Bangabandhu - 40111

বাংলা সমাজ ও লোকাচারে বহুল ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রবাদে কবে থেকে দশ সংখ্যাটা এত প্রাধান্য পেয়েছিল সেটা বলা মুশকিল। তবে এই সমস্ত কথার ভাবার্থ কিংবা ভাব সম্প্রসারণ থেকে বেরিয়ে আসে অনুপ্রেরণা ও নতুন ভাবনা। যেমন ধরুন; ‘দশে মিলে করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ’, ‘দশ দিন চোরের একদিন গৃহস্থের’, ‘দশচক্রে ভগবান ভূত’, ‘দশের লাঠি একের বোঝা’, ‘সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়’, ইত্যাদি। বাঙালিদের মধ্যে দশ সংখ্যাকে সর্বশেষ যিনি ভীষণভাবে স্পর্শ করেছিলেন তিনি আর কেউ নন, তিনি বাংলার নয়নমণি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ ছিল তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ২৮৯ দিন বন্দি থাকার পর পাকিস্তান কারাগার থেকে বেরিয়ে এই দিনে তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। সেই থেকে অতীতের সব প্রবাদের হাত ধরে বাংলাদেশের মানুষ পেয়ে যায় একটি কিংবদন্তী ১০এর দেখা।

কেমন ছিল সেদিনের সেই দিনটি, কী কী ঘটেছিল ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি? তার আগে জেনে নেওয়া ভালো যে, কিছুদিন আগেও ঢাকা শহর ছিল সভা-সমাবেশ ও মিছিলের শহর। ১৯৬৯ থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি দিনই ছিল ঘর ছেড়ে পথে নেমে আসার দিন। বাঙালিদের জীবনে ঘর এবং রাজপথ ওই দিনগুলোতে একই সুতোয় গাঁথা হয়ে গিয়েছিল। ঢাকার পথগুলো তখন মানুষে মানুষে হয়ে উঠত উত্তাল ঢেউয়ের মেলা। সময়টা ছিল বাঙালিদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সন্ধিক্ষণ।

ঢাকা শহরের নানান সমাবেশ কেন্দ্র অনেক আগে থেকেই মানুষ একত্রিত হত। বিশেষ করে ঈদের মিছিল, মহররমের মিছিল ও জন্মাষ্টমীর মিছিল দেখতে মানুষের উৎসাহের কমতি ছিল না। কালের বিবর্তনে ঢাকার জনসমাবেশর স্বরূপ অনেক পরিবর্তিত হয়েছে। ধর্মীয় সমাবেশের পরিবর্তে জাতীয় অহংকারের দিনগুলো কেন্দ্র করে ঢাকা শহরে বড় দুটি সমাবেশ হয়। এদের অন্যতম হল ২১শে ফেব্রুয়ারি কেন্দ্র করে অমর একুশের প্রভাত ফেরি এবং পহেলা বৈশাখ কেন্দ্র করে মঙ্গল শোভাযাত্রা। এই দুটি জনসমাগম এখন ঢাকা শহরের সীমানা ছাড়িয়ে দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে মানুষ ধর্মবর্ণগোত্রের বিভেদ ভুলে জাতীয় চেতনায় এক কাতারে অংশ নেয়।

বাংলাদেশের জনগোষ্ঠী ২০১২ সালে গণজাগরণ মঞ্চ কেন্দ্র করে পথে নেমে আসার এক অভূতপূর্ব ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে এমনকি বিশ্বের অন্যান্য দেশসমূহে দেশপ্রেমিক মুক্তিযুদ্ধের সমর্থকদের এক কাতারে দাঁড় করানোর দীর্ঘস্থায়ী সমাবেশ ঘটিয়েছিল গণজাগরণ মঞ্চ। যার উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধীদের চরম শাস্তির দাবি। এছাড়া ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদ পতনের আন্দোলনের সময়ও পথে নেমে এসেছিল ঢাকাবাসী। স্লোগানে স্লোগানে মুখর ছিল ঢাকার রাজপথ। বিশেষ করে ১০ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকার রাজপথ ছিল সাধারণের দখলে।

জিয়াউর রহমানের জানাজার দৃশ্য এখনও অনেকে মনে রেখেছেন। ১৯৮১ সালের ৩০মে জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষমতার পালাবদল না হওয়ায় রেডিও-টেলিভিশনে বিরামহীন প্রচার অনেক চাঞ্চল্যকর হয়ে ওঠে। বিদ্রোহী সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে জিয়াউর রহমানকে যেখানে কবর দেওয়া হয়েছিল সেখান থেকে তাঁর লাশ উঠিয়ে ঢাকায় নিয়ে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে জনসাধারণের মধ্যে কৌতূহল বেড়ে যায়। প্রচুর লোকসমাগম হয়েছিল ঢাকায় ২ জুন।

বয়সে যারা আরও প্রবীণ তারা হয়তো মনে করতে পারেন যে, ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর লেবাননের রাজধানী বৈরুত থেকে যখন তাঁর লাশ ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয় সেদিনকার সেই দৃশ্য। সেদিনও প্রচুর লোকসমাগম হয়েছিল বিমানবন্দর থেকে ঢাকার রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত।

তবে উল্লেখ করার মতো যে, দিনটি আজও সকলের মনে আছে এবং আগামীতেও ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে সেটা হল বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ১০ জানুয়ারি। অনেক খলরাজনীতি করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর নাম ইতিহাসের পাতা ও বাঙালির মন থেকে মুছে দিতে। কিন্তু আজ বাংলাদেশের নাগরিক মাত্রই জানে যে, মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘জয় বাংলা’র পরে যে শ্লোগানটি সকলের বুকে শক্তি জোগাত সেটা ছিল, ‘তোমার নেতা আমার নেতা শেখ মুজিব, শেখ মুজিব’।

সেই শেখ মুজিব বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে বাংলার মাটিতে ফিরে আসাতেই বিজয়ের আনন্দ শতভাগ পূর্ণ হয়। পাকিস্তানের পিআইএর একটি বিশেষ বিমান রাওয়ালপিন্ডি থেকে উড্ডয়নের সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের নতুন প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘পাখিটি উড়ে গেছে’।

স্মরণ করা যেতে পারে যে, বঙ্গবন্ধুকে ২৫ মার্চ রাতে গ্রেফতারের পর পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী তাদের প্রেসিডেন্টের কাছে সংকেত পাঠিয়েছিল এ রকম যে, ‘বড় পাখিটাকে খাঁচায় বন্দি করা হয়েছে’। ভুট্টোর এই উক্তি ৮ জানুয়ারি প্রচার হতেই দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসতে শুরু করে ঢাকা শহরে। সেদিন ঢাকার রাজপথে যারা নেমে এসেছিল তারা কোনোদিন ভুলতে পারবে না এই স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। দিনটি ছিল সোমবার। রৌদ্রোজ্জ্বল এই দিনটি সদ্যস্বাধীন দেশের জন্য একটি বিশেষ দিন হওয়ায় সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল।

পাকিস্তানের কারাগার থকে মুক্তি দিয়ে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হয় বঙ্গবন্ধুকে। প্রথমে ভুট্টো বলেছিলেন তেহরানে যাবার কথা কিন্তু বঙ্গবন্ধু রাজি না হওয়াতে পরে লন্ডনের নাম বলা হলে বঙ্গবন্ধু তাতে সম্মতি দেন। ৯ জানুয়ারি সকাল আটটা ত্রিশ মিনিটে তিনি হিথরো বিমানবন্দরে নামেন। বিমানবন্দরে ফরেন অফিসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসে বলেন, “ব্রিটিশ সরকার আপনাকে রাষ্ট্রীয় অতিথির মর্যাদা দিয়েছে, তাই আপনাকে ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে ক্লারিজেস হোটেলে (Claridge’s Hotel) নিয়ে যাওয়া হবে।”

এই হোটেলের বলরুমে বসেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু জীবনের প্রথম প্রেস কনফারেন্সে যোগ দেন। এখানে তিনি বলেন, “আমি আজ মুক্ত অবস্থায় আমার দেশবাসীর সাথে সীমাহীন স্বাধীনতার আনন্দ ভাগ করতে চাই।… মুক্তির মহাকাব্যিক সংগ্রামশেষে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি।

অবশ্যই এখানেই তিনি সর্বপ্রথম বিশ্বের কাছে সাহায্য-সহযোগিতা কামনা করেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ এই অকস্মাৎ ভিজিটের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। তিনি ছিলেন লন্ডনের বাইরে। পরবর্তীতে (১৯ জানুয়ারি) এক তারবার্তায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিকসনকে লিখেছিলেন, শেখ মুজিবকে বহনকারী বিমানটি অবতরণের এক ঘণ্টা আগে আমরা জানতে পারি যে, তাঁকে লন্ডনে নিয়ে আসা হচ্ছে। ব্যাপারটা এতই গোপনীয় ছিল।

তাতে কী, ইতোমধ্যে ব্রিটিশ লেবার পার্টির নেতা যিনি পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন সেই হেরাল্ড উইলসন এসে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করে গিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুকে দেখামাত্র তিনি বলেছিলেন, “গুড মর্নিং, মিস্টার প্রেসিডেন্ট।”

অথচ তখনও ইংল্যান্ড বাংলাদেশকে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। বাস্তবতা হল, শুধু ভারত এবং ভুটান ছাড়া অন্য কোনো রাষ্ট্র বাংলাদেশকে তখনও স্বীকৃতি দিতে এগিয়ে আসেনি। এদিকে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাদ দিয়েই প্রধানমন্ত্রী হিথ তাঁর নিবাস ও কার্যালয় ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে ছুটে আসেন। প্রধানমন্ত্রী হিথ সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে নজিরবিহীন সম্মান দেখান। তিনি তাঁর অফিসের বাইরে এসে গাড়ির দরজা খুলে বঙ্গবন্ধুকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেন। এমন কাণ্ড সচরাচর দেখা যায় না।

এভাবেই শুরু হয়ে গেল বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অন্য দেশের রাষ্ট্র ও সরকারের আনুষ্ঠানিকতা। ব্রিটিশ সরকার ভালো করেই জানত যে, বিদেশের মাটিতে অবস্থানরত প্রবাসী সরকারের সিদ্ধান্তেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হয়েছিলেন। এ সত্যটুকু জানা সত্বেও পাকিস্তান, আমেরিকাসহ মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে বিরাজমান সম্পর্ক অটুট রেখেও বাংলাদেশের এই মহান নেতাকে তারা পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে দ্বিধা করেনি। এ থেকেই আন্দাজ করা যায় যে, বিশ্ব অপেক্ষা করছিল ভারত অঞ্চলে একজন নতুন নেতার জন্য।

ব্রিটিশ সরকারকে বঙ্গবন্ধু অনুরোধ করেছিলেন যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে যেন বাংলাদেশে পৌঁছে দেবার ব্যবস্থা করা হয়। যদিও তাঁকে বহন করার জন্য এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ৭০৭ বিশেষ বিমান হিথরোতে অপেক্ষা করছিল, তবু তিনি ব্রিটিশ বিমান বাহিনীর কমেট জেটে করে দেশের পথে রওনা দেন।

এখানে উল্লেখযোগ্য যে, দীর্ঘ ১৫ বছর স্বেচ্ছায় প্রবাসে বসবাসের পর রেজা শাহ পাহ্লভির পতন হলে ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনী দেশে ফিরে আসতে মনস্থ করেন। তাঁকে বহন করা এয়ার ফ্রান্সের বিশেষ বিমানটিতে খোমেনীর একাধিক সহকর্মী ছাড়াও ১২০ জন দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ছিল। খোমেনীর যাত্রা ঝুঁকিমুক্ত রাখার জন্য এত সাংবাদিক সঙ্গে করে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাঁকে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন, “দেশে ফিরে যাবার ব্যাপারে আপনার কী অনুভূতি?”

খোমেনি উত্তর দিয়েছিলেন, “কিছু না (nothing)।”

যাহোক, তবু লক্ষ লক্ষ লোকের সমাগম হয়েছিল ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ তেহরান শহরে।

ড. কামাল হোসেন (তিনিও পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন এবং বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়) এবং তাঁর পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ তারিখে দিল্লি বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে সেখানেও বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও লাল গালিচা সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। তাঁর সম্মানে আয়োজন হয় গান স্যালুটের। এই প্রথম বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে বিদেশি রাষ্ট্র সম্মান জানাল। একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান (ভি ভি গিরি) সরকারপ্রধান (ইন্দিরা গান্ধী) সেই দেশের মন্ত্রিপরিষদ, তিন বাহিনীর প্রধানদের দ্বারা স্যালুট গ্রহণ, শত শত দেশি-বিদেশি সাংবাদিক এবং ৩২ দেশের কূটনীতিকদের উপস্থিতি বাংলাদেশের পক্ষে দৃশ্যমান স্বীকৃতির প্রকাশ পেল দিল্লি বিমানবন্দরে। দিল্লি বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধু বলেন, “কারও প্রতি কোনো ঘৃণা না রেখেই আমি ফিরে যাচ্ছি আমার দেশে।”

দিল্লি বিমানবন্দরের সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতার পর মোটর শোভাযাত্রা করে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লি প্যারেড গ্রাউন্ডে একটি পাবলিক মিটিং এ। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর যখন বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণ ইংরেজিতে শুরু করেন তখন জনতার সারি থেকে জোর দাবি উঠে বাংলায় ভাষণ দেওয়ার। তিনি শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর দিকে তাকালে তিনিও একই অনুরোধ করেন। খুশিতে প্রাণখোলা একটি হাসি দিয়ে বঙ্গবন্ধু বাংলায় ভাষণ দিতে শুরু করেন এই বলে, “আমার ভাই ও বোনেরা।”

সঙ্গে সঙ্গে উল্লাস ও করতালিতে সেই ভাষণ স্বাগত জানায় উপস্থিত জনসাধারণ। রাষ্ট্রীয়ভাবে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানের এটাই ছিল সর্বপ্রথম জনসমাবেশে ভাষণ। এই ভাষণে তিনি বলেন:

“আপনাদের প্রধানমন্ত্রী, আপনাদের সরকার, আপনাদের সৈন্যবাহিনী, আপনাদের জনসাধারণ যে সাহায্য ও সহানুভূতি আমার দুঃখী মানুষকে দেখিয়েছে চিরদিন বাংলার মানুষ তা ভুলতে পারবে না… আমাকে প্রশ্ন করা হয় শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধির সাথে আপনার আদর্শের এত মিল কেন? আমি বলি এটা আদর্শের মিল, এটা নীতির মিল, এটা মনুষ্যত্বের মিল এটা বিশ্বশান্তির মিল।”

পাবলিক মিটিং শেষ করে তিনি রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো নিয়ে সামান্য কিছু আলোচনা করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বাংলাদেশ থেকে ভারতের সৈন্য-প্রত্যাহারের বিষয়টি। তারপর সেখান থেকে আবারও বিমানবন্দর। ভারত সরকার একটা লম্বা বিরতি-যাত্রা প্রস্তুত করে রেখেছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সেগুলো সংক্ষিপ্ত করে আড়াই ঘণ্টা পরই দেশের উদ্দেশে রওনা দেন।

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারির পত্রিকাগুলোর শিরোনাম ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিটি পত্রিকার শিরোনাম, সম্পাদকীয়, সংবাদ ছিল কাব্যিক উপমায় ভরা। দেখে মনে হয়েছিল যেন একজন কবিকে বরণ করতে যাচ্ছে জাতি। বহুল প্রচারিত দৈনিক ইত্তেফাকে শিরোনাম ছিল, ‘ওই মহামানব আসে দিকে দিকে রোমাঞ্চ জাগে’। দৈনিক পূর্বদেশ লিখেছিল, ‘ভেঙেছে দুয়ার এসেছে জ্যোতির্ময়’। সংবাদের শিরোনাম ছিল ‘বঙ্গবন্ধুর প্রতীক্ষায় ঢাকা নগরী’। ডেইলি গার্ডিয়ান লিখেছিল, ‘Once Sheikh Mujibur Rahman steps out at Dacca Airport the new republic becomes a solid fact.’

বাংলাদেশ টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করেছে তাঁর আগমন দৃশ্য। কোলকাতার আকাশবাণী ধারাবিবরণী দিয়েছে। বিবিসির ওয়ার্ল্ড সার্ভিসও বিশেষ বুলেটিন প্রচার করেছিল। বাংলাদেশ বেতার থেকেও ধারাবিবরণী দেওয়া হচ্ছিল। হেলিকপ্টারে উড়ে উড়ে ছবি তুলেছিল সাংবাদিকেরা। বাদ্যযন্ত্র আর ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে মুখর ছিল আকাশ-বাতাস।

তেজগাঁও বিমানবন্দরে সিকিউরিটির দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল বাংলাদেশে সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশসহ ভারতীয় সেনাবাহিনী। এরপরও লোকের ভিড় ঠেকানো তাদের জন্য মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। খুব সংক্ষিপ্ত গার্ড অব অনার পর্ব শেষ করে একটি খোলা ট্রাকের উপর দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে এসে পৌঁছান। তাতে সময় লেগে যায় দুই ঘণ্টারও বেশি। লক্ষাধিক লোকের স্রোত বয়ে গেছে সেদিনের তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে ঢাকার রাজপথে।

স্বাধীনতার বিজয় আনন্দ এই দিনেই পূর্ণতা লাভ করে। অতীতের সব জনসমাবেশ ১০ জানুয়ারির জনস্রোতের কাছে ম্লান হয়ে যায়। তখনও অনেকে নফল রোজা করে যাচ্ছিল বঙ্গবন্ধুর মুক্তি এবং স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আশায়। তাদের সেই নফল রোজার সমাপ্তি ঘটে এই দিনে। এই দিন বাংলার মানুষ নতুন করে বাঁচতে শেখে।

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে অনেক কেঁদেছিলেন বঙ্গবন্ধু। বিমানের সিঁড়ি থেকে শুরু করে রেসকোর্স ময়দানে আর একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দেওয়ার মুহূর্তেও তিনি সাদা রুমাল দিয়ে ঘন ঘন চোখ মুছেছেন। পূর্বপ্রস্তুতিহীন এক ব্যক্তির পরপর দুটি অলিখিত ভাষণে রাষ্ট্রনায়কোচিত দূরদৃষ্টি এবং ঐতিহাসিক দিকনির্দেশনায় ভরা, এমনটি পাওয়া খুবই বিরল। ৭ মার্চ ১৯৭০এর পর ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ একই স্থানে বঙ্গবন্ধু যে ভাষণ দিয়েছিলেন সেই দুটি ভাষণই আজ ঐতিহাসিক। সম্ভবত এই দুর্লভ সৌভাগ্য আর অন্য কোনো রাজনৈতিক নেতার কপালে জুটেনি। শব্দচয়ন, দর্শন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, মানবিক দিক, রাজনৈতিক লক্ষ্য সব দিক দিয়ে বিবেচনায় বঙ্গবন্ধুর ব্যাক টু ব্যাক ভাষণ আমাদের সম্পদ।

আজ হতে শত বছর পর যদি কেউ বঙ্গবন্ধুকে জানতে ইচ্ছে পোষণ করে তবে তাঁর এই দুটি ভাষণই সেই ইচ্ছে পূরণে অনেকখানি কাজ করে দিবে। বিধ্বস্ত বাংলাদেশ গঠন ও টিকিয়ে রাখার যে চ্যালেঞ্জ জাতির সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তনে (বঙ্গবন্ধুর ডাক নাম ছিল খোকা) বাঙালি জাতি নতুন করে প্রেরণা ও আশার আলো খুঁজে পেয়েছিল এই দিনে।

সাদা রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে তিনি উচ্চারণ করলেন, ‘ভাই ও বোনেরা’– তারপর প্রায় ৪০ মিনিটের বক্তৃতার মাঝে মাঝে অনেকবার সেই সাদা রুমাল দিয়ে চোখ মুছেছেন তিনি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একজন মুগ্ধ ভক্ত হয়েও বাঙালি জাতির সাহস ও ত্যাগের মহিমায় গর্বিত হয়ে তিনি তাঁর প্রিয় কবিকে এই দিনে আক্রমণ করে বসেন। কবির বাণী খণ্ডন করে তিনি বলেছিলেন, “কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন সাত কোটি বাঙালিরে হে বঙ্গজননী রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি। কবিগুরুর কতা মিথ্যা প্রমাণ হয়ে গেছে। আমার বাঙালি আজ মানুষ।”

অর্থাৎ যে বাঙালি এতদিন কবিগুরুর আশ্রয়ে সাধারণ মানুষ হয়ে বেঁচেছিল বঙ্গবন্ধু সেই বাঙালিকে কবিগুরুর কাছ থেকে তুলে এনে বীর বাঙালির মর্যাদা দিয়ে নিজ দলভুক্ত করে নিলেন (“আমার বাঙালি আজ মানুষ”)। এছাড়াও সেদিন তিনি শক্রকে বলেছিলেন, “তোমাদের প্রতি আমার আক্রোশ নেই।”

এরই সঙ্গে স্বদেশী মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে এবং চিরদিন স্বাধীন থাকবে। বাংলাদেশকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। সেদিনের সেই ভাষণের প্রতিটি কথার ভাব সম্প্রসারণ করে আমাদের ভাবনা জগতকে আরও ধারালো করতে হবে। আমাদের ভাবনা করতে হবে প্রসারিত। সেজন্য দরকার তাঁর ভাষণ সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ ধারণা।

দশ মাস আগে বঙ্গবন্ধুকে দেশদ্রোহী হিসেবে বন্দি করে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। দশ মাস পর সেই তেজগাঁও বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতি পদমর্যাদায় তিনি বাংলার মাটি স্পর্শ করেন। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতির মর্যাদায় তাঁকে গান স্যালুট দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির শপথ না নিয়েও বিদেশি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান দ্বারা রাষ্ট্রীয় সম্মান পেয়েছিলেন তিনি।

বিমানবন্দর থেকে জনতার নেতাকে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হল জনতার কাতারে, ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে। যেখানে অপেক্ষায় ছিল দেশের জনসাধারণ। একটি পরিষ্কার ঘোষণা তিনি দেশের মানুষকে সেদিনে শুনিয়েছিলেন। আর সেটা হল, “আমি বাঙালি। আমি মানুষ। আমি মুসলমান। একবার মরে দুইবার মরে না…এবং যাবার সময় বলে যাব, জয় বাংলা। স্বাধীন বাংলা। বাঙালি আমার জাতি। বাঙলা আমার ভাষা। বাংলার মাটি আমার স্থান।”

এমন একজন নেতা আমাদের ছিল সে কথা কি আমরা সবাই জানি?

আকতার হোসেনলেখক

২২ Responses -- “খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন দিবসে”

  1. পারভেজ

    মন্তব্যগুলো বেশ জটিল। আমি কেবল এটুকু শেয়ার করতে চাই যে, ১০-০১-১৯৭২ এ সেদিনের ১০ বৎসরের আমি বাবার হাত ধরে নারায়ণগঞ্জ হতে অনেক কষ্ট করে সোহরা- ওয়ার্ডি উদ্যানে হাজির হয়েছিলাম। অনুভূতিটা এখনো তাজা আছে।

    Reply
  2. আলমগীর

    একাত্তর পূর্ব এই ভূ- খন্ডে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরোধিতা করা যেমন দেশপ্রেমিক ও প্রগতিশীল হয়ে ওঠার অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল, ঠিক তেমনি একাত্তর পরবর্তী বর্তমান বাস্তবতায় ভারত রাষ্ট্রের কার্যকলাপের বিরোধিতাও অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
    তবে মনে রাখতে হবে, ভারত রাষ্ট্রের সম্প্রসারনবাদি চরিত্রের বিরোধিতা মানে ভারতের জনগনের বিরোধিতা নয়। খোদ ভারতের অভ্যন্তরে ভারত রাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে ও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের স্বাধীনতার দাবিতে এবং ফ্যাসিবাদি ভারত রাষ্ট্রের বিভিন্ন ধরনের নিপীরন – নির্যাতনের বিরুদ্ধে সেখানকার জনগন আন্দোলন সংগ্রাম এমনকি সশস্ত্র যুদ্ধ পর্যন্ত করছেন। তাদের প্রতি পূর্ন সমর্থন রেখেই আমাদের ভারতীয় সম্প্রসারনবাদ ও তার এবং বিশ্বসাম্রাজ্যবাদের এদেশীয় দালাল শাসকগোষ্ঠির বিরুদ্ধে শক্তভাবে দাড়ানোই এই মূহুর্তের প্রগতিশীলতা ও দেশপ্রেম। এর বাইরে সব চাটুকারিতা।

    Reply
    • B.Z. Khasru

      বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানভারতকে সম্প্রসারনবাদি দেশ মনে করতেন।
      Sheikh Mujibur Rahman talks with journalists upon his arrival in London from Pakistan on 8 January 1972. TIME magazine correspondent Dan Coggin, who claimed he had interviewed Mujib in Dhaka, told State Department officials in mid-January 1972 that the Bengali leader wanted to “establish some sort of link between Bangladesh and Pakistan” in an attempt to forestall any possible move by India to annex Bangladesh. Mujib was suspicious about India’s ultimate intention.
      When Sheikh Mujibur Rahman met the British Prime Minister in London on 9 January in 1972 upon his arrival in Britain from prison in Pakistan, the Bengali independence leader informed Edward Heath that Z. A. Bhutto, Pakistan’s president, had appealed to him to keep a loose federation between Bangladesh and West Pakistan.
      Mujib wanted no formal link with Islamabad; he had told Bhutto the “time for this had passed.” He emphasized to Heath that “any political link with West Pakistan was impossible and would result in another guerrilla war in Bangladesh.”
      “In this, he has confirmed the position of the Bangladesh authorities in Dacca and our own assessment of the state of affairs in the East. However, although he spoke with understandable bitterness of the actions of the previous Pakistan regime, he showed no rancor towards Bhutto, and said that he wished to establish good relations with West Pakistan,” the British leader informed U.S. President Richard Nixon in a letter on 13 January 1972.
      “The new partition should be, in his words, ‘a parting as of brothers,’ ” but Bhutto must acknowledge Pakistan’s division. Relations between “Bangladesh and India would, of course, be much closer,” Heath added, quoting Mujib, who had been in prison in West Pakistan during the nine-month Bangladesh Liberation War in 1971.
      Confusion In Washington
      Despite Mujib’s expressed opposition to having any ties with West Pakistan, the Americans got confused when TIME magazine correspondent Dan Coggin informed them in mid-January 1972 that the Bengali leader did, in fact, want to “establish some sort of link between Bangladesh and Pakistan.” He wanted to do so in an attempt to forestall any possible attempt by India to annex Bangladesh. Mujib was suspicious about India’s ultimate intention. He feared that the domineering Hindu neighbor could someday seek to annex Muslim Bangladesh. State Department officials initially ignored Coggin’s assertion.
      But Coggin conveyed the same message again to the U.S. Consulate General in Kolkata on 19 February 1972. He claimed his information came directly from Mujib, whom he had interviewed in Dhaka, and Yusuf Haroon, former West Pakistan governor and once a Mujib ally, whom Coggin had met in New York. While he made his wish known to Coggin, Mujib feared an attempt on his life if his position became known to the public.
      He asked Coggin to tell the U.S. government that he wanted American economic aid to lessen Bangladesh’s dependence on India and the Soviet Union. He could get considerable aid from India and Russia. But he did not wish to do so because that would make Bangladesh too dependent on those nations. In passing, Mujib revealed that India was trying to convince him to sign a 100 million rupee contract to repair railway bridges in Bangladesh in an attempt to boost the Indian engineering industry.
      Coggin informed the consulate that both Mujib and Haroon were “interested in the re-establishment of some sort of link between Pakistan and Bangladesh.” They told Coggin of their plans to bring the people of Bangladesh in favor of their idea within six to twelve months. They also told him that the re-establishment of ties was necessary for Bangladesh’s survival as an independent country. But they knew there was considerable opposition from Tajuddin Ahmed, war-time prime minister of Bangladesh, and his supporters on the one hand and India on the other.
      “Both men [Mujib and Haroon], according to Coggin, feared that their efforts could result in the assassination of Mujib by an ‘Indian agent.’ Nonetheless, they believed the risk should be taken for the future of Bangladesh. Otherwise, it would soon end up as another Indian state,” the consulate reported to would suggest the possibility that Mujib intends or would be able to bring the Bangladesh public to look with favor on the re-establishment of ties.”
      Minister Indira Gandhi that he had no intention of establishing a Dhaka-Islamabad link of any kind. Gandhi responded that she had no desire to interfere in any Bangla-Pak talks to restore normal relations. Mujib possibly sent out the feeler through Coggin to elicit reactions from different quarters. His secret talks with Bhutto and other Pakistani leaders, including Shaukat Hyat Khan, opposition leader of the Pakistan National Assembly, in subsequent years only indicate his earnest desire to keep close ties with Islamabad. Mujib secretly met Hyat in Malaysia in 1973. He told Hyat he did not cause the separation of Bangladesh from Pakistan. Rather, Bangladesh was “pushed…away by a conspiracy.”
      Whatever his other failings, and there were many, Mujib was a master in the art of Bengali political maneuver. Mujib was never a devotee of Bangladesh’s independence, even as late as March 1971. Like his mentor, H. S. Suhrawardy, he knew an independent East Bengal would be completely overshadowed by India. The events of 1971 changed the situation and confronted him and his country with the fact of Indian power. So keen was Mujib’s sense of the immediacy of power that he consistently pursued a policy of close official friendship with Delhi. Simultaneously, India faced growing howls from many levels of Bengali society.
      India’s image in Bangladesh had worsened to a point within a short time after the new nation was born that even Delhi felt it would be wiser to let Mujib pursue a more openly independent course. Mujib never encouraged his countrymen’s antipathy toward India, but he had seen the advantages of greater flexibility it offered him. He had profited from the paradox. Mujib had always been a capable tactician, but he never got the chance to prove if he was as capable a strategist.
      [This is an excerpt from B.Z. Khasru’s upcoming book, The Bangladesh Military Coup and the CIA Link, which will be published by Rupa & Co. in New Delhi in July.]

      Reply
  3. Fazlul Haq

    বাংলার মহামানব বাঙ্গালীর বঙ্গবন্ধু চিরজীবি চির অম্লান। হে বন্ধু তুমি চির স্মরণীয়।

    Reply
    • Mozammel Hoque

      বাংলার মহামানব বাঙ্গালীর বঙ্গবন্ধু চিরজীবি চির অম্লান। হে বন্ধু তুমি চির স্মরণীয়।

      Reply
  4. ১৯৭২ সালে, আমরা ছিলাম 'সম্পদ'; কারণ, আমরা ছিলাম ঐক্যবদ্ধ এক শক্তি

    শেখ সাহেব “যুদ্ধ ক্ষতিগ্রস্ত ” দেশ থেকে শুরু করেননি, উনি “নতুন দেশ” থেকে শুরু করেছিলেন। যুদ্ধ ক্ষতিগ্রস্ত একটি দেশ শুন্য থেকে শুরু করাটা হয়তো এখন ২০১৭ বলা খুব সহজ কিন্তু ১৯৭২ এ হিসাব করলে ব্যাপার তা কিন্তু অন্য রকম ! ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারী শেখ সাহেব ফিরে এলেন, কাঁদলেন, অনেক কিছু বললেন, মানুষ শুনলো; তারপর উনি বলেই চললেন, সেই বলার শেষ ছিলো না কোনদিন, কথাগুলো ১৯৭০ সালের মাঝে আটকা পড়েছিল, ১৯৭২ এর নতুন জাতির জন্য নতুন কিছু ছিলো না ওখানে। তিনি ৯ মাসের যেই অগ্নি-ঝরা দিনগুলোকে দেখেননি, অনুভব করেননি, সেটা উনার অনুধাবনে ছিল বলে মনে হয় না; আসলে তিনি ভয়ংকর ৯ মাস পেছনে পড়ে গিয়েছিলেন। বাংলার মানুষ, আশা, ভাবনায়, প্রত্যয়ে বিশাল ৯ মাস সামনে ছিলেন। উনি ফিরে আসার পর, মানুষকে সাথে না নেয়াতে, মানুষর মানসিকতা যুদ্ধের আগের অবস্হায় ফিরে গেছে, তারা আইয়ুবের বদলে উনার উপর বিরক্ত হয়েছেন ; ১৯৭১ সালে গড়ে উঠা ‘ঐক্য’ ও ‘বিজয়ের দৃঢ়তা’ হারিয়ে গিয়েছিল। উনি ৯ মাসের ইস্পাত কঠিন মানুষগুলো কে কাছে বিড়াতে পারেন নি। দাদাদের দেশে যারা পিকনিকরত ছিলেন তাদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়েছিলেন।শেখ সাহেব থেকে ওয়ায়দুল কাদের, উনারা ছাত্র জীবনে যা শিখেছেন, সেটার আর উন্নতি হয়নি; উনারা সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এগুতে পারেননি। উনি ৯ মাসের ইস্পাত কঠিন মানুষগুলো কে কাছে বিড়াতে পারেন নি। দাদাদের দেশে যারা পিকনিকরত ছিলেন তাদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়েছিলেন। উনি যখন দেশে ফিরেন তখন মানুষের সদ্য স্বাধীনতা পাওয়া আবেগ দেখে ছিলেন। মানুষের ভিতরের অন্তক্ষরণ বুঝতে পারেন নি। উনি ১৯৭০ সালের চামচাদের দ্বারা আবৃত ছিলেন। তাই ১৯৭২ সালের কেউ তাঁর কাছে ভিড়তে পারেনি……..আমার তো মনে হয় ৭১ থেকে আমাদের শিখতে হবে বুঝতে হবে এবং পরিশেষে এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে নতুন আশা আখাঙ্খার নব উদ্দীপনার মধ্যে তৈরী করতে হবে নতুন সম্ভাবনার বাংলাদেশ। গঠনমূলক আলোচনা করে কিভাবে সামনের দিকে আগানো যায় আমার মনে হয় আমাদের সেটা করা উচিত। আমাদের দরকার সমন্বয়।
    ১৯৭২ সালে, আমরা ছিলাম ‘সম্পদ’; কারণ, আমরা ছিলাম ঐক্যবদ্ধ এক শক্তি।
    আজ ৪৬ বছর পর, প্রতিটি পরিবার অন্য পরিবারের সাথে প্রতিযোগীতায় আছেন।
    ১৯৭২ সালে গোলামে আজম, নিজামীরা পালিয়ে গিয়েছিল, বিএনপি ছিলো না, ; আজ আছে সালমান রহমানরা ও “টোকাইরা”; আজ আছে, লীগ । ১৯৭২ সালে পালিয়ে যাওয়া মানুষ ফেরত এসেছিলেন, আজ মানুষ ট্রলারে করে পালাচ্ছেতিনি আসলে পরিবর্তিত বাঙ্গালী মানসিকতা,প্রত্যাশা বা চাহিদা বুঝতে পারেননি অথচ বাঙ্গালী যুদ্ধের পরও সবকিছু ওনার হাতে তুলে দিতে চেয়েছিল। তিনি যখন বললেন, “আমি তিন বছর তোমাগো কিছু দিতে পারুম না” বাঙ্গালী দুই হাত তুলে সমর্থন জানিয়ে ছিলো। এমন অকুন্ঠ সমর্থন পেয়েও যিনি ব্যর্থ হন তাকে আর কিভাবে মূল্যায়ন করা যায় বুঝতে পারছি না।৭২রে আজকের শিশুলীগ ছিলোনা .. এর মাত্র ৩ বসর পর সাভারে সিরাজ সিকদার খুন হন ১৯৭৫ সালের ১ জানুয়ারি। (কেউ বলেন শেরে বাংলা নগরে। বাংলাদেশে এটাই প্রথম ক্রসফায়ারের ঘটনা। সেই একই গল্প। পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় বাধ্য হয়ে পুলিশের গুলি)। শুধু বলার জন্যই বলা না …সবাই যদি বলেই যায় তাহলে সুনবেটা কে ? সমস্যাটাকি জানেন , সবাই ভুলে যায়। তার পরেও বলে যান অন্য কেউ না শুনলেও আমি শুনছি…বাংলাদেশের ইহিতাস কোথাও পেলে কেন জানি মন্ত্র মুগ্গদের মতো শুনি … শুনতে হয়। মানুষ একবারই একত্রিত হয়েছিল দেশ কে বাঁচাতে ।তারপর আর কেউ একত্রিত করতে পারেনি ।
    ৪৬ বছর কেটে গেছে।পাছা চুল্কিয়ে বলি – আমরা এগিয়ে যাচ্ছি । কলোনী থেকে বের হওয়ার পর মানুষের স্বপ্ন ভেংগেছে ১ বার; বাংলাদেশ হওয়ার পর, বড় অংশের স্বপ্ন ভেংগে গেছে ২য় বার। দেশ না শধু বিশ্বসহ এগুচ্ছে বসুব্ধরা, ওরিয়ন, খুলনা পাওয়ার, বেক্সিমকো, আফতাব, জহুর আহমেদ, আলম ব্রাদার্সদের জন্য; বাকীরা এগিয়ে লাইন ধরে গিয়ে সৌদীর রাস্তা পরিস্কার করছে ও মালয়েশিয়ায় বাগানে পানি দিচ্ছে! পুরান মাল দেশ এবং বিশ্ব ফুলে ফেপে বড় হচ্ছে ।
    পরিবারের ভিতরে কাদের ভুঁড়িতে চর্বি জমছে -তা জাতি টের পাচ্ছে না।এ নিয়ে কেউ লিখছেও না। একটা খতিয়ান তৈরি করা হোক !জাতি জানুক ।

    Reply
  5. জাতিকে ঐক্যের বন্ধনে গড়ে তোলার প্রত্যয়

    মুর্শিদাবাদের পলাশীতে (বর্তমান নদীয়া জেলার কালিগঞ্জ থানা) সিরাজ-উদ-দৌলার সাথে যুদ্ধ হয়নি ইংরেজদের। হয়েছে প্রহসন ও বিশ্বাসঘাতকতা। যেখানে লর্ড ক্লাইভ মাত্র ৩ হাজার সিপাহি (২ হাজার ২০০ সিপাহি ৮০০ পদাতিক সৈন্য) নিয়ে নবাবকে আক্রমণ করে। এর বিপরীতে নবাবের ৫০ হাজার সৈন্য (৩৫ হাজার পদাতিক, ১৫ হাজার অশ্বারোহী, ৫৩টি কামান) পরাজিত হয়। যে যুদ্ধ কল্পনাকেও হার মানায়। পলাশী যুদ্ধে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয় মানে বাংলার স্বাধীনতা হারানো। শুধু কী বাংলার স্বাধীনতা বিনষ্ট হওয়া? এর ফলে বাংলা, বিহার ও উরিষ্যার স্বাধীনতা বিনষ্ট হয়। এর পর সমগ্র ভারতবর্ষই স্বাধীনতা হারায়। বরণ করে নিতে হয়েছিল পৌনে দু’শ বছরের ইংরেজ গোলামি। সে গোলামি দশা থেকে মুক্তি পেতে আমাদের জাতীয় কবি, ঐতিহ্যের কবি, শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বাঙালি কাজী নজরুল ইসলাম জাতির বিবেককে জাগ্রত করে তুলে স্বাধীনতা অর্জন ও রক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণে সে দৃশ্যই এঁকেছেন তাঁর কবিতায়।
    যে যে ক্ষেত্রে পরাধীন মনোবৃত্তির অনুপ্রবেশ ঘটেছে সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এগুলো ঝেঁটিয়ে বিদায় করে একটি স্বাধীন দেশের সৎ মনোবৃত্তি নিয়ে আমাদের ভাষার বিকাশ ও লালনে এবং এর শব্দভান্ডারকে আরো সমৃদ্ধকরণে আমরা অবশ্যই নতুন শব্দ সৃষ্টি করবো, গ্রহণ করবো, তবে পৌনে দু ’শ বছরের ইংরেজ গোলামির চিহ্ন বহনকারী ভাষা ও সংস্কৃতি কখনোই আমাদের অনুসরণীয় সংস্কৃতি হতে পারে না। আজকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নানাদিকে হুমকির সম্মুখীন। উপরন্তু বেনিয়া সংস্কৃতি এবং হিন্দি কালচার আমাদের এ স্বাধীন চিত্তবৃত্তিকে অনেকটা গ্রাস করতে উদ্যত। আমাদের জাতিকে ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করার প্রয়াস না নিয়ে কেবলই অনৈক্য সৃষ্টির চেষ্টা সেই ব্রিটিশ-বেনিয়াদের শেখানো ‘ডিভাইড অ্যান্ড রোল’ পলিসিরই দাসানুদাস অনুসরণ। এটি একটি শক্তিশালী জাতিগঠনের প্রধান অন্তরায় এবং আমাদের যারা প্রকৃত শত্রু আজ তারা আমাদেরকে এদিকটায় অনুগত করার ক্রমাগত তালিম দিয়ে যাচ্ছে আর অনুর্বর মস্তিষ্ক তা লুফে নিয়ে গোটা জাতিকে এক অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী দেশের প্রকৃত গার্জিয়ান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিকে ঐক্যের বন্ধনে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে যেভাবে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন সে যাত্রাপথ বহু চড়াই উতরাই অতিক্রম করে পুনরায় অনৈক্যের অন্ধকার গলিতে পা বাড়িয়েছে। অনৈক্যের এ কালো নেকাব থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের স্বাতন্ত্র্যকে অবশ্যই রক্ষা করে চলতে হবে। একটি ঐতিহ্যের সিঁড়ি বেয়ে ষড়যন্ত্রের উন্মোচন ঘটিয়ে হাজারো সিরাজের প্রতিরোধের মুখে হটিয়ে দিতে হবে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের এবং রক্ষা করতে হবে বাংলাদেশের নাম, বাংলাদেশের স্বাধীনতা। এবং বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে প্রত্যেকটি বাঙালিকে। বাঙালি আজ বিশ্বজয়ের নেশায় ব্যাকুল। তার এ আকুতিকে দেখতে হবে শ্রদ্ধার সাথে। ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব-শত্রুতা কারো সাথেই নয়’ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির এ মৌলিক দিককে উচ্চকিত করে অভ্যন্তরীণ অনৈক্য যেমন দূর করা সম্ভব ঠিক তেমনি বিশ্বসভায় ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে বাঙালি একটি শক্তিশালী জাতি হিসেবে আবির্ভূত হবে এই হোক আমাদের আজকের অঙ্গীকার।

    Reply
  6. যেদিন আমি বলব সেই দিন ভারতের সৈন্য বাংলার মাটি ছেড়ে চলে যাবে

    ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু লাখ লাখ অনুরাগীর ভালবাসায় সিক্ত হন। বাংলাদেশের জনগণ এদিনই প্রাণভরে বিজয়ের পূর্ণ স্বাদ উপভোগ করেন। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও বাংলার মানুষ তখনও জানত না তাদের নয়নের মণি ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব জীবিত আছেন কিনা? তাই বিজয়ের মধ্যেও মানুষের মনে ছিল শঙ্কা ও বিষাদের ছাপ।বাঙালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১৭ মিনিট জাতির উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন। যা ছিল জাতির জন্য দিকনির্দেশনা।মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান যেমন সত্য তেমনি এ দেশের মাটিতে ভারতীয় সৈন্যের অনির্দিষ্টকালের অবস্থানের ফলে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়াও ছিল এক বাস্তব সত্য। আর তা ভেবে বঙ্গবন্ধু দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেন, ‘যারা জানতে চান আমি বলে দেবার চাই, আসার সময় দিল্লীতে শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে যে সময় আলোচনা হয়েছে। আমি আপনাদের বলতে পারি, আমি জানি তাকে। তাঁকে আমি শ্রদ্ধা করি। সে পন্ডিত নেহেরুর কন্যা, সে মতিলাল নেহেরুর ছেলের মেয়ে। তারা রাজনীতি করছে। ত্যাগ করছে। তারা আজকে সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছে। যেদিন আমি বলব সেই দিন ভারতের সৈন্য বাংলার মাটি ছেড়ে চলে যাবে। এবং আস্তে আস্তে কিছু সৈন্য সরায়ে নিচ্ছে।’
    তিনি জনগণকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বলেন ‘আমি দেখায় দেবার চাই দুনিয়ার কাছে শান্তিপূর্ণ বাঙালী রক্ত দিতে জানে, শান্তিপূর্ণ বাঙালী শান্তি বজায় রাখতেও জানে।’
    মহান মুক্তিযুদ্ধে বহির্বিশ্বের সমর্থনকে অকুণ্ঠ চিত্তে স্বীকার করেন এ ভাষণে। পাশাপাশি তিনি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানান ভারত সরকার, সে দেশের জনগণ ও তাদের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে। কৃতজ্ঞতা জানান ব্রিটেন, জার্মান, ফ্রান্স ও সোভিয়েত ইউনিয়নকে। আবার বঙ্গবন্ধু মার্কিন জনগণকে ধন্যবাদ জানান, সরকারকে নয়।
    যুদ্ধাপরাধীদের গণবিরোধী ভূমিকা পালন করার ফলে মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর প্রতিহিংসাপরায়ণবশে অনেক সহিংস ঘটনা ঘটে। এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু সর্তকবাণী উচ্চারণ করেন, ‘আজ আমার কারও বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা নাই, একটা মানুষকে তোমরা কিছু বলো না, অন্যায় যে করেছে তাকে সাজা দেবো। আইনশৃঙ্খলা তোমাদের হাতে নিও না।’

    Reply
    • B.Z. Khasru

      একাত্তর পরবর্তী বর্তমান বাস্তবতায় ভারত রাষ্ট্রের কার্যকলাপের বিরোধিতা অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
      It had been asserted in The India Doctrine (2008) that Sheikh Mujibur Rahman had greatly distrusted #India and that even after the 1971 war had sought some kind of accommodation with #Pakistan. According to a new book (‘The Bangladesh Military Coup and the CIA Link’ by B.Z. Khasru) Sheikh Mujibur Rahman is said to have feared that India would eventually annex #Bangladesh and that he might be assassinated by an Indian agent if his views were widely known. It had been claimed in The India Doctrine that the main dilemma faced by Mujib was that after independence he was already surrounded by Indian agents and had little room to maneuver. It was, however, his megalomania that soon got the better of him and his failings as a leader became more and more apparent (which was also partly due to incessant Indian interference in policy making) and eventually led to his bloody demise on August 15, 1975. It was left to President Ziaur Rahman to establish a more balanced and cautious relationship with India in the ensuing years.
      [This is an excerpt from B.Z. Khasru’s upcoming book, The Bangladesh Military Coup and the #CIA Link, which will be published by Rupa & Co. in New Delhi in July.] State sponsored intelligence agencies can be compared with organised criminal gangsters like the Mafia. However, one big difference is that these criminals with licenses have more resources and more power and can operate fearlessly with impunity. Both before and after committing any top-secret operation these agencies take a lot of measures to cover up their footsteps and deliberately leave behind false leads. One well known and widely used technique is spreading multiple versions of highly elaborate and complex, competing theories and plots. This allows them to deceive not only the man in the street, but intelligent academics and investigative journalists. Neither Sheikh Mujib nor any of the other Muslim stalwarts of the independence movement were capable of such superhuman feats. If they were really capable of such feats, then Bangladesh would never have landed in the mess it is in today. Even if we do not like it, the devil must be given the credit that truly belongs to the evil devil. Emboldened by the successful execution of over many opposition leaders and activists, the anti-Islamic elements inside Bangladesh egged on by their Indian Godfathers have embarked on more killings and executions. The killing process has now spread across the country and nobody feels safe in Bangladesh any longer, not even the members of the ruling party. Bangladesh has descended into an unbridled reign of terror. The only beneficiary of this chaotic political hell and social meltdown are the Indian political elites with hegemonic design over Bangladesh. The sooner we Bangladeshis realise this simple fact the better it will be for Bangladesh. The longer we take to realise this fact, staring right in front of our face, the longer the suffering of the people will continue.
      Eternal vigilance is the price of freedom.

      Reply
  7. Rafikul

    ২৫শে মার্চ তিনি কেন বন্দিত্ব বরন করেছেন? তাও বুঝার জ্ঞান বর্তমান রাজনীতিকদের নেই।তিনি ভারতকে সম্প্রসারনবাদি দেশ মনে করতেন।ভারতে তাঁর অবস্থান অসম আবদার হয়তো রক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধ চালিয়ে যেতে হত।যেহেতু স্বাধীনতার প্রশ্নে মুক্তিযুদ্ধের সকল প্রস্তুতি তিনি আগেই সম্পন্ন করে রেখেছেন,তাই সম্প্রসারনবাদি ভারতের আশ্রয় গ্রহন করে উপনিবেশিক শাষন শোষন থেকে মুক্ত হয়ে, সম্প্রসারন বাদি দেশের তল্পিবাহক হতে চাননি বিধায়, সবাইকে যার যার মত দায়িত্ব দিয়ে নিজেই বসে ছিলেন পরিবার নিয়ে ৩২নম্বর বাসভবনে।
    তিনি জানতেন,যদি তাঁকে হত্যা করে,তিনি বেঁচে থাকবেন বাঙ্গালি হৃদয়ে, বিশ্বের কোটি কোটি মুক্তিকামি মানুষের মুক্তির দুত হয়ে।মৃত্যু একদিন অনিবায্য।সেই মৃত্যু যদি ঐতিহাসিক করে যেতে পারেন,তবে সারা জীবনের সংগ্রাম সার্থক।আর যদি বেঁচে যান, তবে স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশের রুপকার হয়ে বাকি জীবন মনের তৃপ্তিতে অতিবাহিত করবেন। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় এবং নতুন জাতির উম্মেষকারি হিসেবে বাঙ্গালি হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন সুর্য্য যতদিন আলো বিকিরন করবে ততদিন। নি:সন্দেহে একদেশ থেকে মুক্তি পেয়ে আর এক দেশের দাসত্ববরন চাননি বলেই সুদুরপ্রসারী চিন্তাবীদ,যুগশ্রেষ্ঠ দার্শনিক মুজিব সঠিক সিদ্ধান্তই নিতে পেরেছিলেন। ” বাকশাল” গঠিত হওয়ার পর জাতির জনক অনুভব করতে পেরেছিলেন,দলে শুদ্ধি অভিযান চালানোর সময় এসে গেছে।শুদ্ধি অভিযানে যত দেরী হবে,তাঁর স্বপ্ন পুরনে ততই বিঘ্নতার সৃষ্টি হবে,বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপন হবে। শত্রু নীজের বিচানায় রেখে ঘুমানোর অর্থই হচ্ছে,নীজের মৃত্যুকে পাশে রেখে ঘুমানো।পদক্ষেপ ও নিতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন,শত্রুরা তাঁকে সেই সুযোগ আর দেয়নি।তাঁর আগেই স্ব-পরিবারে তাঁকে হত্যা করে তাঁদের পথ পরিষ্কার করতে সক্ষম হয়। আওয়ামী লীগের এই সময়টাতে দলের ভেতর-বাহির পরিচ্ছন্ন করার সময়। আজ আওয়ামী লীগে যে সকল দুর্বৃত্ত নেতাকর্মী আছে, বয়স্ক ও বিভ্রান্ত মন্ত্রী-উপদেষ্টা আছে তাদের বিষয়ে ভাবতে হবে। আবেগ দিয়ে আওয়ামী লীগকে চললে হবে না,আবেগের সাথে বাস্তবতার সংমিশ্রন ঘটাতে হবে।আওয়ামী লীগকে, গণমুখী ও বিবেকবান, জনসম্পৃত্ত হতে হবে। ভারতে কংগ্রেসের অবস্থা ও অবস্থানের অভিজ্ঞতা সংরক্ষন করে সেই মতে আওয়ামী লীগকে তৃন্মুল থেকে সাজানোর উদ্যোগ নিতে হবে। শেখ হাসিনাকে স্মরন করে দিতে চাই,বর্তমানে দল যেখানে দাঁড়িয়ে আছে,যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলা করে জনচাহিদা অনুযায়ী আওয়ামী লীগ,যুব লীগ, ছাত্র লীগকে মাস্তান, লুটেরা,দুবৃত্ত মুক্ত করা আপনার দায়িত্ব। তাহলেই আওয়ামী লীগ দল হিসেবে জনগণের কাছে আস্থাভাজন আরো টেকসই হবে। যেভাবেই হোক দেশবাসীর স্বার্থে শেখ হাসিনাকে এই কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে।

    Reply
  8. Ahmed Hasan

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজকোষ কেলেঙ্কারির জের ধরে পদত্যাগ করলেন ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) প্রেসিডেন্ট ও সিইও লরেঞ্জো তান। তিনি বলেছেন, রিজার্ভ চুরি কেলেঙ্কারিতে নিজে কোনো ভুল করেননি। তবে ব্যাংকের পক্ষ থেকে ‘নৈতিক দায়’ নিয়ে পদত্যাগ করছেন তিনি। এই ‘নৈতিক দায়’ বাংলাদেশে কখনো ঘটছিল কিনা আমার জানা নাই I ৫ই জানুয়ারী ভোটারবিহীন নির্বাচন, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা আর এখন চলছে ইতিহাসের জঘন্যতম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন I কই কারোতো ‘নৈতিক দায়’ দেখা গেল না !! নির্বাচন শেষে প্রেস ব্রিফিং, নির্বাচন খুব সুষ্ঠ হইছে, কিছু কিছু ঘটনা ছাড়া I এই বস্তা পচা শিখানো বুলি আরে কত দিন ? বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাটা পুরোপুরি ধংশ করার জন্য আওয়ামীলিগকে একদিন না একদিন জবাব দিতে হবে I শুধু সময়ের অপেক্ষা I

    Reply
  9. মুক্তিযোদ্ধা চাচাত ভাই মারা গেছেন

    আমার এক মুক্তিযোদ্ধা চাচাত ভাই কিছুদিন আগে মারা গেছেন I উনি খুব বাকপটু ছিলেন I মারা যাবার আগ পর্যন্ত সবাই জানত উনার সাথে আমার সম্পর্ক ভালো না, গ্রামের কিছু বিশয় নিয়া সত্যি সত্যি আমার কিছু সমসা ছিল উনার সাথে I কিন্তু উনার সাথে আমার যোগাযোগ ছিল সব সময় I বছর দুই আগে একদিন হঠাথ গুলশানে উনার সাথে দেখা I আর দেখা হতেই আমাকে জিজ্ঞাস করলেন কেমন আছি ইত্যাদি ইত্যাদি I তারপর আমরা একটা রেস্তোরাতে গেলাম এবং যথারীতি আমার বাকপটু ভাই রাজনীতি নিয়া কথা শুরু করলেন I আমি সবসময় উনাকে মনে করতাম উনি রাজনীতি কিছু বুঝে না শুধু কমিক টাইপ বক্তিতা দিয়া মানুষকে হাসায় I কিন্তু ঐদিন উনি আমাকে এমন কিছু কথা বললেন যা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে শতভাগ সত্যিতো বটেই উনার সম্পর্কে আমার কিছু ধারণা পাল্টে যায় I
    উনি বাংলাদেশের ৩৩০ জন পার্লামেন্ট মেম্বারকে বাক্তিগতভাবে না চিনলেও সবার রোজনামতা উনার মুখস্ত I সেইদিনই আমি উনার মুখ থেকে এই বিখ্যাত উক্তিটা শুনেছিলাম “বাংলাদেশে বিখ্যাত হতে হলে কুখ্যাত হতে হয় I কুখ্যাত না হলে বাংলাদেশে পার্লামেন্ট মেম্বার হওয়া যায় না” I
    একজন পার্লামেন্ট মেম্বার মানে শুধু একজন আইন প্রনেতাই নয়, দেশের ভাগ্য এই ৩৩০ জন পার্লামেন্ট মেম্বারের হাতে I কিন্তু বিনা ভোটে নির্বাচিত বর্তমান পার্লামেন্ট মেম্বারদের শিশু নির্যাতন, ঘুম, খুন, টেন্ডারবাজি, হিন্দুদের জায়গা জমি দখল, খাল-বিল, হাট-বাজার দখল আর সর্বশেষ শিক্ষক নির্যাতন ও কান ধরে উঠবস করার গৃন্য চিত্র দেখলে মনে হয় আমরা একটা মঘের মুল্লুকে বসবাস করছি I জাতীয় সংসদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কতৃক উসমান পরিবারকে বিখ্যাত ছাড়পত্র দেবারপর বাংলাদেশের মানুষ যে অন্তত এই কুকীর্তির বিরুধে কথা বলার সাহস দেখিয়েছেন তার জন্য ধন্যবাদ !! কিন্তু এইত মাত্র একটা খন্ড চিত্র I সারা বাংলাদেশে এমন কোনো থানা নাই যেখানে পার্লামেন্ট মেম্বারদের অনুমোধন ছাড়া মামলা করা যায় I মানুষ যে কতটা অসহায় ত়া গ্রামে-গঞ্জে গেলেই বুজতে পারবেন I সামরিক বাহিনীর সরকারের সময় রাজনীতিবিদের কত কত দুর্নীতি আর কুকীর্তির কথা প্রকাশ পেয়েছিল, এখন সব দোয়া তুলসীপাতা I কিন্তু রাজনীতির নামে যারা বিখ্যাত হতে গিয়ে কুখ্যাত হয়েছেন ইতিহাস একদিন না একদিন তাদের বিচের করবেই !!

    Reply
  10. ‘এই’ বাংলাদেশের জন্য যুদ্ধ করি নাই

    গত ৯ বছর যাবত বাংলাদেশে একটা অস্বাভাবিক অবস্তা বিরাজ করছে, রাজনীতি নাই, খুন, গুম, দখল, ঘুষ, দুর্নীতি, ব্যাঙ্কলুট নিত্যনৈমিত্তিক বেপার I মানুষ কথা বলতে ভয় পাচ্ছে, এমন অবস্থা স্বাধীনতার পড়ে কখনো ছিল কিনা জানা নাই I বাকশালও এমন ছিল কিনা জানা নাই I জন মানুষের মতামতের কোনো তোয়াক্কা নাই, একটি বিশেষ দলের লোক হলে সাত খুন মাপ, খুন খারাবি কোনো বেপার না, এই যখন দেশের অবস্থা, তাহলে দেশ কোথায় যাচ্ছে? বেপারটা এখন এমন যে, দেশে শুধু একটি দল, তার সমর্থকই থাকবে, অন্যরা সবাই হয় মরুক না হয় দেশ ছেড়ে চলে যাও I খুন খারাবি কিছুদিন মিডিয়াতে গরম খবর হচ্ছে, আবার তা নিমিষেই মিলিয়ে যাচ্ছে, নতুন খবর জন্ম হচ্ছে, পুরনো খবর আমরা সবাই ভুলে যাচ্ছি, কিন্তু যারা ভুক্তভুগী, যাদের বাপ, ভাই, স্বামী হাড়িয়ে যাচ্ছে পৃথিবী থেকে, তারা কি ভুলে যাচ্ছে? কত মানুষের দীর্ঘশাস, কত মানুষের জীবন যন্ত্রণা, কত মানুষের পুড়ো ফ্যামিলি ধ্বংশ হচ্ছে শুধু এখন উপার্জনক্ষম মানুষের জন্য তার কি কোনো হিসাব আছে?
    পৃথীবির সব দেশে সরকার বিরোধী পক্ষকে আলোচনার জন্য অনুরোধ করে, দেশের উন্নতির জন্য বিরোধী দলের সাহায্য কামনা করে, কিন্তু অদ্ভুত আমাদের এই দেশে বিরোধী দলের প্রধান এজেন্ডা সরকারকে আলোচনাতে বসানোর জন্য I ৫ই জানুয়ারী নির্বাচন নিয়া আজকে অনেক মানুষ আওয়ামীলিগকে দোষারুপ করে কিন্তু আমি মনে করি গণতন্ত্র নিহত হইছে গনতন্তের দেহপসারণী রওশন এরশাদ এর জন্য, আর এই সরকার টিকেও আছে স্বৈরাচার এরশাদ, তার গুণধর স্ত্রী ও যাত্রা পার্টির জন্য I সব নাটক শুধু ক্ষমতা আর ভোগ বিলাসের জন্য তা উনি আবারও প্রমান করেছেন I যাত্রাপার্টির যারা এখন এমপি হইছেন তারা ভালো করেই জানেন যে সুষ্ঠ ভোট হলে সকল গুণধরদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে, তাই যতদিন হালুয়া রুটি খাওয়া যায় I তবে ইতিহাস একদিন এই ঘসেটি বেগমের বিচার ঠিকই করবে I
    গত ২৫ বছর যাবত (মাঝে ১/১১ সরকার ছাড়া) দুইটা দল বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতায় আছে, উনাদের গুনদর দুই পুত্র, একজন এখন নতুন করে লন্ডনি শিক্ষা নিচ্ছেন আর অন্য জন আগেই বিদেশী শিক্ষায় শিক্ষিত I দুইজনই মায়েদের যোগ্যতায় যোগ্য রাজনীতিবিদ I বাংলাদেশের মানুষ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম আশা করছিলেন জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে গুণধর দুই পুত্রের বিশেষ কোনো কারিশমা দেখবেন, কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের এই যে, বস্তাপচা দুর্গন্ধ ছড়ানো পুরনো রাজনীতি ছাড়া নতুন কিছু নাই I তাই সামনে আমাদের জন্য কোনো সুসংবাদ নাই এটা নিশ্চিত I আমেরিকাতে বসে ফেইসবুক এ কলাম লিখে রাজনীতি হয়না, রাজনীতি করতে হলে মাঠে ঘাটে ঘুরতে হবে, মানুষের কাছে যেতে হবে, মানুষের পালস বুজতে হবে, তবেই বিনা ভোটে সরকার গঠন করার দরকার হবে না I ক্ষমতায় থাকতে তারেক জিয়া’র তেল মারার চামচার অভাব ছিল না, আপনারও নাই, কিন্তু ক্ষমতা আল্লাহর ছাড়া কারোটাই চিরস্থাহী না I
    বামরা আজ ডান নাকি বাম তা উনারা নিজেরাই জানে না I অনেকের পকেট ভারী হইছে, অনেকে পতাকা পাইয়া বেহুশ, তাই ওনারা এখন আওয়ামীলিগ থেকেও বড় আওয়ামীলিগ I নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে , ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দাড়ালে এই বামদের জামানত থাকবে কিনা তা শুধু আল্লাহ মালুম I
    বাংলাদেশের আকাশে বাতাসে এখন শুধু জঙ্গি, আইএস নিয়া এত বেশি মাতামাতি যে, অনেকটা নিজ থেকে আইএস ডেকে আনার মত I বিদেশীরা বলছেন আইএস আছে, আমাদের সরকার বলছে আইএস নাই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজকে বলছেন এত খুজি কই আইএসতো পাই না I হাস্যকর বিশয় হলো এই যে, আইএসতো কোনো জন্তু জানোয়ার না, আইএসতো মানুষ, আইএস একটা নীতিআদর্শ, যেখানে মানুষ আছেন এবং যারা এই নীতিআদর্শ বিশাস করে তারা সবাই আইএস এর মতাদর্শি অর্থাত আইএস I পৃথীবির সব দেশে আইএস এর মতাদর্শি আছে, বাংলাদেশেও আছে I এখন প্রশ্ন হচ্ছে সরকার না করছে কেন ? সরকার না করছে এই কারনে যে, আইএস আছে বললে প্রশ্ন আসবে মানুষ কেন আইএস এর দিকে জুকছেন, তখন হয়ত চলে আসবে রাজনৈতিক দমন নিপীড়ন, বিনা ভোটে সরকার গঠন এর প্রসংগ, সরকারের ভয় ওই খানে অন্য কিছু না I পৃথীবির অনেক দেশে আইএস আছে, তাই বলেতো আমেরিকা সব দেশে সৈন্য পাঠায় নাই I তাই আইএস আছে বললেই আমেরিকা সৈন্য পাঠাবে এটা একটা ভাওতাবাজি ছাড়া আর কিছু না I পত্রিকায় দেখলাম সরকার নিজেই সিঙ্গাপুর থেকে আইএস বলে বাংলাদেশীদের ধরে নিয়া আসছেন I তাহলে একদিকে আইএস নাই, অন্য দিকে বাংলাদেশের বাইরে থেকেও মানুষ ধরে নিয়া আসছেন আইএস বলে, তাহলে কোনটা সঠিক ? কিন্তু সরকার নিজেই সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশী ফেরত আনার যে প্রক্রিয়া শুরু করেছেন, আমি নির্ধিদায় একটা কথা বলতে পারি যে, এটার ভয়াবহতা হবে অনেক বেশি, সিঙ্গাপুর অচিরেই বাংলাদেশী শুন্য হবে, আর এই পথ অনেক ইউরোপিয়ান দেশও গ্রহণ করবে, এর দায়-দায়িত্ব বর্তমান সরকারকেই নিতে হবে অন্য কেউ না I
    স্বাধীনতার পর থেকে সংবিধানকে ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার জন্য বহুবার কাটাছেড়া করা হয়েছে I এই পর্যন্ত কোনো বারই মানুষের কথা চিন্তা করে, মানুষের মতামত নিয়ে, সাধারণ মানুষের জন্য একবারও সংবিধান পরিবর্তন করা হয় নাই I আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে আমার কাছে ৭২ এর সংবিধান না ৮২’র না ২০১৫ এর সংবিধান সেটা কোনো মূল বিষয় না I আমার কাছে মূল বিষয় হলো যে সংবিধান আমাকে একজন নাগরিক হিসাবে সবার মত সমান অধিকার নিশ্চিত করবে, রাষ্ট্র, প্রশাসন একটা সংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে চলবে, রাষ্ট্র যখন আমাকে কোনো কিছু থেকে বঞ্চিত করবে, সংবিধান আমাকে সুরক্ষা করবে কিন্তু এখন আমরা কি দেখছি ? সংবিধান এখন শুধু ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার জন্য, একটা বিশেষ দলের জন্য, একটা বিশেষ দলের মানুষের জন্য I আমরা সবাই পাকিস্তানকে অপছন্ধ করি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার জন্য, কিন্তু এই পাকিস্তানের আদালতই মূলত স্বৈরাচার পারভেজ মোশারফকে ক্ষমতা থেকে নামানোর সব বন্ধবস্ত করছেন, পাকিস্তানের আদালত মেরুধন্দহীন হলে পারভেজ মোশারফ আজও ক্ষমতায় থাকতেন I আমাদের বিচার বিভাগ আশা করি তত্ত্বাবধায়ক সরকার এর মামলাটা আবার শুনানি করবেন, এটা বিচার বিভাগ এর জন্য একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ হয়ে থাকবে I আমাদের আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার অবৈধ ঘোষণা করেছেন কিন্তু পাকিস্তান আমাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির মডেল গ্রহণ করে সুষ্ঠ নির্বাচেন করলেন, দুই দেশইতো ব্রিটিশ আইনে চলে !!

    Reply
  11. সর্বনাশের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে

    সীমাহীন দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি, খেলাপি ঋণের বোঝা ও সর্বোপরি ঋণ অবলোপনের কারণে দেশের ব্যাংকিং খাত ডুবতে বসেছে। এসব অভিযোগ দীর্ঘদিনের হলেও এই ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না অধিকাংশ ব্যাংক। দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। এক্ষেত্রে সরকারি ব্যাংকগুলোর অবস্থা তো আরও ভয়াবহ। আর এই যখন অবস্থা তখন বিদায়ী বছরে সব নেতিবাচক রেকর্ড ছাপিয়ে যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা। বিশ্বের ব্যাংকিং ইতিহাসে কখনও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক ব্যবহার করে এমন চুরির ঘটনা ঘটেনি। তবু খোয়া গেল জনগণের ট্যাক্সের বিপুল অংকের অর্থ। এদিকে অনেক স্বপ্ন-আশ্বাস দেখানো হলেও ব্যাংকগুলো তাদের অতিরিক্ত কস্ট অব ফান্ড আর লাগামহীন দুর্নীতির কারণে সুদের উচ্চ হার থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। বছরজুড়ে উচ্চ সুদ শিল্পোদ্যোক্তাদের গলার ফাঁস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ওদিকে একশ্রেণীর প্রভাবশালী ব্যাংক থেকে জনগণের আমানত রাখা হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ হিসেবে তুলে নিয়েছে। কিন্তু পরিশোধের খবর নেই। বারবার ঋণখেলাপির খাতায় নাম উঠলেও তাদের কিছুই হয় না। বরং তারা সমাজে দিব্বি বহাল তবিয়তে আয়েশি জীবনযাপন করছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনো রাকঢাক না রেখে খোলামেলা মন্তব্য করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও ব্যাংকের পরিচালকরা নিজেরা ভাগাভাগি করে যে পরিমাণ মোটা অংকের ঋণ নিচ্ছেন সেটাই খেলাপি হচ্ছে বেশি। এদের বিরুদ্ধে কেউ মামলা করার সাহসও পায় না। এছাড়া শাস্তি হবে না, এটা নিশ্চিত জেনেই তারা একের পর ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করছেন। একই ধরনের মন্তব্য করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। তিনি বলেন, মূলত বিচারহীনতার কারণে ব্যাংকিং সেক্টরে অপরাধ বাড়ছে। ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎকারীদের মধ্যে কেউ কেউ সরকারের উচ্চ মহলের কোনো ব্যক্তির ছত্রছায়ায় অবস্থান করছেন। এ কারণে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। এক প্রশ্নের জবাবে ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ব্যাংক খাত স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বিশৃংখল। বর্তমানে সর্বনাশের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে। আর রিজার্ভ চুরিসহ এক বছরজুড়ে এটিএম বুথে জালিয়াতির ঘটনাসহ সরকারি ব্যাংকে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। কিন্তু কোনো ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার কিছুই হয়নি। তিনি মনে করেন, এসব অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংক লুটপাট ঠেকানো যাবে না। ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে থাকা ২০১৬ ব্যাংক ও আর্থিক খাতের জন্য খুবই বেদনাদায়ক ও লজ্জাকর বছর। চাঞ্চল্যকর অনেক ঘটনার জন্ম দিয়ে বিদায় নিচ্ছে সালটি। একই সঙ্গে বছরটি বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইতিহাসে প্রথম রিজার্ভ চুরির মতো বড় ঘটনার সাক্ষী। শুধু তাই নয়, ঘটনার গুরুত্ব বেড়েছে আরও দুই কারণে। চুরি হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুরক্ষিত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তার সহায়তায় অর্থ বের করে নেয়া হয় আর্থিক লেনদেনের বার্তা আদান-প্রদানের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সুইফটের মাধ্যমে। যার বিশ্বস্ততা নিয়ে কখনও প্রশ্ন ছিল না। এছাড়া বছরের শুরুতে তিন ব্যাংকের এটিএম বুথে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ২১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় হ্যাকাররা। সব মিলিয়ে বিদায়ী বছরটিতে ব্যাংক খাতে ছিল সীমাহীন লুটপাট, লাগামহীন দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি, খেলাপি ও ঋণ অবলোপনে উল্লম্ফন, পরিচালকদের ঋণ ভাগাভাগির মহোৎসব, ব্যাংকের এমডি-ডিএমডি গ্রেফতার ও চাকরিচ্যুতির ঘটনা। বিশেষ করে গত জুন পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে সব ব্যাংকের পরিচালকরদের ভাগাভাগি করে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার ঘটনা ছিল বিস্ময়ের বিষয়। ব্যাংক মূলধনের ৯০ শতাংশের মালিক সাধারণ আমানতকারী। অথচ ১০ শতাংশ মালিকানার পরিচালকরা এভাবে ঋণ নিয়ে গুরুতর অনিয়ম করেছেন।

    Reply
  12. স্থিতিশীলতা বিতর্কিত

    বর্তমানে দেশে শক্তিশালী বিরোধী দল নেই। যেটিকে বিরোধী দল বলা হচ্ছে সেটিও সরকারের একটি অংশ। যেখানে বিরোধী মত নেই, নির্যাতিতদের পক্ষে কথা বলার কেউ নেই সেখানে প্রকৃত গণতন্ত্র থাকতে পারে না। এখানে বিরোধী দলগুলোরও ঘাটতি রয়েছে। কারণ তারা জনগণের ইস্যুগুলো নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে পারছে না। বর্তমানে টকশো, সংবাদ ইত্যাদির ওপর সরকার নজরদারি করছে। আমরা ভাষা আন্দোলন করেছি শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য নয়, বলার স্বাধীনতার জন্যও। কিন্তু সেই বলার স্বাধীনতাই আজ বাধাগ্রস্ত। গণতন্ত্রের জন্য এটি খুবই বিপজ্জনক। সরকার চাইলেই আরও সহনশীল হতে পারে। এ কাজগুলো সরকারের অদূরদর্শিতার প্রমাণ। জনগণ সব কিছু জানে এবং বুঝে। আগে বিএনপি সরকারের ভুলের জন্যই কিন্তু জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছিল। আপাতদৃষ্টিতে দেশে এক ধরনের স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। এই স্থিতিশীলতা বিতর্কিত এবং এর ভিত্তিও অনেক দুর্বল। আধিপত্যের মাধ্যমে এই স্থিতিশীলতা এসেছে, যা গণতান্ত্রিক দেশে কখনো কাম্য হতে পারে না। সরকার উন্নয়নের কথা বলছে। কিন্তু সুশাসন ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমরা মানবীয় উন্নয়ন চাই। যেখানে সবারই কথা বলার অধিকার থাকবে। আলোচনা-সমালোচনা থাকবে। সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা আসবে এটাই স্বাভাবিক। সমালোচনা মানেই নেতিবাচক না। বিরুদ্ধ মতকে বিবেচনা করেই সামনের দিকে এগোতে হবে।

    Reply
  13. Uddin

    এখন ভারতের ক্ষমতায় বিজেপি, যে শতভাগ আমেরিকাপন্থী। এখন আমেরিকা বিনা বাধায় তাদের মাইনাস-টু ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে তাদের পলিসি ছিলো ভিন্নধর্মী। কার্য ছিলো- দুইদলে মার্কিন এজেন্টদের ঢুকিয়ে দুটো দলের অবস্থা নাজেহাল করে দেওয়া। আমি বলবো- ইতিমধ্যে মাইনাস ওয়ান, অর্থাৎ খালেদার পতন হয়ে গেছে। মার্কিন রিভার্স পলিসির কাছে হার মেনে গেছে খালেদা জিয়া। বিএনপি’র মার্কিনপন্থী পলিসি মেকারদের ভুল ডিসিশনেই পথ হারিয়েছে বিএনপি। এইবার হাসিনার পালা। রুশবাদী আওয়ামী লীগে প্রবেশ করেছে অনেক ছদ্মবেশী মার্কিনপন্থী। ইনু, মাল মুহিত, নুরুল নাহিদ, ওবায়দুল কাদের অভ্যন্তরীণ পরিচয় নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে, এরা ভেকধারী আওয়ামী সদস্য হলেও হতে পারে, যারা মার্কিন পলিসি সফল করে ‘মাইনাস হাসিনা’র পথ সুগম করছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগ এমন সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে, যা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, যে বা যারাই বুদ্ধিগুলো দিচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্য ভালো না, আওয়ামীলীগের পতন ঘটাতে তথা পাবলিক গ্রহণযোগ্যতা শূণ্যের কোঠায় নিয়ে আসতেই তাদের এই কার্যক্রম। তবে দুঃখের বিষয়, আওয়ামীলীগ তার দলের মধ্যে প্রবেশ করা ছদ্মবেশী আমেরিকাপন্থীদের চিনতে পারেনি, যারা সিদ কাটতে কাটতে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আওয়ামীলীগের উচিত দলের প্রবেশ করা ছদ্মবেশী আমেরিকাপন্থী, অথবা যাদের সন্দেহ হয় অথবা ১/১১ এ জড়িত নেতাদের গণহারে দল থেকে বহিষ্কার করা। নয়ত খুব শিঘ্রই দেখা যাবে, মাইনাস টু করে নতুন কোন দলের উত্থান ঘটাবে আমেরিকা, আর মার্কিনপন্থী সেই পুতুল দলের প্রধান হঠাৎ করেই বনে যাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এখন আওয়ামীলীগকে মার্কিন ইস্যু (যেমন কথিত সংখ্যালঘু নির্যাতন, কথিত নাস্তিক হত্যা, আইএস ইস্যু) এবং আমেরিকান ছদ্মবেশী এজেন্ট এ দুটোর থেকে বাচতে হবে। একই সাথে মনে রাখতে হবে মোদিও কিন্তু মার্কিন এজেন্ট, তাই সেখানেও সাবধান। মার্কিন অদৃশ্য শক্তিটা বাংলাদেশে এখন এতটাই শক্ত হয়ে গেছে সেটা রুখতে আওয়ামীলীগ হবে না বলে মনে হয়।

    Reply
  14. rasel ahmed

    তৎকালীন ১৯৭৫ সালের ২৬ নভেম্বরে ইন্ডিয়ান এম্বেসীতে জাসদের জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে ইন্ডিয়া জাসদের প্রতি যেভাবে ইউটার্ন নীতি প্রদর্শন করতে দেখা গেছে তা আসলে উল্লেখযোগ্য কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম জাসদের উদ্দেশ্য ছিল ইন্ডিয়ান হাইকমিশনারকে জিন্মি করে তাদের নেতৃত্বে থাকা জঙ্গি নেতা তাহেরসহ বেশ কয়েকজন নেতার মুক্তি লাভের চেষ্টা। তবে এখানে নিশ্চয় তাদের এমন বিশ্বাসের কারন রয়েছে এবং তার মানে তারা এই হামলার পূর্বে ইন্ডিয়ার সাথে দেন দরবার করেছে আর তা ফলফ্রুস হয়নি দেখেই তারা এমন হামলার পরিকল্পনা করেছে। এখানে এ থেকে এও প্রতিয়মান হয় তখনকার বাংলাদেশের ঘটনাবলীতে অবশ্যই ইন্ডিয়ার প্রচ্ছন্ন হস্তক্ষেপ ছিল নতুবা ভারতের এমন ক্ষমতা রয়েছে বলে তাদের ধারনাই বা হলো কেন? বা জাসদ এছাড়া কেনইবা এ ধরনের জঙ্গি আক্রমনের পরিকল্পনা করেছিল ?
    কিন্তু হিতে বিপরীত হয়। জাসদের এই হামলার পরপরই ইন্দিরা প্রশাসন তখনকার ইন্ডিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ে ব্যাপক পরিবর্তন করেন ১৯৭৫ সালের ৩০ই নভেম্বর। এবং সেই সাথে তখন বাংলাদেশের এই ধরনের বাম জঙ্গি উত্থান ও ইন্ডিয়ার বিভিন্ন প্রদেশে বামপন্থিদের নকশালবাদী আন্দোলন ইন্দিরা প্রশাসনকে সত্যি ভাবিয়ে তোলে এবং সে সাথে পশ্চিমবঙ্গসহ বেশ কিছু প্রদেশে বামদের রাজনৈতিক উত্থানের ফলে ইন্দিরা প্রশাসন যদিও পূর্বে জাসদকে সহযোগিতা করেছিল বলে যে কথা শুনা গেয়েছিল কিন্তু ঐ হামলার পর বরং জাসদের ব্যাপারে ভারতের অবস্থান একেবারে উল্টো হতেই দেখা গেছে। আর এখানে অনেকে এমন মনে করে যে ভারতের কট্টর অবস্থানের কারনে এই জঙ্গিদের বিচারকার্য ত্বরান্বিত করা হয়। অন্যদিকে ১৯৭৫ সালের ২৬ ই নভেম্বর ভারতীয় দূতাবাসে জাসদের তৎকালীন জঙ্গি হামলাই জাসদের প্রধান তাহেরের বিচার দ্রুত করার জন্য ভারত সহ আন্তর্জাতিক বিশ্বের একটা অন্যতম বড়ধরনের চাপও ছিল বটে।

    Reply
  15. ahad

    বাকশাল !! কেন গঠন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু ?
    প্রত্যক্ষভাবে না হলেও, বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুতে জাসদ পরোক্ষভাবে দায়ী। আওয়ামী লিগ নেতাদের দুর্নীতি, জাসদের হত্যা ও সহিংসতার উগ্রপন্থা রাজনীতি, মওলানা ভাসানীর প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর রাজনীতি বঙ্গবন্ধুকে বাধ্য করেছিল গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি চালু বাদ দিয়ে, আরও কঠোর ‘ওয়ান পার্টি স্টেইট’ সিস্টেমের সমাজতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যেতে।
    ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর সঙ্গে বাকশাল সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “চৌধুরী সাহেব, ভাগ্যের কি নিষ্ঠুর পরিহাস সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করলাম, কত জেল খাটলাম আর এখন এক পার্টি করতে যাচ্ছি। আগস্ট মাস থেকে বাকশালের কাজ পুরোপুরি শুরু হবে। আমি এটা চাইনি। বাধ্য হয়ে করতে হচ্ছে। পাকিস্তানপন্থী বিভিন্ন ইসলামী দল এবং অস্ত্রধারী জাসদের গণবাহিনী সর্বহারা পার্টি প্রভৃতি প্রশাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ভেঙে ফেলার উপক্রম করে ফেলেছে। আমার বহুলোককে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে। ঈদের দিন নামাজের মধ্যে হত্যা করা হয় শুনেছেন কখনো? অতএব, অন্য কোনো পথ খোলা না দেখে আমি স্বাধীনতার পক্ষের লোকদের নিয়ে সমমনাদের একটি রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে বাকশাল গঠন করেছি। আমার এই এক দলীয় ব্যবস্থা হবে সাময়িক। দেশটাকে প্রতিবিপ্লবীদের হাত থেকে রক্ষা করে আমি আবার গণতন্ত্রে ফিরে যাবো। বহুদলীয় গণতন্ত্রে ফিরে যাবো।”
    ইতিহাস সাক্ষী এই বাকশালই পরবর্তীতে কাল হয়ে দাঁড়ায় জাতির জনকের জন্য।
    তথ্যসূত্রঃ
    ১/ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ এবং প্রাসঙ্গিক কথকতা, শামসুজ্জামান খান – পৃষ্ঠা ৫৮-৫৯ [আগামী প্রকাশনী, ১৯৯৫]
    ২/ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশের অভ্যুদয় – মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান – পৃষ্ঠা নং ২০৪-২০৫ [আহমদ পাবলিশিং হাউজ, ২০১২]
    উল্লেখ্যঃ
    ১/ এখানে ঈদের জামাতে নামাজ পড়ার সময় যাকে খুন করার কথা বলা হয়েছে তিনি ছিলেন ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে একজন সংসদ সদস্য এবং কুষ্টিয়া আওয়ামী লিগের সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া। তাকে ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরের ২৫ তারিখে ঈদগাহ ময়দানে নামাজ আদায়ের সময় গুলি করে মেরে ফেলা হয়। এর তিন পর বঙ্গবন্ধু জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন।
    [তথ্যসূত্রঃ ২৭-১২-১৯৭৪ দৈনিক বাংলা, ১৯৭২-৭৫ নিহত ৬৩০ – বেবি মওদুদ ]
    ২/ যুদ্ধের পরে আওয়ামী লিগ, কাদেরিয়া বাহিনী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ইত্যাদিরা বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে অস্ত্র জমা দিলেও রাজাকাররা যেমন অস্ত্র জমা দেয় নি তেমনি জাসদের লোকেরাও অস্ত্র জমা দেয়নি, তারা সেগুলো সহিংসতা তৈরিতে ব্যবহার করেছিল।
    ৩১ মে শনিবার, ১৯৭৫ সালের লন্ডনের খবরের কাগজ থেকে জানা যাচ্ছে, জাসদের আন্ডারগ্রাউন্ড গ্রুপগুলোর একটি কুষ্টিয়ার আবদুল হকের গ্রুপকে অপারেশন চালিয়ে ধরার পর তারা স্বীকার করে তাদের অস্ত্রগুলো তারা পেয়েছিল পাকিস্তানী সেনাবাহিনী থেকে, ১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বরে ঢাকায় আত্মসমর্পনের আগে।
    [তথ্যসূত্রঃ ১৫ আগস্ট পঁচাত্তরঃ আগের ও পরের কয়েকটি তুচ্ছ সামান্য ঘটনা- আবদুল গাফফার চৌধুরী, প্রবন্ধটি সংকলিত আছে অধ্যাপক নীল কমল বিশ্বাস সংকলিত বাংলাদেশের রাজনীতি একাত্তর থেকে আটানব্বই বইতে, পৃষ্ঠা নং- ৩২৬ ]

    Reply
  16. জাসদ

    বাংলাদেশের স্বাধীনতা একাত্তরের পূর্বে বন্দি ছিলো পাকিস্তানি শাসক ও তাদের রাজাকারদের কাছে। আর একাত্তরের পর তা বন্দি হয় রুশ-ভারত আর তাদের রাজাকার বা সভ্যদের কাছে। বঙ্গবন্ধু কিংবা মাওলানা ভাসানি ওদের কারো সাথেই ছিলেন না। তারা পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন মাত্র। যেহেতু ভাসানীর প্রাতিষ্ঠানিক কোন দায়বদ্ধতা ছিলো না, তাই তিনি সন্তোষে আশ্রয় নিয়েছেন, কিন্তু বঙ্গবন্ধু তো দায়বদ্ধ ছিলেন রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের জনগণের কাছে। তবে শুধু জনগণ দিয়ে তো কিছুই হয় না, আন্তর্জাতিক সর্দারদের সাহিয্য-সহযোগিতাও লাগে। বঙ্গবন্ধু কিংবা মাওলানা ভাসানি ছিলেন সরল মনের দেশপ্রেমিক। তারা মাঠ গরম করতে পারতেন, কিন্তু পলিসি তৈরি করতো অন্যরা। এই পলিসি তৈরীকারিদের একদল ছিলো আওয়ামীলীগের ভেতরে, আরেকদল বাইরে। ভেতরে যারা ছিলেন তারা হলেন তাজ উদ্দিন, ড. কামাল হোসেন, মিজানুর রহমান চৌধুরী, দাদা ভাই সিরাজুল আলম খান প্রমূখ। বাইরের মধ্যে ন্যাপের মুজাফ্ফর আহমদ প্রমূখ। ওরা ঘিরে ফেলেছিলেন বঙ্গবন্ধুকে। ওরা নিজেদের বিচ্ছিন্ন বাম চিন্তায় জনগণের নেতাকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন স্বাধীনতার পর। একটা নতুন দেশ গঠনের আগেই জাসদের মতো জঙ্গি সংগঠনের জন্ম এবং পূর্ব বাংলা কমিউনিষ্ট পাটির জঙ্গি তৎপরতা সত্যই বাংলাদেশের স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্বকে ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলো। বঙ্গবন্ধু আর দেশ গঠনের চিন্তা করতে পারেন নি, জাসদ আর পূর্ব বাংলা কমিউনিষ্ট পাটিকে সামাল দিতে দিতেই তিনি হিমশিম খেয়েছেন। স্বাধীনতার পর জাসদ ছিলো অনেকটা হিজবুত তাহরিরের মতো একটি গলাবাজ সংগঠন। আর পূর্ব বাংলা কমিউনিষ্ট পাটি ছিলো শায়েখ আব্দুর রহমানদের জিএমবির মতো সশস্ত্র বিশৃংখলা সৃষ্টিকারি সংগঠন। ব্যবধান শুধু হিজবুত তাহরির আর জিএমবির লোকেরা ইসলামের কথা বলে, আর জাসদ আর পূর্ব বাংলার কমিউনিষ্টরা বলতো সমাজতন্ত্রের কথা। ওদের কর্ম বঙ্গবন্ধুর দেশ গঠনে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। চিন্তাশূন্য আবেগপ্রবণ মানুষগুলো গলাবাজিতে আটকে যায়। দেশ গঠনের প্রতিবন্ধক এই সব আন্দোলন বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তাকে হ্রাস করে।

    Reply
  17. Nurul Haque

    “আওয়ামীলীগ করলে গোপালভার, আর আমরা করলে রাজাকার” ~ আমি রাজনীতি-সচেতন কিন্তু রাজনৈতিক না। রাজনীতি-সচেতন না হলে শিল্পোত্তীর্ণ শিল্প, সাহিত্য রচনা করা সম্ভব না। যে প্রতিজ্ঞা করা হয়েছিল স্বাধীনতার আগে কী ছিল, মনে আছে? ছয় দফার কথা মনে আছে? ৪টা পিলারের কথা মনে আছে? সেই চার পিলারের দুই পিলারই কিন্তু ধ্বসে গেছে। এই ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ এবং ‘সমাজতন্ত্র’। এখন রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হয়ে গেছে। গণতন্ত্রে রাষ্ট্রধর্ম আছে নাকি? রাষ্ট্র কি কোন জীব নাকি যে তার ধর্ম থাকবে? সোনার পাথর বাটি হয়ে গেছে। এবং সেই যে আঠা লেগেছে, নোংরা আঠা, সেই আঠা কেউ ছাড়াতে পারছে না।
    যেদিন ঘোষণা করা হয়, সেদিন আমি শো করছি কুয়েতে। আমাদের শো সেখানে খুব ওয়েল এক্লেইমড হয়েছিল। আমাকে ‘আল কাবাস’ পত্রিকার পক্ষ থেকে হোটেল মেরিডিয়ানে আমার ইন্টারভিউ নিতে গিয়েছিল। দুই জন ক্যামেরাম্যান আর একজন জার্নালিস্ট। ওইখানে বসে আমাকে বলল তোমাদের তো রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হয়ে গেছে। ইট ইজ নো মোর এ সেকুলার কান্ট্রি। সে বললো, তোমার কী অভিমত। আমি বললাম, আমি জানি না। আমি তো এইমাত্র শুনলাম। না জেনে, না বুঝে আমি কোন মন্তব্য করতে পারবো না। সে তখন তার মন্তব্য বলল,‘ভিক্ষার নতুন পদ্ধতি’। আমরা দেখছি যে, মানুষ মারার আরেকটা পদ্ধতি। এবং স্বাধীনতার পরে পরেই–সেই আবার আসে তাজউদ্দিন প্রসঙ্গ। তাজুদ্দিনকে বিতাড়ন। ইয়াহিয়া অত বেশি দায়ী না, যত বেশি দায়ী ভুট্টো। ভুট্টো যদি জনতার রায় মেনে নিত তাহলে আর এই মাস কিলিং হতো না।
    অথচ স্বাধীনতার পরে পরেই খুব দ্রুত তাকে এদেশে আনার ব্যবস্থা করা হলো। সাধারণ ক্ষমায় অনেক অপরাধীকে বের করে দেয়া হলো, বিশেষ করে ভুট্টোকে দেখাতে হবে, পাকিস্তানকে দেখাতে হবে, এ জন্য আমাদের সব শাসকরা উদগ্রীব হয়ে পড়ল। এবং ভুট্ট্রোকে আনা মানে খাল কেটে কুমির আনা । ভুট্টো ঠিকই তার কাজগুলো করে গেছে। এখানে পরবর্তীতে যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, তাদের সঙ্গে ভুট্টো ঠিকই লিয়াজোঁ করে গেছে। তার ফল আমরা ৭৫-এ পেয়েছি। তারপরের ঘটনা তো সবার জানা। আর আমি আলাদা করে কী বলব। যেমন কেমন করে প্রধানমন্ত্রী হলো রাজাকার শাহ আজিজ। যে কিনা প্রধান রাজাকার, সে হলো প্রধানমন্ত্রী। তারপর আরেকটু বাড়িয়ে গিয়ে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হলো। এবং আজকে দেশের মধ্যে যা হচ্ছে, আমি তো জঙ্গীদের ওতো ভয় পাই না, যতটা ভয় পাই দেশের মধ্যে মানুষ যেটাকে স্বাভাবিক ভাবছে–সেই পরিস্থিতিটাকে। এই দেশে সমস্ত সচেতন মানুষ এখন প্রমাদ গুনছে। হিন্দু কি মুসলমান, বুদ্ধিষ্ট কি খৃষ্টান, সবাই। যে-ই প্রগ্রেসিভ সেই প্রমাদ গুনছে, কার ঘাড়ে কখন খড়গ পড়বে তা কেউ জানে না।
    আমি তো বলব তিনটা পিলারই নাই। আমাদের জাতীয়তাবাদ আছে বলেই তো আমরা বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন করেছি। তারপর আরও কতো আন্দোলন করেছি। সবশেষে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে জয়লাভ করেছি। কিন্তু যেখানে রাষ্টধর্ম ইসলাম থাকে, সেখানে গনতন্ত্র কোথায়? ইসলাম ছাড়া অন্য যারা আছে, তারা তো সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেন। তার মানে নো ডেমোক্রেসি। তোমার ডেমোক্রেসি নেই। ধর্ম নেই, সমাজতন্ত্র নেই। যে গাড়িটা চার চাকায় চলে, তার যদি তিনটা চাকাই পাংচার্ড হয়ে যায় বা ছুটে চলে যায়, তাহলে সে গাড়িটার অবস্থাটা কী। সে কী গাড়ি আছে আর! কিছুই নেই। চলেও না।
    আমি আশা করি সবসময়ই। আশা ছেড়ে দিলে তো আমার আর কিছু থাকে না। অতএব আমি আশা করি সব সময়। কিন্তু লক্ষণ তার আমি দেখছি না। অবশ্যই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে তাদের শাস্তি কার্যকর করেছে–এটাকে আমি বারবার স্যালুট করি। কিন্তু সেই চারটা পিলার, যে চারটা পিলার, যেখানে বাংলাদেশ দাঁড়িয়েছিলো, তার তিনটা পিলারই আজকে নেই।
    এটা তাদের প্রমিজ, এটা তাদের প্রতিজ্ঞা। এইটার জন্যই আমরা যুদ্ধ করেছিলাম।
    আমরা ‘এই’ বাংলাদেশের জন্য যুদ্ধ করি নাই।//
    উপরের কথাগুলো বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেছেন কিংবদন্তী যাদুশিল্পী হিসেবে পরিচিত জুয়েল আইচ। চারিদিকে যখন তথাকথিত গা বাঁচিয়ে চলা নিরপেক্ষতার জয়গান, সেখানে এ ধরণের সাহসী উচ্চারণ আমাদের আশাবাদী করে।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—