Eid-ul-Azha Cattle - 1000

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৪। ভারতের ভুপালের পশুপাখির অধিকার সংরক্ষণ কর্মীরা তাজ-উল-মসজিদের সামনে প্ল্যাকার্ড নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্ল্যাকার্ডগুলোতে ঈদ-আল-আজহাতে মুসলমানদের পশু কোরবানি না দেবার অনুরোধ সম্বলিত বাণী লেখা ছিল। তাঁদের বক্তব্য ছিল, নিরামিষ আহার স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো তো বটেই, উপরন্তু পরিবেশ, প্রকৃতি ও পশুপাখির জন্যেও ভালো।

বেনজির সুরাইয়া ছিলেন এই কর্মীদের একজন। তাঁর পরিধানে ছিল সবুজ রঙের হিজাব এবং লেটুস পাতা দিয়ে মোড়া পরিচ্ছ্দ। তাঁর হাতের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল Make Eid happy for all, Try Vegan অর্থাৎ ঈদ যেন সবার জন্য আনন্দময় হয়, নিরামিষ খাবার খেয়ে দেখার চেষ্টা করতে পারেন।

এই আন্দোলনের আয়োজন করেছিল PETA নামে পশুপাখির অধিকার সংরক্ষণে নিয়োজিত মুম্বাইয়ের একটি সংস্থা যার সদস্যরা বিশ্বাস করে যে, এই পৃথিবীতে পশুকূলের অস্তিত্ব শুধুমাত্র আমাদের খাদ্য, পোশাক আর আমোদের চাহিদা পূরণ করবার জন্য নয়। কিন্তু জনতার ওপর তাদের এই বাণীর তীব্র প্রতিক্রিয়া হল। তারা PETA এর মহিলা কর্মীদের ওপর চড়াও হয়ে তাদের কিল-ঘুষি থেকে দেওয়া থেকে শুরু করে তাদের দিকে জুতো এবং পাথরও ছুঁড়ে মারতে লাগল। পুলিশ সেই কর্মীদের না বাঁচালে ঘটনা আরও খারাপের দিকে মোড় নিতে পারত। পরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার জন্য পুলিশই আবার বেনজির সুরাইয়া ও আরও দুজন প্ল্যাকার্ড বহনকারীকে গ্রেপ্তার করেছিল।

দক্ষিণ এশিয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই ধর্মীয় ব্যাপারে শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই। কিন্তু আমার মতে, বেনজির সুরাইয়া ও তাঁর মতো আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে যে বার্তা ভারতের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন সেটি বাংলাদেশের জন্যও প্রযোজ্য। বেনজির বলতে চেয়েছিলেন পশুদের হত্যা না করেও পবিত্র ঈদ-উল-আজহা পালন করা সম্ভব, প্রাণি হত্যা না করে নিরামিষ পুষ্টিকর খাবার খেয়ে বেঁচে থাকা যায়, আর এভাবে একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলা কঠিন নয়।

কিন্তু বেনজিরের এই কথা শুধুমাত্র ইসলামের জন্যই প্রযোজ্য নয়, পশুকুলের প্রতি দয়া সব ধর্মেরই মর্ম। মহাত্মা গান্ধী কলকাতার কালীঘাট মন্দিরে পশুর বলি দেখে খুবই মর্মাহত হয়েছিলেন। পরে আত্মকাহিনীতে তিনি লিখেছিলেন যে, একজন সাধুকে যখন তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ”এই পশুবলি কি আপনি ধর্ম বলে মনে করেন”, তখন সাধু উত্তরে বলেছিলেন, “এমন কোনো মানুষ আছে যে পশুবলিকে ধর্ম বলে মনে করবে?”

গান্ধী মনে করতেন, পশুবলি এমন একটি পাপ যার স্থান নেই কোনো ধর্মেই।

কয়েক বছর আগে প্রায় ৯০ জন বাংলাদেশি মুসলমান বন্ধুর সঙ্গে মিলে আমি একটি চিঠিতে সই করি। চিঠিটি অনেকগুলি বাংলাদেশি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছিল। আমরা চিঠিটিতে ঈদের সময় পশু কোরবানি রীতিটির পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করেছিলাম।

[চিঠির মন্তব্য বিভাগে প্রচুর মানুষ এর বিরুদ্ধে বিরূপ সমালোচনা করেন, আমাদের সৌভাগ্য যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ইট-পাটকেল ছোঁড়া যায় না।]

আমরা লিখেছিলাম যে, ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) যিনি “পুরো সৃষ্টির রহমত” হিসেবে এসেছিলেন (আল কুরান ২১:১০৭), তিনি পশুদের প্রতি সদয় ব্যবহার করতে বলেছিলেন। সুন্নি ইসলামের অন্যতম হাদিস গ্রন্থ, শাহী-আল-বুখারিতে লেখা একটি ঘটনার বিবরণ এ রকম–

হযরত মুহাম্মদ (স.)কে একবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল–

‘‘পশুপাখির প্রতি দয়ামায়া দেখালে কি পরকালে কেউ পুরস্কৃত হয়?’’

হযরত মুহাম্মদ (স.) উত্তরে বলেন–

“যে কোনো প্রাণিকে দয়ামায়া দেখালে তার পুরস্কার নিশ্চয়ই আছে।”

কিন্তু ঈদের সময় পশুর সঙ্গে যে দুর্গতি ঘটে তা দয়ামায়া থেকে অনেক দূরে। কুরবানির আগে এই পশুকুলকে বহুদূর (অনেক সময় ভারত থেকে) থেকে পানি ও খাবার ছাড়া হয় হাঁটিয়ে নিয়ে আসা হয়, অথবা ট্রাকে গাদাগাদি করে অবর্ণনীয় দুদর্শার মধ্যে চালান দেওয়া হয়। এমনকি একটি ক্ষেত্রে ভারত সীমান্তের ঐ পার থেকে পাহাড়ের ঢাল দিয়ে পশুদের ঠেলে গড়িয়ে দেবার ঘটনাও আছে। তাই এর মধ্যে অনেক পশুই গরমে, না খেতে পেয়ে অথবা অন্যান্য অত্যাচারে যাত্রা শেষ হবার আগেই মারা যায়।

কুরবানির সময় এই প্রাণিকূলের পা বেঁধে গলার উপর দিয়ে ছুরি চালালে জীবন ও মরণের মধ্যে লড়াইয়ে প্রাণিগুলো ছটফট করতে থাকে, শেষনিশ্বাস না পড়া পর্যন্ত কয়েক মিনিট পার হয়ে যেতে পারে। আর এই মর্মান্তিক দৃশ্যটি সংঘটিত হয় বাদবাকি অপেক্ষারত আতঙ্কিত পশুকূলের সামনে।

এই পুরো ব্যাপারটা না মানবিক না হালাল। যে ইসলাম আমাদের ভালোবাসা ও দয়ামায়ার ব্যাপারে সংবেদী হতে শেখায় তার সঙ্গে এর কোনো সঙ্গতি নেই। তাই আমরা সেই চিঠিতে লিখেছিলাম, আমিষ পদার্থের বদলে সবজি, ফলমূল অথবা অর্থ ইত্যাদি দান করলে ইসলামের নীতি মেনে চলাও হবে এবং হযরত ইব্রাহিমের কাহিনি স্মৃতিতে জাগ্রত রাখা যাবে।

আল কুরআনে লেখাই আছে–

‘‘আল্লাহতালার কাছে কুরবানি দেওয়া পশুটি বা তার রক্ত পৌছায় না, পৌঁছায় শুধু মানুষের ধর্মানুরাগ।’’

[আল কুরআন, ২২: ৩৭]

আজ আমি আবার আমার সব মুসলমান বন্ধুদের কাছে পশু কোরবানি দেবার রীতি পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি। ইসলামের মর্ম যদি উদারতা ও সমবেদনাই হয় তাহলে পশু কুরবানি দেওয়া ছাড়াও আরও অনেক পদ্ধতি খুঁজে নেওয়া যাবে পবিত্র ঈদ পালন করার জন্য।

ঈদ শুধু মানুষের জন্য নয়, সৃষ্টিকর্তার সকল প্রাণির জন্য আনন্দের উৎসব করে তুলুন।

সবাইকে ঈদ মুবারক।

রেইনার এবার্টরাইস ইউনিভার্সিটির দর্শন বিভাগের পিএইচডি পদপ্রার্থী এবং অক্সফোর্ড প্রাণিনীতিশাস্ত্র সেন্টারের সহযোগী ফেলো

৭৮ Responses -- “মুসলিম ভাইবোনদের উদ্দেশে আবারও খোলা চিঠি”

  1. Sabbir

    The Holy Qur’an says in Surat Al-Kāfirūn – Lakum deenukum waliya deen [109:6], which is – ‘for you is your religion, and for me is my religion’ in english! and as i can understand that’s the best policy! i’m not going to ask Christians why r they eating pork, neither, im going to ask Hindus why can’t they eat cow meat where they can eat lamb or goat, aint they animal?
    if any muslim is capable, Kurbani is a must on him! let us follow our religion!

    Reply
  2. শোয়েব আহমেদ

    এখানে উৎসব না এটা আমাদের ধর্মীয় রীতি আল-কোরানের বিধীবিধান আস্বীকার করার নাই,কোরআনে যা বলা আছে তা প্রত্যেক মুসলমান কে মানতে হবে,না মানলে গুনাহগার হবে, আনেক মুসলমান আনেক ইসলামী ধর্মীও বিধীবিধান পালন করেন না কিন্ত্ত তিনি এটা বলেন ও না বা বলতে পারেন ওনা যে এটা ঠিকনা তাহলে সেই ব্যক্তি মুসলিমের খারিজ হোয়ে যাবে। মহান আল্লাহতালা এই পৃথিবী যা কিছু সৃষ্টি করেছেন বুঝেই করেছেন এবং কোরআন ও নবী (সঃ) এর হাদিস এর মাধ্যমে আমাদেরকে সঠিক চলার যে দিক নির্দেশনা এটাই সঠিক আমরা কেহ পালান করি ,কেহ করতে পারিনা বা করিনা কিন্তু এক সময় আসে যখন আমরা বলি না এত দিন যা করেছি তা সঠিক ছিলনা এবার সঠিক পথে চলতে হবে এরাই মুসলমান ্

    Reply
  3. সেলিম খান

    এমন খোলা চিঠি না প্রকাশ করার জন্য কতৃপক্ষকে অনুরোধ করছি। এতে করে সাধারন মানুষের অনুভূতিতে আঘাত লাগে।

    Reply
  4. সজীব

    সারা পৃথিবীতে যেভাবে মুসলিম ভাই বোন দের হত্যা করা হচ্ছে তাতে কোনো প্রকার মায়া কাননা নেই……

    Reply
  5. Imran

    নিজে কমেন্ট করলে যা কিছু লিখতাম, তার চেয়ে অনেক বেশি কিছুই জানতে পারলাম। ধন্যবাদ সবাইকে এত সুন্দর কমেন্টগুলো করার জন্য।

    Reply
  6. ফারুক

    এই সমস্ত লেখা দেখলে বড় হাসি পায়। মুসলিমরা যখন ধর্মীয় কাজে পশু কুরবানি করে তখন এই সমস্ত লোকদের মাথা শুরু হয়। কিন্তু পশ্চিমারা যখন বিনাকারনে ফিলিস্তি, সিরিয়, আফগানিস্তা, ইরাক ইত্যাদি দেশের মত নিরিহ মানুষগুলিকে দিনের পর দিন হত্যা করেই চলেছে তখন এদের কোন মাথা ব্যাথা হয় না। এরা হচ্ছে পশুদরদী, মানবদরদী না।

    Reply
  7. মোঃ আবুল কালাম

    আপনি যে দয়া পশুদের প্রতি দেখাচ্ছেন, সে দয়া যদি একজন মানুষ অপর মানুষের প্রতি দেখাত তাহলে তো বিশ্বে এমনিতেই শান্তি চলে আসত। পশুহত্যা পাপ মনে করা হচ্ছে, অথচ হাজার হাজার শিশু ও নারীকে সারা বিশ্বের যুধ্যমান রাষ্ট্রগুলোতে মেরে ফেলা হচ্ছে, তার জন্য তো আপনার মায়াকান্না নেই!!!

    কুরবানির বিরুদ্ধে না বলাই ভালো হবে। এটা আল্লাহর হুকুম, বরং পশুর সঙ্গে মানুষ ভালো আচরণ করছে কিনা সেটাই দেখার বিষয়।

    Reply
  8. তপু

    বাঁচার তাগিদে মাংস খেতে হবে, তাই পশুহত্যা সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। তবে উৎসব করে প্রাণিহত্যার মধ্যে ‘বর্বরতা’ (পৃথিবীর দুটি বর্বর ধর্মানুসারীরা যা করে) ছাড়া অন্য কোনো রূপ আমি দেখতে পাই না।

    Reply
  9. চেতনাধারী বাংলাদেশি

    রেইনার এবার্ট ভাইজান, আপনার দেশের ‘মহামানব’ হিটলার কিন্তু vegetarian আছিলেন। তাই আমি জানি পশুর প্রতি দরদিরা কতটা মানবদরদি। আর একটা কথা, মুসলিমদের ইসলাম শিক্ষা আপানার মত ইউরোপইয়ানদের না দিলেও চলবে।

    Reply
  10. nagorik

    একজন লিখেছেন:

    যে মহান স্রষ্টার সৃষ্টি, তাঁর নির্দেশে তাঁরই নামে উৎসর্গ করা হয়, এর চেয়ে বড় দয়া সেই সব প্রাণিকূলের জন্যে আর কী হতে পারে।

    আপনি আমি সকলেই তো এই প্রাণিকুলের অংশ। তাই তো, তাঁর কথাকে যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করার অপরাধে তাঁর নির্দেশে তাঁর নামে সারা পৃথিবীতে উৎসর্গ করার প্রতিযোগিতা চলছে।

    পশু জবাই তো প্র্যাকটিকাল লেসন মাত্র। এর প্রকৃত ব্যাবহার হয় আসলে মানুষের উপরে। মুসলমানেরা যতটা সুন্দর করে ঘাড় থেকে মাথা আলাদা করতে পারে, চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি অন্য কোনো ধর্মের মানুষ তা পারে না।

    Reply
    • চেতনাধারী বাংলাদেশি

      ধর্ম সম্পর্কে জানা নেই, তাই এইভাবে লিখেন?

      আল্লাহ অকারণে মানুষ মারা হারাম করেছেন। একই সঙ্গে দুনিয়ার অনেক পশুও হারাম করেছেন। মন চাইলেই সব খেতে পারব না আমরা।

      এই যদি হয় নাগরিক, আমাদের দেশের শিক্ষার দৈন্যতা বুঝা যায়!

      Reply
  11. শাহিন

    কোরবানি সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান থাকলে এই ধরনের মন্তব্য করতেন না।

    আর থাকবেই -বা কী করে! আপনি তো পশ্চিমাদের লোক…

    Reply
  12. Shakil Dara-E

    সৃষ্টিকর্তা নিজে যেখানে পশু কুরবানি করতে নিদের্শ দিয়েছেন এবং নূরনবী সা: পবিত্র হাদিসে সুস্পষ্ট করে পশু কুরবানির কথা বলে দিয়েছেন, সেখানে এই অতি পশুপ্রেমিরা সৃষ্টিকর্তা ও রাসুল সা:-এর বিধানের ভুল ধরার অপচেষ্টা করছে।

    এখন তাদের কাছে আমার প্রশ্ন– তারা কি অসীম দয়ালু আল্লাহ ও তাঁর হাবীব সা: (যিনি সমস্ত সৃষ্টিকুলের প্রতি রহমত ও বরকত হিসেবে এসেছেন)এর চেয়েও পশুর প্রতি বেশি দরদী?

    অথচ পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি মাংস ভক্ষণ করে পশ্চিমারা। এমনকি তারা নিজেদের স্বার্থের জন্য বিনা কারণে মানুুষ হত্যা করেছিল, করছে এবং করতে থাকবে।

    আল্লাহ তাদের হিদায়েত করুন। আমিন!!

    Reply
  13. লোকমান

    আপনার পশুপ্রেম আমাকে নয় শুধু, সংবেদনশীল প্রত্যেক মানুষকে প্রীত করবে নিঃসন্দেহে।

    তবে যারা বিভিন্ন ধর্মে বিশ্বাস করেন এবং ধর্মীয় আচার আচরণ পালন করে থাকেন, তাদেরকে অবশ্যই তাদের পালনকর্তার কিছু আদেশ-নির্দেশ মানতে হয়। ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা তাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর নির্দেশে প্রতি বছর জিলহজ্ব মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখে পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। বিজ্ঞ লেখক ভাইকে অনুরোধ করব, ইসলাম সম্পর্কে আরও গভীরভাবে অধ্যয়ন করতে।

    Embryology’র অধ্যাপক ড. মরিস বূকাঈ সৌদি আরবের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে গিয়ে মানুষ সৃষ্টির রহস্য উদ্ঘাটন করে ‘বাইবেল, কোরান ও বিজ্ঞান’এর মতো আলোড়ন সৃষ্টিকারী গ্রন্থ রচনা করেছিলেন এবং মানুষ সৃষ্টির ব্যাপারে কোরান শরীফের ব্যাখ্যা সঠিক বলে মন্তব্য করেছিলেন।

    আপনাকেও আরও বেশি করে কোরান অধ্যয়ন করতে হবে।

    আরেকটা বিষয়, বিশ্বের শক্তিধর ইউরোপ আমেরিকা যখন নির্বিচারে পৃথিবীর দেশে দেশে নারী-পুরুষ-শিশু নির্বিশেষে শান্তির নাম করে মানুষ হত্যা করে, তখন আপনাদের মানবপ্রেম, প্রাণির প্রতি প্রেম বা দরদ উথলে উঠতে দেখা যায় না।

    কেন???

    Reply
  14. ড. মো: আহসান হাবীব

    মি. এবার্ট, আপনি নিশ্চয়ই খ্রীস্টিয় ধর্মের অনুসারী অথবা নাস্তিক। সুতরাং মুসলমানদের ধর্মীয় ব্যাপারে আপনার নাক না গলানোই উত্তম।

    তবে আপনার অনুসারী মুখোশধারী মুসলিম নারী বেনজির সুরাইয়াকে বলছি, আপনি কি সম্রাট আকবরের মতো দ্বীন-এ-এলাহী চালু করতে চান? আল্লাহতায়ালা যেখানে হজরত ইব্রাহীম (আ.)এর মাধ্যমে পশু কোরবানির রেওয়াজ চালু করে সমগ্র মুসলিম মিল্লাতের জন্য সিলসিলা জারি করেছেন, সেখানে আপনি কি নতুন ফতোয়া দিতে চান? আপনি কি জানেন না যে আল্লাহতায়ালা কোরআনে এ-ও বলছেন যে, তোমরা খাও ও তোমাদের পশুদের খাওয়াও।

    এছাড়া সায়েন্স বলছে, আমাদের পরিপূর্ণ পুষ্টির জন্য প্রাণিজ আমিষ অত্যন্ত জরুরি। সুতরাং মানুষকে মিসগাইড করবেন না প্লিজ।

    Reply
  15. Md. Abul Kalam

    প্রশ্ন: একটি পশুকে হত্যা করা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত নিষ্ঠুর কাজ। তাহলে মুসলমানরা কেন এত পশুহত্যা করে, আমিষ খাদ্য গ্রহণ করে???

    — জবাব দিয়েছেন ডা: জাকির নায়েক

    ‘নিরামিষবাদ’ বিশ্বব্যাপী এখন একটা আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। অনেকেই এমনকি এটাকে যুক্ত করেছে ‘পশু-অধিকারের’ সঙ্গে। সন্দেহ নেই জনগণের একটি বিশাল অংশ মনে করেন মাংস ভক্ষণ এবং অন্যান্য
    উৎপাদিত আমিষ দ্রব্যসামগ্রী ‘পশু-অধিকার’ হরণ করে। ইসলাম আদেশ করে সকল সৃষ্টি জীবের প্রতি দয়া ও অনুকম্পার নীতি গ্রহণ করতে। একই সঙ্গে ইসলাম এ বিশ্বাসও লালন করে যে, এ পৃথিবীর যাবতীয় ফুল-
    ফল তথা উদ্ভিদ ও পশুপাখি এবং জলজ প্রাণি সৃষ্টিই করা হয়েছে মানুষের জন্য। এর পরের দায়িত্ব মানুষের, এসব সম্পদ ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গতভাবে ব্যবহার করা এবং আল্লাহর এই নেয়ামত (বিশেষ অনুগ্রহ) ও আমানতসমূহের যথাযথ সংরক্ষণ।

    এ বিতর্কের সম্ভাব্য আরও কিছু দিক পর্যালোচনা করে নেওয়া যাক।

    ক.

    একজন মুসলিম সম্পূর্ণ নিরামিষভোজীও হতে পারেন, সম্পূর্ণ নিরামিষভোজী হয়েও প্রথম শ্রেণির মুসলিম থাকতে পারেন। এটা বাধ্যতামূলক কিছু নয় যে, একজন মুসলমানকে আমিষ খাদ্য খেতেই হবে।

    খ.

    জ্যোতির্ময় কুরআন মুসলমানদেরকে আমিষ খাবারের অনুমতি দেয়, মুসলমানদের পথপ্রদর্শক আল-কুরআনের নিম্নোদ্ধৃত আয়াতসমূহ তার প্রমাণ।

    বলা হচ্ছে:

    — হে ঈমান ধারণকারীরা! পূরণ কর তোমাদের প্রতি সকল অর্পিত দায়িত্ব। তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে (খাবার জন্য) সকল চতুষ্পদ জন্তু, অন্য কারও নামে তা জবাই করা না হয়ে থাকল। (৫:১) আর গৃহপালিত পশু তিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য ওগুলো থেকে তোমরা উষ্ণতা পাও (গরমের পোশাক) এবং আরও অসংখ্য উপকারী জিনিষ। আর সেগুলো (গোস্ত) তোমরা খাও। (১৬:৫) আর গৃহপালিত পশুর মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে শেখার মতো উদাহরণ ওগুলো দেহ-অভ্যন্তর থেকে আমরা এমন কিছু উৎপাদন করি (দুধ) যা তোমরা পান কর। ওগুলোর মধ্যে অসংখ্য উপকার আছে তোমাদের জন্য আর ওগুলো (গোস্ত)
    তোমরা খাও। (২৩:২১)

    গ.

    মাংস পুষ্টিকর এবং আমিষে ভরপুর। আমিষ খাদ্য প্রোটিনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎস। জৈবিকভাবেই তা প্রোটিনসমৃদ্ধ। আটটি অতি প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড যা দেহের দ্বারা সমন্বিত হয় না। তাই খাদ্যের
    মাধ্যমে তা সরবরাহ করতে হয়। মাংসের মধ্যে আরও আছে লৌহ, ভিটামিন বি-১ এবং নিয়াসিন।

    ঘ.

    মানুষের দাঁত সব রকম খাদ্গ্রহণে সক্ষম করে বিন্যস্ত, আপনি যদি পর্যবেক্ষণ করেন তৃণভোজী প্রাণির দাঁতের বিন্যাস– যেমন গরু, ছাগল, ভেড়া, হরিণ ইত্যাদি, দেখে আশ্চর্য হবেন যে, তা সব একই রকম। এসব পশুর দাঁত ভোঁতা (সমতল) যা তৃণজাতীয় খাদ্য গ্রহণের জন্য উপযোগী। আপনি যদি লক্ষ্য করেন, মাংসাশী পশুদের দন্তবিন্যাস, অর্থাৎ বাঘ, সিংহ, লিউপার্ড, শৃগাল, হায়েনা ইত্যাদির দাঁত ধারালো যা মাংসের জন্য উপযোগী। মানুষের দাঁত লক্ষ্য করে দেখলে দেখা যাবে, সমতলের ভোঁতা দাঁত যেমন আছে তেমনি ধারালো এবং চোখা দাঁতও আছে। অর্থাৎ মানুষের দাঁত মাংস ও তৃণ উভয় ধরনের খাদ্যগ্রহণের জন্য উপযোগী। এক কথায় ‘সর্বভুক’।

    কেই হয়তো প্রশ্ন করতে পারে, সর্বশক্তিমান আল্লাহ যদি চাইতেন মানুষ শুধু তরিতরকারি খাবে তাহলে আমাদের মুখে ধারালো দাঁত ক’টি দিলেন কেন? এর দ্বারা এটাই কি প্রমাণিত হয় না যে, খোদ সৃষ্টিকর্তাই চান যে, মানুষ সব ধরনের খাবার গ্রহণ করুক?

    ঙ.

    আমিষ ও নিরামিষ দুই ধরনের খাদ্যই মানুষ হজম করতে পারে। তৃণভোজী প্রাণির হজমপ্রক্রিয়া শুধু তৃণজাতীয় খাদ্যই হজম করতে পারে। মাংসাশী প্রাণির হজমপ্রক্রিয়া পারে শুধু মাংস হজম করতে। কিন্তু মানুষের হজমপ্রক্রিয়া তৃণ ও মাংস উভয় ধরনের খাদ্যই হজম করতে সক্ষম। সর্বশক্তিমান আল্লাহ যদি চাইতেন আমরা শুধু নিরামিষ ভক্ষণ করি তাহলে তিনি আমাদেরকে এমন হজম শক্তি দিলেন কেন যা দিয়ে তৃণ ও মাংস উভয় ধরনের খাদ্যই হজম করা যায়?

    চ. হিন্দু ধর্মগ্রন্থ আমিষ খাদ্যগ্রহণের অনুমতি দেয়।

    ১.

    অসংখ্য হিন্দু রয়েছে যারা নিষ্ঠাবান নিরামিষভোজীি। তারা আমিষ খাদ্যকে তাদের ধর্মবিরোধী মনে করে। অথচ আসল সত্য হল, হিন্দুশাস্ত্রই মাংস খাবার অনুমতি দিয়েছে। গ্রন্থসমূহ উল্লেখ করেছে, পরম বিজ্ঞ সাধু-সন্তরা আমিষ খাবার গ্রহণ করতেন।

    ২.

    হিন্দুদের আইনের গ্রন্থ মনুশ্রুতি পঞ্চম অধ্যায় শ্লোক ৩০এ আছে: খাদ্য গ্রহণকারী যে খাবার খায়, সেই সব পশুর যা খাওয়া যায়, মন্দ কিছু করে না। এমনকি সে যদি তা করে দিনের পর দিন। ঈশ্বর নিজেই সৃষ্টি করেছেন কিছু ভক্ষিত হবে আর কিছু ভক্ষণ করবে।

    ৩.

    মনুশ্রুতীর পঞ্চম অধ্যায়ের ৩১শ্লোকে আবার বলা হয়েছে: যা মাংস ভক্ষণ শুদ্ধ উৎসের জন্য। ঈশ্বরের বিধান হিসেবে বংশ পরম্পরায় তা জানা আছে।

    ৪.

    এরপরে মনুশ্রুতীর পঞ্চম অধ্যায়ের ৩৯ এবং ৪০ শ্লোকে বলা হয়েছে: ঈশ্বর নিজেই সৃষ্টি করেছেন উৎসর্গের পশু উৎসর্গের জন্যই। সুতরাং উৎসর্গের জন্য হত্যা, হত্যা নয়।

    ৫.

    মহাভারত অনুশীলন পর্ব ৮৮ অধ্যায় বর্ণনা করছে: (ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির ও পিতামহ ভীষ্ম, এদের
    মধ্যে কথোপকথন) কেউ যদি শ্রাদ্ধ করতে চায় তাহলে সে অনুষ্ঠানে কী ধরনের খাবার খাওয়ালে স্বর্গীয় পিতৃপুরুষ (এবং মাতাগণ) সন্তুষ্ট হবেন।

    যুধিষ্ঠির বলেন, হে মহাশক্তির মহাপ্রভু! কী সেই সব বস্তুসামগ্রী যাহা যদি উৎসর্গ করা হয় তাহলে তারা প্রশান্তি লাভ করবে? কী সেই বস্তুসামগ্রী যা (উৎসর্গ করলে) স্থায়ী হবে? কী সেই বস্তু যা (উৎসর্গ করলে) চিরস্থায়ী হবে?

    ভীষ্ম বলেছেন, তাহলে শোন হে যুধিষ্ঠির! কী সেইসব সামগ্রী। যারা গভীর জ্ঞান রাখে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সম্পর্কে, যা উপযোগী শ্রাদ্ধের জন্য। আর কী সেই ফল-ফলাদি যা তার সঙ্গে যাবে। সিম বিচির সঙ্গে চাল, বার্লি এবং মাশা এবং পানি আর বৃক্ষমূল (আদা, আলু বা মূলা জাতীয়) তার সঙ্গে ফলাহার, যদি স্বর্গীয় পিতৃদেবদের শ্রাদ্ধে দেওয়া হয়। হে রাজা! তা হলে তারা এক মাসের জন্য সন্তুষ্ট থাকবে।

    শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে মৎস সহকারে আপ্যায়ন করলে স্বর্গীয় পিতৃকুল দুই মাসের জন্য সন্তুষ্ট থাকবে। ভেড়ার মাংস সহকারে তিন মাস। খরগোশ সহকারে চার মাস। ছাগ-মাংস সহকারে ৫ মাস। শুকর মাংস সহকারে ছয় মাস। পাখির মাংস দিয়ে আপ্যায়িত করলে সাত মাস। হরিণের মধ্যে ‘প্রিসাতা’ হরিণ শিকার করে খাওয়ালে আট মাস এবং ‘রুরু’ হরিণ দিলে নয় মাস। আর গাভীর মাংস দিলে দশ মাস। মহিষের মাংস দিলে তাদের সন্তুষ্টি এগার মাস বজায় থাকে। শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে গরুর মাংস দিয়ে আপ্যায়ন করলে, বিশেষ করে বলা হয়েছে তাদের সন্তুষ্টি থাকে পুরো এক বছর।

    ঘি-মিশ্রিত পায়েশ, স্বর্গীয় পিতৃপুরুষের কাছে গরুর মাংসের মতোই প্রিয়। ভদ্রিনাসার (বড় ষাড়) মাংস দিয়ে আপ্যায়ন করলে পিতৃপুরুষ বার বছর সন্তুষ্ট থাকেন। পিতৃপুরুষের মৃত্যুবার্ষিকগুলোর যে দিনটিতে সে মারা গেছে সেই রকম একটি দিন দিন যদি শুক্ল পক্ষের হয় আর তখন যদি গণ্ডারের মাংস দিয়ে শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে আপ্যায়ন করা যায়, স্বর্গীয় পিতৃপুরুষের সন্তুষ্টি অক্ষম হয়ে যায়। ‘কালাসকা’ কাঞ্চন ফুলের পাপড়ি আর লাল ছাগলের মাংস যদি দিতে পার তাহলেও তাদের সন্তুষ্টি অক্ষয় হয়ে যাবে। অতএব আপনি যদি চান আপনার স্বর্গীয় পিতৃপুরুষের সন্তুষ্টি অক্ষয় হয়ে যাক তাহলে লাল ছাগলের মাংস দিয়ে শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে আপ্যায়ন করতে হবে।

    ছ.

    হিন্দু ধর্ম অন্যান্য ধর্মের দ্বারা প্রভাবিত। হিন্দু ধর্মগ্রন্থ তার অনুসারীদের আমিষ খাদ্য গ্রহণের অনুমতি দেয়। তথাপি অনেক হিন্দু নিরামিষ-ভোজন সংযোজন করে নিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এটা এসেছে ‘জৈন’ ধর্ম থেকে।

    জ.

    উদ্ভিদেরও জীবন আছে। বিশেষ কিছু ধর্ম খাদ্য হিসেবে শুধুমাত্র নিরামিষ খাবার বাধ্যতামূলক করে নিয়েছে। কারণ তারা জীব হত্যার সম্পূর্ণ বিরোধী। যদি কেউ কোনো সৃষ্ট জীবকে হত্যা না করে বেঁচে থাকতে পারে তাহলে নির্দ্বিধায় বলতে পারি, আমি হব প্রথম ব্যক্তি যে এধরনের জীবনযাপন পদ্ধতি বেছে নেবে। অতীতকালের মানুষ মনে করত উদ্ভিদের প্রাণ নেই। অথচ আজ তা বিশ্ববাসীর কাছে দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে। কাজেই সম্পূর্ণ নিরামিষভোজী হয়েও জীবহত্যা না করার শর্ত পূরণ হচ্ছে না।

    ঝ.

    উদ্ভিদ ব্যথাও অনুভব করতে পারে, এর পরেও হয়তো নিরামিষভোজীরা বলবেন, প্রাণ থাকলে কী হবে, উদ্ভিদ ব্যথা অনুভব করতে পারে না। তাই পশুহত্যার চাইতে এটা তাদের কম অপরাধ। আজকের বিজ্ঞান পরিষ্কার করে দিয়েছে উদ্ভিদও ব্যথা অনুভব করে কিন্তু তাদের সে আর্তচিৎকার মানুষই শোনার ক্ষমতা রাখে না। ২০ Herts থেকে ২০০০ Herts এর ওপরে বা নিচের কোনো শব্দ মানুষের শ্রুতি ধারণ করতে সক্ষম নয়।

    একটি কুকুর কিন্তু শুনতে পারে ৪০,০০০ Herts পর্যন্ত। এজন্য কুকুরের জন্য নিরব ‘হুইসেল’
    বানানো হয়েছে যার ফ্রিকোয়েন্সী ২০,০০০ Herts এর বেশি এবং ৪০,০০০ Herts এর মধ্যে। এসব
    হুইসেল শুধু কুকুর শুনতে পারে, মানুষ পারে না। কুকুর এ হুইসেল শুনে তার মালিককে চিনে নিতে পারে এবং সে চলে আসে তার প্রভুর কাছে। আমেরিকার এক খামারের মালিক অনেক গবেষণার পর একটি যন্ত্র
    আবিষ্কার করেছে যা দিয়ে উদ্ভিদের কান্না মানুষের শ্রুতিযোগ্য করে তোলা যায়। সে বিজ্ঞানী বুঝে নিতে পারত, উদ্ভিদ কখন পানির জন্য চিৎকার করত। একেবারে এখনকার গবেষণা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, উদ্ভিদ সুখ ও দুঃখ অনুভব করতে পারে এবং পারে চিৎকার করে কাঁদতেও।

    ঞ.

    দুটি ইন্দ্রিয়ানুভূতি কমসম্পন্ন প্রাণি হত্যা করা কম অপরাধ নয়। এবার নিরামিষভোজীরা তর্কে অবতীর্ণ হবেন যে, উদ্ভিদের মাত্র দুটি অথবা তিনটি অনুভূতির ইন্দ্রিয় আছে আর পশুর আছে পাঁচটি। কাজেই পশুহত্যার চাইতে উদ্ভিদহত্যা অপরাধের দিক থেকে কম।

    ধরুন, এক ভাই জন্মগতভাবেই অন্ধ ও কালো। চোখে দেখে না, কানেও শোনে না। অর্থাৎ একজন স্বাভাবিক মানুষের তুলনায় দুটি ইন্দ্রিয় তার কম। সে যখন পূর্ণ যৌবনে এসে পৌঁছাল তখন এক লোক নির্দয়ভাবে তাকে খুন করল। খুনি ধরা পড়ার পর বিচারালয়ে দাঁড়িয়ে আপনি কি বিচারপতিকে বলবেন, মহামান্য আদালত খুনিকে আপনি পাঁচ ভাগের তিন ভাগ শাস্তি দিন? জ্যোতির্ময় কুরআন বলেছে: হে মানুষ! পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা থেকে পবিত্র ও উত্তম (জিনিসগুলো) খাদ্য হিসেবে গ্রহণ কর।

    ট.

    গৃহপালিত পশুর সংখ্যাধিক্য– পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষ যদি ফলমূল, তরিতরকারি ও শাক-সবজি খাবার হিসেবে বেছে নেয় তা হলে গবাদিপশুর জন্য ভূপৃষ্ঠ ছেড়ে দিয়ে মানুষকে অন্য কোনো গ্রহে গিয়ে বাস করতে হবে। আর খাল-বিল, নদী-নালা ও সাগর মহাসাগর পানিশূন্য হয়ে যাবে। মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণির আধিক্য। কেননা উভয় শ্রেণির জন্মের হার ও প্রবৃদ্ধি এত বেশি যে, এক শতাব্দী লাগবে না এ পৃথিবী তাদের দখলে চলে যেতে। সুতরাং সৃষ্টিকর্তা বিধাতা প্রতিপালক আল্লাহ তা’য়ালা খুব ভালো করে জানেন এবং বোঝেন। তাঁর সৃষ্টিকুলের ভারসাম্য তিনি কীভাবে রক্ষা করবেন। কাজেই এটা খুব সহজেই অনুমেয় যে, তিনি কী কারণে আমাদেরকে মাছ মাংস খাবার অনুমতি দিয়েছেন।

    (সরলপথ ডট কম থেকে সংগৃহীত)

    — জবাব দিয়েছেন ডা: জাকির নায়েক

    মনে রাখবেন, রাসূল (সাঃ) এরশাদ করেন, “কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে, যতজন তার অনুসরণ
    করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে, তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা”

    [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘‘আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির চেহারা উজ্জ্বল করে দিন, যে আমার কোনো হাদীস শুনেছে। অতঃপর অন্যের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।’’

    [-সুনানে আবু দাউদ ২/৫১৫]

    ইসলামের শাশ্বত বাণী সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া সকল মুসলিমের দায়িত্ব।

    নিয়মিত অর্থসহ কুরআন এবং সহিহ হাদিস পড়ুন আর ইসলাম প্রচারে আমদেরকে সাহায্য করুন। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।

    আমিন।

    Reply
  16. baboo

    পশু কোরবানির বিরোধিতা করে যারা কথা বলছে, মজার ব্যাপার, তাদের অধিকাংশই মাংসভোজী।

    Reply
  17. Bangal

    হাস্যকর লেখা লিখবেন না। একই ব্যক্তি পুরুষে পুরুষে এবং নারী ও নারীর মিলনের প্রয়োজনীয়তার প্রবক্তা! তিনি আবার ইসলাম ধর্মানুসারীদের সবক দিতে এলে হাস্যকর না হয়ে পারে না।

    সব বাদ রেখে গত কিছুদিন গাজায় যেভাবে মানব জাতি নিধন হল, এ ব্যাপারে মুখে মুসলমানদের ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া কুলুপ এঁটে দিয়েছেন কেন? প্রাণিকুলের জন্য এত মায়া!

    Reply
  18. মরু বেদুইন

    যিনি পশু সৃষ্টি করেছেন, পশুর অধিকার সম্পর্কে তো তিনিই সবচেয়ে ভালো জানবেন এবং তা নিশ্চিত করবেন। এটাই স্বাভাবিক। মানুষ ও পশুর অধিকার এক নয়, এ কথা বলাই বাহুল্য।

    পশুর ব্যাপারে সুরা আল ইমরানের ১৪ নং আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেছেন:

    “….. স্বর্ণ, রৌপ্য, ফসল এবং গবাদিপশু, এসবই পার্থিব জগতের ভোগ্য বস্তু।’’

    আল্লাহ আপনাকে বোঝার তাওফিক দান করুন। আমিন।

    Reply
  19. Tanvir

    আমি জানি না রেইনার কোন দেশি। ধরে নিচ্ছি যে, তিনি পশ্চিমা। ইতিহাস বলে, পশ্চিমা দেশগুলোতে মানুষকে মানুষ হিসেবে গণ্য করা হয়নি, এখনও শিখেনি তারা সেটা করতে। ব্রিটেন কিম্বা অস্ট্রেলিয়াতে বর্ণবাদী দাঙ্গা এখনও হয়। আমেরিকার মতো দেশে নিগ্রোদের নিচু চোখে দেখা হয়। আমেরিকার তো জন্মই হয়েছে রেড ইন্ডিয়ানদের কচুকাটা করে।

    ‘‘ভূতের মুখে রাম নাম’’ মানায় না রে, মনু …

    Reply
  20. saif

    যাতায়াতের সময় এই পশুগুলোর প্রতি যে অত্যাচার হয় এই বিষয়ে অনুবাদক সাহেব এবং লেখকের সঙ্গে একমত থাকলেও, যেহেতু মূল প্রবন্ধটা ইসলামের মূল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে, তাই এর বিরোধিতা করছি।

    অজ্ঞতাবশত এরা এটাও বুঝতে পারেন না যে, যে মহান স্রষ্টার সৃষ্টি (কোরবানির পশু) তাঁর নির্দেশে তাঁরই নামে উৎসর্গ করা হয়, এর চেয়ে বড় দয়া সেই সব প্রাণিকূলের জন্যে আর কী হতে পারে।

    এছাড়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল আগ্রাসনের কারণে, উন্নয়নের নামে প্রাকৃতিক বন ধ্বংসের মাধ্যমে নদীতে অনাকাঙ্ক্ষিত বাঁধের কারণে, এক কথায় প্রকৃতি ধ্বংসের কারণে প্রাণিকূলের যে পরিমাণ বিনাশ হচ্ছে তার তুলনায় মুসলমানদের কুরবানি সেই ধ্বংসের এক অংশও নয়…

    সুতরাং এটা প্রমাণিত যে, প্রাণিরক্ষা নয়, এটা মূলত ইসলামবিরোধী একটা ষড়যন্ত্র।

    Reply
  21. taujid

    The anti kurbani mindset of this so called animal lover comes off the concept that we muslim only do kurbani only for eating meat .
    Oh mr riner do you never think that this day gives a chance for d poor to have meat to get money to enjoy this day.
    In fact it is the biggest money disbursements day of Bangladesh only for the unpriviledged.
    Even so called humanitarian Ngo(blood sucker of poor)did not disburse this big amount in year let alone without interest.

    Reply
  22. milton

    আমি লেখকের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে একমত। আমাদের উচিত নিজেদের লোভ বিসর্জন দেওয়া, সব প্রাণিকে ভালোবাসা।

    Reply
  23. khosrul

    প্রাণ বা প্রাণি সম্পর্কে আমার ভাইয়ের ধারণা কেমন আছে জানি না। জীব-জানোয়ারের য্মেন প্রাণ আছে, তেমনি বৃক্ষকুলেরও আছে। প্রাণের প্রতি এমন সদয় হলে শুধু পশু-পাখি কেন, বৃক্ষকুলের প্রতি সদয় হওয়া উচিত।

    রেইনার এবার্ট ভাইকে আমি বলব, আপনি যেহেতু প্রাণের প্রতি সদয়, তাই সব প্রাণের প্রতি হন। গাছপালা বা সবজি ভক্ষণও ত্যাগ করুন। মুসলমানদের, কোরবানির দিকে নজর না দিয়ে নিজের দিকে নজর দিন।

    Reply
  24. স্বপন

    পশুপাখির প্রতি দেখছি অনেক দরদ আপনার!

    আপনার দেশ আমেরিকা তো হাজার হাজার পশুর মাংস পুরো বিশ্বে বিক্রি করছে, এটা দেখেন না?

    Reply
  25. ফারুক

    একেই বলে অর্ধেক জানা। পুরোটা জানুন, তারপর লেখেন। লেখাও ভালো হবে, আপনিও হেদায়েত পাবেন।

    Reply
  26. karim

    ami apnar sate akmot je,,niramish aahar saster jonno valo,tar mane aei noy je,,amish aahar saster jonno karap,,,allah joto aahar manuser jonno halal korecen sobi manuser jonno upokari,tai apnio try korte(khete) paren!!amra sobai allahor chiristi krito..r sob chiristi allah kuno na kuno kajer jonno korecen..jemon feresta chiristi korecen sudo allahor ebadat/hokum palon korar jonno..akhon apni jodi bolen je allah ferestar upor onnay korecen tader upor sadinota na reke..tahole apnake bolbo geanpapi phot brosto..so..poshu paki allah sudo matro manusher upokarer jonno chiristi korecen.manush ta ahar korbe setai sobabik.R islam jevebe poshu jobeh korar onumoti diyecen ta obossoy tader proti sohanuboti

    Reply
  27. Shakhawat Hossain

    আপনার কথা শুনে মনে হয় যেন মুসলমানেরা নিজ ইচ্ছায় পশু কোরবানি দেয়! আরে, যে দয়াময় ওদের সৃষ্টি করছেন, তিনিই ওদেরকে এইভাবে কোরবানি করার জন্য আদেশ করেছেন।

    পশুহত্যার চেয়ে গাছ-কাটা বেশি ক্ষতিকর। গাছ কাটলে রক্তও বের হয় না আর ছটফটও করে না, তাই ওটা হৃদয়বিদারকও নয়, তাই না?

    পশ্চিমারা যে শুকরকে ‘পাশবিকভাবে’ হত্যা করে, সেটা তাহলে কী?

    Reply
  28. মাহতাব

    প্রাণি-অধিকার নিয়ে কথা বলা খুব ভালো জিনিস। কিন্তু যে দেশে হাজারো মানুষ রানা প্লাজার মতো ঘটনায় মারা যায়, ঢেউয়ের দোলায় হালকা বাতাসে লঞ্চ কাত হয়ে ডুবে গিয়ে শত শত নিখোঁজ যায়, যেখানে নিমতলীতে আগুনে অবৈধ রাসায়নিকের গুদামে আগুন লেগে মানুষ পুড়ে, নির্মাণাধীন ভবনের উপর থেকে ইট পড়ে বা বিষাক্ত লিচু খেয়ে মারা যায় মানুষ, ক্রসফায়ার গুম-খুন হয়, বেপরোয়া গাড়িচালনায় প্রাণ হারায়– সে দেশে মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার নিয়ে কথা না বলে কেবল কোরবানির সময় প্রাণি-অধিকার নিয়ে কথা বলাটা জনগণের সঙ্গে এক মহাতামাশার শামিল।

    অন্যদিকে, এই প্রাণি-অধিকারবিদগণকে সুন্দরবন ধ্বংসকারী রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে কেন কোনো কথা বলতে দেখা যায় না? সেখানে কি হাজারো প্রাণির জীবন, একটা গোটা বনের বাস্তুতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলে দেওয়া হচ্ছে না? কোরবানির উদ্দেশ্যে যেসব গরু পালন করা হয় সেগুলো কোরবানি দিলে বাস্তুতন্ত্রে কোনো তাৎপর্যমূলক প্রভাব আদৌ পড়ে কি? সুন্দরবনের বিপুল দুর্লভ প্রাণবৈচিত্রের কি বেঁচে থাকার অধিকার নেই নাকি? যত প্রাণি-অধিকার কেবল সুলভ কোরবানির গৃহপালিত গরুর বেলায়!

    গরু কোরবানির মধ্যে ধর্ম কতটা আর লোকদেখানোর প্রবণতা কতটা থাকে সেটা নিয়ে তর্ক হতেই পারে এবং হওয়া উচিত। কিন্তু প্রাণি-অধিকারের কথা বলে গরু কোরবানি বন্ধ করতে বলাটা একাধারে হাস্যকর, প্রতারণামূলক ও বিভ্রান্তিকর। এটি এ পৃথিবীর বিপুল অগণিত ও দুর্লভ প্রাণির প্রাণি-অধিকার রক্ষার কার্যক্রমের ক্ষেত্রে হঠকারীও হয়ে যেতে পারে।

    যে দেশে মানুষেরই দাম নেই, বনের বিপুল প্রাণরাজির মূল্য নেই, সে দেশে মানুষের জন্য কথা না বলে, বনরক্ষার জন্য কথা না বলে, নদীরক্ষার জন্য উদ্যোগ না নিয়ে, কেবল কোরবানির গরুর প্রাণি-অধিকারের কথা বলে কান্নাকাটি করে মুক্তমনা সাজার চেষ্টা কেউ করতে পারে। কিন্তু তাতে কার্যত মন মুক্ত তো হয়ই না, বরং সেটা তার যাবতীয় জ্ঞানসমেত অন্ধত্বের পাঁকে ডুবতে থাকে। বুঝে করুন বা না বুঝে করুন, তারা কার্যত এদেশের মানুষের মধ্যে মুক্ত মনের চর্চা ছড়ানোর কাজে প্রতিবন্ধকতাই সৃষ্টি করেন।

    আমি মনে করি, কেউ যদি প্রাণি-অধিকার নিয়ে সোচ্চার হতে চায় তাহলে তাকে অবশ্যই আগে মানুষের অধিকার নিয়ে বলতে হবে। কারণ প্রাণির অধিকার একটি উচ্চমার্গীয় ধারণা। যাদের বিবেক এতটাই সংবেদনশীল যে প্রাণিকুলের জন্যও তাদের মন কাঁদে তারা কী করে মানুষের ব্যাপারে এতটা সংবেদনশীলতার অভাব দেখাতে পারেন, অন্তত প্রকাশ্য কার্যক্রম/বক্তব্য দানের ক্ষেত্রে? তাছাড়া মানুষ কি প্রাণি নয়?

    বাংলাদেশে প্রাণিকূলের ধ্বংস যত হাজারো উপায়ে, যত বিস্তৃতভাবে ঘটছে অপরিকল্পিত নগরায়ন, অপরিকল্পিত কৃষি, বন ধ্বংস, নদী দখল, পাহাড় কাটা, খাল বিল দখল ও দূষণের মাধ্যমে– সেগুলো নিয়ে টু শব্দ না করে কেবল কোরবানির সময় প্রাণি-অধিকার নিয়ে সোচ্চার হওয়াটা বিপদজনক ও কার্যত উস্কানিমূলক বৈকি। সেটা যতই কোমল ভাষায় লেখা হোক না কেন।

    বরং কোরবানির মধ্যে ধর্মীয় চেতনা কতটুকু কাজ করে আর লোকদেখানোর ভাব কতটুকু কাজ করে সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত। সে ক্ষেত্রে বলতেই হবে, এ জাতীয় সোচ্চার-হোনেওয়ালারা বাংলাদেশে কীভাবে সত্যিকার অর্থে প্রাণিকূল ধ্বংস হচ্ছে সে খবরই রাখেন না অথবা রাখতে চান না।

    কোরবানিতে যে পশু হত্যা করা হয় সেটা করা হয় খাওয়ার জন্য। অযথা হত্যার জন্য জবাই করা হয় না। তাছাড়া প্রতি বছর যে পোলট্রি ফার্মের যে কোটি কোটি মুরগি জবাই করা হয় খাওয়ার জন্য, সেটা কী? যে কোটি কোটি মাছ মারা হয় খাওয়ার জন্য? এসব নিয়ে কথা না বলে কেবল কোরবানির পশুর উপর হামলে পড়া কেন? বিষয়টা স্বাভাবিক কি? এমতাবস্থায় কেউ এ জাতীয় কাজ কেন উস্কানিমূলক বলবেন না?

    বাংলাদেশে এমনিতেই ধর্মীয় প্রতিক্রিয়াশীলতা বাড়ছে। সে প্রেক্ষাপটে মুক্তমনের চর্চা ছড়াতে হলে সর্বাগ্রে এসব উস্কানিমূলক কথা বন্ধ করতে হবে। কেননা এতে হিতে বিপরীত হয়।

    Reply
  29. Arif

    আমি অবাক হয়ে যাই, এই ধরনের লেখা bdnews এ কীভাবে প্রকাশ হয়!!! যে কোনো প্রকার উদ্ভিদ (লতা, গুল্ম)এরও প্রাণ আছে, তাহলে আপনি খাওয়া ছেড়ে দেবেন?

    যথাযথ বলেছেন ‘বাংলাদেশি বাঙ্গালি’ ভাই–

    “পশ্চিমারা কেএফসি-তে খাইলে কোনো উচ্চবাচ্য নাই, যত দোষ কুরবানির! পশ্চিমাদের দালালরা ধ্বংস হোক।”

    Reply
  30. khaled

    Mr. writer,
    your article remind me again “Little knowledge is a dangerous thing”.
    Please explain..KFC,SUBWAY,PIZZA HUT,PIZZA INN etc etc.

    Do you know that Tree has also life.Tree can communicate.Tree can give signal.If you are a vegetarian than you are more cruel than us because you are killing such life who can not protest like a cow,you are killing a life who can not move like animal.
    Logically trees are more innocent than animal.They stay silent.
    You are cutting down the silent life.
    Am I right,Mr. writer?

    Reply
  31. Faruk

    এত বেশি চিন্তা করার দরকার কী আপনার? মানুষ নিয়ে ভাবেন। নিরাপদ মানুষকে বোমা মারা হচ্ছে কেন, সেসব নিয়ে ভাবেন।

    Reply
  32. Nema

    আল্লাহর হুকুমে কুরবানি চলছে। কুরবানি চলবে। আল্লাহতালা কুরআন মাজিদে ইরশাদ করেন–

    ‘‘আপনি বলে দিন, আমার প্রতিপালক আমাকে পরিচালিত করেছেন সরল পথের দিকে, এক বিশুদ্ধ দ্বীনের দিকে। অর্থাৎ একনিষ্ঠ ইবরাহিমের মিল্লাত (তরিকা), আর তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। আপনি বলুন, নিঃসন্দেহে আমার সালাত, আমার নুসুক এবং আমার জীবন এবং আমার মৃত্যু– সমস্ত জগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তাঁর কোনো শরিক নেই। আর ওই বিষয়েই আমাকে আদেশ করা হয়েছে। সুতরাং আমি হলাম আত্মসমর্পণকারীদের প্রথম।’’

    সুরা আনআম, আয়াত ১৬১-১৬৩

    সুরা কাওসারে আল্লাহতালা বলেন–

    ‘‘নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি। অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশে নামায পড়ুন এবং কোরবানি করুন। যে আপনার শত্রু, সেই তো লেজকাটা, নির্বংশ।’’

    পশ্চিমারা কেএফসি-তে খাইলে কোনো উচ্চবাচ্য নাই, যত দোষ কুরবানির!

    Reply
  33. Hossain

    বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে প্রকাশিত রাইনার এবার্টের লেখার জবাবে এটি লেখা হয়েছে। যুক্তির চেয়ে বেশি এতে কুরআন-হাদিসের দলিল পেশ করা হয়েছে। কেননা লেখক কুরআন-হাদিস দিয়ে তার মত প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। মূল লেখাটি প্রথমে পড়তে এই লিংক ভিজিট করুন। এই পোস্টে রাইনার এবার্টের লেখার উদ্ধৃতি ভিন্ন রঙে উল্লেখপূর্বক জবাব উল্লেখ করা হয়েছে।

    — “প্রাণি কুরবানি ইসলামের মূল আধ্যাত্মিক সত্যের অংশ নয় এবং আল্লাহ্‌র ইচ্ছার প্রতি আনুগত্য প্রকাশের জন্য আরও অনেক দানশীল পথ রয়েছে।”–

    “প্রাণি কুরবানি ইসলামের মূল আধ্যাত্মিক সত্যের অংশ নয়”, কথাটি দ্বারা লেখক যদি বুঝিয়ে থাকেন যে কুরবানি ইসলামের মূল অংশ নয়, তাহলে তা চরম অসত্য হবে।

    কুরবানির কথা আল্লাহ তায়ালা আল-কুরআনে বলেছেন:

    ১.

    আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় রাসূলকে উদ্দেশ্য করে বলেন:

    فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ ﴿الكوثر: ٢﴾

    অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কোরবানি করুন। (১০৮:২)

    আর আল্লাহ তাঁর রাসূলকে কোনো নির্দেশ দিলে তা উম্মতের ওপরও ওয়াজিব হয়ে যায়, যদি না তা রাসূলের জন্য বিশেষায়িত বলে প্রমাণিত হয়।

    ২.

    আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন:

    قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿١٦٢﴾

    আপনি বলুন, আমার নামায,আমার কোরবানি এবং আমার জীবন ও মরণ বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহরই জন্যে। (৬:১৬২)

    ৩.

    কুরবানির উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন:

    لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنكُمْ ﴿الحج: ٣٧﴾

    এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু পৌঁছে তাঁর কাছে তোমাদের মনের তাকওয়া। (২২:৩৭)

    রাসূল (স.) কুরবানি করেছেন বলে বিশুদ্ধ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:

    আনাস (রা.) বর্ণনা করেন:

    ضَحَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِكَبْشَيْنِ أَمْلَحَيْنِ أَقْرَنَيْنِ، ذَبَحَهُمَا بِيَدِهِ، وَسَمَّى وَكَبَّرَ، وَوَضَعَ رِجْلَهُ عَلَى صِفَاحِهِمَا

    রাসূল (স.) দুটো শিং যুক্ত শুভ্র রংয়ের দুম্বা কুরবানি করেছেন। তিনি নিজ হাতে যবেহ করেছেন, আল্লাহর নাম নিয়েছেন এবং আল্লাহু আকবার বলেছেন। দুম্বা দুটোর উপর তাঁর পা রেখেছেন (শক্ত করে ধরার জন্য)।

    –বুখারী: ৫৫৬৫, মুসলিম: ১৯৬৬

    রাসূল (স.) কুরবানি না করার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

    আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (স.) বলেছেন:

    من كان له سعة ولم يضح فلا يقربن مصلانا

    যার সামর্থ্য আছে, অথচ কুরবানি করল না, সে যেন আমাদের নামাযের জায়গার কাছেও না আসে।

    — ইবনে মাজাহ: ৩১২৩। ইমাম হাকিম হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন এবং ইমাম যাহাবী সহমত প্রকাশ করেছেন।

    যারা কুরবানি দিবেন, জিলহজ্জ্ব মাসের প্রথম দশ দিন তাদেরকে চুল-নখ কাটতে নিষেধ করেছেন:

    উম্মে সালামা রা. বর্ণনা করেন, রাসূল (স.) বলেছেন:

    إِذَا دَخَلَتِ الْعَشْرُ، وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّيَ، فَلَا يَمَسَّ مِنْ شَعَرِهِ وَبَشَرِهِ شَيْئًا

    যখন জিলহজ্জ্ব মাসের প্রথম দশ দিন শুরু হবে, তখন থেকে কুরবানি করতে ইচ্ছুক কোনো ব্যক্তি যেন তার নখ ও চামড়া না ধরে।

    –মুসলিম: ১৯৭৭, নাসায়ী: ৪৩৬৪।

    রাসূল (স.) কুরবানিকে ইব্রাহীম (আ.)এর সুন্নত বলে উল্লেখ করেছেন:

    যায়েদ বিন আরকাম (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (স.)কে সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই কুরবানি আসলে কী? রাসূল স. জবাব দিলেন:

    «سُنَّةُ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ»

    তোমাদের পিতা ইব্রাহীমের (আ.) সুন্নত।

    প্রশ্ন করা হল, এতে আমাদের কী আছে? রাসূল (স.) জবাব দিলেন:

    بِكُلِّ شَعَرَةٍ مِنَ الصُّوفِ، حَسَنَةٌ

    চামড়ার প্রতিটি পশমের বিনিময়ে সাওয়াব রয়েছে।

    — ইবনে মাজাহ: ৩১২৭, মুসনাদ আহমাদ: ১৯২৮৩

    রাসূল (স.) তাঁর প্রিয় সাহাবীদেরকে কুরবানি করতে বলেছেন:

    ১. আবুল আশাদ সুলামী তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসূল (স.)এর সঙ্গে সাতজনের মধ্যে সপ্তম জন ছিলেন। তিনি আমাদের সবাইকে এক দিরহাম করে একত্রিত করতে বললেন। এরপর আমরা সাত দিরহাম দিয়ে একটি কুরবানির পশু ক্রয় করলাম। আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি বেশি দামি কিনে ফেললাম না? তিনি বললেন:

    إِنَّ أَفْضَلَ الضَّحَايَا أَغْلَاهَا، وَأَسْمَنُهَا

    সর্বোত্তম কুরবানির পশু হল দামি ও মোটাতাজা পশু।

    এরপর দুজন সামনের দুই পা ধরল, দুজন পেছনের দুই পা, দুজন দুই শিং ধরল। আর সপ্তম জন যবেহ করল। আর আমরা সবাই আল্লাহু আকবার বললাম।

    — মুসনাদ আহমাদ: ১৫৪৯৪

    ২. উরওয়া বারিকী বলেন, রাসূল (স.) তাকে এক দিনার দিয়ে একটি কুরবানির পশু (বকরি) ক্রয় করতে পাঠালেন। তিনি এক দিনার দিয়ে দুটি ক্রয় করলেন। পথিমধ্যে একটি বিক্রয় করে এক দিনার এবং পশুসহ রাসূল (স.)এর কাছে আসলেন। রাসূল (স.) তার জন্য বরকতের দুয়া করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, দুয়ার ফলে তার এমন অবস্থা হয়েছিল যে, তিনি মাটি বিক্রয় করলেও লাভবান হতেন।

    — মুসনাদ আহমাদ: ১৯৩৫৬

    ৩. জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন, আমরা হুদাইবিয়ার বছর রাসূল (স.)এর সঙ্গে কুরবানি করেছি। উট সাতজনের পক্ষ থেকে এবং গরু সাতজনের পক্ষ থেকে।

    — মুসলিম: ১৩১৮

    ৪. এছাড়া অন্যান্য সাহাবীদেরও কুরবানি করার কথা বর্ণিত আছে:

    ইবনে ওমর (রা.)-– মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক: ৮১৩৬

    আলী (রা.)-– মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৮১৩৭

    ইবনে আব্বাস (রা.)-– মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক: ৮১৪৬

    আবু হুরায়রা-– মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৮১৫২

    আয়েশা (রা.)– মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৮১৬০

    রাসূলের (স.) আনুগত্য করা উম্মতের ওপর আবশ্যক:

    আল্লাহ তায়ালা বলেন:

    وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا ﴿الحشر: ٧﴾

    রসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক। (৫৯:৭)

    আল্লাহর ভালবাসা চাইলে রাসূলের (স.) অনুসরণের বিকল্প নেই:

    قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ ﴿آل‌عمران: ٣١﴾

    বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহ ও তোমাদিগকে ভালোবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু। (৩:৩১)

    বরং রাসূলের (স.) অনুসরণই আল্লাহর অনুসরণ:

    مَّن يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ ﴿النساء: ٨٠﴾

    যে লোক রসূলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল। (৪:৮০)

    সারকথা: কুরবানি অবশ্যই ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। একে অবহেলা করার সুযোগ নেই।

    বর্তমান বাংলাদেশে হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর সময়কার মরুভূমির জনগোষ্ঠির মতো গোশত তেমন দুর্লভ মূল্যবান সম্পদ নয়। বর্তমানে আমরা দরিদ্র অভাবীদের সাহায্য করার জন্য প্রাণি কুরবানি দেবার টাকা আরও কার্যকরী খাতে ব্যয় করতে পারি। যেমন, অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী ও আরও উপকারী উদ্দেশ্যে। সেই অর্থ বা টাকা ঢাকা বা অন্য বড় শহরের রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো লক্ষ লক্ষ ছিন্নমূল শিশুদের অবস্থার উন্নয়নে ব্যবহার করতে পারি। অথবা যে সব স্থানে চিকিৎসাসেবা এখনও পৌঁছেনি, সে সব স্থানে হাসপাতাল নিমার্ণের জন্য সেই টাকা ব্যয় করা যেতে পারে।

    দুর্লভ কোনো কিছুকে সুলভ করা কুরবানির বিধানের উদ্দেশ্য নয়। বরং মানুষের ভেতর তাকওয়া বা আল্লাহভীতি সঞ্চার করা। বিনা বাক্যে আল্লাহর অনুসরণের শিক্ষা দেওয়া। আল্লাহর বিধান মানার জন্য ত্যাগ শিকার করার শিক্ষা দেওয়া।

    তাছাড়া আল্লাহর দেওয়া রিযিকের নেয়ামতের প্রকাশ করা এবং নিজের আনন্দে পাড়া-প্রতিবেশি, আত্মীয়-স্বজন ও গরিব-দুখিকে শরিক করা।

    উন্নয়নের কাজ করার জন্য আল্লাহর আলাদা বিধান আছে। আল্লাহ মানুষকে সদকা করতে বলেছেন। সদকা অর্থ দান।

    আল্লাহ বলেন:

    وَأَنفِقُوا مِن مَّا رَزَقْنَاكُم مِّن قَبْلِ أَن يَأْتِيَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ فَيَقُولَ رَبِّ لَوْلَا أَخَّرْتَنِي إِلَىٰ أَجَلٍ قَرِيبٍ فَأَصَّدَّقَ وَأَكُن مِّنَ الصَّالِحِينَ ﴿المنافقون: ١٠﴾

    আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি, তা থেকে মৃত্যু আসার আগেই ব্যয় কর। অন্যথায় সে বলবে: হে আমার পালনকর্তা, আমাকে আরও কিছুকাল অবকাশ দিলে না কেন? তাহলে আমি সদকা করতাম এবং সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। (৬৩:১০)

    অনুরূপভাবে আল্লাহ ওশর ও যাকাতের বিধান দিয়েছেন। সেগুলো দিয়ে মানুষের উন্নয়নের কাজ করা হবে।

    ওশর-যাকাত ও সাদকা উসুল না করে কুরবানির খাতকে সেখানে লাগানোর কথা বলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে হয়।

    প্রাণি-উৎসর্গের পরিবর্তে এই দানের অভিপ্রায়ও ইসলাম ও কুরবানি ঈদের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

    মোটেও না। প্রাণি কুরবানি করা হয় বলেই এই ঈদের নাম ঈদুল আযহা। আযহা এসেছে উযহিয়া থেকে, যার অর্থ আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য পশু যবেহ করা। আমরা যাকে কুরবানি বলি।

    কাজেই প্রানি কুরবানি না করে অর্থ দান করলে সেই দানের সওয়াব হবে, কিন্তু এই কুরবানির সওয়াব হবে না এবং কুরবানির উদ্দেশ্যের সঙ্গেও তা সঙ্গতিপূর্ণ হবে না।

    মুসলমানদের জন্য কুরবানির ঈদ আনন্দের একটি পর্ব হলেও আল্লাহ্‌র প্রাণিদের জন্য এটা সুখের সময় নয়। এই উৎসবে বহু ছাগল, গরু ও অন্যান্য গৃহপালিত প্রাণির জীবনের ইতি ঘটে।

    আল্লাহর প্রাণিদেরকে আল্লাহই কুরবানি করতে বলেছেন। আর প্রাণিদেরকে সৃষ্টিই করেছেন মানুষের জন্য।

    আল্লাহ বলেন:

    وَالْبُدْنَ جَعَلْنَاهَا لَكُم مِّن شَعَائِرِ اللَّهِ لَكُمْ فِيهَا خَيْرٌ ۖ فَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهَا صَوَافَّ ۖ فَإِذَا وَجَبَتْ جُنُوبُهَا فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَالْمُعْتَرَّ ۚ كَذَٰلِكَ سَخَّرْنَاهَا لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴿٣٦﴾

    এবং কা’বার জন্যে উৎসর্গীকৃত উটকে আমি তোমাদের জন্যে আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন করেছি। এতে তোমাদের জন্যে মঙ্গল রয়েছে। সুতরাং সারিবদ্ধভাবে বাঁধা অবস্থায় তাদের যবেহ করার সময় তোমরা আল্লাহর নাম উচ্চারণ কর। অতঃপর যখন তারা কাত হয়ে পড়ে যায় তখন তা থেকে তোমরা আহার কর এবং আহার করাও যে কিছু যাচ্ঞা করে না তাকে এবং যে যাচ্ঞা করে তাকে। এমনিভাবে আমি এগুলোকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছি, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। (২২:৩৬)

    কাজেই এই মায়া দেখানোর কোনো মানে হয় না।

    সর্বোপরি, আমরা জানি যে মহানবী মোহাম্মদ (স.) প্রাণিদের উপর দয়ার বাণী প্রচার করে গেছেন। তিনি “সমগ্র সৃষ্টির প্রতি করুণা” (কুরআন ২১ঃ১০৭) প্রদানের জন্যই প্রেরিত হয়েছিলেন। প্রকৃতপক্ষে কুরআন খোলাখুলিভাবে নির্দেশ করে যে, প্রাণিরা আমাদের মতোই অনুভবক্ষম; অতএব এটা আধুনিক প্রাণি-অধিকার আন্দোলনের মৌলিক মতবাদকেই ধারণ করে– “পৃথিবীতে তারা শুধু প্রাণিই নয়, পাখায় ভর করে উড়ে বেড়ানো শুধু পাখিই নয়, তার সঙ্গে তারা আমাদের মতোই এক একটি গোষ্ঠী” (কুরআন ৬ঃ৩৮)।

    প্রাণিদের প্রতি দয়াশীল হওয়ার অর্থ এই নয় যে, তাদেরকে খাওয়া যাবে না। বরং ইসলামের সৌন্দর্য এটিই যে, যবেহের সময়েও যেন প্রাণির প্রতি দয়াশীল হয়, সে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    রাসূল (স.) বলেন:

    إن الله كتب الإحسان على كل شيء .وإذا ذبحتم فأحسنوا الذبح . وليحد أحدكم شفرته . فليرح ذبيحته

    আল্লাহ তায়ালা সবক্ষেত্রে ইহসান (সৌন্দর্য) করতে নির্দেশ দিয়েছেন। কাজেই যখন যবেহ করবে, উত্তমরূপে করবে। এবং তোমাদের প্রত্যেকে যেন ছুরি ধার করে নেয় এবং যবেহকৃত পশুকে আরাম দেয়।

    — মুসলিম: ১৯৫৫

    কুরবানি হওয়ার আগে বাংলাদেশে কুরবানির বহু প্রাণি বহুদূর পথ পায়ে হেঁটে আসে। প্রায়শই একসঙ্গে কয়েকদিন ধরে ভারতের মতো দূরবর্তী দেশ থেকে অথবা অপর্যাপ্ত স্থান, খাদ্য, পানি এবং চিকিৎসাসেবা ছাড়াই ট্রাকে গাদাগাদি করে তাদের আনা হয়। এটা হালালও নয়, মানবিকও নয় এবং করুণা ও দয়ার মতো ইসলামী অনুশাসনের সঙ্গেও এর তীব্র বিরোধ রয়েছে।

    এটা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনাগত সমস্যা। এর কারণে কোনো হালালকে “হালাল নয়” বলা ইসলামের বিধানের সাথে তামাশা বৈ কিছুই নয়।

    আমাদের এই বাস্তবতা ভুললে চলবে না। সহীহ্‌ আল বুখারীতে উল্লেখ আছে মহানবী মোহাম্মদ (স:)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, পরকালে প্রাণিদের প্রতি দয়া প্রদর্শন পুরস্কৃত হবে কিনা। তিনি উত্তরে বলেছিলেন, “প্রতিটি জীবন্ত প্রাণির প্রতি দয়া প্রদর্শনের জন্য প্রশংসিত পুরস্কার রয়েছে”। সাধারণত কুরবানির প্রাণিদের পা বাঁধা থাকে এবং তারা প্রায় নড়তেই পারে না। তারা একদল মানুষ দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে যার মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। আতঙ্কিত প্রাণিদের বেশ কয়েকজন চেপে ধরে রাখে আর তারপর তীক্ষ্ণ ছুরি তাদের গলা বরাবর চালানো হয়। তারা মুক্ত হওয়ার জন্য সংগ্রাম করে, কিন্তু ধীরে ধীরে রক্তক্ষরণের ফলে মারা যায়।

    পশুর প্রতি মায়া প্রদর্শনের ব্যাখ্যা পূর্বে বলা হয়েছে। শিশুর আতঙ্কিত হওয়ার কারণ তার অভিভাবকের অসতর্কতা। শিশু পিঁপড়া, টিকটিকিসহ যে কোনো প্রাণি দেখেই ভয় পায়। তাকে কুরবানির সময় সামনে রাখা উচিত নয়। কিন্তু এজন্য কোনো বিধান পরিবর্তন হতে পারে না।

    নিচে স্বাক্ষরকারী আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে আপনাদের বিবেচনার জন্য এই লেখা নিবেদন করছি এবং আশা করছি মহানবী মোহাম্মদ (স:) মানবতার জন্য করুণা ও দয়ার যে সর্বজনীন মাপকাঠির আলোকবর্তিকা দিয়ে গেছেন, এই লেখা পড়ে তার আলোকে আপনারা প্রাণি কুরবানি চর্চার ব্যাপারে আপনাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে পারবেন।

    রাসূল (স.)এর মানবতার দোহাই দিয়ে তাঁরই চর্চিত বিধানের ব্যাপারে নিজস্ব ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার আহ্বান করা ইসলামবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের বৃথা চেষ্টা। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। স্বাক্ষরকারীদের কেউ ইসলাম নিয়ে জানাশোনা নেই। ব্যাপারটি আরও আশ্চর্যজনক নয় কি?

    শেষকথা:

    লেখক সম্পর্কে: আমরা লেখকের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট থেকে জানতে পারি যে, তিনি প্রাণির অধিকার বিষয়ে সক্রিয় একজন কর্মী। আমরা তার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। আমরা এও জানতে পারি যে, তিনি মানবাধিকার বিষয়ে বেশ সক্রিয়। এজন্যও আমরা তাকে স্বাগত জানাই।

    কিন্তু মানুষের ধর্মীয় অধিকারও যে মানবাধিকারের অন্তর্ভুক্ত, আশা করি তাকে তা বলার প্রয়োজন নেই।

    জাতিসংঘের মানবাধিকার ঘোষণাপত্রে আছে:

    Article 18.

    Everyone has the right to freedom of thought, conscience and religion; this right includes freedom to change his religion or belief, and freedom, either alone or in community with others and in public or private, to manifest his religion or belief in teaching, practice, worship and observance.Article 29.

    (1) Everyone has duties to the community in which alone the free and full development of his personality is possible.

    (2) In the exercise of his rights and freedoms, everyone shall be subject only to such limitations as are determined by law solely for the purpose of securing due recognition and respect for the rights and freedoms of others and of meeting the just requirements of morality, public order and the general welfare in a democratic society.

    (3) These rights and freedoms may in no case be exercised contrary to the purposes and principles of the United Nations.Article 30.
    Nothing in this Declaration may be interpreted as implying for any State, group or person any right to engage in any activity or to perform any act aimed at the destruction of any of the rights and freedoms set forth herein.

    আর OIC –র মানবাধিকার ঘোষণাপত্রে আছে:

    ARTICLE 10:

    Islam is the religion of unspoiled nature. It is prohibited to exercise any form of compulsion on man or to exploit his poverty or ignorance in order to convert him to another religion or to atheism.

    বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগ (মৌলিক অধিকার)-এ আছে:

    ৪১। (১) আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা-সাপেক্ষে

    (ক) প্রত্যেক নাগরিকের যে কোনো ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রহিয়াছে;

    এ ধরনের লেখা আমরা বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষের মৌলিক অধিকারে আঘাত হানার অপচেষ্টা বলে মনে করি।

    প্রতি বছর একই লেখা প্রকাশ:

    আমরা লেখকের ওয়েবসাইটে তার CV তে উল্লেখ পাই যে, এই লেখাটি ২৭ অক্টোবর, ২০১১ তে ঢাকা কুরিয়ারে ছাপানো হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে (ইংরেজী ও বাংলা উভয় সংস্করণ) একই দিনে, ফাইনানসিয়াল এক্সপ্রেস, সংবাদ প্রতিদিন ও উইকলি ব্লিটজ, পরদিন ২৮ অক্টোবর, ২০১১ -এ এবং এ বছর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে পুনরায় ১৬ অক্টোবর, ২০১২ তে ইংরেজি সংস্করণে এবং ২১ অক্টোবর, ২০১২ তে বাংলা সংস্করণে প্রকাশ করতে দেখি।

    ষড়যন্ত্র?

    ঈদুল আযহার আগ মুহূর্তে প্রতি বছর এটা প্রকাশ করার পেছনে পশুর অধিকার ভিন্ন অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা উচিত।

    লেখকের মতামতের প্রতি আমাদের কিছু বলার নেই। তিনি মুসলিম হলে লেখাটি লেখকের ধর্মীয় বিশ্বাসের আঘাত হানার পর্যায়ে কিনা তা খতিয়ে দেখা যেত। কিন্তু একটি মুসলিম দেশে পরপর দু’বছর একই সময়ে লেখাটি ছাপানো এবং তা বিভিন্ন নামের অনেকগুলো স্বাক্ষরসহ ছাপানোর পেছনে কী উদ্দেশ্য কাজ করছে, তা খতিয়ে দেখা উচিত।

    — Yousuf Sultan

    Reply
  34. atif

    আমাদের নিজেদের মাংস খাওয়া তাহলে ঠিক হবে!

    কারণ গাছেরও প্রাণ আছে; এমনকি মাটিরও… মাটিতে আছে মাইক্রো-অরগ্যানিজম ….

    Reply
  35. Suraya

    এই খোলা চিঠি যিনি লিখেছেন, আমি নিশ্চিত যে, তিনি কোরবানির মহিমা সম্পর্কে সম্পূর্ণ না জেনে লিখেছেন।

    আরও অবাক হচ্ছি, কিছু তথাকথিত নামমাত্র মুসলমানকে (৯০ জন) নিয়ে তিনি এই চিঠিটি লিখেছেন। আফসোস, এনারা পরিপূর্ণরূপে মুসলমান হতে পারেননি। আশা করছি, আল্লাহ তাদেরকে হেদায়েত করবেন।

    মেনে নিচ্ছি যে, যারা ভারত থেকে কোরবানির উদ্দেশ্যে গরুগুলো আনছেন তারা খানিকটা অমানবিকভাবে কাজটা করছেন। কারণ তারা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে তা করছেন।

    যিনি চিঠিটি লিখেছেন তাকে অনুরোধ করছি, একবার বাংলাদেশে এসে যদি কোরবানির উদ্দেশ্যে কেনা গরুগুলো কীভাবে রাখা হচ্ছে তা দেখেন। আমি খুব ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি গরু কিনে আনার পর সেটিকে কত যত্ন করা হয়। ঘণ্টায় ঘণ্টায় গরুকে খাবার পানি ঠিকমতো দেওয়া হয়েছে কিনা দেখা, হালকা গরম পানিতে গোসল করানো, রাতে সবাই মিলে পাহারা দেওয়া, মশা যাতে না কামড়ায় সেজন্য কয়েল জ্বালানো, শীতকালীন কোরবানিতে গরুর গায়ে দেওয়ার জন্য মোটা কাপড় যোগাড় ইত্যাদি হয়ই।

    আর শুধু আমি কেন, আরও অনেককে দেখেছি কোরবানির পর কাঁদতে, বিশেষ করে শিশু-কিশোররা যারা গরুর জন্য ঘাস, খড়, পানি ইত্যাদি নিয়ে কোরবানির আগে ব্যস্ত থাকে। কোরবানির মহত্ত্বই হচ্ছে ত্যাগের মহিমা উপলব্ধি করা। এতবড় সুযোগ মানুষের জীবনে খুব কমই আসে।

    তাই চিঠির লেখকে অনুরোধ করছি, আগে পুরো বিষয়টা জেনে তারপর মন্তব্য করবেন।

    Reply
  36. jamal uddin

    ‘‘নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি। অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশে নামায পড়ুন এবং কোরবানি করুন। যে আপনার শত্রু, সেই তো লেজকাটা, নির্বংশ।’’

    পশ্চিমারা কেএফসি-তে খাইলে কোনো উচ্চবাচ্য নাই, যত দোষ কুরবানির!

    পশ্চিমাদের দালালরা ধ্বংস হোক।

    Reply
  37. Kazi

    প্রাণের কথা চিন্তা করে যদি বলা হয়, তাহলে তো পৃথিবীতে কিছুই করা যাবে না। সবাইকে স্ট্যাচু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। উদ্ভিদ, মাছ, পাখি, মানুষ বা অন্য যে কোনো প্রাণিরই খাদ্য অপর আরেকটি প্রাণ।

    ইসলাম ধর্মাবলম্বী ছাড়া বাকিদের কি আপনি নিরামিষাশী পেয়েছেন? আপনি যে দেশে থাকেন সেখানে তো প্রাণিদের ইলেকট্রিক শক দিয়ে মারা হয়।

    আজ ঈদের আগের দিন আপনার হঠাৎ করে অবাক পশুপ্রীতি জেগে উঠল! নাকি আরব মুসলমানদের পর এখন উপমহাদেশের মুসলমানদের প্রতি আপনাদের নেক নজর পড়ল?

    দয়া করে বলবেন কি কোন প্রাণহীন জিনিসটা খেয়ে আপনি জীবন ধারণ করেন?

    Reply
  38. ম্যানিলা নিশি

    প্রতি বছর ১১৫ মিলিয়ন পশু ল্যাবরেটরিতে ব্যবহ্নত হয়। সেসব পশু তাদের বাকি জীবন অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্য দিয়ে টেনে নিয়ে যায়। এই লেখায় তার কোনো উল্লেখ নেই।

    পক্ষান্তরে কুরবানির মতো বিজ্ঞানসম্মত একটি পন্থা যেখানে একটি পশুর দ্রুত জীবনাবসান ঘটে সেটিকে লেখক মানবিকতা আর হালাল-হারামের প্রশ্ন তুলে পাঠককে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন!

    Reply
  39. mihir al

    KFC, MCDONALD, PIZZA HUT, TGI FRIDAYS, NATHAN, এগুলো বন্ধ করাচ্ছেন না কেন? কোরবানির সময় কোটি কোটি গরিব শুধুমাত্র বছরে একবার মাংস খাওয়ার সুযোগ পায়…

    Reply
  40. ইমতিয়াজ মিয়া

    আমাদেরকে আমাদের ধর্ম ঠিকমতো পালন করতে দিন। আপনাদের মোড়লগিরি অন্যখানে ফলান।

    আপনারা পাখির মতো মানুষ মারেন, তাতে কোনো দোষ নেই? আমরা পশু কোরবানি দিলেই দোষ!

    আমরা পশু কোরবানি করি আল্লাহর আদেশে, এখানে হিংস্রতার কোনো স্থান নেই…

    Reply
  41. তানজিম

    নামের পিছনে খুব বড় ডিগ্রি নিয়ে সত্যকে মিথ্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেই তা সফল হয় না। আপনারা হলেন ইসলামের নামে মিথ্যাচারকারী এবং ভুল ব্যাখ্যাকারী।

    আর মিছেমিছি প্রাণিকুলের প্রতি মায়া কেন দেখাচ্ছেন??? মানুষ মাত্র সবথেকে শ্রেষ্ঠ প্রাণি, এটা মানুষ এবং দুনিয়ার সমস্ত প্রাণিকুল জানে, এটা কাউকে জানাতে হয় না, এটা তারা জেনেটিক নিয়মে জেনে আসে। আর জানেনই যে দুর্বলের উপর সবলের প্রভাব চিরদিনই একটু অত্যাচারিত রকমে বেশি।

    আজ দুনিয়াতে পশু সমাজ নয়, Vegan অর্থাৎ নিরামিষ সম্প্রদায় হুমকির সম্মুখীন। মুসলমানরা পশু কুরবানি করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যা অন্য কোনো জাতি করে না।

    যাহোক, আমাদের ডিগ্রিধারী ‘রেইনার এবার্ট’ বলেছেন বলে কথা, তিনি আজ উপদেশ দিচ্ছেন বাংলাদেশকে যেখানে খোদ আমেরিকাতেই ২০০৯ সালের তথ্য অনুযায়ী ৫৯ বিলিয়ন প্রাণি শুধু খাদ্যের জন্য হত্যা করা হয়েছে।

    (Animals killed worldwide for Americans’ food in 2009 amount to 8.3 billion land animals and 51 billion sea animals. So, a total of about 59 billion animals.)

    😛

    Reply
  42. Prodip

    প্রাণি-নিগ্রহের ব্যাপারটা সবচেয়ে প্রাচীন ভারতবর্ষে বৈদিক সমাজেই দৃশ্যমান ছিল, যখন ধর্মীয় আচারে ঘোড়াও বলির শিকার হত। সেই সব প্রসঙ্গ এখানে অনুক্ত এবং দয়া মায়ার প্রসঙ্গটাই উক্ত হল, নৈতিক দিকটাও উহ্য। এখানে নৈতিক দিকটা বেশি বিবেচিত হওয়া বাঞ্চনীয়। লেখক সেদিকে গেলেন কিনা তা পরিস্কার হল না।

    সেই নৈতিক দিকটা হল, এই গ্রহ শুধু মানুষ নামের প্রাণির বসবাসের জন্যে তৈরি হয়নি, সবাক নির্বাক, বৃহৎ ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সকল প্রাণির অধিকার রয়েছে বেঁচে থাকার। আমাদের কোনো অধিকার নেই অন্য কোনো প্রাণির অধিকারের প্রতি হামলা করার। আরও গভীরে গিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন যে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্যে সকল প্রাণিকে বেঁচে থাকতে হবে। স্বাভাবিক নিয়ম ছাড়া যদি মানুষ এতে হাত বসায় বা এমন কিছু করে যাতে কোনো প্রাণির অস্তিত্বেরর উপর আঘাত আসে, তাহলে স্বয়ং মানবজাতির অস্তিত্বই বিলুপ্ত হবার আশঙ্কা রয়েছে।

    উদাহরণ হিসেবে আমরা গান্ধীর ২,৫০০ বছর আগের ভারতের গৌতম বুদ্ধের জীবণাচরণের প্রাচীন উদাহরণ টানতে ভুলে যাই; অথচ তাঁর ইতিহাসে দেখা যায়, প্রাণির অধিকারের জন্যে এত প্রাচীনকালেও বৈদিক যাগ-যজ্ঞের বিরুদ্ধে তিনি সংগ্রাম করেছিলেন।

    Reply
  43. সিফাত

    অল্পবিদ্যা খুব খারাপ। আমার জানা সামান্য বিদ্যা থেকে বলতে পারি যে, সামর্থ্যবানদের জন্য কোরবানি দেওয়া ফরজ (ইসলাম ধর্মমতে)। প্রতিদিন কত বার্গার আর ফাস্ট ফুড খায় মানুষ, তখন তো ‘হায় হায়’ হয় না। কোরবানি দিলেই ‘হায় হুতাশ’ শুরু হয়!

    নবীজি (সা:) অবশ্যই বলেছেন পশুপাখির উপর দয়া দেখাতে, তাই বলে কোরবানি বাদ দিয়ে নয়। আপনি বলেছেন আল কুরআনে লেখাই আছে-–

    ‘‘আল্লাহতালার কাছে কুরবানি দেওয়া পশুটি বা তার রক্ত পৌছায় না, পৌঁছায় শুধু মানুষের ধর্মানুরাগ।’’

    [আল কুরআন, ২২: ৩৭]

    কথাটার তর্জমা আগে বুঝেন, তারপর বিশ্লেষণ করুন। এটা দ্বারা বলা হয়েছে যে, আমি কত দামি বা কত বড় পশু কিনলাম বা কত মজা করে রান্না করলাম বা কয় কেজি মাংস পেলাম সেটা বড় ব্যাপার নয়। কারণ এগুলোর কিছুই তাঁর কাছে পৌছায় না।

    তাই আল্লাহ্‌ এটাই বুঝাতে চেয়েছেন যে, আমরা তাকে কতটুকু সম্মান করি বা শ্রদ্ধা করি তা সামর্থ্যবানদের দেওয়া কোরবানির মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় (অবশ্যই প্রমাণ দেওয়ার আরও অনেক উপায় ইসলামে আছে, তবে সেই উপায়গুলোর মধ্যে অন্যতম হল কোরবানি দেওয়া)।

    ইসলাম নিয়ে অবশ্যই কিছু পড়েছেন বিধায় কিছু হলেও লিখতে পেরেছেন। তবে যতটুকুই পড়েন, একটু ভালোভাবে পড়ে তারপর লিখেন।

    Reply
  44. maria

    এ আসলে গভীর ষড়যন্ত্র, মুসলমানদের ভুল-ভাল বুঝিয়ে কাজ হবে না। আমাদেরসহ সারা বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির খাত কুরবানি রুখে দেবার চক্রান্ত রুখে দাও সব সচেতন নাগরিক।

    আসুন পরিসংখ্যান দেখি।

    বাংলাদেশ ট্যানার’স অ্যাসোসিয়েশনের ২০১২ সালের ডাটা অনুসারে, বাংলাদেশে ৩৫ লক্ষ গরু এবং ৫০ লক্ষ ছাগল কুরবানি করা হয়। এ থেকে প্রাপ্ত চামড়া বা বিক্রয় করা মূল্য পুরোটাই দান করে দেওয়া হয়। যদি একটি গরুর চামড়া অ্যাভারেজে ৫০০ টাকা ধরা হয় এবং ছাগলের চামড়া ১০০ টাকা ধরি, তাহলে এর মোট মূল্য দাঁড়ায় ২২৫ কোটি টাকা। এর বাইরেও আছে কুরবানি করা পশুর গোস্তের অন্তত ১
    তৃতীয়াংশ গরীবদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া।

    অবশ্য ট্যানার’স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুসারে, কুরবানির পশুর চামড়ার বাণিজ্যিক মূল্য ১০৫০ কোটি টাকার উপর ছিল ২০১২ সালে। অন্যসব হিসেবনিকেশ বাদ। যদি কেবল দান করে দেওয়া চামড়ার সর্বনিম্ন মূল্যটাও ধরি, তাহলে কুরবানির দিন বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ দানের দিবস। বাংলাদেশিদের জাতীয় জীবনে এমন কোনো দিন আসে না যেদিন একদিনে এত পরিমাণ টাকা দান করে দেওয়া হয়।

    বাংলাদেশে অনেক বড়লোক আছেন যারা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে, তাদের ব্যাংক লোন আছে বা দেনা আছে ইত্যাদি কারণে ঠিকমতো যাকাত দেন না। অনেক মধ্যবিত্ত আছেন যাদের নিসাব পরিমাণ টাকা থাকে না বলে যাকাত দেন না বা দিলেও সামান্য। কিন্তু কুরবানির চামড়া প্লাস কিছু গোস্ত গরিবের সঙ্গে শেয়ার কিন্তু ঠিকই করা হয়।

    Reply
  45. Khaled

    vaia….KFC , BFC, Pizza Hut aishob jaigai jokhon CHICKEN jobai kora hoi hajare hajare tokhon apnader kano gaiate dekhi na,,,,kano KFC BFC er shamne konodin Protest korte dekhi na…… Kurbani to r akhon theke hocche na …. ato bochor dhore kurbani hocche jiboneo ki dekhsen j “ECOLOGY” te problem hoise???? then suddenly apnader erokom post er mane bujhlam na….. ar jekhane “Tiger”, “Elephant” mara hocche jegular number duniyate komtese oiguli nie kono protest hocche na….why!!!!!! “Elephant” er horn ddie banano Plate e thik e Fried Rice with Chicken khacchen …. plz logical explanation chara apnara Islam nie kotha ar baraben na….Thank You

    Reply
  46. Md. Arifur Rahman

    আমরা কুরবানি করি, কারণ আল্লাহ সেটা করতে বলেছেন। লেখক নিজের যুক্তির প্রমাণ হিসেবে শুধু কিছু বাক্য তুলে ধরেছেন ভুলভাবে, মানুষকে মিসগাইড করতে। জানি না লোকে কেন এসব জেন্টেলম্যান টাইপ ফলস আর্টিকেল লিখে।

    হয় তিনি নিজেও ‘মিসগাইডেড’ বা অথবা তিনি একজন ‘মনস্টার’ যিনি বিতর্ক তৈরি করে খ্যাতিমান হতে চান।

    Reply
  47. shamim

    আপনি যদি ফুড চেইন সম্পর্কে অবগত খাকেন, তাহলে অনাহুত এত কথা বলার প্রয়োজন ছিল না। কোরবানিতে সাধারণত গরু, ছাগল, উট এ জাতীয় গৃহপালিত পশু জবাই করা হয়। এতে নিমর্মতার কী দেখছেন বিষয়টি ঠিক পরিষ্কার নয়। পশু জবাই করা হয় এমনভাবে যাতে সে সবচেয়ে কম যন্ত্রণা ভোগ করে মৃত্যুবরণ করে।

    ড. জাকির নায়েকেন এ বিষয়ে একটি ভিডিও টিউটোরিয়াল আছে।

    Reply
  48. muhammad abdullah Al rakib

    ঈদ-উল-আযহা কী লেখক তা জানেন না।

    ইসলাম সম্পর্কে না জেনে এই ধরনের লেখা তৈরি না করা ভালো। এতে বিতর্ক কম হয়।

    Reply
  49. Tahmid

    EATING NON-VEGETARIAN FOOD

    Question:

    Killing an animal is a ruthless act. Why then do Muslims consume non-vegetarian food?

    Answer:

    ‘Vegetarianism’ is now a movement the world over. Many even associate it with animal rights. Indeed, a large number of people consider the consumption of meat and other non-vegetarian products to be a violation of animal rights.

    Islam enjoins mercy and compassion for all living creatures. At the same time Islam maintains that Allah has created the earth and its wondrous flora and fauna for the benefit of mankind. It is upto mankind to use every resource in this world judiciously, as a niyamat (Divine blessing) and amanat (trust) from Allah.

    Let us look at various other aspects of this argument.

    1. A Muslim can be a pure vegetarian

    A Muslim can be a very good Muslim despite being a pure vegetarian. It is not compulsory for a Muslim to have non-vegetarian food.

    2. Qur’an permits Muslims to have non-vegetarian food

    The Qur’an, however permits a Muslim to have non-vegetarian food. The following Qur’anic verses are proof of this fact:

    “O ye who believe! Fulfil (all) obligations. Lawful unto you (for food) are all four-footed animals with the exceptions named.”

    [Al-Qur’an 5:1]

    “And cattle He has created for you (men): from them Ye derive warmth, and numerous benefits, And of their (meat) ye eat.”

    Al-Qur’an 16:5]

    “And in cattle (too) ye have an instructive example: From within their bodies We produce (milk) for you to drink; there are, in them, (besides), numerous (other) benefits for you; and of their (meat) ye eat.”

    [Al-Qur’an 23:21]

    3. Meat is nutritious and rich in complete protein

    Non-vegetarian food is a good source of excellent protein. It contains biologically complete protein i.e. all the 8 essential amino acid that are not synthesized by the body and should be supplied in the diet. Meat also contains iron, vitamin B1 and niacin.

    4. Humans have Omnivorous set of teeth

    If you observe the teeth of herbivorous animals like the cow, goat and sheep, you will find something strikingly similar in all of them. All these animals have a set of flat teeth i.e. suited for herbivorous diet. If you observe the set of teeth of the carnivorous animals like the lion, tiger, or leopard, they all have a set of pointed teeth i.e. suited for a carnivorous diet. If you analyze the set of teeth of humans, you find that they have flat teeth as well as pointed teeth. Thus they have teeth suited for both herbivorous as well as carnivorous food i.e. they are omnivorous. One may ask, if Almighty God wanted humans to have only vegetables, why did He provide us also with pointed teeth? It is logical that He expected us to need and to have both vegetarian as well as non-vegetarian food.

    5. Human beings can digest both vegetarian and non-vegetarian food

    The digestive system of herbivorous animals can digest only vegetables. The digestive system of carnivorous animals can digest only meat. But the digestive system of humans can digest both vegetarian and non-vegetarian food. If Almighty God wanted us to have only vegetables then why did He give us a digestive system that can digest both vegetarian as well as non-vegetarian food?
    6. Hindu scriptures give permission to have non-vegetarian food

    a. There are many Hindus who are strictly vegetarian. They think it is against their religion to consume non-vegetarian food. But the true fact is that the Hindu scriptures permit a person to have meat. The scriptures mention Hindu sages and saints consuming non-vegetarian food.

    b. It is mentioned in Manu Smruti, the law book of Hindus, in chapter 5 verse 30

    “The eater who eats the flesh of those to be eaten does nothing bad, even if he does it day after day, for God himself created some to be eaten and some to be eater.”

    c. Again next verse of Manu Smruti, that is, chapter 5 verse 31 says

    “Eating meat is right for the sacrifice, this is traditionally known as a rule of the gods.”

    d. Further in Manu Smruti chapter 5 verse 39 and 40 says

    “God himself created sacrificial animals for sacrifice, …., therefore killing in a sacrifice is not killing.”

    e. Mahabharata Anushashan Parva chapter 88 narrates the discussion between Dharmaraj Yudhishthira and Pitamah Bhishma about what food one should offer to Pitris (ancestors) during the Shraddha (ceremony of dead) to keep them satisfied. Paragraph reads as follows:

    “Yudhishthira said, “O thou of great puissance, tell me what that object is which, if dedicated to the Pitiris (dead ancestors), become inexhaustible! What Havi, again, (if offered) lasts for all time? What, indeed, is that which (if presented) becomes eternal?”

    “Bhishma said, “Listen to me, O Yudhishthira, what those Havis are which persons conversant with the rituals of the Shraddha (the ceremony of dead) regard as suitable in view of Shraddha and what the fruits are that attach to each. With sesame seeds and rice and barely and Masha and water and roots and fruits, if given at Shraddhas, the pitris, O king, remain gratified for the period of a month. With fishes offered at Shraddhas, the pitris remain gratified for a period of two months. With the mutton they remain gratified for three months and with the hare for four months, with the flesh of the goat for five months, with the bacon (meat of pig) for six months, and with the flesh of birds for seven. With venison obtained from those deer that are called Prishata, they remaingratified for eight months, and with that obtained from the Ruru for nine months, and with the meat of Gavaya for ten months, With the meat of the bufffalo their gratification lasts for eleven months. With beef presented at the Shraddha, their gratification, it is said , lasts for a full year. Payasa mixed with ghee is as much acceptable to the pitris as beef. With the meat of Vadhrinasa (a large bull) the gratification of pitris lasts for twelve years. the flesh of rhinoceros, offered to the pitris on anniversaries of the lunar days on which they died, becomes inexhaustible. The potherb called Kalaska, the petals of kanchana flower, and meat of (red) goat also, thus offered, prove inexhaustible.

    So but natural if you want to keep your ancestors satisfied forever, you should serve them the meat of red goat.

    7. Hinduism was influenced by other religions

    Though Hindu Scriptures permit its followers to have non-vegetarian food, many Hindus adopted the vegetarian system because they were influenced by other religions like Jainism.

    8. Even plants have life

    Certain religions have adopted pure vegetarianism as a dietary law because they are totally against the killing of living creatures. If a person can survive without killing any living creature, I would be the first person to adopt such a way of life. In the past people thought plants were lifeless. Today it is a universal fact that even plants have life. Thus their logic of not killing living creatures is not fulfilled even by being a pure vegetarian.

    9. Even plants can feel pain

    They further argue that plants cannot feel pain, therefore killing a plant is a lesser crime as compared to killing an animal. Today science tells us that even plants can feel pain. But the cry of the plant cannot be heard by the human being. This is due to the inability of the human ear to hear sounds that are not in the audible range i.e. 20 Hertz to 20,000 Hertz. Anything below and above this range cannot be heard by a human being. A dog can hear up to 40,000 Hertz. Thus there are silent dog whistles that have a frequency of more than 20,000 Hertz and less than 40,000 Hertz. These whistles are only heard by dogs and not by human beings. The dog recognizes the masters whistle and comes to the master. There was research done by a farmer in U.S.A. who invented an instrument which converted the cry of the plant so that it could be heard by human beings. He was able to realize immediately when the plant itself cried for water. Latest researches show that the plants can even feel happy and sad. It can also cry.

    10. Killing a living creature with two senses less is not a lesser crime

    Once a vegetarian argued his case by saying that plants only have two or three senses while the animals have five senses. Therefore killing a plant is a lesser crime than killing an animal. Suppose your brother is born deaf and dumb and has two senses less as compared to other human beings. He becomes mature and someone murders him. Would you ask the judge to give the murderer a lesser punishment because your brother has two senses less? In fact you would say that he has killed a masoom, an innocent person, and the judge should give the murderer a greater punishment.

    In fact the Qur’an says:

    “O ye people! Eat of what is on earth, lawful and good”

    [Al-Qur’an 2:168]

    11. Over population of cattle

    If every human being was a vegetarian, it would lead to overpopulation of cattle in the world, since their reproduction and multiplication is very swift. Allah (swt) in His Divine Wisdom knows how to maintain the balance of His creation appropriately. No wonder He has permitted us to have the meat of the cattle.

    12. Cost of meat is reasonable since all aren’t non-vegetarians

    I do not mind if some people are pure vegetarians. However they should not condemn non-vegetarians as ruthless. In fact if all Indians become non-vegetarians then the present non-vegetarians would be losers since the prices of meat would rise.

    Reply
  50. Tahmid

    In the past people thought plants were lifeless. Today it is a universal fact that even plants have life. Thus their logic of not killing living creatures is not fulfilled even by being a pure vegetarian.

    They further argue that plants cannot feel pain, therefore killing a plant is a lesser crime as compared to killing an animal. Today science tells us that even plants can feel pain. But the cry of the plant cannot be heard by the human being. This is due to the inability of the human ear to hear sounds that are not in the audible range i.e. 20 Hertz to 20,000 Hertz. Anything below and above this range cannot be heard by a human being. A dog can hear up to 40,000 Hertz. Thus there are silent dog whistles that have a frequency of more than 20,000 Hertz and less than 40,000 Hertz. These whistles are only heard by dogs and not by human beings. The dog recognizes the masters whistle and comes to the master. There was research done by a farmer in U.S.A. who invented an instrument which converted the cry of the plant so that it could be heard by human beings. He was able to realize immediately when the plant itself cried for water. Latest researches show that the plants can even feel happy and sad. It can also cry.

    Reply
  51. Rana

    প্রাণিকূলের প্রতি আপনার অনুভূতি আমাকে মুগ্ধ করেছে। তবে জানেন কি, যারা প্রাণিদের প্রতি এত সদয় তাদেরই দেখি মানুষের প্রতি চরম নির্দয় আচরণ করতে! নবীর উপর আস্থা না থাকলেও স্বমত জোরদার করতে নবীর বাণী কোট করতে আমরা বিশেষ পারঙ্গম!

    প্রকৃতি বা ঈশ্বর যে মানুষকে omnivore বানিয়েছেন তাকে জোর করে Vegetarian বানানোর সঙ্গে সঙ্গে বাঘ-সিংহকেও Vegetarian বানালে ভালো হত না?

    বলি কী, মানুষের প্রতি সদয় হোন, যেটা মানানসই।

    Reply
  52. হাসানুল কবির মেহেদি

    ভাই,

    আপনার লেখার সঙ্গে একমত। মানুষ যদি পশু কোরবানি না দিয়ে নিজের মধ্যে লুকিয়ে থাকা লোভ-লালসা-কুপ্রবৃত্তি কোরবানি দিত, তাহলে তা-ই হত উত্তম কোরবানি এবং মাবুদ আল্লাহ খুশি হতেন।

    মাবুদের কাছে মোনাজাত করি তিনি যেন মানুষকে বোঝার তৌফিক দান করেন।

    Reply
    • Mohammad Nazmul Hasan Pias

      আপনি কি কোরবানি দেওয়ার রীতি অস্বীকার করছেন?????????

      এটা বলতে পারেন যে, আমরা অনেক সময় পশুদের প্রতি সদয় আচরণ করি না, এটা অব্যবস্থাপনার কারণে হয়ে থাকে, কেউ ইচ্ছা করে এমন কাজ করে না।

      আর কোরবানির পশু কিছুটা কষ্ট পেলেও এর উত্তম প্রতিদান আল্লাহতাআলা নিজে দিয়ে থাকেন। তাই এতে কোরবানির পশুর কোনো ক্ষতি হয় না।

      এই সাধারণ ব্যাপারটা কেন বুঝতে পারেন না?????

      Reply
    • kawsar

      প্রাণিকূলের প্রতি আপনার অনুভূতি আমাকে মুগ্ধ করেছে। তবে জানেন কি, যারা প্রাণিদের প্রতি এত সদয় তাদেরই দেখি মানুষের প্রতি চরম নির্দয় আচরণ করতে! নবীর উপর আস্থা না থাকলেও স্বমত জোরদার করতে নবীর বাণী কোট করতে আমরা বিশেষ পারঙ্গম!

      মানুষকে জোর করে Vegetarian বানানোর সঙ্গে সঙ্গে বাঘ-সিংহকেও Vegetarian বানালে ভালো হত না?

      মানুষের প্রতি সদয় হোন, যেটা মানানসই।

      Reply
  53. লিকু

    গাছের প্রাণ আছে সেটা কি জানেন না? শাকসবজি খেলে গাছের কষ্ট হয় না!

    Reply
  54. Jahan khan

    পশু উৎসর্গ করা হবে এক আল্লাহর এবাদতের
    উদ্দেশ্যে যার কোন শরিক নেই। আল্লাহ
    রাব্বুল আলামিন মানব
    জাতিকে সৃষ্টি করেছেন শুধু তার এবাদত করার
    জন্য। যেমন তিনি বলেন : ‘আমি জিন ও
    মানুষকে এ জন্য সৃষ্টি করেছি যে তারা শুধু
    আমার এবাদত করবে।’[৪]আল্লাহ তাআলা তার
    এবাদতের জন্য মানব জাতিকে সৃষ্টি করলেন।
    এবাদত বলে,—যে সকল কথা ও কাজ আল্লাহ
    রাব্বুল আলামিন ভালোবাসেন ও পছন্দ
    করেন; হোক সে কাজ প্রকাশ্যে বা গোপনে।
    [৫]আর এ এবাদতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল
    তার উদ্দেশ্যে পশু জবেহ করা। এ
    কাজটি তিনি শুধু তার উদ্দেশ্যে করার জন্য
    নির্দেশ দিয়েছেন। বলেছেন :—
    ‘বল, আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার
    জীবন ও আমার মরণ জগৎসমূহের প্রতিপালক
    আল্লাহরই উদ্দেশ্যে। তার কোন শরিক নাই
    এবং আমি এর জন্য আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই
    প্রথম মুসলিম।’ [৬]
    ইবনে কাসীর রহ. বলেন : এ আয়াতে আল্লাহ
    রাব্বুল আলামিন নির্দেশ দিয়েছেন যে সকল
    মুশরিক আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে পশু জবেহ
    করে তাদের যেন জানিয়ে দেয়া হয়
    আমরা তাদের বিরোধী।
    সালাত, কোরবানি শুধু তার নামেই হবে যার
    কোন শরিক নাই। এ কথাই আল্লাহ
    তাআলা সূরা কাওসারে বলেছেন : ‘তোমার
    প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর ও
    পশু কোরবানি কর।’ [৭]
    অর্থাৎ তোমার সালাত ও কোরবানি তারই
    জন্য আদায় কর। কেননা মুশরিকরা প্রতিমার
    উদ্দেশে প্রার্থনা করে ও পশু জবেহ করে। আর
    সকল কাজে এখলাস অবলম্বন করতে হবে।
    এখলাসের আদর্শে অবিচল থাকতে হবে।
    ২. যে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে পশু
    উৎসর্গ বা জবেহ করবে তার ব্যাপারে কঠোর
    শাস্তির কথা
    আবু তোফায়েল থেকে বর্ণিত তিনি বলেন :
    আমি আলী ইবনে আবি তালেবের
    কাছে উপস্থিত ছিলাম। এক ব্যক্তি তার
    কাছে এসে বলল :‘নবী কারীম স.
    গোপনে আপনাকে কি বলেছিলেন ?’ বর্ণনাকারী বলেন :
    আলী রা. এ কথা শুনে রেগে গেলেন
    এবং বললেন : ‘নবী কারীম স. মানুষের
    কাছে গোপন রেখে আমার কাছে একান্তে কিছু
    বলেননি।
    তবে তিনি আমাকে চারটি কথা বলেছেন।
    বর্ণনাকারী বলেন,এরপর
    লোকটি বলল : ‘হে আমিরুল মোমিনীন !
    সে চারটি কথা কি ? তিনি বললেন :
    ‘১. যে ব্যক্তি তার পিতামাতাকে অভিশাপ
    দেয় আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন।
    ২. যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য
    কারো নামে পশু জবেহ করে আল্লাহ তার উপর
    লা’নত করেন।
    ৩. ঐ ব্যক্তির উপর আল্লাহ লা’নত করেন
    যে ব্যক্তি কোন বেদআতীকে প্রশ্রয় দেয়।
    ৪. যে ব্যক্তি জমির সীমানা পরিবর্তন
    করে আল্লাহ তাকে লা’নত করেন। [৮]
    ৩. এ কাজগুলো এমন, যে ব্যক্তি তা করল
    সে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে কুফরির
    সীমানায় প্রবেশ করল।
    এ হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম নবভী রহ. বলেন :
    আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে পশু জবেহ করার
    অর্থ এমন, যেমন কোন ব্যক্তি প্রতিমার
    নামে জবেহ করল অথবা কোন নবীর নামে জবেহ
    করল বা কাবার নামে জবেহ করল। এ ধরনের যত
    জবেহ হবে সব না-জায়েজ ও
    তা খাওয়া হারাম। জবেহকারী মুসলিম হোক
    বা অমুসলিম।
    যা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে জবেহ করা হয়
    তা হারাম ঘোষণা করা হয়েছে:
    ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত
    জন্তু, রক্ত, শুকর মাংস, আল্লাহ ব্যতীত অপরের
    নামে জবেহকৃত পশু আর শ্বাস রোধে মৃত
    জন্তু,শৃংগাঘাতে মৃত জন্তু এবং হিংস্র
    পশুতে খাওয়া জন্তু ; তবে যা তোমরা জবেহ
    করতে পেরেছ তা ব্যতীত, আর যা মূর্তি পূজার
    বেদীর উপর বলি দেয়া হয় তা এবং জুয়ার তীর
    দ্বারা ভাগ্য নির্ণয় করা, এ সব হল পাপ-
    কার্য…। [৯] ইবনে কাসীর রহ. বলেছেন যা কিছু
    আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে জবেহ করা হয়
    তা যে হারাম এ ব্যাপারে মুসলিমদের ঐক্যমত
    প্রতিষ্ঠিত।
    ৪. যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে পশু
    জবেহ করে সে জাহান্নামে যাবে।
    সালমান রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : এক
    ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে একটি মাছির
    কারণে। অন্য এক ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ
    করবে একটি মাছির কারণে। এ কথা শুনার পর
    লোকেরা জিজ্ঞেস করল
    এটা কীভাবে হবে ? তিন বললেন : দু ব্যক্তি এক
    সম্প্রদায়ের কাছ দিয়ে যাচ্ছিল।
    সে সম্প্রদায়ের নিয়ম হল যে ব্যক্তি তাদের
    কাছ দিয়ে যাবে তাকে তাদের প্রতিমার
    উদ্দেশ্যে কিছু উৎসর্গ করতে হবে।
    সে সম্প্রদায়ের লোকেরা এ দুজনের
    একজনকে বলল : আমাদের এ প্রতিমার জন্য কিছু
    উৎসর্গ কর ! লোকটি উত্তর দিল আমার
    কাছে তো এমন কিছু নেই যা আমি এ প্রতিমার
    জন্য উৎসর্গ করতে পারি। তারা বলল
    একটি মাছি হলেও উৎসর্গ কর।
    সে একটি মাছি উৎসর্গ করল।
    তারা তাকে ছেড়ে দিল।
    ফলে সে জাহান্নামে যাবে।তারপর
    তারা দ্বিতীয় ব্যক্তিকে অনুরূপ কথা বলল।
    সে উত্তরে বলল আমি আল্লাহ ছাড়া অন্য
    কারো জন্য কিছু উৎসর্গ করি না।
    তারা তাকে হত্যা করল।
    ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করল। [১০]
    বর্ণিত এ হাদিস
    থেকে আমারা কয়েকটি শিক্ষা লাভ
    করতে পারি
    শিরক কত বড় মারাত্মক অপরাধ তা অনুধাবন
    করা যায়। যদি তা খুব সামান্য বিষয়েও হয়।
    যেমন আল্লাহ
    তাআলা বলেছেন : ‘যে আল্লাহর সাথে শরিক
    করবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত অবশ্যই
    নিষিদ্ধ করবেন এবং তার আবাস জাহান্নাম।
    জালেমদের জন্য কোন
    সাহায্যকারী নেই।’ [১১]
    যে লোকটি জাহান্নামে গেল সে কিন্তু উক্ত
    কাজ করতে ইচ্ছুক ছিল না। কিন্তু
    সে মুশরিকদের ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য
    কাজটি করেছিল।
    যে লোকটি জাহান্নামে গেল সে মুসলিম
    ছিল, কিন্তু সামান্য বিষয়ে শিরক করার
    কারণে জাহান্নামে গেল।
    তাওহীদ ও এখলাসের ফজিলত কত
    বেশি তা অনুধাবন করা যায়।
    যে লোকটি জান্নাতে প্রবেশ করল
    সে তাওহীদের জন্য নির্যাতন সহ্য করল, নিহত
    হল তবু শিরকের সাথে আপোশ করল না।
    ৫. কোরবানির অর্থ ও তার প্রচলন
    কোরবানি বলা হয় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের
    নৈকট্য অর্জন ও তার এবাদতের জন্য পশু জবেহ
    করা। আর আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু জবেহ
    করা তিন প্রকার হতে পারে :
    ১. হাদী ২. কোরবানি ৩. আকীকাহ
    তাই কোরবানি বলা হয় ঈদুল আজহার
    দিনগুলোতে নির্দিষ্ট প্রকারের গৃহপালিত পশু
    আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য জবেহ করা।
    ইসলামি শরিয়তে এটি এবাদত
    হিসেবে সিদ্ধ, যা কোরআন, হাদিস ও মুসলিম
    উম্মাহর ঐক্যমত দ্বারা প্রমাণিত। কোরআন
    মজীদে যেমন এসেছে : ‘তোমার প্রতিপালকের
    উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর ও পশু
    কোরবানি কর।’ [১২]
    ‘বল, আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার
    জীবন ও আমার মরণ জগৎসমূহের প্রতিপালক
    আল্লাহরই উদ্দেশ্যে। তার কোন শরিক নাই
    এবং আমি এর জন্য আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই
    প্রথম মুসলিম।’ [১৩]
    হাদিসে এসেছে : বারা ইবনে আযিব রা.
    থেকে বর্ণিত যে রাসূলুল্লাহ স. বলেছেন :
    যে ঈদের সালাতের পর কোরবানির পশু জবেহ
    করল তার কোরবানি পরিপূর্ণ হল ও
    সে মুসলিমদের আদর্শ সঠিকভাবে পালন করল।
    [১৪]
    আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত
    তিনি বলেন : আল্লাহর রাসূল স. নিজ
    হাতে দুটি সাদা কালো বর্ণের
    দুম্বা কোরবানি করেছেন। তিনি বিসমিল্লাহ
    ও আল্লাহু আকবর বলেছেন।
    তিনি পা দিয়ে দুটো কাঁধের পাশ
    চেপে রাখেন।[১৫] তবে বোখারিতে ‘সাদা-
    কালো’ শব্দের
    পূর্বে‘শিংওয়ালা’ কথাটি উল্লেখ আছে
    ৬. কোরবানির বিধান
    কোরবানির হুকুম কি ? ওয়াজিব না সুন্নত ? এ
    বিষয়ে ইমাম ও ফকীহদের মাঝে দুটো মত
    রয়েছে।
    প্রথম মত : কোরবানি ওয়াজিব। ইমাম
    আওযায়ী, ইমাম লাইস, ইমাম আবু হানীফা রহ.
    প্রমুখের মত এটাই। আর ইমাম মালেক ও ইমাম
    আহমদ রহ. থেকে একটি মত বর্ণিত
    আছে যে তারাও ওয়াজিব বলেছেন।
    দ্বিতীয় মত :
    কোরবানি সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ।
    এটা অধিকাংশ উলামাদের মত। এবং ইমাম
    মালেক ও শাফেয়ী রহ.-এর প্রসিদ্ধ মত। কিন্তু
    এ মতের প্রবক্তারা আবার বলেছেন : সামর্থ্য
    থাকা অবস্থায় কোরবানি পরিত্যাগ
    করা মাকরূহ। যদি কোন জনপদের
    লোকেরা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও
    সম্মিলিতভাবে কোরবানি পরিত্যাগ
    করে তবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হবে।
    কেননা, কোরবানি হল ইসলামের একটি শিয়ার
    বা মহান নিদর্শন। [১৬]
    যারা কোরবানি ওয়াজিব বলেন তাদের
    দলিল :
    (এক) আল্লাহ তাআলা নির্দেশ
    দিয়েছেন : ‘তোমার প্রতিপালকের
    উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর ও পশু
    কোরবানি কর।’ [১৭] আর আল্লাহ রাব্বুল
    আলামিনের নির্দেশ পালন ওয়াজিব
    হয়ে থাকে।
    (দুই) রাসূলে কারীম স.
    বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও
    কোরবানি করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহের
    ধারে না আসে।’[১৮]
    যারা কোরবানি পরিত্যাগ করে তাদের
    প্রতি এ হাদিস একটি সতর্ক-বাণী। তাই
    কোরবানি ওয়াজিব।
    (তিন) রাসূলে কারীম স. বলেছেন : হে মানব
    সকল ! প্রত্যেক পরিবারের দায়িত্ব হল
    প্রতি বছর কোরবানি দেয়া।
    [১৯] যারা কোরবানি সুন্নত বলেন তাদের
    দলিল :
    (এক) রাসূলুল্লাহ স. বলেছেন : ‘তোমাদের
    মাঝে যে কোরবানি করতে চায়, যিলহজ
    মাসের চাঁদ দেখার পর সে যেন
    কোরবানি সম্পন্ন করার আগে তার কোন চুল ও
    নখ না কাটে।’ [২০]
    এ হাদিসে রাসূল স.-
    এর ‘যে কোরবানি করতে চায়’ কথা দ্বারা বুঝে আসে এটা ওয়াজিব
    নয়।
    (দুই) রাসূল স. তার উম্মতের
    মাঝে যারা কোরবানি করেনি তাদের পক্ষ
    থেকে কোরবানি করেছেন। তার এ কাজ
    দ্বারা বুঝে নেয়া যায় যে কোরবানি ওয়াজিব
    নয়।
    শাইখ ইবনে উসাইমীন রহ. উভয় পক্ষের দলিল-
    প্রমাণ উল্লেখ করার পর বলেন: এ সকল দলিল-
    প্রমাণ পরস্পর বিরোধী নয় বরং একটা অন্যটার
    সম্পূরক। সারকথা হল
    যারা কোরবানিকে ওয়াজিব বলেছেন তাদের
    প্রমাণাদি অধিকতর শক্তিশালী। আর ইমাম
    ইবনে তাইমিয়ার মত এটাই।
    ৭. কোরবানির ফজিলত
    (ক) কোরবানি দাতা নবী ইবরাহিম আ. ও
    মুহাম্মদ সা.-এর আদর্শ বাস্তবায়ন
    করে থাকেন।
    (খ) পশুর রক্ত প্রবাহিত করার
    মাধ্যমে কোরবানি দাতা আল্লাহ রাব্বুল
    আলামিনের নৈকট্য অর্জন করেন। যেমন
    আল্লাহ তাআলা বলেন :—
    ‘আল্লাহর নিকট পৌঁছায় না তাদের গোশত
    এবং রক্ত, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।
    এভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের অধীন
    করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহর
    শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর এজন্য
    যে, তিনি তোমাদের পথ-প্রদর্শন
    করেছেন ; সুতরাং আপনি সুসংবাদ দিন
    সৎকর্মপরায়ণদেরকে।’ [২১]
    (গ) পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-
    প্রতিবেশী ও অভাবীদের আনন্দ দান। আর
    এটা অন্য এক ধরনের আনন্দ যা কোরবানির
    গোশতের পরিমাণ টাকা যদি আপনি তাদের
    সদকা দিতেন তাতে অর্জিত হত না।
    কোরবানি না করে তার পরিমাণ
    টাকা সদকা করে দিলে কোরবানি আদায়
    হবে না।
    ৮. কোরবানির শর্তাবলি
    (১) এমন পশু
    দ্বারা কোরবানি দিতে হবে যা শরিয়ত
    নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেগুলো হল
    উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া,দুম্বা। এ
    গুলোকে কোরআনের ভাষায়
    বলা হয় ‘বাহীমাতুল আনআম।’ যেমন এরশাদ
    হয়েছে :—
    ‘আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য কোরবানির
    নিয়ম
    করে দিয়েছি ; তিনি তাদেরকে জীবনোপকরণ
    স্বরূপ যে সকল চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছেন,সেগুলোর
    উপর যেন তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ
    করে।’[২২] হাদিসে এসেছে :—
    ‘তোমরা অবশ্যই নির্দিষ্ট বয়সের পশু
    কোরবানি করবে। তবে তা তোমাদের জন্য
    দুষ্কর হলে ছয় মাসের মেষ-শাবক
    কোরবানি করতে পার।’[২৩] আর আল্লাহর রাসূল
    সা.
    উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ছাড়া অন্য
    কোন জন্তু কোরবানি করেননি ও
    কোরবানি করতে বলেননি। তাই কোরবানি শুধু
    এগুলো দিয়েই করতে হবে।
    ইমাম মালিক রহ.-এর মতে কোরবানির জন্য
    সর্বোত্তম জন্তু হল শিংওয়ালা সাদা-
    কালো দুম্বা। কারণ রাসূলে কারীম সা. এ
    ধরনের দুম্বা কোরবানি করেছেন
    বলে বোখারি ও মুসলিমের হাদিসে এসেছে।
    উট ও গরু-মহিষে সাত
    ভাগে কোরবানি দেয়া যায়। যেমন
    হাদিসে এসেছে,‘আমরা হুদাইবিয়াতে রাসূলুল্লাহ
    স.-এর সাথে ছিলাম। তখন আমরা উট ও গরু
    দ্বারা সাত জনের পক্ষ
    থেকে কোরবানি দিয়েছি।’[২৪] গুণগত দিক
    দিয়ে উত্তম হল কোরবানির পশু হৃষ্টপুষ্ট, অধিক
    গোশত সম্পন্ন, নিখুঁত, দেখতে সুন্দর হওয়া।
    (২) শরিয়তের দৃষ্টিতে কোরবানির পশুর বয়সের
    দিকটা খেয়াল রাখা জরুরি। উট পাঁচ বছরের
    হতে হবে। গরু বা মহিষ দু বছরের হতে হবে।
    ছাগল, ভেড়া, দুম্বা হতে হবে এক বছর বয়সের।
    (৩) কোরবানির পশু যাবতীয় দোষ-ত্র“টি মুক্ত
    হতে হবে। যেমন হাদিসে এসেছে :—
    সাহাবি আল-বারা ইবনে আযেব রা.
    থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ
    স. আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন তারপর বললেন :
    চার ধরনের পশু, যা দিয়ে কোরবানি জায়েজ
    হবে না। অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে পরিপূর্ণ
    হবে না—অন্ধ ; যার অন্ধত্ব
    স্পষ্ট,রোগাক্রান্ত ; যার রোগ স্পষ্ট, পঙ্গু ; যার
    পঙ্গুত্ব স্পষ্ট এবং আহত ; যার কোন অংগ
    ভেংগে গেছে। নাসায়ির বর্ণনায়‘আহত’ শব্দের
    স্থলে ‘পাগল’ উল্লেখ আছে। [২৫] আবার পশুর
    এমন
    কতগুলো ত্রুটি আছে যা থাকলে কোরবানি আদায়
    হয় কিন্তু মাকরূহ হবে। এ সকল দোষত্র“টিযুক্ত
    পশু কোরবানি না করা ভাল।
    সে ত্র“টিগুলো হল শিং ভাংগা, কান
    কাটা, লেজ কাটা, ওলান কাটা,লিংগ
    কাটা ইত্যাদি।
    (৪) যে পশুটি কোরবানি করা হবে তার উপর
    কোরবানি দাতার পূর্ণ মালিকানা সত্ত্ব
    থাকতে হবে। বন্ধকি পশু, কর্জ করা পশু
    বা পথে পাওয়া পশু দ্বারা কোরবানি আদায়
    হবে না।
    ৯. কোরবানির নিয়মাবলি | কোরবানির পশু
    কোরবানির জন্য নির্দিষ্ট করা
    কোরবানির জন্য পশু পূর্বেই নির্ধারণ
    করতে হবে। এর জন্য নিম্নোক্ত দুটো পদ্ধতির
    একটি নেয়া যেতে পারে।
    (ক) মুখের উচ্চারণ দ্বারা নির্দিষ্ট
    করা যেতে পারে। এভাবে বলা যায় যে ‘এ
    পশুটি আমার কোরবানির জন্য নির্দিষ্ট
    করা হল।’ তবে ভবিষ্যৎ বাচক শব্দ
    দ্বারা নির্দিষ্ট হবে না। যেমন বলা হল
    —‘আমি এ পশুটি কোরবানির জন্য রেখে দেব।’
    (খ) কাজের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা যায় যেমন
    কোরবানির নিয়তে পশু ক্রয় করল
    অথবা কোরবানির নিয়তে জবেহ করল। যখন পশু
    কোরবানির জন্য নির্দিষ্ট করা হল তখন
    নিম্নোক্ত বিষয়াবলী কার্যকর হয়ে যাবে।
    প্রথমত : এ পশু কোরবানি ছাড়া অন্য কোন
    কাজে ব্যবহার করা যাবে না, দান
    করা যাবে না, বিক্রি করা যাবে না।
    তবে কোরবানি ভালভাবে আদায় করার জন্য
    তার চেয়ে উত্তম পশু দ্বারা পরিবর্তন
    করা যাবে।
    দ্বিতীয়ত : যদি পশুর মালিক ইন্তেকাল করেন
    তাহলে তার ওয়ারিশদের দায়িত্ব হল এ
    কোরবানি বাস্তবায়ন করা।
    তৃতীয়ত : এ পশুর থেকে কোন ধরনের উপকার
    ভোগ করা যাবে না। যেমন দুধ
    বিক্রি করতে পারবে না, কৃষিকাজে ব্যবহার
    করতে পারবে না, সওয়ারি হিসেবে ব্যবহার
    করা যাবে না, পশম বিক্রি করা যাবে না।
    যদি পশম
    আলাদা করে তাবে তা সদকা করে দিতে হবে,বা নিজের
    কোন কাজে ব্যবহার
    করতে পারবে, বিক্রি করে নয়।চতুর্থত :
    কোরবানি দাতার অবহেলা বা অযতেœর
    কারণে যদি পশুটি দোষযুক্ত
    হয়ে পড়ে বা চুরি হয়ে যায় অথবা হারিয়ে যায়
    তাহলে তার কর্তব্য হবে অনুরূপ বা তার
    চেয়ে ভাল একটি পশু ক্রয় করা।
    আর যদি অবহেলা বা অযতেœর কারণে দোষযুক্ত
    না হয়ে অন্য কারণে হয়, তাহলে দোষযুক্ত পশু
    কোরবানি করলে চলবে।
    যদি পশুটি হারিয়ে যায় অথবা চুরি হয়ে যায়
    আর কোরবানি দাতার উপর পূর্ব থেকেই
    কোরবানি ওয়াজিব
    হয়ে থাকে তাহলে সে কোরবানির দায়িত্ব
    থেকে অব্যাহতি লাভ করবে। আর যদি পূর্ব
    থেকে ওয়াজিব ছিল না কিন্তু সে কোরবানির
    নিয়তে পশু
    কিনে ফেলেছে তাহলে চুরি হয়ে গেলে বা মরে গেলে অথবা হারিয়ে গেলে তাকে আবার
    পশু কিনে কোরবানি করতে হবে।
    ১০ – কোরবানির ওয়াক্ত বা সময়
    কোরবানি নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সম্পর্কিত
    একটি এবাদত। এ সময়ের পূর্বে যেমন
    কোরবানি আদায় হবে না তেমনি পরে করলেও
    আদায় হবে না। অবশ্য কাজা হিসেবে আদায়
    করলে অন্য কথা।
    যারা ঈদের সালাত আদায় করবেন তাদের জন্য
    কোরবানির সময় শুরু হবে ঈদের সালাত আদায়
    করার পর থেকে। যদি ঈদের সালাত আদায়ের
    পূর্বে কোরবানির পশু জবেহ করা হয়
    তাহলে কোরবানি আদায় হবে না। যেমন
    হাদিসে এসেছে—
    আল-বারা ইবনে আযেব রা. থেকে বর্ণিত
    তিনি বলেন : আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ স.
    খুতবাতে বলেছেন : এ দিনটি আমরা শুরু করব
    সালাত দিয়ে। অত:পর সালাত
    থেকে ফিরে আমরা কোরবানি করব। যে এমন
    আমল করবে সে আমাদের আদর্শ
    সঠিকভাবে অনুসরণ করল। আর যে এর
    পূর্বে জবেহ করল সে তার পরিবারবর্গের জন্য
    গোশতের ব্যবস্থা করল। কোরবানির কিছু
    আদায় হল না। [২৬]
    সালাত শেষ হওয়ার সাথে সাথে কোরবানি পশু
    জবেহ না করে সালাতের খুতবা দুটি শেষ
    হওয়ার পর জবেহ করা ভাল। কেননা রাসূলুল্লাহ
    স. এ রকম করেছেন। হাদিসে এসেছে:
    সাহাবি জুনদাব ইবনে সুফিয়ান আল-
    বাজালী রা. বলেছেন : নবী কারীম স.
    কোরবানির দিন সালাত আদায় করলেন অত:পর
    খুতবা দিলেন তারপর পশু জবেহ করলেন। [২৭]
    জুনদাব ইবনে সুফিয়ান বলেন, আমি কোরবানির
    দিন নবী কারীম সা.-এর সাথে ছিলাম।
    তিনি বললেন, যে ব্যক্তি নামাজের
    পূর্বে জবেহ করেছে সে যেন আবার অন্য
    স্থানে জবেহ করে। আর যে জবেহ
    করেনি সে যেন জবেহ করে। [২৮]
    আর কোরবানির সময় শেষ হবে যিলহজ মাসের
    তেরো তারিখের সূর্যাস্তের সাথে সাথে।
    অতএব কোরবানির পশু জবেহ করার সময় হল চার
    দিন। যিলহজ মাসের দশ, এগারো, বার ও
    তেরো তারিখ। এটাই উলামায়ে কেরামের
    নিকট সর্বোত্তম মত হিসেবে প্রাধান্য
    পেয়েছে।কারণ : এক. আল্লাহ রাব্বুল আলামিন
    বলেন :—
    ‘যাতে তারা তাদের কল্যাণময়
    স্থানগুলোতে উপস্থিত
    হতে পারে এবং তিনি তাদের চতুষ্পদ জন্তু
    হতে যা রিজিক হিসেবে দান করেছেন তার
    উপর নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম
    উচ্চারণ করতে পারে।’ [২৯]
    এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম বোখারি রহ.
    বলেন : ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন: ‘এ
    আয়াতে নির্দিষ্ট দিনগুলো বলতে বুঝায়
    কোরবানির দিন ও তার পরবর্তী তিন
    দিন।’ [৩০]
    অতএব এ দিনগুলো আল্লাহ তাআলা কোরবানির
    পশু জবেহ করার জন্য নির্ধারণ করেছেন। দুই.
    রাসূলুল্লাহ স. বলেছেন :—
    ‘আইয়ামে তাশরীকের প্রতিদিন জবেহ
    করা যায়।’ [৩১]
    আইয়ামে তাশরীক বলতে কোরবানির
    পরবর্তী তিন দিনকে বুঝায়।
    তিন. কোরবানির পরবর্তী তিন দিনে সওম
    পালন জায়েজ নয়। এ দ্বারা বুঝে নেয়া যায়
    যে এ তিন দিনে কোরবানি করা যাবে।
    চার. রাসূলুল্লাহ স.
    বলেছেন : ‘আইয়ামে তাশরীক হল খাওয়া, পান
    করা ও আল্লাহর জিকির করার দিন।’

    দ্বারা বুঝে নিতে পারি যে, যে দিনগুলো আল্লাহ
    খাওয়ার জন্য নির্ধারণ করেছেন
    সে দিনগুলোতে কোরবানির পশু জবেহ
    করা যেতে পারে।
    পাঁচ. সাহাবায়ে কেরামের আমল
    দ্বারা প্রমাণিত হয়, কোরবানির
    পরবর্তী তিনদিন কোরবানির পশু জবেহ
    করা যায়।
    ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন :
    আলী ইবনে আবি তালেব রা.
    বলেছেন : ‘কোরবানির দিন হল ঈদুল আজহার
    দিন ও তার পরবর্তী তিন দিন।’ অধিকাংশ
    ইমাম ও আলেমদের এটাই মত।
    যারা বলেন, কোরবানির দিন হল মোট তিন
    দিন; যিলহজ মাসের দশ, এগারো ও বার
    তারিখ। এবং বার তারিখের পর জবেহ
    করলে কোরবানি হবে না, তাদের কথার
    সমর্থনে কোন প্রমাণ নেই ও মুসলিমদের ঐক্যমত
    (ইজমা) প্রতিষ্ঠিত হয়নি। [৩২]
    ১১ – মৃত ব্যক্তির পক্ষে কোরবানি
    মূলত কোরবানির প্রচলন জীবিত ব্যক্তিদের
    জন্য। যেমন আমরা দেখি রাসূলুল্লাহ স. ও তার
    সাহাবাগণ নিজেদের
    পক্ষে কোরবানি করেছেন। অনেকের
    ধারণা কোরবানি শুধু মৃত ব্যক্তিদের জন্য
    করা হবে। এ ধারণা মোটেই ঠিক নয়। তবে মৃত
    ব্যক্তিদের জন্য কোরবানি করা জায়েজ ও
    একটি সওয়াবের কাজ। কোরবানি একটি সদকা।
    আর মৃত ব্যক্তির নামে যেমন সদকা করা যায়
    তেমনি তার নামে কোরবানিও দেয়া যায়।
    যেমন মৃত ব্যক্তির জন্য সদকার
    বিষয়ে হাদিসে এসেছেঃ
    আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত : এক
    ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সা.-এর
    কাছে এসে জিজ্ঞেস করল—হে রাসূল ! আমার
    মা হঠাৎ ইন্তেকাল করেছেন।কোন অসিয়ত
    করে যেতে পারেননি। আমার মনে হয়
    তিনি কোন কথা বলতে পারলে অসিয়ত
    করে যেতেন। আমি যদি এখন তার পক্ষ
    থেকে সদকা করি তাতে কি তার সওয়াব
    হবে ? তিনি উত্তর দিলেন : হ্যাঁ। [৩৩]
    মৃত ব্যক্তির জন্য এ ধরনের সদকা ও কল্যাণমূলক
    কাজের যেমন যথেষ্ট প্রয়োজন ও তেমনি তাঁর
    জন্য উপকারী।
    এমনিভাবে একাধিক মৃত ব্যক্তির জন্য সওয়াব
    প্রেরণের
    উদ্দেশ্যে একটি কোরবানি করা জায়েজ আছে।
    অবশ্য যদি কোন কারণে মৃত ব্যক্তির জন্য
    কোরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকে তাহলে তার
    জন্য পূর্ণ একটি কোরবানি করতে হবে।
    অনেক সময় দেখা যায় ব্যক্তি নিজেকে বাদ
    দিয়ে মৃত ব্যক্তির জন্য কোরবানি করেন।
    এটা মোটেই ঠিক নয়। ভাল কাজ
    নিজেকে দিয়ে শুরু করতে হয় তারপর অন্যান্য
    জীবিত ও মৃত ব্যক্তির জন্য করা যেতে পারে।
    যেমন হাদিসে এসেছেঃ
    আয়েশা রা. ও আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত
    যে, রাসূলুল্লাহ স. যখন
    কোরবানি দিতে ইচ্ছা করলেন তখন
    দুটো দুম্বা ক্রয় করলেন। যা ছিল
    বড়, হৃষ্টপুষ্ট, শিংওয়ালা, সাদা-কালো বর্ণের
    এবং খাসি। একটি তিনি তার ঐ সকল উম্মতের
    জন্য কোরবানি করলেন ; যারা আল্লাহর
    একত্ববাদ ও তার রাসূলের রিসালাতের সাক্ষ্য
    দিয়েছে, অন্যটি তার নিজের ও পরিবার
    বর্গের জন্য কোরবানি করেছেন। [৩৪]
    মৃত ব্যক্তি যদি তার সম্পদ
    থেকে কোরবানি করার অসিয়ত করে যান
    তবে তার জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব
    হয়ে যাবে।
    ১২ – অংশীদারির ভিত্তিতে কোরবানি করা
    যাকে ‘ভাগে কোরবানি দেয়া’ বলা হয়।
    ভেড়া, দুম্বা, ছাগল দ্বারা এক
    ব্যক্তি একটা কোরবানি করতে পারবেন। আর
    উট, গরু, মহিষ দ্বারা সাত জনের
    নামে সাতটি কোরবানি করা যাবে।
    ইতিপূর্বে জাবের রা. কর্তৃক বর্ণিত হাদিস
    দ্বারা এটা প্রমাণিত হয়েছে।
    অংশীদারি ভিত্তিতে কোরবানি করার
    দুটি পদ্ধতি হতে পারে :
    (এক) সওয়াবের ক্ষেত্রে অংশীদার হওয়া। যেমন
    কয়েক জন মুসলিম মিলে একটি বকরি ক্রয় করল।
    অত:পর একজনকে ঐ বকরির মালিক
    বানিয়ে দিল। বকরির মালিক
    বকরিটি কোরবানি করল। যে কজন
    মিলে বকরি খরিদ করেছিল সকলে সওয়াবের
    অংশীদার হল।
    (দুই) মালিকানার অংশীদারির
    ভিত্তিতে কোরবানি। দু জন বা ততোধিক
    ব্যক্তি একটি বকরি কিনে সকলেই মালিকানার
    অংশীদার হিসেবে কোরবানি করল। এ
    অবস্থায় কোরবানি শুদ্ধ হবে না। অবশ্য উট, গরু
    ও মহিষের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি জায়েজ আছে।
    মনে রাখতে হবে কোরবানি হল একটি এবাদত ও
    আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য লাভের
    উপায়। তাই তা আদায়
    করতে হবে সময়,সংখ্যা ও পদ্ধতিগত দিক
    দিয়ে শরিয়ত অনুমোদিত নিয়মাবলি অনুসরণ
    করে। কোরবানির উদ্দেশ্য শুধু গোশত
    খাওয়া নয়, শুধু মানুষের উপকার করা নয় বা শুধু
    সদকা (দান) নয়। কোরবানির উদ্দেশ্য হল
    আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের একটি মহান
    নিদর্শন তার রাসূলের নির্দেশিত
    পদ্ধতিতে আদায় করা।
    তাই, আমরা দেখলাম কীভাবে রাসূলুল্লাহ সা.
    গোশতের বকরি ও কোরবানির বকরির
    মাঝে পার্থক্য নির্দেশ করলেন। তিনি বললেন
    যা সালাতের পূর্বে জবেহ হল তা বকরির
    গোশত আর যা সালাতের পরে জবেহ হল
    তা কোরবানির গোশত।
    ১৩ – কোরবানি দাতা যে সকল কাজ
    থেকে দূরে থাকবেন
    হাদিসে এসেছেঃ
    উম্মে সালামাহ রা. থেকে বর্ণিত
    যে রাসূলুল্লাহ স. বলেছেন : তোমাদের
    মাঝে যে কোরবানি করার ইচ্ছে করে সে যেন
    যিলহজ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে চুল ও নখ
    কাটা থেকে বিরত থাকে। ইমাম মুসলিম
    হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তার অন্য
    একটি বর্ণনায় আছে—‘সে যেন চুল ও
    চামড়া থেকে কোন কিছু স্পর্শ না করে। অন্য
    বর্ণনায় আছে ‘কোরবানির পশু জবেহ করার পূর্ব
    পর্যন্ত এ অবস্থায় থাকবে।’ [৩৫]
    কোরবানি দাতা চুল ও নখ না কাটার
    নির্দেশে কি হিকমত রয়েছে এ
    বিষয়ে উলামায়ে কেরাম অনেক কথা বলেছেন।
    অনেকে বলেছেন : কোরবানি দাতা হজ করার
    জন্য যারা এহরাম অবস্থায় রয়েছেন তাদের
    আমলে যেন শরিক হতে পারেন, তাদের
    সাথে একাত্মতা বজায় রাখতে পারেন।
    ইবনুল কায়্যিম রহ.
    বলেছেন : ‘কোরবানি দাতা চুল ও নখ বড়
    করে তা যেন পশু কোরবানি করার
    সাথে সাথে নিজের কিছু অংশ আল্লাহ রাব্বুল
    আলামিনের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য
    কোরবানি (ত্যাগ) করায় অভ্যস্ত হতে পারেন
    এজন্য এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’ [৩৬] যদি কেউ
    যিলহজ মাসের প্রথম দিকে কোরবানি করার
    ইচ্ছা না করে বরং কয়েকদিন অতিবাহিত
    হওয়ার পর কোরবানির নিয়ত করল
    সে কি করবে? সে নিয়ত করার পর
    থেকে কোরবানির পশু জবেহ পর্যন্ত চুল ও নখ
    কাটা থেকে বিরত থাকবে।
    ১৪ – কোরবানির পশু জবেহ করার নিয়মাবলি
    কোরবানি দাতা নিজের কোরবানির পশু
    নিজেই জবেহ
    করবেন, যদি তিনি ভালভাবে জবেহ
    করতে পারেন। কেননা রাসূলুল্লাহ সা.
    নিজে জবেহ করেছেন। আর জবেহ করা আল্লাহ
    তাআলার নৈকট্য অর্জনের একটি মাধ্যম। তাই
    প্রত্যেকের নিজের কোরবানি নিজে জবেহ
    করার চেষ্টা করা উচিত।
    ইমাম বোখারি রহ. বলেছেন : ‘সাহাবি আবু
    মুসা আশআরী রা. নিজের মেয়েদের নির্দেশ
    দিয়েছেন তারা যেন নিজ হাতে নিজেদের
    কোরবানির পশু জবেহ করেন।’ [৩৭] তার এ
    নির্দেশ দ্বারা প্রমাণিত হয়
    মেয়েরা কোরবানির পশু জবেহ করতে পারেন।
    তবে কোরবানি পশু জবেহ করার দায়িত্ব
    অন্যকে অর্পণ করা জায়েজ আছে। কেননা সহিহ
    মুসলিমের হাদিসে এসেছে রাসূলুল্লাহ সা.
    তেষট্টিটি কোরবানির পশু নিজ হাতে জবেহ
    করে বাকিগুলো জবেহ করার দায়িত্ব
    আলী রা.-কে অর্পণ করেছেন। [৩৮]
    জবেহ করার সময় যে সকল বিষয় লক্ষণীয়
    (১) যা জবেহ করা হবে তার সাথে সুন্দর আচরণ
    করতে হবে, তাকে আরাম দিতে হবে।
    যাতে সে কষ্ট না পায় সে দিকে লক্ষ
    রাখতে হবে।
    হাদিসে এসেছে ,সাহাবি শাদ্দাদ
    ইবনে আউস রা. থেকে বর্ণিত যে নবী কারীম
    স. বলেছেন : আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সকল
    বিষয়ে সকলের সাথে সুন্দর ও কল্যাণকর
    আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। অতএব
    তোমরা যখন হত্যা করবে তখন
    সুন্দরভাবে করবে আর যখন জবেহ করবে তখনও
    তা সুন্দরভাবে করবে। তোমাদের একজন যেন
    ছুরি ধারালো করে নেয় এবং যা জবেহ
    করা হবে তাকে যেন প্রশান্তি দেয়। [৩৯]
    (২) যদি উট জবেহ করতে হয় তবে তা নহর করবে।
    নহর হল উটটি তিন পায়ের উপর
    দাঁড়িয়ে থাকবে আর সম্মুখের বাম
    পা বাধা থাকবে। তার
    বুকে ছুরি চালানো হবে। কেননা আল্লাহ
    রাব্বুল আলামিন
    বলেছেন:‘সুতরাং সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান
    অবস্থায় তাদের উপর তোমরা আল্লাহর নাম
    উচ্চারণ কর।’ [৪০]
    ইবনে আব্বাস রা. বলেন : এর অর্থ হল তিন
    পায়ে দাঁড়িয়ে থাকবে আর সামনের বাম
    পা বাধা থাকবে। [৪১]
    উট ছাড়া অন্য জন্তু হলে তা তার বাম
    কাতে শোয়াবে। ডান হাত
    দিয়ে ছুরি চালাবে। বাম হাতে জন্তুর
    মাথা ধরে রাখবে। মোস্তাহাব হল
    জবেহকারী তার পা জন্তুটির ঘারে রাখবে।
    যেমন ইতিপূর্বে আনাস রা. বর্ণিত বোখারির
    হাদিসে আলোচনা করা হয়েছে।
    (৩) জবেহ করার সময় বিসমিল্লাহ বলতে হবে।
    কারণ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন : ‘যার
    উপর আল্লাহর নাম (বিসমিল্লাহ) উচ্চারণ
    করা হয়েছে তা থেকে তোমরা আহার
    কর।’[৪২] জবেহ করার সময় তাকবীর
    বলা মোস্তাহাব। যেমন হাদিসে এসেছে:—
    জাবের রা. থেকে বর্ণিত …
    একটি দুম্বা আনা হল। রাসূলুল্লাহ স. নিজ
    হাতে জবেহ করলেন এবং বললেন ‘বিসমিল্লাহ
    ওয়া আল্লাহু আকবর, হে আল্লাহ ! এটা আমার
    পক্ষ থেকে। এবং আমার উম্মতের
    মাঝে যারা কোরবানি করতে পারেনি তাদের
    পক্ষ থেকে।’[৪৩] অন্য হাদিসে এসেছে—
    রাসূলুল্লাহ সা. দুটি শিংওয়ালা ভেড়া জবেহ
    করলেন, তখন বিসমিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার
    বললেন। [৪৪] জবেহ করার সময় বিসমিল্লাহ
    আল্লাহু আকবর পাঠের পর— ﺍﻟﻠّﻬُﻢَّ ﻫَﺬَﺍ ﻣِﻨْﻚَ ﻭَﻟَﻚَ —
    (হে আল্লাহ এটা তোমার তরফ থেকে, তোমারই
    জন্য) বলা যেতে পারে। যার পক্ষ
    থেকে কোরবানি করা হচ্ছে তার নাম উল্লেখ
    করে দোয়া করা জায়েজ আছে। এ
    ভাবে বলা—‘হে আল্লাহ তুমি অমুকের পক্ষ
    থেকে কবুল করে নাও।’ যেমন
    হাদিসে এসেছে আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত
    যে, রাসূলুল্লাহ স. কোরবানির দুম্বা জবেহ
    করার সময় বললেন :—
    ‘ আল্লাহ নামে, হে আল্লাহ ! আপনি মোহাম্মদ
    ও তার পরিবার-পরিজন এবং তার উম্মতের পক্ষ
    থেকে কবুল করে নিন। ’ [৪৫]
    কোরবানির গোশত কারা খেতে পারবেন
    আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন :—
    ‘ অত:পর তোমরা উহা হতে আহার কর
    এবং দু:স্থ, অভাবগ্রস্থকে আহার
    করাও ।’[৪৬] রাসূলুল্লাহ স. কোরবানির গোশত
    সম্পর্কে বলেছেন :—
    ‘ তোমরা নিজেরা খাও ও অন্যকে আহার করাও
    এবং সংরক্ষণ কর ।’ [৪৭]
    ‘আহার করাও’ বাক্য দ্বারা অভাবগ্রস্থকে দান
    করা ও ধনীদের উপহার
    হিসেবে দেয়াকে বুঝায়। কতটুকু
    নিজেরা খাবে, কতটুকু দান করবে আর কতটুকু
    উপহার হিসেবে প্রদান করবে এর পরিমাণ
    সম্পর্কে কোরআনের আয়াত ও হাদিসে কিছু
    বলা হয়নি। তাই উলামায়ে কেরাম বলেছেন :
    কোরবানির গোশত তিন ভাগ করে একভাগ
    নিজেরা খাওয়া, এক ভাগ দরিদ্রদের দান
    করা ও এক ভাগ উপহার হিসেবে আত্মীয়-
    স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের দান
    করা মোস্তাহাব।
    কোরবানির গোশত যতদিন ইচ্ছা ততদিন
    সংরক্ষণ করে খাওয়া যাবে। ‘কোরবানির
    গোশত তিন দিনের বেশি সংরক্ষণ
    করা যাবে না’—বলে যে হাদিস রয়েছে তার
    হুকুম রহিত হয়ে গেছে। তাই যতদিন
    ইচ্ছা ততদিন সংরক্ষণ করে রাখা যায়।
    তবে ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. এ
    বিষয়ে একটা সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
    তিনি বলেছেন : সংরক্ষণ নিষেধ হওয়ার কারণ
    হল দুর্ভিক্ষ।দুর্ভিক্ষের সময় তিন দিনের
    বেশি কোরবানির গোশত সংরক্ষণ করা জায়েজ
    হবে না। তখন ‘সংরক্ষণ নিষেধ’ সম্পর্কিত
    হাদিস অনুযায়ী আমল করতে হবে। আর
    যদি দুর্ভিক্ষ না থাকে তবে যতদিন
    ইচ্ছা কোরবানি দাতা কোরবানির গোশত
    সংরক্ষণ করে খেতে পারেন। তখন‘সংরক্ষণ
    নিষেধ রহিত হওয়া’ সম্পর্কিত হাদিস
    অনুযায়ী আমল করা হবে।
    কোরবানির পশুর গোশত, চামড়া, চর্বি বা অন্য
    কোন কিছু বিক্রি করা জায়েজ নয়। কসাই
    বা অন্য কাউকে পারিশ্রমিক
    হিসেবে কোরবানির গোশত দেয়া জায়েজ নয়।
    হাদিসে এসেছে :—
    ‘তার প্রস্তুত করণে তার থেকে কিছু
    দেয়া হবে না।’ [৪৮]
    তবে দান বা উপহার হিসেবে কসাইকে কিছু
    দিলে তা না-জায়েজ হবে না।
    ১৫ – আইয়ামুত-তাশরীক ও তার করণীয়
    আইয়ামুত-তাশরীক বলা হয় কোরবানির
    পরবর্তী তিন দিনকে। অর্থাৎ যিলহজ মাসের
    এগারো, বারো ও তেরো তারিখকে আইয়ামুত-
    তাশরীক বলা হয়। তাশরীক শব্দের অর্থ
    শুকানো। মানুষ এ দিনগুলোতে গোশত
    শুকাতে দিয়ে থাকে বলে এ দিনগুলোর
    নাম‘আইয়ামুত-তাশরীক’ বা ‘গোশত শুকানোর
    দিন’ নামে নামকরণ করা হয়েছে।
    আইয়ামুত তাশরীক এর ফজিলত
    এ দিনগুলোর ফজিলত সম্পর্কে যে সকল বিষয়
    এসেছে তা নীচে আলোচনা করা হল :—
    (১) এ দিনগুলো এবাদত-বন্দেগি, আল্লাহ রাব্বুল
    আলামিনের জিকির ও তার শুকরিয়া আদায়ের
    দিন। আল্লাহ তাআলা বলেন :—
    ‘তোমরা নির্দিষ্ট
    দিনগুলোতে আল্লাহকে স্মরণ করবে।’ [৪৯]
    এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম বোখারি রহ.
    বলেন :—
    ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন
    —‘নির্দিষ্ট দিনগুলো বলতে আইয়ামুত-
    তাশরীককে বুঝানো হয়েছে।’ [৫০]
    ইমাম কুরতুবী রহ. বলেন : ইবনে আব্বাসের এ
    ব্যাখ্যা গ্রহণে কারো কোন দ্বি-মত নেই।
    [৫১] আর মূলত এ দিনগুলো হজের
    মওসুমে মিনাতে অবস্থানের দিন।
    কেননা হাদিসে এসেছে—
    মিনায় অবস্থানের দিন হল তিন দিন।
    যদি কেউ তাড়াতাড়ি করে দু
    দিনে চলে আসে তবে তার কোন পাপ নেই। আর
    যদি কেউ বিলম্ব করে তবে তারও কোন পাপ
    নেই।[৫২] হাদিসে এসেছে—
    নাবীশা হাজালী থেকে বর্ণিত
    যে রাসূলে কারীম স. বলেছেন : ‘আইয়ামুত-
    তাশরীক হল খাওয়া-দাওয়া ও আল্লাহ রাব্বুল
    আলামিনের জিকিরের দিন।’[৫২]
    ইমাম ইবনে রজব রহ. এ হাদিসের ব্যাখ্যায়
    চমৎকার কথা বলেছেন। তিনি বলেন :
    আইয়ামুত-তাশরীক এমন কতগুলো দিন
    যাতে ঈমানদারদের দেহের নেয়ামত ও
    স্বাচ্ছন্দ্য এবং মনের নেয়ামত তথা স্বাচ্ছন্দ্য
    একত্র করা হয়েছে। খাওয়া- দাওয়া হল দেহের
    খোরাক আর আল্লাহর জিকির ও শুকরিয়া হল
    হৃদয়ের খোরাক। আর এভাবেই নেয়ামতের
    পূর্ণতা লাভ করল এ দিনসমূহে। [৫৪]
    (২) আইয়ামুত-তাশরীকের দিনগুলো ঈদের দিন
    হিসেবে গণ্য। যেমন হাদিসে এসেছে—
    ‘সাহাবি উকবাহ ইবনে আমের রা.
    থেকে বর্ণিত যে রাসূলে কারীম স. বলেছেন:
    আরাফাহ দিবস, কোরবানির দিন ও মিনার
    দিন সমূহ (কোরবানি পরবর্তী তিন দিন)
    আমাদের ইসলাম অনুসারীদের ঈদের দিন।’ [৫৫]
    (৩) এ দিনসমূহ যিলহজ মাসের প্রথম দশকের
    সাথে লাগানো। যে দশক খুবই ফজিলতপূর্ণ।
    তাই এ

    Reply
  55. mujahidul islam

    আপনি যে দয়া পশুদের প্রতি দেখাচ্ছেন, সে দয়া যদি একজন মানুষ অপর মানুষের প্রতি দেখাত তাহলে তো বিশ্বে এমনিতেই শান্তি চলে আসত। পশুহত্যা পাপ মনে করা হচ্ছে, অথচ হাজার হাজার শিশু ও নারীকে সারা বিশ্বের যুধ্যমান রাষ্ট্রগুলোতে মেরে ফেলা হচ্ছে, তার জন্য তো আপনার মায়াকান্না নেই!!!

    এটা কেন???

    Reply
    • Nazrul Masud

      Hazar hazar shishu hotta kora holo hazar hazar manush hotta kora holo Israel e tokhon keu kicchu bollo na , poshu korbani korlei dosh. KFC Khao ki vabe Shalara? World e shob chaite beshi Goru kata hoy USA te only burger bananor jonno, sheta jane na ei shala? Bodmaishi korar jayga pai na na?

      Reply
  56. Sabbir

    ঈদুল আজহার পশু কোরবানি আনন্দের জন্য নয়, এটা ত্যাগ– কোরবানির হাদিস দেখুন।

    Reply
  57. Khorshed Alam

    প্রাণ কি শুধু পশুকুলের আছে? উদ্ভিদের নেই? পশুর প্রতি মায়া হল, উদ্ভিদের প্রতি হল না!

    Reply
  58. Qazi

    মি. এবার্টকে খুব সিম্পল একটা কোয়েশ্চেন জিজ্ঞেস করতে চাই–

    আপনি কি জানেন গাছেরও প্রাণ আছে? অনুভূতি আছে? আমি নিশ্চিত আপনি জানেন। আর না জানলে প্রাথমিক থেকে আপনার শিক্ষা শুরু করতে হবে।

    সৃষ্টিকর্তা আপনাকে প্রাণ দিয়েছেন, জীবনযাপনের পথ দেখিয়েছেন। আপনার লেখা পড়ে মনে হল আপনি বিশ্বাসী নন, তাহলে বিশ্বাসীদের এই উপদেশ কীভাবে দেবেন? তাই আগে ঈশ্বরে আস্থা রাখুন।

    ধন্যবাদ।

    Reply
  59. s u amed

    Plants are also living creature, but with out knowing we ate them a lot, lets give it up. It’s lot better not to kill any life form , specially lower species whose cries can’t reach our auditory system ,because of our limited range of hearing. May God forgive us for ruthless killing of so many life form, who are comparable to our disabled brothers and sisters.

    Reply
  60. বাংলাদেশি বাঙ্গালি

    আল্লাহর হুকুমে কুরবানি চলছে। কুরবানি চলবে। আল্লাহতালা কুরআন মাজিদে ইরশাদ করেন–

    ‘‘আপনি বলে দিন, আমার প্রতিপালক আমাকে পরিচালিত করেছেন সরল পথের দিকে, এক বিশুদ্ধ দ্বীনের দিকে। অর্থাৎ একনিষ্ঠ ইবরাহিমের মিল্লাত (তরিকা), আর তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। আপনি বলুন, নিঃসন্দেহে আমার সালাত, আমার নুসুক এবং আমার জীবন এবং আমার মৃত্যু– সমস্ত জগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তাঁর কোনো শরিক নেই। আর ওই বিষয়েই আমাকে আদেশ করা হয়েছে। সুতরাং আমি হলাম আত্মসমর্পণকারীদের প্রথম।’’

    সুরা আনআম, আয়াত ১৬১-১৬৩

    সুরা কাওসারে আল্লাহতালা বলেন–

    ‘‘নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি। অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশে নামায পড়ুন এবং কোরবানি করুন। যে আপনার শত্রু, সেই তো লেজকাটা, নির্বংশ।’’

    পশ্চিমারা কেএফসি-তে খাইলে কোনো উচ্চবাচ্য নাই, যত দোষ কুরবানির!

    পশ্চিমাদের দালালরা ধ্বংস হোক।

    Reply
  61. হানিফ

    যুদ্ধের বেলায় মানুষ মরে, সে ব্যাপারে চুপচাপ কেন আপনারা?

    আর বৈজ্ঞানিকভাবে দেখলে, এটি বাস্তুসংস্থানের একটি উদাহরণ।

    Reply
    • তপু

      ঠিক আছে, কিন্তু উৎসব করে প্রাণিহত্যা কেন? প্রয়োজনে খাবেন, হত্যা করবেন। সেটা কি একটি নির্দিষ্ট দিনে সবাই মিলে উৎসব করে হত্যা করার মাধ্যমেই করতে হবে!!!

      Reply
      • রানা আজাদ

        এটা উৎসব না এটা আমাদের ধর্মীয় রীতি, যা হাজার বছর ধরে চলে আসছে। কোরবানি করাটা এক জন মুসলিমের জন্য (যার সামর্থ্য আছে) ওয়াজিব। বিভিন্ন উৎসবে আপনি চিকেন খেতে পারেন এতে সমস্যা নেই, আর গরু বা খাশি আমরা আমাদের ধর্মীয় রীতি পালনে কোরবানি করছি এতেই যত সমস্যা?

        আপানর কথা ধরে নিয়ে উৎসবে প্রনি হত্যা নাই বা করলাম , শসা, লাউ, কুমড়া খেলাম, কিন্তু এদের জীবন কি বৃথা ? এদেরও জীবন আছে, এদেরও অনুভুতি বোধ আছে, বলুন এখন কি করা যায়?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—