Feature Img

SHEIKH HASINAবাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সংগ্রাম করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের ইতিহাস আর স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে, বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা, বাঙালি জাতিকে স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে বিশ্বসভায় আত্মপরিচয়ের সুযোগ করে দেওয়া, বাঙালির মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভিষিক্ত করাসহ বাঙালির যা কিছু প্রাপ্তি, যা কিছু গৌরবের, তার সবই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে একটি শক্তিশালী ও গণমুখী সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলেন। বাংলাদেশের সকল জেলা, মহকুমা থেকে শুরু করে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে চারণের বেশে ঘুরে বেড়ান। নিজের চোখে দেখেন সাধারণ মানুষের দুঃখ, বেদনা, বঞ্চনা, তাদের উপর ঘটে যাওয়া অন্যায়-অবিচার। তাদের দুঃখ-দুর্দশার অবসান ঘটাবার জন্য তিনি দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেন।

তিনি উপলব্ধি করেন যে, একটি শক্তিশালী সংগঠন ছাড়া সাধারণ মানুষের মুক্তি অর্জন সম্ভব নয়। তাই তিনি সংগঠনকে শক্তিশালী করতে অধিক মনোযোগ দেন। এই সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে শাসক শ্রেণির সকল অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। আন্দোলন গড়ে তোলেন। ফলে বারবার তিনি মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হন ও তাঁকে কারাবরণ করতে হয়। এমনকি জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ের কথা বলতে গিয়ে তাঁকে অনেকবার মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়। তাঁকে ফাঁসি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মিথ্যে মামলার আসামিও করা হয়েছে।

কিন্তু তিনি তাঁর নীতিতে ছিলেন হিমালয়ের মতো অটল-অবিচল। সকল হুমকির বিরুদ্ধে তিনি বাঙালির ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। তাঁর প্রাণপ্রিয় আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মীও জেল-জুলুম-অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীনতা অর্জন ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে আমরা এক ঐতিহাসিক ঘটনার অদ্ভুত সম্মিলন দেখতে পাই। এই সংগঠন যেন প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল এক ঐতিহাসিক দায় পরিশোধ করে বাঙালির আজীবন লালিত আকাঙ্ক্ষা বাস্তবে রূপ দিতে। আমরা পিছনে ফিরলে বা ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখব, ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে বাংলার শেষ নবাব সিরাজদ্দৌলা যুদ্ধে পরাজিত হন আর এই পরাজয় হয়েছিল তাঁরই প্রধান সেনাপতি মীর জাফরের বেঈমানির কারণে। সেই পরাজয়ের মাধ্যমে বিদেশি শক্তির কাছে দেশের স্বাধীনতা-সূর্য অস্তমিত হয়।

তার প্রায় দু’শ বছর পরে, ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে প্রতিষ্ঠা লাভ করে একটি গণমুখী সংগঠন, ‘ইস্ট পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’। আওয়ামী মুসলিম লীগ ১৯৫৩ সালের সম্মেলনে নাম সংশোধন করে আওয়ামী লীগ নাম ধারণ করে যাতে সকল ধর্ম ও মতের মানুষ এই সংগঠনকে নিজের করে নিতে পারে, আরও শক্তিশালী করতে পারে।

আওয়ামী লীগ সংগঠনকে সাধারণ মানুষ গ্রহণ করে তাদের মুক্তির দূত হিসেবে। তেইশ বছরের নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম এবং নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। আজকের জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ ছিল পাকিস্তান নামের দেশটির একটি প্রদেশ, যার ভৌগলিক দুরত্ব ছিল বারোশ মাইল। ভাষা, সংস্কৃতি, সামাজিক রীতি-নীতি, চালচলন, পোশাক-পরিচ্ছদ, খাদ্যাভ্যাস কোনো কিছুতেই কোনো মিল ছিল না। কেবল ধর্ম ছাড়া অভিন্ন আর কোনো উপাদানই ছিল না।

পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রে বাঙালিরা ছিল সংখ্যায় বেশি কিন্তু শোষণ করত সংখ্যালঘুরা। সরকারি চাকরি, সামরিক বা অসামরিক কোনো জায়গায় কোনো ভালো অবস্থানে বাঙালির সুযোগ ছিল না। ক্ষুধা, দারিদ্র আর বঞ্চনা নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়াই ছিল যেন বাঙালির নিয়তি। প্রতিটি ক্ষেত্রে চরম অবহেলা আর অপমানের মধ্য দিয়ে জীবন ধারণ করতে হত। বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ অর্জন করত পূর্ববাংলা, অথচ তা ব্যবহারের অধিকার বাঙালিদের ছিল না।

এমনকি মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকারটুকু পর্যন্ত কেড়ে নিতে চেয়েছিল পাকিস্তানি শাসকদল। ১৯৪৮ সালে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদার লড়াই শুরু। ২ মার্চ ফজলুল হক হলের ছাত্রসভায় সেদিনের ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রস্তাবে গঠিত হয় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। ১১ মার্চ ভাষা দিবস পালন থেকে সংগ্রামের শুরু করে বাঙালিরা। বঙ্গবন্ধুসহ ছাত্র-যুবনেতাদের গ্রেফতার করা হয়। শুরু হয় পাকিস্তানিদের অত্যাচার-নির্যাতন, পুলিশি জুলুম, মামলা দায়ের। ভাষা সংগ্রাম পরিষদ আন্দোলন চালিয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু আবারও কারাগারে বন্দি হন।

১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ভাষার জন্য সংগ্রাম অব্যাহত রাখে। ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষার মর্যাদার জন্য কর্মপরিষদ গঠন করা হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, সফিকসহ অনেকে শাহাদাত বরণ করেন। শুধুমাত্র মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার আদায়ের জন্য বাঙালির এই আত্মত্যাগ পৃথিবীর ইতিহাসে এক নজিরবিহীন গৌরবালেখ্য।

১৯৫৩ সালে ৬ ফেব্রুয়ারি ইস্ট পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের কার্যকরী পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়– ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস হিসেবে পালন করা হবে। সেই মোতাবেক দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান ১০ ফেব্রুয়ারি সমগ্র জেলায় চিঠি দিয়ে নির্দেশ প্রেরণ করেন।

কর্মসূচিগুলি হল–

১. হরতাল, ২. শোভাযাত্রা, ৩. জনসভা, ৪. কালো পতাকা উত্তোলন, ৫. কালো ব্যাজ ধারণ।

আওয়ামী লীগ সংগঠন ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস হিসেবে পালন করতে গিয়ে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হয়। তারপরও সফলতার সঙ্গে দিবসটি পালিত হয়, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। সেদিনের সেই সাহসী সিদ্ধান্তের পথ ধরেই আজ সারাদেশের দলমতনির্বিশেষে প্রত্যেক বাঙালি ২১ ফ্রেব্রুয়ারি শহীদ দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। আজ জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বব্যাপী তা যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।

১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয়, যেখানে আওয়ামী লীগই ছিল সারাদেশে বিস্তৃত মূল সংগঠন। ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করে যুক্তফ্রন্ট জয়ী হয়। এ কে ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর যৌথ নেতৃত্বে বঞ্চিত মানুষ শোষণমুক্তির সুযোগ পায়। দুর্ভাগ্য হল, কেন্দ্রের মুসলিম লীগ সরকার এ পরিবর্তন মেনে নিতে পারেনি। শুরু হয় প্রাসাদ ষড়যন্ত্র। জরুরি অবস্থা জারি করে ৯২ ক ধারা দিয়ে কেন্দ্রীয় শাসন চালু করে এবং বঙ্গবন্ধুসহ সকল নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে। ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ আবারও অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করে।

১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর আইয়ুব খান মার্শাল ল’ জারি করে আবার সকল নেতাকে গ্রেফতার করে। একাধারে সেনাপ্রধান, আবার রাষ্ট্রপতির পদ নিয়ে মিলিটারি ডিকটেটরের শাসন শুরু হয়। ১৯৫৭ সালে মওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ ভেঙে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠন করেছিলেন। রাজনৈতিকভাবে এটি ছিল দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি পদক্ষেপ আর এই দুর্বলতার সুযোগেই সামরিক শাসন আসার সুযোগ পায়।

বঙ্গবন্ধু ১৯৫৮ সালের ১২ অক্টোবর গ্রেফতার হন। ১৯৬০ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পান, তবে তাঁর চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সমগ্র ছাত্রসমাজ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আইয়ুব খান আরবি ও রোমান হরফে বাংলা লেখার প্রবর্তন করার পদক্ষেপ নেন। ১৯৫৮ সালে মার্শাল ল’ জারি করার পর সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ১৯৬৪ সালে আইয়ুব সরকারের চক্রান্তে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা হয়। বঙ্গবন্ধু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সহকর্মীদের সহযোগিতায় দাঙ্গা প্রতিরোধ করেন। ১৯৬৪ সালের ২৫ জানুয়ারি তিনি আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করেন।

আওয়ামী লীগ সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য বঙ্গবন্ধু সারাদেশে ব্যাপক সফর শুরু করেন। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয়। সেই যুদ্ধের সময় বাংলাদেশ থাকে সম্পূর্ণ অরক্ষিত। পূর্ব পাকিস্তান আদৌ পাকিস্তানের অংশ কিনা সেটাই সন্দেহ ছিল। কারণ বাংলাদেশের জনগণের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ব্যবস্থাই পাকিস্তানি সরকার গ্রহণ করেনি। সম্পূর্ণ অরক্ষিত ছিল এই অঞ্চলের অসহায় বঙ্গসন্তানরা।

১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু বাংলার মানুষের মুক্তি সনদ ৬ দফা দাবি পেশ করেন। ছয়দফা ছিল এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি। এই দাবি দেওয়ার ফলে ১৯৬৬ সালেই বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। বন্দি থাকা অবস্থায়ই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে। ওই বছরেরই জুলাই মাসে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায়’ ফাঁসি দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়, যা বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেয়নি।

১৯৬৬ সালের ৭ জুন বন্দিমুক্তি ও ৬ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে সমগ্র বাংলাদেশে হরতাল পালিত হয়। গুলিতে শ্রমিক-জনতা জীবন দেয়। সেই অবস্থায় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দিয়ে ক্যান্টনমেন্টের ভিতরেই কোর্ট বসিয়ে ৩৫ আসামিসহ বঙ্গবন্ধুর বিচার শুরু হলে এদেশের ছাত্র-জনতা গর্জে ওঠে। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গড়ে ওঠে।

ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা ও ৬ দফা সামনে নিয়ে আন্দোলন এগিয়ে চলে। বঙ্গবন্ধুসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও বন্দিদের মুক্তির দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয় তা পরিণত হয় গণঅভ্যুত্থানে। আইয়ূব সরকার বাধ্য হয় বঙ্গবন্ধুকে সকল আসামিসহ মুক্তি দিতে। এর আগে সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি বন্দি অবস্থায় হত্যা করা হয়েছিল।

১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু মুক্তি পান। আইয়ূব খানের পতন ঘটে। আরেক মিলিটারি ডিকটেটর ক্ষমতায় আসেন, তার নাম ইয়াহিয়া খান। ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমগ্র পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বাঙাললি কোনো নেতা বা দল পাকিস্তানের শাসনভার হাতে নেবে তা ওই শাসকগোষ্ঠী মেনে নিতে পারেনি। তাই ক্ষমতা হস্তান্তর না করে নানাভাবে সময়ক্ষেপণ শুরু করে।

বঙ্গবন্ধু সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। যে আন্দোলনে সমগ্র বাঙালি জাতি অভূতপূর্ব সাড়া দেয়। সরকারি, বেসরকারি বাঙালি কর্মকর্তা-কর্মচারি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ছাত্র-শিক্ষক থেকে শুরু করে কৃষক-শ্রমিকসহ সকল স্তরের জনগণ একই নির্দেশে চলতে শুরু করে।

ধানমণ্ডির ৩২ নং সড়কের বাড়িটা হয়ে ওঠে সর্বস্তরের মানুষের গন্তব্যস্থান। সেখান থেকে সমগ্র বাংলাদেশে নির্দেশ দেওয়া হত। ৩২ নম্বর থেকে যে নির্দেশ যেত, মানুষ অক্ষরে অক্ষরে তা পালন করতেন। ১ মার্চ থেকেই পাকিস্তানি শাসকদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়। কার্যত তাদের শাসন ভেঙে পড়ে।

আন্তর্জাতিক পত্রপত্রিকা ৩২ নং সড়কের বাড়িটাকে লন্ডনের ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটের সঙ্গে তুলনা করে প্রতিবেদন ছাপায়। দৈনিক আজাদ পত্রিকা ১৯৭১ এর ১৪ মার্চ “৭ কোটি বাঙালি যেখান থেকে নির্দেশ গ্রহণ করে” শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলে, “…..বাংলার শাসনক্ষমতা এখন আর সামরিক কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারে নেই বরং ৭ কোটি মানুষের ভালোবাসার শক্তিতে ধানমণ্ডির ৩২ নং সড়ক এখন বাংলার শাসনক্ষমতার একমাত্র উৎস হইয়া পড়িয়াছে।”

৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে ঘোষণা দেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” এই বক্তব্যের মাধ্যমেই তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

২৫ মার্চ হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির উপর আক্রমণ চালায়। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষনা দেন এবং শেষ শত্রু বিতাড়িত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবার নির্দেশ দেন। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানি কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং দেশদ্রোহী হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়।

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে সরকার গঠন করেন। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরে আম্রকাননে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার শপথ গ্রহণ করেন। স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তমিত সূর্য উদিত হয় সেই জায়গায় যার খুব কাছেই দুশ’ বছর আগে তা অস্তমিত হয়েছিল।

দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ করে মিত্রশক্তি ভারত ও অন্যান্য বন্ধুপ্রতিম দেশ, জনগণ, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সহায়তায় বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয়। যে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সেই ময়দানেই আত্মসমর্পণ করে। ইয়াহিয়া খানের পতন হয়।

১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বিশ্বনেতৃত্বের প্রবল চাপে পাকিস্তানের নতুন সরকার বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা ফিরে আসেন তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে এবং রেসকোর্স ময়দানেই তিনি ভাষণ দেন। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে কীভাবে গড়ে তুলবেন তার দিকনির্দেশনা ও নীতিমালা ঘোষণা দেন। লাখো শহীদ ও নির্যাতিতা মা-বোনদের আত্মত্যাগের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বন্ধুপ্রতিম দেশ ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

বঙ্গবন্ধু মাত্র নয় মাসের মধ্যে জাতিকে সংবিধান উপহার দেন। সেই সংবিধান মোতাবেক ১৯৭৩ সালে সাধারণ নির্বাচন দেন। সেই সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শুরু করেন।

যুদ্ধের ধ্বংসস্তুপ থেকে দেশ যখন নতুনভাবে গড়ে উঠছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে, সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে বাংলাদেশ যখন উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে পা বাড়িয়েছে, তখনই নেমে আসে অমানিশার অন্ধকার। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়। ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তি দেশের গণতন্ত্র হত্যা করে, অর্থনৈতিক অগ্রগতির চাকা থামিয়ে দেয়। হত্যা-ক্যু-ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়।

স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের গৌরবময় ইতিহাস মুছে ফেলা হয়। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় ১৯৭১ এর পরাজিত শক্তির দোসররা যা জাতির জন্য লজ্জাজনক অধ্যায়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে দিয়ে তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পুনর্বাসন করা হয়। অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করে দেশে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা করে তারা।

১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসতে দলটিকে দীর্ঘ একুশ বছর সংগ্রাম করতে হয়েছে। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত চড়াই-উৎরাই পার হয়ে বন্ধুর পথ অতিক্রম করে আওয়ামী লীগ দেশের জনগণের সেবা করার সুযোগ পায়।

বাংলাদেশের মানুষ উপলব্ধি করে, সরকার জনগণের সেবক, সরকারের একমাত্র কাজ জনগণের কল্যাণ। আশাহত, বেদনাক্লিষ্ট, শোষিত মানুষরা নতুনভাবে সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। গৌরবময় বিজয়ের ইতিহাস জানতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শানিত হয়ে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে থাকে। অর্থনৈতিক উন্নতি, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতিচর্চা দেশকে আবার গৌরবময় অধ্যায়ের পথে এগিয়ে নিতে থাকে।

কিন্তু, দুর্ভাগ্য পিছু ছাড়ে না বাঙালির। ২০০১ সালে ১ অক্টোবরের নির্বাচন আবার কালো মেঘে ঢেকে দেয় স্বপ্নের রূপালী আকাশ। হত্যা, নারী ধর্ষণ, জ্বালাও পোড়াও, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি, দুঃশাসন, স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ দেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যেতে থাকে। ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা করতে বিএনপি-জামায়াত গং মরিয়া হয়ে ওঠে।

লাখো শহীদের রক্তে ভেজা পতাকা স্বাধীনতা শত্রুদের গাড়িতে, যুদ্ধাপরাধীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, যারা ১৯৭১ সালে মা-বোনকে ধর্ষণ করেছে, বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে, স্বাধীনতার বিরুদ্ধাচারণ করেছে, তারাই হয়ে যায় দেশের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা। হাওয়া ভবন, অর্থপাচার, অস্ত্র চোরাচালান, ড্রাগ-ট্রাফিকিং, এমন কোনো অপকর্ম নেই এরা করেনি। দেশের মানুষ জিম্মি হয়ে যায় এদের হাতে।

এদের অপকর্মের ফসল সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও জরুরি অবস্থা জারি। পাঁচ বছর বিএনপি সরকারের জুলুম-নির্যাতন, দুই বছর ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দীনদের জরুরি অবস্থায় দেশের মানুষ দমবন্ধ অবস্থায় দিন যাপন করে।

অবশেষে ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পায়। পাঁচ বছরে অতীতের সকল জঞ্জাল পরিস্কার করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্বসভায় উজ্জল করে। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি ও উন্নয়নের পথে দেশ অগ্রসর হতে থাকে। মানুষ ফিরে পায় রাজনৈতিক অধিকার। সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা গণতন্ত্রকে সুসংহত করে। উন্নয়নের ছোঁয়া প্রত্যন্ত গ্রামের হতদরিদ্র মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে থাকে।

পাঁচ বছরে দেশ এগিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচারের রায় কার্যকর করা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। বিচারের রায় কার্যকর করা হচ্ছে। জাতি কলঙ্কমুক্তির সুযোগ পাচ্ছে।

৫ জানুয়ারি, ২০১৪ এর নির্বাচনে পুনরায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উন্নয়নের গতি চলমান রাখার সুযোগ পেয়েছে। দেশবাসীর কাছে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করার এ সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যেই উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। বাংলাদেশের মানুষ অনেক কষ্ট করেছে, ত্যাগ স্বীকার করেছে। আমি নিশ্চিন্তভাবেই বিশ্বাস করি, তাদের দুঃখের দিনের অবসান ঘটবেই। বিশ্বসভায় বাঙালি জাতি উন্নত জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে সম্মানের সঙ্গে চলবে। এটাই ছিল জাতির পিতার আকাঙ্ক্ষা, যা আমরা বাস্তবায়ন করব ইনশাল্লাহ্।

অহিংস অসহযোগ আন্দোলন আর সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের অভূতপূর্ব সমন্বয়ে আমাদের স্বাধীনতা অর্জন। এই দুই রাজনৈতিক কৌশলের সমন্বয়, মিশ্রণ ও বিজয় অর্জন পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা যা সম্ভব করেছে গণমানুষের দল– আওয়ামী লীগ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংগঠনের নিবেদিত বিশাল কর্মীবাহিনীর দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগই এই অসম্ভবকে সম্ভব করতে পেরেছে।

পঁয়ষট্টি বছরের এই সংগঠন সঠিক নেতৃত্ব ও ত্যাগী কর্মীবাহিনী এবং জনসমর্থন পেয়েছে বলেই গৌরবের সঙ্গে শত ষড়যন্ত্র, বাধা অতিক্রম করে বিজয় অর্জন করেছে, স্বাধীনতা এনেছে, পৃথিবীর বিপ্লবের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আগামীতেও বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে, বাঙালিলী জাতি উন্নত জাতি হিসেবে এগিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্যাগী কর্মীদের প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাই। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত ও ত্যাগ-তিতীক্ষার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ যা কিছু অর্জন করেছে তা কেবল সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ ত্যাগী কর্মীদের দ্বারাই, সুসংগঠিত এই সংগঠনের মাধ্যমে। তাদের প্রতি জানাই আমার সংগ্রামী সালাম। বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা সমুন্নত করে রাখার দায়িত্ব আমাদের। লাখো কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে আমরাই পেরেছি বিশ্বরেকর্ড গড়তে। আওয়ামী লীগই পারবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তুলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন পূরণ করতে।

আওয়ামী লীগই পারে, আওয়ামী লীগই পারবে, ইনশাল্লাহ্।

জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

শেখ হাসিনা: প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং সভানেত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

শেখ হাসিনাগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী

১৩ Responses -- “আওয়ামী লীগই পারে, আওয়ামী লীগই পারবে”

  1. মোঃ মজিবর রহমান

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

    দেশ সোনার বাংলা করা খুব কঠিন কাজ নয়। আপনার সুচিন্তিত কাজ আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
    দেশে কারিগরি প্রতিষ্ঠান গুলোর মাধ্যমে বিদেশগামী আমজনতাকে কারিগরি প্রশিক্ষনের মাধ্যমে পাঠানোর সুব্যবস্থা করুন। লেবার হিসেবে না পাঠিয়ে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে পাঠানোর কাজ সহজ। দেশের জেলাগুলতে যে কারিগরি প্রতিস্থান আছে সেগুলকে স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষনের ব্যাবস্থা করুন।
    পাশে থাকা খন্দকার মুশ্তাকের মত ব্যাক্তি চিনতে ভুল করবেন না দয়া করে।

    Reply
  2. Nazrul Islam

    সালাম। আপনার চলার পথে জয়ের মতো তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিন আপনার উপদেষ্টা হিসেবে। বিজ্ঞানভিত্তিক ও কারিগরি শিক্ষা চালু করুন, বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন করে। পৃথিবীটা অনেক সামনে এগিয়ে গেছে, যাচ্ছে এবং যাবে।

    আমাদের দেশে পরিশ্রমী জনবল আছে। তাদের জন্য কাগজের সার্টিফিকেট নয়, কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করুন স্কুল পর্যায় থেকে, প্রশ্ন ফাঁসের মহড়া নির্মূল করুন শক্ত হাতে। তাহলে তারা সারা পৃথিবীর সম্পদ হতে পারবে। হাতের কাছেই অন্য দেশের উদাহরণ আছে, এক দশকই যথেষ্ট দেশকে বদলে দেবার জন্য।

    জনগণ পরিবর্তন চায়, ক্ষমতার নয়। উন্নয়নের। আপনি পারবেন। সঙ্গে আছি আপামর জনতা।

    Reply
  3. Mukto Manush

    সম্মানিত প্রধানমন্ত্রী,

    আমি মনে করি, আপনি ঠিক পথেই আছেন। আপনার পদক্ষেপ, সিদ্ধান্ত ঠিক আছে সবই। তবে আপনার কিছু কলিগ ঠিক পথে নেই। ওই কালপ্রিটদের ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিন। আর আপনার গতি ঠিক রাখুন।

    জাতিকে যত্নের সঙ্গে নেতৃত্ব দিতে পারলে জনগণ আপনার বিরুদ্ধে কখনও দাঁড়াবে না।

    ধন্যবাদ।

    Reply
  4. কাজী মাহবুব হাসান

    বাংলাদেশকে সুন্দর করে গড়ে তোলা কঠিন কাজ নয়, কারণ দেশের অধিকাংশ মানুষও তাই চায়।

    সমস্যাটা প্রথমত রাজনৈতিক সদিচ্ছা। সংকীর্ণ স্বার্থ থেকে দেশের স্বার্থে অনেক বড় একটি চরিত্র হিসেবে আবির্ভূত হতে হবে।

    তরুন প্রজন্মকে বেছে নিন আপনার উপদেষ্টা হিসেবে। বিজ্ঞানভিত্তিক ও কারিগরি শিক্ষা চালু করুন বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন করে। পৃথিবীটা অনেক সামনে এগিয়ে গেছে।

    আমাদের দেশে পরিশ্রমী জনবল আছে। তাদের জন্য কাগজের সার্টিফিকেট নয়, কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করুন স্কুল পর্যায় থেকে, তাহলে তারা সারা পৃথিবীর সম্পদ হতে পারবে। হাতের কাছেই অন্য দেশের উদাহরণ আছে, এক দশকই যথেষ্ট দেশকে বদলে দেবার জন্য।

    শুভকামনা…

    Reply
  5. hasan sardar

    বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কাছে মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব করলে দেখা যায়, বার বার দেশের মানুষ প্রতারিত হয়েছে। যেখানে মানুষ শোষণ-বৈষম্যহীন সমাজ নির্মাণের স্বপ্ন দেখে সশস্ত্র লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছিল, সেখানে মানুষের সেই স্বপ্ন কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে বা আদৌ যে কোনো দিন হবে এর লক্ষণ আওয়ামী লীগের মধ্যে মানুষ খুঁজে পায় না।

    তাই গণমানুষের ভাষা বুঝে মতামতে গুরুত্ব দিয়ে যদি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়, তবেই হয়তো আওয়ামী লীগ মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবে।

    Reply
  6. মোহাম্মদ ইসমাইল

    মাননীয় নেত্রী,

    বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কলামের মাধ্যমে আপনার বক্তব্য পড়তে পেরে এবং মন্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়ে নিজেকে সত্যিকারভাবে খুবই ভাগ্যবান মনে করছি।

    বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দেশ স্বাধীন করেছে, প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ, শিক্ষকদের চাকরি সরকারি করেছে, যুদ্ধবিদ্ধস্ত অর্থনীতি রক্ষার্থে বাস্তব পদক্ষেপ নিয়েছে, জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনে শরিক হয়েছে, বঙ্গবন্ধু বুকের রক্ত দিয়ে রেখে গেছেন শোষণমুক্তির প্রতিশ্রুতি এবং কর্মসূচি।

    আপনার সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ কৃষি-শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে বিপুল অগ্রগতি অর্জন করেছে, খাদ্যে স্বংসম্পূর্ণতা, শিক্ষার হার বৃদ্ধি, দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা, আধুনিক প্রযুক্তি সহজলভ্য করে ইন্টারনেট-মোবাইলের ব্যাপক ব্যবহার আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট।

    বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার কার্যকর, খুন-ধর্ষণ-লুট-অগ্নিসংযোগের দায়ে একাত্তরের দালালদের যথাযথ বিচারের কাজটিও বাস্তবে দৃশ্যমান!

    অবকাঠামো নির্মাণের কাজটিও থেমে নেই, জিডিপি বাড়ছে!

    এত কিছুর পরেও কেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মাঠপর্যায়ে বার বার জনসমর্থন ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে?

    আমার মতে দলীয় কর্মীদের আপনি সকল সাধারণ জনগণের সঙ্গেই পাইলট প্রজেক্টের মাধ্যমে ২ বছর মেয়াদী কর্মসংস্থানের সুযোগ দিচ্ছেন, কর্মসংস্থান ব্যাংক করে দিয়েছেন, সহজে বিদেশে পাঠাচ্ছেন– তবুও কেন চাঁদাবাজির দুর্নাম? কেন কৃষিপণ্যবাহী ট্রাক দ্রুত এবং টোলমুক্তভাবে শহরে পৌঁছে না? কেন কৃষক ন্যায্যমূল্য পায় না? কেন শহরের রাস্তা এবং ফুটপাত দখল করে চলে দোকান-অবৈধ পার্কিং আর তাতে নিরীহ পথচারী হাঁটতে পারে না সহজে? আর সৃষ্টি হয় যানজট?

    শহরের কোটি কোটি কর্মজীবী জনগণকে যদি যানজট থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি দেওয়া যায় তাহলে বেঁচে যাওয়া সময়ে আরও কাজ করে তারা নিজেদের এবং জাতীয় আয় বাড়াতে অবদান রাখবে, পাশাপাশি ক্রয়ক্ষমতা বাড়িয়ে প্রান্তিক কৃষকদেরও অধিকতর পণ্যমূল্য দিতে পারবে– এভাবে জাতীয় আয় আরও দ্রুত বাড়তে পারে– আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জনগণের সঙ্গে আরও বেশি বেশি সম্পৃক্ত হয়ে জনহয়রানি ও বিশৃঙ্খলা রোধ করতে এগিয়ে আসতে পারেন।

    কারণ আপনার সঙ্গে আমরা সম্পূর্ণ একমত যে ‘আওয়ামী লীগই পারবে’।

    Reply
  7. সফি আহমেদ

    শেখ হাসিনার সঙ্গে আমি একমত পোষণ করছি। হ্যাঁ, আওয়ামী লীগ পেরেছে এবং পারবে। ইতিবাচক অর্থে আওয়ামী লীগের পক্ষে পারা সম্ভব। তার আগে আপনাকে দলীয় প্রধান হিসেবে আওয়ামী লীগের না পারার কারণটি গভীরভাবে ভাবতে হবে। সেই ১৯৬২-১৯৭১ এর নিউক্লিয়াস সময়ের অনেক আগেই কক্ষচ্যূৎ হয়ে গেছে। জাতির জন্য দুর্ভাগ্য।

    আওয়ামী লীগ সত্যিকার অর্থেই একটি মহীরুহ। বাঙালি জাতির জন্য একটি বটগাছ। সেই ১৯৬২-১৯৭১ এ-এই গাছের শাখা-প্রশাখায় ছিল সবুজ সতেজ প্রাণবন্ত। গাছটিও আপন গতিতে মেলে ধরছিল তার মহানুবতা। জাতিও স্বার্থকভাবে অর্জন করেছিল স্বাধীনতা।

    দুর্ভাগ্য হলেও সত্য, আজ সেই শাখা-প্রশাখায় ঘুণপোকার বাসভূমি– অনেক অগাছা-পরগাছার নিবাস, এরা শিকড়ে অবধি বসে যাচ্ছে, অচিরেই এই মহীরুহকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে। একদিনে হয়নি। শুরুটা সেই একাত্তরের সিক্সটিন ডিভিশন থেকে। এখন আর সিক্সটিন ডিভিশনে নেই, ২০১৪ সালে এসে হয়ে গেছে চৌষট্টি ডিভিশনে। অর্থাৎ ষোল কলা থেকে সর্বনাশের চৌষট্টি কলাতে নিয়ে যাচ্ছে কিছু পরজীবী শ্রেণি।

    আওয়ামী লীগের শাখায় উত পেতে অথবা মগডালে বসে থাকা এই সব ভ্যাম্পায়ার চিহ্নিত করতে হবে।
    এসব পরজীবীর সংখ্যা খুব একটা বেশি নয়। এইসব রক্তচোষা প্রজাতি তথা মুশতাক ভাইরাস বঙ্গবন্ধুর আমলে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেনি বিধায় স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করতে পারেনি। চেষ্টা করেনি তা নয়। কিন্তু ওসব ভাইরাসের জন্য সর্বদা পার্টিতে ছিল উপযুক্ত অ্যান্টি-ভাইরাস। তারপরও শেষরক্ষা হয়নি বলে মুশতাক গং একটি দুর্বল মুহূর্তের সুযোগে সর্বনাশ করে গেছে।

    ভাবতে হবে শেখ হাসিনাকে, দলের সভাপতি হিসেবেই। শেখ হাসিনা সৌভাগ্যবতী এক অর্থে। কারণ বঙ্গবন্ধুর মতো সম্পূর্ণ অন্ধকারের মধ্যে থেকে একটি অসম্ভব শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করে বিজয় ছিনিয়ে আনতে হচ্ছে না। আজকের তথ্যপ্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতার মাঝে উনার পক্ষে চিহিত করা সম্ভব সেই সব ভাইরাস যা জাতির জন্য অকল্যাণকর। বঙ্গবন্ধু অন্ধকারে হাতড়িয়ে ঠিক দিশা বের করেছেন জাতির জন্য। হাসিনা যদি এত হাই-পাওয়ার আলোতে না পারেন, বলব– এখন সময় এসেছে উপযুক্ত হাতে ছেড়ে দিতে।

    আর যদি পিতার আদর্শবতী সন্তান হয়ে থাকেন তবে সব ধরনের ইমোশন অথবা চাটুকারিতার উর্ধ্বে থেকে একবার প্রমাণ করুন, আওয়ামী লীগই পারে সব ইতিবাচক কিছু করতে। কেউ পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে নেত্রীর দোয়া নিয়ে জনগণকে ধোঁকা দিল, এমন যেন না হয়।

    সম্পূর্ণ বামপন্থী রাজনীতির আদর্শে বলীয়ান হয়েও পাকিস্তানের জন্ম নেওয়া পাকিস্তানি আদর্শ ফুৎকারে উড়িয়ে পাক সার জমিন সাদ বাদ জাতীয় সঙ্গীতকে কবর দিয়ে যে গানের কোরাস ধরেছিলাম, তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা– কার ডাকে? এই আওয়ামী লীগের ডাকে। বাংলা গানের সুর একসময় আমার হতেই ইংরেজি GUN হয়ে গর্জন তুলেছিল।

    এখনকার প্রজন্ম আরও সতেজ, আরও বলীয়ান। তাই বলছিলাম আওয়ামী লীগ পারবে যদি হাসিনা পারেন। প্রধানমন্ত্রী না পারলেও আওয়ামী লীগের সভাপতি পারবেন।

    অবশেষে আমার কৈফিয়ত, কেন নেত্রীকে নেতা বলা উচিত–

    শব্দের ব্যুৎপত্তি অর্থে প্রধানমন্ত্রী-প্রেসিডেনট যেমন কোনো লিঙ্গান্তর হয় না তেমনি দলীয় প্রধান, তিনি নারী কিংবা পুরুষ অথবা তৃতীয় লিঙ্গই হোন, আওয়ামী লীগ প্রধান হাসিনাকে সম্মানের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতি বলে উল্লেখ করেছি।

    Reply
    • আব্দুস সবুর

      “এখনকার প্রজন্ম আরও সতেজ, আরও বলীয়ান। তাই বলছিলাম আওয়ামী লীগ পারবে যদি হাসিনা পারেন। প্রধানমন্ত্রী না পারলেও আওয়ামী লীগের সভাপতি পারবেন।”

      তরুন প্রজন্মকে ভুল বোঝানোর সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে, যার প্রমাণ প্রাথমিকভাবে সাড়া জাগাতে পারলেও জামায়াত-বিএনপি শেষ পর্যায়ে এসে তরুণ প্রজন্মকে তাদের পক্ষে মাঠে নামাতে ব্যর্থ হয়েছে।

      কিন্তু সংকট এখনও আছে, বিশেষ করে স্বল্পশিক্ষিতদের মধ্যে প্রচুর বিভ্রান্তি রয়েছে। আর এজন্যই জনসচেতনতা বৃদ্ধির কাজে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সক্রিয় করা জরুরি। এতে কমে আসতে পারে জনজীবনে ছড়িয়ে থাকা জনহয়রানি, যেমন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, পথচারীদের কষ্ট, যানজট, কৃষকের ন্যায্যমূল্য পাওয়া, শহরবাসীর উচিত মূল্যে ত্রুটিমুক্ত ভোগ্যপণ্য পাওয়া।

      এখানে একটা বিষয় লক্ষ্যণীয়, দুর্নীতি বা চাঁদাবাজি মূলত সনাতন পদ্ধতিতে চলে, অথচ জুড়ে দেওয়া হয় ছাত্রলীগ-যুবলীগের নাম। একটু সতর্ক এবং সচেতন হলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা এসব থেকে নিজেদের দূরে রাখতে পারে শুধু নয়, এসব বন্ধ করতে কাজও করতে পারে।

      কারণ ‘আওয়ামী লীগই পারে’ কথাটির সঙ্গে আমি শতভাগ একমত।

      Reply
  8. Jamal Uddin

    গত মার্চে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পর বিশ্ব ব্যাংকের পরিদর্শকদের একটি বিশেষ টিম কিছু শহর প্রদক্ষিণ করে বলেছিলেন, ওগুলোকে দেখতে ভুতুড়ে নগরী মনে হয়। এরপর থেকে যুদ্ধ শেষ হওয়া পর্যন্ত এহেন ধ্বংসলীলার ক্ষান্তি নেই। ৬০ লাখ ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ২৪ লাখ কৃষক পরিবারের কাছে জমি চাষের মতো গরু বা উপকরণও নেই। পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পুল-কালভার্টের চিহ্নও নেই এবং অভ্যন্তরীন নৌ-যোগাযোগেও অনেক বাধাবিঘ্ন।

    এক মাস আগে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণ পর্যন্ত দেশের ওপর নির্বিচার বলাৎকার চলেছে। যুদ্ধের শেষদিকে পাকিস্তানি মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো (কার্যত প্রতিটি ব্যবসা ক্ষেত্রই পাকিস্তানিদের দখলে ছিল) তাদের সব অর্থ-সম্পদ পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার করে দেয়। যুদ্ধ শেষে চট্টগ্রামে পাকিস্তান বিমানের অ্যাকাউন্টে মাত্র ১১৭ রুপি জমা পাওয়া গিয়েছিল। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ব্যাংক নোট ও কয়েনগুলো ধ্বংস করে দেয়। ফলে সাধারণ মানুষ নগদ টাকার প্রকট সংকটে পড়ে।

    রাস্তা থেকে প্রাইভেটকা রগুলো তুলে নেওয়া হয়, গাড়ির ডিলারদের কাছে থাকা গাড়িগুলো নিয়ে নেওয়া হয় এবং এগুলো নৌবন্দর বন্ধ হওয়ার আগমুহূর্তে পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার করে দেওয়া হয়।

    শেখ মুজিবুর রহমান: বন্দি থেকে বাদশা/টাইম সাময়িকী, USA, ১৭ জানুয়ারি, ১৯৭২

    Reply
  9. Jamal Uddin

    বাহাত্তরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মুজিব ফিরে এলে দেশবাসী এক অনন্য সংবর্ধনার মাধ্যমে তাকে বরণ করে নেয়। ইতিহাসে এর আগে আর বোধ হয় কোনো নেতা এত বিশাল সংবর্ধনায় সিক্ত হননি। সংবর্ধনার সঙ্গে সঙ্গে মুজিব এমন এক রাষ্ট্রের দায়িত্ব পান, যে রাষ্ট্রের কেবল একটা কাঠামোই অবশিষ্ট ছিল, এর বেশি আর কিছু নয়। পৃথিবীর সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর একটি, সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ।

    প্রশাসন বলে কিছু নেই, শিল্পকারখানাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে, সমুদ্র ও বিমান বন্দরগুলো ব্যবহার অনুপযোগী, রেললাইন উপড়ে গেছে, দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবী ও দক্ষ পেশাজীবীদের প্রায় সকলে নিহত।
    অর্থনীতির তলানি বলতে যা কিছু ছিল তাও ‘৭৩ এর খরা ও ‘৭৪ বন্যায় শেষ হয়ে যায়।

    তাঁর প্রশংসনীয় উদ্যোগ–

    স্বাধীনতার পরের তিন বছরে ৬০০০ হাজারেরও বেশি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। সহিংসতা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার আশংকা তৈরি হলে মুজিব রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। চরম বাম ও চরম ডানপন্থী সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ করা হয়, পত্রিকাগুলোকে নিয়ে আসা হয় সরকারি নিয়ন্ত্রণে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়।

    এ উদ্যোগগুলো বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে গৃহীত হলেও অনেকেই সমালোচনামুখর হয়ে উঠেন। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে মুজিব তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলেন–

    ‘ভুলে যেও না আমি মাত্র তিন বছর সময় পেয়েছি। এই সময়ের মধ্যে তোমরা কোনো দৈব পরিবর্তন আশা করতে পার না।’

    যদিও শেষ সময়ে তিনি নিজেই হতাশ ও বিরক্ত হয়ে কোনো দৈব পরিবর্তন ঘটানোর জন্য অধৈর্য হয়ে পড়েছিলেন।

    সন্দেহাতীতভাবেই মুজিবের উদ্দেশ্য ছিল তাঁর দেশ ও দেশের মানুষের উন্নয়ন ঘটানো। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মুজিব একটা ‘সোনার বাংলা’ গড়তে চেয়েছিলেন যে, ‘সোনার বাংলা’র উপমা তিনি পেয়েছিলেন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছ থেকে, ভালোবেসে মুজিব সেই ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্নকে তাঁর দেশের জাতীয় সঙ্গীত নির্বাচন করেছিলেন।

    মুজিব। স্থপতির মৃত্যু, Time Magizine, USA, আগস্ট ২৫, ১৯৭৫

    Reply
  10. খান সাহেব

    আপা, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও দেশের উন্নয়নের জন্য আওয়ামী লীগের বিকল্প কোন রাজনৈতিক দল এইদেশে এখনও জন্ম নেয়নি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনাই আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল। জাতির পিতার কন্যা হওয়ায় আপনাকে আমরা আমাদের আত্মার আত্মীয়ই গণ্য করি এবং এই চিন্তাধারা থেকে কিছুটা অধিকারবোধ জন্ম নেওয়া বোধকরি অন্যায় নয়।

    আওয়ামী লীগ সৃষ্টিলগ্ন থেকেই বিভিন্ন চড়াই-উৎরাই মোকাবেলা করা সংগ্রামী সংগঠন। শত্রুকে পরাহত করার সুকৌশল আওয়ামী লীগের চাইতে ভালো জানে না কোনো সংগঠনই। প্রকাশ্য শত্রুদল বারবার পরাজিত হলেও খন্দকার মোশতাকের অনুসারীরা জন্ম নিচ্ছে আজও। খন্দকার মোশতাকের অনুসারীদের মোকাবেলা করা আজ সংগঠনের জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি বলে অনুভব করছি। স্বাধীনতাবিরোধী, আওয়ামী লীগবিরোধী অনেক কুলাঙ্গারই লুকিয়ে আছে দলের অভ্যন্তরে, যারা সুযোগ পেলেই আওয়ামী লীগের কপালে কলঙ্ক লেপন করতে মরিয়া হয়ে ওঠে আর চপোটাঘাত খেলে নগ্ন রূপ প্রকাশ করে ঠিক গোলাম মাওলা রনির মতো। দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা এই সমস্ত শত্রুদের চিহ্নিত করার সময় এসেছে। এরা দল এবং দেশের জন্য ক্ষতিকর ও অত্যন্ত বিপদজনক। আমরা আর কোনো ১৫ আগস্ট চাই না, আওয়ামী লীগের দূর্নাম শুনতে চাই না।

    বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে এগিয়ে চলুন সব প্রতিকূলতা জয় করে, আমরা আছি আপনার পাশেই।

    জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

    Reply
  11. volon

    আওয়ামী লীগ আমাদের আশা, আমাদের ত্রাণকর্তা, আমাদের ভিশন।

    জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

    Reply
  12. R. Masud

    বঙ্গবন্ধু যেহেতু জাতির পিতা, সেই হিসেবে, শেখ হাসিনা আমার কাছে দিদি।

    সেই হিসেবেই বলছি, দিদি তোমার সব চেষ্টাই বৃথা যাবে যদি তোমার দলের দুষ্টুগুলোকে কন্ট্রোল না করতে পার। বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে পার করে দিতে চাইলে ছোট্ট একটা ব্যাপারও মহামারীর আকার ধারণ করতে পারে। কথায় বলে না, এক মণ দুধে এক ফোঁটা চনা দিলেই তা অখাদ্য হয়ে যায়!

    অতীতে কোনো ভালো কাজ করেছে বলে তার বিনিময়ে আজকের খারাপ কাজ মাফ করে দিতে হবে সেই হিসাবটা ভুল। তাহলে তা হবে অসভ্য যুগে যেমন ভালো কাজ করার জন্য রাজারা একজন মানুষের সাত খুন পর্যন্ত মাফ করে দিত সেই যুগ টেনে আনা। এই যুগে তা চলে না, দিদি।

    সৎ একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তোমার পরিপূরক অন্তত এখন পাওয়া যাবে না বাংলাদেশে। তাই চাইছি, তুমি তোমার উপযুক্ত উত্তরসূরী বানানোর দিকে একটু মনোযোগ দেবে! অবশ্যই আমি তোমার ছেলে জয়কে করার কথা বলছি না। কারণ জয় তোমার উত্তরসূরী হতে চাইলে তা তাকে নিজের গুণেই জয় করে দখল করতে হবে।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—