Khaleda+Zia

আসিফ নজরুল ফতোয়া দিয়েছেন, গেল বছরের ব্যর্থতম দল নাকি বিএনপি। ভাবছেন সমালোচনা বা বিরোধিতা করা হয়েছে? মোটেও না। এটা ‘নেগেটিভ পপুলারটি’ এনে দেওয়ার বহু পুরনো তরিকা। গেল বছর কেন, বলতে গেলে বিগত দশ বছর ধরে বিএনপি আসলে ব্যর্থতার বোঝা মাথায় নেওয়া একটা দল। মাঝেমধ্যে গা ঝারা দেওয়ার নামে দেশকে অশান্ত করে তোলার ব্যর্থ প্রয়াস ছাড়া আর কী করতে পেরেছে তারা?

আগুন, জ্বালাও-পোড়াও আর টিভি বা মিডিয়ার সামনে মাইক্রোফোন হাতে কিছু নেতার বক্তৃতার বাইরে গঠনমূলক কী কাজ করেছে দলটি? অথচ আসিফ নজরুলদের মতো সুবিধাবাদীরা এখনও মনে করেন, বিএনপি-ই হচ্ছে দেশের ‘সাইলেন্ট মেজরিটি’-এর প্রধান দল। সাইলেন্ট মেজরিটি নামের বোকা ও নিরীহ মানুষগুলোকে কোনোভাবে রাগিয়ে বা মাঠে নামিয়ে ফায়দা লুটতে না পারায় আজ তারা এই জাতীয় নেগেটিভ কথা বলছেন।

যেটুকু জনপ্রিয়তা বা মানুষের সমর্থন ছিল তা কাজে লাগাতে চাইলে বিএনপি সংসদে আসত। রাজনীতিতে নিয়মতান্ত্রিকতার ধারা মানত। সেটা না করার পেছনে এমাজ উদ্দিন, জাফরুল্লাহ আর আসিফ নজরুলরাই এখন খালেদা জিয়াকে চাঙ্গা করার জন্য এভাবে নেগেটিভ ছুরি শান দিতে চাইছেন!

আমরা বলি না যে, বিএনপির রাজনীতি করার দরকার নেই। দরকার অবশ্যই আছে। কিন্তু তাদের একটা সঠিক চেহারায় আসতে হবে। তারা ইচ্ছেমতো জামায়াতের সঙ্গে আবার সুযোগ বুঝে ‘মুক্তিযুদ্ধের ঘোষকের দল’-এ পরিণত হতে চাইলে তা হবে না। এবং এটাই এখন তাদের জন্য ‘ক্লিয়ার ম্যাসেজ’।

বিএনপির বুদ্ধিজীবীরা যে কথাটা বুঝতে পারছেন না, সেটা হল খালেদা জিয়ার দিন প্রায় শেষ। তাঁর আগের জনপ্রিয়তা বা ইমেজের ছিটেফোটাও অবশিষ্ট নেই। তা ছাড়া আওয়ামী লীগের মতো সারি সারি নেতা আর কর্মীর দলও না বিএনপি; এর জন্ম সরকারের গর্ভে। গদিতে থেকে দল করার নেতারা মারা গেলে বা গদি হারালে দল টেকে না। এটাই ইতিহাস। বরং বিএনপির ভাগ্য ভারতবিরোধিতা, পাকিস্তানপ্রীতি আর আওয়ামী লীগের দুর্বলতার কারণে এখনও তারা মিডিয়া ও একশ্রেণির মানুষের কল্যাণে বহাল তবিয়তে টিকে আছে। বিএনপি নেত্রী কম কথা বলেন এমন ধারণা আমরা মানি বটে, বুঝতে পারি না কেন? বললে আসলে তিনি কী বলেন?

বেগম জিয়া প্রায়ই নীরব থাকেন। একসময় তাঁর এই নীরবতা বা চুপ থাকা তাঁর ইমেজ তৈরিতে যথেষ্ট সাহায্য করেছিল। বিপরীত প্রান্তে থাকা আওয়ামী লীগ নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় সরব। যাঁরা সরব বা মুখ খোলা রাখেন তাঁদের অন্তর সরল হলেও মুখের কথা মাঝেমধ্যে বিপদে ফেলে বইকি। শেখ হাসিনা সোজাসাপ্টা, সরাসরি কথা বলেন বলে প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়েন। তাঁকে পছন্দ করতে না পারা মুক্তিযুদ্ধ ও প্রগতিবিরোধীরা এর সুযোগ নিয়েছে বহুবার। অন্যদিকে তাদের মুখে বলতে না পারলেও মনের ভেতরে থাকা খালেদা জিয়াকে তারা চুপ থাকতে বলে। কারণ, মুখ না খুললে অনেক কথা বের হয় না আর বের না হলে বোঝা যায় না কী বলছেন, কেন বলছেন, কাকে বলছেন?

সেদিন এখন বিগত। শেখ হাসিনা এখন অনেক পরিণত। তাঁর সঙ্গে পাল্লা দিতে হলে খালেদা জিয়াকেও কিছু বলতে হবে। আমি বলি না যে, তিনি বলেন না। মাঝেমধ্যে লাগসই কথা বলে খালেদা জিয়া বেশ চমক তৈরি করেন। তবে তিনি যে মুখ খোলেন না সেটা আসলে তাঁর দল ও নিজের জন্যই মঙ্গলের। অনেকদিন পর যাও মুখ খুললেন তাও কিন্তু স্রেফ উসকানি।

বিএনপির নেতৃত্ব কতটা দিশেহারা সেটা মীর্জা ফখরুলের কথা শুনলে আর মওদুদদের চেহারা দেখলেই বোঝা যায়। তাঁরা না পার‍ছেন কোনো উত্তেজনা তৈরি করতে, না মানুষকে মাঠে নামাতে। বদলে যাওয়া বাস্তবতায় মানুষ আর আগের মতো মাঠে নেমে রাজপথে রাজনীতির জন্য জান দেবে না। সেটা বিএনপি টের পেলেও মানতে পারছে না। তাদের জ্বালাও-পোড়াও মানুষের জান নিয়ে খেলার জবাব দিয়েছে এ দেশের নিরাপত্তা বাহিনী। অন্যদিকে জনগণের মনেও তৈরি হয়েছে বিরূপ ধারণা। তারপরও গদির লোভ বলে কথা! বিএনপি নেত্রী সম্প্রতি ছাত্রদলের সভায় তাঁর মুখ খুলে আবারও প্রকাশ্যে উসকানি দিতে ভুল করেননি।

ছাত্রদলের এখন সময় খারাপ। ‘যুবরাজ’ লন্ডনে যাওয়ার পর থেকে ছাত্রদলের তেমন কোনো কার্যক্রম নেই। শিবিরের ছেলেরা মাঠে-ময়দানে ঝামেলা পাঁকালেও ছাত্রদল নেই। তারা গৃহবন্দি অথবা আত্মগোপনে। অনেকদিন পর যাও নেত্রীর সামনে স্লোগান দিল খালেদা জিয়ার তা ভালো লাগেনি। খবরে দেখলাম, তিনি তাদের ভালোই শাসিয়ে দিয়েছেন। জানিয়ে দিয়েছেন, রাজপথে থাকার স্লোগান দিলেও ঠিক সময়ে তাদের নাকি দেখা মেলে না। তবে উসকানিটা এসেছে অন্য ভাষায়। তিনি তাদের বলেছেন:

“জনপ্রিয়তা থাকলে হবে না। গদিতে যাওয়ার রাস্তা ক্লিয়ার করার জন্য যা যা করার সব করতে হবে।”

কথাটা ভেবে দেখার মতো। এই যে যুবসমাজ বা ছাত্ররা– তারা কোনো দল বা কাউকে গদিতে যাওয়ার জন্য আসলে কী করতে পারে? তারা নিশ্চয় অন্যের ভোট নিজেরা দিতে পারবে না। পারবে না আওয়ামী লীগকে টেনেহিঁচড়ে গদি থেকে নামাতে। তাহলে কী করতে বলছেন খালেদা জিয়া? এর মানে তিনি চাইছেন তারা এমন সব কাজ করুক বা নৈরাজ্য তৈরি করুক যাতে সরকার টিকতে না পারে!

এই জাতীয় কথা আসলেই রাজনীতির জন্য অপমানজনক। এবং এ কারণেই মানুষ রাজনীতির ওপর বিরক্ত। খালেদা জিয়া একটু ভেবে দেখলেই বুঝতেন, তাঁর দল বা বিএনপির আক্রমণাত্মক নীতি ও রাজপথে সন্ত্রাস মানুষ নেয়নি, বরং সে কারণে সরকারের নানা নেগেটিভ কাজের পরও জনগণের মনোভাবে চিড় ধরেনি। অথচ এসব বিবেচনা ব্যতিরেকে খালেদা জিয়া ছাত্রদলকে খামোখা উসকে দিলেন।

জানি, এতে কারো কোনো লাভ নেই, লোকসানও নেই; সরকারেরও না। তারপরও আমরা জাতির স্বার্থে মানুষের স্বার্থে আর দেশের কল্যাণে এমন রাজনীতি চাই যা দেশ ও জনগণকে নিরাপদে রাখবে। সরকার আসবে, সরকার যাবে। গদি কারো নিজস্ব সম্পত্তি না। দেশ শাসনের অধিকারও কোনো দলের নিজস্ব বিষয় হতে পারে না। কিন্তু বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সুযোগ মিললেই উসকানির কাজটি করতে কসুর করে না।

এতদিন পর বিএনপি যখন আসলেই কোণঠাসা আর দল যখন মরিয়া তখন সঠিক দিকনির্দেশনার পরিবর্তে এমন বক্তব্য মূলত রাজনীতির দীনতা আর কুরুচির পরিচায়ক। আমরা কি এর কবল থেকে কখনও মুক্ত হতে পারব না? এখন তো দেখছি এরা যত নীরব থাকেন ততই মঙ্গল! রাজনীতিতে মুখ খোলা মানে কি কেবলই বিপদ টেনে আনা, না গৃহযুদ্ধ লাগিয়ে দেওয়া?

উন্নয়নের যে পথ দেশ খুঁজে পেয়েছে তার সঙ্গে দেশের রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই, বরং খালেদা জিয়ার এবারের বক্তব্য আর আসিফ নজরুলদের উসকানি মিলে নতুন দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের ভয় দেখাচ্ছে! সঙ্গে আছে আওয়ামী লীগের নেতাদের ‘বাজে’ ভূমিকা।

সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এখন তাঁর পদের আনন্দে বিভোর! হঠাৎ হঠাৎ এমন সব কাণ্ড করেন আর কথা বলেন যাতে আমরা চমকে উঠি। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনার কিছু হলে সারা দেশে নাকি আগুন জ্বলে উঠবে। সরকার প্রধানের কোনো জাতীয় কিছু হলে দেশে তার দল আগুন জ্বালাতে চাইবে– এটা একটি শিশুও বলতে পারে। প্রশ্ন হচ্ছে, এমন আতংক সরকারি দলের সম্পাদকের মনে বাসা বাঁধল কী কারণে? আর ইতিহাস থেকে আমরা কী পাঠ নিয়েছি? অঘটন ঠেকানো, না অঘটন ঘটে গেলে মাতম করা? বঙ্গবন্ধুর আমলে দেয়াল লিখন ছিল:

“দরকার হলে আলেন্দের মতো রক্ত দেব তবু মাথা নিচু করব না।”

অথচ রক্তপাত ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়নি সেসময়। বলা উচিত ছিল, “আলেন্দের কাছ থেকে শিখেছি, রক্তপাত হতে দেব না আমরা।”

ঠিক একইভাবে আজ আবার কিছু হলে আগুন জ্বলবে শুনে ভয় জাগে আমাদের মনে! সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক মানুষকে আশা ও ভরসা দেওয়ার পরিবর্তে ভয়ের কথা জানিয়ে বিএনপির ব্যর্থতার রাজনীতিকেই কি সার্থকতার মুখ দেখাচ্ছেন না?

আমরা এ দেশে শান্তি ও সহমর্মিতার রাজনীতি চাই। আমরা খালেদা জিয়ার কাছ থেকে তাঁর বুদ্ধিজীবীদের কাছে হিংসা ও ঘৃণার বিপরীতে জনকল্যাণের কথা আশা করি। আর সরকারি দলের কাছে চাই আশা ও শান্তির নিরাপত্তা। রাজনীতিই আর কত পচলে তারপর ঘুরে দাঁড়াতে শিখবে?

নতুন বছরে কি এতটুকুও আশা করতে পারব না আমরা?

অজয় দাশগুপ্তকলামিস্ট।

৪৩ Responses -- “খালেদা জিয়ার উসকানির রাজনীতি”

  1. Anwar

    সাব্বির হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে তারেক রহমান ও লুৎফুজ্জামান বাবরের সঙ্গে বাবরের বেইলি রোডের বাড়িতে শাহ আলমের বৈঠক হয়েছিল। এই হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তারেক ও বাবরের সঙ্গে শাহ আলমের ‘৫০ কোটি টাকার চুক্তি হয়’।

    “চুক্তি অনুসারে শাহ আলমের কাছ থেকে বাবর ২১ কোটি টাকা নেন। এ টাকার মধ্যে বাবরের নির্দেশে বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক আবু সুফিয়ান ২০০৬ সালের ২০ অগাস্ট হাওয়া ভবনে ১ কোটি টাকা তারেকের ব্যক্তিগত সহকারী অপুকে বুঝিয়ে দেন। বাবর ৫ কোটি টাকা আবু সুফিয়ানের মাধ্যমে নগদ গ্রহণ করে কাজী সালিমুল হক কামালের কাছে জমা রাখেন। বাকি ১৫ কোটি টাকা বাবরের নির্দেশে আবু সুফিয়ান প্রাইম ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় সালিমুল হক কামালকে ২০টি চেকের মাধ্যমে দেন।”

    Reply
  2. আমি মানুষ,আওয়ামী লীগ না

    পুলিশে ভরপুর প্রশাসন!! তাদের পিস্তল এর নলের জোড়েই,,, এইডা আবার জিজ্ঞাস করতে হয়! এক সময় মনে করতাম বাঙ্গালি/বাংলাদেশি এমন এক জাতি যারা ঠেকে শিখে না ঠকে শিখে। কিন্তু এখন দেখছি এ জাতি এমন কি ঠকেও শিখে না! আজব জাতি আমরা!!

    এর জন্য কিছু দালাল মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবী দায়ী।ভুল টা আমাদের দেশ কে সিরিয়ার মত সংঘাতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কারন একটা সরকার এবং তার অতি বিশ্বস্ত আমলা/মন্ত্রি/সরকারী বড় বড় ক্ষমতাধর অফিসার রা যখন দেশের ভেতর বড় বড় অপরাধ করে ফেলে তখন তারাই অই অত্যাচারী সরকার কে ক্ষমতায় ধরে রাখার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। আর সরকারী নেতারা এই অপরাধ গুলা অতি শুক্ষ্য ভাবে আমাদের অফিসার/বিভিন্ন বাহিনী প্রধান / মহাপরিচালকদের দ্বারা সম্পন্ন করে ফেলেছে।

    জার জন্য বতমান সরকার আবার ক্ষমতায় আসতে হবে এই মাথা বেথা নেতাদের থেকে তাদেরি বেশী। অা,লিগ ক্ষমতার স্বাধ পেযে গেছেন। এর থেকে তারা বের হযে, অাসবে না। আমাদের দেশে পা চাটা বুদ্ধিজীবীরা শুধু ভোট দেওয়া কে ই গনতন্ত্র বলে মানুষদের ধোকা দিচ্ছে।কিন্তু সাধারন মানুষ গুলা যে কত কিছু থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সেটা কখনো বলে না। সেটা বল্লে তো আর তারা এত আরাম আয়েশে থাকতে পারবে না।

    Reply
  3. আমি মানুষ,আওয়ামী লীগ না

    বল কৌশল সুসময় যাই বলেন! আওয়ামীলিগ হয়তো ক্ষমতায় আছে বা থাকবে, ২০৪১ পর্যন্ত….কিন্তু কলঙ্ক দুই লক্ষ এক চল্লিশের পরেও শেষ হবে কি না জানিনা! শেখ মুজিবের মত নেতার কলঙ্ক ৭৪/২০১৭ আজো ঝল ঝল করছে…. এটি ভুলে গেলে চলবেনা দমন পীড়ন, মিছিলে প্রকাশ্যে গুলি, গুম খুন,বাকস্বাধীনতা হরণ করা,গনমাধ্যমের টুটি চেপে ধরা, সর্বোপরি রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার কাজে ব্যবহার করে ভোটের অধিকার হরণ করে গায়ের জোরে ক্ষমতা থাকা কোন ধরনের রাজনৈতিক কৌশল বোধগম্য নয়??….অাওয়ামীলীগ কে ক্ষমতাখুক্যিগত করার পিছেনে দালাল মিড়িয়া এবং বাকশালি পুলিশের একটা শক্তিশালী নিলজ্জ জুরালো ভূমিকা ছিল। আওয়ামী লিগ ঠিকঠাক মতো পুলিশ কে পুশতে পেরেছে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ করে বিএনপি পন্থি সব সেনা কর্মকর্তা কে এক সাথে ……..। হলমার্ক শেয়ার বাজার সোনালী ব্যাংক লুণ্ঠন করে জনগণের পকেট খালি করে প্রশাসন যন্ত্রটা কে নিজেদের করতে পেরেছে বলেই টিকে আছে। ভারতকে একচেটিয়া সুবিধা দিয়ে ভারতের নিরন্কুস সমর্থন নিয়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রেখেছে যার প্রতিফলন সূষমা স্বরাজের সাথে এরশাদের বৈঠক এবং ভারত কতৃক ঘোষিত যদি বহির্বিশ্ব মূখ ঘুরিয়ে ফেলে তাহলে ভারতের বর্ডার খুলে দেয়ার অংগিকার।ভারত যদি একচেটিয়া সমর্থন না দিত তাহলে হয়তঃ পরিস্হিতি উল্টো হত। ভারত মাতা সহায় । ।দেশ প্রয়োজনে রসাতলে যাক,দেশের মানুষ প্রয়োজনে না খেয়ে মরুক,তাতে নেত্রীর কিছু আসে যায়না।ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনে দেশটাকে ভারতের নিকট বিক্রি করতেও সমস্যা নেই।

    Reply
  4. আমি মানুষ,আওয়ামী লীগ না

    আজ ৫ই জানুয়ারি।
    কেউ বলছেন গনতন্ত্রের বিজয় দিবস !
    কেউ বলছেন গনতন্ত্রের হত্যা দিবস !
    গনতন্ত্রের বাঁচা-মরাটাই দেখলেন !
    সার্বভৌমত্বেরটা দেখলেন না !!

    Reply
  5. আমি মানুষ,আওয়ামী লীগ না

    এটাই কি আপনাদের গণতন্ত্রের বিজয় উৎসব !!!
    নির্বিচারে হামলা, লাঠিচার্জ, পুলিশি বাঁধা, রাবার বুলেট, কাঁটাতারের বেড়া, জলকামান, ছাত্রলীগ-যুবলীগ-শ্রমিকলীগের হামলা, ব্যাপক মারধর, গুলিবর্ষন, আটক, আহত, রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষতের মাধ্যমে গনতান্ত্রিক অধিকারকে রুখে দেয়াই কি গনতন্ত্রের বিজয় উৎসব ?
    ভোটারবিহীন নজিরবিহীন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংখ্যাগরিষ্ঠ ১৫৪ আসনে নির্বাচিত ঘোষনা কোন গনতন্ত্রের বিজয় ?
    ৩০০ আসনের মধ্যে বাকি ১৪৬ আসনেও ৫% এর কম ভোট, তাও আবার নিজেরাই নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বি !
    এটা গনতন্ত্রের বিজয় নয়, বরং
    বাকশালের বিজয় উৎসব !!

    Reply
  6. আমি মানুষ,আওয়ামী লীগ না

    ভারত থেকে সমরাস্ত্র ক্রয় করতে বাংলাদেশকে ৫০ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার প্রস্তাব করেছে দিল্লি। এটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাই সম্মত হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরেই এ সংক্রান্ত চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতেই এ সফর হতে পারে বলে জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র। ফেব্রুয়ারিতে সফরটির আয়োজন করার ব্যাপারে দিল্লির পক্ষ থেকে আগ্রহের কথা জানানোর পর ঢাকায় মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরকালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক ৩০টি চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই স্মারকের অধীনে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে প্রশিক্ষণ, সফর বিনিময়, যৌথ সামরিক মহড়া, সমুদ্রসম্পদ সুরক্ষায় সহযোগিতা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের সফরকালেও তিস্তা চুক্তি সই হওয়ার তেমন কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। তবে গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পে ভারতের সহযোগিতা নিয়ে দু’দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। ভারতের পক্ষ থেকে একটি কারিগরি দল শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করে গঙ্গা ব্যারাজের ব্যাপারে তাদের পর্যবেক্ষণ জানাবে। এছাড়া বাণিজ্য, অর্থনীতি, অবকাঠামো উন্নয়ন, কানেকটিভিটিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের চুক্তি সই করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৮ ডিসেম্বর ভারত সফরে যাবেন বলে প্রাথমিকভাবে তারিখ নির্ধারণ হয়েছিল। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ১৭০০ সৈন্য আত্মাহুতি দিয়েছেন। তাদের মরণোত্তর সম্মাননা জানানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বাংলাদেশ। ভারত সফরকালে তেমন ৬-৭টি নিহত সৈন্যের পরিবারকে আনুষ্ঠানিক সম্মাননা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপর থেকে সেই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সময়ে সব পরিবারকেই সম্মাননা জানানো হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে যেসব চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলোর মধ্যে আছে ‘ট্রেডিং কর্পোরেশন বাংলাদেশ’ (টিসিবি) এবং ভারতের ‘স্টেট ট্রেডিং কর্পোরেশন’র (এসটিসি)র মধ্যে সহযোগিতা চুক্তি, সীমান্ত হাট নিয়ে আরও নতুন চুক্তি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক, ভারত থেকে বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য ৫০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি, দুই দেশের কোস্টগার্ডের মধ্যে সহযোগিতার স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি), উপকূলীয় ও নৌ প্রটোকল রুটে যাত্রী ও ক্রুস জাহাজ চলাচল চুক্তি, দুই দেশের আইন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চুক্তি, বাংলাদেশের সুপ্রিমকোর্ট ও ভারতের জুডিশিয়াল ট্রেনিং একাডেমির মধ্যে চুক্তি প্রভৃতি। চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর ভারত ব্যবহার করতে পারবে মর্মে চুক্তি আগেই হয়েছে। এখন এই দুটি সমুদ্রবন্দর কীভাবে ব্যবহার করা যায় তার বিষয়ে একটি এসওপি সই করার প্রস্তাব ভারত করেছে। তবে বাংলাদেশ মনে করে, চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহারে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হওয়া প্রয়োজন। এসব নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। আলোচনায় উভয়পক্ষ একমত হলে এ বিষয়েও চুক্তি সই হতে পারে। সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশ সফর করার পর দুই দেশের মধ্যে ২৭টি চুক্তি সই হয়। সম্প্রতি চীন থেকে দুটি সাবমেরিন ক্রয় করে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। তারপর ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পারিকর বাংলাদেশ সফর করে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি এবং ভারত থেকে সমরাস্ত্র ক্রয়ে বাংলাদেশকে ৫০ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার প্রস্তাব করেছে ভারত। এ দুটি প্রস্তাব এখন বাংলাদেশ পর্যালোচনা করে দেখছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের জানুয়ারিতে দিল্লি সফর করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বৈরী সম্পর্ক দূর করে সুসম্পর্কের সূচনা করেন। ওই সময়ে ৫০ দফার যৌথ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। তারপর ২০১১ সালে ভারতের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং বাংলাদেশ সফর করে আরও চুক্তি সই করেন। ওই সময়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আপত্তির কারণে তিস্তা চুক্তি চূড়ান্ত হয়েও তা সই হয়নি।

    Reply
  7. সিরাজউদ্দৌলার বাঙলা-বিহার-উড়িষ্যাও আমরা ফেরত চাই

    আমরা আছি নিত্য রাজনীতি নিয়া, কিন্তু ওদিকে খুব সন্তর্পনে দেশের একেকটা এলাকার জবরদখল দিচ্ছে মালাউনদেরকে। চাড়াল সুরেন্দ্র প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে সে জোরেসোরে নামছে মুসলমানদের জমি হিন্দুরেকে দিতে। সিলেটের দানবীর রাগিব আলীর ১২০০ বিঘার চা বাগান কোর্টের ত্রুটিপূর্ন রায় দিয়ে পুলিশ ব্যবহার করে গায়ের জোরে ছিনিয়ে নিয়ে হিন্দুদের পূজার জন্য (দেবোত্তর) দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে! এখন তারাপুর চা বাগানের মালিক কোলকাতা থেকে আসা সেবায়েত পংকজ গুপ্ত। সাথে উপস্থিত ছিল আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক বিজিৎ চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা জগদীস চন্দ্র দাস, তপন মিত্র, সুদীপ দে প্রমুখ।
    র‌্যাব পুলিশের কঠোর প্রহরার মধ্যে ১৫ মে রবিবার জেলা প্রশাসন শুরুতে রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ থেকে জমি উদ্ধার করে। পরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চলে দখলমুক্ত করণের কাজ। আদালতের বেধে দেয়া ছয় মাস সময়সীমার মধ্যেই ভেঙ্গে ফেলা হবে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের হোস্টেল সহ অন্যান্য স্থাপনা!
    রাগীব আলীর বিরুদ্ধে মালু নিয়ন্ত্রিত আদালতের অভিযোগ -প্রতারনামূলকভাবে নাকি ঐ চা বাগান দখল করেছিল। অথচ রাগীব আলী এরশাদ সরকারের কাছ থেকে ঐ জমির লীজ নিয়েছিলেন। এখন হাসিনা-সুরেন্দ্রর জমানায় সব হয়ে গেলো প্রতারণা! আর এটা জায়েজ করার জন্য রাগীব আলীকে এখন বানিয়ে ফেলল আল্লামা সাঈদীর দোসর! কারন রাগীব আলী নাকি সাঈদরি ওয়াজের ব্যবস্থা করেছিলেন। আরে ঐ হিসাব করতে গেলে তো সাঈদী-ভক্ত কোটি কোটি মানুষ সব রাজাকার! ক্যান রাগীব আলী যে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, সেটা চোখে পড়ে না? প্রশ্ন হলো, তবে হাজার হাজার কোটি টাকা মূল্যের ঐ ১২০০ একর ভুমির মালিক কে বা কারা? বলা হচ্ছে, ১৯১৫ সালে অমুক বৈকুন্ঠের দান করা জিউস দেবতার সম্পত্তি! পুজা সমিতির সেবায়েত নাকি নব্য মালিক? কোথায় ছিল তারা এতকাল? ওপারে? তো, ওপারের মানুষের এপারে কি? ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান সরকার এই বাগানটি ‘শত্রু সম্পত্তি’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। এরপরে একাত্তরের পরে আবার অজ্ঞাত ঝাড়ফুকে হয়ে যায় দেবোত্তর সম্পত্তি! দেশ না দু’দফা ভাগ হয়েছে? স্ব স্ব দেশের বাউন্ডারি, এরিয়া, জমি, সম্পদ, নাগরিক সবকিছুই সেটেলড হয়েছে। এখন ভারতীয় হিন্দুদেরকে এদেশের জমির দখল দেয়ার জন্য দেবোত্তর সম্পত্তি আইন, অর্পিত সম্পত্তি আইন ব্যবহার করা হচ্ছে। আর এগুলা সহজ করার জন্যই বসানো হয়েছে মুসলমান নেতাদের বলি দেওয়া শিখন্ডি সুরেন্দ্রকে এবং তার অধস্তন জজ ও ভুমি অফিসারদেরকে যাদের বেশীরভাগই হিন্দু।
    বলি দেশটা কি বৃটিশ আমলে আছে যে, সেই সময়ের পেপার দেখে দেখে জমির দখল দিচ্ছেন? যদি তাই হয়, তবে জমিদারী ব্যবস্খার আগের মালিকানায় আমরাও আমাদের পূর্বসূরিদের জমি জমা সব ফেরত চাই? এদেশের জমি চা-বাগানের ওপর কি কেবল ভারতীয় হিন্দুদেরই অধিকার? ১৭৯৩ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর কর্মচারী লর্ড কর্নওয়ালিশ যেভাবে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দিয়ে এদেশের মুসলমান সহ সব নাগরিকের জমির মালিক বানিয়েছিল হিন্দু পা-চাটা জমিদারদের, আমরা সে আইন বাতিল চাইব। তারপরে আমাদের যার যার হিসাব বুঝে নেব। এমনকি সিরাজউদ্দৌলার বাঙলা-বিহার-উড়িষ্যাও আমরা ফেরত চাই।
    ঐ জমির টাইটেল নিয়া কোনো সমস্যা ছিল না, কেননা এর পাশের প্লট কিনেছিলেন হাসিনার ফুপা জেনারেল মোস্তাফিজ, একসাথে একই মালিকের কাছ থেকে। তার জমি এখনও অক্ষত! কি বিচিত্র!! ও বাংলার মানুষ। নিজেদের দেশ ও সম্পদ বাঁচাতে হলে এখনি আওয়াজ তুলতে হবে। নামতে হবে রাস্তায়। নইলে একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখবেন কোনো সাইনবোর্ড আর পড়তে পারছেন না, সব হিন্দী ভাষায়।

    Reply
  8. এবনে গোলাম সামাদ

    ১৯৭১ সালের মার্চে ঢাকায় পাক বাহিনী বাঙ্গালী নিধনযজ্ঞে মেনে ওঠলে কিংকর্তব্যবিমূঢ় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজেকে সমার্পণ করেন পাকিস্তান বাহিনীর হাতে। দিশেহারা আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব সমগ্র জাতিকে হিংস্র হায়েনার মুখে ঠেলে দিয়ে দলে দলে ছুটে গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়লো ভারতের মাটিতে। জাতির এই যুগসন্ধিক্ষণে অসীম সাহস নিয়ে এগিয়ে আসেন মেজর জিয়াউর রহমান। ১৯৭১ সালে জিয়ার সময়োচিত একটি বজ্র ঘোষণা কিংকর্তব্যবিমূঢ় গোটা জাতির সম্বিত ফিরিয়ে এনে দৃঢ় অঙ্গীকারের ভিত্তিতে সকলকে উজ্জীবিত করে তুলেছিল। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন দিশেহারা ও ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছিল এবং তরুণ ও যুবকরাসহ সর্বসাধারণ যখন হতাশায় মুহ্যমান, ঠিক তখনই জিয়া সঞ্জীবিত করে তোলেন সমগ্র জাতিকে। দেশবাসীকে তিনি আশ্বস্ত করে জানান যে, ‘জীবন যায় যাবে, তবু মাথা নোয়াবো না।’
    জিয়ার অসাধারণ প্রতিভা এবং সাহস ছিল বলেই ১৯৭১ সালে একজন সাধারণ মেজর-এর র‌্যাংকে অধিষ্ঠিত থেকে এত বিরাট ঝুঁকিপূর্ণ একটি স্বাধীনতা যুদ্ধ ঘোষণা করবার মনোবল তিনি দেখাতে পেরেছিলেন এবং সমস্ত চ্যালেঞ্জ নিয়ে সেই যুদ্ধের অগ্রগামী নেতৃত্বের দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। একজন দূরদর্শী সামরিক স্ট্র্যাটেজিনিয়নের সমস্ত গুণই ওই বয়েসে তাঁর মধ্যে পরিস্ফুত হতে দেখা গেছে। সামরিক প্রতিভার সঙ্গে রাজনৈতিক সংকটের গভীরতা অনুধাবনের ক্ষমতা এবং দূরদৃষ্টিরও সমাবেশ ঘটেছিল তাঁর মধ্যে। সুতরাং, প্রত্যক্ষভাবে একজন রাজনীতিক কিংবা রাষ্ট্রনেতা না-হতে পারলেও তিনি হতে পারতেন একজন শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক দার্শনিক অথবা যে কোন বিশাল কর্মকান্ডের অগ্রনায়ক।
    ইতিহাসের পাতায় শেখ মুজিব ও জিয়ার মর্মান্তিক মৃত্যু-দু’টিই দুঃখজনক ও বিয়োগান্তক ঘটনা। এ যেন গ্রীক ট্রাজেডির শেষ দৃশ্যের মত। যা মর্মান্তিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এই দুই নেতাই বাংলাদেশের ইতিহাসে ঝড় তুলেছিলেন, আর ঝড়ের মত প্রস্থান করলেন। তবে এই প্রস্থানের প্রভাব বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারা রেখে গেলেন দীর্ঘদিনের জন্য। মশিউর রহমান যাদু মিয়া পল্টন ময়দানের এক সভায় মন্তব্য করেছিলেন, ‘আমার বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয় নাই, তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন।’ অর্থাৎ কি-না তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে অন্যের পরামর্শে যে ধরনের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লেন তাই আত্মহননের পথ ছিল। তিনি বামপন্থীদের পাল্লায় পড়ে গণতন্ত্র থেকে সরে একদলীয় সমাজতান্ত্রিক ধারাতে চলে গেলেন। তার এক ভাগিনা তার ঘরে এ ব্যাপারে তার অন্যতম পরামর্শদাতা ছিলেন। রাজনীতি সচেতন এদেশে একদলীয় ‘বাকশাল’ যে লাল কাপড় প্রদর্শনের মত, তা বোঝেনি অনেকে। বাংলাদেশের জনগণই পাকিস্তান এনেছিল কিন্তু পরবর্তীতে তাদের সাথে ভাল ব্যবহার না করায় গণতন্ত্র উৎখাত করে মৌলিক গণতন্ত্র ইত্যাদি করে বাংলাদেশের মানুষকে ‘সাইড লাইনে’ রাখতে গিয়ে ধীরে ধীরে তা গিয়ে পৌঁছল আর এক স্বাধীনতায়। শেখ মুজিব ও তার পরামর্শদাতারা বাংলাদেশের মানুষের এই মনস্তাত্ত্বিক ভাবটা বুঝেও বুঝলেন না। তাই হল মর্মান্তিক ট্রাজেডি, যাকে যাদু মিয়া ‘আত্মহত্যা’ বলেছিলেন। (সূত্রঃ এবনে গোলাম সামাদ, দৈনিক ইনকিলাব ১৫ আগষ্ট ২০০০)
    জিয়া ‘আমাদের পথ’ শীর্ষক নিবন্ধে লিখেছেন ‘তাই আমাদের প্রয়োজন অনতিবিলম্বে জনশক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করা। তবে কথা থেকে যায়, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা হবে কিভাবে? একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়ে? নিশ্চয়ই নয়। ‘‘ওয়ান পার্টি সিস্টেম’’ এবং ‘‘রেজিমেন্ট ইনফোস’’ করে যে সাফল্য অর্জন করা যায় না নিকট অতীত তার সাক্ষ্য দিচ্ছে।’ গণতন্ত্রের প্রতি তার সহজাত শ্রদ্ধাবোধই বাংলাদেশে বহুদলীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনে তাকে উদ্বুদ্ধ করে সবচেয়ে বেশী।
    জিয়ার একজন শাসক যিনি সকল প্রকার মোহের ঊর্ধ্বে উঠে এই দরিদ্র জনপদের বিশাল জনগোষ্ঠীকে কর্ম, প্রযুক্তি ও উৎপাদনের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। তিনি আমাদের সঠিক পরিচয় বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ প্রবর্তন করেন। ঐতিহাসিক ১৯ দফা প্রণয়নের মধ্য দিয়ে তিনি দেশের স্বাধীনতা, অখন্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি নিজেদেরকে একটি আত্মমর্যাদা ও আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কৃষি উন্নয়নে গ্রামীণ তথা জাতীয় অর্থনীতিকে জোরদার করা, দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা এবং কেউ যেন ভুখা না থাকে তার ব্যবস্থার জন্য তিনি অবিরাম প্রয়াস চালান। শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি অগ্রগতি লাভ করতে পারে না। জিয়া গণশিক্ষায় উৎসাহ দানের পাশাপাশি শিক্ষাকে যুগোপযোগী ধাঁচে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
    স্বাধীনতার পর দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি ও পররাষ্ট্রনীতি স্বাধীন দেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদার অনুকূল ছিল না, উপযোগী ছিল না। উভয় ক্ষেত্রে ভারত বিমুখিতা ও ভারত নির্ভরতা ছিল স্পষ্ট। যে পররাষ্ট্রনীতি তখন অনুসরণ করা হয় তার এক মাত্র বৈশিষ্ট্য ছিল বিনা প্রশ্নে ভারতের বিদেশীনীতি অনুসরণ করা। এছাড়া ভারত-সোভিয়েট ব্লকভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে এমন সম্পর্ক গড়ে তোলা যাতে বাংলাদেশকে ঐ ব্লকেরই একটি দেশ হিসেবে পরিচিহ্নিত করা যায়। পশ্চিমা বিশ্ব, মুসলিম বিশ্ব ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক যতদূর সম্ভব শীতল রাখার নীতি গ্রহণ করা হয়। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আভ্যন্তরীণ নীতিতে যেমন কিছু পরিবর্তন আনা হয়, তেমনি পররাষ্ট্রনীতিতেও অনুরূপ পরিবর্তনকে স্পষ্ট করা হয়। স্বাধীন অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের আকাঙ্খা মানুষ স্বাধীনতার পর থেকেই পোষণ করছিল, তার বাস্তবায়ন ঘটে জিয়ার শাসন ক্ষমতায় আসার পর। ১৯৭৭ সালে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর জিয়া অভ্যন্তরীণ নীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন সাধন করে স্বাধীন দেশের উপযোগী করেন। স্বাধীনতা পূর্ণতা লাভ করে।
    ‘সকলের সঙ্গে বন্ধু, কারো সঙ্গে শত্র“তা নয়’, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে এই নীতি-প্রত্যয় স্বাধীনতার পর চরমভাবে উপেক্ষিত হয়। জিয়ার এই নীতি-প্রত্যয়ের বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার প্রদান করেন। তিনি দেশকে ভারতের অন্ধ স্তাবকতা ও অনুগামিতা থেকে বাইরে টেনে আনেন। একই সঙ্গে ভারত-সোভিয়েট ব্লকের বন্ধন থেকে দেশকে মুক্ত করেন। ভারত ও ভারত-সোভিয়েট ব্লকভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক অক্ষণœœ রেখেই তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেন। অন্যদিকে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক স্থাপন করেন। আর চীনের সঙ্গে গড়ে তোলেন পারস্পরিক সহযোগিতামূলক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। এভাবেই তিনি সকলের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে শত্র“তা নয়’, নীতি-প্রত্যয়ের সফল বাস্তবায়ন ঘটান।

    Reply
    • রফিকুল হাসান খান

      জিয়া কি ভাবে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন, তা অনেকেই না জেনে গল্প লেখেন। জিয়া পাক সেনাবাহিনীর চাকরী নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন আর অনেকেই যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছিলেন। চট্টগ্রামেই মেজর রফিক বীরোত্তম বিডিআর (তদানীন্তন ইপিআর) নিয়ে হালি শহর এবং রেলওয়ে ক্লাব থেকে সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু করেন, প্রায় পঞ্চাশ জন সৈনিক যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন – আর এই যুদ্ধের কারনে বাধাগ্রস্থ হয়ে পাক বাহিনীর চট্টগ্রাম দখল বিলম্বিত হয় আর মরহুম হান্নান, একে খানসহ আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা নেতা কর্মীদের সংগঠিত করে তোলেন। একইসাথে আবুল কাশেম সন্দ্বীপ, বেলাল মোহাম্মদ – ডাঃ সুলতানুল আলমসহ কিছু শিক্ষিত তরুন বেতারকেন্দ্র দখল করে বঙ্গবন্ধু’র স্বাধীনতা ঘোষনা প্রচার করতে থাকেন। এ বেতারকেন্দ্র থেকেই মরহুম হান্নান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ২৬শে মার্চেই স্বাধীনতার ঘোষনা প্রচার করে বক্তৃতা দেন। সেনাবাহিনীর বাঙালী সদস্যরা এই প্রক্রিয়া থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্নভাবে লড়াই শুরু করে। আওয়ামী লীগের নেতারা ভাবলেন সেনাবাহিনী যেহেতু চেইন অব কমান্ড মেনে চলে সেনাবাহিনীর একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে দিয়ে একবার ঘোষনা পাঠ করালে কেমন হয়! আওয়ামী লীগের নেতারা কোনভাবে জিয়াউর রহমানকে পাক বাহিনীর ডিউটিরত অবস্থা(লক্ষ্য করুন মেজর রফিক যুদ্ধ শুরু করলেও জিয়া পাক-বাহিনীর কমান্ডে চাকুরী চালিয়ে যাচ্ছিলেন) থেকে বেতার কেন্দ্রে এনে বক্তৃতা দিতে বললে ২৭শে মার্চ তিনি নিজেকে সরকার প্রধান ঘোষনা করে স্বাধীনতা ঘোষনা করেন – সঙ্গে সঙ্গে মরহুম এক খান বললেন আপনাকে একটু সংশোধন করে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ঘোষনা দিতে হবে। জিয়া তা করেই সেন সদস্যদের নিয়ে প্রথমে নদী পার হয়ে বোয়ালখালী তারপর ভারত চলে যান। জেনারেল ওসমানী তাকে সেক্টর কমান্ডার করেন। বন্দুগণ, জিয়া নিজেও ১৯৭৩ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পত্রিকায় নিজে লেখা প্রবন্ধে এই কাহিনী সমর্থন করে বলেন বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে তাঁরা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।

      Reply
  9. সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ

    সংবিধানের ৭ এর (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দেশের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ যদি হয়ে থাকে, তাহলে এইটা একটা ভুয়া সংবিধান । কারণ, এই দেশের ক্ষমতার মালিক, আওয়ামী লীগ, ইন্ডিয়া, প্রশাসন, আর্মি , পুলিশ। আমি এই দেশের মালিক না।
    আমার কোন বিদ্যুতের দরকার নাই, কারন আমি জানি এই দেশে যতই বিদ্যুত উতপাদন হোক না কেন, কেয়ামতের আগ পর্যন্ত এই দেশে লোডসোডিঙ থাকবেই ।
    আমি রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের কোন প্রতিবাদ জানাচ্ছি না । কারণ, আমি জানি, শেয়ার বাজার দুর্নীতি, হাজার হাজার কোটি টাকা দেশের বাহিরে পাচার, নকল এবং জিপিএ ফাইভ দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস সহ অনেক ইস্যুতে, এই সরকার জনগণের কোন প্রতিবাদ শোনে নাই। এই ক্ষেত্রেও আমারটা ও শুনবে না।
    তবে হ্যাঁ, রামপাল বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের পক্ষেও দেখলাম কিছু বুদ্ধি প্রতিবন্দি ইনিয়ে বিনিয়ে অনেক আনাড়ি যুক্তি দিয়ে কথা বলছেন। আমি তাদের সবার স্ক্রিনশট নিয়ে রেখেছি সাথে স্ক্রিন ভিডিও ( প্রোফাইল লিংক সহ)।
    যেন ভবিষ্যত প্রজন্ম যখন সুন্দরবন তথা দেশ ধ্বংসকারীদের বিচার করবে তখন তারা যেন প্রমাণ সহ এইসব দালালদের বিচার করতে পারে।

    Reply
  10. প্রিয় সুন্দরবন

    এর প্রভাব পরবে ধীরে ধীরে.. পুরো ইফেক্ট দেখতে অপেক্ষা করতে হবে আরো ১০-২০ বছর । ততদিনে আওয়ামেলীগ এর অনেক বয়স্ক নেতা গুলো হয়তো আর পৃথিবীতে থাকবে না …আসবে নতুন প্রজন্ম আর ততদিনে সাধারন মানুষ ও ভুলে যাবে ২০ বছর আগের সুন্দরবন কেমন ছিল । তখন সুন্দরবনের সুন্দর সৌন্দর্য হয়তো আর থাকবে না, তা হয়ে যাবে বোটানিকাল গার্ডেন কিংবা সাফারী পার্কের মত কৃত্তিম বন, যেখানে থাকবে কিছু বুড়ো গাছ, কিন্তু পাখি থাকবে না, নদীর পানি হবে ঢাকার বুড়িগঙ্গার দুষিত কুচকুচে কালো পচা পানির মত যেখানে কোন মাছ কিংবা অন্য জলজ প্রানি থাকবে না। তখন আমাদের ভবিশ্যৎ প্রজন্ম শুধু ইতিহাস পড়বে, এই বন একসময় এতোই সুন্দর ছিল যা পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি ছিল । আজ একটা নোংরা জংগল মাত্র। কিন্তু তখনো কিন্তু বুন্ধু রাস্ট্র ইন্ডিয়া তার লাভের অর্ধেকটা তাদের দেশে নিয়ে যাবে। তারা আর তখন পরিবেশ দূষন রোধের এতসব ব্যয়বহুল প্রযুক্তি ব্যবহার করতে যাবে না, তারা দেখবে কিভাবে কয়লা পুড়িয়ে স্বল্প খরচে বিদ্যুৎ উতপাদন করা যায় । আর আমদের দেশের প্রসাশন এর লোক মাস অন্তর কিছু টাকা পকেটে ঢুকিয়ে মুখে কুলুপ দিয়ে বসে থাকবে । ধীরে ধীরে অস্তিত্বহীন হয়ে যাবে সুন্দরবন। তাই মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, দেশোরত্ন শেখ হাসিনার কাছে আমাদের আকুল আবেদন, এখনও সম্ভব এ ক্ষতির হাত থেকে সুন্দরবন কে রক্ষা করা এটা শুধু আপনার দ্বারাই সম্ভব, আপনিই আমাদের প্রানপ্রিয় সুন্দরবন কে রক্ষা করতে পারেন । আপনি ইচ্চা করলেই এটা সরিয়ে অন্য জায়গায় স্থাপন করা সম্ভব । যদিও জমি অধিগ্রহণ এবং চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে, তারপর ও শুধু আপনার একান্ত ইচ্ছাই এই কাজে পরিবর্তন আনা সম্ভব । অন্য স্থানে তা তৈরি করুন, রক্ষা করুন আমাদের ঐতিয্যবাহী সুন্দরবন কে, এটা হাজারও সম্ভাবনাময় একটা বন আমরা এখান থেকে ও শত শত কোটি টাকা আয় করতে পারি, এখানে আমরা পৃথিবীর সব থেকে সুন্দর ইকো পার্ক, তৈরি করতে পারি, এর আসে পাশে সুন্দর সুন্দর পর্যটন রিসোর্ট তৈরি করতে পারি, ভবিষ্যতে এটা হতে পারে হাজার হাজার উদ্ভিদ ও প্রানী বিজ্ঞানীর গবেষনার স্থান। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রী পরিশোধ এর কাছে আকুল আবেদন, এটা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া অনেকটা জটিল হলে ও অসম্ভব কিছু নয় । কেন আমরা আমাদের প্রাকৃতির অপার সৌন্দর্য‍্য মন্ডিত সুন্দরবন এর ক্ষতি হওয়ার ঝুকিতে যাব । যদি তা অন্যস্থানে ও করা সম্ভব হয়, তবে হোক না তা অন্য কোন স্থানে হয়ত নতুন করে কিছু অর্থেরই অপচয় হবে, তবু অক্ষত, এবং ঝুকিমুক্ত থাকবে, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ম্যানগ্রোভ বন, আমাদের প্রিয় সুন্দরবন।

    Reply
  11. আজিজুল করিম

    ভারত মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের স্বার্থে সাহায্য করেনি, করেছে নিজেদের স্বার্থে। যখন বাংলার লাখ লাখ মুসলিম নিজের জীবন দিয়ে স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে তখন মালউন ভারত বাংলাদেশের নামকাওয়াস্থে প্রবেশ করে পাকিশ্তানী বাহীনিকে হারানোর মিথ্যে অপপ্রচার চালায়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তি বাহিনী যখন দেশের ৯৫-৯৯ শতাংশ অঞ্চল মুক্ত করে ফেলেছিল, ঠিক তখন ৩রা ডিসেম্বর ভারতীয় আরদালী বাহিনী লুটপাট করার জন্য বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তারা ১৬ ডিসেম্বরের পর বাংলাদেশ জুড়ে নজির বিহীন লুটপাট চালিয়েছিলো। ৯৩ হাজার পাকিস্তানী সৈন্যদের ফেলে যাওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ- যার মূল্য ওই সময় ছিলো ২৭ হাজার কোটি টাকা, তার সবই ভারতীয় আরদালী বাহিনী ১৫টি বিশাল জাহাজে করে বাংলাদেশ থেকে লুট করে নিয়ে যায়। অথচ সেই অস্ত্রের মালিকানা ছিলো পুরোপুরি বাংলাদেশের।
    শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের শত শত মিল কারখানার যন্ত্রপাতি, ব্যাংক, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যাল, ঘর-বাড়ির গৃহস্থালী জিনিসপত্র পর্যন্ত বাদ যায়নি লোভী ভারতীয় লুটেরাদের হাত থেকে। এসব সম্পদ ও দ্রব্যাদির তখনকার মূল্য ছিলো আনুমানিক ৯০ হাজার কোটি টাকা। শৌচাগারের বদনাগুলোও বাদ দেয়নি ভারতীয় লুটেরার দল। এছাড়াও যুদ্ধকালীন ও যুদ্ধ পরবর্তীকালীন সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রদত্ত বিপুল পরিমাণ অর্থ ও অন্যান্য সাহায্যও লুট করে নিয়ে যায় আমাদের পরম মিত্র (!!!) ভারত।
    বাংলাদেশে ভারতীয় আরদালীদের লুন্ঠনের ব্যাপারে আজিজুল করিম ‘হোয়াই সাচ এন্টি-ইন্ডিয়ান ফিলিংস এমং বাংলাদেশী?’ শিরোনামে এক নিবন্ধে ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ভারতীয় মাসিক ‘অনিক’-এর রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন, “ভারতীয় সৈন্যদের লুণ্ঠিত মালামালের মূল্য ছিল প্রায় ১শ’ কোটি মার্কিন ডলার।”
    যারা মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানের কথা বলে দেশ বিক্রি করতে চায় , তাদের মুখে জুতা মারুন।

    Reply
  12. বাংঙ্গালী

    আমি বাংলাদেশের নাগরিক।
    আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে সম্মান করে আওয়ামিলিগ সমার্থন করি।
    ইন্ডিয়া আমাদের প্রতিবেশী।তাই বলে ইন্ডিয়ার সাথে কুটনৈতীক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য দেশের অর্থনীতি এবং প্রাকৃতিক সম্পদকে হুমকির মুখে ঠেলে দিতে পারেননা।
    যেখানে একটা দেশের হাতে নেওয়া প্রজেক্ট বাতিল করে পেলেছে দেশের প্রাকৃতিক স্বার্থ রক্ষার্থে সেখানে তারা আমাদের দেশে প্রজেক্টটি চালু করছে তাদের নিজের স্বার্থ উদ্বার করার জন্য এবং আমাদের স্বার্থ হাতিয়ে নিয়ে সাথে আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ ধংস করে দেওয়ার জন্য। এটা তো হতে দেওয়া যায়না। আমার দেশ গনতান্রিক দেশ। দেশের সব কিছুর মালিক জনগন নিজে।এবং সব বিদ্যুৎ ও।সেই হিসেবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের মালিকও জনগন। তিনগুন দামে কিনে নিচ্ছে জনগন সরকার থেকে কারন সেই টাকা দিয়ে যেনো দেশের উন্নয়ন হয়। আবার জনগনের সেই টাকা দিয়েই হচ্ছে নতুন বিদ্যুৎ প্রকল্প। জনগনের জন্যই সরকার গঠিত হয়। তাই জনগনের মতামত সরকার গ্রহন করবে এটাই নিয়ম।জনগন নিজেদের রক্ষাত্রে সরকারকে নিজেদের মতামত জানাবে সেটাও নিয়মের মধ্য। তার জন্য জনগনের টাকায় বিদ্যুৎ জনগনকে না দেওয়ার কোনো নিয়ম কোনো আইনে নাই যতটুকু জানি।
    আর যার কারনে জনগন সরকারের বিপরীত মুখী সেই দেশটি হলো ইন্ডিয়া।
    ইন্ডিয়া এমন একটি দেশ যার সাথে তাদের সীমান্তবর্তী কোনো দেশেরই ভালো সম্পর্ক নেই সবার সাথে খারাপ আচরন করতেছে প্রতিনিয়ত। যেটা কোনো প্রতিবেশির আচরন নয়। আমরা কেনো তাদের অন্যয় মেনে নিবো? আমরা কেনো তাদের সাথে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য জিবন দিবো? তাদের ছাড়া কি আমরা অচল? আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র চীন আছে রাশিয়া আছে। তাদের সাথে যদি আমরা ভারতের মতো বন্ধুত্ব করি তাহলে বিনিময়ে আমরা অনেক কিছু পাবো এবং বন্ধুত্বের সম্মান পাবো। তাই ভারতের মতো একটা দেশের সাথে আমাদের সম্পর্কের কোনো দরকার নাই। ওরা সীমান্তে মানুষ মারে, ওদের হাতি দিয়ে মিডিয়া নাচায়, ওদের পানি দিয়ে আমাদের গ্রাম ভাসিয়ে দিচ্ছে।ওরা বিধানসভায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্বের প্রস্তাব দিচ্ছে। ওদের মতো বন্ধুর কি দরকার? আর আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্বের সময় ওরা ওদের নিজের স্বার্থের জন্য আমাদের সাহায্য করেছিলো। ওসব ইতিহাস সবাই জানে। ৬৫ এর যুদ্বের প্রতিশোধ নেওয়া সহ আরো অনেক স্বার্থ ছিলো ওদের। তাও আবার সৈন্য পাঠিয়েছিলো দেশ স্বাধীনের কিছুদিন আগে। রাশিয়া যখন সহায়তার কথা বলেছে তারপর রাশিয়ার উপর নির্ভর করে ওরা সৈন্য পাঠিয়েছিলো। এক কথায় ওরা আমাদের সাহায্য করেনি ওরা ওদের স্বার্থ উদ্ব্যার করেছে।
    আমি দেশপ্রেমিক তবে ইন্ডিয়া প্রেমিক নয়।

    Reply
    • R. Masud

      Simply ridiculus comment and good to define a NIMOKHARAM!!
      Lack of knowledge in international affairs and no sense of geographical position can causes to make such a too low grade comment!!
      China didn’t recognise us until Bongobondhu was killed – what silly you are respecting Bongobondhu!!

      Reply
  13. কোনটাই আর আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই

    রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ভারতের এক্সিম ব্যাংকের কাছ থেকে ১৬০ কোটি ডলার ঋণ নিতে যাচ্ছে বিআইএফপিসিএল। এক্সিম ব্যাংকের দেওয়া চুক্তির শর্তাবলি জানিয়ে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের কাছে সম্প্রতি চিঠি দিয়েছেন বিআইএফপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উজ্জ্বল কান্তি ভট্টাচার্য। চিঠিতে বাংলাদেশের পুরো ঋণের জামিনদার হওয়ার শর্তটিও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী অক্টোবর মাসে এ ঋণচুক্তি হতে পারে বলে জানা গেছে।
    এ বিষয়ে জানতে চাইলে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, সুন্দরবনের ক্ষতি হবে বলে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ উঠেছে। এখন কোনো কারণে যদি এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায় কিংবা কোম্পানি লোকসানি হয়, তবে এক্সিম ব্যাংকের ঋণের দায় পুরোটাই বাংলাদেশ সরকারের ওপর পড়বে। বাংলাদেশকেই ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের এ ধরনের ঝুঁকি আঁচ করতে পেরেই যৌথ মালিকানার কোম্পানি হলেও এক্সিম ব্যাংক ঋণের দায় বাংলাদেশের ওপর চাপিয়েছে। তারা (এক্সিম ব্যাংক) হয়তো মনে করছে, এ প্রকল্প শেষ পর্যন্ত সফল না-ও হতে পারে।
    আনু মুহাম্মদ মনে করেন, এ প্রকল্প থেকে শুধু মুনাফার অর্ধেকই ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পাবে না; ঠিকাদারি কাজ, কয়লার সরবরাহ ব্যবসা—সবই পাবে। সেখানেও ভারত লাভবান হবে।
    শর্তে যা আছে: এক্সিম ব্যাংকের দেওয়া শর্ত অনুযায়ী, ১৬০ কোটি ডলারের ঋণ পরিশোধ করতে হবে ২০ বছরে। সাত বছর পর থেকে ঋণের নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ শুরু হবে। ২৭টি অর্ধবার্ষিক কিস্তিতে এক্সিম ব্যাংককে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। ঋণের সুদের হার হবে লন্ডন আন্তব্যাংক হারের (লাইবর) সঙ্গে ১ শতাংশ সুদ যোগ করে। গত জুন মাসের হিসাবে লাইবর দশমিক ৯৩ শতাংশ।
    এ ছাড়া ঋণের অব্যবহৃত বা ছাড় না করা অর্থের ওপর বার্ষিক দশমিক ৫ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। ঋণ প্রক্রিয়াকরণের জন্য ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক মাশুল ২ লাখ ডলারও দিতে হবে বিআইএফপিসিএলকে।
    চুক্তির জামিনদার সম্পর্কে জানতে চাইলে উজ্জ্বল কান্তি ভট্টাচার্য গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশই পাবে। তাই এ ঋণের জামিনদার বাংলাদেশ সরকার।

    Reply
  14. কোনটাই আর আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই

    দেশের পুরো অথর্নীতি, ব্যাংক, আথির্ক প্রতিষ্ঠান আজ কোন দানবদের খপ্পড়ে ?
    •তারা কারা, প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও বেশী ক্ষমতাবান ?
    (১) অর্থমন্ত্রী বলেন, “আতিউর পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।”
    • তাহলে, কে বা কারা তাকে পদত্যাগে বাধ্য করলো?
    •আমরা তো দেখেছি প্রধানমন্ত্রী তার জন্য কান্না করলেন!
    •তাহলে কে আছে আরো ক্ষমতাবান, যারা তাকে পদত্যাগে বাধ্য করলো?
    (২) অর্থমন্ত্রী বলেন, “রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা অবশ্যই জড়িত। তাঁদের যোগসাজশ ছাড়া এ কাণ্ড হতে পারত না। .. অবশ্যই .. শতভাগ জড়িত। স্থানীয়দের ছাড়া এটা হতেই পারে না। ছয়জন লোকের হাতের ছাপ ও বায়োমেট্রিকস ফেডারেল রিজার্ভে আছে। নিয়ম হলো, প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়—এভাবে ষষ্ঠ ব্যক্তি পর্যন্ত নির্দিষ্ট প্লেটে হাত রাখার পর লেনদেনের আদেশ কার্যকর হবে।”
    • এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই ছয়টা হাত কাদের?
    •এই হাতগুলো কতটা প্রসারিত?
    •এই কমর্কতারা কারা?
    •তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া তো দুরের কথা, তাদের ব্যাপারে ইঙ্গিত দিতে গিয়ে কেন খোদ অথর্মন্ত্রীকেই এভাবে নাকে খত দিতে হলো ?
    (৩) অর্থমন্ত্রী বলেন, “আতিউর রহমান … একটুও লজ্জিত হননি। …কেন্দ্রীয় ব্যাংকে তাঁর অবদান প্রায় শূন্য (অলমোস্ট জিরো)। তিনি খালি পৃথিবী ঘুরে বেড়িয়েছেন আর লোকজনকে অনুরোধ করেছেন বক্তৃতা দেওয়ার জন্য তাঁকে সুযোগ দিতে ও দাওয়াত দিতে।”
    • এটা কি অথর্মন্ত্রী এতদিন পর দেখলেন ? এটা দেখার দায়িত্ব তো অথর্মন্ত্রীরই ছিল । এতদিন ধরে কেন তিনি চুপ ছিলেন ?
    •অধিন্যাস্ত এবং নিয়োগদাতা হিসাবে আপনারা এর দায়ভার কোনভাবেই এড়াতে পারেন কি?
    •তারা যখন কোন কাজই করতেন না তাহলে রাষ্ট্রের টাকায় এতদিন ধরে তাদের পোষা হলো কেন ?
    (৪) অর্থমন্ত্রী বলেন, “বেসিক ব্যাংক পুরোনো বিষয়। …বাংলাদেশ ব্যাংকই সব ধামাচাপা দিয়ে দিল।…. বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যাই হোক। রাজনৈতিক ব্যাপার-স্যাপার সব আলাপ করা যায় না।”
    •বাচ্চু প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় হবার কারনেই কি সব ধামাচাপা দেয়া হয়েছে ?
    •বেসিক ব্যাংকের দুনীর্তি ‘রাজনৈতিক ব্যাপার-স্যাপার’ ছিল, যা এতদিন পর স্বয়ং অথর্মন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেই নিলেন।
    (৫) অর্থমন্ত্রী বলেন, “আতিউরের অবদান প্রায় শূন্য। রিজার্ভের কৃতিত্ব তাঁর নয়, প্রবাসী শ্রমিকদের।”
    •অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেই নিলেন যে, সরকার এতদিন ধরে রিজার্ভের কৃতিত্ব নিয়ে যেসব গলাবাজি করে আসছে, তার পুরো কৃতিত্ব শুধুই প্রবাসী শ্রমিকদের।
    (৬) অর্থমন্ত্রী বলেন, “এনবিআরের চেয়ারম্যান কোনো কাজ-কাম করেন না। খালি বক্তৃতা দেন। তাঁরও পুরো আচরণ হচ্ছে জনসংযোগ করা। করুক, আপত্তি নেই। কিন্তু নিজের কাজটা তো করতে হবে। এক বছর হয়ে গেছে, অথচ এনবিআরের চেয়ারম্যান জানেনই না যে এনবিআর কীভাবে চলে।…
    তিনি এত বক্তৃতা দেন যে তাঁকে আসলে তথ্যসচিব বানিয়ে দেওয়া উচিত। … তিনি রাজনীতিবিদদের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন।”
    •দেশের অথর্মন্ত্রীর পদে থেকে এনবিআরের চেয়ারম্যান সম্পর্কে কোন ধরনের ভাষা ব্যবহার করতে হয়, সেটাই তিনি জানেন না।
    •অথচ তিনি দাবী করেন, ‘এই মুহূর্তে আমার চেয়ে বিশেষজ্ঞ দ্বিতীয় ব্যক্তি পৃথিবীতে নেই।’
    (৭) প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও ক্ষমতাবানদের চাপে পরেই ২৪ ঘন্টার মধ্যে অর্থমন্ত্রী নিজের বক্তব্যকেই অগ্রহনযোগ্য দাবী করে জানালেন যে, “সাক্ষাৎকার গ্রহণের সময় তিনি ‘অফ দ্য রেকর্ড’ কথা বলেছেন এবং সাক্ষাৎকার প্রকাশের আগে তাঁকে দিয়ে খসড়া অনুমোদন করানো হয়নি ।”
    কিন্তু প্রথম আলোর রেকর্ড মতে, “বিগত ২১ মাসে অর্থমন্ত্রীর পাঁচটি সাক্ষাৎকার প্রথম আলোতে ছাপা হয়েছে। সেসব সাক্ষাৎকার প্রকাশের আগে কখনই তাঁকে খসড়া দেখিয়ে নেওয়ার প্রসঙ্গ ওঠেনি। এবং গতকালের সাক্ষাৎকার নেওয়ার পরও খসড়া দেখানোর বিষয়টি আলোচিত হয়নি। এবং অর্থমন্ত্রী যেসব বিষয় প্রকাশ করতে নিষেধ করেছেন, সেসব বিষয় প্রথম আলো প্রকাশ করেনি।”
    (৮) •আসলে দেশের পুরো অথর্নীতি, ব্যাংক, আথির্ক প্রতিষ্ঠান – কোনটাই আর আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই ।

    Reply
  15. পাশা

    সমস্যা ওড়নাতেও না, ওল কচুতেও না। আসল সমস্যা দেশের মালিকানায়। দেশের মালিক কে- এই প্রশ্নের উত্তর আপনি দিবেন এক ভাবে, আর আপনার ছোট্ট শিশুটি দিবে অন্য ভাবে। এই মৌলিক প্রশ্নের উত্তর কী, সেটার সমাধান হওয়া জরুরী। সাংবিধানিক ভাবে যে দেশের মালিক এতোদিন আপনি ছিলেন, তা হঠাৎ করে হাসিনার হয়ে গেল ক্যামনে? হাসিনাকে দেশের মালিক কে বানালো?

    উত্তর একটাই- ৫ই জানুয়ারী।

    এইদিনই আপনার মালিকানা বিক্রি হয়ে গেছে, যা হয়তো তখন বুঝেন নি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বইয়ের পিছনে লেখা দেখে আজ আপনি হা-হুতাশ করছেন! লাভ নাই। দিস ইজ মেইড ইন ইন্ডিয়া। ওরা এখন আপনাকে ওড়না দিয়ে পেইচ্যা ওল কচু খাওয়াচ্ছে। আপনি তাই খাচ্ছেন, উপায় কী?

    আজ ৫ই জানুয়ারি- গণতন্ত্র হত্যা দিবস। থুক্কু, গণতন্ত্র ভিজাআ দিওয়াস। খুশি তো?

    Reply
  16. R. Masud

    জনাব অজয় দাস বাবু,
    যা পেশ করেছেন তাতে মোটেও ভুল নেই। অনেক গরু ছাগল মার্কা কমেন্টার উল্টা পাল্টা আরগুমেন্ট দেবেই তাতে কান পাতার দরকার নেই- আমার বলতে চাওয়া আসল কথাটা তা নয় কিন্তু –
    আজয় বাবুর লিখায় নিছের অংশটুকু থাকলে আমার কাছে লিখাটা ১০০% পূর্ণতা পেতো–
    ” বাংলাদেশে একটা জনগুস্টি আছে, যাদের পূর্ব পুরুষেরা দুশো তিনশো বছর আগে এই বাংলাতে এসে থাকলেও , তারা এখনো তাদের পূর্ব পুরুষদের জন্মস্থান টাকেই নিজের পরিচয় বলে বিশ্বাস করে, গর্ভ বোধ করে ( যারা তা করেনা তারা বাঙ্গালী হতে পেরেছে) । আর এতে জন্ম নেয় অন্যদের চাইতে নিজেদের উচ্চস্তরের মানুষ বলে ভাবা শুরু করার। গল্পের চলে, আলাপ করলেই ঐসব লোকেরা আপ্লুত হয়ে পড়েন কে কোথা কার লোক জন তার বয়ান দিতে । এরা মনেপ্রানে বাঙ্গালী হতে পারেনি বা হতে চায়না — । ফল হিসাবে, যে কোন লোক হাত তুলে ভারত বিরোধী বচন , উর্দু বলতে পারা গর্বের বুঝানো, ইসলাম গেলো গেলো বলা ইত্যাদি দিয়ে যুতসই এক খানা লেকচার মারলেই এই জনগুস্টি এক সেকেন্ডেই ঐ লোকের পিছনে দাঁড়িয়ে যায়। আর এখানেই হলো এই বাংলার দুঃখের মুল, যুগের পর যুগ মিরজাফরদের জন্মদিয়ে আসার কারন ”
    তাই এই বাংলায়, সত্যিকারের দেশ দরধী সরকারী দল আর বিরোধী দল এক সঙ্গে পাওয়া অনেক অনেক দিন পরের গল্প— আমাদের উত্তরসরীরা হয়তো পাবে কোন দিন — আরো এক হাজার বছর পর?

    Reply
  17. আনোয়ার পাশা

    হুমায়ুন আজাদের ‘আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম?’ বইতে লিখা শেখ মুজিবের সেই সময়ের কথাগুলো মনে ভেসে উঠছিল। তিনি লিখেছিলেন, মুজিবের কথা মনে হলে আমার জুলিয়াস সিজারের কথাই মনে পড়ে। মুজিব ক্রমশ হয়ে উঠতে থাকেন একনায়ক, গণতান্ত্রিক জুলিয়াস সিজার হয়ে উঠতে থাকেন একনায়ক সম্রাট জুলিয়াস সিজার। মুজিব পরিবৃত ছিলেন দুষ্ট রাজনীতিক, বিশ্বাসঘাতক ও স্তাবকদের দ্বারা– স্বার্থপরতা আর কৃতঘ্নতা ছাড়া যাদের আর কোনো প্রতিভা ছিল না। তারা অনেক আগে থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতে থাকে, তিনি তা বুঝতে পারেননি। চক্রান্ত করার থেকে যা ভয়াবহ তা হচ্ছে, তারা তাঁকে দূষিত করতে থাকে; জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে থাকে। মুজিবকে রাজমুকুট দেওয়া হয়নি, দেওয়া হয়েছিল সংবিধানের ‘চতুর্থ সংশোধনী’। সেটি তিনি হাতে ঠেলে সরিয়ে দেননি, গ্রহণ করেছেন; সেটি ছিল রাজমুকুটের চেয়েও শক্তিশালী। মুজিবকে ‘চতুর্থ সংশোধনী’র মাধ্যমে অর্পণ করা হয় মহারাজমুকুট, ক্ষমতা দেওয়া হয় স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি। তিনি কি একটি রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করে রেখে যেতে চেয়েছিলেন যুবরাজদের, যারা তাঁর পরে হবে বাংলাদেশের নিরঙ্কুশ অধীশ্বর? চতুর্থ সংশোধনী তাঁকে করে তুলেছিলো মহাএকনায়ক; কিন্তু ওটি ছিল তাঁর জন্য আত্মহত্যা্ , নিহত যদি নাও হতেন, চতুর্থ সংশোধনীর পর তাঁর জীবন হত ধারাবাহিকভাবে আত্মহত্যা। মহানেতার মর্মস্পর্শী পরিণতি! পৃথিবীর সকল স্বৈরশাসকরা আপনাদের মতোই এই ধরনের অতি আত্মবিশ্বাসে ভুগে থাকে। তারা চিন্তা করতে থাকে পুলিশ ও দলীয় সন্ত্রাসী দিয়ে সবকিছুকে ঠাণ্ডা করে দেওয়া যায়।

    Reply
    • R. Masud

      জনাব পাশা
      দুনিয়াতে এমন কোন দেশ নেই, যেখানে যুদ্ধে চরম ভাবে ভেঙ্গে পড়া দেশকে গড়ে তোলার চাইতেও রাজনীতি, বাক স্বাধীনতা , নিজের চাহিদা খোজা ইত্যাদিকে অগ্রাদিকার দিয়ে সেই দেশ গোরে উঠতে পেরেছে।
      বঙ্গবন্ধু এখানেই করেছিলেন চরম ভুল। ১৯৭২ সনে দেশে ফিরার ১ সপ্তাহের ভীতর বাকশাল গঠন করে দেশ চালানো শুরু করা উচিৎ ছিল। একটু দাঁড়িয়ে উঠার পর, হয়তোবা ৫ বছর লাগতো(!), “রাজনীতি, বাক স্বাধীনতা , নিজের চাহিদা খোজা ইত্যাদিকে ” ছাড় দিলেই আজ আমরা যা ২০৪১ সনে পাবো বলে আশা করছি, তা হয়তো ১৯৯০ তেই পেতাম।

      Reply
  18. খুন করে অট্টহাসি

    এখানে যারাই বিএনপিকে নিয়ে লিখে তারা প্রথমতঃ আকারে-ইঙ্গিতে বা সরাসরি হাসিনার অবৈধ সরকার ও কর্মকান্ডগুলোকে সাপোর্ট দেয়। দ্বিতীয়তঃ পুলিশ, প্রশাসন, বিচার বিভাগ দিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের উপর চরম নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানোকে সাপোর্ট দেয়। তৃতীয়তঃ রাজনীতি বা আদর্শকে রাজনীতি বা আদর্শ দিয়ে মোকাবিলা না করে অবৈধ ক্ষমতার জোরে নিপীড়ন, খুন, হত্যা ইত্যাদি চালিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মকান্ডকে অবৈধ ভাবে বন্ধ করে বা দমিয়ে রেখে তারপর মন্তব্য করে সেই দলটি শেষ বা দূর্বল হয়ে গিয়েছে এবং এভাবে কোন দলকে নীপিড়ন চালাতে পারাকেই চরম ও পরম সফলতা বলে আত্মপ্রসাদ, অহংকার করতে থাকে। তাই তাদের সেই মানসিকতাকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বলার চেষ্ঠা করেছি, “প্রতাপ যখন চেঁচিয়ে করে দুঃখ দেবার বড়াই, জেনো মনে, তখন তাহার বিধির সঙ্গে লড়াই”
    “সূর্যের ধরনীতলে পতনের মতো এক অবিশ্বাস্য সংবাদ। এও কি সম্ভব? এও কি হয়? কার এমন সাহস, কার এমন বুকের পাটা যার আবির্ভাব না হলে এ দেশ স্বাধীন হতো না, সমগ্র জাতি যাকে মাথার মুকুট করে রেখেছে, হিমালয় সমান সেই মহীরুহকে কারা হত্যা করলো?” বাকশালের দূর্ভাগ্যজনক পরিণতির খবর শুনে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা একসময়ের প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরীর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। সবকিছুরই শেষ আছে। যারা এটি বুঝে তাদের কর্মতৎপরতা হয় একরকম, না বুঝলে পরিণতি হয় অন্যরকম। ক্ষমতার দম্ভে বিচারের নামে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের খুন করে অট্টহাসি দেয়া খুবই সহজ, কিন্তু আদর্শ ধ্বংস করা সহজ নয়। গোপালগঞ্জীদের হাতে পোষাক ও অস্ত্র তুলে দিয়ে রাজনৈতিক বিরোধীদের পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা যায়, কিন্তু পরিণতি ঠেকানো যায় না, কখনো যায়নি। প্রতিবেশী দেশের উপর ভর করে গণভবন দখল করে রেখে নির্যাতন, নিস্পেষণ চালিয়ে কি মনে করেছেন ১৬কোটি মানুষকে আজীবন দমিয়ে রাখবেন? না, প্রকৃতি তা বলে না, বাংলাদেশের ইতিহাসও তা বলে না। দেশ, সমাজের সকল পর্যায়ের সম্মানি মানুষকে অসম্মানিত করে মুচকি হাসছেন, কান্না আসতে খুব বেশি দেরী নেই।

    Reply
  19. রেজাউল

    আওয়ামীলীগ পর পর দুই বার পাওয়ার এ এটা কি জনগন দারা নির্বাচিত? ইনিয়ে বিনিয়ে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী, অগণতান্ত্রিক সরকারকে যে আজীবন এদেশের জনগণের উপর চাপিয়ে রাখতে চান তাই ফুটিয়ে তুলেছেন। কিন্তু প্রকারান্তরে স্বীকার করতেও বাধ্য হয়েছেন আওয়ামী লীগের শক্তির যে মহড়া দেখছেন তা আসলে খালি কলসি, বেশি বেশি বাজছে। এসব ফাঁকা আওয়াজ। যত চেষ্ঠা, কুটকৌশল, ষড়যন্ত্র আওয়ামী লীগ করতে চাই করতে থাকুক, সময় আসবেই। আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে এমন ভাবে মানুষ ছুড়ে ফেলবে আওয়ামীরা পরিচয় দিতেও সাহস পাবে না। কারণ একটিই, আওয়ামী লীগ তথা হাসিনার অপশাসন, লুটপাট, চরম নির্যাতন, বিনা অপরাধে রাজনৈতিক বিরোধীদের ফাঁসি, হত্যা, গুম ইত্যাদি। তাই ২০২৪ বলেন, ২১২৪ বলেন পুলিশ-বিজিবি ইত্যাদি দিয়ে হয়তো ক্ষমতা বেশ কিছুদিন ধরে রাখতে পারবে, কিন্তু পরিণতি হবে ভয়াবহ।
    শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে যতই শক্তিশালী মনে হয়, বাস্তবে তা নয়। একটি রাজনৈতিক দলের এর চেয়ে আর অধঃপতন আর কি হতে পারে যে পুলিশ-বিজিবি-ক্ষমতার প্রটেকশন ছাড়া কেন্দ্র থেকে নিয়ে ইউনিয়ন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কোন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা নিজেদের নিরাপদ বোধ করছে না। ক্ষমতা ছাড়া একদিনও নিজের এলাকায় থাকার সাহস করছে না। শেখ হাসিনা তার দলকে এত ভয়াবহ অবস্থায় নিয়ে গিয়েছে। চিন্তা করে দেখুন আওয়ামী লীগের অবস্থা। এ অবস্থায় ২০১৯, ২৪ যা চিন্তা করুক, ভোটারবিহীণ, ফ্যাসিবাদী শাসন যতদূর টানবে তার ফলাফল একটি এবং শুধু একটি, পতন ও জনগণের ঘৃণা।

    Reply
    • R. Masud

      অবশ্যই জনগনের ধারা নির্বাচিত।
      যেখানে জনগন ভোট দিতে পারেনি সেখানে বি এন পি জামাতের পেট্রোল বোমার ভয় ছিল। জনগন ভোট দিতে পারেনি তার জন্য দায়ী আওয়ামীলীগ ছিলোনা, সুস্থমস্থিসকে ভাবলে একটা ছাগলও বুঝার কথা এর জন্য দায়ী বি এন পি, জামাত- তারা হাজারো ছেস্টা করেছিল জনগণ যাতে ভোট দিতে না পারে ( এটা কি গনতন্ত্র)–
      জানি যুক্তি দেখাবে, তত্তাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন হতে পারেনা –
      তা খণ্ডাতে বলতেই হয় – বাংলাদেশের সংবিধানে তত্তাবধায়ক সরকার এখন না জায়েজ। আর এই সংবিধান পরিবর্তন হয়েছিল গনতন্ত্রের রীতি নিয়ম মেনেই ( ২০০৯ সনের জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদদের দিয়েই ( মিলিটারী শাসকের কলমের এক খোচায় নয়) , এই নির্বাচন ছিল ১৯৭৫ এর পর সবচাইতে সৎ নির্বাচন, যা সারা দুনিয়া বলে )
      ২০০৯ সনের নির্বাচন আর গেলো মাসের নাসিক নির্বাচনের পর – বি এন পি নেতাদের কমেন্ট দেখে কি মনে হয়েছে??
      নারায়নগঞ্জের চাসাড়া, ব্যাঙ্ক কলোনি আর বন্দর এলাকায় আমার চেনা অনেক বি এন পি সমর্থক কে জিজ্ঞাসা করাছিলাম, নাসিক নির্বাচনের পর বি এন পির নেতারা যেই বিবৃতি দিচ্ছেন, একজন গোঁড়া বি এন পি সাপোটার হিসাবে তোমরা কি মনে কর? — উত্তর এলো, এরপর সত্যকারের কারচুপি হলেও বি এন পি সাপোটাররাও এদের কথা আর বিশ্বাস করবেনা!!!!

      Reply
    • বাঙাল

      @রেজাউল, নারায়নগজ্ঞ সিটি নির্বাচনে শোচনিয় পরাজয়ের পরও সম্ভাবত আপনার হুস হয় নাই। তাই ধরনের অন্তসার শুন্য বাগম্বর করছেন। বিএনপি-জামাত জোট কোন দিনেই এই দেশের জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয় নাই। যতবারই তারা ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই তা এসেছিল প্রষাদ যরযন্ত্রের মাধ্যমে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির ৩৭ জন সংসদ প্রার্থির জামানতই বাজেয়াপ্ত হয়েছিল, অর্থাৎ কিনা বাংলাদেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ৩৭টি (৮ ভাগের ১ ভাগ) আসনে তাদের গনসমার্থন শুন্য পর্য্যায়ে ছিল। তারপরও তারা নির্বাচনে জিতেছিল তৎকালিন নির্বাচন কমিসনার বিচারপাতি আবদুর রউফ এর কল্যানে।বিচারপাতি রউফের বর্তমান অবস্থান স্পষ্টই করে তিনি কি করেছিলেন সেদিন। সেই সময় বিএনপির এই অপ্রাত্যাশিত জয়কে হালাল করার জন্য একটি শদ্ব তারা চালু করেছিল “নিরব ভোটার” , সেই ভৌতিক ভোটারা নাকি বিএনপিকে ভোট দিয়েছিল। এবার নারায়নগজ্ঞ সিটি নির্বাচনেও বলা হয়েছিল সেই ভৌতিক “নিরব ভোটারা” নাকি আসবে ভোট দিতে। বাস্তবে নিরব ভোটার নামের কোন ভোটার বাংলাদেশে নাই। আর ২০০১ এর নির্বাচন বিচারপাতি লতিফুর রহমান কি “হোমওয়ার্ক করে” নির্বাচনে নেমেছিল তা এখন স্পষ্ট। ২০০৮ সালের সবচেয়ে অবাধ ও নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ব্যালটবাক্স, নির্বাচনে বিএনপি-জামাত জেটোর শোচনিয় পরাজয় ঘটে, সেখানেই জানা গেল এই স্বাধিনতা বিরোধি জোটের ভোটের পারিমান ৩২%, যেটা ১৯৭০ সালে ছিল ২৬%। তাই যাই বলেন না কেনো, এই দেশের জনগন কোনদিনই পাকিস্থানি এজেন্ড “বিএনপি-জামাত” জোটকে ভোট দিবে না। বাংলাদেশের স্বাধিনতার ধারক ও বাহক এর দল আওয়ামী লীগ এই দেশের গনমানুষের দল, যারা ক্ষমতায় টিকে আছে জনগনের সামর্থনে। বিএনপি নেত্রীর শত আহ্বাবান, অনুনয় বিনয়েও এই দেশের জনগন তাতে সারা দেয়নি। কিছু সংখ্যক জামাত-শিবির সন্ত্রাসিদের দিয়ে জ্বলাও-পড়াও আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি আজ জনগন দ্বারা প্রত্যাখিত একজন রাজনৈতিক নেত্রীতে পরিনত হয়েছেন।

      Reply
  20. রোমান

    মনে হলো আওয়ামী লীগের প্রচারপত্র পড়লাম। ক্ষমতাসীন হওয়ার পরে থেকে দলীয়করণ, বিরোধী রাজনৈতিক দলকে মামলা-হামলায় রাখা, ভিন্ন মতালম্বীদের বিভিন্নভাবে লাঞ্চনা করা, জাতীয় স্বার্থ বিরোধী বিভিন্ন অস্বচ্ছ চুক্তি ও তা প্রকাশ না করা, পরিবারপ্রীতি ও পরিবারের জন্য সাত খুন মাফ দৃষ্টিভঙ্গী ধারন নিয়ে শ্রী সরকার একটি বাক্যও ব্যয় করেন নি। যেন, উপরের তালিকামতো কিছুই বাংলাদেশে ঘটছেনা। যেন বাংলাদেশে আইন স্বাধীনভাবে পথ পরিক্রমা করছে। যেন সাগর-রুনী-তনু খুন হননি। শক্তিপ্রয়োগ করা হচ্ছে এই মন্ত্রে: “সেই সত্য যা রচিবে তুমি, ঘটে যা তা সব সত্য নহে”।

    Reply
  21. মহিউদ্দিন

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানে দেয়া রাষ্ট্রের সংজ্ঞা অনেক আগেই পদদলিত হয়েছে। রাষ্ট্র এখন আর নাগরিকদের প্রতিপালনের প্রতিষ্ঠান নয়। এটি এখন কিছু মুনাফাখোর আর লোভী নিষ্ঠুর মানুষের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটি এখন এমনভাবে আওয়ামী করুন করা হয়েছে যার চেতনার ভিত্তি দেয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধকে। এমনভাবে মুক্তিযুদ্ধের চিত্রায়ন করা হচ্ছে যার ফলাফল হচ্ছে ঘৃণা, বিদ্বেষ আর হত্যা। আর চেতনাকে ধারাবাহিক করতে জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে নাগরিকদের অধিকার। বিচার ব্যবস্থাকেও নাগরিক স্বার্থের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়েছে। এতো মিথ্যাচার, ভণ্ডামি আর জোচ্চুরির নিষ্ঠুর রাষ্ট্র ব্যবস্থায় লাখ লাখ বদরুল পয়দা হবে এটাই স্বাভাবিক। লাখ লাখ বললাম এটা যে ভুল নয় সেটা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিপক্ষের প্রতি এই চেতনাবাজদের অশ্লীল বাকি বর্ষণ দেখলেই বোঝা যায়।শিক্ষাব্যবস্থাকে অখাদ্যে পরিণত করে অমানুষ তৈরির পথকে প্রশস্ত করে দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্র দখলের মতো কুব্যবস্থাকে পাকা পোক্ত করতে আওয়ামীদের দ্বারা পুরো জাতিকে দূষিত করতে ভারতীয় প্রেসক্রিপশনে এগুলো হয়েছে। জাতি এটা বুঝলেও অন্য রাজনৈতিক নেতারা তা বোঝে কিনা আমার যথেষ্ট সন্দেহ; যদি বোঝে আর বুঝেও চুপ থাকে তবে বুঝতে হবে এদের কারুর দ্বারাই জাতির উদ্ধার পাওয়ার আশা দুরাশা।

    Reply
  22. আশেক

    ” বদলে যাওয়া
    বাস্তবতায় মানুষ আর আগের মতো মাঠে
    নেমে রাজপথে রাজনীতির জন্য জান দেবে
    না। সেটা বিএনপি টের পেলেও মানতে
    পারছে না ” But আওয়ামীলিগ কি পারছে ?????

    Reply
  23. ragibhasan

    তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনার কিছু হলে সারা দেশে নাকি আগুন জ্বলে উঠবে। সরকার প্রধানের কোনো জাতীয় কিছু হলে দেশে তার দল আগুন জ্বালাতে চাইবে– এটা একটি শিশুও বলতে পারে। প্রশ্ন হচ্ছে, এমন আতংক সরকারি দলের সম্পাদকের মনে বাসা বাঁধল কী কারণে? – লেখকের এই বক্তব্যটুকু ভালো লাগল।আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যাপারে সস্তাভাষায় কথাটা বলেছেন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশ শুধু নয়- বিশ্ববাসীর কাছে গ্রহণযোগ্য একজন নেতা ও রাষ্ট্রনায়ক। এ দেশের স্বাধীনতা বিরোধী এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা এবং যারা স্বাধীনতাবিরোধীদের মন্ত্রী বানিয়েছে, জাতীয় পতাকা হাতে তুলে দিয়েছে। তারা শেখ হাসিনার মঙ্গল চাইতে পারেন না। তার নিরাপত্তার ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া উচিত।

    Reply
  24. সৈয়দ আলি

    অবশ্যই এতদিন খালেদা নিশ্চুপ থাকতেন। আর কে না জানে ‘বান্ধা’ ছালার দাম লাখ টাকা। এখন যখন তিনি জবান মোবারক খুলে যা বলছেন, তা হচ্ছে উস্কানি।
    একটু ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকাই। দেখা যাক শ্রী দাশগুপ্তের বিশ্লেষন মোতাবেক ‘যাঁরা সরব বা মুখ খোলা রাখেন তাঁদের অন্তর সরল হলেও মুখের কথা মাঝেমধ্যে বিপদে ফেলে বইকি। শেখ হাসিনা সোজাসাপ্টা, সরাসরি কথা বলেন বলে প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়েন।’ বেশী দুরে নয়, ১৯৯০ এর দশক থেকে ‘সরল অন্তরে’ প্রধানতঃ তিনি কি কি বলেছেন:
    ১. ছাত্রদল যদি ছাত্রলীগ কর্মী হত্যা করে, সরল অন্তরে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘হাতে চুঁড়ি পরে থাকো? একটা লাশ পড়লে দশটা লাশ ফেলবা’।
    ২. সরল অন্তরে তিনি অসংখ্যবার বলেছেন, ‘খালেদা পাকিস্তানের এজেন্ট’। তবে অতি সরল অন্তরে তিনি ক্ষমতায় থেকেও খালেদার নামে একটি মামলাও করেননি।
    ৩. ১৯৯১ নির্বাচনের পরে তিনি নিতান্তই সরল মনে বলেছিলেন, ‘নির্বাচনে ‘সুক্ষ’ কারচুপি হয়েছে। অর্থাৎ যেহেতু তিনি জিতেন নি, তাই সে নির্বাচন স্বচ্ছ হয়নি।
    ৪. ১৯৯১ এর সংসদে দাঁড়িয়ে অতি সরল মনেই বলেছিলেন, ‘ধাক্কা দিয়ে গনতন্ত্র শেখাবো। একটি দিনও শান্তিতে থাকতে দিবোনা’। তিনি কথা রেখেছিলেন।
    ৫. ১৯৯৬ সালে বিএনপিকে গদী থেকে হটাতে জামাত-জাতীয় পার্টির সাথে পরিকল্পনা করতে ঝালমুড়ি খেয়ে সারল্য দেখিয়েছেন।
    ৬. ২০০১ সালে নির্বাচনে গো-হারা হেরে তৎকালীন রাষ্ট্রপতির কাছে দৌঁড়ে গিয়ে নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করতে দাবী জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি অসম্মতি জানালে তাঁকে সরল মনেই সরাসরি বেইমান বলেছেন (বিচারপতি সাহাবুদ্দিনের ভাষ্য)।
    ৭. বিএনপিকে হটিয়ে মৈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন ক্ষমতায় এলে অতি সরল চিত্তে শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, ‘এই সরকার আমাদের আন্দোলনের ফসল। আমরা এই সরকারের সব কর্মকান্ডকে সমর্থন দেবো’।
    ‘সরল মনে’ বলা শেখ হাসিনার আরো অনেক উদ্ধৃতি দেয়া যায়। প্রয়োজন মনে করছিনা। পাঠক-পাঠিকাদের সব মনে আছে।
    তবে একটি মূল্যবান মন্তব্য করেছিলেন এটিএন এর মাহফুজুর রহমান। তিনিও সরল মনেই বলেছিলেন, ‘শেখ হাসিনা বাচাল মানুষতো, তাই অনেক ফালতু কথা বলেন’।
    আমি উপরে যাইই লিখে থাকি, উস্কানি খালেদাই দিচ্ছে। শ্রী দাশগুপ্ত সঠিক বলেছেন। শেখ হাসিনা জীবনেও উস্কানি দেননি।

    Reply
    • রফিকুল হাসান খান

      রাজনীতি যুগ যুগ ধরে একটা পাশা-দাবা খেলা। এখানে গুটি চালিয়া বাজিমাত যে করবে সেই জিতবে আর হেরে গেলে খুব বেশী কিছু করার আছে কি নতুন করে গুটি সাজানো ছাড়া !
      বিএনপির জন্য কান্নাকাটি বাদ দিয়ে নতুন করে গুটি সাজাতে বলুন!
      ১- খুনী-ধর্ষক-রাজাকারদের বাদ দিয়ে দল-জোট গঠন করতে বলুন
      ২- জিয়া অরফ্যানেজসহ সব মামলায় আদালত মোকাবেলা করতে বলুন
      ৩- ফালু বনাম মেজর মান্নানের তেজগাঁ উপনির্বাচন, মাগুরা উপনির্বাচন বা বিচারপতি লতিফুরের হোম-ওয়ার্ক অথবা রাষ্ট্রপতি-প্রফেসর ইয়াজ উদ্দিনের বাইপাস সরকার পদ্ধতির গণতন্ত্র চিরতরে ত্যাগ করতে বলুন
      ৪- আওয়ামী লীগকে ওয়াক ওভার দিয়ে ক্ষমতায় বসানোর জন্য পুড়িয়ে নিরীহ মানুষ হত্যার স্মৃতি জনগনের মন থেক মুছতে কাজ করতে বলুন
      ৫- বেকার সমস্যা, রাস্তা-নদী-ফুটপাথ বেদখলসহ শাসক দলের নেতা-কর্মীদের দূর্নীতির বিরুদ্ধে মাঠে নেমে জনগণের মধ্যে কাজ করুন, আস্থা নিয়ে আসতে বলুন

      Reply
    • R. Masud

      Mr. S Ali
      The list you had gven for Hasina, the same list if you make for any other politician of Bang;adesh or even of yourself it will be 10 times bigger.
      Shadhu — apna Tail turn over and check!!

      Bangladesh is advancing, praising by other parts of the world, we should look to that line ( over all). Every human has his/her drawback, only one who doesn’t have any drawback is our prophet ( as per Quran

      Reply
    • আবদুর রহিম

      জনাব সৈয়দ আলি, আপনি একতরফা লিখেছেনঃ
      গত কয়েক বৎসরে বিএনপি বারবার সুযোগ হারিয়েছে – কারণ তাঁদের ধৈর্য বলতে কিছুই নেই। আপনি তো জানেন রাজনীতিতে কৌশলগত কারনে চরম শত্রুর সাথে আঁতাত হয়েই থাকে। স্টালিনের সাথে হিটলারের(চুক্তিও হয়েছিল,পরে হিটলারই চুক্তি ভঙ্গ করে রাশিয়া আক্রমণ করে আগে), মাও সে তুং’এর সাথে আইউব খানের( যার ফলে চীন সফর করে এসে মৌলানা ভাসানী বলেছিলেন “ডোন্ট ডিস্টার্ব আইউব”), পাকিস্তানের সাথে আমেরিকার, সৌদী বাদশাহর সাথে আমেরিকার, এরশাদের সাথে চারদলীয় ঐক্যজোট নামে খালেদা-নিজামীর। এত সুযোগ পেয়েও আন্দোলন দীর্ঘায়ত না করে ব্যাপক বোমাবাজি করে বিএনপি, অবরোধ ঘোষনা করে(যা এখনও প্রত্যাহার করেনি), নির্বাচন ঠেকাতে আগুন দেয়, মানুষ মারে।

      আপনারা বিএনপিকে এখন ও সঠিক ধারাতে আসতে বলছেন না কেন? কেন জনমানুষের দুঃখ কষ্টের প্রতিবাদ করতে তারা মাঠে না নেমে কেবল ক্ষমতার লড়াই(মুখে অবশ্য তা গণতন্ত্রের লড়াই) করছে বি এন পি?

      অথচ আন্দোলনের জন্য আগে জনভিত্ত গড়তে হয় আর এজন্য শাসকদল তো ফুলের বিছানা করে দেবেনা, বাঁধাই দেবে। তাঁর পরেও কাজ করে যেতে হবে (যার কোন লক্ষন বিএনপিতে নেই)।

      দুটো হতে পারে-

      ১- আপনার চান বিএনপিকে উলটা পালটা বুঝগিয়ে শেষ হওয়ার পথে ঠেলে দেওয়া

      ২- আওয়ামী লীগের ভুল-ত্রুটি-দূর্নীতি-অপশাসনের বিরুদ্ধে কাজ করতে করতে সবাই যদি ভাল হয়ে যায় (বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ) তাহলে তৃতীয় শক্তি (ফায়দাবাজ) দমে যাবে

      Reply
  25. RIMI

    আপনাকে অনেক ধন্যবাদ চমৎকার একটি বিষয় নিয়ে লেখার জন্য। পড়ে বেশ ভাল লেগেছে। অনেক ভাল থাকবেন।

    Reply
  26. russell

    “সরকারের নানা নেগেটিভ কাজের পরও জনগণের মনোভাবে চিড় ধরেনি। “- ——–কি কি নেগেটিভ কাজ ? একটু বলেন না দাদা

    Reply
  27. kamal ahmed

    We don’t expect any good comment by a radical hindu like ajay das gupta. It doesn’t matters to any body in the country about what he said or not . We don’t want any comment from an indian agent.

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—