Feature Img

shamima-f1111121৭০ দশকে রেডিক্যাল নারীবাদীরা সৌন্দর্য এবং ফ্যাশনের তোয়াক্কা না করার প্রতিবাদ হিসাবে রাস্তায় ব্রা পুড়িয়েছে। ১৯৬৮ সালে মিস আ্যামেরিকান প্রতিযোগিতা এবং এরপর ভোগ(Vouge) পত্রিকা নারীকে নারীময় অর্থাৎ ফেমিনিন হিসাবে উপস্থাপনের জন্য পোশাকের ফ্যাশন, চেহারা, ফিগার ইত্যাদি বিষয়কে সামনে হাজির করতে থাকলো। রেডিক্যাল আর সোসালিস্টরা তা প্রত্যাখ্যান করলেও এসব চলতে থাকলো। প্রিয় নারী ও পুরুষ পাঠক, এসব বলছি, কারণ সম্প্রতি খুব আলোচিত পার্সোনা বিউটি পার্লারে ড্রেস চেইঞ্জিং রুমে সিসি ক্যামেরার উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ ওঠা নিয়ে কথা বলবো বলে। এ নিয়ে সর্বাধিক প্রচারিত গণমাধ্যম প্রথম আলোর অবস্থানও বলতে চাই। তার আগে একটু সৌন্দর্য বা ‘বিউটি মিথ’ নিয়া কথা বলা জরুরী। কারণ বিষয়টা নারীর বিষয়। এবং স্পর্শকাতর বিষয়।

বেশ সুপরিচিত নারীবাদী সুজান ব্রাউনমিলারের পা ব্লিচ করে সৌন্দর্য বাড়ানোর অভিজ্ঞতা একটু শেয়ার করতে চাই। ইংরেজিতেই তুলে দিলাম:
As a matter of principle I stopped shaving my legs and under my
arms several years ago . . . but I look at my legs and know they are
no longer attractive, not even to me. . . . To ease my dilemma, in
the summertime I bleach my leg hair to a golden fuzz, a
compromise that enables me to avoid looking peculiar at the
beach. Sometimes I wonder if I’m the only woman in the world who
puts color into the hair on her head while she takes color out of the
hair on her legs in order to appear feminine enough for convention.
Susan Brownmiller, Femininity (1984), pp. 158-159.

৮০র দশক থেকে পাশ্চাত্যে বিউটি মিথ শুরু হয়, মধ্য, উচ্চবিত্ত কর্মজীবী নারীদের ভেতর। জারগন তৈরি হয় লিবারেটেড এন্ড ইন্ডিপেনডেন্ট ‘নিউ উইমেন’। ঘরের বউয়ের মুখে, শরীরেও এর ঢেউ এসে পড়ে। নারীর ক্ষমতায়নের সঙ্গেও এর সম্পর্ক তৈরি হয়। Banner, Lois W. (1983) তার American beauty বইতে তর্ক তোলেন ফ্যাশন এবং প্রসাধন সামগ্রীর ব্যবহার হচ্ছে, “rejection of the Victorian prohibition on sensual expression” (275). আরেক নারীবাদী Steele Valerie সোজা সাপ্টা বলেন “It is absurd to blame fashion, as such, for turning women into sexual objects” (1985). Fashion and eroticism. New York: Oxford.

বিভিন্ন সময়কার নারীবাদীদের কথাবার্তাগুলোকে হাজির করলাম এ জন্য যে শরীর, রূপের চর্চার সাথে নারীকে কেবল যৌনতার উপস্থাপন ভাবার কিছু নাই। বর্তমানের পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় নারীকে ফেমিনিন করার জন্য নানা রকম ব্যবসা: প্রসাধন সামগ্রী, নানা ব্রান্ড, বডি শেইপ, চেহারা ঠিকঠাক করার জন্য বিউটি পার্লার, ফ্যাশন ম্যাগাজিন-অনেক কিছুই হচ্ছে। ব্যাপক প্রতিযোগিতা চলছে। এটা পুরা দুনিয়া জুড়েই হচ্ছে। আমাদের দেশেও এই ব্যবসা দুই দশক গড়িয়ে গেছে। এখন মেয়েরা দেদারছে বিউটি পার্লারে যাচ্ছে। চুল কাটছে নানান শেইপ, ডিজাইনে, ভ্রু প্লাক করছে, ম্যাসাজ করছে, সারাদিনের কর্মব্যস্ত শরীরে-মনে প্রশান্তি আনতে স্পা করছে। এসব এত বেশি প্রাত্যাহিক আর প্রয়োজনীয় আর সাধারণ ব্যাপার যে, ঘরের বউ থেকে শুরু করে পদস্থ কর্মজীবী নারী, গার্মেন্টস কর্মী, আমার বাসার গৃহকর্মী-সেও পার্লারে গিয়ে ভ্রু প্লাক করে আসে। এসব বলার অর্থ এই যে, শহুরে, আধা শহুরে, গঞ্জের নারীরা রূপ বিষয়ে সময়ের তালেই চলছেন। কিন্তু ফেসিয়াল এবং স্পার ক্ষেত্রে পার্লারগুলোর নিয়মানুযায়ি ড্রেস চেইঞ্জ করতে হয়।

পার্সোনার বনানী আউটলেট নিয়ে সম্প্রতি এক নারী চিকিৎসক ড্রেস চেইঞ্জ করার জায়গায় সিসি ক্যামেরার উপস্থিতি নিয়ে যে আপত্তি তুলেছেন, তা নিয়ে হৈচৈ কম হয় নি। বরং হওয়াটাই যথার্থ। আরো হওয়া দরকার বলে মনে করি। কারণ, ড্রেস চেইঞ্জ করার রুমে কেন ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বা সিসি ক্যামেরা থাকবে? এইটা কমন সেন্সের প্রশ্ন: কেন থাকবে? বনানী আউটলেটের একদম শুরুর দিকে আমার যাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। ওইটা যাত্রা শুরু করেছিল ডিসেম্বর, ২০১০ এ। তখনো সেখানে স্পা পুরাদমে শুরু হয় নি। স্পা করার সময় পুরা শরীরে পরে থাকা কাপড় পুরা খুলে ন্যুড হতে হয়। কারণ শরীর রিল্যাক্স করার জন্য এর ভেতর পানি এবং অন্যান্য উপকরণের স্পর্শ ঘটাতে হয়-যেটা প্রশান্তি তৈরি করে। আমি দেখেছি, পারসোনার প্রত্যেকটা আউটলেটে নারী ক্লায়েন্টদের নারীরাই ডিল করেন। কাউন্টার থেকে শুরু করে শরীর, চেহারা সম্পর্কিত যা যা বিউটিফিকেশন দরকার পড়ে, সব। নারী ও পুরুষ পাঠক, তাহলে বলেন, ফেসিয়াল করার জন্য ড্রেস চেইঞ্জ এবং স্পা করার জন্য ড্রেস চেইঞ্জের জায়গায় কেন সিসি ক্যামেরা থাকবে? যুক্তি কী? কানিজ আলমাস, পার্সোনার কর্ণধার একটু ব্যাখ্যা করবেন কি?

আরো কিছু ব্যাখ্যা দেয়া আপনার জরুরী। ১৯৯৮ সালে পার্সোনা যাত্রা শুরুর পর ২০১০ সাল পর্যন্ত পার্সোনার আউটলেট হয়েছে ঢাকা শহরে ৬টা এবং চট্টগ্রামে ১টা। ঢাকায় ধানমন্ডির আউটলেটটা পার্সোনার স্থায়ী ভবন। চট্টগ্রামে পার্সোনার যে আইটলেট, তাকে বলা হয় দক্ষিণ এশিয়ার সবচে বেশি জায়গা নিয়ে করা বিউটি পার্লার। সাড়ে ১৬ হাজার বর্গফুট। এক যুগের মধ্যে পার্সোনা এত সম্পত্তির মালিক হলো কী করে? আলাদিনের চেরাগ পেয়েছেন নাকি কানিজ আলমাস? এই সন্দেহ অন্য সন্দেহের দিকে কমনসেন্সই নিয়ে যায়: পর্ণো সাইটগুলো খুললে দেখা যায়, লোকেশন বোঝা যায় না এমন বাংলাদেশি মেয়েদের ন্যুড স্টিল ইমেজ এবং ভিডিও ফুটেইজ। বাংলাদেশে অস্বীকৃত পর্ণোগ্রাফির ব্যবসায় এসব ফুটেইজের অনেক দাম, যারা এই ব্যবসাগুলো করে তাদের কাছে। সিসি ক্যামেরা কাউন্টার এবং ওয়েটিং প্লেসে না রেখে ড্রেস চেইঞ্জ করার জায়গায় রাখা কোনভাবে, কোন যুক্তিতেই পরিস্কার না।
কিন্তু পার্সোনা প্রথম আলোতে বিবৃতি দিয়ে বলেছে,এটা ‘নিছকই ভুল বোঝাবুঝির ফল’।

প্রথম আলোর অবস্থা গুলশান থানার এসআইয়ের মতো, যিনি আলামত নষ্ট করার অভিযোগে বরখাস্ত হয়েছেন। কিন্তু প্রথম আলোকে তো বরখাস্ত করার কেউ নাই। তারা বিশাল এক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ৪ অক্টোবর, পার্সোনার বিবৃতি প্রকাশের দিনই। পুরো রিপোর্টে কথা একটাই-‘এটা ভুল বোঝাবুঝি’। বিবৃতিতেও তাই বলেছেন কানিজ আলমাস।

৩০ সেপ্টেম্বর পার্সোনার বনানী আউটলেটে খুবই স্পর্শকাতর, ব্যক্তিগততাকে অসম্মানে ফেলে নারী চিকিৎসক যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন, তা নিয়ে নানান আলোচনায়, যে কথাটি এসেছে, তা হলো নারীদের দ্বারা পরিচালিত বিউটি পার্লারে কেন নারীকেই এইভাবে শিকার হতে হবে? কেন চেইঞ্জিং রুমে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা রেখে আমার আস্থা, বিশ্বাস এবং স্বস্থি ফিলিং নষ্ট করা হবে? একজন তো বলেই বসলেন, ‘তাহলে আমরা যাবো কোথায়?’

আসলে এখানে ম্যানেজমেন্টে নারী প্রধান, কর্মী বাহিনী নারী-এটা আ্যাপারেন্টলি স্বস্থির ব্যাপার মনে হলেও মনে রাখতে হবে, সমাজ এবং সময়টাই কনজ্যুমারিজমের সময়। পণ্যের সময়। সিস্টেম। সিস্টেমটাই হলো টাকা বানাও। মূলে টাকা। পাঠক, ইন্টারনেটে যদি আপনি ব্রাউজ করে দেখেন, সবচে বেশি হিট হয় যেসব সাইটগুলাতে, তার একটি পর্ণোগ্রাফি সাইট। বাকি দুইটা ড্রাগস এবং ধর্ম।
পার্সোনা নিয়ে অনেক কিছুই হচ্ছে। উকিল নোটিস, তদন্ত চেয়েছেন তথ্য কমিশনার…….আরো অনেক কিছু। কিন্তু নারীর অনিচ্ছায়, নারীর ব্যক্তি স্বাধীনতায় পার্সোনা যেভাবে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে, গোপনে নারীর শরীর ধারণ করেছে, তার অবশ্যই শাস্তি হওয়া উচিৎ। একই সঙ্গে খুঁজে বের করা দরকার রাতারাতি এতগুলা আউটলেট করার টাকা পার্সোনা কর্তৃপক্ষ কোত্থেকে পেলো? আর শুধুই কি পার্সোনা, নারীদের পোশাক বিক্রিকারী প্রতিষ্ঠানগুলার ট্রায়াল রুম, অন্যান্য বিউটি পার্লার কীভাবে সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করছে, কোথায় করছে-স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর খুঁজে বের করার এখন দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

এই ক্যাপিটালিস্ট সোসাইটিতে শরীরের আরাম, সৌন্দর্য্যের জন্য নারী পার্লারে যাবেই। কেন যাবে না! কিন্তু আমার শরীর, মানে নারীর শরীর গোপনে ক্যামেরায় ধারণ করে, গোপনে বিক্রি করার অধিকার কারো নাই। পার্সোনার কর্মকাণ্ড নিয়ে তো তদন্ত জরুরী বলেইছি, কানিজ আলমাস একা নয়, তার সঙ্গে সম্পর্কিত চক্রকেও খুঁজে বের করা জরুরী।

শামীমা বিনতে রহমান: লেখক ও সাংবাদিক।

৮২ প্রতিক্রিয়া -- “পার্সোনা: রূপে অপরূপ”

  1. Sharif

    কিচু খারাপ নামের সাথে আর একটা নতুন নাম আসল: মির ‌জাফর, গোলাম আজ্ম,কানিজ আলমাস।

    জবাব
  2. Mohi

    শিবু কুমার কামরুল আখন্দ ও ফরিদুল হক,

    সমাজের মধ্য শ্রেণীর লোকদের চরিত্রের সীমাবদ্ধতার অন্ত নাই! এদের (কিছু ব্যাতিক্রম ছাড়া)একমাত্র লক্ষ্য পয়সার পিছনে ছোটা, আর পয়সার পিছনে ছুটতে গিয়ে এহেন কাজ নেই যা তারা করতে পারে না, পার্সোনা শরীর মর্দন সেন্টারের ভিকটিম মহিলা চিকিৎসক এই পরিস্থিতির বাইরের কেউ নন, তাদের সীমাবদ্ধতাটা ঠিক কী আমি জানি না, তবে তারা আপষ করেছেন এতে কোন সন্দেহ নাই। আর যারা (নর কিংবা নারী) ভোগের দোকানে যেয়ে উলঙ্গ হয়ে অন্যকে দিয়ে নিজের শরীর মর্দন করিয়ে নেয়, তার বা তাদের রুচি ও নীতি নৈতিকতার ব্যাপারে উচ্চমান আশা করা মোটেও সমুচিত নয়। এখানে অবশ্য প্রবল প্রতিপক্ষের সাথে সাহসের সাথে অপষহীনতা ধরে রাখার একটা ব্যাপার থাকতে পারে, সেটাও দৃঢ় নৈতিক চরিত্রের অধিকারীর পক্ষে সম্ভব, যেটা যতদুর জানি ভিকারুন্নেছার ভিকটিমের বাবা এখনো পর্যন্ত ধরে রেখেছেন।
    আমি আগেই বলেছি, প্রয়োজন আর শখ এক জিনিস নয়। স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ব্যায়াম এবং আনুষাঙ্গিকতা এক জিনিসি আর বিলাসিতা, পয়সার গরমে সুখের সুড়সুড়ি পেতে চাওয়া, নিজেকে প্রতি লিঙ্গের উপভোগের সামগ্রী হিসাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা এক জিনিস নয়।
    এটা অনস্বীকার্য যে আমাদের উপর পাশ্চাত্যের প্রভাবটাই বর্তমান যুগে মুখ্য, যার তোড়ে আমরা খড়-কুটোর মত ভেসে যেতে চলেছি (ঢেউটা প্রধাণত শহুরে নব্য বিত্ব-বৈভব্য ধারীদেরকে গ্রাস করছে)।এই যে শরীর মর্দন ও বিউটি চর্চ্চা, এগুলো কি কোন সাধারণ মানুষ শ্রমিক কৃষক পরিবারের লোকজন করছেন? অথবা মধ্য ও উচ্চবিত্ত পরিবারেরও সব লোকে করছেন? নিশ্চয় না।
    উচ্চ ও মধ্য শ্রেণীর কারা এগুলো করছেন? কি তাদের অনতিদূর অতীত কর্মকান্ডের ব্যাকগ্রাউন্ড? কী তাদের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থানের ব্যাকগ্রাউন্ড? আধুনিক পাশ্চাত্য দর্শন ও বিজ্ঞান নির্ভর সভ্যতা আমাদেরকে নিশ্চয় আমাদের পুরনো অচলায়তন ভেঙে বর্তমান শিক্ষিত সমাজ বিনির্মাণে বড় ভূমিকা পালন করেছে এতে কোন সন্দেহ নাই। কিন্তু আধুনিক সেই পাশ্চাত্য দর্শন ও বিজ্ঞান নির্ভর সভ্যতা কী জিনিস সেটা কি এই নিজের উলঙ্গ শরীর অন্যকে দিয়ে মর্দন করিয়ে নেনেওয়ালারা বোঝেন? কী বোঝেন এরা আধুনিক সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান ভিত্তিক সভ্য সমাজ বলতে?
    ইনারা দর্শন বলতে বোঝেন যে, যে কোন উপায়ে নগদ নারায়ণ পকেটস্থ করা (নামাজ রোজা হজ যাকাৎ, পুজা আর্চ্চণা, গীর্জা গমন ইত্যাদি সব কিছু সত্বেও)! এ এক অভূতপুর্ব দার্শনিক আদর্শের উপর গড়ে উঠছে আমাদের মধ্য ও উচ্চবিত্ত সমাজ। এদের পহেলা বৈশাখের উন্মাদনা দেখলে মনেই হয় না যে এদেরই সন্তানেরা বাঙালী হওয়া সত্বেও বাংলা লিখতে পড়তে জানে না, নিজেদের মধ্যে তারা কথা বলে কী নিদারুণ ইংরেজিতে, নিজেদের ঘরবাড়ী ব্যাবসা প্রতিষ্ঠাণ ইত্যাদির নাম কাছাব্লাংকা পার্শোনা ইত্যাদি! আর এদের বিজ্ঞান জ্ঞানের কথা না বলাই ভাল, সমস্ত বৈজ্ঞানিক আবিস্কার এবং আধুনিক জ্ঞানের উৎসকে তারা সন্ধান করেন ধর্মগ্রন্থের মধ্যে! এদের হাতে অনৈতিক পয়সা এত জমেছে যে, তারা বাৎসরিক উৎসবের আনন্দ করতে যান বিদেশে! উড়োজাহাজে চড়তে যাওয়ার আগে এদের কেউ কেউ আবার টেলিফোনে পীরের কাছে ফোন করে বলেন, হুজুর আমাকে একটু টেলিফোনেই ফু দিয়ে দেন, আমি যেন ছহিছালামতে ফিরে আসতে পারি! এ এক হৃদয়-বিদারক দার্শনিক বৈজ্ঞানিক সভ্য শিক্ষিত সমাজ গড়ে তুলছেন আমাদের এই নব্য পয়সাওয়ালারা!
    আশ্চর্য্যজনক ব্যাপার হচ্ছে, বর্তমানে পাশ্চাত্যে যখন ভোগবাদী কন্জ্যুমার সোসাইটি প্রবল সংকটের মুখে ভেঙে পড়ছে, সেখানকার সাধারণ মানুষ যখন ভোগবাদী কর্পোরেট মুনাফাখোরদের পতনের ডাক দিয়ে তাদেরকে সমূলে উচ্ছেদের অভিযানে নেমেছেন, তখন আমাদের দেশে তা নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন এই নব্য পয়সা ওয়ালারা! ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার ধুরন্ধর নিকৃষ্ট অংশ শুধুমাত্র ব্যাবসার প্রয়োজনে এই সমস্ত ইতরপনাকে পরিচর্য্যা করছেন!

    জবাব
    • Dulal Bapari

      আপনার এত সুন্দর কথার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ!
      আমি যে এলাকায় থাকি সেইটা কিছুদিন আগে পর্যন্ত ছিল সম্পূর্ণ ঝিল। এরশাদ একটা বড় রাস্তা করে দেয়ার পর এই এলাকার প্রাক্তন জনগোষ্ঠী, প্রধানত কৃষক ও জেলেদের ভাগ্য গেল খুলে। এরা জমি বিক্রয় করে আর খায়। নিজেরা লেখাপড়া না জানলেও ছেলেদেরকে তারা এখন পাশ্চাত্যে পাঠায় পয়সা রোজগারের জন্য, কেউ কেউ পড়তেও অবশ্য যায়। এইগুলি সব এখন জমির দালাল। প্রতিদিন সন্ধার সময় মদ খাওয়া শুরু করে, সাথে থাকে অল্প বয়স্ক মেয়ে মানুষ। যেই লোক গুলান কিছুদিন আগে পর্যন্ত মাঠে পায়খানা করতো, হঠাৎ তাদের হাতে পয়সা হওয়াতে এদের বউ মাইয়াগুলান এর কান্ড কারখানা দেখলে আশ্চর্য্য হতে হয়। টাকার সাথে সাথে এইগুলার কোন শিক্ষা থাকলে এরা এইগুলু করতো না। আমি অনেক গুলারে চিনি যারা পারশোনাসহ অন্য বিউটি পার্লারের নিয়মিত কাস্টমার। আপনাকে ধন্যবাদ।

      জবাব
  3. Mahady

    কানিজ আলমাস নাপিতের দুইটা বিচার হওয়া উচিত। ১. স্বজ্ঞানে, স্বইচ্ছায় নিজ ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য সি সি ক্যামেরার মাধ্যমে ন্যুড ছবি তোলা, ২. এতো বড় ও বিশাল অন্যায় করে “ভূল বুঝাবুঝি” বলে সাফাই গাওয়া।

    জবাব
  4. জোসেফ

    প্রত্যেক কাজের রেট ঠিক করা থাকতে হবে। প্রত্যেক কাজের রেট কতটা যৌক্তিক তা দায়িত্বশীলরা পরখ করে দেখবেন।

    জবাব
  5. Tahseen

    কানিজ আলমাস পরিষ্কারভাবেই বলেছেন যে মন্ত্রীরা তার হাতে রয়েছে, এবং তিনি সিসিটিভি ক্যামেরা সরাবেন না এবং দেখে নেবেন তাতে কার কী করার আছে। তার টাকা ও উপর মহলে সম্পর্কের জোরে প্রশাসন ও মিডিয়ার মুখ যে বন্ধ হয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু তাই বলে কি আমাদের কিছুই করার নেই?

    আছে!!!

    নারীরা যারা বিউটি পার্লার ব্যবহার করেন তাদের বলছি, আপনারা একজোট হয়ে পার্সোনা বয়কট করুন।

    জবাব
  6. উস্তাদ বাঁয়ে পেলাস্টিক

    আমি ভিকটিমের পক্ষে বা বিপক্ষে বলতে না চাইলেও এই ঘটনার দায় কিন্তু আপনি শুধুমাত্র কানিজকে দিতে পারেন না। এক্ষেত্রে যারা নগ্নতার নামে স্পা ( যৌনসুখ) পেতে চায় তারাও দায়ী।

    জবাব
  7. Md.Faridul Hoq

    আজ সকালে চ্যানেল আই এ বিষয়ের উপর একটি টক শো দেখলাম । সেখানে ‌অন্যান্যদের সাথে কানিজ আলমাস ও তাকে এ ব্যাপারে লিগ্রাল নোটিশ প্রদানকারী আইনজীবি উপস্থিত ছিলেন। টক শোর সঞ্চালক বার বার দৃষ্টি কটুভাবে পারসোনার সত্তাধিকারীর কানিজ আলমাসের বিরুদ্ধে কেন প্রকৃত ঘটনা না জেনে অযথা লিগাল নোটিশ দেয়া হয়েছে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আইনজীবিকে প্রশ্ন করতে লাগলেন। তিনি যেন তাকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়ে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। ভভিষ্যতে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিলেন। একজন আইনজীবি স্বতপ্রণোদিত হয়ে নিজের ঝূঁকি নিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে গেল তাকেও আমাদের মিডিয়ার সহ্য হচ্ছে না । রহস্যটা কী?

    জবাব
  8. নীহার

    আসলে আমরা যদি এদেরকে বয়কট করি, আন্দোলন করি তাহলে এরা আমাদের টাকা দিয়ে আমাদের মা বোনদের অসম্মান করতো না। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় দেখি যে বিভিন্ন দেশে ছোট বিষয় যেমন সুপার মল এর খাবার খেয়ে পেট খারাপ হওয়াতে কেস হয় এবং এর উপযুক্ত বিচার হয়। আর আমরা দেশে সরকার নামানোর জন্য আন্দোলন করি। কেন এখন বিরোধি দলীয় নেত্রীরা সরকারকে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চাপ দেয় না তা আমাদের বোধগম্য না।

    জবাব
  9. কামরুল আখন্দ

    পার্সোনাকে এককভাবে দুষলে হবে না, মনে আছে কিনা ভারতের বিখ্যাত নাপিত জাভেদ হাবিব ও কানিজ আলমাস একটা অনুষ্ঠান করেছিল? আমি ভুলে গেছি সঠিক সালটা। সেই অনুষ্ঠানে জাভেদ হাবিব ঢাকায় এসেছিল এই পার্সোনাকেই প্রোমট করতে, সাথে ইন্ধন দিয়েছিল, যত নষ্টের গোড়া…… সৌন্দর্য ব্যাবসায়ী…… নারীকে পন্য করে যার ব্যবসা সেই লিভার ব্রাদার্স বর্তমানে ইউনিলিভার। সেই অনুষ্ঠানে বহু নামী দামী তারকা ও অভিনেত্রীরা এসেছিলেন। জাভেদ তাদের চুল কেমন করে সাজায় অথবা মুন্ডন করে তা দেখতে ও দেখাতে, সত্যি বলতে কি টিভিতে যা দেখলাম তাতে মনে হলো আমার এলাকার অতি পুরোন শীল,(হিন্দুদের নাপিত কাস্ট) এলাকার সম্পর্কে আমার বন্ধুর বাবা কানু শীল( যাকে আমরা কানু কাহা ডাকি) কাঁচি নিয়ে দুয়েকটা ঝাকি দিলেই এর চাইতেও অনেক সুন্দর ডিজাইন হয়, তাহলে কেন আমরা যাই পার্সোনাতে? আসলে এটা কিছুই না আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ও আমাদের স্বকীয়তাকে বিলীন করে দেওয়ারই নামান্তর।এর সাথে জড়িত বহুজাতিক কোম্পানীগুলো আর কিছু অর্থের কাছে বিক্রীত হয়ে যাওয়া তারকা ও মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব। নয়তো আমি ভাবতেই পারিনা স্টেজে দাড় করিয়ে কিছু হাটা চলা আর অর্ধ নগ্ন হয়ে শরীর প্রদর্শন করে কীভাবে আমরা একটা মেয়ের সৌন্দর্য নির্ধারন করি। নারীর সৌন্দর্য তো নারীই…… জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে একেক রকমভাবে নারীর সৌন্দর্য ফুটে ওঠে…… কখনো কর্মজীবি নারী…কখনো মাতৃময়ী……কখনো কন্যা। অথচ কিছু নারীবাদিরাই নারীকে পন্য বানিয়েছে, নারীকে উগ্র করেছে…… করে তুলেছে…… সময়েতে নারীকে স্রেফ পুরুষের শত্রুসম( অন্তত নারীবাদী নারীরা তাই ভাবে)। এই কানিজ আলমাসকেই তো দেখলাম লাক্স চ্যানেল আই সেরা সুন্দরী প্রতিযোগিতার বিচারক হতে। আর এখন আপনাদের সমস্ত দোষ দিচ্ছেন কানিজ আলমাসকে। কই তথাকথিত নারীবাদীদেরকেতো একবারো দেখলাম না এসব সুন্দরী তৈরী করার নামে, অথবা সুন্দরী বানানোর নামে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করতে। তখন তো পারলে সেই নারীবাদীরা সেই অনুষ্ঠানের বিচারক হতে চান। দয়া করে আমাকে মৌলবাদী ভাববেন না। আমি শুধু বোঝাতে চাচ্ছি নারীকে পন্য বানানোর একটা স্মুক্ষ্ম ষড়যন্ত্র চলছে এবং সেটা আমাদের সমাজের এলিট শ্রেনীর মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করছে বাইরের কিছু শক্তি যারা আসলে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালায় আমাদের মত ছোট ছোট জাতিগোষ্টীর স্বকীয়তাকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য। আর আমরা তাদের দেওয়া অর্থের বিনিময়ে খুব সহজেই আমাদের স্বত্তাকে বিকিয়ে দিচ্ছি।

    জবাব
  10. nisuti rater basuri

    আমাদের দেশের মেয়েদের সাধারনত ৭/৮ বৎসর বয়স হলেই বাবা মা উদ্বিগ্ন। কারন রাস্তাঘাটে পুরুষ মানুষ নামের কিছি শকুন তাদের দিকে হা করে থাকে। ওদের মনেই থাকেনা যে ওদর ঘরে মা বোন আছে। সেই ছোটকাল থেকেই বাবা মায়ের করা আদেশ ছেলেদের সাথে খেলা করা, কথাবলা, বন্ধুত্ব কোনটাই করা যাবে না। কারন ছেলেরা মেয়েদেরকে ভালো চেখে দেখে না। তাই মেয়েরাই মেয়েদের সাথে সবকিছু শেয়ার করে থাকে, অথচ মেয়েরাই মেয়েদের সর্বনাশ করে সামান্য কিছু টাকার জন্যে। পার্সোনার কি এমন কোন উদ্দেশ্য ছিল? মেয়েরা পার্লারে যেতেই পারে। কেননা, সবাই তো চায় একটু সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে। অথচ এই সুন্দরকেই পুঁজি করে একটি অসাধু মহল আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। কানিজ আলমাস একজন সফল উদ্যোক্তা বলে জানতাম।

    জবাব
  11. shibu kumer shill

    যারা আক্রান্ত হলেন তারা তো সমাজের নিচু তলার মানুষ না? তারা সো কল্ড এলিট এবং শিক্ষিত। এই প্রসঙ্গে রুমানা মঞ্জুরের কথা মনে পড়ছে। একটা মানুষের চোখ তুলে ফেলল তার বর্বর স্বামী (তবু স্বামী) তার বিরুদ্ধে কেস করা হয় ঘটনা ঘটার তিন চার দিন পর। আশ্চর্য। রুমানার পরিবার কেন কেস করেনি? এখানেও সেই সো কল্ড মিডিলক্লাস হেজিমনি। এখনতো আমরা ভুলেই গেছি কে রুমানা আর কে তার হত্যা প্রচেষ্টাকারী। যারা গ্রামে গঞ্জে ধর্ষিত হয়ে লোকলজ্জার ভয়ে অভিযোগ করেন না এমনকি অভিযোগ না করেও নানা নির্যাতনের শিকার হন তাদের সাথে এইসব সচেতন শ্রেনীর কোন তফাৎ দেখি না। গ্রামের মেয়েটার একটা আলাদা বাস্তবতা আছে বৈকি কিন্তু যে মেয়ে এলিট, আত্মসচেতন বলে দাবি করছে তার ভুমিকা এমন হবে কেন? পারসোনায় যারা আক্রান্ত হয়েছেন তারা কেন বিষয়টা চেপে গেল? এবং যার জন্য কানিজ আলমাসের মত নারী ব্যবসায়ীরা এখন পার পেয়ে যাচ্ছে। আমি মনে করি দুই পক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া উচিৎ একজন আপসকামীর অপরাধও কম না। এবং অবশ্যই পারসোনা বর্জন করা উচিত।

    জবাব
  12. রহমানী

    এটা আমাদের জন্য লজ্জার। নারীদের শত্রু যে নারী হয় গ্রামাঞ্চলের সেই প্রবাদই শহুরে একটা ব্যবসায়ী মেয়ে প্রমাণ করলো। কানিজ আলমাস নির্দোষ প্রমাণ হোক- পুলিশি তদন্তে আমরা সেটাই চাই। আমরা চাইনা মিডিয়া গুলো যে মেয়েটাকে দেশের একজন স্টারে পরিণত করেছে সে এতটা ঘৃণ্য এতটা কুরুচিপূর্ণ কাজ করে।

    জবাব
  13. রিপনচন্দ্র মল্লিক

    ধন্যবাদ শামীমা আপা

    আপনি এতো সুন্দর করে একটি মতামত প্রতিবেদন লেখার মধ্য দিয়ে একটি সাহসী ও জোড়ালো প্রতিবাদ জানালেন। আমি আপনার সংগে একমত।

    জবাব
  14. Hosne Ara

    কানিজ আলমাস এবং তার স্বামীর (ইনি পারসোনার কর্মচারী) শাস্তি হওয়া উচিত । এদের কোটি কোটি টাকার সম্পদের হিসাব তদন্ত করার জন্য আয়কর বিভাগকে অনুরোধ করছি । নাপিতের ব্যবসা ছাড়া এদের আর কোন অবৈধ ব্যবসা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। এছাড়া, এই জাতীয় ব্যবসার সাথে জড়িত অন্যান্য মহিলা যেমন ফারজানা শাকিলের এবং তার স্বামী শাকিলের (ইনিও কর্মচারী) কার্যকলাপেরও তদন্ত হওয়া দরকার । এদের আউটলেটগুলোতে কোন লিখিত সার্ভিস রেট (rate) নেই । এরা মহিলাদের কাছে থেকে ইচ্ছে মতো টাকা আদায় করে থাকে । ফেসিয়ালের নামে তেতুলের পানি আর আর স্পার নামে মহিলাদের গায়ে কাদামাটি মাখিয়ে এরা দশ থেকে ত্রিশ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে থাকে। পত্রিকার সম্পাদক এবং পুলিশের বড় কর্তাদের মনোরঞ্জনের জন্য এদের এখানে স্পেশাল ব্যবস্থা আছে । তাই কোন পত্রিকায় পারসোনার বিরুদ্ধে কোন লেখা দেখবেন না । মিডিয়ার মেয়েরাও মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে।

    জবাব
  15. rasedmehdi

    অসাধারণ একটি লেখার জন্য শামীমাকে ধান্যবাদ। একটা বিষয় পরিস্কার..পারসোনার ড্রেস চেঞ্জিং রুমে সিসি ক্যামেরা ছিল এটা পারসোনা কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে। ড্রেস চেঞ্জিং রুমে নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা রাখার কোন যুক্তি কারও কাছে গ্রহনযোগ্য নয়। এখানে কোন ভাল উদ্দেশ্যে ক্যামেরা রাখার কথা কোন সভ্য মানুষ চিন্তাও করতে পারেনা। এখানে ক্যামেরা রাখার অর্থ হচ্ছে হীন উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি দেশের কিশোরী এবং তরুনীদের ব্যবহার করে গোপন ক্যামেরায় ন্যূড ছবি তুলে অনলাইনে তথাকথিত কিছু বাংলা ফোরামের রমরমা ব্যবসা চলছে। এসব ফোরামের সঙ্গে কানিজ আলমাস এবং তার পারসোনাসহ অন্যান্য বিউটি পারলারগুলোর ব্যবসায়িক যোগাযোগ আছে কি’না তা ভালভাবে তদন্ত করে দেখা উচিত। নিরাপত্তার নামে ড্রেস চেঞ্জিং রুমে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানোর পক্ষে কানিজ আলমাসের হাস্যকর যুক্তি সমর্থন করে যে সব মিডিয়া নিউজ ছাপছে কিংবা দেখাচ্ছে তাদের প্রতি সচেতন মানুষের ধিক্কার জানানো ছাড়া আর কোন উপায় নেই। এখন পর্যন্ত ড্রেস চেঞ্জিং রুমে ক্লোজ সার্কিট রুমে সিসি ক্যামেরা লাগানোর জন্য কানিজ আলমাস ক্ষমা চাননি। উল্টো তার অপকর্মের পক্ষে সাফাই গাইছেন এবং দেশের প্রতিষ্ঠিত মিডিয়া মোগলদেরও ব্যবহার করে তার যুক্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। কানিজ আলমাসের এই ক্ষমতার দাপট প্রমাণ করে ড্রেস চেঞ্জিং রুমে পারসোনার গোপন ক্যামেরা এখনও অন আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। পারসোনার এই অনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখে সবার সাবধান হওয়া উচিত। নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে পারসোনা ঘটনার পূর্ণ তদন্ত দাবি এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পারসোনার সমস্ত ব্যবসায়িক কর্মকান্ড বন্ধ রাখার জোরালো দাবি তোলা উচিত। কারন ঘটনা প্রকাশের পর দেশের কিছু বড় মিডিয়া এবং গোপন ক্যামেরায় তোলা ছবি গায়েব করা সহ প্রশাশন এবং মিডিয়ায় কানিজ আলমামেসর ক্ষমতার দাপট দেখানোর ঘটনা প্রমাণ করে কানিজ আলমাস জেনে শুনে গোপন উদ্দেশ্যেই ড্রেস চেঞ্জিং রুমে গোপন ক্যামেরা বসিয়েছেন।

    জবাব
  16. ধ্রুব মামুন

    পূর্বে অনেক তোলপাড় করা ঘটনায় “প্রথম আলো”র ভূমিকা ও অবস্থান পুরো জাতিকে বিভ্রান্ত করেছে। এবার PERSONA’র অতি স্পর্শকাতর ঘটনায় ‘প্রথম আলো’ নিজেদের অবস্থানে জাতির বিবেকের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ভূল আমাদের-ই। অনেক বেশি নির্ভরশীলতা দেখাচ্ছিলাম আমরা এই পত্রিকাটির উপর। আর নয়। এবার আমাদের এই পত্রিকা, এর সম্পাদক ও প্রকাশককে প্রত্যাখ্যান করার সময় এসেছে।

    জবাব
  17. এহসানুল আমিন ইমন

    বিষয়টি খঁতিয়ে দেখা উচিৎ, পারসোনার মত এমন অনেক আছে…নারীদেরও ভাবা উচিৎ
    তাঁরা নিজেদের পণ্য বানাবে কি না?

    জবাব
  18. আড্ডাবাজ

    রিমান্ডে নেয়া উচিত। কানিজকে না হলেও ওই পুরুষ দুই কম্পিউটার অপারেটরকে। উপরিউক্ত লেখনী সঠিক বলে মনে করি।

    জবাব
  19. mohammad mohiuddin

    আমাদের দেশ তথা পৃথিবীর সকল নারীবাদী লেখক গলা ফাটিয়ে চেচাচ্ছেন যে,পুরুষেরাই সকল প্রকার নারী নির্যাতনের জন্য দায়ী্। কিন্তু কথাটা যে পুরোপুরি সত্য নয তা পার্সোনার কার্যকলপই প্রমাণ করে। আসলে আমরা যদি একটু গভীরভাবে চিন্তা করি, তাহলে কী দেখি? নিতান্ত গুটিকয় পাষন্ড ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারী নির্যাতনের নেপথ্যে থাকেন নরীরাই। দেশের বৃহত্তম বউটি পার্লার বলে কথিত ‘পার্সোনা’সেক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করল। নারীর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হচ্ছে তার সম্ভ্রম। আমি বিশ্বাস করি না বাংলাদেশের কোন সচেতন নারী তার সম্ভ্রম বিসর্জন দিযে নিজেকে কৃত্রিম রূপে সাজাতে চাইবেন। আল্লাহ্তালা জানেন এ পর্যন্ত কত নিরীহ নারীর নগ্ন ছবি পার্সোনা মাফিয়াদের কাছে সরবরাহ করেছে। তাই সকল মাতা ভগ্নি কন্যাগনকে অনুরোধ, আপনারা সাবধান হউন। বোকার মত পশ্চিমা সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ করতে গিয়ে নিজেদেরকে ভোগ্যপণ্যের মত বিকিয়ে দিবেন না । আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ যে সকল প্রতিষ্ঠান এজাতীয় জঘন্য কর্মকান্ডে লিপ্ত তাদেরকে যেন কঠোর হস্তে দমন করেন। সময়োপযেগী লেখার জন্য লেখিকাকে ধন্যবাদ।

    জবাব
  20. Mohi

    শামীমা, আপনি একজন লেখক। সমাজের সবচেয়ে প্রভাবশালী পেশার সাথে আপনি যুক্ত। আপনার মনে রাখা উচিৎ, আপনি যতটা না ব্যাক্তিগত, তার চেয়ে বেশী সামাজিক। আপনার কোন বক্তব্য যখন আপনি উপস্থাপন করেন, সেটাকে বিশাল একটা অডিয়েন্সকে মোকাবেলা করতে হয়। আপনার বক্তব্য পরবর্তীতে আপনারই ব্যাক্তিত্যের উপর ছাপ ফেলে নিশ্চয়। আপনি সমাজের জন্য প্রয়োজনীয় নাপিতশালা/বিউটি পার্লার আর অপ্রয়োজনীয় শরীর মর্দন/সুখানুভূতি পাওয়ার দোকানকে এক করে ফেলছেন এবং এর প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে যেয়ে, আপনার বাড়ীর কাজের মেয়ে, গার্মেন্টস কর্মী আর ধণীদের বৌ-ঝিদেরকে আশ্চর্য্যজনভাবে এক করে ফেলছেন।

    প্রয়োজন আর শখ এক জিনিস নয়, অর্থাৎ শরীর মর্দন সেন্টার আর বিউটি পার্লার/নাপিতশালা এক জিনিস নয়। আমাদের দেশে পুরুষের জন্য নাপিতশালা অনেক পুরনো হলেও মেয়েদের জন্য সেটা আধুনিক, তাও আবার দেশের সব শহরে মেয়েদের জন্য প্রয়োজনীয় এই প্রতিষ্ঠানটা এখন পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি। কিন্তু দেশের বড় বড় শহরে মেয়েদের জন্য যেটা গড়ে উঠেছে, সেটা একই সাথে নাপিতশালা এবং বিউটি পার্লার দুই ধরণের উদেশ্যেই ব্যাবহার হচ্ছে। শুরুতে এটার সাথে শুধুমাত্র পেটের দ্বায়ে যারা নাপিতগিরী করতে রাজি ছিলেন তারাই যুক্ত হতেন এবং এর থেকে তারা ভাল রোজগারও করতেন, কিন্তু এই নাপিতশালা/বিউটি পার্লারগুলো ব্যাবসা সফল হওয়াতে এখানে কানিজ আলমাসদের মত ব্যাবসায়ীদের অনুপ্রবেশ ও বিনিয়োরগের ফলে এখানকার প্রাক্তন স্বাধীন রোজগেরেরা নিজেদের আদি সেক্টরের শ্রমিকে পরিণত হয়েছেন। প্রশ্ন হচ্ছে এই প্রাক্তন নাপিতশালাগুলোর হঠাৎ করে এত ব্যাবসা সফলতার কারন কী? এর উত্তর পাওয়া যাবে শামীমা বিনতে রহমান এর লেখার মধ্যেই, ভোগবাদী ও বিলাসী কনজ্যুমার সোসাইটি! একশ্রেণীর লোকেদের হাতে প্রয়োজনের তুলনায় এত বেশী পয়সা জুটেছে যে, তাদের বৌ-ঝি বা মেয়েদের জন্য গড়ে ওঠা নাপিতশালা কাম বিউটি পার্লারকে শরীর মর্দন ও অন্যান্য সুখানুভূতি পাওয়ার কাজে ব্যাবহার করছেন, যেটাকে তারা স্পা, এই পা, সেই পা বলে চালিয়ে দিচ্ছেন! লক্ষণীয় বিষয় যে এই শরীর মর্দন ও অন্যান্য সুখানুভূতি পাওয়ার সেন্টারগুলো কিন্তু মেয়েদেরগুলোর মত একই তালে পুরুষের জন্যও গড়ে উঠছে না, পৃথিবীর অন্যন্য দেশে যেটা গড়ে উঠেছে। পুরুষের যে নাপিতশালা সেই নাপিতশালাই রয়ে গেছে আজও, শুধু সাজ-সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতিতে কিছুটা আধুনিকতা এসেছে। আরও লক্ষণীয় ব্যাপার যে পুঁজির গতির স্বাভাবিক প্রবণতায় মেয়েদের জন্য গড়ে ওঠা এই শরীর মর্দন সেন্টারগুলোতে অস্বাভাবিক বিনিয়োগ ও কর্মকান্ড গড়ে উঠছে, যেটা এখানকার বিউটি পার্লারীয় ও নাপিতীও কর্মকান্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন!

    প্রচুর বিনিয়োগের ফলে প্রথম আলো পত্রিকার ব্যাবসা সফলতা থাকতে পারে, কিন্তু তাদের গণবিরোধী কর্মকান্ড যথা সময়ে যথা জায়গায় প্রকাশ পাচ্ছে, আরো পেতে থাকবে!

    জবাব
  21. asaduzzaman

    নারী প্রধানমন্ত্রী ,নারী পররাস্ট্রমন্ত্রী–এদুজনকে বলা অপ্রাসঙ্গিক মানলাম, কানিজ নাপিতের ঘটানো ঘটনাটার ব্যপারে যদি নারী স্বরাস্ট্রমন্ত্রীকে নাক গলাতে বলা হয় সেটা নিশ্চয় অপ্রাসঙ্গিক হবেনা । নাকি শহীদ মিনারে পাবলিক অনশন না করা পর্যন্ত টনক নড়বে না? প্রথম আলোর মুখোশটাও খুলে গেলো, লিমনকে নিয়ে যত উদ্দিপনা ছিল প্রথম আলোর , রেখে ঢেকে বলে কি হবে ,ব্যপারটাতো পরিস্কার , লিমনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে যে জিনিসটা লাগতো , সেটা তো রেব দিতে পারতো না । গতকাল থেকে প্রথম আলো পড়া বাদ দিয়েছি । শেষে হুজুরদের কথা দেরিতে হলেও রাখলাম । এক দাবি শীঘ্র বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাই, পুলিশি নয় অবশ্যই |

    জবাব
  22. Shahid

    বেশ আশ্চর্য এবং সত্যি কথা হলো পার্সোনা এখনো তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এত বড় মাপের একটা বিতর্কের পরে প্রথম কাজই হলো এদের ব্যবসা বন্ধ করে তদন্ত করা (পুলিশের ব্যাপারে তাই হয়েছে)। এই ব্যাপারে এমনকি হাইকোর্টও এগিয়ে এসে ব্যবসাটা বন্ধ করে দিয়ে তদন্ত করছে না। মনে হচ্ছে এই মহিলা-শাসিত বাংলাদেশও মেয়েরা সুবিচার পাবে না। অসম্ভব কষ্টের একটা ব্যাপার কিন্তু এইটাই বাস্তবতা।

    জবাব
  23. Mamun

    যার টাকা আছে তার এই বাংলাদেশে কিচ্ছু হয়না । তাই কানিজ আলমাসেরও কিছু হবে না। আমরা যা দেখি শুনি তা কি মিডিয়ায় আসে ? টাকার ভাগ ঠিক মত পেলে শুধু প্রথম আলো না সব আলোই নিভে যায় ।

    জবাব
  24. Nayon

    জাহিদুল ইসলাম: …। আমার দেহ আমি প্রয়োজন মত দেখাব! আমার বিজনেসে কানিজ ভাগ বসাচ্ছে আজব! সো দেশের দুর্দিনে যারা সেবা নিতে যায় আর যারা তাদের উপর ব্যবসার ভাগ বসায়(কানিজ) আর অল সেইম।
    সহমত ১০০%.

    জবাব
  25. hossain

    এতো ছোট অক্ষরে মন্তব্য লেখাও যায়না, পড়াও যায়না । তাই মন্তব্য দেয়া থেকে বিরত থাকলাম ।

    জবাব
    • asaduzzaman

      বাংলা ঠিক-ই আছে। আকারও পড়ার মত।
      আপনি গুগল-ক্রম ব্যবহার করেন, মজিলা-ফায়ারফক্স এ সমস্যা হয় অন্য কারনে।

      জবাব
  26. মোস্তাফিজুর রহমান

    ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর লেখাটির জন্য। প্রথম আলোর সাংবাদিকতা আজ সবার কাছেই পরিস্কার। এরা আবার বলে বদলে যাও……। ঐ পত্রিকাটি ভাল মানুষির আড়ালে এসব করে থাকে। ওদের বয়কট করা জরুরি। কানিজ আলমাসের টাকা কীভাবে আসে সেতো এখন দিনের দিনের(প্রথম)আলোর মত স্পশ্ট । হায় কানিজ আলমাস!

    জবাব
  27. সাবু

    সেক্স, ফ্যাশন এবং উইমেন নিয়ে সমাজতান্ত্রিক এবং প্রতিক্রিয়াশীল নারীবাদীদের নিয়ে একটা চমৎকার লেখা পরলাম বলে ভালো লাগলো। আসলে, নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলে ধনতান্ত্রিক অর্থনীতি ব্যবস্থা নারীকে একটি ভোগ্যপণ্য ব্যতীত কোন কিছুই মনে করে না। আর পার্সোনা সেই আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সবার অজান্তে একটু অন্যায় করার প্রয়াস পেয়েছে। তাছাড়া, আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজও তো নারীকে হেয় করে, চেষ্টা করে তাঁকে পুনরায় ঘরের চার-দেয়ালের মাঝে আবদ্ধ করে ভোগ করার। যাই হোক, এ ধরনের পিশাচ কর্মকান্ডের বিচার কামনা করি, আশা করি নারীর ক্ষমতায়ন, তবে ভোগ্যপণ্য হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে।

    জবাব
  28. shaon

    হা হা হা. কার কাছে তদন্ত দাবি করলেন? যারা ভালো মন্দের খবর জানাবে বা বিচার করবে তাদের সাথে সমঝোতা করে নোটিস দিয়া দিছে। মনে হয় নুরুজ্জামান লাবুর লিখাটা পড়েছেন।

    জবাব
  29. আজমী

    স্পা করুক, ফেসিয়াল করুক, যে যা ইচ্ছা তাই করুক…. কিন্তু চেঞ্জিং রুমে ক্যামেরা কেন??? দ্রুত অপরাধীর বিচার চাই….

    জবাব
  30. মনিরুজ জামান

    কানিজ আলমাস খান ভদ্র চেহারার আড়ালে একটি অত্যন্ত কুৎসিত কাজ করেছেন। তাঁর এই অপরাধ যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে তিনি অবশ্যই একজন ঘৃণ্য ব্যক্তি হিসেবে পরিগণিত হবেন। এবং আমরা দেখতে চাই যে আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

    জবাব
  31. maksud

    আপনার লেখা নারী সমাজের দায়িত্ব পূরণ করেছে। সামাজিক মূল্যবোধের এদেশে অশ্লীলতাকে কৌশলে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিয়ে কানিজ আলমাস খান এমনিতেই যে অপরাধ করেছেন, তার শাস্তি এখনো বাকি আছে। আর পার্লারের ডেসিং রুমে ক্যামেরা বসিয়ে সে ফুটেজ বাজারে বিক্রি করে যে অর্থ কামিয়ে চলেছেন, তার বিচার না হলে… আরো ১০০টা কানিজ আলমাস খান এমন সাহস দেখাবে।

    জবাব
  32. Mahmud Hossain

    “ড্রেস চেইঞ্জ করার জায়গায় সিসি ক্যামেরার উপস্থিতি নিয়ে যে আপত্তি তুলেছেন, তা নিয়ে হৈচৈ কম হয় নি। বরং হওয়াটাই যথার্থ। আরো হওয়া দরকার বলে মনে করি।”

    একদম ঠিক কথা। এত চমৎকার এবং প্রয়োজনীয় একটি লেখার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

    জবাব
  33. as sabuj

    শামীমা বিনতে রহমান,আপনাকে ধন্যবাদ। এ বিষয়ে অবষশ্যই জরুরিভিত্তিতে তদন্ত হওয়া জরুরি। এ চক্রটিকে চিহ্নিত করতে হবে। আর আমাদেরও ভাবতে হবে আমরা কোথায় যাচ্ছি। কোনোভাবে কারো দ্বারা ব্যবহার হচ্ছি কি না। আবারও আপনাকে ধন্যবা‌‌দ।

    জবাব
  34. ম্যাঙ্গোপিপল

    পারসোনার এই ঘটনার মনে হয় পুরো চক্রের হাত খুব লম্বা। কারন অভিযোগের জ্বলজ্যান্ত প্রমান যেখানে পারসোনার বিপক্ষে সেটা এখন টাকা+লবিং এর ধাক্কায় ভুল বুঝাবুঝিতে রুপান্তরিত হয়ে গেছে।

    দেশের এক নম্বর হলুদ দৈনিক প্রথম আলোর নির্লজ্জ রিপোর্ট প্রমাণ করে কানিজ আলমাসরা সবখানেই আছেন। উনি নিজেই একেকবার একেক কথা বলছেন, এই ক্যামেরা ছিলো না, আবার বলছেন ইলেক্ট্রিশিয়ানের ভুলে ঘুরে গেছে।

    প্রথম আলোর ঐ রিপোর্টারও একজন মেয়ে যার নাম তৌহিদা শিরোপা, আচ্ছা ঊনার বিবেকে বাঁধলো না এভাবে একপেশে রিপোর্ট করতে? নাকি উনি ওনার উপড়ওয়ালাদের আদেশমত রিপোর্ট করেছেন?

    সব সিসিক্যামেরা নাকি উনার (কানিজ আলমাস) রুমে মনিটরিং হয় তাহলে, মাছরাঙ্গা টিভির রিপোর্টে দুইজন পুরুষ কর্মীকে কেন দেখা গেল কম্পিউটারের সামনে?

    এটিএন বাংলার রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে যে ঐ চেঞ্জিং রুমের ক্যামেরাটা আইপি ক্যামেরা, যা দূর থেকে নিয়ন্ত্রন করা যায়, এমনকি যেকোন দিকে ঘুরানো যায়। তাহলে ইলেক্ট্রিশিয়ানের ভুলে ক্যামেরা ঘুরে যাওয়ার ব্যাখ্যা একেবারেই অযৌক্তিক।

    হার্ডডিক্স থেকে অভিযোগকৃত ভিডিও মুছে ফেলে হয়েছে বলে দাবী করা হচ্ছে, এখন অনেক ভালো ভালো ডাটা রিকভারী সফট পাওয়া যায়, যেগুলি দিয়ে ঐ ভিডিও পুনরুদ্ধার করে, পরীক্ষা করে দেখা হোক।

    শোনা যাচ্ছে পারসোনার দেখাশুনা করেন কানিজ আলমাসের ভাগ্নে, যিনি সেনাবাহিনী থেকে বিতাড়িত। এমন এক লোকের তত্বাবধায়নে ক্যামেরা অপব্যবহার যে হবে না, নিশ্চয়তা কি?

    লেখিকার তথ্যানুসারে কানিজ আলমাসের আয়-ব্যয়ের এবং সম্পত্তির হিসাব নেওয়া হোক। তিনি কীভাবে এতদ্রুত সম্পদশালী হয়ে ঊঠলেন।

    পূর্বে কানিজ আলমাসের বিরুদ্ধে উপজাতি মেয়ে জোর করে ধরে এনে নাম-মাত্র বেতনে পারসোনায় খাটানোর অভিযোগ এসেছিলো, সেই সাথে ঐসব উপজাতি নারীদেরকে নিয়ে মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করা হত, এমন অভিযোগও এসেছে, এগুলো খতিয়ে দেখা হোক।

    পারসোনার এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত হোক, দোষী সবাইকে কঠোর শাস্তির না দিলে, প্রশাসন জনগনের আস্থা হারাবে। দেশ থেকে সব অনাচার দূর হোক।

    জবাব
  35. joyanta saha

    পারসোনার দিকে এত প্রশ্ন– জবাব দিবে কে?? কানিজ আলমাসের সঙ্গে মন্ত্রী আমলাদের উঠা-বসা। এলিট প্যানেলের নাগরিক তিনি। বড় বড় ইভেন্টে সম্মাননা মেলে রুপ বিশেষজ্ঞ এই নারীর। আড়ালে আবডালে যে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে পর্নো ব্যবসা করে আসছিলেন কিনা তা কে জানে…!!! স্কুলবেলায় পড়েছিলাম -অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে/ তব ঘৃনা যেন তারে তৃনসম দহে। বুঝলাম – সেটার বাস্তবিক কোন প্রয়োগ নেই। শুধূ শুধু নীতিবাক্য স্কুলে যে কেন পড়ায়….!! এত বড় একটা ঘটনা কিনা মোটা অংকের টাকায় দফারফা হয়ে গেল। শামীমা আপা টু দি পয়েন্ট কিছু প্রশ্ন করেছেন। ব্যাপারটা চমৎকার লাগলো। নারীরাই যেখানে সব, সেখানে হিডেন ক্যামেরা কেন…..?? প্রশ্ন তো এখানেই। কানিজ আলমাস তবে তার ভদ্রতার আড়ালে এই নোংরা কাজটি এতদিন করে আসছিলেন……… পারসোনায় ধারনকৃত ভিডিওগুলো যদি বাইরে চলে আসে, তবে ভেবেছেন অবস্থাটা কী দাঁড়াবে..’. নিরপরাধ নারীদের তখন আত্মহনন ছাড়া কোন উপায় নেই।

    জবাব
  36. কাউসার

    পারসোনা নিয়ে কম বির্তক হচ্ছে না। আমাদের করর্পোরেট জগৎতের নগ্ন চেহারা ধীরে ধীরে দেখা দিচ্ছে। তবে পারসোনা কেলেংকারী থেকেও বড় কেলেংকারী হল মেইন স্ট্রিম মিডিয়ার নিরবতা। প্রথম আলো দিন কয়েক পরে ভুল বুঝাবুঝির খবর ছাপাল। অথচ ঘটনা ঘটার পর কোন খবর নাই। একটা মিডিয়া যখন পুরো দেশের সভ্য মধ্যবিত্তের প্রতিনিধিত্ব করার ধুম্রজাল তৈরী করে তখন বিপদের মাত্রা যে কতটুকু তা আঁচ করতেও ভয় লাগে। ধন্যবাদ শামীমা বিনতে রহমান আপনাদের প্রচেষ্টার জন্য, বিরুদ্ধ স্রোতে সাঁতার কাটার সাহস দেখানোর জন্য। আরও গর্জন করুন। তবে বিপদ হল আমরা যা এবটু বুঝি তারাই আপনাদের লেখা পড়ি। আর বাদবাকীরা ওদের ঘোর থেকে মুক্ত হতে পারছে না – হয়ত মুক্ত হতে চায়ও না।

    জবাব
  37. নাজমুস সাকীব হিমেল

    লেখাটির জন্য লেখককে ধন্যবাদ। এই ঘটনাটি কোন হালকা ঘটনা নয়। এটার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত। এরকম আরো ঘটনা ঘটছে যা মিডিয়া পর্যন্ত পৌছে না।এই কলামটি প্রকাশ করার জন্য বিডিনিউজকেও ধন্যবাদ। আর এই বিষয়ে প্রথম আলোর ভূমিকা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। তাদের করা নিউজটি পড়লেই সেটা সচেতন পাঠক ধরতে পারবে। প্রথম আলো কেন পারসোনাকে বাঁচাতে চায় সেটাও খতিয়ে দেখা উচিত।

    জবাব
  38. shawkat

    প্রয়োজন কঠোর আইন এবং এর উপযুক্ত প্রয়োগ। এবং সমাজের চেতনা জাগ্রত করা। এখন ইন্টারনেটের এই অবাধ প্রবাহের যুগে শেষের কাজটি আপনি আমি সবাই করতে পারি।

    জবাব
  39. nahid

    পার্সোনার কর্মকাণ্ড নিয়ে তো তদন্ত জরুরী বলেইছি, কানিজ আলমাস একা নয়, তার সঙ্গে সম্পর্কিত চক্রকেও খুঁজে বের করা জরুরী।

    জবাব
  40. Masum Rana

    বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও ব্লগে এত লেখালেখির পরও যদি সাধারন মানুষ এর বিচার না পাই তবে এই স্বাধীন রাষ্ট্রে স্বাধীন মানুষের সাথে বেইমানি ছাড়া আর কিছু নয়। কানিজ আলমাসের ফ্যান পেজে অনেকে তার অপকর্মের প্রতিবাদ করতেছে, কিন্তু তার টাকা দিয়ে কেনা কিছু লোক ব্যাপারটা চাপা দেবার জন্য অনেক কমেন্টকারীকে প্রথম আলোর ভুয়া প্রতিবেদন দিয়ে ইমপ্রেস করার চেষ্টা করছে। সেখানে অনেক ব্লগ বা গণমাধ্যমের লিংকগুলো মুছে ফেলা হচ্ছে। তার পরও আমরা সবাই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে যাব। আর যাই হোক আমরা সাধারন মানুষ মুখিয়ে আছি কানিজের বিউটিপার্লারের সঠিক তদন্ত দেখার জন্য।

    জবাব
  41. জুয়েল

    এ বিষয়ে আসলে অনেক আলোচনা তর্ক বিতর্ক হয়ে গেছে। অনেকে অনেক ধরনের কথা বলেছেন। কানিজ আলমাস নিজেও একেকবার একেক কথা বলেছেন। যেমন, টেকনিশিয়ানের ভুলের কারনে ক্যামেরা একটু ঘুরে গেছে অথবা ক্যামেরা শুধু দরজা কাভার করে ইত্যাদি। কিন্তু কথা হলো, চেঞ্জিং রুমে কেনো ক্যামরা থাকবে। কর্পরেট অফিসগুলোতে ক্যামেরা থাকে, সেটা থাকে ক্যাশ, রিসিপশন বা ওয়েটিং এরিয়াগুলোতে। কিন্তু চেঞ্জিং রুমে ক্যামেরা কেনো?

    চেঞ্জিং রুমে ক্যামেরা থাকার উদ্দেশ্য যে কী সেটা সবাই জানি। এখন কানিজ নিজে যাই বলুন না কেন। এরকম কিছু একটা হতেই পারে, ধারন করা ভিডিও ফুটেজ পরে ব্লাক মেইল করার কাজে ব্যবহার করা হয়।

    জবাব
  42. rahman moni

    এভাবেই আমার মা বোনরা পর্ণ ছবিতে নিজের অজান্তেই অভিনয় করছেন / কানিজ আলমাসের বিচার হওয়া জরুরী / দরকার হলে আইন পরিবর্তন করে।

    জবাব
  43. Sanaullah Sanu

    আপনি যাই বলেন আপু, কোন লাভ হবে কিনা জানি না। কিন্তু আমাদের নারীবাদী সরকারের কাছে এটা কোন ব্যাপার বলে মনে হচ্ছে না। যদি তাই হতো তাহলে এতোদিন এ Positive নিউজ ঠিকই পাওয়া যেত। এ ঘটনা তদারকি করতে এতোদিন সময় লাগার কথা?
    কিন্তু তারা তা না করে উঠে পরে লেগেছে Facebook & Blog website নিয়া।
    আমাদের সমাজের Culprit গুলো মুক্তি পাচ্ছে আর অবাধে অবৈধ ও অসামাজিক কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার বা আইন কারও কোর মাথা ব্যথা নেই এ ব্যাপারে। তাদের মাথা ব্যথা হলো সাধারণ জনগনকে ধরে পিটিয়ে হাত পা গুড়ো করে দেয়া আর দেখানো আমরা খুবই Active. যাকে বলা যায়, “ঝি-কে মেরে বউকে শেখানো।”

    আর এখন Persona তো যা করার করছে এবং করতেছে কিন্তু আমাদের সমাজের কিছু ধনীর দুলালেরা আজ কাল জড়িয়ে পরছে নানা রকম অসামাজিক কার্যকলাপে যা Persona থেকেও আর বেশী Negative. যা আমাদের সমাজে দিন দিন বেড়েই চলছে। সরকার চাইলেই পারে এসব Activity এর ব্যাপারে কঠোর হতে। কিন্তু তা কেন করছে না তারা জানে আর আল্লাহই জানে।

    জবাব
  44. জাহিদুল ইসলাম

    আমার বাবা তো কলেজ শিক্ষক, দ্রব্যমুল্যের এই দুর্দিনে আমার মাকে দুইটা ভাল শাড়ী কিনে দিতে পারছেন না। আমাদের জন্য এক্সট্রা হাত খরচ দিতে পারেন না, সেই সময় আপনারা স্পা করার মত টাকা সময় আর মন মানষিকতা পান কোথায়!! আজব দেশ, আমি বলব সৎ ইনকাম করলে সেটা ভেবে চিন্তে খরচ করতেন। কয়টা ফেমিলির গল্প আপনি জানেন, আমার বাপ দাদার চৌদ্দ গুষ্টীতে কেউ স্পা করতে গেছে বলে জানা নাই।

    আর এইগুলা কি জন্যে করেন! ড্রেস কোট দেখে তো কোনদিন মনে হয়নি তাদের দেহ ঢেকে রাখতে চাইছে কেউ। বাইরে বের হয়ে কিংবা ফ্যাশন শোতে তো দেখাবেই। ঘটনা সেখানে নয়, আমার দেহ আমি প্রয়োজন মত দেখাব! আমার বিজনেসে কানিজ ভাগ বসাচ্ছে আজব! সো দেশের দুর্দিনে যারা সেবা নিতে যায় আর যারা তাদের উপর ব্যবসার ভাগ বসায়(কানিজ) আর অল সেইম।

    জবাব
  45. নূরুল ইসলাম

    সুষ্ঠু তদন্দের মাধ্যমে স্পর্শকাতর এ বিষয়টি সুরাহা হলেই ভালো। সুশীল সমাজের বাসিন্দা হিসেবে এসব অসুন্দর কাজ থেকে আমরা বিরত থাকবো

    জবাব
  46. সাজু

    লেখকের সাথে একমত পোষণ করছি।

    ‘পার্সোনার কর্মকাণ্ড নিয়ে তো তদন্ত জরুরী বলেইছি, কানিজ আলমাস একা নয়, তার সঙ্গে সম্পর্কিত চক্রকেও খুঁজে বের করা জরুরী।’

    জবাব
    • মাহমুদা হাসীনা পাখী

      লেখিকাকে ধন্যবাদ এবং বক্তবের জন্য জোরালোভাবে একাত্বতা ঘোষনা করছি। এধরনের বিপদজনক ব্যবহারের বিচার যাতে হয় তার জন্য সন্মিলিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। সচেতন সবাইকে বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময় এখনি।

      জবাব

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—