women - 27

ছোটবেলায় গল্পের আসরে শুনেছিলাম ভূতের পা নাকি থাকে উল্টো দিকে। সে তাই সর্বক্ষণ অতীতের দিকে তাকিয়ে থাকে। সামনে এগোতে পারে না, জীবনের পথে হাঁটতে পারে না। ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৬’ দেখে সে কথাই আবার মনে পড়ল। আইনটির খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ থাকছে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে ‘সর্বোত্তম স্বার্থে’ আদালতের নির্দেশে এবং মা-বাবার সম্মতিতে যে কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ে হওয়া সম্ভব।

এই বিশেষ ক্ষেত্রে বিয়ের প্রসঙ্গটি ১৯ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ ক্ষেত্র বলতে বোঝানো হযেছে কিশোর-কিশোরীর প্রেম এবং গর্ভধারণের পর মা-বাবা চাইলে আঠারর নিচে বয়সী কন্যার বিয়ে দিতে পারবেন। তাছাড়া আদালতের নির্দেশে বিশেষ ক্ষেত্রে কন্যাশিশুর বিয়ে হতে পারবে। বিপজ্জনক বিষয় হল, আঠারর কত নিচে কন্যাশিশুর বিয়ে হতে পারবে তা এখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ আইনে যেখানে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৪ করা হয়েছিল সেখানে ২০১৬ সালে পৌঁছে আমাদের বিশেষ ক্ষেত্রের কথা শুনতে হচ্ছে, বলতে হচ্ছে। ১৩ বছর বয়সেও কন্যাশিশু গর্ভধারণ করতে পারে। তাহলে কি নতুন আইনে ১৩ বছরের মেয়ের বিয়েও বৈধ হবে?

১৮ বছর বয়সের আগে একটি মেয়ের শারীরিক গঠন পূর্ণতা পায় না। ১৮ বা ২০ বছর বয়সের আগে সন্তান জন্ম দিলে সে সন্তানও হয় অপুষ্টি কিংবা অন্যান্য শারীরিক জটিলতার শিকার। এটি আমার কথা নয়। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যবিদদের কথা।

স্বাস্থ্যগত প্রসঙ্গ বাদ দিলেও একটি মেয়ের লেখাপড়া যে বিয়ের পরই অধিকাংশ ক্ষেত্রে অসমাপ্ত রয়ে যায় সে কথা কি অস্বীকার করার কোনো উপায় আছে? স্কুলপড়ুয়া একটি মেয়েকে বিয়ে দিয়ে তাকে সংসার ও সন্তান পালনের দায়িত্বে আটকে দিলে তার উচ্চশিক্ষা গ্রহণ বা পেশাগত জীবনে প্রবেশ কি আর সম্ভব হবে? মেয়েদের উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত জীবন কি আরও পিছনে ঠেলে দিবে না এই আইন?

মেয়েদের বিয়ের বয়স এখন ১৮। কিন্তু বাস্তবে ১৩ থেকে ১৬ বছর বয়সে মেয়েদের বিয়ে হচ্ছে গ্রামে-গঞ্জে এবং শহরের বস্তি এলাকায়। এমনকি কিছুৃ কিছু ক্ষেত্রে শহরের সচ্ছল মধ্যবিত্ত-উচ্চবিত্ত এবং শিক্ষিত-উচ্চশিক্ষিত পরিবারেও এমন রেওয়াজ রয়েছে। বাল্যবিবাহ ঠেকাতে প্রশাসনের সাহায্য নিতে হচ্ছে বহু জায়গায়। এখন যদি আইনেই ছাড় দেওয়া থাকে তাহলে ভবিষ্যতে এসব ক্ষেত্রে প্রশাসনের সাহায্যও পাওয়া যাবে না। ঘরে ঘরে কিশোরীদের বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া শুরু হবে। বখাটেরা অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে করতে আগ্রাসী হয়ে উঠবে। ধর্ষণের শিকার অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর বিয়ে হবে ধর্ষকের সঙ্গে।

এসব ভয়াবহ ঘটনার সম্ভাব্যতার কথা ভেবে শিউরে উঠতে হচ্ছে।

 

Girl Student - 111
স্বাস্থ্যগত প্রসঙ্গ বাদ দিলেও একটি মেয়ের লেখাপড়া যে বিয়ের পরই অধিকাংশ ক্ষেত্রে অসমাপ্ত রয়ে যায় সে কথা অস্বীকার করার উপায় আছে?

 

অথচ বলা হয়েছে, এটা করা হচ্ছে সর্বোত্তম স্বার্থে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাল্যবিবাহের অভিশাপ বহু পুরনো। ৮ বছরে গৌরীদান ও ৯ বছরে রোহিনীদানের নামে শিশু মেয়েকে ঠেলে দেওয়া হত মেরিটাল রেপের নির্মমতার পথে। বিয়ের রাতেই শিশুকন্যার মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে শারীরিক নির্যাতন ও মানসিক ট্রমা থেকে। ধর্মের দোহাই দিয়ে সে সময় বলা হয়েছে মেয়ে যেন পিতৃগৃহে রজঃস্বলা না হয়। একইভাবে ধর্মের দোহাই দিয়ে বাল্যবিবাহের পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছে মুসলিম মেয়েদেরও।

ধর্মসম্প্রদায়নির্বিশেষে বাল্যবিবাহের প্রধান কারণ হল নারীর উপর পুরুষের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। একটি শিশু মেয়েকে তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে অচেনা একটি পরিবেশে নিয়ে গেলে স্বভাবতই সে প্রচণ্ড অসহায় বোধ করে। সেই ভীতসন্ত্রস্ত শিশুকে স্বামী এবং তার পরিবারের সদস্যরা ইচ্ছামতো পরিচালনা করতে পারে। নারীর ব্যক্তিত্ব যেন স্বাধীনভাবে বিকশিত হতে না পারে সেজন্যই এই ব্যবস্থা।

পাকিস্তানের উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, আফগানিস্তান ও ভারতের রাজস্থানের কিছু জায়গায় (যেখানে পুরুষতন্ত্র প্রচণ্ড ক্ষমতাশালী) এখনও বাল্যবিবাহ রয়েছে ভয়াবহ রূপে। আফগানিস্তানে পাঁচ-ছয় বছরের শিশু মেয়েকেও বিয়ে দেওয়া হয়। শিশুর বরও যে সব সময় শিশু হয তা নয়। চল্লিশ বা পঞ্চাশ বছরের পুরুষও শিশু মেয়ে বিয়ে করতে পারে। আমাদের নতুন বাল্যবিবাহ আইনের হাত ধরে আমরা সেদিকে যাবার পাঁয়তারা কষছি কি না সে আশংকা তাড়া করছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় সেই উনিশ শতকে মহান সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। এই কুপ্রথা নারীর বিকাশের সকল পথ কীভাবে রুদ্ধ করে দেয় তা পরবর্তীকালে বিভিন্ন লেখকের লেখায় প্রকাশিত হয়েছে।

বাংলাদেশে আমরা যে অপুষ্টির বিষচক্রে আবর্তিত হচ্ছি তার একটি প্রধান কারণ বাল্যবিবাহ। আর নারীর উচ্চশিক্ষার পথ রোধের প্রধান হাতিয়ারও এটি। এসব নিয়ে অনেক কথা বলা হয়েছে, লেখাও হয়েছে। সেগুলো আবার নতুনভাবে বলতে গেলে পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটা হবে। কিন্তু প্রশ্ন হল, এত বছর পর আবার নতুন করে বাল্যবিবাহের কুফলগুলো তুলে ধরতে হচ্ছে কেন? বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার মতো প্রগতিবিরোধী চিন্তা ও পদক্ষেপ কেন নেওয়া হল?

সর্ষের ভিতর থেকে এই বিশেষ ছাড়ের ভূতটা দূর করা না গেলে নারীর উন্নয়ের সব প্রচেষ্টা যে ভণ্ডুল হয়ে যাবে একথা তো স্বাভাবিক বুদ্ধিবলেই বোঝা যায়। যে বিশেষ ক্ষেত্রগুলোর কথা বলা হচ্ছে সেগুলো ‘রাবিশ’ ছাড়া আর কিছুই নয়। বলা হচ্ছে, কিশোর-কিশোরীরা পালিয়ে বিয়ে করে। তাহলে কি ছেলেদেরও বিয়ের বয়স কমানো হচ্ছে? তা কিন্তু হচ্ছে না। তাহলে কীভাবে কিশোর-কিশোরীদের স্বার্থে এই ছাড় দেওয়া হল? বরং কোনো কিশোরীকে যদি কোনো পূর্ণবয়স্ক পুরুষ ফুসলে নিযে যায় সে ক্ষেত্রে ওই লোকটির সুবিধা করে দিবে এই বিশেষ ছাড়।

তর্কের খাতিরে যদি ধরে নিই যে, কিশোর-কিশোরীরা পালিয়ে বিয়ে করছে বলে আইনে তাদের জন্য ছাড় রাখা দরকার ছিল– বাস্তবতা হল, কিশোর বয়সে পালিয়ে বিয়ে করায় কোনোভাবেই উৎসাহ দেওয়া উচিত নয়। বরং সেটি প্রতিরোধের চেষ্টা করা উচিত।

আবার বলা হয়েছে, বাবা-মা যদি ভালো মনে করেন তাহলে শিশু মেয়ের বিয়ে দিতে পারেন। এদেশের অশিক্ষিত ও অসচেতন অনেক পিতা-মাতা ভালো মনে করে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিতে পারেন পাঁচ বছর বয়সেও। প্রলোভনে পড়েও অনেক বাবা-মা শিশু মেয়েকে তার লেখাপড়া মাঝপথে বন্ধ করে বিয়ে দিয়ে দিতে পারেন। রাষ্ট্রও যদি সেটি সমর্থন করে তাহলে মেয়েটির পাশে দাঁড়াবার আর কেউ থাকবে না!

১৮ বছর বয়সের আগে মেয়ে শিশুদের বিয়ের সুযোগ রাখা একটি আত্মধ্বংসী আইন বলে মনে করছি। এত গুরুতর একটি বিষয়ে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া বা বৈধতা দেওযা চলবে না। ভূত উল্টো দিকে চলতে পারে। কিন্তু সচেতন মানুষ চলে সামনের দিকে, প্রগতির পথে।

এ কথা আমরা বোধহয় জাতি হিসেবেই আর মনে রাখতে পারছি না।

শান্তা মারিয়ালেখক; সাংবাদিক।

৩৯ Responses -- “আঠারর আগে বিয়ে: আমরা উল্টো দিকে যাচ্ছি কেন?”

  1. কল্পনা আক্তার

    এই বিষয়ে জনমত গড়ে তোলা হোক,বাল্য বিবাহ কখনোই সমাজের কাম্য হতে পারে না।

    Reply
  2. মুফতি ইলিয়াস আহমদ জালালাবাদী

    বিবাহের সময় নির্ধারন করা যৌক্তিক বলে মনে করিনা না ৷
    এর জন্য আইন করার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না ৷
    কারণ সব বাবা মাই নিজের মেয়ের কল্যাণ বিবেচনা করে বিবাহ দেয় ৷
    আমাদের দেশে বিবাহ ঠিক করতে নিকট আত্মীয়দেরও মতামত নেয়া হয় ৷
    সবাই ভাল মনে করলে বিবাহ হয় অন্যথায় হয় না ৷
    তাই তা নিয়ে রাষ্ট্রের বা কথিত বুদ্ধিজীবীদের মাথাব্যথার কারণ বোধগম্য নয় ৷
    আইন করতে চাই নিম্নের বিষয় গুলো নিয়ে আইন করেন ৷
    ১৷ কোন মেয়ে অবৈধ সম্পর্ক রাখতে পারবেনা ৷
    ২৷ পরিবারের বিশেষ করে মা বাবার সম্মতি ছাড়া বিবাহ করতে পারবেনা ৷
    ৩৷ কোন মেয়ের বয়ফ্রেন্ড থাকতে পারবেনে ৷
    ৪৷ ইত্যাদী যে সব কারণে সমাজে অশৃংখলা ,অশান্তি বিরাজ করে তা বন্ধে কঠোর থেকে কঠোরতর আইন করে পাশ করে তা বাস্তবায়নের পূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন ৷

    Reply
  3. শাহীন

    যদি কোন মেয়ে ১৮ বছর এর নিচে সেচ্ছায় বিবাহ ব্যতিত প্রেম করে সেক্স করতে পারে তার কাছ থেকে সমাজ আর যাই হোক বিয়ে দেয়া ছাড়া কিছুই ভাবতে পারে না । এ ক্ষেত্রে মা-বাবাকে ও সমাজকে এই আইনের মাধ্যমে সন্মান করা হয়েছে।

    Reply
  4. Sarker

    I think Santa Maria insist the girl to make illegal love before 18 yrs. Because the are fully matured during 14-15 yrs. If some one interested to get higher education they can do after marriage. Example Begum Rokeya. If the girls wait for marriage after 18 yrs they may freely live with boy friend. Sometime give illegal bath.
    So, support the Government recent law

    Reply
  5. Md. Shajahan khan

    প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্ত বস্ক বিবাহ আইন করে লাভ নেই কারণ কার বিয়ে কখন কার সাথে হবে কিবাবে হবে তা একমাত্র আল্লাহ পাক বাল জানেন এবং আল্লাহ পাক যেভাবে চাহেন ঠিক সেভাবেই হবে, এইনিয়ে আমরা আইন বা তর্ক করে কোনো লাভ নাই।

    Reply
    • প্রভাত ফেরী

      আল্লাহ কি কইছে ভাইয়া, জানেন কি? আল্লাহ তো কইছে ১৪ বছর হইলেই বিয়া দেওন যায়… আগে আরও কম বয়সে বিয়ে হত, ১০/১২ তে।।

      Reply
      • মুফতি ইলিয়াস আহমদ জালালাবাদী

        মিথ্যা কথা ৷ এর কোন প্রমাণ দিতে পারবেন না ৷

  6. আশরাফুল ইসলাম

    আঠারোর আগে বিয়ে করলে গর্ভধারনে সমস্যা।কিন্তু বিয়ের আগে প্রেম করে গর্ভধারনে কোন সমস্যা নেই।এটা কেমন আইন।

    Reply
  7. বন্ধু

    মেয়েদের বাল্য বিয়েতে প্রবলেম। কিন্তু অনেক মেয়ে ছেলেরা যে হাতিরঝিলের মতো নিরাপদ স্থানে গিয়ে অনৈতিক কাজ করছে তা বারণ করবে কে? তাতে কি আইন করা যায়না যে কোন গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড এক সাথে চলতে পারবেনা। বিয়ের আগে কোন ছেলের মেয়ে বন্ধু থাকতে পারবে না। না হয় যতোই লেখা লেখি করেন না কেন তাতে কোন কাজ হবে না। মেয়েরা বার বছরেই সন্তানের মা হবে। আর মা সন্তানের বাবার পিছু ছাড়বে না। তখন বিয়ে ছাড়া উপায় নেই।

    Reply
    • ফখরুল ইসলাম

      সরকার কে বলুন, কোন মেয়ের যেন ১৮ বছরের আগে কোন শারীরিক চাহিদা জন্ম না নেয় তার জন্য ব্যবস্থা নিতে। আর তার সংগে সংগতি রেখে আইন প্রনয়ন করুন। তা না হলে আমাদের আগামী প্রজন্মে আসবে অনেক অবৈধ, অনাকাক্ষিত, জারজ সন্তান। সমাজ পাবে পশ্চিমা দেশের মত অনেক কুমারী মা, বেড়ে যাবে লিভ-টুগেদার, যা আমাদের সমাজে হাজার বছরের রীতি নীতি প্রথা কে ভেংগে চূড়ে দিয়ে কলংকের কালিমা লেপন করে দিবে।

      Reply
  8. MD. AFZAL HOSSAIN

    সরকারের এই উদ্যোগ কে আমরা স্বাগত জানাই। কারন আমরা দেখছি অনেক মেয়ে ৭ম/৮ম শ্রেনী থেকে তারা ছেলেদের প্রতি বেশ মনোযোগী হচ্ছে। অনেকে এসএসসি পরীক্ষার আগেই পালিয়ে বিবাহ করছে।

    Reply
  9. সত্য প্রকাশ

    মেয়েদের বিবাহের বয়স কমপক্ষে পনের নির্ধারণ করা উচিত। বাংলাদেশের সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে আঠার বছর সকলের জন্য যথার্থ নয় বলে মনে করি। কারণ অধিকাংশ নারী বিবাহের পর গৃহীনী হন। আঠার বছর বয়স হতে হলে তাকে কমপক্ষে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী হতে হয়। অনেক দরিদ্র পিতামাতা তাদের উচ্চশিক্ষার ব্যয়ভার বহন করতে পারেন না। এছাড়া মেয়ে অর্ধিক শিক্ষিত হলে উপযুক্ত শিক্ষিত ছেলেও পাওয়া যায় না। জন্য কিছু পিতা-মাতা তাদের সন্তানদের পনের-ষোল বছরে বিবাহ দিয়ে দেন।

    Reply
  10. মোঃ মাহবুব আলম

    ম্যাডাম শান্তা মারিয়া খুব সুন্দর করে কিছু অর্বাচিন কথা বলে একটি প্রবন্ধ দিলেন। আপনার প্রবন্ধ থেকেই বলছি – একটি মেয়ে ১৩ বছর বয়সে যদি গর্ভ ধারন করতে পারে তবে সেই মেয়েকে বৈধ ভাবে জীবন যাপনের ব্যবস্থা করাটা আপনার কাছে দোষের কেন? আপনি বোধহয় ভুতের উলটা চলাটা দেখেছেন কিন্তু অনৈতিক মেলা মেশা আপনার কাছে খারাপ লাগে না, কারন আপনারা পশ্চিমা সংস্কৃতিকে আদর্শ মনে করেন। ১৩-১৪ বছরের মেয়ের অবৈধ গর্ভপাত আপনাদের পছন্দনীয় কিন্তু তার নিশ্চিত জীবন আপনাদের কাছে আবদ্ধ বলেই মনে হয়। আপনারা পার্কে জড়াজড়ি করা দেখতে পছহন্দ করেন, কিন্তু আপন ঘরে নিরিবিলিতে তাদের জৈবিক চাহিদা পুরন ভালো লাগে না। কারন আপনারা কুকুরের জীবন পছন্দ করেন , মানুষের জীবন নয়। একটা ১৫-১৭ বছরের মেয়েকে ঘরে রাখাটা যে কতটা টেনশনের সেটা শুধু একটা মধ্যবিত্ত/নিন্মবিত্ত পরিবারের বাবা-মা ই ভাল জানেন। বাস্তবতা তো কাগজ আর কলম না।

    Reply
  11. সাগর হাসান

    পালিয়ে বিয়ে কিভাবে রোধ করা যায়? এক্ষেত্রে আইনে কাকে দোষি সাব্যস্ত করা হবে? ছেলেটাকে? না মেয়েকে?

    Reply
  12. আব্দুল্লাহ

    একটা ১৬-১৭ বছরের মেয়েকে ঘরে রাখাটা যে কতটা টেনশনের সেটা শুধু একটা মধ্যবিত্ত/নিন্মবিত্ত পরিবারের বাবা-মা ই ভাল জানেন…
    বাস্তবতা তো কাগজ আর কলম না…

    Reply
  13. রাসেল

    যৌতুকের কড়াল গ্রাস থেকে বাছতে অনেক সময় অসহায় পিতামাতা কমবয়সী মেয়ের বিয়ে দেন। আমাদের দেশে যৌতুক বিরুধী আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই।।

    Reply
  14. মোহাম্মদ মোরশেদ আলম

    আমি মনে করি সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা অত্যন্ত যুগোপযোগী। বর্তমান সমাজব্যবস্থায় বাস্তবতা অত্যন্ত কঠিন। একজন বিবাহ উপযুক্ত মেয়ে কিংবা বোন যার আছে, শুধুমাত্র তারাই উক্ত বিষয়টি অনুধাবন করতে পারবে। আমরা আসলে যারা কাগজ এবং টক শোতে সবকিছু সমাধানের পথ বাতলে দিই তারা কেউ আসলে সাধারণ মানুষের সীমাবদ্ধতা কথা চিন্তা করিনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ, সাধারণ এবং দরিদ্র জনগনের আবেগের পর্যালোচনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য। আমি একজন তৃণমুল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি। বাস্তব অবস্থা আমি খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করেই লিখাগুলো লিখেছি।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—