Feature Img

farida_akhter-21111121211নারী নির্যাতন বাড়ছে বা এর ধরন পরিবর্তিত হয়ে ভিন্নভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে কি না তা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে, কিন্তু নারী নির্যাতন যে উল্লেখযোগ্যভাবে ঘটছে এই বিষয় নিয়ে কোন প্রশ্ন কেউ করবে না। সম্প্রতি নারী নির্যাতনের নানা ধরনের ঘটনা ঘটছে, কিন্তু সব ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ শোনা বা দেখা যাচ্ছে না। কিছু ঘটনার প্রতিবাদ হলেও তা এক সময় আবার থেমে যাচ্ছে। পত্র-পত্রিকার দৃষ্টিও অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত যে নির্যাতিত তার বেদনা-কষ্ট-গ্লানি সব একাই বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। আর নারী নির্যাতন যে কারণে হচ্ছে, তা উৎপাটনের কোন চেষ্টাই কেউ করছে না।

তবে একটি বিষয় আমি লক্ষ্য করেছি, তা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়ন এবং দারিদ্র নিরসনের অনেক দাবী করলেও এই কথা বলেন না যে নারী নির্যাতন কমেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নেই, কিংবা আইন শৃংখলা সমস্যা নেই বললেও এই কথা দাবী করেন না যে নারী নির্যাতন নেই। এই সততার জন্য ধন্যবাদ জানাই। থাঙ্ক ইউ। অবশ্য বলারও কোন উপায় নেই, কারণ তা হবে বালির মধ্যে উট পাখির মাথা গুঁজে রাখার মতোই ব্যাপার। অন্ধ হলে প্রলয় বন্ধ থাকে না, সেটাও আমরা জানি। কাজেই দেশের যতোই ‘অগ্রগতি’ হোক, এক জায়গায় এসে আমরা থমকে গেছি, সেটা হচ্ছে নারী নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না, বরং নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে।

একই সাথে এটাও বলতে চাই, নারী আন্দোলনের কাজের ধরনও বদলে গেছে। কোন একটি ঘটনা ঘটার পর নারী সংগঠন একত্রিত দল-মত নির্বিশেষে নারী হিসেবে প্রতিবাদে ঝাঁপিয়ে পড়ছে না। নির্যাতিত এবং নির্যাতনকারীর রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয় জেনে তবে এগিয়ে আসছে। এতে আন্দোলনের গতি দুর্বল ও পক্ষপাতদুষ্ট হচ্ছে। নারী আন্দোলন হচ্ছে বিভক্ত। কাজেই নির্যাতনের বিরুদ্ধে যারা সোচ্চার হলে সমাজে মানুষ সচেতন হয়, তাদের নিস্ক্রিয়তা নারী নির্যাতন বন্ধ হবার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। একটি স্বাধীন ও নির্দলীয় নারী আন্দোলনের বড়ই প্রয়োজন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আছে বলে অন্তত লিমন-কাদেরদের কিছুটা হলেও রক্ষা করা যায়? শুনেছি জাতীয় নারী উন্নয়ন কমিশন গঠিত হয়েছে, কিন্তু তাদের কোন চেহারা আমরা আজও দেখি নি। জাতীয় মহিলা সংস্থা এবং মহিলা অধিদপ্তরে নারী নির্যাতন বিরোধী সেল গঠিত হয়ে আছে। তাঁদের কাজ কী?

সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনা যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রুমানা মঞ্জুর, ভিকারুন্নেসা নূন স্কুলের ছাত্রী নির্যাতন, বদরগঞ্জের দোররা মারার ঘটনার কথা আমরা জেনেছি, প্রতিবাদ করেছি। অবশ্য সমাধান কিছু হয়েছে এমন দাবী করা যাবে না। এরপর একই ধরনের ঘটনা ঘটেই চলেছে।

পাঠকের জন্য আমি পত্রিকা থেকে অল্প কিছু ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরছি। নারী নির্যাতনের খবর প্রায়ই পত্রিকার ভেতরের পাতায় থাকে। সেই কারণে ভেতরের পাতা আমাদের নিয়মিত পড়তে হয়। না ভুল বলেছি, আপনা থেকেই সেখানে চোখ চলে যায়। দাগ দিয়ে কেটে রাখতে হয়। গত ২ আগস্ট, প্রথম আলোর (৪ নং পৃষ্ঠা) বিশাল বাংলার তিন ভাগের এক ভাগ বিজ্ঞাপন, আর বাকী নয়টি খবরের মধ্যে তিনটি খবরই নারী নির্যাতনের। একটি রূপগঞ্জের ঘটনা, ‘স্বামী স্ত্রীকে পিটিয়ে ও শ্বাস রোধ করে হত্যা করেছে’। অপর খবরটি হচ্ছে গজারিয়ার। ‘স্বামী ব্যবসার জন্য এক লাখ টাকা এনে দিতে বলে স্ত্রী ও তিন মেয়েকে বাপের বাড়ীতে পাঠিয়ে দেন। পরে সালিশে সমঝোতা করে স্ত্রীকে আবার স্বামীর বাড়ি পাঠালে স্বামী তাকে আবার পিটিয়ে আহত করে বাপের বাড়ী পাঠায়। এবং আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়’। এখানে প্রশ্ন হচ্ছে, স্বামী টাকার জন্য নির্যাতন করছে, অথচ সালিশ করে কোন প্রকার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে সেই স্বামীর কাছে পুনরায় পাঠাতে গিয়েই কি এই নারীর মৃত্যু ঘটেনি? এখানে মেয়েদের পরিবারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তাঁরা মেয়েটিকে শ্বশুর-বাড়ী পাঠাতেই ব্যস্ত বেশি!

দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার ৪ আগস্টের (৫ নং পৃষ্ঠা) অন্যান্য খবরের পাতায় ৮টি শিরোনাম রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি খবর নারী নির্যাতনের। একটি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ‘ধর্ষিত ১২ বছর বয়সী আদিবাসী কিশোরী ধর্ষণের অপমান সইতে না পেরে বিষপান করে আত্মহত্যার’ খবর (মৃত মেয়েটির ছবিও ছাপা হয়েছে, তাতে তার কষ্টের ছাপ পরিস্কারভাবে ফুটে উঠেছে)। দ্বিতীয়টি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ‘স্বামীর নির্যাতনে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর মৃত্যু ঘটনা। গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য স্বামীর কথায় রাজী না হওয়ায় মেয়েটির ওপর নির্যাতন করা হয়। এবং গর্ভপাতের খরচের জন্য মোবাইল ফোনটিও স্বামী বিক্রি করে দেয়। স্ত্রী মোবাইল ফোনটি ফেরত চাইলে স্বামী তাকে তল পেটে লাথি মারে এবং আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু ঘটে’। তৃতীয় খবরটি হচ্ছে কুয়াকাটার কলাপাড়ায় ‘ছোট বোনের সাথে প্রেম করতে ব্যর্থ হয়ে বড় বোনের ছবি কম্প্যুটারে বিকৃত করে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে বড় বোন আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়’। মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর দিক নিয়ে নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার কথা শোনা যায়, কিন্তু মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নারী নির্যাতনের বিষয়টিও প্রকাশ পাচ্ছে। সরাসরি ঘটনা বর্ণনায় মোবাইল ফোনের ব্যবহার নারী নির্যাতনের নতুন মাত্রার প্রমাণ বটে। একদিকে সালিশে দোররার মতো একেবারে পশ্চাপদ ঘটনা অন্যদিকে নতুন প্রযুক্তি দিয়ে নির্যাতন! ইন্টারনেটে পর্ণো ছবি ও তথ্য যুব বয়সের পুরুষদের বিপথগামী করছে, যার শিকার নারীই হচ্ছে। প্রযুক্তি দিয়ে এগিয়ে যাবার পরিবর্তে  পিছিয়ে যাচ্ছি না কি?

আর একটি খবর: রাঙ্গামটি থেকে ‘এক কিশোরী ভাইয়ের কাছে বেড়াতে যাওয়ার জন্য খাগড়াছড়িতে এসে শহরের জিরো-মাইল এলাকায় বাসের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় তিন বখাটে যুবক তাকে জোর করে পাশের জংগলে নিয়ে রাতভর পাশবিক নির্যাতন করে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ উদ্ধার করে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়। তিন বখাটে আটক হয়েছে’। (কালের কন্ঠ, ৫ জুলাই, ২০১১)। প্রশ্ন হচ্ছে, বাস স্টান্ডে কি মেয়েটি একাই ছিল? বাসের অপেক্ষমান একটি মেয়েকে নিয়ে যাবার পর পুলিশ জানলো না কেন বা কিছু করলো না কেন?

সমকাল (২৩ জুলাই, ২০১১) পত্রিকায় একটি ছোট খবর পৃষ্ঠা ৮-এ। বরগুনার ‘কিশোরী জেনী মাদ্রাসায় যাবার পথে ধর্ষণের শিকার হয়ে অকালে মৃত্যু বরণ করেছে। তার বাড়ীতে এখন মাতম চলছে। ধর্ষক জিসান হায়দার তাপু এখনো গ্রেফতার হয় নি’।

এমনি ধরনের আরো অনেক খবর প্রতিদিন পত্রিকার আসছে। নারী বিয়ের আগে ও পরে, ঘরে-বাইরে সবখানে নির্যাতিত। এতে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের এক নোংরা চিত্র ফুটে উঠছে। আমরা দেখছি, শুনছি এবং পড়ছি। আমার আশংকা হচ্ছে, এই সব খবর গা-সওয়া হয়ে যাচ্ছে হয়তো। আগে পত্রিকার পাতায় এই ধরনের খবর দেখলেই পাঠক আতঁকে উঠতো, এখন টেলিভিশনের পর্দায় দেখানো না হলে সে খবরের মর্যাদা থাকে না। তাই পত্রিকার ভেতরের পাতার খবর, কোন খবরই নয়। পত্রিকার ক্ষেত্রেও দেখা গেছে কোন জেলায় ঘটনাটি ঘটলো তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পত্রিকার কোন পাতায় খবরটি পরিবেশিত হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে শরিয়তপুরের ফতোয়ার শিকার হেনার ঘটনা একটি দৈনিকের প্রথম পাতায় ছাপার কারণে সব নারী সংগঠন ছুটে গিয়েছিল, সরকারও তৎপর হয়েছিল। অন্যদিকে, খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রুমানা এবং ভিখারুন্ননেসা নূন স্কুলের ছাত্রী নির্যাতনের খবর পরিবার গোপন রেখেছিল বলে প্রথমে কেউ জানতে পারে নি। পরে পত্রিকায় প্রথম পাতায় খবরটি প্রকাশ পাবার পর সকলে জানতে পেরেছে। তার অর্থ এই যে আমি যতোই পত্রিকার পাতা ঘেটেঁ নারী নির্যাতনের খবর একত্র করি না কেন এর কোন মূল্য নেই, কারণ এ সবই ভেতরের পাতার খবর। মধ্য রাতের টেলিভিশন চ্যানেলের কিংবা সকাল বেলা বিবিসির পত্রিকা-পর্যালোচনায় এর কোন স্থান নেই। আমাদের বুদ্ধিজীবীরা ভেতরের পাতা পড়েন না।

বর্তমানে নারী নির্যাতন দমনের যে আইন আছে তা যথেষ্ট কঠোর কিন্তু নারী নির্যাতনের সব ধরণ থেকে নারীকে রক্ষা করা বা নির্যাতিত নারীকে ন্যায় বিচার পেতে খুব সাহায্য করে না। নির্যাতিত নারীকে আইনের কাঠামোতে নিজের ঘটনা সাজাতে হয়, এবং সেটা করতে গিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়। আমরা এটাও বুঝি আইন দিয়ে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কিংবা দমন করা সম্ভব নয়। দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় (২০ জুন, ২০১১) সুপ্র ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের বরাতে বলা হয়েছে দেশে ১৫% হারে নারী নির্যাতন বাড়ছে, প্রতিদিন গড়ে ২৫ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এই চিত্র ভয়াবহ এবং প্রচণ্ডভাবে রাষ্ট্রের ব্যর্থতার পরিচয় বহন করে। আমি জানি না, এমন পরিস্থিতে মহিলা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী, আইন মন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারণী কর্মকর্তারা কেমন করে নিস্ক্রিয় থাকেন! দেশের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে যারা উদ্বিগ্ন তাদের বোঝার জন্য নারী নির্যাতনের ক্রমবর্ধমান ঘটনাগুলো একটি বড় মাপকাঠি হতে পারে।

নারী নির্যাতনকে কেবল আইনের ভাষায় বুঝলে হবে না। এটা জনস্বাস্থের জন্যও বিরাট হুমকি। প্রথম আলো (২ জুন, ২০১১) শেখ সাবিহা আলমের একটি প্রতিবেদনে বিষয়টি ফুটে উঠেছে। এই প্রতিবেদনে লন্ডনভিত্তিক চিকিৎসা বিজ্ঞান সাময়িকী ল্যান্সেট-এর একটি প্রবন্ধের বরাতে বলা হয় নির্যাতনের শিকার নারীরা হৃদরোগ, আন্ত্রিক ও যৌন রোগ, মাথা ও মেরুদন্ডে ব্যথা, গর্ভধারণে জটিলতা, গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যু, চরম বিষন্নতাসহ ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো রোগেও ভোগেন। বাংলাদেশে নির্যাতিত নারীদের আইনী সহায়তা দেন এমন সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির মতে নারীরা মাথা, মুখ, ঘাড়, বুক এবং তলপেটে আঘাত নিয়ে তাদের কাছে আসেন। তাদের মধ্যে প্রচণ্ড ভীতি ও হতাশা দেখা যায়। অথচ জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি কিংবা স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে এর কোনই প্রতিফলন নেই।

কাজেই নারী নির্যাতন শুধু কিছু ব্যক্তি পর্যায়ের সমস্যা কিংবা তাদের শাস্তির প্রশ্ন নয়। এর সাথে পুরো সমাজটাই জড়িয়ে আছে, সমাধানও রয়েছে সেখানে। আমরা এখনও যেন ঘটনার অপেক্ষায় থাকি, ঘটলে প্রতিক্রিয়ামূলক কিছু কথা বলি, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করি। ব্যাস। অথচ গলদটা আসলে কোথায় তার কোন ব্যাখ্যা নেই।

আজ পর্যন্ত কোন একটি কেবিনেট বৈঠকে নারী নির্যাতন প্রতিরোধের আন্ত-মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কি? আমি শুনি নি। দেশের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি উন্নত করতে পারলে এবং ঘরে বাইরে নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে হয়তো নারী কিছুটা হলেও নিশ্চয়তা পেতে পারে। তবে নারীকে হতে হবে নিজেই শক্তিশালী। নিজের আত্মবিশ্বাস ও শক্তিই তার জন্য সবচেয়ে বড় বন্ধু।

নারী আন্দোলনকে আরও সোচ্চার হতে হবে, হতে হবে স্বাধীন এবং নির্দলীয় চরিত্রের।

ফরিদা আখতার: নারীনেত্রী ও কলামলেখক।

১৫ প্রতিক্রিয়া -- “নারী নির্যাতন বাড়ছে: গলদটা কোথায়”

  1. azam

    নারী নির্যাতন বাড়ছে এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এর ভিতরকার কারনগুলো কী তা খুঁজে বের করা দরকার। রুমানা মনজুরের ঘটনা আমরা পত্রিকায় দেখেছি । ধিক্কারও জানিয়েছি। কিন্তু আমরা কি ভিতর থেকে ঘটনাটির কারণ বিশ্লেষন করেছি? তবে ঘটনা দেখে মনে হয় তার স্বামীর মানসিক বিকৃতি ঘটেছিল। না হলে কি এমন পাশবিক কেউ হতে পারে? কিন্তু কেন সে এতো পাশবিক হলো? এর মনস্তাত্বিক কারনগুলো কী? কী কী কারণে তাদের সংসারে অশান্তি নেমে এসেছিল? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পাওয়া এখন সময়ের দাবি। অন্তত নারী-পুরুষের সম্পর্কের মধুর দিকটা যে নষ্ট হচ্ছে তার মনস্তাত্বিক সমাধানের স্বার্থেই এটা দরকার। আমার মনে হয় নারী-পুরুষের সম্পর্ক আজ এক মানসিক নৈরাজ্যের দিকে যাচ্ছে। কথায় কথায় ভেঙ্গে যাচ্ছে প্রেম-সংসার । এরকম যদি চলতে থাকে তাহলে খুব শিগগিরই আমরা এক সামাজিক নৈরাজ্যের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি- এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি।

    জবাব
  2. Shapla

    ধন্যবাদ সময়োপয়োগী লেখার জন্য “এখানে মেয়েদের পরিবারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তাঁরা মেয়েটিকে শ্বশুর-বাড়ী পাঠাতেই ব্যস্ত বেশি”। পরিবারের মানসিকতার পরিবর্তন না হলে নারী নির্যাতন কমবে না।

    জবাব
  3. Al Jahan

    বর্তমানে বাংলাদেশে নারী আন্দোলন বলুন আর মানবাধিকার সংগঠন কিংবা নেতা নেত্রী বলুন সবাই দলীয় ভাবাদর্শের কাছে বন্দী । কোন দলের লোক নারী নির্যাতনে জড়িত, কিংবা গঠিত নারী নির্যাতনের প্রতিবাদ করলে কি পছন্দের সরকারের কোন ক্ষতি হবে– এইসব ভেবেই যেন সবাই আন্দোলন করা কিংবা না করার সিদ্ধান্ত নেন । আমরা দেখি বিএনপি সরকারের সময় কিছু মানবাধিকার কর্মী সক্রিয় থাকলেও আওয়ামীলীগের সময় তারা চুপ মেরে থাকেন, একই অবস্থা বিএনপিপন্থীদের বেলায়ও দেখা যায় ।

    জবাব
  4. Bibek

    তথাকথিত নারী আন্দোলনের নামে নারীকে পূরুষের মুখামুখি করা হয়েছে। গাছপালা কেটে ফেললে যেমন প্রকৃতি প্রতিশোধ নেয়। সেইরূপ প্রকৃতি প্রদত্ত পরিবারের লিডারশীপ পূরুষদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার প্রতিশোধ হিসাবে নারী নির্যাতনের হার বেড়ে গেছে।

    জবাব
  5. Rayhan

    ফরিদা আখতারকে ধন্যবাদ নারী নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরার জন্য । নারী নির্যাতন বৃদ্ধির জন্য রাষ্ট্রের আইন শৃংখলার অবনতি দায়ী, সমাজ দায়ী, দায়ী পুরুষতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ও পুরুষ । এক্ষেত্রে নারীরাও কম দায়ী নয়। যৌতুক গ্রহন ও বাল্যবিবাহ প্রদানের ক্ষেত্রে অনেক নারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন । মহিলা অধিদপ্তরের নারী নির্যাতন বিরোধী সেলকে কার্যকরী করলেই নারী নির্যাতন কম হবে না । চাই নারী পুরুষের মানসিকতার পরিবর্তন, শিক্ষা, নারীর সম্পদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, আইন শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও আইনের সঠিক প্রয়োগ ।

    জবাব
  6. Mohammad Mohiuddinm

    লেখাটি অত্যন্ত সময়োপয়োগী। আসলে সরকার,সকল রাজনৈতিক দল,আইনপ্রয়োগকারি সংস্থা, সচেতন নাগরিক এবং মিডিয়া সকলের যৌথ ও আন্তরিক প্রচেষ্টাই পারে এমন অভিশাপের হাত থেকে আমাদের বাঁচাতে। আসুন আমরা সকলেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে নারী নির্যাতন রোধে কিছু করি।

    জবাব
  7. Shamsul

    নারী নির্যাতনের মূল কারণ হচ্ছে ইসলাম না মানা অর্থাং পর্দা না মানা । আগুেনর উপর ঘি রেখে কখনও গলবে না এমন আশা করা যেমন বোকামি তেমন ইসলাম ছাড়া নারী নির্যাতন বন্ধ হবে এমন আশা করা বোকামি । নারী যতই নিজে শক্তিশালী বা নিজের আত্মবিশ্বাস ও শক্তি যতই বেশী হোক পর্দা ছাড়া নারী নির্যাতন বন্ধ হবে না । বিড়ালের সামনে মাছ রাথলে বিড়াল তাতে মুখ দেয়ার চেষ্টা করবেই ।

    জবাব
  8. মুহম্মদ জাহাঙ্গীর

    ভয়াবহ চিত্র। এক নম্ববর কারণ, দেশটি বিচারের আওতার মধ্যে নেই। তারপর,মানুষের মানবিক গুণ ও নৈতিকতার অবক্ষয়। অর্থনৈতিক কারণ তো আছেই। দেশ চালানোর দায়িত্বে যারা আছেন তাদের যোগ্যতা, নৈতিকতা ও কর্মে অবহেলা বিরাটভাবে দায়ী।
    ভাল প্রসঙ্গ – ভাল লেখা।

    জবাব
  9. Taskina Yeasmin

    প্রিয় ফরিদা আকতার, বেশ কয়েকটি দিক থেকে পরামর্শমূলক লেখা লেখার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আমাদের সরকার তো নারী ক্ষমতায়ন, নারী শিক্ষা ও মাতৃমৃত্যুরোধে পুরস্কার আনছে। এই সরকার আর কেন নারীর জন্য কিছু করবে বলুন। নারীর জন্য তো তাদের কিছু করার দরকার নেই।

    হ্যাঁ, আপনার জন্য একটা পথ খোলা আছে। আপনি চাইলে আপনার পাশে যে মেয়েটি আছে তাকে দিয়ে শুরু করতে পারেন। তাকে রক্ষা করুন। এরপর পাশের মেয়েটিকে তারপর তার পাশের মেয়েটিকে, তারপর অন্যকে এভাবে দেখবেন আপনার নিজের একটা নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে।

    রাষ্ট্র’র দিকে তাকিয়ে থেকে কেউ কোন দিন কিছু পায় নি, রাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে থেকে কিচ্ছু পাওয়া যায় না। এই দেখুন না, আমরা বাঙালিরা যদি পাকিস্তানি রাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে থাকতাম তবে কি আমরা স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ পেতাম! অবশ্যই না।

    এদেশের রাষ্ট্র নারীকে কিচ্ছু দেবে না। আর এই সরকার দেবার তো প্রশ্নই ওঠেনা। আপনি কেন মহিলা পরিষদের দিকে তাকিয়ে আছেন ভেবে হতাশ হচ্ছি। ওরা একটা অর্জন চেয়েছিল এদেশের মেয়েরা ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসুক ওরা সফল হয়েছে। আর কোন সাফল্য খূঁজছে কিনা আমি জানিনা।

    আপনি দীপু মনির কথাই ভাবুন। মহিলা পরিষদের একটা প্রোগ্রামে তিনি বলেছিলেন যে মহিলা পরিষদ প্রয়োজন অনুযায়ী তেমন কাজ করতে পারছে না। আর অমনি সবাই খুব ক্ষেপে যায়। আর সেই দীপু মনি ক্ষমতায় এসে কি বলছেন আমরা ধর্ম বিরোধী কোন আইন করবনা। আরে তোমাকে ধর্মবিরোধী কোন আইন করতে কে বলেছে। তুমি সংবিধান অনুযায়ী দেশ চালাও তুমি সংবিধানের আলোকে নারী-পুরুষের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠায় আইন তৈরি করবে । ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার।

    হায় রে এদেশের হতভাগ্য নারী সমাজ। এরা কার মুখের দিকে চাইবে।

    শুধু লিখে কিছু হবে না। আমাদের এখন দ্রুত একশনে যেতে হবে। আমার নিজেকে, নিজের পরিবারকে এবং এদেশের নারীদের রক্ষা করতে হবে। আসুন এ লড়াই আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে লড়ি।

    তাসকিনা ইয়াসমিন
    ০৬.০৮.২০১১

    জবাব
  10. ইতি

    নারীকে শক্তিশালী করে পুরুষের সাথে যুদ্ধে নামিয়ে দিলেই পুরুষরা ভয়ে নারী নির্যাতন বন্ধ করে দিবে?
    আমি মনে করি ‍”না”।

    যতদিন জিটিভি, ষ্টার প্লাস, সনি টিভির বিকৃত ধারার সিরিয়াল দেখা বন্ধ না হবে,
    যতদিন ইসলামী মুল্যবোধ চালু না হবে,
    যতদিন আর্থিক সচ্ছলতা না আসবে,
    ততদিন নারী নির্যাতনের পরিসংখানে ঋনাত্মক কোন পরিবর্তন আসবে না, তা নারী যতই শক্তিশালী হোক।

    জবাব
    • shahadat

      ইতি নাম দেখে মনে হচ্ছে আপনি একজন নারী, যদি তাই হয় আপনাকে সহস্র সালাম। আপনার মত আমাদের সকল মা বোনরা যদি চিন্তা করতে পারত তাহলে নারী নির্যাতন বলে কিছু থাকত না।
      আপনার সাথে আমি আরেকটু যোগ করতে চাই, সারা বিশ্বের মিডিয়াতে যখন নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থিত করা হয়, হলিউড, বলিউড, এমনকি বাংলা চলচ্চিত্রে শ্যুট কোট পরা নায়কের পাশে যখন বিকিনি পরা নায়িকাকে উপস্থাপন করা হয় তখন আমাদের সমাজের কথিত নারীনেত্রী, নারীবাদীরা কোন কথা বলেনতো নাই বরং এগুলো দেখে উনারা বাহবা দেন এই বুঝি নারীমুক্তির নিদর্শন।

      জবাব
  11. আশেক ইব্রাহীম

    দু’একটি ঘটনার প্রতিবাদ আর মন্ত্রী এমপিদের ধন্যবাদ দিয়ে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এবং আসল গলদটা কোথায় সেটা এমপি-মন্ত্রীগণ অথবা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা খুঁজে বের করে আমাদের সামনে হাজির করতে পারবেন না। আসল গলদটা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। এবং সে চেষ্টাটাই এখনো শুরু হয়নি।

    প্রতিবাদ আর প্রতিরোধ এই শব্দদুটি গোষ্ঠীবদ্ধ শত্রু বা বিপক্ষশক্তিদের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা সমীচিন। অপ্রয়োজনীয়ভাবে এসব শব্দ ব্যবহারের কারণেই বাংলাদেশে এখন অসংখ্য গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে ও হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্পেশাল ইমেজ, গ্রুপিং, এক এক ঘটনার স্পেশাল ট্রিটমেন্ট। একটা ঘটনাকে কীভাবে ষ্পেশাল ইভেন্টে পরিণত করা যায় সেই চেষ্টা। এবং মিডিয়াই এগুলো করছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমুক; চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তমুক ছাত্র বা শিক্ষক ইত্যাদি; এই ডিভাইডেশন কি জরুরী? নাকি প্রশাসন থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রেই ষ্পেশাল ট্রিটমেন্ট এর উদ্দেশ্যে এটা করা হচ্ছে? বিচার প্রভাবিত হচ্ছে না? অবিচার দূর হয়ে বিচার হচ্ছে অথবা, ঠিক উল্টোটা। এই গোষ্ঠী সংস্কৃতির কারণে আবার ধর্ষকের পক্ষেও তৈরি হচ্ছে স্বত:স্ফুর্ত আন্দোলন করার জন্য সমর্থক গোষ্ঠী!!

    রুমানা মনজুরের ঘটনাটার ক্ষেত্রে বলা যায় একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের এমন পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনা আমাদের কী শেখাতে পারে? সাইদের প্রতি ঘৃণা? নাকি আরো কিছু? সর্বোচ্চ সামাজিক মর্যাদায় জীবনযাপন করেও তাদের পারিবারিক সংঘাত মিডিয়ার কল্যাণে আজ গ্রাম-গঞ্জের অশিক্ষিত মানুষটাও জানেন। আর বাংলাদেশের সেই দরিদ্র নিরক্ষর গ্রামের ভালো মানুষটি একটা সরল উপসংহারে এসে পৌঁছুতে পারে যে এরা(রুমানা-সাইদ) আসলে অশিক্ষিত। অথবা তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে নিজেই উত্তর খুঁজবেন, ভাববেন- “আমরা নয় অশিক্ষিত গরিব মানুষ, অভাব অনটনের সংসারে নানা অশান্তি হয়, কিন্তু ওদের তো সে সমস্যা নেই– তাইলে এমন ঘটে কেন? তার এই ভাবনার উপসংহার আপনি-আমি সচেতনতা তৈরি করে পরিবর্তন করতে পারবো না। বরং আমাদের ভাবতে হবে একটা অপরাধ নিছক কোন ঘটনা নয়। কারণ প্রতিটি মানুষের উপর সেই অপরাধ ভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করে।

    লক্ষ্য করার মত বিষয় হল, একটি ঘটনার ভ্যালু মিডিয়ার কাছে ততদিন থাকে যতদিন না তার ভেতরের গল্প উল্টিয়ে পাল্টিয়ে পাঠককে দেখিয়ে বিনোদিত করা যায় কিন্তু তারপর আর কোন আপডেট নেই!কোন ফলো আপ নেই! কিন্তু প্রতিদিন একই রকম অপরাধ-বিনোদনের ঘটনা আছে, গল্প আছে!

    পুনশ্চ:
    এটা তো সত্যি সংসপ্তক নাটকে রমজানের কোপানোর দৃশ্য দেখে বাংলাদেশে বেশ কয়েকজন মারা গিয়েছিল আর এখন গনপিটুনিতে মেরে ফেলার লাইভ ভিডিও দেখার পরও কোন মৃত্যুসংবাদ শোনা যাচ্ছে না। তার মানে কি আমাদের হার্ট অনেক শক্ত-সবল হয়ে উঠেছে? এখন আর এইসব মৃত্যু আমাদের আঘাত করে না। আমাদের এই হৃদয়ের এই শক্তিমত্তার কৃতিত্ব মিডিয়ার। খররের কাগজ খুললেই মস্তকবিহীন ধড় দেখতে দেখতে একসময় পত্রিকা পড়া ছেড়ে দিয়েছিলাম, কারণ আমার হার্ট দুর্বল, আর এখন তো লাইভ টিভি তে গনপিটুনির দৃশ্য দেখতে দেখতে বড় হচ্ছে আমাদের পরবর্তি প্রজন্মগুলো।

    আমার কথাগুলো অপ্রাসঙ্গিক মনে হতে পারে। তবে নারী নির্যাতন যদি অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে সর্বোপরি মানুষের অপরাধপ্রবণতার কারণ আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। হতে পারে এটা অপরাধী ব্যাক্তির মানসিক সমস্যা, কিন্তু প্রত্যেক মানসিক সমস্যার পেছনে আর্থ-সামাজিক কাঠামোর সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। এবং সমাজের বিদ্যমান মতাদর্শ বা নৈতিকতার ক্ষয়ীষ্ণুতা এবং পাশাপাশি অন্য কোন মুল্যবোধসম্পন্ন মতাদর্শ গড়ে না ওঠা এর জন্য দায়ী। আমরা ইচ্ছে করলে ভেঙ্গে ফেলতে পারি সবকিছু কিন্তু কী গড়ে রেখে যাচ্ছি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এটা আমাদের ভেবে দেখার সময় এসেছে।

    জবাব
      • আশেক ইব্রাহীম

        আমি আপনার উপরের মন্তব্যের মতামতের সাথে একমত নই। কারণ না খুঁজে সমাধানের সিদ্ধান্ত দেয়াটা নিজেদের নির্বুদ্ধিতা প্রমান করে। এতদিন তো ইসলামের নামেই নির্যাতন চলত। এখন সেটা কমেছে। ইসলাম একটা ধর্মের নাম, পৃথিবীতে শত শত ধর্মমত এবং তাদের নিজস্ব জীবন পদ্ধতি, সামাজিক মুল্যবোধ আছে। পৃথিবীর সকল মানুষকে তো আপনি এক ধর্মের অনুসারী বানিয়ে ফেলতে পারেন না। ফলে সমাধানের পথটা আপনি যতটা সহজে খুঁজে পাচ্ছেন ততটা সহজ আসলে নয়।

        সচ্ছলতার কথা যদি বলেন তাহলে বলতে হবে, তাহলে রুমানা মনজুরের ক্ষেত্রে কী হয়েছে? সরকারী হিসাবে বাংলাদেশের ৪০ শতাংশের বেশি মানুষ (কর্মক্ষম নারী এবং পুরুষ) বেকার। নারীর ক্ষমতায়নের নামে নারীদের কোঠা ব্যবস্থার সমালোচনা করতে দেখেছি আমি অনেক শিক্ষিত বেকার যুবককে। কারণ তারা বেকার এবং বেকার পুরুষ মাত্রেই সমাজের নিগ্রহের শিকার। এই নিগ্রহের ফলে বাড়ছে মাদকাসক্তি। বাড়ছে অপরাধপ্রবনতা। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে এই বিপুল বেকার জনসমষ্টিকে কোন দেশেই আইন করে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

        সমাজের সকল ক্ষেত্রেই নারী-পুরুষের সম্মিলিত অবদান রয়েছে। নারীবাদ বা পুরুষবাদ বলে নারী এবং পুরুষকে আমি মুখোমুখি দাড় করাতে চাইনা। কিন্তু ইদানিং নারীবাদের প্রধান লক্ষণ হিসেবে নারী-পুরুষের এই মুখোমুখি অবস্থানটা প্রকাশ পাচ্ছে। এই মনোভাব একধরনের সংকীর্ণ চিন্তার ফসল। নারীবাদের এই প্রবনতা ভবিষ্যতে আরো বেশী সহিংসতার পথ দেখাতে পারে বলেই আমার আশংকা।

  12. Shima das Shimu

    ফরিদা আখতারের লেখাটি আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় বাংলাদেশে নারীদের অবস্থা। নারীরা ঘরে বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। এই অবস্থায় বর্তমান সরকারও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কোন ভূমিকা রাখছেন না। নারী সংগঠনগুলি দলীয়ভাবে বিভক্তির কারণে নারী আন্দোলন সক্রিয় হচ্ছে না। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলবো মহিলা অধিদপ্তরের নারী নির্যাতন বিরোধী সেলকে কার্যকরী করুন। দেশে নারী নির্যাতন রুখতে এগিয়ে আসুন। এই লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

    জবাব

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—