আরিফ জেবতিক
সনদধারী সাংবাদিক চাই
বিষয়টা আমার জন্য বিব্রতকর। দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত থেকে আমি নিজে যখন কিছু সাংবাদিকের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড দেখে সমালোচনামূখর হই, তখন আমার সহকর্মীরাই আমার দিকে তেড়ে আসেন। আমাদের এই দেশে সবকিছু গোষ্ঠিবদ্ধভাবে বিবেচনার এক সংস্কৃতি আমরা চালু করেছি। যেখানে যা-ই ঘটুক না কেন আমরা সবগুলোকে নিজেদের দলসূত্রে বেঁধে ফেলি। এর মাঝ দিয়ে হয়তো আক্রান্ত হওয়া থেকে কিছুটা রক্ষাী পাওয়া যায়, কিন্তু নিজেদের দায়টুকুর দিকে নজর দেয়া হয়ে উঠে না। সব সাংবাদিক নির্যাতনই অপরাধীদের কাজ নয়, কখনো কখনো আমাদের পেশার প্রতি অন্য মানুষের দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ ও হতাশা থেকেও এটি হতে পারে।
আমরা যদি একে বারংবার ‘সাংবাদিক নির্যাতন’ বলে এড়িয়ে যাই, তাহলে এরকম ঘটনা বন্ধ হবে না। আমাদেরকে খুঁজে দেখতে হবে সাংবাদিকদের সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনোভাব আসলে কী?
নিজ অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, এই মনোভাব খুব আমোদদায়ক নয়। একশ্রেনীর ‘তথাকথিত সাংবাদিকদের’ কর্মকা-ে গোটা দেশের মানুষ ধীরে ধীরে এই পেশার প্রতি শ্রদ্ধা হারাচ্ছে। সম্প্রতি হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর সংবাদ মাধ্যমগুলোর বিভীষিকাময় আচরণ দেখে আমি নিজেই স্তম্ভিত। হুমায়ূন-শাওন পর্ব শেষ করে এখন গুলতেকিনকে নিয়ে শুরু হচ্ছে। হুমায়ূনের সন্তানদের ফেসবুক থেকে ব্যক্তিগত ছবি নিয়ে অবলীলায় ছাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। হুমায়ূনের চিকিৎসা নিয়ে মনের মাধুরী মিশিয়ে রিপোর্ট করা হচ্ছে। আমাদের রুচি বিকৃতি কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাঁর একটি উদাহরণ দেই।
টিভিতে দেখলাম, হুমায়ূনের দাফন শেষে শাওনকে প্রশ্ন করা হচ্ছে, ‘আপনার শ্বাশুড়ি কেন দাফনে এলেন না? কবরের জায়গা নিয়ে জটিলতায় কি উনি রাগ করেছেন? নুহাশ পল্লীর মালিকানা এখন কার? এটা কার থাকবে?’ ইত্যাদি। সদ্য স্বামীহারা একজন নারীকে কী প্রশ্ন করা যায়, কতটুকু প্রশ্ন করা যায় এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র ধারণা না নিয়ে একদল মানুষকে আমরা সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এই সমাজে ছেড়ে দিয়েছি, এটা কতটুকু যৌক্তিক হয়েছে সেটা ভেবে দেখার প্রয়োজন আছে। আমার মনে আছে ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে গনতন্ত্রী পার্টির চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের বাড়িতে রহস্যজনক অগ্নিকা- ঘটলে তাঁর একমাত্র তমোহর ইসলাম ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং গুরুতর আহত নুরুল ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শরীরের একটা বড় অংশ পুড়ে যাওয়া মুমুর্ষ নুরুল ইসলাম তখনও জানতেন না যে তাঁর সন্তান মারা গেছেন। নুরুল ইসলামের মুখের সামনে মাইক্রোফোন নিয়ে আমাদের এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিল, ‘আপনার সন্তান মারা যাওয়ায় আপনার অনুভূতি কী?’ হায়, কী নিষ্ঠুর হতে পারে কিছু মানুষ!
এগুলো কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা? অনেকেই হয়তো তা-ই বলবেন, কিন্তু বিচ্ছিন্ন ঘটনার প্রকোপ যখন অনেক বেশি হয়ে যায়, তখন সেটা এড়িয়ে যাওয়ার আর সুযোগ থাকছে না।
এই সমস্যার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হরেদরে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহারের সুযোগ। এই সুযোগ নিয়ন্ত্রন করতে হবে এবং এই নিয়ন্ত্রন আরোপে প্রকৃত সাংবাদিকদের সাহসী উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। মিডিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিভাবান তরুণরা এই সেক্টরে আসছেন না বলে অনেক সময়ই প্রায় অযোগ্য কিছু মানুষকে দিয়ে কাজ চালানো শুরু হয়েছে। এদের কোনো প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করেনি অধিকাংশ চাকুরিদাতা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রশিক্ষণ বিহীন, সাংবাদিকতা সম্পর্কে নূন্যতম জ্ঞানবিহীন অদক্ষরা সদ্য শিং গজানো বাছুরের মতো বুকে আইডি কার্ড ঝুলিয়ে উন্মত্তের মতো আচরণ করছে। এরা রাস্তায় ট্রাফিক আইন ভাঙে, সরকারি বেসরকারি অফিসে গিয়ে ধমক দিয়ে কাজ করতে চায়।
এর বাইরে আছে স্বঘোষিত ধান্দাবাজদের ‘সাংবাদিক’ হয়ে ওঠা। পাড়া মহল্লার সাময়িকী কি এক পাতার কিছু একটা ছাপিয়েই কিছু লোক স্বঘোষিত সাংবাদিক হয়ে পড়ছে। যেনতেন প্রকারে আন্ডারগ্রাউন্ড একটি পত্রিকা বের করে চলছে ব্ল্যাকমেইলিং আর চাঁদাবাজির উৎসব। এসব ‘সাংবাদিক’দের দায় নিতে হচ্ছে প্রকৃত সাংবাদিকদেরকে।
পাঠক কি জানেন, ঢাকা শহরে ‘প্রাইভেট’ নাম দিয়ে যে হাজার হাজার সিএনজি চালিত ধূষর অটোরিক্সাগুলো চলছে, এগুলোর অনুমোদন নেয়া হয়েছে এসব ভূইফোঁড় পত্রিকা আর সংবাদ সংস্থার নামে। ঢাকা শহরে যতগুলো ‘সাংবাদিক’ স্টিকার লাগানো মাইক্রোবাস চলাচল করে, এর অধিকাংশই আসলে রেন্ট-এ-কারের গাড়ি, এর সঙ্গে প্রকৃত সাংবাদিকদের কোনো সম্পর্কই নেই।
এখন কথা হচ্ছে এসব সামলাবে কে? আমি এজন্য একটি নিয়ন্ত্রনকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিধিমালা তৈরির পক্ষে। সব পেশারই লাইসেন্স প্রদানকারী একটি প্রতিষ্ঠান থাকে। আপনি এমনকি চিকিৎসা বিজ্ঞানের সব বই পড়ে ঝালাপালা হয়ে গেলেও চিকিৎসা শুরু করার আগে আপনাকে সনদ নিতে হবে। এই সনদ গ্রহনের মাধ্যমে আপনি নূন্যতম নিয়মনীতি ও পেশাগত সততার প্রতি অঙ্গীকার করতে হয়। আপনি আইন পাশ করলেও সরাসরি বিচার কার্যে অংশ নিতে পারবেন না, এজন্য আপনাকে তালিকাভুক্ত ও সনদধারী আইনজীবি হতে হবে। একাউন্টেন্ট হতে হলেও আপনাকে শুধু হিসাববিজ্ঞান জানলে চলবে না, সংশ্লিষ্ঠ পেশাগত প্রতিষ্ঠানের সনদ নিতে হবে।
এসব সনদের কারণে একজন পেশাজীবি তাঁর নিজের পেশার প্রতি সৎ থাকার অঙ্গীকার করেন। সনদ থাকার কারণে আমরা সাধারণ মানুষরা বুঝতে পারি যে এই চিকিৎসক কি আইনজীবি আসলেই আমাকে সেবা দেয়ার যোগ্যতা অর্জণ করেছেন কী না। সেবা প্রদানে গুরুতর কোনো অনৈতিকতা থাকলে আমরা বিচারপ্রার্থী হতে পারি এবং দায়ী ব্যক্তির সনদ বাতিল করে তাঁকে পেশা থেকে সরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা আছে। তাই এই ধরনের পেশাদারিত্বের নিবন্ধন ও সনদ একজন মানুষকে নিজ পেশায় দায়িত্বশীল হতে বাধ্য করে।
সাংবাদিকতাও একটি স্পর্শকাতর পেশা। যে কারো হাতে যেভাবে ছুরিকাঁিচ তুলে দিয়ে অপারেশনের সার্জন বানিয়ে দেয়া গ্রহনযোগ্য হয় না, একই ভাবে যে কারো হাতে কলম-ক্যামেরা-বুম তুলে দিয়ে তাঁকে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারের দায়িত্ব দেওয়াটাও গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত নয়।
আমি আশা করি সাংবাদিকদের পেশাদারিত্বের সনদ দেয়ার এখতিয়ার দিয়ে একটি কর্তৃপক্ষ তৈরির ব্যাপারে মিডিয়া সংশ্লিষ্ঠ সকল মহল গুরুত্ব দিয়ে ভাববেন। এরকম প্রতিষ্ঠানের রূপরেখা কীভাবে হবে, সনদ পাওয়ার জন্য কোনো প্রশিক্ষন, অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য শর্তাবলী কী হবে এ ব্যাপারে দেশের অভিজ্ঞ সংবাদকর্মীদের সহায়তায় একটি গ্রহনযোগ্য সমাধান পাওয়া সম্ভব। এই কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের জন্য আচরণবিধি তৈরি ও প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করবে এবং তাঁদেরকে সেগুলো মেনে চলতে উৎসাহিত এবং ক্ষেত্রবিশেষে বাধ্যও করবে।
অনেকেই হয়তো আমার এই প্রস্তাবকে সাংবাদিক নিয়ন্ত্রনের মনোভাব হিসেবে দেখতে চাইবেন। কিন্তু আমার মনে হয় বরং প্রকৃত সাংবাদিকদেরই উচিত হবে এ বিষয়ে অগ্রনী ভুমিকা নেয়া। আমাদের নিজেদের পেশার সুনাম রক্ষার জন্যই সাংবাদিকতার বাগান থেকে আগাছা দূর করার ব্যবস্থা জরুরি হয়ে পড়েছে।
আরিফ জেবতিক: ব্লগার ও সাংবাদিক।

আমি দেখেছি অনেকে সাংবাদিকতার নাম নিয়ে ধান্দাবাজি করে।সাংবাদিকতা এখন অনেকের জন্য ১টা ব্যবসা হয়ে গেছে।
লেখক কে আনেক ধন্যবাদ সুন্দর ১টি লেখা উপহার দেয়ার জন্য
আমি দেখেছি নিজের চোখে, খুলনার কোনও এক সাংবাদিক প্রথমে একজনের হয়ে রিপোর্ট সংগ্রহ করে লিখত। ধীরে ধীরে আজ সে বিশাল অবস্থার মালিক। আধুনিক মডেলের বাড়িগাড়ি আছে তার। সবই সাংবাদিকতা থেকে। যার হয়ে উনি প্রথমে রিপোর্ট লিখতেন, তাকে একদিন জিজ্ঞাসা করলাম- “আপনার জুনিয়র এত উন্নতি করল আর আপনি যেখানে ছিলেন সেখানেই আছেন, ঘটনা কী?” তার জবাব : ‘আমি যে দুর্ণীতি করতে পারি না, টাকার বিনিময়ে লিখতে পারি না।’
আমি আপনার সাথে একমত।
প্রকৃত সাহসী সাংবাদিক চাই।
সাংবাদিকতা শুধু মানুষকে বিনোদন দেওয়া বলে মনে করেন আজকালকার সাংবাদিকরা। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদ আজকাল কোথাও দেখা যায় না বা শোনাও যায় না। বিভ্রান্তকর সব কাহিনী যা তাকে ইস্যু করে তার চেয়ে অনেক বেশি রং মেখে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন তারা।
তাই এই সব সাংবাদিকদের প্রতি আমার অনুরোধ- সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করুন। এতে দেশ ও জাতির কল্যাণ হবে এবং পেশার মান উন্নত হবে। ধন্যবাদ।
আমরা সাহসী সাংবাদিক চাই।
আরিফ ভাইকে অশেষ ধন্যবাদ সময়োপযোগী লেখার জন্য।
উপজেলা পর্যায়ের রিপোর্টারদের নির্দিষ্ট বেতন নেই। এদের আয়ের একমাত্র উৎস বিভিন্ন সরকারি অফিস আর জনগণকে ব্ল্যাকমেইল করা। উপজেলায় দুই বছর চাকরির সুবাদে দেখেছি এদের অপতৎপরতা। হাসপাতালে এসে নিজেদের ভিআইপি বলে দাবি করা, যখন-তখন যে কোনও পরিমাণের অসুধ জোর করে নিয়ে নেয়া, আরও কত কী। যে কোনও প্রশিক্ষণে এদের নাম না থাকলেও সন্মানী দিয়ে দিতে হত। আর ডাক্তারদের সঙ্গে খারাপ আচরণ, তাদের চেম্বারে গিয়ে ফি না দেওয়া, এমনকি চাঁদা দাবি করা এ সব তো নৈমিত্তিক ঘটনা।
ব্যাক্তিগতভাবে আমি এদের মানুষ মনে করি না।
লেখা চরমভাবে যুক্তিসঙ্গত। একটা সময় ছিল যখন ডিগ্রি পাশ করলেই ছেলেকে উকালতির জন্য পাঠানো হত। বাড়তি কোনও সনদের প্রয়োজন ছিল না। শুধু প্রয়োজন ছিল কোনও জেলা আদালতে গিয়ে কোনও উকিলের সঙ্গে থেকে তার কাজ করে দেওয়া আর বিভিন্ন এজলাসে তার কাছ থেকে কাজকর্ম শেখা। এখনও হয়তো সে আমলের ডিগ্রি পাশ উকিল পাওয়া যাবে যারা উকালতির সনদ ছাড়াই এ কাজে সফলতা লাভ করেছেন। কিন্তু দিন বদলেছে, সময় বদলেছে, বদলেছে অপরাধের ধরন। এই জামানা্য় কেউ যদি এ কাজটা করতে যান আমার মনে হয় না অবৈধ উপায় ছাড়া তিনি সফলতা অর্জন করতে পারবেন।
আবার এমবিএ করে কেউ বিশাল ব্যবসায়ী হন না বরং বিশাল ব্যাবসায়ী হতে হলে আমাদের দেশে এখন অসাধু উপায় সম্পর্কে ভালো খোঁজখবর রাখা আর ম্যানেজ করতে পারার গুণটি বেশি দরকার।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে আমরা এখনেও পুরনো এসব ধ্যান-ধারণা নিজেদের স্বার্থে ব্যাবহার করে পুরো জাতির জন্য ক্ষতি বয়ে আনছি।
ইদানিং সিটিজেন জার্নালিজমের নামে ব্লগারদের সাংবাদিকদের কাতারে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। ছোটখাটো ব্লগ বাদ দিই, বড় বড় ব্লগে নতুন নতুন ছদ্মনামে নিয়ে ব্লগারদের যে সব লেখা পড়তে হয় সে সব এ রকম হলুদ সাংবাদিকতার চেয়েও ভয়াবহ। মাঝে মাঝে বুঝতে কষ্ট হয় শিক্ষিত এক শ্রেণীর লোক একটা পদে গিয়ে এ রকম হঠকারী মুভমেন্ট কীভাবে বেগবান করেন?
পুলিশ, সাংবাদিক, ডাক্তার- এ সব মহান পেশা। বাইরের দেশগুলোতে সে রকম শ্রদ্ধার দৃষ্টিতেই দেখা হয় এবং তাদের কাজ বিশেষভাবে মনিটরিং করা হয়। সে সব কাজে যারা যুক্ত তারা এই বিষয়ে প্রচন্ড দক্ষ। এমনকি উন্নত বিশ্বের কিছু কিছু ব্লগ আছে যেখানে সাংবাদিকরাও কন্ট্রিবিউট করছেন। যেমন হাফিংটন পোস্ট!
কিন্তু আমাদের দেশে… সবকিছু নষ্ট এবং মেধাহীনরাই নিয়ন্ত্রণ করে!
যুগোপযোগী পোস্ট!
দেশটা তো ব্যাকবেঞ্চারদের দিয়ে চলছে। শ্রদ্ধেয় হুমায়ূন আজাদ সাহেব এই অবস্থাটা অনেক আগেই দিব্যদৃষ্টিতে দেখেছিলেন। বলেছিলেন—- ‘সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।’ আজ স্কুল-কলেজের মেধাবী মুখগুলোকেও দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাতে হয়। আর যারা যেতে পারে না তারা কোনও রকমে মুখ লুকিয়ে সরকারি-বেসরকারি চাকরি করেন। যারা সততা ও নীতি নিয়ে কাজ করবেন তাদেরে বেতনের টাকায় কোনও রকমে চলতে হয়। আর তাদের নীতি যদি কারও স্বার্থে আঘাত হানে তবে সাংবাদিকের সহায়তায় তিনি রাতারাতি হয়ে যাবেন দুর্নীতির ডন। প্রথম আলোর মতো পত্রিকা তার নামে অসত্য নিউজ ছেপে তাকে বদলে দেবে। আর একুশের চোখ তাতে হলদে রঙ ছড়াবে। [এটা একটা রুপক কথা।]
এই তো চলছে দেশে। এই দেশে দুর্নীতি-দমনের জন্য কমিশন হয় কিন্তু সততার জন্য কেউ জাতীয়ভাবে পুরষ্কৃত হয় না। তাই সৎ মানুষ তৈরিও হয় না। যে দেশে গুণীর মর্যাদা নেই, সে দেশে গুণী জন্মায়-ই না।
আরিফ জেবতিক ও রাশেদ মেহদী ভাইয়ের কথাগুলো সরকারের ভেবে দেখা উচিত।
এটা সত্য।। আমাদের দরকার সঠিক আইন এবং নীতিমালা।
লেখাটা পড়ে মনে হল লেখক সাংবাদিকদের নিয়ে অনেক বেশি ভাবেন! অতিভক্তি নয় তো….
লেখক ভাইয়া সত্য কথাটাই বলেছেন ।
অসাধারণ! খু-উ-ব ভালো লেগেছে! লেখক ও গঠনমূলক মন্তব্যকারীদের জন্য শুভকামনা।
আমাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক।
আরিফ জেবতিকের সঙ্গে পুরোপুরি একমত।
আরিফ জেবতিক ভাই যা বললেন তার সঙ্গে আমি একমত। নৈতিকতা কখনই বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়। কারণ নৈতিকতা এবং মনুষ্যত্ববোধের কারণে আমরা মানুষ হিসেবে বিবেচিত। সেই সঙ্গে যারা এই মহৎ পেশার সঙ্গে জড়িত তাদের স্থান-কাল-পাত্র সম্পর্কে কিছু সাধারণ জ্ঞান রাখা উচিত। কারণ সাধারণ মানুষ খুব সহজেই তাদের কথা বিশ্বাস করে। গুটিকয়েক নামধারী, সুবিধাভোগী তথাকথিত সাংবাদিকের জন্য এই পেশাকে কলঙ্কিত করা উচিত নয়। সুতরাং উপরের লেখা থেকে কিছু শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত।
বাঘ ও মিথ্যাবাদী রাখালের গল্পটা মনে আছে কি?
হ্যাঁ, মনে রাখা উচিত, কারণ একটা সময় মিথ্যাবাদীর কথা কেঊ শুনবে না।
যতটুকু জানি আপনার নিজেরই কোনও প্রাতিষ্ঠানিক সনদ নেই সাংবাদিকতার বিষয়ে। আপনি নিজেকে সাংবাদিক দাবি করছেন কোন যুক্তিতে? আপনি বড়জোর একজন ব্লগার কিংবা ফিচার লেখক হতে পারেন কিন্তু সনদদারী সাংবাদিক হতে গেলে যে যোগ্যতা লাগে সেটা দয়া করে আমাদের দেখান। সমস্যা হল আমাদের দেশের সাংবাদিকতার মান যে পর্যায়ে, সেখানে সংবাদপত্রের চিঠিপত্র বিভাগে দু-তিনটি চিঠি ছাপা হলেই সবাই নিজেকে লেখক কিংবা সাংবাদিক মনে করেন!
গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল…
লেখকের অভিযোগগুলো ঠিক আছে। তবে তিনি যে সমাধান দিয়েছেন তা হাস্যকর।
একেবারেই সঠিক বলেছেন, সাংবাদিকতার কোনও সনদই আমার নেই। তবে সনদ বলতে এখানে যা বোঝাতে চেয়েছি, যতদূর বুঝেছি আপনি সেটা বুঝতে পারেননি। সনদ বলতে এখানে প্রফেশনাল রেজিস্ট্রেশন বা পেশাদার নিবন্ধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর জন্য যে ক্রাইটেরিয়াই সেট করা হোক না কেন, সেটা পূরণ করতে আমি আগ্রহের সঙ্গে চেষ্টা করব। যদি সেটা না পারি, তাহলে সরে যাব। আপত্তি নেই। আমার ডাক্তারি সনদও নেই, তাই বলে রেজিস্ট্রেশনবিহীন কিংবা শিক্ষাবিহীন কাউকে ডাক্তার হিসেবে মেনে নিয়ে চিকিৎসা করতে দেব না।
চিঠিপত্র কলামের কথা আপনি সঠিক বলেছেন। আবার বিপরীতটাও সত্যি অনেকের ক্ষেত্রে। এই যেমন ধরেন, আমার মোট যত শব্দ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে অনেকে সারাজীবনে হয়তো তত শব্দ পড়েওনি। এসব মোড়লদের আসলেই মানা উচিত নয়।
ধন্যবাদ।
“আমার ডাক্তারি সনদও নেই, তাই বলে রেজিস্ট্রেশনবিহীন কিংবা শিক্ষাবিহীন কাউকে ডাক্তার হিসেবে মেনে নিয়ে চিকিৎসা করতে দেব না।”
কথাটা ক্লীয়ার বুঝতে পারলাম না ভাই, একটু বুঝিয়ে বলুন প্লিজ !!
সাংবাদিক বা রিপোর্টার যেটাই বলেন, পুরা মিডিয়ার উপরই এখন একটা ঘৃণা কাজ করে। এ বছরের শুরুতে বুয়েটে আমাদের একজন সিনিয়র ভাইয়াকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দিয়েছিল জুনিয়র ব্যাচের কয়েকটা ছেলে যারা বিশেষ একটি ছাত্র সংগঠনের সদস্য হিসেবে পরিচিত। এর প্রতিবাদে আমরা সমগ্র বুয়েটের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা টানা ৭২ ঘন্টা ভিসি-প্রোভিসির কার্যালয় ঘেরাও করে শান্তিপূর্ণ অবস্থান ধর্মঘট পালন করতে থাকি। ওই রাতে এটিএনের রিপোর্টার এসেছিলেন রিপোর্ট করতে এবং সঙ্গে সঙ্গে টিভিতে দেখানো হয় যে এটা ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীন কোন্দল, ছাত্রদল-শিবিরের কারসাজি ইত্যাদি। মজার ব্যাপার তাদের রিপোর্টার কিন্তু তখনও আসেনি। যাহোক ওই রিপোর্টার ক্যাম্পাসে এসে আসল ঘটনা জানার সামান্য চেস্টা না করে উল্টো ছাত্রছাত্রীদের উস্কানি দিতে থাকে, “আপনারা কি করেন … এইভাবে আন্দোলন হয় নাকি, সামনের দুয়েকটা গাড়িই ভাঙা হল না, ভিসির দরজায় দুয়েকটা লাথিই পড়ল না, আপনারা কোন দলের লোক ?” এরপর আমরা সিনিয়র ব্যাচের স্টুডেন্টরা তাকে সসম্মানে ক্যাম্পাস থেকে চলে যেতে বলি। এরপর এটিএনে দেখানো হয় তাদের সাংবাদিককে হ্যান করা হয়েছে/ত্যান করা হয়েছে ইত্যাদি। শুধু বুয়েট বলেই সেদিন ওখানে কোনও সিন ক্রিয়েট হয়নি। অন্য কোথাও হলে ডিএমসির গতদিনের ঘটনার মতোই ঘটত। কারণ ওইদিন ওই রিপোর্টার যে সব উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলেছিল তার সবটা এখানে লেখা সম্ভব না।
যেভাবে হলুদ সাংবাদিকতা চলে তাতে সাংবাদিক/রিপোর্টার যাই বলেন , সম্মান রাখা খুব কঠিন , যেটুকু আজ পর্যন্ত কাছ থেকে দেখলাম।
আমারও একই কথা ।
অয়ন, কিছু তরুণ সাংবাদিক সাংবাদিকতার নিয়ম-কানুন জানেন না। তারা সাংবাদিকতার তথ্য পাওয়ার অধিকারকে অনেক বড় করে দেখে। কিন্তু তাদের মনে রাখা উচিত, যে কোনও অফিস থেকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে তথ্য পেতে পারেন যে কোনও নাগরিক। এ হিসাবে কোনও সাংবাদিকের অধিকার একজন নাগরিকের চেয়ে খুব বেশি নয়। আপনার, ওই সাংবাদিক সম্পর্কে এটিএন বাংলার অফিসে অভিযোগ করতে পারতেন। আসলে এ সব ছোট ছোট ঘটনাই আজ সাংবাদিকদের জীবনের জন্য কাল হয়ে দেখা দিয়েছে। বলা বাহুল্য, আমি জেলা পর্যায় থেকে শুরু করে রাজধানী পর্যায় পর্যন্ত গত ৮ বছর ধরে সাংবাদিকতায় জড়িত আছি। সাহসী রিপোর্ট করতে গিয়ে হুমকির শিকার হয়েছি। অনেক ভালো রিপোর্ট করে প্রশংসা পেয়েছি। কিন্তু কোনওদিন কারও সঙ্গে প্রভাব নিয়ে কথা বলেছি মনে পড়ে না। এ জন্য দলমত নির্বিশেষে অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবীর স্নেহ-ভালোবাসা-উৎসাহ পেয়েছি।
কিন্তু আমাদেরই কমউনিটির মধ্যে কিছু নামকরা সাংবাদিককে খুব কাছ থেকে দেখতে গিয়ে অবাক হয়েছি। আমি মনে করি, জনগণের শেষ ভরসাস্থল সাংবাদিক। সেই জায়গাটির প্রতিও যদি আস্থা না থাকে তাহলে কোথায় যাবেন সাধারণ মানুষ? যারা সাংবাদিকতায় আসবেন, তারা দয়া করে বুঝে নিন, এ পেশা সবচেয়ে সম্মানের। সবচেয়ে বেশি দায়বদ্ধতার। অনেক বেশি কষ্টের। অনেক বেশি বঞ্চনার। আপনার বিরুদ্ধে মামলা হবে, হামলা হবে, নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে, অর্থনৈতিক সংকট থাকবে। এ সব জেনে-বুঝেই এ পেশায় আসবেন। তবে প্লিজ, দেশপ্রেম না থাকলে এ পেশায় আসবেন না। সাংবাদিকতা সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য। মানুষের নিরব কথাকে দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌছে দেওয়ার জন্য। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। মিডিয়া মালিকের পকেটে গিয়ে অমানবিক হবেন না। সাধারণ মানুষকে সবচেয়ে বেশি সম্মান কর অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।
প্লিজ, হিরো হওয়া আর প্রভাব দেখানোর জায়গা সাংবাদিকতা নয়। নিজের ব্যক্তিত্বকে অনেক উন্নত করেই এ পেশায় আসুন। তা না হলে আপনার জন্য গোটা সাংবাদিক সমাজ কলঙ্কিত হবে। দেশজুড়ে অরাজকতা ছড়িয়ে পড়বে। সমাজ থেকে বিশ্বাস হারিয়ে যাবে। সত্য কথা বলার মতো লোক পাওয়া যাবে না।
অয়ন, অনেক কথা লিখলাম। আঞ্চলিক পর্যায়ে কর্মরত সহকর্মী সাংবাদিকদের ভয়াবহতা সম্পর্কে অনেক সময় লিখতে ইচ্ছে করে। কিন্তু তা হয়ে যাবে আত্মঘাতী। অনেক সাংবাদিককে এত ধমক দিয়েছি, এত বুঝিয়েছি। কিন্তু অবস্থা আগের মতোই আছে। সত্যি বলতে কি, আমার গ্রামের বাড়ির বেশিরভাগ মানুষই জানেন না আমি কী করি।
জটিল লিখেছেন আরিফ ভাই। আসলে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।
ধন্যবাদ।
দেশের সর্বত্রই এই আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকাঅলাদের ভয়ঙ্কর দৌড়ঝাঁপ লক্ষ্যণীয়। আমার জানামতে, কোনও নীতিমালার তোয়াক্কা করেন না তারা। ব্ল্যকমেইলিং করতে চান সবসময়। দু’লাইন লেখার মুরোদ নেই, গাড়িতে সাংবাদিক স্টিকার ঝুলিয়ে নামেন চাঁদাবাজিতে। সুবিধা নিতে রাজনৈতিক দলের চাটুকার সাজেন। সুনামগঞ্জের এক টাউট সাংবাদিক চাঁদা চাইতে গিয়ে গণধোলাই খেয়ে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে এখন স্বপ্নসিঁড়ি নামে একটি অডিও প্রতিষ্ঠান খুলে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। কিছুদিন আগে সুনামগঞ্জে এসে ধোলাই-খাওয়া ঘটনার পর দায়ের করা মামলা নিষ্পত্তির নামে নির্যাতনকারীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়ে আপোসের জন্য আদালতে লিখিত আবেদন করেছে। এই ঘটনায় তার সঙ্গে নির্যাতনের শিকার আরেক ভিকটিম সংবাদকর্মী আপোষ না করে উল্টো আদালতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। এখন আদালত ওই ভিকটিমকে বাদী হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে মামলার চার্জ গঠন করেছেন। এখন যে কোনওে দিনই ওই কথিত টাউট সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিতে পারেন আদালত।
এ রকম টাউট ও ধান্দাবাজ এবং পেশার প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা নেই এমন সাংবাদিকদের বর্জন করা উচিত।
যার নাই কোনও দিক, সেই হয় সাংবাদিক (পড়ুন- জেবতিক)।
এটা একেবারে সত্যি যে আমাদের দেশের অধিকাংশ সাংবাদিক অদক্ষ । তবে যে জিনিসটা সবচেয়ে বড় সমস্যা তা হল দুর্নীতি । আমি যে ক’জন তথাকথিত সাংবাদিককে দেখেছি তাদের অনেকেই ছিলেন দুর্নীতিবাজ। আমাদেরে দেশে সব পেশাতেই ভালো এবং সৎ মানুষের বড় অভাব।
সমীরণ,
আপনি কতজন সাংবাদিককে দেখেছেন আর চেনেন যে আপনার মনে হয়েছে তারা অদক্ষ? বাংলাদেশে করাপশন নাই কোথায়? সব সাংবাদিকের করাপশন করার সুযোগ থাকে না। কিন্তু একজন প্রকৌশলী, ডাক্তার, সচিব, সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা, এদের করাপশন করার সুযোগ ও ক্ষমতা অসীম। বাংলাদেশে এই সব পেশার লোকদের বেতনের টাকায় গাড়ি-বাড়ি হয় কীভাবে? ঢাকায় যাদের গাড়ি-বাড়ি আছে খোঁজ নিয়ে দেখেন তাদের কতভাগ সাংবাদিক? ঢালাও অভিযোগ করা হলে তা পুরো পেশাকেই অপমান করার সামিল। আপনি কোন পেশায় আছেন বল্লে ভালো হয়। আপনার পেশায় কতজন সৎ আছেন তা বলা যেত।
আমি আপনার সঙ্গে একমত| কিন্তু প্রকাশ্যে কারও পেশা জানতে চাওয়া এবং কতজন মানুষ সৎ এটা বলা ভদ্রতার পরিচয় দেয় না|
আরিফ ভাইয়ের লেখা পড়লাম। প্রথমে উনার সঙ্গে একমত হতে পারিনি পুরাপুরি। কারণ আমার কিছু সাংবাদিক বন্ধু আছেন। তারা কতটুকু নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিক তা আমি জানি। কিন্তু গত শুক্রবার আমার সঙ্গে যা হল তারপর আমার সাংবাদিকদের ব্যাপারে ধারণা পালটে গেল। উক্ত সাংবাদিক পরীক্ষার হলে সিটপ্লান মানবেন না। উনি উনার কোলের ওপর নোট রেখে পরীক্ষা দিবেন। বাধা দিতে গেলে উনি আরও রেগে যান। বলেন, ‘আমি পরীক্ষাও দিব, এইখানেই দিব, আর এই ভাবেই দিব।’ আর তা না হলে উনি তা পত্রিকাতে প্রকাশের হুমকি দেন।
উনি যদি পরীক্ষার সময় এই কাজ করেন তাহলে উনার কর্মক্ষেত্রে কী করেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না!
একটু খোলাসা করে বললে ভালো হয়। যতটুকু পারবেন, স্থানটার নাম যদি উল্লেখ করেন…
সমস্যাটি আসলে আমাদের মানসিক । কেউ কষ্ট করে উপরে উঠতে চায় না। কেউ ভিন্নমত পছন্দ করে না। যে যে পেশায় আছেন, সংঘবদ্ধতা্র জোরে স্বক্ষেত্রে তারা স্বৈরাচারী। স্টান্টবাজী করে টিআরপি বাড়ানোর একটি আত্মঘাতি প্রবণতা এখন মিডিয়া’র একটি বড় বৈশিষ্ট্য। কষ্টলব্ধ অনুসন্ধানী কাজ করে সত্য জানানোর প্রয়াস এখন তেমন চোখে পড়ে না। সবাই সহজে জনপ্রিয় হতে চান। কেউ সমালোচনা করলে তেড়ে আসেন তারা জোটবদ্ধ হয়ে। এই একই ধরণের প্রবণতা সমাজের প্রায় সকল পেশাজীবীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। একজন ডাক্তার, একজন আইনজীবী, একজন আমলা, একজন সাংবাদিক সবাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বৈরাচারী আচরণে পারঙ্গম। আসলে জাতীয়ভাবে আমাদের মনোবৃত্তি পরিবর্তনসহ একটা বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। কোনও একটি ক্ষেত্রকে পৃথকভাবে সংশোধনের অবকাশ এখানে খুবই কম।
বিভিন্ন আন্দোলন কিংবা সহিংসতা কাভারেজ করতে যাওয়া কতিপয় সাংবাদিক শুধুমাত্র ফুটেজের জন্য সহিংসতাকে উস্কে দেন এ রকম ঘটনারও সাক্ষী আমি। তাদের শুধু খবর আর ফুটেজ চাই।
আরিফ ভাই, সত্য কথা লেখার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আপনি দীর্ঘদিন ভোরের কাগজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আপনি জানেন একজন রিপোর্টারের একটি রিপোর্ট জমা দেওয়া এবং সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে কর্মস্থলের শীর্ষ কর্তাদের প্রভাব কতখানি থাকে। এ ছাড়া পত্রিকা বা টিভি মিডিয়া যাই বলুন না কেন, এক ধরনের অসম ও অযৌক্তিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। যেমন ধরুন টিভি মিডিয়ার ক্যামেরাম্যানরা যে কোনও অনুষ্ঠানে সবার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ নিয়ে প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে মাঝে-মধ্যেই ঠুকাঠুকি লাগে। তো একদিন পরিচিত এক ক্যামেরাম্যানকে বললাম, ‘অনুষ্ঠান চলাকালীন পেছনে থাকলে সমস্যা কী?’ উত্তরে জানাল, এখানে আছে তার ছোট, তাই কাছাকাছি থাকতে হয়। সঙ্গে থাকা অন্য একজন বলল, ‘তার চেয়ে বড় কথা, নানা এ্যাঙ্গেলে শট নিতে হয়। এই সাধারণ বিষয়টি আমরা ঠিক করতে পারি না……….. ‘
আরেকটি বিষয়ও উল্লেখ করা প্রয়োজন, তা হল কোওন অনুষ্ঠানে ইলেট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের একটা প্রবণতা দেখা যায়। তা হল অনুষ্ঠান চলাকালীন কোনও অতিথিকে আলাদাভাবে ডাকা এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়া অন্য কোনও বক্তব্য নেয়া এবং তা ওই অনুষ্ঠানের বক্তব্য বলে প্রচার করা। এতে করে সমস্যায় পড়তে হয় অন্যান্যদের। প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের জন্য বিষয়টি বিভ্রান্তিকর। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্য দেওয়ার পরও অনুষ্ঠান শেষে তার বক্তব্য নেয়া। এগুলো ভাবা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
স্যালুট বস
এই লেখাটিকে প্রায় কোনও রিজার্ভশন ছাড়াই সমর্থন করছি। সব পেশাযতেই পেশাগত ছাড়পত্র দেওয়ার ও কর্মকান্ড মনিটর করার জন্য একটি কর্তৃপক্ষ থাকা দরকার। তাতে পেশাদাররাই উপকৃত হবেন।
একজন সাংবাদিকের সঙ্গে আমার কথোপকথনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করছি। আমি তার কাছে জানতে চেয়েছিলঅম উনার প্রিয় সাংবাদিক কে। উনি কারও নাম বলতে পারেননি। তখন আমি তাকে বল্লাম ‘মোনাজাতউদ্দিন’ আমার প্রিয় লেখক। ওই সাংবাদিক আমাকে হতবাক করে জানালেন, তিনি মোনাজাতউদ্দিনের নাম শোনেননি! বিশ্বাস হয় পাঠক!
এটা একটামাত্র উদাহরণ। অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের মালিক এমন সাংবাদিকেরাও অনেকেই ধরনের অন
সহমত পোষণ করছি । চ্যানেলগুলোর ব্রেকিং নিউজ দেখলে বোঝা যায় কী অবস্থা…….
লেখকের সঙ্গে একমত। তবে আইন করা হয়তো সহজ, প্রয়গ বা মানা সহজ নয়।
ভালো লেখা। পোঠকদের মন্তব্যগুলোও উপেক্ষা করার নয়।
ভালোমন্দ মিলিয়েই একটা সমাধানে পৌঁছা দরকার আসলে। নিয়ম-নীতি, সনদ ইত্যাদি থেকেও অন্যান্য পেশায় অসততা আছে এই যুক্তিতে সনদের প্রয়োজন নাই এমন ভাবনাও অযৌক্তিক। ভুয়া লাইসেন্স দিয়ে বা লাইসেন্স ছাড়াই অনেকে গাড়ি চালায় বলে লাইসেন্স ব্যবস্থাটা নিশ্চয়ই তুলে দেওয়া যায় না ! ওই বিচ্যুতিগুলো কীভাবে কমিয়ে আনা যায় সেটা নিয়েও ভাবার অবকাশ রয়েছে অবশ্যই। তবু একটা শৃঙ্খলার মধ্যে আমাদের আসা জরুরি।
ধন্যবাদ সবাইকে।
সনদধারী সাংবাদিক না থাকার কারণেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠছে “হাইব্রিড সাংবাদিকতা”। যে সাংবাদিকতায় কোনও নিয়মনীতি নেই। যার যা ইচ্ছা তাই লেখার সুযোগ রয়েছে। কার চেয়ে কে আগে বেশি তথ্য দিয়ে খবর দিবে সেটিই এখন বড় কথা হয়ে গেছে। হোক সে তথ্য তার নিজের তৈরি করা তাতে কোনও সমস্যা নেই। হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ব্রেকিং নিউজ প্রচারের মাধ্যমে এর প্রমাণ দিয়েছে।
নিজের মনের কথাগুলো আপনার লেখায় পেয়েছি। ধন্যবাদ।
বাস্তবধর্মী অসম্ভব সুন্দর একটি লেখা।
যতঠুকু জানি আপনার নিজেরই কোনও প্রাতিষ্ঠানিক সনদ নেই সাংবাদিকতার বিষয়ে। আপনি নিজেকে সাংবাদিক দাবি করছেন কোন যুক্তিতে? আপনি বড়জোর একজন ব্লগার কিংবা ফিচার লেখক হতে পারেন কিন্তু সনদদারী সাংবাদিক হতে গেলে যে যোগ্যতা লাগে সেটা দয়া করে আমাদের দেখান। সমস্যা হল আমাদের দেশের সাংবাদিকতার মান যে পর্যায়ে, সেখানে সংবাদপত্রের চিঠিপত্র বিভাগে দু-তিনটি চিঠি ছাপা হলেই সবাই নিজেকে লেখক কিংবা সাংবাদিক মনে করেন!
একই মন্তব্য আপনি শুধু একটি বাক্য বেশি লাগিয়ে জগলুল হায়দার নামে উপরে মন্তব্য করেছেন। সম্ভবত এই কমেন্টটি প্রকাশিত হওয়ার আগেই আপনি দ্বিতীয়বার মন্তব্য করেছেন। তো ভাই, নিজের নামের প্রতি অন্তত সম্মান করুন, একনামে কথা বলুন। নিজের নামই যিনি ঠিক করে লিখতে পারছেন না, সাংবাদিকতার সততা বিষয়ে উনার লেকচার করা কি মানায়?
সাংবাদিবতার জন্য দ্রুত বিধিমালা প্রস্তুত ও সনদ প্রদান করা প্রয়োজন। কিছু সংখ্যক ভুয়া সাংবাদিকের দায় পুবো সংবাদিক সমাজ বহন করতে পারে না। সঠিক সংবাদ পরিবেশিত না হলে সাংবাদিকদের উপর থেকে মানুষের আস্থা উঠে যাবে।
সনদে কাজ হবে না। সনদ যারা দেবেন তারা ঘুষ-আ.লীগ-বিএনপি-জামাত বিবেচনা করে সনদ দেবেন। মিডিয়ার মালিক কারা? সম্পাদক কারা? এনজিওপন্থি না দলবাজি, কত বিষয় আছে। যে সব পেশার লোকেরা সনদ নিয়ে কাজ করছেন তারা কি ক্রাইমে জড়িয়ে পড়েন না?
ডাক্তাররা দেশ-জাতিকে অনেক কিছু দিচ্ছেন। তাই তাদের প্রতি অকৃতজ্ঞ হলে তা আর সইবেন কেন তারা?
আমরা সবাই জানি সাধারণ মানুষের জন্য ডাক্তাররা কী করেন, কতটুকু করেন। একগাদা টাকা নিয়ে তারপর কতগুলো রিপোর্ট ধরিয়ে দেন। আমাদের ডাক্তারদের চেয়ে কসাইরাও ভালো। ডাক্তোরদের দক্ষতা নিয়েও আমার মনে প্রশ্ন আছে। একটা এমবিবিএস ডিগ্রি নিলেই ডাক্তার হওয়া যায় না। ওরা ভুলে যান যে এটা একটা মহৎ পেশা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ডাক্তারদের লোভ ও লজ্জাজনক আচরণের কারণে পেশাটার মর্যাদা নষ্ট হচ্ছে। আশা করি ওরা যত শিগগির বিষয়টা বুঝতে পারবেন ততই দেশের মঙ্গল।
ভাইজান, আশা করি আর কখনও নিজের বা পরিবারের কারও অসুখ হলে এ দেশের চিকিৎসকদের কাছে যাবেন না। সরাসরি বিদেশে চলে যাবেন। কারণ মনে অশ্রদ্ধা নিয়ে কারও কাছ থেকে সেবা নেয়া ঠিক না। গত কয়েক দশকে আমাদের দেশে গড় আয়ু বেড়েছে, মা ও শিশুমৃত্যুর হার কমেছে। আমাদের স্বাস্থসেবার উন্নতির জন্যই এটা হয়েছে। আমি নিশ্চিত আপনার পরিবারে কোনও চিকিৎসক নাই এবং পরিবারের কারও সেই যোগ্যতাও নাই ।
ভাই, আপনার নামটা জানলে ভালো লাগত| যাই হোক, মনে হয় আপনার নাম “..বুল হোসেন”| বিদেশ যাওয়া লাগবে কেন!!! কসাইয়ের কাছে চলে যাবেন সরাসরি| আপনি ডাক্তারদের কসাই বলেছেন, ভাগ্যিস মুচি বলেননি ….
ডাক্তাররা জাতিকে যা দিচ্ছেন তার চাইতে অনেক বেশি নিয়েছেন। জাতির রক্ত ঘাম-করা পয়সা দিয়ে দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চলে। ডাক্তারদের বাপের পয়সায় না। সেই দেশবাসীর পয়সা দিয়ে ডাক্তার হযে তাদেরই বুকে ছুরি চালিয়ে পয়সা কামাই করছেন ডাক্তাররা আর বলছেন- “ডাক্তাররা জাতিকে অনেক কিছু দিয়েছে!”
সরকারি কোনও মেডিকেলে গিয়ে ডাক্তারের হাতে টাকা তুলে দিয়েছেন কখনও? ডাক্তার হওয়াদের বাবা-মা কি অন্য দেশ থেকে এসেছেন নাকি তারা ভিনগ্রহের প্রাণী? আর ডাক্তার যারা হয়েছেন তাদের কি দয়া করে ডাক্তার বানানো হয়েছে না নিজের যোগ্যতা দিয়ে হয়েছেন? এ রকম পেশাগত পরীক্ষা দিয়ে সাংবাদিক হতে হলে ১৫ই আগস্ট শোক দিবস না সুখ দিবস সেটা না-জানা সাংবাদিকদের কার্ড ঝুলিয়ে আর সাংবাদিকতা করা লাগত না (পড়ুন সন্ত্রাস)।
আসলে হয়েছে কী, দেশে অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন অশিক্ষিত লোকের সংখ্যা বেড়ে গেছে।
ভাই, জনগণের টাকায় থানা চলে, ডিসি অফিস চলে, পাসপোর্ট অফিস চলে, রেজিস্ট্রি অফিস চলে, বিদ্যুত অফিস চলে। সেখানে গিয়ে তো দিব্যি বিনা বাক্যব্যয়ে ঘুষ দিয়ে আসেন। কখনও তাদের বলেছেন, এই অফিস জনগণের টাকায় চলে? আর আপনারা জনগণের টাকায় পড়ালেখা করে পাস করে এসেছেন, আপনারা কেন ঘুষ নিচ্ছেন? বলতে পারেননি। আর ডাক্তাররা অফিসে নয়, ব্যক্তিগত চেম্বারে বসে বৈধভাবে ফিস নেয় তাতে এতই কি সমস্যা?
জনগণের টাকায় পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যাররা বিদেশে গিয়ে ফেরেন না। বুয়েটের ইঞ্জিনিয়াররাও বিদেশেই থেকে যান। টিচাররা ক্লাসে না পড়িয়ে প্রাইভেট পড়ান। এ দেশের সরকারি-বেসরকারি অফিসে যারা চাকরি করেন তার ৯৫ শতাংশ জনগণের টাকায় পড়েন (অনার্স-মাস্টার্স) এবং প্রতিটি অফিসে ঘুষ দেন আপনারা। কোনও প্রতিবাদ না করেই!
তাহলে???
আরিফ ভাই, লেখাটি পড়ে খুব ভালো লাগল। এটার বাস্তবায়ন হলে যারা প্রকৃত সাংবাদিক তারা কিছুটা রক্ষা পেতেন। এখন অলিতে-গলিতে সাংবাদিকে ভরে গেছ। মানুষ সাংবাদিক বললেই কীভাবে যেন তাকায়,,,,,,,
প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করা যেতে পারে। যেমন এর দায়িত্ব ও ক্ষমতার আওতা বাড়ানো।
এ সব গাধা-গরুদের যারা সুযোগ করে দেয়, তাদের প্রতি আমার ঘৃণা হয়। আমি নিজে সাংবাদিকতায় পড়াশোনা করে একটি সংবাদ-ভিত্তিক টিভি চ্যানেলে নিউজ রুম এডিটর হিসেবে কাজ করছি। এর আগে যতবার ভাইভা দিয়েছি, আমার জায়গায় যাদের নিয়োগ দিয়েছে তাদের সঙ্গে কথা বলতেও আমার রুচিতে বাধে। অথচ টিভি চ্যানেলে তাদের কাজ করার সুযোগ হয়,আর অমার মত মিডিয়া গ্র্যাজুয়টেরা বঞ্চিত হয়!
মিডিয়ার নীতিনির্ধারকদের আগে সোজা পথটা চিনতে হবে। তাহলে রাস্তাঘাটের টোকাইদের সাংবাদিক হওয়ার পথ বন্ধ হবে। আর কলঙ্কিত হবে না মূলধারার সাংবাদিকতা।
রন্দ্রে রন্দ্রে যেখানে দুর্নীতি সেখানে এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক। তবে ভেজালের ভিড়ে আসলটিই হারিয়ে যাচ্ছে।
সাংবাদিকরাই কয়েকটি ভাগে বিভক্ত।
লেখার সঙ্গে সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করছি। সময়োপযোগী একটি সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ।
আজকের লেখায় আরিফ জেবতিক ভালো যুক্তি দিলেও কিছু মন্তব্য করেছেন রিপোর্টিং এবং রিপোর্টিারদের কাজের পরিবেশের বাস্তবতা সম্পর্কে। এটা সম্ভবত তার অনভিজ্ঞতা কিংবা অজ্ঞানতাপ্রসূত। এ কারণেই একজন রিপোর্টার হিসেবে আমার লেখা বা মন্তব্যটি প্রকাশ করা জরুরি।
আরফি জেবতিক সাংবাদিকদের সনদ দেওয়ার কথা তুলে ভালো যুক্তি দিয়েছেন। তার যুক্তির ধার আছে এবং বেশ কিছু অংশ অবশ্যই বিবেচনার দাবি রাখে। কিন্তু আরিফ জেবতিকের যুক্তি-তর্কের বাইরে আরও কিছু প্রসঙ্গ আছে। সেগুলোও সামনে আসা উচিত। বাংলাদেশ ছাড়া আর কোনও দেশে রোগীর চিকিৎসা না করে চিকিৎসকরা দলবেঁধে ধর্মঘট করেন না। রোগী যতই ক্ষ্যাপাটে হোন না কেন, একজন চিকিৎসক ক্ষেপে গিয়ে রোগীকে মারধর করছেন, এমন নজিরও দুনিয়ার আর কোথাও পাওয়া যাবে না। এই চিকিৎসকরা কিন্তু সনদধারী এবং তাদের নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)আছে। কিন্তু এই বিএমডিসি কি চিকিৎসকদের দায়িত্বহীনতা, মারধর, রোগী জিম্মি করে ধর্মঘট নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে? আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রণের জন্য বার কাউন্সিল আছে। কিন্তু আইনজীবীদের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে ঘাপলা করার অভিযোগ কতটা দেখা সম্ভব বার কাউন্সিলের পক্ষে? সনদ থাকলে দায়িত্বশীলতা বাড়ে- এ কারণে কলাম লেখকের এই যুক্তি মেনে নেওয়া একটু কষ্টকর।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কিংবা প্রকাশিত কোনও রিপোর্টের বিরুদ্ধে কেউ সংক্ষুদ্ধ হলে, প্রেস কাউন্সিলে যেতে পারেন। প্রচলিত আইনেও মামলা করা যায়। প্রকাশিত রিপোর্টের জন্য সম্পাদকের বিরুদ্ধে একযোগে দেশের দশপ্রান্তে মামলার ঘটনাও অহরহ ঘটছে। সাংবাদিকতা যতটা না টেকনিক্যাল পেশা তার চেয়ে বেশি হচ্ছে মননশীল পেশা। একজন লেখকের মননশীলতা যেমন সনদ দিয়ে প্রমাণ হয় না, একজন ভালো সাংবাদিকের মূল্যায়নও সনদ দিয়ে হয় না। মূল সমস্যাটা অন্য জায়গায় এবং সেটা লেখকও তুলেছেন। গন্ডায় গন্ডায় আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা। তবে অবাক ব্যাপার হচ্ছে এসব আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার সাংবাদিকদের আবার সচিবালয়ে, থানায়, বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে বেশ কদর আছে। কারণ সাংবাদিক তকমায় এই আন্ডারগ্রাউন্ডওয়ালারা থানা-পুলিশ, সচিবালয়ের কিছু দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এমনকি প্রাইভেট ক্লিনিকের দালাল হিসেবে অনেক বেশি দায়িত্বপালন করেন। পেশাগত দায়িত্বপালন করতে গিয়ে এদের নির্যাতনের রেকর্ড বলতে গেলে এখন পর্যন্ত শূণ্য।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের প্রতিষ্ঠিত পত্রিকাগুলোতে বেতন নিয়মিত হোক বা না হোক, বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ ডিগ্রিধারীরাই রিপোর্টিংসহ অন্যান্য শাখায় আসছেন। কিন্তু সাংবাদিকতার কিছু নৈতিকতা আছে যা নীতিমালার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ এবং এই নৈতিকতা সম্পর্কে কোনও ধারনা দেওয়া ছাড়াই তাদের রিপোটিং-এ পাঠানো হচ্ছে। এই সমস্যা বেশি হচ্ছে টেলিভিশনের ক্ষেত্রে। টেলিভিশনে প্রায় সাড়ে তিন বছর টানা রিপোটিং-এর অভিজ্ঞতা আমার আছে। পরিচিত অনেকেই রাগ করতে পারেন, এই ভয় সত্বেও বলি, টেলিভিশন রিপোটিং-এ এক ধরনের স্টারিজম’-এর কারণে অনেক রিপোর্টারের আচরণ অসহনীয়। ক্যামেরাম্যানদের আচরণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দুর্ভাগ্যজনক। সংবাদের ছবি আর নাটকের ছবি এক জিনিস নয়। বাস্তবে যেমন ঘটছে তেমন ছবিই সংবাদের ছবি। ফ্রেমে কোনটা কতটুকু কাটা গেল, ভিড়ের মধ্যে ইন্টারভিউ-এর মধ্যে ফেস কতটা প্রোফাইল হল, কোন মাথা হুট করে ফ্রেমে ঢুকে গেল তা নিয়ে সচেতনতা থাকবে, কিন্তু এর জন্য ক্যামেরাম্যান কিংবা রিপোর্টারের চোখ কটমটানি, একজনকে ধাক্কা দেওয়া কিংবা অশ্রাব্য ভাষায় গালি দেওয়ার সুযোগ নেই।
সমস্যা হচ্ছে আমার অভিজ্ঞতা। টেলিভিশনের বসদের কাছে মস্তানি করা রিপোর্টার আর ক্যামেরাম্যানরাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দক্ষ ও উপযুক্ত বিবেচিত। এই অস্বাভাবিক দক্ষতা দেখিয়ে টেলিভিশনের মাত্র এক বছর রিপোটিং করে শিক্ষানবীশ রিপোর্টার থেকে সিনিয়র রিপোর্টার হচ্ছেন কেউ কেউ। তিন-চার বছর রিপোটিং-এর অভিজ্ঞতা হওয়ার আগেই বিশেষ সংবাদদাতা হয়ে যাচ্ছেন। টেলিভিশনের অনেক সিনিয়র রিপোর্টারের রিপোর্ট দূরের কথা, প্রথম বাক্যালাপেই আপনি আঁতকে উঠতে পারেন। এর সঙ্গে অসুস্থ প্রতিযোগিতাও আছে। এক টেলিভিশনে এক বছরের মাথায় একজন শিক্ষানবীশ থেকে সিনিয়র রিপোর্টার হলেন, তারপরের এক মাসের মাথায় আরও বেশি বেতনে নতুন চালু হওয়া আরেকটা টেলিভিশনে চলে গেলেন। এই রিপোর্টারের পক্ষে কতটা নৈতিক হওয়া সম্ভব? টেলিভিশনগুলোর বার্তাকক্ষের সেন্ট্রাল ডেস্কে যরা বসে আছেন, তাদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আপনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যাবেন।
আরেকটা প্রসঙ্গ তুলে ধরার প্রয়োজন মনে করছি। হলুদ সাংবাদিকতা কিংবা অপ-সাংবাদিকতার দৃষ্টান্ত কি রিপোর্টাররা তৈরি করছেন? একজন বিখ্যাত ব্যক্তির সম্পাদনায় প্রকাশিত একটি প্রতিষ্ঠিত জাতীয় দৈনিকে যখন অপর একটি জাতীয় দৈনিকের টয়লেটের দরজার মুখ কোন দিকে তা নিয়ে দিনের পর দিন প্রথম পাতায় ঢাউস রিপোর্ট ছাপা হয়, তখন ওই পত্রিকার মালিকপক্ষ এবং সম্পাদক সাংবাদিকদের সামনে কোন রুচি এবং নৈতিকতা হাজির করেন?
আরও একটা প্রসঙ্গ খুবই জরুরি। সংবাদপত্র কিংবা টেলিভিশনের কারা সাংবাদিক পরিচয় দেবেন তা নির্ধারিত হওয়া দারকার। কারণ সংবাদ সংগ্রহ এবং সংবাদ তৈরির সঙ্গে জড়িত নন এমন অনেকে সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে যুক্ত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারাই সাংবাদিক পরিচয়ে প্রিভিলেজ নেওয়ার চেষ্টা করেন। রিপোর্টারদের দশভাগেরও গাড়ি নেই। গাড়িতে সাংবাদিক স্টিকার লাগিয়ে ঘুরে বেড়ান মার্কেটিং থেকে শুরু করে যে শিল্পগ্রুপের পত্রিকা কিংবা টেলিভিশন তার অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং হেড অফিসের সকল কর্তা-ব্যক্তিরাও। একুশে টেলিভিশনে কাজ করার সময় দেখেছি একবার অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের জন্য তালিকা পাঠানো হচ্ছে সচিবালয়ে। দেখা গেল তালিকায় এইচআর-এর জিএম নিজের নামের পাশে সিনিয়র রিপোর্টার উল্লেখ করেছেন। যদিও সেই জিএম এখন ওই প্রতিষ্ঠানে নেই। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানিক সংজ্ঞা অনুযায়ী রিপোর্টাররাই প্রকৃত অর্থে সাংবাদিক বিবেচিত হওয়ার কথা। রিপোর্টাররা সাংবাদিক হিসেবে যতটা সুবিধা পান তার চেয়ে অনেক বেশি সু্বিধা নেন সংবাদপত্র কিংবা টেলিভিশনের অন্যান্য প্রশাসনিক কর্তা-ব্যক্তিরা। সনদধারী সাংবাদিক চাওয়ার আগে এ বিষয়গুলোতে নজর দেওয়া খুবই জরুরি।
রাশেদ মেহেদী, সিনিয়র রিপোর্টার, দৈনিক সমকাল
ভালো বলেছেন।
ভাই প্রেস কাউন্সিলে বিচার চেয়ে কেউ প্রতিকার পেয়েছে কি বাংলাদেশের ইতিহাসে? একটা নজির দেখাতে পারবেন!!!
সাংবাদিকতা একটা পেশা। সব পেশাতেই শিক্ষাগত যোগ্যতার একটা বিষয় থাকে। সাংবাদিকতা যারা করছেন, তাদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা কী হওয়া উচিত বলে মনে করেন? দেশের বিভিন্ন স্থানে যারা সাংবাদিক হিসাবে পরিচয় দিয়ে কাজ করে থাকেন, বা বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা যাদের সাংবাদিক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে থাকেন, তারা ক’জন এ বিষয়ে ন্যূনতম প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বা বেসিক কোর্স করেছেন? শিক্ষায়তনগুলোতে “সাংবাদিকতা” নামক বিভাগটির দরজা পার হওয়া সাংবাদিক দেশে ক’জন? অন্য পেশাজীবীদের (যারা নিজস্ব ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন ছাড়াও বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা থেকে সনদ নামক যোগ্যতা অর্জন করেছেন ) সঙ্গে নিজেদের তুলনা করার আগে আয়নায় নিজেদের চেহারাটা ভাল করে দেখে নেয়া উচিৎ সবার।
জি, আমার ক্ষেত্রেও একই বক্তব্য। আমার লেখার দ্বারা আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে আহত করে থাকলে দুঃখিত। আরিফ জেবতিক সত্যি কথাই বলেছেন; নয়তো এমন দিন দূরে নয়, যেদিন দেশের মানুষ মিডিয়াকে বয়কট করবে। তখন কিন্তু রুটি-রুজিতেই হাত পড়বে লেবাসধারীদের।
জনাব রাশেদ মেহেদী, আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার আলোচনাটা সুন্দর। ভালো একটি লেখার জন্য আরিফ জেবতিক সাহেবকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। দুজনেই নিজ নিজ মতামত সঠিকভাবে তুলে ধরেছেন। আশা করি সুন্দর নতুন দিন আসবে।
লেখক, আপনি বাংলাদেশ ছাড়া আর কোনও দেশের হাসপাতালে গেছেন? না জেনে ফস করে একটা কথা বলে দেওয়া নিজের মুর্খতার শামিল| আমি যুক্তরাজ্যের এক হাসপাতালে দেখেছি খারাপ ব্যবহার করার কারণে কীভাবে রোগীদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়| আশা করি পরবর্তীতে না জেনে কিছু লিখবেন না |
এ ব্যাপারে অবশই ভাবা উচিত!!
সনদটা দেবেন কে? হাসিনা-খালেদা’র তকমা ছাড়া কি প্রেস ক্লাবের সভাপতি-সেক্রেটারি হওয়া যায়? জলে থেকে কুমিরের সঙ্গে ঝগড়ার চেষ্টা দেখতে ভালোই লাগে। রাজনীতিবিদরা কখনও চায় না সাংবাদিকরা পেশাদার হোন। পেশাদার হলে তাদের যাচ্ছে-তাই ভাবে ব্যবহার করা যাবে না। সাংবাদিক নেতা বলতে আপনি যাদের চেনেন, তাদের গায়ে বিএনপি-আ.লীগের তকমা আঁটা। এদের সঙ্গে বাজারের গরুর দালালের পার্থক্য করা যায় সামান্যই।
লেখাটি মিডিয়া-সংশ্লিষ্ট সবাইকে পড়ার অনুরোধ করছি। কারণ নিজেদের সীমাবদ্ধতা বোঝার ক্ষমতা সবার হয় না। আমরা তা বুঝি বলে যখন কোনও দুর্নীতিগ্রস্ত ডাক্তারের নামে নিউজ আসে তখন সব ডাক্তার এভাবে হই হই করে ওঠেন না। কিন্তু যখন মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে ডাক্তারদের পেশাগত মান ভুলুণ্ঠিত করা হয় তখন সব ডাক্তার হার্ডলাইনে যাবেন এটাই স্বাভাবিক।
আমার ব্যক্তিগত জীবনের একটা কষ্টের ঘটনা বলি। ল্যাবের কমিশন বাণিজ্য আমার ওয়ার্ডে (চট্টগ্রাম মেডিকেলে ) বন্ধ করেছিলাম বলে টাকা খরচ করে আমার সরকারি চাকরিজীবী স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রথম আলোর ব্যাক পেইজে বানোয়াট ও ভিত্তিহিন নিউজ করানো হল। ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাকে বদলি করা হল সেই নিউজের প্রেক্ষিতে। এক বাচ্চা নিয়ে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তার দুর্ভোগের সীমা ছিল না। আমি তখন ঢাকায় চাকরি করি। এর মাঝে আমি ঢাকায় বদলি হয়ে চলেিএসেছিলাম। সে সুযোগে ল্যাব কর্তৃপক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রথম আলোর সাংবাদিককে আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে নিউজ করতে উৎসাহিত করে। কারণ আমি নিজেও কমিশন খাইনি, উল্টো তাদের কমিশন বাণিজ্য বন্ধ করেছি। আমার ক্ষতি করতে চেয়েও তারা পারেনি। এর মাঝে আমার দেড় বছরের এক বাচ্চা ও নতুন কর্মস্থল নিয়ে শুরু হয় আমার স্ত্রীর আরেক সংগ্রাম। আমার সততার খেসারত দিতে হয় আমাদের দুজনকেই। প্রথম আলোর ২৯ এপ্রিলের ব্যাক পেইজ দেখে নিবেন। ৩ কলাম ৬ ইঞ্চি নিউজ একটি জাতীয় দৈনিকের ব্যাক পেইজে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হলে ছাপানো হয় যখন দেশ ইলিয়াস আলী ইস্যুতে পুড়ছে! তারা আমার স্ত্রীর প্রতিবাদটুকুও ছাপেনি। যিনি নিউজ করেছেন তিনি চট্টগ্রাম প্রথম আলোর সিনিওর সাংবাদিক। আপনারা কীভাবে মানুষের সংসারজীবন, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থা সবকিছু নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারেন তার একটি নমুনা দিলাম।
আমরা যারা ল্যাবের কমিশন বাণিজ্য বন্ধ করে সাফারার হই, নিজের শরীর থেকে ২৭ ব্যাগ রক্ত বিভিন্ন সময়ে দিয়ে রোগীদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছি- তাদের ব্যাপারে ইতিবাচক কোনও নিউজ কি কখনও ছাপা হতে দেখেছেন? দেখেননি। আমি জীবনে কী শিখলাম? সৎ থাকলে এভাবে সাফার করতে হয়! নিজের প্রথম সন্তান হওয়ার ২ দিন পর আর দ্বিতীয় সন্তান হওয়ার ৪ দিন পর তাদের মুখ দেখছি। তবুও আমার প্রিওতমা স্ত্রী কোনওদিন এতটুকু অভিযোগ করেননি। ২ বার সিজারের মাধমে বাচ্চা জন্ম দেওয়ার সময় একবারও চাকরির কারণে আমি তার পাশে থাকতে পারিনি। কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে, আমার ছুরির নিচে যে রোগী শুয়ে আছে তার সুস্থ হয়ে ঘরে যাবার জন্য তার পরিবারের সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। এখন হাসপাতাল ছেড়ে স্বার্থপরের মতো নিজের স্ত্রীর পাশে গিয়ে দাঁড়াতে আমার বিবেকে বেঁধেছে। কিন্তু আমার সততা, মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ দিয়ে অর্জিত মান-সম্মানকে এক কলমের খোঁচায় মুহুর্তেই ভুলুণ্ঠিত করতে প্রথম আলোর মতো জাতীয় দৈনিকের এক মুহুর্ত সময় লাগেনি। যারা ‘বদলে যাও, বদলে দাও’ স্লোগান দেয়, তারা এক মুহুর্তে আমার জীবন বদলে দিয়েছে।
আমার সততা নিয়ে মানুষ হেসেছে, টিপ্পনি কেটেছে কিন্তু আমার নিজের কাছে তো আমি পরিস্কার। সাংবাদিকদের কাছে আমি নোংরা হতে পারি। আমার স্ত্রী আজও জানেন তার স্বামী সৎ। আমার রোগীরা জানেন আমি নিষ্ঠাবান—- এই সম্মানটুকুই আমার জন্য সব। সব চিকিৎসককে আমি আহবান জানাব সাংবাদিকের আপাতদৃষ্টিতে উল্লম্ফনকে শায়েস্তা করার জন্য তাদের গায়ে হাত তুলবেন না। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করুন। আমরা সবাই পাশে থাকব। ওরা কসাই ডাকুক— যা খুশি তাই ডাকুক—
বিধাতার এত কাছে যাওয়ার সুযোগ শুধু ডাক্তারদেরই হয়। যারা হলুদ সাংবাদিকতা করে মানুষের জীবন তছনছ করার চেষ্টা করে, চেম্বারে গিয়ে ‘আমি সাংবাদিক’ বলে সুবিধা আদায় করার চেষ্টা করে, মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে (একুশের মতো), ‘ঘটনার মগডালে’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্যামেরা নিয়ে অপারেশন থিয়েটারে ঢোকার চেষ্টা করে- তাদের ক্ষমা করুন। ওদের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েও মহানবীর মতো বলুন-’ এদের জ্ঞান দাও প্রভু, এদের ক্ষমা কর।’
আপনাকে সশ্রদ্ধ সালাম। ডাক্তারদের ভালো কাজগুলোকে উৎসাহিত করে কখনও কেউ নিউজ করে না। কারণ তাতে কাটতি বাড়ে না পত্রিকার। আর আমরা জাতি হিসেবে এতটা পচে গেছি যে ভালো কোনও সংবাদও আমাদের ভালো লাগে না। সমাজের যত স্ক্যান্ডাল আর অন্ধকার নিয়ে চায়ের কাপে সিডর তুলতে আমাদের আগ্রহ বেশি!
আপনার পজেটিভ অ্যাপ্রোচের জন্য ধন্যবাদ।
গত ক’দিনের ঢাকা মেডিকেলের ঘটনা নিয়ে সিনিয়র সাংবাদিকদের বলব- প্লীজ, আপনারা খবর নেন আসলে কী ঘটেছিল। জুনিয়র সাংবাদিকদের কাছে জিম্মি হয়ে এত মিথ্যা কথা ছাপাবেন না প্লীজ। সব পত্রিকা একজোট হয়েছে যে তারা ডাক্তারদের সম্পর্কে সঠিক সংবাদ পরিবেশন করবে না। এই জন্য এই ঘটনার সঠিক তথ্য কেউই জানে না। যারা জানেন না তাদের বলছি, যদি সুযোগ থাকে তাহলে দয়া করে ওই রোগীর পাশের বেডের কোনও রোগীর কাছ থেকে শুনে আসুন সেই রোগীর আচরণ এবং প্রকৃত ঘটনার কথা। এমনকি পরদিন প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে ঢাকা মেডিকেলের প্রেস রিলিজও কোনও মিডিয়া প্রকাশ করেনি।
আর ডাক্তাররা অন্যায় বা ভুল করলে আপনারা লিখবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এ দেশের ডাক্তাররা হাজারো প্রতিকূলতার মধ্যে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। পেশাগত ক্ষেত্রে তারা অন্যান্য পেশার তুলনায় সুযোগ-সুবিধায় অনেক বঞ্চিত। তাদের বেতন মাত্র ১৬০০০-৩৫০০০ (অবসরের সময়) টাকা। চরম প্রতিকূলতার মধ্যে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। হাসপাতালে সন্ত্রাসী, মাস্তান, চেয়ারম্যান-মেম্বার-এমপি, রাজনৈতিক নেতা সবাই ডাক্তারদের ওপর খবরদারি করে। যন্ত্রপাতি-প্রযুক্তিগত অনেক সুবিধাই আমাদের দেশে নেই। ডাক্তারের কোনও দোষ না থাকলেও সত্যতা যাচাই না করে ঢালাওভাবে লিখে দেওয়া হয়, ‘ডাক্তারের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু’। এটা একটা অভ্যাস হয়ে গেছে। অনেক সাংবাদিক ডাক্তারদের কাছ থেকে উৎকোচ আদায় করেন। এ সব বিষয় নিয়ে কখনও না লিখে সবসময় শুধু নেগেটিভ সংবাদ প্রকাশ করলে এ রকম ঘটনা আরও ঘটবে বলেই আমাদের আশঙ্কা।
আমার মনে হয় সাংবাদিকদের মারধর না করে প্রেস রিলিজটা দিলে পত্রিকায় ছাপা হত। মারধরের পর তো পত্রিকা আপনাদের কথা শুনবে না। আর ইন্টার্নি ডাক্তারদের মারধরের রেকর্ড তো নতুন নয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন রোগীকে ইন্টার্নি ডাক্কাররা মারধর করে মেরে ফেলেছেন, এমন অভিযোগও আছে। রংপুর মেডিকেলেও ইন্টার্নি ডাক্কাররা রোগীর আত্মীয়কে মারধর করেছেন। উপরে একজন মন্তব্য করেছেন, দুনিয়ার আর কোনও দেশে রোগী জিম্মি করে ডাক্কাররা ধর্মঘট করেন না। আসলেও তাই। আমাদের দেশে সরকারি হাসপাতালে যে কোনও ছুতো পেলেই ডাক্কাররা রোগীদের মৃতু্র মুখে ঠেলে দিয়ে ধর্মঘট ডাকেন আর বিকেলে চেম্বারে বসে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন। এই অমানবিক ডাক্কারদের বিশ্বাস করার কোনও কারণ আছে কি? সাংবাদিকরা মারধর খেয়েও তবু কিছু সত্য তুলে ধরে। তাদের পুরোপুরি অবিশ্বাস করা যায় না।
যে সব ডাক্তার ধর্মঘট ডাকেন তারা কখনও প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন না।
প্রেস রিলিজ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু ছাপায় নাই। সাংবাদিক মারধরের ঘটনাটা খারাপ হলেও ফলাফলটা খারাপ হয় নাই। যদিও কোনও পত্রিকা সাংবাদিকদের কোনও ভুল ছিল এমন খবর ছাপে নাই।
রাজশাহী মেডিকেলের যে ঘটনা বললেন তার প্রকৃত সত্য হচ্ছে, মেডিকেলের পাশের এক রোগী ভর্তি হয় মাথায় প্রচণ্ড আঘাত (severe head injury) নিয়ে । এ ধরনের রোগীদের অবস্থা ক্রমে খারাপ হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। সেই রোগীর ছেলেকে তা বলাও হয়েছিল। কিন্তু ‘লোকাল লোক’ এই জোরে সে এক ইন্টার্নি চিকিৎসকের গায়ে হাত তোলে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে সব ইন্টার্নিরা ওয়ার্ডে গিয়ে সেই ছেলেকে মারধর করে। রোগীকে কিছু করা হয়নি। পরেরদিন রোগী মারা যান। ডাক্তারা কি সবাইকে বাঁচাতে পারবেন?
রাজশাহী মেডিকেলে থাকার সময় দেখেছি কী অবলীলায় সাংবাদিকরা একপক্ষের অভিযোগ শুনে পরের দিনের পত্রিকায় তা ছেপে দেন। এই ঘটনার কিছুদিন আগেই প্রথম আলো রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে এক বিশাল উপ্সম্পাদকীয় ছাপে যাতে প্রতিবেদক নিজেই উল্লেখ করেন যে উনি মাত্র একদিন রাজশাহীতে থেকে পরদিন ঢাকায় ফিরে এই প্রতিবেদন লিখেছেন। সেখানে এমন এমন সব অভিযোগ ছিল যা হাস্যকর। একটা হাসপাতাল সম্পর্কে এ রকম একটা প্রতিবেদনের জন্য কি কয়েক ঘন্টা সময় যথেষ্ট?
এখানকার দুই এমপি একবার তুচ্ছ ঘটনাকে পুঁজি করে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে হাসপাতালের মধ্যে কয়েকশ’ মানুষ নিয়ে গিয়ে মিছিল করেছিলেন। কাজ কারার সময় এই সব লোকালদের নিয়ে আমরা এতই অতিষ্ঠ থাকতাম যে, লোকালরা ডাক্তারদের কাছে ‘লেংঠা’ নামে পরিচিত!
মিথুন রায়,
আপনি রাজশাহী মেডিকেলে ছিলেন বলে সেখানকার কথা লিখেছেন। তবে আসল কথাগুলো বেমালুম চেপে গিয়েছেন। দুই এমপি যে দিন লোকজন নিয়ে হাসপাতালে যান তাদের একজন ছিলেন রাজশাহী-২ আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি ভালো মানুষ হিসেবেই পরিচিত। ওইদিন তারা হাসপাতালে কেন গিয়েছিলেন তা আপনি ভালো করেই জানেন। রোগীদের অষুধ চুরির অভিযোগ তারা অনেকদিন ধরেই পাচ্ছিলেন। সেটা ধরতে গিয়েছিলেন ওরা। কিছু অষুধ জব্দও করেছিলেন। দুঃখজনক হলো, এই চুরির সঙ্গে সম্মানিত ইন্টার্নি ডাক্তাররা জড়িত। খুব স্বাভাবিক যে এই কথাটা বলতে আপনি লজ্জা পাচ্ছেন।
রামেক-এ ইন্টার্নিদের কাণ্ড-কীর্তিগুলো তাহলে শুনুন। এই ইন্টার্নিরা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে লোকালদের দালাল হিসেবে কাজ করে। রোগীদের অষুধ চুরির জন্য তাদের কাজে লাগায়। রাতের বলা ওয়ার্ড থেকে রোগীদের অ্যাটেনডেন্টদের টাকা-পয়সা-মোবাইল চুরি করে। ইন্টর্নিদের অনেকে রোগীর নামে অষুধ লিখে দালালদের দিয়ে স্টোর থেকে তোলায়। আর টাকা-পয়সার ভাগ-বাটোয়ারা নিযে যখন ঝামেলা হয়, তখন লোকালরা ইন্টার্নিদের হাসপাতাল চত্বরে বা ওয়ার্ডে গিয়েই পেটায়। ইন্টার্নিদের কাছে ‘ডাইল’-এর জোগানও লোকালরা দিয়ে থাকে। আমার মনে হয়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই ইন্টার্নিরা সবচেয়ে বেশি পিটুনি খেয়ে থাকে। কারণ এই কলেজে গ্রাম থেকে আসা ছাত্ররা বেশি ভর্ত হয়। তাই পাশ করেই এরা ধরাকে সরা জ্ঞান করা শুরু করে। রোগী ও অ্যাটেনডেন্টদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। অষুধ চুরি করে পয়সা কামানোর ধান্দা করে।
এসব অনৈতিক কাজ করতে গিয়ে লোকালদের সঙ্গে গোলমাল হলে রোগীদের জিম্মি করে ধর্মঘট করে ওরা। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে চুরি হওয়া অষুধ একটা ফার্মেসি থেকে আজ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মিথুন রায়, আপনি নিজের লোকদের দিকে তাকান। সাংবাদিকদের নিয়ে পরে মাথা ঘামান।
@আনু মোস্তফা,
আপনার এই কমেন্টই বলে দেয় আপনাদের, মানে সাংবাদিকদের রুচি কেমন। হাসপাতালের অষুধ সরবরাহের একটি পদ্ধতি আছে। রোগীর চাহিদা অনুযায়ী প্রত্যেক ওয়ার্ডের ইনচার্জ নার্স প্রতিদিন চাহিদাপত্র পাঠান, যেটা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের অধ্যাপক কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষরিত হয়। স্টোরকিপার সেই অনুযায়ী অষুধ সরবরাহ করেন। অষুধ আনা-নেয়ার কাজ করে ওয়ার্ডবয়রা। অষুধ পাওয়ার পর নার্সরা রোগীদের মধ্যে তা বিতরণ করেন।
পুরো প্রসেসে ডাক্তারদের ভূমিকা কতটুকু? ঘটনাস্থলে না গিয়ে রিপোর্ট লেখা ছাড়ুন। যে বিষয়ে জানেন না সে সম্পর্কে মন্তব্য করবেন না দয়া করে। জনগণ কিন্তু জেগে উঠছে।
এটা হল বহুদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। সাংবাদিকরা হলেন দেশের সবচেয়ে বড় ব্লাকমেইলার। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তারা সব জায়গায় ক্ষমতা দেখান, ভয় দেখিয়ে অনৈতিক ও আইন-বহির্ভূত সুবিধা আদায় করেন। তারা মনে করেন সাংবাদিক হয়েছেন বলে যে কোনও লোকের ছবি তুলবেন, যে কোনও বিষয় নিয়ে মনের মাধুরী মিশিয়ে রিপোর্ট করবেন, তা সে সত্যি হোক আর না হোক, যখন-তখন যে কোনও জায়গায় তারা প্রবেশাধিকার পাবেন। একটা ছোট্ট উদাহরণ দিলে বুঝবেন- বেশিরভাগ সাংবাদিকেরই গাড়ির লাইসেন্স থাকে না, তারা নম্বর প্লেটে ‘সাংবাদিক’ লিখে দিব্যি ঘুরে বেড়ান…
গাড়ির সামনে প্রেস কিংবা সাংবাদিক লেখা চোখে পড়েছে কিন্তু নম্বরপ্লেটে সাংবাদিক লেখার বিষয়টি অভিনব মনে হচ্ছে। শাওনের পুরো পরিচয় নাই। কিন্তু তিনি নম্বরপ্লেটে লাইসেন্সবিহীন গাড়ি কোথায় দেখেছেন তা জানা দরকার। ঢাকায় যারা রিপোটিং করেন, প্রায় ১৪ বছর এই পেশায় থাকার অভিজ্ঞতায় বলছি, তাদের দশভাগেরও নিজের গাড়ি নেই। যারা গাড়ি চালান তারা কর্তা-ব্যক্তি গোছের ব্যক্তি, রিপোর্টার নন। আরও দেখা যায়, যে গ্রুপের পত্রিকা কিংবা টেলিভিশন সেই শিল্পগ্রুপের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গাড়িতে ‘প্রেস’ স্টিকার লাগিয়ে ঘুরে বেড়ান।
আরিফ জেবতিক নিজেও রিপোর্টার আর কর্তা-ব্যক্তির সাংবাদিক পরিচয় গুলিয়ে ফেলেছেন। শাওনও ফেলেছেন। ব্লা্কমেইল করে আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার সাংবাদিকরা। যাদের পৃষ্ঠপোষক অসৎ রাজনীতিবিদ এবং প্রশাসনিক কর্তা-ব্যক্তিরা। দেশের প্রতিষ্ঠিত পত্রিকার কারা আপনাকে কীভাবে ব্ল্যাকমেইল করেছে, প্লিজ সুনির্দিষ্টভাবে বলুন। দয়া করে ঢালাও অভিযোগ করবেন না। ঢাকা শহরে পুলিশের কনস্টেবল, রাজউকের সুইপার, সড়ক ও জনপথের তৃতীয় কর্মচারীর বাড়ি আছে। একবার খোঁজ নিয়ে দেখুন, প্রতিষ্ঠিত পত্রিকার রিপোর্টাররা কীভাবে থাকেন! তারা কতটা সুবিধা পান!
খুব দৃঢ়ভাবে বলতে পারি রিপোর্টারদের মধ্যে এখনও ৯০ শতাংশ সৎ এবং নূন্যতম নৈতিকতা মেনে চলেন। অন্য যে কোনও পেশায় ৫০ ভাগ লোককেও সৎ হিসেবে পাবেন না। পত্রিকা কিংবা টেলিভিশনের মালিকপক্ষের সুবিধার সঙ্গে রিপোর্টারদের গুলিয়ে ফেলবেন না। কর্তা-ব্যক্তিদেরও রিপোর্টারদের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না। রিপোটিং-এর বর্তমান চিত্র সম্পর্কে যাদের নূন্যতম ধারণা নেই তারাই কেবল এমন ঢালাও মন্তব্য করতে পারেন।
জনাব রাশেদ মেহেদী,
বাংলাদেশের রাস্তায় চলাফেরা করলে আপনার চোখে শত শত মটরসাইকেল পড়ার কথা যার নাম্বার প্লেটে ’সাংবাদিক’ লেখা, এবং সেগুলো চলেও খুব বেপরোয়া, ফুটপাতসহ যেখানে চলার নয় সেখানেও।
আমি এ দুটোকে গুলিয়ে ফেলছি না আর এ জন্যই সাংবাদিকদের নিবন্ধন নাম্বারের দাবি জানাচ্ছি। সেক্ষেত্রে যদি কোনও একটি যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে পেশাদার সাংবাদিকরা পরিচয় ব্যবহারের সুযোগ পান, তখন বাকিরা এই গাড়ির স্টিকার মারার বাণিজ্য করতে পারবেন না।
দেশের এমন কোনও শহর নাই যে শহরে এমন গন্ডায় গন্ডায় মোটর সাইকেল মিলবে না, যেটার নাম্বার প্লেইটে সাংবাদিক লেখা নাই। আমি এমনও দেখেছি, যেখানে সাংবাদিক এবং প্রতিষ্ঠান উভয়ের নামই লিখে রাখা।
দেশের এমন কোনও শহর নাই যে শহরে এমন গন্ডায় গন্ডায় মোটর সাইকেল মিলবে না, যেটার নাম্বার প্লেটে সাংবাদিক লেখা।
কোন ধরণের কোন মিডিয়ার উপর আমার এখন আর বিশ্বাস নেই। হলুদ সাংবাদিকতা অনেক দিন ধরেই চলছে। সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপে সাকিব আল হাসানকে নিয়ে একটা মিথ্যা সংবাদ ছাপা হয়েছিল, এরপর থেকে খবরের কাগজ অথবা টিভি সংবাদ কোনটাই আর বিশ্বাস করি না।
অসংখ্য ধন্যবাদ এই লেখাটির জন্য । সাংবাদিকতার সম্মান রক্ষার জন্যই এই নিয়ম চালু করা উছিত ।গুটি কয়েক ভুঁইফোড় সাংবাদিক এর জন্য পুরা সাংবাদিকতা পেশাটির credibility নষ্ট হতে দেয়া ঠিক না । lots of thanks for this honest viewpoint of yours.
মেডিকেল কলেজ এর ঘটনায় একদিকে যেমন সাংবাদিক সমাজের মান মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, তেমনি ডাক্তার সমাজের প্রতি মানুষের বিতৃষ্ণার জ্বালা আর বাড়ছে। খুব দ্রুত এর প্রতিকার চাই!
আরিফ ভাই , দারুন লিখেছেন । আমি আপনার সাথে একমত হয়ে আরও বলতে চাই,শুধুমাত্র সনদ দেয়ার প্রতিষ্ঠান থাকলেই হবে না , সেটাকে কার্যকরও হতে হবে । যেমন, চিকিৎসকদের সনদ দেয়ার কর্তৃপক্ষ বি এম ডি সি র রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের সংখ্যা খুব বেশী হলে ৫০ থেকে ৬০ হাজার । কিন্তু সারাদেশে ডাঃ পদবী ব্যবহারকারি না হলেও ২ থেকে ৩ লাখ । এই সব ভুয়া চিকিৎসকদের নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূলে বি এম ডি চুড়ান্তভাবে অকার্যকর ।
দারুন, আরিফ ভাই, খুব শুন্দর
বাংলাদেশে সাংবাদি্কতা কী এখনও পেশা হিসেবে দাড়িয়েছে?ক’জন সাংবাদিক বেতন পায়?ঢাকা শহরে বসে সারা বাংলাদেশের মূল্যায়ন করতে হলে-এর সামগ্রিক বাস্তবতাকে মূল্যায়নে আনতে হবে।প্রস্তাবটা ভাল।এর আগে সাংবাদি্কদের নিত্যদিনের দুখগুলো বিবেচনায় আনবেন না?ছবি পুরো আঁকা হলে ফিনিশিং টাচ্ দেওয়া যায়,ছবি না এঁকে আউট লাইন দিলে ছবিটাকে কারাগার মনে হবে শিল্পীর।রিপোর্টিং এর মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়,কিন্তু পুরো সাংবাদিকতার প্রসংগে সনদের কথা বললে-ব্যাপারটি তালগোল পাকাবে।
আরিফ ভাই ,লেখাটা খুব ভাল লাগলো । বিষয়টা এইভাবে চিন্তা করা উচিত । গ্রামে যেসব লুঙ্গি পরা সাংঘাতিক ঘুরেন তাদের কে আমি রীতি মতো ভয় পাই ।
শতভাগ এক মত আপনার সাথে। আমি তাহির হাসান পাটশালাই ফতগ্রাফিতে পরি।
খুবই ভাল লাগলো । কারন আমাদের দেশের মিডিয়া এখন আসলে অফুরন্ত স্বাধীনতা ভোগ করছে । আবার এর নিয়ন্ত্রন সরকারের হাতে ছাড়তেও ভয় হয় । তাহলে বিটিভি এর যুগে ফেরত যেতে সময় লাগবে না ।
hmm যথার্থই বলেছেন, কমপক্ষে psychology আর intelligence এই দুইটা ঠিক না থাকলে তারে সাংবাদিকতা করতে দেয়া উচিৎ না………… @amisombadikkori ভাই আপনি ব্লগিং আর সাংবাদিকতাকে এক করে ফেলেন ক্যামনে…… ব্লগ হচ্ছে মুক্তচিন্তা নিজের চিন্তা-ভাবনা; ideology প্রকাশ করার মাধ্যম যেটা ভুল কিংবা ঠিক হতে পারে, কিন্তু সাংবাদিকের তো সেই স্বাধীনতা থাকতে পারে না যে সে একটা ভুল বা নিজের মনগড়া কথা রিপোর্ট করে বেড়াবে।
আমার কাছে মনে হয় সাংবাদিকদের সনদ সংগ্রহের পূর্বে বিভিন্ন নতুন নতুন মিডিয়া সৃষ্টির জন্য সনদের ব্যবস্থা করা উচিত।
কারণ রাজনৈতিক কিংবা ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোন থেকে নিজেদের অপকর্ম লুকাতে যেসব মিডিয়ার তৈরী তাদের সাংবাদিকরা কী করে এতো নীতিবান হবেন।
ভাইজান আমার জানামতে, অনেকে সাংবাদিকতায় অনার্স মাষ্টাস করেও এই প্রফেশনে টিকতে পারেনা। আজকাল যার উপর দিকে যোগাযোগ ভাল, বসকে তেল দিয়ে চলতে পারে, সেই কেবল এই লাইনে টিকে থাকতে পারে এবং তরতর করে উপরের সিঁড়ি বেয়ে এগিয়ে যান। আমার জানামতে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলো থেকে যতজন শিক্ষাথী বের হচ্ছেন তার চার ভাগের একভাগও এই লাইনে টিকে থাকতে পারছেনা তেলবাজ,চাপাবাজদের কারণে……….আমি নিজেই ৪ বছর একটি জাতীয় দৈনিকে কাজ করেছি, কিন্তু ‘ওদের‘ জন্য টিকতে পারিনি।
ধন্যবাদ। আমিও আপনার সাথে সম্পূর্ণ একমত। ঠিক এমন ঘটনা ঘটছে মফস্বলে প্রতিনিধি নিয়োগেও। আমার এলাকায় এমন কিছু নামিদামি জাতীয় দৈনিক তাদের প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়েছে যিনি এস.এস.সি’র সনদটুকুও নিতে পারেনি। সবচেয়ে জরুরী বিষয় হল প্রত্যেক গণমাধ্যম গুলো তাদের যাত্রা শুরু করার আগে প্রত্যেক কর্মীকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া। মফস্বলে অনেক গণমাধ্যমকর্মী রয়েছেন যারা তথ্য সংগ্রহের নিয়ম কানুন সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞাত নয়। ফলে যেমনি দায়িত্ব পালনে সমস্যার সৃষ্টি হয় তেমনি সংবাদকর্মীদের ওপরও সাধারণ মানুষের বিরুপ প্রতির্ক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এজন্য একটি নিয়ন্ত্রনকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিধিমালা তৈরি বর্তমান পরিস্থিতিতে একান্ত প্রয়োজন।
আপনার এই লেখাটি খুবই ভালো হয়েছে। আপনার লেখায় যুক্তি আছে। সংবাদপত্র যদি সমাজের দর্পন হয়, তবে সেই দর্পনের কারিগর হচ্ছে সাংবাদিক। যুগোযোগী সংবাদ পরিবেশন আর সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হোক সংবাদপত্র। আপনার আসাধারণ লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
তাহলে ব্লগিনং করবার আগে প্রয়োজন ব্লগার সনদ। অথবা কলাম লেখার আগে কলামিস্ট ডিপ্লোমা। এখন থেকে আর কেউ এম বি এ না করলে ব্যবসা করতে পারবেনা। রাষ্ট্রবিগ্গানে পাশ না করলে রাজণীতি করতে পারবেনা। খুবই ভাল আইডিয়া! আরিফ ভাইয়ার কিসের সনদ আছে?
সহমত। ভাল লিখেছেন।
ভাই, কষ্ট করে একবার উনার নামের উপরে ক্লিক করে প্রোফাইলটা পড়ে নিলে ভালো হতো না ?
আরিফ ভাই খুব ভালো লিখেছেন ভাই।
amisombadikkori ভাইজানের কথা মেনে নিলে ধরা যায় যে এখন থেকে আর বাড়ির ডিজাইন করতে আরকিটেক্ট হওয়ার দরকার নেই, মামলা লড়তে উকিল হবার দরকার নেই, অনুবাদক হবার জন্য সার্টিফাইড হবার দরকার নেই| দারুণ পরামর্শ|
ভাইজান, হাতের পাঁচ আঙুল সমান হয়না, সবকাজে দায়িত্ব আর দায়ভারও সমান না। লেখকের কথায় যুক্তি আর দৃষ্টান্ত উঠে এসেছে, পুরোপুরি একমত।
ধন্যবাদ Adnan Azad। লেখকের সঙ্গে আমিও পুরোপুরি একমত।
কোনো সনদ নেই, সনদ চালু হলে নিতে আগ্রহী।
ভাই দয়া করে লেখকের প্রোফাইলটা একটু পড়ে দেখুন…
ভাই হাসসকর কথা বললেন! একজন বিজনেসম্যানের কৃতকর্ম শুধুমাত্র তাকে আর তার পরিবারের সদস্যদের প্রভাবিত করে, সে এমবিএ করল কী না করল তাতে জাতির কিছু যায় আসে না। এইটা তার নিজের ব্যাপার। সাংবাদিকদের কর্মকাণ্ড পুরো জাতিকে প্রভাবিত করে। যে সব পেশার সঙ্গে অন্য মানুষের ভালো-মন্দ জড়িত তাদের পেশাগত দায়িত্ব ছাড়াও দেশ-জাতির প্রতি দায়িত্ব থাকে। আপনি কি এমবিবিএস পাশ না-করা একজন ডাক্তারকে আপনার বা আপনার পরিবারের কারও গায়ে হাত দিতে দিবেন? সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং না-পাশ করা কাউকে আপনার বাসা বানাতে দিবেন?
তাহলে আমি সনদবিহীন কাউকে আমার কাছে দুনিয়ার খবর পৌঁছানোর দায়িত্ব কেন দিব????
দারুন লিখেছেন আরিফ ভাই। সহমত
….সহমত পোষন করছি…..
এর সাথে যোগ জেলা এবং মস্ফল সাংবাদিকদের কর্মযচ্ঞের কথা, যা উপরোক্ত বাস্তবতা থেকেও ভয়াবহ………………
লেখকের সাথে সম্পুর্ন একমত।
হায়রে আমাদের বাংলাদেশী মিডিয়া আর ফেসবুক ব্যবহারকারীগন।
যে শাওন আর মাজহার সাহেব হুমায়ুনের জীবদ্দশায় সবচেয়ে কাছের মানুষ ছিলেন তাদের বানানো হল মৃত হুমায়নের সবচেয়ে বড় শত্রু।
মার চেয়ে মাসির দরদ বেশী হলে এই রকমই হয় !
লেখককে বিনম্র শ্রদ্ধা
একমত। অত্যন্ত জরুরিভিত্তিতে এটা করা উচিত। কিছু উন্মত্ত বাছুর ষাড়ের কারণে গণমাধ্যম কাদা-জলে আছাড় খাচ্ছে।
আপনার প্রস্তাব যথার্থই। কিন্তু বাংলাদেশ বলে কথা। এখানে সনদধারীরাই কী শৃঙ্খলাবদ্ধ? সনদধারী বিভিন্ন শ্রেনি-পেশার মানুষদের আমরা দেখছি কত নিষ্ঠুর-নির্মম হতে পারছে তারা। চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, শিক্ষক কোন শ্রেণিপেশার সংগঠনের মানুষের মধ্যে সহজবোধ্যতা, শৃঙ্খলা,গণতান্ত্রিক মানবিক মূল্যবোধ প্রতিফলিত হচ্ছে? চারিদিকেই তো নিষ্ঠুর থাবা, সভ্যতা-ভব্যতাকে অবিরত ভেংচি কাটে। এমন দুর্জনদের সনদ বাতিলের ক্ষমতা কোন ক্ষমতাধর রাখেন!যে কর্তৃপক্ষ সনদ দিবেন তার ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দৈত্য হওয়ার আশংকাই প্রবল- অন্তত অভিজ্ঞতা তা-ই বলে। আর সনদধারী সাংবাদিক যে সনদের গুণে হঠাৎ করেই দায়িত্বশীল হয়ে যাবেন, এমন গ্যারান্টিও কেউ দিবেন না, নিশ্চয়। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে যতক্ষণ না গণতন্ত্র চর্চার পথ সুগম হবে, যতক্ষণ না রাজনীতিকরাই রাজনীতি করবেন, তার আগে বোধ করি আমাদের মুক্তি নেই।
এটা অবশ্যই সাংবাদিক নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব নয় আরিফ জেবতিক। পেশার মান বজায় রাখার একটা ব্যবস্থাতো থাকতে হবে। যেমন আপনি বলছেন, এখন বাংলাদেশে এটা জরুরি হয়ে পড়েছে।
সাংবাদিকরা আপনার এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করার কথা না বরং পেশাজীবি সাংবাদিকরা নিজেদের পেশার সম্মান বজায় রাখার স্বার্থে আপনার সমর্থনেই এগিয়ে আসার কথা।
মূলকথা হলো, সাংবাদিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কেউ যাতে অনাচার বা অসৎ কর্মকান্ড করে বেড়াতে না পারে তার একটা প্রাতিষ্ঠানিক সমাধান থাকা উচিত। প্রেসক্লাবের সদস্য হওয়া বা এক্রিডিটেশন কার্ড থাকাই যথেষ্ট নয়। সেইসাথে প্রতিষ্ঠিত কিন্তু সাংবাদিকতার অআকখ না জানা যেসব কর্মীরা সংবাদপত্রে/বা তথ্য মাধ্যমে কাজকর্ম শুরু করেছেন তাদের জন্য একটা আচরণ বিধিমালা থাকা ফরজ হয়ে গেছে এখন।
এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার আগে নিজের দিকেও তাকানো জরুরি। এই নিবন্ধের লেখক আরিফ জেবতিক নিজে কোন পেশা বা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কিনা তা জানার আগ্রহ থাকলো ।
‘পয়সাকড়ি’ কামানোর পর আমলাদের মধ্যে কবি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার একটা প্রবণতা দেখা যায়, ইদানিং ব্যবসায়ীরাও একটু সাফল্য পেলেই হয় পত্রিকার মালিক/সম্পাদক বনে যান, নয়তো ‘ধরাধরি’ করে সাংবাদিক হয়ে যান। সাংবাদিকতার অধঃপতন কেন হবে না বলুন?
আপনি আমার দিকে তাকানোর আগে লেখার নিচে যদি ‘সাংবাদিক’ লেখা দেখে থাকেন, তাহলে বুঝতে পারবেন যে আমিও সাংবাদিকতার সঙ্গেই জড়িত এবং সেটির বয়েসও অনেক দিন। এর বাইরে পারিবারিক ব্যবসায়ও অংশীদারিত্ব আছে বটে।
এই লেখাটা নিজের দিকে তাকিয়েই লেখেছি, ঘটনাচক্রে আরো অনেকেরই চামড়ায় লেগে গেছে দেখে ব্যথিত। আপনাকে ধন্যবাদ।
লেখার যৌক্তিকতা, সহমত কিংবা বিরুদ্ধাচারণ না করে লেখকের পেছনে লাগাটা পুচ্ছে আগুন লাগার সংকেত।
সাংবাদিকদের ইদানীং সাংঘাতিক বলা হচ্ছে। সাংবাদিক নামে কিছু দুর্বৃত্তদের চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপকর্মের দায়ভার গোটা সাংবাদিক সমাজে ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। একটি দেশের জনসংখ্যা, তার শিক্ষা ব্যবস্থা সহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার সমন্বয়ের বাইরে শত শত পত্রিকা, চ্যানেল চালু হওয়ায় সমাজে গণমাধ্যম এখন একটা উৎপাতে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞাপনের বাজার ছাড়া একটা দেশে কীভাবে গণমাধ্যম চলে এই প্রশ্নের উত্তর বের হলে আমাদের সাংবাদিক সমাজের এক অংশের পচনের তথ্য বেরিয়ে আসবে। বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের একটা বড় অংশ এখন আমাদের সংবাদ মাধ্যমের সাথে জড়িত। আমরা সবাই এদের কাছে গণমাধ্যমের একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ দেখতে চাই। আপনার ভাষায় বলতে চাই, অবশ্যই সনদধারী সাংবাদিক চাই, শুধু সনদধারী সাংবাদিক নয়, পেশার মর্যাদা রাখবে এমন সাংবাদিক চাই। সাংবাদিকের সততাকে ভয় পাবে অন্যরা। হলুদ সাংবাদিকতা বন্ধ হবে!
এই চাওয়াগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে সাংবাদিক সমাজের সাথে জড়িত সংগঠনগুলো; সাংবাদিকরা কোনো নিয়মনীতির মধ্যে থাকবে না– এটা হতে পারে না। অপসাংবাদিকদেরও রুখে দাঁড়াতে পারলে সাংবাদিক সমাজের পেশাগত ভাবমূর্তি ফিরে আসবে। সময়োপযোগী একটি সুন্দর লেখার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
জানাব,আরিফ জেবতিক আপনাকে অনেক ধন্যবাদ যে,আপনার লেখায় বাস্তব একটি সমস্যার উন্মোচন হয়েছে।আজকাল প্রেম করতে গেলেও সাংবাদিক ছোবল থেকে রেহাই পাওয়া যায় না।সাংবাদিক তখন বলে আমাদের চাঁদা কোথায়?নইলে ফটো সহকারে খবরের কাগজে ছাপিয়ে দিব।এরা সাংবাদিক না,সাংবাদিকদের নীতি হরণ-কারী।আজকের তরুণ সমাজের সবাই আপনার সাথে একমত পোষণ করবে যে,আমরা সনদ-ধারী সাংবাদিক চাই।
প্রকৃত সাংবাদিকরাও কি এক হতে পারবেন!
কত দলাদলি!
এক সাগর-রুনীর হত্যার বিচার চাওয়া নিয়েই যত নাটক করলেন তাঁরা!
হুম , মনের কথা বলেছেন । একজনের জন্য সবার দোষ দেওয়ার মনভাব আমাদের প্রবল ।
বাংলাদেশে গার্মেন্টস ব্যাবসায়ী থেকে শুরু করে মুচি পর্যন্ত সবারই গোষ্ঠিবদ্ধ থাকার একটা প্রবণতা আছে, এটা ঠিক। তবে একটা বিষয় লক্ষ্য করুন, ডাক্তারী বা আইন পেশার মতো যেসব পেশায় সনদ প্রাপ্তির মতো বিষয় রয়েছে সেই পেশাগুলোতেই কিন্তু অভ্যন্তরীন নোংরা রাজনীতি সবচেয়ে বেশী। ডাক্তার বা আইনজীবীরা দুই দলে ভাগ হয়ে একে অপরের উপর হামলা চালানো কিন্তু খুব স্বাভাবিক একটি ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। সাংবাদিকদের মধ্যে কোন্দল থাকলেও বিষয়টা এখনো এতটা খারাপ পর্যায়ে যায়নি। সনদ দেয়া শুরু করলে হয়তো যেতে পারে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, সাংবাদিকতা বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতোকত্তর ডিগ্রী নিয়েও এখন অনেকেই সাংবাদিকতা পেশায় আসছে। আর তাদের এসব ডিগ্রী নেয়ার জন্যে দীর্ঘদিন সাংবাদিকতার নৈতিকতা বিষয়টি অধ্যয়ন করতে হয়। মেধাবী ছেলে-মেয়েরা যে আসছে না, তা কিন্তু নয়। এখন যারা সেই পড়াশোনা করে আসছে না, তাদের শেখানোর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর। আর সরকারের একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান থাকা উচিত, যারা যাচাই করে দেখবে কারা সংবাদপত্র বা রেডিও-টেলিভিশনের লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য। যেন কোন ভুঁইফোড় ব্যাবসায়ী মিডিয়া প্রতিষ্ঠানকে শক্তি প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে।
অনেকদিন ধরে মাথার মধ্যে ঘুরতে থাকা চিন্তাগুলকে উনি তার লেখনিতে তুলে ধরলেন। অত্যন্ত সময় উপযোগী একটি আর্টিকেল। অসাধারণ। তথাকতিথ সাংবাদিকদের মধ্যে কোন পরিবর্তন আসবে নাকি জানি না কিন্তু এই কথা গুলো বলার অনেক প্রয়োজন ছিল। লেখককে অনেক ধন্যবাদ এবং শুভ কামনা রইল।
আমি আপনার কথায় একমত।