Aparajeyo_Bangla-ed

ঘটনাটা সামান্য। এ বিষয়ে অনেক বিজ্ঞ ব্যক্তিই নিজেদের মতামত না-ও দিতে পারেন উচ্চমার্গ অবস্থানের কারণে। কিন্তু ঘটনাটা আমার কাছে সামান্য নয়, অনেক বড়। এত বড় যে, ‘সামান্য’ বাস ভাঙচুরের মতো বিষয় আমলে আনলে আমরা হালের বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি একটু হলেও বুঝতে পারব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তাদের অন্তত কেন্দ্রস্থিত অবস্থানের কারণে, অতীতের অবদানের কারণে, সন্দেহাতীতভাবেই দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, প্রধানত ছাত্ররা, বাস ভাঙচুরের মতো একটা খেলো প্রতিযোগিতায় নেমেছে দেখে বিস্ময় প্রকাশ না করে পারা যাচ্ছে না।

পত্রপত্রিকা পড়ে মোটা দাগে যা বোঝা যাচ্ছে সেটা হল, সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার সাতটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিশ্বিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত করায় ঢাকা বিম্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বড় গোসসা হয়েছে। সেই গোসসা ক্ষোভে রূপান্তরিত হয়েছে বাস ভাঙচুরের মাধ্যমে। কার বাস ভাঙা হয়েছে এখানে সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়। প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে বাস ভাঙচুর কিংবা যে কোনো সম্পদ নষ্ট করা তো একটি ‘মনস্তাত্ত্বিক রোগ’ ও আধিপত্যবাদী মানসিকতার বৈকল্যের পরিচয় বহন করে।

আহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়! আমাদের গৌরবান্বিত ইতিহাসের বটবৃক্ষ, প্রতিবাদের ভাষাধিরাজ। তার অতিআধুনিক ছাত্রদের প্রতিবাদের ভাষা কী কুৎসিত!

এরপর এল প্রতিশোধপর্ব। যে বাসটি ঢাবির টিএসসির সড়কদ্বীপে ভাঙা হয়েছিল, সেটি ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা নিজেদের আবার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ‘যুবরাজ’ মনে করে। যখনই নিজেদের স্বার্থে আঘাত লাগে, তখনই ক্ষমতাসীনদের ছত্রচ্ছায়ায় সংখ্যায় নগণ্য কিন্তু প্রতাপে অগগ্রণ্য কিছু ছাত্র বাস ভাঙচুর থেকে শুরু করে বাস আটকে রাখা, জিম্মি করা, চাঁদাবাজি ইত্যাদি নানা ঘটনা ঘটায়।

এটা নব্বই-পরবর্তী তথাকথিত ‘গণতান্ত্রিক’ রাজনৈতিক পরিবেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সাধারণ চিত্র। এই চিত্রের রাহুগ্রাসে কত গণপরিবহন যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে ওই রুটে বাস উঠিয়ে নিয়েছে তা নিয়ে ভালো ‘বিশেষ প্রতিবেদন’ হতে পারে। কতিপয় ‘যুবরাজ’ পূর্বতনদের উত্তরাধিকারের ধারাবাহিকতায় নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করল ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে। এবার ঢাবির ওপর প্রতিশোধ নিতে ‘প্রতিবাদস্বরূপ’বিশ্ববিদ্যালয়টির নামাঙ্কিত বাস ভেঙে দিল।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সমান বয়সী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়– নব্বই-পরবর্তী দিশাহীন ছাত্ররাজনীতিতে বাংলাদেশকে নতুনমুখী ছাত্রআন্দোলনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা– কখনও ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন, কখনও সূর্যাস্ত আইনবিরোধী আন্দোলন, কখনও মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ কুশক্তি শিবিরবিরোধী আন্দোলন (যে আন্দোলনের কারণে বাংলাদেশের একমাত্র ক্যাম্পাস হিসেবে প্রকাশ্যে শিবিরের রাজনীতি সাংস্কৃতিকভাবে নিষিদ্ধ), কখনও ছাত্রহত্যার প্রতিবাদে গর্জে ওঠা সন্ত্রাসবিরোধী আন্দোলন– সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ কোন মানসিক দীনতা!

 

JU - 555
নব্বই-পরবর্তীতে বাংলাদেশকে নতুনমুখী ছাত্রআন্দোলনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে যে বিশ্ববিদ্যালয় সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ কোন মানসিক দীনতা!

 

এরপর আবার মঞ্চে আবির্ভূত হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বাস ভাঙচুরের বদলে বাস ভাঙচুর। দুটি প্রথম সারির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ রকম কদর্য প্রতিযোগিতাই কি তবে আজকের বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বেঞ্চমার্ক স্টান্ডার্ড’? এই একটি ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান উৎপাদন, বিতরণের সংস্কৃতি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষার্থীদের কোন কাণ্ডজ্ঞানের আধার হিসেবে গড়ে তুলছে, সেটাও পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। তাহলে কি ধরে নিতে হবে, এটাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাণ্ডজ্ঞানের মানদণ্ড?

এসব ভাবতে যে বড়ই বেদনা জাগে মনে। আগে মানুষ দূর থেকেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীকে দেখিয়ে দিয়ে গর্বে বুক ফুলিয়ে কথা বলত। আর আজকে আমাদের সেই কবিতার চরণ উচ্চারণ করতেই সময় চলে যায়:

“আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে…!”

২.

ধরে নিলাম, কোনো বাস ভাঙচুর হয়নি, কোনো রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট হয়নি। তবু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘প্রতিবাদ’এর ইস্যুটি একটু ভেঙে দেখা উচিত। মূলত এই বিক্ষোভের মাধ্যমে তারা যে তাদের অজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এতে বোধহয় কারও কোনো সন্দেহ নেই। তারা কি জানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস? তারা কি জানে সারা দুনিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে চলে তার রূপরেখা? নাকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় যে, এর শিক্ষার্থীরা অযৌক্তিক চিন্তাভাবনা করলে সেটাও মানদণ্ড হিসেবে মেনে নিতে হবে?

১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ যখন ১৯১১ সালে রদ হল, তখন পূর্ব বাংলাকে ক্ষতিপূরণ প্রদান হিসেবে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেন তৎকালীন ভারতের ভাইসরয় ও গভর্নর জেনারেল লর্ড চার্লস হার্ডিঞ্জ। যে অভিব্যক্তি ১৯২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের প্রথম সমাবর্তন বক্তা হিসেবে প্রকাশ করে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন চ্যান্সেলর লর্ড বালওয়ের-লিটন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বলেছিলেন: “a splendid imperial compensation.”

এই ‘এক চমৎকার রাজকীয় ক্ষতিপূরণ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বিদ্যাপীঠ ঔপনিবেশিক শাসকদের কেমন চপেটাঘাত করেছিল, তা তো আমাদের অজানা নয়। এর সব কথাই তো অধ্যাপক সরদার ফজলুল করিমের বহুল আলোচিত ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পূর্ববঙ্গীয় সমাজ: অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকএর আলাপচারিতা’ গ্রন্থটিতে অত্যন্ত নিটোলভাবে বর্ণিত আছে।

যাহোক, ১৯৪৭ সালের ভারতভাগের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠল পূর্ব বাংলার মানুষের স্বর ও সুরের প্রতীক। সঙ্গত কারণেই তার একাডেমিক চরিত্রেও এল বড় পরিবর্তন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তখন আর শুধু শিক্ষাপ্রদানের (একাডেমিক) প্রতিষ্ঠান রইল না, একইসঙ্গে হয়ে উঠল অধিভুক্ত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণকারী ও সনদপ্রদানকারী কর্তৃপক্ষও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ভূমিকা হুট করেই হয়েছে, তা অবশ্য নয়। ব্রিটিশ আমলে ভারতবর্ষে ‘উড ডিসপ্যাচ ১৮৫৪’এর সুপারিশক্রমে সর্বপ্রথম ১৮৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কলকাতা, মুম্বাই ও মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়। যেগুলো লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুরূপ শুধু পরীক্ষা গ্রহণকারী ও ডিগ্রি প্রদানকারী সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে গড়ে উঠেছিল। ১৯০৪ সালে ভাইসরয় লর্ড জর্জ কার্জন ‘ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট’এর সূচনা করলে ওই অ্যাক্টের অধীনেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একাডেমিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবেও যাত্রা শুরু করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দ্বৈত ভূমিকা আসলে ভারতবর্ষের আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় ধারণারই পরম্পরা। যে পরম্পরা ১৯৯২ সালে ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

এখন প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঢাকার স্নাতক-স্নাতকোত্তর পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সাতটি কলেজ পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার। এই কলেজগুলোর মধ্যে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ ও মিরপুর বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয়করণের দাবি নিয়ে রাজপথে নেমেছে। অবশেষে সরকার আলাদা আলাদা করে নয়, বরং সবগুলো একটি ‘বৃহত্তর ছাতা’র নিচে নিয়ে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কী এমন ক্ষতি করবে, তা বোধগম্য নয়।

আবার এটাও বোধগম্য নয়, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিক্ষার্থীরা যখন তাদের প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত ইনস্টিটিউট করার আন্দোলন করছেন, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সেই আন্দোলন নিয়ে আশ্চর্যজনকভাবে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করা ও আন্দোলনস্থলে গিয়ে দলবেঁধে বিরুদ্ধাচারণের কী অর্থ থাকতে পারে! আন্দোলনের দাবি মেনে নেওয়া হবে কি হবে না সে সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের এখানে নাক গলানোর কী আছে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিশ্চয়ই জানেন, চারুকলা কিংবা লেদার টেকনোলোজিও একদা কলেজ ছিল এবং পরে আইবিএর মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধা-স্বায়ত্তশাসিত ইনস্টিটিউটে রূপান্তরিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার আগে টেক্সটাইল কলেজও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল।

ঢাকা বিভাগসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত বাংলাদেশের সিংহভাগ সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। কোনো দিন শুনিনি, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে বিকাশমান শিক্ষার্থীদের জন্য হীনমন্যতা বা ক্ষতির কারণ হয়েছে। বরং সবাই একইসঙ্গে সমাবর্তনে সনদ নিয়েছেন। এখনকার শিক্ষার্থীদের এসব মেনে নিতে সমস্যা কোথায়?

সমস্যাটা খুব ভালোই বোঝা যাচ্ছে। মেডিক্যাল বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে সমাবর্তনে সনদ নিলে, কোনো আপত্তি নেই তাদের, কারণ এ ডিগ্রিগুলো বাজারের হীরক বস্তু। কিন্তু এখনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ইনস্টিটিউট এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকাস্থ সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করলে তথাকথিত প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের শিক্ষার্থীদের মান-ইজ্জত-জাত ধূলোয় মিশে যাবে। কারণ বাজার বলেছে এদের মার্কেট-ভ্যালু নেই!

আহারে, সর্বজনের বিশ্ববিদ্যালয়, কী নিদারুণ করুণ তার শিক্ষার্থীদের হীন্মন্য বৈষম্য, ব্যবহার! কী ভয়ঙ্কর বৈষয়িক ব্যবহারিক কাণ্ডজ্ঞান!

অথচ গত কয়েক বছর হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশকাঁপানো ছাত্রআন্দোলন নেই। নেই ডাকসু নির্বাচনের প্রাণপণ দাবি। শিক্ষা-বাণিজ্য, হলদখল, সন্ত্রাস, যৌননিপীড়ন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কিংবা শিক্ষা-গবেষণা খাতে রাষ্ট্রীয় বাজেট বৃদ্ধির দাবিতে দুর্বার বুদ্ধিবৃত্তিক ছাত্রআন্দোলন, যা দেশে নতুন দিশা দিবে। এত সব ‘নেই’–এর কারণগুলোও মোটাদাগে পরিষ্কার।

যাদের ১৯৭৩এর অধ্যাদেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন বিষয়ে ধারণা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বজনীন ভূমিকা বিষয়ক বোঝাপড়া নেই, ইন্টারডিসিপ্লিনারি ও মাল্টিডিসিপ্লিনারি অ্যাপ্রোচ নেই, পরীক্ষার নম্বর বাগানোও বিসিএস উত্তীর্ণের ‘অদ্বিতীয়’ স্বপ্ন ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অর্থবহ কারণ নেই। সেই প্রজন্মের কাছে এমন অবিবেচনাপ্রসূত, কাণ্ডজ্ঞানহীন ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় আচরণ ছাড়া আর কী-ই-বা আশা করতে পারে বাংলাদেশ।

বলাবাহুল্য, পৃথিবীসেরা যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নাম আমরা জানি সেগুলোর সেরা হওয়ার পেছনে তাদের অধিভুক্ত কলেজগুলোরও অনেক বড় অবদান রয়েছে। অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, ভারতের প্রাদেশিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একাডেমিক দায়িত্বের পাশাপাশি এখনও শুরুর মতোই বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষা-গ্রহণকারী ও ডিগ্রি-প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এবং কলেজগুলো বিনা প্রশ্নে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো, পতাকা ইত্যাদি ব্যবহার করে।

এদের সামগ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা নিয়ে অবশ্য আমার দ্বিমত নিয়ে একটি পাঠ আছে। সেটা এই আলোচনায় প্রাসঙ্গিক নয় বলে উহ্য রাখা হল।

৩.

বিক্ষুব্ধ এই শিক্ষার্থীরা কি জানে, যারা সেই সময় স্নাতক-স্নাতকোত্তর পাস করেছে, তাদের ফেসবুকে আইডিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও লোগো শোভা পায় এবং সেটাও সঙ্গত কারণেই। তাদের প্রাক্তনদের এ ধরনের কোনো অহমবোধজনিত সমস্যা দেখা যায় না। বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে স্নাতক-স্নাতকোত্তর জীবন কাটানো বহুজনকেই দেখেছি, কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদপত্র পাওয়া শিক্ষার্থীদের সহপাঠী জ্ঞান করেছেন। সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামিদামি পণ্ডিতদের ক্লাস করতে অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীদেরও উপচেপড়া ভিড় ছিল এবং সেটা স্বাভাবিক জ্ঞান করা হত।

আজকের শিক্ষার্থীরা কোন ভিনগ্রহ থেকে এসেছে যে, তারা এই সিদ্ধান্ত এমন ঘৃণা, বিদ্বেষের চোখে দেখা শুরু করেছে। এ রকম দীন-হীন মানসিকতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মহাসমুদ্রে ‘বিশ্ববিদ্যা’ অর্জিত হয় নাকি! শেষ পর্যন্ত হয়তো একটি সনদ জোটে কপালে, কিন্তু তা দিয়ে দেশ-দশ-সমাজের তেমন উপকার হয় না। জনগণের টাকা দিয়ে পড়ে শেষ পর্যন্ত জনগণের সঙ্গে প্রতারণাই করা হয়।

যে কলেজগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তাদের শিক্ষার্থীদের মোটেও ‘ছাগলের তৃতীয় বাচ্চা’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তারা এই রাষ্ট্রেরই সন্তান এবং তাদের অচ্ছুত ভাবার কারণ নেই। তাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ দেওয়া হলে খুব বেশি ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও নেই। কেননা কে কতটা পারঙ্গম সেটার প্রমাণ শেষ পর্যন্ত সনদ দিয়ে হবে না, মেধা দিয়ে হবে। কলেজপড়ুয়া কোনো শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল মাটিতে পড়ুয়া কোনো শিক্ষার্থীকে মেধায়-মননে-প্রতিভায় পরাজিত করে দিতে পারলে, যে জয়ী হল হয়তো সে-ই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হয়ে উঠবে দেশে কিংবা বিশ্বমঞ্চে। এটাই বাস্তবতা।

ক্যারিয়ারকেন্দ্রিক চিন্তাভাবনা ও স্বার্থপরতা আজ এমন এক জায়গায় চলে গেছে যে, জ্ঞানার্জনের চেয়ে সনদের চাকচিক্যের পেছনেই শিক্ষার্থীদের ছোটাছুটি বেশি। সেই স্বার্থপরতার বীজ থেকে এমন এক ‘বৃষবৃক্ষ’ জন্ম নিয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ওই সনদের গরমে মাটিতেই পা ফেলতে চায় না। অথচ কথা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক জ্ঞান শিক্ষার্থীদের বিনয়ী করবে। করেনি। কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে, যে শিক্ষকদের শিক্ষায় আজ শিক্ষার্থীরা বড় হচ্ছে, তারাই মোটা দাগে শিক্ষার্থীদের এই অধঃপতনের জন্য দায়ী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর অন্দরে ঢুকুন, দেখতে পাবেন এর সত্যতা। হলপ্রশাসন কী নাজুক মেরুদণ্ডহীন হয়ে ক্ষমতাসীন ছাত্রদের চাটুকারিতায় মত্ত! সেই শিক্ষকদের কাছে বিশ্ববিদ্যার বীক্ষণ ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর জন্ম দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা করা একটু অবাস্তব দাবি হয়ে যায় বৈকি।

৪.

কদিন আগে, গবেষণার অংশ হিসেবে আমাকে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে হয়েছিল। সেই উপস্থাপনায় আমি দেখিয়েছিলাম, ঔপনিবেশক আমলে উপমহাদেশে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশাল অবদান আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয় রাখতে পারেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর সেই বিরলতম বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অন্যতম যে একটি জাতির জন্ম দিতে ভূমিকা পালন করেছে– একটি ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় অকাতরে রক্ত বিসর্জন দিয়েছে– শিক্ষার অধিকার আদায়ে, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছে– আর গণমানুষের মধ্যে মুক্তির চৈতন্য সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তো দায়িত্ব। এই তার সামাজিক দায়বোধ। এই আমাদের স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়, যে আমাদের মাথা নত না করতে শিখিয়েছে।

অথচ আজ কাদের হাতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়। যাদের সামাজিক দায়বোধ নেই, আত্মমর্যাদা নেই। হিংসা, দ্বেষ, অহম, ঘৃণা, নাকউঁচু, ছোঁয়াচে রোগে ভারাক্রান্ত যাদের মানসিকতা। যার হওয়ার কথা ছিল সবচেয়ে উদার, গণতান্ত্রিক ও মানবিক প্রতিষ্ঠান– তার শিক্ষার্থীদের মধ্যে এত বড় রক্ষণশীলতা!

এই ‘অদ্ভুত উটের পিঠে’ সওয়ার হয়েছে বাংলাদেশ। যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন ‘শিক্ষিত’ শিক্ষার্থীতে ভরে উঠতে পারে, সে দেশের তলানিতে যাওয়াই যেন নিয়তি।

সৌমিত জয়দ্বীপলেখক ও গবেষক; ভারতের গুজরাত বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি স্কলার

২০ Responses -- “আহ, বিশ্ববিদ্যালয়!”

  1. Shariful Islam Srabon

    নমঃ দাদা! আপনার লেখাটা পড়লাম। খুব ভাল লিখেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ঐতিহ্য, দায়িত্ব, কর্তব্য, আরও অনেক কিছু সম্পর্কে অনেক সুন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করেছেন।
    আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে বলছি না, আমি আপনার লেখার একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে এখানে মন্তব্য করতে আসছি।
    প্রথমত, আমি ভেবেছিলাম আপনি জাহাঙ্গীরনগর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ভাঙ্গা নিয়ে লিখেছেন। কিন্তু না, আপনার লেখার মূল ফোকাস হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ টি কলেজকে অধিভূক্ত করা নিয়ে চলমান ছাত্র আন্দোলন।
    আপনার লেখার সূত্র ধরেই বলছি, টিএসসিতে যখন আমাদের অবরোধ চলছিল, তখন শুধু আপনাদের বাস নয় সব যান চলাচল বন্ধ ছিল। কিন্তু আপনাদের বাস বা ছাত্ররা আমাদের অবরোধ উপেক্ষা করে আন্দোলনের ভিতর দিয়ে বাস চালিয়ে নেওয়ায় আপনাদের বাসের কাচ ভেঙ্গেছে ঢাবির ছেলেরা। তারপর সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সমাধানের জন্য ঢাবির প্রক্টর জাবির প্রক্টরের সাথে কথা বলে একটা সমাধানে আসেন। কিন্তু পরদিন আপনাদের ছেলেরা যেটা করেছিল, সেটাকে আপনি কি বলবেন? এ বিষয়টা আপনাদের বিবেচনায় ছেড়ে দিচ্ছি।
    এবার অধিভুক্ত নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। আমাদের আন্দোলনটা অধিভুক্ত বা অন্তর্ভুক্ত বিরোধী ছিল আপনি কিভাবে জানলেন বা বুঝলেন আমি জানি না। তবে আমাদের আন্দোলন ছিল অধিভুক্ত কলেজগুলোর ছাত্রদের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বা খেলোয়াড় হিসেবে ঢাবি টিমে অংশগ্রহণ করার বিরুদ্ধে। যে আন্দোলনকে আপনি সরাসরি অধিভুক্ত বিরোধী আন্দোলন বলেছেন। শুধু মাত্র যে ৭টি কলেজ ঢাবির অধিভুক্ত তা কিন্তু নয়, ঢাবির আন্ডারে বর্তমানে ১০৭টি কলেজ বা প্রতিষ্ঠান অধিভুক্ত। কোথায় ঢাবির ছাত্ররা কি কখনো সেই সব কলেজ বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। আপনাকে বসতে দিলে যখন শুতে চাইবেন,তখন আপনার জন্য কি করা প্রয়োজন সেটা আপনিই আমার চেয়ে ভাল বুঝবেন।
    আর হোম ইকোনোমিক্স কলেজের ইনস্টিটিউট দাবী আন্দোলনে ঢাবি ছাত্ররা দলবেধে গিয়ে তাদের আন্দোলনে প্রতিরোধ করেছে না তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা চালিয়েছে এমন কোন ঘটনার প্রমাণ কি আপনার কাছে আছে। যদি না থাকে তবে এমন মনগড়া কথা বলার জন্য আমি আপনার কথার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। হোম ইকো কলেজের দাবির বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন ছিল, ওদের আন্দোলনের ফলে আমাদের এবং সাধারণ জনগণের যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তার সমাধান করা। কারণ নীলক্ষেতের পরেই আমাদের দুটি হল একটি ইনস্টিটিউট রয়েছে, তাছাড়া লেদার ইনস্টিটিউটের ছাত্র ছাত্রীদের অনেকেই এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। তাদের আন্দোলনের কারণে, রাস্তা অবরোধের কারণে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল তার সমাধান করা।
    আর আপনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যারা এখন শুধু বিসিএস নিয়ে ভাবে তাদের কাছে এর চেয়ে ভাল কি আশা করবেন? দাদা আমি বলছি না, ঢাবির ছাত্ররা বিসিএস নিয়ে ভাবে না। তারা শুধু বিসিএস নয় প্রতিটা সেক্টর, প্রতিটা পর্যায়, প্রতিটা অধ্যায় নিয়ে ভাবে। দেশের প্রশাসন কিভাবে চলবে, অর্থনীতি কিভাবে চলবে, সমাজ ব্যবস্থা কিভাবে চলবে সবকিছু নিয়ে ভাবে। যেখানে প্রতিবছর ৬০০০ +/- ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয় সেখানে সবাই যে বিসিএস নিয়ে ভাবে তা কিন্তু নয়। এখানে ৬০০০ জন যদি হয় তবে তাদের চিন্তাও ৬০০০ । কাজেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রের জন্য সবছাত্রকে দায়ী করতে পারেন না। আপনাদের সেই একজন সেঞ্চুরিয়ানের জন্য কিন্তু কেউ আপনাদের সবাইকে সেঞ্চুরিয়ান বলে না।
    এবার আমি ঢাবি ছাত্র হিসেবে কিছু কথা বলতে চাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জনগণের অধিকার নিয়ে আন্দোলন করে না, জনবান্ধব বাজেট নিয়ে আন্দোলন করে না, সামাজিক সমস্যার সমাধানের জন্য আন্দোলন করে না। জনগণের টাকায় লেখাপড়া করে আমরা জনগণের সাথে প্রতারণা করছি। দাদা জনগণের টাকায় কিন্তু আপনারাও পড়াশোনা করেছেন, দায়িত্ব যদি থাকে তবে আপনাদেরও কিছু আছে। আমরা যেটা করছি না বা করতে পারছি না সেটা আপনি/ আপনারা করুন, আপনারা কেন করছেন না? আপনারা আন্দোলনে নামুন, সবাইকে দেখিয়ে দিন যে আপনারাও পারেন।
    একটা বিষয় খুব খারাপ লেগেছে আপনার লেখাটা পড়ে, সেটা হলো, ভেবেছিলাম আপনি নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখবেন, কিন্তু না সবার মত আপনার লেখাতেও কেমন যেন একটু জেলাস মুড চলে এসেছে। এটাই স্বাভাবিক, সেটা আমরা সবাই জানি।
    স্যরি দাদা, আপনি আপনার মত এত বড় মাপের কেউ নই, আমার জ্ঞান খুবই সীমিত। যদি ভুল কিছু বলি ছোট ভাই মনে করবেন। তবে আপনার সম্পর্কে আমার যতটা জানা ছিল, সে হিসেবে আপনার লেখাটা আমার কাছে মানানসই মনে হয়নি। তাই বললাম…….

    Reply
  2. তাফহিমুল ইসলাম ফাহিম

    ঢাবির নির্ঝর ভাইকে বলছি , রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করা কোন যদি অপরাধ হয় ? তাহলে বাস ভাঙচুর করা কতটা ভয়ানক অপরাধ হতে পারে ? আর একজন শিক্ষার্থী হয়ে আপনি কিভাবে বাস ভাঙচুর করার পক্ষে যুক্তি দেখান ? যারা নিজের স্বার্থে বাস ভাঙচুর করতে পারে এরা ভবিষ্যতে নিজের স্বার্থে সুযোগ পেলে দেশটা বিক্রি করতেও কুণ্ঠাবোধ করবেনা । অনেক কিছুই লিখার ছিলো কিন্তু সময় স্বল্পতার কারনে পারিনি ।

    Reply
    • শাদনান মাহমুদ নির্ঝর

      তাফহিমুল ইসলাম ফাহিম ভাই, বাস ভাঙচুর অবশ্যই অপরাধ, রাস্তা অবরোধ ও অবশ্যই অপরাধ। কিন্ত রাস্তা আটকে আন্দোলন করা বা বাসের একটা গ্লাস উত্তেজনায় ভেঙ্গে দেয়া ‘ভয়ংকর অপরাধ’ কিনা বুঝতে পারতেছি না। আর ‘বাস ভাঙচুর’ এবং ‘দেশ বিক্রি’ যদি আপনি একই পাল্লায় মাপেন তাহলে আমার বলার কিছু নাই; সেই হিসেবে বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় এর অনেক অনেক ছাত্র দেশ বিক্রির জন্য এক পায়ে দাঁড়ায় আছে। ভার্সিটির কোন রুটের কোন বাসে কোন এক সপ্তাহে ঝামেলা হয় না এমন কোন ভার্সিটি মনে হয় না বাংলাদেশে আছে। তার মানে কি এরা সবাই ভয়ংকর অপরাধী? পাঁচটা বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আছি, এইটুক জানি যেকোন উত্তেজনা আর ঝামেলার প্রাথমিকা ধাক্কা যায় বাসের উপর দিয়ে। ব্যাপারটা এত বড় করে দেখার কিছুই নাই।

      Reply
  3. শাদনান মাহমুদ নির্ঝর

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ছাত্র হিসেবে কিছু জিনিসের উত্তর দেই –

    প্রথমত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এর ‘বাস ভাঙচুর’ এর ঘটনা খুব বড় কিছু নয়। শুধু পেপার পত্রিকার খবর পড়ার পর যে কোন কিছু নিয়ে লিখে ফেলা উচিত নয় আশা করি এই ব্যাপারটা লেখক বুঝবেন। এই ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটে আমাদের দেশে আর আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে খুব বড় করে দেখার বিষয় নয়। এই দুই বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রায় সব সাবেক ছাত্রই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জায়গায় অধিষ্ঠিত, খুটির জোরে মাঝে মধ্যেই তারা অতিরিক্তর বেশি করে ফেলে কিন্ত তার মানে এই নয় যে দুই বিশ্ববিদ্যালয় এর মধ্যে অবস্থা যুদ্ধংদেহী। কোন বিশ্ববিদ্যালয় এর ছাত্ররা নিজেদের “আরিচার যুবরাজ” মনে করে না আবার কোন বিশ্ববিদ্যালয় এর ছাত্রই নিজেদের ঢাকার রাজাও মনে করে না। বয়স কম, রক্ত গরম, হুটহাট সামান্য উত্তেজনায় খেই হারিয়ে ফেলা খুব বড় কোন ইস্যু না। কিন্ত সামান্য (ধরলাম বিশাল বিশাল বড় ঘটনা, বাংলাদেশে এইটাই প্রথম কোন মারামারির ঘটনা) ঘটনায় ঢালাও ভাবে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের “‘মনস্তাত্ত্বিক রোগ’ ও আধিপত্যবাদী মানসিকতার বৈকল্যের পরিচয়” এই সব ট্যাগ দেয়া কতটুক যুক্তিসঙ্গত আশা করি লেখক ভেবে দেখবেন।

    দ্বিতীয়ত, লেখক খুব সাফাই গাইলেন সাতটি কলেজের অধিভুক্তি নিয়ে। একটা লাইন কোট আনকোট করলাম “আন্দোলনের দাবি মেনে নেওয়া হবে কি হবে না সে সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের এখানে নাক গলানোর কী আছে?”; হ্যা অবশ্যই এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষার্থীদের নাক গলানোর কারন। উল্টাপাল্টা কোন ডিসিশন যা বিশ্ববিদ্যালয় এর নাম নিচে নামায় সেইটা অবশ্যই করা যাবে না। ইডেন মহিলা কলেজের ভর্তি পরীক্ষা হবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর আন্ডারে একটা নামকাওয়াস্তে পরীক্ষা, এরপর চার বছর পরে তারা সমাবর্তন নেবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যার উপরে লোগো থাকবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর এইটা তো মেনে নেওয়া যায় না। তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর কোন শিক্ষার্থীর এত কষ্ট করে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার দরকার কি? লোগো হয়তো একটা ছবি মাত্র কিন্ত ওই লোগোর জন্য, ওই লোগো যাতে যথাযথ ভাবে আমার নামের সাথে ব্যবহার করা যায় তার জন্যই আমাদের অনেক সাধনা করতে হয়। নীলক্ষেতের রাস্তা আটকিয়ে মানুষ জিম্মি করলেই হয় না, পড়ালেখাটা অন্তত আগে ঠিকঠাক মত করতে হয়। আর বাস ভাংলে যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এর ছাত্ররা “মানসিক দীনতা”র পরিচয় দিয়ে থাকে তাহলে একটা ব্যস্ত সড়ক দিনের পর দিন আটকে আন্দোলন আরো বড় “মানসিক দীনতা” হওয়ার কথা, আশা করি লেখক ব্যাপারটা বুঝবেন।

    তৃতীয়ত, আবার কোট আনকোট করলাম “চারুকলা কিংবা লেদার টেকনোলোজিও একদা কলেজ ছিল এবং পরে আইবিএর মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধা-স্বায়ত্তশাসিত ইনস্টিটিউটে রূপান্তরিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার আগে টেক্সটাইল কলেজও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল।”; লেখক আসলে কি চাইলেন? আইবিএ আর ঢাকা কলেজ, তিতুমীর কলেজ এক পাল্লায় মাপতে চাইলেন? দয়া করে উত্তর দিবেন। এই উত্তরটুকুও দিবেন যে তিনি কিভাবে বিশ্বাস করেন যে তিতুমীর কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আসলে তা এক সময় আইবিএ মানের হবে? প্রিয় সৌমিত জয়দ্বীপ আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর ইতিহাস টেনে কি উদাহরন দিতে চাইলেন তা আমার মত নিতান্ত কম জানা শোনা মানুষের বোঝার কথা না কিন্ত এইটুক আশা করি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয় আর আমাদের অনেক গর্বের জায়গা নিয়ে লেখার সময় এই ধরনের কথা (এ রকম দীন-হীন মানসিকতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মহাসমুদ্রে ‘বিশ্ববিদ্যা’ অর্জিত হয় নাকি!) লেখা থেকে বিরত থাকবেন। ধন্যবাদ।

    Reply
    • আবদুর রহিম

      বাস ভাংচুরকে সমর্থন করে লিখতে (সাফাই গাইতে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রের লজ্জা হওয়া উচিত।
      ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন রেজিস্টার্ড ছাত্র হিসেবে পত্রিকায় সাত কলেজের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তির খবরে খুশী হয়েছিলাম – ভেবেছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এত বড় অর্জনে আপনারা খুশী হবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসর বৃদ্ধিতে আপনারা খুশী হননি – মনটা ছোট তাই ছোট হতে চান বৈকি !
      আপনি লিখেছেনঃ আইবিএ আর ঢাকা কলেজ, তিতুমীর কলেজ এক পাল্লায় মাপতে চাইলেন?
      উত্তর দিচ্ছি-
      আপনি ঢাকা কলেজের গৌরবময় ইতিহাস জানেন না, এখনও ঢাকা কলেজের অনেক ছাত্র শিক্ষককে মেধার বিচারে সবাই সন্মান করেন, তীতুমীর কলেজ সরকারী বড় কলেজ হিসেবে তারও অধিকার আছে। আপনি হয়তো জানেন না যে কি পরিমাণ বিশাল বরাদ্দ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয় সরকার কোটি গরীব মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ থেকে। এ সুবিধা থেকে শিক্ষার আলো আরও বেশী শিক্ষার্থীকে ছড়িয়ে দিতে আপনাদের আপত্তি কেন?
      চিবিয়ে ইংরেজী শেখার ট্রেনিং দেবার ‘আইবিএ’ অবিলম্বে একেবারে বন্ধ করে দেয়াই সঙ্গত – যারা এসব পড়তে চায় তারা নিজ খরচে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা বিদেশে গিয়ে পড়ে না কেন? গরীব মানুষের অর্থে এ বিলাসিতা বন্ধ হবে কবে?

      Reply
      • শাদনান মাহমুদ নির্ঝর

        আবদুর রহিম, সম্ভবত প্রথম দুই লাইন লিখে আমি আপনাকে বুঝাতে পারি নাই। বাস ভাঙচুর নিয়ে আমি কোনভাবেই সাফাই গাই নাই, কিন্ত ব্যাপারটা যত বড় করে বলা হচ্ছে সেইটা তা না। ঢাকা শহরে কিন্ত ১০ টাকা ১৫ টাকা ভাড়ার জন্যও মানুষ বাসে মারামারি করে, বাস ভাঙ্গে, সেইগুলা বড় করে লেখা হয়? আর যে ঢাকা কলেজের অধিভুক্তিতে আমাদের মত ‘ছোট মনের মানুষের’ সমস্যা হচ্ছে বললেন সেই ঢাকা কলেজের ছেলেরা বাসের মধ্যে ভাড়া নিয়ে কি করে আর প্রতিদিন কয়টা বাস ভাঙ্গে সেইটা ঢাকা শহরের এমন কোন মানুষ নাই যে না জানে।

        সাতটা কলেজ যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর অধিভুক্ত হয় সেইটা ভালো খবর, সাত কলেজের পড়ালেখার মান বাড়বে, কিন্ত আমাদের কি লাভ হবে সেইটা কি বুঝায় বলবেন প্লিজ? ঢাকা কলেজের কোন টিচার আমাদের এসে পড়াবেন? আমরা কি নতুন কোন অত্যাধুনিক ল্যাব পাব? আমাদের সার্টিফিকেটে কে নতুন বিশাল কোন কিছু যুক্ত হবে? দয়া করে জানাবেন। আর জানানোর সময় এটাও দয়া করে বলবেন যে “সাত কলেজের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্তি” কোন হিসেবে বা কোন দিক দিয়ে আমাদের জন্য ‘অর্জন’!!??

        আবদুর রহিম, আমি কোন গৌরবময় ইতিহাস অস্বীকার করি নাই, করার প্রশ্নই আসে না। কলেজ লেভেলে ঢাকা কলেজ বেস্ট, কিন্ত যেই স্নাতক নিয়ে এত কথা সেইটার খবর কি? বুকে হাত দিয়ে বলেন তো ঢাকা কলেজে অনেক ভালো পড়ালেখা হয় স্নাতকে। ইতিহাস দিয়ে কোন কলেজ কোন বিশ্ববিদ্যালয় এর অধীনে আসে না, আসে পড়ালেখা দিয়ে। পড়ালেখার কি অবস্থা এই সব জায়গায় একটু খবর নেবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একসময় কোন সন্দেহ ছাড়া বেস্ট ছিল, এখন সেই জায়গায় আছে বুয়েট কারন বুয়েট কয়দিন পর পর অন্য কোন কলেজ নিজের অধিভুক্ত করে না। আমরা করি, এবং সরি টু সে এভাবে আমরা নিজের মান নিজেই নামাই; নিজেরাই ভালো করে চলতে পারি না সেইখানে তো অন্য আরও কলেজ যোগ করলে অবস্থা খারাপ হবেই। পলিটিকাল ডিসিশন, কিছু করারও নাই। সাতটা নতুন কলেজের ভর্তি পরীক্ষা যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর মানের হত এরপর আমরা কোন কথা বলতাম না, কিন্ত ভর্তি পরীক্ষা দিবেন একটা কোন রকম কিন্ত সার্টিফিকেট নিবেন ভালোটা সেইটা কিভাবে মানি?!

        আর চিবিয়ে ইংরেজী শেখার ট্রেনিং আইবিএ দেয় না। যা জানেন না তাকে কেন অপমান করার চেষ্টা করেন? গত ৫ বছরের বিসিএস দেখেন , ১-১০ এ আইবিএর ৩-৪ জন থাকেই। আপনার কি ধারনা তাদের প্রশাসন/পুলিশ/ফরেন ক্যাডারে নিয়োগ দেয়া হয় চাবায় চাবায় কথা বলতে? এই সাত কলেজের কয়টা ছেলে মেয়ে বিসিএস ক্যাডার? কয়জন বাইরে পড়ালেখা করেন? কয়জন গবেষনার সাথে জড়িত? এরা কিছুই করবে না, কিন্ত অধিভুক্ত হতে চেয়ে দিনের পর দিন রাস্তা আটকায় রাখবে এইটা কোন আবদার?!

    • আসিফ হাসান

      “কিন্ত আমাদের কি লাভ হবে সেইটা কি বুঝায় বলবেন প্লিজ?” জনাব শাদনান নির্ঝর, আপনি নিজের লাভ খুঁজছেন! গরীব মানুষের ট্যাক্সের টাকায় বিপুল খরচের বিশ্ববিদ্যালয় চলছে আপনাদের নিজ লাভের জন্য ?

      Reply
      • শাদনান মাহমুদ নির্ঝর

        আসিফ হাসান, “গরীব মানুষের বিপুল ট্যাক্সের টাকায়” শুধু বিশ্ববিদ্যালয় কিন্ত চলে না, আমার জানা মতে সব সরকারী কলেজই চলে। আসিফ হাসান আমাকে কয়েকজন ঢাকা কলেজ বা তিতুমীর কলেজের ছেলে দেখান যারা স্নাতক শেষে স্কলারশিপ পেয়ে গবেষনার জন্য বাইরে গেছেন, বা উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে আবার ফিরে এসেছেন। পাবেন হয়তো হাতে গোনা কয়জন। এইবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে তাকান, সব টিচাররা এখানকার স্টুডেন্ট যারা প্রায় সবাই উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে ফিরে এসেছেন। ঢাকা কলেজ বা যে কোন সরকারী কলেজের বেশিরভাগ টিচার কিন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর ছাত্র যারা শিক্ষা ক্যাডার এ নিয়োগ পাওয়া। আমরা কিন্ত গরীব মানুষের ট্যাক্সের টাকা নষ্ট করতেছি না। বিসিএস ক্যাডার অথবা গবেষনা দিয়ে অনেকটুক ফিরিয়েও দিচ্ছি। সরকারী কলেজ গুলার পেছনে ঢালা ট্যাক্সের টাকার হিসাব কি? নাকি টাকা অপেক্ষাকৃত কম বলে সেই টাকার কোন হিসাব নাই?

    • হেদায়েতুল ইসলাম

      বর্তমানে সবচেয়ে বেশী বরাদ্দ পায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। শুধু পরিমানে নয়, মাথাপিছুতেও বেশী। আপনাদের মন্তব্য পড়ে-
      গরীবের ট্যাক্সের এ বিপুল অর্থ পরিশোধের চিন্তা না করে আপনারা নিজেদের ক্যারিয়ার(মানে টাকা কামাই) নিয়ে বেশী ভাবেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

      অবশ্যই ঢাবি’র শিক্ষা কার্য্যক্রমের হকদার আশে পাশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকার ৭টি কলেজকে ঢাবি’র অধিভুক্ত করে সঠিক কাজটিই করেছেন – দৈন্যতাগ্রস্থ ঢাবি ছাত্ররা এর প্রতিবাদ করে মাঠে মারা যাবেন মাত্র।

      Reply
  4. Rifat

    কোনো সন্দেহ নাই যে দেশ এর গর্ব কে একেবারে শেষ করে দেয়ার জন্যে এই বিতর্কিত কলেজ গুলোকে ঢাকা বিশবিদ্যালয় এর লেজ এ জুড়ে দাও হয়েছে। আমার মতো প্রাক্তনদের আর কি কিসু রইলো না গর্ব করার ? ঢাকা বিশবিদ্যালয় আমাদের ক্ষমা করো

    Reply
  5. siam anwar

    জয়দ্বীপ দা, রাষ্ট্রের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে ঢাবি শিক্ষার্থীদের বালখিল্যপনা নিয়ে কথা বলার অধিকার আপনার ‌’বোধহয়’ নয়, ‘অবশ্যই’ আছে।
    কিন্তু সেই ‘কথা’টা নিশ্চয়ই অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে বা ভাসা ভাসা জ্ঞান নিয়ে বলা উচিত না। ঢাবি শিক্ষার্থীরা নানান গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়ে আওয়াজ তুলছে না, গবেষণার বদলে বিসিএস বা বাজার কেন্দ্রিক বিষয় নিয়ে বেশি মনোযোগি- এসব অভিযোগের সত্যতা আছে। কিন্তু যে দুটি বিষয়কে উপজীব্য করে আপনার এই লেখা, কিংবা যে ইস্যুকে কেন্দ্র করে আপনার এই লেখার অবতারণা, সে সম্পর্কে আপনার আসলে স্পষ্ট ধারণাই নেই।

    আপনার এই লেখার প্রেক্ষাপট কি?
    ১. ঢাবি শিক্ষার্থীরা কলেজ অধিভূক্তকরণ ইস্যুতে আন্দোলন করতে গিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ভেঙেছে।
    ২. গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিক্ষার্থীরা যখন তাদের প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত ইনস্টিটিউট করার আন্দোলন করছেন, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলনস্থলে গিয়ে দলবেঁধে বিরুদ্ধাচারণ করেছে।

    আপনি এখন অবস্থান করছেন গুজরাটে। এই দুটি তথ্যের ভিত্তি হচ্ছে ‌’পত্রপত্রিকা পড়ে মোটাদাগে যা বুঝলেন’ ।

    দ্বিতীয়টি নিয়েই আগে কথা বলি।সম্পূর্ণ ভুল তথ্য। হোম ইকোনমিকস কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢাবি শিক্ষার্থীরা দলবেঁধে বিরুদ্ধাচরণ করতে যায়নি। তারা আন্দোলন করেছে নিউমার্কেট মোড়ে। ঢাবির সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, মেয়েদের দুটি আবাসিক হল কুয়েত-মৈত্রী ও বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল এবং চারুকলা শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাস শাওনেওয়াজ হলে যেতে হয় নিউমার্কেট মোড় পার হয়ে। দুটি হলের মেয়েরা মূল ক্যাম্পাসে যাতায়াত করে বিশ্ববিদ্যালয় বাসে করে। কিন্তু হোম ইকোনমিকসের শিক্ষার্থীদের রাস্তা অবরোধের কারণে টানা চারদিন ওই গাড়ি চলে নি। ২৫ টাকা রিকশা ভাড়ার ওই পথটুকু দুটি হলের মেয়েদের এবং সমাজকল্যাণ শিক্ষার্থীদের হেটেই পার হতে হয়েছে। যেতে হয়েছে তাদের অবরোধের মধ্যখান দিয়ে। ‘গোসসা করা’ এই শিক্ষার্থীরা (আপনার কথামতো) কিন্তু ওই আন্দোলনে কোনো সমস্যা করেনি। এ ধরনের কোনো খবর আপনি নিশ্চয়ই পত্রপত্রিকায় পানওনি। বরঞ্চ ওই পথে যাতায়াতরত ঢাবি শিক্ষার্থীদেরই হোম ইকোনমিকসের মেয়েরা নানান ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ করেছে। আমারই সহপাঠি ও বন্ধুরা এর ভুক্তভোগি।
    ক্যাম্পাসের ভেতর অধিভূক্তকরণের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন হয়েছে, সেটি ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ আচরণ নয়। এই ঢাবি ক্যাম্পাসে আপনি পড়েননি, কিন্তু এসেছেন অনেকবার। দেখেছেন ভেতরের অবস্থা।
    শিক্ষার্থীরা কেন অধিভূক্তকরণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে জানেন?

    কারণ, এই শিক্ষার্থীরা যেখানে পড়ছে, সেখানকার সব সুযোগ-সুবিধা সে পাচ্ছে না। থাকার জায়গা নেই। একজনের রুমে গাদাগাদি করে চারজনকে থাকতে হয়। তাও সিনিয়র হওয়ার পর। বড়জোর দশ জন থাকতে পারবে, এমন কক্ষে গণরুম হিসেবে থাকতে হয় ষাট-সত্তর জনকে।
    পড়তে যাবেন? সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে জায়গা নেই। শিক্ষার্থী আর শিক্ষার্থী।
    বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে চড়ে বাসায় কিংবা কোথাও যাবেন? দাড়ানোর জায়গা পাওয়াও মুশকিল।
    খাবেন? যে মানের খাবার পাওয়া যায় তা এখনকার দিনে মাসে তিন হাজার টাকা আয় করা ব্যক্তির পরিবারেও খায় না।
    ক্লাস করবেন? কলা বিভাগের কিছু বিভাগের শিক্ষার্থীদের এখনো ক্লাসের জায়গা খালি পেতে অপেক্ষা করতে হয়।
    অসুস্থ হয়েছেন, চিকিৎসা নেবেন? বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকেন্দ্রে গেলে জরুরি কিছু পাবেন না।

    তো, এ ধরনের ‘নেই নেই’ অনেক আছে। সব মিলিয়ে সুখে নেই এখানকার শিক্ষার্থীরা।
    এখন আরও আরও কয়েক হাজার স্টুডেন্ট যদি যোগ হয়, তাহলে অবস্থা কি দাড়াবে?
    স্বয়ং, ঢাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকই বলেছেন, ‘আমরা নিজেদের শিক্ষার্থীদেরই সকল সুযোগ-সুবিধা দিতে পারছি না, বাড়তি চাপ কীভাবে নেবো।’

    আপনার লেখাটির আরও অনেকগুলো বিষয় নিয়ে পয়েন্ট ধরে ধরে আলোচনা করা যাবে। তবে সেই আলোচনায় এখন যাচ্ছি না।
    কেন যাচ্ছি না, সেটা বলি।
    এই লেখার বিশ্লেষণের মাধ্যমে আপনি যে উপসংহার টানলেন, সেটি এরকম- ‘যাদের সামাজিক দায়বোধ নেই, আত্মমর্যাদা নেই। হিংসা, দ্বেষ, অহম, ঘৃণা, নাকউঁচু, ছোঁয়াচে রোগে ভারাক্রান্ত যাদের মানসিকতা। যার হওয়ার কথা ছিল সবচেয়ে উদার, গণতান্ত্রিক ও মানবিক প্রতিষ্ঠান– তার শিক্ষার্থীদের মধ্যে এত বড় রক্ষণশীলতা!’

    এতো সহজেই একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সামাজিক দায়বোধহীন, আত্মমর্যাদাহীন বলে দিতে পারলেন?
    এতোটা সরলীকরণ করে যদি আপনার মতো গবেষক মানুষ চিন্তা করতে পারেন, তাহলে সদ্য ইন্টারমিডিয়েট সম্পন্ন করা, সামাজিক মাধ্যমে উদ্বেলিত-আলোড়িত হওয়া শিক্ষার্থীদের অনুযোগ, অভিযোগকে এতোটা রুঢ়ভাবে নিশ্চয়ই বিচার করা যায় না?

    Reply
  6. ফিদা

    কেমন হয় যদি কলেজগুলোকে এদের আঞ্চলিক অবস্থান অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অধিভুক্ত করা হয় এবং পার্থক্যহীন সনদ প্রদান করে?? বাজারের প্রতিযোগিতা নিজেদের অর্জিত জ্ঞান দিয়েই করুক, ভয় কিসে?

    Reply
  7. Md Abdur Rahman

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আন্দোলনের কৌশলটা সমালোচনাযোগ্য, তবে এই নিবন্ধে তাকে যেভাবে শ্লেষপূর্ণ সমালোচনা করা হয়েছে এতোটা নির্মম আচরণ কি ওদের প্রাপ্য? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা কি নিয়ে আন্দোলন করবে, করবে না তা বোঝার মতো বয়স আর বুদ্ধি দুটোই ওদের আছে, লেখক যেভাবে জ্ঞান দিলেন তাতে মনে হয় আন্দোলনের আগে রুপরেখাটা ওনার কাছ থেকে নিয়ে নিলেই এসব অপকাণ্ড ঘটে না। শুনুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন একটা কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, প্রতিনিয়ত অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের উন্নততর লেখাপড়া আর চমৎকার ফলাফল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে (এই চ্যালেঞ্জ উৎরেই আরো ভাল করছে এবং করবে ঢাবি), সেখানে আজ এই কলেজ, কাল ওই কলেজকে ঢাবির ওপর চাপিয়ে দেয়া ঢাবির সক্ষমতা বা প্রতিযোগিতার অনুপাতের ক্ষেত্রকে নাজুক করে দেবে, ঢাবিকে এর শক্তিতে, জ্ঞানে আর গুণে বড় হতে দিতে হবে, ঢাবির ওপর চাপ কমাতেই কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে কিন্তু এই সেই কারণে যদি কলেজগুলোকে ঢাবির অন্তর্ভূক্ত করা হয় তাহলে আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় করা কেন? আগে কেন কোন ইনস্টিটিউটকে ঢাবির অন্তভূক্ত করা হয়েছে তা এখন আর খুব বিবেচ্য নয়, কেন না তখন ঢাবির কোন বিকল্প ছিল না এখন অনেক বিকল্প হয়েছে, ঢাবিকে এর মর্যাদায় রাখতে কারো করুণা বা সহানুভূতির দরকার নেই তবে একে পেছন দিকে নিয়ে যাওয়ার যে অপবুদ্ধি তা যদি কেউ করে তার বিরুদ্ধে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাএকাট্টা হবেই, ইতিহাস কিন্তু বলে ঢাবির আন্দোলন কখনো খুব একটা অপ্রাসঙ্গিক হয় না বা তা খুব বেশি ব্যর্থও হয় না।

    Reply
  8. রে হ

    প্রিয় সৌমিত ভাই, খুব সাদামাটা ভাবে দেখলে আপনার সাথে আমি অনেক কিছুতেই একমত। কিন্তু, আপনি যতটা সাদা ভাবে দেখতে চেয়েছেন সব গুলো বিষয় ততটা সহজ নয়।
    ১। আপনি বলতে চেয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় গুলো কাকে অধিভুক্ত করবে তাতে শিক্ষার্থীদের এতো ভাবনা কেন, প্রশাসন ও সরকার তো আছেই। আপনি বোধ হয় অবগত আছেন, বিশ্বের সব বড় ও সুনামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ডিসিশন মেকার কিন্তু ৩ ভাগে বিভক্ত। এ ব্যাপারে গবেষক হিসাবে আমি আপনাকে ভিয়েনা এবং অক্সফর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উইকি পেজ দেখতে বলব। এবং বোধ করি, এই জন্যেই হয়তো আপনি অনেক জায়গাতেই ডাকসু’র কথা বলেছেন সেটা ভালো কিন্তু আপনার আবার দুটো বক্তব্য পরিপন্থী।
    ২। অধিভুক্ত করে নেয়াটা সমস্যা না, আপনার যুক্তিই ঠিক। কিন্তু রাস্তা আটকে রেখে নিজেকে অধিভুক্ত করাটা কি নিয়ম নাকি নিজেদের মানের পরিচয় দিয়ে যাতে ঢাবিই তাদের অধিভুক্ত করে নেয় সেটা হলে কি বেশি ভালো হতো না? আজকে ইডেন কালকে বোরহানউদ্দিন যদি একই ভাবে বঙ্গবাজার আটকে দিয়ে একই দাবি তোলে তাহলে আপনার মতামত চাই।
    ঢাবির প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

    Reply
  9. সরকার জাবেদ ইকবাল

    ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত একজন শিক্ষার্থী হিসেবে জাহাঙ্গীরনগরে আমার অবস্থানকালে আমি দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দেখেছি নিবিড় বন্ধুত্ব। শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা সকল ক্ষেত্রে ছিল চমৎকার লেনাদেনা। সাংস্কৃতিক সপ্তাহে ডাকসু এবং জাকসু পরস্পরকে অনুষ্ঠান দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সেই সুবাদে আমারও অনুষ্ঠান উপভোগ করার সুযোগ হয়েছিল।

    দুই বিশ্ববিদ্যলয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি চমৎকার আড্ডা জমতো হাকিম ভাইয়ের চায়ের দোকানে। সেই আড্ডায় যোগ দিতেন মোহন রায়হান, রুদ্র মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, তুষার দাস, মিনার মাহমুদ, আহমদ আজিজ, শ্রদ্ধেয় লাকী আখন্দসহ আরও অনেকে। কিন্তু হঠাৎ কি হলো? কোন অশুভ শক্তির প্রভাবে ফাটল ধরলো সেই ঐতিহ্যবাহী সম্পর্কে?

    Reply
  10. আমিরুল খান

    জয়দ্বীপ বাবু যা বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান নৃজন ও বিতরণের কেন্দ্র সে অবস্থান থেকে আমাদের গোটা শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক পূর্বেই প্রস্থান করেছে। সেটি ঘটেছে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্মলগ্ন থেকেই। অথচ সেটি হবার কথা ছিল না। তিনি যেমন উল্লেখ করেছেন, তাকে উদ্ধৃত করেই বলি, তাঁর গবেষণা প্রবন্ধে যা তিনি যা দেখিয়েছেন, “ঔপনিবেশক আমলে উপমহাদেশে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশাল অবদান আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয় রাখতে পারেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর সেই বিরলতম বিশ্ববিদ্যালয় যে একটি জাতির জন্ম দিতে ভূমিকা পালন করেছে, একটি ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় অকাতরে ক্যাম্পাসে রক্ত বিসর্জন দিয়েছে, শিক্ষার অধিকার আদায়ে, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছে আর গণমানুষের মধ্যে মুক্তির চৈতন্যসৃষ্টি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তো দায়িত্ব। এই তো তার সামাজিক দায়বোধ। এই তো আমাদের স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়, যে আমাদের মাথা নত না করতে শিখিয়েছে।” সেই অহংকার, সেই ঐতিহ্য আমরা দুর্ভাগ্যক্রমে পরিত্যাগ করেছি তাও প্রায় অর্ধ শতক হতে চলল।
    আমাদের শিক্ষা কত অপূর্ণাঙ্গ, কত কুৎসিত রূপে আবির্ভুত তা দেশের সকল শিক্ষাকেন্দ্র গত অর্ধ শতকে বারংবার আমাদের সামনে হাজির করেছে। এ দীনতার দায় আমাদের সকলের। আমাদের সম্মিলিত পাপের এ হল অবশ্যম্ভাবী বহির্প্রকাশ।

    Reply
  11. আমিরুল খান

    জয়দ্বীপ বাবু যা বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান নৃজন ও বিতরণের কেন্দ্র সে অবস্থান থেকে আমাদের গোটা শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক পূর্বেই প্রস্থান করেছে। সেটি ঘটেছে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্মলগ্ন থেকেই। দজবগক্স সেটি হবার কথা ছিল না। তিনি যেমন উল্লেখ করেছেন, তাকে উদ্ধৃত করেই বলি, তাঁর গবেষণা প্রবন্ধে যা তিত্নি বলেছেন, “ঔপনিবেশক আমলে উপমহাদেশে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশাল অবদান আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয় রাখতে পারেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর সেই বিরলতম বিশ্ববিদ্যালয় যে একটি জাতির জন্ম দিতে ভূমিকা পালন করেছে, একটি ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় অকাতরে ক্যাম্পাসে রক্ত বিসর্জন দিয়েছে, শিক্ষার অধিকার আদায়ে, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছে আর গণমানুষের মধ্যে মুক্তির চৈতন্যসৃষ্টি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তো দায়িত্ব। এই তো তার সামাজিক দায়বোধ। এই তো আমাদের স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়, যে আমাদের মাথা নত না করতে শিখিয়েছে।” সেই অহংকার, সেই ঐতিহ্য আমরা দুর্ভাগ্যক্রমে পরিত্যাগ করেছি তাও প্রায় নর্ধ শতক হতে চলল।
    আমাদের শিক্ষা কত অপূর্ণাঙ্গ, কত কুৎসিত রূপে আবির্ভুত তা দেশের সকল শিক্ষাকেন্দ্র গত অর্ধ শতকে বারংবার আমাদের সামনে হাজির করেছে। এ দীনতার দায় আমাদের সকলের। আমাদের সম্মিলিত পাপের এ হল অবশ্যম্ভাবী বহির্প্রকাশ।

    Reply
  12. Redwan Khan

    খুব ভালো লাগছে যে আমাদের সুশীল সমাজ বেশ কয়েকটি আর্টিকেলে ধর্ম কে বাদ দিয়ে ভিন্ন ধর্মী লেখা লিখছেন। যা সমাজ কে এগিয়ে নেয়ার জন্য যা খুব কার্যকর। সমাজে এমন অনেক নাবলা কথা, নাবলা ঘটনা থাকে যা বলার আর এই বিষয় চিন্তা করার কেউ থাকেনা। সাধারণ মানুষ এর জন্য শুধু সরকার ও দিত্ত্বশীলদের দূষে। ধর্মের বিষয় লিখা ধর্ম বোদ্ধাদের উপর ছেড়ে দিন। সমাজে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের বসবাস। আল্লাহ তাদের বিভিন্ন যোগত্যা দিয়েছেন। দেশের সবাই যদি ডাক্তার হয়ে যায় তবে রুগী কে হবে ? যেই বিষয় যার যোগ্যতা আল্লাহ দিয়েছেন তার সে বিষয় মতামত দিলে দেশ ও সমাজের জন্য কল্যাণ। ধন্যবাদ লেখককে।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—