মাকসুদা সুলতানা
যৌন হয়রানি প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ কবে হবে
ইভ টিজিং বাংলাদেশে বহুল আলোচিত বিষয়। যেহেতু এই সামজিক ব্যাধিটি এখনও নির্মূল হয়নি তাই প্রসঙ্গটি আমাদের কাছে সেকেলে হয়ে পরেনি । বর্তমানে এনজিও ও সিভিল সমাজের চেষ্টায় ইভ টিজিং শব্দটিকে বাদ দিয়ে “সেক্সুয়াল হ্যারাজমেন্ট বা যৌন হয়রানী” শব্দটি ব্যাবহার করা হচ্ছে। কেননা ইভ টিজিং কথাটি নারীকে উত্ত্যক্তকরনের বিষয়টিকে হালকা করে দেয়। যৌন হয়রানী বা সেক্সুয়াল হ্যারাজমেন্ট পশ্চিমা তথা উন্নত দেশসমূহ অনেক আগে থেকেই একটি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত। সেসব দেশে ঘরে বাইরে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যে কোন যৌন হয়রানী গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে যেকোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সেক্সুয়াল হ্যারাজমেন্ট নারীর মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। যৌন হয়রানীর শিকার কিশোরী বা তরুণী বড় হয়ে সে অন্য পুরুষ এমনকি নিজের স্বামীকেও ঘৃনা করতে পারে। এই দেশে, বাড়ীতে আত্বীয় স্বজনেরা, বাসের পার্শ্ববর্তী যাত্রী ও কন্ডাকটর, স্কুলে যাওয়ার পথে বখাটেদের দ্বারা প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানীর শিকার হয় নারী কিন্তু তারা মুখ খুলে না। বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানীর ঘটনা ঘটে থাকে, যা নিয়ে বেশিরভাগ নারীই নিরব থাকে। গার্মেন্টস, কর্পোরেট সেক্টর, এনজিও, মিডিয়া, সরকারী অফিস প্রায় সবখানেই ক্ষমতার অপব্যাবহার হয়, চাকুরি হারানোর ভয় দেখিয়ে, মিথ্যা প্রলোভনের মাধ্যমে যৌন হয়রানী করা হয়ে থাকে । কিন্তু এসব নিয়ে যৌন হয়রানীর শিকার নারীটি দূর্নামের ভয়ে সচরাচর মুখ খোলে না । আর এ ব্যাপারে সরকার, গার্মেন্টস মালিক বা কর্পোরেট মালিকেরা কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা দিয়েছেন কি? অথচ প্রতিটা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানী রোধে নিজস্ব সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকা উচিত ।
জাতিসংঘ, নানা আর্ন্তজাতিক সংস্থা এবং কিছু বহুজাতিক সংস্থায় যৌন হয়রানীর ব্যাপারে “জিরো টলারেন্স” পলিসি গ্রহণ করা হয়েছে । আর্ন্তজাতিক সংস্থাসমুহের মতো বাংলাদেশের সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর “জিরো টলারেন্স” পলিসি নেয়া কি খুব কঠিন? এক্ষেত্রে সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এবং সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের সদিচ্ছা সবচেয়ে জরুরী ।
কিছুদিন আগে সংবাদপত্রের সূত্রে জানা গেল, গাজীপুরে গার্মেন্টস শ্রমিক একটি মেয়েকে ওভারটাইমে বাধ্য করা হয়েছিল। সে যখন রাতের অন্ধকারে বাসায় ফিরছে, তখন তাকে জোর করে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল। এমনি করে কত নারী যে কাজের ক্ষেত্রে বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছে শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা ব্যাবস্থা না থাকার কারনে। তাকে কি নিরাপত্তার মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছে, কখনো তার অফিস বা কারখানার কর্তৃপক্ষ?
নারী যে শুধু গৃহে নির্যাতনের শিকার হয় তা না, ঘরের বাইরের কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত নারীরও হুমকি মুখে থাকে। এক বি এন ডব্লিউ এল এর এক গবেষণা থেকে দেখা যায়, ৯১ শতাংশ নারী বাংলাদেশে কোন না কোনভাবে যৌন হয়রানীর শিকার । তাদের নিরাপত্তা যদি সংস্থা ও রাষ্ট্র না দেয় তবে অর্থনীতিই ক্ষতিগ্রস্থ হবে, কেননা জনসংখ্যার অর্ধেক জনগোষ্ঠীই নারী। পত্রিকাতে একটি ঘটনা পড়ে গা শিউরে উঠে । ৭/৮ বছর বয়সের একটি বাচ্চাকে খেলার মাঠ থেকে বিস্কিট ও কলা খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে জঙ্গলের মধ্যে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় । মেয়েটিকে পরে একজন সহানুভুতিশীল মানুষ তার আকুতি শুনতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করল রক্তাত্ত অবস্থায় । খবরের কাগজে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হলো তারা ভুক্তভোগী পক্ষের কারো কাছ থেকে এখনো কোন অভিযোগ পায়নি। এদিকে মেয়েটির বাবা মাকে নানাভাবে ভয় দেখিয়ে যাচ্ছে ধর্ষকের প্রভাবশালী দলবল । ২৪ ঘন্টার মধ্যে ডাক্তারী পরিক্ষা না করালে আলামত নষ্ট হয়ে যায় । আমাদের দেশের ধর্ষণের ঘটনার অনেক আসামী প্রশাসনের অভাবে পার পেয়ে যায় । তাই তারা হুমকী দিয়ে ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছের লোকজনকে মামলা না করতে বাধ্য করে । এক্ষেত্রেও কি তাই হতে যাচ্ছে ? বাংলাদেশে ২০০৯ সনের ১৪ই মে হাইকোর্ট ডিভিশন সেক্সুয়াল হ্যারাজমেন্ট এর উপর একটি যুগান্তকারী রায় প্রদান করে বিধিনিষেধ আরোপ করে। সেখানে এ বিষয়টিকে সংজ্ঞায়িত করার মাধ্যমে কী কী বিষয় নারীকে উত্ত্যক্ত করে এবং মানসিক ও শারীরিক ক্ষতিসাধনের মাধ্যমে তাকে কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষা জীবনে ক্ষতি বয়ে আনে তা তুলে ধরা হয়েছে। কিছু সংখ্যক আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মাল্টি ন্যাশনাল সংস্থা অবশ্য এ নীতিটি মেনে নিয়ে তাদের সংস্থায় তা কাজে লাগাচ্ছে। তবে সরকারী সংস্থা সমূহে এখনও সেরকম কোন পলিসি তৈরি হয়েছে বলে এ পর্যন্ত শুনিনি। যদিও সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন বলেছেন এবং মন্ত্রিগনও তাদের বক্তৃতায় তা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত সেরকম কোন উদ্যোগ নজরে পড়েনি । বর্তমানে নারী নির্যাতনের ভুক্তভোগীকে সহায়তার জন্য রয়েছে ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, এর সাথে পুলিশের ভিকটিম সার্পোট সেন্টার । এদের সেবার সুবিধাগুলো নারীদের কাছে পৌঁছানো উচিত।
বর্তমান নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষা ক্ষেত্রে কাউন্সিলর নিয়োগের বিষয়টি উঠে এসেছে। কিন্তু পলিসি তৈরি করতে সরকার কেন এখনও পিছিয়ে আছে? শুধু পলিসি নয়, সরকারের উচিত হবে, এক্ষত্রে পুলিশ বাহিনীকে কার্যকর হতে দেয়া। যৌন হয়রানী রোধে বাংলাদেশের সরকারী ও বেসরকারী সকল প্রতিষ্ঠানসমুহে নিজস্ব সেফটি নেট ও মেকানিজম থাকা জরুরী । এ ব্যাপারে সরকারের সুস্পষট নির্দেশনা ও পলিসি কার্যকরীভাবে থাকা উচিত।
মাকসুদা সুলতানা: লেখক ও গবেষক।

লেখা এবং দাবি দুটোই সময়োপযোগী। হয়তো দেরি করলে সামাজিক অবক্ষয় বেড়ে যাবে কিন্তু আমাদের মতো দুর্ভাগা দেশে আইন করে বড় ধরনের সুফল পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। কারণ আমাদের সমাজের শিরায়-উপশিরায় যৌন-হয়রানি মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। হয়রানি করে অনেকেই ,আইন-রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য থেকে শুরু করে বাসের হেলপার, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছেলে, পাড়ার বখাটে, তথাকথিত ভদ্র চাকুরীজীবী, এমনকি মামা-চাচা সম্পর্কিত আত্মীয়রাও। এটাই আমাদের সমাজের সামগ্রিক চিত্র। আসলে পারিবারিক শিক্ষা সবচেয়ে বেশি দরকার। প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষাও ঠিকভাবে দেওয়া হলে এর সুফল মিলবে।
মেয়েরা যদি শরীর ঢেকে পোশাক পরিধান করে তাহলে আমি মনে করি তারা আর হয়রানীর শিকার হবে না। নারী পুরুষ উভয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন না মানলে কিছুতেই কিছু হবেনা ।
সম্মানিত লেখিকা মাকসুদা সুলতানা আপনার ইভটিজিং, যৌন হয়রানি বিষয়ক লেখাটি অনেক সুন্দর হয়েছে। আপনার সাহিত্যিক প্রতিভা অসাধারন। আপনার লেখার ভাষা পাঠকবৃন্দকে অতি সহজেই আকৃষ্ট করতে পারবে। আপনি বলেছেন ছেলেরা/পুরুষরা অফিসে, রাস্তা-ঘাটে, শপিংমলে সর্বত মেয়েদের ইভটিজিং বা সেক্সুয়াল হ্যারেজম্যান্ট করছে। যা একটি মেয়ের জন্য অত্যন্ত লজ্জার ব্যাপার। আমরা আপনার সাথে একমত। যারা এ কর্মকান্ড করছে তাদেরকে নর্দমার কীট হিসাবে আখ্যায়িত করা যায়। আমরা স্বীকার করছি এ ব্যাপারটি সত্যি আমাদের সমাজে প্রত্যাশিত নয়। আমরাও মনে প্রাণে চাই যেন কোন ছেলে আর কোন মেয়েকে টিজ না করে। তবে আপনাদের উদীয়মান নারী সমাজকে একটি ছোট্র অনুরোধ করবো আপনারা শালীনতা বজায় রেখে চলাফেরা করুন, আশা নয় দৃঢ় বিশ্বাস আপনাদের আর যৌন হয়রানির স্বীকার হতে হবে না। ছেলেদের ইভটিজিং এ আপনারা যেমন লজ্জাবোধ করেন তদ্রুপ আপনাদের পোশাক পরিচ্ছদের কারনে সৃষ্ট অদ্ভুত পরিস্থিতির কারনেও লজ্জাবোধ করা উচিত। সমাজের ঐ সকল কীট যারা ইভটিজিং করে তাদের হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে নর্দমার যে ময়লা আবর্জনা থেকে কীটের উদ্ভব হচ্ছে, প্রথমে সেই সব ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করতে হবে। তাহলে দেখবেন কীটও থাকবে না, যৌন হয়রানি হবে না এমনকি এ ব্যাপারে লেখা প্রকাশের প্রয়োজনও হবে না।
মাকসুদা, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এই সুন্দর লেখাটির জন্য। আর আপনার লেখার ওপর মন্তব্য করেছেন রাঙ্গামাটি’র রেজা সাহেব। আমি রেজা সাহেবের সঙ্গে একমত পোষন করছি। আপনাদের পোশক-আশাকের শালীনতা অবশ্যই রক্ষা করে চলা উচিত। তাহলেই দেখবেন ইভটিজিং বন্ধ হয়ে গেছে।
অবশ্যই পোশক-আশাকের শালীনতা হলে ৯৫% ইভটিজিং বন্ধ হবে।
মানুষ কেবল একটা দ্বিপদী জন্তু নয়। প্রত্যেক মানুষকে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন হতে হবে। মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত তা তার উপলব্ধিতে থাকতে হবে। মাকসুদা সুলতানা যেসব জন্তু-জানোয়ারের পাশবিক কর্মকান্ডের কাহিনী লিখলেন,এরা কোনভাবেই মানুষের কাতারে পড়েনা। তারা মানুষের ঘরে জন্মালেও ‘মানুষ’ হওয়ার শিক্ষা পায়নি অথবা তা ধারণ করতে পারেনি। বিধাতার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হওয়ার আত্মোপলব্ধি অন্তরে ধারণ করলে পাশবিক তথা মন্দ কাজগুলো করা সম্ভব সয়। তাই আত্মমর্যাদা বোধসম্পন্ন মানুষ গড়ার মত অনুকূল পরিবেশ আমাদেরকে গড়ে তুলতে হবে যাতে আমাদের বন্ধু,মাতা,ভগ্নি,কন্যা,স্ত্রী’দের ভালোবাসতে ও শ্রদ্ধা করতে শিখি ও অভ্যস্ত হই। আমি মন্দ কাজ করে নিজেকে খাটো করবো কেন?
ধন্যবাদ মাকসুদা।
প্রথমেই মাকসুদা আপাকে ধন্যবাদ এত সুন্দর একটা কলাম লেখার জন্য। সমাজে মানুষের ভিতরে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। মানুষেব ভিতরে মনুষত্ব, সু-শিক্ষার অভাব দেখা যাচ্ছে। মানুষগুলো যেন পশুর মত আচরণ করছে। এ থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এ বিষয়ে সমাজের মানুষকে সচেতনতার পাশাপাশি নৈতিকতা ও মূল্যবোধের শিক্ষাটাও দিতে হবে। জয়নাল আবেদিন ভাইয়ের কথাটা ভালো লাগছে। এ ক্ষেত্রে মিডিয়া ভূমিকা পালন করতে পারে, প্রচার বেশী বেশী করে চালানো, নারীকে বিজ্ঞাপনের সামগ্রী হিসাবে না দেখানো ইত্যাদি। সর্বশেষে একথা বলে শেষ করতে চাই একজন আর একজনের দোষ না ধরে সকলে এক সাথে কাজ করলে এধরনের ব্যাধি দূর করা সম্ভব।
আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ইসলামিক হওয়া উচ্চিত।
এসব কিছু নোংড়া ব্যক্তির জন্য আজ পুরো পুরুষ সমাজকে লজ্জার মুখে পরতে হচ্ছে। এ লজ্জার হাত থেকে পুরুষদের বাঁচতে সকল ভদ্র ব্যক্তিকে এক যোগে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু মা বোনদের রক্ষার্থে নয়, নিজেদের অপমান ঘোচাতে আজ আমাদের এসব অত্যাচার কঠোর হস্তে দমন কোরতে হবে।
ইভ টিজিং এর উপর লেখাটা পড়ে ভাল লাগল। কিন্তু শুধু আইনের মাধ্যমে এই জিনিস ঠিক করা যাবে না। এর মুল কারণ সামাজিক মূল্যবোধের পচন। আমি যতদূর জানি, ইউএসএ এর মতো দেশেও এই সমস্যা আছে, যদিও সেখানকার আইন জিরো টলারেন্সই প্রদর্শন করে।
আমাদের দেশে য্খন পর্দার বিধান চালু হবে তখন এই অভিশপ্ত ইভটিজিং আর থাকবে না।
তাই আমাদের মা বোনদের উচিত ইসলাম ধর্মের যে মহান বিধান আছে তা পুরোপুরি মেনে চলা।
সেক্সুয়াল হ্যারাজমেন্ট বন্ধ করতে, নারী পুরুষ সবাই কে সচেতন হতে হবে। শুধু আইন কানুন ইত্যাদি করে এটাকে কমানো আমার মতে অসম্ভব। যদি আমারা নারী পুরুষ রা আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে পারি, তবেই এটা থামানো সম্ভব হবে।
বোন আমাদের দেশের যে আইন আছে তার ই প্রয়োগ নাই ! আর কোন আইন আমার মনে হয় দরকার নেই ! তার চেয়ে আমাদের নিজেদের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা দরকার ! তা হলেই আইনের প্রয়োজন হবেনা ! কারন যেখানে শাসক ন্যায় পরায়ন সেখানে আইন নিশ্চপ্রয়োজন , যেখানে শাসক দূরনীতি পরায়ন সেখানে আইন র্নি-অর্থক তাইনা ?
বিগত ২০০৯ সনের ১৪ই মে হাইকোর্ট ডিভিশন কর্তৃক সেক্সুয়াল হ্যারাজমেন্ট এর উপর যুগান্তকারী রায় প্রদানের দিনটিকে যৌন হয়রানী রোধ দিবস হিসেবে পালনের কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হোক
এর জন্য আমাদের আকাশ সঙ্স্কৃতি বহুলাংশে দায়ী। নাটক সিনেমা সর্বত্র নারীদের খোলা মেলা উপস্থাপন টিন এজ বালক থেকে শুরু করে তরুন যুবক সবাইকেই মানসিক ভাবে অস্থির করে তুলছে। তারই বহিঃপ্রকাশ এই সব অপরাধ। মানুষ নিজের উপরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে। তাছাড়া ল এন্ড অর্ডারের অবস্খাও শোচনীয়। ফলে অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধী-যা আরেকজনকে অপরাধী হতে ইন্সপায়ার্ড করছে …. এই সব বিষয়গুলো আমাদেরকে ভাবতে হবে ..পারিবারিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে ………..
জরুরী|এ ব্যাপারে সরকারের সুস্পষট নির্দেশনা ও পলিসি কার্যকরীভাবে থাকা উচিত।
লেখাটি পড়ে আমার খুব ভালো লাগলো।কবে হবে একটি সুন্দর দিন যে দিনে আমরা নারীকে ভোগের বস্তু মনে করো না। মনে করবো সে আমার বন্ধু।মনে করবো সে আমার মায়ের সমান অথবা আমার বোনের সমান। ছোট্ট বাচ্ছা মেয়েটিকে যারা ধর্ষন করেছে ধর্ষিতার শাস্তি যদি মৃত্যুদন্ড হয় তাহলে এ দেশে কোন লোক ধর্ষক এর মতো খারাপ কাজে লিপ্ত হবে না।ধন্যবাদ লেখককে
অবশ্যই য়ৌন হায়রানির বিরুদ্ধে আরো বেশী বেশী জনসচেতনেতা গড়ে তোলা উচিত এবং এধরনের লেখালেখি আরো মিডিয়ায় আসা উচিত বলে আমি মনে করি।
ধন্যবাদ
চমৎকার একটা দিক নির্দেশনা নিবন্ধের জন্য লেখিকাকে ধন্যবাদ।
নারীরা শারীরিক, মানসিক, ইভটিজিং ও যৌন নির্যাতনের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবহেলার শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। নারীদের গুরুতর শারীরিক সমস্যা কিছুটা আমলে নেওয়া হলেও মানসিক সমস্যা বা অবহেলাকে আমলেই নেওয়া হয় না।
মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিরাই এধরনের সামাজিক অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। শিক্ষা ক্ষেত্রে কাউন্সিলর নিয়োগ করে যথার্থ কাউন্সেলিং-এর মাধ্যমে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত এসব মানুষদের সুস্থ করে সুন্দর জাতি গঠন করা সম্ভব।
বর্তমানে নারী নির্যাতনের ভুক্তভোগীকে সহায়তার জন্য মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রামের আওতায় যে ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার (মহিলা অধিদপ্তরের চতুর্থ তলায় , ৩৭/৩ ইস্কাটন গার্ডেন), পুলিশের ভিকটিম সার্পোট সেন্টার কাজ করে চলেছে তা ভুক্তভোগীদের জানানোর জন্য প্রচারণা প্রয়োজন নয়তো এসব কর্মসূচী কোন কাজেই আসবে না। প্রয়োজন যৌনহয়রানি প্রতিরোধে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি। আর সরকারি-বেসরকারি প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ এবং এর সমন্বয়ই বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরনের একমাত্র পথ।
রফিক – উল – আলম
প্রধান নির্বাহী, ‘মেডিট্রেইন’
এ্যাকটিভিটি পার্টনার ‘হেল্প’ মাদকাসক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ঢাকা
ক্রিমিনালদের পক্ষে নেতারা থাকায় এ সমস্যা থেকে বাঁচার পথ নেই।
নারী পুরুষ উভয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন না মানলে কিছুতেই কিছু হবেনা , , , , , , , ,
আমরা পুরুষরা যদি আমাদের নিজ নিজ পরিবারের মা-বোনদের, স্ত্রীদের পোষাক বা চলাফেরা, কাজে মার্জিত ও গ্রহনযোগ্যতা অনুযায়ী পরিচালনা করি তাহলে মনে হয় যৌন নির্যাতন এমনিই চলে যাবে।
লেখাটা ভাল লাগলো।
আমি জানি এইসব লিখে কোন ফল নাই। তারপরও মনের শান্তির জন্য লিখছি। প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের দিকে তাকালে আমার বুক ফেটে যায়। কি হচ্ছে আমার দেশে?
কিন্তু বিশ্বাস করুন আমি স্বপ্ন দেখি সেই আগামী সুর্যের। যেখানে এইসব খারাপ কিছু থাকবে না। সত্যি কথা বলতে আমার দেশের মত ভালো মানুষ পৃথিবীর কোন দেশে নাই। শুধু একটু দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে পারলেই, আমরা পরিণত হতে পারি সোনার দেশে, পরিণত হতে পারি বিশ্বের সেরা দশ জাতির একটিতে।
যৌন হয়রানি প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দ্যোগ কবে হবে : আসলে আপনার লেখাটি যথাথর্ যুক্তিযুক্ত ও বাস্তব সম্মত লেখা। এ বিষয়ে আমাদের সবাইকেই সচেতন থাকা উচিত। আর এর জন্য দরকার প্রথমে পারিবারিক, সামাজিক তথা সবর্সাধারণের সচেতনতা বাড়িয়ে তোলা। আর এজন্য পরিবার থেকেই আগে শুরু করতে হবে। পরিবারের একটি সন্তান সে কখন কি করছে বাবা – মা তা সবসময় না পারুক অন্তত এটুকু খেয়াল রাখতে হবে সে কোথায় যাচ্ছে এবং কি করছে খোঁজ নিতে হবে। তার গতিবিধি লক্ষ্য করতে হবে, তার বন্ধুদের চলাফেরা বুঝতে হবে এবং এবিষয়ে তাকে সতর্ক করতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন মোবাইল ফোন দেয়া যাবে না। তার লেখাপড়া এবং হোমওয়াকের্র দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। আর নারীদেরকেও সচেতন হতে হবে – তাদের পোষাক-আশাক বিষয়ে-তাদের কোন আচড়ন যেন যুবকেদর তথা যুবসমাজকে প্রভাবিত না করে। সামাজিক রীতিনীতি মেনে চলা সবারই দায়িত্ব, তাই তাদেরকে পোষাক আশাকের সাথে সাথে নিজের শখ তথা সামাজিক রীতি মানতে হবে। নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে একজন নারী যদি দেশে পশ্চিমা কালচার অনুযায়ী চলাফেরা করেন তাহলে তা আমাদের যুবসমাজের মাঝে বিরুপ প্রভাব ফেলবে যা – সমস্ত নারী সমাজের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়াবে। আজকে কেন এই অবস্থা – তার জন্য দায়ী আগে আমাদের পারিবারিক বন্ধন ক্ষীণ হয়ে আসা- পরিবারের মা-বাবা নিজেদের নিয়ে ব্যস্থা থাকা – সন্তানকে প্রয়োজনীয় সময় না দেওয়া, সন্তানের প্রয়োজনীয় বিনোদনের ব্যবস্থা না রাখা। তাছাড়া আমাদের স্কুল -কলেজ এবং বতর্মানে প্রাইভেট ভাসির্টিগুলোতে লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বিনোদনের ব্যবস্থা না থাকা। তারা বিনোদন খুঁজে এখন মোবাইল ফোনে চ্যাটিং এবং ফেইসবুকে – ভিডিও দেখে ও বন্ধুদের সাথে আড্ডা খুঁজে। গতকালের একটি ঘটনা বলি আমি একটি দোকানে চা খাচ্ছিলাম – পাশে কয়েকটি ছেলে ধুমপান করছিল- তারা এশিয়ান ইউনিভাসির্টির মতিঝিল ক্যাম্পাসের ছাত্র – দেখলাম সবাই ধুমপান করছে- এখানে লক্ষ্যণীয় যে তারা ধুমপান করাটাকে ষ্ট্যাটাস মনে করছে। অভিভাবকদের এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। সন্তান বড় হলে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লেই যে এতটা স্বাধীন হয়ে যাবে যে সে যা ইচ্ছে তাই করে বেড়াবে তাতে মা-বাবার কোন নিদের্শনা থাকবে না – তারা শুধু টাকা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করবেন তাতো হতে পারে না। তাই আসুন সবাই আমরা সজাগ হই নিজেদের দায়িত্ববোধ সম্বন্ধে। আর বিশেষ করে নারী সমাজকে মনে রাখতে হবে এটা বাংলাদেশ এটা পশ্চিমা বিশ্ব নয় – এখানে একটা ধমীর্য় রীতিনীতি আছে সে অনুযায়ী চলতে হবে এবং আধুনিকতাকেও বজায় রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে আমরা সবাই সামাজিক জীব- সমাজে প্রভাব পড়ে সেরকম কোন কাজ আমাদের করা যাবে না। তাহলেই দেখবেন পরিবতর্ন এসে গেছে। ধন্যবাদ!
মেয়েরা যদি শরীর ঢেকে পোশাক পরিধান করে তাহলে আমি মনে করব তারা আর হয়রানীর শিকার হবে না।
অনেক মানবাধিকার ও আইনি সহায়তা সংস্থা রয়েছে যারা যৌন হয়রানি প্রতিরোধের জন্য আইন প্রণয়ন করে সেই আইন বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে চাপ প্রয়োগ করে থাকে । কিন্তু সেই সংস্থার মধ্যে যখন এই ধরণের হয়রানির ঘটনা ঘটে তখন সেই সংস্থা মেয়েটির জন্য কাজ করলেও কোন না কোন ভাবে মেয়েটিকে দোষারোপ করেই থাকে।
“জাতিসংঘ, নানা আর্ন্তজাতিক সংস্থা এবং কিছু বহুজাতিক সংস্থায় যৌন হয়রানীর ব্যাপারে “জিরো টলারেন্স” পলিসি গ্রহণ করা হয়েছে ।”
বাংলাদেশে এই কাজটা কারা করবেন ? মহান সংসদে আইন তৈরি করেন যাঁরা ? তাঁদের নৈতিকতার প্যারামিটার ক্রমশ নিম্নগামী !
আর কারা করবেন, শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেন যে শিক্ষক, তিনি ?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বিরাট অংশ ছাত্রী নিপীড়ক ! এর প্রতিবাদ করছেন ক’জন ?
ব্যতিক্রমী যে শিক্ষক-তিনি মিজানুর রহমান ! ব্যতিক্রমী শিক্ষকের পরিণতিও মিজানুর রহমানের মতনই হবে । সমাজের প্রতিটি স্তরকে, নিপীড়ক আর দূর্নীতিগ্রস্থদের জন্য নিরাপদ আশ্রম বানিয়ে রাখা হয়েছে ।
আইনের সার্থকতা নির্ভর করে তার ব্যবহারের ওপর। আমাদের তো আইনের কমতি নেই; কিন্তু আইনের অপব্যবহার যে তারচেয়েও বেশি।