পরদেশে।

প্রসঙ্গক্রমে বলতে ইচ্ছে হচ্ছে যে, হযরত মোহাম্মদ (সা:)সহ ইসলাম ধর্মের আদি অনুসারীরা মূর্তির মধ্যেই ছোটবেলা থেকে বড় হয়েছিলেন। হযরত মোহাম্মদ (সা:) কাবা ঘরে যেতেন যেখানে ছিল অনেক মূর্তি। সুখে-দুঃখে তখন কাবাই ছিল সেই অঞ্চলের লোকজনের একমাত্র ভরসার স্থান। অথচ বাল্যকালে তিনি কোনো মূর্তি ভাঙার চেষ্টা করেছিলেন বলে শোনা যায় না।

আরবের মুসলিম ইতিহাস পড়লে দেখা যায়, কাবা ঘরকে একাধিকবার পুনর্গঠন করতে হয়েছিল। একবার কাবা মেরামতের পর ‘কালো পাথর’ উঠিয়ে কে সেটাকে নির্ধারিত স্থানে পুনঃস্থাপন করবে এই নিয়ে যখন মুল গোত্রের নেতারা একমত হতে পারছিল না এবং প্রায় সংঘাত পর্যায়ে চলে এসেছিল তখন বলা হল, পরবর্তী যে ব্যক্তি কাবা ঘরে প্রবেশ করবে আমরা তার পরামর্শ মেনে নিব। সেই পরবর্তী ব্যক্তিটি হলেন তখনকার মোহাম্মদ (সা:)। তিনি বিচক্ষণতা দিয়ে বললেন, কালো পাথরটি একটি চাদরের মাঝখানে রাখা হোক এবং চার গোত্র প্রধান সেটা বহন করে নিয়ে যাক। এভাবেই তিনি সমস্যার সমাধান করে দিলেন।

তখন কি তিনি কাবার মূর্তিগুলো দেখে মুখ ফিরেয়ে নিয়েছিলেন কিংবা দাবি করেছিলেন যে, আমি সমাধান দিব, তোমরা যদি একটি মূর্তি ভেঙে ফেল?

ইসলাম আবির্ভাবের পরের কথা হল, হিজরতের পর মদিনাতে গিয়ে হযরত মোহাম্মদ (সা:) ‘মসজিতুল নবী’ স্থাপন করেন। যেখানে ইহুদি-খ্রিস্টান ও পৌত্তলিক পূজকসহ সকলের প্রবেশের অধিকার ছিল এবং একই স্থানে মুসলমানেরা নামাজ পড়তেন। এই মসজিদে বসেই বিভিন্ন ঘটনা ও দ্বন্দ্বের বিচার-মীমাংসা করতেন নবী (সা:)। এটাই ছিল তাঁর দপ্তর। অন্য ধর্মে বিশ্বাসীদের নিজদের মধ্যে মীমাংসায় পৌঁছে দিতে তিনি সেই ধর্ম বা গোত্রের বিচক্ষণ ব্যক্তিদের মতামতও নিতেন।

এছাড়া সেই মদিনা মসজিদে বসে তিনিসহ অন্যান্য মুসলমানেরা জেরুজালেমে অবস্থিত বায়তুল মোকাদ্দাস মুখি হয়ে নামাজ পড়তেন। এরপর যখন তাঁর উপর নির্দেশ এল, (সূরা ২ / ১৪২-১৪৪) তিনি কেবলা ঘুরিয়ে মক্কায় অবস্থিত কাবা ঘরের দিকে মুখ করে নামাজ পড়তে শুরু করলেন। বাস্তবতা হল, তখনো কিন্তু কাবা ঘরের মধ্যে চন্দ্র দেবতা হুবালসহ ৩৬০টি মূর্তি ছিল। মূর্তি থাকা অবস্থায় কেবলা কাবামুখী হয়েছিল এবং মক্কা বিজয়ের আগ পর্যন্ত প্রায় আট বছরেরও অধিক সময় মূর্তিসহ কাবামুখী হয়ে নামাজ পড়েছেন নবীর নেতৃত্বে সে সময়কার মুমিনেরা।

স্বভাবতই মনে হতে পারে, মূর্তির অবস্থান কাবাতে থাকলেও মনের চিন্তা ছিল আল্লাহ কিংবা আল্লাহর পবিত্র ঘর কাবার প্রতি। এখানেই প্রশ্ন এসে যায়, আজ কেন মূর্তি দেখে আমদের ধর্মীয় ইমান ও বিশ্বাস স্থির থাকতে পারে না। কীসের এত ভয়?

বিদেশে প্রায় প্রতিটি হাসপাতালে একটা নির্জন কক্ষ বা প্রেয়ার রুম থাকে। হাসপাতালের বিছানায় পড়ে থাকা আপনজনের রোগ মুক্তির জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে যে যার ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে প্রার্থনা করে। তাই সেই নির্জন কক্ষে বিভিন্ন ধর্মের মূর্তিসহ জায়নামাজও বিছানো থাকে। একই কক্ষে মূর্তি পাশে রেখে নামাজ আদায়ের দৃশ্য নতুন কিছু নয়। ঈদ এলেই দেখা যায় ভারতের কিছু কিছু মন্দির মুসলমানদের জামাতের জন্য খুলে দেওয়া হয়। তখন কিন্তু মূর্তিগুলো মন্দিরের ভেতরেই থাকে। কোনো আড়াল কিংবা ঢেকে রাখাও হয় না। কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখলে পূজার মূর্তিগুলো ক্ষমতাহীন হয়ে যাবে এমনটা কিছু কিছু মুসলমান বিশ্বাস করলেও একজন হিন্দু সেটা বিশ্বাস করবে না।

আমরা জানি হযরত মোহাম্মদ (সা:) ইসলাম ধর্ম প্রচারের প্রথমদিকে নানা অত্যাচার জুলুম সহ্য করেছেন। যারা তাঁর পক্ষ নিয়েছিল তাদের সামাজিক বয়কট থেকে শুরু করে শারীরিক নির্যাতনসহ ঘরবাড়ি থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। অনেককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া মক্কাবাসী একের পর এক যুদ্ধ করেছে মুসলমানদের সঙ্গে। কিন্তু মক্কা বিজয়ের পর হযরত মোহাম্মদ (সা:) প্রতিশোধ না নিয়ে অমুসলিমদের অভয় দিয়েছিলেন যে, তাদের ভয় নেই। রক্তপানের দেশে এই শান্তির বাণী আজও বিশ্বের সর্বত্র প্রশংসার দৃষ্টিতে দেখা হয়।

এর আগে হযরত মোহাম্মদ (সা:) একবার হজ্জ করার উদ্দেশ্য নিয়ে মক্কা অভিমুখে রওনা হন। কিন্তু কুরাইশদের বাধার কারণে হজ্জ না করে মদিনাতে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। ফিরে যাবার আগে ‘হুদাইবিয়ার সন্ধি’ নামে মক্কাবাসীদের সঙ্ড়ে একটি সন্ধি করেছিলেন তিনি। সেই সন্ধি মোতাবেক পরের বছর তিন দিন মক্কায় অবস্থান করে মুসলমানেরা হজ পালন করেছিল। তখনও ৩৬০টা মূর্তি ছিল কাবা ঘরে।

এরপর দশ হাজার লোকের বিরাট দল নিয়ে তিনি মক্কা অভিমুখে যাত্রা করে বিনা বাধায় মক্কা জয় করে নেন। এবারই তিনি কাবাতে স্থাপিত সবগুলো মূর্তি ভেঙে ফেলেন। জানা মতে, মক্কা বিজয়ের পর কাবার মূর্তি ভাঙার জন্য কোনো অহি আসেনি। সেটা যদি সত্যি হয় তাহলে প্রশ্ন জাগে, ছোটখাট বিষয়সহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমূহ সমাধানের জন্য যখন আল্লাহ আয়াত নাজেল করতেন, কাবা ঘরের মূর্তি ভাঙা-সংক্রান্ত তাৎক্ষণিক কোনো আয়াত তিনি পাঠালেন না কেন? অতএব বলা যেতে পারে যে, হযরত মোহাম্মদ (সা:) নিজ সিদ্ধান্তেই এই কাজ করেছিলেন।

ইসলাম ধর্মের কট্টর বিশ্বাসীদের বলব, যেহেতু পৃথিবীর সব লোককে কোনো উপায়েই ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করতে পারবেন না, সেহেতু সকলকে ভালোবাসা দিয়ে জয় করতে চেষ্টা করুন। কোরান হাদিস অন্যকে ধ্বংস করতে বলেনি। পবিত্র কোরানে বলা হয়েছে: (সূরা ২ আয়াত ২৮৫) মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমূহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোনো তারতম্য করি না।

সূরা ২২ আয়াত ১৭– যারা মুসলমান, যারা ইহুদি, সাবেয়ী, খ্রিস্টান, অগ্নিপূজক এবং যারা মুশরেক, কেয়ামতের দিন আল্লাহ অবশ্যই তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দেবেন। সব কিছুই আল্লার দৃষ্টির সামনে।

কাবা ঘরের মূর্তি মক্কা বিজয়ের পর ভাঙা হলেও পৃথিবীর সব মূর্তি ভাঙতে বলেননি হযরত মোহাম্মদ (সা:)। তাহলে আজ পৃথিবীতে এত মূর্তি থাকত না। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় ‘দৈনিক পাকিস্তান’ কেটে তার নিচে লিখা হয়েছিল ‘দৈনিক বাংলা’। ১৯৭১-৭২ সালের প্রথমদিকে দলিল দস্তাবেজে যেখানে দেশের নাম পাকিস্তান লেখা থাকত সেই স্থানে রাবার স্ট্যাম্পে বাংলাদেশ ঠুকে দেওয়া হত।

বিপ্লবের পর নতুন শাসনের গোড়াপত্তনের সময় পূর্ববর্তী শাসন ক্ষমতা থেকে সরে আসা একটি রাজনৈতিক প্রথা। কাবাতেও তাই হয়েছিল, সেটাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, মুসলমানদের সারা জীবন শুধু মূর্তি ভেঙে যেতে হবে। অতএব চিন্তা-ভাবনা করে নির্দেশনা দিতে হবে কী করে সহঅবস্থান করা যায় এবং অন্য ধর্মের বিশ্বাসীরা যেন মনে না করে যে, তাদের অপমান ও অসম্মান করা হচ্ছে।

মোট কথা কারও ধর্মবিশ্বাসে আঘাত না করা। ভুলে যেতে হবে যুদ্ধজয়ের জন্য যেসব যুদ্ধ কৌশল বলা আছে (সূরা ২ আয়াত ১৯১, সূরা ৮ আয়াত ১২) সেগুলো শান্তিপূর্ণ অবস্থানে প্রচার না করার এবং যুদ্ধে অবস্থানরত হুমক না দেওয়া।

যুদ্ধ বাংলাদেশের মানুষও করেছে। অ্যামব্যুশ করা, অতর্কিত আক্রমণ, সঠিক লক্ষ্যে তাক করাসহ নানা কৌশল শেখানো হয়েছিল যুদ্ধজয়ের জন্য। কিন্তু যুদ্ধ শেষ তো সব শেষ। এখন সেই যুদ্ধকালীন সময়ের একটি কৌশল ব্যবহারও আইনের চোখে অপরাধ।

অনেকে হয়তো পবিত্র কোরান থেকে উদ্ধৃতি দিবেন। যেমন ধরুন সূরা ২১ (৫৮), সূরা ২২ (৩০) সূরা ১৪ (৩৫)। কিন্তু খণ্ড খণ্ড অংশ উল্লেখ না করে মূর্তি ভাঙা-সংক্রান্ত যে আয়াতগুলো আছে সেগুলো ভালো করে পড়লে বোঝা যাবে যে, সেগুলো অন্য গোত্র, অন্য পরিস্থিতি উল্লেখ করে বলা হয়েছে। একটা জিনিস ভুলে গেলে চলবে না যে, কোরানের কিছু বাণী উপদেশ, আবার কিছু বাণী উপমা। সূরা ৩ আয়াত ৭– তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। তাতে কিছু আয়াত রয়েছে সুস্পষ্ট, সেগুলোই কিতাবের আসল অংশ। আর অন্যগুলো রূপক।

সূরা ১৪ (২৪) তুমি কি লক্ষ্য কর না, আল্লাহ তা’আলা কেমন উপমা বর্ণনা করেছেন।

সূরা ১৪ (২৫) আল্লাহ মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেন যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।

কাজেই যত্রতত্র কোরানের বাণীর ভুল ব্যাখ্যা সমস্যা দূর করার বদলে নতুন সমস্যা ডেকে আনতে পারে। যেমন সূরা ১৪ (৩২); তিনিই আল্লাহ, যিনি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল সৃজন করেছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে অতঃপর তা দ্বারা তোমাদের জন্য ফলের রিজিক উৎপন্ন করেছেন এবং নৌকাকে তোমাদের আজ্ঞাবহ করেছেন..। এই শেষের অংশটুকু যেখানে বলা হচ্ছে নৌকাকে তোমাদের আজ্ঞাবহ করেছেন.. এই আয়াত যদি নির্বাচনী প্রচারে লাগিয়ে ভুল ব্যাখ্যা করতে থাকে তখন কি বিভ্রান্তি ছড়াবে না?

ইসলাম ধর্মের অন্যতম দীক্ষা হল ‘লা শারিক আল্লাহ’ মানে আল্লাহর কোনো শরিক নাই বা অন্য কেউ আল্লাহ সমকক্ষ নয়। একাধিকবার পবিত্র কোরান শরিফে এই কথাটা বলা হয়েছে। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলতে চাই বিশ্বাস অটুট থাকলে কোনো কিছু আল্লাহর সমতুল্য মনে করা উচিৎ নয়। অন্য কেউ আল্লাহর সমতায় অবস্থান করছে মেনে নিলে সে আর মুসলমান থাকে না।

যে যার বিশ্বাস নিয়ে থাকুক না কেন, বৈরিতার কী প্রয়োজন? আর ভাঙাভাঙির দরকারটা কী? তবু যদি সুপ্রিম কোর্ট চত্বরের ভাস্কর্যটি মূর্তি মনে করে সরিয়ে নেওয়া হয় বা ভেঙে ফেলা হয় তাতে রাজনৈতিক কৌশলগত লাভক্ষতি বিচার করা ছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে লাভক্ষতির সম্ভাবনা প্রশ্নবিদ্ধ থেকেই যাবে। মনে রাখতে হবে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে তুলতে কাঁটা ভেঙে শরীরের ভেতর ঢুকে গেলে সেপটিক হবার আশঙ্কা থাকে।

অন্য একটি খবর হল, মূর্তির নামে কিন্তু ইতোমধ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য তুলে নেবার দাবি করা হচ্ছে। এই যাত্রায় রক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। তিনি পারলে বঙ্গবন্ধুর কন্যা পারবেন না কেন? বঙ্গবন্ধুর কন্যা বাংলাদেশ থেকে ভাস্কর্য সরিয়ে নেবার পক্ষে দাঁড়ালে ভারতে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যও সরে যেতে পারে এবং বাংলাদেশে শুরু হবে নতজানুতার যুগ। অতঃপর লেখা থাকবে সেইসব নাম যিনি এগিয়ে এসেছিলেন অথবা এগিয়ে আসেননি মঙ্গলের জন্য।

দাঁড়িপাল্লা থেকে বাটখাড়া উঠিয়ে নিলে হেলে-দুলে ওঠে ন্যায়নীতি। ক্ষমতায় থেকেও শক্তি হারিয়ে ফেললে জন্ম নেবে অপশক্তি। অতএব শক্ত হতে হবে। শক্ত হোন।

আকতার হোসেনলেখক

৭৭ Responses -- “ভাস্কর্য কেন সরাতে হবে?”

  1. সোহাগ

    এরপর যখন তাঁর উপর নির্দেশ এল, (সূরা ২ / ১৪২-১৪৪) তিনি কেবলা ঘুরিয়ে মক্কায় অবস্থিত কাবা ঘরের দিকে মুখ করে নামাজ পড়তে শুরু করলেন। বাস্তবতা হল, তখনো কিন্তু কাবা ঘরের মধ্যে চন্দ্র দেবতা হুবালসহ ৩৬০টি মূর্তি ছিল। মূর্তি থাকা অবস্থায় কেবলা কাবামুখী হয়েছিল এবং মক্কা বিজয়ের আগ পর্যন্ত প্রায় আট বছরেরও অধিক সময় মূর্তিসহ কাবামুখী হয়ে নামাজ পড়েছেন নবীর নেতৃত্বে সে সময়কার মুমিনেরা।

    ভাই ইসলামের সব বিধান কিন্তু একদিনে আল্লাহ্ নাযিল করেননি তাই এক সময় পর্দা ছাড়াই মহিলারা নামাজ পড়তেন। কিন্তু পরে যখন পর্দার বিধান নাযিল হয় তখন পর্দা করে মহিলারা নামাজ পড়েন। So, this way we understand which is final revelation and which is yet permissible. May Allah guide you to real Islam and to us also.

    Reply
  2. সত্য পৃকাশ

    ভাস্কর্যটিতে কি আছে…সেটি নিয়ে কেন ভাবা হচ্ছে না…গ্রীক দেবীর মূর্তী/ভাস্কর্য না রেখে দূর্গা দেবীর মূর্তী/ভাস্কর্য রাখলেও আমাদের সাংস্কৃতীর সাথে ‍মিল থাকত ।

    Reply
  3. মোঃ আব্দুল মতিন মিঞা

    সরকারী ভাবে কোন মূর্তি সংরক্ষন করতে চাইলে, তা নির্দিষ্ট জায়গায় / যাদু ঘরে রাখা যেতে পারে । সরকারী তথা জনগনের সম্পত্তির উপর যে কোন মুর্তি রাখলে, জনগন তা মেনে নাও নিতে পারে । অর্ধ গ্রীক ও অর্ধ বাংলা মুর্তিটা ওখানে রাখার প্রয়োজনটাই কী ? যা সরানোর কারণে এত হৈ চৈ ।

    Reply
  4. খুরশীদ

    বাংলাদেশে অনেক ভাষ্কর্য আছে। কেউ কম দেখেছেন, কেউ বেশি দেখেছে কেউবা আবার দেখেননি। মন্দিরের বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি দেখেছি, পুজা করতেও দেখেছি, কিন্তু মুসলমান হিসাবে আমার মনে কখনো কোন বিরূপ চিন্তা আসেনি। পত্রিকার পাতায়, বিভিন্ন মানুষের কাছে শোনা, যার কিছু কিছু দেখা – বলা যেতে পারে, অনেকের নাকি রাস্তা ঘাটে মেয়ে বা মহিলা দেখলেই শরীর গরম হয়। আমি গ্রামের ছেলে, শিশুকাল থেকেতো বটেই যৌবন কালেও গ্রামের বহু মেয়েকে শুধু এক প্যাচে শাড়ী পড়া অবস্থায় দেখেছি, শায়া ব্লাউজ ছাড়াই, পুকুর বা নদী থেকে ভেজা কাপড়ে গোসল করতে দেখেছি। কিন্তু আমি হলপ করে বলতে পারি আমার মনে কখনো কোন কু-মনোভাব জন্মায়নি। আমার বাবা-মা কি নৈতিকতা শিক্ষা দেয়নি আমাকে? আমার ধর্ম কি বলেনি দৃষ্টি নত রাখতে? রোজ কিয়মতের ময়দানে আমার হয়ে কি অন্য কেউ সাক্ষ্য দিয়ে পুলসেরাতে পুল পার করিয়ে বেহেশতে পাঠাবেন? আসলে আমার নিয়ত কি সেটাই বড়ো প্রশ্ন। বাকীসব ধান্ধাবাজী, অন্যের ঈমান নষ্ট করার পায়তারা মাত্র। সেদিন দেখলাম মালয়েশিয়ার একজন মন্ত্রী বলেছেন – ‘আমরা কেবল হালাল খাদ্য খুঁজি। কিন্তু যে অর্থে হালাল দব্য কেনা হচ্ছে সেই অর্থ হালাল কিনা তা কেউ দেখছেনা।’ ছোট্ট এই কথাটি অনুধাবন করতে পারলেই সব বিতর্কে অবসান হয়ে যেতো। কোরানের একটা আয়াতের উদ্ধিৃতি দিচ্ছি যদিও আয়াতের সংখ্যাটা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। – সুরা বাকারাতে আছে – যে ব্যক্তি ইমান আনে, যে ব্যক্তি সৎ কর্ম করে, যে ব্যক্তি সালাত কায়েম করে এবং যে ব্যক্তি যাকাত দেয়, আল্লাহ্ তার সহায় হন। – আমি অন্য কিছুই ভাবিনা, ভাবি কেবল আমার কর্মফলের কথা, তার পরিনতির কথা। ধন্যবাদ সবােইকে।

    Reply
  5. AZM

    সংক্ষেপে মূর্তির ইতিহাসের সারমর্ম।

    হযরত নুহ আঃ এর ইন্তেকালের পর , যেসব বড়ো আলেম ওলামারা ছিলেন তারা কিছুদিনের ব্যাবধানে সবাই মারা গেলেন । তখন ইবলিস নুহ আঃ এর জাতীকে ধোঁকা দেওয়া শুরু করলেন এই বলে যে , তোমাদের মধ্যে থেকে বড়ো আলেম ওলামারা সবাই মৃত্যু বরন করলেন এটা ভাল ব্যাপার না । তাই তোমরা তাদের প্রতিক্রিতি তৈরি কর , শধু এতটুকুই করলে হবে । নুহ আঃ এর জাতীরা তাই করলেন।
    এখানে একটা জিনিস চিন্তা করুন ইবলিস কিন্তু মূর্তি পুজা করতে বলেনি , তাদের কাছে যেতা বলেনি বা তাদের কাছে কিছু চায়তে বলেনি ।
    কিন্তু পরের প্রজন্মদের ইবলিস ধোঁকা দিল এই বলে যে, তোমাদের পূর্ব পুরুষেরা এই মুরতিগুলোর সামনে বসেথকতেন, তাদের যত্ন নিতেন কিন্তু তোমরা তা করনা , এটা ভাল ব্যাপারটা না , বাস শুর হলো মূর্তির যত্ন নেওয়া তাদের কাছে যাতায়াত করা ।
    এখানে একটা জিনিস চিন্তা করুন ইবলিস কিন্তু মূর্তি পুজা করতে বলেনি , তাদের কাছে কিছু চায়তে বলেনি ।
    কিন্তু পরের প্রজন্মদের ইবলিস ধোঁকা দিল এই বলে যে, তোমাদের পূর্ব পুরুষেরা এই মুরতিগুলোর সামনে বসেথকতেন, তাদের কাছে নিজেদের সুখ, দুঃখ প্রকাশ করত কিন্তু তোমরা তা করনা , এটা ভাল ব্যাপারটা না , বাস শুর হলো মূর্তির সামনে বসে থাকা , তাদের সামনে নিজেদের দুঃখ প্রকাশ করা।
    এখানে একটা জিনিস চিন্তা করুন ইবলিস কিন্তু মূর্তি পুজা করতে বলেনি , তাদের কাছে কিছু চায়তে বলেনি ।
    কিন্তু পরের প্রজন্মদের ইবলিস ধোঁকা দিল এই বলে যে, তোমাদের পূর্ব পুরুষেরা এই মুরতিগুলোর কাছে নিজেদের ইচ্ছা প্রকাশ করতেন, তাদের কাছে চায়তেন এবং তারা সফলকাম হত, কিন্তু তোমরা তা করনা , এটা ভাল ব্যাপারটা না , বাস শুর হলো মূর্তির পূজা করা । তারা আল্লাহর একত্ববাদ ভুলে, আল্লাহ সাথে শরিক করে বসলো । আর এটাই হলো ইবলিসের মুল উদ্দেশ্য মানুষকে দিয়ে শিরক করানো । কারন যে শিরক করে সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী । ইবলিস চায় মানুষ চিরস্থায়ী জাহান্নামী হোক ।
    পর্যায়ক্রমে দুনিয়া শিরকের ঘোর অন্ধকারে প্রবেশ করলো , চারিদিকে মূর্তির ছড়া ছড়ি ………………
    আমাদের অনেকেরই জানা , পরবর্তীতে সাইয়্যেদেনা ইব্রাহীম আঃ শিরকের মুল উতপাটন করেন , তার আয়েত্তে থাকা সমস্ত মূর্তি তিনি ভেঙ্গে ফেলেন ।
    হযরত ইব্রাহীম, হাজেরা ও ইসমাইল আঃ পুনরায় মক্কা নগরি আবাদ করলেন , পুন প্রতিষ্ঠিত হল কা’বা শরিফ । চলতে থাকে আল্লাহর একত্ববাদ , ইয়ামেনের বনু জুরহাম গত্র আসে মক্কা নগরিতে তারা মক্কাতে থাকার অনুমতি চায়লে , জমজম ও কা’বার নিয়ন্ত্রন নবীর গত্ররের হাতে রেখে তাদের থাকার অনুমতি দেওয়া হয় । চলতে থাকে আরবে বনী ইসমাইল গত্রের শাসন তারা শিরক মুক্ত ,মূর্তি মুক্ত । তারা আল্লাহর একত্ববাদ মেনে আল্লাহর গোলামী করে ।
    কালের পর্যায়ক্রমে প্রায় ২১০০ বছর পর বনু খোঁজা গত্র মাক্কার নিয়ন্ত্রন নেয় , কিন্তু তারাও দিনে ইব্রাহীম অর্থাৎ ইসলাম পালন করতেন তখন তাদের মধ্যে যালেমি , ফাসেকি , নেফাকি ও শিরক প্রবেশ করতে থাকে । তাদের মধ্যে এক জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিত্ত ছিলেন যার কথামত চলত সমাজ, প্রায় অনেকেই তার আনুগত্য মেনে নিয়েছিলেন । যার নাম ছিল আমার বিন লোহাই আল –খুজাই । এই আমার বিন লোহাই আল –খুজাই একদা শাম তথা সিরিয়া সফরে যান , সেখানে বসবাস ছিল সাইয়্যেদেনা ইব্রাহীম আঃ এর দ্বিতীয় পুত্র হযরত ইসহাক আঃ এর বংশধর বনী ইসহাক বা বনী ইসরাইলের। আমরা জানি হযরত ইসমাইল আঃ এর বংশে শুধু একজন নবী আর তিনি হলেন আমাদের শেষ নবী সাইয়্যেদেনা মুহাম্মাদ সাঃ পক্ষান্তরে হযরত ইসহাক আঃ এর বংশে একাধিক নবী প্রেরন করা হয় যেমন হযরত ইয়াকুব আঃ, ইউশুফ আঃ, মুসা আঃ,হারুন আঃ, ইউসা ইবনে নুন আঃ, শুয়াইব আঃ, দাউদ আঃ, সুলাইমান আঃ, ইমরান আঃ, যাকারিয়া আঃ, ইহহিয়া আঃ, ঈশা আঃ আরো অনেকে । যাই হোক মুল কথায় আসা যাক আমার বিন লোহাই আল –খুজাই সিরিয়া গিয়ে দেখল বনী ইসরাইলীরা মূর্তিপূজা করছে , সে ভাবলো শামেতো অনেক নবী রসুল এসেছে তাই এরা যা করছে তাই ঠিক । তাই সে শাম থেকে হাবল নামে একটা মূর্তি নিয়ে আসলো মক্কায় এবং কা’বা ঘরে স্থাপন করলো , শুরু হলও মূর্তি পূজা …………….. ইবিলিস আমর বিন লোহাই আল-খুজাই কে পরামর্শ দিল জেদ্দায় মাটির নিজে কিছু মূর্তি আছে সে গুল নিয়ে আস্তে , এই মূর্তি গুলো সেই মূর্তি যে গুলো নুহ আঃ এর জাতীরা তৈরি করেছিল যাদের নাম ছিল (মনে হয় উত,সুয়া,লুজ্জা) এরা আসলে আল্লাহ ওয়ালা লোক ছিল যা পূর্বেই বলা হয়েছে । একে একে কা’বা ঘরে ৩৬০ টি মূর্তি স্থান পায় ।
    সংক্ষেপে এই হলো মূর্তির ইতিহাসের সারমর্ম।
    এখন নিজেরাই নিজেদের বিবেক দিয়ে চিন্তা করুন কেন মূর্তির ছড়া ছড়ি ……………………..?

    Reply
  6. azadur

    মুস‌লিম প্রধান দে‌শে ন্যায়‌বিচা‌রের প্রতীক গ্রীক মূর্ত‌ি হতে পা‌রে না। মূ‌র্তি ম‌ন্দি‌রে থাক‌বে, কেউ কিছু বল‌বে না। ভার‌তের অ‌নেক প্র‌দেশ‌ে কিন্তু প্রকা‌শ্যে গরু জবাই নি‌ষিদ্ধ, এমন‌কি বিক্রয় ও প‌রিবহনও নি‌ষিদ্ধ। অামরা দে‌খে‌ছি এ ঘটনায় সম্প্র‌তি অ‌নেক মুস‌লিম‌কে হত্যা করা হ‌য়ে‌ছে। বর্তমানে নাস্তিক্যবাদী বামদের সাথে পাকিস্তানী শাসকদের স্বভাব একেবারে মিলে যায়। মুক্তিযুদ্ধ ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য নয় বরং ইনসাফ কায়েমের জন্য হয়েছিলো। বর্তমানের নাস্তিকরা নিজেদের স্বার্থ আদায়ের জন্য প্রচার করে মুক্তিযোদ্ধারা ধর্মনিরপেক্ষতা চেয়েছিলো, আর ঐ সময় পাকিস্তানী শাসকরা নিজেদের স্বার্থ আদায়ের জন্য প্রচার করতো বাংলাদেশের মুসলমানরা নাস্তিক/ হিন্দু হয়ে গেছে। অর্থাৎ বর্তমান নাস্তিক-বামপন্থিরা এবং অতীতের যুলুমবাজ পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী একই পথের পথিক ও মুক্তিযুদ্ধের উপর অপবাদ লেপনকারী।

    Reply
  7. masud

    বাংলাদেশের তথা বিশ্বের কোন মুসলিম, কোন বিধর্মির ধর্ম পালনে বাধা দেয় না।
    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তো কোন মন্দিরের মুর্তি অপসারণ করতে বলেননি। কোন মুসলমান তো পুজা বন্ধ করার জন্য আন্দোলন করেননি।।।। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এক ভিনদশী মুর্তি সরাতে বলেছেন।
    হিন্দূু ধর্মাবল্মিরাও তাদের মুর্তি মন্দিরে রাখেন।।

    Reply
  8. হাছান

    ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে কোনো কার্যক্রম নেই, অথচ ইসলামি ধর্মীয় ভাবনা প্রসারে চলছে সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ। বেক্কেল…………

    Reply
  9. Mahboob Moni

    মূরতি তৈরি করবে যে তার ব্যাপারে জাহাননামকে আগেই হুকুম দেয়া থাকবে। আগেই অনুমতি পাওয়া জাহাননাম বিনা জিগগাসায় সরাসরি তাদের গিলে নেবে। দুনিয়ার বড় বড় পনডিতরা এমন কথা বলে যেন ওরা ইসলাম ওরা বানায়। মুসলিম অবশ্যই মূরতির বিরুদধে কঠোর হবে। মুরতির পক্ষে যারা বলে তারা কোনভাবেই মুসলিম হতে পারেনা।

    Reply
  10. Akbar Hussain

    এই শতাব্দীতে বসে ‘ওহি”র পাণ্ডিত্যপূর্ণ ব্যাখ্যা পড়ে বেশ লাগল। ১৫০০ বছর পরও ইসলাম এমনই নাজুক স্থানে যে কোন সমালোচনা, উক্তি, মূর্তি অথবা ভাস্কর্য এর ভিত্তিমূলকে কাঁপিয়ে দেয়। এই দেড় হাজার পরও ইমানের এই দুর্বলতার কারণ কি? এক নির্বাক প্রস্তর ভাস্কর্য কোটি কোটি মুসলমানের অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে তুলেছে।

    Reply
  11. Rakib Khan

    বাংলাভাষী বা বাঙালি হিসাবে নিজের ইতিহাস বুঝতে গিয়ে বাংলাদেশের জনগণ একবার আরব ইতিহাস আরেকবার বর্ণহিন্দুর ইতিহাসের মধ্যে খাবি খেয়েছে। নিজেদের লড়াই সংগ্রামে নিজেদের আবিষ্কার করার চেষ্টা না করে বেপথু হয়েছে বারবার। বাংলা ভাষার প্রতি বাংলাদেশের জনগণের অচ্ছেদ্য সম্পর্ক, বাংলার বিচিত্র ও বিভিন্ন লোকাচার ধর্ম সংস্কৃতি এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক জনগোষ্ঠি হিসাবে বাংলাদেশের আবির্ভাবের তাৎপর্য বোঝার পথ ও পদ্ধতি নির্ণয়ের সাধনা নাই বললেই চলে। মনে হয়, এই পর্ব দ্রুত শেষ হতে চলেছে। এর প্রধান কারন হচ্ছে ‘বাঙালি’ জাতিবাদের প্রবল ও প্রকট উত্থানের কারনে আমাদের বোঝানো হয়েছিল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ছিল ভাষা ও সংস্কৃতির অগ্রাধিকার কায়েমের যুদ্ধ, ধর্মকে প্রাইভেট কিম্বা সমাজ ও ইতিহাসের গৌণ বিষয়ে পরিণত করার লড়াই। উগ্র বাঙালি জাতিবাদীরা বিভিন্ন ভাবে দাবি করেছে একাত্তরে ইসলাম পরাজিত হয়েছে। জয় হয়েছে ‘বাঙালি’র। এই ‘বাঙালি’র সংজ্ঞায় মুসলমান নাই। ইসলাম অনুপস্থিত। বর্ণহিন্দু যেভাবে ঔপনিবেশিক কালপর্বে যবনদের বিপরীতে নিজের হিন্দু জাতিবাদী পরিচয় নির্ণয় করেছে তাকেই সার্বজনীন বাঙালির পরিচিয় হিসাবে হিন্দু জাতিবাদীরা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যার গুরুত্বপূর্ণ নজির। এই ‘বাঙালি’ মূলত বর্ণহিন্দুর প্রকল্প। বর্ণহিন্দুর প্রকল্প হিসাবে আগামি দিনে বাংলাদেশে ইসলাম নির্মূলই ‘বাঙালি’র আত্মপ্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ– বাঙালির একমাত্র রাজনীতি হিসাবে এটাই প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলেছে। এই রাজনীতির কদর্য রূপ গত চার দশকের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের জনগনের কাছে স্পষ্ট।

    Reply
  12. shahriaf

    হিন্দু ধর্মাবল্বীদের দেবতাদের পথিকৃতি যেখানে থাকে তাকে আমরা সবাই মন্দির বলি সেখানে তারা দেবতাদের উপাসনা করে , খ্রীস্ট ধর্মাবল্বীদের যীশুর পথিকৃতি যেখানে থাকে তাকে আমাদের দেশে গির্জা বলি সেখানে তারা উপাসনা করে। আর গ্রীক দেবী যেখানে থাকে তা নিশ্চই গ্রীকদের উপাসনা কেন্দ্র । আপনি তো সম্ভবত এটাও জানেন যে কাবায় যখন মূর্তি ছিলো তখন যুগটা ছিলো আইয়্যামে জাহেলিয়াত, যে যুগ পৃথিবীতে আর কখনোই আসবে না । তখন কাবায় মূর্তি ছিলো তাই এখনো যেখানে ইচ্ছা সেখানে মূর্তি স্থাপন করলে বাধা দেয়া যাবে না এসব যুক্তি দেয়া মানে তো ” চলো আবার জাহেলিয়াত যুগে ” । ইসলামের সব জেনে পরে আগ বাড়ানো বা পান্ডিত্য করা উচিৎ , আমার বিশ্বাস এই দেশের ইসলামি আলেমরা ইসলামের দিক দিয়ে অন্তত এদেশের সুশীলদের চেয়ে একটু বেশিই জানেন। আর মনে রাখা উচিত এ দেশ শুধু সুশীলদের না। তারা চাইবে মূর্তি বসাতে আর কেউ তাতে কিচ্ছু বলতে পারবে না তা হতে পারে না ।

    Reply
    • Akbar Hussain

      এখন সব সুস্থ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ এক বাক্যে স্বীকার করেন যে ইসলাম আবার আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে ফিরে গেছে।

      Reply
      • DN

        @Akbar Hussain,
        Islam stands on its own standard… unfortunately most of the muslims are not following islamic guidelines…. that can not be the failure of Islam. You can not blame a University if some of its students are failing due to their carelessness or other reasons, can you?

  13. Md.Abdul motin

    মো:আব্দুল মতিন

    ধর্ম কাকে বলে, তা আগে জানুন।ইসলাম ধর্ম কি এতই সস্তা যে, ধর্মজ্ঞানহীন ব্যক্তির কাছ থেকে ইসলাম শিখতে হবে!!!
    বাংলাদেশের তথা বিশ্বের কোন মুসলিম, কোন বিধর্মির ধর্ম পালনে বাধা দেয় না।
    মাননীয় প্রধান মন্ত্রী তো কোন মন্দিরের মুর্তি অপসারণ করতে বলেন নি। কোন মুসলমান তো পুজা বন্ধ করার জন্য আন্দোলন করেন নি।।।। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, এক ভিনদশী মুর্তি সরাতে বলেছেন।
    হিন্দূু ধর্মাবল্মিরাও তাদের মুর্তি মন্দিরে রাখেন।।

    Reply
  14. R. Masud

    I had asked to mr AZM to refer the notes where our prophet Mohd(sa) said or almighty Allah mentioned in the Holy Quran that “Hadith” is also “Revealed” .
    But Mr. AZM’s answer is “মাওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম ” said or explained….. !! how silly and ridiculus.
    Isn’t it to put মাওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম in the same level of Our prophet by Mr. AZM ? ( naujubillah)

    Reply
    • AZM

      ভাই এই গুলান কি আপনার চোখে পড়েনি । আপনাকে কিছু বইয়ের নাম বলেছি যদি আপনি আসলেই যান্তে চান তাহলে এইগুলান পড়ুন । আর যদি হটকারিতা করতে চান তাহলে ,………….. যেনে রাখেন আল্লাহ তালা যালেমদের হেদায়েত দান করেন না ।
      আল্লাহ তা’আলা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) -এর নিকট যে ওহী পাঠাতেন তা ছিল দু প্রকারের।

      প্রথম প্রকার ওহী কুরআন, যা তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠানো শব্দ ও অর্থসহ আক্ষরিকভাবে মুখস্থ করতেন, সাহাবীদেরকে মুখস্থ করাতেন এবং লিখাতেন।

      দ্বিতীয় প্রকার ওহীর মূল অর্থ, ‘জ্ঞান’ বা ‘প্রজ্ঞা’ আল্লাহ তাঁর উপর নাযিল করতেন। তিনি নিজের ভাষায় তা সাহাবীদেরকে বলতেন, শিক্ষা দিতেন, মুখস্থ করাতেন এবং কখনো কখনো লিখাতেন।

      কুরআন কারীমে বিভিন্ন স্থানে প্রথম প্রকার ওহীকে ‘কিতাব’ বা গ্রন্থ এবং দ্বিতীয় প্রকার ওহীকে ‘হিকমাহ’ বা প্রজ্ঞা বলে অভিহিত করা হয়েছে। একস্থানে মহান আল্লাহ বলেন:
      لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آَيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مُبِينٍ
      “আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অবশ্য অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের নিজেদের মধ্য থেকে তাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাঁর আয়াত তাদের নিকট আবৃত্তি করেন, তাদেরকে পরিশোধন করেন এবং কিতাব ও হিকমাহ তাদেরকে শিক্ষা দেন, যদিও তারা পূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যেই ছিল।”
      ( সূরা (৩) আল-ইমরান: ১৬৪ আয়াত। আরো দেখুন: সূরা বাকারা: ১২৯, ১৫১, ২৩১ আয়াত; সূরা নিসা: ১১৩ আয়াত; সূরা আহযাব ৩৪ আয়াত; সূরা জুমুআহ ২ আয়াত)

      এই দ্বিতীয় প্রকারের ওহী ‘হাদীস’ বা ‘সুন্নাত’ নামে পৃথক ভাবে সংকলিত ও সংরক্ষিত হয়েছেআমরা জানি কোরআনের পরই হাদীসের স্থান।আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন-“হে নবী ! আল্লাহ তোমার প্রতি কিতাব ও হিকমত নাযিল করেছেন এবং তুমি যা জানতে না তা তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন।

      এই আয়াতে উল্লেখিত আল-কিতাব অর্থ কোরআন মজীদ এবং হিকমত অর্থ সুন্নাত বা হাদীসে রাসূল(এবং এ উভয় জিনিসই আল্লহর নিকট হতে আল্লাহ কর্তৃক অবতীর্ণ।”)

      Reply
    • AZM

      সুরা নিসা ১১৩
      وَلَوْلاَ فَضْلُ اللّهِ عَلَيْكَ وَرَحْمَتُهُ لَهَمَّت طَّآئِفَةٌ مُّنْهُمْ أَن يُضِلُّوكَ وَمَا يُضِلُّونَ إِلاُّ أَنفُسَهُمْ وَمَا يَضُرُّونَكَ مِن شَيْءٍ وَأَنزَلَ اللّهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ وَكَانَ فَضْلُ اللّهِ عَلَيْكَ عَظِيمًا

      113
      যদি আপনার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণা না হত, তবে তাদের একদল আপনাকে পথভ্রষ্ট করার সংকল্প করেই ফেলেছিল। তারা পথভ্রান্ত করতে পারে না কিন্তু নিজেদেরকেই এবং আপনার কোন অনিষ্ট করতে পারে না। আল্লাহ আপনার প্রতি ঐশী গ্রন্থ ও প্রজ্ঞা অবতীর্ণ করেছেন এবং আপনাকে এমন বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন, যা আপনি জানতেন না। আপনার প্রতি আল্লাহর করুণা অসীম।

      Reply
    • AZM

      رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولاً مِّنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنتَ العَزِيزُ الحَكِيمُ

      সুরা বাকারাহ 129
      হে পরওয়ারদেগার! তাদের মধ্যে থেকেই তাদের নিকট একজন পয়গম্বর প্রেরণ করুণ যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করবেন, তাদেরকে কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দিবেন। এবং তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয় তুমিই পরাক্রমশালী হেকমতওয়ালা

      Reply
  15. M K Alam

    The write up goes with logical analysis. What Ayaat signifies, possibly many of us do not know all about ! As supplement , the readers may read the Book ” The Spirit of Islam” written by Sir Syed Ameer Ali ( Barrister , Chief Justice, Professor of Law, )

    Reply
  16. এম হোসেন

    ছবি, মূর্তির মাধ্যমে সর্বপ্রথম পৃথিবীতে শিরকের সূচনা হয়। আল্লাহ সুরা নূহ এ তা উল্লেখ করেছেন। সুরা ইবরাহিম এ ইবরাহিম আ: যে মূর্তি ভেঙ্গেছিলেন তা বলেছেন।
    নূহ আ: থেকে শুরু করে এই প্যাগানিজম জাহিলিয়ত পর্যন্ত চলে আসছিলো। রাসূল সা: মুর্তির মধ্যে বেড়ে ওঠেছিল লেখক বলেছেন ঠিক। কিন্তু নবুওয়াত পাওয়ার পর মূর্তির বিরুদ্ধে ছিলেন। তখন মুর্তি ভাঙ্গেন নি কারন তখন ছিল ইসলামের প্রারম্ভ, প্যাগান রা ছিল অনেক শক্তিশালী। পরবর্তীতে মক্কা বিজয়ের পর তিনি সব মূর্তি ভেঙ্গেছিলেন। আপনি বলেছেন: ”কাবা ঘরের মূর্তি মক্কা বিজয়ের পর ভাঙা হলেও পৃথিবীর সব মূর্তি ভাঙতে বলেননি হযরত মোহাম্মদ (সা:)”। রাসুল সা: সব মুর্তিকেই ভেঙ্গে ফেলতে বলছিলেন: হযরত আমর ইবনে আবাসা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন ‘আল্লাহ তাআলা আমাকে প্রেরণ করেছেন আত্মীয়তার সর্ম্পক বজায় রাখার, মূর্তিসমূহ ভেঙ্গে ফেলার, এবং এক আল্লাহর ইবাদত করার ও তাঁর সঙ্গে অন্য কোনো কিছুকে শরীক না করার বিধান দিয়ে। -সহীহ মুসলিম হা. ৮৩২; আলী ইবনে আবী তালেব রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি জানাযায় উপস্থিত ছিলেন। তখন তিনি বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে কে আছে, যে মদীনায় যাবে এবং যেখানেই কোনো প্রাণীর মূর্তি পাবে তা ভেঙ্গে ফেলবে, যেখানেই কোনো সমাধি-সৌধ পাবে তা ভূমিসাৎ করে দিবে এবং যেখানেই কোনো চিত্র পাবে তা মুছে দিবে?’ আলী রা. এই দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত হলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে কেউ পুনরায় উপরোক্ত কোনো কিছু তৈরী করতে প্রবৃত্ত হবে সে মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি নাযিলকৃত দ্বীনকে অস্বীকারকারী।’ -মুসনাদে আহমাদ হা. ৬৫৭।অর্থাৎ তখন ইসলাম ছিলো বড়ই শক্তিশালী। বিস্তারিত জানার জন্য আপনাকে অনুরোধ করব ড: আসাদুল্লাহ আল গালিবের ‘ছবি ও মূর্তি’ বই টা পড়ার জন্য।

    Reply
  17. মারুফ

    কোন একটি অঞ্চলে মূর্তি অপসারন, ভাঙ্গা ইত্যাদির দায়িত্ব সেই দেশের মুসলিম সরকারের। অর্থাৎ মূর্তি অপসারন, ভাঙ্গতে হবে এমন একটি অবস্থায় যাতে এই অপরাধে তাকে (যে ভাঙ্গছে) যেন কাঠগড়ায় না দাড়াতে হয়। ইসলাম পরিপূর্ণ কয়েম হলেই মূর্তি অপসারন, ভাঙ্গা যাবে। তবে অমুসলিমদের জোর করে ধর্মান্তরিত, তাদের পূজা অর্চনার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। অতএব, এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সরকার নিবে। সরকার তো আর সবাইকে কোন দেবত্বের পুজা করতে বলছে না। আর এত খরচ করে মেহনত করে ভাস্কর্য বানানো কতটা যুক্তিযুক্ত? উন্নয়নশীল একটি দেশে যেখানে অধিকাংশ মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে সেখানে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে অযথা ছবি, মূর্তি, ভাস্কর্য স্থাপন করে আসলে বা কি লাভ?
    ছবি, মূর্তির মাধ্যমে সর্বপ্রথম পৃথিবীতে শিরকের সূচনা হয়। আল্লাহ সুরা নূহ এ তা উল্লেখ করেছেন। সুরা ইবরাহিম এ ইবরাহিম আ: যে মূর্তি ভেঙ্গেছিলেন তা বলেছেন।
    নূহ আ: থেকে শুরু করে এই প্যাগানিজম জাহিলিয়ত পর্যন্ত চলে আসছিলো। রাসূল সা: মুর্তির মধ্যে বেড়ে ওঠেছিল লেখক বলেছেন ঠিক। কিন্তু নবুওয়াত পাওয়ার পর মূর্তির বিরুদ্ধে ছিলেন। তখন মুর্তি ভাঙ্গেন নি কারন তখন ছিল ইসলামের প্রারম্ভ, প্যাগান রা ছিল অনেক শক্তিশালী। পরবর্তীতে মক্কা বিজয়ের পর তিনি সব মূর্তি ভেঙ্গেছিলেন। আপনি বলেছেন: ”কাবা ঘরের মূর্তি মক্কা বিজয়ের পর ভাঙা হলেও পৃথিবীর সব মূর্তি ভাঙতে বলেননি হযরত মোহাম্মদ (সা:)”। রাসুল সা: সব মুর্তিকেই ভেঙ্গে ফেলতে বলছিলেন: হযরত আমর ইবনে আবাসা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন ‘আল্লাহ তাআলা আমাকে প্রেরণ করেছেন আত্মীয়তার সর্ম্পক বজায় রাখার, মূর্তিসমূহ ভেঙ্গে ফেলার, এবং এক আল্লাহর ইবাদত করার ও তাঁর সঙ্গে অন্য কোনো কিছুকে শরীক না করার বিধান দিয়ে। -সহীহ মুসলিম হা. ৮৩২; আলী ইবনে আবী তালেব রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি জানাযায় উপস্থিত ছিলেন। তখন তিনি বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে কে আছে, যে মদীনায় যাবে এবং যেখানেই কোনো প্রাণীর মূর্তি পাবে তা ভেঙ্গে ফেলবে, যেখানেই কোনো সমাধি-সৌধ পাবে তা ভূমিসাৎ করে দিবে এবং যেখানেই কোনো চিত্র পাবে তা মুছে দিবে?’ আলী রা. এই দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত হলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে কেউ পুনরায় উপরোক্ত কোনো কিছু তৈরী করতে প্রবৃত্ত হবে সে মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি নাযিলকৃত দ্বীনকে অস্বীকারকারী।’ -মুসনাদে আহমাদ হা. ৬৫৭।অর্থাৎ তখন ইসলাম ছিলো বড়ই শক্তিশালী। বিস্তারিত জানার জন্য আপনাকে অনুরোধ করব ড: আসাদুল্লাহ আল গালিবের ‘ছবি ও মূর্তি’ বই টা পড়ার জন্য।

    Reply
  18. মারুফ

    ভাই আক্তার হোসেন
    কোন একটি অঞ্চলে মূর্তি অপসারন, ভাঙ্গা ইত্যাদির দায়িত্ব সেই দেশের মুসলিম সরকারের। অর্থাৎ মূর্তি অপসারন, ভাঙ্গতে হবে এমন একটি অবস্থায় যাতে এই অপরাধে তাকে (যে ভাঙ্গছে) যেন কাঠগড়ায় না দাড়াতে হয়। ইসলাম পরিপূর্ণ কয়েম হলেই মূর্তি অপসারন, ভাঙ্গা যাবে। তবে অমুসলিমদের জোর করে ধর্মান্তরিত, তাদের পূজা অর্চনার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। অতএব, এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সরকার নিবে। সরকার তো আর সবাইকে কোন দেবত্বের পুজা করতে বলছে না। আর এত খরচ করে মেহনত করে ভাস্কর্য বানানো কতটা যুক্তিযুক্ত? উন্নয়নশীল একটি দেশে যেখানে অধিকাংশ মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে সেখানে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে অযথা ছবি, মূর্তি, ভাস্কর্য স্থাপন করে আসলে বা কি লাভ?
    ছবি, মূর্তির মাধ্যমে সর্বপ্রথম পৃথিবীতে শিরকের সূচনা হয়। আল্লাহ সুরা নূহ এ তা উল্লেখ করেছেন। সুরা ইবরাহিম এ ইবরাহিম আ: যে মূর্তি ভেঙ্গেছিলেন তা বলেছেন।
    নূহ আ: থেকে শুরু করে এই প্যাগানিজম জাহিলিয়ত পর্যন্ত চলে আসছিলো। রাসূল সা: মুর্তির মধ্যে বেড়ে ওঠেছিল লেখক বলেছেন ঠিক। কিন্তু নবুওয়াত পাওয়ার পর মূর্তির বিরুদ্ধে ছিলেন। তখন মুর্তি ভাঙ্গেন নি কারন তখন ছিল ইসলামের প্রারম্ভ, প্যাগান রা ছিল অনেক শক্তিশালী। পরবর্তীতে মক্কা বিজয়ের পর তিনি সব মূর্তি ভেঙ্গেছিলেন। আপনি বলেছেন: ”কাবা ঘরের মূর্তি মক্কা বিজয়ের পর ভাঙা হলেও পৃথিবীর সব মূর্তি ভাঙতে বলেননি হযরত মোহাম্মদ (সা:)”। রাসুল সা: সব মুর্তিকেই ভেঙ্গে ফেলতে বলছিলেন: হযরত আমর ইবনে আবাসা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন ‘আল্লাহ তাআলা আমাকে প্রেরণ করেছেন আত্মীয়তার সর্ম্পক বজায় রাখার, মূর্তিসমূহ ভেঙ্গে ফেলার, এবং এক আল্লাহর ইবাদত করার ও তাঁর সঙ্গে অন্য কোনো কিছুকে শরীক না করার বিধান দিয়ে। -সহীহ মুসলিম হা. ৮৩২; আলী ইবনে আবী তালেব রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি জানাযায় উপস্থিত ছিলেন। তখন তিনি বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে কে আছে, যে মদীনায় যাবে এবং যেখানেই কোনো প্রাণীর মূর্তি পাবে তা ভেঙ্গে ফেলবে, যেখানেই কোনো সমাধি-সৌধ পাবে তা ভূমিসাৎ করে দিবে এবং যেখানেই কোনো চিত্র পাবে তা মুছে দিবে?’ আলী রা. এই দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত হলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে কেউ পুনরায় উপরোক্ত কোনো কিছু তৈরী করতে প্রবৃত্ত হবে সে মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি নাযিলকৃত দ্বীনকে অস্বীকারকারী।’ -মুসনাদে আহমাদ হা. ৬৫৭।অর্থাৎ তখন ইসলাম ছিলো বড়ই শক্তিশালী। বিস্তারিত জানার জন্য আপনাকে অনুরোধ করব ড: আসাদুল্লাহ আল গালিবের ‘ছবি ও মূর্তি’ বই টা পড়ার জন্য।

    Reply
  19. harun

    মূল হল যে যেখানে আছে সে মনে করে তারটাই ঠিক। আসলে কেউ ঠিকমত পড়াশোনা করে না বা কথা লুকাতে চায়

    Reply
  20. R. Masud

    When I’m praying from Bangladesh faced towards the Kaba, there will be lots of good places ( mosjid, madrasha etc) in-between Bangladesh and Kaba; at the same time there are very many un-islamic places, such as, Prostitiute, Hindu& Christian, Jews-Wash Rooms, Hindu Mondhir, Chruch, Pig growing and pig slauting field & factory etc exits. Are these need to be removed?
    Definitely, all the debater will together screamed and argued that mind is with Allah and at Kaba (when we are praying) thus this can’t be a factor.
    Then how a Statue infront of the court can disturb the Eidgah and the praying over there?
    I guess, the so called muslims who are against this statue are soiling their underwear by seeing the nice body proportion of the statue when coverd with Saree…
    Allah is laughing by seeing his Bandha !!

    Reply
    • AZM

      Who said you during praying remove such places between faced toward Kaba and Mosque . This is your opinion .
      Are there some person ? Who said to remove the statue of Hindu from Mondir, or Church or Pagoda. no one said that. We don’t said that the statue if Themes remove from Urop ,America etc. because that’s their culture ,not ours . They keep statue at Mondir, Church or Pagoda for worship are you ? Why the Greek themes placed in front of supreme court why why ……………. what’s your believe .

      Reply
  21. MAHMUD

    Devil has lots of logics, but all revolved from the devils.
    Don’t try to misinterpret the holly verses and ahadith. Learn, believe and practice. Muhammad (PBUH) has done without the wills of Allah SWT, the believer as well as writer of this statement should renew his iman with Istigfar (seeking forgiveness)

    Reply
  22. AZM

    মরুভুমিতে যেমন সাঁতার কাঁটা যায়না , সাঁতার কাটতে পানি লাগে। তেমন মূর্খদের ধর্ম বিষয়ক কোনো মন্তব্য মেনে নেওয়া যায়না , মন্তব্য করতে ধর্ম বিষয়ক জ্ঞ্যন থাকা লাগে।
    লেখক এখানে ইপস্ট ভাবে বলেছে “এরপর দশ হাজার লোকের বিরাট দল নিয়ে তিনি মক্কা অভিমুখে যাত্রা করে বিনা বাধায় মক্কা জয় করে নেন । এবারই তিনি কাবাতে স্থাপিত সবগুলো মূর্তি ভেঙে ফেলেন। জানা মতে, মক্কা বিজয়ের পর কাবার মূর্তি ভাঙার জন্য কোনো অহি আসেনি। সেটা যদি সত্যি হয় তাহলে প্রশ্ন জাগে, ছোটখাট বিষয়সহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমূহ সমাধানের জন্য যখন আল্লাহ আয়াত নাজেল করতেন, কাবা ঘরের মূর্তি ভাঙা-সংক্রান্ত তাৎক্ষণিক কোনো আয়াত তিনি পাঠালেন না কেন? অতএব বলা যেতে পারে যে, হযরত মোহাম্মদ (সা:) নিজ সিদ্ধান্তেই এই কাজ করেছিলেন। ”
    অথচ আল্লার রসুল সাঃ বলেছেন তিনি নিজে থেকে কোনো কাজ করেন না আল্লার তালার আদেশ ব্যাতিরিকে । লেখক এখানে “সূরা ৩ আয়াত ৭– তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। তাতে কিছু আয়াত রয়েছে সুস্পষ্ট, সেগুলোই কিতাবের আসল অংশ। আর অন্যগুলো রূপক।” এই আয়াত উদ্ধৃতি দিয়েছে ,লেখকের এতটুক জানা আছে কিন্তু হাদিস যে গোপন অহি যা আল্লাহ তালার কাছ থেকে নাযিল হয় এটা উনি জানেন না । কেউ যদি দাবি করে রাসুল সাঃ নিজে থেকে শরীয়তের ব্যাপারে কোনো কাজ করতেন তাহলে তার ঈমান নিয়ে সন্দিহান প্রকাশ করতে হয় ।

    Reply
    • R. Masud

      “কিন্তু হাদিস যে গোপন অহি যা আল্লাহ তালার কাছ থেকে নাযিল হয়”
      Please prove this by refering Prophet Mohd (sa) cmment or any part of Quran.
      Or you received this by directly from Allah through Gabrial(sa)?

      Reply
      • মারুফ

        ওহীর প্রকৃতি এবং প্রকারভেদ সম্পর্কে আল্লামা ইবনে কাইয়্যেম যে আলোচনা করেছেন তা নিম্নে লিপিবদ্ধ করা হলঃ

        ১. সত্য স্বপ্নঃ স্বপ্নের মাধ্যমে নাবী কারীম (সাঃ)-এর উপর ওহী অবতীর্ণ হয়।

        ২. ফিরিশতা দেখা না দিয়ে অর্থাৎ অদৃশ্য অবস্থান থেকেই রাসূল (সাঃ)-এর অন্তরে ওহী প্রবেশ করিয়ে দেন। এ প্রসঙ্গে নাবী কারীম (সাঃ) যেমনটি ইরশাদ করেছেনঃ

        (‏إن روح القدس نفث في روعى أنه لن تموت نفس حتى تستكمل رزقها، فاتقوا الله وأجملوا في الطلب، ولا يحملنكم استبطاء الرزق على أن تطلبوه بمعصية الله ، فإن ما عند الله لا ينال إلا بطاعته‏)

        অর্থঃ ‘জিবরাঈল (আঃ) ফিরিশতা আমার অন্তরে এ কথা নিক্ষেপ করলেন যে, কোন আত্মা সে পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না যে পর্যন্ত তার ভাগ্যে যতটুকু খাদ্যের বরাদ্দ রয়েছে পুরোপুরিভাবে তা পেয়ে না যাবে। অতএব, তোমরা আল্লাহকে সমীহ কর এবং রুজি অন্বেষণের জন্য ভাল পথ অবলম্বন কর। রুজি প্রাপ্তিতে বিলম্ব হওয়ায় তোমরা আল্লাহর অসন্তোষের পথ অন্বেষণে যেন উদ্বুদ্ধ না হও। কারণ, আল্লাহর নিকট যা কিছু রয়েছে তা তাঁর আনুগত্য ছাড়া পাওয়া দুস্কর।

        ৩. ফেরেশতা মানুষের আকৃতি ধারণপূর্বক নাবী কারীম (সাঃ)-কে সম্বোধন করতেন। তারপর তিনি যা কিছু বলতেন নাবী কারীম (সাঃ) তা মুখস্থ করে নিতেন। এ অবস্থায় সাহাবীগণ (রাঃ)ও ফেরেশতাকে দেখতে পেতেন।

        ৪. ওহী অবতীর্ণ হওয়ার সময় নাবী কারীম (সাঃ)-এর নিকট ঘন্টার টুন টুন ধ্বনির মতো ধ্বনি শোনা যেত। ওহী নাযিলের এটাই ছিল সব চাইতে কঠিন অবস্থা। টুন টুন ধ্বনির সংকেত প্রকাশ করতে করতে ফিরিশতা ওহী নিয়ে আগমন করতেন এবং নাবী (সাঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। ওহী নাযিলের সময় কঠিন শীতের দিনেও রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কপাল থেকে ঘাম ঝরতে থাকত। তিনি উষ্ট্রের উপর আরোহণরত অবস্থায় থাকলে উট বসে পড়ত। এক দফা এইভাবে ওহী নাযিল হওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর উরু যায়দ বিন সাবেত (সাঃ)-এর উরুর উপর ছিল। তখন তাঁর উরুতে এতই ভারবোধ হয়েছিল যে মনে হয়েছিল যেন উরু চূর্ণ হয়ে যাবে।

        ৫. নাবী কারীম (সাঃ) ফিরিশতাকে কোন কোন সময় নিজস্ব জন্মগত আকৃতিতে প্রত্যক্ষ করতেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় সেই অবস্থাতেই তিনি তাঁর নিকট ওহী নিয়ে আগমন করতেন। নাবী কারীম (সাঃ)-এর এ রকম অবস্থা দু’বার সংঘটিত হয়েছিল যা আল্লাহ তা‘আলা সূরাহ ‘নাজমে’ উল্লে­খ করেছেন।

        ৬. পবিত্র মি’রাজ রজনীতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন আকাশের উপর অবস্থান করছিলেন সেই সময় আল্লাহ তা‘আলা নামায এবং অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে সরাসরি হুকুমের মাধ্যমে ওহীর ব্যবস্থা করেছিলেন।

        ৭. আল্লাহ তা‘আলার সঙ্গে নাবী কারীম (সাঃ)-এর সরাসরি কথোপকথন যেমনটি হয়েছিল, তেমনি মূসা (আঃ)-এর সঙ্গে হয়েছিল। মূসা (আঃ)-এর সঙ্গে যে আল্লাহ তা‘আলার কথোপকথন হয়েছিল কুরআন কারীমে তা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলার সঙ্গে নাবী কারীম (সাঃ)-এর কথোপকথনের ব্যাপারটি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে (কুরআন দ্বারা নয়)।

      • AZM

        ওহীর প্রকারভেদ – কুরআন ও সুন্নাহ : রাসুলুল্লাহ (সা)-এর প্রতি দুই প্রকারেরওহী প্রেরণ করা হয়েছে। এক. ওহীয়ে মাতলু তথা কুরআন মাজিদ; দুই.ওহীয়ে গায়ের মাতলু তথা রাসুল (সা)-এর হাদীস।ক. কুরআন মাজিদ: কুরআনুল কারিম মানব জাতির কাছে প্রেরিত আল্লাহর সর্বশেষবাণী। এর প্রতিটি অক্ষর, শব্দ ও বাক্য আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত।খ. হাদীস: আল্লাহ তা’য়ালা রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট যে ওহী পাঠাতেন, তা ছিলদু’প্রকারের। প্রথম প্রকার ওহী কুরআন, যা তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠানোশব্দ ও অর্থসহ আক্ষরিকভাবে মুখস্থ করতেন। সাহাবীদেরকে মুখস্থকরাতেন ও লিখাতেন। দ্বিতীয় প্রকার ওহী তিনি নিজের ভাষায় সাহাবীদেরকেবলতেন, শিক্ষা দিতেন, মুখস্থ করাতেন এবং কখনো কখনো লিখাতেন। এইদ্বিতীয় প্রকারের ওহী ‘হাদীস’ বা ‘সুন্নত’ নামে পৃথকভাবে সংকলিত ওসংরক্ষিত হয়েছে।হাদীস শব্দের আভিধানিক অর্থ সংবাদ, কথা বা নতুন বিষয়। (ইবনে মানযূর, লিসানুলআরব ২/১৩১-১৩৪; ফাইউমী, মুখতারুস সিহাহ ১/১৫৩)
        হাদিস যে অহি এটা আকিদার সাথে সম্পর্ক তাই ভাই আপনাকে অনুরধ করব নিজের আকিদা ঠিক করুন ।
        পড়ুন আকীদা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের মধ্যে রয়েছে-১. ফিকহুল আকবর – ইমাম আবু হানিফা২. আল আকীদা আল ওয়াসিতয়্যাহ – ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ৩. উসূল আস সুন্নাহ – ইমাম আহমদ বিন হাম্বল৪. বায়ানু ই’তিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা’য়াহ – ইমাম আত তাহাবী৫. আকীদা আন নাসাফী – ইমাম আন নাসাফী

      • AZM

        আল্লাহ তা’আলা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) -এর নিকট যে ওহী পাঠাতেন তা ছিল দু প্রকারের।

        প্রথম প্রকার ওহী কুরআন, যা তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠানো শব্দ ও অর্থসহ আক্ষরিকভাবে মুখস্থ করতেন, সাহাবীদেরকে মুখস্থ করাতেন এবং লিখাতেন।

        দ্বিতীয় প্রকার ওহীর মূল অর্থ, ‘জ্ঞান’ বা ‘প্রজ্ঞা’ আল্লাহ তাঁর উপর নাযিল করতেন। তিনি নিজের ভাষায় তা সাহাবীদেরকে বলতেন, শিক্ষা দিতেন, মুখস্থ করাতেন এবং কখনো কখনো লিখাতেন।

        কুরআন কারীমে বিভিন্ন স্থানে প্রথম প্রকার ওহীকে ‘কিতাব’ বা গ্রন্থ এবং দ্বিতীয় প্রকার ওহীকে ‘হিকমাহ’ বা প্রজ্ঞা বলে অভিহিত করা হয়েছে। একস্থানে মহান আল্লাহ বলেন:
        لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آَيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مُبِينٍ
        “আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অবশ্য অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের নিজেদের মধ্য থেকে তাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাঁর আয়াত তাদের নিকট আবৃত্তি করেন, তাদেরকে পরিশোধন করেন এবং কিতাব ও হিকমাহ তাদেরকে শিক্ষা দেন, যদিও তারা পূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যেই ছিল।”
        ( সূরা (৩) আল-ইমরান: ১৬৪ আয়াত। আরো দেখুন: সূরা বাকারা: ১২৯, ১৫১, ২৩১ আয়াত; সূরা নিসা: ১১৩ আয়াত; সূরা আহযাব ৩৪ আয়াত; সূরা জুমুআহ ২ আয়াত)

        এই দ্বিতীয় প্রকারের ওহী ‘হাদীস’ বা ‘সুন্নাত’ নামে পৃথক ভাবে সংকলিত ও সংরক্ষিত হয়েছে।

      • AZM

        আসলে হাদীসও কি ওহী ?

        এ সম্পর্কে মাওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম তার হাদীস সংকলনের ইতিহাসের ৬২ পৃষ্ঠায় লিখেছেন-“আল্লাহ তায়ালা বিশ্বনবীর প্রতি যে ওহী নাযিল করেছেন,তাই হচ্ছে হাদীসের মূল উৎস।আল্লাহ প্রেরিত ওহী প্রধানত দুই প্রকারের- প্রথম প্রকারের ওহীকে বলে ওহীয়ে মাতলু-সাধারণ পঠিতব্য ওহী,যাকে ওহীয়ে জ্বলীও বলে।আর দ্বিতীয় প্রকারের ওহীকে ‘ওহীয়ে গায়রে মাতলু’ বলে।এটা সাধারণত তেলাওয়াত করা হয় না। যার অপর নাম ‘ওহীয়ে খফ’ প্রচ্ছন্ন ওহী। যা হতে জ্ঞান লাভ করার সুত্র এবং এ সুত্রে লব্ধ জ্ঞান উভয়ই বুঝানো হয়।”

        আমরা জানি কোরআনের পরই হাদীসের স্থান।আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন-“হে নবী ! আল্লাহ তোমার প্রতি কিতাব ও হিকমত নাযিল করেছেন এবং তুমি যা জানতে না তা তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন।

        এই আয়াতে উল্লেখিত আল-কিতাব অর্থ কোরআন মজীদ এবং হিকমত অর্থ সুন্নাত বা হাদীসে রাসূল(এবং এ উভয় জিনিসই আল্লহর নিকট হতে আল্লাহ কর্তৃক অবতীর্ণ।”)

        এখন নিশ্চয়ই বুঝা গেল হাদীসও এক প্রকার ওহী।

  23. falgun

    It should be removed from court area. Any image (Murti) can not be a symbol of justice. In Bangladesh non Muslim can perform their worship but Indian Muslim can not perform their religious ritual. So we are not radical country as India..

    Reply
  24. MJB

    সুরা আম্বিয়া
    আল্লাহর কসম, যখন তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে চলে যাবে, তখন আমি তোমাদের মূর্তিগুলোর ব্যাপারে একটা ব্যবস্থা অবলম্বন করব।
    “And by Allah, I have a plan for your idols – after ye go away and turn your backs”..

    فَجَعَلَهُمْ جُذَاذًا إِلَّا كَبِيرًا لَّهُمْ لَعَلَّهُمْ إِلَيْهِ يَرْجِعُونَ (58
    অতঃপর তিনি সেগুলোকে চূর্ণ-বিচুর্ণ করে দিলেন ওদের প্রধানটি ব্যতীতঃ যাতে তারা তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তন করে।
    So he broke them to pieces, (all) but the biggest of them, that they might turn (and address themselves) to it.

    ছবি ও মূর্তি

    عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ سَمِعْتٌ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ: إِنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَاباً عِنْدَ اللهِ الْمُصَوِّرُوْنَ، متفق عليه-

    ১. অনুবাদ: আব্দুল্লাহ ইবনে মাস‘ঊদ রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহে ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকটে সর্বাধিক আযাব প্রাপ্ত লোক হবে ছবি প্রস্ত্ততকারীগণ।[1]

    ২. ব্যাখ্যাঃ হাদীছে تَصَاوِيْرُ، تَمَاثِيْلُ، تَصَالِيْبُ তিনটি বহুবচনের শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। যেগুলির একবচনের অর্থ হ’লঃ যথাক্রমে ছবি, মূর্তি ও ক্রুশযুক্ত ছবি। তবে ‘ছবি’ বলতে সবগুলিকেই বুঝায়। ‘মূর্তি’ বলতে মাটি, পাথর বা অন্য কিছু দিয়ে তৈরী মূর্তি, প্রতিকৃতি, তৈলচিত্র ও কাপড়ে বুনা চিত্র কিংবা নকশাকে বুঝায়। হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ) বলেন, সাধারণ ছবির চাইতে ক্রুশযুক্ত ছবি অধিকতর নিষিদ্ধ। কেননা ক্রুশ ঐসকল বস্ত্তর অন্তর্ভুক্ত, যাকে পূজা করা হয় আল্লাহকে বাদ দিয়ে। পক্ষান্তরে সকল ছবি পূজা করা হয় না।[2]

    ছবি ও মূর্তি সম্পর্কে শারঈ বিধান

    ১. (ক) আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

    قَالَ اللهُ تَعَالى وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذَهَبَ يَخْلُقُ كَخَلْقِىْ فَلْيَخْلُقُوْا ذَرَّةً أَوِلْيَخْلُقُوْا حَبَّةً أَوْشَعِيْرَةً، متفق عليه-

    ‘আমার সৃষ্টির মত করে যে ব্যক্তি (কোন প্রাণী) সৃষ্টি করতে যায়, তার চাইতে বড় যালেম আর কে আছে? পারলে তারা একটি পিঁপড়া বা শস্যদানা বা একটি যব সৃষ্টি করুক তো দেখি?[21]

    (খ) আবু যুর‘আ বলেন, আমি একদা আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর সাথে মদীনার (উমাইয়া গবর্ণর মারওয়ান ইবনুল হিকাম-এর) একটি বাড়ীতে গেলাম। সেখানে গিয়ে তিনি দেখলেন যে, বাড়ীর উপরিভাগে জনৈক শিল্পী ছবি অংকন করছে। তখন তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালেম আর কে আছে যে আমার সৃষ্টির ন্যায় সৃষ্টি করতে চেষ্টা করে। তাহ’লে সৃষ্টি করুক একটি শস্যদানা বা একটি পিপীলিকা…।[22]

    (২) আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন,

    إِنَّ أَصْحَابَ هَذِهِ الصُّوَرِ يُعَذَّبُوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُقَالُ لَهُمْ أَحْيُوْا مَا خَلَقْتُمْ، متفق عليه-

    ‘যে সমস্ত লোক এইসব ছবি তৈরী করে, তারা ক্বিয়ামতের দিন আযাব প্রাপ্ত হবে। তাদেরকে বলা হবে ‘তোমরা যা সৃষ্টি করেছিলে, তা জীবিত কর’।[23]

    (৫) সাঈদ বিন আবুল হাসান বলেন, জনৈক ব্যক্তি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ)-এর নিকটে এসে বলল, আমার পেশা হ’ল ছবি তৈরী করা। এখন এ বিষয়ে আপনি আমাকে ফৎওয়া দিন। তখন ইবনু আববাস তাকে কাছে টেনে নিয়ে তার মাথায় হাত রেখে বললেন, আমি তোমাকে ঐটুকু অবহিত করতে পারি, যা আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট হ’তে শ্রবণ করেছি। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি,

    سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ: كُلُّ مُصَوِّرٍ فِى النَّارِ يُجْعَلُ لَهُ بِكُلِّ صُوْرَةٍ صَوَّرَهَا نَفْسًا فَيُعَذِّبُهُ فِىْ جَهَنَّمَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَإِنْ كُنْتَ لاَبُدَّ فَاعِلاً فَاصْنَعِ الشَّجَرَ وَمَا لاَ رُوْحَ فِيْهِ، متفق عليه-

    ‘প্রত্যেক ছবি প্রস্ত্ততকারী জাহান্নামী। তার প্রস্ত্ততকৃত প্রতিটি ছবিতে (ক্বিয়ামতের দিন) রূহ প্রদান করা হবে এবং জাহান্নামে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে’। অতঃপর ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, যদি তুমি একান্তই ছবি তৈরী করতে চাও, তাহ’লে বৃক্ষ-লতা বা এমন বস্ত্তর ছবি তৈরী কর, যার মধ্যে প্রাণ নেই।[26]

    ৬. (ক) আয়েশা (রাঃ) বলেন,

    أَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَكُنْ يَتْرُكُ فِىْ بَيْتِهِ شَيْئاً فِيْهِ تَصَالِيْبُ إِلاَّ نَقَضَهُ، رواه البخارىُّ-

    ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) স্বীয় গৃহে (প্রাণীর) ছবিযুক্ত কোন জিনিষই রাখতেন না। দেখলেই ভেঙ্গে চূর্ণ করে দিতেন’।[27]

    (গ) আয়েশা (রাঃ) থেকে অপর একটি বর্ণনায় এসেছে যে, একবার তিনি ঘরের জানালায় একটি পর্দা ঝুলিয়েছিলেন, যাতে প্রাণীর ছবি ছিল। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) পর্দাটিকে ছিঁড়ে ফেললেন। তখন আয়েশা (রাঃ) সেই কাপড়ের টুকরা দিয়ে বালিশ তৈরী করেন, যা ঘরেই থাকত এবং রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যাতে হেলান দিয়ে বসতেন’।[30]

    যারা কবরে গেলাফ লাগান ও তাকে অতি পবিত্র মনে করেন। এমনকি ঐ গেলাফ বা তার টুকরা এনে ঘরে বা অন্য কোন স্থানে রাখেন ও বরকত মনে করে তার সামনে শ্রদ্ধায় দাঁড়িয়ে থাকেন, কিছু কামনা করেন এবং সেখানে ধূপ-ধুনা-আগরবাতি ও নযর-নেয়ায দেন, তারা হাদীছটি লক্ষ্য করুন।
    (চ) আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমাদের ঘরের সম্মুখে পাখির ছবিযুক্ত পর্দা ঝুলানো ছিল। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, হে আয়েশা! ওটিকে সরিয়ে ফেল। কেননা ঘরে প্রবেশকালে ওটা দেখলে আমার দুনিয়ার কথা স্মরণ হয়’। আয়েশা বলেন, আমাদের একটি কাপড় ছিল, যাতে নকশা ছিল। সেটি পরিধান করতাম। কিন্তু তা কর্তন করিনি।[33]

    ৭. (ক) আবু ত্বালহা আনছারী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, لاَتَدْخُلُ الْمَلآئِكَتُ بَيْتاً فِيْهِ كَلْبٌ وَّ لاَتَصَاوِيْرُ، متفق عليه- ‘ঐ ঘরে ফেরেশতাগণ প্রবেশ করেন না, যে ঘরে কুকুর থাকে বা (প্রাণীর) ছবি থাকে’।[34] অবশ্য এর মধ্যে ঐসব ফেরেশতা অন্তর্ভুক্ত নন, যারা মানুষের দৈনন্দিন আমলের হিসাব লিপিবদ্ধ করেন কিংবা মানুষের হেফাযতে নিয়োজিত থাকেন অথবা বান্দার রূহ কবয করার জন্য আসেন। অনুরূপভাবে কুকুর বলতে স্রেফ খেলা ও বিলাসিতার জন্য যেগুলি রাখা হয়। নইলে শিকারী কুকুর, ফসল ও বাড়ী পাহারা দেওয়ার কুকুর, যুদ্ধ বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত কুকুর উক্ত হুকুমের অন্তর্ভুক্ত নয়। উক্ত মর্মে পৃথকভাবে হাদীছ সমূহ বর্ণিত হয়েছে।[35]

    Reply
  25. কামাল

    2017 সালের ‍আগে মুর্তি/ভাস্কর্যটি এখানে ছিল না। তখনতো বাংলাদেশে ন্যায় বিচার বিগ্নিত হয়নি। আর 2017 সালে এসে কোন বাঙ্গালী আন্দোলনও করেনি যে- ‘‘সুপ্রিম কোর্টে গ্রীক ভাস্কর্য চাই, দিতে হবে’’ ? ?? তাহলে হঠাৎ করে কেন এই ভাস্কর্যটি দাড় করানো হল ? আর ভাস্কর্যটি যেহেতু কোন ধর্মীয় প্রতীক নয় সেটি সরিয়ে/ভেঙ্গে ফেললেও কারও ধর্মীয় মনোভাবে আঘাত আনবে বলে মনে হয় না।

    Reply
  26. H. M. Arzue

    ধর্ম নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করুন, কেননা মুসলিম প্রধান দেশের সুপ্রিম কোর্টের মত একটি যায়গায় ন্যায় বিচারের প্রতীক স্বরূপ এমন কোন উপাদান গ্রহণ যোগ্য নয় যা সরাসরি অন্য ধর্মের প্রতীক বহন করে।

    Reply
  27. আবুল বাশার

    মুর্তি দিতে হবে কেন?৯০% লোকের বিরোধিতা করে এদেশে বাম রাজত্ব কায়েম হবেনা। কোন দিনই হবেনা।

    Reply
  28. Rasha

    সেদিন তবে আর দূরে নয়, যেদিন প্রধানমন্ত্রী “নারী” বলে তাকেও সরানোর জোর দাবী এই উন্মাদেরাই তুলবে!

    Reply
  29. azmal

    ভাস্কর্য হোক বা মুর্ত‌ি , ওটা ওখা‌নে বা অন্য কোথাও রাখার দরকারটা ক‌ি ?

    Reply
  30. মাহাদী

    আপনি কী মুসলমান ।মুসলমান হলে তো জানার কথা।যে ঘরে কোন প্রানীর ছবি রাখা জায়েজ নেই। আর তো মুর্তি কোর্টের সামনে।মুসলমান রাষ্টে অন্য ধর্মের লোকের মাতবারি অপছন্দীয়।ইসলাম অনুযায়ী রাষ্ট চললে এগুলো হত না।

    Reply
  31. ‌মোখ‌লেছুর রহমান

    ‌লেখক তার বক্ত‌ব্যে মূ‌র্ত‌ি সরা‌নোর জন্য হেফজ‌তের দাবী‌কে হিন্দু ধ‌র্মের মৌ‌লিক অ‌ধিকা‌রের উপর হস্ত‌ক্ষেপ হ‌বে এবং এর একটা খারাপ প্রভাব পড়‌তে পা‌রে ব‌লে দেখা‌নোর চেষ্টা ক‌রে‌ছেন। কিন্তূ তার এই দাবীটা অ‌যৌ‌ক্তিক ম‌নে হয়। কারন কোন ইসলামপন্থী দল হিন্দু‌দের ম‌ন্দি‌রের পুজার মূর্ত‌ি সরা‌তে ব‌লেন‌নি। তা‌দের দাবী ছিল এত‌দিন প‌রে হঠাৎ কেন লে‌ডিস মূর্ত‌ি সু‌প্রিম কোর্টের সাম‌নে স্থাপন কর‌তে হ‌বে? এত‌দিন তাহ‌লে কী ন্যায়‌বিচার হয়‌নি? মুস‌লিম প্রধান দে‌শে ন্যায়‌বিচা‌রের প্রতীক লে‌ডিস মূর্ত‌ি হতে পা‌রে না। মূ‌র্তি ম‌ন্দি‌রে থাক‌বে, কেউ কিছু বল‌বে না। ভার‌তের অ‌নেক প্র‌দেশ‌ে কিন্তু প্রকা‌শ্যে গরু জবাই নি‌ষিদ্ধ, এমন‌কি বিক্রয় ও প‌রিবহনও নি‌ষিদ্ধ। অামরা দে‌খে‌ছি এ ঘটনায় সম্প্র‌তি অ‌নেক মুস‌লিম‌কে হত্যা করা হ‌য়ে‌ছে। বাংলা‌দে‌শে তো অামরা সবাই অ‌নেক সম্প্রী‌তি নি‌য়ে বসবাস কর‌ছি।
    অার কুরঅা‌নের ব্যাখ্যা বা তাফসীর বি‌শেষজ্ঞ অা‌লেমরাই ভাল দি‌তে পা‌রেন।

    Reply
  32. Firoz Uddin

    Thanks Mr. Aktar Hossain for this informative and courageous article. My God bless our policy makers to be brave to take courageous decision to eliminate the Dharma-baboshayi uncivilised faction.

    Reply
  33. azad

    “এক পক্ষ পরম শক্তির কাছে অন্ধভাবে বিশ্বস্ত ও অনুগত। অন্য পক্ষ তথ্য-উপাত্ত থেকে উদ্ভূত যুক্তিনির্ভর।” ধর্ম বিশ্বাস মানেই অন্ধ, যুক্তি নেই আর ধর্মকে আক্রমন মানেই যুক্তির পাহার- —- এমন মন্তব্যইতো পক্ষপাত দুষ্ট। যারা ধর্মের নাম ফুটিয়ে চাপাতি হাতে নেয় তারা যেমন ধার্মিক নন, তেমনি যারা ভিন্নমতে বিশ্বাসিদের আক্রমন করে লেখালেখি করে পরিস্থিতি ঘোলা কিংবা স্বস্তা জনপ্রিয়তা কামাতে চায় তারাও যুক্তিবাদি কেউ নন। দুপক্ষই সন্ত্রাসী, অস্ত্র যাই হোক না কেন, দুটোই ধারালো, একটি অন্যটিকে উষ্কানি দেয়, একে অপরের উপর নিজের মতাদর্শ জোর করে চাপানোর পায়তারা করে। সংজ্ঞা অনুযায়ি দুটোই মৌলবাদ বা এক্সট্রিমিষ্ট।

    Reply
  34. নজরুল ইসলাম

    ভাস্কর্য হোক বা মুর্ত‌ি , ওটা ওখা‌নে বা অন্য কোথাও রাখার দরকারটা ক‌ি ???

    Reply
  35. Mohammad Imran

    “বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে”

    লেখকের তথ্য সমৃদ্ধ লিখার জন্য ধন্যবাদ, কিন্তু লিখাটি আরেকটু জ্ঞানগর্ভ হলে ভাল হত। আমি এখানে লেখকের তথ্যগুলো আর একটু বিষদ ভাবে পর্যালোচনা করব। প্রথমত, ক্বাবার ভেতরের মূর্তির ব্যাপারে আসা যাক। মক্কা বিজয়ের পূর্বে ক্বাবার ভেতরে ৩৬০ টি মূর্তি ছিল ঠিকই, কিন্তু মক্কা বিজয়ের পর একটি মূর্তিরও কিন্তু ক্বাবার ভেতরে স্থান হয়নি, বরং একটি সূত্রানুসারে প্রতিটি মূর্তি-ই ভঙ্গা হয়েছিল। সুতরাং রাসুল (সাঃ) যে মূর্তির পক্ষে ছিলেননা তা স্পষ্ট। কিন্তু একথা বলা যাবেনা যে, মক্কা বিজয়ের পর রাসুল (সাঃ) তাঁর রাজ্যের পৌত্তলিকদের মূর্তি উপাসনায় বাধা দিয়েছিলেন বরং ইতিহাস থেকে আমরা জানি যে, ঐ সময় প্রত্যেক ধর্মের লোকেরাই তাদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালনে স্বাধীনতা পেত, যেমনটা এখন বাংলাদেশেও পায়। বাংলাদেশের কোন মুসলমানতো কোন হিন্দুকে মূর্তিপূজায় বাধা দেয়নি, না কোন বৌদ্ধকে, না কোন খৃষ্টানকে।

    এবার মূল আলচনায় আসা যাক। আমরা যদি ধরেই নেই যে, সুপ্রিম কোর্টের সামনে স্থাপিত ভাস্কর্যটি কেবলই নান্দনিক সৌন্দর্যের জন্য, তবে আমি বলব, “সুপ্রিম কোর্ট তো নান্দনিকতা চর্চার স্থান না, সুপ্রিম কোর্ট হল ন্যায় বিচার আর আস্থার প্রতীক। ” নান্দনিকতা আর শিল্পকলা চর্চার জন্য তো চারুকলা আর যাদুঘর রয়েছেই। আমার জানামতে যাদুঘরে এমন অনেক পেইন্টিং রয়েছে যেগুলো দেখলে চোখ আড়াল করতে ইচ্ছে হয়, কিন্তু ঐগুলোর জন্য তো কখনো কাউকে কোন অভিযোগ করতে শুনিনি। সুতরাং আমার মতে, ভাস্কর্যটির প্রকৃত স্থান হওয়া উচিৎ যাদুঘর কিংবা চারুকলায়, যেখান থেকে মানুষ শিল্পকর্ম, ইতিহাস, ঐতিহ্য প্রভৃতি সম্পরকে জানতে পারবে। আর আশাকরি একটি ব্যাপারে সকলেই আমার সাথে একমত হবে যে, ভাস্কর্যটি নান্দনিক গুণেও তেমন আকর্ষণীয় না বরং তা যেন কোর্টের ভাবগাম্ভীর্য প্রকাশে অন্তরায়।

    অপরদিকে ভাস্কর্যটিকে যদি ন্যায় বিচারের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে অযৌক্তিক। কেননা মুসলিম প্রধান দেশের সুপ্রিম কোর্টের মত একটি যায়গায় ন্যায় বিচারের প্রতীক স্বরূপ এমন কোন উপাদান গ্রহণ যোগ্য নয় যা সরাসরি অন্য ধর্মের প্রতীক বহন করে। ভারত কিংবা যুক্তরাষ্ট্র কিংবা পৃথিবীর কোন অমুসলিম রাষ্ট্র কি পারবে, কোরআনকে ন্যায় বিচারের প্রতীক হিসেবে মেনে নিতে ????? সুতরাং সংস্কৃতি চর্চা হোক যাদুঘরে, মূর্তি পূজা হোক মন্দিরে তাতে কারো কোন আপত্তি নেই, যারা মূর্তিকে ভালোবাসে মূর্তি তাদের কাছেও থাকুক, তাতেও কোন আপত্তি নেই, কিন্তু মূর্তি যেন সকলের প্রতীক না হয়ে দাড়ায়।

    Reply
  36. Mahbub

    ইতিহাস খুললে কোনো বিপ্লবী বাঙালি নারীর হাতে তলোয়ারের ছবি পাওয়া যাবে না। লেখক বোধ হয়, সুলতানা রাজিয়ার কথা ভুলে গেছেন!

    Reply
  37. Baichitra

    নতুন কি এই বাংলাদেশ এ উগ্রবাদীতা , ধর্মান্ধতা আর সন্ত্রাস দিন দিন Barcha

    Reply
  38. Serajul islam saad

    সংখ্যায় কম থাকায় মুহাম্মদ স: মূর্তি সরাতে প্রথমে যাননি শক্তি সংগ্রহের পর কাবার মূর্তি ভাংতে মোটেও দেরী করেননি।সুতারাং৯০%মুসলমানের দেশে মূর্তি সরাতে দেরী করব কেন লেখকের কাছে জানতে চাই।

    Reply
  39. Aminur Rashid

    কাবা ঘরের মূর্তি মক্কা বিজয়ের পর ভাঙা হলেও পৃথিবীর সব মূর্তি ভাঙতে বলেননি হযরত মোহাম্মদ (সা:)? তিনি বলেছেন মূর্তি পুজা না করতে না মানতে । পৃথিবীর সব মূর্তি ভাঙতে বলেননি কারন আগে দাওয়াত দেয়ের কথা বলেছেন । সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনের যে গ্রিক ভাস্কর্য নিয়ে সম্প্রতি বেশ বিতর্ক চলছে সেই গ্রিক নারীর ভাস্কর্যকে শাড়ি পড়ালেন কেন মৃণাল হক ? ।
    ইসলাম ধর্মমতে কোন জিবের ( living being) ছবি বা ভাস্কর্য অথবা মুর্তি কোন মতে গ্রহন যোগ্য নয় । কারণ ইসলামের ইতিহাসই হল মুর্তি সরিয়ে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস আনা । যেহেতু কোন মুর্তিতে আমরা জিবন দিতে পারবনা আর এদের কোন ক্ষমতাও নেই মানুষের বিশ্বাস ভাস্কর্য বা মুর্তিতে চলেযায় তাই ইসলাম ভাস্কর্য বা মুর্তি নিষেধ করেছে, । আরও অনেক কারন আছে । এখন কথা হল সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে ন্যায়ের প্রতিক হিসেবে ভাস্কর্য দরকার, প্রতিকত আরও অনেক কিছু আছে, সেখানে গ্রিক দেবী থেমিসের আদলে ভাস্কর্যটি কেন ?তাও অর্ধেক বাঙ্গালী অর্ধেক গ্রিক । আমাদের ধর্মগ্রন্থে যদি কাহারও এলার্জি থাকে সেখানে আমাদের সংবিধান আছে , কলম আছে দাঁড়িপাল্লা ্ইত্যাদী আছে । সব ধর্মেই একটি রিতি রেওয়াজ আছে, এটা আমাদের মানতেই হবে । অপ্রয়োজনিও বিতর্ক সৃষ্ঠি না করে ভাল কিছু করুন ।

    Reply
  40. কোয়েল

    “কিন্তু আমরা এখন কোন কোন ক্ষেত্রে পাকিস্তান আমল থেকে বেশি মুসলমান হয়ে যাচ্ছি?”
    ….. অবাক হয়ে যাই। পৃথিবী যত উন্নত হচ্ছে, বাংলাদেশ তত অন্ধকারাচ্ছন্ন, উগ্রবাদি অন্তঃসারশূন্য, না বুঝে উন্মাদের মত মূর্খতায় পরিপূর্ণ, একদল তীব্র মৌলবাদি কাঠদের বৃদ্ধি ঘটছে তত বেশি! এমন তীব্র উগ্রবাদী ধর্মান্ধতার বিষবাষ্প পঞ্চাশ বছর আগেও ত ছিলোনা! কোত্থেকে জুটলো এসব ইমানীদন্ডধারী ভন্ড সন্ন্যাসের দল?
    হায়রে ধর্মান্ধ দেশ! সেদিন তবে আর দূরে নয়, যেদিন প্রধানমন্ত্রী “নারী” বলে তাকেও সরানোর জোর দাবী এই উন্মাদেরাই তুলবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি নিজেই নারীজগত এবং আপনার বেশ অনেকটুকু ক্ষতি করে ফেললেন। ব্যাপারটি শুধুই জাস্টিসিয়ার ভাষ্কর্য অপসারন নয়, এর পরবর্তি ইম্পেক্টগুলোও ভাবা উচিত। রাষ্ট্রযন্ত্রের সব সিদ্ধান্তই ১০০% সঠিক হয়না, এটা তার অন্যতম বড় প্রমান। তবে, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো কিন্তু আপনাকে কখনো ভোট দেবেনা- এটা চরম সত্য বলে জেনে রাখুন।

    Reply
    • ADI

      সেদিন তবে আর দূরে নয়, যেদিন প্রধানমন্ত্রী “নারী” বলে তাকেও সরানোর জোর দাবী এই উন্মাদেরাই তুলবে।

      আপু আমি জানি না আপনি মুসলিম কিনা। কিন্তু যদি মুসলিম হন তাহলে আপনার মুখে এই কথা মানায় না। আর মুসলিম না হলে আমি ও আপনার সাথে একমত। আর একটা কথা আমাদের প্রধানমন্ত্রী যদি মুসলিম না হয়ে অন্য কোন ধর্মের হয় তাহলে এই কথা হয়তো কখনোই উঠবে না। কিন্তু মুসলিম হলেই হয়তো একদিন এই দাবি উঠবে।

      Reply
    • আজমল হোসেন

      ৯০% মুসলমানের দেশে যদি কোন সরকার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গন কোরআনের ভাষ্কর্য স্থাপন করতো তাহলে আপনি কি সেই সরকারকে সম্প্রদায়ক বলতেন না?

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—