মানস চৌধুরী
ফেইসবুক নিয়ে ফেইসঅফ: ডিজিটাল নিষেধাজ্ঞা

ছবি. আরিফ হাফিজ
বন্ধ করে দেবার পর ফেইসবুক নিয়ে যত আলোচনা আর অনুসন্ধিৎসা দেখা যাচ্ছে তামাম ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ সংক্রান্ত প্রপাগান্ডা কালেও সেরকম উদ্দীপনা কিংবা আস্থা লক্ষ্য করা যায়নি। ‘গণ’জোয়ারের এই হিসেবে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ কায়েম করবার জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী আইটি কিংবা যোগাযোগ-প্রযুক্তিকেন্দ্রিক পদক্ষেপ বলা চলে এটাকে। অবশ্যই তুলনা করার মতো গুরুত্বপূর্ণ আর একটা মাত্র পদক্ষেপই পাওয়া সম্ভব। ইউটিউব-এর একটি ভিডিওফুটেজ প্রচারকে কেন্দ্র করে তা বন্ধ করে দেয়ার ঘটনা সেটা। পাশ্চাত্যে বসবাসকারী, ফলে অনায়াসে উৎকৃষ্ট প্রযুক্তি-সুবিধায় থাকা, বাংলাদেশী নাগরিকেরা কৌতুক বোধ করছেন খুব। ইমেইল যোগে জানতে চাইছেন, মন্তব্য করছেন এবং টীপ্পনি কাটছেন। এবং অবশ্যই আরেক দল মানুষ রাজনৈতিক লয়্যালটির কারণে বিব্রতভাবে খোঁজখবর নিচ্ছেন। পরিস্থিতিটা মজার, কিন্তু একই সঙ্গে ভাবনাচিন্তা খরচ করবার মতো।
ফেইসঅফ নামের ছায়াছবিটা দেখেছিলাম অকস্মাৎ। গুছিয়ে-গাছিয়ে পছন্দনীয় ছায়াছবির নাম ও ডিভিডি সংগ্রহ করে যাঁরা দেখেন তাঁদের কাতারে আমি নেই। ফলে বাসায় একটা টেলিভিশন যখন থাকে, তখন চ্যানেল টেপাটেপি করতে গিয়ে চোখে কোনো ছবি আটকে পড়লে আধখানা কিংবা তিনপোয়া ছবি দেখা হয় আমার। এভাবেই ফেইসঅফ চোখে পড়ে। এবং এরপর খেয়াল করে করে বিভিন্ন চ্যানেলে বার তিনেক ছবিটা আমি দেখি। গুরুতর কিছু নয়। কিন্তু গল্পটায় একটা চমক আছে। তবে জন ট্রাভলটা’র প্রতি আমার কিছু প্রশ্রয় থাকাতেই বারবার দেখেছি বলে মনে হচ্ছে। গল্পে চমক আছে এই অর্থে যে এখানে দুজনের চেহারা বদলে যায় এবং ‘খারাপ’ লোকটা কারসাজি করে ‘ভাল’ লোকের চেহারা নিয়ে নানান রকম প্যাঁচ লাগাতে থাকে। বিপরীতে ‘ভাল’ লোকটারও ‘খারাপ’ লোকের চেহারা নিয়ে ল্যাবরেটরি থেকে বেরোনো ছাড়া কোনো পথ থাকে না। ইত্যাদি। যতই চমক থাকুক বাংলা অঞ্চলের রূপকথায় গর্দানের উপর মুণ্ডু বদলে যাবার কল্পনাটা আচানক কোনো বিষয় নয়। ছবিটার কৃতিত্ব, অন্য অনেক হলিউডি ছবির মতোই, রুদ্ধশ্বাস সব ঘটনা আর প্রতিপক্ষতার কারণে।
“
‘ধর্মীয় এবং সামাজিক মূল্যবোধ’। এই দুই কিংবা এই দুয়ের প্যাকেজ ইদানীংকালের বছরগুলোতে পুনঃ পুনঃ ব্যবহৃত হয়ে ঝোলের লাউ অম্বলের কদুতে পরিণত হয়েছে।… ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ বলতে আসলে কী বোঝায় এবং এ দুয়ের মধ্যে ফারাক কী, আদৌ আছে কিনা—এগুলো সরকারী ভাষ্যে বরাবর দুর্বোধ্য এবং প্রায়শই পাঠক-মনে কোনো কৌতূহল তৈরি করে না। তবে মূল্যবোধের দোহাই কখন দেয়া হয়, আর বিশেষভাবে কখন কখন দেয়া হয় না সেগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌতূহলোদ্দীপক।”
কী কী কারণে এই অভূতপূর্ব পদক্ষেপ সরকার নিয়ে থাকতে পারেন কিংবা কতদিন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে তা নিয়ে অনেক আলাপ চায়ের আসরে হচ্ছে। সরকারীভাবে যে কারণ দেখানো হচ্ছে তা বাংলাদেশে নতুন নয়। পত্রিকা-পড়া মানুষজন এটা এখন মুখস্থই করে নিয়েছেন। ‘ধর্মীয় এবং সামাজিক মূল্যবোধ’। এই দুই কিংবা এই দুয়ের প্যাকেজ ইদানীংকালের বছরগুলোতে পুনঃ পুনঃ ব্যবহৃত হয়ে ঝোলের লাউ অম্বলের কদুতে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো হরে দরে ব্যবহার করে আসছে। বিস্ময়ের না যে তত্ত্বাবধায়ক ওরফে জরুরি সরকারও তা ব্যবহার করেছে। ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ বলতে আসলে কী বোঝায় এবং এ দুয়ের মধ্যে ফারাক কী, আদৌ আছে কিনা—এগুলো সরকারী ভাষ্যে বরাবর দুর্বোধ্য এবং প্রায়শই পাঠক-মনে কোনো কৌতূহল তৈরি করে না। তবে মূল্যবোধের দোহাই কখন দেয়া হয়, আর বিশেষভাবে কখন কখন দেয়া হয় না সেগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌতূহলোদ্দীপক। একটার পর একটা শপিং মল তৈরি হলে দেয়া হয় না, অহেতু টেলিভিশন চ্যানেল উল্লম্ফনে দেয়া হয় না, রাত্রিকালীন রেস্তোঁরা বৃদ্ধিতে দেয়া হয় না, নানান রকম প্রতিযোগিতাতে দেয়া হয় না; ইত্যাদি। সারাংশে, কর্পোরেট প্রায় কোনো উদ্যোগকেই মূল্যবোধ দিয়ে শাসানোর নজির সরকার কিংবা রাষ্ট্র তরফে নেই বললেই চলে। পক্ষান্তরে, নানান রকম পাবলিক পরিসরকে মূল্যবোধ দিয়ে শাসানোর নজির আকছার বিদ্যমান। ফলে মূল্যবোধের জুজুবুড়িটা কখন কীভাবে হাজির করা হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা দরকার।

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুক বাংলাদেশে বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রীরা রোববার ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করে।
সাম্প্রতিক ফেইসবুক বন্ধ করার উদ্যোগ একটা ব্যাপার নিশ্চিত করেছে, তা সে সুপরিকল্পিত হোক বা না হোক। বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক হাতিয়ারকে ভোঁতা করে দিয়েছে এই পদক্ষেপ। আন্দোলনের পরিকল্পনা সামাজিকভাবে যতই ‘মহৎ’ করে দেখানোর সম্ভাবনা থাকুক না কেন, এই মুহূর্তে গণ-জবান বা পাবলিক-ডিসকোর্স সচল আছে ফেইসবুক বন্ধ হয়ে যাওয়া বিষয়ে। সরকার তরফে এই সাফল্য দুর্দান্ত। অনুমান করা যায়, যদি সুচিন্তিত পদক্ষেপ হয়ে থাকে, তাহলে সরকারের থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক দারুণ সব মাথায় ভরা। কিন্তু এই সাফল্যটা সরকারের চড়া দামে কিনতে হয়েছে। হিসেবটা তাঁরা আগে থেকে কষে না রাখলেও দামটা উসুল করতে হচ্ছে। ফেইসবুকের ব্যবহারকারী অবধারিতভাবে নাগরিক এবং সচ্ছল মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষজন। তেমন ব্যতিক্রম না থাকলে কিতাবী শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষজনও বটে। যদি যেমনটা বলা হচ্ছে ৮ লক্ষ লোক বাংলাদেশে ফেইসবুকের গ্রাহক হয়ে থাকেন তাহলে তাঁরা রাষ্ট্রীয় পলিসি নির্মাতা ও পরিচালকবর্গের বড় অংশ যোগান দিয়ে আসছেন। অন্তত এঁদের পরিবারের লোকজনই এই গোষ্ঠীর অংশ। এরকম একটা নাগরিক অংশ প্রায় এক লহমায় সরকারের নিন্দুক হয়ে পড়ল, কিংবা ঘোরতর অসন্তুষ্ট–এই বাস্তবতা সরকারের জন্য আরামদায়ক হবার কথা নয়। সম্ভবত, সরকার আশা করছেন ক’দিন পরে যখন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবেন তখন এই পক্ষের পূর্বতন সন্তোষের সিংহভাগই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। এটা ছাড়া সরকারের বিশেষ কোনো পথ খোলা নেই।
দোহাই মূল্যবোধের দেয়া হোক কিংবা সমাজের, ইন্টারনেট বাস্তবতায় অভিব্যক্তির শাসন কিছুতেই আর সহজ নেই। প্রিন্ট-দুনিয়ার মতো কিছু এখানে ধুম করে বন্ধ করে দেয়া যায় না। প্রিন্ট দুনিয়ার মতো এখানে কোনো অভিব্যক্তি প্রকাশও অত কঠিন কিছু নয়। যত বেশি এখানে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হবে ততই নানাবিধ গেরিলা/চোরাই পদ্ধতি মানুষজন খুঁজে পেতে চেষ্টা করবেন, এমনকি উদ্ভাবনের চেষ্টাও। ইন্টারনেট ও কম্প্যুটার মাধ্যমের পাটাতনের মধ্যেই এই উদ্ভাবনী তাগিদটা আছে। রসিক লোকজন কিন্তু ইতোমধ্যেই সরকারকে আবডালে পরামর্শ দিচ্ছেন খোদ নেটের ব্যবহারই বন্ধ করে দিতে। আরও একধাপ এগিয়ে কেউ কেউ আড্ডায় কম্প্যুটার ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করছেন। এসব আলাপ এখন পর্যন্ত রসিকতার পর্যায়ে। রসিকতার কারণ নিশ্চয়ই ইন্টারনেট ব্যবহারে যেকোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞার অবাস্তব দিকটি। কিন্তু একটা সিরিয়াস ভাবনা হিসেবে একে প্রশ্রয় দিলে গোড়াতেই প্রশ্নটা চলে আসে যে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছেন কে বা কারা? যদি নিয়ন্ত্রক গোষ্ঠী নিজেদের অমিত শক্তিধর ভাবেন তাহলে কম্প্যুটার বা অন্ততঃপক্ষে ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ করা খুব অসম্ভব প্রস্তাবনা কি? অন্ততঃ পরীক্ষামূলকভাবে? মুদ্রণ দুনিয়ার মতো নেটের দুনিয়ার চালিকা শক্তির খোঁজ-খবর কি আমরা রাখি? কারা কী স্বার্থ নিয়ে এখানে কাজ করছেন এসব জিজ্ঞাসা নিয়ে অনেক অনুসন্ধিৎসা কি দেখা দিয়েছে আমাদের? এমনকি সমাজ-রাজনীতি নিয়ে মনোযোগী এমন নেট-ব্যবহারকারীদেরও?
ফেইসঅফ-এ মুখের আদল বদলালেও চিন্তাশক্তি বা ভাবনা পদ্ধতি বজায় থাকে ধড়ের মালিকের। সেই কারণে দর্শকদের জন্য পক্ষ-বিপক্ষ নির্ধারণটা অপেক্ষাকৃত সহজ। তারপরও, দু’জন দক্ষ অভিনেতা প্রায়শই ভেজাল লাগিয়ে দেন যে আসলে আপনি ট্রাভলটার মুখের পিছনে যে মানুষটা দেখছেন সেটা আসলে সেই ‘ভাল’ মানুষটা যা কিছুক্ষণ আগে নিকোলস কেইজ চালিয়ে নিয়েছিলেন। একটু প্যাঁচ লাগলেও মোটের উপর দর্শক হিসেবে আপনার আকাঙ্ক্ষা কিংবা পক্ষাবলম্বন ঠিকঠাক মতো চালিয়ে নিতে পারেন। ফেইসবুক বন্ধ করার এই ঘটনায় কার ধড় কার মুণ্ডু কোথায় বসছে সেটা নিয়ে পেরেশান হওয়া ছাড়া উপায় নেই। উপরন্তু এটা কেবল অবয়ব বদল নাকি ভাবনা-চিন্তার বদল, কে কোন পক্ষে খেলছেন সমানে বিভ্রান্তিকর। যদি সরকারের ধড়ের উপর ‘মূল্যবোধ’ওয়ালা কোনো গোষ্ঠী মুণ্ডু চাপিয়ে দিয়ে থাকে তাহলে বিপদটা কেবল বর্তমান সরকারের জন্য নয়, পাবলিকের জন্য আরও বেশি। ছদ্মবেশী সরকারের থেকে স্বরূপে ‘ধর্মীয় মূল্যবোধ’পন্থীদের দেখা অনেক সুবিধাজনক। কিন্তু যদি সরকারের ধড়ের উপর রাষ্ট্রীয় এজেন্সির মাথা চেপে থাকে সেটা রীতিমতো ভয়ানক। এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেবার কোনো কারণ নেই যে কোনো কোনো নিয়ন্ত্রক গোষ্ঠী আসলে সাম্প্রতিক বাংলাদেশের শিক্ষিত মানুষজনের যোগাযোগ পদ্ধতি ও তৎপরতাকে স্রেফ গবেষণা হিসেবে নিয়েছে। সরকারের ধড়টা ব্যবহার করে সে তার মনুষ্য-অধ্যয়ন সেরে নিচ্ছে। জরুরি অবস্থাকাল থেকে এধরনের সম্ভাবনা বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে।
সরকার-ঊর্ধ্ব শাসনপ্রণালীর সম্ভাব্য অস্তিত্ব ভীতিকর। সার্জিক্যাল ল্যাবরেটরিটার তাহলে দখল নেবে কে? ফেইসবুক খুলে দিলেই কি নেটের ব্যবহারকারীরা নিয়ন্ত্রকদের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারবেন? ইন্টারনেটকে একটা অভিব্যক্তি-প্রকাশের স্বতস্ফূর্ত মাধ্যম ধরে নিলে এর ব্যবহারকারীদের নিজেদের শক্তিমত্তার পরিচয় দিতে হবে। এবং খুব শিগগিরই।

কাজটা ঠিক হয়নি।
ভাল লাগল, মানস চৌধুরীর লেখা পড়লাম বহুদিন পর। মানস চৌধুরী সবসময় সরাসরি কথা বলেন, তাঁর লেখার ভাষা ও ধরন আমার দীর্ঘদিনের প্রিয়। ফেইসবুক নিয়ে অনেকগুলো লেখা পড়ে ফেললেও তাঁর লেখাটা না পড়লে আফসোস থেকে যেত। শুভ কামনা ফেইসবুক। ভাল থাকুন মানস চৌধুরী।
সবই ঠিক আছে। গণতান্ত্রিক অধিকার বলতে যদি মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে বোঝায় তার অর্থ কিন্তু স্বেচ্ছাচারিতা নয়। আবার কারো সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করা, কিংবা কাউকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা বিকারগ্রস্ত মনোবৃত্তিরই পরিচয়। ফেইসবুক ব্যবহারকারীদের এ জায়গাটিতে আশা করছি সংবেদনশীল হবার প্রয়োজন রয়েছে। তথ্য এবং তথ্যবিভ্রাট এই দুইয়ের পার্থক্যটা ভালো করে বোঝা উচিত। ক্ষমতা এবং ক্ষমতা-বিরোধী এই দুইয়ের মধ্যে দ্বান্দ্বিক বোঝাপড়াটাকে স্পষ্ট করার প্রয়োজনেই আমাদের আরো নির্ভরশীল আস্থাবান হওয়া প্রয়োজন। আশা করিছি মানস চৌধুরী এ বিষয়টিও বোঝার চেষ্টা করবেন।
Digital, এই শব্দটা Digit + al এর সমন্নয়। এখন এই Digital থেকে Digit বাদ দিলে থাকে al এবং এই al দিয়ে Awami League বুঝায়। এইটা কি কাকতালীয় ভাবে প্রমানিত? সেলুকাস কি আশে পাশে আছে?
সরকার একটা জিনিস ভালো করছে. ভালো মানুষগুলাকে চোর বানাইছে. নিয়ম ভাঙ্গার জন্য সরকার সবাইরে উত্সাহ দিছে. সরকার সবাইরে শিখাইছে যে কোনো website যদি ব্লক করা থাকে তা কি করে use করতে হয় । আরেকটা জিনিস ভালো হইসে সরকারের অনেক টাকা বেচে গেল. এই ৮ লাখ মানুষকে যদি সরকার ট্রেনিং দিত কিভাবে ব্লক করে site ইউজ করতে হয় তাহলে সরকার এর অনেক টাকা খরচ হত।
সরকার কি পারছে করোর ফেইসবুক বন্ধ করে রাখতে?
কার্টুনিষ্ট শিশির প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন পত্রিকায় শেখ হাসিনার কুৎসিত চেহারার যে বিভৎস কার্টুন আকঁছেন সেটা কি কখনো এ ডিজিটাল মার্কা সরকার খেয়াল করেনি? অযথাই ফেসবুক বন্ধ করে দিয়ে হাসিনার সরকার এক ডিজিটাল নামক ভন্ডামি শুরু করেছেন। বিভৎস কার্টুনের জন্য তো কোন পত্রিকাও বন্ধ হতে দেখি নি। ও হ্যা, আজ দেখলাম। এক সত্যবাদী স্পষ্টবাদীতার জন্য প্রতিহিংসাপরায়ন হয়ে আমার দেশ পত্রিকাটি বন্ধ করে দেয়া হলো। মানুষের বাকস্বাধীনতাও একদিন কেড়ে নিবে এ সরকার।
আমরা ফেইসবুক চাই। সরকারের এটা বন্ধ করে দেয়া বোধ হয় ঠিক হয়নি। ফেইসবুকের মাধ্যমে আমরা দ্রুত যোগাযোগ করতে পারতাম। কিন্ত এখন…। সরকার যদি এভাবে পদক্ষেপ নিতে থাকে তাহলে তো…।
এমন ‘ডিজিটাল মূল্যবোধ’ আমাদের দিন দিন ভয়ঙ্কর অন্ধকারে নিয়ে যাবে।
ইউটিউব, ফেইসবুক, চ্যানেল ওয়ানের সাথে আমার দেশ যুক্ত হইল… এর পরে আর কারে বন্ধ করবে? ব্লগ সাইট? টুইটার… অসম্ভব ডিজিটাল একটা দেশ!
যে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা রাস্তার ধারে বাঁশি বাজিয়ে জীবন ধারণ করে সেখানে সরকার ফেইসবুকের কার্টুন নিয়ে মাতামাতি করে নিরাপত্তার (!) অজুহাত দেখিয়ে। এখানে আর কিছুই বলার নাই। আমাদের মত ছাত্রসমাজের জন্য শুধু বলা চলে “মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন”। কারণ আমরা উচ্চ প্রশাসনের ব্যাপারে সীমিত জ্ঞানের অধিকারী!
উঁচু থেকে নিচুতে পড়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলেরই আছে। পরপর দুটি সংসদ নির্বাচনই এর প্রমাণ। তবুও তারা আমজনতার(!) মাথায় পা রেখে আরো লম্বা হওয়ার চেষ্টা করে। কেন এমন করে? পরিবারের একজন অপরাধ করলে পুরো পরিবারকে এর শাস্তি পেতে হবে? কই, সাংসদ কিংবা মন্ত্রিরা অপরাধ করলে তো, এ দেশে সরকার বাতিল হয় না… বাতিলের প্রথা চালু হবে কবে? ব্যঙ্গচিত্র যে একটি একটি অজুহাত তা বোধকরি আড়াল করার চেষ্টা করেও সরকার সফল হয়নি। কারা ফেইসবুক বাতিলের আওয়াজ তুললো? কেন তুললো (হতে পারে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপরে ফেসবুক সোচ্চার)? যারা এর বিরোধীতা করেছে তারা কি ইন্টারনেট উইজার? আগে সেটা যাচাই করা উচিত… নইলে কোনো একদিন এই ধর্ম ব্যবসায়ীরা আওয়াজ তুলবে, ’ইন্টারনেটে পর্ণ সাইট দেখা যায়, এদেশে কেউ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে না’। [বি.দ্র. যার যেটা ব্যবহারে সমস্যা সে সেটা থেকে দূরে থাকুক, অন্যকে দূরে রাখার মহান দায়িত্ব তাকে পালন না করলেও চলবে...]
একটি ভালো লেখার জন্য মানস চৌধুরীকে ধন্যবাদ।
সকল মন্তব্যকারকে ধন্যবাদ। কিছু কিছু মন্তব্যের আলোকে আমি দু’একটা টীকা লিখতে ইচ্ছা করি, প্রাসঙ্গিকতা অনুসারে। কিন্তু সেটা আরো খানিক অপেক্ষা করে। এখানে ‘নাগরিক’-এর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে জানাই কার্টুনগুলো লেখার সময়ে আমি দেখি নাই। এমনকি এখন পর্যন্ত না। ফলে সেটাকে ‘নীতিগতভাবে’ ধরে নেয়ার জায়গায় আমি নেই। ক্যারিকেচার বা যেকোনো অভিব্যক্তি কেবলমাত্র ‘গণতন্ত্র’ অজুহাতে শর্তহীন সমর্থনের পক্ষে আমি নই। যারা আছেন তাদের নিশ্চয়ই যুক্তি আছে। কিন্তু আমার না-থাকার সুস্পষ্ট কারণও আছে। ডেনমার্কের পত্রিকায় মুহম্মদ-এর কার্টুনগুলোর অনুকৃতি আমি নেট-এ দেখেছিলাম। সেগুলোর ব্যাপারে আমার আপত্তি কেবল এই নয় যে তা স্পর্শকাতর বিষয়ে, বরং মূল আপত্তি হলো তা মুহম্মদ ও ইসলাম সম্বন্ধে সমূহ অজ্ঞতা ও বিদ্বেষপ্রসূত। এ রকম আরকি!
ধর্মকে আর কত ভাবে ব্যবহার করবে আমাদের ডিজিটাল সরকার?
ভালো কাজ করার সুযোগ না, মানুষ যা করে তা হলো অকাজ। ফেইসবুক বন্ধ তেমনি একটা অকাজ।
বাকশালী সরকার।
এই হচ্ছে আমাদের দেশের অবস্থা! ডিজিটাল গভমেন্ট।
Facebook bondo korar sompurno bipokke ami. Bangladesh Govt. kivabe a doroner siddanoto nilo amar bodogommo noy. Facebook userkari 9 lac bangladeshi sorkarer pokke takleo, ekon present issue’r karone govt. er bipokke kotha bolbe. amar mone hoy… Facebook bondo korar bapare aro sotorko thaka’r dorkar chilo govt. er.
issue dekano hoyeche “Dhormiyo onuvutite agghat”… ekon amar prosno holo, nijer dormo nijer kache… ke ki korlo r k ki korlona ta niye jodi amra matha ghamai tokon baparta issue hoye dariye jai. but jokon amra baparta ignore korbo tik tokoni baparta r issue hoye daraina bole ami mone kori… r jai hok keu kichu kore manuser dorme tho aggat korte parbena… sorkar jodi etoi dormo dormo kore tahole Porn site gulo blocked kora hocchena keno ??? a sitegulo ki dormiyo onuvutite agghat korche na ???
I am sorry…. Govt. er Facebook off korar karjokrom ke support korte parchina…. dukkito ami…
এই আচরণের মধ্য দিয়ে একটা জিনিস পরিষ্কার ডিজিটাল বাংলাদেশ কিংবা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ এসব ফাঁপা বুলি, আসলে ইনারা ধর্ম ও প্রগতি একসাথে বেঁচতে পারেন ভালো। এরকম চতুর ব্যবসায়ী সরকার দিয়ে নৈতিক বিজয় অর্জন সম্ভব নয়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার তো নয়-ই।
অনেক অনেক ধন্যবাদ। লেখাটি আমাদের অনেকের মনের কথাটাকেই প্রকাশ করেছে। সাথে অন্য একটি বিষয় সামনে নিয়ে এসেছে। সত্যিই, কার ধড়ে আজ কার মাথা বসেছে! যে কারণ দেখিয়ে সরকার ফেসবুক বন্ধ করেছে ঐ কার্টুনগুলো কখনই চোখে পড়েনি। সরকার আসলে চাইছেটা কী?
স্বাক্ষর শতাব্দ, আপনার মন্তব্যটি সবচাইতে উপযুক্ত হয়েছে… আমাদের সাথের অনেকেই (যারা ফেইসবুক নিয়মিত ব্যবহার করি) উল্লেখিত কার্টুনটি ফেইসবুকে দেখি নাই। প্রেসিডেন্ট বুশ আর ওবামাকে নিয়েও অনেকে কার্টুন হয়! আর বন্ধের নামে এটা প্রহসন বলা চলে… মোবাইল অথবা অন্য মাধ্যমেই হউক ফেইসবুক যে ব্যবহার করা যায় এটা সবাই জানে। অবশ্য বলা চলে যে এখন ছোট বাচ্চাও তার প্রয়োজনে প্রক্সি সার্ভার-এর ব্যবহার জানে… অন্তত আমার মত অনেকেই তা নতুন করে শিখেছে এই মুহূর্তে ফেইসবুক ব্যবহারের জন্য… এখানেই ডিজিটাল বাংলাদেশের ডিজিটলিসম আর নিষেধাজ্ঞার সার্থকতা বলা চলে!
রাজনৈতিকদের ক্যারিকেচার কীভাবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উপাদান হতে পারে না–সেটা তো ব্যাখ্য করলেন না। মূল বিষয়টাই এড়িয়ে গেলেন।
ধন্যবাদ মানস চৌধুরীকে। সরকারের মাথায় কয়টা মুণ্ডু আছে তারা তা জানে না বোধহয়। ডিজিটাল বাংলাদেশের নাম দিয়ে দিনবদল করার ঘোষণা দিয়ে তারা দিনকে অন্ধকারে নেয়ার প্রচেষ্টা-ই করলো ফেসবুক বন্ধের মধ্য দিয়ে।
asole sorkar pagol hoia gese.ki korbe ta atra nijerao bujtese na…..
ফেসবুক বন্ধের রাজনীতি উন্মোচন এবং এর বিপক্ষে অনেক দুর্দান্ত একটা স্বর। এমন কিছু স্বর-ই আমাদের আবার ফিরিয়ে দেবে ফেসবুক। লেখককে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
ফেইসবুক কর্তৃপক্ষের এ ধরনের সব পেজ বন্ধ করে দেয়া উচিত, যা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে। এটা ফেইসবুক কর্তৃপক্ষের ধর্মীয় নিরপেক্ষতাকে প্রমাণ করবে।
ফেসবুক বন্ধ করা এটা একটা বাড়াবাড়ি।
খুব ভাল হয়েছে। আপনার চিন্তা আমাদের নতুন করে ভাবতে সাহস দিবে।
মানস চৌধুরী সবসময়-ই চিন্তায় নতুন ও ব্যতিক্রম, আমি রাজনীতি বুঝি না, বুঝতেও চাই না, শুধু একটাই প্রশ্ন যে, আমরা যারা সমস্ত পরিবার ছেড়ে এই দূরে একাকী দিন কাটাই তারা সমস্ত দিনের ব্যস্ততা শেষে ঘরে ফিরে যখন আর এত সহজে নিজের পরিবারকে কাছে পাচ্ছি না তখন দোষটা কাকে দেব? নিজ ভাগ্য না অন্য কাউকে?
ফেসবুক একটা দ্রুত যোগাযোগের মাধ্যম। যারা ভাল তারা এটাকে ভাল কাজে ব্যবহার করে আর যারা খারাপ এটাকে তারা খারাপ কাজে ব্যবহার করে। তবে এটার জন্য ফেসবুক বন্দ করে দেয়া আমার মতে ঠিক হয়নি।
দারুণ দারুণ!! লেখককে অনেক ধন্যবাদ।
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। আমি আমার বন্ধুদেরকে কিভাবে খুঁজে পাব ? আমার মতে অতি তারাতারি সরকারের উচিত ফেসবুক খুলে দেওয়া ।
ধর্মকে আমরা আর কত ভাবে ব্যবহার করব?
I couldn’t agree with you more. We are getting back to Bangladesh with foreign graduation to give something back to our country. With a dream that we would turn the dream into reality and take the country a step forward. What do we see? This? Let’s see – we got options don’t we? One – we pack our ***** and leave again or identify these geniuses who gives such ideas to block communication to the government and throw ‘em all into an island.
. অসাধারণ। এই লেখাটা পড়ে ফেসবুক ব্যবহার করার বেদনাটা ভুলে গেছি। এই জন্যই বলে কলম হলো তরবারির চেয়ে ভয়ংকর.।
দুর্দান্ত হয়েছে। অনেক অনেক ধন্যবাদ। কী জানেন, এই ফেসবুকের মাধ্যমেই আমি আমার স্কুলের ২৪ জন প্রিয় বন্ধুকে (১৫ জনই বিদেশে থাকে) আবার খুঁজে পেয়েছি। দিনের একটা সময় আমার ভালই কাটতো। এখন সব বন্ধ। এতই যদি ধর্ম ধর্ম করে তবে পর্নো সাইটগুলো ব্লক করে না কেন? খালেদার ছবির ক্যারিকেচারের জন্য সরকার ফেসবুক বন্ধ করেছে। বললো আর বিশ্বাস করলাম– তাই না? মজার কথা কী জানেন, ঐ কার্টুনগুলো চোখেও পড়েনি। বন্ধ হবার পর শুনলাম।
বিরোধীদলীয় মতামত প্রকাশের এই ডিজিটাল মাধ্যমকে বন্ধ করে এর প্রতি মানুষকে যে আরো উৎসাহিত করা হলো সেটা কি সরকারের মাথামোটা আইটি বিশেষজ্ঞরা বুঝতে পারলো? আমার মনে হয় বোঝেনি। ক্ষমতায় থাকলে কেউ বোঝে না।
“ছদ্মবেশী সরকারের থেকে স্বরূপে ‘ধর্মীয় মূল্যবোধ’পন্থীদের দেখা অনেক সুবিধাজনক। কিন্তু যদি সরকারের ধড়ের উপর রাষ্ট্রীয় এজেন্সির মাথা চেপে থাকে সেটা রীতিমতো ভয়ানক।”
সরকারের bodyতে কাদের মুণ্ডু!?
মানস চৌধুরীর লেখা পড়ে কোনকালে দেখা ফেইসঅফ ফিল্মটা মনে পড়ে গেলো। কী অসম্ভব সত্যই না তিনি তুলে ধরেছেন তাঁর লেখনীতে। এর পরে জার্জিস-এর মতো “জয় হো” ছাড়া আর তো কিছু বলার থাকে না। ধন্যবাদ লেখককে।
আপনার লেখাটি খুব চমৎকার।
জয় হো!