Feature Img
ছবি:মুস্তফিজ মামুন
ছবি: মুস্তফিজ মামুন

একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে বাংলাদেশ আজ এক নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে। গণতান্ত্রিক পরিবেশে, মুক্ত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের ডাক দেন, তাতে দেশের লোক অনুপ্রাণিত।

দেশের সাধারণ লোক অ্যানালগ-ডিজিটালের পার্থক্য বিচার করতে পারে না বটে, কিন্তু সোনার বাংলা সম্বন্ধে তাদের একটা মোটামুটি ধারণা আছে। সোনার বাংলা হবে একটা সমৃদ্ধ দেশ। সেই সমৃদ্ধির অন্যতম শর্ত যে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তির একটা সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করে শিক্ষার প্রসার ঘটানো প্রয়োজন। সেই সমৃদ্ধির রূপায়ণ ও বাস্তবায়নে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রকৌশলী সমাজের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেই ভূমিকায় পূর্ণ পারঙ্গমতা অর্জনের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রকৌশল ও প্রযুক্তির একটা বড় উৎকর্ষ কেন্দ্র হতে হবে, যেন আন্তর্জাতিক মানের কঠিনতম পরীক্ষায় অনায়াসে সেই শিক্ষাঙ্গন উত্তীর্ণ হতে পারে।

আমাদের দেশে প্রতিভার কাঁচা সোনার অভাব নেই। শুধু ঢাকার ধোলাইখালে নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উদ্যোগী কারিগররা অত্যন্ত কষ্টকর পরিস্থিতির মাঝে দেশের নানা ধরণের যন্ত্রপাতি ও কলকবজার চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে। তাদের ওপর দৃষ্টি পড়েছে বিদেশি গবেষকদের। এখন আমাদের তাদের প্রতি অনুকূল দৃষ্টি দিতে হবে।

স্বাস্থ্যতথ্যের উন্নতি, জীবনদায়ী শুদ্ধ চিকিৎসার উন্নতির প্রযুক্তি ও প্রকৌশল, মস্তিষ্কের রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং পারমাণবিক সন্ত্রাস দূরীকরণ। সাইবার স্পেসের নিরাপত্তাদান, ভার্চুয়াল রেয়ালিটি শক্তিশালীকরণ, ব্যক্তিগত জ্ঞানান্বেষণের বিস্তার ও উন্নয়ন এবং বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের সাজসরঞ্জামের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন। এইসব ব্যাপার আমার অধিগত নয়। আমরা সহসা বা অতি দ্রুত এই সমস্যার মোকাবেলা করার মতো সাহস ও সামর্থ রাখি না। আমি বলতে চাই, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যথেষ্ট বিষ আছে। আগে যখন তামার পয়সা ছিল তখন একটা কথা ছিল তামার বিষ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানব কল্যাণে কতখানি বিষমুক্ত করা যায় সেই চিন্তা আমাদের অনুক্ষণ স্মরণে রাখতে হবে।

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমি মার্কিন ন্যাশনাল সায়ান্স ফাউন্ডেশনের অনুরোধে পৃথিবীর নেতৃস্থানীয় প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীদের মতামত গ্রহণ করে মানবসমাজের ১৪টি চ্যালেঞ্জকে চিহ্নিত করে। পৃথিবী ও মানুষের সাহায্যে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের অনুশীলনে কী কী অর্জন করা যায় এবং সেই অর্জন কীভাবে টেকসই করা যায় সে সম্পর্কে মতামত গ্রহণ করে ৫০টি বিষয় বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পুনর্বিবেচনা করা হয়।

সৌর জ্বালানি সাশ্রয়করণ, ফিউশন থেকে জ্বালানি সংগ্রহ। জীবাশ্ম জ্বালানি দহনজনিত কার্বন ডাই-অক্সাইড সংগ্রহ করে পরিবেশের সংরক্ষণের জন্য জব্দ ও মজুদ করা। নাইট্রোজেন ব্যবস্থাপনা, সুপেয় জলের সন্ধান, নগরস্থাপনার পুনরুদ্ধ ও উন্নয়ন।
সৌর জ্বালানি বা পারমাণবিক জ্বালানির প্রকৌশলগত সমাধান প্রযুক্তিগতভাবে যেন ফসিল জ্বালানির চেয়ে আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী হয় সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। সৌরশক্তি ব্যবহারযোগ্য করতে ন্যানোটেকনলজি আমাদের কীভাবে সাহায্য করবে আমরা এখনও জানি না। তাত্ত্বিক মহলে ফিউসান ব্যবহার করার কথা উঠেছে। সূর্যের জ্বালানির উৎস ফিউসান। তবে মানবসমাজে ফিউসান পদ্ধতিতে জ্বালানি সংগ্রহ করা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জের ব্যাপার। আমি সামান্য মানবিক বিদ্যার জ্ঞান নিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ওপর এই দুটো কথা বললাম যা বিস্তারিতভাবে আমার পক্ষে আলোচনা করা অসম্ভব। আমাদের দরিদ্র দেশে সব বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশলী তত্ত্ব কাজে লাগানো বেশ সমস্যাসঙ্কুল। আমরা যাতে একেবারে পশ্চাৎপর ও আনপড় হয়ে না পড়ি তার জন্য মোটামুটিভাবে তত্ত্বগুলো আমাদের জেনে রাখতে হবে, তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো প্রয়োগ না করতে পারলেও।
প্রকৌশলীরা সভ্যতার আলোকবর্তিকা-বাহক। সমাজে তাঁদের অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা মনে রেখে আমাদেরকে নীতিশাস্ত্রে ও মানবিক বিদ্যায় অবশ্যই কিছু পাঠ নিতে হবে। দেশের বিরাজমান নৈতিক আবহাওয়ায় আমাদের স্বার্থের সংঘাত সম্পর্কে কিছু পরিষ্কার ধারণা থাকা উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতা থাকতে হবে। শিক্ষকদের স্বাধীনতা নাগরিক স্বাধীনতার চেয়ে বড়। শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ভোটাধিকার আছে। সুতরাং তাঁদের রাজনীতি করার স্বাধীনতা থাকবে না তা বলা যায় না। তবে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীতায় সুস্থ প্রতিযোগিতার ধারণা হারিয়ে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গন ক্লেদাক্ত হয়ে যেতে পারে। ক্যাম্পাসে এমন সব অপরাধকর্ম সংগঠিত হতে দেখছি যে আমরা অসহায় হয়ে কঠোরতম আইনের কথা বলছি। বলা বাহুল্য, ক্যাম্পাসকে জেলখানা বানানো যায় না। যারা অপরাধ করছে তাদের বিচার করে জেলে পোরা উচিত। মুষ্টিমেয় কতকগুলো দুর্বৃত্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতা বিনষ্ট করা যায় না। দেশের স্বার্থ শিক্ষার ওপর নির্ভরশীল এবং তার ভিত্তিমূলকে আমাদের প্রাণবান ও উদ্দীপনায় রাখতে হবে।
তরুণ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের মধ্যে জগদীশ বসু, মেঘনাদ সাহা, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, কুদরত-ই-খুদার মতন মেধাবী পুরুষ লুকিয়ে থাকতে পারেন। উচ্চ অট্টালিকা বিশারদ এফ আর খান এ দেশের সন্তান। ড. আবুল হুশাম ও ডা. একেএম মুনির আর্সেনিক রোধে যুগান্তকারী সেনোফিল্টার আবিষ্কার করেছেন। সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের যেসব পণ্ডিত, বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ছড়িয়ে আছেন, তাঁদের নাম-ঠিকানা দিয়ে একটা তালিকা করা প্রয়োজন। আজ দেশের ভেতর এবং দেশের বাইরে যেসব তরুণ উদ্যোগী রয়েছেন, তাঁদের সকলকে আমরা কাজে লাগাতে পারছি না। আমাদের বড় করে ভাবতে হবে এবং আমাদের বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের সেবা গ্রহণের জন্য তৎপর হতে হবে, যাতে করে প্রয়োজনে আমরা তাঁদের সাহায্য নিতে পারি এবং তাঁদের সহায়তা দান করতে পারি।

উন্নয়ন অবিমিশ্র আশীর্বাদ নয়। বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট উন্নয়ন এক ভয়াবহ অভিশাপ বয়ে আনতে পারে। উন্নয়নের নেশায় যেন আমাদের দিগভ্রম না হয়। আমাদেরকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ের সঙ্গে মানবিক বিদ্যার কিছু সবক নিতে হবে। দেশের আইন ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সকলেরই কিছু প্রাথমিক জ্ঞান থাকা দরকার। প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদদের লাগাতার শিক্ষায় আজ কবিতারও স্থান রয়েছে। তেল কোম্পানি ঠেকায় পড়ে নৃতত্ত্ববিদের আশ্রয় নেয়। সুস্থ সমাজচেতনায় দেশের বিরাজমান বৈষম্যকে হ্রাস করার একটা প্রণোদনা থাকতে হবে। সাম্প্রতিক কালে আমরা দেখেছি, বৈষম্যপীড়িত ক্ষুব্ধ প্রজা কী ধরণের প্রবল আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের সন্ত্রাস পরিহার করতে হবে এবং সেই উদ্দেশ্যে উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক বৈষম্য যাতে বৃদ্ধি না পায়, সেই দিকে লক্ষ করতে হবে।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সৃষ্টিশীল চিন্তা ও পরিকল্পনায় আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথের সন্ধান পাবে। আজ যাঁরা সনদ ও সম্মাননা পেলেন, তাঁদেরকে এবং তাঁদের অভিভাবকদের অভিনন্দন জানাই।

আমাকে দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও তাঁর সহকর্মীদের আমি অশেষ ধন্যবাদ জানাই। আপনারা সবাই ভালো থাকুন। পরম করুণাময় আমাদের সবার সহায় হোন।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তৃতার লিখিত রূপ।

মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।

১৭ প্রতিক্রিয়া -- “বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি হোক বিষমুক্ত এবং সাশ্রয়ী”

  1. Ershad Mazumder

    ধন্যবাদ প্রিয় রাজু। আমিতো লিখছি ৫০ বছর ধরে। ১৯৬১ সালে অবজারভারের মাধ্যমে সংবাদপত্রে প্রবেশ করেছি। সেই সুবাদে লিখে যাচ্ছি। কি করবো বলুন, আমি লিখছি,অন্যেরা তা প্রকাশ করছে। আপনার মতো সম্মানিত মানুষও আমার মতো এই ফালতু লোকের লেখা পড়ছেন। আপনার উচিত ছিল আমাকে পরিহার করা, বাতিল করে দেয়া।

    জবাব
    • রাজু

      ৫০ বছর ধরে লেখার পর আপনার চিন্তা-ভাবনার মান দেখে আমি বিস্মিত। ছাপানোর ব্যাপারটা নিয়ে মোটেও অবাক হই না অবশ্য। কত কিছুই তো ছাপা হচ্ছে। বাংলাদেশে লেখা আর ছাপানো দুটোই বেশ সহজ। ইদানীং ব্লগিং এর কারণে তো ব্যাপারটা আরো সহজ হয়ে গেছে।
      আপনিই তো প্রমান। আমি মোটেও পরিহার আর বাতিলে বিশ্বাসী নই। তাছাড়া আমি কিন্তু কমেন্ট করেছিলাম আপনার কমেন্ট নিয়ে। বাজে লেখার ও লেখকের সমালোচনা করা পাঠক হিসেবে আমার অধিকার।
      একজন সৎ আর নির্বিরোধী মানুষকে নিয়ে আপনি যে অভদ্র কমেন্ট করেছেন তাতে প্রতিবাদ জানানোটা প্রয়োজনীয় ছিল। কমেন্টটা কিছু চ্যংরা পোলাপান করলে মানা যেত। আল্লাহ আপনাকে সৎ বুদ্ধি দিন, গুনী মানুষদের সম্মান করতে শেখার তওফিক দিন।

      জবাব
  2. আরিফ আহমেদ

    এগিয়ে নিতে হবে দেশকে, এ সমাজকে। অনেক পিছিয়ে আমরা। কত এগিয়ে গেছে সারা পৃথিবী তার হিসেবও হয়ত আমরা রাখতে পারি না। শুধু জীবীকানির্ভর একটি জীবন আমাদের। কাউকে না কাউকে দায়িত্ব নিতে হবে। জাতীয় চরিত্র পরিবর্তন করতে হবে। হতে হবে আরও পরিশুদ্ধ, আরও কল্যাণধর্মী। এগিয়ে যাক বাংলাদেশ আমার, প্রানের জন্মভূমি।

    জবাব
  3. সৈয়দ আলি

    শুধু সত্য কথা বলাই নয়, আমাদের আড়ালে আবডালে, আপনার জ্ঞাতসারে যা ঘটেছে, তাও বলুন! আমি আক্ষেপ করি যে এদেশে মানুষরূপী ইনস্টিটিউশন নেই। আমার এবং আমার মতো আরো অনেকের আক্ষেপ দুর হোক!

    জবাব
  4. WOW_BNP

    Dear Ershad Mazumder,

    Apni khubee Bichokkhon ebong BNP.r Domesticated Buddhijibi same as Shafiq Rehman. Kothae Kothae General Zia-r obodaanke tule dhoren, But Bongobondhur obodaanke sukhoushole eriyee jaan. I would like to repeat the same words of yours ” এবার শিরদাঁড়া সোজা করে মাথা উঁচু করে কিছু সত্য কথা বলুন। দেখবেন, ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে আপনার নাম লিখিত হয়ে গেছে। বেআদবী হলে মাফ করে দিবেন।”

    জবাব
    • Ershad Mazumder

      ধন্যবাদ প্রিয় wow_BNP আপনার মতের জন্যে। এ ধরনের মত প্রকাশ করাকে আমি খুবই পছন্দ করি। আপনি রাজনীতিতে কোন ঘরানার মানুষ তা জানার কোন আগ্রহ আমার নেই। আমি আপনার দর্শন বিশ্বাসকে আমি ১০০ ভাগ সম্মান করি। বঙ্গবন্ধুকে আপনি দেখেছেন কিনা জানি না। বয়স ও পেশাগত কারনে তাঁর সাথে আমার বহুবার দেখা হয়েছে। এক সময় বঙ্গবন্ধু মাওলানা ভাসানীর ভক্ত ছিলেন। রাজনীতিতে দ্বিমত হওয়ার পরও তিনি মাওলানা ভাসানীকে সম্মান করতেন পিতার মতো। প্রধানমন্ত্রী/ রাস্ট্রপতি থাকার সময় মিডিয়াকে এভয়েড করে গোপনে সন্তোষ যেতেন। মাওলানার জন্যে নিয়মিত ওষুধপত্র ফলমূল ও কাপড় চোপড় পাঠাতেন। দুজনের সম্পর্ক কেমন ছিল তা চোখে না দেখলে শুধু শুনে আন্দাজ করা যাবেনা। বঙ্গবন্ধুকে গাফফার চৌধুরী সাহেব বলেছেন, ‘ইতিহাসের রাখাল রাজা’। আমি বলছি, তিনি ছিলেন রাজনীতির কবি। কিন্তু শাসক হিসাবে ব্যর্থ ছিলেন। কারন তিনি সহজে কাউকে না বলতে পারতেন না।

      প্রিয় WOW_BNP ছদ্ম নাম রাখার দরকার কি? আপনি তো এখানে এসেছেন সত্য কথা বলার জন্যে। আপনি আমাকে বিএনপির গৃহ পালিত বুদ্ধিজীবী বলেছেন। কেমন অনায়াসে আপনি একথা গুলো বলে ফেলেছেন। বঙ্গবন্ধুর পক্ষে লিখলে আওয়ামী লীগ। জিয়ার পক্ষে লিখলে বিএনপি। একেবারেই সহজীকরন।
      আমি শ্রদ্ধেয় বিচারপতি হাবিবুর রহমান সাহেবকে বলেছি উপরের কথাগুলো। আপনি তাঁর হয়ে উত্তর দিয়েছেন। তিনিইতো আল্লাহু আকবর এর জায়গায় আল্লাহ সর্বশক্তিমান বলার জন্যে উপদেশ দিয়েছেন। তিনিই বিসমিল্লাহির রাহমানের রাহীম না বলার জন্যে আওয়ামী লীগকে পরামর্শ দিয়েছে। বর্ণিত শব্দ গুলো কোরাণে উল্লেখিত রয়েছে। এর সাথে বিএনপি বা আওয়ামী লীগের কোন সম্পর্ক নেই। এখন দেখছি বিএনপি বিসমি্ল্লাহ বলে আওয়ামী লীগ বলে না। এসব হচ্ছে নোংরা রাজনীতি। তাতে বিচারপতি সাহেবের মতো একজন সম্মানিত মানুষের জড়িত হওয়া উচিত হয়নি।
      যেমন ধরুন, আওয়ামী লীগ বলে জয় বাংলা, ভারতীয়রা বলে,জয় হিন্দ, সিন্ধুর মানুষ বলে জিয়ে সিন্ধ। বিএনপি বলে, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। এসব স্রেফ রাজনীতি। এখানে মানুষ বা দেশের কোন কল্যান নেই।

      জবাব
      • SUNNY KHANDKER

        ধন্যবাদ জনাব এরশাদ মজুমদার,নতুন প্রজন্মকে সঠিক তথ্র্য প্রদানের জন্য। ধর্মীয় অনুভূতি ও ধর্মচর্চা আত্মিক ও মানবিক। ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে রাজনীতি কাম্য নয়,কাম্য নয় শ্বাশত বিসয়ে পরিবর্তনে দুঃসাহস দেখানো।

      • raju

        আপনার মত ফালতু লোক হাবিবুর রহমানের মত একজন মানুষকে শিরদাঁড়া সোজা করতে বলছে দেখে অবাক হলাম।

      • Ershad Mazumder

        ধন্যবাদ রাজু আপনার মন্তব্যের জন্যে। ভালই বলেছেন। আমি ‘ফালতু লোক’। হাবিব সাহেব ‘একজন মানুষ’। ফালতু মানে অতিরিক্ত, বাড়তি,অপ্রয়োজনীয়। আমি নিজেও তাই ভাবি। আমি সত্যিই একজন ফালতু। এবং লোক। কিন্তু হাবিব সাহেবতো একজন ব্যক্তিত্ব। তিনি এ দেশের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এবং পদাধিকার বলে কেয়ার টেকার সরকারের প্রধান উপদেস্টা নিষুক্ত হয়েছিলেন। তিনি সব বিষয়ে লেখালেখি করেন। এমন কি কোরাণ অনুবাদও করেছেন। জানিনা, ইংরেজী থেকে না আরবী থেকে। তিনি আমার চেয়ে অনেক উঁচু দরের , উঁচু মানে, উপরতলার মানুষ। আমি অতি সাধারন মানুষ। আমি বলতে চেয়েছি,তিনি জীবনে অনেক অনেক বেশী বেশী সবকিছুই পেয়েছেন। নতুন করে পাওয়ার কিছু নেই। তাঁকে সম্মান করি বলেই বলেছি মাথা উঁচু করে কথা বলুন। আমার বিশ্বাস, তিনি পারেন একজন বড় মাপের দার্শনিকের মতো কথা বলতে। রাজু সাহেব আপনি যদি কোন কারনে মনে কস্ট পেয়ে থাকেন তাহলে আমি ক্ষমা প্রার্থী। আল্লাহ আপনাকে হেফাজত করুন।

      • রাজু

        আমি কোন মনকষ্টে ভুগছি না।

        মানুষকে সম্মান দেবার ক্ষেত্রে আপনার ধরণ দেখে যে কেউ ভিমড়ি খাবে।
        আপ্নিও কি ইদানীং সব বিষয়ে লেখালেখি শুরু করেন নি? হাবিবুর রহমান সাহেবের লেখালেখির কারণেই সম্মানিত ব্যক্তি এবং তিনি সৎ মানুষ হিসেবেই গ্রহনযোগ্যতা পেয়েছেন। হঠাৎ করে তাঁকে মাথা উচু করে কথা বলার উপদেশ দেবার আপনি কে? কোরান অনুবাদ করায় আপনার কি কোন ক্ষতি হয়েছে? নাকি অনুবাদের লাইসেন্স শুধু আপনাদের কাছে দেয়া আছে?

        আল্লাহ আপনাকেও হেফাজত করুন। তিনি আপনার ফালতু লেখালেখি থেকে মানুষ্কেও হেফাজত করুন।

      • WOW_BNP

        Dear Ershad Mazumder,
        ধন্যবাদ আপনার Reply.er জন্যে. Amader je”জাতীয় চরিত্র” shetar bhaloi advantage nen apnara which you feed us with information in your crafted writings. Apnar moto bichokkhon manushke gyaan deya amar moto choto manushke manay na. Still I have to remind you that Oshomprodayik bole ekta bepaar ache. “বিসমিল্লাহির রাহমানের রাহীম”,”আল্লাহু আকবর” these words have been taken from Quran , true; But Kono Nation.ke eshob logo diye represent kora koto tai ba jouktik. Religion thakbe religion..er jaygay. নোংরা রাজনীতি..ta kenoi ba apnara shuru korlen sheta apnara khub bhaloi janen. Al-Koran thakbe Al-Koran..r jaygay.. that should not be used to gain the sympathy or support of our people. বিএনপি রাজনীতি onekei koren and they have their good reasons for that; People being brainwashed by media and religious agenda. YOU ARE PART OF these influences and agenda. You are not brain-washed at all. Shob kichu jene shunei Devil’s advocacy korcehn and you are really good at that. Banglar manush etota bibhranto keno shetar jonno Apni, Al Mahmud ,শফিক রেহমান der moto Budhhijibirai daee. I have read your other writings before I made my comments. You know very well the reason why you try to avoid making comments on General Zia and Khaleda & Tareq Zia’s regime. নতুন প্রজন্মকে worng and twisted তথ্র্য প্রদানের জন্য media and apnara apnader kaaj kore jaben। But as you know Truth will survive and Lies will perish as God has promised in the Holy book. Bhalo thakben , shustho thakben coz BNP needs people like you badly.

      • Ershad Mazumder

        Dear WOW_BNP, I told you that I respect your personal faith and opinion. I have my own faith and philosophy based on my study. Quran says,respect and support your parents even if they belong to a faith different than you. But do not accept their religion or faith. My faith ask me to uphold dignity of humanbeing. So dear WOW_BNP, I shall always respect and uphold your opinion. I shall fight for your freedom of speech.

  5. Ershad Mazumder

    ধন্যবাদ শ্রদ্ধেয় বিচারপতি হাবিবুর রহমান সাহেবকে। প্রকৌশলীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যে এটি একটি উপযুক্ত ভাষন। কবিগুরু রবিঠাকুর বলেছিলেন, বৃদ্ধ সেজে আজ আমি কোন উপদেশ দিতে আসিনি। প্রখ্যাত দার্শনিক রমা রোলা বলেছেন,ye young man, young man of today,come and trample us. Be happy, happier than us. হে আজকের যুব সমাজ,তোমরা এগিয়ে আসো,আমাদের(বৃদ্ধদের) পায়ের তলায় পিষিয়ে মারো। সুখী হও, আমাদের চেয়ে অনেক বেশী সুখী হও।
    আজ আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা প্রকৌশল বিজ্ঞান আনবিক গবেষণা নয়। প্রধানতম সমস্যা হচ্ছে নৈতিকতা। নীতিহীন বৈজ্ঞানিক,প্রকৌশলী,শিক্ষক-ছাত্র,ডাক্তার ও রাজনীতিক দিয়ে এ জাতির কিছুই হবেনা। শুনেছি সমাজের সবখানে সবাই ঘুষ খাচ্ছে। এখন শুনছি বিচারপতিরাও ঘুষ খাচ্ছেন। এমন একটি সময়ে বিচারপতি সাহেব বুয়েটে গিয়ে বেশ কিছু নীতিকথা বলেছেন। চলমান সময়ে এসব নীতিকথার দাম নেই। এমন কথা শুনলে মানুষ বলে, এইতো সেদিন স্যারকে টাকা দিয়ে রায় কিনে এনেছি। সত্য কি মিথ্যা জানিনা। শুধু ভাবি, মিথ্যা হলে খুবই খুশী হতাম।
    শ্রদ্ধেয় বিচারপতি সাহেব, জীবনে তো সবকিছুই পেয়েছেন। এবার শিরদাঁড়া সোজা করে মাথা উঁচু করে কিছু সত্য কথা বলুন। দেখবেন, ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে আপনার নাম লিখিত হয়ে গেছে। বেআদবী হলে মাফ করে দিবেন।

    জবাব

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—