Shahbag - 222

আমার প্রজন্মের আর দশজন মানুষের মতোই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ঘটনা শাহবাগ আন্দোলন। এটি নিয়ে আমার গর্বের শেষ নেই। এ পর্যন্ত একাধিকবার শাহবাগ আন্দোলনের বর্ষপূর্তিতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এই পাতায় আমি তা প্রকাশ করেছি। মনে হচ্ছে যতদিন বিভাগীয় সম্পাদক নিজে থেকে আমাকে না থামাবেন ততদিন এটি আমি চালিয়ে যাব!

যখন প্রথমবার শাহবাগের বর্ষপূর্তিতে লিখি এটি ছিল মূলত সাদাচোখে আন্দোলনটির যা যা বৈশিষ্ট্য দেখা যায় তারই গল্প। কিন্তু এরপর আর সবার মতো শাহবাগ আন্দোলনের যে আদর্শিক চেতনা, যেটি খালি চোখে দেখা যায় না কিন্তু বুকের ভেতর সবাই অনুভব করে, সেটি আমি স্পষ্ট টের পেতে শুরু করলাম। শাহবাগের চেতনা নিয়ে যখন লিখতে গেলাম, আবিষ্কার করলাম, শাহবাগ আন্দোলন আসলে মুক্তিযুদ্ধেরই ধারাবাহিকতা।

কাজেই আমি ভাবলাম, আগে নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া করা উচিৎ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর বাহাত্তরের সংবিধানের মূলনীতিগুলো আমি কীভাবে অনুভব করি। সেটি যদি আমার কাছে পরিষ্কার না হয় তাহলে এটিও পরিষ্কার বুঝব না যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কোন অংশটির ধারাবাহিকতায় শাহবাগের চেতনার কোন কথাটি এসেছে। কাজেই এটি হয়ে গেল একটি দুই পর্বের লেখা। প্রথম পর্বে আমার অনুভবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর দ্বিতীয় পর্বে তার আলোয় শাহবাগের দ্যোতনা।

তাহলে এই বছর কী লিখব? ছোটবেলায় স্কুলে পড়ার সময় বিজ্ঞান বইয়ে ‘এসো নিজে করি’ নামের একটি ব্যববহারিক পরীক্ষা ছিল। মূল ব্যাপারটি ছিল বিজ্ঞানের কোনো তত্ত্ব যখন পড়ানো হচ্ছে, পাঠ্যবইয়ের লেখকরা চাইতেন আমরা যেন বাসায় টুকটাক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তত্ত্বটি যাচাই করে দেখি। ঘরে টুকটাক ভাঙচুর আর আগুন লেগে যাওয়ার ঝুঁকিটুকু বাদ দিলে ব্যাপারটি কিন্তু আমার বেশ মজারই লাগত। এই সেদিনও আমি বাসায় কাগজের টি-ব্যাগে আগুন লাগিয়ে দেখলাম এটি রকেটের মতো উপরের দিকে উড়ে যায়! যে কোনো তত্ত্বের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যাচাই করার মজাই আলাদা।

 

School students - 111

 

এখানে একটি বিষয় বলে নেওয়া দরকার। আমি যেভাবে মুক্তিযুদ্ধ ও শাহবাগের চেতনা অনুভব করি তখন আশা করি না সবাই সেটি সেভাবেই করবে। এটি না করাই বরং স্বাভাবিক। একটি অসাধারণ আন্দোলন বিভিন্ন মানুষকে বিভিন্নভাবে স্পর্শ করেছে। প্রত্যেকে যার যার মতো করে এই চেতনা বুঝবে, লালন আর চর্চা করবে। একই আদর্শের নানা ধরনের বাহ্যিক প্রকাশের চেয়ে চমৎকার ও বৈচিত্র্যময় আর কী হতে পারে?

তাহলে আজকের ‘এসো নিজে করি’ পর্বে আমরা কী করব? আমরা দেখব মুক্তিযুদ্ধ ও শাহবাগের চেতনা বলতে আমরা যা বুঝি সেটি আমরা কীভাবে চর্চা করছি। গোটা বাংলাদেশের সর্বস্তরের চর্চা নিয়ে কথা বলার মতো জায়গা এখানে নেই। তার চেয়ে বড় ব্যাপার হল, সেটি করার মতো কারিগরি যোগ্যতাও আমার নেই। আমি আজকে আমাদের জাতীয় শিক্ষা নীতিটি মুক্তিযুদ্ধ ও শাহবাগের চশমায় দেখব। আগেভাগে জানিয়ে রাখি যে, আমি শিক্ষা গবেষক বা শিক্ষা-সংক্রান্ত কোনো পেশায় যুক্ত নেই। কাজেই আমার কোনো কথাই খুব বেশি সিরিয়াসলি নেওয়া যাবে না।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আনুষ্ঠানিক রূপ হল বাহাত্তরের সংবিধানের চারটি মূলনীতি– জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্র। তার সঙ্গে শাহবাগের চেতনা কী? আমার আগের লেখাটিতে আমি বলেছি মুক্তিযুদ্ধের চারটি চেতনা শাহবাগ আরও গভীর ও বিস্তৃত করেছে।

তাহলে শুরু করা যাক! ‘এসো নিজে করি’ মুক্তিযুদ্ধ ও শাহবাগের চেতনায় আমাদের জাতীয় শিক্ষা নীতি।

প্রথমে আমি অল্প কথায় আমাদের সর্বশেষ জাতীয় শিক্ষা নীতির পেছনের ইতিহাসটুকু বলে দিই। ২০০৯ সালের মে মাসে এই শিক্ষা নীতির জন্য গঠিত কমিটি প্রথম কাজ শুরু করে। এতে সদস্য ছিলেন ১৮ জন। পূর্ণ কমিটি মোট ২৩টি সভা করে। একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত চূড়ান্ত খসড়ায় মোট অধ্যায় ছিল ২৯টি। এই খসড়া অনেকেই খুব পছন্দ করে। পরবর্তীতে যখন মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক সংস্করণ প্রকাশ করে তখন সেটিতে অধ্যায় একটি কমে যায়।

কিছুদিন আগে কমিটির সদস্য অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল খুব মন খারাপ করে একটি লেখায় জানিয়েছিলেন যে, আমলারা তাদের না জানিয়েই কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দিয়ে দিয়েছেন।

ইতিহাস বলা শেষ। এখন আমি কাজের কথায় যাচ্ছি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চারটি মূলনীতির প্রত্যেকটি নিয়ে আলাদাভাবে কথা বলব।

আমাদের জাতীয় শিক্ষা নীতিতে জাতীয়তাবাদটি কীভাবে আসা উচিৎ? আগের লেখায় বলেছিলাম শাহবাগের আগে আমাদের জাতীয়বাদের ধারণাটি বেশ অস্পষ্ট ছিল। আমাদের বাংলাদেশ একটি বহুজাতিক দেশ। এখানে ভাষাই আছে ত্রিশটির উপরে। আগে যে সমস্যাটি ছিল তা হল, বঙ্গবন্ধু আমাদের জাতীয়তাবাদকে বাঙালি জাতীয়তাবাদ ঘোষণা করেছিলেন। সে সময় সংসদে দেওয়া তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি বাঙালি পরিচয়টিকে সাংস্কৃতিক ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয় থেকে বাড়িয়ে একটি রাজনৈতিক পরিচয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন।

এ ব্যাপারটিতে তখনকার আদিবাসী নেতাদের আপত্তি ছিল। কারণ ইতোমধ্যে বাঙালি পরিচয়টি সাংস্কৃতিক পরিচয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এই মতবিরোধ সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুর ও তাদের মধ্যে কোনো বিদ্বেষ তৈরি হয়নি। তাঁরা একসঙ্গেই কাজ করেছেন। কিন্তু তাদের এই কথোপকথন পঁচাত্তরেই বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেলার সঙ্গে সঙ্গে পূর্ণতা পাওয়ার আগেই শেষ হয়ে যায়।

তারপর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ছদ্মনামে কৃত্রিম বাঙালি মুসলিম জাতীয়তাবাদ চালু করেন আর দেশে রাজাকারদের পুর্নবাসন শুরু করেন। পাশাপাশি তিনি আদিবাসীদের জাতিগত নিধন শুরু করেন সেটেলারদের সেখানে সরকারি খরচে পাঠিয়ে। এই অবস্থা চলে অনেক দিন।

অনেক অনেক পরে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির পর সমস্যা সমাধানের সুযোগ কিছুটা তৈরি হয়। কিন্তু আমরা আদিবাসীদের সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এখনও চুক্তির বাস্তবায়ন ঝুলিয়ে রেখেছি। শাহবাগ এসে আমরা একাত্তরের পুরোনো শ্লোগান, ‘তুমি কে, আমি কে, বাঙালি বাঙালি’ শ্লোগানটি আবার পেলাম, ‘তুমি কে, আমি কে, চাকমা মারমা বাঙালি’ হিসেবে। আমার মনে হয় এই পরিবর্তন দরকার ছিল। আমাদের জাতীয়তাবাদ হওয়া উচিৎ বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। কিন্তু সেটি জিয়াউর রহমানের ‘দুই নম্বর বাংলাদেশি’ জাতীয়তাবাদ হবে না। সেটি হবে সত্যিকারের সর্বজনীন জাতীয়তাবাদ যেটি বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতীয়তাবাদ দিয়ে বুঝাতে চেয়েছিলেন।

আমাদের শিক্ষা নীতিতে কি আমরা সেটির প্রতিফলন রেখেছি? যতগুলো মাতৃভাষা আছে ততগুলো ভাষায় কি আমরা এই শিক্ষা নীতির আনুষ্ঠানিক সংস্করণটি প্রকাশ করেছি? আমরা কি ধরে নিয়েছি এই জাতীয় নীতি শুধু তাদের জন্য যারা বাঙালি পরিবারে জন্মেছে? নাকি আমরা ধরে নিয়েছি যেসব আদিবাসী বাংলায় স্বচ্ছন্দ নন তাদের এসব না জানলেও চলবে? নাকি সংখ্যায় বেশি বলে আমরাই শুধু গুরুত্বপূর্ণ?

শিক্ষা সচিবের গাড়ির এক বছরের তেল খরচ যত আদিবাসীদের ত্রিশটি ভাষায় (অন্তত যেগুলোর লিখিত রূপ আছে) এই শিক্ষা নীতি অনুবাদ করতে কি তার চেয়েও বেশি খরচ লাগে? বিশেষজ্ঞ কমিটিতে কোনো আদিবাসী সদস্য নেই। আদিবাসীদের মর্যাদা ও অধিকার সংরক্ষণে আমাদের বাঙালিদের ইতিহাস যেহেতু খুব একটা সমৃদ্ধ নয়, কাজেই এটিতে তাদের অংশগ্রহণ কি জরুরি ছিল না?

আমরা যতদিন বাঙালি চোখে আদিবাসীদের নিজেদের মতো সমান সম্মান দিব না, ততদিন তাদের আমরা মনে করব পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী। কাজেই তাদের শুধু আমরা দান-খয়রাত করে যাব। আমরা ধরে নিব তাদের কাছে থেকে আমাদের কিছু শেখার নেই বা কোনো সাহায্য পাওয়ার নেই। কাজেই আমরা বাঙালিরা নিজেরা নিজেরা ঠিক করব তাদের কী দরকার, তারপর আমরা তাদের সে অনুযায়ী বরাদ্দ দিব।

একটি সুস্থ বহুজাতিক সমাজে সবার মর্যাদাই সমান, সবারই নিজস্ব কিছু মৌলিক শক্তির দিক আছে, সবারই সমাজকে কোনো না কোনোভাবে কিছু না কিছু দেওয়ার আছে। কাজেই কেউ যদি শিক্ষানীতিতে আদিবাসীদের জন্য রাখা বরাদ্দগুলো দেখিয়ে বলে, ‘কই, সবই তো ঠিক আছে’, তাহলে চলবে না। আত্মসম্মান ও মর্যাদাবোধ টাকা পয়সা দিয়ে মাপা যায় না। যদি যেত তাহলে ছয় দফাতে বঙ্গবন্ধু কেবল এক দফাই রাখতেন; সেটি হল, পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বড় বাজেট। তিনি সেটি রাখেননি।

শিক্ষানীতিতে আদিবাসীদের জন্য রাখা সুপারিশগুলো আদিবাসীরা ঠিক করেননি। ভবিষ্যতে আরও অনেক শিক্ষানীতি হবে। এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে আমাদের আরও কয় দশক লাগে কে জানে!

আমার কাছে ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতা, এই চমৎকার কথা দুটির মানে একই। অনেক মানুষই দুটি কথা একই অর্থে ব্যবহার করেন। কিন্তু একাধিক রাজনৈতিক দল খুব সম্ভবত তাদের কথায় ধর্মনিরপেক্ষতার বদলে শুধু অসাম্প্রদায়িকতা করছেন নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় আওয়ামী লীগ থেকে আলাদা করার জন্য। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে বলে অন্য দলগুলোর সেটি নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগা উচিৎ নয়। ব্যাপারটি অনেকটি এ প্রজন্মের অভিনেতাদের সত্যজিৎ রায়ের সিনেমায় অভিনয় করতে না পারার দু:খে মন খারাপ করার মতো।

প্রত্যেক রাজনৈতিক দলকেই ইতিহাস সুযোগ দেয় নিজের সময়টুকুতে ইতিহাসের গতি পাল্টি দেওয়ার জন্য। কেউ সেই সুযোগ কাজে লাগায়, কেউ লাগায় না। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে কিন্তু বাংলাদেশের মালিকানা জনগণের হাতে, কোনো দলের হাতে নয়। যে চেতনায় এ দেশটির জন্ম হয়েছে তার একটি হল ধর্মনিরপেক্ষতা। কাজেই কেউ যদি আওয়ামী লীগের প্রতি বিদ্বেষবশত সচেতনভাবে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ কথাটি বাদ দেওয়া শুরু করে তাহলে সে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ফসল বাহাত্তরের সংবিধানের মূলনীতিকে বাদ দিয়ে দেয়।

এত কথা বলছি তার কারণ হল, বিশেষজ্ঞ কমিটি তাদের খসড়ায় শিক্ষানীতির তিন নম্বর উদ্দেশ্যে কী বলেছিলেন সেটি দেখুন আর তার পাশে আমলারা কী অনুমোদন করেছেন সেটি দেখুন:

 

Pic - 111

 

আমার ব্যক্তিগত কৌতূহল হল এই পরিবর্তন কি আমি যেভাবে দুটি কথা একই অর্থে ব্যবহার করি সেভাবে করা হয়েছে? নাকি অন্য কোনো কারণ? বঙ্গবন্ধু তাঁর আত্মজীবনীতে বা সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজউদ্দীন আহমদ স্বাধীনতার পরপর দেওয়া তাদের বক্তৃতাগুলোতে ধর্মনিরপেক্ষতার যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ‘অসাম্প্রদায়িকতা’ কথাটি কি তার চেয়েও বেশি কিছু বুঝায়? বঙ্গবন্ধু, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ এঁনারা কি যথেষ্ট পরিমাণ মুসলমান ছিলেন না?

আমি আরও একটি ব্যাপার নিয়ে একটু বলতে চাই। পুরো শিক্ষানীতি পড়ে আমার মনে হয়েছে বিশেষজ্ঞরা চেয়েছেন শিশুরা বুকের ভেতর সব ধর্মের মানুষের প্রতি ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা নিয়ে বেড়ে উঠুক। এ কারণে তারা বলেছেন বাচ্চারা যেন সব ধর্মেরই চমৎকার ব্যাপারগুলো শেখার সুযোগ পায়। একটি উদার, মুক্ত, মননশীল সমাজের জন্য এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কি আর কিছু আছে? কিন্তু আমলারা যত জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন সব জায়গায় ‘নিজ নিজ ধর্ম’ কথাটি জুড়ে দিয়েছেন। নিচে কিছু ছবি দিলাম:

 

Pic - 222

 

বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী পরিবারে জন্ম নেওয়া শিশুদের মধ্যে এই ‘নিজ নিজ ধর্মের’ দেয়ালটি তুলে দেয়ার কি কোনো দরকার আছে? ইসলাম ধর্মাবলম্বী পরিবারে জন্ম নেওয়া একটি শিশুর কি জানার দরকার নেই হিন্দু ধর্মাবলম্বী পরিবারের একটি শিশু স্রষ্টা ও সৃষ্টির ধারণাটি কী চোখে দেখে? হিন্দু ধর্মাবলম্বী পরিবারে জন্ম নেওয়া একটি শিশুর কি জানার দরকার নেই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পরিবারের একটি শিশুর চোখে ইহকাল ও পরকালের ধারণাটি কী?

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পরিবারে জন্ম নেওয়া একটি শিশুর কি জানার দরকার নেই একটি নিধার্মিক পরিবারের শিশুকে কোনো অলৌকিক ধারণা ছাড়াই কী করে তার বাবা-মা ভালো মানুষ হিসেবে বড় করে চলছেন? নিধার্মিক পরিবারের শিশুদের কি ইসলাম ধর্মের মহামনিষীদের জীবনের গল্পগুলো পড়লে খুব বেশি ক্ষতি হবে?

একজন যদি আরেক জনের অনুভূতিটুকু বুঝতে না পারে তাহলে বড় হয়ে তারা একই সমাজে পাশাপাশি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে কী করে থাকবে?

গণতন্ত্র আর সমাজতন্ত্র হল আমাদের বাহাত্তরের সংবিধানের বাকি দুটি মূলনীতি। আমি স্কুলে পড়ার সময় সমাজে একটু দুর্বল ছিলাম, তাই প্রায় সময় কোন বিষয় রাজনীতি আর কোন বিষয় অর্থনীতির মধ্যে পড়ে এই বিভাজন বুঝতে পারি না। আমার সৌভাগ্য, পলিটিক্যাল ইকোনমি বলে জ্ঞানের একটি শাখা আছে! আমি তাই আমাদের শিক্ষা নীতির এই দিকগুলো নিয়ে আমার খচখচানি তুলে ধরব।

আমি নিজে সাধারণ মাধ্যমের ছাত্র। তবে মাদ্রাসা মাধ্যম থেকে পাশ করে আসা বন্ধুদের সঙ্গে আমার মাধ্যমে যারা পড়াশোনা করেছে তাদের মেধার বা সম্ভাবনার কোনো পার্থক্য কোনো দিনই পাইনি। যদি কোনো পার্থক্য কখনও চোখে পড়ে সেটি হল, গড়পড়তায় তারা সুযোগ কম পেয়েছে, যেটি তাদের দোষ নয়। আর তাছাড়া এটি শুধু মাদ্রাসার জন্য প্রযোজ্য নয়। একই রকম পার্থক্য বাংলাদেশে শহর আর গ্রামের স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও চোখে পড়ে।

অনেক সময় নিজেদের মেধা আর পরিশ্রম দিয়ে মানুষ এই দূরত্বটুকু অতিক্রম করে ফেলে। হয়তো তাদের কারও কারও একটু বেশি সময় লাগে, এই যা। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সরকারের উচিৎ এটি ধরে নে্ওয়া যে, সব মাধ্যমের ছাত্রছাত্রীদের সম্ভাবনা ও মেধা সমান। কালকের পৃথিবীকে পাল্টে দেওয়ার সম্ভাবনা ও দায়িত্ব সাধারণ মাধ্যমে পড়া শিক্ষার্থীর যতটুকু একজন মাদ্রাসায় পড়া শিক্ষার্থীরও ততটুকু।

খসড়া শিক্ষা নীতিতে বিশেষজ্ঞরা ঠিক এই ব্যাপারটি চেয়েছিলেন। ষষ্ঠ অধ্যায়ে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাতে তারা তাই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে আগে থেকে ঠিক করে দেননি যে, কেউ যদি মাদ্রাসাতে ভর্তি হয় বড় হওয়ার পর তাদের জীবিকা কী হবে। তাই তারা মাদ্রাসা শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য রেখেছিলেন আত্মিক উন্নতি সাধন। তারা খুব স্পষ্ট করে বলেছিলেন, আচার-সর্বস্ব ধর্মচর্চার যে অর্থনৈতিক বাস্তুতন্ত্র আছে তাতে মাদ্রাসা ব্যবস্থায় আসা শিশুদের অপরিমিত সম্ভাবনা বেঁধে ফেলা না হয়। আমি তাদের সেই কথাগুলো নিচে দিয়ে দিলাম:

 

Pic - 333

 

এবার দেখুন আমাদের আমলারা শিক্ষানীতির আনুষ্ঠানিক সংস্করণে কী রেখেছেন:

 

Pic - 444

 

কেউ যদি স্বেচ্ছায় আনন্দের সঙ্গে দ্বীন ও ইসলামের প্রচার ও প্রসার করে সেটি সমস্যা নয়। কিন্তু একটি শিক্ষা নীতি কি কোনো একটি নির্দিষ্ট মাধ্যমের শিশুদের জন্য ঠিক করে দিতে পারে যে, বড় হয়ে বা বিশ-পঁচিশ বছর পর সে কী হবে? আমলারা কি চান না মাদ্রাসা থেকে আগামী দিনের সত্যজিৎ রায়, তারেক মাসুদ, নীলিমা ইব্রাহিম, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ওয়াসফিয়া নাজরীন, জামিলুর রেজা চৌধুরী, মাশরাফিরা বের হয়ে আসুক?

সাধারণ মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সম্ভাব্য জীবিকা ঠিক করে দেওয়া হয়নি। কেন সেটা করা হয়নি? কারণ আমরা চেয়েছি তারা যেন ছকে বাঁধা চিন্তা না করে। তারা যেন এটা মনে না করে তাদের সম্ভাবনা কেবল অতটুকুই। আকাশটাই তাদের সীমানা! জয়ের জন্য তাদের রয়েছে গোটা বিশ্ব।

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা কি কেবল বড় হয়ে অবসরপ্রাপ্ত আমলার বাড়ির পাশের মসজিদের ইমাম হবে? তারা আমলা হবে না? বিশ্ব জয় কি কেবল আমরা সাধারণ মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা করব? আর মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা কেবল আমাদের জয় উদযাপনের মিলাদ পড়াবে?

যদি সম্ভাবনা ও সুযোগের উপর তাদেরও সমান অধিকার থাকে তাহলে শিক্ষানীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে এত শিশু বয়স থেকে তাদের সম্ভাব্য জীবিকা বলে দিতে হবে কেন?

প্রিয় পাঠক, একটি বিষয় খেয়াল করবেন আমি কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্দেশ্যের ব্যাপারে আমার আপত্তিটি ধর্মনিরপেক্ষতার আলোচনায় রাখিনি। কারণ আমার অনুমান এভাবে মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়া বাচ্চাদের স্বপ্নডানা ছেঁটে দেওয়ার ব্যাপারটি পুরোপুরি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক।

খসড়া শিক্ষা নীতিতে আমার আরেকটি ভারি চমৎকার ব্যাপার চোখে পড়েছে। এটি হল, বিশেষজ্ঞরা পই পই করে বলে দিয়েছেন স্থানীয় সরকারের সঙ্গে যেন শিক্ষা ব্যবস্থার দায়িত্ব ভাগাভাগি করা হয়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের কৌশলে আলাদাভাবে বলা হয়েছে দ্বাদশ শ্রেণির আগে (অর্থাৎ এইচএসসির আগে) কোনো পরীক্ষা জাতীয়ভাবে হবে না। পিএসসি হবে থানা-ভিত্তিক, জেএসসি হবে বিভাগ-ভিত্তিক, এসএসসি পরীক্ষা হবে অঞ্চল-ভিত্তিক। শুধু তাই নয়, এর ব্যবস্থাপনাও করতে বলা হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে। কেন? তার ব্যাখ্যাও খসড়া শিক্ষা নীতিতে দেওয়া আছে।

মূল উদ্দেশ্য হল মানুষ যেন যার যার এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার মানোউন্নয়নের দায়িত্ব নেয় আর এটি যেন একদম তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু হয়। যদি আসলেই সেটি হত, তাহলে কার এলাকার ছেলেমেয়েরা লেখাপড়ায় ভালো সেটির একটি সুস্থ জাতীয় প্রতিযোগিতাও শুরু হত!

 

Pic - 555

 

কিন্তু আমলারা আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নীতিতে কী করলেন? সব স্থানীয় যোগাযোগ বাদ দিয়ে পিএসসি থেকে শুরু করে সব পরীক্ষা পাবলিক পরীক্ষা করে ফেললেন। তাহলে বিশেষজ্ঞরা যে চেয়েছিলেন সবাই যার যার এলাকার পড়াশোনার উন্নতির জন্য মনোযোগী হোক তার কী হবে? কেউ জানে না। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ খুব সম্ভবত আমলাদের সবচেয়ে ‘অপ্রিয়’ শব্দ।

 

Pic - 666

 

এতদূর পর্যন্ত আসার পর পাঠকদের মনে নিশ্চয়ই প্রশ্ন জাগছে গত পাঁচ বছরে এই দফাভিত্তিক তুলনাগুলো কেউ করেনি কেন? যারা নিজেদের শিক্ষা গবেষক হিসেবে বা শিক্ষা বিটের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন তারা কী করছেন? আমি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানি না। অথবা আরেকটি ব্যাপার হতে পারে যে, আসলেই এই পার্থক্যগুলো কোনো চিন্তার বিষয় নয়। আমি যেহেতু শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপারে অনভিজ্ঞ, কাজেই শুধু শুধু ঝামেলা করছি। যদি এটিই সত্য হয় তাহলে আমার আনন্দের সীমা থাকবে না।

আমার লেখার মূল উদ্দেশ্য এটি দেখানো না যে, আমলারা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ডুবিয়ে দিচ্ছেন। আমি বলতে চাই আমাদের বিশেষজ্ঞদের দেখানো স্বপ্নের অনেকটুকুর সঙ্গেই দেখা যাচ্ছে আমলারা একমত নন এবং এই দূরত্ব আমাদের জাতির ভবিষ্যতের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই এটি নিয়ে আলাপ হওয়া জরুরি। সবার কাছে স্পষ্ট হওয়া উচিৎ আসলে কী হচ্ছে।

আমরা যদি জাতি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ ও শাহবাগের আলোয় আলোকিত হতে চাই তাহলে তিনটি বিষয় আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই তিনটি বিষয় হল: ১) আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, ২) আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ও ৩) আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা।

ওমর শেহাবডক্টরাল ক্যান্ডিডেট, ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড, বাল্টিমোর কাউন্টি; সদস্য, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম (আইসিএসএফ)।

১৮ প্রতিক্রিয়া -- “মুক্তিযুদ্ধ ও শাহবাগের আলোয় আমাদের শিক্ষানীতি”

  1. মোঃ হেলাল উদ্দিন

    শাহবাগে গনজাগরন মঞ্চএর শুরুর দিকের আন্দলন সরকারকে যুদ্ধাপরাধী দের সাথে আতাত করার সাহস বা সুযোগ খোঁজা থেকে বিরত রেখেছে একথা শতভাগ সত্যি। কিন্তু তাদের কর্ম কাণ্ড দেখে মনে হয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ছাড়া আর যেন কোন বিষয় তারা খুঁজেই পাচ্ছে না আন্দলন করার মত। তারা নতুন কোন ইস্যু খুঁজেই পাচ্ছেন না যেন। যে কোন কারনেই হোক না কেন সরকার তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়াতে তারা নিস্তেজ হয়ে পরেছেন। হয়ত অবস্থান গত কারনে গনজাগরন মঞ্চের সম্প্রিক্তরা আমার সাথে এ বিষয়ে একমত নাও হতে পারেন। তারা বরং সাধারন অংশগ্রহণ কারিদের পরোক্ষ ভাবে দায়ি করছেন যে সাধারন মানুষ আগের মত তাদের ডাকে তেমন স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অংসগ্রহন করছেন না।
    আমার অনুমান তা নয় । আমার তো মনে হয় একমাত্র ইস্যু তে সাধারন মানুষ আর আবধ্য থাকতে চাচ্ছেন না। সাধারন মানুষ মনে করেন দেশে হাজারো ইস্যু অহরহ তৈরি হচ্ছে যা দিয়ে ব্যাপক আন্দলন গড়ে তোলা যায়। অথচ গনজাগরন মঞ্চ তা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
    আগোছালো শিক্ষা নীতি , ফালানি হত্যা, বিদ্যুত-গ্যাস এর মুল্য বৃদ্ধি, দুনিয়া জুড়ে তেলের দাম কম থাকা সত্যেও যান বাহনের ভাড়া বৃদ্ধি, আইন বহির্ভূত হত্যা কাণ্ড , পুলিশের সেচ্ছাচারিতা, দেশ ব্যাপি গুম খুন , শিশু এবং নারী হত্যা ও নির্যাতন , সরকারি ও বে সরকারি চাকুরি জীবী দের মধ্যে আকাশ পাতাল বেতন বইশম্য, ঋণ খেলাপি, ঘুস, দুর্নীতি , ঈদ কোরবানির সময় শ্রমিকের বেতন বোনাস না পাওয়া, সেয়ার মার্কেট কেলেংকারি, ব্যাঙ্ক জালিয়াতি, হল মার্ক কেলেংকারি, এমনি হাজারো ইস্যু আছে যা নিয়ে আনেক অনেক বড় আন্দলন করা যায় । আমার দ্রিঢ় বিশ্বাস যুদ্ধাপরাধির বিচারের দাবির পাসাপাশি এ সব স্পর্শকাতর বিষয় গুলোকে ইস্যু করে আন্দোলনের ডাক দিলে অবশ্যই সাধারন মানুষ ঠিকই আবার নেমে আসবে শাহবাগে।

    জবাব
  2. Md. Rajibur Rahman( Rajib)

    “What shall we be if we try to establish other’s thought by neglecting ALLAH’s order?” Are we muslim after neglecting ALLAH’s order and try to establish other’s order ?

    Mr. Wahab,
    At first take warmest thanks. Don’t mind that I am suggesting you to justify every student party from beginning of every party.You should justify student leader what they are doing at their region by mixing with them with hide that you are justifying them. What are their activities? You should not be supporter to get advantage from political power because now maximum of us are educated and they are getting news. I was a university student of ILET(D.U). I saw student politics.Maximum student politicians were selfish. They changed their party after election to save and to get facility. You name is Wahab so you a muslim but one thing that if we demand that we are muslim than we must abide by, lead our life according to the thought of Hazrat Muhammad(S.A:) that is ordered from ALLAH subhanahuta’ala. If we bear in mind and try to establish other’s thought by neglecting Allah’s order to establish peace then what shall we be?

    Please ask your reliable Islamic researcher about this. Please keep in touch to know the truth.

    Thakns
    Eng. Rajibur Rahman ( Rajib)

    জবাব
  3. E A Bari

    Please try to understand a simple logic. We are in language and culture Bangali. As citizens we are Bangladeshi. In belief we are mostly Muslims (There are others in minority numbers off course. ). One cannot eliminate peoples religious creeds! Yet this is exactly what some are trying to achieve. Don’t forget religious beliefs (specially Islamic Beliefs) never was against the scientific advancement, never is and never will be. The history of Islam proofs it undoubtedly. Those who doubt this truth please kindly read from the great NON-MUSLIM writers of the past and present. ALL are available in the internet. Islam actually saved Greek science and philosophy and improved them greatly. So don’t be foolish by thinking that Islam is a bother for progress. On the contrary, following its superior and excellent ethics and give embassies on learning science and technology will surely be prosperous for our nation in every way.
    I want to see an education policy based on ethics of religious teachings and greatly emphasised on modern science and technology. As a Muslim this will greatly please my heart. For I know ‘Islam and Science are twin sisters.’ This was the main reason why I studied in Science and Technology in England. I HAVE NEVER FELT any problem or conflict between Islam and scientific progress. We must understand this fact as soon as possible and act accordingly.

    জবাব
  4. আলমগীর কবির

    জনাব Bangladeshi, আ’লীগের মন্ত্রীরাই তো স্বীকার করেছিল গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন এভাবে জমে উঠবে বুঝলে প্রথমদিকে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে নমনীয় (আপোষমূলক ! ) যে আচরণ করেছিল সরকার তা হতো না। পরবর্তীতে সরকার তরুনদের আন্দোলনের মুখে আপীল করার জন্য সংসদে বিল পাশ করে এবং খুনী-ধর্ষকদের একে একে ফাসী হতে থাকে। গণজাগরণ মঞ্চকে নাস্তিক বলায় খালেদা জিয়া তরুনসমাজ থেকে সম্পূর্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যান এবং ‘ঘরে বসে’ হুঙ্কার দেন, কেউ মাঠে না নামায় নির্বাচন ঠেকাতে ব্যর্থ হন।
    আ’লীগ সরকার ব্লগারদের বিরুদ্ধে মামলা-গ্রেফতার চালিয়ে যায় এবং গণজাগরনের মঞ্চটি পুলিশ দিয়ে ভেঙ্গে দেয়। অন্যদিকে গুপ্তহত্যা করে তরুন ব্লগার খুন করে যারা,তাদের বেশ কিছু ধরা পড়লে দেখা যায় তাঁরা সব চিহ্নিত মৌলবাদী
    – দীর্ঘ হতে থাকে শহীদ গণজাগরণ কর্মীদের তালিকা।
    পৃথিবীর কোন আন্দোলন চিরস্থায়ী হয়না, বরং কিছু ফলাফল এনে দেয়। ৫২,৬৯,৭১ বা ৯০ এর আন্দোলন কতদিন চলেছে ? কিন্তু প্রত্যেকটি তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছে আপামর জনগণকে সুফল দিয়ে গেছে। হেফাজত-জামাতকে ঠেকিয়ে সরকারতো সুবিধা করেই নিয়েছে, আর গণজাগরনের একটাই দাবী ছিল সরকারের পক্ষ থেকে আপীল করে একাত্তরের খুনী-বদমাইশগুলো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া – সে কাজটিও সরকার সফলভাবে করে চলেছে।

    জবাব
  5. shakil

    শাহবাগ আমার কাছে এযিগের মুক্তিযুদ্ধের মতো ধরাদিয়েছিল । I felt proud that I had the opportunity to go there several times then. But unfortunately that has been unduly ( money , food protections & many other facilities ) nursed by government & finally became ‘Pocket committee’
    যা দারুন ভাবে আশাহত করেছে আনেক কেই
    নেতৃত্বের বিক্রী হয়ে যাওয়া চ্যনেলে সাক্ষাতকার লিয়ে তারকা খ্যাতির দূর্নিবার লোভ যা কিনা নিচু ও লোভাতুর মানশিকতার ঊদগ্র প্রকাশ।
    তাই শাহবাগের চেতনা বক্ষে ধারন করি একই সাথে এর নেতৃত্বে থেকে দারুন সম্ভবনাময় একটি তারুন্যের জাগরনকে বিক্রীকরে দিয়ে ধংশের জন্য তাদের আমি রাজাকারের মতই ঘৃনা করি

    জবাব
  6. জায়ান আবান

    সত্য বললে গায়ে লাগে!
    চিরন্তন সত্য কথা।
    গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে দেশব্যাপী যে কৌতুহল ছিল, তা তারা নিজেরাই বারা ভাতে ছাই ঢেলে দিয়েছে। কয়েকটি ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। গুটিকয়েকজনের অর্থ লুপাটের বিষয়টি জনসম্মুখে আসার পর তাদের কর্মসূচিতে এখন সাধারণ মানুষের ঢল নামে না।
    সারকথা, ১৫ থেকে ২০ জন মানুষের মঞ্চকে কোনোভাবেই গণজাগরণ মঞ্চ বলা যায় না।

    জবাব
  7. Fazlul Haq

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় জাতীয়তা ও নাগরিকত্ব বলে দুটো শব্দ যা রাষ্ট্রের অধিবাসিদের দুধরণের পরিচয় নির্ধারণ করে। জাতীয়তা নির্ধারিত হয় নৃ-তাত্বিক ও সাংস্কৃতিক বিষয় দিয়ে। আর নাগরিকত্ব নির্ধারিত হয় রাষ্ট্রের আইন, নীতি, আদর্শ ইত্যাদি মেনে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য অবলম্বনের দ্বারা। বাংলাদেশ বাঙ্গালী এবং শাওতাল, চাকমা, মারমা সহ অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতি নিয়ে একটি বহজাতিক রাষ্ট্র। তবে বাংলাদেশের সকল অধিবাসিদের নাগরিকত্ব বাংলাদেশী; পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য পোষণকারীরা ব্যতীত।

    জবাব
  8. Bangladeshi

    শাহবাগ তুমি আমার খুবই প্রিয়
    তোমার কারণে ভুলিয়ে দিতে পেরেছি পদ্মা সেতুর যন্ত্রণা…
    শাহবাগ তোমার কারণে হারিয়ে গিয়েছে
    তুই চোর, তুই চোর সেই কঠিন শব্দগুলো যা হাজির করছিল ডেসটিনি, হলমার্ক, কুইকরেন্টালের লক্ষকোটি টাকা চুরির বর্ণনা…

    শাহবাগ তুমি কি প্রিয় না হয়ে পার?
    তোমার বিকট চিৎকারে হারিয়ে গিয়েছে শেয়ারবাজারের ৩৩লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর কান্নার গুমোট আওয়াজ…
    শাহবাগ তুমি এনে দিয়েছ মোরে সেই সুযোগ
    মুছে দিতে বিচার নামের নাটক ফাঁসের স্কাইপে সংলাপের কড়া ঝাঁঝ…

    শাহবাগ তুমি এতই মহান
    তোমার ধাক্কায় আজ মিডিয়া হয়েছে অন্ধ, বুদ্ধিজীবিদের বিবেক হয়েছে বন্ধ…
    শাহবাগ তোমার কারণে কেউ আর বলার সুযোগ পায় না
    ধর্ষনলীগের অপকর্ম…

    শাহবাগ তোমাকে খাওয়াচ্ছি মিষ্টি পানি, দিচ্ছি দামী খাবার
    তোমার কারণে সুযোগ এসেছে কামিয়াব করতে ফ্যাসিবাদ ও নব্য বাকশাল…

    শাহবাগ তুমি আমার খুবই প্রিয়, তুমি দীর্ঘজীবি হও
    সাজিয়ে দিয়েছি তোমাকে, তোমার কারণে পুরো দেশ উত্তাল…
    তোমাকে সামনে রেখে উলটপালট করে দিবো সবকিছু
    করে তুলবো সবাইকে মাতাল, সার্বভৌমত্ব হবে টালমাটাল…

    #শাহবাগ নাটকের উপর ওই সময়ের একটি কবিতা!

    জবাব
    • Shahabuddin.

      বাঙ্গালী বনাম বাংলাদেশী।
      বৃটেনের বৃটিশ পাসপোর্টধারী বিদেশী নাগরিকরা যেমন জাতিতে ইংরেজ নয়,তারা বিদেশী বৃটিশ অভিবাসী। তেমনি যারা নিজেদের বাংলাদেশী (Bangladeshi) বলে দাবী করে তারা বাঙ্গালী নয়। তারা বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী পরগাছা বিদেশী অভিবাসী। বাংলাদেশের থার্ড ক্লাস সিটিজেন। আর শাহবাগতো বাঙ্গালীর নবজাগরনের তীর্থ স্হান।

      ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৬

      জবাব
  9. আব্দুল আওয়াল

    মহান মুক্তিযোদ্ধাদের চেতনা পাকিস্তান বিদ্বেষ ছিলোনা , বরং মাযলুম ( নির্যাতিতদের ) পক্ষে জুলুম বাজদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং এদেশের মানুষকে অত্যাচার থেকে মুক্ত করে স্বাধীন এবং শান্তিপূর্ণ জীবন প্রতিষ্ঠিত করাই ছিলো মুক্তিযুদ্ধের মহান চেতনা , তো হালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত তথাকথিত তরুণ প্রজন্মের চেতনা কেবল পাকিস্তান বিদ্বেষ কেন ? ১৯৭১ পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত ভারত আমাদের উপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালিয়েছে , এবং বর্তমানে পানি আগ্রাসন সহ সীমান্ত অত্যাচারের যে , চিত্র সেটা পাকিস্তানকেও হার মানিয়েছে ! তো তরুণ প্রজন্ম ইন্ডিয়ার ব্যাপারে একেবারে নিশ্চুপ কেন ? স্বাধীন বাংলার মেয়ে ফেলানীর নির্মম হত্যাকাণ্ডে যখন সারা বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি হলো , আমাদের তথাকথিত তরুণ প্রজন্ম কেন সেদিন শাহবাগে সামান্য মানববন্ধন টুকু করলো না ?
    প্রশ্ন জাগে এইতথাকথিত তরুণ প্রজন্মের হোতা আসলে কারা ??

    জবাব
  10. সৈয়দ আলি

    আমি এই তরুনের নিষ্ঠার সাথে ক্রমাগতঃ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে লিখে যাওয়াকে অভিনন্দন জানাই। ক্রমাগত লিখে যাওয়ার একটিই সমস্যা। তা হলো কখনো কখনো যুক্তির গাঁথুনি দুর্বল হয়ে পড়ে। যেমন এখানে লেখক পরিষ্কার লিখেছেন, ‘আমাদের জাতীয়তাবাদ হওয়া উচিৎ বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’। যা কিনা বর্তমান মুক্তিযুদ্ধে এককত্বের দাবীদার ক্ষমতাসীন সরকারের অবস্থানের বিপরীত। লেখক কি তার অবস্থানে স্থির থাকবেন?
    যদিও লেখক বলছেন, আমাদের জাতীয়তাবাদ হওয়া উচিৎ বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। একই সাথে এটিও স্থির করছেন, ‘তারপর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ছদ্মনামে কৃত্রিম বাঙালি মুসলিম জাতীয়তাবাদ চালু করেন আর দেশে রাজাকারদের পুর্নবাসন শুরু করেন ‘। শেষাংশ নিয়ে আমার দ্বিমত নেই, কিন্তু জিয়াউর রহমানের চালু করা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ দুই নম্বরী আর লেখকের প্রস্তাবিত বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ একনম্বর, ভেজাল প্রমানে পুরস্কার – এই বিচার কাজটি করবেন কে?
    লেখক শ্রম স্বীকার করে বাংলাদেশের শিক্ষানীতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করে আমাদের আলোকিত করেছেন, তাঁকে ধন্যবাদ। এর পরে কথা থাকে, কবীর চৌধুরীর মতো কালজয়ী বুদ্ধিজীবি বা ড. জাফর ইকবালের মতো কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য থাকার পরে কী করে সরকারের আমলারা কমিশনের চমৎকার প্রস্তাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বাদ দিতে পারলো? আমলারা তো রাজনৈতিক সরকারের অধীন। তাই না? তাহলে কি সরকারই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে আমলাদের উদ্যোগকে অনুমোদন দিয়েছিলো? এটি তাহলে কোন সরকার? আমাদের স্মৃতিশক্তি দুর্বল, তবুও আবছা মনে পড়ছে যে কওমী মাদ্রাসা এবং সরকারী নেতাদের ভাষায় পাকিস্তানের এজেন্ট বিএনপি সরকারের বিরূদ্ধে বিভিন্ন হুমকি দিয়েছিলো। সরকার সে কারনে শিক্ষানীতির গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি বাদ দিতে রাজী হয় নি তো?
    লেখাটি পড়ে লেখক যে প্রকারে শাহবাগের গনসমাবেশকে বাংলাদেশে খন্ডিত মূলনীতির (লেখক নিজেই গনতন্ত্র থাকলে আর ধর্মনিরপেক্ষতা আলাদা করে উল্লেখ করা প্রয়োজনীয় নয় বলে ইঙ্গিত করেছেন) পতাকাবাহী প্রমান করছেন, তার সে যুক্তি প্রয়োগ খানিকটা কষ্টকল্প বলে মনে হচ্ছে। পরবর্তীতে লেখক যখন শিক্ষানীতি নিয়ে একটি চমৎকার একাডেমিক আলোচনা করেছেন, সেখানে শিক্ষানীতি নিয়ে শাহবাগের গনসমাবেশের ভূমিকাটি আর উল্লেখ করেন নি। শাহবাগের গনজমায়েত কি শিক্ষানীতির বিকলাঙ্গতা সম্পর্কে অসচেতন? যদি তা না হয়, তাহলে শিক্ষানীতি নিয়ে গনজাগরণ মঞ্চের ভুমিকা কি? আবার যদি বলার মতো ভূমিকা না থাকে তাহলে নিব্ন্ধটির শিরোনাম কি কারনে ‘মুক্তিযুদ্ধ ও শাহবাগের আলোয় আমাদের শিক্ষানীতি ‘ দেয়া হয়েছে?
    আমি আবারো লেখকের উদ্যোগের প্রশংসা করছি এবং আশা করছি ভবিষ্যৎে তিনি যেন যুক্তির দেয়ালটি শক্ত হয় সে প্রচেষ্টা রাখবেন। ধন্যবাদ।

    জবাব
  11. Bangladeshi

    প্রজন্ম মঞ্চ, জাগরণ মঞ্চ, গণজাগরণ মঞ্চ নানা রকম নাম। সরকারী পৃষ্টপোষকতায়, জনগণের টাকায় সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে কথিত নূতন প্রজন্মের এক সমাবেশ। দাবি একটিই। কিছু লোকের ফাঁসি। অপরাধ? তারা ৪০/৪৫বছর আগে অপ্রমাণিত তথাকথিত কিছু অপরাধ করেছিল এবং এরপর থেকে তাদের বিরুদ্ধে আর কোন অপরাধের অভিযোগ নেই। এর মাধ্যমে নাকি দেশ অনেক এগিয়ে যাবে।

    সেই সমাবেশ আয়োজনকারী ও অংশগ্রহণকারীরা নাকি জাতীয় বীর ও সৈনিক। তারা জাতিকে পথ দেখাচ্ছে। ওদের চেতনায় জাতিকে সমৃদ্ধ হতে হবে। এটা নাকি আলোর পথ!

    কি তাদের চেতনা? বৈধ বা অবৈধ, আইনী বা বেআইনী যে কোন পথেই তাদের সিলেক্টেড কিছু মানুষকে হত্যা করতে হবে এবং এর নাম দেয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। এই চেতনাতেই সমৃদ্ধ হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী থেকে নিয়ে সকল মন্ত্রী, বুদ্ধিজীবি সবাই আহবান জানিয়েছিল ওই সময়। এই চেতনাতেই সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়ে উঠবে!

    যে কথিত নূতন প্রজন্ম আজ কিছু মানুষকে হত্যা করার চেতনায় উজ্জীবিত সেই প্রজন্ম নিদারুণ কিছু বৈপরিত্যের দোষে দোষী। যেমন? তথাকথিত স্বাধীনতার চেতনায় সমৃদ্ধ এই প্রজন্ম সীমান্তে ভারতীয় হত্যাকান্ড নিয়ে কথা বলে না, নদী আগ্রাসন নিয়ে কথা বলে না, ভারতের গাড়ি যাতায়াতের জন্য বাংলাদেশের নদী হত্যা নিয়ে কখনোই মুখ খুলে না! মোটা দাগে এসবের কথা বললাম। শুধু এসব কেন ভারতের কোন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কি এই প্রজন্ম কথা বলেছে? কখনোই বলেনি!

    ভারতে একটি ধর্ষনের ঘটনায় পুরো ভারত তোলপাড় হয়ে গিয়েছিল। কোটি জনতা ঝাপিয়ে পড়েছিল আন্দোলনে। সেই ঘটনার পরপর একই ধরনের কয়েকটি ঘটনা সহ আরও অনেক ঘটনা খোদ ঢাকা শহরে ঘটেছিল। শাহবাগের এই প্রজন্ম কি কোথাও একটি মানববন্ধনও করেছিল? করেনি। কেন করেনি, তার উত্তর তারা দিতে পারবে। কিন্তু ওই সব ঘটনায় তাদের নিরবতা প্রমাণ করেছিল ধর্ষন তাদের দৃষ্টিতে মানবতার পক্ষের কাজ!

    প্রায় ২০কোটি মানুষের এই দেশে, অর্ধেক মানুষই দারিদ্রতার নিচে বসবাস করে। লক্ষ লক্ষ শিশু যখন তীব্র শীতের যন্ত্রনায় কাতর, কুকুরের সাথে কাড়াকাড়ি করেই খাদ্য যোগাড় যাদের নিত্যদিনের কাজ, নদীর পাড়ে বালির ভিতর যখন শিশুরা আশ্রয়হীন, অন্নহীন অবস্থায় জীবন যাপন করে, তাদের জন্য কি এই প্রজন্মের মনে কোন স্নেহ জেগে উঠেছিল? কখনও কি তারা ওদের মুখে অন্ন যোগাড়ে একটি মানববন্ধনও করেছিল? করেনি!

    পথে-ঘাটে-মাঠে অর্ধাহারে-অনাহারে থাকা শিশুগুলোর চোখে স্বপ্ন না দুঃস্বপ্ন, কে জানে! তবে নদীর তীরে, রাস্তার পাশে, পার্কে অসহায় ভাবে ঘুমিয়ে থাকা শিশুগুলোর মুখ আমাদের স্বপ্ন দেখায় না, নিয়ে যায় দুঃস্বপ্নের জগতে। মনে করিয়ে দেয় হাজার হাজার শিশুর কথা, যারা অনিরাপদ ও অসহায়ভাবে কাটায় তাদের শৈশব। আচ্ছা শাহবাগ প্রজন্ম কি এদের কথা কখনো ভেবেছিল?!

    যত্রতত্র বেওয়ারিশ লাশের মিছিলের পাশে গিয়ে শাহবাগ প্রজন্ম কি একটু বুঝার চেষ্ঠা করেছিল কে ওখানে এভাবে পড়ে আছে? কখনও কি তারা একটি মিছিল করেছিল বেওয়ারিশ লাশের মিছিল বন্ধে? করেনি? কেন করেনি? কারণ কি তারা ওই বেওয়ারিশ লাশের মিছিলের পক্ষে? এই মানসিকতা মানবিকতার পক্ষে?

    উদাহরণ আরও দিতে হবে? অনেক অনেক দেয়া যায়। এই প্রজন্ম কখনোই দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দারিদ্রতা, ধর্ষন, লুটপাট, এসিড নিক্ষেপ সহ কোটি কোটি অনাচারের বিরুদ্ধে কখনোই জেগে উঠে না। তাদের বিবেক কথা বলে না। বলবেও না। আসলে ওরা কখনোই মানবতার পক্ষে নয়। মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তারা অন্ধ, বধির, বোবা। নষ্ট পথই তাদের পছন্দ। সেই নষ্টদেরই সমাবেশ ঘটেছিল শাহবাগে। ওরা যে পথে দেশকে নিয়ে যেতে চাচ্ছে তা ধ্বংসের পথ। নষ্টদের আস্ফালনের নামই হলো তথাকথিত গণজাগরণমঞ্চ!

    জবাব
    • সৈয়দ আলি

      দেখুন নামটি বাংলাদেশী নিলেও আপনি যে কোন দিকে নৌকার গতিপথ বদলাতে চাইছেন, তা পরিষ্কার। দুঃখিত, আপনার প্রচেষ্ঠা যাতে কোন প্রকারেই সফল না হয় তার জন্য আমরা যা করার সব কিছু করবো। দ্বিতীয়তঃ, আমরা আমাদের কর্মকান্ডের মূল্যায়ন করতে যেয়ে বিতর্ক চালাবো, বাদানুবাদ করবো, সেটি একান্তই আমাদের বিষয়। তার অর্থ এই নয় যে আমাদের সব অর্জনকে একজন সন্দেহজনক কেউ এসে এক ফুৎকারে উড়িয়ে দেবে।

      জবাব
      • সাঈদ, মুক্তিযোদ্ধা

        মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম বাংগালী হিসেবে। আর 75 এর পর অবাংগালী পাকিস্তান প্রেমিদেরকে বাংলার মাটিতে অধিকার দেয়ার জন্য এই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ অবৈধভাবে জন্ম দেয়া হয়।

    • আবুল হোসেন

      জনাব Bangladeshi, আমার কাছে কিন্তু আপনার কথাগুলোকেই আস্ফালন মনে হচ্ছে। আপনি ইনিয়ে বিনিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চান। সফল হবেন না। কারণ খুন-ধর্ষনের অপরাধ দুনিয়া-আখেরাত কোথাও মাফ হবেনা। অনেক ধরনের ঘটে যাওয়া বা খুব খারাপ ঘটনার কোনটাতে জোড়ালো আবার কোনটাতে কম প্রতিবাদ কেন এটার পেছনে কারণ অনুসন্ধান করে দেখতে পারেন।

      আর কম-বেশী প্রতিবাদের জন্য আপনি গণজাগরণসহ এ ধরনের সব আন্দোলনকে দায়ী করছেন।

      কেন?
      সব কিছু নিয়ে আন্দোলন না করলে তার কি কথা বলার অধিকার থাকবেনা ?
      এ ধরনের অভিযোগ সবার ব্যাপারেই বলা যায়। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিসহ সব দলকেই দায়ী করা যায়। কোন দল জনদূর্ভোগ নিয়ে সোচ্চার, মানুষের দুঃখ কষ্টে কে এগিয়ে আসছে? দেখুন , খোজ নিন।
      নতুন প্রজন্ম একটা ভাল কিছু নিয়ে এগিয়ে আসলে তাঁকে সহায়তা দিন।

      একসাথে সব কিছু নিয়ে পৃথিবীর কেউ সংগ্রাম করেছে শুনেছেন কি?
      বরং ছোট-বড় যে আকারের আন্দোলন-দাবী দাওয়া হোক না কেন, যুক্তিসংগত হলে দোষ কি?
      আর সরকারই তো গণজাগরণের মঞ্চ ভেঙ্গে দিয়ে ব্লগারদের গ্রেফতার করে মামলা দেয়। সরকার সমর্থন দিল কোথায়? বিএনপিসহ সব দলের মিটিঙে পুলিশ প্রহরা দেয় নিরাপত্তা দেয়। এটা দেয় আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে। মিডিয়াও কভারেজ দেয়।আপনি যে চোখেই দেখেন না কেন! সরকার বা অন্যরা সবাই যার যার স্বার্থ দেখবে এটা খুবই স্বাভাবিক। আজ পর্যন্ত যত আন্দোলন পৃথিবীতে হয়েছে সরকার-পুলিশ-ধনিক-বনিকের রক্তচক্ষু মোকাবেলা করেই। যারা আন্দোলন গড়তে পারেনা তারাই অন্যের বিরুদ্ধে কুৎসা ছড়ায়।

      জবাব
      • Bangladeshi

        মি. হোসেন,
        যতদিন আওয়ামী সরকারের সহযোগীতা ছিল, বিরিয়ানী ছিল, জনগণের টাকা দিয়ে ভাড়া করা কার-মাইক্রো সহ আগে পিছে পুলিশ ছিল ততদিন কথিত গণজাগরণ মঞ্চের নাটনও লাইভ ছিল। বর্তমানে ওসব বন্ধ তাই এখন শুধু বিবৃতি নির্ভর মঞ্চে পরিণত হয়েছে। সরকারী প্রযোজনায় করেছে নাটক কিন্তু নাম দিয়েছে গণজাগরণ! ওসবকে আন্দোলন বললে পৃথিবীর আন্দোলনের ডেফিনেশন নতুন ভাবে লিখতে হবে। এখন দেখি সাহস থাকলে, পারলে মাত্র কয়েকদিন ওভাবে শাহবাগের মোড় বন্ধ করে তথাকথিত আন্দোলনের ডাক দিতে বলুন তো! কয়জন আসে, কয়ঘন্টা থাকতে পারে!

        আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী শুধু আইনানুগ ব্যবহার করুক যাদের বিরুদ্ধে সেই কথিত আন্দোলন শাহবাগীরা করছে, তারা শাহবাগীদের চেয়ে লক্ষগুণ বড় সমাবেশ সরকারের বিরিয়ানী ছাড়াই মাসের পর মাস করতে পারবে। শাহবাগীরা কোন আন্দোলন বা সংগ্রাম করেনি জনগণের দৃষ্টিকে অন্যদিকে ফিরানোর জন্য ওসব ছিল আওয়ামী লীগের প্রযোজনায় নাটক। নাটকের প্রয়োজনীয়তা শেষ তাই বিরিয়ানী সাপ্লাইও শেষ, শাহবাগীদের তথাকথিত আন্দোলনও শেষ! তাই ওসবকে আন্দোলন বলে যুগে যুগে চলা আমাদের দেশ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের আন্দোলনকে অপমান করবেন না।

        শাহবাগীরা মনে করে জনগণ কিছু বুঝে না, কিন্তু জনগণ যে সব বুঝে তা আবার শাহবাগীরা বুঝতে পারে না!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—