Feature Img

Sharmin Ahmadবাংলাদেশের কিছু রাজনীতিবিদ তাদের বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হতে আমার লেখা ‘তাজউদ্দীন আহমদ নেতা ও পিতা’ বইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা-সম্পর্কিত কিছু অংশের উদ্ধৃতি দিয়ে যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন তার প্রেক্ষিতে এই লেখার অবতারণা।

এ প্রসঙ্গে লিখতে গিয়ে জর্জ অরওয়েলের লেখার কথা মনে পড়ছে। তিনি আমার প্রিয় লেখকদের অন্যতম। তাঁর লেখা রাজনৈতিক স্যাটায়্যার-সমৃদ্ধ উপন্যাস বিশেষত Animal Farm এবং 1984 কালোত্তীর্ণতা লাভ করেছে। অনেক যুগের অবসান, প্রাযুক্তিক উন্নতি ও আর্থ-সামাজিক- রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও, তাঁর লেখার সঙ্গে বর্তমান বিশ্বের বহু একনায়কতন্ত্রী রাজনীতি ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনা পদ্ধতি– যার কঠোর সমালোচনা তিনি করেছিলেন– তাদের অসামান্য মিল পরিলক্ষিত হয়।

১৯৪৫ সালে প্রকাশিত Animal Farm বইটিতে বিভিন্ন পশুপাখির চরিত্রের মধ্যে দিয়ে একনায়কবাদী, বাকস্বাধীনতা হরণকারী ও সত্যকে নিষ্ঠুরভাবে দমনকারী সমাজের ভয়াবহ চিত্রটি তিনি উপস্থাপিত করেন।

১৯৪৯ সালে প্রকাশিত 1984 বইটিতে তিনি যেন অনেকটা ভবিষ্যদ্বাণীর মতোই বর্ণনা করেন এমন এক বিশ্বের চিত্র যেখানে অর্থনীতি নিয়ন্ত্রিত হবে মুষ্টিমেয় সম্পদ লুণ্ঠন ও ভোগকারীদের (globalization?) হাতে; যে সমাজে নিজ নিজ স্বার্থরক্ষাকারী অসৎ রাজনীতিবিদ ও তাদের তল্পিবাহক সুবিধাভোগী বুদ্ধিজীবীরা জনগণকে বোঝাতে সচেষ্ট হবে যে, দুয়ে দুয়ে পাঁচ। শঠতা ও চাতুর্যের সঙ্গে তারা দিনকে রাত ও রাতকে দিন বানাবার চেষ্টা করবে। তারা যুদ্ধকে শান্তি, স্বাধীনতাকে দাসত্ব এবং মূর্খতাকে বলবে শক্তি। তারা মানুষকে নিয়ন্ত্রণের জন্য ইতিহাস নিয়ন্ত্রণ করবে।

এ প্রসঙ্গে অরওয়েল লেখেন–

Who controls the past, controls the future, who controls the present, controls the past.

[1984]

অন্যত্র তিনি লেখেন–

The most effective way to destroy people is to deny and obliterate their own understanding of their history.

আমার লেখা ‘তাজউদ্দীন আহমদ নেতা ও পিতা’ বইটি, যার কিছু ঐতিহাসিক প্রসঙ্গকে ক্ষুদ্র ব্যক্তি ও রাজনৈতিক স্বার্থকে রক্ষা করার জন্য যেসব রাজনীতিবিদ খণ্ডিতভাবে উপস্থাপিত করছেন এবং তাদের প্রতিপক্ষ যারা আমার বইটি সম্পূর্ণ না পড়েই অথবা বইয়ে উল্লিখিত বিবরণ সত্য হলেও তার মধ্যে কিছু অংশ তাদের পছন্দনীয় না হওয়াতে, তারা কোনো যুক্তি-বুদ্ধির অবতারণা না ঘটিয়ে, তথ্যে কোথায় ভুল তার উল্লেখ না করে, তারা এই লেখকের বিরুদ্ধে যে অশালীন, নির্লজ্জ মিথ্যা প্রচারণা ও ব্যক্তিগত আক্রমণ চালিয়েছেন তা জর্জ অরওয়েলের বই দুইটিতে বর্ণিত সেই তমসাছন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক পরিবেশটির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

সম্প্রতি বিএনপি সভানেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জামালপুরের জনসভায় (২৭ সেপ্টেম্বর,, ২০১৪) ‘তাজউদ্দীন আহমদ নেতা ও পিতা’ বইটি হতে আমার লেখার উদ্ধৃতি [৫৯-৬০ পৃষ্ঠা] দিয়ে বলেছেন যে, তাজউদ্দীন আহমদ স্বাধীনতার ঘোষণা লিখে এনেছিলেন কিন্তু বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দেননি। তিনি সচেষ্ট থাকেন এই কথা প্রমাণ করতে যে, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।

তিনি সচেষ্ট থাকেন এই কথা প্রমাণ করতে যে, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি
তিনি সচেষ্ট থাকেন এই কথা প্রমাণ করতে যে, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি

ভিডিও বক্তব্যের লিংক–

http://www.youtube.com/watch?v=eOev2douY3o

বক্তব্যে তিনি অনুল্লিখিত রাখেন আমার বইয়ের পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে উল্লিখিত বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার বাকি অংশগুলির বর্ণনা। বঙ্গবন্ধু আমার বাবা বা দলকে স্বাধীনতা ঘোষণা না দিলেও তিনি যে ভিন্ন মাধ্যমে ২৫ মার্চ মধ্যরাতে প্রথম স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়েছিলেন তা তথ্য এবং সাক্ষাৎকারসহ আমার বইতে স্পষ্ট উল্লিখিত।

[১৪৭-১৪৮, ২৭৪-২৯১, ৩০১-৩১০ পৃষ্ঠা]

বঙ্গবন্ধু যে স্বাধীনতার বার্তা পাঠিয়েছিলেন তার একমাত্র জীবিত সাক্ষী, বঙ্গবন্ধুর পারসোনাল এইড হাজী গোলাম মোরশেদ, যিনি ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ৩২ নম্বর রোডের বাসভবন হতে গ্রেফতার হন, তাঁর এবং প্রকৌশলী শহীদ নুরুল হক যিনি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে খুলনা হতে ট্রান্সমিটার এনেছিলেন ঘোষণা দেবার জন্য, ওনার স্ত্রীর সাক্ষাৎকার আমার বইতেই প্রথম ঐতিহাসিক তথ্য হিসেবে উল্লিখিত হয়েছে।

বইতে আরও উল্লিখিত যে, বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে ২৬ মার্চ দুপুরে এবং সেই সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের নেতা আবদুল হান্নান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন [১৪৭ পৃষ্ঠা] এবং ২৭ মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বেলাল মোহাম্মদের অনুরোধে বঙ্গবন্ধুর পক্ষ হতে পরবর্তী ঘোষণা দেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান [৭১ ও ১৪৭ পৃষ্ঠা]

আরও উল্লেখযোগ্য ব্যাপার যা বইতে ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলামের সাক্ষাৎকারে উদ্ধৃত হয়েছে তা হল–

“অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। অতএব ঐ দিন থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা কার্যকরী হবে।’’

[২৬১ পৃষ্ঠা]

গণপ্রজাতন্ত্রী প্রথম বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান রচিত হয় বঙ্গবন্ধুর দেওয়া স্বাধীনতা ঘোষণার ভিত্তিতে। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হতে ১০ এপ্রিলের বেতার ভাষণে উল্লেখ করেন–

“২৫ মার্চ মাঝরাতে ইয়াহিয়া খান তার রক্তলোলুপ সাঁজোয়া বাহিনীকে বাংলাদেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর লেলিয়ে দিয়ে যে নরহত্যাযজ্ঞের শুরু করেন তা প্রতিরোধ করবার আহ্বান জানিয়ে আমাদের প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।”

[বইয়ের ৩৯৭ পৃষ্ঠায় ১০ এপ্রিল প্রথম বাংলাদেশ সরকার গঠনের দিনটিতে তাজউদ্দীন আহমদের সম্পূর্ণ ভাষণ উল্লিখিত হয়েছে]

বেগম জিয়া তার সেদিনের বক্তব্যে আরও বলেন–

“জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা না দিলে দেশ স্বাধীন হত না। শেখ সাহেব জেল থেকে বের হত কিনা সেটাও সন্দেহ ছিল।”

তার এই বক্তব্য ইতিহাস-নির্ভর নয়। এই প্রসঙ্গে বলা প্রয়োজন যে, ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী যখন নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ শুরু করে তখন জাতি স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কারও স্বাধীনতা ঘোষণার জন্য তারা অপেক্ষা করেনি। জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা নিঃসন্দেহে জনগণের মধ্যে উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু বিশ্ব ইতিহাস এটাই বলে যে, স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেই তো একটি দেশ স্বাধীন হয়ে যায় না। বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন ধাপে ধাপে মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হয়ে স্বাধীনতার দুয়ারে পৌঁছেছিল দীর্ঘকালের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ফলে।

[৭১ পৃষ্ঠা]

স্বাধীনতা অর্জনের জন্য প্রয়োজন ছিল সঠিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব যা বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে তাজউদ্দীন আহমদ ও তাঁর সহকর্মীরা দিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান ও তার সহযোদ্ধারা বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলেন সেই বেসামরিক প্রথম বাংলাদেশ সরকারের সফল নেতৃত্বেই। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছিলেন মূলত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও একই সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ঐকান্তিক কূটনৈতিক এবং সামরিক কৌশল ও কর্মতৎপরতার জন্য। তাজউদ্দীন আহমদ জানতেন যে, স্বাধীনতা যুদ্ধের সাফল্যের ওপরেই নির্ভর করবে বঙ্গবন্ধুর মুক্তি।

[১১৫, ১১৭-১১৮ পৃষ্ঠা]

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় অবিসংবাদিত নেতা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ছিলেন আপামর জনগণের জন্য স্বাধীনতার প্রেরণা ও প্রতীক এবং তাঁর আজীবনের বিশ্বস্ত সহকর্মী, দূরদর্শী নেতা ও সুদক্ষ প্রশাসক তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন স্বাধীনতার সফল বাস্তবায়ক, এই সত্যটি দলমত নির্বিশেষে সকলকেই মেনে নিতে হবে।

বঙ্গবন্ধু ছিলেন জনগণের স্বাধীনতার প্রেরণা ও প্রতীক, তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন স্বাধীনতার সফল বাস্তবায়ক, এই সত্য দলমত নির্বিশেষে সকলকেই মেনে নিতে হবে
বঙ্গবন্ধু ছিলেন জনগণের স্বাধীনতার প্রেরণা ও প্রতীক, তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন স্বাধীনতার সফল বাস্তবায়ক, এই সত্য দলমত নির্বিশেষে সকলকেই মেনে নিতে হবে

আমি বইতে উল্লেখ করেছি–

“তারা ছিলেন একে অন্যের পরিপূরক। মুজিব বাদে তাজউদ্দীনের ইতিহাস যেমন অসম্পূর্ণ তেমনি তাজউদ্দীন বাদে মুজিবের।”

[১৯৩ পৃষ্ঠা]

বাংলাদেশের নিজস্ব প্রয়োজনেই এই সত্য একদিন ইতিহাসে স্থান পাবে।

স্বাধীনতা-উত্তর পর্বে বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দীন আহমদ এই অসাধারণ জুটির মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছেদ না হলেও আদর্শিক বিচ্ছেদ ঘটেছিল যার কারণ ও জাতির জন্য তার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে আমার বইয়ে উল্লিখিত হয়েছে। আমি সেই প্রেক্ষিতে যুক্তি-তথ্যর আলোকে ঘটনাগুলি তুলে ধরার আন্তরিক চেষ্টা করেছি।

ভালো-মন্দ সব নিয়েই তো ইতিহাস গড়ে ওঠে। ইতিহাস যত সুস্পষ্ট হবে এবং অখণ্ডিত আকারে সুরক্ষিত হবে, নতুন প্রজন্মের জন্য ততই সহজ হবে ভবিষ্যতের সঠিক পথটি খুঁজে নেবার। রাষ্ট্রের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এবং তাদের অন্ধ স্তাবক ও অনুসারীরা যখন যার যার ক্ষুদ্র স্বার্থ ও সুবিধার জায়গা থেকে ইতিহাস খণ্ডিতভাবে উপস্থাপিত করার অপপ্রয়াস নেন, তখন ইতিহাসে যে বিশাল ফাঁক সৃষ্টি হয় তার মধ্যে ঢুকে পড়ে নানা আবর্জনা, বিভ্রান্তি ও অসত্য। সেই ফাঁকের সুযোগে ইতিহাসে যার যে স্থান প্রাপ্য নয় তারা সেই স্থানটি দখলে তৎপর হয়ে উঠেন।

একটি জাতি তখনই সত্যিকারের অগ্রগতি লাভ করে যখন সে ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও দলীয় স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে ইতিহাস জানার আন্তরিক প্রয়াস নেয়, অখণ্ডিতভাবে ইতিহাস সংরক্ষণ ও উপস্থাপন করে। সততা ও সহিষ্ণুতার সঙ্গে, নির্মোহ চিত্তে এবং বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিহাস যাচাই বাছাই করে দেখার ক্ষমতাসম্পন্ন জাতির পক্ষেই সম্ভব ইতিহাসের সঙ্গে চলা; একটি সবল ও সুন্দর রাষ্ট্রের গর্বিত প্রতিনিধি হওয়া।

শারমিন আহমদ: শিক্ষাবিদ ও বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের জ্যেষ্ঠ কন্যা।

শারমিন আহমদশিক্ষাবিদ ও বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের জ্যেষ্ঠ কন্যা

৩৯ Responses -- “স্বাধীনতার অখণ্ডিত ইতিহাস ভবিষ্যতের পাথেয়”

  1. sulran

    ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’এ (১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২ সংখ্যায়) প্রদত্ত সাক্ষাৎকারে শেখ মুজিব তাঁর গ্রেপ্তার ও স্বাধীনতার বার্তা সম্পর্কে যা জানিয়েছিলেন তা হল:

    ‘‘রাত ১০টা নাগাদ শেখ মুজিব জেনে যান যে পাকিস্তানি সেনারা নাগরিক কেন্দ্রসমূহ আক্রমণের লক্ষ্যে অবস্থান গ্রহণ করেছে। কয়েক মিনিট পরই সেনারা তাঁর বাড়ি ঘিরে ফেলে এবং (বাড়ি লক্ষ্য করে) মর্টারের গোলা ছুঁড়ে মারে।

    এমন এক আক্রমণের কথা ভেবে তিনি আগেভাগেই কিছু প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। সাড়ে ১০টা নাগাদ তিনি চট্টগ্রামে এক গোপন ঠিকানায় যোগাযোগ করে দেশের মানুষের জন্য একটি বার্তা রেকর্ড করেন। পরে এই বার্তাটিই একটি গোপন বেতার সম্প্রচার যন্ত্রের মাধ্যমে প্রচার করা হয়। সে বার্তার মোদ্দাকথা ছিল, তাদের নেতার কী হয়েছে সে কথা চিন্তা না করে যেভাবে সম্ভব তারা যেন প্রতিরোধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তিনি সাড়ে সাত কোটি বাঙালির মুক্তির কথাও সে বার্তায় ঘোষণা করেন।

    শেখ মুজিব জানালেন, বার্তাটি প্রেরণের পর তিনি বিডিআর ও তাঁর দলের সদস্যরা, যারা তাঁর পাহারায় নিযুক্ত ছিল, তাদের সরে যেতে নির্দেশ দেন।

    http://s29.postimg.org/qci5b7gyv/18_02_1972_nyt_Sheikh_Mujib_Interview_page_001.jpg
    http://s27.postimg.org/yrzhr6fbn/18_02_1972_nyt_Sheikh_Mujib_Interview_page_002.jpg

    Reply
    • togos tulandi

      শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষনা দেননি তাতে কিছু যায় আসেনা। শোষন-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রথমে যে ব্যাক্তি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করেন তারপর পাকিস্তান দ্বারা বাঙ্গালীর উপর চালানো শাসন-শোষনের বিরুদ্ধে স্বাধীকার আদায়ের সংগ্রামী চেতনায় জাতিকে এমনভাবে মুখর একতাবদ্ধ করে তোলেন যা ঠেকিয়ে রাখবে তেমন সাধ্য পৃথীবির কোন শক্তির ছিলনা – আত্মত্যাগের অনুপম দৃষ্টান্ত রেখে যিনি একাজে তাঁর প্রায় সারাজীবন ব্যায় করলেন – স্বাধীনতা ঘোষনা না দেয়াটা তাঁর গুরুত্ব মহত্ত্ব বা অবদান এক বিন্দুও কমায়না।
      স্বাধীনতা বিষয়টি তিনি হয়ত compromise করতেন তবে করলেও বাঙ্গালী জাতির দৃঢ বিশ্বাস ছিল যে বাঙ্গালী জাতির অধিকারের বিষয়ে তিনি ছাড় দিতে প্রস্তুত নন। তাঁর উপর বাঙ্গালী জাতি যে অপার সীমাহীন শ্রদ্ধা-বিশ্বাস-ভালবাসা ন্যাস্ত করে তা আত্মত্যাগের সংগ্রামী জীবনে তিনি যা অর্জন করেছেন তার ফলাফল। এ অর্জনের বিশালতা মাপার মত নয়। পৃথীবির আর কোন নেতার পদতলে জনগন স্বতস্ফুর্তভাবে এতটা শ্রদ্ধা বিশ্বাস অর্পন করেনি।
      শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছেন একথা স্বয়ং তিনিও বলেছেন। বলেছেন সিডনী শনবার্গকে ১৯৭২ সনের ১৬ই ফেব্রুয়ারীতে দেয়া সাক্ষাত্কারে। বলেছেন ১৯৭২ সনের ১০ই এপ্রিলে সংসদে দাঁড়িয়ে যে ২৫ শে মার্চ রাত ১০-৩০এ তিনি স্বাধীনতার ঘোষনা চট্রগ্রামে পাঠান। (পরে জানিয়েছেন, জহুর আহমদ চৌধুরীর কাছে)। মুজিবের বক্তৃতার পর পর স্পীকার মোহাম্মদ উল্যাহ বলতে থাকেন – শেখ মুজিব ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছেন – হাউস একমত কিনা।(সংসদে শেখ মুজিব: সম্পাদনায় শেখ হাসিনা ও বেবী মওদুদ. পৃ:১৬)। মুজিব দুযায়গাতেই বলেছেন ২৫শে মার্চের কথা, রাত ১০-৩০এর কথা। কেন তবে স্বাধীনতা দিবস ২৬ শে মার্চে যায়?
      আপনি যে মুলধারা ‘৭১ এর রেফারেন্স দিলেন সেখানে স্পষ্ট মতামত আছে যে প্রবাসী সরকারের বৈধতার প্রয়োজনে শেখ মুজিবের স্বাধীনতার ঘোষনার প্রয়োজন ছিল বলে স্বাধীনতার ঘোষনায় সেকথা উল্লেখ করা হয়। পুরো ১৯৭১ সন জুড়ে প্রবাসী সরকারের কেউ, যোদ্ভাদের কেউ জানেনা শেখ মুজিবের স্বাধীনতা ঘোষনার কথা। ‘৭১-এ জহুর আহমদ চৌধুরী বিভিন্ন যায়গায় বিভিন্ন জনের কাছে বলেছেন – শেখ মুজিবের স্বাধীনতা ঘোষনার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেননা। ইন্দিরা গান্ধীর প্র্শ্নের জবাবেও জহুর আহমদ চৌধুরী বলেছেন এ ব্যাপারে কিছু জানেননা।
      কেন শেখ মুজিবকে দিয়েই স্বাধীনতা ঘোষনা দেয়াতেই হবে? কার স্বার্থে এ মিথ্যাটাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য এত বাকবিতন্ডা, এত হৈ চৈ – যা সভ্যতা-ভব্যতার সীমা ছাড়িয়ে যায়।
      বলধা গার্ডেন থেকে শেখ মুজিবের কন্ঠে স্বাধীনতার ঘোষনা শুনতে পেয়েছিলেন শুধু সিদ্দিক সালিক (Witness to surrender)আর তার সাথে জেনারেল টিক্কা খান।
      সেই বছর আগষ্টের ৫ তারিখে পাকিস্তান সরকার এক শ্বেতপত্র প্রকাশ করে জানিয়ে দেয় যে না, শেষ মুজিব পাকিস্তান ভাঙ্গার মত কোন কাজ করে নাই।:(পৃ:৪) অথচ শেখ মুজিব লন্ডনে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন – তাঁর জন্য ফাঁসী প্রস্তুত ছিল। ঢাকার রেসকোর্ষ ময়দানে এসে বলেন- তাঁর জন্য কবর খোঁড়া হয়েছিল।
      শারমীন আহমেদ, আপনি এ সব কথা জানেন। কিন্তু আপনি কোনদিন তা বলবেননা। টিপিক্যাল আওয়ামী লীগার ! শেখ মুজিবকে আপনারাই খাটো করছেন। একটা জলজ্যান্ত মিথ্যা দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষনা শুরু করে সংবিধানে যোগ করে জাতিকে প্রতারনা করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছেন আপনি এবং আপনার আওয়ামী লীগ।

      শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষনা দেননি তাতে কিছু যায় আসেনা। শোষন-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রথমে যে ব্যাক্তি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করেন তারপর পাকিস্তান দ্বারা বাঙ্গালীর উপর চালানো শাসন-শোষনের বিরুদ্ধে স্বাধীকার আদায়ের সংগ্রামী চেতনায় জাতিকে এমনভাবে মুখর একতাবদ্ধ করে তোলেন যা ঠেকিয়ে রাখবে তেমন সাধ্য পৃথীবির কোন শক্তির ছিলনা – আত্মত্যাগের অনুপম দৃষ্টান্ত রেখে যিনি একাজে তাঁর প্রায় সারাজীবন ব্যায় করলেন – স্বাধীনতা ঘোষনা না দেয়াটা তাঁর গুরুত্ব মহত্ত্ব বা অবদান এক বিন্দুও কমায়না।
      স্বাধীনতা বিষয়টি তিনি হয়ত compromise করতেন তবে করলেও বাঙ্গালী জাতির দৃঢ বিশ্বাস ছিল যে বাঙ্গালী জাতির অধিকারের বিষয়ে তিনি ছাড় দিতে প্রস্তুত নন। তাঁর উপর বাঙ্গালী জাতি যে অপার সীমাহীন শ্রদ্ধা-বিশ্বাস-ভালবাসা ন্যাস্ত করে তা আত্মত্যাগের সংগ্রামী জীবনে তিনি যা অর্জন করেছেন তার ফলাফল। এ অর্জনের বিশালতা মাপার মত নয়। পৃথীবির আর কোন নেতার পদতলে জনগন স্বতস্ফুর্তভাবে এতটা শ্রদ্ধা বিশ্বাস অর্পন করেনি।

      Reply
  2. Prodip

    পরিশেষে এটা বলতেই হয়, যারা সেদিন মুজিব তাজউদ্দিনের মাঝে দূরত্ব তৈরিতে সচেষ্ট ছিলেন, যারা সেদিন বিশ্বাসঘাতক খুনি মোশতাককে স্বাধীনতাযুদ্ধের যজ্ঞশালায় ঠাই দেবার পৌরহিত্য করেছিলেন, তারা কালের স্রোতধারায় বিলীনপ্রায়।

    তাই ইতিহাসের এই নির্মম ঘটনাপ্রবাহ থেকে আজ এই ভুল বোঝাবুঝির বেদনার উপশম করে নিজেদেরকে সঠিক জায়গায় দাঁড় করানোর সময় এসে গেছে।

    Reply
  3. Mike Holding

    শারমিন আহমদের সীমাবদ্ধতা, তিনি সঠিক সত্যটি উচ্চারণ করতে কোনোদিনও পারবেন না। ‘মুজিব বৃক্ষ’টি উৎপাটন করলে তাঁর ছায়াতলে বেড়ে ওঠা তাজউদ্দিন বাঁচতে পারেন না।

    আসল কথা হচ্ছে, শেখ মুজিব বা জিয়াউর রহমান, এরা কেউই স্বাধীনতা চাননি, মুক্তিসংগ্রামের চেতনাও কোনোকালে তাঁরা ধারণ করেননি। তাই একজন নিপাট পাঞ্জাবি পরে বসে থাকেন জিন্দানখানায় যাওয়ার জন্য; আরেক জন অনুগত ভৃত্যের মতো স্বজাতি-ধ্বংসে আনা অস্ত্র খালাস করতে যান সমুদ্রবন্দরে! তার ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল, কেউ তাকে বলতে পেরেছিল আনুগত্যের পরাকাষ্ঠা তার জীবন রক্ষার্থে কোনো কাজে আসবে না। তাই মাঝপথে জাহাজঘাটে না গিয়ে তিনি গেলেন কালুরঘাটে। (আর যে কোনো বাঙালি নেতার মতই) মাইক পেয়ে পূর্ব-প্রস্তুত ঘোষণা পাঠ করলেন!

    আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবী/রাজনীতিবিদেরা আজ বস্তুত মুজিব-স্তাবক আর জিয়া-স্তাবকে বিভক্ত। বলা বাহুল্য, এভাবেই তারা কিছু একটা করে খাচ্ছেন। নিরেট সত্য কথা হচ্ছে আমাদের রাজনৈতিক/সামরিক নেতৃত্বের না ছিল দূরদর্শিতা, না ছিল সাহস বা সততা। অনাকাঙ্খিত সন্তানের মতো ভূমিষ্ঠ হয়েছিল আমাদের স্বাধীনতা। কেউ যখন কিছুই করেনি (অন্তত সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যায়ে) তখন গলাবাজি করে এবং সম্ভব, অসম্ভব, অবাস্তব সাক্ষ্য-প্রমাণ জোগাড় তার মালিকানা দাবি করতেই হয় বৈকি!

    আর হায়রে বাংলার জনগণ! ছেঁড়া লুঙ্গির দিন তাদের আর বদল হল না। না বাস্তব জীবনে, না তাদের ‘মুক্তিসংগ্রাম’এর বয়ানে। ‘‘এতবড় একটা ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ ঘটে গেল কোনো নেতৃত্ব ছাড়াই? এটা কি হতে পারে?’’ তাই কী আর করা, ছেঁড়া লুঙ্গির মতো ‘জয় বাংলা’ দেখিয়ে লজ্জ্বা সামলানোর চেষ্টা করি। পরলেও লজ্জ্বা ঢাকে না; আর না পরলে তো কিছুই থাকে না।

    আর শারমিনকে শুধু একটাই প্রশ্ন–

    ২০১৪ সালে এসে তিনি কথিত প্রকৌশলী নূরুল হক আর হাজী গোলাম মোর্শেদের সাক্ষাত পেলেন? তিনি কি বলতে চাইছেন, তাজউদ্দিন আহমদ বঙ্গবন্ধুর মোটেই কাছের লোক ছিলেন না? এসব বিষয় ঘুণাক্ষরেও জানতেন না? বঙ্গবন্ধুও পাকিস্তান থেকে ফিরে এসে এদের কোনোভাবে পুরষ্কৃত বা উল্লেখ করেছেন বলে তিনিও কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।

    ২০১৪ সালে এসে সাতে আর পাঁচে চৌদ্দ মেলাবার অপচেষ্টা তিনি না করলেও পারতেন।

    Reply
    • togos tulandi

      ষুদ্ধ শুরু করে পাকিস্তান, শেষ করে ভারত।
      মাঝখানে বাঙ্গালীর ফোঁফর দালালী। বিকৃত স্বাধীনতার চেতনার লালন-পালন। কারন ক্ষমতার খুব পছন্দ চেতনার গীত।
      যত্তসব।

      Reply
  4. Prodip

    “কালুরঘাটের বেতারযন্ত্রীরা একজন মেজরকে খুঁজছিলেন কেন? তাঁদের মনে নিশ্চয়ই অনেক ভাবনা ছিল; তাঁদের হয়তো ধারণা হয়েছিল একজন মেজরকে দিয়ে ঘোষণা করালে সেটা বৈদ্যুতিকভাবে কাজ করবে। করেছিলও তাই।

    মেজর জিয়া হয়ে উঠেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের আকস্মিক কিংবদন্তি । এটা আর কারও ভাগ্যে জোটেনি।

    এরপর মেজর জিয়া কোন যুদ্ধাঞ্চলের প্রধান ছিলেন, কতটা যুদ্ধ করেছিলেন, আদৌ করেছিলেন কি না, কতটা দক্ষতা দেখিয়েছিলেন, তা আর মূল্যবান নয়। তার থেকে হয়তো অনেকেই বেশি যুদ্ধ করেছিলেন, অনেক বেশি দক্ষতা দেখিয়েছিলেন, অনেকেই তো বরণ করেছিলেন মৃত্যু– কিন্তু তাঁদের পক্ষে মেজর জিয়ার মতো কিংবদন্তি হয়ে ওঠা সম্ভব ছিল না– তাঁরা কেউ কালুরঘাট থেকে ঘোষণার ঐতিহাসিক আকস্মিক সুযোগটি পাননি।

    কালুরঘাট সৃষ্টি করেছিল মেজর জিয়াকে, একটি কিংবদন্তিকে।

    কিংবদন্তির মূল্য রাজনীতিতে, ধর্মে সাধারণের কাছে অত্যন্ত বেশি, কেননা তা ইন্দ্রজাল ও অলৌকিকতার মতো। সাধারণ মানুষ সত্য দিয়ে যতটা আলোড়িত, উদ্বেলিত হয়, তার থেকে অনেক বেশি আলোড়িত হয় কিংবদন্তি ও ইন্দ্রজাল দিয়ে।

    মেজর জিয়া পরে মেজর জেনারেল হয়েছিলেন, তবে ‘মেজর জেনারেল’ জিয়ার থেকে ‘মেজর’ জিয়া অনেক বড়। ‘মেজর’ জিয়া কিংবদন্তি; আর ‘মেজর জেনারেল’ জিয়া সামরিক বাহিনীর একজন উচ্চ সেনাপতি মাত্র!

    তিনি যে পরে এত কিছু হয়েছেন– প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক, রাষ্ট্রপতি– একটি রাজবংশই প্রতিষ্ঠা করে গেছেন– তার মূলে রয়েছে ‘কালুরঘাট’ — প্রাণ দিয়ে তিনি কিংবদন্তিটি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। ট্র্যাজিক নায়কেরা স্মরণীয় হয়ে থাকেন ট্র্যাজিক পতনের জন্যেই।

    মেজর জিয়া এরশাদের মতো বিদূষক ছিলেন না; তাহলে তিনি এখনও বিদূষকের মতো বেঁচে থেকে কৌতুক যোগাতেন।
    তিনি ছিলেন ট্র্যাজিক নায়ক, যদিও ক্ষুদ্রমাপের– গ্রিক নয়, বাঙালির আকারের– একটি রঙ্গমঞ্চে যিনি হঠাৎ আবির্ভূত হয়েছিলেন– তার উত্থান ও পতন ট্র্যাজিক নায়কের মতোই– যদিও তাকে অনেকেই নায়ক মনে না-ও করতে পারেন।

    মনে করতে পারে তিনি ছিলেন ছোটখাট নায়কের মুখোশ-পরা, ছদ্মবেশী। মুখোশের ভেতরে ছিলেন ভিন্ন রকম, যা সবাই দেখতে পায়নি।

    একাত্তর জুড়ে যত কিছু ঘটেছে, বিশ্বে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের যত সংবাদ পৌঁছেছে, যত প্রচার হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধারা যত সেতু উড়িয়ে দিয়েছে, যত পাকিস্তানি জন্তু বধ করেছে, যত বাঙালি নিহত হয়েছে, যত নারী লাঞ্ছিত হয়েছে, আর আমরা স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছি, তার সবটাই মুজিবের নামে। অন্য কোনো নামে এটা ঘটতে পারত না; অন্য কোনো নাম থেকে এ প্রেরণা উৎসারিত হত না।

    বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধে পৌঁছে দিয়েছিলেন মুজিব, বন্দি থেকেও তিনিই নিয়ন্ত্রণ করছিলেন মুক্তিযুদ্ধ, তিনিই সৃষ্টি করে চলছিলেন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র।

    মুজিবকে আমরা প্রচণ্ড সমালোচনা করতে পারি, কয়েক দশক ধরে তো কোটি কোটি বামন প্রাণভরে তাঁর সমালোচনা করছে।”

    — হুমায়ুন আজাদ

    Reply
    • togos tulandi

      মেজর জিয়া ‘৭‌১-এর কিংবদন্তী।
      সেটাই তার একমাত্র পরিচয় নয়।
      রাজনীতিবিদেরা স্বাধীনতার পর থেকে অরাজকতা তৈরী করে গেছেন। সংবিধান বাতিলের পর বাকশালী শাসনের আগমনে সে অরাজকতা চরম মাত্রায় উঠে। এত বেশী আলোড়ন তৈরী হয় যে তা নিয়ন্ত্রনের সাধ্য আর কোন রাজনীতিবিদ দেখাতে পারেননি। চেষ্টাও করেননি। তারা দিশাহারা হয়ে পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে গেলেন – যেভাবে ‘৭১-এ পালিয়েছিলেন। পরিস্থিতি যখন জিয়ার পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দেয় তখন এবং শুধুমাত্র তখন – বিশৃংখলা নিয়ন্ত্রনের জন্য কাউকে না পেয়ে তিনি ইচছায়, অনিচ্ছায় বা অনুরোধে শৃংখলা নিয়ন্ত্রনের দায়ীত্ব হাতে নেন। অপদার্থ রাজনীতিবিদদের কেউ না থাকায় এরই এক পর্যায়ে জিয়ার হাতে ক্ষমতা চলে আসে। জাতির নেতৃত্বে চলে আসে। জিয়া মুজিবের প্রতিদ্বন্দী হয়ে উঠার প্রশ্ন তো অবান্তর। সে প্রশ্ন উঠারও তো কোন অবকাশ নেই।
      স্বাধীনতার মহানায়ক মুজিব যেমন সত্য তেমন সত্য হল তার হাতে গনতন্ত্র নিহত হওয়া। একনায়কসুলভ মানসিক ঔদ্ধত্যে আক্রান্ত হওয়া, অযোগ্য ও কুশাসনে জাতিকে ম্রিয়মান করে তোলা। অতএব মুজিবের সমালোচনা হতেই হবে। নইলে এসবের পুনরাবৃত্তি রোধ হবে কিভাবে?
      জিয়ার সময়োচিত নেতৃত্ব জাতিকে সেদিন আরো গভীরে তলিয়ে যাবার হাত থেকে রক্ষা করে। বহুদলীয় গনতন্ত্র পুনরায় মুক্তি পায় জিয়ার হাতেই। জিয়ার অনেক দোষ-ত্রুটি সত্ব্বেও এ বিষয়টি অবশ্যই জাতীয় জীবনের একটা প্রশংসনীয় এবং গুরুত্বপুর্ন ঘটনা।
      পুনরায় বলছি – পরিস্থিতি এতদুর আসতে পেরেছিল অপদার্থ রাজনীতিবিদদের অযোগ্যতার কারনে। বাকশালের, মুজিবের এবং রক্ষীবাহীনির সচেতন সমালোচনা যথেষ্ট হয়নি বলে সেরকম পরিস্থিতির দিকে দেশ আবারো যাচ্ছে।

      Reply
  5. Prodip

    ধন্যবাদ ম্যাডাম শারমিন। এই বইটা নিয়ে এদেশের দুটি শ্রেণি রাজনৈতিক মতলব হাসিলের অপপ্রয়াস চালিয়েছে। এক্ষণে, আমার সেই বিবমিষা কেটে গেল। কারণ লেখক নিজেই তাদের বাড়া ভাতে পানি ঢেলে দিয়েছেন।

    হ্যাঁ, সেই শ্রেণি দুটির পরিচয় দিতে গেলে এভাবে বলতে হয় যে, একটি হল মুজিব তথা আওয়ামীবিরোধী ঘাঁটির রথী-মহারথী এবং তাদের তল্পিবাহকরা, যারা পাকিস্তানি লেগাস্যি গত বিয়াল্লিশ বছর ধরে সাদরে বহন করে চলেছে। অপরটি হল প্রগতিশীল সুশীল পরিচয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষে রাজনীতির ময়দানে আসীন, যাদের প্রতিপক্ষ যতটুকু না প্রয়াত মুজিব তার চেয়ে বেশি তাঁর দল আওয়ামী লীগ। কারণটা পার্থিব। সে ব্যাখ্যা এখানে অবান্তর। মুজিবের দলের প্রতি ক্ষোভ, তাচ্ছিল্য দেখাতে গিয়ে তারা তাদের একদা আইডলকে এখন দ্বিধাহীনভাবে ছাড় দিতে নারাজ।

    মিজ শারমিনের বইটা নিয়ে এই উভয় শ্রেণি ইতোমধ্যে আসর মাতিয়েছে, যা এতদিনে বহুশ্রুত। তাদের এই সহজলভ্য তেলেসমাতি দেরিতে হলেও যে নিবৃত্ত করা হল, তার জন্যে লেখককে আবারও ধন্যবাদ।

    Reply
  6. Mohd.Musaddique Chowdhury

    দয়া করে এসব ত্যাগ করে দেশের জনগণের জন্য কিছু করার জন্য চেষ্টা করুন।

    Reply
  7. গোরা

    (১)

    বইয়ের ৫৯-৬০ পৃষ্ঠায় ‘‘তাজউদ্দীন অনুরোধে বঙ্গবন্ধু টেপ রেকর্ডে স্বাধীনতা দেননি’’, তথ্যটি কোনো পজিটিভ ইন্টারপ্রেটেশন, ফুটনোট বা ফরওয়ার্ড রেফারেন্স ছাড়া উল্লেখ করে পরিস্কারভাবে পাঠকমনে বিভ্রান্তি তৈরি করে। তারপর বিচ্ছিন্নভাবে, আরও বহু পরে, যেমন, ১৪৭-১৪৮, ২৭৪-২৯১, ৩০১-৩১০ পৃষ্ঠাসমূহে আপনি বিতর্কের ইতি টানলেন।

    এটা তো উপন্যাস নয় যে, পাঠককে শেষ পর্যন্ত চমক দেবেন। বরং এই ধরনের ইতিহাসভিত্তিক বই অনেকেই একসঙ্গে বা কখনও পুরোটা নাও পড়তে পারেন; যার যেখানে প্রয়োজন বা আগ্রহ সেই অংশটুকু পড়তে পারেন। এটাও পাঠ-অভ্যাসের অংশ। একটি ভালো মানের লেখা কখনও দাবি করবে না যে লেখাটি বোঝার জন্য সবাইকে পাঠ অভ্যাস বদলাতে হবে, তাও যদি তা স্পষ্ট করে বলা থাকত!

    এ কারণে, বইয়ের চ্যাপ্টারগুলির প্রতিটিকেই ‘সেলফ কনটেইনড’ থাকতে হয়, এটা টেকনিক্যাল রাইটিংএর অপরিহার্য নিয়ম।

    আর তাই, বইটির আংশিক বক্তব্য ঘিরে স্বাধীনতার ঘোষণা-বিষয়ক নতুন আকারে যে বিতর্কের (জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ঘোষণা দেননি) আবহ তৈরি হয়েছে, তার কোনোরূপ দায়-দায়িত্ব যেভাবে আপনি এড়াতে চেয়েছেন, তার সঙ্গে একমত নই। কারণ বিভ্রান্তি তৈরির উপাদান আপনার কনটেন্ট অরগানাইজেশনে আছে।

    তবে, ধন্যবাদ জানাচ্ছি আজকের এই লেখাটির জন্য, বিভ্রান্তি যে অনিচ্ছাকৃত তার কিছুটা প্রয়াস পাওয়া যায়।

    (২)

    এই বইকেন্দ্রিক আপনার বিভিন্ন বক্তব্য বিভিন্ন সময় পড়েছি, শুনেছি। সে তাজউদ্দীন আহমেদের মেয়ে বলে, সে বঙ্গতাজকে জানার আকুতি থেকে। নালিশের সুর একটু বেশি বেশি বাজে, ঠিক তাজউদ্দীনসুলভ নয়।

    (৩)

    একটি টিভি সাক্ষাৎকারে দেখলাম, এই লেখাতেও এসেছে, তা হল:

    “বঙ্গবন্ধু যে স্বাধীনতার বার্তা পাঠিয়েছিলেন তার একমাত্র জীবিত সাক্ষী, বঙ্গবন্ধুর পারসোনাল এইড হাজী গোলাম মোরশেদ, যিনি ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ৩২ নম্বর রোডের বাসভবন হতে গ্রেফতার হন, তাঁর এবং প্রকৌশলী শহীদ নুরুল হক যিনি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে খুলনা হতে ট্রান্সমিটার এনেছিলেন ঘোষণা দেবার জন্য।”

    এই তথ্যটুকুকে আপনি *প্রথম* ঐতিহাসিকভাবে তুলে ধরেছেন বলে দাবি করেছেন। আপনার বইটি এপ্রিল, ২০১৪ তে প্রকাশিত। কিন্তু ফখরুল আরেফিন পরিচালিত ডকুমেন্টরি ‘দ্য স্পিস’ এ এই তথ্য খুব সুস্পষ্টভাবে সাক্ষাৎকার সহকারে দেখানো আছে, যার প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি, ২০১৪।

    বুঝলাম কেন এমন বলছেন!

    (৪)

    আপনার একই টিভি সাক্ষাৎকারে আপনি বললেন, এই তথ্য পাওয়ার কারণে পুরো এক চ্যাপ্টার বাদ দিয়েছেন। অর্থাৎ তথ্যটি আপনি খুব বেশিদিন আগে জানতে পারেননি। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসে, কী ছিল সেই চ্যাপ্টারে? সে কি বঙ্গবন্ধু কোনো ঘোষণা দেননি সেই আলোকে কিছু লেখা।

    একই মেরিট থেকে পুরো বইয়ে ছাপ পড়ার অাশংকা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আপনার বর্ণনায় অনেক ক্ষেত্রেই মইনুল হাসানের বই ‘মূলধারা ৭১’ এর সুর আছে; সেই বইয়ে কিন্তু আপনার স্বাধীনতা ঘোষণা-বিষয়ক নতুন পাওয়া তথ্যের উল্লেখ নাই।

    উনার লেখার ভাব গ্রহণ করা কতখানি বিপদমুক্ত সে প্রশ্ন করতে পারেন।

    (৫)

    দুর্ভাগ্যের বিষয়, যারা বহু বছর পর বইটি পড়বে, তাদের কিন্তু আপনার সাক্ষাৎকার বা আজকের লেখা সম্পর্কে সম্যক ধারণা না-ও থাকতে পারে। বইটি ‘সেলফ কনটেইনড’ না হওয়ার ফলে তারাও আংশিক পড়ে বিভ্রান্ত হবে, যেহেতু রেফারেনন্সড ব্যক্তি তাজউদ্দীন আহমদ

    Reply
    • Sharmin Ahmad

      ১.

      আপনাকেও ধন্যবাদ গুছিয়ে এবং যুক্তি প্রয়োগ করে মতামত জানাবার জন্য। এ প্রসঙ্গে প্রথমে উল্লেখ করতে হয় যে, বইটি একজন কন্যার তাঁর বাবা সম্বন্ধে স্মৃতিচারণ এবং বাবার জীবন-কর্ম তুলে ধরার প্রচেষ্টা। বইটি কোনো টেকনিক্যাল লেখার ধারায় পড়ে না। প্রতিটি চ্যাপ্টার ‘সেলফ-কনটেইনড’ হতে হবে এমন মেথডোলজির আওতায় বইটি লেখা হয়নি।

      স্মৃতিচারণামূলক লেখা সাধারণত ‘সাবজেকটিভ’ হয়। তা সত্বেও আমি দুই শতাধিক তথ্যসূত্র এবং অনেকগুলি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার যোগ করে সত্য তুলে ধরার প্রয়াস থেকে বইটি লিখেছি। তাজউদ্দীন আহমদের জীবন-কর্ম বর্ণনা হতে পাঠক যাতে সে সময়ের পরিস্থিতি অনুধাবন করতে পারেন এবং বাস্তব চিত্রটি ধারণ করতে পারেন সে জন্য যে ঘটনাগুলি যেভাবে ঘটছিল তারই উল্লেখ করেছি ক্রমানুসারে।

      ২৫ মার্চ রাতের পরিস্থিতি ছিল অনিশ্চিত ও বিভ্রান্তিকর। পূর্ব-পরিকল্পনা অনুসারে বঙ্গবন্ধু তাজউদ্দীন আহমদের কাছে স্বাধীনতার ঘোষণা না দেওয়ায় এবং পরবর্তী পরিকল্পনা সম্বন্ধে নেতার কাছ থেকে কোনো নির্দেশনা না পেয়ে তিনি অত্যন্ত হয়ে ঘরে ফিরে আসেন। সেই রাতে ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলাম তাঁকে জোর করে বাড়ি থেকে তুলে নেন এবং ঘটনাচক্রে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বভার অর্পিত হয় তাজউদ্দীন আহমদের ওপরে। সে ঘটনাগুলি তৃতীয় পর্বে উল্লিখিত।

      চতুর্থ পর্বে মুক্তিযুদ্ধর সময়কার আরও ঘটনাবলী বর্ণিত হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে পঞ্চম পর্বে ১৯৭২ সালে, যেখানে বঙ্গবন্ধু ১০ এপ্রিল সংসদে স্বাধীনতা ঘোষণা সম্পর্কে বক্তব্য রেখেছেন সেখানে সেই প্রেক্ষিত অনুসারে ওনার স্বাধীনতা ঘোষণা দেওয়া সম্পর্কিত আরও তথ্য যোগ দেওয়া হয়েছে।

      পাঠক খণ্ড খণ্ডভাবে পড়বে এই ধারণার বশবর্তী হয়ে ভিন্ন সময়-পর্বের তথ্য আগে উল্লেখ করতে হবে এ কথায় একমত হতে পারলাম না। যারা সত্য জানতে আগ্রহী নন বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য শুধুই বিতর্ক সৃষ্টি করতে চান তারা পরের পর্বের তথ্য প্রথমে দিলেও বিতর্ক করেই যাবেন।

      অন্যদিকে, আমার অভিজ্ঞতায়, যারা দলীয় বা ব্যক্তিস্বার্থের দৃষ্টিকোণের বাইরে থেকে বইটি পড়েছেন তাঁরা তাদের দৃষ্টি শুধু স্বাধীনতার ঘোষণার একটি অংশে না রেখে পুরো বইয়ের বিবরণের আলোকে বইটির মূল্যায়ন করেছেন।

      বইটি সম্পর্কে অর্থনীতিবিদ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম বলেছিলেন–

      “ইতিহাস-বিকৃতির হাত থেকে রক্ষার প্রয়োজন মেটাবে বইটি— এই বইটি আমার মনে হয় আমাদের সকলের পড়তে হবে।”

      [দ্বিতীয় সংস্করণ, ‘তাজউদ্দীন আহমদ: নেতা ও পিতা’ ]

      তাজউদ্দীন দূরদর্শী ছিলেন। বঙ্গবন্ধু যদি সেদিন ভিন্ন মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা না দিয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহচর তাজউদ্দীন আহমদ এবং দলকে দিয়ে যেতেন তাহলে বিষয়টিতে স্বচ্ছতা থাকত, বিরোধী দল বিতর্ক সৃষ্টি করত না এবং আজকে এই লেখারও অবতারণা হত না।

      ২.

      এত বছর পরেও মুক্তিযুদ্ধের কাণ্ডারি যিনি হাল না ধরলে দেশ স্বাধীন হত কিনা সন্দেহ, সেই অসাধারণ রাষ্ট্রনায়ক তাজউদ্দীন আহমদের মূল্যায়ন হয়নি। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাঁর দল ভুলে যায় তাঁকে স্মরণ করার কথা। ‘মুজিবনগর’ নামকরণ তাজউদ্দীন আহমদ করেছিলেন তাঁর প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধুর নামে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের এই প্রথম রাজধানী ‘মুজিবনগর’ থেকে বিস্ময়কর নিষ্ঠার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে আমাদেরকে একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছিলেন।

      তাঁকে বাদ দিয়ে যখন ইতিহাস রচনার চেষ্টা করা হয় তখন সে বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন নালিশ নয়, ‘ইতিহাসের দাবি’ বলা যেতে পারে। তাজউদ্দীন কন্যা বলেই হয়তো এখনও নিজের বিবেক বিসর্জন দিয়ে দুয়ে দুয়ে পাঁচ বলা শিখিনি।

      ৩.

      বঙ্গবন্ধুর পারসোনাল এইড হাজী গোলাম মোরশেদ, যিনি ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ৩২ নম্বর রোডের বাসভবন হতে গ্রেফতার হন, তিনি প্রায় রাত ১২ টার দিকে একটি ফোন কল পান । সেই অজানা ব্যক্তি ফোনে বললেন, “বলধা গার্ডেন থেকে বলছি। মেসেজ পাঠানো হয়ে গিয়েছে। মেশিন নিয়ে আমি কী করব?”

      বঙ্গবন্ধু হাজী গোলাম মোরশেদের মাধ্যমে উত্তর দিলেন মেশিনটা ভেঙে পালিয়ে যেতে।

      [ ‘তাজউদ্দীন আহমদ: নেতা ও পিতা’ , হাজী গোলাম মোরশেদের সাক্ষাৎকার হতে, পৃ- ২৭৯ ও ১৪৭]

      হাজী গোলাম মোরশেদ ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সে রাতের একমাত্র জীবিত সাক্ষী যে, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে একটি বিশেষ মেসেজ পাঠানো হয়েছিল। এই ঘটনার উল্লেখ আমি এর আগে কোথাও দেখিনি। সে জন্য বলা যায় যে, এই ঐতিহাসিক তথ্য প্রথমবারের মতো আমার বইতে উল্লিখিত হয়েছে।

      শহীদ প্রকৌশলী নুরুল হকের বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে খুলনা থেকে ট্রান্সমিটার আনার বিষয়টি ফখরুল আরেফিন পরিচালিত প্রামাণ্যচিত্র ‘দ্য স্পিচ’ এ প্রথম দেখানো হয়েছিল, সে বিষয়টি আপনি সঠিক বলেছেন। আমার অনিচ্ছাকৃত ভুলটি ধরিয়ে দেবার জন্য ধন্যবাদ। আমি ঘটনাটি দ্বিতীয় বার কিন্তু আরও অনেক বিশদভাবে ও তথ্যসহকারে বর্ণনা করেছি।

      শহীদ নুরুল হকের পরিবারের সাক্ষাৎকার নেবার সময় আমি জানতে পারি যে, ‘মুজিবনগর’ প্রামাণ্যচিত্রটির ওপেনিং করেন এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার এবং তিনি চিত্রটির সিডি শহীদপুত্র এ কে এম জিয়াউল হকের হাতে তুলে দেন। পরিচালকের নাম এবং ‘মুজিবনগর’ প্রামাণ্যচিত্র এবং উল্লিখিত অংশটুকু আমার বইতে শহীদ নুরুল হক পরিবারের সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করা হয়েছে।

      [প্রাগুক্ত, পৃ- ৩০৯]

      ৪.

      ১০ এপ্রিল, ১৯৭২। জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধুর বক্তব্যে ওয়্যারলেসে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠাবার বিষয়টি এবং ২০০৯ সালে হাই কোর্ট প্রদত্ত রায়ে বঙ্গবন্ধু যে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা দেন সেই বিষয় দুটি প্রথমে উল্লিখিত হয়। পরে আমি যখন স্বাধীনতা ঘোষণা সম্পর্কে তথ্য দুটি পাই তখন সেগুলি যোগ হয়।

      সেই সঙ্গে হাজী গোলাম মোরশেদের সাক্ষাৎকার হতে বঙ্গবন্ধুর ১৯৬২ সালে ভারতে যেয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করার প্রচেষ্টার বিষয়টি। এই নতুন বিষয়গুলি যোগ করতে গিয়ে অন্যান্য স্মৃতিচারণের অনেকাংশ সংক্ষেপ বা বাদ দিয়ে চ্যাপ্টারটা নতুন বিন্যাসে লেখা হয়। একাত্তর টিভির সাক্ষাৎকারে (২ মে, ২০১৪) আমি নতুন তথ্যের আলোকে চ্যাপটার বদলে ফেলার কথা বলেছিলাম।

      মুক্তিযুদ্ধর কথা লিখতে গেলে মইদুল হাসানের সরাসরি অভিজ্ঞতা থেকে লেখা, মৌলিক গবেষণা ও তথ্যসমৃদ্ধ, বস্তুনিষ্ঠ ‘মূলধারা ৭১’ বইটি অবশ্যপাঠ্য বলে মনে করি। মুক্তিযুদ্ধের কথা লিখতে গিয়ে তাঁর বই থেকে স্বাভাবিকভাবেই রেফারেন্স দিয়েছি। মুক্তিযুদ্ধের বহু গবেষকও ওনার লেখার রেফারেন্স দিয়েছেন। মইদুল হাসান, অন্যান্য গবেষক বা ঐতিহাসিকের লেখায় যদি স্বাধীনতা ঘোষণা বিষয়ক নতুন তথ্য না আসে তাহলেও তাদের লেখার বিচার করতে হবে তারা যা তথ্য প্রকাশ করেছেন তার বস্তুনিষ্ঠতার ভিত্তিতে।

      তাছাড়া একজন লেখকের পক্ষে তো আর সব তথ্য পাওয়া সম্ভবপর নয়। যুগে যুগে নতুন তথ্য আসে বলেই তো নতুন চিন্তার ক্ষেত্র তৈরি হয়।

      ৫.

      এই প্রশ্নের উত্তর প্রথমেই দিয়েছি। সংক্ষেপে আবারও উল্লেখ করছি যে, বুদ্ধিমানরা সব কিছু যাচাই-বাছাই করেন সামগ্রিকভাবে ও বিভিন্ন দৃষ্টিকোণের আলোকে। আমাদের সমাজে এমনই আলোকিত প্রজন্ম একদিন আসবে, যাদের জন্যই এই বইটি।

      Reply
  8. Muzibur Rahman Khan

    মুক্তিযুদ্ধের পর জনগণ গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে। যারা গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন তারা জনগণের সঙ্গে নেই। সত্যিকারের গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মানুষ জনগণের অধিকারের বিরুদ্ধে যেতে পারেন নাা।

    বাকশাল প্রবর্তন করে শেখ মুজিব এবং সামরিক শাসন কায়েম করে জিয়া নিজেদের ইমেজ নষ্ট করেছেন। বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি, আমার আইডেনটিটি এই দেশের জনগণ। দেশের জন্য যে মুক্তিযোদ্ধারা জীবন দিয়েছেন আমার হিরো তারা; যারা জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছেন তারাও আমার হিরো।

    তাজউদ্দিন আহমদ তাঁর কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, তিনি গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার জন্য একজন সত্যিকারের ‘স্টেটসম্যান’। কখনও তিনি জনগণের কাছ থেকে দূরে সরে যাননি। আগামী দিনের নেতারা তাঁর পথ অনুসরণ করবেন সেটাই আশা করি।

    Reply
    • Prodip

      Unfortunately, we have got a tradition to equalize between Mujib and Zia,BNP and AL,which are lying with a totally opposite criteria.Mujib planned for BAKSAL, but everyone says BAKSAL has been implemented,even then with much ignorance or intentional motives BAKSAL never evaluated.It is true Mujib has been inspired BAKSAL by the socialist block of both domestic and international influences.Other side of the cion is Zia with his eccentric power mongering which bi-product is his so-called multiparty democracy. It is rare mis-judgment in the history to evaluate a hero and a villain in one scale.
      When we utter Tajuddin,it is irrevocably connected with Mujib ,both are undetachable phenomenon.While we give credit Tajuddin left behind Mujib with a narrow and intentional practice – then whole comment fall in a void.

      Reply
    • Prodip

      দুর্ভাগ্যবশত, এদেশে গত চার দশক ধরে যে ট্র্যাডিশনটা চালু রয়েছে, সেটা হল মুজিব বনাম জিয়া, লীগ বনাম দল। এর অর্থ কিন্তু বহুমাত্রিক এবং পৌনঃপুনিক। এর মাঝে যে কর্মটা সাধিত হয় তা হল ইক্যুয়ালাইজেশন– প্রধানত মুজিব এবং জিয়া, এ দুজন প্রয়াত ব্যক্তির মাঝে। যেখানে একজন ‘মহানায়ক’, অপরজনকে নায়ক না বলে ‘ভিলেন’ বলা চলে। অনেকে ‘খলনায়ক’ বলেন, যদিও তা রাজনৈতিক জোশ-সমৃদ্ধ।

      মুজিবের নাম এলেই আসে বাকশাল। এছাড়া আর কী দিয়ে তাঁকে ছোট করা যায়? তারা এমনভাবে বলেন, যেন বাকশাল প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল, নাকি তার আগেই তাঁকে জীবন দিতে হয়েছে ঘাতকদের হাতে? কৌশলী অজ্ঞতার এক অপূর্ব নিদর্শন!

      এটা সত্যি যে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক শিবিরের উৎসাহে তিনি বাকশালের দিকে ঝুঁকেছিলেন। অপরদিকে অতিমাত্রায় উচ্চাভিলাষী, ক্ষমতাপিপাসু জিয়া নিজ গুণেই ছিলেন মুজিবের সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর মানুষ, যার নির্মম কূটকৌশলের বাই-প্রডাক্ট হল বহুদলীয় গণতন্ত্র, যা মিথের পর্যায়ে উপনীত।

      ইতিহাসের এমন অবিচার খুব কমই চোখে পড়ে যে, একজন মহানায়কের সঙ্গে একজন ভিলেনের এহেন ‘ইক্যুয়ালাইজেশন’!

      সেই একই মুজিব ঘাতকদের হাতে নিহত, মুজিব এখন ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তাজউদ্দিনকে নিয়ে ইদানিং একই কায়দায় চলছে মুজিব-নিধন। কিন্তু তারা ভুলে যান যে, এদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে দেবতুল্য তাজউদ্দিন এবং স্বাধীনতার স্থপতি মুজিব এক ও অবিচ্ছেদ্য। মুজিবকে অগ্রাহ্য করে তাজউদ্দীনকে যদি পাদপ্রদীপের আলোয় আনা হয়, তাহলে তার (তাজউদ্দিনের) আত্মা ডুকরে কেঁদে উঠবে।

      যারা এই ভ্রমাত্মক, সঙ্কীর্ণ চিন্তা লালন করেন, তাদের যে কোনো মন্তব্য ইতিহাসের কাছে একদিন মূল্যহীন বলেই বিবেচিত হবে।

      Reply
    • sulran

      বাকশাল– প্রেসিডেন্ট সরাসরি নির্বাচিত হবেন। একটি নির্বাচিত সংসদ আইন পাস করতে পারেন।

      আমেরিকার বিশ্ববিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন ফেব্রুয়ারি ১০. ১৯৭৫এ লিখেছে:

      Under the new system, executive powers are vested in the President, who will be elected directly every five years, and in a Council of Ministers appointed by him. Although an elected Parliament can pass legislation, the President has veto power and can dissolve Parliament indefinitely.

      Parliament may remove the President, however, by a three-fourths vote “for violating the constitution or grave misconduct” as well as for physical or mental Incapacity. The amendment also empowers Mujib to set up a single “national party,” thus shutting off any political opposition.

      Reply
    • togos tulandi

      এখানে একটা তথ্যগত ভূল আছে।
      জিয়া সামরিক শাসন জারী করেনি।
      সামরিক শাসন জারী করেছে খোন্দকার মোশতাক আহমদ।
      আমাদের আহাম্মক রাজনীতিবিদেরা নিজেদের তৈরী করা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখে ভয় পেয়ে পালিয়ে যাবার কারনে যে শুন্যতা তৈরী হয় দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া সেনাপ্রধান জিয়াকে অরাজক পরিস্থিতি সামাল দেবার জন্য এগিয়ে আসতে হয়। ব্যাক্তিত্ব আর নেতৃত্বের সহজাত গুনের কারনে দেশের নেতৃত্ব এভাবেই তার হাতে আসে।

      Reply
  9. Ahnaf

    শারমিন আহমেদ কি তাঁর বইতে জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণার Text তুলে ধরেছেন? জিয়া যদি নিছ্ক ‘পাঠ্ক’ হতেন তবে সে ঘোষণার লেখ্ক কে? আর সে লেখ্ক কেনই-বা প্রথ্মে জিয়াকে ‘প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে লিখলেন ও পরে পরিবর্তন করলেন?

    মিস্টার এনায়েত নাকি শেখ মুজিবের ঘোষণা হাতে পেয়েছেন রাত ১০ টায়। তাহলে শেখ মুজিব তা দিয়েছেন ৯ টায়। কমপক্ষে ১ ঘন্টা তো লেগেছে ঢাকা থেকে বিভিন্ন মাধ্যম হয়ে চট্রগ্রাম বেতারে যেতে, বিশেষ করে সেদিনের টেকনলোজি ও রাজনৈতিক গুমোট পরিবেশের কারণে।

    আর তাজউদ্দিন আহমদ ক্খ্ন ৩২ নম্বর থেকে শেখ মুজিবের দেওয়া খাঁটি ১ নং ‘তেলের শিশি’ নিয়ে এসেছেন উনাকে দিয়ে আরামে ঘুমাতে তা শারমিন জাতিকে জানিয়েছেন।

    Reply
    • sulran

      ৬০ পৃষ্ঠায় একে খন্দকার বলেছেন–

      ‘‘মেজর জিয়ার ঘোষণাটিকে কোনোভাবেই স্বাধীনতার ঘোষণা বলা চলে না। মেজর জিয়া রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না বা ঘোষণা দেওয়ার মতো উপযুক্ত ব্যক্তিও ছিলেন না। যে ঘোষণা চট্টগ্রাম বেতার থেকে তিনি দিয়েছিলেন ঠিক একই ধরনের একাধিক ঘোষণা ২৬ ও ২৭ মার্চ চট্টগ্রাম বেতার থেকে বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ও ছাত্রনেতাও দিয়েছিলেন, এমনকি বেতারকর্মীরাও একই ধরনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।’’

      Reply
    • sulran

      বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা আমার বইতে স্পষ্ট উল্লিখিত।

      [১৪৭-১৪৮, ২৭৪-২৯১, ৩০১-৩১০ পৃষ্ঠা]

      Reply
    • sulran

      শেখ মুজিবের সঙ্গে জিয়ার তুলনা করতে চাইলে পড়ে দেখতে পারেন ১৯৭১ সালের সংবাদপত্রগুলো– কোথাও জিয়ার নাম খুঁজে পাচ্ছি না।

      নিউ ইয়র্ক টাইমস, টাইম ম্যাগাজিন, ইউএসএ এবং টাইমস সংবাদপত্র, ইউকেএর ওই সময়কার কপি পেতে পারেন তাদের ওয়েবসাইট থেকে, মাত্র ১ ডলারের বিনিময়ে।

      Reply
  10. Muzibur Rahman Khan

    বাংলাদেশে রাজনীতি এখন ব্যবসা! বঙ্গবন্ধু বাকশাল করেছিলেন। জিয়া মিলিটারি শাসন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বিএনপি করেছিলেন। ডিকটেটেরদের অন্ধ অনুগত এক দল লোক অটোক্রেসি থেকে সুবিধা নিয়েছেন। বিএনপি শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে এনেছে তাদের সুবিধা ঠিক রাখার জন্য। তারা কখনও গণতন্ত্র বা জনগণের অধিকার নিয়ে ভাবেনি।

    দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, বাংলাদেশ রাজনীতি দুটি গ্যাং দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। তারা বঙ্গবন্ধু ও জিয়াকে মুক্তিযুদ্ধের ‘সুপার সুপার হিরো’ হিসেবে সামনে তুলে ধরছে, ইগনোর করছে সব শহীদদের অবদান।

    জাতিকে এসবের মূল্য দিতে হচ্ছে। দেশে গণতন্ত্র নেই, নিরাপত্তা নেই, ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য কোনো আশা নেই। করাপশন আকাশছোঁয়া, বিচার ব্যবস্থা ও মিডিয়া চলে গেছে ডিকটেটরদের নিয়ন্ত্রণে। জনগণ হারিয়েছে তাদের স্বদেশ।

    Reply
  11. Fazlul Haq

    জামাত-বিএনপি ইবলিশের মানসপুত্র। তারা এবং তাদের নেতারা সর্বদা সত্যকে ভয় পায়। তারা মিথ্যার পূজারি। পাকিস্তানপন্থী জিয়াকে শিখণ্ডী করে তারা টিকে থাকতে চায়।

    তাই ইতিহাসের হাজার সত্য ও ডকুমেন্ট তাদের চোখের সামনে তুলে ধরলেও তারা সেগুলো দেখে না।

    Reply
    • Prodip

      সহমত পোষণ করে কিছু সাপ্লিমেন্ট করতে চাই, তা হল, সব আপাত মহৎ বাক্যবিলাসের মাঝে লুকিয়ে আছে একই অভিলাষ– স্বাধীনতার স্থপতি মুজিবকে, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে তার আসন থেকে চ্যূত করে, তার মহিমা কিছুটা হলেও খাটো করতে হবে।

      ১৯৭০ এর নির্বাচনে পাকিস্তানের রাজনীতিতে বাঙালি আধিপত্যের ভূমিধ্স নির্বাচন জয়ী আওয়ামী লীগকে যেমন ইয়াহিয়া ছাড় দেয়নি, তেমনি তার অদৃশ্য ধ্বজাধারীরা একই কায়দায় এখনও তাদের মিশন চালিয়ে যাচ্ছে।

      তাদের ভুললে চলবে না যে, এদেশের ইতিহাসে দেবতুল্য মানুষ তাজউদ্দীনকে একা ‘ক্রেডিট’ দিতে গেলে তাঁর বিদেহী আত্মা ডুকরে কেঁদে উঠবে, যে মানুষটি আজীবন মুজিব-ব্রতেই সমর্পিত করে রেখেছিলেন নিজেকে।

      Reply
  12. Jahirul Islam

    ধন্যবাদ। যারা ইতিহাস বিকৃত করতে চায় তাদের মুখোশ এভাবেই খুলে দেওয়া উচিত।

    Reply
  13. ড. সুলতান আহমদ

    ২৫ মার্চ রাতে তৎকালীন মেজর জিয়া একদল সৈন্য নিয়ে পাকিস্তান হতে অস্ত্র নিয়ে আসা সুয়াত জাহাজ হতে অস্ত্র খালাস করতে চট্রগ্রাম বন্দরের দিকে যাবার পথে, তৎকালীন ক্যাপ্টেন অলি আহমদ পথে তাকে ‘পাকিস্তানি সৈন্যরা বাঙালিদের নিরস্ত্র করছে’ খবরটি অবহিত করেন। অতঃপর জিয়াকে নিয়ে চট্রগ্রাম শহরে রাতে অবস্থানের পর কালুরঘাটের দিকে অগ্রসর হন।

    (অব.) লে কর্নেল অলি খালেদার মন্ত্রিসভায় থাকাকালীন ‘‘জিয়া চট্রগ্রামে একটি ড্রামের উপর দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন’’ বলে মিথ্যাচার করেছিলেন।

    শুধু এম এ হান্নান নন, সন্দ্বীপের তৎকালীন সংসদ সদস্য আবুল কাশেম সন্দ্বীপও চট্রগ্রামের বেতার কেন্দ্র হতে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেছিলেন ২৫/২৬ তারিখে।

    জিয়া নিজেকে সরকারের ‘অস্থায়ী প্রধান’ হিসেবে দাবি করে ইংরেজিতে একটি ঘোষণা একবারই দেন। পরবর্তীতে শেখ মুজিবের পক্ষে নতুনভাবে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। যা পুনঃ পুনঃ প্রচার করা হয় কালুরঘাট কেন্দ্র হতে।

    জিয়ার এ ঘোষণা পাঠ অবশ্যই তৎকালীন বাঙালি সামরিক, ইপিআর ও পুলিশ বাহিনীকে উজ্জীবিত করেছিল। জিয়া এমনকি ১৯৭৫ হতে ১৯৮১পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালী কখনও নিজেকে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ দাবি করেননি।

    ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিছু অবসরপ্রাপ্ত সামরিক/বেসামরিক আমলা, বিবেকহীন বুদ্ধিজীবী, অন্ধ স্তাবক ও সুযোগসন্ধানী অনুসারী জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোঘক হিসেবে প্রচারের টেপ অনবরত বাজাতে শুরু করেন, যা এখনও বাজাচ্ছেন আর দেশকে ধংসের দিকে ধাবিত করছেন।

    Reply
    • Enayet Mowla

      আমি নিশ্চিত নই যে, ক্যাপ্টেন অলি আহমদই ‘সোয়াত’ থেকে অস্ত্র খালাসের জন্য জেটিতে যাওয়ার পথে জিয়াকে থামিয়েছিলেন কিনা– হতে পারে আমি ভুল করছি– অলি আহমদ নয়, মেজর রফিক হলেন সেই ব্যক্তি।

      Reply
  14. Enayet Mowla

    এ নিয়ে আমি আগে অনেক বার লিখেছি কিন্তু এখন আবার সেই একই পয়েন্টলেস টপিক নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে।

    গত শতকের পঞ্চাশ দশকের শুরুতে, আমি রেডিও পাকিন্তানের একজন পেশাদার ঘোষক ছিলাম। আমার কাজ ছিল প্রোগ্রাম ‘অ্যানাউন্স’ করা, কিন্তু সেটা আমার পক্ষে নয়। ‘অ্যানাউন্সমেন্ট’ আর ‘ডিক্লারেশন’ বা ‘প্রোক্লেইমেশন’এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। স্বাধীনতার ঘোষণা (ডিক্লারেশন) দেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার ছিল শেখ মুজিবুর রহমানের, অথবা দিতে পারতেন তাজউদ্দিন আহমদ।

    একাত্তরের ২৬ বা ২৭ মার্চে অন্য যারা স্বাধীনতার ঘোষণা ‘পাঠ’ করেছিলেন (অ্যানাউন্সমেন্ট), তারা স্রেফ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের ‘পাঠক’ (অ্যানাউন্সার)– ‘ডিক্লারেশন’ বা ‘প্রোক্লেইমেশন’এর ‘দাবি’ তারা কখনও-ই করতে পারেন না, তাদের ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ বলা যায় না।

    ঘটনাচক্রে, আমি ব্যক্তিগতভাবে একাত্তরের ২৫ মার্চ রাত দশটায় চট্টগ্রামে স্বাধীনতা ঘোষণা-সংক্রান্ত ওই ম্যাসেজটি গ্রহণ করেছিলাম।

    Reply
    • Enayet Mowla

      আমার মন্তব্য আগেই লিখেছি এবং প্রয়োজন হলে যা লিখেছি সেটার প্রমাণ দেখাতেও রাজি আছি আমি।

      লেখক উল্লেখ করেছেন যে, ২৬ ও ২৭ মার্চে নগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি এম এ হান্নান ও মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন। কিন্তু আরেক জন ছিলেন, তিনিই কালুরঘাট ট্রান্সমিটার থেকে প্রথম অ্যানাউন্সমেন্ট করেন। তাঁর নাম ‘আবুল কাশেম সন্দ্বীপ’

      পরে যখন দেখলাম যে, তাঁর নাম বাদ পড়ে গেছে, তখন আমি এর প্রতিবাদ করেছি, ঢাকার পত্রপত্রিকাগুলোতে অনেক চিঠি লিখেছি। কোনো ফায়দা হয়নি।

      ‘আবুল কাশেম সন্দ্বীপ’ মারা গেছেন, তবে তাঁর পরিবার এটা নিশ্চিত করতে পারবেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি ওই ঘোষণা পাঠ করেছিলেন।

      Reply
      • Enayet Mowla

        বিশেষ কোনো প্রশ্ন থাকলে উত্তর দিতে পারি, এর বেশি কিছু লেখার নেই আমার।

        একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ওপর আমি একটি বই লিখেছি, প্রকাশিত হয়েছে ১৯৯৩ সালে, সাহিত্য প্রকাশ থেকে। দয়া করে মফিদুল হক এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

      • sulran

        ভাই এনায়েত মওলা,

        আপনার বই অনলাইন পৃষ্ঠা-সম্পর্কিত স্ক্যান করে এখানে আপলোড করুন, যদি সম্ভব হয়। আমি বাংলাদেশের বাইরে বাস করি। আপনার বই কিনে ফেসবুকে শেয়ার করব।

      • Sharmin Ahmad

        ভাই এনায়েত মওলা,

        আপনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। স্বাধীনতার মেসেজ গ্রহণ করায় আপনারও একটি ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে।

        “তাজউদ্দীন আহমদ নেতা ও পিতা” বইয়ের ১৪৮ পৃষ্ঠায় আবুল কাশেম সন্দ্বীপের নাম ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সন্ধ্যা সাতটা চল্লিশ মিনিটে উনার প্রথম ঐতিহাসিক ঘোষণা “স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র থেকে বলছি” উল্লিখিত হয়েছে।

    • sulran

      বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার বিষয়ে–

      ১৯৭১ সালের অনেক আন্তর্জাতিক নিউজ-মিডিয়া, নিউ ইয়র্ক টাইমস (২৭ মার্চ, ১৯৭১), টাইমস সংবাদপত্র, ইউকে (২৭ মার্চ, ১৯৭১), টাইম Magazine, USA (৫ এপ্রিল, ১৯৭১), আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট– history.state.gov ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ, ওয়াশিংটন সময় বিকাল ৩.০৩ – ৩.৩২ গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’এর প্রতিনিধি মি. রিচার্ড হেলমস জানান–

      “শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন।’’

      Reply
  15. Mortuza Khaled Milton

    ১৯৭১ থেকে ২০১৪। অনেকগুলো বছর কেটে গেছে। আমরা এখন স্বাধীন। পুরোপুরি স্বাধীন। কিন্তু এটাও সত্য যে, এই দেশ এমনি এমনি সৃষ্টি হয়নি। এ জন্য একটা শক্তিশালী টিম কাজ করেছে। আর তার নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

    ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হয়েছিলেন। তিনি হয়তো সত্যি সত্যিই দেশের স্বাধীনতা ঘোষনা দিয়ে যেতে পারেননি। তাতে কী? ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বেই আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। সেই মহান নেতার গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বাধীনতাকামী দেশের জনগণ রাস্তায় নেমে পড়ে। তারা আরও সংগঠিত হয়ে পাকিস্তানি বাহিনীকে মোকাবেলা করে। সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর একটা অংশও তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। তাদের সকলের মূল লক্ষ্য ছিল দেশকে শত্রুমুক্ত করা। স্বল্প সময়ে তা সম্ভবও হয়ে ওঠে।

    তখন স্বাধীনতার ব্যাপারে ততটা গাল-গল্প বা মন্দ সমালোচনা ছিল না। কিন্তু দিন যত বাড়ছে স্বাধীনতার ব্যাপার নিয়ে ততই গাল-গল্প ও মন্দ সমালোচনা দেখা যাচ্ছে। একটা গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এসব করছে। তারা আওয়ামী লীগের ভেতরেও অনুপ্রবেশ করেছে। তারা কখনও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অন্তরে ধারণ করেনি। বরং তারা তা ব্যক্তিগত লাভালাভের কাজে লাগিয়েছে। ফলে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

    এদিকে কিছু অতিউৎসাহী আওয়ামী লীগারদের দেখা যাচ্ছে যারা নিজেদেরকে দেশের একমাত্র ভাগ্য-দেবতা মনে করছেন। তাদেরকে সেক্টর কমান্ডারদের কাজ নিয়েও সমালোচনা করতে দেখা যাচ্ছে। এসব তথাকথিত নেতাদের কারণেও মুক্তিযোদ্ধাদের ফোরাম দুই-তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে তারাও নিজেদের সংগঠনকে শক্তিশালী রাখার স্বার্থেও মিথ্যা তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভক্ত করছেন।

    এত সব কারণেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কলঙ্কিত হচ্ছে। তাই বলছি, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিনির্মাণে সকলকে দল-মতের উর্দ্ধেে উঠে কাজ করতে হবে। কারণ মুক্তিযুদ্ধ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। মুক্তিযুদ্ধ সকলের। সকল মুক্তিযোদ্ধাকেই সম্মান জানাতে হবে। তাদের কথা শুনতে হবে।

    তবেই মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস লেখা যাবে।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—