মোস্তাফা জব্বার

বাংলা ভাষার শত্রু মিত্র

ফেব্রুয়ারী ২২, ২০১১

mustapha-f11প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে আমরা বাংলা ভাষা নিয়ে আলোচনা করবো না-এমনটা হতেই পারে না। টেলিভিশনের পর্দার এক কোণে শহীদ মিনারের ছবি থাকবে, পত্রিকার পাতায় একটি কলাম থাকবে-এসব সাধারণ রীতি রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। বাংলা একাডেমির বইমেলা এবং তার বিবিধ আলোচনাসমূহ এখন রীতিমতো একটি ঐতিহ্যের বিষয়। বলা যায়, ভাষা আমাদের জাতীয় বিষয়। একুশের প্রভাতে যারা শহীদ মিনারে যান কেবল তারাই দেখতে পারেন বাঙালি তার ভাষাকে কতোটা আবেগ দিয়ে ভালোবাসে। তার কাছে মা, মাতৃভূমি ও মাতৃভাষা কতোটা সম্মানের সেটিও সেদিন আমরা অনুভব করি। ভাষার দাবি থেকে সশস্ত্র যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করার দেশে এমনটি হওয়াই স্বাভাবিক।

কাগজের পত্রিকায়, টিভি মিডিয়ায়, অনলাইন পত্রিকায়, ইন্টারনেটে বা সভা সমাবেশে এই বিষয়টি পুরো মাস জুড়েই আমাদের আলোচনার কেন্দ্রে বসবাস করে। সারা বছর চুপচাপ থাকলেও এই সময়ে বাংলা ভাষার প্রতি আমাদের ফোকাস স্পষ্ট থাকে। এগারো মাস জুড়ে বাংলা ভাষার ভালো-মন্দ আমরা দেখি আর না দেখি, এই ফেব্রুয়ারি মাসে আমরা যতোভাবে পারি তার চুলচেরা বিশ্লেষণ করেই ছাড়ি। যারা সারা বছর কোনভাবেই বাংলা ভাষা ব্যবহার করেন না, বা বাংলার বিপরীতে ইংরেজীকেই কেবলমাত্র মুক্তির পথ বলে মনে করেন, তারাও জনমতের চাপে এই মাসে বাংলার প্রতি দরদ দেখিয়ে থাকেন। চলনে- বলনে আচার-আচরণে বাংলা ভাষাকে সুমহান মর্যাদা দেবার চেষ্টার কমতি থাকে না। যাদের অফিসে একটি বাংলা বর্ণমালা ব্যবহৃত হয় না তারা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে ভাষা শহীদ ও বাংলা ভাষার প্রতি দরদ দেখিয়ে থাকেন।

এমনকি যারা অন্য সময়ে বাংলা ভাষার তীব্র সমালোচনা করতে পিছপা হননা তারাও ফেব্রুয়ারি মাসে সমঝে কথা বলেন। আমার মাঝে মাঝে কষ্ট হয় যখন দেখি যে, বাংলা ভাষার পক্ষের কাজটি কী সেটি চিনতেও আমরা সব সময়ে সচেতন থাকতে পারি না। আরও একটি কষ্ট হয় যে, বিশ্বের একমাত্র দেশ যার একমাত্র রাষ্ট্রভাষা বাংলা, সেই দেশে বাংলা প্রচলনের, বাংলার গবেষণার, বাংলা শেখার বা শেখানোর কাজে সরকারের আগ্রহ সবচেয়ে কম। বরং হুজুগে জাতি বলে আমাদের যে সুনাম আছে তাতে আমরা সব সময়েই বাংলা ভাষার শত্রু মিত্র চিনতে পারি না। বিভিন্ন সময়ে আমরা বাংলা ভাষার প্রতি দরদের আধিক্য দেখিয়ে এমনসব প্রস্তাবনা পেশ হতে দেখেছি বা বিভিন্ন সময়ে এমন সব বিষয়কে আমরা মাথায় তুলে নাচতে দেখেছি যা প্রকৃতপক্ষে বাংলা ভাষার পক্ষে হয়তো যায় না। আবার এমন অনেক সময় দেখেছি যে হুজুগের মাথায় বাংলা ভাষার জন্য অপরিহার্য কাজটিকে আমরা অবলীলায় পা দিয়ে দূরে সরিয়ে দিয়েছি। যিনি বাংলা ভাষার জন্য অসাধারণ কাজ করেছেন তাকেই হয়তো গালাগালি দিচ্ছি। ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিভাস্বর একুশের বয়স যখন ষাটের কাছাকাছি এবং ভাষার নামে জন্ম নেয়া রাষ্ট্রের বয়স যখন চল্লিশের মতো তখন খুব সংক্ষেপে হলেও বাংলা ভাষার শত্রু মিত্র চেনার কিছুটা চেষ্টা করা দরকার।

প্রথমত যে বিষয়টি ভাষা আন্দোলন নিয়ে যারা আলোচনা করেন তাদের জন্য বলা দরকার সেটি হলো ভাষা আন্দোলন কেবলমাত্র বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে নয়। ভাষা আন্দোলন ভাষার পাশাপাশি সেই ভাষা লেখার হরফ নিয়েও। বাংলা ভাষা পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে এবং সেটি বাংলা হরফের বদলে অন্য হরফে লেখা হবে সেটি আমরা গ্রহণ করি নি। আমাদেরকে দুটি বিষয় নিয়েই একসাথে আন্দোলন করতে হয়েছে। যেমন করে আমরা বাংলা ভাষাকে রক্ষা করেছি তেমন করে বাংলা ভাষা লেখার হরফকেও রক্ষা করেছি। আমাদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে আমাদের ওপর আক্রমণটা দুদিক থেকেই হয়েছে। আমাদের ভাষাকে হত্যা করার পাশাপাশি হরফকেও খুন করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের সার্থকতা এখানেই যে আমরা উভয় ষড়যন্ত্রকেই একসাথে মোকাবেলা করেছি এবং প্রতিরোধ যুদ্ধে আমরা বিজয়ী হয়েছি।

যদি একেবারে পেছনে ফিরে তাকাই তবে আমরা স্মরণ করতে পারবো, এক সময়ে বাংলা ভাষা আরবি হরফে লেখার প্রস্তাব এসেছিলো। আমরা মুসলমান এবং আরবি হরফ মুসলমানদের হরফ এমন সব কথা বলে বাংলা হরফ বদল করে আরবি হরফ দিয়ে বাংলা লেখার প্রস্তাবনা আমাদের সামনে পেশ করা হয়েছিলো। সেদিন তারা ভাবেনি যে, ভাষার সাথে হরফের সম্পর্কটা মা ও সন্তানের মতো। একটিকে বাদ দিলে অন্যটির কোন অস্তিত্ব থাকে না। যেসব ভাষা হরফ বিসর্জন দিয়েছে এখন তারা সন্তানহারা মাতা।

পাকিস্তানের জন্মের পর আমাদের মাথায় যখন দুনিয়ার সকল চেতনার চাইতে ধর্মীয় চেতনাই বেশি কাজ করতো তখন ধর্মীয় আবেগকে সামনে রেখে আরবি হরফ দিয়ে বাংলা লেখার প্রস্তাব করাটা অস্বাভাবিক ছিলো না। এর পরপরই ৩১ ডিসেম্বর ১৯৪৮ পূর্ববঙ্গ লেখক সম্মেলনে ডঃ মুহম্মদ শহিদুল্লাহ স্পষ্টভাবে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেবার দাবিকে জোরদারভাবে তুলে ধরেন।

মুসলিম জাতীয়তা এবং চরম ধর্মীয় উন্মাদনায় জন্ম নেয়া পাকিস্তানে জন্মের দেড় বছরের মাঝে আরবি হরফের বিপক্ষে অবস্থান নেয়া সত্যি সত্যি একটি দুঃসাহসী কাজ ছিলো। ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতো যারা বাংলার পক্ষে কথা বলেছিলেন তাদেরকে ভারতের দালাল, হিন্দু ইত্যাদিতে আখ্যা দেয়াটা মোটেই অস্বাভাবিক ছিলো না। পাকিস্তানিরা একাত্তর সালেও আমাদেরকে হিন্দু বলে প্রচার করেছিলো। আমরা বাংলা হরফ ও বাংলা ভাষা ব্যবহার করি এটি আমাদের বিরুদ্ধে হিন্দুত্ব প্রমাণের একটি কারণ ছিলো।

কপাল ভালো আমাদের পূর্ব পুরুষেরা আরবি হরফে বাংলা লেখার প্রস্তাবে রাজী হন নি। যদি তেমনটা হতো তবে এখন আমাদেরকে আবার বাংলা হরফের জন্য লড়াই করতে হতো।

পাকিস্তানের অপর অংশ পশ্চিম পাকিস্তান যার অন্যতম রাষ্ট্রভাষা উর্দু, তারা কিন্তু তাদের হরফ বিসর্জন দিয়ে আরবি হরফ গ্রহণ করেছিলো-আমরা যেটি করি নি। এর সবচেয়ে বড় কুফল যেটি হয়েছে সেটি হলো উর্দুর অনেক উচ্চারণ এখন বিকৃত হয়ে গেছে। আরবি হরফ দিয়ে উর্দুর সকল উচ্চারণ প্রকাশ করা যায় না। অনেকেই জানেন না যে, উর্দু আসলে হিন্দী বা দেবনাগরীর বোন। ফলে এর শব্দগুলোও দেবনাগরির মতো। এর ধ্বনিগুলো কেবল বঙ্গলিপি বা দেবনাগরি হরফ দিয়েই সঠিকভাবে প্রকাশ করা সম্ভব-আরবি দিয়ে নয়। পাকিস্তানিরা যদি বঙ্গলিপি দিয়ে উর্দু লিখতো তবে সম্ভবত তারাও উপকৃত হতো। পাকিস্তানের জন্য বঙ্গলিপিকে রাষ্ট্রীয় বর্ণমালা ঘোষণা করাটাই সবচেয়ে উত্তম কাজ হতো। কারণ এই লিপি দিয়েই উর্দু, সিন্ধি, পাঞ্জাবিসহ পাকিস্তানের সকল ভাষা অতি সুন্দরভাবে লেখা যেতো। আমরা ভাগ্যবান যে, মালদ্বীপের মতোও আমরা আমাদের হরফ বিসর্জন দিইনি। ওরাও আরবি হরফে তাদের ভাষাকে সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারে না। ফলে তাদের ঐতিহ্যগত অনেক শব্দের উচ্চারণ এরই মাঝে বিকৃত হয়ে গেছে।

যদি অন্য প্রেক্ষিত দিয়ে দেখি তবে রোমান হরফে বাংলা লেখার প্রস্তাব আমাদের সামনে দীর্ঘদিন যাবতই ছিলো এবং আমার কাছে মনে হয় সেটি এখনও প্রবলভাবে বিরাজমান রয়েছে। সুগারকোটেড তিতে ক্যাপসুলের মতো আমরা এখনও আনন্দের সাথে সেই ক্যাপসুল গলাধকরণ করছি। শুরুতে যখন রোমান হরফ দিয়ে বাংলা লেখার প্রস্তাব আসে তখন কেউ কেউ এমন কথা বলেছিলেন যে, কী দরকার আরেকটা ঝামেলা বাধিয়ে। বাংলা হরফকে যন্ত্রে প্রয়োগ করার চাইতে যন্ত্রে প্রয়োগ করা আছে এমন রোমান হরফ দিয়ে বাংলা লিখলে কী হয়। বেহুদা বাংলা টাইপরাইটার বা কম্পিউটারে বাংলা ভাষা এসব ঝামেলা করার দরকার কী? ভাষা না হয় বাংলা থাকলো-হরফটা ইংরেজী হলে কী হবে? সাদামাটাভাবে এমন প্রস্তাবকে খুব নিরীহ মনে হয়। কিন্তু একটু তলিয়ে দেখলে বোঝা যায়, এই প্রস্তাবের মাঝেই ভাষার আত্মাটাকে খুন করে ফেলা হয়। যে ভাষার নিজস্ব কোন হরফ নেই সেই ভাষা অন্তত বিকলাঙ্গ এই বিষয়টি অনেকেই অনুভব করতে পারি না। পাকিস্তান-মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ এই ফাঁদে পা দিয়ে তাদের হরফকে হারিয়ে ফেলেছে। আমাদের দেশের আদিবাসীদের ভাষাগুলোকে রোমান হরফ দিয়ে লিখে সেগুলোর বর্ণমালাকেও খুন করার চেষ্টা হচ্ছে। কোন কোন খ্রীষ্টধর্ম প্রচারক ও এনজিও এই অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে। তাদের মুখোশটা এখনও উন্মোচিত হয়নি। আমরা জানিনা যে এদের দ্বারাই দুনিয়ার বহু দেশে এই রোমান হরফের সাম্রাজ্যবাদ বিস্তৃত হয়েছে। এর ফলে দুনিয়ার অনেক ভাষা বিলুপ্ত হচ্ছে। অনেক লিপি গেছে হারিয়ে। ধর্ম প্রচারের মতো ভালো কাজের সাথে এই ধরনের অপকর্ম যুক্ত করাটা মোটেই উচিত নয়।

আমরা সাধারণভাবে রোমান হরফে বাংলা লেখার প্রস্তাবনাটি প্রত্যাখ্যান করেছি। তবে বিগত কয়েক দশকে এটি বারবার ভিন্ন ভিন্ন রূপে আমাদের সামনে এসেছে। আমি একথা বলতে পারবোনা যে, রোমান হরফে বাংলা লেখার বিষয়টি আমরা বর্জন করেছি। বরং রোমান হরফে বাংলা লেখার প্রবণতা আমাদের দিনে দিনে বাড়ছে। যন্ত্রের প্রয়োজনতো আছেই, মানসিকতার জন্যও আমাদের মাঝে বাংলা হরফের প্রতি সেই দরদ আমি দেখছিনা, যেটি আমাদের থাকা উচিত ছিলো। ইংরেজীর সার্বজনীনতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এবং ইংরেজী শেখার বা ব্যবহার করার দক্ষতাকে সম্মান দেখিয়েও আমি একথা বলতে পারি যে, রোমান হরফ দিয়ে বাংলা লেখার প্রবণতা তীব্রভাবে এবং আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। দুঃখজনকভাবে আমরা কেউ কেউ খাঁটি বাংলা ভাষাভাষী হয়েও রোমান হরফ দিয়ে বাংলা লেখার মাঝে দোষের কিছু পাচ্ছি না। এমনকি আমি রোমান হরফে বাংলা লিখলাম এবং সেটি বাংলা হরফে বদলে গেলো তেমনটাকেই বাংলা লেখার সহজ উপায় বলে মনে করছি। কাজটা সহজ হলেও আমি যে আমার নিজের বর্ণমালা লেখাটা ভুলে যাচ্ছি সেটি আমার কাছে কষ্টের মনে হচ্ছেনা। আজকাল এসব কাজে সহায়তা করলে হাত তালি পাওয়া যায়। গলায় ফুলের মালা জোটে। যদি এর বিরোধিতা করা হয় তবে জোটে জুতার মালা।

খুব স্পষ্টভাবে এটি আলোচিত হওয়া উচিত যে বাংলা ভাষা রোমান হরফ দিয়ে লেখা উচিত কিনা। এ বিষয়ে ভাষা নিয়ে যারা খুব উদারতার পথে চলেন আমি নিজে সেই দলের মানুষ নই। আমি আসলে চীনাদের মতো। চীন সম্প্রতি রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি নির্দেশ দিয়েছে যে চীনা ভাষায় ইংরেজী বা অন্য বিদেশী শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। তাদের মতে এর ফলে চীনা ভাষা কলুষিত হচ্ছে। আমি বাংলা ভাষায় ইংরেজী বা বিদেশী শব্দ ব্যবহারের বিপক্ষে নই। ভাষার প্রয়োজনে যতেটা বিদেশী শব্দ বাংলায় আসা দরকার ততোটা আসবেই। তবে বিদেশী হোক আর বাংলা শব্দই হোক আমি ঘোরতরভাবে রোমান হরফ দিয়ে লেখার বিপক্ষে। এমনকি আমি ইংরেজী শব্দও বাংলা হরফ দিয়ে লেখার পক্ষে। দৃনিয়ার কোন শক্তিশালী ভাষা তার লিপিকে বাদ দিয়ে সামনে যায় না। আমরাও আমাদের লিপিকে বাদ দিয়ে সামনে যেতে চাই না। কোন কোন সময়ে আমরা রোমান হরফে বাংলা লিখতে বাধ্য হই-যেমন মোবাইল ফোনে। ঐ যন্ত্রটিতে বাংলা লেখার অপশন যখন থাকেনা তখন এসএমএস বা মেইল রোমান হরফ দিয়েই লিখতে হয়। ফোন সেটে বাংলা হরফ লেখার ব্যবস্থা না থাকায় এর কোন বিকল্প আমাদের নেই। কিন্তু এই কাজটি নিমিষে সহজ করে ফেলা যায়। সরকার যদি মোবাইল আমদানীর ক্ষেত্রে ছোট্ট একটি বিধান রাখে যে বাংলা হরফ ব্যবহার করা যায়না এমন মোবাইল ফোন এই দেশে আমদানী করা যাবেনা, তবে সকল মোবাইল ফোনেই বাংলা লেখার ব্যবস্থা থাকতে পারে। প্রযুক্তিগতভাবে এটি কোন চ্যালেঞ্জের বিষয় নয় বা এর জন্য বাড়তি টাকাও গুণতে হবে না।

পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই সেই দেশের ভাষা মোবাইলে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং বাংলাদেশেও এই কাজটি করা সম্ভব। এরই মাঝে মোবাইলের জন্য কীবোর্ড প্রমিত করা হয়েছে এবং বাংলা ভাষা মোবাইলে প্রয়োগও করা হয়েছে। এমনকি খুব কমদামী মোবাইল সেটেও বাংলা অপশন রয়েছে। তবে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবে এমন অঙ্গীকার নেয়া সরকার এখন পর্যন্ত দুটি বছরেও এমন একটি নির্দেশ মোবাইল আমদানীকারকদেরকে দিতে পারে নি, সেটি হতাশাব্যঞ্জক। আমার জানা মতে, বিএসটিআই এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল মোবাইল কীপ্যাড ও ইউনিকোড প্রমিতকরণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন কাজটি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর। সরকারের টেলিকম রেগুলেটরি কমিশন বা টিএন্ডটি মন্ত্রণালয়ের যে বাংলা ভাষার প্রতি দরদ নেই সেটি তাদের অবহেলা থেকেই বোঝা যায়। বাংলা ভাষার নামে জন্ম নেয়া এই দেশে এই অবহেলা একটি অমার্জনীয় অপরাধ।

রোমান হরফে বাংলা লেখার ব্যাপারে মানসিকতার দিক থেকে আমরা কতোটা হীনমন্য তারও কিছু পরিচয় আমাদের জানা আছে। আমি যখন প্রথম বাংলা হরফের জন্য একটি কীবোর্ড প্রণয়নের চিন্তা করি তখন আমাকে বলা হয়ছিলো, কেন আমি রোমান বি হরফে ব রাখতে পারিনা। তারা মনে করেন এর ফলে পুরো বিষয়টা সহজ হয়। এর আগে কম্পিউটারে বাংলা কীবোর্ড যারা তৈরি করেছিলেন তারা রোমান হরফকে অনুসরণ করেই বাংলা কীবোর্ড প্রণয়ন করেছিলেন। তারা এমনকি শহীদ মুনির চৌধুরী উদ্ভাবিত মুনির কীবোর্ডকেও অনুসরণ করতে অক্ষমতা প্রকাশ করেন। তাদের তখন বক্তব্য ছিলো যে, মুনির কীবোর্ড যথাযথ বিজ্ঞানসম্মত নয়। আমি রোমান হরফের সাথে বাংলা কীবোর্ডের মিল রাখার সেই যুক্তিটা মানি নি। কারণ ইংরেজী বি বোতামে ব রাখলে সেই মানুষটির জন্য উচ্চারণগত সুবিধা হবার কথা যার মাতৃভাষা ইংরেজী। কিন্তু যে লোকটির মাতৃভাষা বাংলা তার ক্ষেত্রে বাংলা আগে শেখার কথা এবং তারপরে দুনিয়ার অন্য ভাষা শেখার কথা। আমরা ইতিহাসের দিকে তাকালে বহুজনকে এই সাধারণ ধারণাটির ব্যবহার করতে দেখি। অনেকেই এই যুক্তিতে বাংলা কীবোর্ডকে সাজিয়েছেন। শহীদ মুনির চৌধূরী ছিলেন এই ধারনার বিরুদ্ধে বলিষ্ঠভাবে প্রতিবাদ করার মানুষ। এর ফলে তিনি টাইপরাইটারের বাংলা কীবোর্ড তৈরি করার সময় রোমান হরফের কথা একেবারেই ভুলে গিয়েছিলেন এবং বাংলা বর্ণ ব্যবহারের পৌনঃপুনিকতা বিচার-বিশ্লেষণ করে তিনি তার কীবোর্ড প্রণয়ন করেছিলেন। সেটি ছিলো একজন বাংলা ভাষাভাষী বিজ্ঞানীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিন্তা।

অথচ এখন আমাদের বাংলা ভাষাকে যারা কম্পিউটারে প্রয়োগ করেন তাদের প্রায় অনেকেই রোমান হরফের সাথে বাংলা বর্ণকে মিলিয়ে ফেলার প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন। কারও কারও মাঝে এমন ধারণাও কাজ করে যে, আসলে রোমান হরফ দিয়ে বাংলা টাইপ করার পর যদি সেটি বাংলা শব্দে পরিণত হয় তবে কাজটি আরও সহজ হয়ে যায়। অথচ আমরা কখনও এটি বিচার করে দেখি না যে, রোমান হরফ দিয়ে বাংলা ধ্বনির প্রকাশ ঘটানো মোটেই সম্ভব নয়। আমরা বাংলা ত, ণ, য়, ঃ, ৎ, শ, ষ, অ, ঈ, ঊ, ঋসহ শত শত ধ্বনি রোমান হরফ দিয়ে লিখতে পারি না। কখনও কখনও বাংলা ধ্বনির পাশাপাশি বা বিকৃত কোন ধ্বনিকে রোমান হরফ দিয়ে হয়তো প্রকাশ করি কিন্তু এতে না থাকে ব্যাকরণ, না থাকে শুদ্ধ বানান বা বাক্য গঠন। বস্তুত দুনিয়ার বহু ভাষারই হরফ সমষ্টির অন্যতম দুর্বলতা হলো সকল ধ্বনি অবিকৃতভাবে প্রকাশ করতে না পারা। রোমান হরফ এদিক থেকে সবচেয়ে দুর্বল। মানুষের ভাষার সবচেয়ে কম ধ্বনি রোমান হরফ দিয়ে প্রকাশ করা যায়। বাংলায় যখন ধ্বনির রূপান্তর হয় বা যুক্তাক্ষর হয় তখন তার জন্য ভিন্ন অক্ষর ব্যবহার করা হয়-এটি বাংলা হরফের সবলতা। অনেকেই বাংলার যুক্তাক্ষরের সমালোচনা করার সময় বিজ্ঞানসম্মত এই হরফমালার সবলতাকে দুর্বলতা বলে মনে করে থাকেন। বাংলা ভাষা ভারতীয় ভাষা পরিবারের সেই সক্ষমতাসমৃদ্ধ ভাষা যার মাঝে বিজ্ঞানসম্মতভাবে প্রায় সকল উচ্চারণই অবিকৃত রাখার ক্ষমতা রয়েছে। বাংলা লিপি বা বঙ্গলিপি যা ব্রাহ্মী লিপি থেকে উদ্ভুত সকল লিপির বিজ্ঞানসম্মত ক্ষমতা বিশ্বের অনেক ভাষার চাইতে বেশি। রোমান হরফের চাইতে বাংলা হরফের ক্ষমতা যে শত শত গুণ বেশি সেটি একটু তূলনা করলেই দেখা যাবে। যদিও আমি টাইপরাইটারের মুনির কীবোর্ডটিকেই কম্পিউটারের জন্য গ্রহণ করতে পারি নি তবুও বাংলাকে বাংলার মতো দেখার জন্য মুনির চৌধুরীর যে ধারণা, সেটিকেই আমি গ্রহণ করেছিলাম। কম্পিউটারের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে আমি নতুন একটি আবিষ্কার করেছি মাত্র, যেটি ডিজিটাল যন্ত্রের উপযোগী।

যদি আরও একটু গভীরে তাকাই তবে আমরা বাংলা ভাষা ও হরফকে নিয়ে আরও অনেক ষড়যন্ত্র দেখতে পাবো। বাংলা ভাষার হরফ পরিবর্তন, যুক্তাক্ষর বাদ দেয়া। অক্ষরের আকৃতি বদলানো, মূল বর্ণের কয়েকটিকে বাদ দেয়া, বানান ও ব্যাকরণ সংস্কার বা লেখন পদ্ধতি পরিবর্তনের প্রস্তাবও দেখেছি। এমনকি যুক্তাক্ষর বর্জন করার প্রস্তাবও আমরা দেখেছি। যন্ত্রে প্রয়োগ করার নামে, ভাষাকে সহজ করার নামে, ব্যবহারের সুলভ পথ খুঁজে বের করার নামে এসব নানা প্রসঙ্গ বহুদিন ধরে বহুভাবেই আলোচিত হয়েছে। ইতিহাসের পাতায় এসব প্রস্তাবের পক্ষের ও বিপক্ষের মানুষদের নাম-ধাম সবই পাওয়া যাবে। আমি সেই মহামানবদের নাম পুনরায় স্মরণ করাতে চাই না। তবে কষ্ট হয় যখন দেখি আমাদের কাছে সম্মানিত ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিরাও এসব অপকর্মের সাথে যুক্ত রয়েছেন। তবে আমাদের জন্য সবচেয়ে সুখের বিষয়টি হলো এতসব প্রস্তাবনার পরেও বাংলা ভাষাকে কেউ এখন পর্যন্ত তার মূল ধারা থেকে সরাতে পারে নি। এখনও বাংলা ভাষার হরফমালা অবিকৃত রয়েছে। কেউ কোন হরফকে বাদ দিতে পারে নি বা নতুন কোন পদ্ধতি আমাদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে নি। এখনও বাংলা ভাষার বানানে বৈচিত্র রয়েছে এবং নানাভাবে নানা শব্দে বাংলা ভাষা প্রতিদিনই সমৃদ্ধ হচ্ছে। বরং নানা আক্রমনে, নানা বিবর্তনে বাংলা ভাষা তার অকৃত্রিমতা হারায় নি।

কিন্তু বাংলা ভাষার সংকট রয়ে গেছে। এই ভাষার সবচেয়ে বড় সংকটটি হচ্ছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাব। এটি বিস্ময়কর মনে হতে পারে যে বাংলা ভাষার নামে জন্ম নেয়া দেশে সেই ভাষার জন্য সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা যথাযথ নয়। সরকারের প্রথম বড় দুর্বলতা হলো, সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলন করতে না পারা। সরকারী অফিসে বাংলা ব্যবহার হয়, কিন্তু সর্বত্র হয় না। উচ্চ আদালতে ইংরেজী ব্যবহার একরকম বাধ্যতামূলক। স্বাধীনতার চল্লিশ বছরে সেই শেকলটা আমরা ভাঙ্গতে পারি নি। এটি কি আমরা ভাবতে পারি যে, সরকার ৪০ বছরে একটি বিধি সংশোধন করতে পারেনা? অন্যদিকে, সরকার যে বাংলা ভাষা প্রচলনের জন্য সিরিয়াস নয় তার অসংখ্য প্রমাণ পাওয়া যায়। সরকারের নীতিমালাগুলো ইংরেজীতে খসড়া হয়। সরকার যেখানে প্রয়োজন নেই সেখানেও ইংরেজীতেই তাদের উপস্থাপনা প্রস্তুত করে। এমনকি যেখানে ইংরেজী বলার প্রয়োজন নেই সেখানেও ইংরেজীতেই কার্যক্রম পরিচালনা করে। কিছুদিন আগে পর্যন্ত মোবাইল ফোন কেনার ফরমটা ইংরেজীতেই ছিলো। এখনও প্রতিদিন কম্পিউটার প্রচলনের নামে বাংলা ভাষাকে বিদায় করা হচ্ছে। এক সময়ে ব্যাঙ্কগুলো বাংলায় তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতো।

এখন অনলাইনের নামে সেখান থেকে বাংলা ভাষা বিদায় নিয়েছে। সেটি ডিজিটাল হোক আর অনলাইনে ভর্তি হোক, বাংলা লেখা হলেও তা রোমান হরফে লেখা হয়। অতি সাধারণ কৃষককে যখন আমরা রোমান হরফ চেনানোর চেষ্টা করছি তখন পুরো বিষয়টাকেই দুঃখজনক বলতে হবে। সরকারের বাংলা ভাষা প্রচলন সংক্রান্ত একটি আইন আছে। সেই আইনে বাংলা ভাষা সরকারী কাজে ব্যবহার না করা হলে তার জন্য শাস্তির বিধান আছে। কিন্তু বাংলা ভাষা সরকারী কাজে ব্যবহার না করার জন্য এখন পর্যন্ত কেউ কোন শাস্তিতো দূরের কথা একটি সতর্কবাণীও পায়নি। এতে প্রমাণিত হয় যে, সরকার সরকারী কাজে বাংলা ভাষা প্রচলনের ব্যাপারে আদৌ সিরিয়াস নয়। আমি লক্ষ্য করেছি যে, দিনে দিনে সরকারী কাজ যতো অনলাইনে যাচ্ছে ততোই সেটি বাংলার বদলে ইংরেজীতে হচ্ছে। সরকার ভাষা আন্দোলনের কথা বুক চাপড়ে বললেও তাকে অন্তর দিয়ে বাস্তবায়ন করছে না।

সরকারের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় অবহেলাটি হলো, বাংলা ভাষা শেখার ব্যাপারে। বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ৫১টির মাঝে মাত্র চারটিতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয় পড়ানো হয়। সরকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে রাষ্ট্রভাষা শেখাতে বাধ্য করেনি–এটি আমাদের জন্য একটি লজ্জাজনক অধ্যায়। ভাষার জন্য রক্ত দেয়া একটি জাতির জন্য এটি একটি কলঙ্ক। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় বেনিয়াবৃত্তির জন্য তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য পড়ায় না তাদেরও উচিত এই কলঙ্কের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে অবিলম্বে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ খোলা।

সরকারের বাংলা একাডেমি বা অন্য কোন সংস্থা বিদেশীদেরকে বাংলা শেখানোর কোন ব্যবস্থা করে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটে বাংলা শেখার জন্য ভর্তি হতে হলে বিদেশীদেরকে আগে পুলিশের অনুমতি নিতে হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের বিদেশি মিশনগুলো বাংলা ভাষা শেখানো তো দুরের কথা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ইতিহাসও দুনিয়াবাসীকে জানায় না।

বাংলা ভাষার উচ্চতর গবেষণা ও বাংলা ভাষাকে ডিজিটাল ডিভাইসে প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে সরকারের যেসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা উচিত ছিলো সেটি সরকার পালন করছে না। অতীতের সরকারগুলো এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নিরব ছিলো। তবে এই সরকার একটু নড়ে চড়ে বসলেও তেমন কোন কর্মপ্রচেষ্টা এখনও আমি দেখছি না। সরকারের উচিত হবে বাংলা ব্যাকরণ ও বানান শুদ্ধিকরণ সফটওয়্যার উদ্ভাবন করা, বাংলা টেক্সট টু স্পীচ, স্পীচ টু টেক্সট, অটো ট্রান্সলেশন এবং অপটিক্যাল ক্যারেক্টারের মতো বিষয়গুলোতে যথাযথ বরাদ্দ প্রদান করা এবং সেই কাজগুলো সম্পন্ন করা।

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে এসব পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বটে, কিন্তু দুই বছরে এসব প্রকল্পের কোনটিই আলোর মুখ দেখে নি।

মোস্তাফা জব্বার:  লেখক, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট। বিজয় কীবোর্ড ও  কম্পিউটারে বাংলা লেখার সফটওয়্যার প্রণেতা।

Tags:

WARNING: Any unauthorised use or reproduction of bdnews24.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.
| | More
 -------------------------------------------------------------------------
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর নিজস্ব। bdnews24.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে bdnews24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)

-------------------------------------------------------------------------

৫৮ প্রতিক্রিয়া - “ বাংলা ভাষার শত্রু মিত্র ”

  1. nuruddin on এপ্রিল ১৪, ২০১১ at ১১:২৮ অপরাহ্ণ

    আমি বহু চেষ্টা করেছি বাংলা টাইপ শিকতে, বিজয় দিয়ে, কিন্তু আমি সত্যি কাঁচা, পারি নি,আমি কোণ বিষয়ে কমেন্ট দিতে চেয়েও পারি নি , কারণ আমি বাংলা টাইপ পারিনা,এখন আমি খুব দ্রুত টাইপ করতে পারি, মতামত দিতে পারি, এখনো অভ্র দিয়ে লিখছি, আপনাকে ধন্যবাদ আপনি বিজয়ের আবিস্কারক,তবে আপনাকে বলছি বিদায়, আমি অভ্র এর কল্যাণে আজ আমার ভাষায় টাইপ করতে পারি, এই সউদি আরবের কর্মব্যস্ত সময়ে কোন কষ্ট ছাড়াই লিখছি এটাই বড় আনন্দের, বাংলা ভাষা এভাবেই ঠিকে থাকবে।

  2. বাংলার অহঙ্কার অভ্র on মার্চ ১, ২০১১ at ৭:২২ অপরাহ্ণ

    একদিন বিজয় দিয়ে আমার নাম লিখতে গিয়েছিলাম, প্রায় ১০ মিনিট আপ্রাণ চেষ্টা করে পায়ের ঘাম মাথায় উঠিয়ে আমার নামটি(রফিক আহমেদ তপু )লিখেছিলাম……
    আমি এইতো ২ মাস হবে বাংলা লিখতে পারছি একমাএ অভ্রর জন্য……।
    এই পুরো লেখাটি লিখতে আমার সময় লাগেছে মাত্র ২ মিনিট ।
    অভ্র তুমি এগিয়ে যাও আমার বাঙালি সবাই সাথে আছি …

  3. সত্যের নৌকা on ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০১১ at ৫:২৮ পুর্বাহ্ন

    হামেশা, মোস্তাফা জব্বার সম্পর্কে অজানা কিছু ভয়ঙ্কর তথ্য শীঘ্রই ফাঁস করা হবে। অপেক্ষা করুন।

  4. আদিত্য on ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০১১ at ৭:১৪ অপরাহ্ণ

    প্রথম অভ্র দিয়ে বাংলা লিখতে পারার পর আমার প্রতিক্রিয়া ছিল এমন, গত ৫ বছরে আমার সেরা অর্জন কম্পিউটিং-এ । প্রথম বাংলা লিখতে পেরে কি যে ভালো লাগছিল তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। বাংলা ভাষার জন্য একটি সর্বজনীন ফিক্সড লে-আউট অবশ্যই দরকার তবে সেটা ফোনেটিক হলে ক্ষতি কি !এটা সহজ। We know, Simple is Good. মিঃ জব্বার সাহেবের অর্জন আছে, কিন্তু যে কারনে উনি উনার উদবিগ্নতা প্রকাশ করলেন উনার ইমেজ মানুষের কাছে কমবে বই বাড়বে না।

  5. white wash on ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০১১ at ৫:২২ অপরাহ্ণ

    what i wanted to says u guys already explained in details :D

    i wish i can rift off his posting in too micro pieces…..

    long live অভ্র……. r bejoy er CD rickshaw er pisonay sova pak …

  6. রাব্বি হোসেন on ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০১১ at ৩:৫৯ অপরাহ্ণ

    জনাব মোস্তফা জব্বার,
    আপনি বললেন যে, ফোনেটিকে বাংলা লেখা মানে বাংলা ভাষাকে অপমান করা।
    এখন আপনার কাছে আমার একটা প্রশ্ন।
    আপনি যে বাংলা ভাষাকে কেজি দরে বিক্রি করেন সেইটাতে কি বাংলা ভাষার অপমান হয় না??????

    এবার ভাষাকে সবার জন্য উন্মুক্ত হতে দিন।

    ভাষা উন্মুক্ত হবেই।

  7. Yousuf on ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০১১ at ১:০১ অপরাহ্ণ

    I learned bijoy keyboard several years ago but I am now writing English in protest against this write-up. I will learn Avro soon. We, Bangladeshis, are lagging behind as a nation for such kind greedy person. I wonder how he dares to write this. We need to find out such ‘intellectuals!!!!’

  8. sajid on ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০১১ at ১২:২২ অপরাহ্ণ

    অভ্র ফোনেটিক কিন্তু ঠিক রোমান হরফকে অনুসরণ করে না, অনুসরণ করে qwerty কী বোর্ডকে। উনি যদি বিজয়কে ক্লোজ্ড পেটেন্ট করে না রাখতেন, মাইক্রোসফট অনেক আগেই উইনডোজ ৭ এ বিজয় কী বোর্ড দিত, আর এত কথাও উঠতো না।

  9. আসিফ on ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০১১ at ১০:৪০ পুর্বাহ্ন

    অভ্র সব দিক দিয়া সেরা বিজয় থেকে। যে বাংলা টাইপটা কঠিন মনে হত তা এখন সোজা হয়ে গেছে অভ্র-এর কারণে।

    কাগু,

    আপনার কাছে একটা প্রশ্ন রইলো। কম্পিউটারে বিজয় ইন্সটল থাকলেও ফেইসবুকে বাংলা লিখা যায় না বিজয় দিয়ে। এমনকি বাংলা লেখাও পড়া যায় না। কিন্তু অভ্র ইন্সটল থাকলে খুব সহজে বাংলা লিখা এবং পড়া যায়।

    সব কথার শেষ কথা, অভ্র-এর পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকবো।

    আর আপনি ভাষা নিয়ে ব্যবসা বন্ধ করেন।

  10. বাবর on ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০১১ at ৬:১৭ পুর্বাহ্ন

    আর কতো তেনা প্যাচাবেন? আমি ব্যক্তিগতভাবে বিজয়ও ব্যবহার করিনি, অভ্রও না। এই ধরণের কীবোর্ড হুকিং আমার কাছে ভাল লাগে না। আমি প্লেইন প্রভাতে লিখি। যেটা আমার ওএসে বিল্টইন থাকে।
    তারপরও অবশ্যই অভ্রের পক্ষে। অভ্র অলাইনে বাংলা লেখার পথকে উন্মুক্ত করেছে।
    আর আপনাকে একটা কথা বলি, আপনি এসব বিরোধিতামূলক পোস্ট লিখেছেন, অসুবিধা নাই লেখেন। কারণ এতে অভ্রের কোন ক্ষতিই হবে না। বরঞ্চ ফ্রীতে আরেকটু মার্কেটিং হবে। যারা অভ্র সম্পর্কে কিছুই জানতো না তারাও জানার চেষ্টা করবে, জানার সুযোগ পাবে।

  11. চন্দন on ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০১১ at ৪:২৯ পুর্বাহ্ন

    এতো নিন্দা নিয়ে একজন মানুষ এখনো নিজেকে অনেক বড় বলে প্রচার করে নিজের ব্যবসা’র প্রচার চালায়, ভাবতে অবাক লাগে। জনাব জব্বার, কমেন্ট গুলো পড়ে দেখুন। বাংলা কম্পিউটিং এ যেখানে আপনার নাম (হয়তো কোন একসময়) শ্রদ্ধার সাথে মনে করা হতে পারতো, সেখানে আপনি এখন বাংলা কম্পিঊটিং এর বিষয়ে সবচেয়ে নিন্দিত মানুষ।

  12. মুশফিক on ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০১১ at ৪:১৭ পুর্বাহ্ন

    অভ্র ফনেটিক না থাকলে আজ আমি হয়ত এ বাক্যটি বাংলায় লিখতে পারতাম না, মোবাইল ফোনে এসএমএস-এ যেভাবে রোমান ফন্টে বিকৃত বাংলা লিখতাম, সেভাবেই বাংলা লিখতে হতো। অভ্র আমার জীবনে এক মাইলফলক।

    বেনিয়াদের কপিরাইটের শৃংখল থেকে ভাষা মুক্তি পাক, ভাষার মাসে আমাদের এটাই চাওয়া।

  13. অনার্য সঙ্গীত on ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০১১ at ২:১৬ পুর্বাহ্ন

    আপনি আপনার এই পর্যায়ের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নিজেকে কীভাবে বিজয়ের কর্তা দাবী করেন বুঝি না! রোমান হরফে বাংলা লেখা বলতে আপনি কী বোঝালেন! একটু কষ্ট করে ‘A’ এর জায়গায় ‘অ’, ‘B’ এর জায়গায় ‘ব’ ভেবে নিলেই এটাকে আর রোমান হরফে লেখা মনে হবেনা। আর তাছাড়া ইউনিকোডে লিখতে বাংলা জানতে হয়। বাংলা না জেনে কেবল রোমান হরফ জানলে ইউনিকোডে লেখা সম্ভব না। অবশ্য আপনাকে এতো কথা বলে কোনো লাভ নেই। উপরের যে মন্তব্যগুলো কেউ আমার লেখায় করলে আমি সুইসাইড করতাম সেগুলো আপনি বছরের পর বছর শুনছেন, তাতে আপনার কিছু যায় আসেনি!

  14. জাহিদ হাসান on ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০১১ at ১:২৬ পুর্বাহ্ন

    অভ্রর সাথে ছিলাম ।। আছি ।। থাকবো ।।

  15. মাহবুব on ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০১১ at ১:১৪ পুর্বাহ্ন

    এইখানে ফোনেটিকে লিখে জব্বার সাহেবকে নিন্দা জানাই।

  16. তাহমিদ on ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০১১ at ১:১৩ পুর্বাহ্ন

    বেচারার জন্য আমার দুঃখ হয়…মানুষকে এখনো উনি বোকা ভাবেন…উনি ভেবেছিলেন মানুষের সামনে যা ইচ্ছা তাই কপচাবেন আর সবাই তা সহ্য করে যাবেন…শুধু মাত্র অভ্রর কারনেই আজ সবাই সহজেই বাংলা লিখতে পারছে একথা যুক্তি তর্ক দিয়ে বোঝানোর কিছু নেই…যে অভ্রর কারনে সারা দুনিয়ায় ইন্টারনেট এর মাধ্যমে আজ বাংলা ভাষা লেখার যে জোয়ার শুরু হয়েছে তাদেরকেই তিনি বাংলা ভাষার শত্রু বলছেন….কিন্তু আমরা সবাই জানি কারা আসল শত্রু…

  17. শর্মা-ই-আযম on ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০১১ at ১:০৩ পুর্বাহ্ন

    জব্বার সাহেব, আপনি কি জাতিকে অশিক্ষিত-নির্বোধ পেয়েছেন? ভাষার মাস, ভাষা আন্দোলন, এইসব কথা বলে গলাবাজি করবেন। আপনার মত ব্যক্তির লজ্জা হওয়া উচিত। আপনি কি এবং কেমন তা আমরা দেখে নিয়েছি। দয়া করে আর ভাষা প্রেমিক সাজতে যাবেন না। রাজাকারদের দেশপ্রেমিক সাজা দেখতে দেখতে বিরক্ত হয়ে আছে সবাই। ব্যবসার জন্য মিথ্যচারিতা, ফালতু যুক্তি প্রদর্শন।

    অনেক হয়েছে। আপনার আর বাজার নাই। কাকে কী বুঝাতে আসেন। দেশের মানুষ অনেক ভাল বুঝে। এত এত স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আর শিক্ষিত মানুষকে কে বোকা পেয়েছেন। বিটিভিতে আপনাকে কম্পিউটারে গুতাগুতি করতে দেখতাম, তখন ভাবতাম না জানি কি রে বাবা। এখন তো আপনি কী তা বুঝেই নিয়েছি।

    শুধু শুধু লাফ ঝাফ মারবেন না। এখনও সময় আছে, নিজের মান-সম্মান বাঁচিয়ে চুপ থাকুন। আপনি একসময় উপকার করেছেন এটা সবাই স্বীকার করবে, আপনাকে ধন্যবাদ জানাবে, শ্রদ্ধা জানাবে। কিন্তু বর্তমানে যা করছেন তাতে তীব্র অপমানিত হবেন। ভাল-মন্দের বিচার মানুষ ভাল করেই বুঝে এখন। এসব কুযুক্তি দিয়ে মানুষের চোখে ধূলা দিতে পারবেন না।

    ন্যূনতম যদি জ্ঞানবুদ্ধি আর আত্মসম্মান থাকে তো আশাকরি জীবনে এমন ‘ভূতের মুখে রাম নাম’ জাতীয় লেখা লেখবেন না। আপনার বুদ্ধি-বিবেচনা আর আত্মসম্মান দেখার আশায় রইলাম।

  18. Faroque on ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০১১ at ১২:৫৭ পুর্বাহ্ন

    মাইক্রোসফট তাদের উইন্ডোজ সেভেন অপারেটিভ সিস্টেমে বাংলা লেখার সুবিধার্থে যখন বাংলা জাতীয় কীবোর্ডকে নির্বাচন করেছিল তখন আপনি আপত্তি জানিয়েছিলেন। যার কারণে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ সেভেনে বাংলা ভাষার উদ্যোগটি বাদ দিয়েছিল। আপনি নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থে তথ্য প্রযুক্তির জগতে বাংলা ভাষার যে অপূরণীয় ক্ষতি করেছেন তার জন্য বাঙালি জাতি আপনাকে কখনো ক্ষমা করবে না। বাংলা ভাষার জন্য আপনার এসব লোক দেখানো মায়াকান্নার নিন্দা জানাই।

  19. অনার্য সঙ্গীত on ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০১১ at ১২:৫৩ পুর্বাহ্ন

    আপনি আপনার এই পর্যায়ের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নিজেকে কীভাবে বিজয়ের কর্তা দাবী করেন বুঝিনা! রোমান অক্ষরে বাংলা লেখা বলতে আপনি কী বোঝালেন! একটু কষ্ট করে ‘A’ এর জায়গায় ‘অ’, ‘B’ এর জায়গায় ‘ব’ ভেবে নিলেই এটাকে আর রোমান অক্ষরে লেখা মনে হবেনা। আর তাছাড়া ইউনিকোডে লিখতে বাংলা জানতে হয়। বাংলা না জেনে কেবল রোমান অক্ষর জানলে ইউনিকোডে লেখা সম্ভব না। অবশ্য আপনাকে এতো কথা বলে কোনো লাভ নেই। উপরের যে মন্তব্যগুলো কেউ আমার লেখায় করলে আমি সুইসাইড করতাম সেগুলো আপনি বছরের পর বছর শুনছেন, তাতে আপনার কিছু যায় আসেনি! আসলেও ব্যাবসায়ী হতে গেলে চোখের চামড়া ফেলে দিয়ে গায়ের চামড়া শক্ত করে নিতে হয়!

  20. LuckyFM on ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০১১ at ১২:৪৭ পুর্বাহ্ন

    আমি ইন্টারনেটে বাংলায় লিখেছি অভ্র দিয়ে।

    আর এখন আমি বাংলায় করি ব্লগিং হবি হিসেবে, হয়তো বা পেশা হিসেবেও
    তাই কাগুরে যত কথাই বলেন কোন লাভ নাই
    অভ্রর সাথে ছিলাম ।। আছি ।। থাকবো ।।

  21. রন তানহা on ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০১১ at ১২:৪৩ পুর্বাহ্ন

    “অভ্র” যদি আপনার কোড চুরিও করে থাকে তাহলেও ঠিক করেছে। কারন আপনি হচ্ছেন একজন ভাষা…, আর অভ্র হল রবিন হুড যে আপনার লুটের মাল আবার লুট করে সবার কাছে বিলিয়ে দিয়েছে।

    বাংলা ফোনেটিকে যদি প্রান গেলেও না লিখবেন, কম্পিউটারে ভাষা প্রতিষ্ঠিত করতে যদি এতই চাইবেন তাহলে বিজয়ের কোড লেখার সময় ইংরেজীতে (বেসিক, সি, সি++ যাই হোক না কেন) লিখলেন কেন? বাংলা ভাষায় কোডিং বানিয়ে তারপর লিখতেন। আপনি আপনার সফটওয়্যারে মাধ্যম হিসেবে ইংরেজীকে নিতে পারলেন, আমরা কেন আমাদের লেখার রূপান্তরের মাধ্যম হিসেবে ইংরেজীকে নিতে পারব না? কোনদিন পারলে জবাব দিবেন, অপেক্ষায় থাকব।

  22. প্রীতম on ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০১১ at ১২:৩৪ পুর্বাহ্ন

    “আমি রোমান হরফের সাথে বাংলা কীবোর্ডের মিল রাখার সেই যুক্তিটা মানি নি। কারণ ইংরেজী বি বোতামে ব রাখলে সেই মানুষটির জন্য উচ্চারণগত সুবিধা হবার কথা যার মাতৃভাষা ইংরেজী। কিন্তু যে লোকটির মাতৃভাষা বাংলা তার ক্ষেত্রে বাংলা আগে শেখার কথা এবং তারপরে দুনিয়ার অন্য ভাষা শেখার কথা। ”
    আপনার কি মনে হয় যে লোকটির মাতৃভাষা বাংলা সে বাংলা ইংরেজীর চেয়ে আগে শিখলেও কি-বোর্ডেও সে বাংলা কি-বোর্ড ইংরেজীর চেয়ে আগে শিখবে??? হাসালেন জনাব!!!

    “অতি সাধারণ কৃষককে যখন আমরা রোমান হরফ চেনানোর চেষ্টা করছি তখন পুরো বিষয়টাকেই দুঃখজনক বলতে হবে।”
    রোমান হরফ বা ইংরেজী কি আপনার-আমার পৈতৃক সম্পত্তি??? ইংরেজী কি তার জন্য অচ্ছুত??? সে কি ইংরজী শিখতে পারেনা???
    অদ্ভুত কিছু কথা শুনালেন।

  23. Nasrul Mejbah (এন.মেজবাহ) on ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০১১ at ১২:২৫ পুর্বাহ্ন

    কখনোই উনার টনক নড়বে কিনা তা নিয়ে ব্যাপক চিন্তিত।

  24. রোদ্দুর on ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০১১ at ১২:১৮ পুর্বাহ্ন

    জনাব জব্বার,

    ১. বাংলাদেশে ইন্টারনেটের চর্চা শুরু হয়েছে তো আজ থেকে প্রায় পনের বছর আগে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ অনলাইনে বাংলা লেখার সু্যোগ পেয়েছে ২০০৩ সালের দিক থেকে। তাও আবার আপনার জানের জান পরানের পরাণ ‘বিজয়’ দিয়ে না। অভ্র দিয়ে।
    ২. এক্সপি’র জন্য আপনার বিজয়ের দাম ৫০-১০০ টাকা আর যখন কেউ উইন্ডোজ সেভেনে বিজয় ব্যবহার করতে যায় তখন তার দাম হয়ে যায় ৫০০০-৫৫০০ টাকা !!! দামের এই বিশাল পার্থক্য কোন দুঃখে শুনি ?
    ৩. ভাষা নিয়া আপনার এতো কথা আগে কোথায় ছিলো….???

    আর যাই করেন বা নাই করেন ভাষা নিয়া অন্তত ব্যবসার ফন্দি করবেন না। এর চাইতে কাঁচাবাজারে গিয়া আলু পটল বেচাও ভালো।

  25. দি পাতি কোডার on ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১১ at ১১:৫৩ অপরাহ্ণ

    জনাব জব্বারের এই লেখার জবাবে একটা কথাই বলতে চাই- “অভ্র,ভাষা হোক উন্মুক্ত।” কোন ষড়যন্ত্র করে আপনি অভ্রকে থামাতে পারবেন না। বাংলা ভাষা একদিন ইন্টারনেটে তার অবস্থান শক্তিশালী করবেই,এবং তা করবে অভ্রর হাত ধরেই।

  26. জাহিদ on ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১১ at ১১:৫০ অপরাহ্ণ

    জনাব,

    আপনি মনে করেন বাংলাদেশের আর কেউ বাংলা লেখার সফটওয়্যার কোন দিন তৈরি করতে পারবে না ? নাকি তৈরি করতে হলে আপনার “বিজয়” নামক ফালতু একটি সফটওয়্যারের কোড চুরি করে তৈরি করতে হবে ?

  27. পলাশ রঞ্জন সান্যাল on ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১১ at ১১:৩৬ অপরাহ্ণ

    আপনি অনেক কিছুই বলছেন এবং আশা করি বলবেন। আপনি থামবার পাত্র হলে আগেই থামতেন।
    কাজের কাজ যেটা করছেন আমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছেন অভ্র আমাদের জীবনে কত বড় প্রভাব ফেলছে।
    আমার মা আজ বাংলা লিখতে পারছে শুধুমাত্র অভ্রের জন্য। আমি, আমার পরিবার, আমার বন্ধু-বান্ধব সবাই বাংলা লিখছে আজ অভ্রের জন্য।
    অভ্র এগিয়ে যাবে আপন গতিতে এবং ভাষা অবশ্যই উন্মুক্ত হবেই।
    আমি বাংলায় কথা বলি, আমি অভ্রতে বাংলা লিখি।

  28. জব্দফা মুশতার on ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১১ at ১১:২৬ অপরাহ্ণ

    জব্বার সাহেব, বিজয়ের সিডিতে ভাইরাস কেন?

    • নাঈমুল হোসেন on ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০১১ at ৯:৫৬ পুর্বাহ্ন

      উনি নিজেই বাংলা ভাষার জলজ্ব্যান্ত শত্রু নন কী?.

  29. zero on ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১১ at ৯:০০ অপরাহ্ণ

    জব্বার সাহেব, মুখে না, কাজে দেখাতে পারলে আপনিও সম্মান পেতেন।শুভ কামনা আপনার প্রতি ।

  30. Fahim Murshed on ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১১ at ৮:৪৪ অপরাহ্ণ

    ইচ্ছার উপর কিছু নেই। আমি যদি ইচ্ছে করি আজ কষ্ট করে অন্য কিবোর্ড লেআউট মুখস্ত করবো, আমাকে তা করতেই হবে। আপনার বিজয় এখন আবর্জনা। ওটা এখন ডাষ্টবিনের তলায় শোভা পাচ্ছে। নিজের সম্মান নিজেই নষ্ট করলেন।

    ভাল থাকুন।

    Gournadi.com

  31. নাঈমুল হোসেন on ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১১ at ৭:২৩ অপরাহ্ণ

    কম্পিউটারে বাংলা লেখার পদ্ধতি প্রচলনে আপনি নিজের যে কৃতিত্ব দাবী করেন, সেটা কতটুকু সত্য সচেতন মহল সেটা ভাল করেই জানে। বুয়েটের একজন ছাত্র (যার নাম এখানে উল্লেখ করার প্রয়োজন মনে করছিনা) বিজয় কিবোর্ড আবিষ্কার করেন, আপনি শুধুমাত্র সেটা বাজারজাত করেছেন। তারপর থেকে ঐ বুয়েটের ছাত্রের কথা সবাই ভুলে গেছে, মনে রেখেছে আপনার নাম। বাংলাদেশের বেশীরভাগ মানুষ তথ্যপ্রযুক্তির সর্বাধুনিক তথ্য সম্বন্ধে অজ্ঞ, তাদের সরল মনে আপনি গেঁথে দিয়েছেন বিজয়ের আবিষ্কারক আপনি, আর তারা সেটাই মেনে নিয়েছে। জনগণের সরল বিশ্বাসকে ধোঁকা দিয়ে একটা মিথ্যা তথ্য প্রতিষ্ঠা করার যে বুদ্ধি, সেটা আপনার মত খুব কম লোকই হয়ত জানে।
    ভোটার তালিকা করার সময় বাংলা লেখার দরকার হওয়ায় আপনার কাছে প্রস্তাব দেয়া হলে আপনি বাংলা ভাষা নিয়ে ব্যবসা করার মানসিকতা দেখিয়ে তার জন্য চড়া মূল্য দাবী করেন, যেখানে একজন বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে আপনার উচিৎ ছিল বিনামূল্যে তা সরবরাহ করা। মেহেদী হাসান এবং তাঁর অভ্র টিমের সদস্যরা যখন নির্বাচন কমিশনকে বিনামূল্যে অভ্র সফটওয়্যার সরবরাহ করল, সেটা আপনার মত মানসিকতার মানুষের সহ্য হয়নি, অভ্র’কে আপনার বিজয়ের নকল হিসেবে অভিহিত করে নোংরা কুটচাল চালিয়ে অভ্র টিমকে বাধ্য করলেন কথিত সেই লেআউট অভ্র থেকে বাদ দিতে।

    বাংলা ভাষা যেখানে আমাদের মায়ের ভাষা, সেই ভাষা নিয়ে আপনার এমন মানসিকতা সম্বন্ধে যেখানে সবাই সচেতন, সেই সময়ে এসে আপনার এই বড় বড় বুলি কারও কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

  32. MuKuT on ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১১ at ৬:৪৮ অপরাহ্ণ

    সেদিন আর বেশি দূরে নেই, যেদিন ‘বিজয়’ আস্তাকুড়ে পড়ে থাকবে, অথবা যাদুঘরে প্রদর্শিত হবে, নিচে ক্যাপশনে থাকবে, ‘বাংলা অক্ষরকে টাকার শৃংখলে আবদ্ধকারী একমাত্র সফটওয়ার, যা ওপেন সোর্স এর কাছে পরাজিত হয়ে এখন যাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে নবীন প্রজন্মকে এর কালো অধ্যায় দেখাতে।’

  33. হাটুরে on ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১১ at ৬:০৫ অপরাহ্ণ

    এই লেখাটা কী ফরম্যাটে প্রকাশিত হয়েছে জানার খুব ইচ্ছা! অভ্র’তে বিজয় কি বোর্ড থাকলে কি খুব সমস্যা হতো বাংলা ভাষার! পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন তো আপনি। আমি তো ঠিকই ইউনিবিজয় দিয়ে লিখছি। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে কয়জন বাংলা কি বোর্ড ব্যবহার করতে পারে? যারা পারে তাদেরও তো আপনার বিজয় কিনে নিতে হয়। কিবোর্ড থেকেও টাকা পান, আবার বিজয় উচ্চমূল্যে বিক্রি করেও টাকা পান। আপনি বলেন, বাংলা ভাষাকে কম্পিউটারে সাধারণীকরণের ক্ষেত্রে এই মূল্যে সফট্ওয়ার কিনে তার ব্যবহার করার সামর্থ্য কয় জনের আছে??? আর বিজয় কিনলেই বাংলা ভাষার রক্ষা হয়, আর অন্য কিছু করলে হয় না?? সব আলোচনাকে বিজয় কেনার দিকে নিয়ে আসার ফিকির বন্ধ করে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বানিয়ে কী করছেন তা তো দেখছিই…ডিজিটাল মানেই কম্পিউটারাইজড না..এটা কি বোঝেন?? না বুঝলে কারো কাছ থেকে জেনে নেবেন। শেখার মধ্যে লজ্জার কিছু নাই, অগ্রজ অনুজ সবার কাছেই শেখা যায়। গ্রহণ করতে শেখেন, ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করেন।

  34. ফাহাদ on ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১১ at ৪:২৫ অপরাহ্ণ

    নিজের business এর পক্ষে জনমত গঠনের উদ্দেশে লিখা। বাংলা ভাষার জন্য ভালবাসার জন্য লিখা না।

  35. নাফীস on ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১১ at ১:৩৫ অপরাহ্ণ

    অভ্র আছে বলেই আমি আজকে বাংলা লিখতে পারি। আমরা সবাই অভ্রকে নিয়ে থাকতে চাই।

  36. রাজীব on ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১১ at ১:১৮ অপরাহ্ণ

    কিছুতেই উনার টনক নড়বে না। উনি মনে করেন যত বেশি মানুশ উনার সমালোচনা করবে ততই উনার পপুলারিটি বৃদ্ধি পাবে। উনি তার লেখায় পক্ষান্তরে সবাইকে বাংলা কী বো্র্ড মুখস্ত করে বাংলা লিখতে বলেছেন। ফোনেটিকে বাংলা লেখা বাংলা ভাষার জন্য অপমানজনক। কারন তা রোমান হরফে লিখিত। সত্যি বলতে কি এটা তার উর্বর মস্তিষ্ক থেকে নির্গত হয় নাই।এটা উনার ব্যবসার কোন কাজে লাগে নাই বরং কোটি কোটি টাকা লস করিয়ে দিয়েছে।এর পর থেকেই চাচা অভ্রর উপর খুব ক্ষেপা।

  37. ইলুসন on ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১১ at ১২:০৩ অপরাহ্ণ

    যখন ক্লাস ৬ এ পড়তাম তখন থেকেই মোটামুটি কম্পিউটার গুতাগুতি করি। আমার বাংলা টাইপ করতে অনেক ইচ্ছে করত,তাই মামার বন্ধুর দোকান থেকে একটা লিস্ট আনি যাতে বাংলা অক্ষরগুলো কোনটা কীভাবে লিখতে হবে তা দেয়া ছিল। খুব খুশি হয়ে আমার খালুকে বললাম খালু বাংলা টাইপ শিখব। খালু বলেছিল টাইপিস্ট হবা নাকি? এতো কষ্ট করতেছ কেন? আমার উৎসাহে ভাটা পড়ল, এরপরে আর কখনও চেষ্টাও করিনি। বাংলা টাইপিং এর সাথে আমার দীর্ঘ বিচ্ছেদ! আসলেই তো এত কষ্ট করব কেন? তার উপর সফটওয়্যারটাও চুরি (ক্র্যাক) করতে হবে, টাকা দিয়ে কিনবে কে? আর এখন আমি বাংলা লিখতে ভয় পাই না, কারণ এই অভ্র। আমার বাংলা টাইপ শিখতে মাত্র ২মিনিট লেগেছে। আজ ২১শে ফেব্রুয়ারীর দিনে তাই তাদের জানাই সালাম। তোমরা অনলাইন জগতটাকে আমাদের জন্য মুক্ত করেছ, কিন্তু এর জন্য কোন বিনিময় মূল্য নিচ্ছ না।

    ভাষা শহীদদের প্রতি রইল আমার সহস্র সালাম আর তাদের প্রতি যারা ভাষাকে করেছে উন্মুক্ত।

    অভ্র। ভাষা হোক উন্মুক্ত।

  38. IncogNito on ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১১ at ১১:৪১ পুর্বাহ্ন

    ইনকগনিটো বলেছেন: মোস্তাফা জব্বার সাহেব বাংলা ভাষা অর্জনের জন্য যে কষ্টের ইতিহাস লিখলেন বা কপচালেন তা ভালোই লেগেছে । আস্তে আস্তে উনার পুরো পোস্টটা পরে মন খারাপ হল।

    যেখানে দুনিয়া আগাচ্ছে কষ্টকে জয় করে সবকিছু সহজ করার জন্য , উনি সেখানে মান্ধাতার আমলের ইতিহাস টেনে অদ্ভুত এবং হাস্যকর কিছু ব্যখা দিলেন । মানুষ তো সবকিছু সহজভাবেই করতে চাইবে । এটাই প্রকৃতির নিয়ম । কেন একটা জিনিসকে মানুষ কঠিন করে করতে চাইবে ?তার পিছে কী যুক্তি ??? ইতিহাস ধরে বসে থাকলে তো আমাদের কারোই শার্ট-প্যান্টও পরা উচিৎ না । শার্ট-প্যান্টও নিশ্চয়ই বাঙালি পোশাক বলে এই লেখক ভুল করবেন না । যদি কষ্ট করেই বাংলা লিখতে হয় , যদি বাংলাকে সহজ করেই না লিখা যায় ,তাহলে তো সেই যুক্তি অনুসারে কষ্ট করে উর্দুকেও রাষ্ট্রভাষা বানানো যেতো । কেন তাহলে আমরা বাংলা ভাষার জন্য এতকিছু করলাম ??? আমরা ভাষার জন্য প্রান দিয়েছি এই কারণে যে ভাষাটা আমাদের জন্যই তৈরি ,আমরা এই ভাষাতেই সহজ বোধ করি । একজন বিদেশীর কাছে তো এই ভাষাটা এতো সহজ না । এখন যদি বাংলায় ভাব প্রকাশের জন্য রোমান হরফ ব্যবহারও করা হয় , ভাষা তো হারিয়ে যাচ্ছে না ।

    লেখক কি বোর্ডে রোমান বি-এর জায়গায় ব কে জায়গা দিতে নারাজ । যেখানে পুরো পৃথিবীতে চলছে বিশ্বায়নের জয়যাত্রা সেখানে তার এই যুক্তিকে আমার গোঁয়ার্তুমি ছাড়া আর কিছুই মনে হয়না ।

    যে জিনিসকে কষ্টকর মনে হয় , তা মানুষ কেন করবে??? আমি তো বাঙালি হিসেবেও ফনেটিকের কাছে অনেক ঋণী । সবাই লিখতে পারছে , এটাই তো আসল । কিভাবে লিখছে সেটার তো প্রয়োজন নাই।

    মোবাইলকেও বাংলা বানাবেন লেখক । বানান দেখি ।

  39. ধ্রুবো on ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১১ at ১০:২৪ পুর্বাহ্ন

    জনাব মুকুটের সাথে সহমত, আপনাকে জিন্নাহর ডিজিটাল সংস্করন বললেও ভুল হবে না।

    এই যে ইন্টারনেটে বাংলা লিখছি এটা কিন্তু আপনার অবদান নয়, এটা আপনি যাদের পাইরেট বলছেন তাদের সহ আরও অনেক ওপেন সোর্স বাংলা প্রেমীদের অবদান।

    আমিও আহবান জানাবো আপনি এই ভাষার মাসে আপনার পেটেন্ট সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিন।

  40. mosk on ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১১ at ১০:১৭ পুর্বাহ্ন

    কবে যে আপনার প্রোডাক্টটিকে জাতীয় জাদুঘরে রাখা হবে…..”বিক্রয়ের জন্য নহে,শুধু প্রদর্শনের জন্য”

  41. Romel on ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১১ at ৯:৩০ পুর্বাহ্ন

    dear Mostofa Jobbar, you know very well how did you managed BIJOY from a group of BUET students long before. now you are accusing someone is copying BIJOY. this is the fun of February 2011. Do you think only you can use code and no one else?
    its very pathetic a man like you write something baseless and fully from personal anger.
    please leave your business minded emotion at home and write something gentle here.
    mind it, money will never bring peace in your mind if you are greedy. you want more by any means.
    Romel Ahmed
    UTAH USA

  42. রিয়াজ on ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১১ at ৭:০৫ পুর্বাহ্ন

    এমন অনেক কথা শোনা যায়, যেই “বিজয়” নিয়ে আমরা(হাতে গোনা কিছু মানুষ) এবং আমাদের দেশের একজন বড় ব্যবসায়িক (যিনি ভাষা নিয়ে ব্যবসা করেন)সেই সফটওয়্যারটি তা নিজে বানান নি। এমন কি, যিনি বানিয়েছেন, তাকে তার সম্পূর্ন পেমেন্টও করেন নি। সেই মানুষটি যদি, ভাষা নিয়ে এমন কথা বলেন বা লিখেন , তবে তাকে কী বলা যেতে পারে ?

  43. mukta Sarawar on ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১১ at ৭:০১ পুর্বাহ্ন

    অনেক টাকা কামিয়েছেন, এবার জনগণকে মাতৃভাষাতে পয়সা ছাড়া লিখতে দিন।

  44. Robin on ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০১১ at ৬:০৩ অপরাহ্ণ

    জাব্বার সাহেব মনে হয় ফোনেটিক-এর কথা বলতে চাইছেন। সরাসরি কথাটা বললে বুঝতাম ওনার সৎ সাহস আছে।

  45. moiin.বিডি on ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০১১ at ৫:৪৩ অপরাহ্ণ

    ধন্যবাদ জনাব মোস্তাফা জব্বার, আপনি যা বলেছেন যথেষ্ট যুক্তিসম্পন্ন বক্তব্য! আশা করব আপনি হাল ছেড়ে দিবেন না!

    সত্য কথা কি জানেন, এই যে আমি এখন যেই মন্তব্যটি লিখছি তা কিন্তু রোমান হরফ দিয়েই যা পরবর্তিতে বাংলায় রূপান্তর হয়ে যাচ্ছে! আমাদের দেখতে হবে কেন আমরা এমন করছি! খুব সংক্ষেপে বললে বলতে হবে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার অভাবেই আমরা এমন করি! আরেকটা কথা সরকারের ইচ্ছার অভাব বা তাদের ধীর কর্মপদ্ধতি যা আমরা আমাদের স্বাধীনতার পর থেকেই উপলব্ধি করতে পারছি! আমাদের দেশে উল্লেখ করার মত অনেক কিছুই বেসরকারী উদ্যোগের কারণে হয়েছে! তাই, সমগ্র কিছু বিচার বিবেচনা করলে যারা বাংলা ভাষা নিয়ে কাজ করছেন (সরকারী বা বেসরকারী) তাদেরও কিন্তু অনেক দায়িত্ব থাকার কথা! আপনি যেহেতু একজন বেসরকারী প্রতিনিধি (এই মুহুর্তে) এবং কম্পিউটারে বাংলা নিয়ে কাজ করা একজন আদি কর্মী সেখানে আপনার দায়িত্ব কিন্তু অনেক অনেক বেশি! আমার জানা মতে আপনি বা আপনার প্রতিষ্ঠান চাইলে আরো অনেক কিছুই করতে পারতেন বা পারেন! ব্যবসা করার সময় কিছু ভুল ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত অনেক সময় সেই ধরনের “কিছু করা” থেকে অনেককেই বিরত রেখেছে!

    আপনার জন্য শুভকামনা রইলো!
    moiin.বিডি@জিমেইল.কম

  46. মামুন-আর-রশিদ on ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০১১ at ৪:৫৯ অপরাহ্ণ

    জনাব মোস্তফা জব্বার সাহেব।

    বাংলা ভাষার সবচেয়ে বড় শত্রু আপনি নিজে। আর সবচেয়ে বড় মিত্র ‘অভ্র’ ডেভলপারগণ। আপনি আমাদের মাতৃভাষা নিয়ে বানিজ্য করছেন। যেভাষার জন্য আমার পূর্বপুরুষগণ জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে, সেই মায়ের ভাষায় নিজের অনুভূতিকে লিখতে গেলে আপনাকে টাকা দেয়া লাগে। একটা জাতির জন্য তার মাতৃভাষা নিয়ে এর চেয়ে বড় ট্রাজিডি আর কী হতে পারে আপনি নিজেই বলেন?

    আপনার জন্যই এখনও পর্যন্ত জাতীয় কিবোর্ডটা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে নি। আপনার ভাষা নিয়ে ব্যবসা করার পথ বন্ধ হয়ে যাবে- এই ভয়ে আপনি প্রপাগন্ডা শুরু করলেন জাতীয় কিবোর্ড নাকি আপনার বিজয়ের নকল। আপনার বিজয়ই মুনীর কিবোর্ডের নকল। আমাদের দেশের মানুষের শিক্ষার হার অনেক কম। প্রযুক্তি শিক্ষার হার আরও কম এবং প্রযুক্তি সচেতনতার হার আরো আরো আরও কম। এই সুযোগটা গ্রহন করে আপনি প্রপাগন্ডা চালিয়েছেন। ভোটার তালিকা প্রনয়নের সময় আপনার কাছে গেলে দেশের পাঁচ কোটি টাকা গচ্চা দেয়া লাগতো, যেটাকা দেশের সাধারণ মানুষের পকেট থেকে যেতো। কারণ আপনি ট্যাক্স দেন না। তথ্যপ্রযুক্তি খাত আয়কর মুক্ত। আপনি এই সুযোগ গ্রহণ করে বসে আছেন। শুধুমাত্র অভ্রের কারনে সারা দুনিয়াতে যারা শুধুমাত্র বাংলা পড়তে পারতো, তারা আজ বাংলা লিখতেও পারছে। একদিন হয়তো তারা বাংলা বলতেও পারবে। একটা ভাষার জন্য এর চেয়ে বড় অবদান আর কীই বা হতে পারে? আজ অভ্র থাকায় আমরা ইন্টারনেটে অহরহ বাংলা ব্যবহার করতে পারছি। আর আপনি সেই অভ্রকে গলাটিপে হত্যা করতে চান শুধুমাত্র আপনার ব্যবসার জন্য।

    অথচ আপনি বাংলা ভাষার সবচেয়ে বড় মিত্র হতে পারতেন। আপনার সেই সুযোগকে আপনি টাকা কামানোর কাজে ব্যবহার করছেন। আপনি চাইলে কর্পারেট হাউস, পাবলিশিং হাউস- এসব প্রতিষ্ঠানে আপনার বিজয় নিয়ে ব্যবসা করতে পারতেন। আর ইন্টারনেটে মায়ের ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য আপনার বিজয়কে উন্মুক্ত করতে পারতেন। এটা আপনাকে কতোটা সম্মানিত করতো তা আপনি কল্পনা করতে পারবেন না। কারন আপনি টাকা ছাড়া আর কিছুই বোঝেন না।

    • বাঙ্গালী on ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১১ at ২:৪৯ পুর্বাহ্ন

      আপনার সাথে একমত। জব্বার সাহেবের বাংলার প্রতি মহব্বত প্রকাশ আর জামাতি গোলাম আযমের ভাষাযুদ্ধ একই কথা। আপনি আমাদের সরলতা ও সরকারগুলোর অবহেলার সুযোগ নিয়ে বাংলা ভাষাকে জিম্মি করেছেন, টাকা কামাচ্ছেন। আপনার মুখে বাংলাভাষার ভালো কথা মানায় না।

      • জায়েদ হাসান on ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০১১ at ১২:৩১ পুর্বাহ্ন

        আরে পড়লেন না, উনি বলেছেন,
        “…আমি আসলে চীনাদের মতো..”

        উনি বাংলার কী বুঝবে? উনি বুঝবেন চীনাদের মতো ব্যবসা!

    • mukut on ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১১ at ৮:০৩ পুর্বাহ্ন

      ধন্যবাদ মামুন। আমার মনের কথাগুলিই আপনি গুছিয়ে লিখেছেন।আপনার প্রতিটা কথার সাথে সহমত।

      জনাব জব্বারকে জানিয়ে দেই, এই লেখাগুলি সব অভ্রতে লেখা।

    • ফাহাদ on ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১১ at ৪:২৭ অপরাহ্ণ

      আপনার সাথে একমত।

    • নাছির আহমেদ কুশল on ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১১ at ৭:৪৯ অপরাহ্ণ

      চরমভাবে একমত!

  47. Nur Ahmed on ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০১১ at ৪:৪৯ অপরাহ্ণ

    I wonder why the two proposals of BDCC could not be implemented under a government who proclaimed “digital Bangladesh” with loud voice? Dr Jabbar did not mention why the proposals did not get through.

    Could Dr Jabbar let us know where is the bottleneck and who is responsible for pushing aside those proposals? I believe those proposals squarely fit into the “digital Bangladesh” scheme of the Hasina govt.

    • শামীম on ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১১ at ১:০০ অপরাহ্ণ

      I wonder about the salutation you mentioned ;-p

      No wonder, self proclaimed propaganda can make this kind of false image of a devil.

    • অর্ণব on ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১১ at ১১:২৭ অপরাহ্ণ

      I heard Mr. Jabbar asked for tk. 50m for the job! whereas avro did it for free.

  48. শর্মা-ই-আযম on ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০১১ at ১১:২৫ পুর্বাহ্ন

    ভূতের মুখে রাম নাম মনে হয় একেই বলে!!!

  49. mukut on ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০১১ at ৬:৪১ পুর্বাহ্ন

    “প্রথমত যে বিষয়টি ভাষা আন্দোলন নিয়ে যারা আলোচনা করেন তাদের জন্য বলা দরকার সেটি হলো ভাষা আন্দোলন কেবলমাত্র বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে নয়। ভাষা আন্দোলন ভাষার পাশাপাশি সেই ভাষা লেখার হরফ নিয়েও। বাংলা ভাষা পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে এবং সেটি বাংলা হরফের বদলে অন্য হরফে লেখা হবে সেটি আমরা গ্রহণ করি নি। আমাদেরকে দুটি বিষয় নিয়েই একসাথে আন্দোলন করতে হয়েছে। যেমন করে আমরা বাংলা ভাষাকে রক্ষা করেছি তেমন করে বাংলা ভাষা লেখার হরফকেও রক্ষা করেছি।”

    আপনার এই বাংলাভাষার হরফ রক্ষা করা কি ‘বাংলা কীবোর্ড’কে প্যাটেন্ট নামক বন্দীখানায় কুক্ষিগত করে রাখার মাধ্যমে? এভাবেই কি বাংলা হরফের রক্ষা করছেন? বাংলা কীবোর্ডের প্যাটেন্ট নিয়ে আপনি যা করছেন তা আপনার ক্ষেত্রে মানায় না। জিন্নাহ বাংলা ভাষাকে আবদ্ধ করে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করতে চেয়েছিলো, কিন্তু পেরেছে কি? জোর করে দমাতে পারে নি। এই সময়ের শব্দ সৈনিকরা যখন বাংলা হরফের মুক্তির জন্য ওপেন সোর্স এবং ফ্রী বাংলা কীবোর্ড প্রনয়ন করেছিলো, আপনি প্যাটেন্ট এর ধুয়া তুলে তাদের সাথে যা করেছেন, তাতে আপনাকেও আমি এই সময়ের জিন্নাহ বলে মনে করি। মনে রাখবেন, জোর করে কোন কিছু দমিয়ে রাখা যায় না। সবাই এখন মুক্ত বিহঙ্গ, বিজয় কীবোর্ড বাংলা লেখনির প্রচলন শুরু করলেও এর সামগ্রিক পূর্ণতা এসেছে অভ্র-র আগমনে। আমরা বিজয়ের বিরোধী না, তবে আপনার অনাহুত বাংলা হরফের উপড় এই শৃংখলাচারন মানায় না। টাকাতো অনেক ইনকাম করলেন, এবার বাংলা হরফকে মুক্ত করে দিন। এটাই হোক ভাষার মাসে আপনার উপলব্দি।

  50. হামেশা on ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০১১ at ৪:০৯ পুর্বাহ্ন

    এসব লেখার কী প্রয়োজন ছিল? নতুন কোন তথ্য থাকলে জানাতেন। নিজের এবং পাঠকদের সময় নষ্ট করলেন।

মন্তব্য করুন

প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

Get Adobe Flash playerPlugin by wpburn.com wordpress themes

ফেসবুক লিংক

ট্যাগ

সর্বশেষ মন্তব্য

আর্কাইভ