High Court - 31111

এক যাত্রায় পৃথক ফলের সমাজ আমাদের। লেখাপড়া না-জানা রসরাজ ফেসবুক চালাতে জানতেন না। তার আইডি ভুয়া জেনেও ধর্মীয় উসকানির দায়ে যে রসে ডুবে গেল নাসিরনগরের গ্রাম তাতে নিরীহ হিন্দুদের বাড়িঘর পুড়ে ছাই। নারীদের এমন করুণ দশা– গলাপানিতে ডুবে ইজ্জত বাঁচাতে হল ‘ডিজিটাল’ দেশে!

এমন তাণ্ডবের সমাজে আমরা আবার ঘটা করে ‘গণহত্যা দিবস’ পালনের কথা বলি। ‘সংখ্যালঘু’ শব্দটি যত আপত্তির হোক না কেন যারা এর আওতায় তারা জানে, যে যায় লংকায় তারই বিশ হাত দশ মাথা আর সে-ই রাবণ। রসরাজের দোষ থাক বা না থাক সে তাণ্ডবে দেশের হিন্দুদের একাংশের কপাল পুড়েছিল। আর বাকিরা আরও একবার বুঝে নিয়েছিল– ‘যতই বল আর যতই বুলি আওড়াও ইহা তোমার দেশ নহে।’

এখন আমাদের বিস্ময় আইনজীবী তুহিন মালিক কি আইনের ঊর্ধ্বে? এই লোকটি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলাকালীন রাজাকারদের ওকালতি করতেন। সেটা তার পেশা। তিনি কী করবেন না করবেন তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যাথার কারণ দেখি না। কিন্তু সে সময় যখনই তিনি মিডিয়ার সামনে আসতেন তার বক্তব্যগুলো ছিল সাংঘাতিক উসকানিমূলক। আইন ও বিচারের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা থাকলে কেউ তা বলতে পারে না। তারপরও ‘ডিজিটাল’ জাতি ও সরকারের লোকেরা হজম করে নিয়েছিল। যে কারণে এখন এই লোক দেশে সাম্প্রদায়িক উসকানি আর হিন্দুধর্মের বিরুদ্ধে কাহিনি প্রচারে নেমেছে।

কিছুদিন আগে ঢাকাসহ সারা দেশের মানুষ দোল উৎসবে মেতেছিল। এমন না যে, তা ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছিল। সীমার ভেতরেই উদযাপিত হয়েছিল সেই রঙ-উৎসব। বিবর্ণ অন্ধকারের পোকা এসব মানুষের মনে খায়েশ থাকলেও চোখে রঙ নেই– নেই অন্তরের আবীর। যখন যা দেখে বা বলে তার পেছনে যতটা ধর্ম তার চেয়ে বেশি থাকে অন্ধবিশ্বাস। সামাজিক মিডিয়া বা ফেসবুকে এখন মানুষের ঢল। সত্যি বলতে কী, কারও কারও পোস্ট বা লেখালেখিতে যে পরিমাণ ‘লাইক’, মন্তব্য বা সাড়া পড়ে তা অনেক খবরের কাগজের কাটতি বা টিভি অনুষ্ঠনের দর্শক শ্রোতার চেয়েও সংখ্যায় বেশি। বিশেষত আপনি যদি উসকানিমূলক বা নেগেটিভ কিছু লেখেন তাহলে আর দেখতে হবে না– এক পোস্টেই আপনি সেলিব্রেটি! এ জন্য এর সঠিক ইস্তেমাল বা কার্যকর ব্যবহার জরুরি।

 

Holi Dol - 333
সীমার ভেতরেই উদযাপিত হয়েছিল সেই রঙ-উৎসব

 

কী করেছেন তুহিন মালিক? তিনি যদি দোলযাত্রা বা এ বিষয়ে তার অনীহা কিংবা অপছন্দের কথা জানাতেন বলার কিছু ছিল না। দুনিয়ায় সব মানুষ এক বিশ্বাস বা এক ধর্মের অনুসারী নয়। ফলে মতান্তর থাকবেই। কিন্তু তিনি লিখেছেন হিন্দুদের ধর্মবিশ্বাসের মূলে আঘাত দিয়ে। তার মতে, শ্রীকৃষ্ণ নাকি রাধাকে মামি হওয়ার পরও সম্ভোগ করতে গিয়ে রক্তাক্ত করার কারণে পরদিন রাধার লজ্জা নিবারণের জন্য সবাইকে রঙ মেখে লাল হয়ে আসতে বলেন যাতে সেই দাগ বোঝা না যায়। উজবুক আর কাকে বলে! লজ্জা নিবারণের সময় এত কম যে, গায়ে রঙ মেখে আসতে হবে। আর রঙ কি কেবল লাল হয়? আসলে যারা খুন জখম আর রক্তের নেশায় থাকে তাদের কাছে সব রঙই লাল বৈকি।

আমরা কোনো ধর্ম বা বিশ্বাসে আঘাত করতে চাই না। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে তো বিছানা লাল না হলে কুমারী নয় ভেবে বিবাহ না করার রেওয়াজ ছিল। তার বেলায় কী হবে? যেসব কারণে হিন্দুদের ওপর তারা রাগ করে তার অনেকগুলো এখনও সেখানে চলমান। যেদিন ‘টুইন টাওয়ার’ ধসে পড়ে, সেখানকার নারীরা উলুধ্বনি দিয়ে তাদের আবেগ প্রকাশ করেছিল। যেটা তারা করতেই পারে। দুনিয়ার যে কোনো লেবানিজ রেস্তোরাঁয় খাবারের পাশাপাশি বেলি ড্যান্স কিংবা নাভি-নৃত্যের চল রয়েছে। আমি নিজেও তা উপভোগ করেছি। কিন্তু সেটা কামের চোখে দেখতে হবে কেন? অপরূপা কোনো নারীর তার শরীরের একটি অগোপন অংশে শিল্প ধারণ কি পাপ? সংযুক্ত আরব আমিরাতেও সেই নাচ জনপ্রিয়।

আমরা আসলে উত্তেজনা ও উসকানির দিকটা দেখছি। হিন্দুরা এ দেশের ‘গিনিপিগ’। যখনই রাজনীতি অন্যভাবে সুবিধা করতে পারে না তখন এদের মঞ্চে নিয়ে আসা হয়। পাকিস্তানিরা সেটা করতে গিয়ে একটি বিরাট অংশ হারিয়ে ফেলায় আজ আমরা স্বাধীন। আমাদের একনায়ক এরশাদ গদি হারানোর শেষপ্রান্তে পরিকল্পিত দাঙ্গা বাঁধাতে গিয়ে আসন হারিয়ে শ্রীঘরে ঢুকেছিলেন। একটি ক্যাডারভিত্তিক দল হওয়ার পরও জামায়াত সে কারণে দিশেহারা। কারণ প্রকৃতি কিংবা খোদা কেউ মানুষের ওপর অকারণ অনাচার সহ্য করেন না।

তুহিন মালিক হিন্দু ধর্মের অনুসারীদের বিশ্বাস ও ভক্তিবোধে আঘাত করেছেন। যাদের বিশ্বাস রাধা-কৃষ্ণের লীলা বা প্রেম স্বর্গীয় তারা জান্নাত-দোজখ কিংবা নানা বিষয়ে বহু কথা বলতে পারেন। তিনি কি সেসব মেনে নিতে প্রস্তুত আছেন? তাছাড়া সংখ্যাগুরু তরুণীদের যারা রঙ মাখাতে গিয়েছিল তাদের পরিচয়ও উদঘাটিত হয়েছে। তারা আর যে-ই হোক হিন্দু ছিল না।

তুহিনের পোস্টটি মূলত নিজের বিশ্বাস বা ধর্মের কারণে যতটা তার একশ গুণ বেশি আক্রমণাত্মক। এই চক্রান্ত বা দাঙ্গা-ফ্যাসাদ লাগানো ও ঘৃণা ছড়ানোর কাজটি নতুন কিছু নয়। প্রশ্ন একটাই– এ নিয়ে তলাহীন প্রগতিশীল ও ক্রমে সেবাদাসে পরিণত হয়ে ওঠা পঙ্গু সংস্কৃতবানদের কেউ উচ্চবাচ্য করেননি। দেশের রাজনীতির যে অংশ এ দেশের প্রগতিশীলতার ক্রিম খায় তারাও চুপ। এখন তাদের ভোজনকাল। ছলে-বলে-কৌশলে তারা ‘দেশ-রুটি’র ওপর লাগানো ক্রিম খেতে ব্যস্ত। আর এদিকে ঘরের ইঁদুর বেড়া কাটছে।

তুহিন মালিকের জায়গায় কোনো হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান যদি এর সিকিভাগ কিছু লিখত আজ আমরা মিডিয়া খুলে দেখতাম তাণ্ডবে অসহায় সংখ্যালঘুরা কড়াইল বস্তির লোকদের পাশে বসে কান্নাকাটি করছে। তাদের কেউ কেউ সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার জন্য দালাল খুঁজতেও বেরিয়ে যেত। এই দুমুখো নীতি, আওয়ামী লীগের এই আপোসের রাজনীতি তাদের ভবিষ্যৎ ক্রমে বিপন্ন করে তুলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দুচারজন ছাড়া কারও ভেতর এ সব নিয়ে মাথাব্যাথা বা উদ্বেগ নেই। তারা ‘কানে দিয়েছি তুলো পিঠে বেঁধেছি কুলো’ হয়ে আছে যার যার জায়গায়। ভাগ্যিস এখনও এ নিয়ে কোনো বড় অঘটন ঘটে যায়নি। তবে এটা ঠিক যে, এই প্ররোচনা বন্ধ না হলে অচিরেই আবার কোনো ঘটনা ঘটতে পারে।

আইন যে সবার জন্য সমান, আইন ও বিচার যে রসরাজ ও তুহিন মালিককে এক পাল্লায় মাপে– সেটাই দেখতে চায় জনগণ। তা না হলে আমরা বুঝে যাব তুহিন মালিকদের ওপরে যে মালিকরা দেশ চালায় তাদের লম্বা হাত সব জায়গায় পৌছুঁতে পারে না। যে কোনো সভ্য সমাজ বা দেশে এমন খোলামেলা ধর্মীয় অবমাননা ও লেখার জন্য ইতোমধ্যে কিছু একটা হয়ে যেত।

স্বাধীনতার এই মাসে জঙ্গিবাদের উসকানিদাতা, সাম্প্রদায়িক হিংসা উসকে দেওয়ার মানুষরা স্বাধীন নাকি জনগণ স্বাধীন– সেটাই জিজ্ঞাসা।

অজয় দাশগুপ্তকলামিস্ট।

৪৩ Responses -- “তুহিন মালিকরা কি আইনের উর্ধ্বে?”

  1. Ahmad

    তুহিন মালিককে নিয়ে ভূয়া আইডি খুলে যারা বিতর্কিত স্টাটাস দিয়েছে, তারাই আসল তুহিন মালিকের বিবৃতিকে এড়িয়ে গিয়ে ভূয়া তুহিন মালিকের বক্তব্যকে প্রচার করে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে বিশেষ সুবিধা আদায়ের অসদ উদ্দেশ্যে লিপ্ত রয়েছে। লেখাটি পড়ে তাই মনে হয়েছে। কারণ অজয় দাশগুপ্ত একজন বিখ্যাত লেখক। তিনি তুহিন মালিকের ভূয়া আইডির স্ট্যাটাস পড়েছেন, অথচ আসল তুহিন মালিকের বিবৃতি পত্রিকায় পড়েননি; ভাবতেই অবাক লাগছে।
    উল্লেখ্য, এরআগেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকসহ বেশ কিছু মানুষকে এভাবে ভূয়া আইডি খুলে নাজেহাল করা হয়েছে।

    Reply
  2. ফকির শহীদ

    ধর্ম নিয়ে বারাবারি ঠিক নয়। অন্য ধর্মকে খারাপ বললে, আমার ধর্মকেও অন্যে খারাপ বলবে। জনাব তুহিন মালিক আপনাকে ভালবাসি, আপনি আপনার ধর্মটাকে ভালভাবে জানুন, দেখুন আপনার ধর্ম অন্য ধর্ম সম্পের্কে কি বলেছে। আসুন আমরা সবাই মানুষ হই, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিস্টান নয়।

    Reply
  3. Redwan Khan

    ধর্ম সম্পর্কে তুহিন মালিকরা লিখলে আইনের আওতায় আনার প্রয়োজন। কিন্তু যদি কোনো নাস্তিক লিখে তখন সেটা হয় দর্শন। বাংলাদেশের নাস্তিক মাজহাবের গুরু আরোজ আলী মাতুব্বর এর অনুমান প্রবন্ধ থেকে কিছু লেখা দেয়া হলো।
    ” সাধারণত হিন্দুরা ভগবান এ নামটিকে ঈশ্বর – এর উদ্দোশ্যেই ব্যবহার করে থাকে। আসলে ভগবান, ঈশ্বর, পরমেশ্বর বা নিরাকার ব্রম্ম এক কথা নয়। ভগবান হচ্ছে দেবরাজ ইন্দ্রের একটি কুখ্যাত উপাধি মাত্র।
    ইন্দ্র ছিলেন শৈর্য- বীর্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে অতি উন্নত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ দেবতা। তাই তার একনাম দেবরাজ। কিন্তু দেবরাজ হলে কি হবে, তার যৌন চরিত্র ছিল নেহায়েত মন্দ। তিনি তার গুরুপত্নী অহল্যার সতীত্ব নষ্ট করায় গুরুর অভিশাপে তার সর্বাঙ্গে এক হাজার ‘ভগ’ (স্ত্রী-যোনি ) উৎপন্ন হয় এবং তাতে ইন্দ্রের নাম ‘ভগবান’ (ভগযুক্ত) হয়। ”

    আরোজ আলী রচনা সমগ্র এর ১৫৬ পৃষ্ঠায় আরো বিবরণ পাবেন। অনলাইন বইটি পাওয়া যায়।

    একইরকম ভাবে বিভিন্ন নাস্তিক ইসলাম ধর্ম, নবী, পরকাল সম্পর্কে এতো জঘন্য মন্তব্য করে তাদের আইনের আওতায় কে আনবে ? এরা তো মুক্ত মনা।

    Reply
  4. Fuad

    Columnist Ajay Das Gupata Sir,

    Didn’t you notice that Dr Tuhin Malik apologised to all Hindu brother and sisters that it was a false id on his name that was used to defame the Hinduism and as a Muslim we are not allowed to say anything bad about any relation. It’s a conspiracy against Dr Tuhin Malik and he again and again requested the appropriate authority in his real face book Id and in a notice in prothom alo to arrest the culprit. He also mentioned few facebook IDs has been opened in his name giving at least ref of 1.As a columnist if you know how to honour someone then please apologise to Dr Malik so that you get honour back in return.
    We shouldn’t comment on anyone like this without verifying it , specially it’s not expected from a highly educated person…thank you

    Reply
  5. Golam Sorowar

    দাশ সাহেব খুব ভাল লিখেছেন , কিন্তু আপনার লেখায় কোথাও নিরপেক্ষতা খুজে পেলাম না , আপনি যদি নিজ স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তাহলে অন্যরা তো তাই করবে আপনি, আপনারা আপনাদের ধর্মীও উৎসব পালন করেন ওকে, কিন্তু অন্য ধর্মের লোকদের বিরক্তির কারন হবে এটা তো মানা যায় না।
    আপনাকে আগে অন্যের বিষয় প্রাধান্য দিতে হবে তারপর নিজের টা,
    নিজের বেলায় ষোলআনা পরের টা নাই ।

    Reply
  6. Amalesh

    ধর্মীয় অবমাননা আইন এর সুরক্ষা মনে হয় শুধুমাত্র সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের জন্য প্রযোজ্য।

    Reply
  7. অনুপ

    প্রতিক্রিয়াগুলো দেখে মনে হচ্ছে অামরা যতই শিক্ষিত হইনা কেন, উগ্র মৌলবাদ আমাদের ছাড়বে না!

    Reply
    • Golam Sorowar

      আপনারদের এটাই তো মূল সমস্যা যা কিছু ঘটুক না কেন সব কিছুর মধ্যেয়ই মৌলবাদ এনে সাম্প্রদায়িকতার ঝামেলা করতে হবে , মৌলবাদ রা কি আপনাদের বলেছে যে আপনারা অন্য ধর্মের লোকদের কে রং মেখে হোলি পালন করেন ।
      এভাবেই শুরু হয় ……………………।

      Reply
      • Amalesh

        হিন্দুদের এত সাহস হয় কেমনে যে আপনাদের গায়ে রঙ দিবে ? যারা আপনাদের গায়ে রঙ দেয় তারা অন্য কেউ নয় তা আপ্নারাই। গ্রেফতারকৃত যুবকদের পরিচয় জেনে নিবেন। এবার একটু মাথা খাটান কিভাবে শুরু হয়……………।

      • Munna

        প্রথম আপনার জানা উচিত হলিকে উপলক্ষ করে যারা এই নেংরামি করেছে এবং গ্রেফতার হয়েছে তারা সবাই মুসলমান কেউ হিন্দু না। আর আপনি ঠিক বলেছেন যে এভাবেই শুরু হয় ……………………কারন আপনার মত কিছু লোক এই শুরুর জন্য দিনরাত ইস্যু খুজতে থাকেন।

  8. farhan aziz

    হোলি আপনাদের ধর্মের লোকদের সাথে খেলেন মাখামাখি করেন ডলাডলি করেন কোন আপত্তি ত কেউ করবেনা, কিন্তু আপনারা মুসলমান মেয়েদের শরীরে রং নিয়ে ডলাদেন সেটা কি ধর্মীয় উৎসব ? তুহিন মািলিক বলছে বলেই সে আইনেরে উর্ধে বলে লিখে দিলেন , সমাজের নোংরামি কে নোংরামি বলেন , ভালকে ভাল বলেন? আপনার বোন , বউ, মা এর শরীরে কেউ হাত দিলেন আপনি বলবেন এটা ধর্মীয় উৎসব?

    Reply
  9. enamul

    তুহিন মালিকরা আইনের উর্ধ্বে না যদি সরকার পস্রয় না দেয় ।আইন সবার জন্য সমান ।রাস্ট যদি সঠীক প্রয়োগ করে ।অবিলম্বে তুহিন মালিকদের আইনের আওতাই আনা হোক।

    Reply
  10. Feroze Anwar

    We all think we are a ‘proud Bengali nation’, but it hurts to witness when a small group of people are trying to make Bangladesh into Pakistan. Followers of Islam claim the religion means peace. Are they blind? More Muslims are killed by Muslims than anyone else. It’s about time we stop killing anyone in the name of religion, whether it’s yours or mine.

    Reply
    • Md. Akhter Hossain

      BBC forecast a survey result that in 1970 “MUSLIM” will be the largest religion in the world. If Muslims are terrorist how it can? Its true, “ISLAM” is a religion of peace….

      Reply
    • মুহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম

      ভাই অামার,
      এই দেশকে পাকিস্তান বানাতে যাব কেন? অামরা হিন্দু, মুসলমান সবাই বাঙালি এ কথা যেমন সত্য তেমনি অামাদের ধর্মীয় পরিচয় কিন্তু ভিন্ন। কোনো হিন্দু যেমন মুসলমান না তেমনি কোনো মুসলমানও হিন্দু না। অামাদের ধর্মীয় উৎসবও ভিন্ন। তবে মুসলমান কোনো ছেলেমেয়ে কেনই বা হলি উৎসব উৎযাপন করতে যাবে? অার এই হলি উৎসবকে কেনই বা সার্বজনীন(সকলের জন্য মঙ্গলকর বা কল্যাণকর) বলা হবে? এই যেমন সচিব স্যার বললেন, (সকালে পূজার শুরু থেকেই নানা রঙের অর্ঘ্য নিয়ে নানা বয়সী ভক্তদের মন্দির প্রাঙ্গণে আসতে দেখা যায়। মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব অসীম কুমার বালাও স্ত্রী দীপশ্রীকে নিয়ে মন্দিরে আসেন।
      তিনি বলেন, হোলি বা দোল যে নামেই ডাকা হোক না কেন, এ উৎসব ‘ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে সার্বজনীন রূপ’ নিয়েছে, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি হাজির করছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)
      স্যারের শেষ কথায় অামি একমত। অসাম্প্রদায়িক(বিশেষ কোনো সম্প্রদায় বা দল সম্পর্কে নিরপেক্ষ) বাংলাদেশ। কিন্তু এই উৎসবতো মুসলমানদের জন্য কল্যাণকর হতে পারে না। তাহলে অাবার এ উৎসব সার্বজনীন হয় কী করে? অসাম্প্রদায়িক বাংলার প্রতিচছবিতো এটাই যে যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে।
      দাদাভাই(অজয় দাশগুপ্ত) শেষে এসে লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রীসহ অারও কয়েকজন তার এ মনোভাবের সাথে সমব্যথী। নানা দাদাভাই অামরাও অাপনার সাথে অাছি। কারণ অামরাও চাই না কারো মনে ব্যথা লাগুক। অার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কর্ণধার হিসেবে এর সফলতা বা ব্যর্থতার দায়ভার প্রথমেই প্রধানমন্ত্রীর । তাই অাপনার যদি কাউকে দোষারোপ করার ইচ্ছে থাকে তবে তাকে বাদ দিবেন কেন?

      Reply
  11. মুখতার

    আসলে যারা খুন জখম আর রক্তের নেশায় থাকে তাদের কাছে সব রঙই লাল বৈকি।

    আমরা কোনো ধর্ম বা বিশ্বাসে আঘাত করতে চাই না। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে তো বিছানা লাল না হলে কুমারী নয় ভেবে বিবাহ না করার রেওয়াজ ছিল।

    এ কথাগুলো না লিখলেই ভালো হতো।

    Reply
  12. ahmed

    অসাম্প্রদায়িকতা মানে ধর্মহীনতা নয়। অসাম্প্রদায়িকতার দোহায় দিয়ে কেন হিন্দু সংস্কৃতি কে আত্তীকরণ করছেন তা বোধগম্য নয়। কই ঈদুল ফিতরে তো আপনাদের কে আমাদের সাথে দেখি নাহ কিংবা কোরবানির সময় আপনাদের কে তো অনেক অপরিচিত মনে হয় । আর পার্শ্ববর্তী আপনাদের অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের কথা তো শুনাই যায় কি আচরণ। তখন কথায় থাকেন আপনারা। হোলি উৎসবের নামে অসভ্যতা হচ্ছে তাকে আপনি কোন ভাবেই জায়েজ করতে পারবেন নাহ উলটা এরকম কিছু যদি আপনাদের কারো সাথে হতো আপনারা আর আপনাদের এদেশের কিছু দোসর ঠিকি রাস্তায় নেমে হই-হুল্লর শুরু করে দিতেন । দয়া করে আপনাদের ধর্ম আপনারা পালন করেন আর আমাদেরকে আমাদের মতো থাকতে দিন।

    Reply
    • অনুপ

      অসভ্যতা কিন্তু হিন্দুরা করেনি।গ্রেফতার একটি ছেলেও হিন্দু নয়।

      Reply
    • বাঙাল

      আহাম্মদ সাহেব, আপানি একজন উগ্র ধর্মিও সম্প্রদায়িক ব্যাক্তি তা বলার আপেক্ষায় রাখে না। প্রথম আপনার জানা উচিত হলিকে উপলক্ষ করে যারা এই নেংরামি করেছে এবং গ্রেফতার হয়েছে তারা সবাই মুসলমান কেউ হিন্দু না। আর কথায় কথায় পার্শ্ববতি দেশের উদাহরন দেবেন না। এই দেশে স্বাধিন করতে হিন্দুদের আর আওয়ামিলীগের কর্মিরদের সব চেয়ে বেশী ত্যাগ স্বিকার করতে হয়েছিল একাত্তরে। আপনারা যারা তথাকথিত ইসলামকে রক্ষা কররা দায়িত্ব নিয়ে, একাত্তরে হানাদার পাকিস্থানিদের সাহায্য করেছিলেন তাদের প্রধান টার্গেট ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ে মানুষ ও আওয়ামিলীগ সমার্থকদের ধরে ধরে হত্যা করা।তাই এই দেশের হিন্দুদের পার্শ্ববর্তী দেশের উদাহরন দেয়ার আগে চিন্তা করবেন, এই দেশে সৃষ্টিতে কাদের অবদান কতটুকু।

      Reply
    • Amalesh

      আপনাকে কে বলেছে হিন্দু সংস্কৃতি কে আত্তীকরণ করতে? কোন ধর্মীয় উৎসবে অংশ নেয়া বা না নেয়া সম্পূর্ণই যার যার ইচ্ছা।হোলি উৎসবের নামে অসভ্যতা কারা করেছে তা কি বলার প্রয়োজন আছে ? বরং নিজ ধর্মের লোকদের উদ্দেশ্যে বলুন যাতে অন্য ধর্মের উৎসবে গিয়ে অসভ্যতা না করে।

      Reply
    • Munna

      প্রথম আপনার জানা উচিত হলিকে উপলক্ষ করে যারা এই নেংরামি করেছে এবং গ্রেফতার হয়েছে তারা সবাই মুসলমান কেউ হিন্দু না। গরু খুজবেন , পিয়াজ,রসুন খুজবেন পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের, মসলা খুজবেন পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের, বাচার জন্য শেষ ভরসা হিসেবে যাবেন পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের ডাকতারের কাছে, ডেইলি ৪০০০ মানুষ বাংলাদেশ থেকে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রে যায় যার ৩০০০ জনই মুসলিম এবং তারা সহি সালামতে ফিরে আসে তখন শুনিনা পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের কোন খারাপ আচরন !!! । এত কিছু যখন পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের খুজবেন তাহলে দোষটা আর বাদ দিবেন কেন???

      Reply
  13. Mahbub

    হলি খেলা। ইহা বাংলাদেশের কোন জাতীয় উৎসব নয়, একটি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব। এটা যেহেতু তাদের ধর্মীয় উৎসব তা তাদের ধর্মীয় উপসানালয়ের গন্ডিতে কিংবা তাদের সম্প্রদায়ের বা সমাজের মধ্যে থাকবে এটাই হওয়া উচিত। এ উৎসবে যাহারা অংশগ্রহণ করছে তারা একে অপরকে রাঙাক তাতে আমাদের কারও কিছু বলার নেই। ইহা কেন অন্য সম্প্রদায়ের জন্য বিরক্তির কারন হবে। পত্রিকায় যা দেখা গেল হলিখেলার নামে কিছু উচ্ছৃঙ্খল মানুষ রাস্তায় নেমে চলমান মানুষকে রাঙিয়ে দিচ্ছে সাথে অসভ্যতার সুযোগ নিচ্ছে। যা সত্যিই দুঃখজনক। এটা হওয়া উচিত নয়।

    Reply
    • Amalesh

      উচ্ছৃঙ্খল মানুষ গুলো কারা তা কি গ্রেফতারকৃত লোকগুলোর নাম দেখেও বুঝেন নি? যদি বলি ইচ্ছেকৃত ভাবে ষড়যন্ত্র মূলক ভাবে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য তা করা হয়েছে, আপনি কি বলবেন?

      Reply
  14. Kurchi Roy

    সাম্প্রদায়িক হিংসা উসকে দেওয়া সুযোগটা তো আমরাই করে দিচ্ছি। মুসলিম তরুণীদের উত্ত্যক্ত না হোলি পালন করলে হিংসা উসকে দেওয়ার সুযোগ কেউ পেত না।

    Reply
  15. mynul

    তুহিন স্যার সত্য কথা বলেই এত গা জ্বালা। হিন্দুরা হিন্দুদের উৎসব পালন করবে তাতে কেউ নিষেধ করবে না,কিন্তু হিযাব পড়া মেয়েদের কেন রং লাগিয়ে দেওয়া হল।

    Reply
    • enamul

      তরুণীদের যারা রঙ মাখাতে গিয়েছিল তাদের পরিচয়ও উদঘাটিত হয়েছে। তারা আর যে-ই হোক হিন্দু ছিল না।

      Reply
    • আব্দুল হালিম

      হ্যাঁ তুহিন “স্যার” ঠিক কথাই বলেছেন। কিন্তু বলেননি, যে ছেলেগুলা হিজাবধারীদের রঙ দিয়েছে তারা মুসলমান!

      Reply
  16. গনী আদম

    এতো এতো বিষয়ে রিট হয়, আদালতের গোচরে আনা হয়, কখনো কখনো মহামান্য উচ্চ আদালতের কোনো বেঞ্চ নিজেও স্যুয়োমোটো পদক্ষেপ নেন… ড. তুমিন মালিকের এ রকম মন্তব্যকে সেভাবে মোকাবেলার পদক্ষেপ নেওয়া যায় না কি?

    সংগঠনের তো অভাব নেই। উদ্যোগী উদ্যমী ব্যক্তিরও অভাব দেখি না নানা সময়ে। সংখ্যালঘুদের প্রতি প্রেমে মুখে ফেনা তুলে ফেলা প্রগতিশীলরা কী করছেন?

    ঠিকই বলেছেন, আওয়ামী লীগ বুঝতেও পারছে না তাদের কিছু লোকের হালুয়া-রুটির কামড়াকামড়ির ফাঁকে কী ভয়ানক সর্বনাশের পথে যাচ্ছে দেশ!

    Reply
  17. Ronim Chowdhury

    আপনি কি দেখেননি?কিছু কিছু তরুণীদের কীভাবে উত্ত্যক্ত করা হল এই হলির নামে।যেটা নিয়ে মামলা হল,রিপোর্ট হল?

    Reply
  18. সরকার জাবেদ ইকবাল

    ধর্ম, বর্ণ, জাতীয়তা নির্বিশেষে ‘সাধারণ’ মানুষেরা মিলেমিশেই থাকে। সমস্যা বাঁধায় তুহিন মালিকদের মত যতসব ‘অসাধারণ’ মানুষেরা। একজন শিক্ষিত মানুষ যখন অশিক্ষিতের মত কথা বলেন তখন কাকে ‘শিক্ষিত’ বলবো সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দেয়। বাংলাদেশ সম্প্রদায়গত সম্প্রীতির দেশ। সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প কাউকে ছড়াতে দেয়া হবে না।

    Reply
  19. shilpi biswas

    you are right always tuhin malik do this. he has no idea about Hinduism. all time he send bed comments. my request to mr. malik pls respect all regions people.

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—