Feature Img

hassan-ah2একেবারে চাঁছাছোলা একটি প্রশ্ন যদি করি যে বাংলা ভাষা টিকবে কি না। আবেগ ভালোবাসা মিলিয়ে হয়তো বললাম টিকবে। কিন্তু কোনো ভাষাই কেবল আবেগ আর ভালোবাসার উপর টিকে থাকে না। আবার পুরোপুরি শক্তিমত্তার ওপরও তার অস্তিত্ব নির্ভরশীল নয়। পৃথিবীতে কত গুরুত্বপূর্ণ ভাষা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বিশ্ববিজয়ী আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের ভাষা মেসোডোনিয়ায় আজ ক’জন বলেন? পৃথিবীর প্রধান তিনটি ধর্মপ্রণেতার একজন যীশু যে-ভাষায় কথা বলতেন সেই ভূমধ্যসাগরীয় আরামাইক তখন ওই অঞ্চলের প্রধান ভাষাগুলোর একটি–আজ প্রায় বিলুপ্ত। কিংবা আরেক দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী, বিশ্ববিজয়ী চেঙ্গিস খানের ভাষায় একেবারেই সামান্য কিছু লোক কথা বলেন। হয়তো অচিরেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ঐতিহাসিক এইসব তথ্য মাথায় রেখেই বলবো যে বাংলা ভাষা টিকবে। সভ্যতা তো নানান ভাবে এদিক-ওদিক যায়। কিছুটা তো আন্দাজ করা যায়।

পঁচিশ কোটি লোক আজকে বাংলা ভাষায় কথা বলে। এই পঁচিশ কোটি লোকের ভাষা বাংলা টিকবে না–এ কথা বলা যায় না। আর ইতোমধ্যে এই ভাষার মধ্যে যা তৈরি হয়ে আছে, যা কিছু এই ভাষার ভাণ্ডারে আছে তা এত তাড়াতাড়ি বিলুপ্ত হবে বলে মনে হয় না। এবং এর যে পরিমাণ ও মান তাও কিন্তু কম নয়। ব্যাপারটা যে নিছক আবেগের বশে বলছি তা মোটেই নয়। বাঙালির নানা দুর্দশা আছে, অনেকে মনেও করতে পারেন এই দেশ আদৌ টিকবে কি না–এসব আমার মাথায় আছে। সেদিন কেউ একজন বলছিল, বাড়িঘর করে কী হবে, বাংলাদেশ একদিন ডুবে যাবে। সেদিন খবরের কাগজে দেখলাম ২০৩৬ সালে বাংলাদেশের উপর একটা গ্রহাণু এসে পড়বে। তাতে করে বাংলাদেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু এসব বাস্তব হয়ে ওঠার আগেই মানুষ প্রতিরোধ ও বিকল্প ব্যবস্থাও গড়ে তুলবে। আর বাংলাদেশ ডুবে যাওয়া মানে কিন্তু ভাষার মৃত্যু নয়। বাংলাদেশ ধবংস হয়ে যাওয়া মানে ভাষার বিলুপ্তি নয়। কারণ ভাষাটা কোনো ভৌগলিক সীমার মধ্যে থাকে না, থাকে মানুষের মধ্যে। মানুষ যদি থাকে তাহলে তার ভাষাও থাকবে।

এখন কেউ হয়তো বলবেন বাংলা ভাষার কোনো রাজনৈতিক শক্তি নেই, কোনো অর্থনৈতিক শক্তি নেই। এগুলো ভাষার অস্তিত্ব রক্ষা ও বিস্তারের জন্য সহায়ক–এতে কোনো সন্দেহ নেই। আজকাল অনেকেই বাণিজ্যিক কারণে চীনা ভাষা শিখছেন। কারণ চীন অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। আগে কেবল পণ্ডিতরা শিখতেন, এখন অনেক সাধারণ মানুষও শিখছে। কিন্তু আজকে জাপানের কি রাজনৈতিক শক্তি আছে? জাপানের মতো অনেক দেশই আছে যাদের রাজনৈতিক শক্তি নেই, কিন্তু তাদের ভাষা টিকে আছে। এদের কারুর কারুর হয়তো অর্থনৈতিক শক্তি আছে। এখন হয়তো আমরা বলবো আমাদের রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক শক্তি নেই, এটা সত্যি। কিন্তু এই না-থাকার জন্য তো দায়ী আমরাই। তবে অর্থনৈতিক শক্তি বা রাজনৈতিক শক্তি তৈরি করা যাবে না–এটা তো চূড়ান্ত হতাশাবাদীদের কথা। আমাদের বাংলাদেশের বয়সই আর কত?

চল্লিশ বছর। এই অল্প সময়ের মধ্যে সে যে নিজের অস্তিত্বের প্রকাশ ঘটিয়ে নিজের পায়ের উপর দাঁড়াতে পারলো–এটা কি তার শক্তি ও সম্ভাবনার জানান দিচ্ছে না? অ্যারিস্টটল বলতেন ফর্ম বা আকাবের কথা। ফর্ম এবং ম্যাটার রিয়েলাইজ না-হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যায় না, কিন্তু সম্ভাবনাটা তো থাকে। আর সম্ভাবনা যদি থাকে তাহলে আমাদের আশা করার অধিকার আছে।

এখন কেউ কেউ বলবেন বাংলাদেশে এত মানুষ; হাঁটতে গেলে একজনের সাথে আরেক জনের ধাক্কা লাগে। এটা একটা সমস্যা। কিন্তু বিপুল সংখ্যক মানুষকে আমরা যদি শক্তিতে রূপান্তর করতে পারি তাহলে এই দেশ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হতে পারে। এত মানুষের খাবারই বা কোত্থেকে আসবে? কিন্তু আসছে তো, না-পেলে আমরা সমুদ্রের পেট থেকে নিয়ে আসবো। সমুদ্র তো বিশাল ভাণ্ডার। আমরা সূর্য থেকে জ্বালানি নিয়ে আসবো, সে প্রক্রিয়া তো শুরু হয়ে গেছে। সুতরাং সম্ভাবনার মৃত্যু নেই। বাংলাদেশ অস্তিত্ব থেকে অনস্তিত্বে ডুবে যাবে–এটা মনে করার কোনো কারণ আমি দেখি না।

আমাদের কতগুলো সমস্যা আছে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সরকারকে বাধ্য করা উচিৎ সমাধানের ব্যাপারে। যেমন ধরা যাক, সবার জন্য একমুখী শিক্ষা মুখে মুখে বলছি, কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার, ইংলিশ মিডিয়ামের স্কুলগুলোতে বাংলা বইগুলো ইংরেজিতে অনুবাদ করে পড়ানো হয়। বলা হচ্ছে সবাইকে একই সিলেবাস পড়তে হবে। এ দেশের বড়লোক, এ দেশের ধান্ধাবাজ, এ দেশের আমলারা দেশটাকে বিদেশীদের বাজার বানাবার জন্য উঠে- পড়ে লেগেছে। এদের মধ্যে সৃষ্টি বলে কিছু নেই। তারা লুটপাটে ব্যস্ত। আমরা তাদের মনঃতুষ্টির একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলছি। রাষ্ট্রটি যে সাধারণ মানুষের নয় তা ঢাকা শহরের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। আমাদের সমস্যা হচ্ছে আমাদের বুদ্ধিজীবীরা। এই বুদ্ধিজীবীদের কখনোই বোঝানো যাচ্ছে না যে যে-কোনো জ্ঞান, যে-কোনো সত্য, যে-কোনো উপদেশ, যে-কোনো ভালো কথা যদি কর্মের দ্বারা অনুসৃত না হয় তাহলে মানুষের মধ্যে বিবেক জাগানোর চেষ্টা বৃথা যাবে। আমাদের বুদ্ধিজীবীদেরকে বলা যেতে পারে বাক্যবাগীশ। চমৎকার চমৎকার সব কথা বলে, ইংরেজি লেখে খুব ভালো, কথা বললে মূর্ছা যেতে হয়। তারা খুব সংস্কৃতিবান, রুচিশীল মানুষ, খুব ভালো গান শোনেন। সব ঠিক আছে। কিন্তু ওনারা এটা বোঝেন না যে এগুলো দিয়ে কোনো কাজ হবে না। কাজটা হাতে মাটি লাগিয়ে করতে হবে। এভরি থট শ্যুড বি ফলোড বাই অ্যাকশন। এ পর্যন্ত যা বললাম তা নিশ্চয়ই হতাশার। এর মধ্যে কোনো সম্ভাবনা নেই। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি একটা তরুণ প্রজন্ম আসবে যারা বলবে, “আমরা আপনাদেরকে মানি না।” এবং এটা ঘটবেই।

বাংলা ভাষা টিকবে কিনা এর প্রেক্ষিত হিসেবে সরাসরি ভাষার সাথে জড়িত নয় এমন অনেক কথাই আমি বললাম। তবে এসব ঘটনার ফলাফল ভাষার উপর কোনো না কোনোভাবে পড়বে বলেই এসব কথা বলা।

আবার ভাষাকে সরাসরি প্রভাবিত করছে এমন ঘটনাও আছে। যেমন ভারতীয় চ্যানেলের মাধ্যমে হিন্দি সংস্কৃতির আধিপত্য। এটা বাংলা ভাষাকে নিশ্চয়ই প্রভাবিত করছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এটা আমরা ঘটতে দিচ্ছি কারা এবং কেন? যাদের পরামর্শে এটা হচ্ছে তারা ’না’ করতে পারছে না, ‘না’ বলাটা শিখতে হবে।

আমি ইদানীং ভাষা নিয়ে কিছু কাজ করার চেষ্টা করছি। আমি দেখতে চাইছি ভাষার স্বভাবটা কী? আধুনিক ভাষা দর্শনের মধ্যে নানা রকম কথাবার্তা আসছে। ভাষার কাজটা কী, ভাষার সাথে কর্মজগতের সম্পর্কটা কী–এসব নিয়ে ভাবনাগুলো। যেমন মানুষ অজস্র ভাষা সৃষ্টি করতে পারে, অসংখ্য বাক্য গঠনের ক্ষমতা মানুষের আছে–চমস্কির এই কথা আমি মেনে নিয়েছি। অথচ শব্দসংখ্যা সীমিত। এমন কি মানুষ অভিধানের খুব কম শব্দই ব্যবহার করতে পারে। আমি খুব ভালো করে দেখতে চাইছি ভিটগেনস্টাইনের সেই বক্তব্য: ভাষার সীমানা ততটুকুই যতটুকু ভাষা পৌঁছুতে পারে। যেখানে ভাষা পৌঁছাতে পারে না সেটা আনস্পিকেবল। কিন্তু উনি যেটা করলেন তা হলো একটা আনরিচেবল জায়গায় যেতে। দেখলেন যে ওটা হয় না। তিনি রবীন্দ্রনাথের রাজা নাটক পড়তে আগ্রহী হয়ে উঠলেন। ভাষা নিয়ে নানান রকম খেলাধুলা করলেন। এসবই কিন্তু আনরিচেবলকে অ্যাড্রেস করা। অর্থাৎ উনি যে সীমানাটা তুলে দিয়েছিলেন সেই সীমানাকে অতিক্রমের চেষ্টা করেছিলেন। এটা দিয়েই আমি ভাষার সম্ভাবনা বিচার করতে পারি ।

ভাষা নিয়ে আমরা কী করেছি? আমরা মুখে মুখে অনেক কথা বলেছি। কিন্তু ভাষা নিয়ে কাজের কাজ কিছুই করতে পারি নি। যেমন কিছুটা স্ববিরোধী ভঙ্গিতেই আমি বলবো উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাকে মাধ্যম করাটাই ভুল হয়েছে। এ কথা বললে লোকে আমাকে দেশদ্রোহী বলবে। বাংলাকে মাধ্যম করার আগে বোঝা দরকার ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা কী পড়াই। দর্শন এবং ইতিহাস পড়তে গিয়ে একজন বাংলায় যে বইগুলো পড়ে তা কি পাঠযোগ্য? বাংলায় দর্শনের উপরে কোনো ভালো বই নেই। একজন ছাত্র যখন বাংলা বইয়ের মাধ্যমে দর্শনকে বোঝার চেষ্টা করে তখন সেটা অর্থহীন হয়ে পড়ে। সে ইংরেজি না জানার কারণে দর্শন ভালো করে বোঝে না অথবা অপরদিকে অগোছালো বাংলায় দর্শনকে ভুলভাবে বোঝে। বাংলায় ফিলোসফির কোনো বই পড়া যায়? কিন্তু এর মানে এই নয় যে বাংলায় দর্শনচর্চা সম্ভব নয়, বা বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা সম্ভব নয়। যত্ন নিয়ে, শ্রম দিয়ে এসবই সম্ভব। আমরা এই ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবো। বাংলা ভাষা অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি ভাষা। আমি মুষ্টিমেয় কিছু পণ্ডিতের ওপর অনাস্থা আনতে পারি, কিন্তু ২৫ কোটি মানুষের ভাষার উপর আমার আস্থা গভীর।

এখন সেই আদি প্রশ্নে ফিরে যাই। বলেছিলাম বাংলা ভাষা টিকবে কিনা। যেমন ধরা যাক, ইংরেজি কেন টিকে এবং প্রতিপত্তি বিস্তার করে আছে। সে তো তার জাতপাত খুইয়েছে। কোনো বিশুদ্ধ চেহারা নিয়ে সে টিকে নেই। বাংলা ভাষারও হয়তো তাই হবে। সে হয়তো নানান রকম রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাবে। আর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যে শক্তির কথা বলা হয়েছিলো তা যে কোনো কালে অর্জন করতে পারবো না–তা তো  বাইবেল বা কোরানে নেই। আমি আশাবাদের জিকির তুলবো না কিন্তু বাঙালির সম্ভাবনায় আমি বিশ্বাসী। সম্ভাবনাকে বাস্তবায়নের জন্য আমাদের সঠিক পদক্ষেপগুলো নেওয়া দরকার।

হাসান আজিজুল হক
: অধ্যাপক ও কথাশিল্পী।

২০ প্রতিক্রিয়া -- “বাংলা ভাষা কি টিকবে?”

  1. মনিরুজ জামান

    পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে টিকে থাকাই তো প্রকৃত টিকে থাকা। পুকুরের জলের মত বদ্ধ না হয়ে প্রবাহমান নদীর জলের মত ভাষা বিবর্তনের মাধ্যমে টিকে থাকে। এই পথ চলাতে হয়তো কোন ভাষা তার আদি চরিত্র হারিয়ে ফেলে, আবার কোনটি মোটামুটি একটি চরিত্র বজায় রেখে সময়ের প্রয়োজনে পরিবর্তিত হয়। বাংলা টিকে থাকবে। বিশ্বায়নের ফলে এবং কম্পিউটার ও ইনটারনেটের প্রভাবে ইংরেজির আড়ালে বাংলা হারিয়ে যাবার একটি ভয় দেখা দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে আমরা বাংলাতে এই যে অনলাইন পত্র্রিকাতে লিখতে পারছি, ফেইসবুক থেকে প্রায় প্রতিটি সামাজিক যোগযোগের সাইটে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানকারী বাঙ্গালীরা বাংলাতে লিখতে পারছে – এটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক দিক।

    জবাব
  2. Nisad

    There are many hopes and hopelessness in course of existing Bangla language. Political and economic power are the factors that govern the direction of a language now a days. Our position at the global stage in terms of domination at the bottom level and hence I comply with sir HA that yes, its the time too think deeply about the language. we always see the trend to educate our children in foreign language. One day these children become enterprenures and directors of the country. They learn and implement outside thoughts and culture in our land. surely, this very trend will put our language in jeopardy in course of time.

    জবাব
  3. Foyasal

    উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাকে মাধ্যম করাটাই ভুল হয়েছে। এ কথা বললে লোকে আমাকে দেশদ্রোহী বলবে। বাংলাকে মাধ্যম করার আগে বোঝা দরকার ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা কী পড়াই। দর্শন এবং ইতিহাস পড়তে গিয়ে একজন বাংলায় যে বইগুলো পড়ে তা কি পাঠযোগ্য? বাংলায় দর্শনের উপরে কোনো ভালো বই নেই। একজন ছাত্র যখন বাংলা বইয়ের মাধ্যমে দর্শনকে বোঝার চেষ্টা করে তখন সেটা অর্থহীন হয়ে পড়ে। সে ইংরেজি না জানার কারণে দর্শন ভালো করে বোঝে না অথবা অপরদিকে অগোছালো বাংলায় দর্শনকে ভুলভাবে বোঝে।

    I support the above mentioned comment of professor Haq. I would like to add that not only Philosophy, every department is facing the same problem. I would like to request our government to return English as the medium of higher studies. Once our pride Dhaka University had many foreign students and teachers as well. But now the number reduces to zero. Without attracting foreign students and teachers, its very difficult to maintain international standard. when we will see many students from different countries are coming to study at DU, knowledge of our students will increase through exchanging ideas, cultures and so on.

    জবাব
  4. এম. ইউ খান খোকন

    একটি লিখা পড়ে সে সম্পর্কে মন্তব্য বা মতামত দেবার আগে ভালোভাবে জানা দরকার, বোঝা দরকার লেখক কী বলতে চেয়েছেন । আর বুঝতে না পারলে, বোঝার সীমাবদ্ধতা থাকলে কোন মন্তব্য না করাই ভালো ।লেখক হাসান আজিজুল হক এই উপমহাদেশের একজন বিখ্যাত কথা সাহিত্যিক,গবেষক, বোদ্ধা এবং নিমোর্হ স্পষ্টভাষী মানুষ। বর্তমানে তিনি ঢাকা ইউনিভার্সিটির ইতিহাস বিভাগের বংগবন্ধু অধ্যাপক (সন্মানজনক পদবি)। তাঁর সম্পর্কে কিছু মন্তব্য করার আগে তাকেঁ জানবার চেস্টা করুন, তার লিখা বই গুলো পড়ুন । ভাষা নিয়ে তাঁর এই লিখাটি পড়ে মনে হয়েছে এর আগে তো এভাবে কেউ ভাষা নিয়ে লেখেন নি । আমি তার ভাষা বিষয়ক আরো কিছু লিখা পড়েছি, সেমিনারে তার বক্তব্য শুনবার সৌভাগ্য আমার হয়েছে । তিনি এ লিখাটিতেও বলেছেন ভাষা নিয়ে তিনি কাজ করছেন । আমরা আশায় রইলাম তিনি আমাদের মাতৃভাষা নিয়ে মুল্যবান কিছু দেবেন যা থেকে আমরা অনেককিছু অর্জন করতে পারবো । আপনার সুদীর্ঘ জীবন কামনা করি ।

    জবাব
  5. Monjur-e-Khoda

    Writer and Prof. Hasan Azizul Haq makes a point to think about the mortality of our beloved mother tongue. Apparently it may be seen as a table talk or a piece of thought or even may be taken as a serious argument. But to me language is like rivers.It takes its own courses in its times like rivers.Language is treated generally as more of a communication tool than a technology. The technological feature /aspect is more aggressively seen in the languages of the rich economy as a neo-imperialistic phenomenon.The commerce makes it so. We have to think about the future of our language. It is an instinct part of our nature also.Of course I believe in the mortality of language if it is not taken care of duly. Anything once created it must have a span of life so language do have.We should be careful about our hard earned mother tongue.

    Thanks to Hasan Azizul Haq for his careful thought.

    Monjur-e-Koda-Tarafdar,
    University of Hong Kong,
    Hong Kong SAR

    জবাব
  6. md. jakir Hossain

    Most importantly, this article reflects the author’s clarity of thoughts, which most so called intellectuals lack,it also incorporates the relevant factors which affect the progress and decline of a language, altogether a well-thought-out, lucid and thought-provoking piece of writing.

    জবাব
  7. Md. Abdul Hamid

    ভাষার ব্যাপারে আমার জ্ঞান নাই বললেই হয়। তবুও একজন বাংলাভাষি হিসাবে আমার ভাবনা হয়। বাংলা ভাষা পরিবর্তিত বা বিবর্তিত হয়ে যেখানে যাবে তাকে আর বাংলা ভাষা বলা যাবে কি না। আমরা যদি এফ এম রেডিয়োতে কান পাতি তা হলে কী শুনি। সেখানে যা হচ্ছে তাতে কি বাংলা ভাষার সমৃদ্ধি হচ্ছে?
    যদি না হয়, তবে প্রতিবাদ করা প্রয়োজন।
    আর যদি সমৃদ্ধ হয়, তাহলে একদিন দেখা যাবে – সমৃদ্ধ হতে হতে বাংলা আর বাংলা নাই,
    ভিন্ন কোন ভাষা হয়ে গেছে।

    জবাব
  8. rony

    অনামক অচিনে বচন বাগেন্দ্রিয় না সম্ভবে-ফরিক লালন। ভাষা নিয়া এই লেখাটা খুবই ভাসা ভাসা বক্ত্যবে ভরা। আমাদের দর্শন পাঠের দারিদ্রের নজির হতে পারে এই লেখা। বাংলা ভাষা নিয়া কথা ততদিন পর্যন্ত বাকোয়াজির পর্যায়ে থাকবে যতদিন না আমরা মান বাংলার দাপট শেষ করতে পারছি। লেখক আসা করি আমাদের কাজের জন্য দরকারি কোন লেখা অচিরেই লিখবেন।–রনি

    জবাব
  9. এসএমএম হোসেন

    ধন্যবাদ প্রিয় লেখক হাসান আজিজুল হক। আপনার আশাবাদীতায় আমরাও আশাবাদী।

    @aami on বড় লোকদের ঘৃণা করার কিছু নেই। তবে তারা যদি ক্ষমতা ও সুযোগের অপব্যবহার করেন তা ঘৃণ্য।

    জবাব
  10. Rahul Raha

    Hasan Azizul haq is one piece gem. He deeply understands the course of our mother tongue. But has correctly pointed that existence of a language is subject to economic and political exposure of speakers of that language. Bangla is almost out from west bengal due to political and economic pressure of Hindi and English in India. But China, Arabic is on expansion. Causes are simple. I want to say, this land of Bangladesh is growing as one of the most important geo-political transit points with the emergence of China and India both economically and militarily. This is the link land between south Asia and South-East Asia and Asia pacific. This is also a corridor for China and upper countries to go the Indian ocean. My conviction is that if Bangladeshi people can keep Bangla alive with creation of rich literature and film and other necessary fields Bangla must survive. Otherwise it will sink into the Indian Ocean of English or Hindi.

    জবাব
  11. ফারসীম

    একজন কথাসাহিত্যিকের যথাযথ ভাষিক মূল্যায়ন, ওয়েল সেইড এন্ড টাইমলি সেইড।
    “এর মানে এই নয় যে বাংলায় দর্শনচর্চা সম্ভব নয়, বা বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা সম্ভব নয়। যত্ন নিয়ে, শ্রম দিয়ে এসবই সম্ভব। আমরা এই ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবো।”-খুবই সত্যি কথা, প্রস্তুতি ছাড়া বাংলায় উচ্চশিক্ষার প্রবর্তন করাটা যথোচিত নয় বলেই মনে হয়।

    জবাব
  12. শরীফ

    ভাষার চর্চা এখন প্রায় শতভাগই কম্পিউটার নির্ভর| লজ্জাজনকভাবে সত্য যে, নানান সংকীর্ণতার মধ্য দিয়ে যেতে যেতে বাংলাকে কম্পিউটারে ব্যবহারের উপযোগী করার ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রগতি অত্যন্ত অপর্যাপ্ত| এই যে মন্তব্য লিখছি, ইংরেজি লিখার জন্য একটাই অপশন, বাংলার জন্য চারটি| ইন্টারনেটে বাংলায় সংরক্ষিত তথ্য যেমন অপ্রতুল তেমনি তার ব্যবহারোপযোগীতাও সামান্য| সার্চ করে খুঁজে পাবারও উপায় নেই| এগুলো দূর করতে না পারলে কেবল আবেগ দিয়ে বাংলার চর্চা বাঙালিদের মধ্যে টিকিয়ে রাখাই মুশকিল হয়ে দাঁড়াবে|

    জবাব
  13. Aminul Islam Sujon

    লেখাটা খুব ভাল লাগল। সঠিক বলেছেন, আমাদের বুদ্ধিজীবীদের কর্ম ও ভাবনার জগতে পরিবর্তন আনতে হবে। পাশাপাশি নীতি প্রণয়নেও পরিবর্তন আনতে হবে।
    প্রশাসনিক, বিচার বিভাগ, চিকিৎসা বিজ্ঞান-সকল ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

    জবাব
  14. Ershad Mazumder

    ধন্যবাদ প্রি হাসান আজিজুল হক সাহেব। ভাষার ব্যাপারে আপনি একজন ওস্তাদ মানুষ। এক্ষেত্রে আমি একজন আনপড় মানুষ। এখন যে বাংলা দেখছি তা একশ’ বছর আগের বাংলার সাথে তার মিল নেই।বহু নতুন শব্দ বাংলা ভাষায় প্রবেশ করেছে এবং নিয়মিত ব্যবহৃত হচ্ছে। আগামী দিনে আরও নতুন শব্দ আসবে। এভাবেই বাংলা ভাষা বিস্তৃতি লাভ করবে। বিশেষ করে কম্পিউটার আর ইন্টারনেটের কারণে বাংলা ভাষা আরও সরস হবে। দেখুন না, শরত্‍ আর রবি বাবুর যুগের উপন্যাসের ভাষা আর সমকালীন উপন্যাসের ভাষার কত ফারাক। আপনার নিজের লেখার ভাষা ও স্টাইলের সাথে ৬০/৭০ বছর আগের কোন মিল নেই। নদীর গতিপথ যেমন প্রতিনিয়তই পরিবর্তন হচ্ছে তেমনি ভাষারও পরিবর্তন হচ্ছে। এবং এটাই স্বাভাবিক।

    জবাব
  15. aami

    আমি বুঝি না মানুষ কেন বড় লোকদের ঘৃণা করে। বড়লোক হওয়া কি অপরাধ? কেউ পরিশ্রম করে যদি বড়লোক হতে পারে তাহলে তার দোষ কোথায়? আমার মনে হয় এটা ঈর্ষা ছাড়া আর কিছু নয়।

    জবাব
    • Zaman

      Yes, brother, it’s a ‘crime’ to be rich. This is simply because in this world of utter inequality, it is impossible to be rich only by your honest hard work. The rich people anywhere anytime in human history has never been rich because of their ‘hard work’ but they have been rich because of their ‘clever work’! Dishonesty of this or that sort is the fundamental basis of becoming rich. So, ‘hating’ rich people is logical, but not legal, for non-rich people like most of us.

      জবাব

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—