vasho-61-main pic

“দেশ তখন উত্তাল। পশ্চিম পাকিস্তানিরা নানাভাবে শোষণ করছিল আমাদের ওপর। কাগজ এখানেই তৈরি হত। কিন্তু সেই কাগজই আমাদের কিনতে হত চড়া দামে। পাট বিক্রির টাকায় উন্নত হত পশ্চিম পাকিস্তান। অথচ আমাদের রাস্তাঘাটগুলো ভাঙাই থাকত। যোগ্যতা থাকলেও অফিস-আদালতের বড় বড় পোস্টে বাঙালিদের যেতে দেওয়া হত না। পাঞ্জাবিরা আমাদের ‘বাঙাল’ বলে গালি দিত। এসব বৈষম্যের প্রতিবাদ করতে থাকে বাঙালিরা। তাদের অধিকারের জন্য পথে নামে শেখ মুজিব। সারা দেশকে ঐক্যবদ্ধ করেন তিনি। এ খবরগুলো তখন পৌঁছে যেত গ্রামে গ্রামে।”

বড়দের মুখে শোনা সে খবরগুলো শাহজাহানের মনে ঝড় তুলত। এভাবেই তাঁর প্রতিবাদী মন উদ্দীপ্ত হত।

৭ মার্চ ১৯৭১। বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষণ দেন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে। শাহজাহান সে ভাষণ শোনেন রেডিওতে। বঙ্গবন্ধু বললেন:

“তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শক্রুর মোকাবেলা করতে হবে…আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি…।”

রক্ত গরম করা সে ভাষণ শাহজাহানের জীবন ওলটপালট করে দেয়। ওই দিনই তিনি বুঝতে পারেন, রক্ত ছাড়া স্বাধীনতা মিলবে না।

২৫ মার্চের পর সারা দেশে আর্মি নামে। বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয় তারা। হত্যা করতে থাকে নিরীহ নিরাপরাধ মানুষকে।

পারিবারিকভাবে শাহজাহানরা ছিলেন স্বচ্ছল। জমিজমারও কমতি ছিল না। কিন্তু দেশ যদি পরাধীন থাকে তবে সে জমির তো মূল্য নেই। শাহজাহান ভাবেন, সবার আগে দেশকে শক্রমুক্ত করতে হবে। বাঁচাতে হবে মাতৃভূমিকে। এমন চিন্তা থেকেই এক রাতে তিনি গোপনে বাড়ি ছাড়েন। যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে।

মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার কথা এভাবেই জানাচ্ছিলেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান লস্কর।

তাঁর বাবার নাম আব্দুল সোবহান লস্কর, মা বটফুল বেগম। তিন ভাই ও এক বোনের সংসারে শাহজাহান সবার বড়। গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির নলছটি উপজেলার দক্ষিণ কামদেবপুর গ্রামে।

শাহজাহানের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে গ্রামের বাড়িতে। তাঁর পছন্দের খেলা ছিল ফুটবল আর হাডুডু। বাল্যবন্ধু রশিদ হাওলাদার ও খলিল জমারদারের সঙ্গে এ গ্রাম ও গ্রাম ছুটে বেড়াতেন। দল বেঁধে দারিয়াবান্ধা খেলা আর মাছ ধরাতেই তাদের আনন্দ ছিল বেশি।

 

vasho-61-01
স্প্লিনটারের ক্ষত নিয়ে বেঁচে আছেন মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান

 

লেখাপড়ায় শাহজাহানের হাতেখড়ি কামদেবপুর প্রাইমারি স্কুলে। সেখানে পঞ্চম শ্রেণি পাসের পর তিনি ভর্তি হন নাছোব মহাল উচ্চ বিদ্যালয়ে। ওখানেই নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েন তিনি। পরে নানা কারণে তাঁর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। অতঃপর তিনি যুক্ত হন বাবার কৃষি পেশায়।

ট্রেনিং নিলেন কোথায়?

“তারিখটা ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ। নিকট আত্মীয় মান্নান মোল্লাসহ আমরা গ্রাম থেকে গোপনে চলে যাই মুক্তিযুদ্ধে। খুলনা দৌলতপুর হয়ে পৌঁছি দিগলিয়া ইউনিয়নের দিগলিয়া গ্রামে। বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে সেখানে একত্রিত হয় আরও যুবকরা। মেজর জিয়াউদ্দিন ছিলেন সেখানে। আমরা তাঁর গ্রুপেই যোগ দিই। সাতদিনের স্বল্পমেয়াদি ট্রেনিংয়ে আমাদের শেখানো হয় গ্রেনেড নিক্ষেপ ও হালকা রাইফেল চালনা। অতঃপর শুরু হয় অপারেশন।”

দিগলিয়া ছাড়াও শাহজাহানরা ৯ নং সেক্টরের অধীনে দৌলতপুরের বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধ করেন। তাদের কমান্ড করতেন মেজর জিয়াউদ্দিন। ইউনিট কমান্ডার ছিলেন আব্দুল মান্নান।

মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষের ভূমিকা প্রসঙ্গে কথা বলেন মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান। তাঁর ভাষায়:

“সাধারণ মানুষের সহযোগিতা না থাকলে গেরিলারা টিকতে পারত না। মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়, খাবার ও পানি দিয়ে সাহায্য করত গ্রামের সাধারণ মানুষেরা। অনেকেই নানা খবরাখবর পৌঁছে দিত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। এ কারণেই অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ওপর মুক্তিযোদ্ধারা সহজেই গেরিলা আক্রমণ করে সরে যেতে পারত। আবার উল্টোটাও ঘটেছে। কেউ কেউ ছিল পাকিস্তানিদের পক্ষে। তারা আমাদের আপ্যায়নে ব্যস্ত রেখেই খবর দিয়ে আসত আর্মি ক্যাম্পে। এ কারণে আমরাও খোঁজখবর নিয়ে সাধারণ মানুষের সাহায্য গ্রহণ করতাম।”

এক অপারেশনে মারাত্মকভাবে আহত হন এই সূর্যসন্তান। পাকিস্তানি সেনাদের মর্টার শেলের স্প্লিনটারের আঘাতে তাঁর ডান হাতের কব্জির একাংশ ও তর্জনি উড়ে যায়। ফলে সারা জীবনের জন্য হাতটি কর্মক্ষমতা হারায়। স্প্লিনটারে বিদ্ধ হয় বুকের পাশ ও বাম হাতের জয়েন্টও।

কী ঘটেছিল রক্তাক্ত ওই দিনটিতে? প্রশ্ন শুনে মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান স্মৃতিকাতর হন। অতঃপর বলতে থাকেন ওই দিনের আদ্যোপান্ত:

“দিগলিয়া গ্রামে ছিল পাকিস্তানি সেনাদের ছোট্ট একটি ক্যাম্প। ওই ক্যাম্প উড়িয়ে দিতে হবে। এমন নির্দেশ আসে আমাদের কাছে। আমরা আক্রমণের পরিকল্পনা সেরে নিই। ২৯ মে ১৯৭১। সন্ধ্যার পর পরই আমরা ক্যাম্প থেকে বের হই। ক্রলিং করে এগোতে থাকি। একসময় পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্পের কাছাকাছি পজিশন নিই। আমরা ছিলাম ১৫ জন মুক্তিযোদ্ধা।

 

vasho-61-02
স্প্লিনটারের আঘাতে শাহজাহানের ডান হাতের কব্জির একাংশ ও তর্জনি উড়ে যায়

 

“রাত তখন ৮টা। কথা ছিল দলের লিডার প্রথম গুলি ছুঁড়বেন। তা-ই হল। সঙ্গে সঙ্গে আমরাও সম্মিলিতভাবে গুলি ছুঁড়তে থাকলাম। এভাবে চলল খানিক সময়। পাকিস্তানি সেনারা তখন পাল্টা অ্যাটাক করে। শত শত মর্টারের শেল এসে পড়ে আমাদের ওপর। শেলের স্প্লিনটার প্রচণ্ড শব্দে ছড়িয়ে পড়তে থাকে চারপাশে।

“ওদের আক্রমণের কাছে আমরা টিকতে পারি না। আমি ছিলাম স্লিপিং পজিশনে। চোখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দুজন সহযোদ্ধাকে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখলাম। স্প্লিনটারের আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয় তাদের দেহ। তাদের আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে ওখানকার বাতাস। আমি শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিলাম। কিছুই করার ছিল না! বুকের ভেতরটা দুপদুপ করছিল। সহযোদ্ধাদের মৃত্যু যন্ত্রণা বাড়িয়ে দেয় মৃত্যুভয়কে।

“হঠাৎ খেয়াল করলাম আমার ডান হাত ও বুকের বাম পাশটা ভেজা। হাত দিয়ে স্পর্শ করতেই বুঝে যাই রক্তে ভিজে যাচ্ছে। কখন যে আমার শরীরেও স্প্লিনটারে বিদ্ধ হয়েছে টেরই পাইনি। খানিক পরে আবিষ্কার করলাম ডান হাতে কব্জির একাংশ ও তর্জনি উড়ে গেছে। ভেবেছি সহযোদ্ধাদের মতোই মারা পড়ব। মায়ের মুখটা বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। রক্ত গিয়ে শরীরটা একসময় ঝিমিয়ে পড়ে। আমার অবস্থা দেখে পাশ থেকে হামিদ চিৎকার দিয়ে ওঠে। তখন অন্য সহযোদ্ধারাও এগিয়ে আসে। শেলের আলোর ঝলকানি দিয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে আসে আমার দৃষ্টি। এরপর আর কিছুই মনে নেই।”

শাহজাহানকে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় ক্যাম্পে। পরে ছয় মাস চিকিৎসা চলে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে। প্রাণে বেঁচে গেলেও কর্মক্ষমতা হারায় তাঁর ডান হাতটি।

নভেম্বরের প্রথম দিকে তিনি ফিরে আসেন নিজ গ্রাম কামদেবপুরে। গ্রামটি তখন হানাদারমুক্ত ছিল। মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না শাহজাহানের। মা ভেবেছিলেন ছেলে মারা গেছে। বাড়ি ফিরতেই ছেলেকে জড়িয়ে ধরিয়ে খুশিতে কাঁদতে থাকেন তিনি। মায়ের ছোঁয়া আর ভালবাসায় শাহজাহানও ভুলে যান তাঁর দুঃখময় স্মৃতিগুলো।

স্বাধীনতার জন্য রক্তাক্ত হয়েছেন– এ নিয়ে কোনো আসফোস হয় কি না? জানতে চাই আমরা।

মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহানের উত্তর, “স্বাধীনতা লাভের পর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় সুইজারল্যান্ডে। ওই চিকিৎসাটা না হলে হয়তো শরীরে পয়জন ছড়িয়ে পড়ত। বেঁচে থাকা তখন সম্ভব হত না। দেশটা স্বাধীন না হলে মনে অনেক দুঃখ পেতাম। এখন কোনো আফসোস নাই। জখমের কারণে ডান হাত দিয়ে কাজ করতে পারি না। তবুও গ্রামের মানুষ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সম্মান করে। সবার দোয়াতেই তো আজ বেঁচে আছি। এখন মৃত্যু আসলেও স্বাধীন দেশেই শেষ নিঃশ্বাসটা নিয়ে মরতে পারব। এর চেয়ে সুখের আর কী আছে!”

স্বাধীনের পর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান চাকরি নেন জিপিওতে। অবসরে যান ২০০৭ সালে। যুদ্ধাহত ও অবসর ভাতা থেকে যা পান তাই দিয়ে চলে তাঁর পরিবার। চার মেয়ের জনক এই মুক্তিযোদ্ধা। ছোট মেয়ে সালমা আক্তার ইতি সাইকোলজিতে মাস্টার্স করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে নিয়ে গর্বিত ইতি, “মাঝেমধ্যে ক্লাসে কোনো শিক্ষক কিংবা সহপাঠীরা যখন জানতে চায় আমার মুক্তিযোদ্ধা বাবার কথা, তাঁর আহত হওয়ার ঘটনাটি। তখন সন্তান হিসেবে গর্ববোধ করি।”

দেশ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে তার ভাবনাগুলো জানতে চাই আমরা। ইতি বলেন, “সরকার আমাদের কোনো সুবিধা না দিলেও আমার বাবা যেমন দেশের জন্য রক্ত দিয়েছেন তেমনি আমিও চাই কাজের মধ্য দিয়ে সততার সঙ্গে দেশের সেবা করতে। সরকার মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের চাকরির সুবিধা দিচ্ছে। এটা ভালো। কিন্তু সেই সুবিধাগুলো পাচ্ছে শুধুমাত্র উচ্চশ্রেণিরর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরা। এ দিকটাতেও নজর দেওয়া উচিত। তদবির আর লোক ধরাই যদি যোগ্যতা হয়, তবে তো একসময় কোনো সেক্টরেই সৎ আর দক্ষ লোক থাকবে না। তাহলে কীভাবে সরকারের ভিশন বাস্তবায়িত হবে?”

৪৪ বছর পরও কেন মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা বাড়ে? এ প্রশ্নের উত্তরে মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান অকপটে তুলে ধরেন নিজের মতামত:

“মুক্তিযোদ্ধারাও আজ ১৪ নম্বর হয়ে যাচ্ছে। ওই যে টাকাটুকা খায় আর তালিকা ভাঙ্গাচুরা করে। এখন সুবিধা লাভের জন্যই চলছে সব। মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য ছাড়া তো মুক্তিযোদ্ধা হওয়া যায় না। মুক্তিযোদ্ধাদের হাত ধরেই তালিকায় নাম উঠেছে অনেক অমুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারদের। তাই এর দায় প্রথম মুক্তিযোদ্ধাদেরই। তবে সরকারের কঠোরতার অভাবও ছিল। এ কারণেই মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা বিতর্কিত হয়েছে।”

 

vasho-61-03
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান লস্কর

 

দেরিতে হলেও দেশে চিহিৃত যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকারদের বিচার হচ্ছে। কয়েকজনের ফাঁসিও কার্যকর হয়েছে। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান মনে করেন, এতে দেশে আইনের শাসন যেমন প্রতিষ্ঠা পেয়েছে তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বুকে জমে থাকা আর্তনাদ ও চাপা কষ্ট থেকে মুক্তি মিলেছে। এ জন্য তিনি মন থেকে দোয়া করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

“রাজাকাররা ক্ষমতায় না থাকলে বহু আগেই রাজাকার, আল বদর, আল শামস নেতাদের বিচার হত। জিয়া এদের পুনর্বাসিত করে ইতিহাসকে করেছেন কলঙ্কিত। বিএনপির হাত ধরেই রাজাকাররা ফুলেফেঁপে কলাগাছ হয়েছে। শেখের মাইয়া ইতিহাসের দায় থেকে দেশকে মুক্ত করেছেন।”

একই সঙ্গে তিনি বঙ্গবন্ধুর সাধারণ ক্ষমা প্রসঙ্গে বলেন, “বঙ্গবন্ধু বড় মনের মানুষ ছিলেন। বড় বড় রাজাকারগো তো তিনি ক্ষমা করেন নাই। কিন্তু ছোট যুদ্ধাপরাধীদেরও ক্ষমা না করে আইনের আওতায় আনা দরকার ছিল।”

স্বাধীন দেশে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভালো লাগা জানতে চাই আমরা। উত্তরে এই বীর যোদ্ধা বলেন:

“ডিজিটাল বাংলাদেশের উন্নতিগুলো দেখলে ভালো লাগে। কৃষি ক্ষেত্রে আমরা অনেক এগিয়েছি। আমার দেশের সোনার ছেলেরা সারা পৃথিবীতে সম্মানের সঙ্গে কাজ করছে। লাখো শ্রমিক কাজ করছে গার্মেন্টসগুলোতে। এগুলো দেখলে মন ভরে যায়। দেশটা পাকিস্তান থাকলে কি এটা হত?”

খারাপ লাগে কখন?

“দেশের অধিকাংশ স্থানেই দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক নেতারা নিজের উন্নতিতে ব্যস্ত। স্বাধীন দেশে গরিব আরও গরিব হচ্ছে। ধনিরা নিজেদের ভাবছেন ‘ভগবান’। এমন দেশ তো আমরা চাইনি, বাবা। শেখের মাইয়া চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু তিনি একা কতটুকু করতে পারবেন? কাজের প্রতি সবাই সৎ থাকলে দেশটা সত্যি পাল্টে যেত।”

দেশে নানা সমস্যা থাকলেও পরবর্তী প্রজম্মকে নিয়ে স্বপ্নে বিভোর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান লস্কর। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন:

“আমরা রক্ত দিয়ে দেশটা স্বাধীন করেছি। তোমাদেরই দায়িত্ব দেশটাকে এগিয়ে নেওয়ার। নিজেদের মধ্যে হানাহানি কোরো না। শত বিপদেও মনোবল হারাবে না। মনে রাখবা তোমরা বীর জাতির সন্তান। কোনো বাধাই তোমাদের দাবিয়ে রাখতে পারবে না।”

সংক্ষিপ্ত তথ্য:

নাম: যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান লস্কর

ট্রেনিং: খুলনার দিগলিয়া গ্রামে সাতদিনের ট্রেনিং করেন মেজর জিয়াউদ্দিনের কাছে
যুদ্ধ করেন: ৯ নং সেক্টরের অধীনে দৌলতপুরের বিভিন্ন এলাকায়

যুদ্ধাহত: ২৯ মে ১৯৭১। দিগলিয়ায় এক অপারেশনে পাকিস্তানি সেনাদের মর্টার শেলের স্প্লিনটারের আঘাতে তাঁর ডান হাতের কব্জির একাংশ ও তর্জনি উড়ে যায়। স্প্লিনটারে বিদ্ধ হয় বুকের পাশ ও বাম হাতের জয়েন্টও।

সালেক খোকনলেখক, গবেষক।

২০ Responses -- “যুদ্ধাহতের ভাষ্য: ৬১– “কাজের প্রতি সবাই সৎ থাকলে দেশটা পাল্টে যেত””

  1. kader

    জামায়াতে ইসলামী-মুক্ত করাটা হচ্ছে ভান-ভনিতা। আমি বিশ্বাস করি ইসলামী ব্যাংক দখল করা হয়েছে আসলে একে লুটেপুটে খাওয়ার জন্য।
    আরেকটা কথা, কোন ব্যাংক বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ‘কারো ‘ থেকে মুক্ত করার কোন আইন দেশে আছে কি? নূন্যতম সৎসাহস থাকলে, কারো প্রতিষ্ঠান দখল করার আগে প্লিজ এধরনের একটি আইন করুন। যা করার আ্ইনের আওতার মধ্যে থেকে করুন।
    না’হলে এদেশে একে একে সবার ব্যবসা আর প্রতিষ্ঠান্ দখল হয়ে যাবে একদিন। লুট হবে সাধারন মানুষের অর্থ, বিশ্বাস আর অর্জন।

    Reply
  2. Nurul Haque

    কৃষক-শ্রমিকের উত্পাদন আর প্রবাসীদের পাঠানো আয়ের টাকা লুট আর পাচার হয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। পাকিস্তানিদের লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের স্লোগান স্বাধীনতার পথ রচনা করেছিল। শোষিত বাঙালিরা প্রশ্ন তুলেছিল—‘সোনার বাংলা শ্মশান কেন’? এর উত্তর নিহিত ছিল- ‘স্বাধীনতায়’। আজ স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর ধনী বুর্জোয়া শ্রেণির শাসন-শোষণ ও লুণ্ঠনে অতিষ্ঠ হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—‘স্বাধীন বাংলায় লুণ্ঠন কেন’? এর উত্তর নিহিত আছে ‘সমাজ বিপ্লবে’। শোষণমূলক পুঁজিবাদী ব্যবস্থা বহাল থাকার কারণেই এই লুণ্ঠন। এই অর্থনৈতিক-সামাজিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রেখে লুণ্ঠন বন্ধ করা সম্ভব নয়। দ্বি-দলীয় বুর্জোয়া ব্যবস্থাই হোক, কিম্বা সামরিক শাসনই হোক—প্রমাণ হয়েছে যে প্রচলিত অর্থনৈতিক-সামাজিক ব্যবস্থা বহাল থাকলে সব শাসনই হয়ে ওঠে লুণ্ঠন সহায়ক।
    অর্থনীতিতে বেশুমার লুটপাটের ফলে রাজনীতিতেও চলছে বাজারতন্ত্র, বাণিজ্যিকীকরণ, দুর্বৃত্তায়ন এবং নীতিহীনতা। এর ফলে বাড়ছে অসুস্থ ও রুগ্ন রাজনীতির ভয়াবহতা ও বিরাজনীতিকীকরণের বিপদ। এসব প্রবণতা ‘গণতন্ত্রের’ সাথে শুধু অসামঞ্জস্যপূর্ণই নয়, তা গণতন্ত্রের পরিপন্থি। লুটপাটই যেহেতু শাসকদের আসল উদ্দেশ্য তাই তার প্রয়োজনে গণতন্ত্রকে বিসর্জন দেওয়া হবে—এটিই স্বাভাবিক। তাই এটি কোনো অবাক হওয়ার বিষয় নয় যে, জনগণকে আজ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায় পুলিশি রাষ্ট্রের চরিত্র ও ফ্যাসিবাদী প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

    Reply
  3. পাশা

    স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরেও দেশের অর্থ পাচার হওয়া বন্ধ হয়নি। বরঞ্চ পাচারের পরিমাণ বেড়েছে। তাহলে একথা কি আজ বলা যায় না যে, বুর্জোয়া শাসকরা স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধের একটি মূল লক্ষ্যকে এভাবে কার্যত ধূলিসাত্ করে ফেলেছে?
    লুটপাটের এই টাকায় গড়ে উঠেছে কানাডায় বেগমপাড়া, মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম, সুইস ব্যাংক, ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন শহরে বিলাসবহুল বাড়ি-এপার্টমেন্ট। নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলে-মেয়ে পড়ানো, নিয়মিত মৌসুমি শপিং করা, ব্যয়বহুল চিকিত্সা ইত্যাদির জন্য দেদারসে খরচ হচ্ছে এ টাকা। ‘মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোম’ প্রকল্পে এক কোটি ১৭ লাখ টাকার সমপরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করলে যে কোনো বাংলাদেশিকে দেওয়া হয়ে থাকে ১০ বছর মেয়াদী মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা। মালয়েশিয়ার পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী ২০০২ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ঐ প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে দুই হাজার ৭৫৫ জন বাংলাদেশি। দেশ থেকে বাইরে পাচার হওয়া টাকার সর্বশেষ প্রামাণ্য তথ্যকে ভিত্তি করে আমি দু’সপ্তাহ আগে এই পত্রিকায়ই লিখেছি। তা থেকে বেশ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে দেশ থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ কি মাত্রায় ক্রমাগত বাড়ছে।
    এখন চলছে সব মেগা প্রকল্পের জয়-জয়কার। চোখ ধাঁধানো সব প্রকল্প। কিন্তু এসব প্রকল্পের পেছনে ব্যয়ের হিসেব নিলে দেখা যাচ্ছে কী ভয়ঙ্কর লুটপাট হচ্ছে এসব ক্ষেত্রে। এর একটি নজির গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার। মুম্বাইয়ে ১৬.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্টার্ন ফ্রি ওয়ে নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে খরচ হয়েছে ৮৮ কোটি টাকা। কলকাতায় পরমা পার্ক সার্কাস ফ্লাইওভারে প্রতি কিলোমিটারে খরচ পড়েছে ৪৮ কোটি টাকা। বাটানগর ফ্লাইওভারের প্রতি কিলোমিটারে খরচ হয়েছে ৪৪ কোটি টাকা। ২৪ এপ্রিল’১৩ মালয়েশিয়ায় ৫টি ১০.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার নির্মাণ করতে প্রতি কিলোমিটারে খরচ পড়েছে ৫৭ কোটি টাকা। চীনে ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড রোড নির্মাণে খরচ পড়েছে প্রতি কিলোমিটারে ৪৮ কোটি টাকা। আর যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার নির্মাণে খরচ পড়েছে প্রতি কিলোমিটারে ২৪১ কোটি টাকা যা কিনা সেসব দেশের খরচের চেয়ে ৪/৫ গুণ বেশি। ফ্লাইওভার নির্মাণের ব্যয়ের ক্ষেত্রে সব দেশের শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। অথচ নির্মাণ শ্রমিকদের মজুরি বাংলাদেশে সবচেয়ে কম। এভাবে ফ্লাইওভারের নামে টাকা ‘ফ্লাই’ করে গিয়ে জমা হচ্ছে মুষ্টিমেয় লুটেরাদের হাতে।

    Reply
  4. আনোয়ার পাশা

    ব্যবসায়ীরা রাজনীতিকে প্রভাবিত করছেন। রাজনীতি চলে গেছে দুর্নীতিপরায়নদের হাতে। লুটেরারা বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রভাবিত করছে। ঋণখেলাপি সংস্কৃতি চালু হয়েছে। সরকারের নৈতিকতা নেই, যা দিয়ে লুটপাটের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। লাভের একটা হিসাব আছে, কিন্তু লোভের কোন হিসাব নেই। লোভের সাথে অর্থনীতির সম্পর্ক আছে। অর্থনীতিকে ঠিক করতে হলে রাজনীতিকে ঠিক করতে হবে।

    Reply
  5. আমজনতা

    ‘রাজনৈতিক উপঢৌকন’ হিসেবে পাইকারিভাবে ব্যাংক খোলার অনুমতি বিতরণ করা হয়েছে এবং হচ্ছে। অনেকে মূলধন ছাড়াই ব্যাংকের মালিক বনে যাচ্ছে। ব্যাংকিং সেবা নয়, তাদের উদ্দেশ্য একটিই—জনগণকে প্রতারিত করে বেশুমার লুটপাট করা। ব্যাক টু ব্যাক ভুয়া এলসি (ঋণপত্র) এবং জাল কাগজপত্র বন্ধক (মর্টগেজ) রেখে ব্যাংক থেকে হাজার কোটি টাকা লুটপাট করছে একটি লুটেরা মহল। ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে এলসির কাগজপত্র তৈরি করে অন্য ব্যাংকে তা বিক্রি করে তুলে নিচ্ছে টাকা। তারা সুকৌশলে ব্যাক টু ব্যাক এলসি খুলে নিজেরাই আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক সেজে ব্যাংকের টাকা লুটে নিচ্ছে। এছাড়া ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে তা ব্যাংকে মর্টগেজ রেখে ঋণের আবেদন করছে।
    একাধিকবার শেয়ার কেলেঙ্কারির ঘটনা সারাদেশে হইচই ফেলে দিয়েছিল। সরকার তার কোনো প্রতিকার করেনি। ফলে লাখ লাখ মানুষ তাদের সর্বস্ব হারিয়েছে। বেশ কয়েকজন আত্মহত্যা করেছে। দেশে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন থাকার পরও ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাচার হচ্ছে। এখন নতুন দাওয়াই হিসেবে সরকার বেছে নিয়েছে ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক-কে জাতীয় সংসদে জবাবদিহিতার আওতায় আনার’ বিধান। মানুষ রসিকতা করে বলে সরকার ভূত তাড়াবে সরিষা দিয়ে, কিন্তু সরিষার ভূত সে তাড়াবে কী দিয়ে? কারণ ভোট ও ভোটারবিহীন এ সংসদে ২২৬ জন সদস্য কোটিপতি। তাদের সম্পদ ও সম্পদের উত্স নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বিস্তর। ২০০৮ ও ২০১৪’র নির্বাচনী হলফনামায় বিভিন্ন সাংসদের প্রদত্ত সম্পদের হিসেব থেকে মাত্র ৬ বছরে তাদের সম্পদ বৃদ্ধির যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে তা আলাদিনের চেরাগকেও হার মানায়।
    কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্কালীন গভর্নর আতিউর রহমান দেশের টাকা পাচারের এক উদ্বেগজনক তথ্য দিয়েছিলেন। তাতে বলা হয়েছিল যে ২০১১ সালে বাংলাদেশ থেকে ১১৭ কোটি ডলার অর্থাত্ ৯ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। যা ঐ অর্থবছরের রাজস্ব আয়ের ১১ শতাংশ এবং বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তার ৭৮.৫ শতাংশ। ২০১২ সালে পাচার হয়েছে ১৮০ কোটি ডলার, অর্থাত্ প্রায় ১৪ হাজার ৪০ কোটি টাকা, যা বৈদেশিক সাহায্যের চেয়েও বেশি। এদিকে সে সময়ের সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় প্রতিবেদনে বলা হয় যে, ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সে দেশের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশের নাগরিকদের ৩৭ কোটি ২০ লাখ ফ্রা আমানত হিসেবে জমা রাখা আছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় তিন হাজার ২৩৬ কোটি টাকা। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে এর পরিমাণ ছিল এক হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। দেখা যাচ্ছে যে, এক বছরের ব্যবধানে আমানতের পরিমাণ বেড়েছিল এক হাজার ২৮৬ কোটি টাকা।

    Reply
  6. আখতার

    বাংলাদেশ এক সময় আন্তর্জাতিক বিশ্বে “তলাবিহিন ঝুড়ি” হিসাবে স্বীকৃত ছিল। এখনো অর্থ-পাচার (লন্ডারিং), অর্থ চুরি (হ্যাকিং) এ সকল ঘটনার মাধ্যমে আমাদের কৃষক , শ্রমিক, জেলে ও বিদেশে কর্মরত জনশক্তির দ্বারা অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকের চোখের সামনে নিয়মিত পাচার বা চুরি হয়ে যাচ্ছে বিধায় অচিরেই বাংলাদেশ রাষ্ট্র তলাবিহিন ঝুড়ি বা অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হতে চলেছে।
    আমাদের রাজনীতি ও সরকার ব্যবস্থা এ অপকর্ম ঠেকাতে পারছে না বরং কোথাও কোথাও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আমলা ও ব্যবসায়ীরা এ কাজে জড়িত। জনগণ সংগঠিত ও সক্রিয় নয় বিধায় নীরবে কাজগুলো ঘটে যাচ্ছে। দেশের বাইরে দূরে থাক খোদ দেশের অভ্যন্তরে যে টাকা লুট হয় তারও কোন প্রতিকার নাই।

    Reply
  7. M. Zohurul Alam

    Obviously, there are no alternative for honesty. This moral is power for development in respect of personal life, social life, couple life, professional life, etc. So……..

    Reply
  8. rasel ahmed

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানে দেয়া রাষ্ট্রের সংজ্ঞা অনেক আগেই পদদলিত হয়েছে। রাষ্ট্র এখন আর নাগরিকদের প্রতিপালনের প্রতিষ্ঠান নয়। এটি এখন কিছু মুনাফাখোর আর লোভী নিষ্ঠুর মানুষের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটি এখন এমনভাবে আওয়ামী করুন করা হয়েছে যার চেতনার ভিত্তি দেয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধকে। এমনভাবে মুক্তিযুদ্ধের চিত্রায়ন করা হচ্ছে যার ফলাফল হচ্ছে ঘৃণা, বিদ্বেষ আর হত্যা। আর চেতনাকে ধারাবাহিক করতে জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে নাগরিকদের অধিকার। বিচার ব্যবস্থাকেও নাগরিক স্বার্থের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়েছে। এতো মিথ্যাচার, ভণ্ডামি আর জোচ্চুরির নিষ্ঠুর রাষ্ট্র ব্যবস্থায় লাখ লাখ বদরুল পয়দা হবে এটাই স্বাভাবিক। লাখ লাখ বললাম এটা যে ভুল নয় সেটা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিপক্ষের প্রতি এই চেতনাবাজদের অশ্লীল বাকি বর্ষণ দেখলেই বোঝা যায়।শিক্ষাব্যবস্থাকে অখাদ্যে পরিণত করে অমানুষ তৈরির পথকে প্রশস্ত করে দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্র দখলের মতো কুব্যবস্থাকে পাকা পোক্ত করতে আওয়ামীদের দ্বারা পুরো জাতিকে দূষিত করতে ভারতীয় প্রেসক্রিপশনে এগুলো হয়েছে। জাতি এটা বুঝলেও অন্য রাজনৈতিক নেতারা তা বোঝে কিনা আমার যথেষ্ট সন্দেহ; যদি বোঝে আর বুঝেও চুপ থাকে তবে বুঝতে হবে এদের কারুর দ্বারাই জাতির উদ্ধার পাওয়ার আশা দুরাশা।

    Reply
  9. পৃথিবীময় শুধু চেতনা আর চেতনা

    ইসলামী ব্যাংক অধিগ্রহণ উপলক্ষে অপরাবাস্তবে জাফর ইকবালের স্বাক্ষাতকারের চুম্বকাংশঃ
    প্রশ্ন- কেমন আছেন?
    উত্তর- ভালো আছি, আবার খারাপও আছি। ইসলামী ব্যাংক নিয়ে ভালো আছি। হেফাজতের দখলে পাঠ্যপুস্তক নিয়ে খারাপ আছি।
    প্র- আচ্ছা, এবার ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কিছু বলুন ।
    উ- দেখো ইসলামী ব্যাংক আসলে আমাদের নিজেদেরই ব্যাংক। এটা আমি সবসময় জানতাম তাই আগে থেকেই ইসলামী ব্যাংকের অনুষ্ঠানে যেতাম। এখন ইসলামী ব্যাংকের দখল নেয়ার পর আজ আমি অনেক আশাবাদী হয়েছি। আমার মনে হচ্ছে উপর থেকে বুঙ্গাবুঙ্গা সব দেখে অনেক খুশি। তার আশীর্বাদে হয়তো আমরা বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিভিন্ন দেশে দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নয়নের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবো। একবার ভেবে দেখো আমেরিকায় যদি চেতনার সরকার হয়, এবং আমরা গুগল ফেইসবুক এসব বড় বড় কোম্পানীতেও এরকম ইসলামী ব্যাংকের মতো মুক্তিযুদ্ধ করে ফেলতে পারি, আমেরিকান ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকেও সবাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকজন হবে, অনেক উন্নয়ন হবে, পুরো পৃথিবীময় শুধু চেতনা আর চেতনা। আমাদেরকে সে লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। আমাদেরকে স্বপ্ন দেখতে হবে।

    Reply
    • বাঙাল

      আহা কি সুখেই না ছিল একাত্তরের ঘাতকরা এই ইসলামি ব্যাংক নিয়ে। দেশে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটাতে হবে? সন্ত্রাস করতে হবে? আন্দোলনের নামে পেট্রোল বোমা দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করতে হবে? অসুবিধা নাই টাকা দিবে ইসলামি ব্যাংক। মাদ্রাসা বা কলেজের অপদার্থ ছাত্র? ইন্টারভিউ দিয়ে চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা নাই? চিন্তা কি, শিবির কর – ইসলামি ব্যাংকে চাকরি নিশ্চত। বিনিময় স্বাধিনতা পক্ষের লোকদের হত্যা কর না হয় রগ কাট। যাদের সেই যোগ্যতাই নাই – তবে জামাত কর। বিনিময় জামানত ছাড়াই তোমাকে ব্যাবসার টাকা দেবে ইসলামি ব্যাংক। এবার সত্যিাকরে অর্থেই সরকার জামাতের ক্ষমতা কমিয়ে দিল এই ব্যাংকটিকে জামাত মুক্ত করে।

      Reply
  10. Ahmed Hasan

    দেশ চলছে উন্নয়নের মহাসোপানে!চলছে উন্নয়নের নামে মহা বানিজ্য!
    পদ্মা সেতু, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, উড়াল সেতু, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রো রেল, মেগা সুপার শপ, কর্ণফুলী নদীর নিচে টানেল- মেগা সব প্রজেক্টের নেশা ধরানো বর্ণনা শুনতে শুনতে মানুষকে মোহগ্রস্ত করে রাখার চেষ্টা চলছে। এর ফাঁকে লুট হয়ে যাচ্ছে হাজার-লক্ষ-কোটি টাকার জনগণের সঞ্চয়, ব্যাংকের আমানত। রাজনৈতিক ক্ষমতা, রাষ্ট্র ক্ষমতা হলো এই লুটপাটের প্রধান হাতিয়ার। নির্বাচনে মনোনয়ন, কমিটিতে পদপ্রাপ্তি, চাকরিতে নিয়োগ-বদলি, টেন্ডার, স্কুল-কলেজে ভর্তি সবকিছুর সাথে অবধারিতভাবে একটি শব্দ যুক্ত হচ্ছে তা হচ্ছে বাণিজ্য। এদিকে, রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে লুটপাট এখন লুটপাটের-রাজনীতিতে পরিণত।
    দেশের অর্থভান্ডার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চলছে সীমাহীন লুটপাট। একের পর এক প্রকাশ হয়ে পড়ছে বিপুল পরিমাণের আর্থিক কেলেঙ্কারীর সব কাহিনী। সরকারি বেসরকারি, বাণিজ্যিক কোনো ব্যাংক-ই এসব লুটপাটের ঘটনার বাইরে নয়। সবকয়টি কেলেঙ্কারীতে যুক্ত রয়েছে সরকারি কিছু আমলা, ব্যাংকের পরিচালকমন্ডলীর কতিপয় সদস্য, ব্যাংকের এক শ্রেণির কর্মকর্তা এবং ক্ষমতাসীন সরকার ও শাসক দলের ক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষ কিছু ব্যক্তিবর্গ।
    ঋণখেলাপির বিষয়টি ব্যাংকের সাথে যুক্ত বিষয় হলেও বাংলাদেশে এর রাজনৈতিক সম্পৃক্তি ব্যাপকমাত্রায় লক্ষ্য করা যায়। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত বছরের জুন মাস পর্যন্ত সিআইবি ডাটাবেজে সংরক্ষিত ঋণ তথ্য অনুসারে সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপির সংখ্যা ১ লাখ ৪৫ হাজার ১৬২ জন।
    খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮২ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাইট-অফ বা অবলোপন (ব্যাংকের মূল হিসাব থেকে আলাদা করে রাখা) বাদ দিয়ে খেলাপি ঋণ হলো ৫১ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা। অনেক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের ঋণও অবলোপন করা হয়েছে। খেলাপিঋণ থাকলে পরিচালক হওয়ার কথা নয়। কিন্তু তারা কাজটা করছে বেনামে।
    সরকারি ব্যাংকগুলোতে অনিয়ম-দুর্নীতি বেড়ে যাওয়ার জন্য দলীয়করণ প্রধানত দায়ী। আওয়ামী লীগ বা বিএনপি প্রতিটি সরকারের আমলেই যারা ব্যাংকের পরিচালক হন তাদের যোগ্যতা হলো, তারা ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক। সরকারি ব্যাংক বাঁচানোর দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল যাদের হাতে, সেই পরিচালকরাই এখন লুটে খাচ্ছেন ব্যাংকের হাড়-অস্থিমজ্জাটুকুও।
    অর্থমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন, ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদে দলীয় বিবেচনায় লোক নিয়োগ করা ঠিক হয়নি। তিনিই আবার একইসাথে বলছেন, সরকারি যে ব্যাংক লোকসান দিবে সেটা ব্যক্তিখাতে ছেড়ে দেয়া হবে। বাহ! কি চমৎকার! (সময় মত মাথায় চুল না কেটে শেষে কিনা মাথাই কেটে ফেলার পরামর্শ!)

    Reply
  11. গণতন্ত্রের মুখামুখি উন্নয়ন

    বর্তমান সরকার গণতন্ত্রের মুখামুখি দাঁড় করিয়েছেন উন্নয়নকে। এই উন্নয়ন আইয়ুব, মোনায়েম আর এরশাদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন। এই উন্নয়নে প্রতিটি প্রকল্পে দফায় দফায় সময় আর খরচ বাড়ে। ৮ হাজার কোটি টাকার পদ্মাসেতু পিলার ওঠার আগেই গিয়ে ঠেকে ২৮ হাজার কোটি টাকায়, সাড়ে ৩শ কোটি টাকার ফ্লাইওভার হয় ১২০০ কোটি টাকায়, ৬০০ কোটি টাকার হাতিরঝিল ২৫০০ কোটি টাকায়। অনিয়ম, লুটপাট আর দুর্নীতিতে গত ৪ বছরে ১৩শ কোটি টাকা লোকসান গুনেছে বিমান। এক কিলোমিটার রাস্তা তৈরিতে ইউরোপে ব্যয় হয় ২৮ কোটি টাকা, চীনে ১৩ কোটি টাকা, ভারতে ১০ কোটি টাকা সেখানে বাংলাদেশে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হয় ১০০ কোটি টাকার ওপর। তাইতো আওয়ামী লীগের অত্যন্ত প্রভাবশালী অর্থমন্ত্রী বিভিন্ন সময় বলেছেন, ‘দুর্নীতি এমন একটি বিষয় যা আমরা টাচই করতে পারিনি’। সংসদে দাঁড়িয়ে আরও বলেছেন, ‘পুকুর চুরি নয় সাগর চুরি হয়েছে’। তথ্যমন্ত্রী কিছুদিন আগে ক্ষমতাসীন দলের কাছে ভীষণ ভাবে সমালোচিত হন এই বলে যে বেশিরভাগ এমপি টিআর, কাবিখার টাকা মেরে দেন। এমনকি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত বলতে চেয়েছেন যে আওয়ামী লীগে তাকে ছাড়া আর সবাইকে কেনা যায়।

    Reply
  12. ইয়াবা চোরাচালানের ‘অঘোষিত গডফাদার’

    ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা, চোরাচালান, জমি দখলসহ নানা অপকর্মের অভিযোগের শেষ নেই। খুনের অভিযোগতো সঙ্গে আছেই। টিআর-কাবিখা প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে লুটপাট, অনিয়ম, দুর্নীতিসহ দলের ভিতর কোন্দল জিইয়ে রাখছেন এমপিরা। এসব ঘটনায় কখনো কখনো এমপিরা সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছেন, আবার কখনো ছেলেমেয়ে, নিকটাত্বীয় ও দলের নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী দিয়ে ঘটাচ্ছেন তারা।
    আসামি গ্রেফতার কিংবা ছাড়িয়ে নেওয়া নয়, পুলিশ বাহিনীতে বিভিন্ন নিয়োগের জন্য আওয়ামী লীগের এমপিদের পাঠানো তালিকা অনুযায়ী কাজ না হলেই সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে দ্ব›েদ্ধ জড়িয়ে পড়ছেন তারা। নানা ধরনের অভিযোগ আনছেন পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। ২০১৫ সালে কনস্টেবল নিয়োগ নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পুলিশ এবং স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের এমসপিদের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এর মধ্যে রাজবাড়ী, ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা, কক্সবাজার ও মৌলভীবাজার জেলায়ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও অর্থ লেনদেন নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার এমপি এবং আওয়ামী লীগের নেতারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। অনেক এমপি সংবাদ সম্মেলন করে গণমাধ্যমকে তাদের প্রতিক্রিয়াও জানান। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের চাঁদাবাজি, লুটপাট, অন্যায় প্রভাব খাটানোর জোয়ার যেন রেকর্ড গড়তে চাইছে। তাদের লাগামহীন অপকর্ম কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। তৃণমূল পর্যায়ের এমন কোনো আর্থিক খাত নেই, যেখান থেকে জনপ্রতিনিধিদের নামে টাকার ভাগ যাচ্ছে না। হাটবাজার ইজারা, জলমহাল, বালুমহাল বরাদ্দের খাত থেকে শুরু করে বাস-ট্রাক টার্মিনাল, এমনকি টেম্পোস্ট্যান্ডের চাঁদাবাজির টাকাও পাঠানো হচ্ছে এমপিদের নামে। এসবের সঙ্গে যোগ হয়েছে নানা কর্মকাণ্ডে তদবিরবাজির মোটা টাকা। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থায় চাকরি দেওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারিকরণ, শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি, এমনকি বেসরকারি স্কুলে নৈশপ্রহরী নিয়োগের ক্ষেত্রেও এমপি সরাসরি হস্তক্ষেপ করছেন। ‘যা পারো কামাই করো’-এমন নীতি-আদর্শ নিয়েই ছুটে চলেছেন জনপ্রতিনিধিরা।
    নেতারা এখন টাকা চিনেছেন, তাই জনস্বার্থ ভূলুণ্ঠিত হয়ে পড়েছে। পদে পদে বেড়েছে টাকার খেলা। হাসপাতাল থেকে আহত ব্যক্তির ডাক্তারি সার্টিফিকেট নিতে, এমনকি নিছক জন্ম নিবন্ধন করাতেও এখন টাকা লাগছে। সে টাকা এমপির নিযুক্ত লোকের হাত ঘুরে পৌঁছে যাচ্ছে নির্দিষ্ট স্থানে। এসব ক্ষেত্রে রাখঢাকেরও কোনো বালাই নেই। সব কিছুই চলছে খোলামেলাভাবে। দমন-পীড়ন, কমিশন-বাণিজ্য, জমি দখলসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে বারবার বিতর্কিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক এমপি। এ ছাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মেয়রসহ আরও শতাধিক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধেও রয়েছে অন্তহীন অভিযোগ।

    Reply
  13. বেসিক ব্যাংক জালিয়াতি

    গত বছরের ৩০ জুন সংসদে দাঁড়িয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছিলেন, “জালিয়াতদের ধরতে বাধা নিজ দলের লোকের”। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এই জালিয়াতদের সঙ্গে আব্দুল হাই বাচ্চু জড়িত বলে একাধিক বার উল্লেখ করেন। আবার অর্থমন্ত্রলায় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির একাধিক সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দুদকের কমিটিকে তলব করলেও দুদকের কর্মকর্তা ঐ সভায় হাজির হয়নি। এ সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও কৃষি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, বেসিক ব্যাংকের জালিয়াতির ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে নথিগত প্রমাণ না পেলে বুঝতে হবে দুদক কর্মকর্তাদের নথি বোঝার ক্ষমতা নেই। বেসিক ব্যাংকের একাধিক সূত্রে বলা হয়েছে, সাবেক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জনের একটি চক্র ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে। জালিয়াতির ক্ষেত্র তৈরি করতে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্য ব্যাংক থেকে নিজের পছন্দের কয়েকজনকে গুলশান, শান্তিনগর ও প্রধান শাখায় নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের মাধ্যমে বড় বড় ঋণ প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। সূত্রটি আরও জানান অন্তত ৩২টি বড় ঋণ দেওয়ার ঘটনায় ব্যাংকের কোন শাখা বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক পক্ষ থেকে কোন প্রস্তাব বোর্ডের কাছে উত্থাপন করা না হলেও শুধু বোর্ড সভার কার্যবিবরণী দিয়েই ঋণ অনুমোদন করা হয়। এই ক্ষেত্রে আব্দুল হাই বাচ্চু একার সিদ্ধান্তেই ৬০০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করেছেন।
    বেসিক ব্যাংক জালিয়াতির মূল হোতা শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু শুধুমাত্র দলীয় পরিচয় দিয়ে পার পেয়ে গিয়েছেন। এই ক্ষেত্রে তার দলীয় পরিচয় কি? দলীয় পরিচয় হচ্ছে তিনি সরকারি দলের লোক। তার কথা মতো সরকারি দলের অনেক বড় নেতা কর্মীরাও নড়াচড়া করে থাকে। তার কথার অবাধ্য হলে সরকারি দলের অনেক বড় নেতা কর্মীদের প্রায় প্রাণ যায় যায় অবস্থা হয়। বাংলাদেশে এই হচ্ছে সরকারি দলের অবস্থা। সরকারি দল ক্ষমতায় থেকে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে অর্থের পাহাড় বানায়। আর তার প্রধান ভুক্তভোগী হয় জনগণ। জনগণের সম্পদ আত্মসাত করেই ক্ষমতাসীন দলের চ্যালা চ্যামু-ারা অর্থ বিত্তের মালিক হয়ে যায়। পরে সরকার পদত্যাগ করলে আবার জনগণের খাতায় নাম লেখায়। বাংলাদেশে এই এক খেলা চলছে। যারাই ক্ষমতায় আসে দুর্নীতি লুটপাট চালিয়ে অর্থবিত্তের মালিক হয়, সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে। আর ক্ষমতাসীন সরকারি দল ক্ষমতায় থেকে দুর্নীতি ও জালজালিয়াতি প্রত্যক্ষ করে মাত্র।

    Reply
  14. শাসন স্তম্ভে পচন

    প্রধানমন্ত্রী এই সত্যটি নিশ্চয়ই জানেন, আইনী পোষাক পরে বা আইনসভার পদ নিয়ে গুম-খুন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুন্ঠনে লিপ্ত হলে এবং তাদের পক্ষে কোনরকম সাফাই গাইলে, আশ্রয়-প্রশ্রয় দিলে গনতন্ত্র-সুশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়। শাসনব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। মহামারির মত কুশাসন ছড়িয়ে পড়ে। আর সেই মহামারিই রাষ্ট্রের শাসন স্তম্ভে পচন ধরায়। এই পচন ছড়িয়ে পড়ে সব জায়গায়। দেবালয়ও রক্ষা পায় না। দায়িত্বহীন ক্ষমতা হয়ে দাঁড়ায় নিজেদের বিলোপের কারণ।

    Reply
  15. আব্দুল

    ২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট তিন-চতুর্থাংশ আসনে জয়লাভ করার পরে ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দেয়া শেখ হাসিনার ভাষণটি আমরা মনে করতে পারি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, “আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না,….. দেশে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি উপহার দিতে চাই। আমাদের অনেকেই বিএনপি- জামায়াতের প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার হয়েছি, সর্বস্ব হারিয়েছি, কিন্তু যেহেতু আমরা জয়লাভ করেছি, আমাদের ক্ষমা করে দিতে হবে,…. এই বিশাল জয় তখনই সার্থক হবে যখন আইনের শাসন, মানবাধিকার ও সুশাসন নিশ্চিত করা যাবে এবং কষ্টার্জিত স্বাধীনতার চেতনা বাস্তবায়িত করা যাবে”। এক বিদেশী সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, “আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব, কারন এটা আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। আমি জনগনের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারাবদ্ধ”।২০১৪ সালের মধ্যভাগে এসে ছয় বছর আগে দেয়া এরকম ভাষণ এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির এত সুবচন কতোটা বাস্তবায়িত হয়েছে সেটি এখন আর আলোচনার অপেক্ষা করছে না।

    Reply
  16. আনোয়ার হোসেন

    মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন দলের দুর্নীতি, লুটপাট আর অনিয়ম মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীকে এতটাই ক্ষুব্দ করে তুলেছিল যে, তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগের নামকরন করেছিলেন “নিখিল বাংলা লুটপাট সমিতি”। স্বাধীনতাত্তোর কালে ক্ষমতাসীন দলের একশ্রেনীর নেতা-কর্মী মেতে উঠেছিল বেপরোয়া লুন্ঠন ও দুর্নীতিতে। পরিনামে দলীয় প্রধান ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবর রহমান আক্ষেপ করে বলেছিলেন, আমার চারপাশে চোরের দল, চাটার দল। রিলিফ চুরির ঘটনায় ক্ষুব্ধ শেখ মুজিব বলেছিলেন, আমার কম্বলটি কোথায়? এসবই ইতিহাস হয়ে থাকতে পারতো যদি না রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুন্ঠনের ক্ষেত্রে গত প্রায় চল্লিশ বছর সামরিক বেসামরিক অথবা গনতান্ত্রিক লেবাসে দলগুলি একের সাথে অপরে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে সমস্ত সীমা অতিক্রম না করতো।

    Reply
  17. ahad

    সাধারণ মানুষ দুই নম্বরী করলে অভিযান চলে, ব্যবসায়ীরা পণ্যে ভেজালি মিশালে অভিযান চলে, গুম হত্যায় অভিযান চলে, ডাকাতমুক্ত করতে চিরুনী অভিযান চলে, কাগজবিহীন মোটর সাইকেল ধরতে অভিযান চলে কিন্ত‍ু ভূয়া ও দুই নম্বর মানে নামধারী সাংবাদিক ধরতে কেনো অভিযান চলে না-সেটাই আমার বুঝে আসে না। এই নামধারী সাংবাদিকরা সুযোগ বুঝেই মানুষের গলাকাটা শুরু করে। পত্রিকা পড়তেও জানেনা, লিখতেও জানে না কিন্তু পত্রিকা পকেটে নিয়ে দিব্বি ঘুরে। অধিকাংশ নামধারী সাংবাদিকেরই না আছে কোনো পেশাগত অবস্থান, না আছে কোনো চাকরি বা ব্যবসা। কিন্তু দিনের আলোতে তাদের দেখলে মনে হবে প্রতিদিন বোধহয় জাপান আমেরিকা থেকে মাত্র বাংলাদেশে পা দিয়েছে। দামী দামী সব জামা কাপড়, দামী দামী জুতো, শার্ট, প্যান্ট, হাতে দামী ঘড়ি, দামী মোবাইল সেট এসব দেখে মনে হয় তাদের বোধ হয় পত্রিকা অফিস থেকে অনেক টাকা বেতন দেয় তাই না বন্ধুগণ? মোটেই না। তাহলে এসব যারা করে এবং সর্বত্র সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ধান্ধ্যাবাজিতে লিপ্ত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা সময়ের দাবী বহন করে। তাহেল হয়তো সমাজে কিছুটা হলেও সাধারণ মানুষ প্রশান্তির ঘুম ঘুমাতে পারবে।

    Reply
  18. হাছান আলী সিকদার

    সম্প্র‌তি একটি খবর প্রকা‌শিত হ‌য়ে‌ছে, বিচারপ‌তির স্ত্রীর কা‌ছে ঘুষ দাবী করায় দুই পু‌ুলিশ গ্রেপ্তার। ইশ্ য‌দি এমন হ‌তো, যে কেউ, যে কা‌রো কা‌ছে ঘুষ চাই‌লেই গ্রেপ্তার। হয়‌তো এক‌দিন ঝড় থাম‌বে, সব শান্ত হ‌বে।

    Reply
  19. রিয়াদুল হাসান

    আমাদের মুখে, গল্পে, কবিতা আর গানে যত দেশপ্রেম আছে তার ১০০ ভাগের ১ ভাগ ও যদি অন্তরে সত্যিকারে থাকত তাহলে আজ দেশটা পাল্টে যেত।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—