Teaching - 111

১৯০৫ সালে বাংলাকে ভাগ করে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নিয়ে একটি আলাদা ‘প্রভিন্স’ গঠন করেছিলেন ইংরেজ সরকার। কিন্তু বাংলা ফুঁসে উঠেছিল এর বিরুদ্ধে, বিশেষ করে কোলকাতা। নবগঠিত প্রভিন্সের প্রশাসনিক অবকাঠামো হিসেবে ঢাকায় অনেক স্থাপনা তৈরি করা হয়। লাটসাহেবের বাসভবন এবং আমলাদের বাড়ি এর অন্যতম।

১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হয়ে গেলে ইংরেজ সরকার লক্ষ্য করেন যে, পূর্ববঙ্গের মুসলিম বাঙালিদের মধ্যে এটি গভীর মনোবেদনার কারণ হয়েছে। এরই ক্ষতিপূরণ হিসেবে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়, যার নাম দেওয়া হয়, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’। কোলকাতার বুদ্ধিজীবীদের বিবিধ উষ্মামূলক মন্তব্য ছিল এ রকম: ওখানে অধিকাংশ মানুষ চাষবাস করে খায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে কে পড়বে? কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক নিয়ন্ত্রণ এলাকা কমে যাওয়ায়ও তাদের ছিল আপত্তি। সে সব নিষ্পত্তি করে ইংরেজ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে।

লক্ষ্য করার বিষয় হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি প্রদেশ না পাওয়ার ক্ষতিপূরণ হিসেবে। আর এর মাধ্যমেই এর আপতিক গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়। নতুন প্রভিন্স পরিচালনার জন্য যত রকম পুরকর্ম করা হয়েছিল– লাট সাহেবের বাসভবন থেকে মন্ত্রী-আমলাদের বাড়ি– সবই দেওয়া হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন দেশ পাওয়ার আগেই এই অঞ্চলের মানুষ এ বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে। আর এই বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র করেই নিজেদের জীবনমান ও ভাগ্যোন্নয়নের স্বপ্ন দেখেছে পূর্ববঙ্গের মানুষ। এখানে পড়াশুনা করেই পূর্ববঙ্গের বাঙালিদের মধ্যে একটি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ ঘটে। এই শ্রেণি তাদের অধিকারের চেতনায় শাণিত হয়ে শ্রমিক, কৃষককে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তান থেকে পৃথক হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সফল হয়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তাঁর পূর্ববঙ্গ-কেন্দ্রিক রাজনীতি শুরু হয় এটি কেন্দ্র করেই। এখানকার চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি বহিষ্কৃত হন। অন্য বন্ধুরা মুচলেকা দিয়ে বেরিয়ে এলেও তিনি আসেননি। কিন্তু নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর প্রতি বঙ্গবন্ধুর অটুট শ্রদ্ধা ছিল। ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ ১৯৭৩’– যে আইনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন এবং শিক্ষকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়– তাও তাঁরই সদিচ্ছার প্রতিফলন। অনুরূপ আইন চট্টগ্রাম, রাজশাহী এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রণয়ন করেছেন তিনি।

পাকিস্তান আমলে শিক্ষকদের উপর প্রচলিত নানা ধরনের সরকারি চাপের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বাধীন চিন্তার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এটা করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি, শিক্ষকদের যে কোনো বৈধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার ও মতপ্রকাশের অধিকারও দেওয়া হয় এর আওতায়। [ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩, ধারা ৫৬ (২); রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট, ১৯৭৩, ধারা ৫৫ (২); চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট, ১৯৭৩, ধারা ৫৫(২); জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট, ১৯৭৩ ধারা ৪৪(২)]

শুরুতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খ্যাতি পায় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে, তার স্থাপত্য সৌন্দর্য ও আবাসিক চরিত্রের জন্য। জ্ঞানের মাত্রায় এটি কখনও অক্সফোর্ডের সমতুল্য ছিল না। সত্যেন বসু নামে কোলকাতার এক উজ্জ্বল তরুণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক তাঁর অসাধারণ তাত্ত্বিক কাজের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে তুলে এনেছিলেন বিশ্ব-বিজ্ঞানের আঙিনায়।

 

Dhaka University - 21111

 

১৯২১ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানপীঠ হিসেবে সমাজে অবদান রেখেছে। শিক্ষকদের পাণ্ডিত্যপূর্ণ কাজ, ছাত্রদের নিবেদিতপ্রাণ জ্ঞানচর্চা বিশ্ববিদ্যালয়কে সমাজের চোখে একটি বাতিঘরের জায়গায় অধিষ্ঠিত করে রেখেছিল। সত্যেন বসু, কাজী মোতাহার হোসেন, রমেশ চন্দ্র মজুমদার, মোহিতলাল মজুমদার, হরিদাস ভট্টাচার্য, ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহ, আবদুর রাজ্জাক, আবদুল্লাহ ফারুক, আবু মহামেদ হবিবুল্লাহ, মমতাজুর রহমান তরফদার, মোজাফফর আহম্মদ চৌধুরী, আহমদ শরীফ, এ এম হারুন উর রশিদ, কামাল উদ্দিন, রঙ্গলাল সেন, খোন্দকার মোকাররম হোসেন, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, খান সারয়ার মুর্শিদ, আনিসুজ্জামান হয়ে এ এক দীর্ঘ তালিকা।

এছাড়া ষাটের দশকে জাতি পেয়েছে একদল উজ্জ্বল ছাত্র-নেতৃত্ব, যাঁরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশ নির্মাণের ভ্যানগার্ড। পূর্ব বাংলার মানুষের বঞ্চিত হওয়ার ‘দুই অর্থনীতি তত্ব’এর নির্মাতাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই প্রসঙ্গে সর্বাগ্রে নাম করতে হয় বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমানের।

এছাড়া ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৯৭০এ প্রতিষ্ঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল অবদান রয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ নির্মাণে– সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের ইতিহাস একদিকে রাখলেও। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আখলাকুর রহমানের তাত্বিক অবদান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের উপাচার্য আবু সায়ীদ চৌধুরী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ আর মল্লিকের সাংগঠনিক অবদান অসাধারণ। আর শহীদ ছাত্র-শিক্ষকদের অবদান তো ছিলই।

একাত্তরের পর গোটা সত্তর দশক জুড়েই মেধা ও ব্যক্তিত্বে সমুজ্জ্বল উপাচার্য এবং পণ্ডিত শিক্ষকদের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানচর্চা অব্যাহত ছিল। কিন্তু আশির দশকে এরশাদের স্বৈরশাসনের সময় অযাচিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে একাডেমিক শৃঙ্খলা নষ্ট করা হয়। যার ফলে তৈরি হয় সেশন জট এবং এর রেশ আজকের দিন পর্যন্ত চলছে।

পাশাপাশি সামরিক এবং বেসামরিক আমলাতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে মেতে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় ‘ডাকাতদের পাড়া’, ছাত্ররা ‘সন্ত্রাসে লিপ্ত’, শিক্ষকরা ‘রাজনীতি করেন’, বিশ্ববিদ্যালয় ‘রাষ্ট্রের ভিতর আরেকটি রাষ্ট্র’– এ সব সমালোচনা দাঁড় করানো হয়। মূল উদ্দেশ্য, শিক্ষক এবং ছাত্রদের সামরিক শাসনবিরোধী অবস্থান পরিবর্তনের জন্য মানসিক চাপ তৈরি করা। আজকের দিন পর্যন্ত বেসামরিক আমলাতন্ত্র এই প্রচারণা চালাচ্ছে।

আসলে অত্যন্ত সীমিত সম্পদ ও ব্যক্তিগতভাবে চাকরির অনেক কম সুবিধাদি সত্ত্বেও সাধারণ শিক্ষকরা তাদের একাডেমিক কাজ করে যাচ্ছেন। যদি গ্র্যাজুয়েটদের সংখ্যাই বিশ্ববিদ্যালয়ের আউটপুট বলে মনে করা হয়, তাহলে এত কম সম্পদের ব্যবহার করে এত বেশি সংখ্যক গ্র্যাজুয়েট তৈরির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে রাষ্ট্রের সবচেয়ে দক্ষ প্রতিষ্ঠান বলতে হয়।

 

DU - 888

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল সাধারণ শিক্ষক যে বেতন পান তা জীবনধারণের সাধারণ মানের জন্যও যথেষ্ট নয়। একটি চাকরি, যেখানে আর কোনো লজিস্টিক সাপোর্ট নেই, পর্যাপ্ত আবাসন ও পরিবহন সুবিধা নেই, ব্যক্তিগত স্টাফ না থাকার কারণে প্রয়োজনীয় ফটোকপি থেকে শুরু করে একটি চিঠিও নিজ হাতে নিকটবর্তী পোস্ট অফিসে দিয়ে আসতে হয়, সেই চাকরিতে বেতন যদি সাধারণ চাকুরেদের মতো হয় তাহলে জ্ঞানের মতো উচ্চতর সেবা আশা করা বাতুলতা। সেখানে গবেষণা তো সুদূরপরাহত।

যারা মনে করছেন শিক্ষকরা নিজেদের মতো সময়ে অফিসে আসেন, তাদের মনে রাখা উচিত যে, শিক্ষকতা ফাইল-ওয়ার্ক নয়। একজন শিক্ষক নিজেই নির্ধারণ করেন তাঁর লেকচারের মান কী হবে। সে জন্য প্রয়োজনীয় পড়াশুনা এবং ক্লাসের প্রস্তুতি তিনি অন্তত আগের রাত থেকেই করেন। তাহলে সেই সময়টা হিসাবের বাইরে থাকবে?

শিক্ষকতার পেশা আর দশটা পেশার মতো ভাবলে চলবে না। এখানে শিক্ষক নিজেই নিজেকে কাজ দেন, নিজেই সেটি সঠিকভাবে করার জন্য নিজের উপর চাপ অব্যাহত রাখেন। এটি নিজের কাছে দায়বদ্ধ একটি পেশা। যে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁর ছাত্ররা তাঁকে আজীবন মনে রাখে। একজন শিক্ষকের কাজে গোটা জাতি উপকৃত হয়। তাঁর দেওয়া জ্ঞান প্রজন্মের পর প্রজন্ম প্রবাহিত হয়। অনেক সময় জগতজোড়া খ্যাতিপ্রাপ্তির সম্ভাবনা থাকে গোটা জাতির।

শিক্ষকতা পেশা হিসেবে নেওয়ার জন্য একজন মানুষের বিশেষ ধরনের মনের গড়ন চাই, যা তৈরি হয় সারাজীবন। ‘বিসিএস পছন্দক্রমের শীর্ষে ছিল ফরেন সার্ভিস; পরে নিয়োগ পেলাম আনসারে’– এই রকম চাকরি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা নয়। যারা শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা থাকা সত্বেও অন্য চাকরি করছেন এটা তাদের রুচি ও সমস্যা। শিক্ষককে সমালোচনা করার অধিকার তাদের রয়েছে বলে মনে করি না।

সব শিক্ষক একই রকম মানসম্মত জ্ঞানচর্চা করেন, সবার মেধা এবং জ্ঞান-উদ্যোগ সমান, বিষয়টি তা নয়। যে কোনো প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই এ ধরনের অসন্তুষ্টি প্রকাশের মতো ব্যতিক্রমী কর্মী পাওয়া যাবে। কিন্তু উচ্চতর জ্ঞান-কেন্দ্র হিসেবে রাষ্ট্র যদি অবকাঠামো, গবেষণা ও বেতন খাতে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা তৈরি না করে, তাহলে উচ্চতর জ্ঞানচর্চা ব্যাহত হবে মারাত্মকভাবে এবং হচ্ছেও।

পাকিস্তান আমলে সঠিক প্রণোদনার অভাবে অনেক মেধাবী লোকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে সুপিরিয়র সার্ভিস পরীক্ষা দিয়ে সিএসপিএর সদস্য হয়ে সরকারি চাকরি করেছেন। এমনকি বেতন বেশি বলে অনেকে সরকারি কলেজের চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। অনেক সাধারণ সরকারি চাকরিও আকর্ষণীয় লেগেছে অনেকের কাছে। এতে জ্ঞানচর্চা ব্যাহত হয়েছে। কবি জসীম উদ্দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষকতার চাকরি ছেড়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের একটি সাধারণ নন-ক্যাডার চাকরি করেছেন সারাজীবন।

বোঝা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি সে যুগেও পরিবার চালানোর জন্য কতটা অসুবিধাজনক ছিল। আর সিএসপিদের তালিকা তো অনেক দীর্ঘ, যারা কিছুদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েই এই চাকরি ত্যাগ করেছিলেন।

এত সব অসুবিধার মধ্যেও যারা নিবেদিতপ্রাণ হয়ে জ্ঞানচর্চা করেছেন, জ্ঞান বিতরণ করেছেন, তাদেরকে সমাজ ও রাষ্ট্রের দিক থেকে যথোপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে বলে মনে করি না। সরকারি হাসপাতালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বিভাগীয় চেয়ারম্যান এবং সিনিয়র অধ্যাপকের জন্য একটি সিট পাওয়া যায়নি তা নিজ চোখে দেখেছি। অথচ সরকারি কর্মচারি পরিচয়ে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের উপ-রেজিস্ট্রারকে আলাদা কেবিনে থাকতে দেখেছি।

সরকারি দপ্তরের একজন সাধারণ কর্মকর্তা যেখানে অফিসিয়াল পাসপোর্ট ব্যবহার করেন, সেখানে বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকারি আমলাতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদেরকে সাধারণ নাগরিকদের মতো সবুজ পাসপোর্ট ব্যবহারে বাধ্য করেছে। দূতাবাসের লাইনে দাঁড়ানো এবং অন্যান্য কাগজপত্র জমা দিতে গিয়ে বাইরে ওয়ার্কশপ-কনফারেন্সে যাওয়া বিঘ্নিত হয়।

অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদের লাশ দীর্ঘদিন জার্মানির মিউনিখে একটি মরচুয়ারিতে পড়ে ছিল। একজন বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপকের মরদেহ ফেরত আনার জন্য সরকারের দিক থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শিক্ষক সমিতি ও পরিবারের ব্যবস্থাপনায় তাঁর লাশ ফেরত আনা হয়।

এখন বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে সরকারি চাকরিতে যাওয়ার প্রবণতা না থাকলেও, বিদেশে গিয়ে ফিরে না আসার প্রবণতা বেড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জাতি।

১৯২১ সাল থেকে ১৯৮০ দশক পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা বেতন নিয়ে কোনো আন্দোলন করেননি। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার পি জে হার্টগকে বিশেষ বেতনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য পদে নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রফেসর আবদুর রাজ্জাকের বয়ানে পাওয়া যায় যে, কাজী মোতাহার হোসেনের মতো পণ্ডিত ব্যক্তি দুশ টাকা বেতনে পঁচিশ বছর চাকরি করেছিলেন। বেতন বাড়েনি এক টাকাও।

আশির দশকে এরশাদের স্বৈরশাসনের সময় শিক্ষকরা প্রথম বেতন বৃদ্ধির আন্দোলন করেন, যা সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্রের চাপে সফল হয়নি। বেতন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জাতীয়ভিত্তিক বড় আন্দোলন হয়েছিল ১৯৮৬-৮৭ সালে। শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের নেতৃত্বেই এটি হচ্ছিল। তখন ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কে এম সাদউদ্দীন এবং মহাসচিব ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মইনুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনু মুহাম্মদ। এই আন্দোলন সম্পর্কে অধ্যাপক মইনুল ইসলাম লিখেছেন:

“ওই আন্দোলনের সময় আমরা ৪২ দিন শিক্ষক ধর্মঘট চালাই এবং তদানীন্তন এরশাদ সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পাঁচটি সভায় আলাপ-আলোচনা করি। ফেডারেশনের একটি প্রতিনিধিদল খোদ রাষ্ট্রপতি এরশাদের সঙ্গেও বৈঠকে মিলিত হয়েছিল। এরশাদ নীতিগতভাবে আলাদা বেতন স্কেল দিতে তাঁর আপত্তি নেই বলে ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন, সিভিল আমলাতন্ত্রের আপত্তি রয়েছে আলাদা স্কেলের ব্যাপারে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আলাদা বেতন স্কেল দেওয়া হলে চাকরির প্রারম্ভিক স্তরে তুলনামূলকভাবে একই শিক্ষাগত যোগ্যতা ও মেধার অধিকারী সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তারা নাকি নিজেদের বঞ্চিত মনে করবেন।..

আমাদের সঙ্গে আলোচনায় সরকারের প্রতিনিধিদলে যে চার জন জাঁদরেল আমলা নেতৃত্ব দিতেন, তাঁরা হলেন তদানীন্তন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুবুজ্জামান, অর্থ সচিব সাইদুজ্জামান, স্বরাষ্ট্র সচিব শামসুল হক চিশতি ও শিক্ষা সচিব আজহার আলী। ওই আলোচনায় প্রতিবেশি দেশগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য আলাদা বেতন স্কেল থাকার বিষয়টি নজির হিসেবে আমরা নথিপত্রসহ উপস্থাপন করেছিলাম, যেখানে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার উদাহরণ আমাদের জন্য প্রযোজ্য হওয়ার ভালো যুক্তি রয়েছে। ভারতে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রফেসরের সর্বোচ্চ বেতন দুই লাখ ভারতীয় রুপিরও বেশি।’’

১৯৮৬-৮৭এর এই আন্দোলন নিয়ে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ লিখেছেন:

“এর আগে বেতন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জাতীয়ভিত্তিক বড় আন্দোলন হয়েছিল ১৯৮৬-৮৭ সালে। সামরিক স্বৈরতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি তখন বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার আন্দোলন বিস্তৃত হচ্ছিল। শিক্ষকদের আন্দোলনও তখন বেশ শক্তিশালী আকার নিয়েছিল। …

সে বছরই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের উদ্যোগে এ বিষয়ে একটি জাতীয় সেমিনার হয়েছিল। সেখানে উপস্থাপনের জন্য প্রবন্ধের কাজ করতে গিয়ে আমি দেখেছিলাম, শিক্ষকদের বেতন ১৯৭২ সালের তুলনায় আর্থিক পরিমাণে বেড়েছে, কিন্তু প্রকৃত আয় হয়ে গেছে তিন ভাগের এক ভাগ। আরও দেখেছি, সমাজে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মধ্যে সামাজিক অবস্থান যাঁর যত কম, প্রকৃত আয় হ্রাস তাঁর তত বেশি। …

আলোচনা হয়েছিল বটে, কিন্তু পরিষ্কার বোঝাই যাচ্ছিল সচিবেরা এ বিষয়ে কথা বলতে বা শুনতে খুবই অনিচ্ছুক, এরশাদ সরকারের লোক দেখানো কর্মসূচির অংশ হিসেবে তাঁরা আলোচনা করলেন, তাই তার কোনো অগ্রগতি হয়নি।…

গত প্রায় তিন দশকে বেতন নিয়ে আর সে রকম দাবিদাওয়া সংগঠিত হয়নি। এর মধ্যে নিয়মমাফিক একাধিক বেতন স্কেলে শিক্ষকদেরও বেতন কিছু বেড়েছে। কিন্তু প্রকৃত আয়ের ক্ষেত্রে বারবার অন্য অনেকের মতোই হোঁচট খেয়েছেন শিক্ষকেরাও।

কাঠমান্ডুতে এক সেমিনারে যোগ দিতে গিয়ে পাকিস্তান, ভারত ও নেপালের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তাঁরা বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না বাংলাদেশের পাবলিক বা সর্বজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন এত নিচে; কোথাও তাঁদের তিন ভাগের এক ভাগ, কোথাও অর্ধেক।’’

শিক্ষকদের কম বেতন দেওয়া বিষয়ে যেসব খোঁড়া যুক্তি দাঁড় করানো হয় তার একটি হল, আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংএ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নাম অনেক নিচের দিকে। শিক্ষকদের বেশি বেতনের দাবি মেধাবীদের শিক্ষকতায় আকৃষ্ট করার জন্য। তাছাড়া যেহেতু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষকদের জন্য গাড়ি, পিয়ন ইত্যাকার লজিস্টিক সাপোর্ট নেই, তাই মোট বেতন বাড়িয়ে দিলে শিক্ষক নিজেই এ সব ব্যবস্থা করে নেবেন।

যে সব মানদণ্ডের ভিত্তিতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিং তালিকায় উঠে আসে এর মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছে গবেষণা। এ জন্য আলাদা অর্থ-বরাদ্দ দিতে হবে। শিক্ষককে যত বেশি বেতনই দেওয়া হোক না কেন, তাতে গবেষণা হবে না। এ যুগে গবেষণার আর্থিক ব্যয় অনেক বেশি, এমনকি সমাজবিদ্যা কিংবা মানববিদ্যার গবেষণাতেও; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিষয়ে তো অনুমেয়। যারা মনে করেন শুধু কাগজ কলম থাকলেই গবেষণা করা যায়, তাদের এ বিষয়ে ধারণা নেই। তবু, স্বল্প সুবিধার মধ্যেও শিক্ষকরা গবেষণা করে চলেছেন। আন্তর্জাতিক জার্নালে তাদের প্রকাশনা থাকছে।

 

Reading - 444

 

উন্নত দেশগুলোতে গবেষণা যে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ই করে তা কিন্তু নয়। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বড় বড় গবেষণাগারেও অনেক ভালো গবেষণা হয়। যেমন, ভারতের CSIR, BARC, পাকিস্তানের AQ Khan Laboratories, PCSIR, অস্ট্রেলিয়ার CSIRO, যুক্তরাজ্যের National Physical Laboratory যুক্তরাষ্ট্রের NASA, Los Alamos National Laboratory ইত্যাদি। বাংলাদেশের একই ধরনের গবেষণাগার BAEC, BCSIR, BARC, BLRI, BRRI, এই সমস্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বাজেট দেখলেই বুঝা যায় সরকার গবেষণার অর্থ-বরাদ্দের বিষয়ে কতটা অনুদার। সেখানে বিজ্ঞানীদের বেতন-কাঠামোও সাধারণ চাকরিজীবীদের মতো।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নেতিবাচক সমালোচনার জোয়ালের নিচে রাখলে নিজেদের শাসন শিক্ষকদের সমালোচনামুক্ত রাখা যায়, এটা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলো ও তাদের বশংবদ আমলা-জোটের পুরনো কৌশল। শিক্ষকদের একাংশকে তখন কেনা যায় ধমক ও সামান্য সুবিধা দিয়ে। জনগণের করের পয়সায় আমলাতন্ত্রের উদরপূর্তি আর উন্নয়ন-উন্নয়ন খেলার নামে দলীয় ক্যাডার ও ব্যবসায়ীদের উদরপূর্তির সংস্কৃতি চলছে বহু দিন।

কিছুদিন আগেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বেতন ছিল তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারি বা ড্রাইভারের বেতনের সমান। স্বভাবতই একজন আমলা একজন প্রাথমিক শিক্ষককে তাঁর ড্রাইভারের চেয়ে বেশি সম্মান দেবেন না। একটি উন্নত সমাজের দিকে এটি কি একটি ভুল যাত্রা নয়?

যে ছেলেটি মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিক হিসেবে খাটলে তাঁর পাঠানো ডলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যাপ্ত রিজার্ভের অহংকারে সরকারগুলো ফেটে পড়ে, সেই ছেলেটির গ্রামের স্কুলের শিক্ষককে সরকার বেতন দিতে দ্বিধা করে। যে আমলারা নিজেদের কর্মদক্ষতার বয়ান গেয়ে সরকারের কাছ থেকে অধিক বেতন আদায় করে নিতে চান তাদের সম্পর্কে মূল্যায়ন করেছেন আমাদের আরেক সহকর্মী। তিনি সাবেক আমলা ড. আকবর আলী খানের Gresham’s Law Syndrome and Beyond: An Analysis of the Bangladesh Bureaucracy বইয়ের বরাতে লিখছেন:

“বিশ্ব ব্যাংক পৃথিবীর ২০৯ টি দেশের আমলাতন্ত্রকে তিন ভাগে ভাগ করেছে, যার মধ্যে প্রথমটি হল ‘খুবই কার্যকর আমলাতন্ত্র’ যার মধ্যে পড়েছে ৭০ টি দেশের আমলাতন্ত্র। দ্বিতীয়টি হল ‘মোটামুটি কার্যকর আমলাতন্ত্র’ যার মধ্যে পড়েছে বিশ্বের ৭১ টি দেশের আমলাতন্ত্র এবং শেষটি হল ‘অকার্যকর আমলাতন্ত্র’ যার মধ্যে পড়েছে ৬৮ টি দেশের আমলাতন্ত্র। এখানে বাংলাদেশের অবস্থান ‘অকার্যকর আমলাতন্ত্র’ ক্যাটাগরিতে এবং র‌্যাংকিং হল ১৬৮ (প্রাপ্ত নম্বর ১০০ তে ২০) এবং দক্ষিণ এশিয়ার র‌্যাংকিংএ বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রের অবস্থান অন্য সব দেশের নিচে (গভর্নেন্স ম্যাটারস, ২০১২)।’’

ড. আকবর আলী খান লিখেছেন:

‘‘সরকারের কার্যকারিতার সূচক বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে খারাপ। সারা পৃথিবীতে মাত্র ৩৯টি দেশ বাংলাদেশের চেয়ে খারাপ করেছে এবং বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিস দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল এবং গোটা পৃথিবীর নিকৃষ্টতমগুলোর একটি।’’

মনে রাখা জরুরি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা স্বউদ্যোগে নিজস্ব যোগাযোগের মাধ্যমে দেশের অর্থ খরচ না করেই পিএইচডি বা উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে আসেন, অল্প কিছু কমনওয়েলথ বৃত্তির কথা বাদ দিলে। এতে উপকৃত হয় জাতি। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ছুটিকালীন পূর্ণবেতন প্রদানের বিধানও নেই। সরকারি আমলারা বিশ্ব ব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, অস্ট্রেলিয়ান এইড, এসব বৃত্তির মাধ্যমে উচ্চতর ডিগ্রি নিতে যান পূর্ণ বেতনে। এদের বিরাট অংশেরই উচ্চতর ডিগ্রির জন্য ভর্তির যোগ্যতাও থাকে না।

অষ্টম বেতন স্কেলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদেরকে যেভাবে আগের প্রাপ্য বেতন থেকেও দুধাপ নিচে বেতন প্রস্তাব করা হয়েছে তা কোনোভাবেই তাদের মেধা, যোগ্যতা ও অবদানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, এটি চূড়ান্ত অপমানজনক। সিনিয়র সচিব ও কেবিনেট সচিবের পদ বিবেচনা করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের পদের অবনমন ঘটেছে অন্তত চার ধাপ। কোনো পেশার মর্যাদা অবনমন মানে হচ্ছে সমাজে এটি অপ্রয়োজনীয় এমন বার্তা প্রদান। এই বার্তা গোটা সমাজের মূল্যবোধ, চেতনা ও অগ্রগতির দিক থেকে নেতিবাচক একটি বিষয়।

অর্থমন্ত্রী অধিক অধ্যাপকের সংখ্যা বিষয়ে যে অভিযোগ উত্থাপন করে শিক্ষকদের ‘দুর্নীতিবাজ’ বলেছেন তাও তথ্য-উপাত্তে প্রমাণিত হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ে ১৯৭০ জন শিক্ষকের মধ্যে অধ্যাপকের সংখ্যা ৬৮৯, অর্থাৎ ৩৫ শতাংশ। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক মাত্র দুজন। বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক মাত্র ১ জন করে। ওদিকে ভারতের দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ও কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপকের সংখ্যা মোট শিক্ষকের ৪৮ শতাংশ।

সচিবালয়ে অতিরিক্ত সংখ্যক যুগ্ম সচিব, উপ-সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে যে পরিস্থিতির তৈরি করা হয়েছে তাতে গোটা আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা সংকটাপন্ন। উপ-সচিবের ৮৩০ টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১২৯৪ জন। যুগ্ম সচিবের ৩৫০ পদের বিপরীতে ৯১৭ জন, অতিরিক্ত সচিবের ১২০ পদের বিপরীতে ৪২৯ এবং সচিবের ৬০ টি পদের বিপরীতে ৭২ জন রয়েছেন।

শিক্ষকদের সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ গোটা সমাজকেই বিষণ্ণ করবে, তৈরি করবে আস্থাহীনতার পরিবেশ। তাই বিষয়টির আশু মীমাংসা জরুরি।

জহিরুল হক মজুমদারঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।

৪৫ Responses -- “রাষ্ট্র, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষকদের বেতন”

  1. সাদেক আহমেদ

    আপনি লিখেছেনঃ
    “অর্থমন্ত্রী অধিক অধ্যাপকের সংখ্যা বিষয়ে যে অভিযোগ উত্থাপন করে শিক্ষকদের ‘দুর্নীতিবাজ’ বলেছেন তাও তথ্য-উপাত্তে প্রমাণিত হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ে ১৯৭০ জন শিক্ষকের মধ্যে অধ্যাপকের সংখ্যা ৬৮৯, অর্থাৎ ৩৫ শতাংশ। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক মাত্র দুজন। বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক মাত্র ১ জন করে। ওদিকে ভারতের দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ও কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপকের সংখ্যা মোট শিক্ষকের ৪৮ শতাংশ।

    সচিবালয়ে অতিরিক্ত সংখ্যক যুগ্ম সচিব, উপ-সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে যে পরিস্থিতির তৈরি করা হয়েছে তাতে গোটা আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা সংকটাপন্ন। উপ-সচিবের ৮৩০ টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১২৯৪ জন। যুগ্ম সচিবের ৩৫০ পদের বিপরীতে ৯১৭ জন, অতিরিক্ত সচিবের ১২০ পদের বিপরীতে ৪২৯ এবং সচিবের ৬০ টি পদের বিপরীতে ৭২ জন রয়েছেন।”
    আমি যোগ করতে চাইঃ
    ‘আমলা বনাম শিক্ষক’ এমন পরিস্থিতি থেকে সবচেয়ে লাভ হবে কার? আমলাদের লাভ হয়েই আছে , আরও হতে থাকবে, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থ হবে সারা জাতি এবং আগামী প্রজন্ম – কারণ ভাল শিক্ষকদের বিরাট অংশ দেশত্যাগ বা পেশাত্যাগ করবে ; আর একটা বড় ক্ষতি হয়ে যাবে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের, আর তা হল পরবর্তী স্থানীয় বা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকারের বিরূপ মনোভাবের ‘খেসারত’ দিতে হবে। জেলা পর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনা করেন আমলারা, আর তাই সরকারী দল ভাবতেই পারেন পরবর্তী সব নির্বাচন পাড়ি দিতে আমলাদের উজাড় করে দিয়ে খুশী করা দরকার। কিন্তু প্রতিটি ভোট বুথ এবং কেন্দ্র চলে শিক্ষক সমাজের দ্বারা – ফলে ২০১৯ সালের পরে আওয়ামী লীগের নাম হবে “শিক্ষক অমার্যাদাকরণ খেসারত লীগ”। যেমন (সাংবাদিক নাইমুল ইসলামের মত অনুযায়ী) বিএনপি এখন পেট্রল বোমার খেসারত দিতে দিতে শেষ হয়ে যাবে।

    Reply
    • খায়রুল আলম

      ‘তোমারে বধিবে গোকুলে বাড়িছে সে’ – এ প্রবাদটি যেন ক্ষমতাসীন দলের সদাশয় সীর্ষ নেতৃত্ব ভুলে না যান !
      ১৯৭২-৭৫ এ কি ঘটেছিল এ দেশে ? খুনী মোশতাক, তাঁর ভাগ্নে কর্ণেল ফারুক আর ফারুকের ভায়রা ভাই কর্ণেল রশীদ গোকুলেই বেড়ে উঠেছিল ! তাই তো তাজউদ্দিন সাহেবকে সরিয়ে দেয়া হল, জাসদের রশীদ ইঞ্জিনিয়ারকে জোর করে হারিয়ে ১৯৭৩ এর সংসদ নির্বাচনে মোশতাককে জিতিয়ে আনা হল; যখন তখন নানা অজুহাতে ফারুক-রশীদের ক্যান্টনমেন্টের বাইরে ঘোরা-ফেরা,এমনকি জিয়ার সহায়তায় মার্কিন দুতাবাসে অস্ত্র কেনার নামে ষড়যন্ত্র করা- সব আজ ফাঁস হয়ে গেছে।
      স্বাধীনতার পর ২০০৮ এর সংসদ নির্বাচন ছাড়া কোনও নির্বাচনে মধ্যবিত্ত সমাজ আওয়ামী লীগের পক্ষে স্বতস্ফূর্ত অবস্থান নেয়নি। একইভাবে (মূলতঃ মধ্যবিত্ত স্রেণীর হওয়ায়) শিক্ষক সমাজের সরকার বিরোধী অবস্থানে চলে যাওয়ার একটা জোর প্রবণতা থাকবেই। এমনি প্রেক্ষাপটে ‘শিক্ষকদের মর্যাদা হানিকর পে-স্কেল’ সংশোধন করা না হলে কি হতে পারে তা কি সরকারী দলের হাইকমান্ড ভেবে দেখেছেন ?

      Reply
  2. isj

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ে ১৯৭০ জন শিক্ষকের মধ্যে অধ্যাপকের সংখ্যা ৬৮৯। সচিবের ৬০ টি পদের বিপরীতে ৭২ জন রয়েছেন। কে যে দেশ চালাচ্ছে!!!

    Reply
  3. Mohammad Zahidur Rahman

    ধন্যবাদ। লেখাটি তথ্যবহুল। লেখাটি পড়ে অনেক কিছু জানা গেল। বিশেষ করে বিশ্বে বাংলাদেশী আমলাদের অবস্থান । ব্যাপারটি নিস্বন্দেহে জাতি হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জার। আমলাদের সাথে শিক্ষকদের একটি তুলনামূলক আলোচনা এথানে করা হয়েছে। সরকারি প্রশাসন এবং সচিবেরা অবশ্যই অনেক গুরুত্বপূর্ন কাজ করেন। বলতে গেলে তারা পুরো দেশটি চালান। এজন্য তাদের ক্ষমতা ও সম্মান অনেক বেশী। তবে সরকারকে এটি ভুলে গেলে চলবেনা শিক্ষকরা জাতি গঠন করেন। আর জাতি গঠনের কাজে দেশের সবচে বেশী মেধাবী ছাত্রদের অধিক বেতন ভাতা ও সম্মান দিয়ে আকর্ষন করতে না পারলে এই প্রতিযোগিতার বিশ্বে আমরা অন্য সকল দেশ থেকে পিছিয়ে যাব। তাই সরকারের উচিত মূল বিষয়টি অনুধাবন করে শিক্ষকদের যথযোগ্য সম্মান ও বেতন নির্ধারন করা।

    Reply
  4. ফারুক

    প্রাথমিক বিদ্যাল্যের সহকারী শিক্ষকদের বেত্ন ভাতা নিয়ে কু ক্তহা বলে না । আমরা এতি হতভাগা ।কিন্তু আমরাই শিক্ষার মুল ভিত্তি গড়ে দেই ।আমরা না থাকলে হাইশুক্ল ,কলেজ ,বিশব্বিদ্যাল্য কোন ছাত্র ছাত্রি পেত না ।আমরা পড়াই ব্লে তারা ভাল ভাল শিক্ষার্থী পায় ।কিন্তু আমরা খুবেই আশাহত যে আমাদের কথা কেউ বলে না বা মাথাও ঘামায় না।

    Reply
  5. মোঃআবদুল কুদ্দুছ হাওলাদার

    লেখকের শেষ প্যারাতে দেখলাম সচিব,অতিঃসচিব পদগুলোতে পদের অতিরিক্ত পদোন্নতি, ইহার কারন কি কেউ বলবেন,অন্য সব বিভাগেও কি এ ধরনের পদোন্নতির ব্যবস্হা আছে,

    Reply
  6. Tarek

    এক সময় নিজের টাকায় বই ফটোকপি করতাম, নিজের টাকায় প্রিন্ট করতাম, নিজের টাকায় বোর্ডের মার্কার কিনতামঃ তখন একার সংসার তাই সম্ভব হত। বিদেশে গেলাম, মাস্টার্স করে ভাল জবের সুযোগ ছেড়ে দেশে ফিরলাম। এবার ২ জনের সংসার, আগের মত নিজের টাকায় আর সব করা গেলনা। পিএচডি করতে আবার বিদেশে গেলাম, এরপর দেশে আসলামঃ ততদিনে আমার ঢাকাতে থাকা সরকারী জব করা বন্ধুদের একার বেতনেও ঢাকা শহরে বাড়ি উঠেছে, আমার সম্বল কেবল পিএইচডি এর একখানা কাগজ। দেখলাম আমার বেতন বাসা ভারাতেই শেষ হয়ে যাবে, আর এইসব বন্ধুদের এড়িয়ে চলাও সম্ভব না- সন্মানের সাথে থাকাও হয়ত সম্ভব না। বিভাগে আর যোগ দেইনি, বিদেশে ফিরে গেলাম। সুপারভাইজার বলল, তুমি ফিরে আসলে কেন? তুমি না প্রজেক্টের কাজ ছেড়ে চলে গেলে? বললাম, আমি আরো কাজ করতে চাই, হ্যা, পরেরদিন রিজাইন লেটারটা পাঠিয়ে দিলাম। হ্যা খারাপ নেই, যেসব শিক্ষক বিদেশে থেকে গেছেন তারা এমনিতেই থেকে যায়নি, দূর্নীতিবাজ বন্ধুদের সন্মান যখন উনাদের চাইতে বেশি হয়, উনারা তখন বাধ্য হয়।

    Reply
  7. asif

    এক সময় নিজের টাকায় বই ফটোকপি করতাম, নিজের টাকায় প্রিন্ট করতাম, নিজের টাকায় বোর্ডের মার্কার কিনতামঃ তখন একার সংসার তাই সম্ভব হত। বিদেশে গেলাম, মাস্টার্স করে ভাল জবের সুযোগ ছেড়ে দেশে ফিরলাম। এবার ২ জনের সংসার, আগের মত নিজের টাকায় আর সব করা গেলনা। পিএচডি করতে আবার বিদেশে গেলাম, এরপর দেশে আসলামঃ ততদিনে আমার ঢাকাতে থাকা সরকারী জব করা বন্ধুদের একার বেতনেও ঢাকা শহরে বাড়ি উঠেছে, আমার সম্বল কেবল পিএইচডি এর একখানা কাগজ। দেখলাম আমার বেতন বাসা ভারাতেই শেষ হয়ে যাবে, আর এইসব বন্ধুদের এড়িয়ে চলাও সম্ভব না- সন্মানের সাথে থাকাও হয়ত সম্ভব না। বিভাগে আর যোগ দেইনি, বিদেশে ফিরে গেলাম। সুপারভাইজার বলল, তুমি ফিরে আসলে কেন? তুমি না প্রজেক্টের কাজ ছেড়ে চলে গেলে? বললাম, আমি আরো কাজ করতে চাই, হ্যা, পরেরদিন রিজাইন লেটারটা পাঠিয়ে দিলাম। হ্যা খারাপ নেই, যেসব শিক্ষক বিদেশে থেকে গেছেন তারা এমনিতেই থেকে যায়নি, দূর্নীতিবাজ বন্ধুদের সন্মান যখন উনাদের চাইতে বেশি হয়, উনারা তখন বাধ্য হয়।

    Reply
  8. এম মুকিত রহমান

    বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কুলীন শিক্ষকবৃন্দ আন্দোলনের নামে ছাত্রদের ফাঁকি দিয়ে হালুয়া রুটি বাটোয়ারা নিয়ে ব্যস্ত। এই শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ কিন্ত ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স নিয়ে কিছু বলেন না। অনেকে বলেন রাষ্ট্রের মর্যাদার ক্রম নির্ধারণ হয়েছে সেটা ‍দিয়েই । দুঃখজনক হলেও সত্য তারা বেতন ভাতা ও স্কেল নিয়ে যেভাবে সক্রিয় সেভাবে তাদের মর্যাদাক্রম নিয়ে উচ্চকিত নয় । অর্থাৎ তারা মর্যাদার চাইতে টুপাইস বেশী পছন্দ করেন । শিক্ষকবৃন্দ ছাত্রদের ফাঁকি ‍দিয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে সংযুক্ত থেকে, ইভিনিং শিফট খুলে, এনজিও খুলে, টকশো করে বা কোথাও কনসালটেন্সি করে তারা অর্থ উপার্জনে ব্যস্ত । প্রশাশনিক কোন পদ বাগাতে তারা ঘৃণ্যতম পর্যায়ের লেজুরবৃত্তিতে ব্যস্ত । এমন শিক্ষকের ও নজির আছে যিনি সারা বছরে তার বিভাগে নিজ কোর্সের একটি ক্লাসও নেননি । ইতিহাস বলে অন্যের থিসিস ‘চুরি’ করার কুখ্যাতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকের আছে। এমন কী সহকর্মীকে হত্যা করতেও দ্বিধা করেন নি কেউ কেউ । তারাই কি এই সমাজে আলো দেখাবে? সমাজের মুক্তমনা ব্যক্তিদের মতো সত্যিকারের আদর্শবাদী শিক্ষকগণ হয়তো তাদের নিয়ে বিব্রত। যারা আলো ছড়াবেন তারা কেন আজ অবক্ষয়ে? পুঁজিবাদী বা ভোগবাদী সমাজ কি তাহলে তাদের কেও গ্রাস করে ফেলেছে?

    Reply
  9. asif

    ek somoy bideshe degree sesh kore deshe firlam, beton diye songsar choltona- tokhono kintu biye korini ekar songsar. nijer betoner taka diye research paper print kortam, nijer takai whiteboard marker kintam, boi photocopy kortam shudhu studentder jonnoi. erpor bideshe abar elam phd sesh holo, postdoc holo, family member bere gelo. totodine amar sather bondhura dhaka te bari kore felese, ekbar deshe giye dekhlam amar sob bondhu (bcs diye govt korse emon) bari-gari kore felese. prothombar onek valo job chhere MSc kore deshe firesilam- ebar ar na: resign letter ta patiyei dilam- kharap legesilo kintu tarcheyeo kharap lagto amar oisob durniti kore bari-gari kora bondhuder dekhle.

    Reply
  10. Dr. Reza

    Someone above has asked to calculate the percentage of the first class officers who become a secretary. I request him to explain the merit position achieved by the first class officers and secretaries in their respective classes, and in comparison with their classmate(s) who became a university teacher; to explain how many of them received PhD degree under prestigious foreign scholarships in competition with other brilliant people of the world, and how many of them spend public money for this purpose, how many of them visit foreign countries on public money, how many of them enjoy government provided cars, drivers, servants, and many other privileges. Finally, it would be best if he kindly explains how many of them have been degraded in the last salary scale as compared to university teachers, college teachers, and other teachers as well.

    Reply
  11. শ্রুতি পূর্ণ চাকমা

    খুবই যুক্তিপূর্ণ লেখা। অনেক অজানা তথ্য জানতে পেরে লেখককে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমি তাঁর লেখায় একমত পোষণ করছি।

    Reply
  12. মামুন উর রশিদ

    স্যার, আমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক। আমরা এখনও ৩য় শ্রেণিতেই রয়েছি। চরম অশান্তি নিয়ে। কেন যে খুব ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চ শিক্ষা লাভ করেও প্রাইমারিতে এলাম? এখন বয়সও শেষ। কোনো উপায়ও নেই।

    এখন আমরা সহকারীরা ১১ থেকে ১৫ নং গ্রেডে বিভক্ত। একই পদ অথচ ৫টি ভিন্ন গ্রেড। কেন? গত বছর ৮ বছর পূর্তিতে একজন টাইম স্কেল পেয়ে ১৩ গ্রেড পেলেন। এ বছর আমার ৮ বছর পূর্ণ হল, অথচ আমি ১৪ নং গ্রেডেই থেকে গেলাম। এটা কি অবিচার নয়? এ হিসাবে গত বছর ৮, ১২ ও ১৫ বছর পূর্তিতে একজন শিক্ষক যে বেতন পেয়েছেন, এ বছর অনুরুপ মেয়াদপূর্তিতে আর একজন শিক্ষক তার চেয়ে বেতন কম পাবেন। অথচ বলা হচ্ছে, সরকার নাকি এবার একটু বেশিই দিয়ে ফেলেছে আমাদের!

    স্যার, আমাদের কথা কেউ শোনে না। আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। আপনাদের কথা সবাই শোনে। দয়া করে আমাদের সম্পর্কে লিখবেন। আমাদের ডিপার্টমেন্টটি একটি অদ্ভূত ডিপার্টমেন্ট। এখানে এসএসসি থেকে মাষ্টার্স পাস সব রকম শিক্ষক পাবেন। কিন্তু সবার বেতন একই।

    নিয়োগ বিজ্ঞপ্ততিতে দুরকম শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়, অথচ বেতন ধরা হয় নিম্ন শিক্ষাগত যোগ্যতার। এটা কি শুধু ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে? এতে কি জাতি ফাঁকিতে পড়ছে না? একজন এসএসসি বা এইচএসসি পাস শিক্ষকের পক্ষে কি প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তা অর্জন করা সম্ভব?

    তাই, স্যার, আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ, আমাদের সম্পর্কে লিখুন।

    Reply
    • Md. Momin Rahman

      The university teachers will not cry for you. Those elite teachers are in a world of there own business. They don’t think what should they do for the society or even there own fami!y. I think, this is the most unfortunate lessons for the nation form the intellectual part.
      In this movement is there any interest for mass people? Definately no. Besides, they deprived there students and mass people as well.

      Reply
    • ফারুক

      আপনাকে আস্নগখ্য ধ্ন্যবাদ ।প্রাথমিক বিদ্যাল্যের সহকারী শিক্ষক দের নিয়ে লেখার জন্য ।আর ও বেশী বেশী লিখুন ।

      Reply
  13. masud

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ে ১৯৭০ জন শিক্ষকের মধ্যে অধ্যাপকের সংখ্যা ৬৮৯, অর্থাৎ ৩৫ শতাংশ। সচিবের ৬০ টি পদের বিপরীতে ৭২ জন রয়েছেন। ৭২ জন মোট কতজন প্রথম শ্রেণি চাকুরিজীবীর মধ্যে??? সেটা শত্করা কত ভাগ হবে????

    খবর নিয়ে জানাবেন, শত্করা কতভাগ সরকারি প্রথম শ্রেণির চাকরিজীবী সচিব হন???? যেখানে ১০০ ভাগ শিক্ষক অধ্যাপক হন।

    Reply
    • Masum

      বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্তারদের আসলেই জ্ঞানের অভাব আছে।
      ১. একজন প্রভাষক হিসাবে জয়েন করে ১২ বছর পর নিশ্চিতভাবে অধ্যাপক হন, আর একজন সহকারি সচিব হিসাবে জয়েন করে ২০-২৫ বছর পর উপ-সচিব হন। সচিব ত সবাই হতে পারে না।

      ২. বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্তার হতে হলে কোন পরীক্ষা দিতে হয় না, জয় বাংলা, জয় জিয়া বললেই হয়। তারা নাকি গবেষক। গবেষণা কইরা কি আবিস্কার করলো, দেখলাম না তো। বাংলাদেশে ২০০০+ অধ্যাপক আছেন, জুনিওর গুলারে বাদ দিলাম।

      ৩. বর্তমানে যারা মার্কেট এ কোন চাকরি পান না, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার হওয়ার জন্য লবিং করেন। পরীক্ষা দিলে প্রাইমারিতেউ হবে না।

      ৪। আগে প্রথম বিভাগ পাইত ১-২ জন, যারা আসলেই ভাল ছাত্র, আর এখন ২০-৩০% প্রথম বিভাগ/জি পি এ পায়।

      আমার অনেক বন্ধু যারা পাস করার পর ৪-৫ বছর বেকার থাকার পর জয় বাংলা স্লগান দিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার হইছে, তাদের ইজ্জত এর স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় ও নাম লিখলাম না।

      আর লিখতে ইচ্ছা হচ্ছে না…।।

      Reply
      • Kabir

        I thing your writing reflects some of your zealousness about university teachers. The statistics you mentioned is not authentic at all, just a propaganda about teachers’ community. I grew in a University campus and I found always the top students (1st class 1st, 2nd, 3rd) are recruited as a teacher. However, there are few examples where some less qualified students who are particularly political get recruited by corrupted syndicates. I agree such type of recruitments is not good for an Institution and nation as well. But my observation is that still the brightest students want to be a teacher and are being so.

        On the other hand, comparatively most of general students whose were not in top merit list (1 to 5) usually try for BCS. You know that the BCS exam is nothing but some questions about general knowledge, simple maths (from SSC and HSC) an very basic English. After written exam, then we know most of BCS positions are distributed depending on political views and bribes.

        Most of admin cadre job holders were just in general category student in their university and in their whole university life (5-7 yrs) they never were able to achieve better results than the top students in their batch. Interestingly now that type general students who are bureaucrats claiming they are superior than University teachers. It seems to me just a funny episode!

      • Masum

        @Mr X

        বিসিএস ছেড়েছি, মাস্টারি করিনি। কারণ সরকারি স্কেলে বেতন আমি চাই না।

        @ Kabir

        গত ১০-১২ বছরের নিয়োগ কতটা ফেয়ার হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে? বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চেয়ে ১০০০ গুণ বেশি কাজ করেন পুলিশ, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, তারা কী দোষ করলেন?

        বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ১০ শতাংশও বিসিএস প্রিলিতে টিকবেন না। ওই ১০ শতাংশই শিক্ষক, বাকিরা ‘বেকার পুনর্বাসন সংস্থা’…

        অর্থমন্ত্রী ঠিকই বলেছেন, জ্ঞানের অভাব রয়েছে।

    • Dr. Mohammed Shafiullah Mir

      আমলাতন্ত্র অনিয়ন্ত্রিত এবং বেসামাল হলে যা হয়, আমাদের দেশে তাই হয়েছে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যেকোনো সরকার তাদের ব্যবহার করছে যেন তেন ভাবে ।

      Reply
  14. Farid

    স্যার, লেখাটা অসাধারণ যুক্তিনির্ভর এবং বিশ্লেষণধর্মী হয়েছে। ধন্যবাদ স্যার…

    Reply
  15. ferdous

    ‘‘এমনকি বেতন বেশি বলে অনেকে সরকারি কলেজের চাকরিতে যোগ দিয়েছেন।’’

    — এ ধরনের মন্তব্য কাম্য নয়। সরকারি কলেজ শিক্ষকরা কি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েননি? না, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের তুলনায় কম পড়াশুনা জানা ছাত্র তাঁরা?

    সমস্যা হল, আমরা সম্মান দিতে শিখিনি।। আর লেজুড়বৃত্তি করে নিজের সম্মান বিকিয়ে দিয়েছি। অনেকে বলেন, টাকার অভাবে নাকি গবেষণা করা যায় না।। আমি তো দেখে এসেছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, ক্লাস নিয়ে নয়। নেতাদের বাসায় চায়ের দাওয়া পেতে ছাত্রনেতাদের পিছে ঘুরে বেড়ান। কে ভিসি আর কে প্রভোস্ট হবেন তার জন্য কী না করছেন।

    শিক্ষকদের সবার আগে এসব মানসিকতা পরিহার করতে হবে। তাহলে সম্মান আসবে। তখন তুলনা করতে হবে না।

    Reply
  16. Kader Jahan

    এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের যা অর্জন তা শিক্ষক এবং গবেষকদের, আমলাদের নয়। বড় কেরানিরা তো আসলে চলেb তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী দ্বারা। কোনো আমলাই সম্ভবত নিজের ক্ষমতায় একটা দরখাস্তওও ঠিকমতো লিখতে পারেb না।

    আফসোস এই জায়গায়, রাজনীতিবিদরা আমলাদের দ্বারা প্রচণ্ডভাবে প্রভাবিত!

    Reply
    • Md. Moinul Rahim

      দুঃখিত, তবু বলতে হচ্ছে, আমার অনেক ফ্রেন্ড এখন ইউনিভার্সিটি টিচার, ওরা বেশ কবার বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় টিকতে পারেনি।

      আর এক সময় তারাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হবে!

      Reply
  17. Sadeka Halim

    অভিনন্দন!

    সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের বর্তমান অবস্থার অসাধারণ বিশ্লেষণ এটি। আশা করছি, এই তথ্যবহুল ও মূল্যায়নমূলক লেখাটি সরকারের গঠনমূলক মনোযোগ আকর্ষণ করবে।

    Reply
  18. শফিউল আলম

    বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ বিভিন্ন্ রাজনৈতিক দলের হয়ে নিজেদের পচিয়েছেন।

    Reply
  19. মোঃআবদুল কুদ্দুছ হাওলাদার

    আমার মনে হয় জাতির মেরুদণ্ড কী নতুনভাবে জানতে হবে, জাতিকে জানিয়ে দিতে হবে।

    Reply
  20. Farid

    খুবই যুক্তিনির্ভর লেখা। জাতির সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতে সরকারের বিনিযোগ বাড়ানো একান্ত আবশ্যক।

    Reply
  21. Miazi

    অর্থমন্ত্রী শিক্ষকদের দুর্নীতিবাজ বলেছেন। সভ্যতার সকল মাফকাঠি ছাড়িয়ে গেছে। আমাদের দুঃখ ও দুর্ভাগ্য, এটাই বলতে পারি।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—