আনু মুহাম্মদ
মওলানা ও ভাসানীর সম্মিলন
মওলানা ভাসানী বলে যাকে আমরা চিনি সে ব্যক্তির প্রকৃত নাম তা নয়। তাঁর নামে এই দুই শব্দের কোনোটিই ছিল না। মওলানা ও ভাসানী এ দুটো শব্দই তাঁর অর্জিত পদবী বা বিশেষণ। মওলানা ছিল তাঁর ধর্মবিশ্বাস ও চর্চার পরিচয়, আর ভাসানী ছিল সংগ্রাম ও বিদ্রোহের স্নারক। তাঁর জীবন ও জীবনের কাজ এমনভাবে দাঁড়িয়েছিল যাতে পদবী আর বিশেষণের আড়ালে তাঁর আসল নামই হারিয়ে গেছে। আসলে তাঁর নাম ছিল আবদুল হামিদ খান। ডাক নাম ছিল চ্যাগা। শৈশবে এ নামই ছিল তাঁর পরিচয়।
প্রাচুর্য্য-বিত্ত-বৈভব-আভিজাত্য যেগুলো রাজনৈতিক-সামাজিক প্রতিষ্ঠায় সাধারণত কাজে লাগে সেগুলোর কোনোটাই তাঁর ছিল না। যাত্রাদল থেকে শুরু করে দেওবন্দ মাদ্রাসা- জীবনের সব অভিজ্ঞতাই তিনি ধারণ করেছিলেন। এ সবের মধ্যে তাঁর সাধারণ যে প্রবণতা তাঁকে পরবর্তীকালে বিশিষ্ট করে তুলেছিল তা হল তাঁর গণসম্পৃক্ততা। এই গণসম্পৃক্ততা তাঁকে নিজের ও চারপাশের সমষ্টির জীবনকে এক করে দেখার ক্ষমতা দান করেছিল। তিনি সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদকে দেখেছিলেন উপর থেকে নয়- চারপাশের পিষ্ট মানুষের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে। দারিদ্র-অসহায়ত্ব-মানবেতর জীবন যে নিয়তি নয়; নির্দিষ্ট কিছু কারণ, ব্যবস্থা ও ক্ষমতা এগুলোকে সৃজন করে, টিকিয়ে রাখে এই উপলব্ধি তাঁকে আর সব মওলানা ও পীরের চেয়ে ভিন্ন করে ফেলে। এ জগতে তিনি হয়ে পড়েন নি:সঙ্গ আর জনতার মধ্যে তিনি পরিণত হন মজলুম জননেতায়।
মওলানা-পীর-মাশায়েখরা আমাদের সমাজে এমনিতেই খুব ক্ষমতাবান। শাসক ও শোষকেরা এদের সবসময়ই পৃষ্ঠপোষকতা দেয় নিজেদের ভিত্তি শক্ত রাখবার জন্য। আর অন্যদিকে বহু মানুষ নিজেদের অসহনীয় জীবনকে সহনীয় করবার জন্য এই ধর্মীয় নেতা বা পেশাজীবীর কাছেই হাজির হন। দোয়া, ভরসা, ঝাড়ফুঁক, তাবিজ দিয়ে তারা শরীরের অসুখ সারাতে চান, সন্তানের নিরাপত্তা চান, বিপদে-আপদে আল্লাহর আশ্রয় চান, জমিদার-জোতদারসহ বিভিন্ন কায়দার জালেমের হাত থেকে বাঁচবার জন্য কোনো অলৌকিক সহায়তার প্রার্থনা করেন। যেখানে চিকিৎসার পয়সা নেই, ডাক্তার নেই, ওষুধ নেই; যেখানে নিজেদের আলাদা শক্তি আছে সেই বোধ স্পষ্ট নয়; যেখানে নদীভাঙন, জমিদার-মহাজন কিংবা জুলুমবাজ ক্ষমতাবানদের অত্যাচার-শোষণে বর্তমান রক্তাক্ত ভবিষ্যৎ ভীতিকর, সেখানে এ পথ ছাড়া মানুষের সামনে আর কী পথ আছে?
পীর-মওলানারা পয়সা নেন, খাওয়া-দাওয়া করেন, এ সব বিষয়ে দাওয়াই দেন এবং মানুষকে ধৈর্য্য ধরতে বলেন, সবর করতে বলেন, কপাল আর বরাত নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে বলেন। নিজেরা নানা গ্রন্থিতে আটকে থাকেন তাঁদের সঙ্গেই যারা সংখ্যালঘু কিন্তু জালেম ক্ষমতাবান। এদের উপরই তাদের নির্ভরতার মধ্য দিয়ে পরস্পর পরস্পরকে রক্ষা করে। সে জন্য এই পীর-মওলানারা মানুষকে ইহকালের দুর্বিষহ জীবনের কারণ নির্দেশ করতে অপারগ এবং অনিচ্ছুক থাকে। নানা ঝড়ঝাপটা আর আগ্রাসনে ক্ষতবিক্ষত মানুষদের কাছে তাঁদের একমাত্র বক্তব্য, পরকালের অসীম সুখ পাবার জন্য ইহকালের বিষয়ে ধৈর্য্য ধারণ করা।
মওলানা ভাসানীও পীর ছিলেন। লক্ষ লক্ষ মানুষ তাঁর মুরিদ ছিলেন। ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গভেদ না থাকাতে তাঁর কাছে কারও আসতে বাধা ছিল না। বিভিন্ন ধর্মের নারী-পুরুষ এবং বলাই বাহুল্য গরীব মানুষ যাঁরা জমিদার-মহাজন আর মালিকশ্রেণির শোষণ-পীড়নে বিপর্যস্ত-ক্লিষ্ট, তাঁর কাছে এসে হাজির হতেন। অন্যান্য ধর্মজীবীর মতো এইসব মানুষের দু:খ-দুর্দশা মওলানার আয়-উপার্জনের উৎস ছিল না। মওলানা দোয়া-পানিপড়া-ঝাড়ফুঁক সবই দিতেন, কিন্তু অসুখ বেশি হলে পরামর্শ দিতেন ডাক্তার দেখাতে, প্রয়োজনে ওষুধ কেনার জন্য টাকাও দিতেন।
আরও যে জায়গায় এসে তিনি অন্যদের থেকে শুধু আলাদা নয়, প্রায় বিপরীতে দাঁড় করিয়েছিলেন নিজেকে সেটিই এক মওলানাকে যুক্ত করেছিল এক ভাসানীর সঙ্গে। মানুষ তাঁর কাছে ভরসা চাইতেন আর বলতেন কিংবা জীবন্ত স্বাক্ষর হিসেবে হাজির হতেন অবর্ণনীয় অন্যায় এবং অবিচারের। এই জীবন নিয়তির বিধান, আল্লাহ এভাবেই বেশিরভাগ মানুষের জীবন নরক করে নির্ধারণ করেছেন আর সব ক্ষমতা সম্পদ দান করেছেন লম্পট জালেমদের হাতে, এই বিশ্বাসচর্চা থেকে তিনি সরে এসেছিলেন অনেক আগেই। বরং তাঁর অবস্থান ছিল এই যে, এই নারকীয় অবস্থা নিয়তি নয়, এটা আল্লাহ-প্রদত্ত বিধান নয়, আর সর্বোপরি মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে এ অবস্থা পরিবর্তন করতে সক্ষম। এই ভিন্ন অবস্থানের কারণেই তিনি তরুণ বয়স থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী অবস্থান নিয়েছিলেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ন্যায়সঙ্গত এটা তাঁর জীবনের আরেক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
ইসলাম ধর্ম তাই অন্য প্রতিষ্ঠিত শাসকেদের পেয়ারা পীর-মওলানা থেকে সম্পুর্ণ ভিন্ন বিশ্লেষণে উপস্থিত হয়েছিল মওলানা ভাসানীর জীবনে, উচ্চারণে ও সংগ্রামে। যা ইসলাম ধর্মের মালিকানায় অধিষ্ঠিত তৎকালীন পাকিস্তান রাষ্ট্র, সামরিক শাসক, জোতদার, মহাজন, সামন্তপ্রভু, তাদের পেয়ারা পীর-মওলানাদের ক্ষিপ্ত করেছিল। তিনি অভিহিত হয়েছিলেন ‘ভারতের দালাল’, ‘লুঙ্গিসর্বস্ব মওলানা’ এমনকি ‘মুরতাদ’ হিসেবে। শাসক-শোষকদের এ ক্ষিপ্ততা আসলে ছিল একটা শ্রেণিগত রোষ। পোষাকে, জীবনযাপনে, বয়ানে, আওয়াজে, সবদিক থেকেই ভাসানী ছিলেন নিম্নবর্গের মানুষ। এবং লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই অভিজাত ইসলামের বিপরীতে তাঁর কাছে অন্য ইসলামের ভাষা তৈরি হয়। ধর্ম যেখানে শাসক জালেমদের একচেটিয়া মালিকানাধীন নিরাপদ অবলম্বন- সেখানে মওলানা ভাসানী সে নিরাপদ দুর্গকেই হুমকির মুখে নিক্ষেপ করেছিলেন।
অন্যায়-অবিচার তো বিমূর্ত নয়; দু:খ-দুর্দশাও অজানা গ্রহ থেকে নেমে আসা ব্যাপার নয়। দায়িত্ব আর সংবেদনশীলতা দিয়ে মানুষের এ সব অভিজ্ঞতা দেখলে উন্মোচিত হয় এক বিরাট রহস্য। আবিষ্কার করা যায় মানুষের মানবেতর জীবনের কারণ, শনাক্ত করা যায় এর পেছনের সামাজিক ব্যবস্থা বা নিয়ম-বিধি। পরিষ্কারভাবে নির্দেশ করা যায় সে সব শ্রেণি-গোষ্ঠী যারা এ সব ব্যবস্থার উপরই দাঁড়িয়ে থাকে, এ সব ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য যাবতীয় শক্তি প্রয়োগ করে, ধর্মও যা থেকে বাদ যায় না। এ থেকে সার্বিক মুক্তিলাভের লড়াই তাই অনির্দিষ্ট হতে পারে না, লক্ষ্যহীন হতে পারে না। এ জন্য দরকার এমন একটা সমাজের চিন্তা করা, স্বপ্ন দেখা ও দেখানো- যার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে মানুষ এ নারকীয় অবস্থা থেকে নিজেকে মুক্ত করবে। ভাসানী তাই লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন সমাজতন্ত্র। সৌদী আরব নয়- যে সমাজ মানুষকে হাসি দিতে পারে মানবিক জীবন দিতে পারে সে রকম সমাজই তিনি লক্ষ্য হিসেবে মানুষের সামনে উপস্থিত করেছিলেন।
সুতরাং অন্যায়-অবিচার আর দু:খ-দুর্দশা থেকে মানুষের মুক্তির জন্য দোয়া-দরূদ নয়, দরকার সমষ্টিগত লড়াইয়ের রাস্তা তৈরি করা, এই উপলব্ধি মওলানাকে একইসঙ্গে সক্ষম করেছিল সংগ্রামের প্রতীক ভাসানী হয়ে উঠতে। যে ভাসানী সবরকম জালেমদের প্রবল দাপট আর আগ্রাসনের সামনে লক্ষ মানুষের স্বর নিজের কন্ঠে ধারণ করে পাল্টা ক্ষমতার প্রবল শক্তিতে রুখে দাঁড়াতেন, এক কন্ঠে জনতার ভেতর থেকে উঠে আসা অসীম শক্তিকে মূর্ত রূপ দিতেন। ক্লান্ত-বিবর্ণ-ক্লিষ্ট মানুষ শুধু নয়- প্রকৃতিকেও প্রাণবন্ত তরতাজা করে তুলত জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের হুশিয়ারি: ‘খামোশ’!
আনু মুহাম্মদ: শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ, গবেষক এবং তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব ।

গত ক’দিন ধরে আমার ফেসবুকের বন্ধুরা ভাসানীগিরি, বঙ্গবন্ধুগিরি, জিয়াগিরি, ইউনূসগিরি ইত্যাদি গিরি-গিরি করে আমার মাথাটা গিরিগিরি করে ফেলেছে! এত গিরি-গিরি করে কী লাভ? এখনই, আজই তো আমাদের চিন্তা করা উচিত কীভাবে সবর্জনীন মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায়! কীভাবে সব নাগরিকের সমান সুযেগ, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায়! কীভাবে দূনীতিকে নির্মূল করা যায়! কীভাবে চোর-বাটপাড়-বদমাশ-সুনাগরিক শনাক্ত করার জন্য প্রত্যেক নাগরিকের আইডি ও ডাটাবেইজ করা যায়! কীভাবে গার্মেন্টসকমীসহ সেবাদানকারীদের ( আমি বলি শিকলহীন দাস ) মানুষের জীবন দেওয়া যায়!
কয়েকটা সাটিফিকেট নিয়ে আমরা তথাকথিত শিক্ষিতরা বেশ আছি। প্রায় প্রতিদিনই মুরগি-পোলাও খাই। আটঘন্টা আরামে ঘুমাই। দেশের আশিভাগ মানুষ কী খায়, কীভাবে থাকে, তাদের ছেলেমেয়েরা কীভাবে বড় হয়, সে খবর কি রাখি? গণতন্ত্র, সুশাসন ও উন্নত জীবনের প্রসঙ্গ এলেই আমি জাপানের উদাহরণ দিই। আমার বন্ধুরা মন খারাপ করে বলে, ‘তোমার কি মাথা খারাপ হয়েছে? কোথায় বাংলাদেশ আর কোথায় জাপান! রাখো তোমার স্বপ্ন দেখা।’
আমি বলি, আবেগ ছেড়ে আত্মবিশ্বাসে ভর করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চিন্তা করলে বাংলাদেশেরও জাপান হয়ে ঊঠতে বেশিদিন লাগবে না। তাই আবার বলব, “পীরগিরি, মুরিদগিরি আর নেতাদের কবর-পূজা ছেড়ে না দিলে কোনো দেশেই গণতন্ত্র আসবে না, মানুষের মুক্তি হবে না।’’
আমাদের দূর্ভাগ্য, আগামী দশ বছরে কে কে মন্ত্রী-মিনিষ্টার-ক্ষমতাধর হবে তা আমরা জানি, কিন্তু জানি না দেশের কতট
আমাদের জন্য মাওলানা ভাসানীর মতো নেতার অবশ্যকতা অপরিহার্য। সুস্থ ধারার রাজনৈতিক জীবনাচারের জন্য এখন তাঁর অনুপস্থিতি প্রবলভাবে অনুভূত। চমৎকার লেখনির জন্য লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ।
লাল মওলানাকে বিনম্র শ্রদ্ধা। এই দুঃসময়ে তাঁর মতো একজন নির্ভীক কৃষক নেতাকে বডই প্রয়োজন।
আমাদের জাতীয় মুক্তি আন্দোলনে তাঁর দশর্ন, মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তাঁর ভূমিকা,তাঁর প্রতি সে সময়ের ক্রীড়নকদের আচরন, স্বাধীনতা পরবতীর্কালে তাঁর প্রতি আমাদের মুল্যায়ন – এসকল বিষয়ের উপর একটি লেখা শ্রদ্ধেয় আনু মুহাম্মদ স্যারের কাছ থেকে আশা করছি।
ফলে ঘরের মুসলমান অধ্যুষিত বিরাট অংশ’কে বাদ দিলেন, তারা নামাজ পড়বে মিলাদ মাহফিল করবে ছি ছি ওটা সংস্কৃতিজাত নয়, কিন্তু দলের এক অংশ হিন্দুরা কীর্তন করবে তা কিন্তু বেশ সংস্কৃতি ভুক্ত ! ফলে এই বিভাজন গণসম্পৃক্ততা আনতে পারেনি। মার্ক্সবাদী আন্দোলনে একটা প্রজ্ঞার, একটা প্রগাঢ় সমস্যা দেয়াল তৈরি করেছে, এখনো করছে ।। আজ দক্ষিণপন্থিদের শক্তি সঞ্চারের পদভার প্রত্যক্ষ করে এটাই স্পষ্ট যে আমাদের সাম্যবাদী নেতৃত্ব কি ভুলই না করেছেন! তাদের নীতির পারাডাইমগুলো নুতন বিন্যাস দরকার, নূতন করে ভাবতে হবে কৃৎকৌশলের।
সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট-দুর্দশা লাঘবের জন্য শুধু প্রার্থনার হাত নয়, মুষ্ঠিবদ্ধ হাত উত্তোলিত হয়েছিল কাগমারি সম্মেলনে। সমাজের নিয়ামক শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে এ ছিল নতুন নির্মাণের উদাত্ত আহ্বাণ।
আমরা, আজকে অতীত থেকে খুব করে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলছি। অতীতের মহত্তম অর্জনগুলো বাংলিশ কালচারের চাপে হারিয়ে যাচ্ছে। মানুষ যখন হারায়, বুঝে না। বুঝে যখন, তখন অনেক দূরে।
আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ, হারানো পাতা আমাদের সামনে মেলে ধরবার জন্য।
এখন এসব পড়ে পড়ে কারো কারো ঘুম যদি একটুখানি ভাঙ্গে তো, পৃথিবী বাঁচে, বাঁচে মানুষও।
খুব ভালো লেখা।
আমরা সঙ্কীর্ণ গণ্ডির মধ্যে ঘুরপাক খাছি শুধু। সম্পূর্ণ নজরুল ইসলামকে যেমন আমরা ধারণ করতে পারিনি আমাদের চিন্তায় ও কর্মে তেমনি মওলানা ভাসানীকেও ধরতে পারিনি।
আমার বাপ দাদারা ভাসানী ন্যাপ করতেন। ভাসানীর গণসম্পৃক্ততা নিয়ে অনেক মূল্যবান কথা আপনি বলেছেন! আমি এই পোস্ট মারক্সিস্ট এর প্রিযমে তাঁকে কিন্তু দেখছি একজন মার্ক্সিস্ট হিসেবে। দেশের মধ্যবিত্ত শিক্ষিত মুসলমানের এই সংখ্যাগড়িষ্ট সম্প্রদায় থেকে আজ পর্যন্ত কেউ কি আমরা শ্রেণীচূত্য হতে পারিনি , শ্রেণীহীন মাওলানা কোন দিন লোভ লালসা ব্যাতিরেকে শ্রেণীচ্যুত থেকে গেছেন আজীবন! তিনি তাঁর ধর্ম ঠিক রেখে সমাজবাদী আন্দোলনে যে ভূমিকা রেখে গেছেন তা কিন্তু একটা প্রায়োগিক উদাহরণ তৈরি করে গেছেন!তেমনি ছিলেন মাওলানা আজমী! আমাদের শিক্ষিত মার্ক্সবাদীরা ভাসানীর সমালোচনাও করতে পিছপা হতেন না। এই শিক্ষিত মাক্সিস্ট’রা কিন্তু আপামর গণসম্পৃক্ততা আনতে পারেননি, তারা রাশান তাত্ত্বিকতার নিশানায় সকল কিছু দেখতে প্রয়াসী ছিলেন ! ফলে ঘরের মুসলমান অধ্যুষিত বিরাট অংশ’কে বাদ দিলেন, তারা নামাজ পড়বে মিলাদ মাহফিল করবে ছি ছি ওটা সংস্কৃতিজাত নয়, কিন্তু দলের এক অংশ হিন্দুরা কীর্তন করবে তা কিন্তু বেশ সংস্কৃতিভুক্ত !
মৌলানা ভাসানী: সংগ্রামের নাম। এদেশের বামপন্থী আরো সরাসরি বললে, কমিউনিস্টদের, তিনি যেভাবে আগলে রেখেছিলেন, তাদের সাথে সর্বদাই একাত্মতা ঘোষনা করেছেন, সে ঋণ কমিউনিস্ট আন্দোলন থেকে সুবিধাবাদের কাছে আত্মসমর্পনকারীদের কখনো শোধ হবেনা। আজকের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে, আমাদের দূর্ভাগ্য, মওলানা ভাসানী নেই।
ভাসানীর চেতনা তো মিউজিয়ামেও ঠাই দিতে পারলাম না আমরা, তিনি মারা গেছেন কবে এইটাও অনেক বাংলাদেশী জানে না, জানবেই বা কিভাবে ? জন্মের পর থেকে একজন শিশুকে যদি বোঝানো হয় ইংরেজিতে ২টা অক্ষর কাজে লাগে M আর Z তাহলে অন্য অক্ষর জেনে লাভ ই বা কি?
চেতনা-সাম্যবাদ-ন্যায়-নীতি-আদর্শ এগুলো এখন “Red Tape” এ আঁটকে গেছে স্যার…