Sundarbans_Mangrove+Forest_

কিছুদিন ধরেই আলোচনার হট ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে রামপাল। আমার পরিচিত কেউ কেউ জানতে চেয়েছেন, রামপাল নিয়ে কেন কিছু লিখছি না। আসলে রামপাল ইস্যুতে নিজের অবস্থান নিয়ে এতদিন কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকার কারণেই কিছু লেখা হয়ে ওঠেনি। সুন্দরবনের কাছে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে ওঠার পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্ক বেশ জমে উঠেছে। যাঁরা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে তাঁরা সুন্দরবনের সম্ভাব্য ক্ষতিসংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরছেন। অন্যদিকে সরকার অর্থাৎ রামপাল প্রকল্প যারা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে তাঁরা তাঁদের পক্ষে যুক্তি হাজির করছেন।

শুরুতে এ প্রকল্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল তেল গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি এবং দুটি বাম রাজনৈতিক দল– সিপিবি ও বাসদ। জাতীয় কমিটিতে কয়েকজন নির্দলীয় ব্যক্তি থাকলেও সেখানে মূলত সিপিবি ও বাসদেরই প্রাধান্য। সে হিসেবে বলা যায়, রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র না করার পক্ষে শুরু থেকেই বামপন্থীরা অবস্থান নিয়ে আছেন। বামপন্থীদের প্রভাব-প্রতিপত্তি খুব বেশি না থাকায় তাদের বিরোধিতা সরকার খুব একটা গায়ে মাখেনি।

কিন্তু সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন করে রামপাল প্রকল্প বাতিলের দাবি জানানো পর সরকারি মহলে টনক নড়েছে। ২৪ আগস্টের ওই সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া বলেন, রামপালের প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন একটি দেশবিরোধী-গণবিরোধী সিদ্ধান্ত।

এরপর ২৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কারণে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না। বিএনপির বিরোধিতার মধ্যে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না– সে প্রশ্নও তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জোর দিয়েই বলেন, রামপাল প্রকল্প থেকে তাঁর সরকার পিছু হটবে না।

সুন্দরবন থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি হলে সুন্দরবন একেবারে ধ্বংস হয়ে যাবে, মারাত্মক বিপর্যয় ঘটবে বলে যাঁরা মনে করছেন তাঁদের সঙ্গে পুরোপুরি একমত পোষণ করা যেমন সম্ভব নয়, তেমনি যারা বলছেন এতে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতিই হবে না তাঁদের সঙ্গেও শতভাগ সহমত পোষণ করা যায় না।

এমন অবস্থান থেকেই আমি মনে করি, সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করে যদি রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র হয় তাহলে তার বিরোধিতা থেকে সরে আসাই যুক্তিযুক্ত। এ প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো, আমি এ ব্যাপারে একেবারেই বিশেষজ্ঞ মতামত দেওয়ার যোগ্য কেউ নই। সাধারণ বিবেচনা বোধ থেকে কিছু কথা তুলে ধরতে চাই।

আজকাল আমাদের দেশে বিশেষজ্ঞের কোনো অভাব নেই। সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে অনেকেই বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দিচ্ছেন। সংবাদপত্রে কলাম লিখছেন, টক শোতে কথা বলছেন। চাকরি জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে তাঁদের জ্ঞানবুদ্ধি কিছুটা বেশি হতেই পারে। কিন্তু আমার খুব জানার আগ্রহ, চাকরি জীবনে তাঁরা সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের স্বার্থে কিভাবে এবং কতটুকু ভূমিকা পালন করেছিলেন।

এখন রামপালবিরোধী আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আমলারা প্রধানমন্ত্রীকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছেন। চাকরি জীবনে যারা ভুল তথ্য দিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেন, চাকরি থেকে অবসর নিয়ে তাঁরা জনস্বার্থে কথা বলা শুরু করেন– বিষয়টা আমার কাছে অন্তত কিছুটা গোলমেলে বলেই মনে হয়। এবার আসা যাক রামপালসংক্রান্ত অন্য কিছু প্রসঙ্গে।

 

১. তেল গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, “যারা কোনো বিষয় বোঝে না, তাদের বোঝানো সম্ভব। কিন্তু যারা ইচ্ছে করে বুঝতে চায় না, যাদের মাথা অন্যত্র বন্ধক দেওয়া আছে, যারা মনে করে এটা বুঝলে তাদের জন্য সমস্যা, তাদের কাছে যত যুক্তিই দেওয়া হোক না কেন তারা তা বুঝবে না।”

আনু মুহাম্মদ কথাগুলো বলেছেন সরকারকে উদ্দেশ্য করে। তাঁদের উত্থাপিত তথ্য-উপাত্ত সরকার গ্রাহ্য করছে না বলেই তিনি মনে করেছেন, তারা বুঝতে চায় না। তাদের ‘মাথা অন্যত্র বন্ধক’ দেওয়া আছে। কিন্তু এই একই যুক্তিতে সরকার পক্ষও তো বলতে পারে, তাঁরা যে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে বিরোধীদের যুক্তি খণ্ডন করছেন সেগুলো কেন বিরোধীরা বুঝতে চাইছেন না? তাহলে বিরোধীদের মাথাও কি ‘অন্যত্র বন্ধক’ দেওয়া আছে? বিরোধীরা যেসব তথ্য বা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হাজির করছেন সেগুলোই শুধু অভ্রান্ত আর সরকার পক্ষের সব ভ্রান্ত– এটা কি মেনে নেওয়ার মতো যুক্তি?

 

২. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হবে পৃথিবীর সর্বাধুনিক ‘আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে। ফলে এতে সুন্দরবনের পরিবেশ-প্রতিবেশ ও মানুষের কোনো ক্ষতি হবে না।

কিন্তু অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, আধুনিক ও নিরাপদ যেসব প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে বাস্তবে সেগুলো ব্যবহার করা হবে না। সেগুলো ব্যবহার করলে নাকি বিদ্যুতের দাম বেশি পড়বে।

এখন আমরা সাধারণ মানুষ কার কথা বিশ্বাস করব?

 

rampla1
প্রস্তাবিত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নকশা

 

আমি এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যর ওপর আস্থা রাখার পক্ষপাতী। আমাদের অভিজ্ঞতা কী বলছে? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা এবং কাজের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি দেখা যায় না। তিনি তাঁর অঙ্গীকার রক্ষায় সাধারণত পিছ-পা হন না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি এখানে উল্লেখ করা যায়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাংলাদেশের মাটিতে হবে– এটা আমরা কজন বিশ্বাস করতাম?

শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার পরও আমাদের অনেক পণ্ডিত-বিশ্লেষক এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। বিচার হলেও রায় কার্যকর হবে না, এটা সরকারের একটি ‘আই ওয়াশ’ বা রাজনৈতিক ‘স্টান্টবাজি’– এ ধরনের কথাও শোনা গেছে। কয়েকজন অপরাধীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের আগে অনেকেই নানা ধরনের বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন। অথচ যুদ্ধাপরাধীদের পালের গোদা হিসেবে চিহিৃত ছয়জনের ফাঁসি এর মধ্যেই কার্যকর হয়েছে।

পদ্মাসেতু নিয়েও আমাদের অনেকের মধ্যেই আস্থাহীনতা ছিল। বিশেষ করে বিশ্বব্যাংক সহায়তা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর অনেককেই বলতে শোনা গেছে, পদ্মাসেতু আর হচ্ছে না। কিন্তু আজকের বাস্তবতা কী? নিজেদের টাকাতেই পদ্মাসেতু নির্মিত হচ্ছে। যে প্রকল্প নিয়ে দেখা দিয়েছিল ঘোর অনিশ্চয়তা সেই পদ্মাসেতুই হতে চলেছে বাংলাদেশের অহংকার ও মর্যাদার প্রতীক।

শেখ হাসিনা দেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থের ক্ষতি করে কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড করবেন– এটা যাঁরা মনে করেন তাঁরা নিজেরা নিজেদের যত বড় দেশপ্রেমিক বলে মনে করুন না কেন বাস্তবতার নিরিখে তা সত্য বলে মেনে নেওয়া কঠিন।

 

৩. কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে পরিবেশের যতটা ক্ষতি হবে বলে বিরোধীরা প্রচার করছেন বাস্তবে কী তা হয়? বিশ্বের অনেক দেশেই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উপকরণ কয়লা। যেসব জায়গায় কযলাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে, সেসব জায়গার পরিবেশ কি মানুষের বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়েছে? গাছপালা কি শেষ হয়ে গেছে? নদীর পানি কি শুকিয়ে গেছে? এসব প্রশ্নের জবাব যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে সেসব দেশের মানুষ বিনা প্রতিবাদে সবকিছু মেনে নিচ্ছে?

আমাদের দেশে দিনাজপুরের বড় পুকুরিয়ায় কয়লাভিত্তিক একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু আছে। বড় পুকুরিয়ার এ বিদ্যুৎকেন্দ্র কি ওই এলাকায় বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণ হয়েছে? কেউ কেউ বলছেন, সেখানে ভূগর্ভের পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় স্থানীয় জনগণ পানি সংকটে ভুগছেন। আশেপাশের কিছু এলাকায় নারকেল গাছে নাকি এখন আর নারকেল হয় না। এসব অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত হওয়া দরকার। দরকার বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রভাব নিয়ে উপযুক্ত সমীক্ষা ও গবেষণা। সেসব না করে শুধু আতঙ্ক ছড়ানো কোনো কাজের কাজ নয়।

কেউ কেউ আবার এমনও বলছেন, রামপালের সঙ্গে বড় পুকুরিয়ার তুলনা করা যাবে না। কারণ, বড় পুকুরিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আকারে ছোট, মাত্র ১২ মেগাওয়াটের আর রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রর উৎপাদন ক্ষমতা ১,৩২০ মেগাওয়াট। এই হিসাবে বড় পুকুরিয়ার চেয়ে রামপালে ক্ষতি হবে দশগুণেরও বেশি হবে। সত্যি সত্যি এভাবে ক্ষতি হয় কি না– সেটা কোনো গবেষণার মাধ্যমে করা হয়েছে কি?

আগেই বলেছি আমি এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ নই। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমাদের দেশের বিশেষজ্ঞরা যেসব আতঙ্কজনক তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে থাকেন, বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সেসব মেনে নিতে মন সায় দেয় না।

আমার মনে হয়, আমাদের দেশের মানুষের একটা সহজাত টেকসই সক্ষমতা রয়েছে। আমরা প্রতিদিন যেভাবে ভেজালখাদ্য খাচ্ছি, তাতে মানুষের গড় আয়ু তো কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু আমরা তো দেখছি গড় আয়ু বাড়ছে।

পরিবেশবাদীদের বিবেচনায় ঢাকা শহর বসবাসের অযোগ্য। তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, ঢাকায় বসবাসকারী মানুষের তো স্বাভাবিক জীবনযাপন বা বেঁচে থাকার কথা নয়। কিন্তু মানুষ তো বেঁচে আছে। কেউ হয়তো বলবেন, ক্ষতিটা রাতারাতি হচ্ছে না। এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব আছে এবং সে জন্যই আমরা তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে হাঁটছি। খারাপ কিছু হওয়ার আশঙ্কায় আমরা কি হাত গুটিয়ে বসে থাকব, নাকি ভালোটার আশা করে খারাপটা মোকাবিলার প্রস্তুতি নেব?

আমাদের দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির জন্য বিদ্যুৎ প্রয়োজন। বিদ্যুতের জন্য কয়লা এখনও সাশ্রয়ী উপকরণ। তাই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আমাদের প্রয়োজন। প্রশ্ন হচ্ছে, রামপাল ছাড়া দেশে কি আর কোনো জায়গা নেই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য? কারণ, রামপালের কাছেই রয়েছে সুন্দরবনের মতো স্পর্শকাতর বনাঞ্চল।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যদি সুন্দরবনের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়, তাহলে অন্য যে কোনো জায়গাতেই তা একই ধরনের ক্ষতির কারণ হবে। অন্য জায়গার প্রকৃতি, পরিবেশ এবং মানুষের জীবনের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব কি তাহলে আমরা বিবেচনায় নিচ্ছি না?

সুন্দরবনের কোনো বিকল্প অবশ্যই নেই। সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি আমরা কেউই চাইতে পারি না। কিন্তু আমরা না চাইলেও প্রাকৃতিক নিয়ম এবং মানুষের নির্বিচার ব্যবহারের কারণে কি সুন্দরবনের ক্ষতি হচ্ছে না? এই যে সুন্দরবনের বাঘ, হরিণসহ বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখির সংখ্যা ক্রমে হ্রাস পাচ্ছে এবং সেখানকার জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে– সেটার কারণ কী?

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হওয়ার আগেই সুন্দরবন যে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে– সেটা কেন আমরা রোধ করতে পারিনি? প্রশ্ন উঠতে পারে, আগে যেটা পারিনি এখন সেটা পারার চেষ্টা কেন করব না? বিতর্কটা এখানে এসেই জট পাকিয়ে যায়। সরকার সব দিক বিচার-বিবেচনা করেই রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

খামখেয়ালির বশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মনে করার কোনো কারণ নেই। যাঁরা রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বিরোধিতা করছেন, তাঁদের উদ্দেশ্য যদি হয় সুন্দরবন রক্ষা তাহলে সরকার সুন্দরবনের ক্ষতি না করে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের যে কথা বলছে তা যাতে অক্ষরে অক্ষরে পালিত হয় সে জন্য তাদের চাপ দেওয়া উচিত।

শেখ হাসিনা রামপাল প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চাইছেন; কাজেই যে কোনো উপায়ে তাঁর বিরোধিতা করা যদি লক্ষ্য না হয় তাহলে রামপালবিরোধীদের তাঁদের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একবার কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে সাধারণত তা বাস্তবায়ন করে থাকেন। তাই রামপাল প্রকল্প থেকে সরকারের সরে আসার সম্ভাবনা কম। যাঁরা মনে করছেন আন্দোলন করে এ ক্ষেত্রে বিজয় অর্জন করবেন তাঁরা আশাহত হবেন বলেই মনে হয়।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বন্ধ করার জন্য আন্দোলনের নামে দেশে চরম অরাজকতা সৃষ্টি করেও সফল হওয়া যায়নি। রামপাল আন্দোলনও সফলতার মুখ না দেখার সম্ভাবনাই উজ্জ্বল।

তাই সুন্দরবনের ক্ষতি না করে কিভাবে রামপাল প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায় সে জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়াই হবে সময়োপযোগী কাজ।

বিভুরঞ্জন সরকারসাংবাদিক ও কলামিস্ট।

৩৯ Responses -- “একজন বিষয় অবিশেষজ্ঞের রামপাল ভাবনা”

  1. মোঃ হেলাল উদ্দিন

    দেশে এক এক সময় এক এক সরকার তাদের বাহাদুরি যাহির করার জন্য হোক বা অন্য কারো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই হোক এমন এমন এক এক টা অ পরিকল্পিত প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন তা অনেক সময় দেখা যায় হিতে বিপরিত হয়ে যায়। জনগনের টাকায় বাস্তবায়িত প্রকল্প এক এক সময়ে জনগনের বোঝা হয়ে দাঁড়ায় । অথচ অই সব প্রকল্প করার সময় কত স্বপ্ন দেখানো হয় ! যে বা যারা এই সব প্রকল্প বাস্তবায়ন করার জন্য ভুমিকা রেখেছিল সে বা তারা কোটি কোটি টাকা কমিশন হাতিয়ে নিয়ে সরকার বদল হওয়ার পর দিব্বি থেকে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে। জনগনের টাকার অপব্যাবহার করার জন্য তাদের আর কোন দায় থাকে না। এমন উদাহরন ভূরি ভূরি রয়েছে এ দেশে। আবার কেউ কেউ তো দায় মুক্তি আইন করে যায় যাতে পরবরতিতে কাউকে আর ধরা না যায়।
    একটা দেশের সাধারন মানুষের রক্ত পানি করে অর্জিত টাকা এভাবে কোন সরকার/মন্ত্রি/আমলা কেউই খরচ করতে পারেনা তাদেরকে অবস্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
    সে ক্ষেত্রে দেশে এমন আইন করা উচিত যেন দেশের যে কোন সরকার/মন্ত্রি/আমলা তাদের পছন্দ মাফিক জনগনের টাকায় যে কোন প্রকল্পই বাস্তবায়ন করুক না কেন তা যদি কোন সময় জনগনের ক্ষতির কারন বা বোঝা হয়ে দাঁড়ায় তা যে কোন সময় এমন কি তাদের অবসরের পরেও যদি হয় তবুও তারা যেন জনগনের এই অর্থ সঠিক ব্যয় না করার জন্য আদালতে জবাব দিহি করতে হবে। প্রয়জনে তাদের যাবতীয় সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে হলেও যেন এর ক্ষতিপূরণের ব্যাবস্থা রাখা হয়। তবেই যে যার ইচ্ছে মতো কেবল ভোটের হিশেব করে / কমিশনের লোভে/ অন্যের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষে বুঝে না বুঝে নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করার আগে অন্তত দশ বার চিন্তা করবে।

    Reply
  2. Truth Teller

    “আমি এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যর ওপর আস্থা রাখার পক্ষপাতী।”

    Mr. Sarkar – Could you please confirm if SHW is an environmental scientist? Or, is she a politician? Last time I checked, she is not an environmental scientist but a politician. My question is then – how can you trust a politician?

    Reply
  3. রফিকুল হাসান খান

    বিদ্যুৎ আমাদের অতি প্রয়োজন তাই নতুন নতুন প্রকল্পও দরকার, কিন্তু আমার প্রশ্নঃ

    ১- কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে লক্ষ কোটি টাকার পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংস করে প্রথমে ৫৫ মেগাওয়াট , যা পরে ২৩০ মেগাওয়াট করা হয়, প্রায় ৫০ বছর পরে– জানা যায় আমেরিকার একটা এক্সপেরিমেন্ট ছিল এটা আমরা গিনিপিগ; রামপাল যে সে রকম কিছু নয় সে গ্যারান্টি কে দেবে?

    ২- সকাল ৬টার আগেই দিনের আলো পাওয়া যায়, অফিস-কারখানা ভোর ৬টা থেকে দুপুর ২টা করলে বাতি-ফ্যান-এসি’র জন্য কোন বিদ্যুৎ লাগেনা, সরকার অফিস সময় পরিবর্তন না করে ঘড়ির কাঁটা ঘুড়িয়ে দেয় আর তাতে নামজের সময়, ভোরের ট্রেনের সময় নিয়ে বিভ্রান্তি হয় জনমত বিপক্ষে চলে যায়। অথচ ঘড়ির কাঁটা ঠিক রেখে অফিস-মার্কেটের সময় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করলে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমে — সেটা করা হচ্ছে না কেন?

    ৩- গরীব জনগনের ঘামে চলা সরকারী অফিস এবং হারাম সুদে চলা ব্যাঙ্কে এসির বিলাসিতা কেন?

    ৪- সাধারন মানুষ বাসে-টেম্পুতে চড়ে মর্মান্তিক কষ্ট পাচ্ছে, ছোট বাচ্চারা এসি (এমনকি অনেক জায়গায় ফ্যান ছাড়া) ক্লাসরুমে বসে ঘামাচ্ছে, রোগীরা সাধারন ওয়ার্ডে কাতরাচ্ছে , ঠিক তখনই অথর্বরা এসির বাতাস খাচ্ছে — এই নিষ্ঠুর রসিকতা থামবে কি?

    ৫- জটিল সব গবেষনা বাদ দিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পদক্ষেপ এবং সোলার বিদ্যুৎ বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে জাতির জনকের আদর্শের গড়া দল আওয়ামী লীগের কর্মীরা তার সরকারকে কোনও চাপ দেবে কি ?

    Reply
    • আবদুর রহিম

      বাংলাদেশে শতকরা কতভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদনশীল কাজে আর কতভাগ বিলাসীতা (এসি, ঝলমলে বাতি, দোকানের শোকেস, মাছ তাজা দেখানোর জন্য শত শত বাতি – -) ভালভাবে অডিট হওয়া একান্ত জরুরী
      এবং
      তার আগে রামপালসহ উচ্চাভিলাসী প্রকল্পের কাজ শুরু করার কি কোনও প্রয়োজন আছে ?

      Reply
  4. জাহিদ

    আপনি যে ইনিয়ে–বিনিয়ে সরকারের পক্ষেই লিখবেন তা–তো জানিই। তবুও প্রথমে সূচনা পড়ে একটু দ্বিধাদ্বন্দ্ব জেগেছিল।

    Reply
  5. আসাদুজ্জামান আজিম

    বিভুরঞ্জন সরকার আপনার কাছে আমার কীছূ প্রশ্ন ,জানি আপনি উত্তর দিবেন না তারপর ও করলাম
    ১- রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে আমাদের দেশে, জাগা দিচ্ছি আমরা, টাকা লোণ করছি আমরা ,তাহলে ভাগ ক্যান ৫০% ৫০ % হবে ?
    ২-কইলা ক্যান ভারত থেকে কিনবো ?
    ৩-অবিসেসজ্ঞ হয়ে আপনি যে মতামত দিলেন সেটা কি আপনার কথা , না সরকাকের কথা ?

    Reply
  6. মোঃ আতিকুর রহমান

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একবার কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে সাধারণত তা বাস্তবায়ন করে থাকেন– এ কথার অর্থ কি? ক্ষতিকর হলেও করে থাকেন? মুন্সিগঞ্জে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করার সিদ্ধান্ত থেকে তিনি কিন্তু সরে এসেছেন। সেটা ক্ষতিকর বিবেচনায় নাকি এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে সেটা বিচারে ভার আপনার হাতেই ছেড়ে দিলাম।

    Reply
  7. Abul Bashar Bulbul

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশপ্রেম প্রশ্নাতীত। তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে সব বাধাবিঘ্ন ডিঙ্গিয়ে। তারপরও কথা থেকে যায়। সারাদেশে নদী-খাল-বিল দখল হচ্ছে, পাহাড় কাটা হচ্ছে, উজাড় হচ্ছে বনভূমি। এসব ঠেকাতে পারছে না কোনো সরকার। গত ১৫/২০ বছরের চেষ্টায় বুড়িগঙ্গা বাঁচানো বা ট্যানারী স্থানান্তর করতে পারছে না কোন সরকার। এমনকি কার্যকর করা যাচ্ছে না আদালতের রায়। রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প সংস্লিষ্টরা শেখ হাসিনার সদিচ্ছার মূল্য দিয়ে, সুবোধ বালকের মতো আচরণ করবে যুগযুগ ধরে, সে নিশ্চয়তা কোথায়? তাছাড়া এটিকে কেন্দ্র করে সে অঞ্চলে জমি কেনা/দখলের হিড়িক পড়েছে। চিংড়ি ঘেরের নামে নদী-খাল আটক/দখল হয়ে আছে। নতুন করে ভরাট/দখল হবে তা অবধারিত। শিল্পায়ন আর নগরায়ন তখন কেউ আটকাতে পারবে না। জনসংখ্যার চাপ বাড়বে সে অঞ্চলে। জনসংখ্যার চাপে হয়তো বা হারিয়ে যাবে সেখানকার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট, উজাড় হতে থাকবে সুন্দরবন, হারিয়ে যেতে থাকবে বন্যপ্রাণী! ভবিষ্যত কোন সরকার হয়তো নতুন ব্যাখ্যা দাঁড় করাবেন, বনের চাইতে শিল্প লাভজনক . . .।
    সুন্দরবন আমাদের গর্ব। এর কোন বিকল্প নেই। আর রামপালের বিকল্প জায়গা খুলনাতেই মিলবে অনেক। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে দেশবাসী আপোষহীন নেত্রী মনে করেন না, মনে করেন সংবেদনশীল দৃঢ়চেতা নেত্রী। রামপাল নিয়ে যেহেতু দেশে-বিদেশে উদ্বেগ বাড়ছে, সাধারণ মানুষের শঙ্কা কাটছে না, বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে, তাই বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে প্রশংসনীয় বা নিন্দনীয় হওয়ার প্রশ্নটি বিবেচনার অধিকার রাখে। মূলতঃ একটি বিষয় স্পষ্ট, বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপনে কোন আপত্তি নেই, আপত্তির মূল কেন্দ্র সুন্দরবন। আর সারা বিশ্বে সুন্দরবন একটাই। আমরা এর গর্বিত অধিকারী। কে পক্ষে বা বিপক্ষে বলছে, তা বড় কথা নয়। শেখ হাসিনা নিজের থেকে বিষয়টি নিয়ে আবারো ভাববেন, কোন ভুল হয়ে যাচ্ছে কি না দেখবেন, আন্দোলন করে না এমন সাধারণ মানুষসহ দেশপ্রেমিক নাগরিক সমাজের সুস্থ চিন্তা-চেতনা-ভাবনার খোঁজ নেবেন, এমনটা প্রত্যাশা।
    বি.দ্রঃ ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণে বিরোধীতাকারী ভারতীয় বিশেষজ্ঞ তখন সমালোচিত, দালাল বলে নিগৃহীত হয়েছিলেন। আজ তাঁর কথাই সত্য প্রমাণিত হয়েছে।

    Reply
  8. মোঃ আব্দুস সবুর মিয়া

    বিদ্যুৎ ছাড়া জীবন-জীবিকা অচল। এটা উৎপাদনে গ্যাস, তেল যা ব্যবহার করা হবে তা থেকেই জীবের জন্য ক্ষতিকর উপাদান ছড়াবেই। জমি, পানি, বাতাস লাগবেই। এটা বনের ধারে হউক বা রাস্তার ধারে হউক বা আমার বাড়ীর ধারেই। ( না । বিরোধীদের বাড়ীর ধারে করার কোন সুযোগ আমরা পাব না কারন, তাঁরা আমাদের যে বক্তৃতা উন্নয়ন উপহার দিয়েছেন তা’ নিয়েই আমাদের খুশী থাকতে হবে।) প্রকৃতির উপর তার প্রভাব পরবেই। ঔষধে/ চিকিৎসায় ক্ষতি আছে কিন্তু বাঁচার তাগিদে তা’ সইতে হবে। বৃহৎ উপকারে ক্ষুদ্র অপকার মেনে নিতে হবে।

    Reply
  9. hidden

    অবিশেষজ্ঞ হয়ে তিনি যে তথ্য উপাত্ত নিয়ে হাজির হয়েছেন তাতে ইনাকে বিশেষজ্ঞের মর্যাদা দেওয়া যায়!!

    Reply
  10. উল্লাস জায়েদ

    লোকে আপনাকে লিখতে বললেই বিশেষজ্ঞ না হয়েও আপনি লিখে দেন- এ ব্যাপারটা বেশ মজার!!

    Reply
  11. মো: বাহাদুর হোসেন

    রামপালে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নিয়ে মনের ভিতর একটা দ্বিধা-দন্ধ, রামপালে বিদ্যুৎ উৎপাদন হইলে ঠিক, নাকি না হলে ঠিক। সাগরের তীর ঘেষা সুন্দরবন। সাগরের মাঝে মাঝে উত্তাল সাইক্লোন সৃষ্টি হয়। তাতে রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিরাট আকারে ক্ষতিও হতে পারে। আর যদি করতেই হয় অন্তত সুন্দর বন হতে 40/50 কিলোমিটার দুরে হলে এবং সাগর হতে 10/15 কিলোমিটার ভিতরের দিকে হলে আশা করি ভাল হবে।

    Reply
  12. আরমান খান

    আপনি যা লিখেছেন তার সাথে আমিও একমত, যদি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমাদের জানা থাকত তাহলে আপনার লেখা পড়তাম না। তাই একমাত্র উত্তর হচ্ছে, প্রকল্প শেষ হওয়ার পর এর প্রকৃত উত্তর পাওয়া যাবে।
    নিচে এক ভাই মতামত দিয়েছেন – আমাদের নৈতিকতার আসলেই অভাব। আমি আপনার সাথে একমত।
    তাই যারা কাজ করবে তাদের যেন কোনো গাফিলতি না থাকে সেজন্য সরকার থেকে নিযুক্ত ব্যক্তিকে সৎ ও যোগ্য হবে বলে আশা করছি।

    Reply
  13. এনায়েত

    যারা রামপালের বিরোধীতা করছেন তাদের কাছে একটি প্রশ্ন, পৃথিবীরর কোথায় ১৩০০ মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুৎককেন্দ্রের জন্য সুন্দরবনের দশ ভাগের এক ভাগ সাইজের কোন বন ধ্বংস হয়ে গেছে, এমন প্রমান দিতে পারবেন কিনা। পৃথিবীর কোথাও কোন বন ধ্বংস না হলে সুন্দরবন ধ্বংস হবে কেন?

    Reply
    • Arif

      যদি ধ্বংস নাই হয়ে থাকে তাহলে কোনো বনের একটি নিদিষ্ট এরিয়ায় কেন শিল্পাঞ্চল না করার নির্দেশ আছে? এবং কেনই বা রামপাল সেটা ভঙ্গ করছে?

      Reply
      • এনায়েত

        পৃথিবীতে এমন কোন স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম নেই। আমেরিকার ফ্লোরিডায় ক্রিস্টাল রিভার কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ম্যানগ্রোভ ফরেস্টের পাশে আজ পঞ্চাশ বছর ধরে পঞ্চাশ বছর আগের প্রযুক্তি দিয়ে ২৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে চলছে। মালয়েশিয়ার সুলতান সালাউদ্দিন বিদ্যুৎকেন্দ্র আজ ৩৫ বছর ধরে ম্যানগ্রোভ বনের কাছে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে চলেছে। দু ক্ষেত্রেই বনাঞ্চলের এ পর্যন্ত কোন ক্ষতি হয় নি। আমাদের দেশের জমির স্বল্পতা আছে। তারপরেও আমরা ১৪ কিলোমিটার দূরে কেন্দ্রটি করছি। আমেরিকা মালয়েশিয়ার জমির স্বল্পতা না থাকা সত্বেও তারা বনাঞ্চলের পাশে বিদ্যুৎককেন্দ্র করেছে লোকালয় এড়িয়ে পানির প্রাপ্যতা এবং কয়লা পরিবহনের সুবিধা বিবেচনা করে ঐসব কেন্দ্র করা হয়। ঐ দুই কেন্দ্রের পাশে পঞ্চাশ বছরেও বনের কিছু না হলে আমরা কেন উন্নত প্রযুক্তিরর কেন্দ্র সত্বেও আপত্তি করছি?

  14. M. Rana

    Those who are adament to stop the Rampal and those who are a adamant to start the Rampal , why not sit in a roundtable to debate about the “pros & cones” of Rampal Power Plant(PP)? This roundtable debate should be live-broadcasted to the general people.
    Thou a Vega-Bond, I’m in favor of Rampal-PP construction.
    Reasons are many
    1. To become a financially stable Bangladesh, solvancy in electricity power is mandatory. where ever we construct a coal based PP , effect to Bangladesh will be same.
    2. Neighboring India is producing its 77% of electricity from Coal. The damage to the envornment by this 77% electricity production ( coal burning in India) is ultimately damaged the Bangladesh enviornment (as in three side of Bangladesh there is India) , where only 2.5% of its Electricity is produces from Coal.
    Here it is to be noted that 2.5% of Bangladesh Electricity is 1/20 th of India’s 2.5% ( for ref., India is huge behind economically w.r.t. Japan, but its electricity production is more than Japan.
    3. অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, আধুনিক ও নিরাপদ যেসব প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে বাস্তবে সেগুলো ব্যবহার করা হবে না।
    When Gabrial was whisperd this revelation to Mr. Anu Mohammed’s ear?
    4. How much CO2 is emmited from Dhaka? I gauss it is equivalent to 100 Rampal —- -should we close Dhaka?
    5 etc etc

    Reply
    • ramim

      1.Neighboring India is producing its 77% of electricity from coal is wrong.it`s 61%..
      2.How much CO2 is emitted from Dhaka? I Gauss it is equivalent to 100 Rampal —- -should we close Dhaka…
      coal power plant produce COx,SOx,led,arsenic etc heavy metal..
      3.I can ask you many question…..have you ans???if you ask me something i can give ans..

      Reply
  15. আব্দুল ওয়াহেদ

    সুন্দরবনের সাথে বাংলার মানুষের গর্ব, প্রকৃতি-প্রেম ও আবেগ জরিত আছে। এসবের মাঝে বৈষয়িক হিসাব-নিকাশ চলে না।

    Reply
  16. আহা রুবন

    মাঝে মাঝে শুনি বিশ্ব উষ্ণ হয়ে উঠছে। এই শতকের শেষে নাকি সসুদ্রের পানি এতটাই ওপরে উঠে যাবে যে আমদের মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত নাকি পানি চলে আসবে। তখন সুন্দরবন তো থাকবে পানির নিচে। তাহলে সুন্দরবন নিয়ে সমস্যা কোথায়? যা এমনিতেই টিকবে না। কোন কথাটি সত্য ধরব?

    Reply
  17. জাহিদ

    খুব বেশি দূরে নয় গাজীপুর থেকে ঘুরে আসুন। দেখুন কয়টা টেক্সটাইলে ইটিপি প্ল্যান্ট চালু। দেখুন গিয়ে গাজীপুরের পানি আর মাটির কী অবস্থা। যে কোনো একটা বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট ভিজিট করুন। দেখুন কোনো প্ল্যান্ট-এ পরিবেশ দূষণ রোধে কোনো ব্যবস্থা আছে কি না! আমাদের মাঝে নৈতিকতার অভাব প্রকট। যে কারণে আমাদের দেশে গার্মেন্টস সস্তা (কারণ তারা কোনো নীতিমালা মানে না), ঠিক সে কারণে আমাদের দেশে রামপাল! কারণ, এই দেশে আইন শুধু কাগজে আর প্রয়োগ শুধু গরিবের ওপর! ‘আমি বিশেষজ্ঞ নই’ বলে এত বড় লেখাও কিন্তু ঠিক নয়। না জানলে চুপ থাকাই উত্তম।

    Reply
    • RA Shohag

      Dear Mr. Zahid

      How you are telling Garments industries are not respecting any rules?
      this is the only trade in Bangladesh which straight under supervision of world class organization, labs & technicians.
      Dont talk if you have no idea.

      Reply
  18. Kh Towfique Hossain

    Very cleverly one sided article to promote government agenda! If government can make sure that this project will no do any harm to environment so why the same government can not do any thing against the private and public sector mills those are from very long polluting the entire river system in and around Dhaka.

    Reply
  19. alia

    বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা ২৫০ মেগাওয়াট, নতুন ২৭৫ মেগাওয়াটের তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে।
    এটা ভুল যে ১০ গুণ ক্ষতি হবে। ‘আলট্রা সুপার ক্রিটিকাল’ কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরিবেশ দূষণের পরিমাণ ৮-১০ গুণ কমে যায় ‘সাব ক্রিটিকাল’ কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায়।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—