Bangabandhu - 19111

১৯৭১ সালের মহাকাব্যিক মুক্তিযুদ্ধ যদি বাংলার মানুষের আত্মার অহংকার হয়, তবে তার নথিভুক্ত বিবরণী হতে পারে বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারি– বঙ্গবন্ধুর ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’। কেবল স্বাধীন রাষ্ট্রে বঙ্গবন্ধুর ফিরে আসা নয়, এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত দীর্ঘ নয় মাসের গণমানুষের সশস্ত্র সংগ্রামের কালানুক্রমিক খতিয়ান।

১৯৭২ সালের ৭ জানুয়ারি রাতে পাকিস্তানের ফরেন অফিস থেকে জরুরিভাবে বঙ্গবন্ধু ও ড. কামাল হোসেনের জন্য ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট তৈরি করা হয়। ৮ জানুয়ারি ‘পিআইএ’-এর একটি বিশেষ বিমানে তাদের লন্ডন পাঠানো হয়। ৮ জানুয়ারি ভোরে লন্ডন পৌঁছে হোটেলে সমবেত সাংবাদিকদের সামনে তিনি একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন।

১০ জানুয়ারি সকালে ব্রিটেনের রাজকীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দরে এবং বিকেলে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে ঢাকা পৌঁছে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) একটি ভাষণ দিয়েছিলেন।

এই বিবৃতি ও ভাষণে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের পাশে থাকা রাষ্ট্রগুলোর প্রতি জাতির জনকের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে। একই সঙ্গে উঠে এসেছে পাকিস্তানের কারাগারে থাকার সেই দুঃষহ দিনগুলোর যন্ত্রণা-ভাষ্য। স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার মানুষ যে চূড়ান্ত মূল্য দিয়েছে, সে কথাও তিনি বারবার স্মরণ করেন বক্তব্যে। রাজনীতিবিদ হিসেবে তাঁর স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতারও একটি অনন্য প্রমাণ পাওয়া যায় এ বক্তব্যে।

লন্ডন, দিল্লি ও ঢাকা তিন জায়গাতেই পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে ভুট্টোর প্রস্তাবের প্রসঙ্গ এনে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন:

“আমার দেশবাসীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা না করে আমি কোনো কিছু বলতে পারব না।”

অবশেষে তিনি দেশবাসীর সামনে বক্তব্য রাখেন বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারি বিকেলে।

দুই.

বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি নানা কারণেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই ভাষণের পূর্ণাঙ্গ রূপ কোনো গ্রন্থে এখনও খুঁজে পাইনি। অবশেষে ‘মুক্তিযুদ্ধ-ই-আর্কাইভ’-এর ওয়েবসাইটে বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণের পূর্ণাঙ্গ অডিওটি পাওয়া গেল। তাদের তথ্যানুযায়ী, ওই দিন একটি চলন্ত মাইক্রোবাসে বসে সেকালের একটি রেডিও গ্রামোফোন ক্যাসেট রেকর্ডারে (থ্রি ইন ওয়ান) এই অডিওটি রেকর্ড করেছিলেন জনাব সুমন মাহমুদ। পাকিস্তানি হানাদারদের দখলমুক্ত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলার মাটিতে এটাই বঙ্গবন্ধুর প্রথম ভাষণ।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের নানা আয়োজনে ৭ মার্চের সেই অনন্য ভাষণটিই হয়তো বাজবে, কিন্তু সেই সঙ্গে এই ভাষণটিও বাজানো উচিত। কেননা এর মধ্য দিয়ে বাহাত্তর-পরবর্তী রাষ্ট্রকাঠামোর স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়।

প্রায় দুই হাজার শব্দের এই অলিখিত ভাষণটি বিশ্লেষণ করলে মোটা দাগে পাঁচটি পর্যায় আমরা পাই–

১. কৃতজ্ঞতা প্রকাশ;
২. স্বজাতির আত্মমর্যাদাবোধের প্রতি শ্রদ্ধা;
৩. আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহবান;
৪. স্বাধীন বাংলার মানুষের প্রতি নির্দেশ এবং
৫. স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও আইন কাঠামো প্রসঙ্গে দিকনির্দেশনা।

এই পাঁচটি পর্যায় আমরা আলোচনা করতে পারি।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার জন্য তিনি বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের জনসাধারণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনসাধারণের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। রাষ্ট্র যখন ভুল পথে হাঁটে তখন জনসাধারণ তার সঙ্গে থাকে না– এ কথা বঙ্গবন্ধুর চেয়ে ভালো আর কে জানতেন!

এই ভাষণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুই কিন্তু স্পষ্ট করে গেছেন মুক্তিযুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট দলের যুদ্ধ নয় এবং এটি একটি জনযুদ্ধ। ভাষণটি তিনি শুরুই করেছেন বাংলাদেশের ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, বুদ্ধিজীবী, সিপাহি, পুলিশ; তাদের সম্বোধনের মাধ্যমে। তিনি অভিবাদন জানিয়েছেন ‘মুক্তিবাহিনীর যুবকেরা’, ‘ছাত্র সমাজ’, ‘শ্রমিক সমাজ’, ‘কৃষক সমাজ’-কে এবং কর্মচারীদের প্রসঙ্গে তিনি অভিবাদন পর্বে বলেছেন, “পুলিশ, ইপিআর, যাদের ওপর মেশিনগান চালিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু নিজেকেও পুনর্সংজ্ঞায়িত করেছেন জাতির সামনে। গোটা ভাষণে তিনি কোথাও নিজেকে ‘আওয়ামী লীগের প্রধান’ দাবি করে কোনো কথা বলেননি; বরং বারবার বলেছেন:

“নেতা হিসেবে নয়, প্রেসিডেন্ট হিসেবে নয়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়; আমি তোমাদের ভাই, তোমরা আমার ভাই।”

অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে জাতির জনকের নির্দলীয় ভালোবাসার ইশতেহার স্বাক্ষরিত হল।

পাকিস্তান কারাগারে কাটানো তাঁর দুঃষহ দিনগুলোর কিছু স্মৃতিচারণ তিনি করেছেন। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি যে তাঁর জাতির আত্মমর্যাদাবোধের প্রশ্নে আপসহীন– সে কথাও দ্বিধাহীন চিত্তে ঘোষণা করেছেন:

“মৃত্যু এসে থাকে যদি, আমি হাসতে হাসতে যাব, আমার বাঙালি জাতকে অপমান করে যাব না।”

স্বজাতির প্রতি তাঁর যে অনন্য মমত্ববোধ তার স্ফূরণ ঘটেছে, যখন তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছেন:

“…মৃত্যুর পরে আমার লাশটা আমার বাঙালির কাছে দিয়ে দিও।”

ভাষণের একপর্যায়ে তিনি পর পর উচ্চারণ করে গেছেন, ‘জয় বাংলা’, ‘স্বাধীন বাংলা’, ‘বাঙালি আমার জাতি’, ‘বাংলা আমার ভাষা’, ‘বাংলার মাটি আমার স্থান’।

এই উচ্চারণ বাঙালি জাতির চৈতন্যের আদর্শলিপি।

বঙ্গবন্ধু যেমন বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করার জন্য, তেমনি আহবান জানিয়েছে যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের পুনর্গঠনে সহযোগিতার জন্য। ভারত সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য এবং স্মরণ করেছেন সেখানে মৃত্যুবরণ করা বাংলার মানুষকে। একই সঙ্গে তিনি জনসাধারণকে পরিসংখ্যান দিয়ে জানিয়েছেন:

“…শতকরা ৬০টি রাষ্ট্র আছে, যাদের জনসংখ্যা এক কোটির কম।”

সুতরাং এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার মতো উদারতা যে রাষ্ট্র দেখিয়েছে, তার প্রতি তিনি বারবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

কিন্তু রাজনৈতিক দক্ষতায় বঙ্গবন্ধু যেহেতু প্রবাদপ্রতিম, তাই তিনি তাঁর জনসাধারণকে এটিও জানিয়ে দিয়েছেন:

“…যেদিন আমি বলব, সেদিন ভারতের সৈন্য বাংলার মাটি ছেড়ে চলে যাবে।”

যেখানে স্বজন হারানো দিকভ্রান্ত মানুষ, একাত্তরের পরাজিত শক্তি ষড়যন্ত্রে তখনও তৎপর, ভুট্টো তখনও অখণ্ড পাকিস্তানের স্বপ্নে বিভোর, স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রয়োজন– এমন একটি পরিস্থিতিতে এটি কত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী একটি রাজনৈতিক ভাষ্য, তা আজকের দিনে বসে হয়তো চিন্তা করা যায়।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী যে নির্মম গণহত্যা চালিয়েছে, সে বিষয়েও তিনি আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জাতিসংঘের সদস্যপদের বিষয়েও কথা বলেন এবং দৃঢ়কণ্ঠে বলেন– “দিতে হবে।”

এই ভাষণে স্বাধীন বাংলার মানুষের প্রতি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। এর আগে তিনি উপস্থিত জনতাকে মনে করিয়ে দিয়েছেন ৭ মার্চের ভাষণের কথা। অর্জিত স্বাধীনতার প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন:

“এ স্বাধীনতা আমার ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি আমার বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত না খায়… যারা আমার যুবক শ্রেণি আছে, তারা চাকুরি না পায়, কাজ না পায়…”

এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি দৃঢ়কণ্ঠে চুরি-ডাকাতি, লুটপাট বন্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। পাকিস্তান আমলে ঘুষখোরদের যে রমরমা ছিল, তা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট কণ্ঠে বলেছেন:

“…তখন সুযোগ ছিল না, আমি ঘুষ ক্ষমা করব না।”

যুদ্ধফেরত গেরিলাদের হাতে তখন অস্ত্র, তাই তিনি সবাইকে শান্তি বজায় রাখার নির্দেশ দিচ্ছেন। বাংলার মানুষকে তাদের কাজের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বঙ্গবন্ধু জানাচ্ছেন:

“যেখানে রাস্তা ভেঙে গেছে নিজেরা রাস্তা করতে শুরু করে দাও… জমিতে যাও, ধান বুনাও।”

তিনি সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন:

“সাবধান বাঙালিরা, ষড়যন্ত্র শেষ হয় নাই।”

এ ভাষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও আইন কাঠামো প্রসঙ্গে দিকনির্দেশনা। বঙ্গবন্ধু স্পষ্ট বলেছেন:

“বাংলাদেশে হবে সমাজতন্ত্র ব্যবস্থা। এই বাংলাদেশে হবে গণতন্ত্র। এই বাংলাদেশ হবে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র।”

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়েও তিনি বলেছেন:

“একজনকেও ক্ষমা করা হবে না। তবে আমি চাই স্বাধীন দেশে স্বাধীন আদালতে বিচার হয়ে এদের শাস্তি হবে।”

শান্তিপূর্ণ ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল জাতি হিসেবে বিশ্বের কাছে বাংলার মানুষকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ও তিনি ব্যক্ত করেন। ভাষণের শেষের দিকে জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বপ্ন-সাধনার এক অপূর্ব ‘মণিকাঞ্চন’ লক্ষ্য করি আমরা। তিনি বলছেন:

“…বাংলার মানুষ হাসবে। বাংলার মানুষ খেলবে।…মুক্ত হাওয়ায় বাস করবে। পেট ভরে ভাত খাবে। এই আমার জীবনের সাধনা। এই আমার জীবনের কাম্য।”

এরপর শেষ হয় স্বাধীন বাংলাদেশে জাতির পিতার প্রথম ভাষণ। তিনি ভাষণ শেষ করেন সেই অবিনাশী উচ্চারণে– ‘জয় বাংলা’।

তিন.

বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণে ব্যক্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের যে প্রতিশ্রুতি, তা দীর্ঘ সময় পরে হলেও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার বাস্তবায়ন করে চলেছে। তাঁরই কন্যা বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা আমাদের জাতিগত ইতিহাসের গতিপথ কী বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণে নির্দেশিত পথে হাঁটছে?

যে ষড়যন্ত্রের কথা বঙ্গবন্ধু বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, সে ষড়যন্ত্রের শিকার আজ আওয়ামী লীগ নিজেই। আমাদের রাষ্ট্র কাঠামোতে কোথাও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ নেই। ‘সমাজতন্ত্র’-এর মতো এটিও নির্বাসিত হয়েছে সামরিকতন্ত্র আর মোল্লাতন্ত্রের করালগ্রাসে। মৌলবাদীরা আজ আওয়ামী লীগের ছাতার নিচে থেকে অপকর্ম করে যাচ্ছে, তার দায় বর্তাচ্ছে আওয়ামী লীগের ওপর। রাজনৈতিক আদর্শ যখন গঠনতন্ত্রের কয়েকটি বাক্য মাত্র হয়, তখন বুঝতে হবে রাষ্ট্রে রাজনৈতিক মেরুদণ্ডহীনতা বিরাজ করছে।

সুতরাং বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কেবল উদ্‌যাপন আর সেমিনারে বন্দি রাখলেই চলবে না। এর যে অনবদ্য সাহসিকতার চেতনা, রেসকোর্সের সেই ভাষণের মধ্যে যে চিরন্তন দিকনির্দেশনা জাতির জনক দিয়েছেন, তার পুনর্পাঠ আবশ্যক। এ সত্য যত ক্ষণ পর্যন্ত আমাদের উপলব্ধিতে না আসবে, তত ক্ষণ সব উদ্‌যাপন মিছে হয়ে যাবে।

মারুফ রসূললেখক ও গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী।

২০ Responses -- “বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারি”

  1. জাতিকে ঐক্যের বন্ধনে গড়ে তোলার প্রত্যয়

    মুর্শিদাবাদের পলাশীতে (বর্তমান নদীয়া জেলার কালিগঞ্জ থানা) সিরাজ-উদ-দৌলার সাথে যুদ্ধ হয়নি ইংরেজদের। হয়েছে প্রহসন ও বিশ্বাসঘাতকতা। যেখানে লর্ড ক্লাইভ মাত্র ৩ হাজার সিপাহি (২ হাজার ২০০ সিপাহি ৮০০ পদাতিক সৈন্য) নিয়ে নবাবকে আক্রমণ করে। এর বিপরীতে নবাবের ৫০ হাজার সৈন্য (৩৫ হাজার পদাতিক, ১৫ হাজার অশ্বারোহী, ৫৩টি কামান) পরাজিত হয়। যে যুদ্ধ কল্পনাকেও হার মানায়। পলাশী যুদ্ধে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয় মানে বাংলার স্বাধীনতা হারানো। শুধু কী বাংলার স্বাধীনতা বিনষ্ট হওয়া? এর ফলে বাংলা, বিহার ও উরিষ্যার স্বাধীনতা বিনষ্ট হয়। এর পর সমগ্র ভারতবর্ষই স্বাধীনতা হারায়। বরণ করে নিতে হয়েছিল পৌনে দু’শ বছরের ইংরেজ গোলামি। সে গোলামি দশা থেকে মুক্তি পেতে আমাদের জাতীয় কবি, ঐতিহ্যের কবি, শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বাঙালি কাজী নজরুল ইসলাম জাতির বিবেককে জাগ্রত করে তুলে স্বাধীনতা অর্জন ও রক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণে সে দৃশ্যই এঁকেছেন তাঁর কবিতায়।
    যে যে ক্ষেত্রে পরাধীন মনোবৃত্তির অনুপ্রবেশ ঘটেছে সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এগুলো ঝেঁটিয়ে বিদায় করে একটি স্বাধীন দেশের সৎ মনোবৃত্তি নিয়ে আমাদের ভাষার বিকাশ ও লালনে এবং এর শব্দভান্ডারকে আরো সমৃদ্ধকরণে আমরা অবশ্যই নতুন শব্দ সৃষ্টি করবো, গ্রহণ করবো, তবে পৌনে দু ’শ বছরের ইংরেজ গোলামির চিহ্ন বহনকারী ভাষা ও সংস্কৃতি কখনোই আমাদের অনুসরণীয় সংস্কৃতি হতে পারে না। আজকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নানাদিকে হুমকির সম্মুখীন। উপরন্তু বেনিয়া সংস্কৃতি এবং হিন্দি কালচার আমাদের এ স্বাধীন চিত্তবৃত্তিকে অনেকটা গ্রাস করতে উদ্যত। আমাদের জাতিকে ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করার প্রয়াস না নিয়ে কেবলই অনৈক্য সৃষ্টির চেষ্টা সেই ব্রিটিশ-বেনিয়াদের শেখানো ‘ডিভাইড অ্যান্ড রোল’ পলিসিরই দাসানুদাস অনুসরণ। এটি একটি শক্তিশালী জাতিগঠনের প্রধান অন্তরায় এবং আমাদের যারা প্রকৃত শত্রু আজ তারা আমাদেরকে এদিকটায় অনুগত করার ক্রমাগত তালিম দিয়ে যাচ্ছে আর অনুর্বর মস্তিষ্ক তা লুফে নিয়ে গোটা জাতিকে এক অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী দেশের প্রকৃত গার্জিয়ান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিকে ঐক্যের বন্ধনে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে যেভাবে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন সে যাত্রাপথ বহু চড়াই উতরাই অতিক্রম করে পুনরায় অনৈক্যের অন্ধকার গলিতে পা বাড়িয়েছে। অনৈক্যের এ কালো নেকাব থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের স্বাতন্ত্র্যকে অবশ্যই রক্ষা করে চলতে হবে। একটি ঐতিহ্যের সিঁড়ি বেয়ে ষড়যন্ত্রের উন্মোচন ঘটিয়ে হাজারো সিরাজের প্রতিরোধের মুখে হটিয়ে দিতে হবে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের এবং রক্ষা করতে হবে বাংলাদেশের নাম, বাংলাদেশের স্বাধীনতা। এবং বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে প্রত্যেকটি বাঙালিকে। বাঙালি আজ বিশ্বজয়ের নেশায় ব্যাকুল। তার এ আকুতিকে দেখতে হবে শ্রদ্ধার সাথে। ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব-শত্রুতা কারো সাথেই নয়’ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির এ মৌলিক দিককে উচ্চকিত করে অভ্যন্তরীণ অনৈক্য যেমন দূর করা সম্ভব ঠিক তেমনি বিশ্বসভায় ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে বাঙালি একটি শক্তিশালী জাতি হিসেবে আবির্ভূত হবে এই হোক আমাদের আজকের অঙ্গীকার।

    Reply
  2. সা মো মছিহ রানা

    সা মো মছিহ রানা
    যে যার রাজনৈতিক মতাদর্শ অনুযায়ী ইতিহাস বিকৃতি করে প্রকৃত অর্থে এদেশের জনগণকে বোকা বানানোর চেষ্টা সর্বোপরি ভবিষ্যত প্রজন্মকে বিভ্রান্তিতে ফেলার অশুভ চেষ্টা করা হচ্ছে। পৃথিবী হাসছে তোমাদের আত্মঘাতি প্ররােচনায়। সাধু সাবধান!

    Reply
  3. Fazlul Haq

    লেখার প্রতিক্রিয়াগুলো দেখে বুঝা য়ায় যে সাত কানার হাতি দেখার বর্ণনা দেয়া হয়েছে; কেও পুরা হাতি দেখে নাই।
    মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মাঝামাঝি সময়ে খোন্দকার মুশতাক গংদের কনফেডারেশন গঠনের ষড়যন্ত্র বিফল হলে শত্রুরা বুঝতে পারে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঠেকানো যাবে না। তখন স্বাধীন বাংলাদেশ যাতে টিকে না থাকে বা সবল না হতে পারে তার জন্য বিভিন্ন স্তরের ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করে। দেশবিদেশে থাকা স্বাধীনতা বিরোধীদের সংগঠিত করে বাংলাদেশ বিরোধী প্রচার ও কর্ম তৎপরতা চালানো; মুক্তি বাহিনীর মধ্যে খুনিদের অনুপ্রবেশ ঘটানো; তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান প্রশাসনে, ইন্টেলিজেন্স বিভাগে তাদের অনুুচরদের পদায়ন করা; স্বাধীনতার প্রক্কালে বুদ্ধিজীবিদের হত্যা করা; বঙ্গবন্ধু ও নেতৃত্বদানকারীদের হত্যা করা ইত্যাদি। আর এসব ষড়যন্ত্রের সাথে সি আই এ, আই এস আই, জামাত, মুসলিমলীগ সহ রাজাকার, আলবদর, আলশামস, খোন্দকার মুশতাক গং, জেনারেল জিয়াউররহমান, ক: রশিদ, ক: ফরুক প্রভৃতিরা জড়িত ছিল। বঙ্গবন্ধু সরকারকে বিফল করতে যেমন সব অপপ্রচার করা হয়েছিল; তেমনি সরকার ও দেশ বিরোধী সব স্যাবোটেজ করা হয়েছিল। তাই বাকশাল গঠন না করলেও বঙ্গবন্ধু সহ নেতাদের হত্যা করা হতো এবং সরকারের পতন ঘটিয়ে স্বাধীনতা বিরোধীদের ক্ষমতা দখলের সকল চেষ্টা করা হতো।দু:খের বিষয় স্বাধীনতা বিরোধীদের চক্রান্ত রুখতে পারা যায় নাই যার অনেক কারণ ইতিহাসে বিদ্যমান।

    Reply
  4. বাম ভাই-ব্রাদার

    বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ তুলনামূলকভাবে বেশি হোমোজিনিয়াস। অর্থাৎ রাজনৈতিক বোধবুদ্ধি হওয়ার পর যে ছেলেটি ছাত্রলীগ করে সেই পরবর্তীতে আওয়ামী রাজনীতির কর্মী হয়। এ ক্ষেত্রে পিতা আওয়ামী লীগ করে এবং সন্তানরা তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। সারা দেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা প্রায়ই একটি উপমা দিয়ে থাকে আর তা হলো_ ‘ডিম পাড়ে হাঁসে খায় বাঘডাসে’। আমার মনে হয় দীর্ঘ সাধনার পর আওয়ামী লীগ যখন তার প্রাপ্তি ঘরে তোলে সে মুহূর্তেই কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির আগমন ঘটে ফল ভোগ করার জন্য। ইতিহাস থেকে কয়েকটি উদাহরণ দিলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের অভূতপূর্ব বিজয় আমরা ভোগ করতে পারিনি। নির্বাচনে জয়লাভের পর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী অতিমাত্রায় উদার হয়ে সব ক্ষমতা ফজলুল হক সাহেবের কাছে দিয়ে দিলেন। শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক তখন বার্ধক্যের শেষ পর্যায়ে। তিনি প্রতিটি ক্ষেত্রে যুক্তফ্রন্টের অতি ক্ষুদ্র অংশীদার নেজামে ইসলামী পার্টির নেতাদের দ্বারা পরিচালিত হতে থাকেন। ফলে অল্পদিনের মধ্যে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার সম্পর্ক খারাপ হয় এবং যুক্তফ্রন্ট ভেঙে যায়। শহীদ সোহরাওয়ার্দী পশ্চিম পাকিস্তানে গেলেন আর বঙ্গবন্ধু জেলে। পরবর্তীতে শহীদ সাহেব যখন পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী হলেন তখন সবাই ধরে নিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তিনি ক্ষমতা পেলেন। সেই অর্থে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকার কথা। বঙ্গবন্ধু তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কখনো বামঘেঁষা ছিলেন না। উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মুক্ত অর্থনীতিই তিনি সমর্থন করতেন। চীনপন্থি মওলানা ভাসানী, মস্কোপন্থি নাহিদের গুরু কমরেড মনিসিংহ ও নকশালপন্থি সিরাজ সিকদারের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক ঐক্য কখনো ছিল না। কিন্তু স্বাধীনতার পর বাম ঘরানার লোকরাই বঙ্গবন্ধুর ওপর ভর করে তার সারা জীবনের রাজনৈতিক মতাদর্শ থেকে সরিয়ে তাকে সমাজতন্ত্রমুখী একদলীয় শাসনের দিকে টেনে নিয়ে আসে। প্রতিষ্ঠিত হয় বাকশাল এবং এর পরবর্তী নির্মম ঘটনা সবারই জানা। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সফল পরিসমাপ্তির পর জননেত্রী শেখ হাসিনা আটদলীয় জোটের বাম ঘরানার শরিকদের ছাড় দিতে গিয়ে সফল হতে পারেননি। নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে। বলতে গেলে ‘৯১-এর পরাজয়ের শিক্ষা থেকেই ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ কর্মকৌশল প্রণয়ন করে এবং ওই নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে জাতিকে ১৯৯৬ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর একটি সফল সরকারের মাধ্যমে কার্যকর গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা উপহার দেয়। কিন্তু এবারও শেষমেশ ডিমটি বাঘডাসে খেয়ে ফেলে। মনোনীত রাষ্ট্রপতি, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কর্তাব্যক্তিদের প্রবল বিশ্বাসঘাতকতায় ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়। বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলো নাহিদ সাহেব এবং তাদের বাম ভাই-ব্রাদারদের দখলে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এ জন্য দারুণ সংক্ষুব্ধ। কিন্তু নেত্রীর প্রতি বিশ্বাস এবং আস্থার কারণে সবাই নীরবে মুখ বুজে থাকেন। প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতার জন্য নিজেদের গুণগান করার এক মারাত্মক প্রবণতা বাম ঘরানার মন্ত্রীদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

    Reply
  5. বিবেক

    বাংলাদেশের অধিকাংশ উঠতি প্রজন্মের নৈতিকতা বা বিবেকবোধ এই আদর্শচর্চাহীন রাজনীতির কারনেই শেষ হয়েছে। যার সর্বাধিক দায়ভার আওয়ামী লীগের উপর বর্তায়। এই প্রজন্মের তরুণদের পিতা-মাতারা অধিকাংশই ৫০-৬০ এর কোটার বয়সী হিসেবে আর এরা বাংলাদেশের অপরাজনৈতিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে নিজেদের ধান্দা করতে ব্যস্ত থাকায়, বদরুলদের দিকে আমাদের সময়ের পিতামাতাদের মত করে নজর দিতে পারেন নি। সেই সাথে বড় যে বিষয়টি তা হলো বাংলাদেশে ধর্মীয় শিক্ষাকে রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অবজ্ঞা ও তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে কোনঠাসা করে ফেলার চলমান প্রচেষ্টা। যে কারনে পিতা-মাতার সাথে সন্তানেরাও গড়ে উঠেছে নৈতিকতাহীন ভাবে। আর ক্ষমতাসীনদের ও রাষ্ট্রের নিত্যকার কর্ম বর্তমান প্রজন্মকে সহায়তা করছে নিষ্ঠুর হত্যাকারী হিসেবে নিজেদের গড়ার ফ্যান্টাসিতে ভুগতে। আমার এই কথাগুলোর বিরোধিতা হবে এন্তার; যার অধিকাংশই হবে না বুঝে। কারন আদর্শচর্চাহীন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি এদের অন্ধ ভালবাসার কারনে। এদের কাছে দেশপ্রেমের চেয়ে দলপ্রেম অনেক বড় আর দলপ্রেমের চেয়ে নেতাপ্রেম অনেক বেশি কঠিন। রাষ্ট্র এখন আর নাগরিকদের প্রতিপালনের প্রতিষ্ঠান নয়। এটি এখন কিছু মুনাফাখোর আর লোভী নিষ্ঠুর মানুষের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটি এখন এমনভাবে আওয়ামী করুন করা হয়েছে যার চেতনার ভিত্তি দেয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধকে। এমনভাবে মুক্তিযুদ্ধের চিত্রায়ন করা হচ্ছে যার ফলাফল হচ্ছে ঘৃণা, বিদ্বেষ আর হত্যা। আর চেতনাকে ধারাবাহিক করতে জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে নাগরিকদের অধিকার। বিচার ব্যবস্থাকেও নাগরিক স্বার্থের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়েছে।

    Reply
  6. দেব

    “সূর্যের ধরনীতলে পতনের মতো এক অবিশ্বাস্য সংবাদ। এও কি সম্ভব? এও কি হয়? কার এমন সাহস, কার এমন বুকের পাটা যার আবির্ভাব না হলে এ দেশ স্বাধীন হতো না, সমগ্র জাতি যাকে মাথার মুকুট করে রেখেছে, হিমালয় সমান সেই মহীরুহকে কারা হত্যা করলো?” বাকশালের দূর্ভাগ্যজনক পরিণতির খবর শুনে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা একসময়ের প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরীর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। সবকিছুরই শেষ আছে। যারা এটি বুঝে তাদের কর্মতৎপরতা হয় একরকম, না বুঝলে পরিণতি হয় অন্যরকম। ক্ষমতার দম্ভে বিচারের নামে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের খুন করে অট্টহাসি দেয়া খুবই সহজ, কিন্তু আদর্শ ধ্বংস করা সহজ নয়। গোপালগঞ্জীদের হাতে পোষাক ও অস্ত্র তুলে দিয়ে রাজনৈতিক বিরোধীদের পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা যায়, কিন্তু পরিণতি ঠেকানো যায় না, কখনো যায়নি। প্রতিবেশী দেশের উপর ভর করে গণভবন দখল করে রেখে নির্যাতন, নিস্পেষণ চালিয়ে কি মনে করেছেন ১৬কোটি মানুষকে আজীবন দমিয়ে রাখবেন? না, প্রকৃতি তা বলে না, বাংলাদেশের ইতিহাসও তা বলে না। আইনী পোষাক পরে বা আইনসভার পদ নিয়ে গুম-খুন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুন্ঠনে লিপ্ত হলে এবং তাদের পক্ষে কোনরকম সাফাই গাইলে, আশ্রয়-প্রশ্রয় দিলে গনতন্ত্র-সুশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়। শাসনব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। মহামারির মত কুশাসন ছড়িয়ে পড়ে। আর সেই মহামারিই রাষ্ট্রের শাসন স্তম্ভে পচন ধরায়। এই পচন ছড়িয়ে পড়ে সব জায়গায়। দেবালয়ও রক্ষা পায় না। দায়িত্বহীন ক্ষমতা হয়ে দাঁড়ায় নিজেদের বিলোপের কারণ।

    Reply
  7. মশিউর রহমান যাদু মিয়া

    ইতিহাসের পাতায় শেখ মুজিবর মর্মান্তিক মৃত্যু- দুঃখজনক ও বিয়োগান্তক ঘটনা। এ যেন গ্রীক ট্রাজেডির শেষ দৃশ্যের মত। যা মর্মান্তিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এই শেখ মুজিব বাংলাদেশের ইতিহাসে ঝড় তুলেছিলেন, আর ঝড়ের মত প্রস্থান করলেন। তবে এই প্রস্থানের প্রভাব বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারা রেখে গেলেন দীর্ঘদিনের জন্য। মশিউর রহমান যাদু মিয়া পল্টন ময়দানের এক সভায় মন্তব্য করেছিলেন, ‘আমার বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয় নাই, তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন।’ অর্থাৎ কি-না তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে অন্যের পরামর্শে যে ধরনের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লেন তাই আত্মহননের পথ ছিল। তিনি বামপন্থীদের পাল্লায় পড়ে গণতন্ত্র থেকে সরে একদলীয় সমাজতান্ত্রিক ধারাতে চলে গেলেন। তার এক ভাগিনা তার ঘরে এ ব্যাপারে তার অন্যতম পরামর্শদাতা ছিলেন। রাজনীতি সচেতন এদেশে একদলীয় ‘বাকশাল’ যে লাল কাপড় প্রদর্শনের মত, তা বোঝেনি অনেকে। বাংলাদেশের জনগণই পাকিস্তান এনেছিল কিন্তু পরবর্তীতে তাদের সাথে ভাল ব্যবহার না করায় গণতন্ত্র উৎখাত করে মৌলিক গণতন্ত্র ইত্যাদি করে বাংলাদেশের মানুষকে ‘সাইড লাইনে’ রাখতে গিয়ে ধীরে ধীরে তা গিয়ে পৌঁছল আর এক স্বাধীনতায়। শেখ মুজিব ও তার পরামর্শদাতারা বাংলাদেশের মানুষের এই মনস্তাত্ত্বিক ভাবটা বুঝেও বুঝলেন না। তাই হল মর্মান্তিক ট্রাজেডি, যাকে যাদু মিয়া ‘আত্মহত্যা’ বলেছিলেন। (সূত্রঃ এবনে গোলাম সামাদ, দৈনিক ইনকিলাব ১৫ আগষ্ট ২০০০)

    Reply
  8. বাকশাল

    কাজ না থাকলে মানুষ অকাজ করে- এ সত্যের একটি উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত- ‘৭১ থেকে ‘৭৫ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের অকাজ। শেখ মুজিব আওয়ামী লীগারদের সম্পর্কে খেঁদ প্রকাশ করেছেন প্রকাশ্যে। বলেছেন নিজের দল সম্পর্কে নানা তিক্ত কথা। “মানুষ পায় হীরার খনি, আমি পেয়েছি চোরের খনি”- এমন কথাও তাকে বলতে হয়েছে। কে না শুনেছে তাঁর বিখ্যাত নিজের কম্বল চুরি যাওয়ার ঘোষণা। আওয়ামী লীগের এই সব অকাজই তাঁকে করে তুলেছিল বহুদলীয় সংসদীয় ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীন । ব্রতী হয়েছিলেন তিনি নতুন দল গঠনের, নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের। বহুদলীয় ব্যবস্থার বদলে একদলীয় ব্যবস্থার প্রবর্তন যথাযথ অর্থে স্বাধীনতা-উত্তর শেখ মুজিবের কাছে স্বাধীনতা-পূর্ব বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী শেখ মুজিবের পরাজয়। কিন্তু কেন? কেন শেখ মুজিবের নিজের কাছে নিজের এই পরাজয়?
    এ প্রশ্নের জবাব অবশ্যই খুঁজতে হবে আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে। আমরা নৌকার গতি দেখতে পাই। নৌকার গতিশীলতার জন্য মাঝিকে কৃতিত্ব দেই। সে কৃতিত্ব থাকেও। কিন্তু নৌকার গতির সব টুকু মাঝি-মাল্লার কাজের ফল নয়। নৌকার গতির মধ্যে স্রোতের গতিও থাকে। ব্যক্তির কৃতিত্ব বা অকৃতিত্ব আলোচনাকে সমাজ-কালের গতির অধীন না রাখলে জন্ম নিবে অতিভক্তি বা অন্ধবিশ্বাস অথবা বিপরীতভাবে অন্ধবিদ্বেষ। শেখ মুজিব পাকিস্তান আমলে স্রোতের অনুকূলে নৌকা চালনা করেছেন। স্বাধীনতার পর তিনি নৌকা চালিয়েছেন স্রোতের বিপরীতে। তিনি দেখতে পেয়েছেন পাকিস্তান আমলে নৌকা যে ভাবে চলছিল, এখন সে ভাবে চলছে না। পাকিস্তান আমলে তিনি সহজে জেলা প্রশাসকদের বোঝাতে পেরেছেন কেন বাঙালিদের পক্ষে ক্যাবিনেট সচিব হওয়া সম্ভব নয়। স্বাধীনতার পরে তিনি বোঝাতেই পারছিলেন না ক্যাবিনেট সচিব হয়ে কী করতে হবে। এ অবস্থায় নিম্নমধ্যবিত্তের দল আওয়ামী লীগকে দিয়ে যে অকাজ ছাড়া আর অন্য কোন কাজ হবে না এটা অন্য সকলের মতো শেখ মুজিবুর রহমানও বুঝতে পারছিলেন। তাই তিনি আওয়ামী লীগকে ভেঙ্গে গঠন করেছিলেন বাকশাল।

    Reply
    • আলমগীর

      জামাত-বিএনপির মত লোক দেখানো ভারত বিরোধিতা নয়, ভারতীয় সম্প্রসারনবাদি পুঁজির বিকাশ ও নীতির বহুমুখী আগ্রাসন থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সার্বভোমত্ব রক্ষা করা এখন আশু কর্তব্য হয়ে উঠেছে। এই দায়িত্ব শুধু ফেলানি হত্যার বিচার হয়নি বলে আবেগপ্রবন হয়ে থাকলে দায়িত্ব পালন হবে না, বরং এই শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে ভারতের সাথে সকল দেশবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে সরকারকে বাধ্য করতে হবে বাস্তবায়ন না করতে। আর যদি এটা করতে না পারি তাহলে আজকে যেমন ফেলানি হত্যার বিচার হয়নি বলে কথা বলছি ঠিক তেমনি কিছুদিন পরে একইভাবে আবেগপ্রবণ হতে হবে সুন্দরবন হত্যার জন্য। কিন্তু সেদিন বড় দেরি হয়ে যাবে।

      Reply
  9. কাজী

    কি অসম্ভব দূরবস্থা আমাদের রাজনীতির।
    ক্ষমতা আর ধনের এমন মোহ, লোভ যে, গণতন্ত্রের মানস কন্যার উপদেষ্টা হয় শৈরাচার এরশাদ। হাসবেন ? কি কাঁদবেন ?

    Reply
  10. কাজী নজরুল

    `পথ হারা পাখি কেঁদে ফিরি একা/আমার জীবনে শুধু আঁধারেরও রেখা’ :- গণতন্ত্রের এই দুরবস্থা দেখে মনে পড়লো কবি কাজী নজরুল ইসলামের সিরাজউদ্দৌল্লা সিনেমার জন্য লেখা এই গানটি।কবির গানের পঙতিটি নিগাদ লেগে গেলো বাংলাদেশে গণতন্ত্রের কৃশকায় অশ্রুসিক্ত অবয়বে। ঘৃনা হয়, দুঃখ হয় রাজনীতিবিদদের মরিচা ধরা গণতান্ত্রিক অচলাবস্থা দেখে।ক্ষমতায় যাবার জন্য পালাবদলের নাগরদোলায় ওঠার নেশায় মত্ত দেশের দু’টি বড় রাজনৈতিক দল ।তাদের ভূল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারনে একটি রাষ্ট্র ও জনগণকে কতখানি অগণতান্ত্রিক, অনৈতিক বির্বজিত সহিংসতা এবং সন্ত্রাসের পথে ঠেলে দিয়ে বীভৎস পরিবেশের সৃষ্ঠি করে তার মূখ্য প্রমাণ রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশ ।

    Reply
  11. rasel ahmed

    ৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থায় বিএনপি রাজি না হওয়ায় জনগণ বিএনপির প্রতি রুষ্ট হয়। আর আন্দোলনে বিজয়ের ফলে জনমতের পাল্লা আওয়ামী লীগের দিকে হেলে যায়।মোটাদাগে পরবর্তী ঘটনা হলো এই যে, তত্ত্বাবধায়কসরকারের অধীনে অনুষ্ঠিতনির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। আওয়ামী লীগ জয়লাভের পর যে ঘটনাগুলো ঘটে তা হলো, সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রবল দাপটে থাকা ছাত্রদলের সেনাপতিদের জায়গা দখল করতে শুরু করেছাত্রলীগ। বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাহয়। বিভিন্ন স্থানে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনের সহায়তায় বিএনপি কোণঠাসা হয়ে যায় এবং অপেক্ষা করতে থাকে আরেকটি নির্বাচনের জন্য।এছাড়া প্রশাসনের সকল স্তরে যেখানে বিএনপির লোকজন ছিল, সেখানে আওয়ামী লীগের লোকজনকে বসানো হয়। এতে আওয়ামী লীগ সরকারের চলার পথ মসৃণ হয়।এরপর, ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আরেকটি নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়। সেই সময়েও সরকার পতনের আন্দোলন বিএনপি করেছিল, তবে তত্ত্বাবধায়কের মতোইস্যু না থাকায় বিএনপির আন্দোলন তেমন তীব্র হয়নি। সেবছর সাংবিধানিকভাবেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিল আওয়ামী লীগ।এরপর আবার ক্ষমতায় আসে বিএনপি। যথারীতি সারা দেশের ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রলীগের জায়গা দখল করে ছাত্রদল। একইভাবে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। বিভিন্ন স্থানে আধিপত্যবিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। প্রশাসনের সহায়তায় আবার কোণঠাসা হয়ে যায় আওয়ামী লীগ এবং অপেক্ষা করতে থাকে আরেকটি নির্বাচনের জন্য।২০০৭ সালে বিএনপি ক্ষমতা ছাড়ার প্রাক্কালে আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। ফলে,অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধাবিত হয় দেশ।এরপর আসে ২ বছরের সেনাশাসন। ছবিসহ ভোটার আইডি হাতে ভোট দেন ভোটাররা এবং বিপুল ভোট পেয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।আগের ঘটনাগুলোর তুলনায় এবারের প্রেক্ষাপট ছিল কিছুটা ভিন্ন। সরকার বিরোধী দলকে যতই কোণঠাসা করুক, কেন্দ্রীয় নেতাদের এর আগে কখনো দল বেধে জেলখানায় যাওয়ার রেকর্ডছিল না। কিন্তু, সেনাশাসনের সময় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের দল বেঁধে জেলখানায় যাওয়ার রেকর্ডসৃষ্টি হয়। সবাই অবাক হয়ে দেখে যে, ধরাছোঁয়ারবাইরে থাকা নেতাদেরও জেলে নেওয়া সম্ভব। একসময় এটা মানুষের গা-সওয়া হয়ে যায়।ঘটনাটি পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের ভয় ভাঙিয়ে দেয়।

    Reply
  12. রোমান

    মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন দলের দুর্নীতি, লুটপাট আর অনিয়ম মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীকে এতটাই ক্ষুব্দ করে তুলেছিল যে, তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগের নামকরন করেছিলেন “নিখিল বাংলা লুটপাট সমিতি”। স্বাধীনতাত্তোর কালে ক্ষমতাসীন দলের একশ্রেনীর নেতা-কর্মী মেতে উঠেছিল বেপরোয়া লুন্ঠন ও দুর্নীতিতে। পরিনামে দলীয় প্রধান ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবর রহমান আক্ষেপ করে বলেছিলেন, আমার চারপাশে চোরের দল, চাটার দল। রিলিফ চুরির ঘটনায় ক্ষুব্ধ শেখ মুজিব বলেছিলেন, আমার কম্বলটি কোথায়? এসবই ইতিহাস হয়ে থাকতে পারতো যদি না রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুন্ঠনের ক্ষেত্রে গত প্রায় চল্লিশ বছর সামরিক বেসামরিক অথবা গনতান্ত্রিক লেবাসে দলগুলি একের সাথে অপরে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে সমস্ত সীমা অতিক্রম না করতো।

    Reply
  13. আজব জাতি

    বাংলাদেশ একটা দেশ যেখানে সাধারণ মানুষের সামান্যতম সম্মান নেই। দুটি বিভাজন—ধনী আর দরিদ্র। এটি একটি। দ্বিতীয়টি হল—শাসক ও শাসিত। ওই এক কথা, ওপর তলা ও নীচের তলা। সাধারণ মানুষের হেনস্ত বন্ধ হবে কি? ‘সেবা’ শব্দটা অভিধানেই থাকবে কোনও প্রয়োগ থাকবে না। ভোট সম্পর্কে মানুষের আস্থা কোন পর্যায়ে নেমেছে? সাধারণ মানুষ কিছুটা উদাসীন। সেইটাই স্বাভাবিক, কারণ যাঁরা রাজনীতি করেন তাঁদের বেশিরভাগই মানুষ হলেও আলাদা জাতের মানুষ। কাছাকাছি গেলেই বোঝা যায়। তাঁরা কখন কী করে বসবেন বোঝা দায়। সবচেয়ে ভয়ের কথা হল—অস্বীকার। কোনও কিছুই তাঁরা স্বীকার করবেন না। পাশ কাটিয়ে যাবেন। স্তোকবাক্য শুনতে শুনতে বেশিরভাগ মানুষই অদৃষ্ট বিশ্বাসী হয়েছেন, ধার্মিক হতে পারেননি। বর্তমানে সবাই ‘ফেটালিস্ট; ক্যালাস’। হচ্ছে হয়ে যাক করার কিছু নেই, সত্যিই নেই। ডাকাতি, কিডন্যাপিং, নারী পাচার, বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে শিশু হত্যা, খেতে না পেয়ে মৃত্যু, ঩নিঃসঙ্গ বৃদ্ধ-বৃদ্ধার কণ্ঠছেদন—কে বন্ধ করবেন! দেশ একটা বিশাল জায়গা, অলি, গলি, ঘুপচি, অন্ধকার, জল, জঙ্গল কে কোথায় কী উদ্দেশ্যে গোষ্ঠীবদ্ধ হচ্ছে তার ওপর প্রশাসনিক নজর রাখা অনেকটাই দুঃসাধ্য ব্যাপার। বন্দুক দিয়ে, গোলাগুলি ছুড়ে দেশ শাসনের পদ্ধতি যে ভুল, করা যে যায় না, তা বারেবারে প্রমাণিত। জলপথে, আকাশপথে, স্থলপথে নজরদারি চলছে এবং চলবে। নিরাপত্তা বাহিনী কত সামাল দেবে। মাঠে, ময়দানে অজস্র রকমের মাইন পোঁতা। কেন এমন হবে? এ দেশ মানুষের দেশ, না ধ্বংসকারী একদল শয়তানের বিচরণ ক্ষেত্র। একমাত্র উপায় ছিল—মানুষের নৈতিক দিকটাকে কোনওভাবে, কোনও শিক্ষায় যদি উন্নত করা যেত। অতীত বাংলাদেশে এই দিকটা ভাবা হলেও কিছু কিছু রাজনৈতিক মতবাদ ধর্মের মূলে কুঠার চালিয়ে আধুনিক ধর্মের যে সংজ্ঞা বের করেছেন তারই ফাঁদে পড়ে সারা দেশের অবস্থা প্রায় যায় যায়।

    Reply
  14. ধর্ম আমরা চাই না, তাই বলে চরিত্র চাইব না কেন?

    সর্বগ্রাসী লোভ, ক্ষমতায় থাকার গাজোয়ারিতে পুরো ব্যাপারটাই উপহাসে পরিণত হয়েছে। সর্বত্র অদ্ভুত একটা অরাজকতা। যাঁরা ক্ষমতায় আছেন তাঁরা তাঁদের শ্রদ্ধার স্থানটি হারিয়েছেন। তবু নির্বাচন, তবু বলতে হবে—পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গণতন্ত্র।
    সবচেয়ে বড় সমস্যা হল অন্তরাল। দপ্তরে দপ্তরে কী হচ্ছে, কোন সিদ্ধান্ত, কারা নিচ্ছেন, সিদ্ধান্ত অনুসারে কাজ হচ্ছে কি না—সাধারণ মানুষের জানার অধিকার নেই। ‘তথ্যের অধিকার’ বলে একটি অধিকারের কথা আইনসিদ্ধ হলেও, কার দায় পড়েছে খোঁজ রাখার। বিব্রত, বিভ্রান্ত মানুষের দল অস্তিত্ব রক্ষায় বিপন্ন। ভীষণ একটা ভয়—কতদিন বাঁচব, কীভাবে বাঁচব। বিপন্ন হয়েছে সুরক্ষায় থাকার বোধ। সমাজবিরোধীদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। অন্ধকার জগতের ‘পপুলেশন’ হু হু করে বেড়ে চলেছে। আধুনিক প্রযুক্তিকে অপরাধের কাজে লাগানো হচ্ছে। সন্ত্রাস, অধিকার হরণ, অধিকার খর্ব করার সম্মিলিত প্রচেষ্টা জনজীবনকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। মধ্য যুগ আধুনিক সাজে সেজে এসেছে। মানুষ মারাটা মশামাছি মারার মতো সহজ হয়েছে। ধর্ম আমরা চাই না, তাই বলে চরিত্র চাইব না কেন? সৎ চরিত্রের মানুষ ক্রমশই কমছে। সর্বস্তরে ধাপ্পাবাজি। সুবিধাবাদী মানুষদের কলাকৌশলে সবকিছুই প্রায় ভেঙে পড়ার দাখিল। বিজ্ঞাপনের যুগ, মিডিয়ার শক্তি প্রবল—প্রচারের জোরে হয় নয় হচ্ছে, নয় হয় হচ্ছে। সকলেই জানেন কী হচ্ছে। কিন্তু, কিছুই করার নেই। কোটি কোটি মানুষের মধ্য থেকে কয়েকজন মানুষ বেরিয়ে এসেছেন—যাঁরা নেতা হবেন, অন্যের প্রবেশ নিষেধ।প্রতিটি নির্বাচনে সেই এক মুখ, আর মার্কা মারা কথা। এটা যেন একটা ট্রেড বা জীবিকায় পরিণত হয়েছে। কয়েক বছর আগে এক বিখ্যাত নেতা বলেছিলেন, স্কুল, কলেজ হবে রাজনীতির পাঠশালা, ভবিষ্যৎ নেতা তৈরির কারখানা। তার ফলে স্কুল, কলেজ থাকোব কি থাকবে না—বলা কঠিন। একবার নেতা হতে পারলে লেখাপড়ার প্রয়োজন নেই, কষ্ট করে পরীক্ষায় পাশ করার আর কী দরকার—সময় নষ্ট। দুটো পাওয়ার। হর্স পাওয়ারে গাড়ি চলবে আর পেশির পাওয়ারে রাজ্যশাসন।

    Reply
  15. রাজনীতির উন্নতি

    ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হল। কত স্বপ্ন! পরাধীন বাংলাদেশের চেহারা পালটাতে হবে। সাধারণ মানুষকে জীবনের সম্মানজনক মানে পৌঁছে দিতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকা, ধর্মাচরণের স্বাধীনতা, ভাষার স্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা। ওদিকে রাজপথ, জনপথ অন্যান্য যোগাযোগা ব্যবস্থা—বিশ্বমানের করতে হবে। একের পর এক পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ইত্যাদি। বিরাট এক অ্যাজেন্ডা। সাধারণ মানুষ দিনকতক স্বপ্নের ঘোরে কাটালেন। তারপরে ধীরে ধীরে ঘিরে এল কালো ছায়া। সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াল নৈতিকতা। সব স্লোগানের ঊর্ধ্বে জোরালো হল যেটি সেটি হল— ‘লুট লে, লুট লে’। যে যা পার লুটেপুটে নাও, আখের গুছোও। দীর্ঘকাল পরাধীনতার ফলে দাস মনোভাব সংস্কারে গিয়ে পৌঁছাল। এই মনোভাবের একটিই প্রকাশ—দেশটাকে নিজের না-বলে ভাবা। যে করবে সে করবে, আমার কিছু করার নেই। এই যে ভয়ংকর মনোবৃত্তি তারই ফল—বর্তমান পরিস্থিতি।

    Reply
  16. বাদল

    ’৯০ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিকশিত হতে শুরু করে। বিচারপতি সাহাবুদ্দিন অত্যন্ত দক্ষতা ও বিজ্ঞতার সাথে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করেন। একটা কথা পরিষ্কার করা আবশ্যক। নির্বাচন অনুষ্ঠানকে কেবল গণতন্ত্র বলা যায় না। তবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচন অনুষ্ঠান গণতন্ত্রের মূল চেতনা। আমরা আশা করেছিলাম, গণতান্ত্রিক সরকারগুলো গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মানুষ নিজেদের ক্ষমতাবান ও মর্যাদাবান ভাবতে পারবে। গণতন্ত্রায়নের সুফল আমরা অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি ও সমাজ জীবনে উপলব্ধি করতে পারব। আমাদের প্রত্যাশা ছিল, বাংলাদেশ মুক্তবুদ্ধি চর্চার কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পাবে। রাষ্ট্র আমাদের মূল্য দিয়ে সুরক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নাগরিক কল্যাণ নিশ্চিত করবে। আমরা মুক্ত উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে উন্নত, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ দেশ পাব, যেখানে সাম্য, মৈত্রী ও বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ থাকবে সব শ্রেণীর মানুষ। রাষ্ট্র পরিচিতি পাবে সেবাধর্মী ও কল্যাণধর্মী রাষ্ট্র হিসেবে।

    Reply
  17. বাংঙ্গালী

    বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ৪৩ বছর অতিক্রম করেছে কিন্তু মানুষের আকাক্সক্ষা ও প্রত্যাশা অপূর্ণ থেকে গেছে। যে চেতনা নিয়ে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল তার অতি সামান্য বাস্তবায়িত হতে দেখে এ দেশের মানুষ বিস্ময়ে হতবাক। স্বাধীনতার মূল চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করে আমরা কতগুলো ফালতু বিষয়কে চেতনা বলে চালাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। মানুষ আজ অধিকার হারা, মালিকানাহারা ও অসহায় হয়ে পড়েছে। মানুষের অধিকার ও মর্যাদা কেড়ে নিয়ে ক্ষমতাবানরা উল্লাস করছে। রাজনীতিকরা সম্পদের পাহাড় গড়তে ব্যস্ত, জনগণের কথা বিস্মৃত। জনগণ কী চায় ও কী প্রত্যাশা করে শাসকশ্রেণী সেসব বিবেচনা না করে নিজেদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে একগুঁয়েমি করে চলেছেন। কোন কিছু পরোয়া না করে তারা নিজ অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে ব্যস্ত। স্বাধীনতার মূল চেতনার সাথে রাজনীতিকদের কর্মকান্ডের অসঙ্গতি দারুণভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। গণতন্ত্রই ছিল স্বাধীনতার মূল চেতনা। সেই গণতন্ত্রের দুরবস্থা, আহতাবস্থা ও মুমূর্ষু অবস্থা দেখে জনগণ ব্যথিত দুঃখিত ও হতাশ। দেশে গণতন্ত্রের নতুন সংজ্ঞায়ন চলছে, যা গণতন্ত্রের চেতনা পরিপন্থী। যেভাবে, গণতন্ত্রের চর্চা ও অনুশীলন চলছে তা দেখে বলতে বাধ্য হচ্ছি, এটি গণতান্ত্রিক স্বৈরাচারের বাংলাদেশী সংস্করণ। বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের পর থেকে যেভাবে গণতন্ত্রের চর্চা ও অনুশীলন হচ্ছে তার সাথে বর্তমানে চালু গণতন্ত্রের বহু বিষয়ে মিল নেই।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—