ড মো আনোয়ার হোসেন
স্বপ্নের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সংকটকালে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর জনাব মোঃ জিল্লুর রহমান আমাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগদান করেন। তদনুযায়ী আমি গত ২০ মে ২০১২ তারিখে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্বভার গ্রহণ করি এবং তারপর এটিই আমার প্রথম সিনেট অধিবেশন। আজকের অধিবেশনের অনুভূতি আমার জীবনে স্মৃতিময় হয়ে থাকবে। আপনারা জানেন, আমি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নই। তবে এই ক্যাম্পাসে আমি আগন্তুকও নই। আমি এখানে কখনো সিলেকশন কমিটিতে, কখনো বা সভা-সমিতি কিংবা এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে কোনো কাজ ছাড়াই বহুবার বেড়াতে এসেছি। কাজেই আমি আপনাদের সাথে একাত্ম হয়েই বলতে পারি – এটি আমারও প্রাণের ক্যাম্পাস। বর্তমানে এ ক্যাম্পাসের সাথে আমার জীবনের একটি মহৎ যোগসূত্র স্থাপিত হয়েছে – এটি আমার জন্য খুবই সম্মান ও গৌরবের।
আমার বক্তব্যের সূচনাতেই শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করছি, জাতির জনক, মুক্তিযুদ্ধের মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর পরিবারের সদস্যবৃন্দ, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিহত জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ এবং বিভিন্ন সময়ের গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের সকল শহীদসহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়াত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের। আমি তাঁদের সকলের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারি তারিখে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর থেকে বর্তমান সময় অবধি, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রায় সমান বয়সী হিসেবে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় চার দশকের কিছু বেশি সময় অতিক্রম করেছে। ১৯৭০-৭১ শিক্ষাবর্ষে মাত্র চারটি বিভাগ, যথা : অর্থনীতি, ভূগোল ও পরিবেশ, গণিত ও পরিসংখ্যান বিভাগে ১৫০ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু। আজ ২০১২ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে ৬টি অনুষদ, ১৩টি আবাসিক হল, ৩৪টি বিভাগ এবং ২টি ইনস্টিটিউট ও ১টি গবেষণা কেন্দ্র। ছাত্রছাত্রী সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার। সাভার অঞ্চলের উচু-নিচু লাল মাটির প্রান্তরে বেড়ে ওঠা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলা ভূমির প্রায় ৭০০ একর জুড়ে বিস্তৃত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। আদি গাছ-গাছালির সাথে ব্যাপক বনায়ণের ফলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এখন সবুজে ঢাকা। এরমধ্যে ছড়িয়ে থাকা বিস্তৃত জলাশয়, সবুজ গাছগাছালির মধ্যে লাল ইটের দৃষ্টিনন্দন বেশ কিছু ভবন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়েছে এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য। ভাবতেও ভাল লাগে যে পৃথিবীর ১০টি জায়গার মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর অন্যতম একটি স্থান করে নিয়েছে যেখানে একটি নির্দিষ্ট সময়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যার প্রজাতির পাখি দেখা যায়। বহুবর্ণিল প্রজাপতি এবং বিভিন্ন প্রজাতির উপস্থিতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়েছে সমৃদ্ধ জীব-বৈচিত্র্য। বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রকৃতির সাথে সঙ্গতি রেখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃতিচর্চার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য তৈরি হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রবীন্দ্র-উত্তর বাংলা নাটকের প্রবাদপুরুষ সেলিম আল দীন তাঁর প্রিয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঠিকই অভিহিত করেছিলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে।
বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে উচ্চশিক্ষার সেই কেন্দ্র যেখানে থাকবে মুক্তবুদ্ধি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, উদার ও প্রগতিশীল মানবিকতা চর্চার পরিপূর্ণ আবহ। তা নিশ্চিত করতে যে শান্ত-সমাহিত পরিমণ্ডলটি দরকার তার সবটুকুই প্রকৃতি দিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে। জ্ঞান-চর্চা ও জ্ঞানবিতরণ এবং নতুন জ্ঞানসৃষ্টি– এই উভয় কাজে ব্যাপৃত থাকে বিশ্ববিদ্যালয়। তার জন্য একদিকে যেমন বিভিন্ন বিষয়ে লব্ধজ্ঞানের বিতরণ চলে শ্রেণিকক্ষে এবং ল্যাবরেটরিতে, অন্যদিকে নিরবচ্ছিন্ন এবং একাগ্র গবেষণা কার্যক্রমের মধ্যদিয়ে নতুন জ্ঞান সমৃদ্ধ করতে থাকে দেশ এবং বিশ্বের মানবকূলকে তথা মানব সভ্যতাকে। জ্ঞানবিতরণ ও জ্ঞানসৃষ্টির নিরবচ্ছিন্ন যাত্রাকে সাবলিল, স্বতঃস্ফূর্ত ও নির্বিঘ্ন রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন হয় স্বাধীনতা। মুক্ত ও বাধাহীন পরিবেশে যাতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী জ্ঞানচর্চা করতে পারেন, হয়ে উঠতে পারেন পরিপূর্ণ প্রবুদ্ধ মানুষ, তার জন্য দরকার হয় গণতান্ত্রিক বিধি-বিধানের। আমাদের সৌভাগ্য মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম ফসল হিসেবে আমরা পেয়েছি গণতান্ত্রিক অধ্যাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট, ১৯৭৩। এই অ্যাক্ট আমাদের দিয়েছে পরিপূর্ণ স্বায়ত্বশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় কোনো আমলাতন্ত্র-নির্ভর প্রতিষ্ঠান নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগ থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় শীর্ষ প্রশাসন পর্যন্ত, প্রতিটি স্তরে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় গণতান্ত্রিক বিধি-বিধান অনুসরণ করে। সেজন্যে বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালনকে বেঁধে দেয়া হয়েছে তিন বৎসরে। রাখা হয়েছে ডিন, সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল এবং সিনেট সদস্যদের নির্বাচনের ব্যবস্থা। একেবারে শীর্ষে উপাচার্যের পদটিকেও সিনেটে তিন জনের প্যানেল নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী সংস্থা সিনেটে সমাজের নানা আলোকিত মানুষের মতামত ব্যক্ত করবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধি রাখবার বিধানও আছে। তেমনি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সিন্ডিকেটে এবং একাডেমিক কার্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে একাডেমিক কাউন্সিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের বিদ্ব্যান ও পণ্ডিতদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতন্ত্রের এমন সুবাতাস বইয়ে দেয়ার সুযোগ এসেছে পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্ত হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের কারণে। সেজন্য আমাদেরকে প্রতিনিয়ত স্মরণে রাখতে হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে, সাবধান থাকতে হয় অন্ধকারের সেইসব অপশক্তি সম্পর্কে যারা ১৯৭১-এ পাকিস্তানী বাহিনীর সহযোগী হয়ে গণহত্যায় অংশ নিয়েছে, আমাদের আলোকিত বুদ্ধিজীবীদের হত্যায় সক্রিয় হয়েছে। আমাদের কর্তব্য হচ্ছে বর্তমান প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিনিয়ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ করা এবং অন্ধকারের শক্তির ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ রাখা।
স্বাধীন বাংলাদেশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম ফসল হিসেবে জাতিকে দিয়েছিলেন ‘৭২-এর সংবিধান এবং বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট ১৯৭৩। আমাদের দুর্ভাগ্য মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী অন্ধকারের শক্তির ষড়যন্ত্রে আমাদের হারাতে হয়েছে জাতির জনককে, সপরিবারে স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায়। কারাগারে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়েছে জাতীয় চার নেতাকে। নিহত হতে হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। যে রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতির উপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছিল সংবিধান, তাকে বিকলাঙ্গ করা হয়েছে। স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র, ধর্মীয় গোড়ামী ও ভেদনীতির বিরুদ্ধে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও উদার মানবিকতা হিসেবে ধর্ম নিরপেক্ষতা, ধর্ম বর্ণ গোত্র নির্বিশেষে বাংলাদেশের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখবার জন্য আধুনিক রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং সম্পদের সমতা-ভিত্তিক বণ্টন নিশ্চিত করতে সমাজতন্ত্র – আমাদের সংবিধানের এই মূল স্তম্ভগুলোকে গুড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে মুক্তিয্দ্ধু-বিরোধী শক্তি। গভীর পরিতাপের কথা, তাদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য তারা ব্যবহার করেছে স্বাধীন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে। গণতন্ত্রকে বারবার বাধাগ্রস্থ করেছে সামরিক শাসন। দেশে একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি অনুশীলনের পথে বড় অন্তরায় হয়েছে তারা। সামরিক স্বৈরতন্ত্র রাষ্ট্রকে গণতান্ত্রিক করার বদলে তাকে ব্যবহার করেছে ষড়যন্ত্র, হত্যা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কাজে। উপর থেকে সৃষ্ট ও চাপিয়ে দেয়া এই অপ-সংস্কৃতির কাছে মুখ থুবড়ে পড়েছে মানুষের সহজাত, উদার, মানবিক, সহিষ্ণু বোধসমূহ – সমাজে সৃষ্টি হয়েছে অস্থিরতার। উগ্র বলপ্রয়োগে সবকিছু আদায় করবার প্রবণতা সর্বত্র। পরমত সহিষ্ণুতা অন্তর্হিত। শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থান যা গণতন্ত্রের পূর্বশত তা দেখা যাচ্ছে না। অপেক্ষা, ধৈর্য – এ শব্দগুলোর অন্তর্নিহীত শক্তি ও সম্ভাবনার কথা আমরা বিস্মৃত হয়েছি।
উচ্চশিক্ষার পিঠস্থান বিশ্ববিদ্যালয়সমূহেও একই চিত্র। স্বায়ত্বশাসন ও মুক্তচিন্তার রক্ষাকবচ বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট ১৯৭৩-কে অকার্যকর করতে চেয়েছে সামরিক-বেসামরিক স্বৈরতন্ত্র। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই অর্জনকে রক্ষা করতে আমরা সচেষ্ট হয়েছি। আবার এই গণতান্ত্রিক আদেশকে পরিপূর্ণভাবে অনুশীলনে আমরা যত্নবান হইনি। আমাদের শিক্ষক-ছাত্র-ছাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ অধিকার আমরা নিজেরাই হারাতে দিয়েছি। ছাত্র-সংসদ নির্বাচন হচ্ছে না দুই যুগের অধিক সময় ধরে। সিনেটে নির্বাচনের মাধ্যমে উপাচার্য নিয়োগের রীতিটি আমরা অনুসরণ করছি না। গণতান্ত্রিক অধিকারের সাথে যুক্ত থাকে যে দায়বদ্ধতার বিষয়টি তা জীবন্তভাবে চর্চা করতে ভুল হচ্ছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা যায় অচলাবস্থা। শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দেশের যে সাধারণ নাগরিকদের অর্থে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ চলে তাদের চোখে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ আসনটি অনুজ্জ্বল হতে থাকে।
স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নিরবচ্ছিন্ন চর্চা না হতে পারার কারণে সৃষ্ট নানামুখী সমস্যার মধ্যেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ ঘুরে দাঁড়াবার চেষ্টা করছে। সফলতাও আসছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকাংশ বিভাগে সেশনজট প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। অর্থের ও অবকাঠামোর প্রকট সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও শিক্ষকমণ্ডলী বিশ্বমানের শিক্ষাদানে সচেষ্ট আছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সাথে যৌথ গবেষণায় শিক্ষক-গবেষকরা নিয়োজিত আছেন। মানসম্পন্ন গবেষণাপত্রও নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। আমি তাঁদের অভিনন্দন জানাই এবং আমাদের মেধাবী তরুণ সহকর্মীদের তাঁদের অনুসরণ করতে আহবান জানাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উজ্জ্বল সম্ভাবনাটির সাথে যোগ রয়েছে দেশের গণতান্ত্রিক বিধি ব্যবস্থার। গণতন্ত্র যত শক্তিশালী হবে, রাষ্ট্র যত বেশি হবে গণতান্ত্রিক, ততই উচ্চশিক্ষার পিঠস্থান বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জ্ঞান-ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে আরও বেশি অবদান রাখতে সক্ষম হবে। অপরদিকে গণতন্ত্রকে স্থায়ী, সর্বব্যাপী ও সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মৌলিক চাহিদাসমূহ পূরণে সক্ষম করে তুলতে দিক-নির্দেশকারী ভূমিকা রাখতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়কে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবার মত উপাচার্য হিসেবে আমারও একটি স্বপ্ন আছে। তা হলো একটি সেশনজট ও সন্ত্রাসমুক্ত বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে শিক্ষার্থীরা শঙ্কাহীন চিত্তে বাধাহীনভাবে জ্ঞান লাভ করবে। আমরা যেন অপরিকল্পিত কোনো কর্মকাণ্ডে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অপূর্ব সম্পদ জীব-বৈচিত্র্য বিনষ্ট না করি। প্রকৃতির যে অপূর্ব নিয়ম– বৈচিত্র্যের মধ্যেও শৃঙ্খলা ও একত্ব– তা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাই অনুশীলন করবে পরিপূর্ণ সচেতনতায়। মানুষ ও প্রকৃতি পরস্পরের বৈরী না হয়ে বন্ধু হবে। ‘তোমার ক্রোধ দমন করতে তুমি মাটির দিকে তোমার দৃষ্টি নিবদ্ধ কর’- মহাজ্ঞানীর এই বাণী আমরা ধারণ করবো। সহনশীলতা আয়ত্ত করবো প্রকৃতির কাছ থেকে।
বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় আমরা অনুসরণ করবো বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট ১৯৭৩। আজকের এই সিনেটে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ অনুপস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট, ১৯৭৩ অনুযায়ী ছাত্র-ছাত্রীদের পাঁচজন নির্বাচিত প্রতিনিধি এখানে নেই। তারা নেই দুই দশকের অধিককাল ধরে। অত্যন্ত বেদনার কথা ছাত্রসমাজ গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সামরিক স্বৈরতন্ত্র উচ্ছেদ করে দেশে গণতান্ত্রিক শাসনের পত্তনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করলেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিজেদের নেতা নির্বাচন করবার অধিকারটুকু স্বেচ্ছায় নির্বাসনে পাঠিয়েছে। জাতীয় রাজনীতি এবং দেশ-শাসনে তার মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে। সে কারণে জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে সর্বত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পক্ষে জোরালো মত প্রকাশিত হচ্ছে। সিনেটের এই সভায় আমি সেই মতের প্রতিধ্বনি করছি আপনাদের সবার পক্ষ থেকে। সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে আমরা ‘জাকসু’ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে চাই। তারজন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-বিরোধী ছাত্র সংগঠন ব্যতীত বাকি সকলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক – তা গ্রহণ করবে সকলে। ‘সবে মিলে করি কাজ – হারি, জিতি নাহি লাজ’- এই হবে আসন্ন জাকসু নির্বাচনের মূল শ্লোগান।
নর্বাচিত উপাচার্য হিসেবে আজকের এই অভিভাষণ দিতে পারলে আমি খুবই খুশী হতাম। বাস্তব অবস্থার কারণে তা সম্ভব হয়নি। আমি যথাশীঘ্র বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট ’৭৩ অনুসরণ করে সিনেটে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়টি গড়ে তোলা হয়েছিল, সবুজের সমারোহ এবং দৃষ্টিনন্দন প্রাণময় জলাশয় ঘিরে নির্মাণ করা হয়েছে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য যেসব আবাসিক হল – সেসব হলে থাকবে শুধুমাত্র বৈধ ছাত্র-ছাত্রীরা। সারা দেশ থেকে আগত পড়তে আসা ছাত্র-ছাত্রীরা স্বাধীন, সাবলিল এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশে তাদের হলজীবন কাটাবে। জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময় হবে এ জীবন। পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে উঠবে তারা এ সময়ে। আধিপত্যের কাছে অবমাননাকর আত্মসমর্পণ, গ্লানিকর দাসত্ব এবং নৈরাজ্যের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসবে প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীরা – তাদের দিকে যে তাকিয়ে আছে দেশবাসী।
২০২১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫০ বছর বা সুবর্ণ জয়ন্তি পালন করবে। সামনের এই দশকে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার সকল সম্ভাবনা দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। একটি দক্ষ জ্ঞান-ভিত্তিক সমাজই কেবল তা বাস্তবায়ন সম্ভব করে তুলতে পারে। শিক্ষায় ও গবেষণায় বিনিয়োগ সবচেয়ে দ্রুত ফলাফল এনে দেয়– এই সত্যটি শুধুমাত্র উন্নত দেশ নয়, পিছিয়ে পড়া উন্নয়নশীল দেশসমূহও অনুধাবন করে সে অনুযায়ী বাজেট প্রণয়ন করছে। বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষায় বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপির আড়াই ভাগেরও কম। বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের শতকরা ১৩ ভাগ শিক্ষার জন্য বরাদ্দ আছে। এসব অর্থ বরাদ্দের অতি সামান্য অংশ নির্ধারিত আছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য। উন্নয়নশীল দেশের সাথে তুলনায়ও এইসব বরাদ্দ নিতান্ত অপ্রতুল। অবিলম্বে তা দ্বিগুণ করা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তনের যৌক্তিকতা বর্তমান সরকার নীতিগতভাবে গ্রহণ করেছে। প্রয়োজন যথাশীঘ্র তা বাস্তবায়ন করা।
প্রায় ৭০০ একর জমি নিয়ে গড়ে ওঠা অপার সম্ভাবনার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানের আরও নানা শাখায় সমৃদ্ধ হয়ে একটি জ্ঞান-ভিত্তিক সমাজ পুনর্গঠনে এবং আধুনিক বাংলাদেশ গড়বার অভিযাত্রায় ভূমিকা রাখবে। বঙ্গবন্ধু ও লাখো শহীদের স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়বার এই প্রত্যাশায় আসুন আমরা গড়ে তুলি স্বপ্নের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
(২৯ জুন ২০১২ অনুষ্ঠিত ৩১তম বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে)
অধ্যাপক মোঃ আনোয়ার হোসেন : উপাচার্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

অসাধারণ! ভালো লাগবে যদি এর বাস্তবায়ন দেখি। আপনাকে অনুরোধ করব, নোংরা রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণে নিরপেক্ষ থাকবেন। জামাত-শিবির চক্র ও মোহাম্মদ আলী আকন্দ-এর মতো সন্ত্রাসী ও ভয়ঙ্কর ভন্ডামিতে অভ্যস্ত অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবেন।
সৎ সাহস থাকলে আপনার আসল পরিচয় ও ঠিকানাটা দিন। আমি আপনার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থায় যাব। আপনাকে সেখানেই প্রমান করতে হবে যে আমি সন্ত্রাসী। বাংলাদেশটা হল অসভ্যদের স্বর্গরাজ্য যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কখা বললে সন্ত্রাসী হতে হয়। স্রোতের সাথে ভাসতে পারাটাই হচ্ছে উত্তম পন্থা। আশা করি সততার সাথে আপনার সাহস নিয়ে এওগিয়ে আসবেন ও প্রমান করবেন যে আমি সন্ত্রাসী।
স্যার তাঁর লেখায় বলেছেন, তিনি আগন্তক নন। ক্যাম্পাসের অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী এখন বলতে শুরু করেছেন ‘বর্গী এসেছে ক্যাম্পাসে।’ যাই হোক, স্যারের ব্যাক্তিগত ইমেজের ব্যাপারে আমার শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে। তবে জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাসে এসে স্যারের ইমেজের সূচক এখন নিম্নমুখী। এখানে না এলেই বরং তাঁর জন্য ভালো ছিল। শিক্ষক-রাজনীতিতে পোক্ত হলেও স্যারকে বাধ্য হয়েই একটা পক্ষে অবস্থান নিতে হচ্ছে। এটাই বাস্তবতা। নয়তো হঠাৎ করে ডিন-সিনেট-সিন্ডিকেট নির্বাচন বাদ দিয়ে স্যার উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন দিতে যাবেন কেন? শরীফ এনামুল কবিরের প্রশাসন দিয়ে আর যাই হোক নিরপেক্ষ হওয়া অসম্ভব। স্যারের জন্য এটা অনুধাবন করা জরুরি। ক্যাম্পাসে এখন ওপেন-সিক্রেট যে, শরীফ এনামুল কবিরের আশীর্বাদে ক্যাম্পাস পরিচালনা করছেন তিনি। শরীফ এনামুল কবিরের অচলায়তন ভাঙতে হবে, তাকে ভিত্তি করে কিছু করা কঠিন।
স্যারের প্রতি শ্রদ্ধা ছিল এতদিন। কিন্তু তার এখনকার বক্তব্য দেখে মনে হয়েছে তিনি মফস্বলের কোনও আওয়ামী লীগ নেতা। যতদূর জানি তিনি কখনও আওয়ামী রাজনীতিতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন না। অথচ এখন তিনি বক্তব্যের শুরুতে তিনবার বঙ্গবন্ধুর নাম, দুইবার শেখ হাসিনার নাম, এমনকি বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের নাম নিতেও ভুলেন না। দেখে মনে হয়, দেশে তিনিই একমাত্র আওয়ামী লীগ নেতা। এদের দ্বারা দেশ ও জাতি বিভ্রান্ত হয় বারবার।
কেবলা বদল করে যিনি এখন আওয়ামী লীগের ক্যাডার হয়েছেন তার কাছ থেকে দলীয় ভাষণ ছাড়া আর কী আশা করা যায়?
আমার বিশ্বাস এ ধরনের চিন্তাভাবনা বাস্তবায়ন সম্ভব। সহযোগিতা করতে চায় এ রকম মানসিকতার লোক অনেক আছে। ক্যাম্পাসকে দুর্নীতিমুক্ত করা সম্ভব। তবে আরেকটা কাজ এ জন্য করতে হবে। শিক্ষকদের রাজনীতি ও গ্রুপিং বন্ধ করুন।
পড়ে মনে হলো- ‘লেখার নয়, লেখকের ওজনেই এটাকে ছাপার যোগ্য মনে করেছে কর্তৃপক্ষ।’
হাহাহা… চমৎকার এবং নিরেট সত্য মন্তব্য।
জাবির সঙ্গে সম্পর্কিত সবাইকেই এর জন্য কাজ করে যেতে হবে। গুড লাক।
ব্রাভো, আপনার নামের সঙ্গে আমার নামের যে মিল রয়েছে তা আপনার প্রতি আমার দুর্বলতার একটি কারণ। বয়সেরও খুব পার্থক্য হবে না আমাদের। আমি কখনও বাক্যবাগীশ নই বলে শিক্ষকতার মহান পেশাকে গ্রহণ করিনি। কিন্তু শিক্ষকদের বরাবর শ্রদ্ধা করে এসেছি। আমার কোনও শিক্ষক,স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, যে কোনও পর্যায়ের, যে কোনও ধর্মের, এমনকি সরাসরি শিক্ষক না হয়ে যদি পরিচিত শিক্ষকও হন তাহলে যে কোনওভাবে সম্মান দেখাতে পারলে আমি নিজেকে ধন্য মনে করি। এখনও আমার সেই সব শিক্ষকেরা আসন গ্রহণ না করা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকি এবং তাদের পিছনের আসন গ্রহণ করি। আপনাকেও আমার অনুরূপ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা উচিত এবং কখনও সাক্ষাতে সে শ্রদ্ধা থেকে বঞ্চিত হবেন না।
পেশাগত কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবদুল মতিন চৌধুরী থেকে শুরু করে মনিরুজ্জামান মিয়া পর্যন্ত যে ক’জন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে আমার নিবিড় সম্পর্ক ছিল। কেউ কেউ আমার সরাসরি শিক্ষকও ছিলেন। পরবর্তীতে শুধুমাত্র একজন উপাচার্য আজাদ চৌধুরীর সঙ্গে কিছু ঘনিষ্ঠতা হয়েছিল। তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ ও পক্ষপাত ছিল, কিন্তু শুধুমাত্র আজাদ চৌধুরী ছাড়া আমার ঘনিষ্ঠ উপাচার্যদের অন্য কাউকে বিশ্ববিদ্যালয়ের (শিক্ষক সমিতি ছাড়া) কোনও ফোরামে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে দেখিনি। যখন তারা উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তারা কে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-বিরোধী শিক্ষক বা ছাত্র বা বা কোনও সংগঠনটি স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, এমন বিভাজনের চেষ্টা করেননি। গণতন্ত্রের রীতি অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠতাই যেহেতু সবকিছুর নির্ণায়ক, সে কারণে বাংলাদেশের জাতির পিতাসহ যারা ধর্মের নামে ”লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান” ধ্বনি দিয়ে ভারতকে বিভক্ত করেছিল, তারাই স্বাধীন পাকিস্তানের বিরোধিতায় অবতীর্ণ হয়েছিল সর্বাগ্রে। এ জন্য তখন তাদের এমনকি পাকিস্তান সরকারও স্বাধীনতা-বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করেনি। পাকিস্তানের অখন্ডতার পক্ষে হুমকি ছিল বলে তখনকার আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের নিরাপত্তা আইনে নিয়মিত গ্রেফতার করা একটি রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পশ্চিম পাকিস্তানের প্রভাবান্বিত শাসকগোষ্ঠী একটি অভিযোগই করতো যে পূর্ব পাকিস্তানে যা কিছু হচ্ছে তা ভারতের ইন্ধনে, যার পরিণতি ছিল আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা।
আপনাকে এসব জ্ঞান দেওয়া আমার উদ্দেশ্য নয়। আপনি ভালো করেই জানেন যে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কারা অরাজকতা সৃষ্টির জন্য দায়ী? ১৯৭৪ সালের মার্চে মহসিন হলে ৭ ছাত্রনেতাকে হত্যা করার ঘটনা আপনি বিস্মৃত হয়েছেন, এমনটি ধারণা করার কারণ নেই। ঘটনাটি আপনার কথিত “অন্ধকারের অপশক্তি” কর্তৃক জাতির জনক, চার জাতীয় নেতাকে হত্যার ঘটনার দেড় বছর আগের। আপনি নিশ্চয়ই জানেন সেই “অপশক্তি” কারা ছিল। আপনি বাম ধারার রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন, যারা তত্ত্ব নিয়ে বেশি কপচায়। একটি শাশ্বত তত্ত্ব হচ্ছে, “তোমারে বধিবে যে গোকূলে বাড়িছে সে।” এই তত্ত্বে বিশ্বাস থাকলে আপনি স্বীকার করবেন যে তখনকার শাসক শ্রেণীর ভিতরেই অপশক্তি ছিল। সংকট ছিল ক্ষমতার ভাগাভাগির। সবকিছুর মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষ আর বিপক্ষ শক্তি আবিস্কার করা একটি মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা ছাড়া আর কী হতে পারে? আইনের দৃষ্টিতে কেউ অপরাধী হলে তাকে শাস্তি দেওয়ার সকল ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু কেউ অপরাধী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাকে নিরপরাধ ধরে নেওয়া আইনের শাসনেরই সুবচন। আপনার বক্তব্য পুরোটাই রাজনৈতিক এবং এটাই স্বাভাবিক। আপনি রাজনৈতিক বিবেচনায় উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ লাভ করেছেন। কিন্তু প্রকৃত সমস্যায় হাত দিতে আপনি কতটুকু সফল হবেন, জানি না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা দিয়েছেন। সেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও লজ্জা পেয়েছিল যখন সেখানে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলটির পূর্ববর্তী মেয়াদে তাদেরই ছাত্র সংগঠনের একজন নেতা ধর্ষণের “সেঞ্চুরি” উদযাপন করেছিলেন। আপনি ওই একশ ধর্ষিতার কথা ভাবুন, যারা উচ্চতর শিক্ষা নিতে এসে কামুকের লালসার শিকার হয়েছিল। একজন যদি সেঞ্চুরি করে থাকে তাহলে তার অনুসারীদের কেউ কেউ যে ধর্ষণে হাফ সেঞ্চুরি বা কোয়ার্টার সেঞ্চুরি করেনি, তা কি নিশ্চিত করে বলা যায়?
আপনি এসব দুরাচারের কথা বলুন, যাদের আপনি কিছুতেই প্রশ্রয় দেবেন না। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিকে আপনি কিছুতেই বৃন্দাবনে কৃষ্ণের কামলীলার মতো অভয়ারণ্য হতে দেবেন না বলে ঘোষণা দিন। আপনি প্রশংসিত হবেন। আপনার সাফল্য কামনা করি।
চমৎকার বলেছেন।
পাঠদান পদ্ধতি, গবেষণা বাড়ানো, নিরাপদ ক্যাম্পাস বিষয়ে জোরালো বক্তব্য দিলে আরও ভালো হত। তবে আমার বিশ্বাস আনোয়ার স্যার কখনও তাঁর নীতি থেকে পিছপা হবেন না। আমরা জানি, প্রতিষ্ঠান প্রধান হলে রাজনৈতিক দায়ভার থেকেই যায়। তারপরও কোনও পক্ষের না বলে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের পক্ষে কাজ করাটাই উত্তম বলে আমি মনে করি।
ভারি চমৎকার। আশা করি “শিক্ষাবিদ” আনোয়ার আপনার দেওয়া চ্যালেঞ্জটি গ্রহন করবেন
আপনার কাছে আনোয়ার স্যার ‘শিক্ষাবিদ’ না হতে পারেন। সেটা আপনার উপলব্ধির সীমাবদ্ধতা। আমাদের কাছে আনোয়ার স্যার একজন খাঁটি ‘শিক্ষাবিদ’। ফিজিওলজি যার অক্সফোর্ড থেকে প্রকাশিত প্লান্ট এ্যান্ড সেল ফিজিওলজি জার্নালে তিনটি পাবলিকেশন এবং লাইফ সাইন্সেস-এর সবচেয়ে বিখ্যাত জার্নাল – ‘জার্নাল অফ বায়োলজিক্যাল কেমিস্ট্রি’তে (যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত), পাবলিকেশন রয়েছে, তাঁকে দেশের বাইরে অবশ্যই ‘শিক্ষাবিদ’ই ভাবা হয় এবং আমরাও তেমনই মনে করি। স্যারের ‘ওয়াটার-ওয়াটার সাইকেল’ আজকে পৃথিবীর যে কোনও বায়োকেমিস্ট্রি সিলেবাসে স্থান পায়। আজকে বাংলাদেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ যারা বন্যা-সহনশীল ধানের সুফল ভোগ করছেন, তাঁদের কেউই হয়তো জানেন না (এবং আপনিও জানেন না) যে বন্যা-সহনশীল ধান তৈরির পেছনে আনোয়ার স্যারের গবেষণা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সমাদৃত।
মিঃ আনোয়ার, নামের সঙ্গে মিল থাকলেই ড. আনোয়ার হোসেন হওয়া যায় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যদের সঙ্গে নিজের কাল্পনিক সংশ্লিষ্টতার বয়ান দিয়ে আপাত কারও দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায় কিন্তু সত্যিকার অর্থে নিজেকে গৌরবান্বিত করা যায় না। কাপুরুষের মুখোশ পরে নিজেকে আড়াল করা যায় না। সাহস করে খুলে ফেলুন। আর জেনে রাখুন, ড.আনোয়ার হোসেন, পলিমাটির ব-দ্বীপের উর্বর সাহসী সন্তান। তার জয় হোক।
ড. আনোয়ারের জয় তো হয়েছেই। হয়নি?
রাজনৈতিক কথামালা। রাজনৈতিক নিয়োগের রাজনৈতিক ভাষণ। বাংলাদেশ ছাড়া আর কোনও দেশের ইউনিভার্সিটির উপাচার্যর কাছ থেকে এই ধরনের ভাষণ শুনবেন না পাঠকরা। আমরা অতি দুর্ভাগা জাতি।
আমি অভিভুত ।।
স্যার, আপনার উচিত হবে কোনও দলের অধীনে থেকে কাজ না করা। জাহাঙ্গীরনগরের সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পক্ষে অবস্থান নিন।
আপনাকে অনুরোধ করব, নোংরা রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে যান। সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণে নিরপেক্ষ হতে চেষ্টা করুন। ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণহীন ওই ক্যাডারদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করুন। সেশন জট কমাতে ব্যবস্থা নিন। দয়া করে কোনও বিশেষ দলের পরিচযটা মুছে ফেলতে চেষ্টা করুন। অন্য শিক্ষকদেরও এ ব্যাপারে উৎসাহিত করুন। আর বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধুমাত্র জ্ঞানচর্চার একটি জায়গা হিসেবে তুলে ধরুন।
লাল সালাম কমরেড। লাল সালাম কমরেড তাহের।
হ্যাঁ, তিনি অনেককাল ‘কমরেড’ ছিলেন বটে, তবে লাল সালাম পেতে পারেন কিনা তাতে সন্দেহ আছে!
অনেক ভালো একটি লেখা । আরও ভালো লাগবে যদি এর বাস্তবায়ন দেখি….
আপনার সুন্দর সাবলীল লেখা পড়ে ভালোই লাগলো। তবে সংকটকালে কিন্তু রাষ্ট্রপতি আপনাকে নিয়োগ না দিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককেই ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিতে পারতেন। আপনাকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাড়া করে নিয়ে আসার মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে কি অপমান করা হলো না?
১৯৭১ সালের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন উপাচার্য ‘বাইরে’ থেকে এসেছিলেন -১) আবু সায়ীদ চৌধুরী ২) ফজলুল হালিম চৌধুরী, এবং ৩) শামসুল হক। তখন কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অপমান বোধ করেনি।
যে তিনজনের কথা উল্লেখ করেছেন, তারা যথার্থ জ্ঞানী ও শিক্ষানুরাগী ছিলেন। কারও পোঁ ধরে উপাচার্য্যের চেয়ারে বসেননি। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁদের পেয়ে গর্ববোধ করেছে।
ড. আনোয়ার হোসেন কারো পোঁ ধরে জাহাঙ্গীরনগরে যাননি। অনেক অনুরোধের পরই তিনি রাজি হয়েছেন সেখানে যেতে।
আনোয়ার স্যার কারও পোঁ ধরে উপাচার্য হননি। আপনার মন্তব্য বড়ই খেলো এবং চাইল্ডিশ।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়া উপাচার্য্ ড.মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ওরফে মনু ভাইয়ের সিনেট বক্তৃতা পড়ে আমি স্তম্ভিত হয়েছি। বক্তৃতা দেওয়ার স্থানটি ছিলো সিনেট এবং দেশে-বিদেশে আমার দেখা সিনেট বক্তৃতার বিষয়বস্তু হয় সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা ও তা সমাধানের পরিকল্পনা নিয়ে। কবুল করি, আমাদের মাননীয় উপাচার্য্ কিছু সমস্যা চিহ্নিত করেছেন, যদিও সমাধান চিহ্নিত করেননি।
আমার স্তম্ভিত হওয়ার কারণ উপাচার্য্যর রুটিন একথা-সেকথা বলা নয়। আমি স্তম্ভিত হয়েছি, একবার উপাচার্য্ হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর, তাঁর বক্তৃতায় আশা করেছিলাম উদার শিক্ষাবিদের ভাষণ, বক্তব্যের ছত্রে ছত্রে জ্ঞানী শিক্ষকের জ্ঞানের ছটা। তার পরিবর্তে যা শুনলাম তা মনে হলো ইউনিয়ন পর্যায়ের যুবলীগ নেতার বঙ্গবন্ধুর প্রশস্তি শুনছি। বঙ্গবন্ধুর প্রশস্তি শুনতে আমার অরুচি নেই। কিন্তু প্রথমত উপাচার্যের মতো একটি অত্যুচ্চ সন্মানীয় পদে থেকে দলীয় ভাষণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। দ্বিতীয়ত, বর্তমান উপাচার্যের সেই সত্তর সাল থেকে রাজনৈতিক আনুগত্যের ইতিহাস আমাদের জানা আছে। পূর্ববাংলার শ্রমিক আন্দোলনে যোগ দেওয়া এবং নেতৃত্বলোভী আচরণের জন্য বহিষ্কৃত হওয়া, স্বাধীনতা-পরবর্তীতে জাসদে যোগ দিয়ে হঠকারী আচরণ ও ফলশ্রুতিতে দুই ভাইকে তিনি হারান। মজার কথা হচ্ছে, শেখ মুজিবের শাসনকালে তাঁর উপরোক্ত দল দুটিই দেশে সবচেয়ে বেশি নৈরাজ্য ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। এরপর দেখি হঠাৎ বঙ্গবন্ধুপ্রেমিক ও পুজারী হয়ে তাঁর উত্থান। ১/১১ এর পর ছাত্রঅসন্তোষ সৃষ্টির অভিযোগে তিনি নির্যাতিত হয়েছেন, কিন্তু ‘জীবনেও আর রাজনীতি করব না‘ বলে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পান। তো, এই রাজনৈতিক পশ্চাৎপট নিয়ে তিনি যখন শেখ হাসিনা তথা তাঁর নির্বাচন-কর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করার ও পিঠ চাপড়ানো পাওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধুর “সাচ্চা” সৈনিক হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অরাজনৈতিক ফোরামে তাঁর সর্বশেষ রাজনৈতিক রসে জারক করা বক্তৃতা দেন- তা তো আমাকে হতভম্ব করবেই।
আমাকে কি আপনারা দোষী ভাববেন?
ধন্যবাদ।
একমত
একমত
ধন্যবাদ।
স্বাগতম।
একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির কাছ থেকে জ্ঞানগর্ভ ভাষণ আপনি কীভাবে আশা করেন?
আপনার বক্তব্যের সত্যতা স্বীকার করছি। তবে নিজের শিক্ষাবিদ টাইটেলটা বদলে ফেলা উচিৎ। অনেকে তাকে এখনও শিক্ষাবিদ মনে করছে কিনা! কেবলা বদল করে, জানপ্রাণ ঢেলেও বেচারা পিএসসি’র সদস্য হতে না পেরে যে মনোকষ্টে ছিল, সে নরুণের বদলে আস্ত নাক পেয়ে নিশ্চয়ই এখন আনন্দে ডগমগ হয়ে আছে!
ড. আনোয়ার হোসেনের আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত সব লেখা মনে হয় আপনিই লিখে দিয়েছিলেন, তাই না সৈয়দ ভাই? আপনি জানেন কিনা জানি না, কিন্তু আনোয়ার হোসেন বাংলাদেশের হাতেগোনা কয়েকজন বিজ্ঞানীর একজন যার পাবলিকেশন অক্সফোর্ড জার্নালে একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর পাবলিকেশনের সংখ্যা মোট বিশটি।
অসাধারণ!!!
আপনাকে ধন্যবাদ।
সৈয়দ ভাই, আপনি দেখি আনোয়ার স্যার সম্পর্কে খালি চাপাই মেরে গেলেন। চাপা একটু কম মারেন সৈয়দ ভাই।
আপনার আনোয়ার ছারের বক্তব্য যদি চাপা মারা না হয়ে সোনার হরফে লিখে বাঁধাই করে রাখার যোগ্য হয়, তবে পাশে আমারটাও বাঁধিয়ে রাখবেন! আপনার আনোয়ার স্যারকে বলুন বলতে যে আমি যা বলেছি তা সত্য নয়।
ড. আনোয়ার হোসেন আপনার পিছনে সময় ব্যয় করবেন। আহা আহা :p ভাবতে খুব ভালো লাগে। আহা আহা।
সময়ের প্রেক্ষাপটে জাকসু নির্বাচন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সফলভাবে করতে পারলে খুবই ভালো হয়। শুভকামনা রইলো। কিন্তু জাকসু নির্বাচন ছাড়াও সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন করা যেতে পারে। শুধুমাত্র সিনেটের ওই পাঁচটি পজিশনের জন্য নির্দলীয় (কোনও ছাত্র সংগঠনের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছাড়া) নির্বাচনের আয়োজন করা যেতে পারে। তবে অবশ্যই ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা এবং ঐক্যমতের ভিত্তিতে। জাকসুর জন্য একটা বড় অঙ্কের বাজেট থাকে এবং এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপণা ছাত্র সংগঠনগুলোর জন্য একটা বড় ধরনের আগ্রহ-সৃষ্টিকারী উপাদান। যেটা সিনেটের ওই পাঁচটি পজিশনের জন্য তুলনামূলকভাবে গৌণ। তাই শুধুমাত্র সিনেটের ওই পাঁচটি পজিশনের জন্য নির্দলীয় নির্বাচনে ছাত্র সংগঠনগুলোকে রাজি করানো অনেকটা সহজ হতে পারে। বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করে দেখলে আনন্দিত হব।
তিনি স্বপ্নের জাহাঙ্গীরনগর গড়তে চান সন্ত্রাসীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে, সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে। আর একজন এপিএস-এর তদবীরের ভয়ে। চিহ্নিত জামাত-শিবিরের শিক্ষক নামধারী সন্ত্রাসীদের যারা আমার বিভাগের টাকা চুরি করেছে (১৬ জুন, ২০১১ তারিখে প্রমাণসহ আনিত অভিযোগ), বিশ্বিবিদ্যালয়ের জায়গায় গবেষণার নামে অবৈধভাবে ব্যবসায়িক কর্মকান্ড পরিচালনা করেছে আমার বিভাগের অর্থ ও লোকবল ব্যবহার করে – তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার দায়ে আমার ওপর বর্বর হামলা চালিয়ে আমাকে আহত করেছে যে সন্ত্রাসী জামাত-শিবির চক্র- অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন সেই সন্ত্রাসীদের পক্ষে নগ্নভাবে অবস্থান নিয়েছেন। অথচ, তার অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি বলিষ্ঠ কন্ঠে বলেছিলেন – ‘জামাত-শিবিরের কোনও স্থান তার কাছে নেই এবং ক্যাম্পাসে তাদের মেনে নিবেন না।’ এটাকে কি বলে? ভন্ডামি?
অধ্যাপক আকন্দ, আপনাকে ধন্যবাদ একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকে প্রশ্নটি করার জন্য। এবং প্রশ্নটি সততার ও নৈতিকতার।
প্রফেসর মোহাম্মদ আলী আকন্দ, চেয়ারম্যান, ডিপার্টমেন্ট অব বোটানি, জাবি….. আপনার দৃষ্টি আকর্ষন করছি। জাহাঙ্গীরনগর ছেড়ে এলাম বেশ ক’বছর হল। এমন নয় যে ক্যাম্পাসে চোখ বন্ধ করেছিলাম। যারা জ্ঞানগর্ভ ভাষণ দিচ্ছেন তাদেরই তো দেখেছি ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহার করতে। নিজের এবং দলীয় স্বার্থে নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিতেও তারা কার্পণ্য করতেন না কখনও।
মোহাম্মদ আলী আকন্দ, আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। জ্ঞানগর্ভ ভাষণ দিচ্ছেন? আপনাকেও তো দেখেছি ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহার করতে। নিজের স্বার্থে নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিতে আপনি তো কখনও কার্পণ্য করেন না। আপনিই তো চোর ও সন্ত্রাসী (বর্তমানে শিক্ষক)। আপনিই তো ভয়ঙ্কর ভন্ডামিতে অভ্যস্ত বা পটু। আপনার কথাই আপনাকে ফিরিয়ে দিলাম!
স্যার, অসাধারণ একটা লেখা। আমাদের সৌভাগ্য জাবিতে আপনার মতো একজন উপাচার্য পেলাম। আপনাকে স্যালুট জানাচ্ছি।
স্যার আপনার বক্তব্যর জন্য ধন্যবাদ। আশা করি আপনি আপনার দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকবেন।
সত্যি কিছু করুন, স্যার।
স্যার, খুব সুন্দর লিখেছেন।
স্যার, আপনার লেখার কিছু কিছু দিক এটাকে পক্ষপাতদুষ্ট করে ফেলেছে। দয়া করে ২০০৮ সালের ওবামার মতো কথা বলবেন না। মিথ্যা আশা দেবেন না।
আপনি যখেন বলছেন – ‘গভীর পরিতাপের কথা, তাদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য তারা ব্যবহার করেছে স্বাধীন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে-’ তখন মনে হচ্ছে আপনি সেনাবাহিনীকে হেয় করতে চাচ্ছেন। হতে পারে এটা গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে আপনার তিক্ত অভিজ্ঞতার ফল। দয়া করে মনে রাখবেন, সাধারণ বাংলাদেশিরা আপনার মতো বাম নয়।
স্যার , আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ চমৎকার এই লেখার জন্য । আমি জাবির প্রান্তন ছাত্র । আমরা শান্তিপূর্ণ জাকসু নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে আপেক্ষা করছি। অবৈধ অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে আগষ্ট ২০০৭ এর ছাত্র-শিক্ষক আন্দোলন এবং নির্যাতনের কথা আপনার খেয়াল আছে নিশ্চয়। যে আন্দোলন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে জাতীয় দুর্দিনে ছাত্রনেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দেয় । আমরা বিশ্বাস করি, আপনি জাকসু নির্বাচনের বিষয়ে আন্তরিক এবং শান্তিপূর্ণও গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজনে সক্ষম একজন ব্যক্তি ।
স্যারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি সুন্দর অভিভাষণের জন্য। এতে স্যার দুটি বড় চ্যালেঞ্জের বিষয় উল্লেখ করেছেন। একটি হলো ’৭৩ এর অধ্যাদেশ অনুযায়ী সিনেটের মাধ্যমে উপাচার্য নির্বাচন এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিয়ে সিনেটের জন্য পাঁচজন প্রতিনিধি নির্বাচন করা। এই দুটি কাজ সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার পর তিনি যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যান তাহলেও অন্তত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের বর্তমান ও অনাগত সদস্যরা স্যারকে আজীবন স্মরণে রাখবে। কারণ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রান্তিলগ্নে উনাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এনে উপাচার্য পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়। আর যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের মতো এই দুইটি প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে না পারেন তাহলে অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির স্যারের মতো অবস্থা হতে পারে। কারণ জাবি আর ঢাবি এক নয়।
খুব সুন্দর লেখা। আশা করছি আপনি জাহাঙ্গীরনগরে ভালো করবেন। বেস্ট অব লাক, স্যার।
জনাব, আপনার নিয়োগটি কি আপনার লেখার পক্ষে যায়?
“বিশ্ববিদ্যালয় কোনও আমলাতন্ত্র-নির্ভর প্রতিষ্ঠান নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগ থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় শীর্ষ প্রশাসন পর্যন্ত, প্রতিটি স্তরে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় গণতান্ত্রিক বিধি-বিধান অনুসরণ করে। সে জন্যে বিভাগের সভাপতির দায়িত্বপালনকে বেঁধে দেওয়া হয়েছে তিন বছরে। রাখা হয়েছে ডিন, সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল এবং সিনেট সদস্যদের নির্বাচনের ব্যবস্থা। একেবারে শীর্ষে উপাচার্যের পদটিকেও সিনেটে তিনজনের প্যানেল নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী সংস্থা সিনেটে সমাজের নানা আলোকিত মানুষের মতামত ব্যক্ত করবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধি রাখবার বিধানও আছে। তেমনি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সিন্ডিকেটে এবং একাডেমিক কার্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে একাডেমিক কাউন্সিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের বিদ্ব্যান ও পণ্ডিতদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।”
“জনাব, আপনার নিয়োগটি কি আপনার লেখার পক্ষে যায়?” – হুম, এইখানেই কবি নিরব!
“বাস্তব অবস্থার কারণে তা সম্ভব হয়নি। আমি যথাশীঘ্র বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট ’৭৩ অনুসরণ করে সিনেটে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।” … এই কথাটি খেয়াল করেননি হয়তো।
হ্যাঁ, যেমন এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই আজ হচ্ছে, কাল হচ্ছে উপাচার্য্ প্যানেল নির্বাচন। তাই না?
খেয়াল করেছেন? জুলাই ২০ তারিখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন। ঘোষণাটা ড. আনোয়ার হোসেন গত পরশু দিয়েছেন। :p
বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে উচ্চশিক্ষার সেই কেন্দ্র যেখানে থাকবে মুক্তবুদ্ধি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, উদার ও প্রগতিশীল মানবিকতা চর্চার পরিপূর্ণ আবহ। এটা আমাদের প্রাণের দাবি, স্যার। যখন ক্যাম্পাসে ছিলাম, পাঠচক্র আর মুক্তবুদ্ধি চর্চার অনুশীলন করে বড় হয়েছি। আজ সেই ক্যাম্পাসে অসততা, সামান্য ফোন বিল না দেওয়ার জন্য শিক্ষকদের দলবাজি এসব দেখতে ভালো লাগে না। কিন্তু এসবের চেয়ে আরও ভয়ংকর ঘটনা এখানে ঘটেই যাচ্ছে। আমি জানি আপনি অন্তত সৎ। আর বামপন্থার কথা নাই বা বললাম। প্লিজ। আপনি এই ক্যাম্পাসকে সেই মুক্তবুদ্ধি চর্চা আর দলবাজির উর্ধ্বে নিয়ে না যেতে পারলে কেউই আর পারবে না। কেননা জাবির এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা শিক্ষকদের গ্রুপিং।
সৈয়দ আলী সাহেব,নিজেকে ভালো বলে জাহির করবেন না। ড. আনোয়ার হোসেন স্যারকে আপনার কাছ থেকে অন্তত আমরা নতুন করে চিনব না।