Feature Img

shomi-fছোটবেলায় আকাশ ছুঁতে ইচ্ছে করতো ভীষণ। আকাশে উড়োজাহাজ উড়ে গেলে দৌড়ে মাঠে গিয়ে উড়োজাহাজকে টা টা বলতাম আমি আর আমার ছোট ভাই। ভাবতাম বাবা উড়ে অন্য কোথাও যাচ্ছে। সবাই বলতো আব্বু বিদেশে। একদিন ফিরবে। সেই একদিন আজো শেষ হলো না। কিন্তু যখন ভাবি সুহৃদের ( মিশুক মুনীরের ছেলে) কথা ও কী ভাবছে? ওকে মিথ্যা সান্ত্বনা দিতে পারবে না যে মিশুক ভাইয়া যুদ্ধে গেছে , বিদেশে গেছে; ফিরবে একদিন। ও জানে ওর বাবা ফিরবে না আর কোন দিন। সুহৃদও আমাদের মত ওর বাবার স্মৃতি, রেখে যাওয়া কাজ, রেখে যাওয়া ছাত্র, বন্ধুদের মাঝে বাবাকে বার বার খুঁজবে। কখনও হয়তো পাবে, কখনো হয়তো পাবে না।

মিশুক ভাইয়াকে আমি সবসময় দূর থেকে দেখেছি ওর শান্ত, সৌম্য, দৃঢ় ব্যক্তিত্ত্ব। আমাদের মাঝে ওকে একজন গুরুগম্ভীর মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করতো। ইউনিভার্সিটি কোয়ার্টারের ঐ বিল্ডিং-এ থাকতেন ডঃ আনিসুজ্জামান এবং শহীদ মোফাজ্জল হায়দারের পরিবার। মিশুক ভাইয়ারা থাকতো দোতলায় আর আনিস চাচারা এবং সুমন ভাইয়ারা (শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীর পরিবার) থাকতো তিন তলায়। যতদূর মনে পড়ে আমাদের বেড়াতে যাওয়ার প্রিয় জায়গা ছিল সেটি। সেখানেই মিশুক ভাইয়াকে দেখেছি। আমাদের ইস্কাটনের বাড়ীতে ফটোগ্রাফার পাভেল রহমানের সাথে মিশুক ভাইয়া বেশ কয়েকবার এসেছিলো মা’র কাছে।

কিন্তু পরে বড় হয়ে যখন অভিনয় শুরু করি তখন মিশুক ভাইয়ার সঙ্গে কাজ করেছি দুটো নাটকে এবং সেই সময় মিশুক ভাইয়ার চিন্তা চেতনা, ভাবনা, আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধ – সবকিছু নিয়ে তার উপলদ্ধির কথা জানলাম। তখনই আবিষ্কার করলাম মানুষটি এত রাগী না।

স্বল্পভাষী, লাজুক, এবং দৃঢ়চেতা, বন্ধুবৎসল একজন মানুষ। মুনীর চৌধুরী তার বাবা– অতি উৎসাহিত হয়ে মিশুক ভাইয়া কোনদিনও বলতো না। ওর ছোট ভাই তন্ময় ভাইয়াও সে রকমই। মিশুক মুনীর আপন আলোয়, আপন গুণে এবং জ্ঞানে আবির্ভূত হয়ে মানুষকে তার দ্যূতি ছাড়িয়ে গেছে। সেখানে সে নিতান্তই একজন শহীদের সন্তান । বাবার পরিচয়কে পাশে রেখে তার একটি নিজস্ব পরিচয় সে বহন করেছে গর্বের সঙ্গে, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। তাকে আমরা ফিরে পাব না ঠিকই কিন্তু তার সাংবাদিকতা এবং কর্ম নিয়ে যে চিন্তা এবং চেতনা- আমি আশা করি তার হাতে তৈরি সাংবাদিকরা সেই চেতনাকে বহন করবে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করে। ব্যক্তিগত লোভ, দুঃখ, আশা-আকাঙ্খা বা বেদনাকে মনের মাঝে সুপ্ত রেখে নির্মোহ সাংবাদিকতাই করবে। মিশুক মুনীর ছিলেন একজন অত্যন্ত প্রচারবিমুখ মানুষ যিনি আত্মপ্রচার করেন নি কখনোই। আমি মনে করি তার বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার একটি উজ্জল দিক ছিল। আত্মপ্রচারের জন্য নয়, মানুষ এবং সমাজের সঠিক প্রচার করে যেন তারা। সমাজের মানুষদের যে কোন বিচ্যুতি থেকে মুক্তি দিতে পারে।

মাটির ময়না ছবিটি আমাদের কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামীণ জীবনের একটি দলিল। যা আমাদের বলে দেয় সমাজ, দর্শন, সমাজের দ্বন্দগুলোকে এবং চোখ আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় আমাদের চেতনার মাঝে এখনো কতটা হঠকারিতা রয়েছে। তারেক মাসুদ আমাদের একাত্তরের আদর্শের সৈনিক। যিনি যুদ্ধ করেছেন ক্যামেরা নিয়ে। তার যুদ্ধ ছিল মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের মূল মন্ত্র দিয়ে প্রবাহিত করা। মন্ত্রটি তিনি গড়েছেন ছবির মাধ্যমে, গানের মাধ্যমে, কথার মাধ্যমে। যিনি সবসময় মুক্ত চিন্তার যেকোন ভাবনা, যেকোন বয়সের মানুষকে উৎসাহিত করেছেন। যিনি অনেকটা অভিভাবকের দ্বায়িত্ব পালন করেছেন নিজের অজান্তেই। তিনি একজন নির্মাতা হিসেবেই নয় একজন আদর্শিক সুন্দর চিন্তার মানুষ হিসেবে সবাইকে নিয়ে, সবাইকে একত্রিত করে গড়তে চেয়েছেন চলচ্চিত্র অনুরাগীদের নিয়ে একটি সুচিন্তিত সমাজ। গবেষণা ছিল তার ছবির মূল প্রতিপাদ্য। তাই গবেষণা করতে গিয়ে বাংলাদেশের আনাচে কানাচে তারেক ভাই ও ক্যাথরিন ছুটে বেরিয়েছে। বাঙ্গালী সংস্কৃতির নির্যাসকে তিনি শেকড় থেকে এনে সাধারণের জন্য প্রচার করেছেন সহজ কথায়, সংগীতে আর ক্যামেরায়। আর এই ক্যামেরায় তার সবসময়ের সঙ্গী ছিলেন মিশুক মুনীরও। যিনি ছিলেন মূলতঃ ক্যামেরার মানুষ। ক্যামেরার গবেষক মুক্তিযুদ্ধের চেতনার এই দুইজন সৃজনশীল মানুষ। এই যুগলবন্দী বন্ধুকে হারিয়ে আমরা ছিলাম নির্বাক।

ক্ষোভে, দুঃখে, বেদনায় চোখের জল গড়িয়ে পড়ছে এই ভেবে যে, এই অভিশপ্ত দেশে যতদিন না যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হয় ততদিন আমরা থাকবো অভিশপ্ত। অভিশাপ নিয়ে এভাবে চলতে হলে বার বার হোঁচট খেয়ে পড়বো, আর হারাবো প্রাণ প্রিয় সব আদর্শের সৈনিকদের, বন্ধুদের, পথপ্রদর্শকদের। সেই দিন আসবে কবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে এই অভিশাপ থেকে নিজেকে মুক্ত করে একমুঠো পবিত্র বাংলার মাটি ছিটিয়ে দিতে পারবো মিশুক মুনীর ও তারেক মাসুদের কবরে যা তাদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ছিলো?

শমী কায়সার : অভিনেত্রী ও ধানসিড়ি কমিউনিকেশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

২৮ প্রতিক্রিয়া -- “মিশুক মুনীর এবং তারেক মাসুদ একাত্তরের আদর্শের সৈনিক”

  1. farid

    আপনার বাবার শিষ্য ছিলাম আমি, তাঁর বংশাল অফিসে গেছি ’৬৮-’৭০ এর দিকে। তাঁর আত্মার শান্তি প্রার্থনা করি। আর রাজাকারদের বিচার চাই।

    — ফরিদ, টেক্সাস, ইউএসএ

    জবাব
  2. shah jalal khan

    আপনি ফিরে আসুন,
    নাটকে কবিতায়, উপন্যাসের পাতায় পাতায়
    অনেকদিন আপনাকে দেখিনা এই আঙিনায়
    একদিন শুনেছিলাম আপনার জীবনের এক বিপর্যয়ের গল্প
    এই বিপর্যয়কে যখন আপনি আলিঙ্গন করেছিলেন, তখন আমরা ছিলাম অস্থিরতায়
    ভালোবাসা মানুষকে নিজেকে ভোলায়, দেশকে ভোলায়, জগৎকে ভোলায়
    আমারও একটা শখ ছিল, বহুদেশ বহু জায়গা ঘুরে এসেছি
    ভেবেছিলাম দার্জিলিং যাবো। কিন্তু যাইনি
    কারণ ওখান থেকে শুরু হয়েছিল আপনার জীবনের অপরিপূর্ণতার গল্প
    আর আমাদের জীবনের অভিশপ্ত কিছু পদধ্বনি।
    আজ অনেক ভালো লাগছে আপনাকে দেখে
    আপনার চিরচেনা মুখ, অভিনয় বিবেক আর চিন্তনর সুনিপুণ শুভ্রতায়
    আমাদেরকে ভালোবাসুন।

    জবাব
  3. মহাম্মেদ মোক্তাদের মাওলা

    শমী কায়সার, আপনার লেখাটা পড়ে না লিখে পারলাম না। কারণ আপনার বাবাকে হারানোর ব্যথা সব বাঙালির জন্য দুঃখজনক ঘটনা। তাই আমি মনে করি, বুদ্ধিজীবী হত্যার বিচার অব্যশই হওয়া দরকার।

    জবাব
  4. sajal barua

    আপু্ আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সুন্দর একটি লেখার জন্যে। আমরা যার যার অবস্থান থেকে যদি সোচ্চার হই
    তাহলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অবশ্যই হবে। আমাদেরকেই তো নতুন প্রজন্মদের উপহার দিয়ে যেতে হবে যুদ্ধাপরাধীমুক্ত বাংলাদেশ।

    জবাব
  5. sumon

    সব হত্যাকান্ডের বিচার চাই। তা না হলে জাতি কলঙ্কমুক্ত হবে। বাংলার মাটিতে সব হত্যাকান্ডের বিচার হবে । ধন্যবাদ।

    জবাব
  6. Abir Hossain

    প্রিয় শমী আপু, ধন্নবাদ আপনার সুন্দর লিখার জন্ন।বাংলা নাটকে আপনি আমার প্রিয় অভিনেত্রী। আর লেখেটা পরেও খুব ভাল লাগল। কিন্তু একটা বিষয় কি একটু ভেবে দেখবেন – মিশুক মুনীর এবং তারেক মাসুদ খুবই গুনী দুইজন মানুষ। উনারা মারা গেছেন সড়ক দুর্ঘটনায়। জানিনা আমরা উনাদের মতো গুনী দুইজন মানুষ কবে পাবো। আপনি উনাদের গুন নিয়া লিখেছন। কিন্তু টাইটেল দিলেন উনারা একাত্তরের আদর্শের সৈনিক। বাস্তবতা হলো আমাদের সমাজে আমরা না চাইলেও এখনো দুইটি পক্ক আসে। উনারা কোন পক্কের তাতো সবাই জানে। আপনার লিখা দিয়া আপনি উনাদের এক পক্কের ভিতর ফেলেদিলেন। এটা না করে কি আপনি উনারা কেন মারা গেল, যে কারনে ওদের মৃত্যু সেই যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা বর্ণনা, কারা দায়ী, এই সব নেয়া লিখ্তে পারতেন না?

    জবাব
  7. Shapla Nasrin

    ধন্যবাদ শমী আপু। খুবি ভাল লাগলো আমার এক্জন প্রিয় মানুষের লেখা পেড়। আসলেই “এই অভিশপ্ত দেশে যতদিন না যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হয় ততদিন আমরা থাকবো অভিশপ্ত”।

    জবাব
  8. খায়রুল আলম

    শমী আপু, আপনার লেখাটি খুব ভাল লাগলো। আপনি যথার্থ লিখেছেন । আমি মিশুক স্যার কে দেখার সুযোগ পাই নি কিন্তু ২/৩ বৎসর পূর্বে তাদের বনানীর বাসাতে অনেকবার যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল । আসিফ মুনির ভাইয়ের সাথে অনেক বার দেখা করেছি সার্ভিসের কারণে। এক কথায় উনারা খুব আন্তরিক একটি পরিবার। তারেক মাসুদ স্যারের সাথে আমার দেখা করার সুযোগ হয়েছিল সার্ভিসের কারনেই। স্যারের মনিপুরি পাড়ার বাসাতে। তিনি যে কতটা আন্তরিক ছিলেন তা আমি সেদিন বুজতে পেরেছিলাম।এই ২ জন বিখ্যাত মানুষের মৃত্যু সংবাদ শুনে আমার বিশ্বাস করতে খুব কষ্ট হইছে।মহান আল্লাহ পাকের কাছে
    দেখেছি। তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।আমিন।।।।।।।।

    খায়রুল আলম
    সভাপতি,উত্তরন সমাজ কল্যাণ সংঘ
    কেরানিগঞ্জ

    জবাব
  9. bahar

    ধন্যবাদ,শমী কায়সার
    আমরা একটু সামনের দিকে জেতে চাই। শুধু বিচার দিয়ে কী হবে ! বর্তমান এবং ভবিষ্যতের কথা কিচু বলেন। Road accident এবনং যুদ্ধাপরাধীর বিচার দুটি ভিন্ন ইস্যু ।

    জবাব
  10. abdus Salik

    আপনার লেখাটা খুব ভাল লাগলো, তবে সড়ক যোগাযোগ সম্পর্কে কিছু প্রাসঙ্গিক কথা আনলে আরও ভালো হতো। আপনার বাবাকে যুদ্ধ পরবর্তীকালে খুঁজতে গিয়ে আপনার চাচা নিখোঁজ হয়েছেন জানুয়ারী মাসে ১৯৭২ সালে, অনেকে বলে ১৪ ডিসেম্বর ৭১ সালে ভারতীয়রা না হানাদাররা হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তবে আপনার চাচা জীবিত থাকলে তা জানা যেত। যার কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আপনার কিছু জানা থাকলে এবং তা জানালে আমাদের সঠিক ইতিহাস জানা হতো।

    বাংলা নাটকে আপনি আমার প্রিয় অভিনেত্রী, আপনি নাটকে নিয়মিত অভিনয় করলে ভালো লাগতো।

    ধন্যবাদ।

    জবাব
  11. jubayer

    আপনি লেখার শেসে যুদ্ধাপরাধির বিষয় টি না এনে যে কারনে ওদের মৃত্যু সেই যোগাযোগ ব্যবস্থার, বেহাল দশা বর্ণনা করলে সুন্দর লাগত। আর এই সরকার যুদ্ধাপরাধীর কি বিচার করবে, তাদের দলের মধ্যেইত অনেক যুদ্ধাপরাধী আছে।

    জবাব
  12. ruhul amin rubel

    আপনাকে ধন্যবাদ।
    বর্তমানে যারা নারী ধর্ষণ করছে, মানুষ খুন করছে, শিক্ষাঙ্গনকে কলুষিত করছে, দূরনীতি, টেন্ডারবাজি, ঘূষের মাধ্যমে যারা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেণ দেশটাকে পিছনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে তাদের জন্য কিছু লিখবেন কি? যুদ্ধাপরাধী কেন, সব অপরাধীর বিচার করাই নিয়ম। আইনের চোখে সবাই সমান। তাহলে কেন বাকশাল আমলে সিরাজ শিকদার সহ ২৫ হাজার দেশপ্রেমিক হত্যাার বিচার হবে না।

    জবাব
  13. SHIPLU

    ধন্যবাদ, শমী কায়সার,আমি আপনার লেখা আগেও পড়েছি। ভালোলাগে সবসময়।
    জাতিকে কল্কঙ্কমুক্ত করার সময় এসেছে। অথৈই সাগরে জাহাজ ভেসে চলেছে। জানি একদিন এই জাহাজ তীরে অবশ্যই আসবে।সেই সুদিনের অপেক্ষায়……………….

    জবাব
  14. afnan

    আপা লিখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।আপনি শহীদের সন্তান। তাই আপনাদের জাতি শ্রদ্ধার চোখে দেখে। এও জানি আপনার পরিবার আওয়ামী ঘরানার। আপা , বর্তমান সরকারের অযোগ্যতা অপরিপক্কতা নিয়ে কিছু লিখবেন কি?আঃলীগে যারা যোগ্য যারা দেশকে জাতিকে কিছু দিতে পারতো তাদের দূরে রেখে যাদের নিয়ে দেশ পরিচালনা করছে তারা কারা?দলীয় প্রধানের সব ব্যক্তিগত লোক নয় কি?এসব লোকদের মিনিস্টার উপদেস্টা বানানো হবে জানলে জনগন কি আঃলীগকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতো? দেশ প্রতিদিন পিছিয়ে পরছে। আপনারা জাতির শ্রেস্ঠ সন্তানেরা এভাবে নিরব থাকলে জাতি কীভাবে মুক্তি পাবে? সব অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে কি কোনো ভুমিকা আপনার কাছ থেকা আশা করতে পারি? ধন্যবাদ।

    জবাব
  15. রিপনচন্দ্র মল্লিক

    শমী আপা,
    আপনার লেখা এর আগে আমি কোনদিন পড়িনি। ছোটবেলায় যখন টিভিতে নক্ষত্রের দিনরাত্রি, আজ রবিবার দেখতাম তখন থেকেই আপনাকে আমার খুব ভালো লেগে যায়। বড় হয়ে পড়ে জেনেছি আপনি শহীদুল্লাহ কায়সারের মেয়ে। শুনে মনটা ভরে গিয়েছিল। পরে আপনার পরিবার সম্পর্কে আরো অনেক খোঁজ খবর নিয়েছি।

    যাই হোক আপনার লেখাটা পড়ে মুগ্ধ হয়েছি। বিডিনিউজে নিয়মিত লিখলে ভালা লাগবে। আশা করছি কোন একদিন আপনার সাথে পরিচিত হতে পারবো।

    জবাব
  16. আগুন মজিদ

    ভাল লিখা। কিন্তু শেষের দিকে এসে লেখক ঠিকই আবেগময় উপসংহার টানলেন। তবে খ্যাতিমান অভিনেত্রীর আবেগটা অবশ্যই বোধগম্য। ধন্যবাদ।

    জবাব
  17. Habib

    এই অভিশপ্ত দেশে যতদিন না যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হয় ততদিন আমরা থাকবো অভিশপ্ত। অভিশাপ নিয়ে এভাবে চলতে হলে বার বার হোঁচট খেয়ে পড়বো, আর হারাবো প্রাণ প্রিয় সব আদর্শের সৈনিকদের, বন্ধুদের, পথপ্রদর্শকদের। — খাঁটি কথা ।

    ধন্যবাদ লেখার জন্যে , আসলে তারেক ভাই মিশুক মুনিরকে হারান বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির জন্যেই দু:সংবাদ ।

    জবাব
  18. শহীদুল আলম রানা

    ধন্যবাদ,শমী কায়সার
    অনেকদিন পরে আপনার একটা সুন্দর লেখা পড়লাম। এভাবে মাঝে মাঝে কিছু লিখলে, আমরা অত্যন্ত খুশি হব। আমরাও চাই যুদ্ধাপরাধীদের বাংলার মাটিতে যত শীঘ্রই সম্ভব হয়ে যাক, তাহলে জাতি কলঙ্কমুক্ত হবে। ধন্যবাদ।

    জবাব
  19. rasedmehdi

    যুদ্ধপরাধীদের বিচারের দাবিতে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। বর্তমান সরকারের গত নির্বাচনে বিপুল জয়ের পেছনে নতুন প্রজন্মের নিরঙ্কুশ সমর্থনের কারনও ছিল যুদ্ধপরাধীদের বিচারের দাবি। তারেক মাসুদ মুক্তির গানের মধ্য দিয়ে দারুন দু:সময়ে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে এনেছিলেন জীবন্ত একাত্তর। একাত্তরে মানবতাবিরোধী ঘাতক-দালাল, রাজাকার, আল বদরদের বিচারের দাবিতে নতুন আশায় বুক বেঁধেছিল দেশের মানুষ। তখন আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন সেই সব মানুষের মুক্তির মানস কন্যা। তারেক মাসুদ-মিশুক মুনিরের মত দেশের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্রের নির্মম চলে যাওয়ার পর সড়ক দূর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে দেশের বিশিষ্টজনরা। এই বিশিষ্টজনরাই যুদ্ধপরাধীদের বিচারে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, ঐক্যবদ্ধ রাখার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ এখন তারা সড়ক দূর্ঘটনা বন্ধের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পর সরকারের কিছু মন্ত্রী তাদের বিষোদগার করছেন। সরকার না’কি তাদের উপর নজর রাখতে গোয়েন্দাও লাগিয়েছেন!অথচ যে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা এখন বিষোদগার করছেন, মন্ত্রী কিংবা প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগে দেশবাসী তাদের চিনত না। তাদের রাজপথের কোন আন্দোলনে, এমনকি আওয়ামীলীগের হরতালেও সামনের সারিতে দেখা যায়নি। তারা যখন দেশের গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের আন্দোলনে যুগ যুগ ধরে সামনের সারিতে থাকা নি:স্বার্থ গুরুজনদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন, তখন আস্থায় চির ধরে। সত্যিই কি দেশে যুদ্ধপরাধীদের বিচার হবে এ দেশে? প্রগতিশীল, অন্যায়, অবিচার মুক্ত একটি দেশ পাব আমরা? সড়ককে অনিরাপদ করে তোলার কিংবা যুগ যুগ ধরে অনিরাপদ রাখার বিরুদ্ধে অবস্খান নিলেই যদি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সৈনিকদের, শহীদদের সন্তানদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা হয়, তাহলে বিষোদগার করা সেই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলা উচিত? খুব সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যাশা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের প্রধানমন্ত্রী থাকুন, তিনি যেন কতিপয় মন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী না হন। আমাদের বিশ্বাস, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের প্রতি বিশ্বাস রাখলে অবশ্যই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হবেন, যুদ্ধপরাধীদের বিচার হবে, অপঘাতে অকালে ঝরে পড়ার দুর্ভাগ্যও দূর হবে। আর কতিপয় মন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী হলে জাতির হতাশা বাড়বে,আবার অনেক দূর পিছিয়ে পড়ার আশংকার মুখে পড়বে বাংলাদেশ।

    জবাব
  20. ইফতেখার মোহাম্মদ

    তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর হারানোর ক্ষতি পূরণ হবার নয়। এ জাতি শত বছরেও এমন দুই নক্ষত্রের দেখা পাবে কি না জানি না।

    আপুকে তার লেখনি সচল রাখার অনুরোধ রইলো।

    জবাব

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—