Feature Img

Hasina-fসাব জেল ১০ জুন ২০০৮

সামনে সবুজ মাঠ। সংসদ ভবন এলাকার গাছে গাছে সবুজের সমারোহ। এই সবুজেরও কত বাহার। সামনে একটা শ্বেত করবী গাছ; পাতা গাঢ় সবুজ। বৃষ্টিতে ভিজে যায় গাছের পাতা। কখনও বা হাওয়ায় পাতাদের ঝিরি ঝিরি শব্দ শুনি। গণভবনের সেই পাখিদের কথা মনে পড়ে যায়। তারাও এখানে উড়ে উড়ে আসে। অনেক কথা মনে পড়ে, অনেক স্মৃতি ভেসে আসে। নিঃসঙ্গ কারাগারে এই স্মৃতি এখন আমার সঙ্গী।

বারান্দায় দাঁড়ালেই দৃষ্টি চলে যায় সবুজ মাঠ পেরিয়ে রাস্তায়। রাস্তা দিয়ে অনবরত ছুটে চলেছে গাড়ি। কত মানুষ হেঁটে যাচ্ছে। খুব সকালে অনেক গাড়ি থাকে। যারা প্রাতঃ ভ্রমণ করতে আসে তাদের গাড়ির ভিড়।

রাস্তা পার হলেই গণভবন। চোখের দৃষ্টি প্রসারিত করলেই রাস্তার ওপারে ঘন গাছের সারি। অনেক উঁচু লম্বা গাছ। গাছের ফাঁকে ফাঁকে নারকেল গাছ। আর নারকেল গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে গণভবন। যেন উঁকি মারছে। রাতের বেলা গাছের পাতায় আলোর ঝিলিমিলি। ভোর বেলা শালিক পাখিরা আসতো। ক্যাচক্যাচানি পাখিরাও আসে। একটা বানর ছিল হৃষ্টপুষ্ট। সে রোজ আসত আমার কাছে। কখনও সকাল দশটা এগারোটা, কখনও দুপুর আড়াইটায়। কলা ও অন্যান্য ফল খেতে দিতাম। একবার জ্বর হওয়ায় আমি খেতে দিতে পারিনি। কারারক্ষী মেয়েদের হাতে খেতে চাইল না। তখন একটা পেপে গাছে উঠে পেপে খেয়ে কারারক্ষী মেয়েদের ভেংচি কেটে চলে গেল। ফজরের নামাজ পড়ে বারান্দায় বসে কোরআন শরীফ পড়তাম। তারপর পায়চারি করতাম। একটা বাতাবি লেবুর গাছ ছিল, সেখানে বসে পাখিরা খুব চেঁচামেচি করতো। আমি দেখে বলতাম, ওরাও আন্দোলনে নেমেছে। ওদের দাবি মানতে হবে। ওদের খাবার দিতে হবে। খাবার দিতাম ওরা খেয়ে চলে যেত।

আমি মাঠের এপারে কারাগারে বন্দি। সংসদের একটা বাড়িকে সাবজেল করা হয়েছে। আমি এপারে কারাগার ভবনে আর ওপারেই গণভবন। গণভবনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাঁচ বছর ছিলাম, ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত। ছিলাম গণভবনে এখন আছি কারাগার ভবনে। ছিলাম ক্ষমতায় প্রধানমন্ত্রী আর এখন আসামি। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ? অভিযোগ হল চাঁদাবাজি।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাকি চাঁদাবাজি করেছিলাম। দশ বছর পর আবিষ্কার করা হল। মাঝখানে ২০০১-থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় ছিল। আমার বিরুদ্ধে অনেক মামলা দিয়েছে কিন্তু চাঁদাবাজির মামলা দিতে পারে নাই। মামলাবাজ জোট সরকার থেকেও বড় আবিষ্কারক তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করার জন্য আমিই আন্দোলন করেছিলাম। আটষট্টি জন মানুষ জীবন দিয়েছে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসী ও পুলিশ বাহিনীর হাতে। আমাদের আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল একটা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। যে নির্বাচনে জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে। চারদলীয় জোটের ভোট কারচুপির নীলনকশা প্রতিহত করার জন্যই আন্দোলন করেছিলাম। জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষা করে গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে চেয়েছিলাম। নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও জবাবাদিহিতা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম।

ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু জনগণ হবে। প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। কে ক্ষমতায় থাকবে কে থাকবেনা তারাই নির্ধারণ করবে। জনগণের এই মৌলিক, সাংবিধানিক ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিলাম। জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দেবে। নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন হবে। স্বচ্ছতা জবাবাদিহি থাকবে। ভোট চুরি হবে না। রেজাল্ট পাল্টাবে না, কেন্দ্র দখল হবে না, নির্বিঘ্নে ভোটাররা ভোট দিয়ে তাদের মত প্রকাশ করবে। একটা অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করার জন্য কতগুলি পদক্ষেপ আমরা দল ও মহাজোটের পক্ষ থেকে গ্রহণ করেছিলাম।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংস্কার ও নির্বাচন কমিশন সংস্কার প্রস্তাব আমি মহাজোটের পক্ষ থেকে ঘোষণা করি। এই ঘোষণার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্ট ছিল। তা হল সংবিধানকে সমুন্নত রাখা। গণতন্ত্রকে সুসংহত করা এবং জনগণের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত করা। বার বার যে অধিকার ছিনতাই হয়ে যাচ্ছে। বার বার জনগণ অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে। তাদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে তা যেন চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। জনগণের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে বিলাস ব্যাসনে গা ভাসিয়ে চলছে ক্ষমতাসীনরা।

চারদলীয় জোট সরকারের অপশাসন, ক্ষমতার দাপট, দুর্নীতি, লুটপাট, অত্যাচার-নির্যাতনে মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। মানুষের সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। পাশাপাশি চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এমনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যে মানুষ দিশেহারা হয়ে গেছে। তারা একটা পরিবর্তন চায়। তবে এ পরিবর্তন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটের মাধ্যমে হতে হবে। অন্য কোন পন্থায় নয়। জনগণের এই আকাক্সক্ষা পুরণের জন্য, অবাধ ও নিরপেক্ষ স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছি। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়েছে। আন্দোলনে শরীক হয়েছে। আন্দোলন সফল হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। সশস্ত্রবাহিনী জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ফখরুদ্দীন সাহেব শপথ নিয়েছেন। আমরা সে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেছি, সমর্থন দিয়েছি। বিএনপি ও জামাত বয়কট করেছে, উপস্থিত থাকে নাই। আমরা আশা করেছি যে আমাদের গৃহীত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন হবে। অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সরকার গঠন হবে। জনগগণের সমস্যা সমাধান হবে। কিন্তু আজ কি দেখি জনগণ সেই বঞ্চিতই রয়েছে। নির্বাচনের কথা মুখে বলে কিভাবে নির্বাচন পিছিয়ে নেবে সেই ধান্দায় ব্যস্ত। নির্বাচনের রোড ম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে দুই বছর পর নির্বাচন হবে । আদৌ নির্বাচন হবে কিনা মানুষ সন্দিহান হয়ে পড়েছে।

ক্ষমতার চেয়ারে গ্লু দিয়ে আটকে গেছে মনে হচ্ছে। নতুন নতুন দল গঠন হচ্ছে। ‘বাপে খেদানো মায়ে তাড়ানো’ কিছু লোক সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও জনগণের অর্থ যা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা তার অপব্যবহার করে কিছু দল সৃষ্টি করা হচ্ছে। সুদখোর, কালোটাকার মালিকরা টাকা সাদা করেই মাঠে নেমে পড়েছে। বিশেষ করে জনগণের ভোটে যাদের জেতার কোন সম্ভাবনাই নাই। অতীতে যারা জামানত হারিয়েছে সেই জামানত হারাবার রেকর্ডধারীরাই বেশি তৎপর। যাদের ভিতরে স্বচ্ছতা আছে, সততা আছে তারা গোয়েন্দাদের জালে ধরা পড়ে না, ধরা দেয় না। যাদের ভিতরে ঘাপলা আছে তারাই দ্রুত ধরা দেয়। তারা হয়ে যায় সাধু, সৎ।  কী বিচিত্র এই দেশ!

আর এক দল আছে সুযোগের অপেক্ষায় থাকে–যেমন ডাস্টবিনের গায় লেখা থাকে ‘Use Me’ ‘আমাকে ব্যবহার করুন’–এরা সেই শ্রেণীর। অন্যের হাতে ব্যবহৃত হতে সদা তৎপর। ‘যখন যার তখন তার হায় রে হায় হায়রে হায়!’ এরা সবাই সৎ ও সাধু হয়ে গেছে।

আন্দোলন করে দাবি পূরণ করলাম, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্গঠন করলাম। যেই দ্রুত নির্বাচনের কথা বললাম, সেই আমি চাঁদাবাজ হয়ে গেলাম, দুর্নীতিবাজ হয়ে গেলাম। আমার স্থান হল কারাগারে। পাঁচটি বছর চারদলীয় জোট তন্ন তন্ন করে খুঁজেছে আমার ও আমার পরিবারের দুর্নীতির কোন কিছু পায় কিনা, পায় নাই। পেয়েছে ফখরুদ্দীন সরকার।

আবিষ্কার করেছে চাঁদাবাজি করেছি তার কাছ থেকে যাকে আমার দল নমিনেশন দিয়েছে। যে সিটে এই প্রার্থী নমিনেশন পেয়েছিল সেই একই সিটে অন্য এক প্রার্থী নমিনেশন চেয়েছিল এবং নির্বাচনী ফান্ডে পঞ্চাশ কোটি টাকাও দিতে চেয়েছিল। তাকে নামিনেশন দেই নাই। পঞ্চাশ কোটি টাকা ফিরিয়ে দিলাম আর পাঁচ কোটি চাঁদা নিলাম এটা কি হতে পারে? পঞ্চাশ কোটি টাকার লোভ সংবরণ করতে পারলাম আর পাঁচ কোটি টাকার লোভ সামলাতে পারলাম না। পঞ্চাশ কোটি টাকা বাদ দিয়ে পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা নিয়েছি এই আবিষ্কার করেছে। বাহ্ চমৎকার আবিষ্কার।

একটা বিষয় লক্ষণীয় যাদের দিয়ে মামলা করিয়েছে তাদের আগে ধরে নিয়ে গেছে অজ্ঞাত স্থানে। কোথায় আছে কীভাবে আছে পরিবারও জানতে পারে নাই। হন্যে হয়ে খুঁজেও পায় নাই। কাউকে পাঁচদিন, দশদিন, বিশ দিন–বাগে আনতে যতদিন লেগেছে বন্দি করে নির্যাতন করেছে।

প্রথম চাঁদাবাজির মামলা দিল তিন কোটি টাকা একটা ছোট্ট ব্রিফ কেসে ভরে দিয়ে গেছে গণভবনে পাঁচশত টাকার নোট তিন কোটি টাকার ওজন হয় উনসত্তর কেজি। তিনটা ত্রিশ ইঞ্চি সাইজের স্যামসোনাইট স্যুটকেস লাগে তিন কোটি টাকার পাঁচশত টাকার নোট ভরতে কিন্তু এমনই যাদু জানে যে একটা ব্রিফকেসেই ভরে এনে দিল তিন কোটি টাকা। এটা কি যে সে আবিষ্কার। মনে হয় যাদুটোনাও জানে!

যারা মামলা করেছে তারা ভাল করেই জানে যে এদের কাছে আমি কোনদিন চাঁদা চাইনি। এদের চিনিও না। আমি আমার জীবনে কোনদিন কারও কাছে কোন টাকা চাইনি। কারও কাছে কিছু চাওয়া আমার স্বভাব বিরুদ্ধ। আমি কোনদিনই কারও কাছে টাকা পয়সা চাই না। ব্যক্তিগত জীবনেও কোন কিছু চাওয়ার অভ্যাস আমার নাই। আমার যেমন আছে আমি তেমনই চলতে পছন্দ করি। ধার করে ঘি খাই না। চুরি করে ফুটানি দেখাই না।

সারা দেশে এমন একটা আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছে যে যাকে খুশি তাকে দিয়েই যা খুশি তা বলাতে পারে। আর না বললেই নির্যাতন, এটা তো সম্পূর্ণ মানবাধিকার লংঘন করা। শুধুমাত্র আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে সাজা দিয়ে নির্বাচনে যাতে অংশ নিতে না পারি সেই ব্যবস্থা করার জন্যই এসব করা হচ্ছে। কারণ তারা জানে নির্বাচন হলে জনগণ আমাকে ভোট দেবে। আমি জয়ী হব সরকার গঠন করব।
জনগণের আকাঙ্ক্ষা আমি সরকার গঠন করি। কিন্তু জনগণের সে আকাঙ্ক্ষা পদদলিত করতে চায়। এ তো গেল যারা মামলার বাদি হয়েছে তাদের কথা।

এখন আসি বিচারকদের কথায়। মামলা চলাকালীন বিচারকদের কি অবস্থায় দেখেছি। কোর্টে টাস্কফোর্স ও গোয়েন্দার লোক গিজ গিজ করছে। কেউ ক্যাপ পড়ে চেহারা ঢাকতেও চেষ্টা করে। চেহারা ঠিক না মাথা ঢাকা দেয়।

সব সময় একটা চাপ যেন আদালতে রয়েছে। আমার শুধু মনে হয় এই বিচার হচ্ছে? এতো প্রহসন, বিচারের নামে প্রহসন চলছে। বিচারকরা কি তাদের বিবেক, চিন্তা, জ্ঞান ও বুদ্ধি বিবেচনা দিয়ে বিচার করতে পারে? বিচারকরা তো সংবিধান মোতাবেক শপথ নিয়ে থাকে সেই শপথ কি রক্ষা করতে পারে?

হাইকোর্টের একজন বিচারপতি তো প্রকাশ্যে বলেই দিলেন শপথ মোতাবেক কাজ করতে পারছেন না। উচ্চ আদালতের যদি এ অবস্থা হয় তাহলে নিম্ন আদালতের কি অবস্থা হতে পারে তা অনুধাবন করা যায়। খুব ঢাক ঢোল পিটিয়ে বিচার বিভাগ স্বাধীন করা হল কিন্তু তা মুখের কথায় ও কাগজে কলমেই। বিচারকদের উপর গোয়েন্দাদের চাপ অব্যাহতভাবে রয়েছে তা দেখাই যায়। হাইকোর্ট রায় দিলেই তা যদি পক্ষে যায় সুপ্রিম কোর্ট স্থগিত করে দেয়। শেষ পর্যন্ত কোর্টও বদলে যায়। প্রধান বিচারপতির সাথে দেখা করে সরকারের বিশেষ দূত নিজেই নাকি আমাকে জামিন দিতে নিষেধ করেছিল। সুপ্রিম কোর্টকেই যদি নির্দেশ শুনতে হয়। সর্বোচ্চ আদালত যদি স্বাধীন না হয় তাহলে নিম্ন আদালতের অবস্থা কি তা তো অনুধাবন করা যায়।

মামলার রায় কী হবে তার ‘অহী নাজেল’ হয়, যা নির্দেশ দেয়া হবে তাই রায় দেবে। ১ নভেম্বর ২০০৭ বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করা হয়েছে। আমার প্রশ্ন ১ নভেম্বরের পূর্বে বিচার বিভাগের অবস্থা ও পরে অর্থাৎ বর্তমানের অবস্থা তুলনা করলেই বের হয়ে যাবে বিচার বিভাগ কতটুকু স্বাধীনতা পেয়েছে। মানুষের সাথে এ প্রহসন কেন?

আমি গণভবনে ছিলাম এখন কারাভবনে আছি। যারা আজ ক্ষমতায় তাদেরও ভবিষ্যতে কারাগারে থাকতে হবে না এই গ্যারান্টি কি পেয়েছে? ক্ষমতার মসনদ ও কারাগার খুব কাছাকাছি।

পাকিস্তানে প্রেসিডেন্ট মোশাররফ এখন সম্মানের সাথে বিদায়ের পথ খুঁজছে। কাদের কাছে যাদের একদিন অপমান করে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। সবার উপরে আল্লাহ আছেন তার লীলা বোঝা ভার। তার হুকুমেই আজ যে রাজা কাল সে ভিখারি, কেবল মানুষ ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে যায় বলে ভুলে যায়।

এই বাড়িটাকে যদি আবার কোনদিন সাবজেল করা হয় তাহলে কে আসবে? সেই দিন দেখার অপেক্ষায় রইলাম।

কারাভবনের এই বাড়িটায় অনেক গাছ ছিল। বরই গাছ, সজনে গাছ। এছাড়া দেয়াল ঘেঁষে বড় বড় গাছ সব কেটে ফেলেছে। দেয়ালের বাইরের গাছও কাটা হয়েছে। আর বাইরের দিকটা কাটাতার দিয়ে ঘিরে দিয়েছে। ছাদের উপরে দুটো বাঙ্কার করেছে সেখানে RAB ও পুলিশ পাহারা দেয় আর নিচে পুলিশ ও কারারক্ষীরা পাহারায় থাকে। দোতলা বাসা, সিঁড়িতে ওঠার মুখেই লোহার কলাপসিবল গেট, গেটে বড় তালা লাগানো থাকে সারাদিন। উপরে পশ্চিম দিকের কোনার কামরায় আমার থাকার ব্যবস্থা। এই ঘরের জানালা দিয়েও সবুজ মাঠ ও গণভবন দেখা যায়। এই মাঠে ছেলেরা বল খেলতে আসতো, কারাগার হবার পর বন্ধ।

সমস্ত বাসাটা অত্যন্ত ময়লা ও নোংরা। পুরোনো গদি ছেঁড়া কাপড় চোপড়, পুরনো কাগজপত্র সব ছড়ানো। পুব দিকের একটা কামরা এত নোংরা, মনে হ’ল যেন ময়লা ফেলার জায়গা। ঘরের মেঝে থেকে দেয়াল পর্যন্ত সবই ময়লা, ধূলায় ভরা, এমনকি যে টেবিল চেয়ার আছে সেগুলোতেও ধূলা ময়লা ভরা। জেলখানায় নিয়ম আছে। পার্সোনাল একাউন্টে টাকা রাখা যায় যাকে পিসি বলে। আমার সাথে যে টাকা ছিল সেই টাকা আমি পিসিতে জমা করলাম, অর্থাৎ জেলারের হাতে দিলাম, এটাই নিয়ম। নিজেই টাকা খরচ করে তোয়ালে, গামছা, ভিম, হারপিক, ব্রাশ, ঝাড়–ইত্যাদি কিনতে দিলাম। এই পিসির টাকা দিয়ে নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা যায় তবে সেখানেও কিছু নিয়ন্ত্রণ আছে। যা হোক, আমাকে আমার ফরমায়েশ মতো জিনিসগুলো কিনে দিল। একটা খাট, আমি বসার সাথে সাথেই ভেঙে পড়ে গেল। একখানা সোফা সেট, অত্যন্ত ময়লা, নোংরা। বিছানার চাদর একদিকে ইঁদুরে কাটা, ছেঁড়া তোষকও অত্যন্ত ময়লা। মনে হয় সব যেন গোডাউনে পড়ে ছিল। তবে তিনখানা করে নতুন চাদর ও তোয়ালে দেয়া হয়েছে। তারই একটা চাদর সোফার ওপর বিছিয়ে রাত কাটালাম। পরদিন বললাম, ভাঙা খাট বদলে দিতে হবে। অথবা সরিয়ে ফেলতে হবে, আমি মাটিতেই ঘুমাবো। কারণ আগের দিন, খাট ভেঙে গেলে ডিআইজি হায়দার সিদ্দিকী নির্দেশ দিয়েছিল, খাটের নিচে ইট দিয়ে ঠিক করে দিতে এবং তাই করা হয়েছিল। কিন্তু তাতেও খাটখানা ব্যবহারের উপযুক্ত হয় না। যা হোক একদিন পর খাটখানা বদলে দেয় এবং তা ঘটা করে পত্রিকায়ও প্রচার করে। আমার খাবার আসতো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে। মাঝে মাঝে খাবার আসতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতো। আর খাবারের মেনু–যাক সে বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। আমাকে তো তিন বেলা খাবার দিচ্ছে কিন্তু কত মানুষ এক বেলাও খাবার পায় না। আল্লাহ যখন যেভাবে যাকে রাখেন সেটাই মেনে নিতে হয়। আমার আব্বা যখন জেলে যেতেন তাঁকেও তো কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। আমি তো, তাও একটা বাসায়, একটা ভালো কামরায় আছি যদিও ড্যাম্প পড়া স্যাৎসেতে। আব্বাকে তো জেলখানায় সেলের ভেতরে রাখা হতো। সারাজীবন কতো কষ্ট তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে এবং বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন আর এই কষ্ট সহ্য করেছেন। পাকিস্তানের মিয়ানওয়ালী জেলে গ্রীষ্মকালে যেমন গরম, তেমন শীতের সময় শীত। রুটি ডাল ছাড়া তো কিছুই পেতেন না খেতে। যে খাবার আব্বা কখনোই পছন্দ করতেন না। তারপরেও তাঁর মুখ থেকে কোনও দিন কোনও কষ্টের কথা আমরা শুনি নাই। আমাদের কাছে তিনি কখনও বলতেন না। মাঝে মাঝে কথার পিঠে কথা বের হতো অথবা মাকে কিছু কিছু বলতেন। নিজের কষ্টের কথা তিনি সব সময় চেপেই রাখতেন।

কারাগার থেকে পুব দিকে জানালায় দাঁড়ালে সংসদ ভবন দেখি। উত্তর দিকে গণভবন। রোজ সকাল-বিকাল যখনই মনে হয় জানালায় দাঁড়াই। সবুজ মাঠ পেরিয়ে রাস্তায় জনগণের চলাফেরা দেখি। একদিন জানালায় দাঁড়িয়ে আছি, দেখি মোটা সোটা বাঁদরটা মাঠ পার হয়ে উত্তর দিকে চলে যাচ্ছে। এই বাদরটা প্রতিদিন দক্ষিণের দেয়ালে এসে দাঁড়াতো। আমি কিছু খাবার ওপর থেকে ছুঁড়ে দিলেই নিয়ে যেত, দিনে দু’তিনবার আসতো। কিন্তু আজ ও চলে যাচ্ছে। অতবড় মাঠ ধীরে সুস্থে হেঁটে হেঁটে পার হচ্ছে। আমি লক্ষ্য করলাম কিছু দূর হেঁটে যায় তারপর থামে, একবার পিছনে, একবার ডানে, একবার বামে তাকায়। আবার হাঁটে। বার বার থেমে থেমে মাঠ পেরিয়ে লেকের পারে গাছের দিকে চলে গেল। যেদিকে গণভবন সেই দিকে। বাদরটা মুক্ত তাই হেঁটে হেঁটে মাঠটা পার হয়ে চলে গেল। আমি তো বন্দি, দোতলায় একদম একা, আমি ইচ্ছে করলেও মাঠ পেরিয়ে হেঁটে যেতে পারবো না। আমার সে স্বাধীনতা নেই। কিন্তু আমার মনটা তো স্বাধীন, আমার মনটাকে তো বেঁধে রাখতে পারবে না, মনের কল্পনায়ই আমি সবুজ মাঠ পেরিয়ে যাচ্ছি–যাচ্ছি–আর যাচ্ছি।

২০০৭-এর ১৬ জুলাই গ্রেফতারের দিন
২০০৭ এর ১৬ জুলাই গ্রেফতারের দিন

গণভবন ৬ মার্চ, ২০১০

গণভবনে প্রথম সকাল। গতকাল যমুনা থেকে গণভবনে এসে উঠেছি। এখানে এসেই প্রথমে দক্ষিণের জানালা খুলে দাঁড়ালাম। সংসদ ভবনের যে বাড়িটায় আমাকে বন্দি করে রেখেছিল সেটা দেখা যায় কি না! গাছের ফাঁক দিয়ে বাড়িটা দেখা যাচ্ছিল।

২০০৭ সালের ১৬ জুলাই আমাকে বন্দি করে ঐ বাড়িতে রাখা হয়। সাবজেল হিসাবে ঘোষণা দেয়। সংসদ ভবনের অন্যান্য বাড়িতে স্পেশাল কোর্ট বসায়। একটার পর একটা মামলা দিয়ে হয়রানি করতে থাকে। ঐ বাড়ির উত্তর দিকের জানালা দিয়ে গণভবন দেখা যেত।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আবিষ্কার হলো সব চেয়ে বড় দুর্নীতিবাজ আমি। তাই প্রথমে দেশের বাইরে রাখার চেষ্টা হলো। কিন্ত সফল হলোনা। পরে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে বিনা ওয়ারেন্টে টেনে হিঁচড়ে কোর্টে নিয়ে গেলো। তারপর সাবজেলে ১১ মাস বন্দি করে রাখলো। সম্পূর্ণ একাকী নিঃসঙ্গ বন্দিখানায় ছিলাম। ঐ বন্দিখানা থেকেই গণভবন দেখতাম। পূর্বদিকে সংসদ ভবন আর উত্তর দিকে গণভবন।

আজ গণভবনে প্রথম সকাল হলো। যথারীতি সকাল পাঁচটায় ঘুম ভেঙে যায়। সাড়ে পাঁচটায় উঠে নামাজ পড়ি। জাতীয় পতাকা তোলার বিউগলের সুর শুনি। কোরআন তেলাওয়াতের জন্য লাইব্রেরিতে আসি। আগের বার যখন ছিলাম এই পূর্ব দিকের ঘরটা লাইব্রেরি করেছিলাম। এখন আর সেইসব বই নাই। সব বুকশেলফ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আমার কাছে লাইব্রেরি হিসেবে এটা পরিচিত। একটা সেল্ফ বসানো হয়েছে। আরও একটা বসিয়ে আবার লাইব্রেরি বানানোর ইচ্ছা আছে। যা হোক কোরআন তেলাওয়াতের পর ভাবলাম, একটু ঘুরে দেখি। তখনও ভালো করে আলো ফোটেনি। পাখির কলকাকলীতে মুখরিত গণভবন। আপন নিলয়ে পাখিরা ডানা ঝটপট করছে। এখনই উড়ে যাবে খাবারের সন্ধানে। গণভবনে প্রচুর গাছ ও পাখি। দক্ষিণের জানালা খুললাম। গাছে গাছে ভরা দূরে তেমন কিছু দেখা যায় না। তবে কারাগার থেকে যে নারকেল গাছটা সবসময় দেখতাম সেটা আছে। এই গাছের পাতা বাতাসে নড়ে উঠতো, তারই ফাঁকে ফাঁকে রাতের বেলা গণভবনে আলো দেখা যেত। দিনের বেলা কোন কোন অংশ দেখা যেত। এখান থেকে কারাগারের দেয়াল দেখা যায়। এখন ঐ বাড়িতে হুইপ লিটন চৌধুরী থাকে। ঐ বাড়িতে ওঠার আগে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, উঠবে কী না? সাবজেল হিসেবে ব্যবহৃত ঐ বাড়িতে আমি বন্দি ছিলাম, সেকারণেও একটু দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। পড়ে আমার অনুমতি পেয়ে উঠেছে। গাছের ফাঁকে পতাকাটা দেখতে পেলাম। দালানের কিছু অংশ দেখলাম। সোফিয়া ও তার মা খুব সকালে উঠে বসে আছে। তাদের কামরায় গেলাম। জয় ঘুমাচ্ছে। জয়, জয়ের বউ ও মেয়ে ঢাকায় আছে। ওদের নিয়েই গতকাল উঠেছি। মাগরিবের পর একটা মিলাদ পড়ালাম।

আল্লাহ সবই পারেন। গণভবনের মাঠ, তারপর রাস্তা, পাশে লেক, তারপরই বিশাল খেলার মাঠ। ঐ মাঠের পাশেই বাড়িটায় বন্দি ছিলাম। আর এখন সেই সবুজ মাঠ পেরিয়ে যে গণভবন সেখানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উঠেছি। ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গণভবনে ছিলাম। লতিফুর রহমানের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। সাহাবুদ্দিন সাহেব রাষ্ট্রপতি। ক্ষমতা হস্তান্তরের পরের দিন ১৬ জুলাই ২০০১ সালে গণভবনের সকল টেলিফোন লাইন কেটে দেয়। বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করে দেয়, যা কোনদিন করতে পারে না। বাসা বদলাতেও সময় লাগে। এসএসএফ এই বাসায় থাকলে সিকিউরিটি ভালোভাবে নিশ্চিত করতে পারবে বলে জানায়। সরকারি আইন করা হয় জাতির পিতার কন্যা হিসেবে সরকারি বাড়ি, এবং পূর্ণ নিরাপত্তা সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হবে। গণভবনে আমার থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সুধাসদনের ভাড়াটিয়া চলে যাবার পর কিছু মেরামতের কাজ চলছিল। আমি মাস খানেক গণভবনে থেকে ওখানে চলে যাব সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু এ ধরনের অপমান কীভাবে করে। অনেকে তো রাষ্ট্রপতি যে বাড়িতে থাকতো সে বাড়ি এক টাকার বিনিময়ে লিখে নিয়েছে। আমার বাবাও তো রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় শাহাদাৎ বরণ করেন। তারপরেও তো আমি এক টাকার বিনিময়ে কোন সরকারি বাড়ি লিখে নেই নাই।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে পাঁচ বছর পর ধানমণ্ডির সুধাসদনে যাই। ২০০১ সালের ১৬ আগস্ট গণভবন ছেড়ে যাই। ২০১০ সালে ৫ মার্চ গণভবনে ফিরে এলাম। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা দেন, আবার কেড়ে নেন, আবার দেন। পবিত্র কোরআন শরীফের সুরা আল ইমরানের ২৬ আয়াতে পড়লাম “কুল্লিলা-হুম্মা মা লিকাল্ মূলকি তু’তিল মূলকা মান তাশা-উ ওয়া তানযি ‘উল মুল্কা মিম্মান্ তাশা- উ ওয়া তু’ইযযু মান তাশা-উ অতু যিল্লু মান্ তাশা-উ; বিইয়াদিকাল খাইর।”–বলুন হে আল্লাহ রাজ্যের মালিক তো আপনিই! যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দেন আর যার কাছ থেকে ইচ্ছা কেড়ে নেন। ইচ্ছা মতো সম্মান দেন আর ইচ্ছা মতো লাঞ্ছিত করেন। আপনার হাতেই সব কল্যাণ নিহিত।

আল্লাহর ওপর সব সময় ভরসা রেখেছি। আজ তাই গণভবনে আবার ফিরে এসেছি। অনেক স্মৃতি আমাদের এই গণভবনকে ঘিরে। আব্বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এখানে ছিলেন। যদিও থাকতেন ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর বাড়িতে। কিন্তু গণভবনে অফিস করতে আসতেন। দুপুরের খাবার এখানেই খেতেন, বিশ্রাম নিতেন। বিকেলে হাঁটতেন। মানুষের সাথে সাক্ষাৎ করতেন। আমার ভাই ক্যাপ্টেন শেখ কামাল ও লেঃ শেখ জামাল– দুই ভাইয়ের বিয়ে হয় এখানে। সামনে লেক এই লেকে রাসেল মাছ ধরতো। মাছ ধরে আবার ছেড়ে দিতো। জয় ছোট বেলায় রাসেলের সাথে প্রায় প্রতিদিন বেড়াতে আসতো। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ছিল এই গণভবন। প্রখ্যাত আর্কিটেক্ট লুই কানের ডিজাইন অনুসারে গণভবন তৈরি করা হয়েছে।

আর এখন আমি গণভবনে। সাবজেল দেখছি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই বাড়িতে গতকাল এসেছি। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচন হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। যে নির্বাচনে ধর্ম-বর্ণ দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে। এক কোটি তেইশ লক্ষ ভূয়া ভোটার ছিল আগের ভোটার লিস্টে। তত্ত্বাবধায়ক  সরকার ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী এই তালিকা তৈরি করে দেয় দ্রুততম সময়ে। অসাধ্য সাধন তারা করেছে। ন্যাশনাল আইডি কার্ড ও ছবিসহ ভোটার তালিকা করা বেশ দুরূহ কাজ ছিল। তবে এটা করার মধ্য দিয়ে জনগণের ভোট নিয়ে খেলা করার যে প্রক্রিয়া সামরিক শাসকরা চালু করেছিল তারই অবসান হলো।

এবারের নির্বাচনের সবথেকে লক্ষণীয় বিষয় ছিল মানুষের ভোট দেবার আকাঙ্ক্ষা। এদেশের উচ্চবিত্ত যাদের আমরা এলিট শ্রেণী বলি তারা খুব কমই ভোটকেন্দ্রে যায় ও ভোট দেয়। এবারে তারা তাদের বাড়ির কাজের বুয়া থেকে শুরু করে সকলকে নিয়েই ভোট দিতে ভোট কেন্দ্রে গিয়েছিল এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেছে, ভোট দিয়েছে। ঐ লাইনে আশে পাশের বস্তির লোকরাও এসেছে। পাশাপাশি লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেবার জন্য অপেক্ষা করতেও দেখা গেছে। হিন্দু-খ্রীস্টান-বৌদ্ধ সকল ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিরাপদে ভোট দিতে পেরেছে। যা ২০০১ সালের নির্বাচনে দেখা যায়নি। বাড়ির গেটে তালাও দেয়া হয়েছে যাতে বাড়ি থেকে বের হতে না পারে, ভোট কেন্দ্রে যেতে না পারে, এছাড়া মারধর অত্যাচার তো ছিলই। কিন্তু এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

এভাবে যদি প্রতিটি নির্বাচন প্রতিবার অনুষ্ঠিত হয় এবং মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিয়ে সরকার নির্বাচন করতে পারে তাহলে এদেশ থেকে অন্যায়-অত্যচার, দুর্নীতি, সন্ত্রাস দূর হবে। সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। সব থেকে বড় কথা হলো দ্রুত দেশের উন্নতি হবে। সকল সংসদ সদস্য মন্ত্রীরা তৎপর থাকবে। কারণ ভোটের জন্য জনগণের কাছে গিয়ে হাত পাততে হবে না। তাদের একথাটা মনে রেখেই কাজ করতে হবে। এজন্য নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে।

ধীরে ধীরে আলো ফুটেছে। এখন রোদ ঝলমল করা সকাল দখিনা বাতাসে শীতল কোমল আবেশ। পাখির কলকাকলীতে মুখরিত পরিবেশ। বাংলাদেশের জনগণের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করে উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাদের ভালোবাসার প্রতিদান আমাকে দিতেই হবে। জনগণের জন্য একটা সুন্দর, উন্নত জীবন উপহার দেব, এই আমার প্রতিজ্ঞা।

আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি।

শেখ হাসিনা : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

—–
ফেসবুক লিংক । মতামত-বিশ্লেষণ

শেখ হাসিনাগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী

৬৫ Responses -- “সবুজ মাঠ পেরিয়ে”

  1. রুবেল তালুকদার (সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়)

    ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।।।

    Reply
  2. চয়ন

    সহজ সরল ভাষায় আপানার এই লেখা পড়ে খুব ভালো লাগলো। কেউ কেউ অন্যায়কে প্রশ্রয় দিলেও ,আশা করি আপনি সেই রকম করবেন না।

    Reply
  3. emon

    জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি কিন্তু আমি আপনাকে দেখেছি । আশা রাখছি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা আপনি প্রতিষ্ঠা করবেন।

    Reply
  4. অন্তু

    মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর লেখায় কমেন্ট করছি এটিই প্রধান আনন্দ। এছাড়াও ঝরঝরে লেখার জন্য ধন্যবাদ। আসলে আপনাদের কোন কিছু লেখা ইতিহাসের দলিলের মতো। তাই নিজের জীবনের ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী নিয়ে কিছু লেখলে আমাদের মত সাধারনদের জন্য সত্যিই খুব আনন্দদায়ক উপলক্ষ হয়।

    Reply
  5. Hasan Khan

    সুধাসদনে গিয়ে যেমন স্বাচ্ছন্দে ঘুরতাম, আপনার লেখাটা পড়েও তেমনি আন্তরিক বোধ করলাম । শুধু তাই নয় একজন প্রথিতযশা লেখকেরও পরিচয় পেলাম । আপনার লেখা আমাদের মতো অনেক পাঠকেরই ব্যাক্তি আর সমাজ জীবন গড়ায় পাথেয় হবে । আপনিই পারবেন রাষ্ট্র যন্ত্রগুলোকে আরও বেশি সুসভ্য করে বাংলাদেশকে বিশ্ব মানবতার দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরতে ।

    Reply
  6. করতোয়া

    মাননীয় প্রধান মন্ত্রী,
    আপনার লেখা আমি আগেও পড়েছি। আপনার লেখার হাত মন্দ না। অনুগ্রহ করে অন্যের দিকে আঙ্গুলি প্রদর্শন না করে যদি নিজের সরকার আর নেতাদের প্রতি কঠোর হতেন তবে আশা করি আপনার ও আমাদের সকলেরই মঙ্গল হতো। দুর্নীতিবাজদের বিচার তো জনগন করেই থাকে, তা তো গত নির্বাচনে প্রমান হয়েছে। আমরা জানি আপনি ব্যাক্তিগতভাবে দুর্নিতীবাজ নন, কিন্তু আপনি কি গ্যারান্টি দিতে পারেন আপনার সরকার আর দলের কিছু নেতা আছে যারা কৃষ্টাল ক্লিয়ার? এদের কারণেই আপনার পরিণাম অশুভ হতে পারে।

    Reply
  7. Hafij Tarafder

    কয়েকদিন আগে এখানে আমি একটা মন্তব্য দিয়েছিলাম কিন্তু administration সেটা প্রকাশ করেনি-যদিও মন্তব্যটা বাঙালি নিয়ে করা । আর, সেখানে “তেল” ছিলোনা । লেখার ভিতর অনেক সাবলিলতা আছে।

    Reply
  8. M. Z. Abedin

    No doubt, an exquisite writing! My question is, i why your Cabinet Ministers & MPs not yet submitted accounts of their properties except the Finance Minister?
    Two years gone! Please tell us….Kindly don’t break our dreams!!!

    Reply
  9. Abdullah Al Quayyum

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
    আপনার সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ । বাংলাদেশের সমস্যা প্রচুর কিন্তু সময় ও সম্পদ অল্প । বড় বড় প্রকল্পের ব্যপারে আপনাকে খুব দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে । আপনার সততা ও সদিচ্ছার ব্যপারে আমার কোন সন্দেহ নাই । দূর্নিতি প্রতিরোধে আপনাকে কঠিন ধাকতে হবে । জনগন অবস্যই আপনার সরকারের ভাল কাজের মূল্লায়ন করবে । আপনার শুভ কামনা করছি ।

    Reply
  10. Mominul Kabir

    আগের লিখাটাও পড়েছি এইটাও পড়লাম, ভালই লেগেছে। আপনি তখনকার বিচার ব্যাবস্তার কথার লিখেছেন, কোনো পার্থক্য নাই বিচার কাজের মধ্যে। আগের বিচারকরা পরাধিনতার মাঝে ছিলো এখনো কোনো অবস্থাতে কম নয়!

    Reply
  11. Saidus Saklaen

    সাধ্য কী ওই মৃতু্যদূতের তোমায় নেবে কেড়ে?
    মরতে দেবো না হে দুহিতা জাতির পিতার, প্রাণপ্রিয় হে নেত্রী
    তোমায় বুকের বর্মে লুকিয়ে রাখা শপথ এ বাংলার
    সাধ্য কী ওই দুর্বৃত্যের তোমায় নেবে কেড়ে?…

    Reply
  12. Rushd

    I’m not sure if our honorable prime minister, Sheikh Hasina, will read my comment. However, I will like to take the opportunity to share my personal view.

    If you shout ‘I hate you’ standing in front of a mountain, you will hear back ‘I hate you’. Just in opposite, if you shout ‘I love you’, nature will say back ‘I love you’. It’s the natural law. No one can break it. Please continue loving the Bangladeshi people. They will love you back. These brave and hard working people need someone to love them. History tells us, Bangladeshi people very rarely had rulers who loved them.

    Please continue writing in the media. Let us know your feelings. It will bring you closer to us. Also, please do not forget about the poor folks. Unfortunate, but true, they are the majority of Bangladeshi population. I donot know how, but, please keep in touch with them. They need your favor.

    Take care.

    Reply
  13. Ataur

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই লেখা থেখে আমাদের দেশের সব নেতা-নেত্রী অনেক কিচু জানতে পারেন।

    আতাউর রহমান

    Reply
  14. KANON

    ছাত্র সংগঠনগুলো তাদের নিজের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট (ছাত্র সংশ্লিষ্ট) কথা না বলে আজ সরাসরি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ছে,যা কাম্য নয়।
    আজ যদি তরুণরা শিকড়ে বিনষ্ট হয়ে যায়,তাহলে আগত অন্ধকার ভবিষ্যতের দায়ভার কার উপর বর্তায়???

    মাননীয় “প্রধানমন্ত্রী” তার প্রতি পদে সফলতার মুখ দেখবেন এটাই আশা।
    তবে সব অর্জন ধূলোয় লুটাবে, যদি এই তরুণ সমাজই দুর্নীর্তি/সন্ত্রাস/টেন্ডারবাজির অতল গহ্বরে পতিত হয়ে দেশকে সর্বনাশের দিকে ঠেলে দিবে…

    আজকের তরুণরাই আগামীতে দেশের মেরুদন্ড…আসুন আমরা দল ও মত নির্বিশেষে এই মেরুদন্ডকে শক্ত করে গড়ে তুলি…তাহলেই জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে…

    একদিন আমরা সোনার বাংলা গড়বোই….এই কামনায়….
    এস. এ. কানন
    ছাত্র,
    শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,
    ঢাকা।

    Reply
  15. Sayed Foysal Ahmed

    লেখা পড়ে ভালো লাগলো।ধন্যবাদ আপনাকে।
    দেশ পরিচালনায় দুটো বিষয় একটু সচেতন ভাবে দৃষ্টি রাখতে অনুরোধ করছি।
    ক) চাটুকারদের থেকে সাবধান থাকা এবং
    খ) চটজলদি কোন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা।

    ভালো থাকুন। দীর্ঘজীবী হোন।

    Reply
  16. পাটোয়ারী

    এখানেও প্রধানমন্ত্রীকে প্রশংসা করতে কার্পন্য করেননি কেউ। ভাল কথা লেখা খুবই সহজ। ভাল মানুষ হওয়া বেশ কঠিন। হিংসা বাদ দিয়ে রাজনীতিতে ভাল কিছুর সূচনা হলে মানুষ ভালবাসবে।

    Reply
  17. obi

    Thanks for the writing…I did not know u are such a good writer as well…
    I have some request to you….please think what is ur govt doing…better than BNP/Jamat or worst?
    We hope ur govt will save our country from corruption, n we will be in safe hand.
    You had promised many things for the betterment of the people .

    We love u n Bangladesh..please do not follow BNP or do not be the worse…do good dead, u will be in power again……..insallah

    Obi
    from UK

    Reply
  18. hero

    আমি যখন ছাত্র ছিলাম,………….

    (((আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা দেন, আবার কেড়ে নেন, আবার দেন। পবিত্র কোরআন শরীফের সুরা আল ইমরানের ২৬ আয়াতে পড়লাম “কুল্লিলা-হুম্মা মা লিকাল্ মূলকি তু’তিল মূলকা মান তাশা-উ ওয়া তানযি ‘উল মুল্কা মিম্মান্ তাশা- উ ওয়া তু’ইযযু মান তাশা-উ অতু যিল্লু মান্ তাশা-উ; বিইয়াদিকাল খাইর।”–বলুন হে আল্লাহ রাজ্যের মালিক তো আপনিই! যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দেন আর যার কাছ থেকে ইচ্ছা কেড়ে নেন। ইচ্ছা মতো সম্মান দেন আর ইচ্ছা মতো লাঞ্ছিত করেন। আপনার হাতেই সব কল্যাণ নিহিত।)))

    আর

    (((চারদলীয় জোট সরকারের অপশাসন, ক্ষমতার দাপট, দুর্নীতি, লুটপাট, অত্যাচার-নির্যাতনে মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। মানুষের সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। পাশাপাশি চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এমনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যে মানুষ দিশেহারা হয়ে গেছে।)))

    বর্তমানের অবস্থা কী ?

    Reply
  19. Duranta Biplob

    আপনার প্রায় সব লেখাই আমি পড়ার চেষ্টা করি, হোক তা বই আকারে অথবা পত্রিকার পাতায়, যে বিষয়টা আমাকে বরাবর মুগ্ধ করে তা হলো আপনার লেখায় গ্রন্থিত শব্দাবলীর পাঠকের সাথে কমিউনিকেট করার সক্ষমতা,সাবলীলতা আর সহজ আটপৌরে ভাব।দুর্দান্ত!

    আর আপনাকে ধন্যবাদ জানাই অমোঘ সত্যটি এই লেখার মাধ্যমে স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য-

    ‘বলুন হে আল্লাহ রাজ্যের মালিক তো আপনিই! যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দেন আর যার কাছ থেকে ইচ্ছা কেড়ে নেন। ইচ্ছা মতো সম্মান দেন আর ইচ্ছা মতো লাঞ্ছিত করেন। আপনার হাতেই সব কল্যাণ নিহিত।’

    Reply
  20. খান

    আমাদের জাতি চরিত্রের একটি অন্যদিক হলো আমরা মানুষের মুখে নিজের গঠনমুলক সমালোচনাও সহ্য করতে পারিনা। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি তার সুন্দর লেখার জন্য।আর দেশের একজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসাবে কলাম লিখে সমালোচিত হতে পারার মানষিকতা কিন্তু দারুন একটি সৎ এবং সাহসী ব্যাপার। অন্য অনেকই বিভিন্নভাবে এনিয়ে বানিয়ে শুধু প্রাপ্তির গান গেয়েছেন। আমি এখানে এই সরকারের কিছু দুর্বলতার দিক তুলে ধরতে চাই যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে তার মিলেনিয়াম উন্নয়নের লক্ষমাত্রা ঠিক রাখতে আর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সাহয্য করতে পারে বলে আমার বিশ্বাস।

    ১। দেশে সমবায় ভিত্তিক কৃষি বিপনন ব্যাবস্থার প্রচলন করে কৃষকের পন্যের নায্য দাম নিশ্চিত করা। কারন বর্তমান বাজার ব্যাবস্থায় মধ্যস্বত্যভুগীদের দৌরাত্মের কারনে কৃষকরা তাদের পন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্ষতিতে বিক্রয় করতে বাধ্য হয়।
    ২। দেশে মেধাবিদের মুল্যায়ন করা। একাডেমিক রেজাল্টকে সর্বোচ্চ গুরুত্ত্ব দিয়ে দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গবেষনা প্রতিষ্ঠান এবং যাবতীয় সরকারী প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ নিশ্চিত করা।
    ৩। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, ছাত্রদল, শিবির সে যেই হোকনা কেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এদের সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে। আর বিচার যে সবার জন্য সমান তা প্রমান করতে হবে বিচার করেই।
    ৪। আমলাতন্ত্রে শুধু অমুক বা তুমুক দলের সমর্থক বিবেচনায় না এনে যারা সত্যিকার অর্থে সৎ, ন্যায়পরায়ন এবং সেবক মানসিকতার তাদের মধ্য হতে সিনিয়রিটি এবং একাডেমিক এবং ইনসার্ভিস রেজাল্টের উপর ভিত্তি করে প্রমশন নিশ্চিত করা।
    ৫। বিচার ব্যাবস্থাকে সত্যিকার অর্থে স্বাধীন করা এবং বিচারকদেরও রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
    ৬। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান বাজেটকে কয়েকগুন বাড়িয়ে দেওয়া এবং বর্ধিত অর্থের দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষনা কর্মের মান বাড়ানো। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সমাজের মেধাবী অংশ। ওনাদের বেশিরভাগেরই বাইরের ডিগ্রী রয়েছে। ওনারাই সত্যিকারের গবেষনা কর্ম করতে সক্ষম। বিদেশে তাই হয়।বেশিরভাগ নোবেল লরিয়েটরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।
    ৭। সামগ্রীকভাবে শিক্ষক এবং গবেষকদের উচ্চতর বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসরদের রেটিং তাদের গবেষনা কর্ম, আন্তর্জাতিক ইম্পাক্ট ফ্যাক্টর জার্নালে প্রকাশিত আর্টিকেল এর সংখ্যা এবং মানের বিচারে নিশ্চিত করা। যেমন জার্মানীতে আছে এরমকম ব্যাবস্থা। সব প্রফেসর সমান হতে পারেনা।

    Reply
  21. ড. হাতাশি

    “তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আবিষ্কার হলো সব চেয়ে বড় দুর্নীতিবাজ আমি।”

    কিন্তু এখন পৃথিবীর সবাই দেখতে পেল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবাজ নোবলে বিজয়ী ড. ইউনুস!

    Reply
    • খান

      আজকের প্রথম আলো এবং বিডি নিউজ২৪ এর রিপোর্ট কিন্তু ভিন্ন কথা বলছে। মানে নরওয়ের পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী এরিক সোলেইম সবার সামনে পরিস্কার করে বলেছেন নোবলে বিজয়ী ড. ইউনুস মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তার তদন্তে দেখা গেছে, ক্ষুদ্রঋণে জড়িত প্রতিষ্ঠানটি কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে, দুর্নীতি কিংবা তহবিল আত্মসাতের জন্য ওই কাজ করেনি। মূল তহবিলে অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ১৯৯৮ সালের মে মাসেই বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। কাজেই প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস মোটেও দুর্নীতিবাজ নয়, তিনি আমাদের গর্ব, ধন্যবাদ।

      Reply
      • ড. হাতাশি

        আপনাকেও ধন্যবাদ মি. খান।
        যাইহোক, আপনী ও এরিক সোলেইম যেহেতু ইউনুসকে নিদোর্ষ বললেন তাই আমি এই ব্যাপারে আর কিছু বলতে চাচ্ছি না।

  22. Saibor

    Thanks for the article. It reflects your clear mind and determination for the completion of unfinished job of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman,our great leader. We pray to ALLAH to give you all the help and time to do that. May ALLAH help our country and people to stand up again with all dignity and honor. Thanks again. Hope for more article like this when you have spare time within your busy schedule. Joy Bangla – Joy Bangabandhu.

    Reply
  23. Zularbine Kamal

    Nice to read. Thanks to our prime minister.
    “ধার করে ঘি খাই না। চুরি করে ফুটানি দেখাই না।” I like it.

    Reply
  24. রবি রয়

    কাউকে অবমাননা করার জন্য নয়,
    পূর্ণ সম্মান নিয়ে কতগুলি কথা বলতে চাই.
    ২০০৮ সালে ভোট দেখার জন্য আমি বাংলাদেশ এ গিয়েছিলাম.
    প্রবাসে থাকার জন্য আমি নিজে ভোটার হতে পারিনি, তবে একথা সত্যি যে
    প্রচুর মানুষকে অতি আনন্দ নিয়ে ভোট দিতে দেখেছি. কিন্তু যখন শুনলাম আমাদের কাজের বুয়া
    ভোটে দিতে গিয়ে দেখলো তার ভোট দিয়া হয়ে গিয়েছে,

    ভোটের প্রসঙ্গ থাক |
    মাননিয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার আগের লেখা ” ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কিছু সময়” লেখাটিও আমি পরেছি | আমার যারা সাধারণ, তাদের কাছে আপনার অনুভূতি যে ভাগ দিচ্ছেন তা এক কথায় অসাধারণ, আপনাকে ধন্যবাদ |
    আমি যেটা বলতে চাই তা হচ্ছে, আওয়ামীলীগ-ই একমাত্র দল, যারা সবসময়েই বাংলাদেশের মানুষকে বিভিন্ন বিষয়ে সূপথ দেখিয়ে এসেছে,মানুষের ভোটের অধিকার ভাতের অধিকার নিশ্চিত করেছে অথবা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে, কিন্তু দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশে যারা অগ্রপথিক, তারা এখনো প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারলো না |

    মাননিয় প্রধানমন্ত্রী, আমি বিশ্বাস করি একমাত্র আপনিই পারেন সুস্থ ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে, পারেন হতে একজন অন্যতম নেত্রী, যা বাংলাদেশের মানুষ সবসময় মনে রাখবে |

    Reply
  25. Md.Ruhul Amin

    মানোনীয় প্রধান মন্ত্রীর এই লিখা অবশ্যই তার বিশালতার বহিপ্রকাশ। যা থেকে দেশ,জাতি তথা নব নেত্রিত্ত্ব শিক্ষা গ্রহন করবে।

    Reply
  26. মোঃ শামসুদ্দোহা শোভন

    একটা সুন্দর মানসিকতা এবং দেশকে সঠিক পথে পরিচালনার যে প্রয়াস মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মধ্য রয়েছে তা আবার সুন্দর ভাবে প্রকাশ পেল। আমি একটা কথা নির্দিধায় বলতে পারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের গর্ব এবং অহংকার।

    Reply
  27. Mona Pagla

    খুবই সুন্দর ও সাবলিল একটা লেখা, একটানেই শেষ করা যায়। আমি শুধু একটাই আশা করবো মানুষের বিশ্বাস যেন ভঙ্গ না হয়। আমরা স্বপ্ন দেখতে চাই, স্বপ্ন দেখাতে চাই, আর স্বপ্ন এর বাস্তবায়নও চাই। কালোহাত গুলি যেন কোনভাবেই আমাদের স্বপ্নগুলি ছিনতাই করতে না পারে এই আমার প্রত্যাশা।

    Reply
  28. Sujon

    apnar sathe onno kono netrer tulona hoyna. bcoz apnar baba bangali jatir jonok. edesher jonno sob teg korte korte tini tar jibon teg korecen. tai amra chai apni nirapode thakun. edesher sadharon jonogoner valobasa apnar sathe ace. thanks apnar feelings gulu share korar jonno.

    Reply
  29. Jamil Hayder

    মাননীয় প্রধানমনন্ত্রী আপনাকে অনেক ধন্যবাদ লেখাটার জন্য। আপনার লেখাটার সরলতা মুগ্ধ করার মত।

    Reply
  30. MD.B.RAHMAN

    It is a very touchy story. This is a real and true story. i feel so sad. I was in New York when she was arrested.We protest that right way in Astoria Bonoful Restaurant.

    Always I prayed for her.

    Reply
  31. Patriot U.S.A

    Nice to know real picture of your Sub jail life. It was real painful for unwanted false case to make minus one formula from Autocracy. God Bless you. Carry on! The nation stays behind of you.

    Reply
  32. raul

    writing from intuition is good. But in short sentences i would say as a leader She has anger to some people. which is not good sign for BD and its future.

    she could write if she would be prime Minister How she would like to see in her beloved country BD. Where need to reform to change those problem.

    Reply
  33. onamika

    বেশ ঝড়ঝড়ে একটি লেখা। ভাল লাগল। আপনি এখন আমাদের দেশের প্রধান,এ সময়টা এমনই ঝড়ঝড়ে অনুভূতি নিয়ে যেন থাকতে পারি……….এটাই আশা করি।

    অপনার ভাল এবং খারাপ এই দুই সময়ের লেখার মধ্যে একটা ইতিবাচক চিন্তাভাবনা অনুভব করলাম যা আমাকে আলোড়িত করেছে। এই ইতিবাচক মনোভাবের মাধ্যমেই দেশের সমৃদ্ধি কামনা করছি। ভাল থাকুন।

    Reply
  34. Umar Faruk,

    কত সহজ, সাদাসিধে একটি আর্টিকেল, কিন্তু প্রাণ ছোঁয়ানো। একজন রাষ্ট্র নায়ক হিসাবে শেখ হাসিনাকে আমার বরাবর ই ভালো লাগে। জীবনানন্দ দাস জীবত কালীন সময় তাঁর কবিতার আকাশ ছোঁয়া আধুনিকতার জয়গান শুনে যেতে পারেন নি। বিএনপি’র জন্মের পর দেশে প্রবল বিভাজন শুরু হয়েছে। একটি হয়তো শেখ হাসিনা থাকবে না, বিভাজন ঠিক কমে আসবে ঐতিহাসিক সত্য উৎঘাটনের মধ্য দিয়ে কালের গতিতে। সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র-গবেষক ও বাহিরের দেশের অনেক পন্ডিতজনই শেখ হাসিনার রাষ্ট্র নায়োকিত বিভিন্ন বিষয় খুটিয়েখুটিয়ে আলোচনায় নিয়ে আসবেন।

    শেখ হাসিনা আপনার প্রতিজ্ঞা যেন পূর্ন হয়। আপনি জানেন কি বাংলাদেশের নানা অঞ্চলে অনেক অনেক আওয়ামী পরিবার আছে। যারা কোনদিন দলের প্রাথমিক পদ চান নি? আপনার এমপিরা কি তাদের ঠিক খবর নেয়? মর্যাদা দেয়? তাদেঁর কি আওয়ামী দলের পক্ষে সীকৃতি বা ক্রেষ্ট দেওয়া উচিত নয়?

    সুনামগঞ্জের শাল্লায় আওয়ামীলীগ ছাড়া অন্য কোন দল ছিল না কোনদিনও। প্রচুর মানুষ এখন মিসগাইড হচ্ছে। দল ছেড়ে চলে যাচ্ছে। ইচ্ছে হয় আপনার সাথে অনেক কথা বলি, স্থানীয় অনেক তথ্য দেই, জানি সম্ভব না।

    আপনার ইচ্ছার জয় হোক।

    উমর ফারুক
    শাল্লা, সুনামগঞ্জ

    Reply
  35. aaa

    চারদলীয় জোট সরকারের অপশাসন, ক্ষমতার দাপট, দুর্নীতি, লুটপাট, অত্যাচার-নির্যাতনে মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। মানুষের সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। পাশাপাশি চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এমনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যে মানুষ দিশেহারা হয়ে গেছে।

    Ar akon tu sob kichu e 2 gun hoye gache.

    Reply
  36. NurunnaharShireen

    জয়তু প্রিয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আপনি যেন আপনার প্রতিজ্ঞা পূরণে সফল হোন সতত এই প্রার্থনা। জয়বার্তায় ভরে উঠুক আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। জয়বাংলা। ~ নুরুন্নাহারশিরীন ঢাকা বাংলাদেশ

    Reply
  37. রাসেল

    ভাল লাগলো পড়ে। প্রধানমন্ত্রীর বাইরেও একজন মানুষ শেখ হাসিনার ব্যাপারে জানতে বরাবরই খুব ইন্টারেস্টিং লাগে!

    Reply
  38. maruf

    sheikh hasina jodi sahittik o hoten tobuo ter sunam
    akhonkar theke kom hotona….
    take ahoban kori karagarerdin lipi thakle ta prokas korar jonne..
    r bortoman kaler din gulu jotota somvob likhe rakhar jonne..
    ter kajer mullayon amra na korte parleo vobissot nischit korbe..

    Reply
  39. Md. Nazrul Islam Humayun

    It’s really nice to read and know the feeling and hope our honorable Prime minister remember the sentence which she has quoted “আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা দেন, আবার কেড়ে নেন, আবার দেন। ”–বলুন হে আল্লাহ রাজ্যের মালিক তো আপনিই! যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দেন আর যার কাছ থেকে ইচ্ছা কেড়ে নেন। ইচ্ছা মতো সম্মান দেন আর ইচ্ছা মতো লাঞ্ছিত করেন। আপনার হাতেই সব কল্যাণ নিহিত।”

    Reply
  40. pencil

    “অনেকে তো রাষ্ট্রপতি যে বাড়িতে থাকতো সে বাড়ি এক টাকার বিনিময়ে লিখে নিয়েছে।.”
    Honorable Prime minister bolben ki khaleda chara r ke ke 1 takar binimoye bari peyesen?

    Reply
  41. akasher Taraguli

    প্রধানমন্ত্রী কে এখানেই আগের পোস্টে লিখেছিলাম নিয়মিত লিখতে।
    উনি আবারও লিখলেন বলেই ভালো লাগলো। অন্য কমেন্ট পরে করবো।

    Reply
  42. arifeen

    dear madam

    thanks again for an another wonderful writing like the previous one. we should be getting this kind of writings once or at least twice in a week. i would love to read more about your family and daily life during 50s, 60s and 70s which we know a very little. please don’t spare us from reading them. it is always thoughtful to read about the leading icons of Bangladesh and directly from them. thanks should go to BDNEWS24.com as well for creating such an opportunity here. Sharing thoughts from the prime minister of the country is definitely going to make her the people’s leader.

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—