ফরহাদ মজহার
ডিজিটাল ফ্যাসিবাদ

ছবি.নাসিরুল ইসলাম
শেখ হাসিনার সরকার দৈনিক আমার দেশ পত্রিকাটি বন্ধ করে দিয়েছে। আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশক হিসাবে নাম ছাপা হয় আলহাজ মোহাম্মদ হাসমত আলীর। তবে তথ্য হিসাবে কিংবা আইনগত উভয় দিক থেকে এ সম্পর্কে কোনো সন্দেহ ছিল না যে (১) পত্রিকার সব শেয়ার আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কিনে নিয়েছেন এবং তার নামে তা হস্তান্তর করা হয়েছে এবং (২) প্রকাশকের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি নিছকই আইনী প্রক্রিয়ার ব্যাপার। সে ব্যাপারে বিদ্যমান বিধি মোতাবেক যে পদক্ষেপ নেবার দরকার ছিল আমার দেশ তা নিয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এমনকি সেই প্রক্রিয়া শেষও হয়ে গিয়েছিল সরকারের দিক থেকে। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো নাম পরিবর্তনের প্রশ্নে মাহমুদুর রহমানের ব্যাপারে কোনো আপত্তি নাই সেটাও জানিয়ে দিয়েছিল। মৌখিক ভাবে সেটা আমার দেশ-কে বলাও হয়েছিল বলে শুনেছি। জেলা প্রশাসকের দিক থেকে কর্তব্য ছিল লিখিতভাবে সেটা আমার দেশ-কে জানিয়ে দেওয়া।
তাহলে শুরুতেই যে বিষয়টি স্পষ্ট থাকা দরকার যে, কোনো আইনগত ত্রুটির জন্য আমার দেশ বন্ধ করা হয় নি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে শেখ হাসিনা ও মহাজোট সরকারের ‘দুর্নীতি’, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আমার দেশ-এর ভূমিকা বিশেষত মাহমুদুর রহমানের লেখালিখির কারণে পত্রিকাটি বন্ধ করে দেবার সিদ্ধান্ত হয়েছিল অনেক আগেই। পহেলা জুন তারিখে পত্রিকাটি বন্ধ করা ও মাহমুদুর রহমানকে তাঁর অফিস থেকে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী দিয়ে মধ্যরাতে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ ও বাধার মুখে তুলে নিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বিরোধী কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দেবার রাজনীতি ভিন্ন একটি মাত্রা পেয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার যখন এই ধরনের আচরণ করে তাকে একনায়কতান্ত্রিক সরকারের চরিত্র থেকে আলাদা করে বোঝাবার জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা ‘ফ্যাসিবাদ’ বলে থাকেন। অর্থাৎ এই দমনপীড়নের পেছনে এক ধরনের উগ্র আবেগ ও প্রতিহিংসাজনিত রাজনৈতিক সমর্থন কাজ করে। একে একনায়কতান্ত্রিক সরকারের জুলুম থেকে ভিন্ন ভাবে বিচার করাই রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের রেওয়াজ।
“
আলহাজ মোহাম্মদ হাসমত আলীর দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, তিনি পত্রিকাটির প্রকাশক নন, অবৈধভাবে তার নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০০৮ সালে পত্রিকার সব শেয়ার মাহমুদুর রহমানের কাছে বিক্রির পরও পত্রিকাটির প্রকাশক হিসেবে তার নাম ছাপা হচ্ছে। এ সময় প্রকাশক হিসেবে তার বিরুদ্ধে ৩০টির বেশি মামলা হয়েছে। কিন্তু এই অপরাধ তো আমার দেশ বা মাহমুদুর রহমানের নয়, এর জন্য প্রশাসনই সম্পূর্ণ দায়ী। তাঁরা আমার দেশ পত্রিকার পরিচালকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নাম বদলের জন্য আবেদন মঞ্জুর করতে দেরি করলেন কেন? এমনকি তদন্তকারী সংস্থার ”অনাপত্তি” সত্ত্বেও?”
ডিজিটাল মহাজোট সরকার এর আগে ইউটিউব বন্ধ করে দিয়েছিল। সম্প্রতি ফেইসবুক ব্লক করে দিয়েছে। টেকনিক্যাল কারণ দেখিয়ে টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করে দিয়েছে। এখন এই সরকারের দুর্নীতি ও দমন-পীড়ন নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার আমার দেশ বন্ধ করা এবং মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রাজনৈতিক ভাবে আরেক কদম অস্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে গেলো। এর পরিণতি, বলাবাহুল্য, কোনো ভাবেই ভাল হতে পারে না।
পহেলা জুন বিকেলে আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, আমার দেশের প্রকাশক হাসমত আলীকে সকালে একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তুলে নিয়ে গিয়ে দুটি সাদা কাগজে তার স্বাক্ষর নিয়েছে। তিনি তখনি বলেছিলেন, সরকার আমার দেশ বন্ধের চক্রান্ত করছে।
চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা যে কোনো নাগরিকের অধিকার। প্রকাশক আলহাজ মোহাম্মদ হাসমত আলীর আবেদনে পত্রিকাটির ডিক্লারেশন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া নাগরিকদের এই সাংবিধানিক অধিকারের দিক থেকে সুস্পষ্ট লংঘন। মঙ্গলবার রাতে আলহাজ মোহাম্মদ হাসমত আলীর দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, তিনি পত্রিকাটির প্রকাশক নন, অবৈধভাবে তার নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০০৮ সালে পত্রিকার সব শেয়ার মাহমুদুর রহমানের কাছে বিক্রির পরও পত্রিকাটির প্রকাশক হিসেবে তার নাম ছাপা হচ্ছে। এ সময় প্রকাশক হিসেবে তার বিরুদ্ধে ৩০টির বেশি মামলা হয়েছে। কিন্তু এই অপরাধ তো আমার দেশ বা মাহমুদুর রহমানের নয়, এর জন্য প্রশাসনই সম্পূর্ণ দায়ী। তাঁরা আমার দেশ পত্রিকার পরিচালকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নাম বদলের জন্য আবেদন মঞ্জুর করতে দেরি করলেন কেন? এমনকি তদন্তকারী সংস্থার ”অনাপত্তি” সত্ত্বেও? প্রশাসন যদি এখন খারাপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিজেদের খাটায় তার খেসারত কি দিতে হবে না?
মামলায় মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে আর্থিক ক্ষতি সাধনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর দায়্দায়িত্ব প্রশাসনের উপরেই পড়বে। কারণ হাসমত আলীর নাম বদলানোর ব্যাপারে আমার দেশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে আগেই। ঢাকার জেলা প্রশাসক মাত্র এক তারিখ রাতে আমার দেশ পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল করেছেন। পত্রিকাটির ডিক্লারেশন বাতিলের আনুষ্ঠানিক কোনো কাগজপত্র আমার দেশ পত্রিকাকে দেওয়া হয়নি মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত। যদিও জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে ডিক্লারেশন বাতিলের কাগজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই দিকগুলো স্পষ্ট করা জরুরি। কারণ সরকার দাবি করছে, হাসমত আলীর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আইন ভঙ্গের জন্য আমার দেশ বন্ধ করা হয়েছে এবং মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই দাবি ভূয়া। ফ্যাসিবাদ আইন মানে না, কিন্তু আইনের যুক্তি দিয়ে নিজের ফ্যাসীবাদী কর্মকাণ্ডের বৈধতা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। খুবই আজব কারবার!
ফ্যসিবাদী শক্তির সমর্থকরা মাহমুদুর রহমানকে ঘৃণা করলেও পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়াতে খুব শরমিন্দা হয়েছে। গুজব রয়েছে ফ্যাসিবাদের সমর্থক কারো হাতে মালিকানা তুলে দেওয়া হবে। দরকার ছিল শুধু মাহমুদুর রহমানকে সরিয়ে দেওয়া। এখন পত্রিকার ডিক্লারেশান বাতিল করে দেওয়াতে বাড়া ভাতে খানিক ছাই পড়ে গেল।
উপ-পুলিশ কমিশনার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির গভীর রাতে সমকাল পত্রিকাকে জানিয়েছিলেন, মাহমুদুর রহমানকে ‘গ্রেফতারের প্রস্তুতি চলছে। গ্রেফতার না করে আমরা ফিরব না।’ এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, জোরজবরদস্তির প্রস্তুতি নিয়েই পুলিশ আমার দেশ পত্রিকাতে গিয়েছিল। অথচ এখন আমার দেশ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ঢালাও মামলা হয়েছে। আতিশয় ন্যক্কারজনক ঘটনা। মূল কথা হচ্ছে, মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের কোনো বৈধ ওয়ারেন্ট পুলিশ দেখাতে পারেনি। আমার দেশ পত্রিকায় পুলিশের প্রবেশ ও হামলাই বরং ছিল সংবিধান ও মানবিক অধিকারের লংঘন।
সকলেই বলছেন ফ্যাসিবাদের এই রূপ আমরা প্রথম দেখছি না। এর আগে বাকশালী আমলেও এটা আমরা দেখেছি। শেখ হাসিনা তাঁর নিজের জন্য এবং দেশের জন্য মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করছেন। যে দিকটা আমাদের সকলকেই বুঝতে হবে যে এই লড়াই নিছক চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন নয়, এই সংগ্রাম ফ্যাসিবাদের বিরূদ্ধে লড়াই। এর চরিত্র ও অভিমুখ ভিন্ন। আমার দেশ বন্ধ করে দিয়ে শেখ হাসিনা প্রমাণ করলেন তাঁর ও তাঁর পুত্র জয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে এবং পত্রিকাটির সেই অভিযোগ তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে খণ্ডন না করে আমার দেশ পত্রিকাটি বন্ধ করে দিলেন। নইলে তিনি এত হিংস্র ও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলেন কেন? গণ সমর্থনের ওপর যে সরকার দাঁড়িয়ে আছে তাঁর এই আচরণ তাই সন্দেহের। অথচ বিরোধী মত মোকাবিলার জন্য প্রায় সব গণমাধ্যমই ক্ষমতাসীন ফ্যাসিবাদের বেগার খাটতে রাজি! কী দুর্দশা এই জাতির। পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে যাবার আগে প্রধানমন্ত্রীর উচিত, অবিলম্বে (১) মাহমুদুর রহমানকে সসম্মানে মুক্তি দেওয়া, (২) আমার দেশ পত্রিকার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করা, (৩) প্রশাসন ও আদালতকে নিজ স্বার্থে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকা। আমাদের প্রত্যাশা প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ফ্যাসীবাদী জুলুম নির্যাতন পরিহার করে গণতান্ত্রিক তরিকার প্রতি সম্মান দেখাবেন।

লেখাটির জন্য লেখককে অসংখ্য ধণ্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। লেখাটি সম্পর্কে মন্তব্যে অনেকে লেখককে সাধুবাদ না জানিয়ে অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবাদ করেছেন মনে হয়। ওনারা হয়ত মাহমুদুর রহমান সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন না বা বিশেষ কোন দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন বলে মনে হয়, নতুবা ওনাদের মুখে এ ধরণের মন্তব্য শোভা পেত না। মন্তব্য লিখার সময় ছাগলের তৃতীয় নম্বর বাচ্ছার মতো করলে মানুষ তা গ্রহন করবে না। এক্ষেত্রে সরকার যদি সঠিক পথেই থাকতো তাহলে মাহমুদুর রহমানের উপর এতো মামলা করতে হতো না বা এতো নির্যাতন করতো না, সরকার তাঁর যুক্তি-তর্ক প্রদর্শনের মাধ্যমে মাহমুদুর রহমানকে কাবু করতে পারতেন। সেটি না করে সরকারের শক্তি ব্যবহার করে আমার দেশ বন্ধ করে দেয় যা ২য় বার মাননীয় আদালত কতৃক পত্রিকা প্রকাশের অনুমতি মিলার পরও প্রেশ খুলে দেয়া হচ্ছে না যা সরকারের জন্য একটি লজ্জাজনক কাজ আমি মনে করি। কারণ সরকার কি কারণে আমার দেশ বন্ধ করেছে তার সঠিক কারণ জনগনকে জানাতে ব্যর্থ হয়েছে। এবং বাংলাদেশের মানুষ মনে করে নিছক ভিন্নমত দমনের জন্যই মাহমুদুর রহমানকে ৩০টির বেশি মামলা দিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। ৭টি থেকে তিনি এখন মুক্ত। এটি কিসের ইঙ্গিত বহন করে পাঠক বলতে পারবেন কি?
গনতন্ত্র কে যারা নিজস্ব মন্ত্র গরিণত করতে চায় তারাই গণমাধ্যম আর মুখে কুলুপ এটে দিতে চায়। ধন্যবাদ ফরহাদ মজহার।
Ajosro sroddha janai Farhad majhar-ke.Ghor amanishar rat-o shes hay.Amar Desh’r- o akdin a sristy kara ghor andhokarer samapti habe.Sathik kotha sunte jar valo Lagena se jeno bibekke prosno kore sathik stteer protisthar janno ki kara darkar.
09/06/10
মাহমুদুর রহমান একটি সাহসী নাম। বাংলাদেশের মানুষ চিরদিন মনে রাখবে তাঁকে।
ফ. ম. বলছেন: “ডিজিটাল মহাজোট সরকার এর আগে ইউটিউব বন্ধ করে দিয়েছিল। সম্প্রতি ফেইসবুক ব্লক করে দিয়েছে। টেকনিক্যাল কারণ দেখিয়ে টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করে দিয়েছে। এখন এই সরকারের দুর্নীতি ও দমন-পীড়ন নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার আমার দেশ বন্ধ করা এবং মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রাজনৈতিক ভাবে আরেক কদম অস্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে গেলো। এর পরিণতি, বলাবাহুল্য, কোনো ভাবেই ভাল হতে পারে না। ”
এ ক ম ত।
তবে মাহমুদুর রহমান এখন জাতীয়তাবাদী নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হবেন, পাশার দান উল্টে গেলে ক্ষমতার রদবদলের পালায় তিনি মন্ত্রীও হতে পারেন! তখন হয়তো একই কায়দায় আবির্ভূত হবে পুরনো এনালগ ফ্যাসিস্ট, জনকণ্ঠের সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধের কায়দায় বন্ধ হবে আওয়ামী ঘরনার কোনো পত্রিকা বা টিভি চ্যানেল, এ আর নতুন কি!
মাঝখান থেকে তখন হয়তো ‘আমার দেশ’এর মতো পত্রিকা বন্ধ হওয়ায় বাড়বে সহকর্মী সাংবাদিকদের পেশাগত ঝুঁকি, বেকারত্ব, অপ-সাংবাদিকতা খানিকটা কমবে, হ্রাস পাবে নিউজপ্রিন্টের মারাত্নক অপচয়।. . .
ফ.ম.-র লেখায় এসব বিষয় থাকাও জরুরি ছিল। কিন্তু সঙ্গত কারণেই তার উপস্থিতি নেই।
১/১১-এর শেষের দিকে পাকিস্স্তানের আইএসআই আর জামায়াতের টাকায় যারা ন্যাশানাল ইন্টারেস্ট ফোরাম গঠন করে আকাশপথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে বেড়িয়ে মনগড়া বক্তব্য নিয়ে তাঁদের সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বাস্তবায়নের জন্য মানুষের সামনে হাজির হয়েছিলেন, নির্বাচনে তার জবাব এদেশের মানুষ দিয়েছিলেন ভোটে। হয়ত তারা ভেবেছিলেন, আবারো আমার দেশ আর নয়া দিগন্ত পত্রিকা দিয়ে আবারো মনগড়া লেখা ছাপিয়ে পাঠককে বিভ্রান্ত করতে পারবেন। এই জন্যই মাহমুদুর রহমানরা কোনো নিয়ম নীতি না মেনে পত্রিকাটির উপর ভর করেছিলেন তাদের নাগিনী নিঃশ্বাস নিয়ে। তাদের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আজ এতগুলো লোক বেকার, তাদের পরিবার আজ নিঃস্ব। এই পরিবারগুলোর রুটিরোজগারের ব্যবস্থা করবে কে?
আমার মনে হয় সব প্রায় সব সাংবাদিকেরই কোনো না কোনো রাজনৈতিক অবস্থান রয়েছে। এটাই সত্য। এটা না থাকলে তাকে মানুষ বলা যাবে না; হয়তোবা অতিমানুষ বা অন্যকিছু। প্রশ্ন হলো, উনি দেশ আর মানুষের কথা বলেন কিনা, উনি সৎ আর নির্ভীক কিনা, উনার কলম মিথ্যা লিখে কিনা। ফরহাদ মজহারকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই কারন উনার কলম ফেইসবুক, ইউটিউব, আমার দেশ, যমুনা টিভি, চ্যানেল ওয়ান- বন্ধে একটা শক্ত চপেটাঘাত। আর যে সমস্ত পাঠক শুধু বিরোধিতার খাতিরে বলছেন, যে আগের সরকার ইটিভি বন্ধ করেছিল তাদেরকি বলি- আরে ভাই তার খেসারত তো তাদের বিগত নির্বাচনে দিতে হয়েছে। আর এই যুক্তিটিও রাজনৈতিক অবস্থানের পরোক্ষ ইঙ্গিতবহ নয় কি ? রাজনৈতিক অবস্থানবিহীন মানুষ কিন্তু সমাজ সচেতন নাও হতে পারে কিন্তু একজন রাজনৈতিকভাবে সচেতন মানুষকে অবশ্যই সমাজ সচেতন হতে হয় যেমনটি ছিলেন মাওলানা ভাসানী। একজন সচেতন মানুষ হিসাবে সরকারের এই অবস্থান কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না । এটি আত্নঘাতী, কারণ সেই আপনিই/আমিই পরে অন্য সরকারের সময় একই কারণে হয়তোবা সরকারপন্থী হয়ে যাবো !? বিবেক কি বলে? এটা কি মানায় আমাদের চরিত্রে? একেবারেই- না। তাই আসুন মিথ্যাকে সবসময় ঘৃ্ণা করি, অপরের কথাকে শুনতে শিখি- হোকনা সেটা আমার বিরুদ্ধে। পরিশেষে বলি সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হোক, সংবাদপত্রের অবাধ প্রকাশের বাধা এবং সাংবাদিক নিপীড়ন বন্ধ হোক। জয় হোক গণতন্ত্রের।
ফরহাদ মজহার,
আপনার সাহসী ও প্রতি্বাদী লেখা দেখে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কথা মনে পড়ে। আপনার লেখা অত্যন্ত ভাল লেগেছে। তবে লেখা পড়ে মনে হয়েছে, আপনি যুদ্বরত সৈনিকদের অধিনায়ক, আর লেখাগুলোর প্রত্যেকটি অক্ষর তীরের মত। রাতারাতি স্যাটেলাইট টিভির মালিক হওয়া খুবই সহজ, কিন্তু তাদের প্রতি সরকারের সাবধান থাকা উচিত, তারা যা-ই বলুক, তা সঠিক নয়। তারা কেবল সরকারের সকল কর্মকাণ্ডের সাফাই গাইবে এটাই বাস্তবতা। ন্যায়ের পথে আরও এগিয়ে যান- ধন্যবাদ ফরহাদ মজহারকে।
This is an example of so called “Digital”. Awami government is trying to digitize the journalist by putting them on the street. It is bad sign for the democracy. Shame on Awami government. This is not the way to handle press, who may not be one of their own. Shame on journalists, who are still quiet and not going for Amar Desh. It may haunt you one day. So time for wake up.
I like the write-up. Government should not think that we people are blind. We have seen that Amardesh did not criticise all Ministries, only where the problems exists. Governement, specially energy advisor, prime minister, Her son Joy, State Minister of Law, Commerce minister, state minister of home affairs have seen some writ-up in the daily which were against them. Without proving their innocence they stop the claimant who provided us the information. we think PM should sack state minister of law, home affairs, commerce minister, who are performing poor and producing the worst face of current government.
Where is the Freedom of Press ? Other media personalities also showing poor performance in this regard and inviting trouble for themselves in future.
Amerdesh and Mahmudur Rahman is the world topic today.Millions of People of the world are watching the shocking activities of th GOB.
Many thanks to Farhad Mazhar for clarifying all every things.
Followers of Farhad Mazhar must unite to rescue the freedom of press and the democracy in BD.
স্যার, আপনার লেখা ভাল লাগে। আপনি সব সময় চেষ্টা করেন তথ্যবহুল লিখতে। তবে আপনি বিএনপিপন্থী। আওয়ামীর ভাল কোন কাজ আপনার চোখে পড়ে না। অবশ্য আওয়ামীপন্থীদেরও একই অবস্থা, তারাও বিএনপির কোন ভাল কাজ চোখে দেখতে পাই না। কিছু মন্তব্যকারী আমার দেশ ও মামুদুর রহমানের বিবরুদ্ধে অযথা বির্তক করার চেষ্টা করছেন । আপনাদের ভুললে চলবেনা মাহমুদুর রহমান একজন বিএনপিপন্থী ব্যক্তি। তিনি বিএনপির পক্ষেই লিখবেন এটাই স্বাভাবিক। এই নিয়ে কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশের প্রায় সব বুদ্ধিজীবী ও কলামিষ্টরা দুই ভাগে বিভক্ত। তাই আওয়ামীপন্থীদের মাহমুদুর রহমানকে নিয়ে অযথা কোন বির্তক করা সাজে না। আপনারা কথায় কথায় ইটিভির উদাহরণ দেন, এই উদাহরণ দেবার মানে আমার বুঝে আসে না। সত্য যে, বিএনপি মাত্র! একটা চ্যানেল বন্ধ করেছিল আর আপনার বন্ধ করলেন দুটি টিভি চ্যানেল ও একটি পত্রিকা। আওয়ামী ও বিএনটি বন্ধ বন্ধ খেলা খেলবে তাতে অবাক হওয়ার মত আমি কিছু দেখছি না। আজকে আপনারা আমারদেশ বন্ধ হওয়াতে খুশি প্রকাশ করছেন কিন্তু এই অবস্থা বেশিদিন চলবে না। বিএপি আবার ক্ষমতায় আসবে তখন তারাও আপনাদের উপর প্রতিশোধ নেবার চেণ্টা করবে। কারণ আমরা জনগন জানি, আওয়ামী ও বিএনপি দুটি সাপ কিন্তু তাদের বিষ একই।
বিঃদ্রঃ- আমি একজন মানবতাপন্থী। আওয়ামী ও বিএনপি বা জামাতী এদের সবাইকে আমি প্রাণ ভরে ঘৃনা করি।
পুন্শচ- মাহমুদুর রহমান ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য কারন তিনি জানতেন এই সরকার অনেক ক্ষমতাবান, তারপরও তিনি এই সরকারে বিরুদ্ধে অনবরত অনেক অজানা তথ্য জাতিকে অবগত করছিলেন।
amra abar baksaler sound sunte pacchi. Awami league mane Baksal eta abar promanito holo. Awami league nijeder somalochona tolerate korena. tara dese kono birodhi dol thakuk eta chay na.
অনেকে এই লেখারও খারাপ মন্তব্য করেছে। তাদের মানুষ না বলে আওয়ামীলীগ বলতে হয়।ফরহাদ মাজহার সাহেবের একটা যুক্তি কি তারা বিরোধীতা করে দেখাতে পেরেছে?
ফরহাদ মাজহারের লেখা সাহসী ও যুক্তিপূর্ণ।
ইটিভি বিএনপি বন্ধ করেনি। করেছিল আদালত।
ফরহাদ মজহারকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আওয়ামী সরকার ডিজিটালের নাম দিয়ে জাতির সাথে চরম প্রতারণা করেছে। এর মাশুল কত ভয়াবহ হবে তা একদিন বুঝতে পারবে।
আমাদের দেশে তথাকথিত সুশীল সমাজ ও সেকুলারদের কাছে “নিরপেক্ষতা” এক বিশেষ অর্থ বহন করে। নিরপেক্ষতা মানে বিনা বাক্যে তাদের সব কাজ, কথা, মতামতকে সমর্থন দিয়ে যাওয়া। তথাকথিত সুশীলরা যে অভিযোগ “আমার দেশ” ও “মাহমুদুর রহমান”-এর বিরুদ্ধে এনেছেন তা প্রথম আলো, জনকন্ঠসহ বাংলাদেশের অধিকাংশ পত্রিকার বিরুদ্ধে আরো বেশী পরিমাণে আনা যায়। জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির ও বিএনপির বিরুদ্ধে লিখার সময় কি পরিমাণ মিথ্যা ও বানোয়াট কথা ঐ সমস্ত পত্রিকাগুলো লিখে তা ভাবাই যায় না। এমনকি মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ জানালেও তা ছাপানোর মতো সাধারণ ভদ্রতাও পত্রিকাগুলো দেখায় না বিশেষ করে জামায়াত-শিবিরের ব্যাপারে। এখন আওয়ামী লীগ ও তাদের মতাদর্শী নিরপেক্ষ (!) সুশীলদের মাথা ব্যাথার কারণ হলো মাহমুদুর রহমানের মতো ব্যাক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ। কথিত সুশীলদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এতদিন ধরে পরিচালিত মিথ্যার বিরুদ্ধে শক্তিশালী এক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শুরু করেছেন। এ কারণে অনেক সুশীলের মুখোশ উন্মোচিত হবার যোগাড়। ১/১১ ভয়ংকর আমলে যখন বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার ভয়ে সকলে মুখ লুকিয়েছিলেন তখন “আমার দেশ”, “নয়া দিগন্ত” ইত্যাদী পত্রিকার মাধ্যমে ফরহাদ মজহার, মাহমুদুর রহমানরা লিখনির মাধ্যেমে প্রতিরোধ, প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিলেন। বিশেষ করে সবাই যখন ১/১১ সরকারকে বাহবা দিয়ে যাচ্ছিল। আমাদের মনে আছে, তখন জনাব ফরহাদ মজহারই প্রথম “নয়া দিগন্ত” পত্রিকায় এক কলামে ১/১১ সরকারের কর্মকান্ডকে দেশকে রাজনীতি শূণ্য করার ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। এরকম দুরদর্শীতার সাথে সাম্রাজ্যবাদীদের বিরোধীতা করা, এ দেশের সাম্রাজ্যবাদীদের কুশীলব কথিত সুশীলদের পছন্দ হওয়ার নয়।
মানুষ ঘুমিয়ে থাকলে তাকে জাগিয়ে তোলা যায়। কিন্তু কেউ যদি ঘুমের ভান করে থাকে তাকে জাগিয়ে তোলা কঠিন। তেমনি আঃলীগ বা বর্তমান সরকারকে জাগিয়ে তোলাও কঠিন। তারা যখন বিরোধী দলে থাকে তখন বলে এক কথা আর যখন সরকারী দল তখন বলে আরেক কথা। ১১৮ জনের লাশ দেখেও বিদু্ৎ মন্ত্রী বহাল তবিয়তেই আছেন। তার পদত্যাগ করে দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করা উচিত ছিল। তার কারনেই আজ এ অবস্থা। কেউ দায় নিতে এখনো শিখলো না। যেদিন শিখবো সেদিন থেকে হয়তো কিছু পাওয়া যাবে।
Dear Mazhar,
ETV bandho hole to apner kono lekha dekhini! Jonogon ki Akhono apner moto bekub asei bhaben? Ta bhable apner vul hobe.
মজহার সাহেব আওয়ামী লীগ কিছু করলেই কলম খুলে বসে যান লিখতে। ইটিভি বন্ধ হলে কৈ ছিলেন?
ফরহাদ মজহার তার রুটিন ওয়ার্ক করেছেন, এটাই ঠিক। এ মিছিলে আরো আছে। ফরহাদ মজহারদের বোঝা উচিত, খালেদা-হাসিনার চাইতে উনাদের ওজন অনেক বেশি। মূর্খদের দালালি করা তাদের মানায় না। আমার দেশ-এর পক্ষ নিয়ে কাতুকুতু ভাব বিরক্তিকর।
মাহমুদুর রহমান, তাঁর পরিবার, AMARDESH এবং CHANNEL ONE সহ সকলের প্রতি রইল আমার সমেবদনা।
এটা বাকশাল-এর আসল চেহারা। মাহমুদুর রহমানকে আটক করে তারা ভাসানীর মত আরো একটি কণ্ঠ স্তব্ধ করতে চাইছে। কোটি বাঙালী তোমার শুভ কামনায় মাহমুদুর রহমান, আমরা তোমার কলমের স্ফুলিঙ্গ দেখার প্রহর গুনবো সারা জনম, মৃত্যুর আগে পর্যন্ত।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেই বলি, আমার দেশ নামক পঁচা শামুকে পা কাটানোর দরকার ছিলো না। বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকাকালীন বসুন্ধরার পরিচালক, দুর্নীতিবাজ জ্বালানী উপদেষ্টা, ঊত্তরা নায়ক এইসব কিছুর সাথে জড়িত এই লোকটাকে সরকারের নির্বুদ্ধিতা শেষ পর্যন্ত সাংবাদিক বানালো।
Mr. Farhad Mazahar, thank you for your comments.
অনেকে অনেক কথা বলেছেন। সবার কথা শুনে মনে হচ্ছে, সবাই কারো না কারো পক্ষ নিয়ে কথা বলছেন। তাই কারোর কথাই আমার কাছে খুব গুরুত্ব পাবার বলে মনে হচ্ছে না। তবে একটি বিষয় না বললেই নয়, যে সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে বিপুল সংখ্যক জনসমর্থন নিয়ে সরকারে অধিষ্ঠিত হয়েছেন তারা জনগনকে ডিজিটাল পদ্ধতি থেকে এনালগেরও সূচনা যুগে নিয়ে যাচ্ছেন। যদি তাই না হয় তাহলে অবাধ তথ্যপ্রবাহের এই যুগে ইউটিউব, ফেসবুকের মত জনপ্রিয় সাইটগুলি বন্ধের সিদ্ধান্তই বা কেন নেবেন সরকার। প্রযুক্তির বাজারে বাংলাদেশ সবসময়ই পিছিয়ে। তার মধ্যে যেটুকু এতদিনে অগ্রসর হল সেটুকুই যখন বন্ধ তখন আর কী নিয়ে আমরা ডিজিটাল হব?
শেখ হাসিনার উচিত ছিল মাহমুদুর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। কারণ মাহমুদুর রহমান এবং ফরহাদ মজহারের মতো সাহসী কলম সৈনিকদের কারণেই এক/এগারোর অবৈধ সরকার বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছে এবং মাইনাস টু থিওরি ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু হাসিনা উল্টো তাকে গ্রেফতার এবং আমার দেশ বন্ধ করে তার সরকারের ফ্যাসিবাদী চরিত্রের প্রমাণ দিয়েছে। এটা মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের জন্য ভয়াবহ হুমকি। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব।
আপনার জন্য ভালবাসা রইল। অনেক সাহসী উচ্চারণ। আমরা নতুন প্রজন্ম হতাশ হয়ে পড়ছি। আমরা এই আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে এনেছিলাম? আমরা ‘৭৩-’৭৫ সালের আওয়ামী লীগকে দেখতে চাই না। আমরা দেখতে চাই ৭১-এর আওয়ামী লীগকে।
অত্যন্ত হতাশার কথা এই যে বাংলাদেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠী তাদের বিবেচনা শক্তিটি ক্রমাগত হারিয়ে ফেলছেন। যেকোন প্রতিবাদের যুক্তি ও প্রতিযুক্তি আইন, মানবাধিকার কিংবা গণতন্ত্রের বিচারে বিবেচিত না হয়ে হচ্ছে দলীয় সমর্থনের বিচারে। আমরা ভুলে যাচ্ছি যেকোনো নাগরিকের মত একজন সাংবাদিক বা লেখকেরও কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ অবলম্বন করে লেখার অধিকার রয়েছে। তাদের যে অধিকারটি নেই সেটি হল, মিথ্যা বিবৃতি দেয়া। ফরহাদ মজহার বিএনপি সমর্থিত বলে কিংবা বাবু আওয়ামী লীগের ঘর সমর্থক বলে যে তাদের যে কোনো বিবৃতিকে উড়িয়ে দিতে হবে, কিংবা অবিশ্বাস করতে হবে তার কী যুক্তি আছে আমি ভেবে পাই না।
আমাদের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা আছে তাদের যুক্তির সত্যতা নিজ বিবেচনার মাধ্যমে বিচার করার। কেবল মাত্র কোনো দলকে সমর্থন করার কারণে তাদের যে কারো সমর্থন কিংবা প্রতিবাদকে উড়িয়ে দেয়াটা অত্যন্ত বিপদজনক এই জন্যে যে তাতে সত্যের প্রতিষ্ঠা ঘটে না। আমার দেশ প্রকাশিত রিপোর্টগুলোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে, কিন্তু সেই সন্দেহ দূর করার উপায় ছিল প্রেস কাউন্সিলে আমার দেশ-এর বিরুদ্ধে মামলা করা। আজ পর্যন্ত কোনো একটি রিপোর্টকেও মিথ্যা প্রমাণের কোনো চেষ্টা না করে সরাসরি মানহানীর মামলা (যাদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করা হয়েছে) করা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় পত্রিকাটি বন্ধ করা হয়েছে সেটিও সরকারের বিরোধী মতের প্রতি অসহিষ্ণুতার জ্বাজ্জল্য প্রমাণ।
নিজ দলের অন্যায়কে সমর্থন করার অর্থ নিজ দলের জন্যই একটি অশনি সংকেত ডেকে আনা। আশা করি, আওয়ামী লীগের অন্ধ সমর্থকরা তাদের দলের ভবিষ্যতের স্বার্থেই সরকারকে নিন্দা জানিয়ে দলকে জনগণের কাছে আরো গ্রহণযোগ্য করে তুলবেন।
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপনার মত আরও অনেক কলমের দরকার অনস্বীকার্য। বর্তমানে যা শুরু হয়েছে তার শেষ পরিণাম খুব খারাপ মনে হচ্ছে।
ফরহাদ মজহার এগিয়ে চলো, বাংলার মানুষ তোমার সাথে।
যাই হোক, একটা কথা মনে রাখা দরকার, আগামি দিন যদি BNP আসে তখন যদি অন্য সব news paper বন্ধ করে তাহলে আবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
আইনি মারপ্যাঁচে যে প্রক্রিয়ায় আমার দেশ বন্ধ করা হয়েছে সেটা সমর্থন করি না। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ একজন মুক্ত চিন্তার মানুষ হিসেবে আশা করি না। তবে ফরহাদ মজহারের মতামতকেও শ্রদ্ধা করতে পারছি না। বিশেষত তার কলামের শিরোনামটিই একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নিম্নরুচির এবং দলীয় ভাবধারায় লালিত অন্ধ বিদ্বেষপ্রসূত শিরোনাম। ফরহাদ মজহারের রাজনৈতিক অতীত আমি জানি, গত কয়েক দশকে তার রাজনৈতিক চিন্তাধারা এবং কর্মকাণ্ডের কথাও আমি কিছুটা জানি। তিনি মেধাবী এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে তার চিন্তাধারা ও বক্তব্য যে শুদ্ধ, রুচিসম্পন্ন নয় একথা বোধহয় বলার অপেক্ষা রাখে না। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে যখন চট্টগ্রামের কর্মঠ নারী সাংবাদিক সুমি খান (বর্তমানে একুশে টেলিভিশনের চীফ রিপোর্টার) গ্রেপ্তার হলেন তখন কি প্রতিবাদ জানিয়ে কলম ধরেছিলেন ফরহাদ মজহার? যখন একুশে টিভি বন্ধ করে দেয়ার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে মিডিয়া বন্ধ করে দেয়ার সূচনা করল জোট সরকার তখন কোথায় ছিল তার লেখনী? যখন সলিম সামাদ, ভোরের কাগজের প্রকাশক সাবের হোসেন চৌধুরী, শাহরিয়ার কবির, মুনতাসীর মামুন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তখন তার কি প্রতিবাদের কোনো ভাষা ছিল না। জোট সরকার যখন দলীয় লোকদের হাতে একের পর এক মিডিয়ার লাইসেন্স তুলে দিচ্ছিল তখন নৈতিকতার বোধ থেকে হলেও অন্ততঃ একবারের জন্য প্রতিবাদ জানাননি কেন ফরহাদ মজহার? ভাবতে লজ্জা হয়, এই ফরহাদ মজহার ওয়ান ইলেভেনের পর একটি কার্টুন আঁকার অপরাধে প্রথম আলোর বিরুদ্ধে নয়াদিগন্ত পত্রিকায় দিনের পর দিন কলাম লিখে মৌলবাদীদের উস্কে দিয়েছিলেন। ভাবতে লজ্জা হয় তার হাতে একসময় সমাজতন্ত্র আর অসাম্প্রদায়িকতার ঝাণ্ডা ছিল।
এরপরও বলব, আমার দেশ বন্ধ করা সরকারের উচিৎ হয়নি। এ দৃষ্টান্ত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে খুবই খারাপ নজির হয়ে থাকল। আওয়ামী লীগও ১০টি টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স দিয়েছে। শোনা যাচ্ছে কয়েকটি পত্রিকাও বাজারে আসবে। এখন বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে যদি ছলছুতা খুঁজে সেগুলো বন্ধ করে দেয়। মূল কথা হচ্ছে রাজনৈতিক রেষারেষির কারণে কেন সংবাদকর্মীদের রুটিরুজির পথ বন্ধ হবে। কেন তারা বেকার হবে। বিএনপি-জামায়াত একুশে টিভি বন্ধ করেছিল, ফলাফল ভাল হয়নি। আওয়ামী লীগ চ্যানেল ওয়ান, আমার দেশ বন্ধ করেছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অতীত যে কার্যকলাপের ইতিহাস সেটা বিবেচনা করে তাদের ভবিষ্যতের জন্য তৈরি থাকার আহ্বান জানাই। সেই সাথে অনুরোধ করব, আইনের প্রতিবন্ধকতা দূর করে খুলে দিন চ্যানেল ওয়ান, আমার দেশ।
প্রথমত, একনায়কতন্ত্র ও স্বৈরাচারই (যেমন নাজিবাদ, যেমন সৌদি মোল্লাতন্ত্র, যেমন বাকশাল) শুধু তার নাপসন্দের সব কিছুর ‘অ’ যোগ করে দিয়েই ক্ষান্ত হয় না, বরং নাপসন্দের সব কিছুকে ‘নিষিদ্ধ’ করে। কাজেই, আমার দেশ-এর সাংবাদিকতা অবশ্যই বাকশালিদের ভাষায় ‘অসাংবাদিকতা’। এবং তারা এটা নিষিদ্ধ করাকে বৈধ ভাবতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশকে অবশ্যই গণতান্ত্রিক হতে হবে, এবং এখানে বাকশালি ফ্যাসিবাদের স্বপ্ন দেখা ছাড়তে হবে। কাজেই গণতন্ত্রের জায়গা থেকে এটা অবশ্যই আমাদের কাছে সাংবাদিকতা বটে।
দ্বিতীয়ত, আমাদের কাছে তথ্য-প্রমাণ আছে যে সরকার নিজে এই দৈনিকটাকে জোর করে ‘প্রকাশকশূন্য’ করেছে। (প্রকাশক হাসমত আলী নিজে ইস্তফা দিয়েছেন–এই কথা বলা হয়, কিন্তু লুকানো হয়–সেই ইস্তফা তিনি দিয়েছেন এর আগে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের করা আবেদনের সমথর্নে। অথচ সেই আবেদনটা বেআইনিভাবে ঝুলিয়ে রেখে শেষ মুহূর্তে মৌখিকভাবে বলা হলো–না মঞ্জুর।) এমনতর দায়িত্বে অবহেলার জন্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে।
তৃতীয়ত, কোনো ধরনের পরোয়ানা ছাড়া যেভাবে সশস্ত্র পুলিশ মধ্যরাতে পত্রিকাটার নিজস্ব এলাকায় অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ ও ভাঙচুর করেছে, এটা আইনত অপরাধ। অসাংবিধানিক।
এই আইনি ও সাংবিধানিক বিষয়গুলো আরো নিবিড় ও জোরালোভাবে আপনার লেখায় আসা উচিত ছিলো।
আরো জরুরি কথা হলো, এনএসআই’র মতো জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষণের গুরুত্বপূর্ণ এজেন্সিকে যেভাবে দলীয় স্বার্থে প্রতিহিংসার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, গত সামরিক-সুশীল-করপোরেট আমলের মতো। প্রকাশককে দিয়ে জোর করে মামলা করানো হয়েছে। এটা বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার অরক্ষিত অবস্থাকে এভাবেই ফেলে রাখতে সরকারের ইচ্ছার কথা জানান দেয়। ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থে ব্যবহৃত হওয়া এমন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কাজ হতে পারে না।
এ বিষয়গুলো আরো বিস্তারিত আসার দরকার ছিল।
ডিজিটাল বাকশালের নমুনা আরকি!
We know about Mahmudur Rahaman. Farahad Mozhar is also known to us. But we are sorry for Amer Desh shout down.
f
Formad Mozhar is a supporter of BNP and of course he will say everything in favor of BNP. He will never say anything about Tarek Rahman and other politicians in BNP….Mahmodor Rahman is a supporter of BNP… He can’t tolerate AL. .Because he would like to become a energy minister if BNP comes in power….this is true…..
ফরহাদ মজহারকে ধন্যবাদ। এরকম সাহসী লেখকের বড় অভাব দেশে।
একজন সংবাদ কর্মী হিসেবে যে কোনো গনমাধ্যম বন্ধ হওয়ার জন্য বেদনা প্রকাশ ও প্রতিবাদ জানানোর রাজনৈতিক স্টাইলটা অনিচ্ছা সত্তেও গ্রহন করছি। আমি আমার কর্ম হারানো বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আমরা অবশ্যই এ ধরনের রাষ্ট্রীয় ধৃষ্টতার প্রতিবাদ জানাবো এবং জানাচ্ছি। তবে ফরহাদ মাজহার বা মাহমুদুর রহমানদের এটা ভাবার কারণ নেই য়ে, আমরা তাদের ধৃষ্টতার পক্ষ নিয়েছি। ফরহাদ মাজহারদের মতো বুদ্ধিজীবিরা পঞ্চবাষির্কী প্রক্রিয়ায় সরব হয়ে ওঠেন। বর্তমানে তাঁকে যেমন সরব দেখা যাচ্ছে ৮ বছর আগে তা দেখা না যাওয়াটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের দেশের সকল কথিত বুদ্ধিজিবীর অবস্থাই তাই।
মাহামুদুর রহমান মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে স্বাধীনতা শব্দটার যে নিরীক্ষা চালিয়েছেন, তা সংবাদপত্রের স্বাভাবিকতা কিনা তা ভাবার প্রয়োজন রাখে। সংবাদকর্মী হিসেবে আমি ওই ফ্রী স্টাইলকে গ্রহন করতে পারি না। তবে সে জন্য আমি আমার দেশ বন্ধ হতে দিতে পারি না।
একুশে টিভি বন্ধের মাধ্যমে এদেশে বেসরকারী টেলিভিশন শিল্পের বিকাশ হুমকির মধ্যে পড়েছিল। আজও তা দআড়াতে না পেরে উদ্ভট প্রতিযোগিতায় নেমেছে। চ্যানেল ওয়ান বন্ধের মাধ্যমে আমার সহকর্মীরা বেকার হয়েছে। একজন তারেক, মামুন, মাহামুদুর রহমানের জন্য আমরা কেনো ভোগান্তির শিকার হবো? আমি এর প্রতিবাদ জানাবো। জানাচ্ছি।
তীব্র ধিক্কার জানাই আমার দেশ পত্রিকা বন্ধে।
ধন্যবাদ ফরহাদ ভাই। আপনার কলমের ধার আরো দেখান।
জানি না মাহমুদুর রহমান সাহেবের অবস্থা কি হবে? আপনিও মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন।
মিস্টার ফরহাদ মজহার,
বর্তমান সরকারের অনিয়মের আর রাজনৈতিক অসততার বিষয়ে এমন প্রতিবেদন–নিশ্চয় বাকশালি জায়গা থেকে ‘সাংবাদিকতা’ নয়। যেসব সংবাদের কারণে পত্রিকাটা বাকশালিদের কাছে অসহ্য হয়ে উঠেছিলো। যেখানে অন্য পত্রিকাগুলা সরকারকে ‘রাজনৈতিক ভাবে সুবিধায় রাখা’র নির্দেশ দিয়ে রেখেছে নিউজ রুমে এবং তারপর খুচরা সব বিষয়ে ‘জনমুখী’ সাজছে। সেখানে বিস্তারিত সব অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে আমার দেশ পত্রিটকাটি ‘সাংবাদকিতা’ করতো–এটা বাকশালিরা স্বীকার করবে কেন ?
এই কঠিন সময় সৎসাহস দেখানোর জন্য ধন্যবাদ জানাই। ১/১১-এর ভূত এখনও এদেশের রাজনীতিতে চলমান।
বিএনপি খুবই অপরাধমূলক কাজ করে জনগণের লাথি খেয়ে খতম হয়ে গেছে। কিন্তু একটি অপরাধ বা অন্যায় কাজকে উদাহরণ হিসাবে ব্যবহার করে, পরবর্তী খারাপ কাজকে জাস্টিফাই করা যায় না।
আপনার লিখাটি ভালো লাগলো।
মাহমুদুর রহমান যা লিখতেন আর যা ছাপতেন তাকে আর যা-ই হোক সাংবাদিকতা বলে না। সুতরাং এখানে “মতপ্রকাশের স্বাধীনতা” লঙ্ঘিত কথাটা অতিকথন।
ফরহাদ মজহারকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আওয়ামী সরকার ডিজিটালের নাম দিয়ে জাতীর সাথে চরম প্রতারণা করেছে। এর মাসুল কত ভয়াবহ হবে তা একদিন বুঝতে পারবে।
সৎ সাহস দেখানোর জন্য ধন্যবাদ।
“গণমাধ্যম স্বাধীনতা ভোগ করছে” — প্রধানমন্ত্রী
কথাটি খুব মজার!
ফরহাদ মজহারের লেখাটি পড়ে অত্যন্ত ভাল লেগেছে। সরকারের দালালি করে রাতারাতি স্যাটেলাইট টিভির মালিক বনে যাওয়া কুলাংগাররা যা-ই বলুক, তা ধর্তব্য নয়। তারা কেবল সরকারের সকল কর্মকাণ্ডের পক্ষে ছাতা ধরবে এটাই বাস্তবতা। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকা লোকদের যে কোনো পদ্ধতিতে ঘায়েল করাই বাতিল শক্তির মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। তাদের সাথে মোকাবিলা করেই সকলকে পথ চলতে হবে। এগিয়ে যান ফরহাদ মজহার।
লেখাটির মাধ্যমে ফরহাদ মজহার একটি রাজনৈতিক সরকারের চরিত্র হননের চেষ্টা করেছেন। উগ্র আবেগ ও প্রতিহিংসাজনিত রাজনৈতিক সমর্থন থেকে মাহমুদুর রহমানের মত অনেকেই দেশে অস্থিরতা তৈরি করতে আগ্রহী। এ অন্যায় ও জালিয়াতির অবসান হওয়া প্রয়োজন ছিল, হয়েওছে তাই। আপাতত ভুলে যাওয়া যাক, আমার দেশ পত্রিকাটির রাজনৈতিক চরিত্র কিংবা উত্তরা ষড়যন্ত্রের নায়ক মাহমুদুর রহমানের আসল পরিচয়। তিনি কাদের অর্থে ও সমর্থনে ‘একএগারো’ আমলে আমার দেশ পত্রিকাটি দখল করে পাকিস্তানী রাজত্ব কায়েম করেছিলেন? ২০০৮ সালে পত্রিকার সব শেয়ার মাহমুদুর রহমানের কাছে বিক্রির পরও পত্রিকাটির প্রকাশক হিসেবে কীভাবে আলহাজ মোহাম্মদ হাসমত আলীর নাম ছাপা হচ্ছে? মাহমুদুর রহমান পত্রিকাটির প্রকাশক হাসমত আলীর নাম ব্যব্হার করে জালিয়াতি করেছেন! আমরা চাই না সরকার ফেইসবুক ব্লক করে দিক কিম্বা কোনো পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ করে দিক। কিন্তু মাহমুদুর রহমানের মত যারা একের পর এক বানোয়াট ও মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করে তাদেরকেও সরকার ছাড় দেবে সেটাও ঠিক না। কিন্তু মালিকানার বিরোধের সুবাদে কেবল পত্রিকা বন্ধ করলেই সরকারের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না, অনতিবিলম্বে প্রকৃত মালিক নির্ধারণ করে গণমাধ্যমটিকে প্রকাশনায় ফিরিয়ে আনার মধ্যেই একটি সরকারের প্রকৃত কৃতিত্ব নির্ভর করবে।
I agree with Mr. Mazhar…. and request those who opposed his writing and asked him several questions, pls read today’s (05/06/2010) Daily Kaler Kantho.
Channel One, Jamuna TV, Point of Order, Facebook and finally Amar Desh. VERY VERY BAD SIGNAL.
Thank you for this writing.
ভাল্লাগছে আপনার লেখাটা, বাট কষ্ট লাগছে বেকার সাংবাদিকদের জন্য।
কথায় কথায় বিএনপি-জামাতের প্রসঙ্গ টেনে আনা কিছু কিছু আওয়ামীপন্থী আঁতেলের মুদ্রাদোষে পরিণত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সরকারের উচিত ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা এবং আওয়ামী বুদ্ধিজীবীদের উচিত সরকারের সকল কাজে সাফাই না গেয়ে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা ও নির্দেশনা দেওয়া।
যথার্থ ও সাহসী উচ্চারণের জন্য ধন্যবাদ।
ফরহাদ মজহার লেখেন ভালো, তবে বড্ড একপেশে। আওয়ামী লীগ সরকার ‘মিডিয়া’ বন্ধ করে দিচ্ছে, ভালো কথা। গণতান্ত্রিক দেশে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা অন্যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোন মিডিয়া? এর উত্তরে ফরহাদ মজহার যদি লিখতেন যে, “জোট সরকারের আমলে অবৈধ ভাবে রাজনৈতিক কারণে, তাদের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিকে বৈধতা দিতে” যে সব “মিডিয়া হাউস” তৈরি করা হয়েছিল তাদের দিকে আওয়ামী লীগ তেড়ে গিয়েছে। কারণ, এখনও তারা অবৈধ ভাবেই “মিডিয়া জগত” দাপিয়ে ফিরছে। একুশে টিভি যখন বন্ধ করে দেয়া হয়, মওদুদ সাহেব যখন দা’হাতে নিয়ে একুশে টিভির টেরিস্টোরিয়াল সম্প্রচার ঘচাং করে কেটে দিয়েছিলেন, তখন ফরহাদ মজহারের কলম কোথায় লুকিয়ে রেখেছিলেন? নাকি তিনি তখন জোটের দুর্নীতির কালিতে তার কলম চুবিয়েছিলেন বলে তাতে লেখা বের হয়নি?
আমার দেশ-বন্ধের প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা কথা বলতে পারি, কিন্তু আমার দেশ তথা মাহমুদুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে কারো দ্বিমত আছে কি? উত্তরা ষড়যন্ত্র, জোট সরকারের সমস্ত অবৈধ ও কুকর্মকে বৈধতা দেয়া; তারপর বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসার পর থেকে “যা কিছু এই সরকারের তাই-ই অপরাধ” এই মানসিকতা নিয়ে একটি পত্রিকা চালানো, এমনকি বঙ্গবন্ধুর খুনীদের সূর্য সন্তান আখ্যা দেয়া, যুদ্ধাপরাধীর বিচারকে জাতিকে দ্বিধা-বিভক্ত করা ইত্যাদি নোংরামি চালিয়ে যাচ্ছিলেন সে বিষয়ে মজহার নীরব কেন? নাকি “এখানেই কবি নীরব” থাকাটাই বাঞ্ছনীয় মনে করেন?
ইউটিউব, ফেইসবুক বন্ধ করাটা সরকারের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত, কিন্তু দেশের প্রচলিত আইন ভঙ্গ করে মিডিয়া হাউস চালালে তা বন্ধ করে দেয়াটাকে কোনও ভাবেই নিন্দা করা চলে না। এক্ষেত্রে ফরহাদ মজহারের সঙ্গে একমত পোষণ করা দুরূহই শুধু নয়, অসম্ভব। তবু তিনি তো মত প্রকাশ করতে পারছেন, কই তার মত-প্রকাশের স্বাধীনতা তো কেড়ে নেয়া হচ্ছে না। এমনকি নয়া দিগন্ত, দিনকাল, দিগন্ত টিভি, এনটিভি‘র মতো বিগত জোট আমলের মিডিয়া হাউসগুলি তো দিব্যি আছে এবং কারণে-অকারণে সরকারকে গাল দিয়ে যাচ্ছে। কই তারা তো বন্ধ হয়নি–ফরহাদ মজহার এই কথাগুলিও বললে পারতেন?
ফরহাদ মজহার একজন হাওয়া ভবন সমর্থিত বুদ্ধিজীবী। তার কথার কানাকড়ি গ্রহণযোগ্যতা নেই।
amra freedom of speech haray fellam…international court a awami government er againts e case kora dorkar..amader freedom ke bakshal diya kill korte chay
এরা দলীয় বুদ্ধিজীবী। যখন আওয়ামী বুদ্ধিজীবীদের কথা শুনি তখন মনে হয় দেশে কোনোই সমস্যা নাই। আর যখন বিনপি বুদ্ধিজীবীরা বলেন তখন মনে হয় আওয়ামী লীগ দেশের বারোটা বাজাচ্ছে। আসলে আপামর জনগণ আছে শাখের করাতের ভিতর যার একদিকে আওয়ামী লীগ আর অন্যদিকে বিনপি। এরা কেউ দেশ নিয়ে ভাবে না। আর দলীয় বুদ্ধিজীবীরা হলো হাত কচলানো মোসাহেব। না হলে ড. এমাজউদ্দিন আর ড. মনিরুজ্জামান মিয়ারা কেন তারেক রহমানকে ড. মাহাথির মোহাম্মদের সাথে তুলনা করবেন?
২০১০ সালে এসেও আওয়ামী লীগ পত্রিকা বন্ধ করার সাহস দেখিয়েছে। অথচ এর বিরুদ্ধে অন্য কোনো পত্রিকা জোরালো প্রতিবাদ করছে না। পত্রিকাগুলোর এমন নির্লজ্জ ভূমিকার নিন্দা জানাচ্ছি। সব সম্পাদক এবং বুদ্ধিজীবীদের বিবেক মরে গেছে। তা না হলে তারা এর বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ করতেন। সম্পাদক এবং বুদ্ধিজীবীদের এ ধরনের আপসকামিতা একদিন আওয়ামী লীগকে আরো বেশি স্বেচ্ছাচারী করে তুলবে। সম্পাদকদের আহবান জানাচ্ছি বিবেকের তাড়না নিয়ে এর বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ করুন। তা না হলে একদিন আপনাদের পত্রিকাকেও আমার দেশ-এর পরিণতি বহন করতে হবে।
আমার দেশ বন্ধ করায় একজন সংবাদকর্মী হিসেবে প্রথমত এর প্রতিবাদ জানাই। কারণ এই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে জড়িত আমাদের অনেক সহকর্মীর জীবিকা; তাতে ওই সহকর্মীদের সঙ্গে আমার বা আমাদের রাজনৈতিক ভেদ যতোই থাকুক।
দ্বিতীয় প্রশ্ন, যে আইনগত সমস্যার দোহাই দিয়ে পত্রিকাটি বন্ধ করা হলো, তা যে কোনো সচেতন নাগরিকই বুঝবেন যে এটি স্রেফ সরকারি ভাওতাবাজি। সরকারের আসল উদ্দেশ্যই ছিল মাহমুদুর রহমানকে ‘সাইজ’ করা এবং তাকে গ্রেপ্তারের সময় যেসব ঘটনা ঘটেছে এবং ওই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে ‘অ্যাটিচুড’ দেখিয়েছে তাতে এটা প্রমাণিত।
কেন মাহমুদুর রহমানকে ‘সাইজ’ করার প্রয়োজন হলো তাও প্রায় সকলে জানেন। এর প্রথম কারণ, পত্রিকাটির সরকারবিরোধী কট্টর অবস্থান। দ্বিতীয়ত প্রধানমন্ত্রীর ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রথম অভিযোগটি তারাই ফলাও করে প্রচার করে। তৃতীয়ত সম্প্রতি ‘আইন প্রতিমন্ত্রীকে রাজাকার পরিবারের সদস্য’ বলে উল্লেখ করে সংবাদ প্রচার।
তবে সরকার যে এই পত্রিকা এবং এর সম্পাদককে ‘ধোলাই’ দেবে, তা আন্দাজ করা যাচ্ছিলো সংসদের গত অধিবেশনেই। কেননা তখন সংসদে বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্য দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমার দেশ-এর ঊদ্ধৃতি দেন। কিন্তু এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী খুব পরিষ্কার করেই বলেন যে, এটি জনগণের পত্রিকা নয়, বরং এটি ওনাদের (বিএনপির) পত্রিকা। ফলে এই পত্রিকায় কী প্রকাশ হয়েছে তাতে কিছু আসে যায় না।
তবে এও সত্য যে, সরকারবিরোধী অবস্থান নিতে গিয়ে এই পত্রিকাটি যেভাবে বিরোধিতার জন্য বিরোধিতার চর্চা শুরু করেছিল তাও কোনো সৎ সাংবাদিকতার মধ্যে পড়ে না। অনেক সংবাদকেই তারা ‘টুইস্ট’ করে সংবাদকে বিকৃত করেছে। সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গিয়ে সম্পাদক মাহমুদুর রহমান যেসব কলাম ও মন্তব্য প্রতিবেদন লিখেছেন, সেখানেও যে তিনি সব সময় সত্য বলেছেন, এমনটা ভাবার অবকাশ নেই।
এতকিছুর পরেও পত্রিকা বন্ধ করে দেয়ায় সরকারের ফ্যাসিবাদী চরিত্রই প্রকাশ পেয়েছে। কেননা সরকারের বিরুদ্ধে যদি পত্রিকাটি অনেক সত্য সংবাদের পাশাপাশি কিছু অসত্য বা অর্ধসত্য সংবাদ ছেপেও থাকে, তাহলে সেটিরও সরকার আইনগতভাবে জবাব দিতে পারত। মাথাব্যথার কারণে যখন মাথা কেটে ফেলা হয়, তখন বুঝতে হবে সমস্যাটি মাথার নয়, বরং সমস্যাটি রাজনীতির।
অবশ্য আরও একটি রাজনৈতিক সমস্যার জন্ম দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। তা হলো, আমার দেশ বন্ধ হবার পরে বিএনপি নেতারা যেভাবে কথা বলছেন এবং এর প্রতিবাদ করছেন, তাতে তারা এ পত্রিকাটিকে দিনকাল-এর মতো দলের মুখপত্রে পরিণত করে ছাড়ছেন। এটি আদতে আমার দেশ-এর জন্য ভালো হয়নি। অনেক সমালোচনা থাকলেও আমার দেশ অন্তত দিনকাল-এর মতো দলের মুখপত্র হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষ এটি খুব সহজেই আন্দাজ করতে পারছেন যে, আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে পত্রিকাটি আবার চালু হবে। কিন্তু তখন যদি মাহমুদুর রহমান সম্পাদক থাকেন তাহলে তখন আর তিনি সরকারবিরোধী অবস্থান নিতে পারবেন না। তখন পাঠকরা এটিকে ‘সরকারের দালাল’ বলেই আখ্যা দেবে।
এতকিছুর পরেও সরকার যমুনা টেলিভিশন, চ্যানেল ওয়ান, ফেইসবুক এবং তারই ধারাবাহিকতায় আমার দেশ বন্ধ করে পুরো গণমাধ্যমকর্মীদের মনে যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে, সেটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথকে কতোটা প্রভাবিত করে, তাই দেখার বিষয়।
আমীন আল রশীদ, ধান ভানতে শীবের গীত গাইতেছেন কেন? মাহমুদুর রহমান বা আমার দেশ কত খারাপ এই সব সুশীলতা না কপচাইলে কি সংবাদপত্র বা মতামত প্রকাশ ও প্রচারের গণতান্ত্রিক নীতির পক্ষে কথা বলা যায় না?
বাংলাদেশে কোন সংবাদপত্র সাংবাদিকতার কোন এথিক্স মানে? নিজ নিজ এজেন্ডার আলোকে খবর তৈয়ার বা পরিবেশ করে না, ধান্দাবাজী করে না বলতে পারবেন? আপনি যেসব টুইস্টিং-এর কথা কইতেছেন সেসবের যারা ওস্তাদ সেগুলাই নিজেগোরে ‘অরাজনৈতিক’ ‘নিরপেক্ষ’ বইলা প্রচার চালায়। কিন্তু পরাশক্তির হইয়া রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রচার-যুদ্ধ করতে ন্যাঙটা হইয়াই এরা নামে। সেটা আমরা দেখছি। আপনিও দেখছেন।
আমার দেশ কখনো দাবি করে নাই তারা তথাকথিত অরাজনৈতিক বা নিরপক্ষ, বরং তারা প্রচারে ও ব্যান্ডিংয়ে পরিষ্কার বলে যে তাদের একটা রাজনীতিক অবস্থান আছে, দশর্ন আছে। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয়তা ও জাতীয় স্বাথের্র পক্ষে সোচ্চার থাকাটাই তাদের পত্রিকার পরিষ্কার ঘোষিত অবস্থান। সেখানে কোনো সুশীলতার ধান্দাবাজীর আড়াল তারা নেন নাই। সেটা আপনার পছন্দ না হতে পারে। কিন্তু এটারে সাংবাদিকতার সমস্যা বইলা আখ্যা দিতে চান কেন?
রাজনৈতিক অবস্থান ও পষ্ট দর্শনের পত্রিকা আগেও ছিল এখনও আছে সারা দুনিয়ায়। নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে ইন্ডিয়া টুডে–কেউ এর বাইরে না। আর বাংলাদেশের জন্মের লগে ইত্তেফাক-এর ঐ সময়ের ভূমিকা চোখ বুলায়া দেইখেন। তাইলে আর বহুজাতিক কম্পানির লিফলেট প্যাকেজ ‘সংবাদপত্রের’ বুলি কপচানোর দরকার হবে না।
One thing, the new generation who led a computer and internet, facebbok, twitter life, how will they view AL govt action to close TV Channel, newspaper and facebook etc? certainly they will not be happy with the govt as such they not support govt candidates in coming CCC polls and other elections. they will perceive present AL govt as threat to democracy and freedom of speech, because young generation want freedom, not restriction and they are much more educated than their predecessors. they have the entire world in their hand now. so the AL govt would do now. Look at the comments, people do not like mahmudur Rahman but they are condemning govt action. i think govt would do well to lift the ban immediately to repair the damage already it did, else people will compare these actions with those actions taken by the BAKSAL govt. so plz be wise. act now or never, or before its too late.
ভলতেয়ারের সেই বিখ্যাত উক্তি স্মরণ করছি, “আমি তোমার মত সমর্থন না করতে পারি, কিন্তু তোমার মতামত নির্বিঘ্নে প্রকাশের জন্য আমি আমার জীবন দিতে পারি।” গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের এই অমোঘ বিশ্বাস আজও প্রতিষ্ঠিত এবং সচল। মাহমুদুর রহমানের হেনস্থা আমাদের সবাইকে ক্ষুব্ধ করেছে। কথায় কথায় ২০৩, ৫০৭ জন বুদ্ধিজীবীদের যে বিবৃতি আমরা দেখি, তাদের কারোরই টিকিটিও দেখা যাচ্ছে না। আমার কাছে যা সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং লাগছে, তা হচ্ছে, বিএনপি নামক একটি প্রধানতঃ অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের সংঘটির প্রতিবাদের ভাষাও কেন যেন মনে হচ্ছে লোক-দেখানো, কারণ মাহমুদুর রহমান, প্রায়ই বিএনপির নেতাদের আক্রমণ করে লিখেছেন। তো এখন কী হতে যাচ্ছে? যে বিদ্যুৎগতিতে রাষ্ট্রযন্ত্র হাসমতের “অভিযোগের” ভিত্তিতে পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল করে পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছে, সেই গতিতেই পত্রিকাতে একজন প্রশাসক সম্ভবতঃ নিয়োগ করতে যাচ্ছে? তবে এই গতির পেছনে মাত্র কদিন আগে আমার দেশ-এ দক্ষিণ কোরিয়া থেকে অতি সহজ শর্তে পাওয়া ঋণের (কোরিয়ার পত্র-পত্রিকায় তা বড় করে উল্লেখিত হলেও, বাংলাদেশের কর্তারা তা আদৌ উল্লেখ করছেন না) সাথে ভারত থেকে পাওয়া অতি কঠোর ঋণটির তুলনা করে সংবাদ প্রকাশ করেছিলো। ফরহাদ মজহারের থিয়োরি অনুযায়ী, ভারতকে সর্বোচ্চ সুবিধা দেয়া এবং সকল নিন্দা থেকে রক্ষা করার এই প্রবণতা জাতীয় নিরাপত্তার সাথে একই সুতায় গাথা!
আলী ভাই,আপনার বুঝদারীতে একটু ভুল আছে, আপনি বলছেন “ভলতেয়ারের সেই বিখ্যাত উক্তি স্মরণ করছি, ‘আমি তোমার মত সমর্থন না করতে পারি, কিন্তু তোমার মতামত নির্বিঘ্নে প্রকাশের জন্য আমি আমার জীবন দিতে পারি।’”
উইকি-আনসার বলছে—-
Though these words are regularly attributed to Voltaire, they were first used by Evelyn Beatrice Hall, writing under the pseudonym of Stephen G Tallentyre in “The Friends of Voltaire” (1906), as a summation of Voltaire’s beliefs on freedom of thought and expression.
Another possible source for the quote was proposed by Norbert Guterman, editor of “A Book of French Quotations,” who noted a letter to M. le Riche (February 6, 1770) in which Voltaire is quoted as saying: “Monsieur l’abbé, I detest what you write, but I would give my life to make it possible for you to continue to write” (”Monsieur l’abbé, je déteste ce que vous écrivez, mais je donnerai ma vie pour que vous puissiez continuer à écrire”). This remark, however, does not appear in the letter.
আপনি আপনার বুঝদারী চালিয়ে যান…..
বিএনপি একুশে টিভি বন্ধ করে মুখ বন্ধ করার যে পথ শিখিয়ে গেছে সেই পথে বর্তমান সরকার কাজ করছে, তখন এই চিন্তাশীল কলাম কোথায় ছিল?
মি. উজ্জ্বল, আপনি হয়তো জানেন না ইটিভি বিএনপি বন্ধ করেনি। করেছিল আদালত। সংকীর্ণ দলীয় মানসিকতা পরিবর্তন করে সত্য প্রকাশ এবং প্রতিষ্ঠা করতে শিখুন।
ETV adlat bondho kore nai. sathik tothho jene kotha bolun.
Thanks Farhad Mazhar. its also our voice.
আপনার লেখাটি খুব ভাল হয়েছে। এই দুর্ভাগা জাতি আপানার মত সাহসী মানুষদের দিকেই এই দু:সময়ে তাকিয়ে থাকবে দিকনির্দেশনার জন্য।
নিয়মিত এধরনের সাহসী লেখা আরো দেখেতে চাই।
খুব যুক্তিযুক্ত, সুন্দর আর সাহসী উচ্চারণ । লাল সালাম জনাব ফরহাদ মজহার । ক্ষমতার মদমত্ততায় ধরাকে সরা জ্ঞান করছে বর্তমান তথাকথিত নির্বাচিত ক্ষমতাসীনরা । নিজেদের আখের গোছানোতে ব্যস্ত বর্তমান সরকারী দল , দেশ চালাচ্ছে কারা ?
যে মামলা সরকারের বিরুদ্ধে করার কথা সে মামলা করা হলো মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে । বর্তমানে তথাকথিত ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রাশাসনিক কাজের গতি কচ্ছপের গতিকেও হার মানাচ্ছে । যথাসময়ে মালিকানা বদলের প্রযোজনীয় আদেশ লাভের জন্য সকল কিছু করেও ডিজিটাল (ডিজি…..টাল ) এর কাছ থেকে সে প্রত্যয়ন পান নি । এখন তথ্যমন্ত্রী বলছেন ,’এটা প্রসাশনের দায়িত্ব …..’
‘সততায় পারবেন না প্রধানমন্ত্রী ‘,–সময়ের সাহসী সন্তান , নির্ভীক মাহমুদুর রহমানের সাহসী উচ্চারণ অক্ষরে অক্ষরে সত্যি প্রমানিত হলো ।
সততার নিদর্শন হলো এমন কিছু যা মাহমুদুর রহমানের হাসি থেকে বিচ্ছুরিত হচ্ছিল যখন তাকে সরকারের পেটোয়া পুলিশ বাহিনী আটক করে নিয়ে যাচ্ছিল । আমার এই ছোট জীবনে বর্তমানের প্রধানমন্ত্রী হাসিনা আর খালেদাকেও গ্রেফতার হতে দেখেছি কিন্তু তাদের কারো মুখে এমন সৎ আর নির্ভরতার পুণ্যময় হাস দেখিনি । কোনো কারাগার তার সততার প্রশান্তিকে কয়েদ করতে পারবে না ।
কোনো দলীয় মুখপাত্র দিয়ে কখনো পত্রিকা হয় না। ফরহাদ মজহার নিজে মার্কিন সম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে.. আওয়ামীলীগের বিরোধিতা করাই যে সব বুদ্ধিজীবীর কাজ তাদের কথা কে বিশ্বাস করবে? তারেক রহমানরা যখন আকাম কুকাম করছে তখন কি ফরহাদ মজহার অন্ধ ছিলেন?
আওয়ামী লীগ সরকারের এ ধরনের ফ্যাসিবাদী চরিত্র ও এর বিপরীতে কিছু ব্যাতিক্রম ছাড়া দেশের বুদ্ধিজীবি, সাংবাদিক সমাজ ও সুশীল সমাজের নিস্ক্রিয়তা দেখে আমাদের জার্মান চিন্তাবিদ মার্টিন নায়মোলারের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। তিনি প্রথম মহাযুদ্ধে দুর্ধর্ষ ইউ বোট (সাবমেরিন) ক্যাপ্টেন ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি নাৎসি ডিক্টেটরশিপের কঠোর সমালোচক হয়ে ওঠেন। সে জন্য ১৯৩৭ সালের ১ জুলাই তাকে গ্রেফতার করা হয়, কিন্তু আদালত তাকে হাল্কা সাজা দিয়ে ছেড়ে দিলে ক্রুদ্ধ হিটলার ব্যক্তিগতভাবে তাকে বন্দিশিবিরে আটক রাখার নির্দেশ দেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যন্ত তিনি সে শিবিরে আটক ছিলেন প্রায় নিঃসঙ্গভাবে। সে সময় জার্মান বুদ্ধিজীবীদের নিস্ক্রিয়তা ও সাহসের অভাব কিভাবে নিজেদের ও বিশ্বের সর্বনাশ করেছে, সেটা অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাষায় লিখেছেন মার্টিন নায়মোলার :
প্রথমে ওরা এসেছিল কমিউনিস্টদের ধরতে, আর আমি প্রতিবাদ করিনি; কারণ আমি কমিউনিস্ট ছিলাম না;
তারপর তারা সোশ্যালিস্টদের ধরতে এসেছিল, আমি প্রতিবাদ করিনি; কারণ আমি সোশ্যালিস্ট ছিলাম না;
তারপর তারা এলো ট্রেড ইউনিয়নপন্থীদের ধরতে, আমি প্রতিবাদ করিনি; কারণ আমি ট্রেড ইউনিয়নপন্থী ছিলাম না;
তারপর তারা এলো ইহুদিদের ধরতে, তখনো আমি প্রতিবাদ করিনি; কেননা আমি ইহুদি ছিলাম না;
তারপর ওরা আমাকে ধরতে এলো; তখন আর আমার হয়ে প্রতিবাদ করতে কেউ অবশিষ্ট ছিল না।’
জার্মানির বুদ্ধিজীবীরা প্রতিবাদ করেন নি, তারা নিস্ক্রিয় ছিলেন। তার পরিণতিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয়েছে, পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষ মারা গেছে, এমনকি মানব সভ্যতাও বিপন্ন হয়েছিল। মার্টিন নায়মোলারের অনুশোচনার কথাগুলো সে জন্যই গভীর অর্থবহ।
আমাদের দেশেও বর্তমান সরকারের অগণতান্ত্রিক, ফ্যাসিবাদী ও দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা বিরোধী কাজের বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবি ও সুশীল সমাজ কথা বলছেন না। চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করে দেয়া হলো, সংবাদ প্রকাশের জন্য পত্রিকার সাংবাদিকদের ডজনে ডজনে মামলা দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে, সাংবাদিকদের উপর হামলা করা হচ্ছে, সরকারের অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ডের লিখনির মাধ্যমে বিরোধিতার কারণে আমারদেশ পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হলো, ১/১১ কায়দায় গোয়েন্দা সংস্থা চাপ দিয়ে মামলা করে সে মামলায় পত্রিকার সম্পাদককে গ্রেফতার করা হলো, কিন্তু আমাদের সুশীল সমাজ, সাংবাদিক সমাজ, বুদ্ধিজীবিরা প্রতিবাদ করছেন না। তারা হয়তো মনে করে নিয়েছে আওয়ামী লীগের এই নির্যাতন তাদেরকে স্পর্শ করবে না। কিন্তু তাদের এই নিস্ক্রিয়তার কারণে একদিন এই ফ্যাসিবাদ তাদেরসহ পুরো দেশকেই গ্রাস করে ফেলবে। তখন আর কারো কিছুই করার থাকবে না আফসোস করা ছাড়া। আমরা আওয়ামী লীগ সরকারের এই বাকশালী কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা সরকারের ফ্যাসিবাদী, স্বৈরাচারী ও বাকশালী কর্মকান্ডের প্রতিবাদ জানাই।
আমার দেশ পত্রিকা বন্ধের প্রক্রিয়া অস্বচ্ছ ছিল। এর নিন্দা জানানো আমাদের কতর্ব্য। কিন্তু মাহমুদুর রহমানের মতো রাজনৈতিক এজেন্টদের হঠাৎ করে সম্পাদক বনে যাওয়ার বিষয়টিও কিন্তু ফরহাদ মজহারকে আমলে নিতে হবে। কোন প্রক্রিয়ায়, কী উদ্দেশ্যে শুধু আমার দেশ নয়, এর আগে জনকণ্ঠেও আমরা দেখেছি কারা সম্পাদক হচ্ছে। তারা জনতার কথা বলার ভান করলেও আদতে রাজনৈতিক কোন কোন গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবেই কাজ করেছে। আর এতে আসলে পা-ফাটা মিডিয়া কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
আমি ‘আমার দেশ’ বন্ধের তীব্র নিন্দা জানাই। আপনার সুন্দর লেখাটি পড়ে ভালো লাগলো।
ফরহাদ মজহারকে এই লেখার জন্য ধন্যবাদ।
মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করে সরকার পরোক্ষভাবে প্রতিষ্ঠিত করে দিল, জয়কে নিয়ে তিনি যা কিছু লিখেছেন, তা আসলেই সত্য। এবং এর ঝাল মেটাতে গিয়ে সরকারের এহেন পদ্ধতি ছাড়া মাহমুদুর রহমানকে জব্দ করার আর কোনো পথ খোলা ছিল না।
Mot prokaser shadinota’r ekta sohonshil obosthan chai. Amar Desh excess report korislo,ja mot prokasher shadinota’r opobebohar.
Could Awami League prove any of the “excess” report by Amar Desh as false? Do you have any proof that those are false? IF AL had that confident in them they would have filed cases against Amar Desh report in Bangladesh Press Council. The way they directly cancelled the declaration only authenticize those reports. Now the reports are more true when AMar Desh was functioning.
লেখাটা খুব ভালো লেগেছে।
ইতিহাস সাক্ষী, আওয়ামী লীগ মানেই পরমত ‘দাবায়ে’ রাখা। ৭৪/৭৫ এ ‘লাল ঘোড়া দাবানো’র কথা মনে পড়ে? আমি তখন অনেক ছোট।।ভাগ্যিস আমার মা কিছু পুরনো ইত্তেফাক তার কালেকশন এ রেখে দিয়েছিলেন।ওগুলো বড় হয়ে পড়েছিলাম ৭৯ এর দিকে।
আসলে এই ফ্যাসিবাদী দলটি বিরোধী দল হিসেবেই ১০০% পারফেক্ট। শাসক দলে গেলেই এরা শোষক হয়ে ওঠে। ‘৭১ থেকে ‘৭৫ সাক্ষী, ‘৯৬ থেকে ২০০১ সাক্ষী, আর সাক্ষী বিগত ২ বছর।
তবে অস্বীকার করার উপায় নেই বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতার ফসল এই ফ্যাসিবাদী সরকার। বাংলাদেশী জাতিয়তাবাদীদের এই ব্যর্থতার কারনে দেশ ও জাতির যে মাশুল দিতে হচ্ছে তার জন্য শুধু আওয়ামী লীগকে দায়ী করাও সমীচিন হবে বলে মনে করি না।
Best comment…Thanks !
চলছে চলুক, যখন যার মূল্লুক
পান থেকে খসলেই চুন
চুপচাপ ঢুশ- ফুস
ক্রসফায়ার– মিডিয়া বেহুশ!
বাক-স্বাধীনতা তো আটার বল
যতই ডলবি, ততোই গোল।
Thanks for your thoughtful article.
আমার খুব কান্না পাচ্ছে, কারণ চোখের সামনে হারিয়ে যাচ্ছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
Mahmud re dhorche thik korche
সরকারের আচরণ ভাল ঠেকছে না। যে কাউকে যে কোন সময় তারা গ্রেফতার করতে পারে/জঙ্গি আক্ষা দিতে পারে/আদালত অবমাননার মমলা ঠুঁকে দিতে পারে। এত জনসমর্থন পাওয়ার পরও এই অল্প সময়ের মধ্যে সরকারের এমন খেই হারানো দেখে খুব অবাক লাগতেছে–এখন ভাবতেছি জনগণ কি আসলেই তাদের ভোট দিয়েছিল?
১. “আমার দেশ বন্ধ করে দিয়ে শেখ হাসিনা প্রমাণ করলেন তাঁর ও তাঁর পুত্র জয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে এবং পত্রিকাটির সেই অভিযোগ তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে খণ্ডন না করে আমার দেশ পত্রিকাটি বন্ধ করে দিলেন।”–আমি অবাক হব না, যদি এই কথাটির জন্য ফরহাদ মজহারকে গ্রফতার করা হয় ।
২. “প্রশাসন ও আদালতকে নিজ স্বার্থে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকা”–আমি অবাক হব না, যদি এই কথাটির জন্য ফরহাদ মজহারের নামে আদালত অবমাননার মমলা ঠুঁকে দেয়।
কে জানে জনগণ কার খপ্পরে পড়লো।
এখন আর এইসবে অবাক হবার কিছু নাই, ঠিক আছে। গ্রেফতার, জেলহাজত, রিমান্ড এবং নির্যাতন সেও প্রস্তুত আছে। কিন্তু সবাক না হলে, এই ১৪দলীয় সেক্যুলার মহা-জঙ্গীয় কালে ডিজিটাল ফ্যাসিবাদ ঠেকানোরও কোনো উপায় নাই। “ল্যান্ড-স্লাইড জনসমথর্নের” আউটরাইট বলাৎকার মোকাবিলা করতেই হবে।
জিপিএস মহাশয় দেখি বেজায় চটিয়াছেন! ভাগ্যিস আমার দেশ টাইপ কাগজ এই দেশে দ্বিতীয়টি নেই। তাহলে সাংবাদিকতার ছবক পেতে মাহমুদুর রহমানের শ্রীচরণে পেন্নাম দিতে হতো না!
She is following Mujib’s footstep.
আপনার এই সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ।
When BNP- Jamat closed ETV , where were you , Mr. Farhad Mazhar?
Bakul
BNP-Jamat did not shut down ETV. high court did.ETV fought a proper court battle and lost. Please read history before throwing a comment.
ETV was not closed. it terrestrial transmission was stopped, and that was because of high court order.
awamilegue naaki din bodoler shorkar..ora bnp ke follow kore ken?? taeleto bola jaay ora bakshal..and bnp ke follow koro.
Brother, ETV was closed due to the order of the Court,please don’t misguide, say the right thing.
আপনি জানেন না কেন ইটিভি বন্ধ করেছিল? ইটিভি বিটিভির নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছিল তাই বন্ধ করেছিল।
অনেকেই বলছেন যে বিএনপি নাকি ইটিভি বন্ধ করেছিল। তারা জানে না যে ইটিভি মহামান্য আদালতের রায়ে বন্ধ হয়েছিল।
তাহলে চ্যানেল ওয়ান কি আদালত বন্ধ করে নি?
জানুন, তারপর লিখুন।