?????????????????????????????????????????????????????????

ভোরে সেহেরির জন্য ঘুম ভাঙতেই ফেসবুকে নীলাভির নক, ‘ঢাকার খবর পেয়েছেন?’

শুনেই বুকটা ধড়াস করে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে একাধিক অনলাইন নিউজ পোর্টালে গিয়ে মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে যায়। গুলশানের ‘হলি আর্টিজান’ রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে, জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের হাতে ত্রিশ জনের বেশি জিম্মি। নীলাভি জানাল, ঢাকায় নাকি শুরুতে গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল, রেস্তোরাঁ দখলের পর জঙ্গিরা আস্তে আস্তে পুরো ঢাকা দখলের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হচ্ছে। গুজবটি অবশ্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

সেই থেকে দেশে-বিদেশে বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রবল উৎকণ্ঠা। বারবার নিজেকে রেস্তোরাঁয় জিম্মিদের জায়গায় কল্পনা করছিলাম আর অসহায়ত্ব আরও প্রকট হয়ে উঠছিল। এর মধ্যে খবর আসে অভিযানের সময় বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাউদ্দিন ও ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম রেস্তোরাঁর ভেতর থেকে সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া গুলিতে মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ঝিনাইদহ এক্স-ক্যাডেট এসোসিয়েশনের সভাপতি, পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা মারুফ হাসানসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য। গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁ ঘিরে তখন শ্বাসরূদ্ধকর পরিস্থিতি।

এরকম অবস্থায় চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে দুয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল। ঘটনা কাছ থেকে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি সম্পর্কে অগ্রিম এমনসব খবর সম্প্রচার করছিল, যা আসলে রেস্তোরাঁর ভেতরের সন্ত্রাসী এবং আশেপাশে ভীড়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকা তাদের সম্ভাব্য সহযোগীদের আগেভাগেই সতর্ক হবার সুযোগ করে দিচ্ছিল। রেস্তোরাঁয় জিম্মি থাকা একজন প্রকৌশলী ভেতর থেকে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে এসএমএস পাঠাচ্ছিল। একটি টেলিভিশন চ্যানেল বেকুবের মতো তার নাম-ধামও প্রচার করছিল।

এসব দেখে ২০১৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর সিডনির প্রাণকেন্দ্র মার্টিন প্লেসের লিন্ড ক্যাফেতে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী ঘটনার কথা মনে পড়ল। সেখানে এক অস্ত্রধারী ক্যাফেতে উপস্থিত সবাইকে জিম্মি করলে পুলিশের পক্ষ থেকে সমস্ত মিডিয়াকে ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি সম্প্রচার না করার জন্য নির্দেশনা জারি করা হয়।

সেদিন অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়া পেশাদারিত্বের পাশাপাশি দারুণ দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছিল। তারা দর্শকদের নিয়মিত আপডেট জানালেও জিম্মি-কাণ্ডের হোতা সন্ত্রাসীর কোনো দাবি-দাওয়া বা ইচ্ছের কথা প্রচার করেনি। অথচ ঘটনাস্থলের খুব কাছেই ছিল অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বৃহৎ টেলিভিশন চ্যানেলের অফিস।

রেস্তোরাঁর সন্ত্রাসী ঘটনা অনেকগুলো প্রসঙ্গ সামনে নিয়ে এসেছে। প্রথমেই প্রশ্ন জাগে সারাদেশে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চলাকালীন, বিশেষ করে ঢাকা শহরের রাস্তায় মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট থাকা অবস্থায় গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকার জঙ্গিরা এত অস্ত্রশস্ত্রসহ কীভাবে রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করল? বিশাল নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ছিদ্র কোথায় যা দিয়ে বারবার জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা হামলা চালাচ্ছে?

এত বড় একটা হামলার সঙ্গে নিশ্চয়ই অনেক দিনের পরিকল্পনা জড়িত ছিল অথচ আমাদের গোয়েন্দা বাহিনী তা সময়মতো জানতে পারেনি! মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও আগে সরকারকে এ ধরনের হামলার ব্যাপারে সতর্ক করেছিল। তারপরও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

দ্বিতীয়ত, বর্তমানের এই ভিন্নধারার সন্ত্রাস মোকাবেলায় আমাদের পুলিশ বাহিনীর দক্ষতা অনেক বাড়াতে হবে। এর আগে কলাবাগানে জুলহাজ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়ও আমরা দেখেছি, জঙ্গিদের হাতের কাছে পেয়েও তাদের ধরে রাখতে পারেনি রাস্তায় টহলরত পুলিশ।

তৃতীয়ত, বর্তমানের এইসব ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ কিংবা জিম্মি-সন্ত্রাসের রাজনৈতিক প্রকৃতি অনুধাবন করতে হবে। বাংলাদেশের বর্তমান সন্ত্রাসী হামলাগুলো মামুলি ধরনের ঘটনা নয়। এর পেছনে একটি রাজনৈতিক শক্তি রয়েছে। শতকরা নব্বই ভাগ মুসলমানের দেশে ইসলাম নতুন করে প্রতিষ্ঠার কিছু নেই। তার মানে, এসব সন্ত্রাসের পেছনে যে রাজনৈতিক শক্তি তাদের উদ্দেশ্য ইসলাম নয়, বরং ইসলামের নামে অন্য কিছু।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত-শিবিরই এই সমস্ত জঙ্গি-সন্ত্রাসী হামলার মদদদাতা। ইতোমধ্যে আমরা দেখেছি, জঙ্গি-সন্ত্রাসের অভিযোগে এ পর্যন্ত যতজন গ্রেফতার হয়েছে, তাদের অধিকাংশই সাবেক শিবির নতুবা জামায়াতের প্রাক্তন কর্মী। সাম্প্রতিক এই সন্ত্রাসী হত্যাকাণ্ডগুলোর সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের একটা যোগসুত্র দৃশ্যমান। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ভণ্ডুল করার জন্য জামায়াতের তরফ থেকে দেশে-বিদেশে প্রচুর অর্থ ঢালা হয়েছে। বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করা হয়েছে। যদিও তাতে খুব একটা লাভ হয়নি। বিচারও চলছে, ঠেকানো যায়নি।

জামায়াত-শিবিরও তাই মরণ-কামড় দিচ্ছে। পেট্রোল-সন্ত্রাস, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড থেকে এখন শুরু হল জিম্মি-সন্ত্রাস। একের পর এক হামলা চলছে। অথচ জঙ্গিবাদের নামে, ধর্মের নামে সন্ত্রাস মোকাবেলার যে রাজনৈতিক তৎপরতা রাজপথে থাকা উচিত, তার ঘাটতি রয়েছে।

এবারের জিম্মি-সন্ত্রাসের ঘটনা বাংলাদেশের জন্য অভিনব, যদিও বিশ্বে এরকম ঘটনা অনেক ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনা মোকাবেলায় সাধারণত সেনাবাহিনী বা পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষিত দক্ষ বাহিনী দরকার। আমাদেরও তা আছে। আমাদের সেনা-নৌ-পুলিশ বাহিনী ও র‌্যাব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। সে জন্য তারা ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। দেশবাসী পুনর্বার তাদের নিয়ে গর্বিত বোধ করল।

কুড়িজন দেশি-বিদেশি জিম্মি আর ছয় জঙ্গিসহ আঠাশ জনের মৃত্যুর বিনিময়ে রেস্তোরাঁর জিম্মি-সন্ত্রাসের অবসান ঘটলেও এটাই কি বাংলাদেশে শেষ জঙ্গি হামলা? এর পরের টার্গেট কে বা কারা? ঢাকায় যখন জিম্মি-সন্ত্রাস চলছে, তখন ঝিনাইদহে আবার এক পুরোহিতকে হত্যা করা হয়েছে, সাতক্ষীরায় একজন পুরোহিতকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, জঙ্গিরা থেমে নেই। তাদের সন্ত্রাসী আক্রমণ চলবে বলেই প্রতিভাত হয়।

দেশের এই সংকটকালে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং তাদের সমর্থিত বুদ্ধিজীবীরা সন্ত্রাসের বিরূদ্ধে জাতীয় ঐকমত্যের পরামর্শ দিচ্ছেন। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেটা কি সম্ভব বা কার্যকরী কোনো পরামর্শ? বর্তমানের জঙ্গি-সন্ত্রাসের প্রেক্ষিতে যেখানে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে, সেখানে তাদের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ও রাজনৈতিক সখা বিএনপির এই ঐকমত্যের আহবান কি স্রেফ রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি নয়?

সন্ত্রাস দমনে যদি বিএনপি আসলেই আন্তরিক হত, তাহলে তারা জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক ত্যাগ করে সন্ত্রাসবিরোধী ঐকমত্যের পরামর্শ দিত।

জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারকেই তাই জঙ্গি-সন্ত্রাস দমনে এগিয়ে যেতে হবে। দমন-প্রক্রিয়ায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা নৌ-সেনাবাহিনী সহায়ক শক্তি হিসেবে থাকবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে জনগণের সম্পৃক্ততা ছাড়া সমস্যার সমাধান প্রায় অসম্ভব।

আবুল হাসনাৎ মিল্টনকবি ও চিকিৎসক: বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনারত

২২ Responses -- “জঙ্গি দমন: ঐকমত্যে না জনসম্পৃক্ততায়?”

  1. ফকির সেলিম

    মিল্টন ভাই
    দারুন লেখা; তবে শেষ প্যারায় জাতিয় ঐক্যমতের ডাক নিয়ে আপনার প্রশ্ন থাকার বিষয় নিয়ে আমার প্রশ্ন রয়েছে। জামাত-টামাত কোনো ব্যাপার না- বিএনপি আওয়ামীলীগ ঐক্য গড়লে বাংলাদেশ ঠিক হয়ে যেতো। এটা কেউ বুঝতে পারছে না। আপনারও শংসয় কেনো বুঝলাম না।
    যাইহোক সুন্দর লেখা। ভালো লাগলো।
    ফকির সেলিম, ওয়াশিংটন ডিসি

    Reply
  2. KOYESABA

    প্রাণ থাকিলে প্রাণী হয় কিন্ত বিবেক না থাকিলে মানুষ হয় কি করে? কিছুদিন আগে ঢাকার গুলশানের একটি রেষ্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার ঘটনা আমরা সবাই জানি। কোনো কিছু বোঝে উঠার আগেই অবিবেচকের মতো স্ট্যাটাস লিখা পাগলামীরই নামান্তর। অনেকের অনেক স্ট্যাটাস দেখেছি। অনেকে তো বলছেন যে, এইবার জামাত শিবিরের কর্মীরা বা মাদ্রাসার ছাত্ররা রক্ষা পেল। তাদেরকে বলছি, আপনারা কি জঙ্গিদের সংজ্ঞা দিতে পারবেন? একটি প্রশ্ন জামাত শিবিরের সকল কর্মীই কি মাদ্রাসার স্টুডেন্ট হয়? চিন্তা করে দেখবেন। যেখানে জঙ্গীদের নামের তালিকায় প্রথমেই জামাত শিবিরের নাম। সেখানে জঙ্গিদের সাথে রেখে কিভাবে জঙ্গি দমনে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেওয়া যায়?

    Reply
  3. শঈদ

    হলি আর্টিশানে যে ৫ জন জঙ্গী মারা গেছে তারা কেউই মাদ্রাসার সাথে বা জামাতের সাথে সংশ্লিস্টনা । প্রত্যেকে আওয়ামীলীগের বড় বড় নেতার সন্তান । কাদা ছোড়া ছুড়ি নাকরে আগে দেখেন তদন্তে কি আসে । তার পরে কলাম লিখুন ।

    Reply
  4. হেলাল আহম্মদ

    আপনার মতামতের সাথে আমার কিছু দ্বিমত রয়েছে। কোন কিছু ঘটলেই জামাত, বি এন পি কে দোষ দেওয়ার এই মানষিকতা পরিহার করা খোব জরুরী।কারন ঘটেযাওয়া ঘটনায় জড়িত দের পরিচয় থেকে তা সহজে অনুমেয়।আর দেশের বৃহত্তম এই দলকে পাশ কটিয়ে কোনকিছু করতে যেয়ে তাতে হিতে বিপরিত হয় কিনা, সেটাও ভেবে দেখা আজ সময়ের দাবি বলে আমি মনেকরি।শুধু রাজনৈতিক হিংসার বসবর্তি হয়ে দেশটাকে আর সংকটের মধ্যে না ফেলে বরং সকল দল ও মতের মানুষকে সম্পৃক্ত করে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে তার সমাধানের চেষ্ঠা করা উচিৎ।

    Reply
  5. সোহাগ তালুকদার

    এই সব লেখকদের জন্যই দেশটা আজ রসাতলে।একটা জাতীয় ইস্যুতে ও ওরা ফাটল ধরিয়ে রাখতে চায় দেশের মানুষকে।এরকম ক্রান্তিকালে কিভাবে একজন লেখক কাদা ছুড়তে ব্যস্ত হয়। প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে ব্যস্ত হয়।

    Reply
  6. জিয়াউর রহমান

    দেশে একের পর এক দু র ঘতনা ঘতছে তার পতিকার নেই । সাধারণ ও অসহায় ভালো মানুষ গুলোকে ধরে নিয়ে যচছে পুলিশ । আমরা হতাশয় জীবন যাপন করছি।

    Reply
  7. নাম বলবো কেন,,,,

    সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের এই কালে আমি উভয় পক্ষের মৃত্যুতেই শোকাহত।
    আছে তেমন সাড়ে সাত প্রকার বেকুব যারা সবসময়ই নিশ্চিত যে সত্য তারা জানে, – এমনকি যখন মিথ্যা আর কপটতা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নাই তখনও তারা সত্যবাদীর ভান করে – তখন সেইসকল অজ্ঞদের তর্জন গর্জনের মধ্য দিয়ে জমাটবদ্ধ রক্তে আটকে পড়ে থাকা এই সময়টা আমাদের পার করে দিতে হবে বিনয়ের বিষাদে মাথা নুইয়ে কিম্বা পরম উন্নাসিকতায়। আমরাই তো সেই সকল জীব যারা খুনি রাষ্ট্রের লাগামহীন সন্ত্রাস এবং তার অনিবার্য পরিণতিকে কে গৎবাঁধা ভাষায় ক্রমাগত অস্বীকার করেছি। তো এখন যা হবার তাই হোক!
    মিথ্যা তথ্য, বাগাড়ম্বর আর প্রপাগান্ডার যুগে আমরা বাস করি। আমরা জানি এক গভীর ধাঁধার মধ্যে আমরা ঘুরপাক খাচ্ছি। কোন কিছুতেই আমরা আর নিশ্চিত নই, আমাদের সকল বিশ্বাস সহস্র টুকরায় খণ্ড খণ্ড হয়ে ছিটকে ছড়িয়ে গিয়েছে। আমরা আচমকা আটকা পড়ে গিয়েছি বিচিত্র প্রকার সত্যের কেচ্ছার দাবি দিয়ে পাতানো সর্বনাশী ফাঁদে। আমরা কিছুই আর ব্যাখ্যা করতে পারি না। আমরা কানে শুনছি, চোখে দেখছি, আঙ্গুলগুলো স্পর্শ করার বিদ্যা এখনও ভোলে নি, কিন্তু যা কিছু দেখছি আর যে সকল অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি সাহসী যুক্তিবুদ্ধির প্রবল কোশেশের পরেও এই কপট সময়ে কোন উপলব্ধিই আর কোন অর্থ তৈরি করতে পারে না।
    সুতরাং, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের এই কালে আমি উভয় পক্ষের মৃত্যুতেই শোকাহত। গণধ্যমগুলোর জন্য লাশের ছবি সরবরাহ ও বড়বড় শিরোনামের মুদ্রিত গল্প বাদে কিছুই অর্জিত হয় নি। পহেলা জুলাইয়ে গুলশানের ঘটনার পরে বাংলাদেশ আর আগের অবস্থানে নাই।
    পুলিশের এনকাউন্টারে তাজা প্রাণ যুবকদের হত্যা করা হচ্ছে, গুম আর হত্যা অস্বীকার করার রীতি সুবিধাজনক পুলিশী পন্থা হতে পারে। অথবা আমরা নিছকই মৃত্যু আর মৃতদেহ কিম্বা গুম হয়ে যাওয়া লাশের তোয়াক্কা করি না। আমরা ভান করতে পারি যে বাগদাদ, আলেপ্পো, ফজুল্লা, ত্রিপোলিসহ যুদ্ধবিধ্বস্ত অন্যান্য অনেক শহর থেকে ঢাকার অবস্থান অনেক দূরে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের ভূগোলে থেকেও সুবিধাবাদী আমরা ভাবতেই পারি আমাদের বাড়ি্র মানচিত্র যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে।
    আসলেই কি তাই?
    (ধন্যবাদ Ayman Rahat)

    Reply
  8. হাসান

    অসাধারন লিখেছেন, এবং এই বাস্তব সত্যটা লিখলে অনেকের গায়ে জ্বালা ধরে যায়।

    Reply
  9. নাম বলবো কেন,,,,

    বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় ইসলামি উগ্রপন্থা পর্যবেক্ষণ করা অনেক পর্যবেক্ষক বলছেন, এমন ঘটনা একেবারেই অনুমিত ছিল।
    আজ লন্ডনের বিখ্যাত দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।
    প্রতিবেদনে বলা হয়, উগ্রবাদীদের শত্রু হিসেবে বিবেচিত দেশি-বিদেশি লোকজনের বিরুদ্ধে গত বছরজুড়ে বাংলাদেশে সহিংসতা বেড়ে চলার বিষয়টি লক্ষ করা যায়। ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগার, মৌলবাদের স্পষ্টবাদী সমালোচক, হিন্দু ও খ্রিষ্টানের মতো ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য, পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্যরা হামলার শিকার হয়েছে।
    এসব সহিংসতার অধিকাংশ ছিল ‘লো-টেক’ হামলা। এসব হামলায় জঙ্গিদের ছোট গোষ্ঠী বা ছুরি বা ক্ষুদ্র অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা জড়িত ছিলেন।
    গতকাল শুক্রবার গুলশানে চালানো হামলার ব্যাপকতা বিশাল। হামলাকারীদের কাছে যথেষ্ট স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র ও গ্রেনেড থাকার খবর প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়।
    প্রায় দেড় বছর ধরে পশ্চিমা গোয়েন্দারা বড় ধরনের হামলার বিষয়ে আশঙ্কা করে আসছিলেন। গত বছর কূটনৈতিক বলয়ে জটিল হামলার পরিকল্পনার আভাসে অনেকটা শঙ্কার সৃষ্টি হয়। বিদ্যমান জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ঢাকার ওপর পশ্চিমা দেশগুলো থেকেও চাপ আসে।
    কিন্তু তেমনটা হয়নি। ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে আওয়ামী লীগ সরকার এই পরিস্থিতি থেকে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ে সচেষ্ট ছিল। তারা উল্টো তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দোষারোপ করেছে। কিংবা দেশে আইএস বা আল-কায়েদার মতো কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জঙ্গি নেটওয়ার্কের অস্তিত্ব সরাসরি অস্বীকার করেছে। অথচ এই গোষ্ঠীগুলো হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে।
    উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো দমনের পরিবর্তে সরকার রক্ষণশীলদের ছাড় দিয়েছে। হত্যার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের দোষারোপ করা হয়েছে। ব্লগারদের নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে।
    গতকাল রাতে আইএস গুলশানে হামলা দায় স্বীকার করেছে। তবে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।
    নিজেদের সম্ভাব্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্র হিসেবে বাংলাদেশকে লক্ষ্যবস্তু করেছে আইএস ও আল-কায়েদা।
    আইএসের প্রচারণায় বারবার বাংলাদেশের নাম এসেছে। আল-কায়েদার ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশে জিহাদের ডাক দেওয়া হয়েছে।
    আইএসের তৎপরতার কেন্দ্রস্থল মধ্যপ্রাচ্য। সেখান থেকে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক দূরে। তা ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় আইএসের কখনোই দৃঢ় উপস্থিতি দেখা যায়নি। তবে পাকিস্তানে ১৯৮৮ সালে আল-কায়েদা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৬ সাল থেকে এই অঞ্চলে তাদের স্থায়ী উপস্থিতি আছে।
    ২০১৪ সালে আল-কায়েদার নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরি দক্ষিণ এশিয়ায় তার সংগঠনের নতুন শাখা খোলার ঘোষণা দেন। আল-কায়েদার তৎপরতা আফগানিস্তান থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার কথা বলেন তিনি। যদি আল-কায়েদা ঘোষণা অনুযায়ী কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে, তা সত্ত্বেও গুলশানের হামলা তাদের দ্বারা অসম্ভব নয়।
    সক্ষমতা জোরদারে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের তাৎপর্যপূর্ণ সম্পৃক্ততা রয়েছে।
    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে সংঘটিত সহিংসতা কিছুটা গণমাধ্যমের দৃষ্টি কেড়েছে। কিন্তু বিশ্বের নীতিনির্ধারকদের মনোযোগ খুব কমই আকৃষ্ট করেছে।
    ওয়াশিংটন, লন্ডন বা অন্য কোথাও বাংলাদেশ অগ্রাধিকার পায়নি।
    এই সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি কিছুটা গুরুত্ব পেয়েছে। কিন্তু খুব কম লোকই রাজনৈতিক ভিন্নমত, বহুত্ববাদ বা আইনের মানদণ্ড ক্রমেই রুদ্ধ করার বিষয়ে যথেষ্ট নজর দিয়েছেন।
    এই হামলার ঘটনা যেভাবেই শেষ হোক না কেন, বাংলাদেশে উগ্রবাদী ইসলামের হুমকির বিষয়টিকে উপেক্ষা করা ঢাকা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক উভয়ের জন্য অনেকটাই কঠিন করে তুলবে।

    Reply
  10. নাম বলবো কেন,,,,

    মাদ্রাসার ছাত্রদের জংগি বানানো সহজ নয়। কারণ তারা শৈশব থেকেই ইসলাম জেনে বড় হয়।

    বরং ইংরেজি মাধ্যম ও দেশের প্রাইভেট পড়াশুনার যায়গা থেকে যারা বেরিয়ে আসে, যাদের ধর্ম সম্পর্কে কোন রকমের জ্ঞান নেই তারাই খুব দ্রুত ব্রেইন ওয়াশড হয়ে যায়।

    নিজেদের জীবনের নানান ফ্রাষ্ট্রেশন এবং ভুলের কারণে তারা যখন বিপর্যস্ত, তখন এক্সট্রিম গোষ্ঠী তাদের এক যাদুকরী ইসলামের সবক দেয়। এরপর তাদের শরীরে আসে অন্যরকম জজবা। ঠিক নতুন মুসলমান হওয়ার মত।

    কিন্তু প্রশ্ন হল দেশের মাটি থেকে কে তাদেরকে মাত্র কয়েকমাস আগে নিখোঁজ করল? কিভাবে করল? কিডন্যাপ না ব্ল্যাকমেইলিং? কারা এই উরাধুরা, স্টাইলিশ বাচ্চা ছেলেদের এভাবে ভয়ংকর খুনী বানালো?

    নাগরিক, চোখ কান সজাগ রাখো। সন্তানদের ভালবাসায় আগলে রাখো। মানবতার সবক দাও অধঃস্তনদের।

    Reply
  11. নাম বলবো কেন,,,,

    ‘নিবরাস’ বা ‘রোহান’ আর ‘ঐশী’র মধ্যে পার্থক্য কি? এরা একই বয়সী! ঐশীর করুণ পরিণতিকে আমরা কার্পেটের নিচে চাপা দিয়ে দিয়েছি – একটি বিচ্ছিন্ন মানসিক আর ড্রাগ ‘কেস’ হিসাবেI কিন্তু নিবরাস, রোহান বা ঐশী- সবই কি বিচ্ছিন্ন মানসিক ঘটনা?
    কেনো কয়েকটি ২০ বছরের ইংলিশ মিডিয়াম ছেলে নিষ্ঠুর খুনি হয়ে উঠলো? বাহিরের থেকে ইন্ধন ছিল, সব সময়েই থাকে – কিন্তু সেটাই কি সব?
    ব্যাপারটা আমার কাছে যতটা মনস্তাত্বিক, তার থেকেও ভয়ানক একটি সামাজিক ব্যাধি (রাজনীতিও আছে- কিন্তু সেটিও সমাজেরই একটা পার্ট) I হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী এই শহরে বড় হচ্ছে ভয়ানক এক দূষিত আর অসুস্থ সামাজিক ও পারিবারিক পরিবেশেI
    উপরের দিকে উঠার নেশায় অভিভাবকেরা সকল ধরণের মধ্যবিত্ত মূল্যবোধকে ত্যাগ করেছে অনেক আগেইI বাবা মা সন্তানদের শেখায় এই সমাজে সততা আর নীতি মানলে পিছিয়ে পড়তে হবে (এজন্যই পরীক্ষার ফাঁস করা প্রশ্ন নিজেই সন্তানকে কিনে দেয়, ঘুষ দিয়ে স্কুলে ভর্তি বাবা-মা নিজেরাই করায় )I আগেকার দিনে একটি ছেলে বা মেয়ে তার মূল্যবোধকে, তার পরিবারকে, তার সমাজকে Own করতো – এখন তার কোনো কিছু Own করার নাই, তাই হারানোরও কিছু নেই !
    তারুণ্যের আর কৈশোরের কিছু স্বপ্ন থাকে, আকাঙ্খা থাকেI রাজনীতির নষ্ট পরিবেশ আর মাস্তানবাজি সেই স্বপ্নকে ধ্বংস করেছে দিনে দিনে. . . আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে আর কলেজে মেধাবী ছাত্ররা (বড়লোক বা গরিব-সব পরিবারেরই) রাজনীতি করতো; বা না করলেও রাজনীতি নিয়ে কথা বলতো, বিতর্ক করতো- কেননা তারা সমাজকে, দেশকে কিছু দেওয়ার কথা ভাবতোI আর এখন রাজনীতিকে এরা ঘৃণা করে !
    হতাশা আর মানসিক অস্থিরতা তৈরিতে সাথে মোবাইল আর ফেসবুকের ভূমিকাও কম নয় I কয়জন কিশোর কিশোরীকে আপনি আজকাল বই পড়তে দেখেন? এই জেনেরেশন বই পড়ে না, ‘স্টাট্যাস’ পড়ে, দিনে কয়েক হাজার ‘স্টাট্যাস’ পড়ে . . এটি যেই ‘এটেনশন ডেফিসিট’ তৈরি করছে সেটিও এই অস্থিরতা তৈরিতে কাজ করছেI ফিডে মত্ত থেকে এরা নিজেরা চিন্তা করার সময় পায় না – এজন্যই খুব তাড়াতাড়ি অন্যের মতে প্রভাবিত হয়ে পরে I যুক্তি দিয়ে আলোচনা করতে এরা ভুলে গেছে – ভিন্নমত শোনা বা বোঝার কোনো ধৈর্যই নেই – পছন্দ না হলে গালাগালি, নাহয় ‘আনফ্রেন্ড’! ফেসবুক ফ্রেন্ড লিস্টে এদের হাজারো বন্ধু – কিন্তু এরা আসলেই অনেক ‘একা’!
    মানুষের জীবনে এগিয়ে চলার সবচেয়ে বড় প্রভাবক Sense of Purpose I অসুস্থ সমাজ, ধ্বংসপ্রাপ্ত রাজনীতি আর পার্ভার্টেড অর্থনীতি এই তরুণদের Sense of Purpose কেড়ে নিয়েছে . . আর এই হতাশার সুযোগ নিচ্ছে যারা এদেরকে সন্ত্রাসী বানাচ্ছে তারা …
    প্রধানমন্ত্রী বলেছেন “অপরাধীদের শেকড় খুঁজে বের করা হবে” – কিন্তু এই শেকড় তো আমরাই, বছরের পর বছর এই শেকড়কে তো আমরাই বেড়ে তুলেছি … নিজেদের তৈরি শেকড় নিজেরা কিভাবে কাটবো?

    Reply
  12. হোসেন

    ক্রস ফায়ারে মানুষ মারা আর আসল সন্ত্রাসীদের সাথে সামনা সামনি যুদ্ধ করা যে এক জিনিস না সেটা ওসি সাহেব বুঝতি পারেনি। নিরস্ত্র নিরীহ মানুষকে হাতে হাতকড়া লাগিয়ে পয়েন্ট ব্লাংক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করার পর ‘বন্দুক যুদ্ধ’তে বিজয়ী হবার প্রেস রিলিজ দেয়া আর সত্যিকার বন্দুক যুদ্ধের মোকাবেলা করা যে এক কথা নয়, সেটা ওসি সালাউদ্দিন নিজের জীবন দিয়ে প্রমান করে গেল। চোখের সামনে ভাসছে মিরপুর এলাকায় ওসি সালাউদ্দিনের ফেইক বন্দুকযুদ্ধে নিহত সব গুলিবিদ্ধ লাশের ছবি, রাজনীতির সাথে সম্পর্কহীন ব্যবসায়ী সুজনকে চাঁদার দাবীতে থানায় নিয়ে ন্যাংটো করে নির্যাতনের পর খুন করার ভিডিও ফুটেজ। সালাউদ্দিনকে সেইসব খুনের মামলা থেকে বাঁচাতে তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ থেকে হাসিনা রেহাই দিয়েছিল। কিন্তু সবার উপরে একজন বিচারক আছেন, তিনি তার বিচার করতে ভুল করেন না। সুজনের বিদেহী আত্মাকে শান্তি দিতেই হয়তো সত্যিকার বন্দুকযুদ্ধে সালাউদ্দিন নিহত হলো।

    Reply
  13. জাফর

    মাননীয় সরকার মহোদয়, SWAT, RAB, BGB, DB দিয়ে হয়তো আপাতত সামরিক সমাধান করা যাবে। তবে এই জংগীবাদের মূলে আছে আদর্শিক দ্বন্দ্ব। প্রত্যেক ক্রীয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে। আপনি বিচার বহির্ভূত হত্যা, গুম সমর্থন করবেন আবার দেশের শান্তিও চাইবেন, তা ত হতে পারেন না। জংগীবাদ একটি রাজনৈতিক সমস্যা, সামরিক নয়। আদর্শগত বৈপরীত্য থাকলেও.. বিএনপি জোটের সাথে আপনাকে আলোচনায় বসে রাজনৈতিক ঐক্যের সমঝোতায় আসতে ই হবে। তা দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থে!

    Reply
  14. Rasel Hossain

    চিরুনি অভিযানে এরা বাদ পড়লো কেমনে,,,,প্রমান হইলো এসব অভিযান কিচু মানুষের উপর দিয়ে যায় যারা রাজনীতির সাথে জড়িত । ফাহিম ও মিতু এর হত্যাকাণ্ড নাটক টা একটু গাঢ় ও বড় ও সরকার এর ধরা খাওয়ার মত আর লীগ জড়িত হওয়ার মত একটা নাটক হয়ে গেছে যাতে প্রমাণ করে সরকার এর সাথে যুক্ত। এখন তার চেয়ে বড় ও ভয়াবহ কোন নাটক না ঘটাতে পারলে জনগনের দৃষ্টিটা আবার ফেরান যাচ্ছে না। তাই গুলশান নাটক হচ্ছে মেগা সিরিয়াল এর ঠিক পরের পর্বের ধাপে আছি। দেখা যাক কতক্ষন মেগা সিরিয়াল টা চলে।

    Reply
  15. ম সরকার

    দেশব্যাপি সাঁড়াশি অভিযান ও গণ গ্রেফতারের সুফল ? ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে ডিপ্লোমেটিক জোনে আক্রমণ ! আসল জায়গায় অকম্মার ধাঁড়ি। এই পুলিশদের কোন ধারণাই ছিল না অবস্হার ভয়াবহতা নিয়ে। সরকার নয় দিনের নজীরবিহীন ছুটির ব্যবস্হা করেছে এই ভয়ংকর রিয়েলিটি শো দেখার জন্য ? অাজ অামাদের দেশের রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐক্য না থাকার কারনে সন্ত্রাসীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, তার মাশুল দিচ্ছে সাধারণ জনগণ ।

    Reply
  16. Bangladeshi

    বিএনপি জামায়াতের নেতাকমর্ীদের ক্রসফায়ারে মারার সময় বীরত্য দেখায় অার কয়েকজন অস্ত্রধারী গুলসানে হামলা চালানোর সময় এসব ল্যাংটা যৌথবাহীনীর বীরত্য কোথায় গেল।একটা সময় ছিল কর্তাব্যক্তিরা খুব জোর গলায় বলত বাংলাদেশে আইএস আছে.. তারা হয়তো সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য এসব বললেও, এর খেসারত কিন্তু বহি:বিশ্বে ভালোই দিতে হয় বাংলাদেশকে… এরপর ভুলেও আর তারা উচ্চারণ করেনা আইএসের কথা… বরং উল্টো বলে দেশে আইএস নেই। কিন্তু ব্লাডি মিডিয়া যা শুরু করছে, তাতে তারা এদেশকে আইএসের হেডকোয়ার্টার বানাতে পারলে যেন খুশি হয়। গুলশানে এটাক হল, আর মিডিয়া অমনি বলা শুরু করল, “আল্লাহু আকবার” বলে তারা আক্রমণ করছে। আর এই নিউজের প্রেক্ষিতে সারা বিশ্বের বড় বড় সংবাদসংস্থা গুলো একই নিউজ করল। সারা বিশ্ব জেনে গেল এটি জংগিদের কাজ! হয়তো সেই নিউজ দেখে আইএস ভাবল, নাম যখন হয়েছে, দায়টাও নিয়ে ফেলি! বাংলাদেশে জংগি থাকলে সেটা আমরা নিজেরাই দমন করব। সেটা সারা বিশ্বে প্রচার করে পশ্চিমাদের আমাদের আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক গলানোর সুযোগ কেন করে দিব? ব্লাডি মিডিয়া ইচ্ছেমত যা খুশি প্রচার করছে, অথচ একবারও ভাবছে না, আইএসের সাথে বাংলাদেশের নাম একবার ট্যাগ লাগলে কত অপূরণীয় ক্ষতি আমাদের হবে! এর ফলে যে সিরিয়া, ইরাকের মত পরিণতি আমাদের বরণ করতে হবে না, তার নিশ্চয়তা কে দিবে?

    Reply
  17. Bangladeshi

    যারা গুলশানে হামলা করেছে তাদের পরিচয় বের হওয়া শুরু হয়েছে। সেই হামলাকারীদের একজন হলো রোহান ইমতিয়াজ, তার পিতা ইমতিয়াজ খান বাবুল ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এবং এই বাবুল ঢাকা সিটি উত্তরে গত বছর অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনিত কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন।

    এরপর আরেকজন ভারতীয় নায়িকা ভক্ত নিব্রাস যে কিনা ভারতীয় নায়িকাদের সাথে নাইটক্লাবে নাচানাচির সুযোগ পায় সাথে বাংলাদেশের সিনেমার নায়ক ফেরদৌস সহ বিভিন্ন নায়ক-নায়িকাদের সাথে উঠা-বসা করে। এদের পরিবারের চৌদ্দগুষ্টির কেউই কোনদিন জামায়াত-শিবির করতো বলে এখন পর্যন্ত জানা যায় না বরং খবর বের হচ্ছে তাদের সবার পরিবার আওয়ামী ভক্ত।

    এখন হামলা করলো আওয়ামী লীগের নেতার ছেলে আর মদদদাতা হলো জামায়াত-শিবির? আইএস-এর নামে হামলা করলো আওয়ামী পরিবারের সদস্যেরা আর অপরাধী হলো জামায়াত-শিবির? এই আপনাদের মানসিকতা? এ মানসিকতা দিয়ে আপনারা জঙ্গীবাদ দমন করছেন, না লালন ও উৎপাদন করে চলেছেন?

    Reply
  18. সালমান

    এখনো পর্যন্ত গুলশানের ঘটনায় জড়িতদের যে কয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে, আল্লাহর মেহেরবানীতে তাদের কেউই মাদরাসা পড়ুয়া নয়; এমনকি কোন আলেম পরিবারেরও নয়। তারপরও মাদরাসাকে জঙ্গি তৈরির কারখানা বলে অপপ্রচার করে এক শ্রেণীর নির্লজ্জ।

    শুধু তাই নয়, বিশ্বের কোন দেশের আলেম সমাজের একজন পরিচিত মুখও আই এসের সাথে জড়িত হওয়ার তথ্য নেই। তবুও বদনাম আলেম সমাজেরই!!

    বহু আগেই বলেছি, এটা ইয়াহুদী গোয়েন্দাদের অতি উচ্চমার্গের টীম। ইসলাম ও মুসলমানদের ধ্বংসই এদের মূল টার্গেট। ফিতনার যুগ। তাই বেশিরভাগ লোকই বিভ্রন্তিতে নিপতিত।

    মরহুম ড. আবদুল্লাহ জাহাঙ্গির রহ: একবার সি এন এনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন: বাংলাদেশে যেসব জেলায় তূলনামূলকভাবে ধর্মকর্ম এবং মসজিদ-মাদরাসা ও ইসলামী দলগুলোর ভোট বেশি-সেসব জেলায় আপনি জঙ্গি তৎপরতা কম দেখবেন। বরং এর উল্টাটা দেখা যায়। সুতরাং এটা পরিস্কার যে, কোন মুসলমান এসবের সাথে জড়িত নন। বরং ইসলাম ও মুসলমানদের রুখতেই এই সুদূরপ্রসারী ঘৃণ্য চক্রান্ত।
    -মুহতারাম আহমাদ উল্লাহ

    Reply
  19. লতিফুল কবির

    সুন্দর লেখা। জামাত-শিবির যে মূল জঙ্গি সেটা পরিষ্কার হয়েছে। তবে, ধৈর্য ধরুণ, জামাতিরা বেনামে এখানে তাদের মন্তব্যের ঝুলি নিয়ে হাজির হবে কিছু পরেই, আর সম্পাদক সাহেব তা ছাপিয়ে নিরপেক্ষতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন।

    Reply
  20. বিবেক

    অনেকেই বলে জঙ্গিবাদের সাথে গণতন্ত্রের সম্পর্ক নেই।কারণ ফ্রান্স,বেলজিয়ামে গণতন্ত্র থাকার পরও সেখানে হামলা হচ্ছে।ভুলে গেলে চলবে না ঐসব দেশ মুসলিমপ্রধান দেশ নয় এবং ওইসব দেশে হামলার কারণ মূলত তাদের পররাষ্ট্রনীতি। কিন্তু জঙ্গিদের উৎপত্তিস্থল মুসলিমপ্রধান দেশগুলো।বিশেষত সেই মুসলিমপ্রধান দেশগুলো যেখানে গণতন্ত্র নেই এবং একনায়কতন্ত্র বিদ্যমান।জঙ্গিরা যেহেতু ইসলামকে ঢাল হিসেবে ব্যাবহার করে,তারা মানুষকে এটুকু বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে আমাদের ঘোষিত নিকৃষ্ট খিলাফতও,সবচেয়ে ভাল স্বৈরতন্ত্রের চেয়ে অনেক অনেক বেশি উত্তম।তাই বলা যায় বাংলাদেশে একমাত্র সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন হলেই জঙ্গিবাদী মতাদর্শের মূলউৎপাটন করা সম্বব।

    Reply
  21. মানিক

    এই সব কলাম লেখকদের করুনা করতেও ঘৃনা হয়। যেখানে নিহত জংগী আওয়ামীলীগ নেতার ছেলে, তারপরো জামায়াত-শিবিরের নামে মিথ্যা দোষারোপ।
    এখনো সময় আছে আওয়ামীলীগ ছেরে মানুষ হন।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—