জাহিদুল ইসলাম

বৃষ্টির পানির যথাযথ ব্যবহার

এপ্রিল ১৭, ২০১২

zahidul-f1111১.
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে মাত্র ৫৩ বর্গকিলোমিটার এলাকার ছোট্ট একটি দেশ বারমুডা, যা কিনা মূলত ব্রিটিশ ওভারসীজ টেরিটরি। সর্বোচ্চ আড়াই কিলোমিটার প্রশস্ত আর পঁচিশ কিলোমিটার দীর্ঘ এই দেশটি আদতে চুনাপাথর দিয়ে গড়া ছয়টি বড় বড় দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত। আয়তনে ছোট হলেও সর্বশেষ ২০১২ এর আদমশুমারি অনুযায়ী দেশটির অধিবাসীর সংখ্যা প্রায় ৬৪ হাজার। ফলশ্রুতিতে জনসংখ্যার ঘনত্বের বিচারে দেশটির অবস্থান বিশ্বে অষ্টম। বারমুডাতে স্বাদু পানির কোন প্রবাহ বা নদী নেই, সেই সাথে মহাসাগরের বুকে অবস্থিত বলে ছোট আকৃতির এই দ্বীপটিতে ভূগর্ভস্থ পানির একটি বড় অংশ লবণাক্ত। তাহলে স্বভাবতই প্রশ্ন আসে এই বিপুল ঘনবসতির দেশটির স্বাদু পানির মূল উৎস কী? উত্তর হচ্ছে বৃষ্টির পানি। বারমুডায় সারাবছর প্রায় একই হারে (মাসে ১২০ মিমি) বৃষ্টিপাত হয় যার বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৫০০ মিমি। ১৯৫১ সালের জনস্বাস্থ্য আইন অনুযায়ী বারমুডার প্রতিটি বাড়ির ছাদে বৃষ্টির পানি সংগ্রহের জন্য ব্যবস্থা আর সেই সাথে সেই পানি সঞ্চয়ের জন্য ভূগর্ভস্থ বা ভূপরিস্থ জলাধার থাকা বাধ্যতামূলক। অনেক বাড়ির ক্ষেত্রে তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালির জন্য পানির যোগান আসে এই সঞ্চিত পানি থেকেই। তবে অধিকাংশ বাড়ির জন্য এই সঞ্চিত পানিই যথেষ্ট নয়, ফলশ্রুতিতে তাদের নির্ভর করতে হয় পরিশোধিত ভূগর্ভস্থ বা সমুদ্রের পানি ও অন্যান্য স্থানে সংগৃহীত বৃষ্টির পানির উপর। গড়ে বারমুডার ৫৬ শতাংশ পানির উৎস বৃষ্টির পানি আর বাদ বাকি আসে ভূগর্ভস্থ স্বাদু পানি, ভূগর্ভস্থ পরিশোধিত লবণাক্ত পানি ও পরিশোধিত সমুদ্রের পানি থেকে।

কিন্তু কিভাবে বারমুডার বাড়ির ছাদগুলি একেকটি বৃষ্টির পানির ধরতি বা ক্যাচমেন্ট হয়ে উঠছে সেই দিকে একটু দৃষ্টি দেয়া যাক। এখানকার বাড়ির ছাদগুলিতে প্রথমে ঢালু শক্ত কাঠের ফ্রেমের উপরে চুনাপাথরের ব্লক একের পর এক সিঁড়ির মত করে বিছিয়ে দেয়া হয়(ছবি-১)। এরপরে সেই চুনাপাথরের ব্লকের উপর দুই পরতের সিমেন্টের আস্তরের পর তাতে সাদা রঙের একটি বিশেষ সিমেন্ট পেইন্টের আবরণ দেয়া হয়। ছাদের চারদিকে ছোট চ্যানেলের মত থাকে যাতে ছাদে পতিত বৃষ্টির পানি এসে জমা হয় এবং তা পাইপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ জলাধারে সঞ্চিত করা হয়। ছাদকে ঢালু এবং সিঁড়ির মত করার কারণে বৃষ্টির পানি আস্তে আস্তে এসে চারদিকের চ্যানেলে সঞ্চিত হয়।

বারমুডার প্রত্যেকটি বাড়ির ছাদ বৃষ্টির পানি সংগ্রহের একেকটি ধরতি (আলোকচিত্র: ডঃ মানস সোম)।

বারমুডার প্রত্যেকটি বাড়ির ছাদ বৃষ্টির পানি সংগ্রহের একেকটি ধরতি (আলোকচিত্র: ডঃ মানস সোম)।

প্রশ্ন উঠতে পারে এভাবে সংগৃহীত পানির গুনগত মান নিয়ে। জানিয়ে রাখা ভাল বারমুডার অধিবাসীরা প্রায় সাড়ে তিনশ বছর ধরে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করেই তাদের জীবন যাপন করে আসছে। ইদানীংকালে যদিও খাবার পানির ক্ষেত্রে অনেকেই বোতল-জাত পানি ব্যবহার শুরু করেছে তারপরেও বারমুডার বৃষ্টির পানির গুনগত মান কোনভাবেই জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরূপ নয়।
২.
এবারে আরেকটি দেশের কথা শুনাই। জনসংখ্যার ঘনত্ব বিচারে দেশটির অবস্থান বারমুডার পরেই, অর্থাৎ বিশ্বে নবম, যদিও দেশটির আয়তন বারমুড়ার চেয়ে অনেক অনেক বেশি। দেশটির নাম নদীমাতৃক বাংলাদেশ। যদিও নদী দেশটির মাতা তবে সেই মাতাকে গলাটিপে হত্যা করতে দেশটির অধিবাসীদের একটুকুও বুক কাঁপেনা। এই দেশটির রাজধানীর গল্প জানা যাক। যেখানে মাঝখান দিয়ে একটি মাত্র নদী বয়ে গেলেই বিশ্বের বড় বড় শহরগুলির অধিবাসীদের জন্য প্রয়োজন মিটে যায় সেখানে ঢাকার চার দিকে রয়েছে নদী যা কিনা এই শহরটিকে বেষ্টনী করে রেখেছে। ঢাকার উত্তরে রয়েছে টঙ্গী খাল, পশ্চিমে তুরাগ, পূর্বে বালু আর শীতলক্ষ্যা আর দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা। অথচ ঢাকা ওয়াসার ২০০৩ এর রিপোর্ট অনুসারে ঢাকা শহরের ৮৪% ভাগ পানি সরবরাহ হচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানি থেকে আর বাকী ১৬% হচ্ছে নদী থেকে। ২০০২ এ সায়দাবাদ পানি পরিশোধন কেন্দ্র চালুর আগে এই পরিসংখ্যান ছিল ৯৫% ভূগর্ভস্থ থেকে আর বাকী ৫% নদী থেকে।

অর্থাৎ ঢাকা শহরের এক্যুইফার থেকে আমরা অনবরত পানি উত্তোলন করে চলেছি। ২০০৩ সালের হিসাবমতে ঢাকা ওয়াসা দিনে ১১৬০ মিলিয়ন লিটার পানি উত্তোলন করে থাকে এর ৩৮৯ টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে। বিপরীত ক্রমে, ঢাকা শহরের অধিকাংশ এলাকা হয় পীচ নয় সিমেন্টের আচ্ছাদনে ঢাকা থাকার কারণে বৃষ্টির পানির অধিকাংশই যায় খালে বা নালায় আর সেখান থেকে গড়িয়ে নদীতে। সুতরাং বৃষ্টির পানি থেকে ঢাকার ভূগর্ভস্থ এক্যুইফারে পানির যোগান অনেক কম। এছাড়া নগরায়নের মাধ্যমে ঢাকার আশেপাশের নিম্নাঞ্চল ভরাট করার ফলে এই সমস্যা দিনে দিনে আরও প্রকট হচ্ছে। এখন যেহেতু ঢাকার এক্যুইফারে পানির যোগান থেকে চাহিদা অনেক কম সেজন্য ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নেমে যাচ্ছে এবং এই নেমে যাওয়ার হার আশঙ্কাজনক। ১৯৮৫ সাল থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত ওয়াসার পর্যবেক্ষণ নলকূপের উপাত্তের ভিত্তিতে দেখা যায়, বছরে প্রায় ৩ মিটার করে নেমে যাচ্ছে ঢাকা শহরের পানির স্তর।
৩.
উপরের দুটি উদাহরণের মাঝে একটি মিল রয়েছে আর তা হচ্ছে দুটি ক্ষেত্রেই পানিসংকট প্রবল। তবে প্রথম ক্ষেত্রে সেই সংকট অনেকটা সমাধান করা হয়েছে ঐতিহাসিকভাবে বৃষ্টির পানির উপর নিজেদের নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে বৃষ্টির পানিকে কখনই সেরকম গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়নি যদিও ঢাকার বার্ষিক বৃষ্টিপাত (২০০০ মিমি) বারমুডার চেয়ে অনেক বেশি। তবে একটি পার্থক্য এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আর তা হচ্ছে বারমুডায় বৃষ্টিপাত হয় সারাবছর একটি নির্দিষ্ট হারে আর ঢাকায় ২০০০ মিমি বৃষ্টিপাতের শতকরা ৮০ ভাগই হয় বর্ষা মৌসুমে (জুন-অক্টোবর)। তাই এটি আশা করা উচিৎ নয় যে বারমুডার মত ঢাকাতেও বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে পানির চাহিদা পুরোপুরি মেটানো সম্ভব। তবে নিঃসন্দেহে কয়েকটি বিকল্প চিন্তাভাবনার অবকাশ রয়েছে। ঢাকা শহরের জন্য এখন জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজন কৃত্রিমভাবে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরকে নিচে নেমে যাওয়া থেকে বিরত রাখা। সেটি করা যেতে পারে বৃষ্টির পানিকে যথাযথভাবে সংগ্রহ করে পাইপ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে উন্মুক্ত স্থানে কূপ খনন করে এক্যুইফারে প্রবেশ করিয়ে। ঢাকা শহরের প্রত্যেকটি বাড়ির ছাদ হতে পারে এক একটি বৃষ্টির পানির ধরতি। ঢাকা শহরকে কয়েকটি জোনে ভাগ করে বৃষ্টির সময় সেই জোনের অন্তর্ভুক্ত সব বাসার ছাদ থেকে পানি যথাযথ ভাবে সংগ্রহ করে একটি কেন্দ্রীয় স্থানে কৃত্রিম ভাবে তা এক্যুইফারে প্রবেশ করানো যেতে পারে। আরেকটি বিকল্প সম্ভাবনা হতে পারে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিকে গৃহস্থালির কাজে লাগানো। সেক্ষেত্রে ছাদ থেকে পানি সংগ্রহ করে তা ভূগর্ভস্থ জলাধারে সঞ্চয় করে রাখা যেতে পারে। ঢাকা শহরের অধিকাংশ বহুতল ভবনেই এখন গ্যারেজ থাকে, সেক্ষেত্রে প্রত্যেকটি গ্যারেজের নিচে থাকতে পারে ভূগর্ভস্থ এই জলাধার। সেখান থেকে পানি কিছুটা পরিশোধন করে গৃহস্থালির বিভিন্ন কাজে তা ব্যবহার করার বিষয়ে পরিকল্পনা করা যেতে পারে। সর্বশেষ বিকল্প হতে পারে, একটি নির্দিষ্ট জোনের অন্তর্গত সব বাসার বৃষ্টির পানি একটি কেন্দ্রীয় পরিশোধন কেন্দ্রে এনে সেখান থেকে তা পরিশোধনের পর ঐ এলাকায় সরবরাহ করা যেতে পারে।
৪.
এই নিবন্ধে পাশাপাশি দুটি দেশের উদাহরণ রেখে একটি থেকে আহরিত জ্ঞানের আলোকে অন্য স্থানে তা প্রয়োগের বিষয়ে কিছু যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। বলতে দ্বিধা নেই এই পরিকল্পনাগুলো নিবন্ধে যতটা সহজ ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বাস্তবিক ভাবে তা ততোটা সহজ হবেনা। উদাহরণ স্বরূপ ঢাকার বাতাসে ধুলাবালির পরিমাণ, পাখির মল-মূত্র, বাতাসে অদগ্ধ কার্বন, ইত্যাদি অনেক অনেক সমস্যার প্রশ্ন আসতে পারে, বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করার নিমিত্তে ছাঁদের নকশা নিয়েও পরিবর্তন-পরিবর্ধন এর প্রশ্ন আসতে পারে, সরকারী বেসরকারি বিনিয়োগের জটিলতা আসতে পারে, কিন্তু একথা সত্যি যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা থাকলে বাংলাদেশের নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই সমস্যাগুলো সমাধান করেই উক্ত পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়ন সম্ভব।

জাহিদুল ইসলামঃ পিএইচডি গবেষক, ইউনিভার্সিটি অফ আলবার্টা, কানাডা। প্রাক্তন শিক্ষক, পানিসম্পদ কৌশল বিভাগ, বুয়েট।

Tags: ,

WARNING: Any unauthorised use or reproduction of bdnews24.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.
| | More
 -------------------------------------------------------------------------
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর নিজস্ব। bdnews24.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে bdnews24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)

-------------------------------------------------------------------------

২৭ প্রতিক্রিয়া - “ বৃষ্টির পানির যথাযথ ব্যবহার ”

  1. বিপাশা on এপ্রিল ২১, ২০১২ at ১:০৩ অপরাহ্ণ

    শপিং মল গুলুতে টয়লেট ফ্লাসিং ও ফ্লোর ক্লিনিংয়ের কাজে যদি বৃষ্টির পানি ব্যাবহার বাধ্যতামূলক করে কাজটা শুরু করা যায় তাহলেও অনেক কাজে দিবে। আর মল গুলোতে এখন বেশিরভাগই গ্লাস ব্যাবহার করে বাইরের দিকে, তাই কাঁচের উপর বৃষ্টির জল গড়িয়ে পরার বর্ষাকালের ভিউটাও চমৎকার ভাবে কাজে লাগানো যাবে।

    • জাহিদুল ইসলাম on এপ্রিল ২১, ২০১২ at ১০:০৩ অপরাহ্ণ

      ধন্যবাদ বিপাশা। শপিং মলে বৃষ্টির পানি জমিয়ে তা পরিচ্ছন্নতার কাজে লাগানোর ধারনাটা চমৎকার।

  2. সৌরভ কবীর on এপ্রিল ২০, ২০১২ at ১১:৩৩ অপরাহ্ণ

    খুব ভালো লাগলো।

  3. nafiz shohel on এপ্রিল ২০, ২০১২ at ১০:১৯ অপরাহ্ণ

    গুরুত্বপূর্ন লেখাটির জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

  4. kamrul on এপ্রিল ১৯, ২০১২ at ৯:০৩ পুর্বাহ্ন

    আপনাকে ধন্যবাদ, একটি অজানা তথ্য জানানোর জন্য।

  5. মোহাম্মাদ মহিউদ্দিন on এপ্রিল ১৯, ২০১২ at ৬:১০ পুর্বাহ্ন

    ধন্যবাদ,আমরা অবশ্য বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে সারা বছর বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করি। সকলে ইচ্ছা করলে এই অমুল্য সম্পদ বিনামুল্যে সংরক্ষণ করে নিরাপদ অথচ স্বাদু পানির চাহিদা ৮০% মেটাতে পারি।
    মোহাম্মাদ মহিউদ্দিন।

  6. M Haque on এপ্রিল ১৯, ২০১২ at ২:১২ পুর্বাহ্ন

    তিউনিসিয়ায় বৃষ্টির পানি ধরে রাখার নিয়ম আছে। বারমুডা, তিউনিসিয়া আর বাংলাদেশ, পার্থক্য গুলো একেবারেই ভিন্ন। সারাবছর বৃষ্টি, বছরে এক/দুই বার বৃষ্টি, আর বছরে ২/৩ মাস প্রচুর বৃষ্টি বাকি ৯/১০ মাস বৃষ্টিহীন তবে অনেকটা সময়ই আদ্র আমাদের এখানে। আপনি গ্যরেজে ১২-১২-৮ একটা ট্যাঙ্ক করলেন, ৯০০ গ্যলন পানি ১৫দিনের ভরা বৃষ্টিতে জমালেন,এইভাবে চলল, আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাস, ধরলাম আশ্বিন র্পযন্ত চলল। এই পানি ব্যাবহারের জন্য আলাদা পাইপে তা ফ্লাশ,ধোয়া মোছার জন্য ব্যবাহার করলেন, এরপর সারাটা সময় এই পাইপ,ছাকনি, উপর এবং নীচের টানিক থাকল অব্যবহৃত। তিন মাসের সুবিধার জন্য আপনাকে পুরো বছর এটা নিয়ে খরচ এবং ভাবনা করতে হচ্ছে। এর বিপরীতে অর্থনৈতিক ব্যাপারটা মাপুন।

    • জাহিদুল ইসলাম on এপ্রিল ১৯, ২০১২ at ১১:৫০ অপরাহ্ণ

      ধন্যবাদ এম হক। এখানে লক্ষ্যনীয় যে আমি তিনটা বিকল্প উপায়ের কথা বলেছি। আপনার মন্তব্যের আলোকে সেই বিকল্প গুলো নিয়ে একটু আলোচনা করিঃ

      ১) প্রথম অপশন ছিল কৃত্রিম ভাবে ভূগর্ভে পানির যোগান। সেটার জন্য বর্ষা মৌসুমের কোন বিকল্প নেই। আর যেহেতু কৃত্রিম ভাবে ভূগর্ভে পানির যোগান দেয়া ঢাকা ওয়াসা বা অন্য কোন সরকারী প্রতিষ্ঠানের কাজ সেহেতু ব্যাক্তিগত অর্থনৈতিক বিষয়টা এখানে গৌণ। আর যেহেতু ঢাকা শহরের ভূগর্ভের পানির স্তর বছরে প্রায় ১০ ফুট করে নেমে যাচ্ছে তাই সরকারের এক্ষেত্রে একই সাথে আর্টিফিসিয়াল রিচার্জ আর ভূগর্ভের পানির উপর থেকে চাপ কমানো ছাড়া ভালো কোন বিকল্প হাতে নেই। তাই সরকারের অর্থনৈতিক দায়বদ্ধতাও এক্ষেত্রে যৌক্তিক।

      ২) দ্বিতীয় অপশন ছিল ক্ষেত্রে ছাদ থেকে পানি সংগ্রহ করে তা ভূগর্ভস্থ জলাধারে সঞ্চয় করে রাখা এবং টয়লেট ফ্লাসিং বা অন্যান্ন কাজ যেখানে ১০০% পরিশোধিত পানির প্রয়োজন নেই সেই কাজে ব্যবহার করা। এখানে লক্ষ্যনীয় যে ঢাকার বর্ষাকাল মূলত জুন থেকে অক্টোবর, সুতরাং ২/৩ মাস নয় আপনি প্রায় পাঁচ মাস তা ব্যবহার করতে পারেন। একটি উপাত্ত এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন। এমেরিকান ওয়াটার ওয়ার্ক এসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী গৃহস্থালী পানি ব্যবহারের শতকরা প্রায় ২৬ শতাংশই হচ্ছে টয়লেট ফ্লাসিং এর জন্য। এটা অবশ্য ইউএসএ এর উপাত্ত। বাংলাদেশের জন্য উপাত্ত পাইনি। যাই হোক পানি ব্যবহারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হচ্ছে টয়লেট ফ্লাসিং। তাই অন্তত এক কাজেও যদি আমরা বৃষ্টির পানি জমিয়ে ব্যবহার করে তা কোন ভাবেই অর্থনৈতিক ভাবে অলাভজনক হবে বলে আমি মনে করিনা।

      ৩) তৃতীয় অপশন ছিল একটি নির্দিষ্ট জোনের অন্তর্গত সব বাসার বৃষ্টির পানি একটি কেন্দ্রীয় পরিশোধন কেন্দ্রে এনে সেখান থেকে তা পরিশোধনের পর ঐ এলাকায় সরবরাহ করা। এখানে লক্ষ্যনীয়, যে এটিও যেহেতু ঢাকা ওয়াসা বা অন্য কোন সরকারী প্রতিষ্ঠানের কাজ সেহেতু ব্যাক্তিগত অর্থনৈতিক বিষয়টা এখানে গৌণ। আর দেশীয় অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষনের খাতিরে বলছি, ঢাকা শহরে এখন মেঘনা থেকে পানি এনে সরবরাহ করার প্রকল্পের কাজ চলছে। এবারে আপনিই বলুন কোনটি অর্থনৈতিক ভাবে অধিক ফলপ্রসু হবে।

      ধন্যবাদ।

  7. মাসুদ চৌধুরী on এপ্রিল ১৯, ২০১২ at ১:২৬ পুর্বাহ্ন

    আপনাকে ধন্যবাদ,
    আমার মনে হয় আমিই প্রথম যে নিজের ৭ তলা বাড়ীর ছাদে এ ব্যাবস্থা করছি মাটির নীচে বৃটির পানি ধরার জন৷ টেংকি বানিয়েছি, ছাদের বৃটির পানি কাচের ঝরনা দিয়ে নিচে
    নেমে আসবে এবং নীচের টেংকিতে জমবে, তারপর মটরের মাধ্যমে সব বাথরূমে ব্যাবহার করা হবে৷
    আমার বাসা হাতীরপুল বাজার
    কাজটি কেমন হবে ?
    মতামত জানালে খুশি হবো।

    • জাহিদুল ইসলাম on এপ্রিল ১৯, ২০১২ at ১১:৫৩ অপরাহ্ণ

      ধন্যবাদ মাসুদ চৌধুরী। আপনার প্রকল্পের কথা জেনে খুব ভাল লাগছে। দারুন একটি প্রকল্প হবে। আপনি আপনার প্রকল্পের বিস্তারিত আমাকে ইমেইল করতে পারেন, বিশেষত ছবি সহ। সেক্ষেত্রে আমি একটি প্রতিবেদন লিখতে চাই যেন এরকম উদাহরন আরো সৃষ্টি হয়। প্রকল্পটি কেমন সফল হলো সেটি নিয়ে বিস্তারিত জানালে খুশি হব।

      আমার সাথে যোগাযোগের ঠিকানাঃ

      zahidripon এট জিমেইল ডট কম।

      ধন্যবাদ।

    • anwarul haque tarik on এপ্রিল ২০, ২০১২ at ১১:৪৮ অপরাহ্ণ

      আমি খুল্না খালিশপৃর এলাকায় বাসার ছাদে পাইপ লাগিয়ে সেটা রিজার্ভ ট্যাংকে ফেলি । পরে তা পাম্প দিয়ে ছাদে উঠিয়ে দেই । ঢাকার সব বাসায় এটা করলে রাস্তা ডুবে যেত না আর পানির প্রয়োজনও তাতে মিটে যেত। প্রকূতির এই সুবিধাকে দান হিসেবে গ্রহণ করা একান্ত দরকার ।

      • জাহিদুল ইসলাম on এপ্রিল ২১, ২০১২ at ১০:০৬ অপরাহ্ণ

        ধন্যবাদ আনোয়ারুল হক তারিক। আপনি কি আপনার বাসায় বৃষ্টির পানি ব্যবহার করার এই প্রকল্পের একটি বিবরন ও কিছু ছবি এবং তা কিরকম সফল বা কি কি সমস্যা আছে তা জানিয়ে আমাকে একটি ইমেইল করতে পারবেন? সেক্ষেত্রে আপনার প্রকল্পকে উদাহরন হিসেবে প্রকাশ করা যেতে পারে। আমার সাথে যোগাযোগের ঠিকানাঃ

        zahidripon এট জিমেইল ডট কম।

        ধন্যবাদ।

    • kaiser faruque on এপ্রিল ২১, ২০১২ at ৫:৩৪ অপরাহ্ণ

      অনেক ভাল।

  8. Md.Shahadat Hossain on এপ্রিল ১৮, ২০১২ at ৯:৫২ অপরাহ্ণ

    অসাধারণ একটি লেখা পড়লাম। লেখককে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
    আমাদের দায়িত্ব হল এটিকে কাজে রুপান্তরিত করা জাতিগতভাবে।
    আমরা সবই জানি সবই বুঝি কিন্তু কাজ করার সময় কেন জানি আমরা পিছিয়ে পড়ি।
    এই অবস্থা হতে আমরা মুক্ত হতে চাই।

  9. ইমরান on এপ্রিল ১৮, ২০১২ at ৭:০৮ অপরাহ্ণ

    লেখককে ধন্যবাদ এধরনের লেখার জন্য। তবে ঢাকা শহরে এধরনের উদ্যোগ নেওয়া খুব একটা সহজ নয়। কারন যেসব দালানকোঠা তৈরি করা হয়েছে সেগুলোতে এখন এই রকম জলাধার তৈরি করা ব্যয়বহুল তাই কোন বাড়ির মালিকই এধরনের উদ্যোগ নিতে রাজি হবেন না। পাশাপাশি কলকারখানার দূষিত মেঘের পানি শোধন না করে ব্যবহার বিপদজনক।

    • জাহিদুল ইসলাম on এপ্রিল ১৮, ২০১২ at ১০:৪৩ অপরাহ্ণ

      ধন্যবাদ ইমরান। এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করে নেয়া ভাল আর তা হচ্ছে জলাধার কিন্তু ছাদে হবেনা, জলাধার হবে ভূগর্ভে ( বেইজমেন্টে)। ছাদ শুধুমাত্র পানির ধরতি বা ক্যাচমেন্ট হিসেবে ব্যাবহৃত হবে যা এখনো হচ্ছে। এখন যেমন ছাদের পানি বিচ্ছিন্নভাবে পাইপ দিয়ে নিচে বা রাস্তায় ফেলে দেয়া হয় তখন তা একটি পাইপ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিচের জলাধারে বা ঐএলাকার জলাধারে বা ঐ এলাকার গ্রাউন্ডওয়াটার রিচার্জ কেন্দ্রে পরিবহন করা হবে।

      আর আপনি যেসব চ্যালেঞ্জের কথা বলেছেন তা সঠিক। তবে এই লেখাটি নীতিনির্ধারকদের জন্য।, তাই প্রকৌশলগত দিন নিয়ে আলোচনা করা হয়নি। নীতিনির্ধারকরা যদি এই প্রকল্পে উৎসাহী হন আমি হলফ করে বলতে পারি কারিগরী দিকগত সমস্যা বা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সমস্যা হবার করা নয়।

    • অনির্বাণ on এপ্রিল ১৯, ২০১২ at ৩:০৮ পুর্বাহ্ন

      আপনার কথায় যুক্তি আছে। কিন্তু মানুষ যদি বুঝতে পারে যে কিছুদিন পর থেকে ভূগর্ভ থেকে পানি উত্তোলন করতে এর চেয়ে অনেক বেশি খরচ লাগবে তখন বাধ্য হয়েই বাড়ির মালিক এই ধরনের উদ্যোগ নিবেন। আর এই ব্যাপারে নীতি নির্ধারকদের আসল কাজ সচেতনতা সৃষ্টি করা।

      আরও শোচনীয় অবস্থা হলে সরকারীভাবেই বাধ্যতামূলক ভাবে এরকম উদ্যোগ নেয়ার কথাও বিবেচিত হতে পারে।

      আর পানি বিশোধন এর ব্যাপারটাও কঠিন কোন ব্যাপার নয়। নীতি নির্ধারকদের সদিচ্ছাই বড়। তাছাড়া রুফ স্লেট এর উপরে যে লাইমওয়াশ দেয়া হয় সেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল হিসেবে কাজ করে কিছুটা। বাকিটা আপনি আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংক এ নিয়ে ক্লোরিনেশন করে বিশুদ্ধ করে নিতে পারবেন। এই ভিডিও টি দেখে নিতে পারেনঃ

      http://www.youtube.com/watch?v=uicDtLdOG4o

      কল কারখানার দূষিত মেঘের পানির কথা বললেন। ঢাকা শহরের মেঘ কিন্তু ঢাকা শহরের উপরেই থাকেনা। ছড়িয়ে পড়ে। আবার বাইরে থেকেও আসে মেঘ। কাজেই বৃষ্টি যে ঢাকা শহরের কলকারখানার দূষিত মেঘেরই সেটা বলা যাবেনা। আর সেটা হলেও অবশ্যই পানি বিশোধন করা সম্ভব।

      লেখক বলেছেন “প্রশ্ন উঠতে পারে এভাবে সংগৃহীত পানির গুনগত মান নিয়ে। জানিয়ে রাখা ভাল বারমুডার অধিবাসীরা প্রায় সাড়ে তিনশ বছর ধরে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করেই তাদের জীবন যাপন করে আসছে। ইদানীংকালে যদিও খাবার পানির ক্ষেত্রে অনেকেই বোতল-জাত পানি ব্যবহার শুরু করেছে তারপরেও বারমুডার বৃষ্টির পানির গুনগত মান কোনভাবেই জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরূপ নয়। ”

      কাজেই বারমুডা পারলে আমরা কেন পারবনা?

  10. russel on এপ্রিল ১৮, ২০১২ at ৬:০০ অপরাহ্ণ

    আপনার লিখাটি খুব ভালো লাগলো।

  11. Ali Hossan Tito on এপ্রিল ১৮, ২০১২ at ৫:৪৭ অপরাহ্ণ

    ধন্যবাদ। সুন্দর একটি লেখা।

  12. M Haque on এপ্রিল ১৮, ২০১২ at ১১:২৬ পুর্বাহ্ন

    পানি সংরক্ষণের ব্যাপার আমাদের প্রচুর আলোচনা হওয়া দরকার, এটা এজন্য যে এর মাধ্যমে যুতসই সাধারণ উপায় বের হতে পারে আর পারে সচেতনতা জাগাতে, যেটা বেশি জরুরি।
    বৃষ্টির পানি কয়েকমাস জমিয়ে রাখাটাই বড় বিষয়।
    প্লাবিত নদী খালের পানি ধরে রাখার উপায় বের করাটা খুবই জরুরী। কৃষি এবং পরিবেশ দুটোকে বাঁচাতে গেলে এর কোন বিকল্প নেই। এর উপর আছে পানি রাজনীতি এবং পররাষ্ট্রনীতি।
    আসুন আমরা সবাই এ নিয়ে ভাবি।

    • জাহিদুল ইসলাম on এপ্রিল ১৮, ২০১২ at ১০:৪৬ অপরাহ্ণ

      ধন্যবাদ। আসলে ভূগর্ভস্থ পানি রিচার্জ হবার সময় মূলত বর্ষাকাল। তাই অন্তত ঢাকার বৃষ্টির পানিকে নদী বা খালে পরিবাহিত না করে ( ঐ সময় নদী বা খালে এমনিতেই প্রচুর প্রবাহ থাকে) তা দিয়ে ভূগর্ভস্থ পানি রিচার্জ করার পরিকল্পনা করলে সেটাও হবে একটি বড় পাওয়া।

      আর বাংলাদেশ যেহেতু মূলত সমতল ভূমি তাই নদীর পানি জমিয়ে রাখার মূল সমস্যা হচ্ছে তা উজানে বিপুল এলাকা প্লাবিত করবে।

  13. Syed Mahbubul Alam on এপ্রিল ১৮, ২০১২ at ৯:২৯ পুর্বাহ্ন

    অসাধারণ তথ্য। আমাদরে সম্পদ আছে বলে তা রক্ষায় তা ব্যবহারে আমাদরে মনোযোগ নেই। হাইকোর্ট ঢাকার চারপাশের নদীদূষণ বন্ধে নির্দেশনা প্রদান করেছে। কিন্তু সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোন মনোযোগ নেই ওয়াসার। গভীর নলকুপ স্থাপন, ব্যবহারে প্রতিনিয়ত ব্যবসার সুবিধা রয়ছে। তাই বৃষ্টির পানি সংরক্ষন বা ব্যবহারে আমাদের গুরুত্ব কম।

    বৃষ্টির পানি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে ওয়াসা, সিটিকপোরশেন আইন, বিলিং কোডে পরিবর্তন প্রয়োজন।

  14. imran ashfaq on এপ্রিল ১৮, ২০১২ at ৯:০২ পুর্বাহ্ন

    সুন্দর লেখা। গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি সামনে নিয়ে আসার জন্য ধন্যবাদ।

  15. jahan on এপ্রিল ১৮, ২০১২ at ৮:৪৯ পুর্বাহ্ন

    পানি ধরে রাখার ব্যাবস্থাটা ভাল। আমাদের দেশে দরকার হবে এটি।

  16. jahan on এপ্রিল ১৮, ২০১২ at ৮:৪৭ পুর্বাহ্ন

    আমাদের দেশে বি্দ্যুত সমস্যা লাঘবের জন্য বাড়ির চালে বি্দ্যুত ধরে রাখার ব্যাবস্থা থাকলে ভাল হতো।

  17. reza on এপ্রিল ১৮, ২০১২ at ১২:০৫ পুর্বাহ্ন

    অনেক ধন্যবাদ আপনাকে এই গুরুত্বপূর্ন লেখাটির জন্য।

  18. জাহিদুল ইসলাম on এপ্রিল ১৭, ২০১২ at ১১:৪৩ অপরাহ্ণ

    কয়েকটি গুরুত্ত্বপূর্ন সংযুক্তিঃ

    ১) লেখাটির জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ ডঃ মানস সোম, ভূপরিস্থ পানি বিশেষজ্ঞ, ওরলি পারসনস, কানাডা (WorleyParsons Canada) বারমুডার রেইনওয়াটার হারভেস্টিং এর আলোকচিত্রের জন্য।

    ২) বারমুডার রেইনওয়াটার হারভেস্টিং এর পুরো প্রক্রিয়াটি নিচের ইউটিউব ভিডিওতে চমৎকার করে দেখানো হয়েছে। আগ্রহীরা পাঠকরা দেখতে পারেনঃ

    http://www.youtube.com/watch?v=uicDtLdOG4o

    ৩) বারমুডার রেইনওয়াটার হারভেষ্টিং নিয়ে আগ্রহীরা নিচের দুই লিঙ্ক থেকে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেনঃ

    http://goo.gl/zGJC5
    http://goo.gl/nTRqh

    ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

Get Adobe Flash playerPlugin by wpburn.com wordpress themes

ফেসবুক লিংক

ট্যাগ

আর্কাইভ