মাসুমা বিল্লাহ
নারীর নীরব মৃত্যু: সভ্যতা আর বিবেক যখন নর্দমায়
খবরটি ছিল শহরের যাত্রাবাড়ি এলাকায় একটি ডাষ্টবিন থেকে ৪ নবজাতকের মৃতদেহ উদ্ধার । হ্যাঁ, নবজাতকরা ছিল মানব নবজাতক। সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্বরত কর্মকর্তার ধারনা মতে আশেপাশের কোন ক্লিনিকে গর্ভপাত ঘটিয়ে মৃতদেহগুলো ডাষ্টবিনে ফেলে রাখা হয়েছে ।
গর্ভপাত কতটা নৈতিক আর অনৈতিক আমি সেই বিচারে যাচ্ছি না। গর্ভপাতের পক্ষে আর বিপক্ষে পৃথিবী দ্বিধা বিভক্ত সেই ম্যালথাসের আমল থেকেই । আমার প্রশ্ন হলো, ডাষ্টবিনে কী পরে ছিল—- মানব শিশু নাকি মানব বিবেক? সভ্যতা আর স্বাধীনতা আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে—আস্তাকুঁড়ে ?
বেসরকারী হিসেব মতে আমাদের এই অতি প্রিয় ঢাকা শহরে প্রায় ৫০০ নার্সিং হোমে/ক্লিনিকে প্রতিদিন গড়ে অন্ততঃ ৩০০ গর্ভপাত হয় । এর মধ্যে কতটি গর্ভপাত আইন মেনে বৈধ উপায়ে সঠিক পন্থায় করা হয় তা স্পষ্টতঃই অজানা; বোধকরি এর সঠিক পরিসংখ্যান সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের কাছেও নেই । এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বিভিন্ন গবেষনায় পাওয়া তথ্য মতে বাংলদেশে যত মাতৃমৃত্যুর ঘটনা ঘটে তার ১৫% মৃত্যুর জন্য দায়ী অনিরাপদ গর্ভপাত এবং তদসংক্রান্ত জটিলতা । বেসরকারী হিসাব মতে বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে ২১,০০০ মা সন্তান জন্মদান সংক্রান্ত জটিলতায় মারা যায়, সুতরাং ১৫% অর্থাৎ ৩১৫০ জন মা মারা যাচ্ছে বছরে শুধুমাত্র অনিরাপদ গর্ভপাতের কারনে—-এটা কি চলমান সামাজিক রাজনৈতিক অস্থিরতায় মৃত্যুবরণকারী যে কোন সংখ্যার চেয়ে কম ভীতিপ্রদ ? দেশে চলমান অপঘাতে মৃত্যুর মিছিলে এ এক নীরব সংযোজন । এ তো গেল মায়ের মৃত্যু— পূর্বাপর শিশুর মৃত্যুর হিসাব তো নর্দমা আর আস্তাকুঁড়ে সকলের অলক্ষ্যে মিলয়ে যায় ।
বাংলাদেশে গর্ভপাত কি আইনসিদ্ধ ? কিছু বিশেষ অবস্থায় বাংলাদেশে গর্ভপাতকে আইনসিদ্ধ করা হয়েছে । বাংলাদেশে প্রচলিত গর্ভপাত আইনটি মূলতঃ পেনাল কোড অব ইন্ডিয়া ১৮৬০ এর উপর ভিত্তি করে প্রনীত এবং এর ধারা ৩১২-৩১৬ কিছু বিশেষ অবস্থায় এবং পরিপ্রেক্ষিতে গর্ভপাতকে বৈধ করে । স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে পাকিস্তানী নরপশুদের গনধর্ষনের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের তৎকালীন কর্তৃপক্ষ আইনটি গ্রহন করে । এখানে সর্বাধিক গুরুত্বের সাথে যা খেয়াল করার বিষয় তা হলো শুধুমাত্র মায়ের মৃত্যু ঝুঁকির মত পরিস্থিতি তৈরি হলেই গর্ভ ধারনের ৮ সপ্তাহের মধ্যে মিনিস্ট্রুয়াল রেগুলেশন করা যাবে । এক্ষেত্রে অন্ততঃ দুই জন রেজিস্টার ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ডাক্তার বা প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত প্যারামেডিক ব্যতিরেকে এটি সম্পন্ন করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ । বাংলাদেশে গর্ভপাতকে কখনোই পরিবার পরিকল্পনার উপায় হিসেবে দেখা হয়নি এবং কোন নারীকে তার অমতে গর্ভপাতে বাধ্য করা হলে দোষী ব্যক্তির ১০ বছরের জেল দেয়ার বিধান রয়েছে ।
গর্ভপাত নিয়ে আমার এই অবতারনা কম বেশী সকলের জানা আছে ; তবে কেন এই নীরবতা । তবে কি প্রচলিত অভ্যাসে মানবতা শংকাহীন ? তবে কি নর্দমায় মানব অবয়বে দৃশ্যমান ঐ নিথর দেহগুলোও মানবতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে না ? ভেজালের ভিড়ে আমাদের মানবিক অনুভূতিগলোতেও কি তাহলে পচন ধরেছে ? প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে তবে কে কী করলেন ? রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্ংস্থা কি আদৌ বিষয়টা আমলে নিয়েছেন ?
এই বিশেষ ঘটনাটি যদি পর্যালোচনা করি, এর সাথে কয়টি পক্ষ সরাসরি জড়িত ? যে নারী গর্ভপাত করিয়েছে এবং তার পরিবার (যদি পরিবার থেকে থাকে), যারা বা যে স্থানে গর্ভপাতের ঘটনাটি ঘটেছে এবং গর্ভপাতের প্রক্রিয়াটি কতটা স্বাস্থ্য সম্মত ছিল ? এরপর আসে আইনগত বাধ্যবাধকতা এবং অপরাপর বিষয় সমূহ । যিনি বা যার গর্ভপাতটি করতে হয়েছে, তিনি কি এটা স্ব-ইচ্ছায় করেছেন ? কেন তিনি গর্ভপাত করালেন ? গর্ভপাত করানো ছাড়া অন্য কোন উপায়ে কি তিনি অনাকাঙ্খিত গর্ভধারনটি রোধ করতে পারতেন না ? তার গর্ভপাতটি কি স্বাস্থ্য সম্মত উপায়ে হয়েছে ? এতে ঐ নারীর কি কোন স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি রযেছে ? গর্ভপাতটি কি প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত ব্যক্তি দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে ? গর্ভপাত অথবা প্রসব সম্পন্ন হওয়ার পরে নবজাতকের মৃতদেহটি কেন নর্দমায় ফেলে দেয়া হলো ? এতে সংশ্লিষ্ট ঐ নারী শারীরিক ও মানসিকভাবে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ? যে ক্লিনিক বা প্রতিষ্ঠান গর্ভপাতটি করিয়েছে, তাদের কি আইনগত আনুমোদন আছে ? গর্ভপাত করানোর আগে তারা কি চিকিৎসকের পরামর্শ নেয় ? গর্ভপাত করানোর জন্য তি তারা প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত কর্মী নিয়োগ করে ? গর্ভপাত করানো সংক্রান্ত কোন জবাবদিহিতার পর্যায় কি তাদের সম্মুখীন হতে হয় ? তারা প্রতিটি গর্ভপাত থেকে কী পরিমান মুনাফা লাভ করে ? এমনি অপরাপর অনেক অনেক প্রশ্ন কিন্তু রয়েই যায়।
আমাদের ধর্মীয় এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক শিক্ষা ও আচার আমাদেরকে এসব বিষয়ে নীরব থাকতে উৎসাহিত করে । কিন্তু এই নীরবতা তো এখন জগদ্দল পাথরের মতই চেপে বসেছে। এখন আবার আমাদের ভূ-রাজনীতি, আন্তর্জাতিক আগ্রহ-অনাগ্রহ-শিষ্টাচার, দাতা সংস্থাদের উৎসাহ-অগ্রাধিকার ইত্যাদি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত আছে আমাদের জনসংখ্যা সমস্যা এবং এর জন্য প্রনীত সকল আইন-কানুন-নীতির সাথে । তা না হলে বাংলাদেশের মত একটি দেশ যেখানে জনসংখ্যা প্রথম এবং প্রধান আলোচ্য বিষয় হওয়ার কথা, সেখানে জনসংখ্যা নিয়ে সরকারী কাজকর্ম এত স্তিমিত কেন ? দাতা সংস্থারা জনসংখ্যা খাতে টাকা ঢালতে নিরুৎসাহী কেন ? কোন সামাজিক রাজনৈতিক বিতর্কে জনসংখ্যা নিয়ে টু শব্দটি নেই কেন ? আনমেট নিড (যারা জন্ম নিয়ন্ত্রন পদ্ধতি ব্যবহার করতে চায় কিন্তু তা সরবরাহের অভাবে সংগ্রহ করতে পারে না) প্রতি বছর বাড়ছে কেন ? আমরা যদি প্রত্যেক শিশুর হাতে বই দিতে পারি, সকলকে স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃনিস্কাশনের আওতায় আনতে পারি, তবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে টাকা খরচ করে জন্মনিয়ন্ত্রন সামগ্রী কিনে আনতে পারবো না কেন ? এজন্য কেন আমরা প্রতি বছর বিদেশী ঋনের টাকার উপর নির্ভর করবো ?
আমরা গরীব, আমাদের নারীরা আরও গরীব…গরীবতর । এদেশে মানুষের জীবনের দাম সবচেয়ে কম…মানুষ মরে বেশুমার…ট্রাকের নীচে, বাসের নীচে, লঞ্চ ডুবে, পাহাড় ধসে, মিছিলে মিটিং এ, পুলিশের অত্যাচারে, নীরবে গোপনে গুম হয়ে, সীমান্তে পাশের দেশের বড় ভাইদের গুলিতে….আর নারীর জীবনের মূল্য তো প্রশ্নাতীত ভাবে নগন্য…। তাইতো এ দেশের নারীদের অনাগত সন্তানদের যার যখন খুশী গলা টিপে হত্যা করে নর্দমায় ফেলে দেয়ার অধিকার আছে । এদেশের নারীরা গরীব, তাদের শিক্ষা নেই, অর্থ নেই, তারা মানবাধিকারের জটিল তত্ত্ব বুঝে না, তাই তাদের জরায়ু ক্ষত বিক্ষত করার অধিকার পেয়ে যায় সবাই, কারন এজন্য কাউকে জবাবদিহি করতে হয় না, ভীত হতে হয় না । গরীব আসহায় অবুঝ এই নারীর আবেগ অনুভূতি ভালবাসা সব অন্যের কাছে, কখনও স্বামী, কখনও পিতা, কখনও সমাজ, কখনও রাষ্ট্র কখনও বা আন্তর্জাতিক আগ্রহ আর স্বার্থের কাছে বরগা দেয়া–যে যখন খুশি দুমড়ে মুচড়ে নর্দমায় নিয়ে ফেলে।
আমি সন্তান জন্ম দিব কি দিব না……জন্ম নিয়ন্ত্রন পদ্ধতি গ্রহন করবো কি করবো না…..এটা আমার অধিকার …এটা আমার জরায়ুর অধিকার…এটা মানবাধিকার । রাষ্ট্র আমার জন্য জন্ম নিয়ন্ত্রন পদ্ধতি গ্রহনের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে দায়বদ্ধ এবং আমাকে নিয়ে আমার অনাগত সন্তানকে নিয়ে আমার জরায়ুকে নিয়ে যারা মুনাফা করছে তাদেরকে আইনগতভাবে প্রতিহত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ । যদি আমরা নিজেদেরকে সভ্য বলে দাবী করি, তবে নারীকে নিয়ে নীরব মৃত্যুর এই কারবারের পিছনের নীরবতা ভেঙ্গে আওয়াজ তুলতে হবে…জোড়ালো আওয়াজ। রাষ্ট্রের কর্তা ব্যক্তিদের সজাগ হতে বাধ্য করুন । নয়তো সভ্যতা আর বিবেককে একদিন খুঁজতে হবে নর্দমায় ।
মাসুমা বিল্লাহ: গবেষক, বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত।

সতি খুব খারাপ লাগল। ব্যাপারটা এত সহজ নয়।
খুব ভালো লাগল।
বেসরকারি হিসেব মতে, আমাদের এই অতিপ্রিয় ঢাকা শহরে প্রায় ৫০০ নার্সিং হোমে বা ক্লিনিকে প্রতিদিন গড়ে অন্ততঃ ৩০০ গর্ভপাত হয় ।
বাংলাদেশের মানুষ ধর্ম-কর্ম বেশি করে, আবার কুকাজও বেশি করে। তো, সে ক্ষেত্রে প্রটেকশন নিলেই তো হয়! যৌনতা সম্পর্কে এরা একদম অজ্ঞ তা তো নয়….
সুন্দর লেখা। ধন্যবাদ।
ইসলামই মানুষের মুক্তির সবচেয়ে বড় উপায়। এর মাধ্যমে নারীর অধিকারও সুরক্ষিত হবে। তাই ইসলামকে আগে জানতে হবে। পশ্চিমের অন্ধ অনুকরণ নয়।
এ বিষয়ে আমাদের কোনও মানবাধিকার সংগঠনকে জোরালো আওয়াজ তুলতে দেখি না। এক রকম খবরের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকতে দেখা যায়। অথচ বিষয়টি নারীর সুস্থভাবে বেঁচে থাকা এবং জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন। গর্ভপাত করতে গিয়ে যদি কোনও সমষ্যা হয় তাহলে তার দায়ভার কিন্তু স্বামী বা সমাজের কেউ নেয় না। যে সব হাসপাতাল বা ক্লিনিক অবৈধ গর্ভপাতে সাহায্য করে অর্থের বিনিময়ে তাদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, আমার মনে হয়, ক্লিনিকের নারীরাই গর্ভপাত ঘটানোতে সাহায্য করেন। অথচ তারা একবারও এর বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে ওই মহিলাকে সতর্ক করেন না। একজন নারী হয়ে এভাবে অর্থের জণ্য আরেক নারীর জীবনকে বিপদের দিকে ঠেলে দেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত সেটাও কিন্তু একটা প্রশ্ন। এ জন্য আমাদের সাবইকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। যেভাবে আমরা মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছি সেইভাবে এর বিরুদ্ধেও লড়াই করতে হবে।
এটা অতীতে চলেছে, বর্তমানে চলছে, আগামীতেও চলবে। কারণ যতদিন পর্যন্ত না আমাদের সমাজের অপসংস্কৃতি দূরীভূত হয় ততদিন পর্যন্ত এ সমস্যা থেকে যাবে।
সন্তান জস্ম দেওয়া যে কত ভাগ্য এবং কষ্টের তা যদি তারা জানত……….. তখন তারা হত সত্যিকারের মানুষ।
লেখাটা পড়ে ভালো লাগল!
খুব ভালো লিখেছেন আপা।
আপনার সার্বিক মঙ্গল কামনা করি।
আপা, লেখাটা ভালো লাগল। ধন্যবাদ।
এটা লেখিকার একান্ত নিজের ভাবনা। যে দেশে ৯০% মুসলিম কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলাম থাকে না, ইসলাম উঠিয়ে দিলেও মানুষ চুপ করে থাকে সে দেশে এমন হবেই। আমি জানি আমার মন্তব্য অনেকের কাছে অপ্রাসঙ্গিক মনে হবে কিন্তু এটাই সত্য। একটু বোঝার চেষ্টা করে দেখুন।
প্রিয় মাসুমা,
জরায়ুর স্বাধীনতা? তাহলে আরও আরও অবৈধ শিশুকে ডাস্টবিনে পাওয়া যাবে। আপনি তা চান না নিশ্চয়ই? কাজে কাজেই, জরায়ুর স্বাধীনতা নয়, এর জন্য ধর্মীয় অনুশাসন মানা দরকার। আমার বিশ্বাস, আপনি পশ্চিমা সমাজকে অনুসরণ করবেন না। সেখানে সন্তানের ক্ষেত্রে পুরুষ-সঙ্গী কোন দায় নেয় না। বরং লিভ-টুগেদারের নামে নারীর সঙ্গ ঠিকই উপভোগ করতে চায়। এক সুন্দর ভোরে পুরুষ-সঙ্গীটি নারীকে বলে দিতে পারে, ‘আমি তোমাকে পছন্দ করি না। সো, গুডবাই।’ এই ধরনের যৌন-স্বাধীনতার পর যে সন্তান জন্ম নেয়, তার জন্য নারীকেই অনেক দায় নিতে হয়।
প্রিয় মাসুমা, এখানে ধর্মের কী ভুমিকা? এটা কালচারের ব্যাপার। যারা এ কাজ করেছে তারা নরঘাতক। ওদের ব্যাভিচারের দায়ে ফাঁসি চাই।
আপনাকে শুভেচ্ছা।
রাজধানীতে যারা গর্ভপাত ঘটায় তারা কিন্তু অশিক্ষিত কিংবা গরীব নারী নয়। নারী সম্পর্কে আপনার মনোবেদনা এই চার মৃত নবজাতকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আমার ধারণা উচ্চবিত্তের পাপের ফসল এই চার মৃত নবজাতক। তবে কথিত প্রেমিক-প্রেমিকা এদের অবস্থার জন্য দায়ী হতে পারে।
আপনার লেখার জন্য ধন্যবাদ।
আমার ধারণা উচ্চবিত্তের পাপের ফসল এই চার মৃত নবজাতক।
‘আমাদের ধর্মীয় এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক শিক্ষা ও আচার আমাদের এসব বিষয়ে নিরব থাকতে উৎসাহিত করে।’
এ দেশে অনেক ধর্ম আছে। আপনি কোন ধর্মের কথা বলছেন জানি না। এ দেশের প্রধান ধর্ম ইসলাম। সুতরাং আপনি যদি ইসলামকে বুঝিয়ে থাকেন, তবে অনুরোধ আগে জানুন ইসলাম কী বলে তারপর লিখুন। কোনও বিষয়ে না জেনে লিখলে কাউকে মর্মাহত করা কিংবা নিজেকে হাসির পাত্র বানানো ছাড়া আর কিছুই হয় না। আমার কথায় আঘাত পাচ্ছেন, সে জন্য দুঃখিত। কিন্তু সত্য বড় তিক্ত। তাই কথাটি লিখেছি। শুভকামনা রইল।
আমিও একমত। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অবৈধ গর্ভপাতে নিরুৎসাহিত করে কে বলল? আমার তো মনে হয় আপনি শুধুমাত্র আপনার লজিক দাঁড় করানোর জন্য কথাগুলো বলেছেন। আপনার আলোচ্য বিষয়ের সঙ্গে একমত হলেও ধর্মীয় যে তথ্য দিয়েছেন তাতে একমত হতে পারলাম না।
ধন্যবাদ পারভেজ ভাই, আপনি আমার আগেই কমেন্ট করে দিয়েছেন। আমাদের ধর্ম এইসব ব্যাপারে খুবই কঠোর তা যদি এই ধরনের মানুষেরা বুঝত, তাহলে হয়তো ইহকাল-পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত হত না। আল্লাহু সবাইকে তার কাজের প্রতিফল বোঝার সঠিক জ্ঞান দান করুন।
আপনিই না হয় অনুগ্রহ করে এ বিষয়ে প্রামাণিক কিছু লিখুন। আমরা তো লেখকের আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেওয়া বক্তব্য গ্রহণ করছি।
“ গর্ভপাত কতটা নৈতিক আর অনৈতিক আমি সেই বিচারে যাচ্ছি না। ”
এই দৃষ্টিভঙ্গি কি আধুনিক না অসুস্থ? কারণ একজন সুস্থ মানুষ প্রথমেই প্রতিটি কাজের যথার্থতা বিচার করে নেয়।
আমিও এর সঙ্গে একমত।
একটি ডাষ্টবিন থেকে ৪ নবজাতকের মৃতদেহ উদ্ধার।
যেখানে করুণ একটা সামাজিক অবস্থার কথা বর্ণনা করছেন সেথানে আপনার এ রকম একটা ছবি কি অনাকাঙ্ক্ষিত নয়?????
সঙ্গত কারণেই আপনি ক্ষুদ্ধ-শঙ্কিত। আমাদের এই অবক্ষয়ের আপাত কারন জবাবদিহিতার অভাব। কেননা আমাদের যাদের কাছে জবাবদিহি করতে হয় তাদের কাছ থেকে কোনও না কোনও ভাবে পার পওয়া যায়। আর তাই অসৎ মানুষ নির্বিঘ্নে অনৈতিক কাজগুলো করে বেড়ায়। আইনকানুন নিয়মের বেড়াজালে যতই মানুষকে বাঁধুন না কেন, এর ফাঁকফোকর থাকবেই। এই ফাঁকফোকর গলে এরা বেরিয়ে যাবে- যদি না তারা বিশ্বাস করে জবাবদিহি অবশ্যম্ভাবী। এই বিশ্বাস জন্ম দিতে পারে একমাত্র ধর্মবিশ্বাস ও তাকওয়ার জীবনযাপন। আমাদের দেশে নারীদের মাথা এমনভাবে ধোলাই করা হয়েছে যে তারা ধর্মশাসনের কথা শুনলেই ভয়ে আতকে ওঠেন। এই মগজ ধোলাইয়ের সুযোগ তারা পেয়েছেন ধার্মিক নামধারী লোকেদের ধর্মের অপব্যবহারের জন্য। “আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক-সাংস্কৃতিক শিক্ষা ও আচার আমাদের এ সব বিষয়ে নীরব থাকতে উৎসাহিত করে” এ বক্তব্যটি ঠিক না। আমাদের ধর্মীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক আচার আমাদের এই সব কাজ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেয়। বিশেষভাবে যে সব কারণে এই ধরনের অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয় মানুষ সে সব কাজের নিকটবর্তী হতে নিষেধ করে।
তাই আসুন মানুষকে সৎ ও নৈতিক জীবনযাপনের দিকে আহ্ববান জানাই।
আপনার যুগোপযোগী লেখার জন্য ও মানুষের নৈতিক উন্নয়নের আকাংখার জন্য আপনাকে সাধুবাদ জানাই।
অসাধারণ। আমাদের এই নৈতিক বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরার জন্য।
বিষয়টি জেনে খুবই দুঃখিত। লেখকের মতের সঙ্গে পুরোপুরি একমত।
আমাদের দেশের মানুষ হচ্ছে জানোয়ারের চেয়ে বেশি….. মানুষকে মুরগির মতো জবাই করে…..