Abstract image - 45111

উত্তরায় কিশোরদের ‘গ্যাং’ বা সন্ত্রাসী গ্রুপের খবরটা পড়ার পর থেকে অস্থির লাগছে। এমন সন্ত্রাসী গ্রুপ যে আগে ছিল না তা-ও নয়। কিন্তু আদনান নামে কিশোর ছেলেটির মৃত্যুর পর থেকে এর কুৎসিত রূপটা সামনে চলে এসেছে। আমি যখন কয়েকদিন আগে আদনান কবির নামে একটি কিশোরের মৃত্যুসংবাদ কয়েকটি অনলাইন পত্রিকায় পড়ি তার পর দুটি দিন পুরোপুরি অস্থিরতায় কাটে।

কোনো কাজ করতে পারছি না। কিছু লিখতে পারছি না। বারে বারে চোখে ভেসে উঠছে একটি কিশোরমুখ। খেলতে বেরিয়ে আর ঘরে ফিরতে পারেনি যে ছেলে। সন্ত্রাসীরা তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। যে ছিল হাসিখুশি, একটু রোগা পাতলা গোছের, প্রাণচঞ্চল। সে ছেলের নিথর দেহ পড়ে আছে হাসপাতালের মর্গে!

দৃশ্যটি আমি সহ্য করতে পারছি না। মাত্র অষ্টম বা নবম শ্রেণির একটি ছেলে। খেলার মাঠে দুই গ্রুপের দলাদলির খেসারত দিতে হল তাকে। যারা তাকে মেরেছে তারাও নাকি বয়সে তরুণ। কীভাবে এই তরুণ বয়সের ছেলেরা এত নিষ্ঠুর হল যে, আরেকটি কিশোরকে তারা মেরেই ফেলল? কোন দিকে যাচ্ছে আমাদের সমাজ? কীভাবে এত বেশি নিষ্ঠুরতা দেখা দিচ্ছে তরুণদের মধ্যে?

গুলশানে হলি আর্টিজানের ঘটনায় আমরা এর আগে দেখেছি কী নির্মমভাবে মানুষকে কুপিয়ে, জবাই করে হত্যা করেছে তরুণ পিশাচরা। আদনানকেও কীভাবে পারল এই সন্ত্রাসীরা এভাবে হত্যা করতে? এতটুকু মায়া কি হল না তাদের কারও?

হয়তো গলদ রয়ে গেছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যেই। গলদ রয়ে যাচ্ছে পারিবারিক পরিবেশের মধ্যেও। তরুণ বয়সীরা এমন কিছু দেখছে বা শিখছে যা তাদের এত বেশি নিষ্ঠুর হয়ে উঠতে দিচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ রোধ করতে প্রয়োজন আইনের কঠোর শাসন। আমরা দেখতে পাচ্ছি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বড় ধরনের অপরাধ করেও ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে অনেক অপরাধী। একটি অপরাধের যদি যথাযথ বিচার ও অপরাধীর শাস্তি না হয় তখন দশজন নতুন অপরাধীর জন্ম হয়। আজ যদি আদনানের খুনের বিচার না হয়, খুনিরা যদি আইনের ফাঁক গলে প্রভাব খাটিয়ে বেরিয়ে যায় তাহলে আরও অনেক আদনানের মৃত্যুর পথ পরিষ্কার হবে।

বিভিন্ন পত্রিকায় ও অনলাইনে প্রকাশিত খবর থেকে জানা গেছে উত্তরায় আদনান নামের কিশোরটির মৃত্যুর নেপথ্য কারণ হল দুই গ্রুপের দলাদলি। পাড়ায় মহল্লায় উঠতি কিশোর-তরুণরা গ্যাং বা সন্ত্রাসী গ্রুপ গঠন করছে। পাড়ায় আধিপত্য বিস্তারই এই সব দলাদলির উদ্দেশ্য। এইসব কিশোরদের গ্যাং নাকি নিয়ন্ত্রণ করে ‘বড়ভাই’রা। এই কথিত ‘বড়ভাইরা’ সন্ত্রাসী। কিশোরদের তারাই নিয়ে যায় বিপথে। দেয় নিষ্ঠুরতা, মারামারি ও অপরাধের তালিম। কিশোরদের হাতে অস্ত্র ও মাদক তুলে দেয়।

শুধু তাই নয়, এরা নাকি ফেইসবুকে নানারকম গ্রুপ করছে, ব্যবহার করছে অশালীন ভাষা। চালাচ্ছে হুমকি। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের সঙ্গে অপরাধ বিস্তারের নিবিড় যোগাযোগ যে রয়েছে তা সহজ বুদ্ধিতেই বোঝা যায়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি সজাগ ও তৎপর হত তাহলে কিন্তু এই সব গ্যাং, বড়ভাইদের দাপট কোনো কিছুই থাকত না। প্রাণ দিতে হত না আদনানের মতো কিশোরদের।

এর আগেও এইসব গ্যাং বা বখাটে গ্রুপের তাণ্ডবের খবর প্রকাশিত হয়েছে বিচ্ছিন্নভাবে। যতদূর মনে পড়ে মতিঝিল বা টিএন্ডটি কলোনির সামনে একজন ব্যাংক কর্মকর্তা তরুণীর ওড়না ধরে টান দেয় মটরসাইকেল চালানো বখাটে গ্রুপ। তারপর তাকে সড়কে ফেলে দেয় তারা। তখন মটরসাইকেলের চাকায় ওড়নাটি পেঁচিয়ে যায়। তারপরও মটরসাইকেল না থামিয়ে তারা ওকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় অনেকদূর। পরে সড়কের মধ্যেই মৃত্যু হয় মেয়েটির।

এই ধরনের গ্যাং বা দল শুধু উত্তরা নয়, শহরের অনেক এলাকাতেই গড়ে উঠছে। উঠতি বয়সী বা টিনএজাররা এদেরকে মনে করছে হিরো। কারণ এই গ্যাংএ যারা চলাফেরা করে তারা ইচ্ছেমতো ইভটিজিং করে, মুদির দোকানে বা পাড়ার কনফেকশনারিতে বাকি খায়। বুড়ো বুড়ো মানুষরা এদের দেখলে সালাম দেয়। এদের গার্লফ্রেন্ডদেরও খাতির আলাদা। বিশেষ করে যদি গ্যাংলিডারের গার্লফ্রেন্ড হওয়া যায়। তাহলে মটরসাইকেলে করে ঘোরাঘুরি, যে কোনো রেস্টুরেন্টে খাওয়া, একদল কিশোর তরুণের কাছে ‘সম্মান’ পাওয়া– সবই অনায়াসে জোটে।

এইসব ছেলেদের দেখলেই চেনা যায়। তাদের চুলের স্টাইল অন্যরকম। কখনও স্পাইক করা, কখনও-বা পিছনে ঝুঁটি বাঁধা। হাতে ব্যান্ড, গলায় চেইন। কিন্তু এরা তো ‘বড়ভাইদের’ হাতের পুতুল। তাহলে কারা নিয়ে যাচ্ছে এদের বিপথে, কে সেই হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা?

উত্তরার দুটি গ্রুপের কথাই ধরা যাক। দেখা গেছে সেই দুটি গ্রুপের ছেলেরা বেশ অবস্থাপন্ন পরিবার থেকে আসা, ভালো স্কুলে পড়া। কিন্তু দুটি গ্রুপেরই নেতা দুজন হল স্বল্পশিক্ষিত এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উপার্জন করা ব্যক্তি। এখন প্রশ্ন হল, কী কারণে, কোন মোহে পড়ে এই মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেগুলো ওই স্বল্পশিক্ষিত সন্ত্রাসী ‘বড়ভাই’এর কথায় ওঠে-বসে?

এটা হল চটজলদি ‘হিরো’ হওয়ার মোহ। ‘বিনাকষ্টে’ প্রতিষ্ঠা, মোটরসাইকেল চালানো, সালাম পাওয়া, গার্লফ্রেন্ডের চোখে হিরো হওয়ার মোহ। যখন একজন কিশোর দেখে সারা বছর পড়ালেখা করে যা রেজাল্ট হচ্ছে তার চেয়ে বড়ভাইদের হুকুম তামিল করে পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র পেয়ে বেশি ভালো রেজাল্ট হচ্ছে, তখন আর সে কষ্ট করে সিঁড়ি ভাঙতে চায় না। সে চায় লিফটে উঠতে। এক লহমায় শীর্ষে পৌঁছুতে।

এইসব গ্যাংএর ছেলেদের স্কুলের শিক্ষকরাও কিছু বলতে সাহস পান না। কারণ তাহলে শিক্ষককে পথেঘাটে মেরে ফেলতেও এরা পিছপা হবে না। এইসব গ্যাংএর প্রধান অপকর্ম হল ইভটিজিং ও খেলার মাঠে আধিপত্য। তারপর ধীরে ধীরে ছিনতাই ও মাদকের ব্যবসায় ঢুকে পড়া। ভিকটিম বা পারপিট্রেটর হওয়া। রাজনৈতিক স্বার্থেও এদের ব্যবহার করা হয়।

আদনানের মতো কিশোরদের খুন হওয়া থেকে এবং অন্যদের খুনি হওয়া থেকে বাঁচাতে সবচেয়ে আগে কঠোর ভূমিকায় যেতে হবে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। পাড়ায় মহল্লায় এইসব গ্যাং গ্রুপ মাস্তান ইভটিজার, রাস্তায় জটলা করা, দলবেঁধে অশালীন মন্তব্য করা, মোটরসাইকেলে বেপরোয়া ঘুরে বেড়ানো কিশোর তরুণদের দেখলেই পুলিশের উচিত এদের সতর্ক করা, থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা, বখাটের সাজসজ্জা দেখলে চড়থাপ্পড় মারা এবং অভিভাবকদের ডেকে পাঠানো। গার্লস স্কুল কলেজের সামনে জটলা বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেগুলোকে দুচারবার থানায় নিয়ে ডিটেনশন দিলেই এগুলোর মাথা থেকে ‘হিরো’ হবার খায়েশ পালাবে।

সেই সঙ্গে ‘বড়ভাই’দের গ্রেপ্তার করা দরকার তাদের ‘রাজনৈতিক প্রভাবের’ কথা বিবেচনা না করে। হ্যামেলিনের বাঁশিওয়ালার ওই বিষাক্ত বাঁশি ভেঙে ফেলা দরকার অবিলম্বে। রাজনৈতিক দাবাখেলায় ওরা যেন কচুকাটা না হয়।

আর পরিবারেরও কিছু ভূমিকা অবশ্যই রয়েছে। বাবা-মায়েরা খেয়াল রাখুন আপনার সন্তান কীভাবে বড় হচ্ছে, কার সঙ্গে চলাফেরা করছে। সে কোন আদর্শ নিয়ে বড় হচ্ছে সেটাও খেয়াল করুন। এলাকার ‘বড় ভাই’দের খপ্পরে পড়ার আগেই আপনি তার দিকে মনোযোগ দিন। নিজে যদি তার সামনে ভোগবাদী, নীতিহীন জীবনযাপনের উদাহরণ রাখেন আর মুখে উপদেশ দেন তাহলে কোনো লাভ হবে না। নিজের জীবনে যে মূল্যবোধ মেনে চলেন সেটাই সন্তানকে শিখান।

অনেকে এসব ক্ষেত্রে শুধু মায়ের উদাহরণ টানেন। কিন্তু সন্তানের জন্য বাবা-মা দুজনেই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তারা যদি শিশুর সঙ্গে ছোটবেলা থেকে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেন, সন্তানের বন্ধুবান্ধব সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন, সন্তানের সঙ্গে গল্প করেন, তাকে সুস্থ বিনোদনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন, তার সামনে সুআদর্শ ও সুউদাহরণ রাখেন তাহলে কিন্তু সে আর বিপথে যায় না।

আমাদের দেশে আগে পাড়ায় মহল্লায় সংস্কৃতিচর্চার সংগঠন ছিল। পরে যে ক্লাবগুলো পরিণত হয় মাদক আর মাস্তানের আখড়ায়। এখন দরকার আবার সেই পাঠাগার, গান শেখা, ছবি আঁকার স্কুল, নাট্যচর্চার মাস্তানমুক্ত ক্লাব, দেয়াল পত্রিকা। ফেইসবুকে বইপ্রেমীদের পেইজগুলোকে প্রোমোট করা দরকার। মানবতাবাদী বাঙালি সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ দরকার। দরকার বিশ্বসংস্কৃতিরও সুস্থ দিকের সঙ্গে সন্তানদের পরিচয় ঘটানো।

আর দরকার পারিবারিক আড্ডার। তাহলে তারা জঙ্গি গ্রুপ বা মাস্তান গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ‘বড়ভাই’দের পাশার ঘুঁটিতে পরিণত হবে না। আদনানের মতো আর কোনো কিশোরকে অকালে প্রাণ দিতে হবে না, আর কোনো মায়ের বুক খালি হবে না। কিশোরদের কোমল চেহারা হয়ে উঠবে না খুনি দানবের বীভৎস অবয়ব।

শান্তা মারিয়ালেখক; সাংবাদিক।

৩৪ Responses -- “ওরা কেন খুনি হচ্ছে?”

  1. Hafij Al Maruf

    ৯০% মুসলিম যেই দেশে, সেই দেশে র-তে যদি রথযাত্রা এবং ঋ-তে যদি ঋষি হতে পারে তাহলে ই-তে ইমাম সাহেব এবং ম-তে মাওলানা সাহেব কেন হতে পারে না???????? তথাকথিত নাস্তিকরা একটু জবাব দেবেন কি??

    Reply
    • ইসমাইল

      র-তে রথযাত্রা, ঋ-তে ঋষি – এখানেই হাফিয সাহেবের উদবেগ । আদনান এর মৃতু্্য বা হলি আটিজানের ঘটনা তে উনার উদবেগ নাই, চরম প্রশাণ্ডি। এমন সোনার ছেলেইতো দেশের চাই।

      Reply
  2. নানটু

    সাংস্কৃতিক কর্ম কাণ্ড , নাটক এইসব করার পরিবেশ ত মৌলবাদী জঙ্গি গ্রুপ গুষ্টি নষ্ট করে ফেলছে, বরং ওরা ওইসব অপকর্ম কে কিছু বলছে না।

    Reply
  3. labonij8@gmail.com

    সব কিছু ঠিক আছে। কিন্তু হাতে চুড়ি, গলায় চেইন, মাথার চুলের ছাট এইসব দেখে কখনও আপনি বলতে পারেন না ছেলেটি খারাপ। ২০১৭ সালে থেকে যদি ১৯১৭ সালের কথা বলেন তা উচিৎ না।স্টাইল থাকা দরকার তাই আমি বলবো আপনার কিছু কথা যেমন পুলিশ এমন ছেলে দেখলে যেন চর-থাপ্পর দেয় এই গুলো বাদ দিন।সরকার কে মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে বলুন দেখবেন সব কিছু অনেক কমে যাবে। ধন্যবাদ

    Reply
  4. মানবতা

    ইউরোপ কিন্তু তার জন্মলগ্ন থেকেই উন্নত ছিলো না, বরং ছিলো পৃথিবীর আর সকল দেশের মতোই বাইবেলজীবি সামন্ততান্ত্রি অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে অনুন্নত একদল জাতি নিয়তি যাদের ছিলো কিনা বন্যায় ভেসে যাওয়া, খরায় শুকিয়ে যাওয়া, মহামারীতে মরে যাওয়া এবং কি নয়? ইউরোপ তার এই অবস্থা থেকে উঠে এসেছে খুবই সাম্প্রতিককালে উনিশশো শতকের মাঝামাঝি সময়ে যখন কিনা সমগ্র ইউরোপ জুড়ে বয়ে যায় শিল্পবিপ্লবের জোয়াড়। তবে এই উত্তরণের প্রস্তুতি চলছিলো সেই পনেরশো শতকে রেনেসা তথা এনলাইটেনমেন্টের সময়কাল হতেই ইউরোপ যখন কিনা প্রথমবার অনুভব করে যে বুদ্ধিবৃত্তিক উতকর্ষ সাধন করতে না পারলে অগ্রগতির কোন আশা নেই। সেই সময়েই ইউরোপে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রথম একটি মধ্যবিত্ত সমাজ, এর আগে মোটামুটি অভিজাত ও ভুমিদাস এই দুটি শ্রেণীতেই সমাজ বিভক্ত ছিলো। ওয়েল, এই মধ্যবিত্ত বলতে আমি ঠিক অর্থনৈতিক আয়গত সেন্সে মধ্যবিত্ত বোঝাচ্ছি না, বোঝাচ্ছি বরং বুদ্ধিবৃত্তিক সেন্সে। আয়গতভাবে তারা হয়তো উচ্চবিত্ত এবং অভিজাতই ছিলো, কিন্তু নিজেদের মধ্যে একটি উপশ্রেণী কোন না কোনভাবে তারা সৃষ্টি করে নিতে সক্ষম হয়েছিলো যেই উপশ্রেণীটির চরিত্র কিনা ছিলো বুদ্ধিবৃত্তিক- এরা গান গাইতো, কবিতা লিখতো, করতো দার্শনিকতা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণভাবে বাস্তবতাকে বোঝার চেষ্টা! এই সমাজ ছিলো খুবই ছোট বিধায় আগ্রগতিও ছিলো তাদের ধীর, তবে এই ধীর পদযাত্রা যখন কিনা চুড়ান্তভাবে শিল্পবিপ্লব হিসেবে আত্নপ্রকাশ করে সহসাই তখন এই মধ্যবিত্ত শ্রেণীটির আকার হয়ে ওঠে অনেক অনেক বড়ো। শিল্পায়িত এবং বানিজ্যভিত্তিক সমাজে সহসাই ভিত্তি পায় অভিজাত ও ভুমিদাসের বাইরেও একটি আয়গত মধ্যবিত্ত শ্রেণী। এই বিশাল আয়গত মধ্যবিত্ত শ্রেনীর একটা অংশ নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করে বুদ্ধিবৃত্তিক মধ্যবিত্ত শ্রেণীতেও, ফলশ্রুতিতে দেখা যায় কামারের ছেলে মাইকেল ফারাডে এর রয়াল সোসাইটির সভাপতি হবার নিদর্শন, মাত্র ৫০ বছর আগেও যেটা কিনা ছিলো একটি কল্পনাতীত দৃশ্য!
    এই বুদ্ধিবৃত্তিক মধ্যবিত্ত শ্রেণীটিও খুবি অল্প সময়ে হয়ে দাঁড়ায় যথেষ্টই বড়ো, প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে? ওয়েল, আমি মনে করি এটা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছিলো তাদের শিক্ষাদর্শনের কারণে। এরা খুবি খুবই সুচারুরুপে ভবিষ্যতপ্রজন্মকে শিক্ষিত করতে পারে, শিক্ষিত বলতে আমি বোঝাচ্ছি সুশিক্ষিত করতে পারে, যারা কিনা হয় রাজনীতি সচেতন, উদ্যোগী, পড়াশুনা করতে আগ্রহী, নতুন উপায়ের আবিষ্কার ও প্রচলনে অগ্রণী- অপরপক্ষে, আমারা অনুন্নত জাতিগোষ্ঠিরা পরবর্তী প্রজন্মকে শিক্ষিত করতে পারি না, ফলশ্রুতিতে আমাদের জনপদে দেখা মিলে শত শত মাষ্টার্স পাস ছেলেপেলে যারা কিনা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে হয় প্রচন্ড প্রচন্ড রিটার্ডেড, রিপালসিভ, আনইম্প্রেসিভ ও আনপ্রোডাক্টিভ। এছাড়াও উন্নতবিশ্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের কাছ থেকে ছাত্র শুধু বইয়ে লিখা বাণীই শিখে না বরং শিখে মুল্যবোধ, পাবলিক রিলেশনস, সুনাগরিকতা, সচেতনতা এবং কি নয়? অপরপক্ষে আমরা আমাদের ছাত্রদেরকে শিক্ষা দিতে সমর্থ হই না এগুলোর একটিও, ফলে ছাত্রগুলো বইয়ের লেখা পড়ে গড়গড় করে পরীক্ষার খাতায় উগ্লে দিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক ভুমিদাসে পরিণত হয়। এই অবস্থাটার পরিবর্তন করতে হবে আমাদেরকে, নতুবা জাতিগতভাবে আমরা কোন আগ্রগতি সাধিত করতে যাচ্ছি না, কিভাবে এইটা আমরা করবো আমাদেরকে নির্ধারণ করতে হবে। নিজে ভ্যালু শিখতে হবে এবং মানুষকে ভ্যালু শেখাতে হবে।

    Reply
  5. মঈদুল

    “বুদ্ধি-বিবেক-আত্মসংযম” কোথায় গেল হে, ‘সুনাগরিক’ অর্থের চাকচিক্যে কি আজ বিলীন তোমার সুনাগরিকতা নাকি ক্ষমতার ভারে ভারসাম্যহীন !!!

    Reply
  6. Manik

    ইস্কুল বলিতে আমরা যাহা বুঝি সে একটা দিবার কল। মাস্টার এই কারখানার একটা অংশ। সাড়ে দশটার সময় ঘণ্টা বাজাইয়া কারখানা খোলে। কল চলিতে আরম্ভ হয়, মাস্টারের মুখ চলিতে থাকে। চারটের সময় কারখানা বন্ধ হয়, মাস্টার-কলও তখন মুখ বন্ধ করেন;………তবু মানুষের কাছ হইতে মানুষ যাহা পায় কলের কাছ হইতে তাহা পাইতে পারে না। কল সম্মুখে উপস্থিত করে, কিন্তু দান করে না; তাহা তেল দিতে পারে, কিন্তু আলো জ্বালাইবার সাধ্য তাহার নাই’। দুঃখজনক হলেও সত্য, যে আজও আমরা ছাত্র- শিক্ষক-অভিভাবক এমনকি রাষ্ট্র এ বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারিনি। দক্ষ মানবসম্পদ ও সুনাগরিকতা সম্পন্ন সোনার বাংলা তৈরির জন্য এ সত্যটি উপলব্ধি করা উচিত।

    Reply
  7. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক

    নিঃসন্দেহে লেখকের উদ্বেগের সাথে সাহমত। তার বিশ্লেষণও ভাল। কিন্তু তিন এখানে গ্যাং বা অপকর্মের দলগুলোর উৎপত্তি, লালন, আশ্রয় প্রশ্রয় ইত্যাদির ক্ষেত্রে বেশ সংকীর্ণতার পরিচায় দিয়েছেন। আমি তার লেখা থেকে দুটোমাত্র ঊদ্ধৃতি দিয়ে আমার মতামত ব্যব্ত করব

    ১. লেখকের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি সজাগ ও তৎপর হত তাহলে কিন্তু এই সব গ্যাং, বড়ভাইদের দাপট কোনো কিছুই থাকত না।

    কেবল আমার বিশ্বাস নয়, অপরাধ প্রতিরোধের ইতিহাস ও অনুশীলন বলে কঠিন পুলিশি তৎপরতা এক্ষেত্রে আপাতত ফলদায়ক হতে পারে, কিন্তু সেটা হবে সাময়িক। যেখানে গোটা সমাজই এ ধরনের উচ্ছৃঙ্খলাকে প্রশ্রয় দেয়, সেখানে পুলিশের তৎপরতায় এটার সমাপ্তি ঘটবে, এমন ধারণা অদূরদর্শী।

    ২ লেখকের মতে, গার্লস স্কুল কলেজের সামনে জটলা বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেগুলোকে দুচারবার থানায় নিয়ে ডিটেনশন দিলেই এগুলোর মাথা থেকে ‘হিরো’ হবার খায়েশ পালাবে।

    আমার মনে হয় লেখক কিশোর অপরাধ সম্পর্কে খুব গভীরভাবে চিন্তা করেন না। যেখানে শিশু কিশোরদের পারতপক্ষে গ্রেফতার না করা কিংবা গ্রেফতার করলেও তাদের প্রতি কোমল আচরণ করাই হল বিচার ব্যবস্থার নীতি সেখানে তাদের ডিটেনশন দেয়ার পরামর্শ খেদোক্তি হতে পারে, মানবিক হবে না।

    আমার মনে হয়, পুলিশিং, বিচার ব্যবস্থা, বিশেষত কিশোর-বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে লেখকের আরো জ্ঞানার্জন জরুরি।

    Reply
  8. Rafikul

    আধুনিক শিক্ষাবিজ্ঞানীরা শিক্ষার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘শিক্ষা হলো আচরণের ইতিবাচক স্থায়ী পরিবর্তন’। বার্ট্রান্ড রাসেল বলেন,’ শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীর উত্তম চরিত্র গঠন’। মহামতি সক্রেটিস বলেছেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য হল সত্যের লালন ও মিথ্যার অপনোদন। এককথায় পরিপূর্ণ শিক্ষা শুধু জ্ঞানের স্তরেই সীমাবদ্ধ নয়, জ্ঞানার্জনের পর তা কার্যকরীভাবে ব্যবহারিক জীবনে প্রয়োগই হলো শিক্ষা।
    শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীকে পাঠবুঝিয়ে দিলেই শিক্ষকের দায়িত্ব শেষ নয়, পাঠ্যবিষয়ের বাইরে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধের আলোকে শিক্ষার্থীর আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা শিক্ষকের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এ অর্থে বিদ্যালয়কে ‘সমাজের ক্ষুদ্র সংস্করণ বলা হয়’। অনেক সময় পরিবারের দীর্ঘদিনের লালিত সংস্কারেও আঘাতহানে শিক্ষকের উপদেশ। হ্যামিলনের বাঁশির মতো সব কিছু ভুলিয়ে দিয়ে ভাবতে শেখায় নতুন কিছু যা কিছু বাঞ্ছিত, মার্জিত ও ইতিবাচক।
    একজন শিক্ষক শুধুই শিক্ষক নন তিনি একজন প্রশিক্ষকও বটে। শিক্ষক যখন শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের কোন বিষয় বুঝিয়ে দেন বা শিখিয়ে দেন তখন তিনি শিক্ষক; যখন সৃজনশীলতা,সততা,দক্ষতা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা,শিষ্টাচার,দেশপ্রেম, নেতৃত্ব ,কষ্টসহিষ্ণুতা,গণতন্ত্রীমনষ্কতা ও পরমতসহিষ্ণুতা ইত্যাদি সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের বিষয়গুলো নজরদারিতে রাখেন ও নিয়ন্ত্রণ করেন তখন ঐ শিক্ষকই একজন প্রশিক্ষক। এ জন্য বোধ হয় আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট তার পুত্রের প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখেছিলেন— ‘..তাকে শেখাবেন পাঁচটি ডলার কুড়িয়ে পাওয়ার চেয়ে একটি উপার্জিত ডলার অধিক মূল্যবান।…….আমার পুত্রের প্রতি সদয় আচরণ করবেন কিন্তু সোহাগ করবেন না, কেননা আগুনে পুড়ে ইস্পাত খাঁটি হয়। আমার সন্তানের যেন অধৈর্য হওয়ার সাহস না থাকে’। তাহলে আমরা বলতে পারি পাঠ্যপুস্তকের বাইরে শিক্ষকের নিকট থেকেও শিক্ষার্থীর অনেক কিছু শেখার আছে। কিন্তু আজকাল শিক্ষকগণ প্রশিক্ষক হতে চান না। এমনকি অভিভাবকও শিক্ষার্থীর প্রতি শিক্ষকের নজরদারিকে প্রতিষ্ঠানের বাড়াবাড়ি বলে মনে করেন। একারণেই আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে শ্রমবিমুখতা,স্বার্থপরতা, দুর্নীতি, অনিয়ম। বলা যায় অনিয়মই নিত্য দিনের নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    Reply
  9. হোসেন

    বাজারটা আজ বড়ই কঠিন! পোষাক দেখে চেনা কঠিন ! আসল নকল চেনা কঠিন ! সোনা রূপা চেনা কঠিন! নির্ভেজাল পাওয়া কঠিন! ভালভাবে টিকে থাকা কঠিন! আইন মেনে সুনাগরিকতা কঠিন! সরলতা চরম কঠিন! সুশিক্ষা অর্জন চরম কঠিন! খাঁটি প্রেমিক পাওয়া খুবই কঠিন! দেশপ্রেমিক হওয়া আরো কঠিন!

    Reply
  10. লোকমান হোসেন

    দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।
    দেশ স্বাধীনের পর ৭১ থেকে ৭৫ পর্যন্ত অনেক ইতিহাস হয়ে গেলো। কালক্রমে আজ ৪৫ বছর অতিকান্ত হচ্ছে কিন্তু সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ এখনও সবাই পায় নাই। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যখনই যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি নিজেদের উন্নয়ন করেছে কয়েক গুণ বেশী। রাতারাতি কেউ আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে। সমাজে শিক্ষিত লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।কিন্তু সত্যিকারের শিক্ষিত বিবেক বিদ্ধি পায় নাই। সমাজে এক শ্রেনির লোক জোর জুলুম করে অন্যের সম্পত্তি গ্রাস করে।ধনী শ্রেনি ধনী হচ্ছে।গরীব আরো গরীব হচ্ছে। শিক্ষার হার বাড়লেও বেকারের সংখ্যা কমে নাই। সমাজে দেখা দিয়েছে নানান ধরনের অনৈতিক কাজ কর্ম।দিন দিন মানুষ আইন হাতে তুলে নিচ্ছে। অপরাধ আর অপরাধীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামাজিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় অনুশাসন থেকে মানুষ আজ অনেক দূরে সরে আছে।তাই সমাজের আজ এই অবস্থা। হাজারো ডিগ্রিধারী তৈরি করে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। এক মাত্র আইনের শাসন, ধর্মীয় মূল্যবোধ মানুষের মাঝে জাগ্রত করতে পারলেই সমাজ থেকে সকল অন্যায়, অবিচার দূর করা সম্ভব। না হয় সমাজে দিন দিন অশান্তি সৃষ্টি হবে।কেউ বন্ধ করতে পারবেনা।
    একমাত্র সমাজ থেকে অন্যায়,অত্যাচার, অবিচার,বেকার সমস্যা, হিংসা হানাহানী, দূর করে ন্যায় বিচার, ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিটি মানুষের মাঝে জাগ্রত করতে পারলেই সমাজ তথা বৃহৎ রাষ্ট্রকে সুন্দর ভাবে গঠন করা সম্ভব। না হয় দিন দিন সমাজে রক্তপাত হতেই থাকবে।এই ভাবে চলতে থাকলে হয়তো এমন এক সময় আসবে তখন সন্তানের নিকট বাবা নিরাপদ থাকবেনা, ভাইয়ের নিকট ভাই নিরাপদ থাকবেনা, সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সৃষ্টি হবে লোভ,হিংসা হানাহানী। ধ্বংস হবে সমাজ ব্যবস্থা তথা রাষ্ট্র যন্ত্র।যা কোন মানুষেরই কাম্য নয়। কারণ সবাই মুক্ত বাতাস নিয়ে মুক্ত পৃথিবীতে বাঁচার মতো বাঁচতে চায়।

    Reply
  11. Ahmed Hasan

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
    প্রেস রিলিজে ২৫ টি বানান ভুল হলেও সমস্যা নাই। কিন্তু একজন সকালের মক্তব শিক্ষক (যিনি কোন দিন স্কুলে পড়েননি) যদি মক্তব পরিচালনা কমিটির সভাপতির ছেলের নাম লিখতে গিয়ে বানানে ভুল করেন তখন শোনা যায়:
    (পান-সুপারির পাগল সভাপতির কন্ঠে:)
    “বাঙ্গালী হুজুরেরা বাংলা লেইকতে হারেনা। ইয়ারা হারে টা কি?”
    (এলাকার কিছু কিছু লোকের চোখে শ্রদ্ধার পাত্র সভাপতি চাচার কন্ঠে:)
    “আলেম সমাজ যুগ চাহিদা বুঝেনা/ওরা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনা।একটা নাম পর্যন্ত বাংলায় ঠিক করে লিখতে পারলোনা!!!!!”
    (এলাকার একটু ইয়ে……. লোকটাও সভাপতি!!
    এমন সভাপতির কন্ঠে শোনা যায়:)
    “হালার হুজুরেরা!
    জানে খালি মাইনষের ঘরে খাইতে আর মাইকের ‘আবাজ’ বাড়াই দি আজান দিতে।”
    একটু লক্ষ্য করুন!
    ভুল করলেন একজন
    আর দোষ চাপিয়ে দেওয়া হল (প্রকৃত জ্ঞানী) আলেম সমাজের উপর।
    এই হলো আমাদের বাস্তব অবস্থা!

    Reply
  12. kader

    একটা সুন্দর জীবন গড়ার জন্য একটা সুষ্ট,সুন্দর,সৃজনশীল,কোমল,মনরম পরিবেশের প্রয়োজন। আমরা মনে হয় সেটার কিছুটা ইচ্ছাকৃত হারাচ্ছি। আমি দেশের সুশীল সমাজের ব্যক্তিদের কাছে অনুরোধের সুরে নমনীয়তার সাথে বলতে চাই। আমাদের বিদ্যুৎ এর প্রয়োজন আছে কিন্তু সুন্দরবন নষ্ট করে নয়। UNESCO ৬ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালে বিশ্ব ঐতিহ্যে ৫২২ তমতে স্থান দেয়। কুড়িয়ে পাওয়া কৃপার সেই স্থানটা যেন আমরা না হারায় যার জন্য দেশের পরিবেশ প্রেমিদের এগিয়ে আসতে হবে। আমরা বাঙ্গালী আমাদের সমস্যা এক জাইগাই সেটা হচ্ছে,যেটা পাই সেটা ধরে রাখিনা পক্ষান্তরে যেটা নেই সেটার পিছনে ছুটা। মাছ ধরে ছেড়ে দিয়ে আবার সেই মাছের জন্য সারাদিন জালটানার মত। আমি চাই আমাদের দেশ বিশ্বের একটি মডেল হওক,দুর্নীতি,চোরের দিক দিয়ে নয়। বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনা ময় দেশ যার সম্পদ,শ্রমশক্তি,শিল্প কোনটাতেই কমনা।

    Reply
  13. enayet ali

    এলেনর রুজভেল্ট একবার বলছিলেন, উন্নত মনের মানুষ ‘আইডিয়া’ নিয়ে আলোচনা করেন, কারণ বিশ্লেষণ করেন; মধ্যম মেধার মানুষ ঘটনা প্রসঙ্গে কথা বলেন; এবং ক্ষুদ্র মনের মানুষ পরচর্চা করেন। আমি খুব কম বাঙ্গালীরেই দেখছি এই ক্ষুদ্রত্ব থিকা বাইর হইতে পারছেন। এর আমি দুই তিনটা কারণ দেখি।
    এক, আমরা অত্যন্ত জাতীয়তাবাদী, আমরা নিজেদের ছাড়া বাকি সবাইরে নিচু ভাবি। এমনকি আমাদের এক অঞ্চলের মানুষ অন্য অঞ্চলরে নিচু ভাবেন।
    দুই, আমাদের গন্ডি অনেক সীমিত, আমাদের পড়ালেখা কম, আমরা বিদেশ ঘুরলেও সবকিছু নিজেদের চোখ দিয়া বিচার করি, নিজেদের দাড়িপাল্লায় মাপি, নিজেদের বিচাররেই শ্রেষ্ঠ বইলা ভাবি। তাই গন্ডির বাইরে কাউরে দেখলেই আমরা ভীষণ কৌতুহলী এবং ‘জাজমেন্টাল’ হইয়া পড়ি। সেই জাজমেন্ট কেউ সালওয়ার দুই ইঞ্চি উপরে পরলেন কীনা- বা পয়লা বৈশাখ উদযাপণ করলেন কীনা থিকা শুরু কইরা আপনি হোমোসেক্সুয়াল কীনা- বা আপনি ধর্ম পালন করেন না ক্যানো- বা আপনি একলা একটা মেয়ে হইয়া বিয়া করতেছেন না ক্যানো- পর্যন্ত বিস্তৃত।
    তিন, আমরা যৌন বিকারগ্রস্থ জাতি। আমাদের ‘সেক্সুয়ালিটি’ ধর্ম এবং সমাজের কারণে এতই চাপা পইড়া থাকে যে অন্যের নিন্দা কইরা আমরা একধরণের বিকৃত যৌন আনন্দ পাই।
    আমি নিজেও অন্যের সমালোচনা করি। অন্যের সমালোচনা করেন না এমন মানুষ হয়তো দুনিয়াতে একজনও পাওয়া যাবে না। কিন্তু ঠিক কতটুক আলোচনা আপনি করবেন এবং কতদূর কৌতুহল দেখানোর আপনার ‘এখতিয়ার’ আছে এবং সেই অযাচিত কৌতুহল ‘কতটুকু’ ভদ্রসমাজে স্বীকৃত সেইটা বাঙ্গালী ভদ্রসমাজের গন্ডি থিকা বাইর হইয়া বাঙ্গালীদের শিখতে হবে। ঢাকা এখন একটা কসমোপলিটান শহর, বিপুল সংখ্যক ‘শিক্ষিত’ বাঙ্গালী এখন বিদেশে থাকেন, এইবেলা বাঙ্গালীদের নিজেদের নাক নিজেদের ব্যপারে গলাইয়া অন্যদের নাক-কান-গলারে রেহাই দেওয়া শিখতে হবে। শিখতে হবে, তাদের নিজেদের চিন্তার বাইরেও প্রচুর মানুষের অন্য চিন্তা আছে। এবং অন্য চিন্তা অর্থই খারাপ চিন্তা না।

    Reply
  14. ইকবাল

    রাষ্ট্রীয় চরিত্র,কাঠামোকে সমুন্নত রাখতে জনগণই যে অাভ্যন্তরীন নিরাপত্তা বলয় তৈরী করে,এক সমাজে, এক রাষ্ট্রে থাকতে চায়,তা বিপদে না পড়লে অামরা খুব কম অনুভব করি।বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৪৯ শতাংশ তরুণ।পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই একটা সময় অাসে, যখন তরুণরা সংখ্যায় সর্বোচ্চ হয়, আরও সুনির্দিষ্ট করে বললে কর্মক্ষম লোকের সংখ্যা সর্বোচ্চ হয়।ত্রিশ বছর পরে আমরা বিপরীত অবস্থানে যাবো,অর্থ্যাৎ অকর্মক্ষম লোকের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত বাড়বে।একটা সমীক্ষায় দেখা গেছে, চীনের সবচাইতে বড় সমস্যা- অকর্মক্ষম লোকের সংখ্যার অাধিক্য।এক্ষেত্রে আমাদেরও খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত সিনিয়র সিটিজেনদের নিয়ে।তারা যাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাধীন থাকতে পারে।সরকার সিনিয়র সিটিজেনশীপ চালু করলেও,সকল স্তরে প্রয়োগ নেই।অল্প সংখ্যক গুরুজনদের অল্প টাকা না দিয়ে, তাদের যানবাহন,রেশন,বিনোদনে বিশেষ ছাড় বা সুযোগ থাকা উচিত।এতে গুরুজনদের স্বাধীন চিন্তার ক্ষমতা অব্যাহত থাকবে।কারণ বৃদ্ধ বয়সে অার্থিক অভাবের চাইতে মানসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগহীনতাই অত্যধিক ভোগায়।মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের সমাজ বাস্তবতা পাল্টাচ্ছে,বর্তমানে মেয়েদের শিক্ষার হার বৃদ্ধির ফলে আগামীর মায়েরাও নিশ্চিত বহুলাংশে সাবলম্বী হবে।ফলে বৃদ্ধ বয়সে তাদের পৃথক বসবাসের চিন্তা অমূলক নয়।একান্নবর্তী পরিবার আমাদের বাঙ্গালী সমাজের খুব বড় শক্তি।তা ধরে রাখতে হলে বর্তমানে মা-বাবার সাথে ছেলে-মেয়েদের যে সম্পর্ক চর্চিত হচ্ছে,তা পাল্টাতে হবে।তা না হলে সাবলম্বী শিক্ষিত মা-বাবার পৃথক পরিবারের চিন্তা করবে।ফলে সমাজ অারও বিচ্ছিন্নতার দিকে এগুবে।তাই রাষ্ট্রকেও দায়িত্ব নিতে হবে, এই স্বাধীন মা-বাবারা যাতে কর্মক্ষম সন্তানদের মতোই সিদ্ধান্ত গ্রহণে ও তাদের ইচ্ছা পূরণের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।অন্ত:ত তাদের মানসিক শক্তি বজায় থাকে।যে বিচ্ছিন্নতার কথা বললাম,তা সমাজে শুধু প্রবীণদের ক্ষেত্রে নয়,তরুণ সমাজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।কর্মক্ষমতা না থাকায় প্রবীণরা একাকী হতে পারে,বিচ্ছিন্নতা গ্রহণ করতে পারে।কিন্তু তরুণরা কেন নিজেদের বোঝা ভাবতে শুরু করেছে?বিচ্ছিন্ন ভাবতে শুরু করেছে?তা ভাবনার বিষয়।তরুণরা নিত্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে,অবাধ তথ্য(কখনো লাগামহীন) প্রচার করছে,যেকোনো সময়ের তুলনায় স্বাধীন চিন্তা করতে পারছে,পড়ালেখা বিশেষত উচ্চশিক্ষার সুযোগ চরমে,তরুণদের দৃষ্টিতে সামাজিকভাবে তারা বেশ সংগঠিত,তবুও তারা ব্যাপকভাবে একাকী,সিদ্ধান্ত গ্রহণে অপরিপক্ক,অল্পতেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন,গালাগালি,একরোখা চিন্তা,অভাববোধ তাদের গ্রাস করছে।

    Reply
  15. রেজাউল

    গোলা পানিতে মাছ শিকার করা খুবই সহজ । তেমনি অশান্তিময় পৃথিবীর দুর্বল, স্বাস্থ্যহীন, কুসংস্কারাছন্ন, স্বল্প শিক্ষিত মানুষ গুলিকে অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে মশগুল করে, বিভক্ত, বিভ্রান্ত করে, ঝগডা – ফ্যাসাদে, খুনা–খুনিতে লাগিয়ে দিয়ে সহজে শাসন-শোষণ করা যায় । যেমন, আমাদের সমাজে বাঙ্গালী–বাংলাদেশী , আওয়ামীলীগ, বি ন পি, সাম্প্রদায়িক জামাত, বিশ্ব ব্যায়াহার জাতীয় পাটি, কউমুনিস্ট, সর্বহারা, বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র, হিন্দু–মুসলমান এই রকম আর ও বহু বিষয় আমাদের সাধারনের নিকট অপ্রয়োজনীয় । যেখানে সাধারণের বেঁচে থাকাই দায়, সেখানে আমাদের সমাজের এই কূটকৌশলের কুশীলবেরা, রাজপরিবার, রাজপুত্ররা, তাদের চাটুকার, স্তাবকেরা কি পরিমান দেশের সম্পদ লুটপাট করছে, তা আলাদীনের আশ্চার্য প্রদীপের শক্তিকেও হার মানায় । তাই আমাদের তরুণ সমাজ ও সচেতন জনগোষ্ঠীকে ভাবতে হবে, বুঝতে হবে যে ‘সমস্যা’ অনেক গভীরে – আর তা হলো ‘সম্পদের বন্টন ব্যবস্থাপনা’ । বর্তমানে আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলি জাতীয় চরিত্র হারিয়ে সামন্তবাদী মানিসকতার প্রভু বা পরিবারের সম্পদ হিসাবে পরিগনিত হচ্ছে । এই সামন্ত প্রভু বা তাদের লেজুড, চাটুকার, স্তাবকদের ইচ্ছা – অনিচ্ছাই সমাজের, দেশের বা দলেরও আইন । তাদের কোনও দায় – দায়ীত্ব নাই । তারা সমাজের ন্যায় বণ্টন চায় না বা করেও না এবং তাদের সঙ্গী হিসাবে আছে বা লেজুড হিসাবে কাজ করছে আমাদের গুনে দরা অদক্ষ, অপেশাদার, মেরুদণ্ডহীন, দেশের বা দশের প্রতি দায়বদ্ধহীন, দুর্নিতিবাজ প্রাশাসনিক ব্যবস্থাপনার লোকজন ।

    Reply
  16. নাগরিক

    স্বাধীন দেশের মানুষ একদিনই স্বাধীন আর সেটা ভোটের দিনে-এখন তো সেই অধিকারও নেই। ইচ্ছে না হলেও ভোট দিতে হয়। কি করবে! চোর-বাটপার, খুনী, সন্ত্রাসী ছাড়া যোগ্য লোক নেই যে! গতকালও যে ছিল ‘গাড়ী ভাঙ্গা ডাকাত দলের সর্দার’ আজ সে নেতা। তারা সব বসন্তের কোকিল-বসন্ত ঋতু ছাড়া তাদের টিকির নাগাল পাওয়া যায়না। ভোট শেষ, সম্পর্কও শেষ। রাজনীতিবিদরা যেমনই হোক না কেন জনগনের ভোটের এমনই শক্তি যে গুন্ডা,পাণ্ডা, চোর, ডাকাত, খুনীও যদি নির্বাচিত হয় তাহলে ওরাও দেশের জন্য আইন বানাতে পারে! এরাই আইন বানায়, নিরীহ মানুষের উপর প্রয়োগ করে। কথায় বলে সাপের বাচ্চা সাপই হয়। ছোট আর বড়! আমেরিকা একমাত্র পরাশক্তি বলে সারা বিশ্বে খবরদারি করে। বাংলাদেশ তো আর আমেরিকার মত বড় নয় কিন্তু তাতে কি! গনতন্ত্রের তকমা লাগিয়ে নিজের দেশে গুম, হত্যা, লুটপাট করে খবরদারি করতে অসুবিধা কোথায়!
    জনগনের আরেক সেবক পুলিশ। বোকাসোকারা বলে জনগনের রক্ষক। শাহবাগের মোড় পর্যন্ত এসে রিকশা আর গলির ভিতরে যায়না। ওই এলাকার বাসিন্দারা প্রতিদিন রিকশা থেকে নেমে মোড় থেকে বাসার গলি পর্যন্ত হেঁটে যান। তবে যেসব রিকশাওয়ালারা বুদ্ধিমান তারা দুই-চার,পাঁচ টাকা যার যেমন সামর্থ্যে কুলায় জনগনের সেবকদের ভিক্ষা দেয়। তারাও এই দান আত্মতৃপ্তির সাথে গ্রহন করে। কি করবে! তাদেরও তো জনগনের এই দয়ায় খেয়ে পড়ে বাঁচতে হয়! তারা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মাঝে মাঝে না বুঝেই এদিক সেদিক গুলি করে। আর দাঁড়ি, টুপি থাকলে তো কথাই নেই। চোখ বন্ধ করেই কে সন্ত্রাসী বলে দেয়া যায়। আসলে ইচ্ছে করে গুলি করে তা কিন্তু না। সমাজের উঁচু তলার নির্দেশে ভয় পেয়ে কোন দিকে না কোন দিকে গুলি করে বুঝতে পারেনা, জনরোষের ভয়ে নিজেদের জান বাঁচাতে করে—ইত্যাদি অনেক কথা! মাথা নুইয়ে উপর তলার নির্দেশ মতোই কাজ করতে হয়। জনগনের সুবিধা-অসুবিধা, জান-মালের নিরাপত্তার ধার কে ধারছে! সাধারন মানুষকে জ্যামে তিন চার ঘণ্টা আটকে রেখে নেতার হুকুম পালন শিরোধার্য। উন্নত দেশে পুলিশের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন শুনলে সবাই সতর্ক হয়ে যায়। যে যেভাবে ড্রাইভ করছে ডানদিকে সরে এসব গাড়ী না যাওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকে হোক সে মন্ত্রী বা সাধারন কেউ। আর দেশে! কে এসব তোয়াক্কা করছে! নিয়ম নীতির বালাই নেই। যেমন মালিক, তেমনি তার বেতনভুক্ত কর্মচারী। জানজটে ২/৪ জন মরলে সমস্যা তো নেই। স্কুলের বইতেই তো পড়ানো হয়-‘ডাক্তার আসার পূর্বে রোগী মারা গেল’। কাজেই, জনগনের সেবকরা এই নীতিতে চলবে এটাই স্বাভাবিক।
    বৈশাখের দাবদাহের চেয়ে এখন খুন, গুম,অপহরণের আতঙ্ক ভয়াবহ। এসব যেন আজকাল ডালভাত। টিভির পর্দায় হোক আর খবরের কাগজে হোক, চোখ পড়লেই অপহরণ, খুন, গুমের সচিত্র ঘটনা ভেসে উঠে। অফিসে সিনিয়ার অনেকে আছে বাংলাদেশ নামে যে কোন দেশ আছে জানেনা। কষ্ট লাগে শুনতে। এই সেদিন বাংলাদেশকে কেউ কেউ চিনেছে রানা প্লাজা ধ্বংসের সচিত্র প্রতিবেদন টিভিতে দেখে, প্রজেক্ট ম্যানেজার চিনেছে পদ্মা সেতুর দুর্নীতিতে কানাডার বিখ্যাত অয়েল এন্ড গ্যাস কোম্পানি এস এন সি লাভালাইনে ইঞ্জিনিয়ারদের দুর্নীতির খবর শেয়ার করতে যেয়ে। কি অভাগা জাতি আমরা! বেয়াল্লিশ বছর আগে পাওয়া স্বাধীনতা ছাড়া দেশের এমন কোন ভাল খবর নেই যা কারো কাছে গর্ব করে বলা যায়। সেই মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসও জানেনা নতুন প্রজন্ম। বেয়াল্লিশ বছর ধরে আমরা সত্য মিথ্যার এক মহা গোলক ধাঁধাঁয় পড়ে আছি, বেরুতে পারছিনা তার থেকে। মাঝে মাঝে কোথাও থেকে একটু আলোর রেখা দেখা গেলেও কারা যেন টেনে সেই দ্বার টা রুদ্ধ করে দেয়। স্বাধীনতার ঘোষণা, শহীদের সংখ্যা, মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নিয়ে এখনও কত দ্বন্দ্ব! কোন মুক্তিযোদ্ধা কি কখনও বলেছে যে তারা ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য যুদ্ধ করেছে! কিন্তু তারপরেও স্বাধীন দেশে অনাহারে, বিনা চিকিৎসায় তাদের স্বপ্নের সোনার বাংলা স্বপ্নেই থেকে যায়। দেশের পঞ্চান্ন হাজার বর্গমাইলের ভিতর এত মানুষ! সত্যিকারের মানুষ যেন কোথাও নেই। যে যেদিকে পারছে খাবলে খাচ্ছে। দোয়া করি, মহান রাব্বুল আলামীন যেন আমাদের সবার মনের কালিমা দূর করে দেন, সবার প্রতি সদয় হন। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে সব ধরনের বিপদ থেকে সব ধর্মের, সব শ্রেণীর জনগণকে রক্ষা করেন, সবার মনে সাহস যোগান। ঠিক যেমন রক্ষা করেছিলেন, শক্তি ও সাহস যুগিয়েছিলেন স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়। ঠিক সেই প্রত্যয় নিয়ে যেন আমরা শুধু বাঙ্গালি হয়ে বেঁচে না থেকে মানুষ হতে পারি।

    Reply
  17. rasel ahmed

    বর্তমান সময়ে আর একটি ভয়ঙ্কর সমস্যা তৈরি হয়েছে আর তা হলো বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা সহ পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র ফাস । জাতী হিসাবে এটা যেমন লজ্জার তেমনি ভয়ঙ্কর বটে । জানিনা কোমল মতি শিক্ষার্থিদের কোন অমানিশায় ঠেলে দিচ্ছি আমরা । আমাদের নিতি নির্ধারকদের বোধদয় হবে কিনা জানিনা , মেধা মনন থেকে একটা প্রজন্মকে আমরা যে পিছিয়ে দিচ্ছি শুধু তাই না ধবংস করছি আমরা বাঙ্গালী নৈতিকতাকে । টুইটার ,ফেসবৃক সহ সামজীক মাধ্যম গুলোতে ইদানিং লক্ষ করা যাচ্ছে যে , প্রশ্ন ফাস একটা উৎসবে পরিনত হয়েছে । এবং খুব উৎসাহ ভরে আমরা সেখানে কমান্ট করছি । লাইক দিচ্ছি । যে এই কাজটি করছে সে যে সামাজের কিট তথা সমাজের শত্রু এবং তাকে উৎসাহ দিয়ে আমরা ৌ যে আপরাধ করছি তা বুঝতেই পারছিনা । যারা চোখ, কান খোলা রেখে ছেন তারা অবশ্যই অনুধাবন করতে পারছেন ফাস কৃত প্রশ্ন কোমল মতি শিক্ষার্থির কাছে পৌছাতে সহযোগিতা করছে আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষক এবং কিছু অবিভাবক । এ কথা সর্বজন গ্রহীত যে , অবিভাবক হিসাবে আমরা যেমন আমাদের বাচ্ছা কে অপরাধ প্রবনতা য় ধাবিত করছি তেমনি একজন শিক্ষক হারাচ্ছে ন তার নৈতিকতাকে । আর জাতী হিসাবে আমরা পাচ্ছি এক মেধা নৈতিকতা হীন প্রজন্ম কে । আমাদের নিতির্নিধারক দের যেমন দরকার আপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের কাছে সর্মপন করা তেমনি আমাদের দায়িত্ব এটাকে আপরাধ হিসাবে গন্য করে সামাজীক ভাবে তাকে ঘৃর্না করা ।

    Reply
  18. Nurul Haque

    সুনাগরিক জাতীয় সম্পদ । সমাজ রাষ্ট্রের সুনাম , প্রগতি ও মর্যাদা সুনাগরিকতার উপর নির্ভরশীল । লর্ড ব্রাইসের মতে, সেই ব্যক্তি সুনাগরিক , যে বুদ্ধি , আতœসংযম ও বিবেক এ তিনটি গুণের অধিকারী । এ তিনটি মৌলিক গুণ ছাড়াও সুনাগরিকের কতকগুলো বিষয়ে মনোযোগী হওয়া আবশ্যক । যেমন, সকলকে শ্রদ্ধা করা, কাউকে ছোট মনে না করা, শিক্ষিত ও সংস্কৃতিবান হওয়া, রাষ্ট্রের শাসন- ব্যবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা , ব্যক্তি স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সজাগ ও সচেতন থাকা, শৃংখলাবোধ ও সময়ানুবর্তিতার প্রতি অনুরাগী হওয়া , বলিষ্ঠ ও স্বাধীন মনোভাব পোষণ করা , সংবেদনশীল হওয়া এবং সাধারণ জ্ঞান , প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠার অধিকারী হওয়া আবশ্যক। কতকগুলো প্রতিবন্ধকতা একজন সুনাগরিক হওয়ার পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে । লর্ড ব্রাইসের মতে, নির্লিপ্ততা, ব্যক্তিগত স্বার্থপরতা এবং দলীয় মনোভাব । এছাড়াও অজ্ঞতা, আতœম্ভারতা, দাম্ভিকতা, ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা, অর্থনৈতিক অসাম্য। সুনাগরিকতার অন্তরায় দূর করার উপায় হচ্ছে, শাসনতান্ত্রিক প্রতিকার, নৈতিক প্রতিকার ও অর্থনৈতিক প্রতিকার । বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র । দীর্ঘ নয় মাসের স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙ্গালী জাতি পরিপূর্ণ বিজয় লাভ করে । স্বাধীনতা সংগ্রামের তিক্ত অভিজ্ঞতা আমাদের নাগরিক চেতনাকে সংহত ও উদ্দীপ্ত করেছে সন্দেহ নেই । কিন্তু জাগতিক কারণে এবং ব্যক্তি স্বার্থের অমোঘ বিধানে বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে উদাসীনতা , স্বার্তপরতা ও দলীয় মনোভাব অত্যন্ত প্রবল । শিক্ষার অভাবে অজ্ঞতা ও আতœম্ভরিতা আমাদের নিত্য সাথী । এ সকল অন্তরায়ের হাত হতে বাংলাদেশের নাগরিকদের মুক্ত করে সুনাগরিক করে গড়ে তুলতে হলে সার্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে । যুব ও ছাত্র সমাজকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে কেউ যাতে ব্যবহার করতে না পারে এবং লোভ- লালসার ও অন্যায় আর্থিক সুবিধা দিয়ে যুব সমাজের নৈতিক মান ও মনোবল যাতে কেউ বা কোন শ্রেণী ধবংস করতে না পারে সে ব্যাপারে আমাদের সকলকে সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে ।

    Reply
  19. #প্রথম_শ্রেণির_বইয়ে #ওড়না_শব্দ_ফ্যাক্ট

    কোন সমাজে বসবাস করছি?
    যারা এই ওড়না নিয়ে বিতর্ক শুরু করেছে তারা নিজেরাই সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করছে।
    পৃথিবীর কোন ধর্মে নারীদের পোষাকে অশালীনতা আনতে বলা হয়েছে?
    চুছিল (সুশীল) সমাজ বলছে ছোটদের কাছে ওড়না পরিচিত নয়। মানলাম যে পরিচিত নয়, কিন্তু তাদের ওড়না চেনাতে সমস্যা কোথায়?
    তার ছোট থেকে যেভাবে শিক্ষা নিবে বড় হয়ে তারা সেভাবে চলবে। এখন থেকে যদি তাদের সে ব্যাপারে শেখানো হয় তাহলে দোষটা কোথায়?
    সুশীল সমাজ/সচেতন অভিভাবক নামক এসব বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীদেরই আগে এসব বিষয়ে বুদ্ধি/বিবেক দান করা উচিত।
    আজকের সমাজে অশ্লীলতা/অশালীনতা এসব বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীদের উস্কানিতে হচ্ছে বলে বলবো আমি।
    বাংলা তথা বাঙ্গালী সমাজকে ধ্বংস করতে এসব কুলাঙ্গার সুশীল সমাজের মতামত গ্রহণই যথেষ্ট।
    ‘ও’ অক্ষর শিশুদের চেনাতে ওড়নার পরিবর্তে সুন্দর একটা শব্দ এবং বাক্য চাই, কেউ সুশীল সমাজের জন্য এই সাজেশন দিবে কি ফ্রান্স?

    Reply
    • নাসরিন ইকবাল

      ঋ -তে ঋষি, রথ-তে রথ। এসব লিখলে সাম্প্রদায়িকতা হয় না। ইসলামিক কিছু লিখলেই চুলকানি শুরু হয়ে যায় তথাকথিত ‘ধর্মনিরপেক্ষদের’। আসলে এরা ইসলাম বিদ্বেষী। এক ওরনাতেই মৌলবাদি হয়ে গেল…? রথ টানা তবে কি উদারতা…!
      তবে তো পাঠ্যপুস্তকে গ্যাং কালচার, জিন্স ফ্যাশন আর ডেট সমাচার বেশি কাম্য।
      হেফাজত নয় প্রতিটি ধর্ম মতেই নৈতিকতার শিক্ষা,চর্চা অনুশাষন প্রতিটা শিশুর মধ্যে গোড়ে তোলা যেমন জরুরী তেমনি প্রতিটা বাবা-মারও উচিত নিজেদের মধ্যেও নৈতিকতার চর্চা। নয়তো চোখের সামনে অবক্ষয়ের ব্যধি নিয়ে যে প্রজন্ম বেড়ে উঠছে, পরের প্রজন্মতে তা মহামারীতে পরিনত হবে। একটা সামান্য বিষয়কে এখন টেনে রাজনীতির মাঝে নিয়ে পুরো পাঁচ মাস কাদা ছুরাছুরি করা হবে| আর সাংবাদিকেরা সেটা আনন্দ সহকারে প্রচার করবে|ও তে ওড়না না দিয়ে ও তে ওমশক্তি দিলে ভারতের দাদারাও খুশি হতো আর তসলিমা নাসরিন,জাফর ইকবালদের প্রবন্ধও বের হতো না.| বাম গোষ্ঠীটির সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার আরও কিছু দিক দেখা যাকঃ
      ১। হাল আমলে নাস্তিকতাবাদ এক নতুন রূপ আর শক্তি নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। নাস্তিকতার এ প্রসারের পেছনে এ বাম গোষ্ঠীটির পরিকল্পনা শতভাগ উপস্থিত।
      ২। প্রথম থেকেই এ বামেরা ছিল চরমপন্থি, মৌলবাদি আর ভয়ঙ্কর প্রতিক্রিয়াশীল।
      ৩। খোদার সাথে তাদের যুদ্ধ একটি ঘোষিত বিষয়। এ নিয়ে কোন ধরণের লুকোছাপা তাদের নেই।
      ৪। মানুষের জন্য প্রাকৃতিক নিয়মে যে বিষয়গুলো স্বাভাবিক, তার প্রতিটির বিরুদ্ধে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিরোধিতা ও সে বিরোধিতার বাস্তব প্রতিফলনে তারা ব্যস্ত।
      ৫। মানুষের জীবনের সাথে উতপ্রোতভাবে জড়িত যে সকল বিষয় যেমন- ফ্যাশন, কালচার, বিনোদন, যৌনতা, সাহিত্য, অর্থনীতি- এ বিষয়গুলো তারা দখল করে নিয়েছে। মানুষ কি পড়বে, কি খাবে, কিভাবে কথা বলবে- এ ট্রেন্ডগুলো তারা সেট করে দিয়েছে।
      ৬। এই বিষয়গুলোতে তারা খুব সূক্ষ্ণভাবে ইসলাম যে বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকতে বলছে, সেগুলো ঢুকিয়ে দিয়েছে। যেমন এখনকার ফ্যাশনে মেয়েদের গায়ের ওড়না প্রায় উঠে গেছে। কিন্তু এটি একদিনে হয়নি, ধীরে ধীরে ধাপে ধাপে তারা মানুষের মনকে এ বিষয়টিতে অভ্যস্ত করে তুলেছে। মেয়েদের মেকাপ ও সাজগোজের প্রতিটি ধাপে তারা মেয়েদের স্বাভাবিক শারীরিক গঠন ও রূপকে মডিফাই করে এক নতুন রূপ দিয়েছে। অথচ যার প্রতিটি বিষয়ই কোন না কোনভাবে ইসলামের সাথে কন্ট্রাডিক্ট করে।
      ৭। একইভাবে ছেলে-মেয়ের অবাধ মেলামেশা, যা ইসলামের সবচেয়ে অপছন্দের ও শাস্তির বিষয়গুলোর একটি, তাকে তারা এখন এতোটাই সহজ করে তুলেছে যে এ সম্পর্ক না থাকাটাই এখনকার তরুণদের জন্য বিব্রতকর বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
      ৮। বাম শক্তিটি ভয়াবহ রকমের প্রতিক্রিয়াশীল। তাদের মুখের ভাষা শ্রবণ এবং উচ্চারনের অযোগ্য। কিন্তু এই নোংরা ভাষাই তাদের কাছে অতি প্রিয়, আধুনিকতার লক্ষণ।
      ৯। ইসলামপন্থীদের মানুষের কাছে হাস্যকরভাবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টায় তারা তাদের নানা ধরণের বিকৃত নামে ডাকে, যার মাঝে সবচেয়ে পরিচিত হল ছাগু।
      ১০। যখনই কোন কথার যুক্তিতে তারা পেরে উঠে না, তখনই রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী- এ ধরণের প্রতিক্রিয়াশীল শব্দ ব্যাবহার করে ঘায়েল করার চেষ্টা করে। বাম রামেরা ও নগ্নতবাদীরা শুধু নগ্নতাকে সমর্থন করে, তারা কি দেখেনা ওড়না কি শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় পোশাক নাকি, অনেক অমুসলিম মেয়েরাও ওড়না পড়ে। পাঠ্য বইয়ে যদি নৈতিক শিক্ষা না থাকে তাহলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নৈতিক অবক্ষয় দিকে ধাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। নগ্নতার মাঝে যাদের জন্ম তারাই কেবল এসব নৈতিক বিষয় নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।

      Reply
  20. Areefur Rahman

    হুমায়ূন আহমেদের মত বলতে হয়,অনেক মানুষ থেকেও তারা নতুন মানুষ খোঁজে।ঝোঁকটা অারও ভয়াবহ। কেউ সম্পর্কে স্থায়ী হতে চায়না।একটা সম্পর্ক ভাঙ্গলে সম্পর্কের গুরুত্ব, কার্যকারণ ব্যাখ্যা না করে,দ্রুত আরেকটা সম্পর্ক তৈরীর চেষ্টা থাকে।শূণ্যস্থান পূরণ করাটাকেই জীবনের সাফল্য ভাবে।আপত্তি নেই,আপত্তি প্রক্রিয়াতে।আমরা কি খুব ভালবাসাকে গুরুত্ব দিই বলে, ভালবাসছি?না কি পরিবারগুলোর বিচ্ছিন্নতা ভালবাসার যে অপ্রাপ্তি তৈরী করছে,তা দ্রুত পূরণের চেষ্টা করছি।চেষ্টা করতে গিয়ে সচেতন বা অবচেতনভাবে অামরা সব সম্পর্কের দায়িত্ব অনুধাবন বা পালনের চেষ্টা করছিনা।বরং হঠাৎ শূণ্যতা পূরণে যে সম্পর্কগুলো তৈরী হচ্ছে, তা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরী করছে।কখনো কখনো মিথ্যার বেসাতি গড়ছে। নতুন নতুন বিচ্ছিন্নতা তৈরী করছে।আর বিচ্ছিন্নতার ফল মাদকাসক্তি, অবাধ মিথ্যাচার,অজ্ঞতা,একরোখা মনোবৃত্তি ও অনাচার।অনেকেই সামাজিক মিডিয়াতে সচেতনতার কথা বললেও ব্যক্তিজীবন ও পেশাজীবনে চর্চার লেশমাত্র নেই। অামাদের নৈতিকতা কতটুকু প্রাসঙ্গিক?সচেতনতাও কতটুকু বাস্তব?আমরা তরুণরা যেসব অাড্ডাকে সংস্কৃতির কেন্দ্র বলছি,কখনো কখনো তা সচেতনভাবেই ব্যর্থদের পারষ্পরিক ব্যর্থতা শেয়ারের বড় বড় মাধ্যম।তাই রাষ্ট্রে সফলদের অবস্থান তাদের কাছে পরিস্কার নয়।নেতিবাচক কথা,চিন্তা,দ্রুত পরিবর্তনশীল ব্যক্তিত্বে সুনির্দিষ্ট চরিত্র তৈরী হচ্ছেনা।তরুণরা অাত্নপরিচয় সংকটেও ভুগছে। যে চরিত্র নিজেদের মাঝে শৃঙ্খলা তৈরী করতে পারেনা ,নিজের ব্যক্তিত্বকে,দায়িত্ববোধকে জাগাতে পারেনা, সে চরিত্র দিয়ে সচেতনভাবে রাষ্ট্রের পরিবর্তন সম্ভব?বিচ্ছিন্নতা বা অতিরিক্ত অ্যাডভেঞ্চারাস চিন্তা-যে কারণেই হোক, অাত্ননিয়ন্ত্রণ অর্জন করতে না পারলে রাষ্ট্রের সুনাগরিক বলার অধিকার আমরা হারাবো।সুতরাং সচেতন তরুণদের বিপরীতে তরুণদের অন্ধকার দিকও বিদ্যমান।আলো আর অন্ধকারের মাঝে যে জয়ী হবে,আগামীর বাংলাদেশ সেভাবেই চিত্রিত হবে।সিদ্ধান্ত তরুণদেরই নিতে হবে।ভালো খারাপ আপেক্ষিক বিষয় নয়,আমাদের বাঙ্গালী সমাজে তা নির্ণীত।আমরা বাঙ্গালী,বাংলাদেশী,এটা শুধু গর্বের নয়,চর্চারও।আমরা আমাদের আপনজনদের সাথে,সমাজের সাথে লুকোচুরি খেলছি।এতে ক্ষতি আপাত ব্যক্তির,বস্তুত সমষ্টির,সমাজের,সংস্কৃতির,সর্বোপরি রাষ্ট্রের।

    Reply
  21. আখতার

    মুসলিম বিশ্বের জন্য অন্যতম প্রধান ইস্যু হলো শিক্ষা। এ বিষয়টিকে আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। Islamization of Knowledge-এর লেখক ড. ইসমাইল রাজি আল ফারুকির দৃষ্টিতে উম্মাহর জন্য শিক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।আমাদের একটি উত্তম শিক্ষাব্যবস্থা দাঁড় করাতে হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমেরিকা ও পশ্চিমাদের চ্যালেঞ্জ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কিংবা সাংস্কৃতিক যেটিই হোক- এর মোকাবেলায় দাঁড়ানোর জন্য আমাদের একটি ভালো শিক্ষাব্যবস্থা দরকার। সভ্যতার দ্বন্দ্বে ইসলাম জয়ী হবে, নামে হোক বা বেনামে হোক, যদি আমাদের একটি ভালো শিক্ষাব্যবস্থা এবং ভালো শিক্ষিত জনশক্তি (পুরুষ ও নারী উভয়ই) থাকে। কিংবা যদি আমরা তা গড়তে পারি, তবেই তা সম্ভব হবে বলে মনে করা যায়।যেখানে মুসলিম বিশ্বে দারিদ্র্যের সমস্যা, শিক্ষার সমস্যা, সেখানে আমাদের কার দাড়ি কত বড়, সেটি কোনো বিষয় হতে পারে না। কিছু লোক আমাদের প্রধান বিষয়গুলোর পরিবর্তে গৌণ বিষয়গুলোকেই বেশি করে তুলে ধরতে থাকে। কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে যে, একটি বিল্ডিংয়ের কাঠামো দাঁড় করানোর পর সেটির বিন্যাস বিভিন্ন রকম হতে পারে। তবে আগে বিল্ডিংয়ের কাঠামো দাঁড় করাতে হবেই। তেমনিভাবে যেখানে ইসলাম এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি, সেখানে ইসলামের মূল কাজ করার পরই অন্য বিষয়ে মনোযোগ দিতে হবে, যদি তা জরুরি মনে হয়। আর ততটুকু করা যেতে পারে, যতটুকু ইসলাম জরুরি মনে করেছে। কিন্তু এখানে বাস্তবে ইসলামের মূল স্পিরিটই নেই। সেটি উপড়ে ফেলা হয়েছে। তাহলে এ অবস্থা কি সেসব মার্জিনাল বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকার সময়?

    Reply
  22. আলমগীর

    এ সমাজে এমন কিছু লোক আছে যারা অতীব যত্নেরসহিত অন্যের জমিতে মই দিতে খুব ই like করে।
    কিছু বুঝোক বা না বুঝোক একজনের নামে অন্যজনের নিকট দহ্ম্যতারসহিত কাঠি করতে সময় লাগেনা।
    আরে ভাই কাঠি করার আগেতো বুঝবি যে মূল ঘটনা কি?
    আগে তো মূল বিষয়টা বুঝার চেস্টা কর তারপর না হয় কাঠি কর।
    এটা অবশ্য আমাদের সমাজের একার দোষ না। এটতো জাতিগত সমস্যা নাকি -বাঙ্গালী নিজের ১০টাকা হ্মতি করে হলেও অন্যের ৫টাকা হ্মতি করানোতে মজা পায়।

    Reply
  23. আমজনতা

    সমস্যা হচ্ছে নিজের টাকার গরম দেখাতে গিয়ে সন্তানটিকে তৈরি করেছেন একটা জড় পদার্থ।
    চৌদ্দ বছরের দামড়া ছেলেকে দুটো দারোয়ান দিয়ে স্কুলে পাঠান। মাঠে কি পার্কে খেলতে নিয়ে যান না- কারন ‘ডাস্ট’ এসে ‘ডার্টি’ করে দেবে। এমন স্কুলে পাঠিয়েছেন যে স্কুলের কারিকুলাম বোঝার ক্ষমতা আপনাদের নেই, বোঝার চেষ্টাও নেই। ১০ হাজার টাকা দামের টিউটর রেখে সেই টাকার গরম হরদম দেখিয়ে যাচ্ছেন, আর কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলেন, ‘আমার যা আছে, তা খেয়েই চৌদ্দগুষ্টি যাবে।’ আবার একটা রেজাল্টের স্বপ্ন আছে, তাই সন্তানকে ছোটবেলা না শিখতে দিলেন ছবি আঁকা না দিলেন একটা গানের স্কুলে। বরং ঠোঁট উল্টে বললেন, ‘আরে দূর দূর, এসব ন্যাকা ন্যাকা গান-বাজনা-ছবি আঁকা কী আর আমার পোলার জন্য!’
    আপনার ছেলের জগতে আছে দুইটা দারোয়ান আর ফ্রি ইন্টারনেটের ঠেলায় প্রাপ্ত কিছু না বুঝা সংস্কৃতি। ভাবচক্কর মারা ছাড়া তার জীবনে আর কী আছে?
    তারপর রাশি রাশি শূন্যতা। আপনার দশ হাজার টাকা দামের টিউটর তাকে পাঁচ বছরের পুরোনো প্রশ্ন সলভ করা শেখায়, কিন্তু গেটের পাঁচগজ দূরের জীবন তো দেখাতে পারে না! আর আপনি আকাট মূর্খ টাকার কুমির, নিজের ধান্দাটুকু ঠিকই বুঝে নিলেও সন্তানকে কাঁধে নিয়ে একবার রমনার বটমূল থেকে ঘুরে আসেননি কোনোদিন। নিজে দুই পেগ খেয়ে পাঁচশ টাকা দামের হুজুরের কাছে সপ্তাহে একদিন সন্তানকে পাঠান ধর্ম শেখার জন্য। না শেখা হয় ধর্ম না শেখে অধর্ম। কারণ, বাবা-মাই যেকোন সন্তানের প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
    কারণ, বাবা-মাকে প্রথম অনুকরন করে বড় হয় বাচ্চারা।
    কারণ, বাবা-মার আদর্শকেই নিজের আদর্শ হিসেবে টার্গেট রাখে বাচ্চারা।
    এখন বাবা-মায়েরা যদি শিক্ষা, অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব ও আদর্শ দিতে ব্যর্থ হয়, তবে অবশ্যই সেই দায় তাদেরই নিতে হবে। সমাজের দায়িত্ব আসে আরো অনেক পরে।

    Reply
  24. আনোয়ার পাশা

    শিশুদেরও একটা মন আছে, এবং সে মনটা বড়দের থেকে কয়েক লক্ষগুন বেশি সংবেদনশীল, শিশুর উপর বিরুপ ঘটনা বেশি পরিমাণে মানসিক সমস্যা তৈরী করে সেটা আমাদের মা বাবারা তো বুঝতে চান ই না, আমাদের মহামান্য-মাননীয়-সম্মানিতগণ আরো বুঝতে চান না। এবং দুঃখজনক হলেও সত্য যে এই দেশে অর্থনৈতিক মানদন্ডে সামাজিক অবস্থান দিয়েও মানুষের মানসিক অবস্থা বিবেচনা করা হয়, আমাদের সমাজ ধরেই নিয়েছে যার অর্থনৈতিক অবস্থা যত নিচে তার মন বা মনন বলতেও কিছু নেই, তাকে যত খুশি আঘাত করা যায় যেভাবে খুশি ব্যবহার করা যায় তাতে তার কোন প্রতিক্রয়া হবেনা। যার যত টাকা তাঁর মানসিক সংবেদন তত বেশি। এ কথা অবশ্য সত্য যে দারিদ্র্যের সাথে সাথে যুদ্ধ করতে করতে অর্থনৈতিক ভাবে নিচের স্তরে থাকা লোকগুলো নিজেদের বিবেক বিচারবোধ এবং অনুভুতিও এক সময় হারিয়ে ফেলে জৈবিকতা সর্বস্ব মানুষ হয়ে যান কিংবা সভ্যতার চোখে বোধ বুদ্ধিহীন ইতর বিশেষে পরিনত হন, তখন তার আর সাইকোলজি বলে কিছু থাকেনা। কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রে কথাটি কোনভাবেই প্রযোজ্য নয়। শুন্য থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মনস্তত্বের মধ্যে আমি কোন পার্থক্য খুঁজে পাইনি যখন আমি সমাজের সর্বোচ্চ স্তরের এবং ফুটপাতে শোয়া শিশুটির সাথেও কথা বলে মিশে দেখেছি। বস্তুত অর্থনৈতিক কারনে প্রাপ্ত সুযোগ সুবিধার হেরফেরের কারনে তাদের দৈনন্দিন জীবন যাপনে পার্থক্য থাকলো জন্মগতভাবে প্রাপ্ত অনুভুতি, মনন চিন্তনে খুব বেশি পার্থক্য থাকেনা। চিন্তার ব্যপ্তিতে পার্থক্য থাকলেও চিন্তার প্রকৃতি, ধরন এবং গভীরতায় কোন পার্থক্য থাকেনা।

    Reply
  25. হাছান

    সব কিশোরকে বেশী বেশী গাঁজা ফেনসিডিল মাদকদ্রব্য নিতে অব্যস্হ করালেই ওরা বুঁধ হয়ে থাকবে , কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারবেনা , মানুষ খুন করতে পারবেনা ।
    জয় মাদক জয় অমৃতসূরা।

    Reply
  26. R. Masud

    জনাবা শান্তা মারিয়া,
    আপনার লিখা আমি খুব পছন্দ করি, সগুলোনই মনযোগ দিয়ে পড়ি-
    কিন্তু আজকের লিখায় আমি এমন একটা কিছু অনুভব করেছি তাহলো, এই ধরনের লিখার কারনেই এই দেশের অনেক সমস্যার সমাধান হচ্ছেনা।
    আপনার লিখার যেই অংশটাকে সমস্যা হিসাবে দেখছি, তাহলো– ,
    দেশের সব ব্যাপারেই “আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী আর সরকারকে দোষারফ করা”।
    আজকের ইস্যুতে তা যে ভুল আপনার লিখার মাঝেই তার জবাব রয়েছে,
    যেমন ধরুন আপনি নিজেই লিখেছেন
    “”
    এটা হল চটজলদি ‘হিরো’ হওয়ার মোহ। ‘বিনাকষ্টে’ প্রতিষ্ঠা, মোটরসাইকেল চালানো, সালাম পাওয়া, গার্লফ্রেন্ডের চোখে হিরো হওয়ার মোহ। যখন একজন কিশোর দেখে সারা বছর পড়ালেখা করে যা রেজাল্ট হচ্ছে তার চেয়ে বড়ভাইদের হুকুম তামিল করে পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র পেয়ে বেশি ভালো রেজাল্ট হচ্ছে, তখন আর সে কষ্ট করে সিঁড়ি ভাঙতে চায় না। সে চায় লিফটে উঠতে। এক লহমায় শীর্ষে পৌঁছুতে।
    “”
    উপরের অংশটা সঠীক, কিন্তু এই গুলো থামাতে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর বা সরকারের করনীয় তেমন কিছু নাই বলেই ধরা যায়,। যদি কারো কিছু করার থাকে তা হলো পরিবারের, বিদ্যালয়ের, সমাজের। এই সত্যটা যতদিন সামনে এনে বাঙ্গালীরা সমাজের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা না করবে, সমাধান আসবেনা,
    ভগবান যদি জিব্রাইল (আ:) কেও বাংলাদেশের সরকার গঠন করতে পাঠায় তাহলেও সমাধান আসবেনা —
    তাই মনে হয়, আপনার লিখার নিছের অংশটা
    “”পরিবারেরও কিছু ভূমিকা অবশ্যই রয়েছে। “” >>>>
    যদি এমন হতো –
    “”পরিবার আর সমাজই পারে এর একটা স্থায়ী সমাধান দিতে, তবে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী আর সরকারেরও কিছুটা ভূমিকা অবশ্যই রয়েছে।””

    Reply
    • মোঃ আব্দুর রাজ্জাক

      জনাব মাসুদের সাথে এক মত পোষণ করছি। লেখক তার বিশ্লেষণে সম্যার গভীরে যেতে পারেননি।

      Reply
    • Liaquat Ali Khan

      ম্যাডাম শান্তা মারিয়া,

      আপনার লেখাটা চমৎকার হয়েছে বলবোনা, কারণ আরও অনেক তথ্য রয়েছে- যেমন মানুষ কেন আইন হাতে তুলে নিচ্ছে, জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের পথ বেছে নিচ্ছে? তা সরকার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একার দেখার দায়িত্ব নয়- সচেতন জনগোষ্ঠিসহ বিচার বিভাগেরও রয়েছে। রয়েছে সাংবাদিকদেরও। সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতির কাছে ন্যায়ানুগ সহযোগিতা চাইলে- তিনিও ভয় পেয়ে গেছেন। আমরা যারা বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার জন্য ইত্তেফাকসহ স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্রিকায় দীর্ঘদিন লেখালেখির পাশাপাশি মঞ্চের বক্তৃতায়ও ছিলাম সোচ্চার- তাদের মধ্যে আমি একজন আজ বিচার বিভাগের সিলেটের নিম্ন আদালতের দুর্নীতি-দুর্বৃত্তপনার শিকার।

      জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের দাবীসহ তাঁর কন্যাদ্বয়ের বিশেষ নিরাপত্তা আইন নিয়ে লিখে হামলাসহ প্রাণনাশের হুমকীর শিকার হয়েও যে আমি কলম থামাইনি- তৎকালিন ফ্রিডম পার্টির সশস্ত্র ক্যাডার ও চিহ্নিত জবর দখলকারীদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে পুলিশ, জনপ্রশাসন আর বিচার বিভাগ আজ আমাকেই কিনা ধ্বংস নির্মূলে মরিয়া! এই যদি হয় দেশের পরিস্থিতি- তা’হলে এ দেশে জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ মাথাছাড়া দিয়ে উঠবেনা কেন?

      দেশের বিচার বিভাগের নিম্ন আদালতের কতিপয় বিচারকরা এখন বিচারকের আসনে বসে প্রকাশ্যেই ক্ষমতার অপব্যবহারসহ স্বেচ্ছাচারিতা আর অসদাচরণসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসী-জবর দখলকারী দুর্বৃত্তদের গডফাদারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে। ল’ইয়ার্সক্লাববাংলাদেশ.কম এর ইমেইলে সিলেট মহানগর দায়রা জজ জনাব মো. আকবর হোসেন মৃধার বরাবরে এব্যাপারে করা একটি অভিযোগের কপি পাঠিয়েছি। ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ম্যাডামকেও এ বিষয়ে কিছুটা অবহিত করেছি। প্রয়োজন মনে করলে আপনার মেইল ঠিকানা দিন- আপনার কাছেও পাঠাব- আমার অভিযোগ পত্রটি পাঠ করলে আপনি বুঝতে পারবেন দেশ আজ কোন পথে ধাবিত হচ্ছে। ইচ্ছে করলে এ নিয়ে অন্তত: দশটি লেখা লেখতে পারবেন। পাশাপাশি উপলব্দি করতে পারবেন মানুষ কেন আইন হাতে তুলে নিচ্ছে! আর জঙ্গি-সন্ত্রাবাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে!

      এই অসহনীয় নৈরাজ্য যারা সৃষ্টি করছে তাদের বিরুদ্ধে মানুষকে জাগানোর জন্য কিছু লিখুন। ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে আসামী করা হলে জনরোষ দেখে বিচারক ড্রেস পাল্টিয়ে পেছনের দারোজা দিয়ে যখন পালাতে বাধ্য হলে তখন গান রচিত হয়েছিল ‘বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা / আজ জেগেছে এই জনতা…। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা অংশ নিয়েছিল এই গান শত্রুর মোকাবেলায় তাদের তেজোদ্বীপ্ত করে তুলতো। আসুন না দেশ থেকে দুর্নীতি-দুর্বৃত্তপনা নির্মূলে দল মত নির্বিশেষে সবাইকে (যে কোন) নির্বাচিত সরকারের সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করি।

      আমাদের মাননীয় সরকার প্রধানকেও ভাবতে বলুন যে, খুনি মুশতাক ও তাঁর অনেক মন্ত্রীরা আওয়ামী লীগেরই লোক ছিল। দেশ এগিয়ে গেলেও বর্তমান সরকারের কিন্তু বারোটা বাজাচ্ছে এই আওয়ামীলীগেরই কতিপয় নেতা। দলের সাধারণ সম্পাদক একদার তুখোড় ছাত্রনেতা জনাব ওবায়দুল কাদের সাহেবও বলছেন, দলের অসৎ নেতা-কর্মীদের আগে চিহ্নিত করতে হবে। আমি জানিনা তিনি পারবেন কিনা- তাদের বহিষ্কার করতে। কেননা পুলিশ, জনপ্রশাসন আর বিচার বিভাগে যারা বেপরোয়া দুর্নীতি-দুর্বৃত্তপনার সাথে জড়িত তাদের ক্ষমতা অপরিসীম-অপ্রতিরোধ্য!

      Reply
      • Liaquat Ali Khan

        ম্যাডাম শান্তা মারিয়া,

        আপনার লেখাটা চমৎকার হয়েছে বলবোনা, কারণ আরও অনেক তথ্য রয়েছে- যেমন মানুষ কেন আইন হাতে তুলে নিচ্ছে, জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের পথ বেছে নিচ্ছে? তা সরকার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একার দেখার দায়িত্ব নয়- সচেতন জনগোষ্ঠিসহ বিচার বিভাগেরও রয়েছে। রয়েছে সাংবাদিকদেরও। সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতির কাছে ন্যায়ানুগ সহযোগিতা চাইলে- তিনিও ভয় পেয়ে গেছেন। আমরা যারা বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার জন্য ইত্তেফাকসহ স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্রিকায় দীর্ঘদিন লেখালেখির পাশাপাশি মঞ্চের বক্তৃতায়ও ছিলাম সোচ্চার- তাদের মধ্যে আমি একজন আজ বিচার বিভাগের সিলেটের নিম্ন আদালতের দুর্নীতি-দুর্বৃত্তপনার শিকার।

        জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের দাবীসহ তাঁর কন্যাদ্বয়ের বিশেষ নিরাপত্তা আইন নিয়ে লিখে হামলাসহ প্রাণনাশের হুমকীর শিকার হয়েও যে আমি কলম থামাইনি- তৎকালিন ফ্রিডম পার্টির সশস্ত্র ক্যাডার ও চিহ্নিত জবর দখলকারীদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে পুলিশ, জনপ্রশাসন আর বিচার বিভাগ আজ আমাকেই কিনা ধ্বংস নির্মূলে মরিয়া! এই যদি হয় দেশের পরিস্থিতি- তা’হলে এ দেশে জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ মাথাছাড়া দিয়ে উঠবেনা কেন?

        দেশের বিচার বিভাগের নিম্ন আদালতের কতিপয় বিচারকরা এখন বিচারকের আসনে বসে প্রকাশ্যেই ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বেচ্ছাচারিতা আর অসদাচরণসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসী-জবর দখলকারী দুর্বৃত্তদের গডফাদারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে। ল’ইয়ার্সক্লাববাংলাদেশ.কম এর ইমেইলে সিলেট মহানগর দায়রা জজ জনাব মো. আকবর হোসেন মৃধার বরাবরে এব্যাপারে করা একটি অভিযোগের কপি পাঠিয়েছি। ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ম্যাডামকেও এ বিষয়ে কিছুটা অবহিত করেছি। প্রয়োজন মনে করলে আপনার মেইল ঠিকানা দিন- আপনার কাছেও পাঠাব- আমার অভিযোগ পত্রটি পাঠ করলে আপনি বুঝতে পারবেন দেশ আজ কোন পথে ধাবিত হচ্ছে। ইচ্ছে করলে এ নিয়ে অন্তত: দশটি লেখা লেখতে পারবেন। পাশাপাশি উপলব্দি করতে পারবেন মানুষ কেন আইন হাতে তুলে নিচ্ছে! আর জঙ্গি-সন্ত্রাবাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে!

        এই অসহনীয় নৈরাজ্য যারা সৃষ্টি করছে তাদের বিরুদ্ধে মানুষকে জাগানোর জন্য কিছু লিখুন। ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে আসামী করা হলে জনরোষ দেখে বিচারক ড্রেস পাল্টিয়ে পেছনের দারোজা দিয়ে পালাতে বাধ্য হলে তখন গান রচিত হয়েছিল ‘বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা / আজ জেগেছে এই জনতা…। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা অংশ নিয়েছিল এই গান শত্রুর মোকাবেলায় তাদের তেজোদ্বীপ্ত করে তুলতো। আসুন না, দেশ থেকে দুর্নীতি-দুর্বৃত্তপনা নির্মূলে দল মত নির্বিশেষে সবাইকে (যে কোন) নির্বাচিত সরকারের সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করি।

        আমাদের মাননীয় সরকার প্রধানকেও ভাবতে বলুন যে, খুনি মুশতাক ও তাঁর অনেক মন্ত্রীরা আওয়ামী লীগেরই লোক ছিল। দেশ এগিয়ে গেলেও বর্তমান সরকারের কিন্তু বারোটা বাজাচ্ছে এই আওয়ামীলীগেরই কতিপয় নেতা। দলের সাধারণ সম্পাদক একদার তুখোড় ছাত্রনেতা জনাব ওবায়দুল কাদের সাহেবও বলছেন, দলের অসৎ নেতা-কর্মীদের আগে চিহ্নিত করতে হবে। আমি জানিনা তিনি পারবেন কিনা- তাদের বহিষ্কার করতে। কেননা পুলিশ, জনপ্রশাসন আর বিচার বিভাগে যারা বেপরোয়া দুর্নীতি-দুর্বৃত্তপনার সাথে জড়িত তাদের ক্ষমতা অপরিসীম-অপ্রতিরোধ্য!

    • Liaquat Ali Khan

      ম্যাডাম শান্তা মারিয়া,

      আপনার লেখাটা চমৎকার হয়েছে বলবোনা, কারণ আরও অনেক তথ্য রয়েছে- যেমন মানুষ কেন আইন হাতে তুলে নিচ্ছে, জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের পথ বেছে নিচ্ছে? তা সরকার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একার দেখার দায়িত্ব নয়- সচেতন জনগোষ্ঠিসহ বিচার বিভাগেরও রয়েছে। রয়েছে সাংবাদিকদেরও। সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতির কাছে ন্যায়ানুগ সহযোগিতা চাইলে- তিনিও ভয় পেয়ে গেছেন। আমরা যারা বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার জন্য ইত্তেফাকসহ স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্রিকায় দীর্ঘদিন লেখালেখির পাশাপাশি মঞ্চের বক্তৃতায়ও ছিলাম সোচ্চার- তাদের মধ্যে আমি একজন আজ বিচার বিভাগের সিলেটের নিম্ন আদালতের দুর্নীতি-দুর্বৃত্তপনার শিকার।

      জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের দাবীসহ তাঁর কন্যাদ্বয়ের বিশেষ নিরাপত্তা আইন নিয়ে লিখে হামলাসহ প্রাণনাশের হুমকীর শিকার হয়েও যে আমি কলম থামাইনি- তৎকালিন ফ্রিডম পার্টির সশস্ত্র ক্যাডার ও চিহ্নিত জবর দখলকারীদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে পুলিশ, জনপ্রশাসন আর বিচার বিভাগ আজ আমাকেই কিনা ধ্বংস নির্মূলে মরিয়া! এই যদি হয় দেশের পরিস্থিতি- তা’হলে এ দেশে জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ মাথাছাড়া দিয়ে উঠবেনা কেন?

      দেশের বিচার বিভাগের নিম্ন আদালতের কতিপয় বিচারকরা এখন বিচারকের আসনে বসে প্রকাশ্যেই ক্ষমতার অপব্যবহারসহ স্বেচ্ছাচারিতা আর অসদাচরণসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসী-জবর দখলকারী দুর্বৃত্তদের গডফাদারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে। ল’ইয়ার্সক্লাববাংলাদেশ.কম এর ইমেইলে সিলেট মহানগর দায়রা জজ জনাব মো. আকবর হোসেন মৃধার বরাবরে এব্যাপারে করা একটি অভিযোগের কপি পাঠিয়েছি। ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ম্যাডামকেও এ বিষয়ে কিছুটা অবহিত করেছি। প্রয়োজন মনে করলে আপনার মেইল ঠিকানা দিন- আপনার কাছেও পাঠাব- আমার অভিযোগ পত্রটি পাঠ করলে আপনি বুঝতে পারবেন দেশ আজ কোন পথে ধাবিত হচ্ছে। ইচ্ছে করলে এ নিয়ে অন্তত: দশটি লেখা লেখতে পারবেন। পাশাপাশি উপলব্দি করতে পারবেন মানুষ কেন আইন হাতে তুলে নিচ্ছে! আর জঙ্গি-সন্ত্রাবাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে!

      এই অসহনীয় নৈরাজ্য যারা সৃষ্টি করছে তাদের বিরুদ্ধে মানুষকে জাগানোর জন্য কিছু লিখুন। ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে আসামী করা হলে জনরোষ দেখে বিচারক ড্রেস পাল্টিয়ে পেছনের দারোজা দিয়ে পালাতে বাধ্য হলে তখন গান রচিত হয়েছিল ‘বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা / আজ জেগেছে এই জনতা…। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা অংশ নিয়েছিল এই গান শত্রুর মোকাবেলায় তাদের তেজোদ্বীপ্ত করে তুলতো। আসুন না দেশ থেকে দুর্নীতি-দুর্বৃত্তপনা নির্মূলে দল মত নির্বিশেষে সবাইকে (যে কোন) নির্বাচিত সরকারের সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করি।

      আমাদের মাননীয় সরকার প্রধানকেও ভাবতে বলুন যে, খুনি মুশতাক ও তাঁর অনেক মন্ত্রীরা আওয়ামী লীগেরই লোক ছিল। দেশ এগিয়ে গেলেও বর্তমান সরকারের কিন্তু বারোটা বাজাচ্ছে এই আওয়ামীলীগেরই কতিপয় নেতা। দলের সাধারণ সম্পাদক একদার তুখোড় ছাত্রনেতা জনাব ওবায়দুল কাদের সাহেবও বলছেন, দলের অসৎ নেতা-কর্মীদের আগে চিহ্নিত করতে হবে। আমি জানিনা তিনি পারবেন কিনা- তাদের বহিষ্কার করতে। কেননা পুলিশ, জনপ্রশাসন আর বিচার বিভাগে যারা বেপরোয়া দুর্নীতি-দুর্বৃত্তপনার সাথে জড়িত তাদের ক্ষমতা অপরিসীম-অপ্রতিরোধ্য!

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—